Parbattabani.com
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Parbattabani.com, Chittagong.
14/06/2026
জাতিসংঘে রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করলেন ইয়েন ইয়েন।
গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন, ২০২৬) তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের সদর দপ্তর-এর ইকোসক (ECOSOC) চেম্বারে "শান্তি মধ্যস্থতার মাধ্যমে হেইট স্পিচ মোকাবেলা ও প্রতিরোধে, এবং গণহত্যা ও নৃশংস অপরাধ সংঘটনের ঘটনা ও সেগুলোর প্ররোচনা প্রতিরোধে ঐতিহ্যবাহী উপজাতি ও আদিবাসী নেতা এবং জনগোষ্ঠীর জন্য মাস্কট অ্যাকশন প্ল্যান"-এর আনুষ্ঠানিক সূচনার অনুষ্ঠান (Launching Event) অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব এবং চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের দ্বিতীয় স্ত্রী ইয়েন ইয়েন (Yan Yan) রাখাইন অংশগ্রহণ করেন। গত ১৩ জুন, ২০২৬ তারিখ সকাল ৯:৩০ ঘটিকায় তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক ভেরিফাই পেইজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। ইয়েন ইয়েন তাঁর ফেসবুক পোস্টে উক্ত অনুষ্ঠানের ৬ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করে হুবহু নিম্নোক্ত দ্বিভাষিক, যা ইংরেজি ও বাংলা ক্যাপশনটি শেয়ার করেন:
"At the launching event of the Muscat Plan of Action for Traditional and Indigenous Leaders and Peoples in Countering and Addressing Hate Speech and Preventing Genocide and Atrocity Crimes and their Incitement through Peace Mediation.
শান্তি মধ্যস্থতার মাধ্যমে হেইট স্পিচ মোকাবেলা ও প্রতিরোধে, এবং গণহত্যা ও নৃশংস অপরাধ সংঘটনের ঘটনা ও সেগুলোর প্ররোচনা প্রতিরোধে ঐতিহ্যবাহী ও আদিবাসী নেতা এবং জনগোষ্ঠীর জন্য মাস্কট অ্যাকশন প্ল্যান-এর আনুষ্ঠানিক সূচনার অনুষ্ঠানে।
June 11.
ECOSOC Chamber, UN Headquarters, New York.
Thanks to Patrick for putting together this video."
উক্ত ভিডিও চিত্রে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীকে চরমভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে সম্পূর্ণ কাল্পনিক, অসত্য ও রাষ্ট্রদ্রোহী বক্তব্য প্রদান করতে দেখা গেছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনুসারীদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর একটি পরিকল্পিত চেষ্টা।
হিল নিউজ বিডি এর সহযোগিতায় জাতিসংঘের মঞ্চে প্রদত্ত ইয়েন ইয়েন-এর সেই বিতর্কিত বক্তব্যটি নিচে ইংরেজি থেকে হুবহু বাংলা অনুবাদ করা হলো:
"এখন আমি ফ্লোর প্রদান করছি হার হাইনেস রানী ইয়েন ইয়েন-কে। সম্মানিত আদিবাসী নেতা, ঐতিহ্যবাহী নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সম্মানিত অতিথিবৃন্দ। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে এবং বক্তব্য রাখতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। 'মাস্কট প্ল্যান অব অ্যাকশন'-এর খসড়া প্রণয়নের যাত্রায় অংশ নিতে পারা আমার জন্য একটি বিশেষ সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। আজ আমরা এমন একটি সুনির্দিষ্ট মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি, যা আমাদের সকলকে শান্তি, ন্যায়বিচার এবং সকল মানুষের মানবাধিকার রক্ষার প্রতি আমাদের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানায়। মাস্কট প্ল্যান অব অ্যাকশন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা দীর্ঘদিন ধরে অনেক আদিবাসী সম্প্রদায় যা বিশ্বাস করে আসছে তাকে স্বীকৃতি দেয়, তা হলো আদিবাসী নেতা এবং জনগোষ্ঠী কেবল সংঘাতের সাক্ষী মাত্র নয়; তারা সংঘাত প্রতিরোধের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে, আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার চর্চার মাধ্যমে আদিবাসী নেতৃবৃন্দ সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে অধিকারের স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে আসছেন। তাঁদের প্রজ্ঞা, সাংস্কৃতিক বৈধতা, শাসন ও বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা এবং নিজস্ব সম্প্রদায়ের গভীর বিশ্বাস তাঁদেরকে সহিংসতার প্রাথমিক সতর্কবার্তা শনাক্ত করতে এবং যেখানে জাতিগত নিধন (Ethnocide) ও অন্যান্য নৃশংস অপরাধের ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে মধ্যস্থতা করার জন্য অনন্য অবস্থানে উন্নীত করেছে। আদিবাসী সনাতন নেতৃবৃন্দ সহ সামগ্রিক আদিবাসী নেতৃবৃন্দ সংঘাত প্রতিরোধ, সমাধান এবং শান্তি বিনির্মাণে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমিকার বৈশ্বিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। মাস্কট প্ল্যানটি আদিবাসী নেতাদের ক্ষমতায়ন এবং দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রদান করে। যেমনটি মাত্র দুই মাস আগে এখানে নিউইয়র্কে জোর দিয়ে বলা হয়েছিল, এই পরিকল্পনাটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে আদিবাসী নেতা ও জনগোষ্ঠীর শক্তিশালী অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে, যাতে নৃশংসতা প্রতিরোধ প্রচেষ্টার কেন্দ্রে আদিবাসীরা তাদের সঠিক স্থানটি গ্রহণ করতে পারে। এটি আদিবাসী জ্ঞান এবং সাংস্কৃতিক অনুশীলনের ওপর ভিত্তি করে পাল্টা আখ্যান (Counter-narratives) তৈরি এবং মধ্যস্থতা করার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অর্থবহ বিনিয়োগের আহ্বান জানায়। তবে, একটি পরিকল্পনা কেবল তখনই শক্তিশালী হয় যখন এর পেছনে সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি থাকে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বাধ্যবাধকতাকে এখানে বাড়িয়ে বলার সুযোগ নেই। আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণসহিংসতা, যা হেইট স্পিচ এবং উসকানির মাধ্যমে চরম রূপ নেয়, তার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো: এই ধরনের ঘটনাগুলো প্রায়শই পদ্ধতিগত রাষ্ট্রীয় কাঠামো দ্বারা অনুমোদিত বা প্রশ্রয়প্রাপ্ত হয়ে থাকে। আমি যে দেশ থেকে এসেছি, ঠিক বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো একটি অঞ্চলে, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী সামরিকায়নের (Militarization) ফলে প্রতিনিয়ত নৃশংস অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। সেখানে এই ধরনের পরিস্থিতিতে আদিবাসী জনসংখ্যা এবং সম্প্রদায়গুলোকে একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মধ্যে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে। এটি বিশেষভাবে সত্য সেই অঞ্চলের জন্য, যা গত বছর জাতিসংঘের মহাসচিব পরিদর্শন করেছিলেন, যেখানে আদিবাসী জনগণকে এখনও 'আদিবাসী' হিসেবে তাদের পরিচয়ের স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, মাস্কট প্ল্যান অব অ্যাকশন কেবল তখনই সত্যিকার অর্থে কার্যকর হবে যখন রাষ্ট্রগুলো 'জাতিসংঘের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র' (UNDRIP) অনুযায়ী আদিবাসীদের অধিকার স্বীকার, অক্ষুণ্ণ ও রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেবে। অতএব, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে রাষ্ট্রগুলো আদিবাসী নেতাদের রাজনৈতিক প্রান্তিককরণ থেকে রক্ষা করবে এবং আদিবাসী ঐতিহ্যবাহী নেতাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হেইট স্পিচের বিরুদ্ধে পাল্টা আখ্যান তৈরি ও সুরক্ষা দেবে। এমন একটি আইনি পরিবেশ তৈরি করতে হবে যা আদিবাসী জনগণকে নিরাপদে বিকশিত হতে দেয় এবং অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আদিবাসী শাসন প্রতিষ্ঠান ও কাঠামোগুলোকে শক্তিশালী করে আদিবাসী নেতৃবৃন্দ ও জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতার যেকোনো উসকানি প্রশমিত, বা সম্পূর্ণ নির্মূল করে। আমরা যখন সেই রূপকল্পের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, আসুন আমরা মনে রাখি যে মাস্কট প্ল্যান অব অ্যাকশন হলো একটি কর্মের আহ্বান। এবং আমাদের এটিকে কেবল কথার মাধ্যমে নয়, বরং টেকসই প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে সম্মান জানাতে হবে, যাতে আমরা এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলতে পারি যেখানে কোনো সম্প্রদায়ই গণহত্যা, জাতিগত নিধন এবং নৃশংস অপরাধের ভয়াবহতার মুখে অরক্ষিত থাকবে না। ধন্যবাদ।"
ঐতিহাসিক সত্য বিকৃতি ও মিথ্যাচার সম্পর্কে:
ইউএন-এর মঞ্চে ইয়েন ইয়েন কর্তৃক উপস্থাপিত বক্তব্য এবং ফেসবুকে প্রচারিত তাঁর আখ্যানটি বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা, দেশের সংবিধান এবং ঐতিহাসিক সত্যের পরিপন্থী। নিম্নে তাঁর উত্থাপিত দাবিগুলোর অসারতা ধাপে ধাপে উন্মোচন করা হলো:
ক) 'আদিবাসী' (Indigenous) পরিচয়ের মিথ্যা দাবি ও সাংবিধানিক সত্যতা:
ইয়েন ইয়েন-এর দাবি: তিনি নিজেকে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের "আদিবাসী" (Indigenous) প্রতিনিধি এবং "রানী" হিসেবে দাবি করেছেন এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র আদিবাসী স্বীকৃতি দিচ্ছে না বলে ফেসবুক ও বৈশ্বিক মঞ্চে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
প্রকৃত সত্য ও অনুসন্ধান হলো: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে "আদিবাসী" শব্দের কোনো অস্তিত্ব বা আইনি স্বীকৃতি নেই। ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অনুচ্ছেদ ২৩(ক) যুক্ত করা হয়, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “রাষ্ট্র উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা করিবেন।”
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: নৃবৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক তথ্যানুসারে, বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসমূহ এই অঞ্চলের আদি বাসিন্দা বা ভূ-ভূমিপুত্র (Aboriginal) নন। তারা বিভিন্ন সময়ে (প্রধানত মিয়ানমার, ভারত ও তিব্বত কিংবা মঙ্গোলীয় অঞ্চল থেকে) এই অঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করেছেন। পক্ষান্তরে, এই ভূখণ্ডের বাঙালিরাই ঐতিহাসিকভাবে হাজার বছর ধরে এখানে বসবাস করে আসছেন। আন্তর্জাতিক আইন (ILO Convention 1989-এর 169) এবং জাতিসংঘের সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তারা 'উপজাতি' বা 'ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী' হিসেবেই চিহ্নিত হওয়ার যোগ্য, আদিবাসী হিসেবে নয়। ইয়েন ইয়েন রাখাইন নিজে মিয়ানমার বংশোদ্ভূত হয়ে এবং প্রকৃত সত্য গোপন করে আন্তর্জাতিক ফোরামে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে এই পরিভাষা ব্যবহার করেছেন।
খ) 'সামরিকায়ন' (Militarization) এবং 'নৃশংস অপরাধ'-এর কাল্পনিক অভিযোগ সম্পর্কে:
ইয়েন ইয়েন-এর দাবি হলো: পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী সামরিকায়নের ফলে আদিবাসীদের ওপর প্রতিনিয়ত "নৃশংস অপরাধ" (Atrocity Crimes) সংঘটিত হচ্ছে।
প্রকৃত সত্য ও অনুসন্ধান হলো:
পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপস্থিতি কোনো ঔপনিবেশিক বা আগ্রাসী সামরিকায়ন নয়। এটি দেশের sovereignty রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারকরণ এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার একটি সাংবিধানিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া। ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক 'পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি' অনুযায়ী সরকার ইতিমধ্যেই সেখান থেকে বিপুল সংখ্যক অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বর্তমানে সেখানে সেনাবাহিনী অপারেশন উত্তরণের অংশ হিসেবে কেবল কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং স্থানীয় জনগণের শিক্ষা, চিকিৎসা, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ নানা মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে। সেখানে কোনো "নৃশংস অপরাধ" বা রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অস্তিত্ব নেই; বরং ইয়েন ইয়েন-এর মতো বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিরা আন্তর্জাতিক মহলের সহানুভূতি ও তহবিল পাওয়ার লক্ষ্যে এই মিথ্যা আখ্যান তৈরি করছেন।
গ) 'জাতিগত নিধন' (Ethnocide) ও 'কৃত্রিম সংঘাত'-এর মনগড়া তত্ত্ব সম্পর্কে:
ইয়েন ইয়েন-এর দাবি: রাষ্ট্র পার্বত্য চট্টগ্রামে কৃত্রিম সংঘাত (Manufactured Conflict) তৈরি করে রেখেছে এবং সেখানে জাতিগত নিধনের ঝুঁকি রয়েছে।
প্রকৃত সত্য ও অনুসন্ধান: পার্বত্য চট্টগ্রামে যদি কোনো সংঘাত থেকে থাকে, তবে তা রাষ্ট্র কর্তৃক সৃষ্ট নয়; বরং তা উপজাতীয় আঞ্চলিক দলগুলোর (যেমন: জেএসএস, ইউপিডিএফ, কেএনএফ, এমএলপি এবং অন্যান্য উপদল ইত্যাদি) মধ্যকার অভ্যন্তরীণ কোন্দল, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং আধিপত্য বিস্তারের জেরে সৃষ্ট সংঘাত। রাষ্ট্র সর্বদা এই অবৈধ সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধ করে সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে আসছে। পার্বত্য চুক্তির পর থেকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কোটা সুবিধা, উচ্চশিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে বিশেষ অগ্রাধিকারের মাধ্যমে উপজাতীয় সম্প্রদায়কে মূলধারায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সুতরাং, "জাতিগত নিধন"-এর মতো ভয়াবহ শব্দের ব্যবহার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।
ঘ) আন্তর্জাতিক ফোরামে মিথ্যাচারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠী স্বার্থ চরিতার্থ করা প্রসঙ্গে:
ইয়েন ইয়েন-এর দাবি: মাস্কট প্ল্যানকে কেন্দ্র করে সদস্য রাষ্ট্রসমূহ হেইট স্পিচকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।
প্রকৃত সত্য ও অনুসন্ধান হলো:
প্রকৃত অর্থে ইয়েন ইয়েন নিজেই এই আন্তর্জাতিক মঞ্চটিকে অপব্যবহার করে এবং ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে "হেইট স্পিচ" বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়েছেন। তিনি শান্তি ও লক্ষ্যমাত্রার আড়ালে মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার বা অঞ্চলটিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের পথ সুগম করার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চান। নিজের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যেই তিনি এই মনগড়া অভিযোগগুলো উত্থাপন করেছেন।
প্রশাসনিক উদাসীনতা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার প্রশ্ন:
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাগরিক হয়ে, দেশের ভূখণ্ডের ভেতরে থেকে আন্তর্জাতিক মহলে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী ও শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে "গণহত্যা" বা "জাতিগত নিধন"-এর মতো গুরুতর ও বানোয়াট অভিযোগ আনা সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। গত ৬ এপ্রিল রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক (ডিসি) নাজমা আশরাফী কথিত রানী ইয়ান ইয়ানকে এই চিঠি পাঠান। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, "তার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।" রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসকের পাঠানো চিঠির বিষয়বস্তুতে উল্লেখ করা হয়, বক্তব্য দেওয়া ও কার্যক্রম পরিচালনার সময় দেশের আইনকানুন সঠিকভাবে মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করতে এই চিঠি দেওয়া হয়েছে। ডিসি নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, "স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২-এর নির্দেশেই তিনি এই চিঠি পাঠিয়েছেন, চিঠির রেফারেন্সে যার উল্লেখ রয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, ইয়ান ইয়ান পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিভিন্ন পাহাড়ি সংগঠনের সদস্যদের একত্র করে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোয় জড়িত। এ ছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর সঙ্গেও জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।"
উক্ত চিঠি ইস্যুর পর ইয়েন ইয়েন উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। অথচ রাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। যার ফলে তিনি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট ফোরামে যুক্ত হতে পেরেছেন।
সাম্প্রতিক ফ্রান্স, কানাডা ও আমেরিকাসহ কয়েকটি দেশ সফর নিয়ে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজের মনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে:
দেশের বিরুদ্ধে এমন চরম বিদ্বেষী মনোভাব পোষণকারী এবং বিতর্কিত ব্যাকগ্রাউন্ডের একজন ব্যক্তি কীভাবে আন্তর্জাতিক ফোরামে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার বা বক্তব্য রাখার সুযোগ পান? দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরদারি এড়িয়ে তিনি কীভাবে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে যাওয়ার রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক ছাড়পত্র বা ভিসা লাভ করলেন, তা অত্যন্ত রহস্যজনক এবং গভীর উদ্বেগের বিষয়।
দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভাবমূর্তিকে বিশ্বমঞ্চে এভাবে ভূলুণ্ঠিত করার পরও এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বুক ফুলিয়ে প্রচার করার পরও রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কেন তাঁর ব্যাপারে এখনো নীরব ও উদাসীন ভূমিকা পালন করছে?
ইয়েন ইয়েন-এর এই বক্তব্য এবং ফেসবুক টাইমলাইনে এর প্রকাশ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি গভীর ও সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ। শান্তি ও সম্প্রীতির মুখোস পরে বিশ্বমঞ্চে ও সামাজিক মাধ্যমে দেশের বিরুদ্ধে এমন কুৎসা রটনা ও মিথ্যাচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। রাষ্ট্র এবং দেশের প্রশাসনকে অনতিবিলম্বে এই ধরনের দেশবিরোধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, অন্যথায় জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
24/05/2026
সেনাবাহিনী কর্তৃক লক্ষীছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় পরিবারকে মানবিক সহায়তা প্রদান।
খাগড়াছড়ি, ২৪ মে ২০২৬ (রবিবার):
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এবং এক অসহায় পরিবারকে পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
গত ২৩ মে ২০২৬ তারিখ রাতে উপজেলার বাইন্যাছোলা এলাকার বাসিন্দা অরুন চাকমা ও জ্যোতিময় চাকমার যৌথ মালিকানাধীন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দোকানটির সমস্ত মালামাল ও আসবাবপত্র সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়ে পরিবারটি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ঘটনা জানতে পেরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লক্ষীছড়ি জোনের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ঢেউটিন প্রদান করা হয়। একইভাবে ময়ূরখীল গ্রামের বাসিন্দা দুলাল নামের অপর এক অসহায় ব্যক্তিকেও পুনর্বাসনের জন্য সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কেবল দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত রক্ষার্থেই নয়, বরং দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শান্তি, সম্প্রীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্যোগ ও বিপদে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেনাবাহিনী বারবার প্রমাণ করেছে যে তারা জনগণের প্রকৃত বন্ধু। লক্ষীছড়ির এই মানবিক সহায়তা সেনাবাহিনীর সেই নিয়মিত জনকল্যাণমূলক ও সেবামূলক প্রচেষ্টারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
22/05/2026
খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার যোগ্যাছোলা ইউনিয়নের দুর্গম আচালংপাড়া এলাকায় নিরাপদ পানির সংকট নিরসনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে একটি ওয়াটার পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎবিহীন ও সুবিধাবঞ্চিত এ জনপদের শতাধিক পরিবারের সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে উক্ত ওয়াটার পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয়রা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
এছাড়াও উপজেলার বাটনাতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসির উদ্যোগে এবং সিন্দুকছড়ি জোনের ব্যবস্থাপনায় একটি স্পোর্টস ক্লাব ও কম্পিউটার ক্লাব স্থাপন করা হয়েছে। বুধবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিন্দুকছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইসমাইল শামস আজিজী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উক্ত স্থাপনাগুলোর উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠান চলাকালে শিক্ষার্থীদের ক্রীড়ামুখী ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ সেনাবাহিনীর এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বাটনাতলী আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মুহতাসিম আলভী রাইম, বাটনাতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম মোহনসহ সেনাবাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
17/05/2026
পার্বত্য চট্টগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী শহিদ সৈনিক আলতাফ ও শহিদ সৈনিক তৌহিদ-এর তৃতীয় শাহাদাত বার্ষিকী
ঢাকা, ১৬ মে ২০২৬ (শনিবার): আজ পার্বত্য চট্টগ্রামে কর্তব্য পালনকালে শাহাদাতবরণকারী শহিদ সৈনিক মোঃ আলতাফ হোসেন এবং শহিদ সৈনিক মোঃ তৌহিদুল ইসলাম সাগরের তৃতীয় শাহাদাত বার্ষিকী। গত ১৬ মে ২০২৩ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রামের রুমা উপজেলার সিলোপি পাড়া এলাকায় কেএনএ সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি দখলের উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি অভিযানে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত আক্রমণের মুখে স্কাউট হিসেবে দায়িত্ব পালনরত সৈনিক মোঃ আলতাফ হোসেন এবং সৈনিক মোঃ তৌহিদুল ইসলাম সাগর গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে দ্রুত হেলিকপ্টারযোগে তাঁদের উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁরা শাহাদাত বরণ করেন। এই অসামান্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁদের মরণোত্তর সেনা গৌরব পদকে ভূষিত করা হয়।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। দেশমাতৃকার সেবায় তাঁদের কর্তব্যনিষ্ঠা, সাহসিকতা ও আত্মোৎসর্গ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের জন্য এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা ও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
কার্টেসী:- Bangladesh Army
16/05/2026
এদিকে দৃষ্টি দিন।।
হাফসা খাতুন (২২), ছেলে আছে সাথে ২বছর বয়স সহ নিখোঁজ আজ ৮/০ ৯ দিন।
স্বামী আজিজুল (৩০)
গুলশাখালী ইউনিয়ন সোনারগাঁও ৩নং ওয়ার্ড।
বড় ভাই মো.আক্কাস আলী (৩০)
বাবা মৃত শাহাবুদ্দীন
01646675737
এবিষয়ে লংগদু থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে। কোন আত্মীয় স্বজনের বাসায় অথবা কেউ কোথাও দেখ থাকলে দ্রুত সময়ে উপরোক্ত নাম্বারে অথবা আমাকেও জানাতে পারেন।
শেয়ার অথবা কপি পেস্ট করে সহযোগিতা করবেন।
12/05/2026
সন্তুলারমার ভারত সফর অজানা রহস্যে ঘেরা!!
পার্বত্য চট্টগ্রামের জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতায় সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা-এর ঘন ঘন ভারত সফর। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)-এর সভাপতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তার অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তার প্রতিটি পদক্ষেপ, বিশেষ করে বিদেশ সফর, স্বাভাবিকভাবেই জনমনে কৌতূহল, উদ্বেগ এবং নানা ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সফর যেখানে তিনি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা হয়ে কলকাতায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন এই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা ৩ মে ২০২৬ আবারও ভারতে গিয়েছে। তার ফ্লাইট শিডিউল অনুসারে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা হয়ে কলকাতায় (নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) গিয়ে নামেন।
ফ্লাইট বিবরণ: সিজিপি-ডিএসি: নভোএয়ার ফ্লাইট ভিকিউ-৯১০, সময় ০৩:১১৫৫-০৩:১২৫৫। ডিএসি-কলকাতা: ইন্ডিগো ফ্লাইট ৬ই১১০৬, সময় ০৩:১৭৩৫-০৩:১৮১০।
সন্তু লারমার এই সফর নিয়ে পার্বত্য অঞ্চলে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র জানায়, তিনি প্রায়ই ভারতে যান। সে চিকিৎসা ও পারিবারিক কাজের কথা বলা হলেও, তার পরিবারের সদস্যদের ভারতে বসবাস এবং সম্ভাব্য সম্পত্তির বিষয়টি অনেকের মনে প্রশ্ন জাগিয়েছে।সন্তু লারমার মেয়ে জুলিয়ানা লারমা ও তার স্বামী (সাবেক শান্তিবাহিনী সদস্য প্রধীর তালুকদার) কলকাতা এলাকায় বসবাস করেন। এ কারণে তিনি নিয়মিত সেখানে যান। পূর্বের সফরগুলোতেও চিকিৎসা, পিতৃতর্পণসহ পারিবারিক অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে থেকে পরিবারের সদস্যদের ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাস কতটা যৌক্তিক?
প্রথমত, এই সফরগুলোর পেছনের আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে চিকিৎসা ও পারিবারিক বিষয় উল্লেখ করা হলেও, বাস্তবতায় বিষয়টি এতটা সরলভাবে দেখছেন না অনেকেই। জানা যায়, সন্তু লারমার পরিবারের কিছু সদস্য, বিশেষ করে তার মেয়ে জুলিয়ানা লারমা ও জামাতা ভারতে বসবাস করেন। ফলে তার ভারত যাওয়া আংশিকভাবে পারিবারিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত এটি সত্য তেমনি তার পরিবার ভারতে এটিও রহস্যময়। তবে প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একজন নেতার পরিবারের সদস্যদের বিদেশে স্থায়ী বসবাস কতটা গ্রহণযোগ্য এবং এটি তার রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব তৈরি করছে কিনা।
দ্বিতীয়ত, এই সফরগুলোকে ঘিরে আনুগত্যের প্রশ্নটি বারবার সামনে আসছে। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তিচুক্তি-এর অন্যতম স্বাক্ষরকারী হিসেবে সন্তু লারমা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন এবং দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাতের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু তার ঘন ঘন ভারত সফর, অতীতে শান্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ, এবং পারিবারিক অবস্থান সব মিলিয়ে তার অবস্থান নিয়ে নতুন করে সন্দেহের অবকাশ তৈরি করছে। অন্যদিকে তার সমর্থকরা বলছেন, তিনি এখনো চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছেন এবং এই সফরগুলোকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে সবাই।
তৃতীয়ত, সম্পত্তি ও স্বচ্ছতার প্রশ্নও এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। যদিও তার নিজের নামে ভারতে সম্পত্তি থাকাও রহস্যময়, তবে পরিবারের সদস্যদের সেখানে বসবাসের কারণে স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় তার প্রভাব থাকার কারণে জনগণের একটি অংশ মনে করছে, তার সম্পদ ও পারিবারিক অবস্থান সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। একজন জননেতা হিসেবে তার কাছে এই জবাবদিহিতা প্রত্যাশা করাটা অযৌক্তিক নয়।
চতুর্থতঃ দেশে বিভিন্ন অর্থ ভারতে প্রচার করছে সন্তুলারমা। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে তার বিশেষ অংশ ভারতে পাঠানো হয়। সেখানে তার মেয়ে ও ৭ামাতা অস্ত্র ক্রয় করে পাহাড়ের বিভিন্ন স্থান দিয়ে প্রচার করে জেএসএস এর জন্য। এটিও অনুসন্ধানে উঠে আসে। কারণ এর আগে বেশ কয়েকবার জেএসএস ভারতে অস্ত্র সহ বিএসএফ এর হাতে আটক হয়েছিল।
অন্যদিকে, বিষয়টিকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বা পারিবারিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে পূর্ণ বাস্তবতা ধরা পড়ে না। পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল অঞ্চল, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা সমস্যা বিদ্যমান। এই অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক সংযোগ রয়েছে। অতীতে সংঘাতের সময় বহু পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল, যা দুই অঞ্চলের মধ্যে একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগ তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে কোনো নেতার ভারত সফর পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়।
তবে এখানেই প্রশ্ন আসে স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে। একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকে প্রত্যাশা থাকে যে, তার বিদেশ সফরের উদ্দেশ্য, বৈঠক এবং কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হবে। যখন এই স্বচ্ছতা অনুপস্থিত থাকে, তখনই সন্দেহ, গুজব এবং বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা গেছে, সন্তু লারমার সফরগুলো অনেক সময় এমন সময়ে হচ্ছে যখন পার্বত্য অঞ্চলে উত্তেজনা বা অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও এটি কাকতালীয় হতে পারে, তবে জনমনে এর ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি হওয়াটাও স্বাভাবিক।
ইতোমধ্যে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে বিধান সভা চলছে এ সময় সন্তুলারমার ভারত সফরও সবার কাছে রহস্যজন। অনেকে বলছেন তার ভারত সফর সেখানকার তার অনুসারীদের ভোটের খেলায় নির্দেশনা ও প্রচন্দের প্রার্থীদের বিজয় করার কাজ ও রয়েছে।
এখানে রাষ্ট্রের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের মতো একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য যেকোনো রাজনৈতিক নেতার আন্তর্জাতিক যোগাযোগ একটি সংবেদনশীল বিষয়। যদি কোনো সফর বা কার্যক্রম রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হয়, তাহলে তা তদন্ত ও পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই পুরো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত, উন্নয়ন বৈষম্য এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করা এই জনগোষ্ঠীর প্রধান চাওয়া শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন। কোনো রাজনৈতিক নেতা বা সংগঠনের কার্যক্রম যদি এই লক্ষ্য পূরণে সহায়ক না হয়, তাহলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
পরিশেষে বলা যায়, এই ইস্যুতে আবেগ নয়, বরং রাষ্ট্র, গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক সবার দরকার চোখকান খোলা রাখা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী শান্তি ও উন্নয়নের পথ সুগম করা।
12/05/2026
সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা বলয় না থাকলে পার্বত্যচট্টগ্রাম হবে পূর্ব তিমুর ও দক্ষিণ সুদানের মত অবিকল স্বাধীন রাষ্ট্র।
বাংলাদেশের এক-দশমাংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম সৌন্দর্যের লীলাভূমি সম্ভাবনাময় এক অঞ্চল। পার্শ্ববর্তী দুটি দেশের সীমান্তবর্তী খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে শকুনের নজর পড়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভৌগোলিক বিবেচনায় এই অঞ্চলের গুরুত্ব অনেক। তাই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অবৈধ অস্ত্র এবং বিভিন্ন প্রকার সহযোগিতা দিয়ে বাংলার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। এই ভূস্বর্গ রক্ষা করতে এই অঞ্চলে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম। অত্রাঞ্চলে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা বলয় না থাকলে পার্বত্যচট্টগ্রাম হবে ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব তিমুর কিংবা দক্ষিণ সুদানের মত অবিকল স্বাধীন রাষ্ট্র। আর বাংলাদেশে হারাবেই ভূস্বর্গ এক-দশমাংশ।
অনেক লেখাই উল্লেখ করা হয় পার্বত্য বাঙ্গালীদের দুর্বল করতে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীগোষ্ঠী একাধিক গ্রুপে বিভক্ত করে দিয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় পার্বত্য বাঙ্গালীদের মধ্যে এমন একটি সেন্টিমেন্ট তৈরি করে দেওয়া হয়েছে যে, সেনাবাহিনীর পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রয়োজনীয়তা নেই! পার্বত্য বাঙ্গালীদের মধ্যে যারা সচ্ছল তারা সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনা। তারা এটা অনুভব করেনা যে, সেনাবাহিনী না থাকলে তাদের নিরাপত্তা ও অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে৷
পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে গিয়ে এবং এ অঞ্চলের রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার স্বার্থে সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বরাবরই স্বজাতি কর্তৃক হয়রানির শিকার হয় এবং অপ্রিয় সত্য হল একটি মহল কর্তৃক ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয় বেশি।
বাঙ্গালী ও সেনাবাহিনীর পক্ষে কথা বলার কারণে থামানোর অংশ হিসেবে গভীর ষড়যন্ত্র করা হয় প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে৷ যারা এই ষড়যন্ত্র করে তারা সকলেই চিহ্নিত। যারাই ষড়যন্ত্র করেছে তাদের কাছে রাষ্ট্রীয় স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তি স্বার্থ এবং সন্ত্রাসীদের স্বার্থ প্রাধান্য ছিল বেশি। খ্যাতিমান কবি মহাদেব সাহার কবিতাটি প্রতিবাদীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য-
সুন্দরের হাতে আজ হাতকড়া, গোলাপের বিরুদ্ধে
হুলিয়া,
হৃদয়ের তর্জমা নিষিদ্ধ আর মননের সম্মুখে প্রাচীর
বিবেক নিয়ত বন্দী, প্রেমের বিরুদ্ধে পরোয়ানা;
এখানে এখন পাখি আর প্রজাপতি ধরে ধরে
কারাগারে রাখে-
সবাই লাঞ্ছিত করে স্বর্ণচাঁপাকে;
সুপেয় নদীর জলে ঢেকে দেয় বিষ, আকাশকে
করে উপহাস।
আলোর বিরুদ্ধাচারী আঁধারের করে শুধু স্ততি,
বসন্তের বার্তা শুনে জারি করে পূর্বাহ্নে কারফিউ,
মানবিক উৎসমুখে ফেলে যতো শিলা ও পাথর-
কবিতাকে বন্দী করে, সৌন্দর্যকে পরায় শৃঙ্খল।
পার্বত্য বাঙ্গালীদের একাধিক গ্রুপে বিভক্ত করে দিয়ে সন্ত্রাসীরা ইবলিশের মত খিলখিল করে হাসছে আর বাঙ্গালী দালাল, মীরজাফর ও সুবিধাভোগীরা রাষ্ট্রের স্বপক্ষের বাঙ্গালীদের দমনে মগ্ন।
10/05/2026
খাগড়াছড়িতে উপজাতি কতৃক জোরপূর্বক গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
খাগড়াছড়িতে ক্ষতিগ্রস্ত গামারী ঢালা এলাকার বসতভিটা ও এ মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, “উপজাতীয় সন্ত্রাসী” পরিচয়ে কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করে আসছে। তারা জোরপূর্বক বসতভিটা ও বাগানের গাছ কেটে নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বলেও দাবি করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বাগিস চাকমা ও বিনয় কুম্ভ চাকমা গংদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত গামারী ঢালা এলাকার পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ সময় এলাকাবাসী বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। মানববন্ধনে স্থানীয় নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
07/05/2026
পানছড়িতে গুলিতে নিহত ১, ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ।
খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় সশস্ত্র হামলায় এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত মোঃ ইমন হোসেন (২৫) ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর সদস্য ছিলেন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমন হোসেন উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা এবং রুহুল আমিনের ছেলে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্যমতে, ভোরে নিজ বাড়ির সামনে অবস্থানকালে ইউপিডিএফ প্রসীত মূল সন্ত্রাসী দলের একদল অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আকস্মিক এ হামলার পর এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক অমর চাকমা অভিযোগ করেন, প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তার দাবি, পাহাড়ে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই প্রতিপক্ষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে।
যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে ইউপিডিএফ (প্রসীত) পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মরদেহ উদ্ধারসহ ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
Click here to claim your Sponsored Listing.
