Sumaiya Sarkar-সুমাইয়া সরকার
লেখালেখি আমার কাছে নিছক শখ নহে
ইহা এমন এক নেশা, যাহা আমাকে প্রতিনিয়ত গ্রাস করে 😌✨🕊️
31/05/2026
আমি মানুষটা আপনাকে ভীষণ ভালোবাসি।
আপনার কণ্ঠের শান্তিটুকু, আপনার মায়াভরা কথাগুলো,
আপনার উপস্থিতির ছোট ছোট অনুভূতিগুলোই আমার ভীষণ প্রিয়।
আপনার কাছে আপনি ব্যতীত আমার আর কিছু চাওয়ার নেই।
না কোনো বিলাসিতা, না কোনো বিশাল স্বপ্ন,
শুধু দিনশেষে আপনার "আমিটাকে" আমার চাই।
আপনার “আমিটা” শুধু আমার জন্য বরাদ্দ রাখবেন।
আমি কথা দিচ্ছি,
জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও আমি আপনার হাত ছেড়ে যাবো না। অভিমান জমলেও দূরে সরে যাবো না। বরং আরো বেশি করে আগলে রাখবো আপনাকে।
আপনি জেনে রাখুন,
পৃথিবীর এই বিশাল ভিড়ে আপনিই আমার সবচেয়ে শান্তির জায়গা। আপনাকে ভেবেই আমার সকাল হয়, আপনাকে মনে রেখেই রাত পার হয়ে যায়।
আপনার হাসির মধ্যেই আমি নিজের শান্তি খুঁজে পাই।
আপনার মন খারাপ থাকলে অকারণে আমার বুকটাও ভারী হয়ে আসে। আপনার একটু অবহেলাও অনেক কষ্ট দেয় আমাকে।
আপনি মনে রাখবেন,
আমি আজীবন ভালোবাসবো আপনাকে,
ঠিক প্রথম দিনের সেই মুগ্ধতা নিয়ে। সময় বদলালেও বদলাবে না আপনার জন্য রাখা আমার ভালোবাসাটুকু।
আমি মানুষটা সত্যিই আপনাকে অসম্ভব রকম ভালোবাসি।😌❤️🩹
30/05/2026
মানুষ তার
অন্তগর্ত ধ্বংসাবশেষ,
আত্মিক ক্ষয়
অনুভূতির রক্তাক্ত
ভগ্নাংশ ও দীর্ঘস্থায়ী নিঃসঙ্গতার
ছাই থেকে এক জটিল, জীবন্ত বহুমাত্রিক মানস-প্রতিমা
নির্মাণ করে, আর সেই সুগভীর অভ্যন্তরীণ প্রতিরূপের নাম সে নিরব বিস্ময় ও অদ্ভুত নিবিষ্টতায় রাখে....
মানুষ আসলে এক গভীর অন্তর্জাগতিক রসায়নের ধারক;সে তার হৃদয়ের অন্ধকারতম প্রকোষ্ঠে স্তব্ধ হয়ে পড়ে থাকা ক্ষত-স্মৃতি, অপূর্ণ অনুভূতির মৃত অবশেষ, অবদমিত আর্তনাদের জমাট স্তর, অনুচ্চারিত বিষণ্নতার ধূসর ধূলিকণা এবং আত্মার গোপন ভাঙনগুলোকে নিঃশব্দে বহন করে চলে। বাহ্যিকভাবে তাকে স্বাভাবিক মনে হলেও, তার অবচেতনের নিভৃত ভেতরজগতে প্রতিনিয়ত চলতে থাকে অনুভূতির ধ্বংস ও পুনর্গঠনের এক অদৃশ্য প্রক্রিয়া। সেখানে আর্তনাদগুলো আর কেবল আর্তনাদ থাকে না-তারা ধীরে ধীরে রূপ নেয় মানসিক ক্ষয়ের প্রত্নচিহ্নে; আর ব্যথাগুলো পরিণত হয় এমন এক অন্তর্লীন অনুরণনে, যার ভাষা উচ্চারণ করা যায় না, কেবল অনুভব করা যায়।
তারপর মানুষ সেই অন্তর্গত ধ্বংসস্তূপ-অনীহার দহনচিহ্ন,নিঃসঙ্গতার দীর্ঘস্থায়ী অবক্ষেপ, বিষণ্নতার কালো ছাই, অব্যক্ত ক্ষতের শীতল কণামালা এবং অপ্রকাশিত আর্তনাদের অবসন্ন রক্তরেখাগুলোকে শব্দের সূক্ষ্ম দেহে সঞ্চারিত করে।প্রতিটি অক্ষরের মধ্যে সে মিশিয়ে দেয় তার দীর্ঘ নীরবতার জমাট রক্তক্ষরণ;প্রতিটি বাক্যে ছড়িয়ে দেয় নিজের অস্তিত্বগত ক্লান্তির গোপন প্রতিধ্বনি।তারপর সেই শব্দমালাকে স্থাপন করে সাদা কাগজের নির্মম অথচ পবিত্র নৈঃশব্দ্যে-যেখানে প্রতিটি বিরামচিহ্নও এক একটি অব্যক্ত আর্তনাদের প্রতীক হয়ে থাকে।
এই সমগ্র সৃষ্টিপ্রক্রিয়া আদতে কোনো সাধারণ লেখা নয়;এ এক নিঃশব্দ আত্ম-প্রত্নতাত্ত্বিক অভিযাত্রা, যেখানে মানুষ নিজের অবচেতনের গহ্বর থেকে চাপা পড়ে থাকা অনুভূতির জীবাশ্ম উদ্ধার করে। এখানে নীরবতা শব্দে রূপান্তরিত হয়,অবদমন ভাষার অধিকার পায়, বিস্মৃতি সাময়িক আশ্রয় খুঁজে পায়,আর ব্যথা নিজেকে ধ্বংস না করে শিল্পে পুনর্জন্ম নেয়।
অবশেষে-
মানুষ তার অন্তর্গত ধ্বংসাবশেষ, আত্মিক ক্ষয়, অনুভূতির রক্তাক্ত ভগ্নাংশ ও দীর্ঘস্থায়ী নিঃসঙ্গতার ছাই থেকে এক জটিল, জীবন্ত, বহুমাত্রিক মানস-প্রতিমা নির্মাণ করে;আর সেই সুগভীর অভ্যন্তরীণ প্রতিরূপের নাম সে নীরব বিস্ময় ও অদ্ভুত নিবিষ্টতায় রাখে। ❤️🩹
29/05/2026
আমি তো সচ্ছ পাণ্ডুলিপির ন্যায় নিজেকে মেলে ধরেছিলাম, তবু পৃথিবী আমার অন্তর্লিখিত আর্তনাদ পাঠোদ্ধারে চিরকাল অপারগই রয়ে গেল।
দুর্ভাগ্যবশত পাঠোদ্ধারের সক্ষমতাহীন এক অশিক্ষিত সভ্যতার মাঝেই আমার অবস্থান ছিল।পৃথিবী সর্বদাই আমার কঠোরতা ও অসামাজিক সত্তাটুকুরই হিসাব রেখেছে,অথচ সেই নিরাবেগ বহিরাবরণের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা মানুষটিকে জানার প্রয়োজন বোধ করেনি কেউ। আর এখন জানবেও না-আমি যেমন,তেমনই;
এই অন্তরালের আড়ালে আর কোনো পৃথক মানবসত্তা অবশিষ্ট নেই,যাকে পৃথিবী কোনোদিন খুঁজে পাবে:)❤️🩹🕊️
গরু দি জীবিত হয়ে যায় 🙂💔
25/05/2026
আমি কখনোই অনুভূতির সুস্পষ্ট ভাষা আয়ত্ত করতে পারিনি; হৃদয়ের অন্তর্গত আর্তনাদগুলো বরাবরই নৈঃশব্দ্যের গহ্বরে অবদমিত থেকেছে।মানুষ সাধারণত তাদের বিষণ্নতা শব্দে প্রকাশ করে, অভিমানকে অশ্রুতে অনুবাদ করে, কিংবা ক্লান্ত আত্মাকে কারও নিকট সমর্পণ করে সাময়িক প্রশান্তি খুঁজে নেয়-কিন্তু আমার ভেতরের জগৎ চিরকালই ছিল এক ভিন্ন প্রকৃতির।সেখানে অনুভূতিগুলো কখনো কোমল উচ্চারণে জন্ম নেয় না; বরং তারা দীর্ঘদিন ধরে অবচেতনের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে জমাট বাঁধতে বাঁধতে একসময় তীব্র মানসিক অস্থিরতায় রূপান্তরিত হয়।
আমি যখন নীরব থাকি,মানুষ ভাবে আমি শান্ত;
অথচ সেই নীরবতার অন্তরালে প্রতিনিয়ত চলতে থাকে অনুভূতির নির্মম সংঘর্ষ।কিছু অপূর্ণ বাক্য,কিছু অনুচ্চারিত অভিমান, কিছু অব্যক্ত ক্লান্তি আর অসংখ্য গোপন ক্ষত ধীরে ধীরে হৃদয়ের ভেতরে এমন এক চাপ সৃষ্টি করে,যা শেষপর্যন্ত ভাষা খুঁজে না পেয়ে ক্রোধের বিস্ফোরণে আত্মপ্রকাশ করে।আমার রাগ আসলে হঠাৎ জন্ম নেওয়া কোনো উন্মত্ততা নয়-এ বহুদিন ধরে স্তব্ধ হয়ে থাকা অনুভূতির জমাট প্রতিবাদ।
কারণ আমি কখনো কাউকে সম্পূর্ণভাবে বলতে পারিনি,
কোন বিষয়গুলো আমাকে নিঃশব্দে ভেঙে দেয়, কোন আচরণগুলো আত্মার গভীরে ক্ষতের রেখা এঁকে যায়, কিংবা কোন নৈঃশব্দ্য আমাকে ধীরে ধীরে মানসিক ক্লান্তির অতলে ঠেলে দেয়। আমি নিজের ব্যথাগুলোকে সবসময় সংযত রাখতে চেয়েছি,যেন অনুভূতির প্রকাশ আমাকে দুর্বল প্রমাণ না করে।কিন্তু অবদমিত অনুভূতিরও এক সীমা থাকে;তারা একসময় হৃদয়ের অন্তর্লীন অন্ধকার সহ্য করতে না পেরে আচরণে,বাক্যে,কিংবা আকস্মিক রাগে বিস্ফোরিত হয়।
তাই আমার ক্রোধকে যারা কেবল দুর্ব্যবহার ভাবে,
তারা কখনো উপলব্ধি করতে পারে না-এই তীব্রতার পেছনে কত বছরের অব্যক্ত আর্তনাদ জমে আছে।তারা দেখে আমার রাগ, কিন্তু দেখে না সেই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতাকে,যেখানে আমি প্রতিনিয়ত নিজের অনুভূতিগুলোকে শ্বাসরোধ করে বাঁচিয়ে রাখি।কারণ কিছু মানুষ কাঁদতে পারে না,খুলে বলতে পারে না,দুর্বলতার ভাষাও জানে না; তারা কেবল ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে যায়,আর তাদের অবদমিত কোমলতাগুলো একসময় ক্রোধের রূপ ধারণ করে:)🫀🖤
24/05/2026
তবে আপনি মনে রাখবেন,
আমি মানুষটা আপনাকে ভীষণ ভালোবাসি।
আপনার কণ্ঠের শান্তিটুকু, আপনার মায়াভরা কথাগুলো,
আপনার উপস্থিতির ছোট ছোট অনুভূতিগুলোই আমার ভীষণ প্রিয়।
আপনার কাছে আপনি ব্যতীত আমার আর কিছু চাওয়ার নেই।
না কোনো বিলাসিতা, না কোনো বিশাল স্বপ্ন,
শুধু দিনশেষে আপনার "আমিটাকে" আমার চাই।
আপনার “আমিটা” শুধু আমার জন্য বরাদ্দ রাখবেন।
আমি কথা দিচ্ছি,
জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও আমি আপনার হাত ছেড়ে যাবো না। অভিমান জমলেও দূরে সরে যাবো না। বরং আরো বেশি করে আগলে রাখবো আপনাকে।
আপনি জেনে রাখুন,
পৃথিবীর এই বিশাল ভিড়ে আপনিই আমার সবচেয়ে শান্তির জায়গা। আপনাকে ভেবেই আমার সকাল হয়, আপনাকে মনে রেখেই রাত পার হয়ে যায়।
আপনার হাসির মধ্যেই আমি নিজের শান্তি খুঁজে পাই।
আপনার মন খারাপ থাকলে অকারণে আমার বুকটাও ভারী হয়ে আসে। আপনার একটু অবহেলাও অনেক কষ্ট দেয় আমাকে।
আপনি মনে রাখবেন,
আমি আজীবন ভালোবাসবো আপনাকে,
ঠিক প্রথম দিনের সেই মুগ্ধতা নিয়ে। সময় বদলালেও বদলাবে না আপনার জন্য রাখা আমার ভালোবাসাটুকু।
আমি মানুষটা সত্যিই আপনাকে অসম্ভব রকম ভালোবাসি।
22/05/2026
জানেন প্রিয়-
আপনার জন্য আমার দোয়া অশেষ সীমাহীন। আপনি শুধু প্রিয় নন, আপনি আমার হৃদয়ের নীরব স্বপ্ন ভীরের মাঝেও।
মনে রাইখেন, কেউ একজন প্রার্থনায় আপনার জন্য ব্যস্ত। নিজের যত্ন নিন, কারণ আপনি আমার অমূল্য অনুভূতি...! 😌❤️🩹
13/05/2026
মাঝে মাঝে আমার খুব একা লাগে। এই একাকীত্ব কোনো নির্জনতার নয়, বরং ভিড়ের মাঝেও নিজেকে খুব নিঃসঙ্গ মনে হওয়ার। কেন এমন হয়? কেন কোনো কারণ ছাড়াই বুকটা হু হু করে ওঠে? আমি আসলে মানুষের অবহেলা সইতে পারি না। যখন দেখি আমার খুব কাছের মানুষগুলো আমাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না, আমার অস্তিত্বকে অবজ্ঞা করছে, তখন আমার ভেতরটা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। আমি বুঝতে পারি না কেন মানুষ এতোটা নির্দয় হতে পারে। আমি তো শুধু একটু ভালোবাসা আর সম্মান চেয়েছিলাম, কিন্তু বিনিময়ে পেলাম কেবল উপেক্ষা।
সবচেয়ে বড় যন্ত্রণাটা হয় তখন, যখন আমি ক্লান্ত হয়ে ঠিক করি যে আর নয়, এবার আমি দূরে সরে যাব। নিজের আত্মসম্মান বাঁচাতে আমি যখন আড়ালে চলে যেতে চাই, ঠিক তখনই সেই মানুষগুলো আবার ফিরে আসে। তারা এমনভাবে আসে যেন কিছুই হয়নি, যেন তাদের জীবনে আমার গুরুত্ব অপরিসীম। আর আমি? আমার এই মায়ার শরীর কিছুতেই কঠোর হতে পারে না। আমি আবার তাদের মায়ায় জড়িয়ে যাই, আবার তাদের প্রশ্রয় দিই। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই বুঝতে পারি, তারা ফিরে এসেছিল কেবল নিজেদের প্রয়োজনে। এই ফিরে আসাটা ভালোবাসার নয়, বরং আমাকে আবারও ব্যবহার করার একটা অজুহাত মাত্র। এই চক্রে আমি বারবার ক্ষতবিক্ষত হই।
"আমি মায়ার টানে আটকে যাই বারবার, আর তারা সেই মায়ার সুযোগ নিয়ে আমাকে অবহেলার সাগরে ডুবিয়ে দেয়।"
এখন আমি বুঝতে শিখছি, আমার জীবনটা কারো অবহেলা সইবার জন্য নয়। পৃথিবীটা অনেক বিশাল, আর আমার এই ছোট্ট অস্তিত্বের মূল্য কোনো নির্দিষ্ট মানুষের দেওয়া বা না-দেওয়া গুরুত্বের ওপর মোটেও নির্ভর করে না। আমি আজ বুঝতে পারছি, আমার এই ‘ভালো না লাগা’ বা বিষণ্ণতার আসল কারণ হলো—আমি নিজেকে যথেষ্ট ভালোবাসতে শিখিনি। অন্যকে খুশি করার এক অদ্ভুত নেশায় আমি নিজের মানসিক শান্তি আর ভালো থাকাকে বিসর্জন দিয়েছি। আমি অন্যের আয়নায় নিজেকে দেখতে চেয়েছিলাম বলেই আজ আমি এতোটা রিক্ত।এখন সময় হয়েছে নিজেকে একটু সময় দেওয়ার। যারা আমাকে প্রয়োজনে কাছে টানে আর প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে দূরে ঠেলে দেয়, তাদের চিনে রাখাটা এখন আমার জন্য খুব জরুরি। মায়া কাটানো হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি, কিন্তু নিজের মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর জন্য এখন আমার কঠোর হওয়াটা বড্ড প্রয়োজন। কারো করুণার পাত্রী হয়ে বা অবহেলা সহ্য করে কারো ‘প্রিয়’ হওয়ার চেয়ে, একলা পথে নিজের সম্মান আর ব্যক্তিত্ব নিয়ে হাঁটা অনেক বেশি তৃপ্তির। আমি এখন আর কারো ছায়া হয়ে থাকতে চাই না, বরং নিজের রোদে নিজে পুড়তে চাই।পরিশেষে নিজের মনকে এই সান্ত্বনা দিই যে, আমার এই মন খারাপের ঘন মেঘ একদিন নিশ্চয়ই কেটে যাবে। হয়তো কালকের সকালের আলোটা আমার জন্য অন্যরকম কোনো বার্তা নিয়ে আসবে। নিজেকে অকারণে আর কষ্ট দিতে চাই না। যারা আমার নীরবতার ভাষা বোঝেনি, তারা আমার চোখের জলের মূল্য কখনো দেবে না—এটা মেনে নেওয়াই শ্রেয়। চোখের জল ফেলা এখন আমার কাছে এক বিলাসিতা মনে হয়। আমি এখন নিজের একাকীত্বকে উপভোগ করতে শিখছি। যখন আমি নিজের সাথে নিজে কথা বলি, তখন পৃথিবীটা আর অতটা নিষ্ঠুর বা কঠিন মনে হয় না।
সবাইকে খুশি রাখা আমার দায়িত্ব নয়, আর আমি তা পারবও না। আমার আত্মসম্মান এখন আমার কাছে সবার উপরে। যে মানুষটি আমার নীরবতাকে সম্মান করতে জানে না, সে আমার কান্নার হাহাকারকেও কোনোদিন বুঝবে না। তাই সব মিথ্যে মায়া আর মরীচিকা ত্যাগ করে আমি এবার নিজের জন্য বাঁচতে শিখছি। দিনশেষে আমার আমি-ই একমাত্র ধ্রুব সত্য, বাকি সব কেবলই আসা-যাওয়ার স্রোত। আমি এখন নিজের হাত শক্ত করে ধরতে শিখেছি,শিখছি বললে ভুল হবে শিখতে হবে আমাকে, কেউ কারো না কেউ না।❤️🩹😌
10/05/2026
গল্প: কালো ছায়ার ডাকে
লেখিকা: সুমাইয়া সরকার
চন্দ্রপুর গ্রামের নাম শুনলেই মানুষ এখন আর আগের মতো শান্তি ভাবে না। একসময় যে গ্রামটা ছিল ধানক্ষেত আর নদীর জন্য পরিচিত, এখন সেটা পরিচিত একটাই কারণে—বটগাছটা।
গ্রামের পশ্চিম প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা সেই বটগাছটা এত পুরোনো যে গ্রামের কেউ তার বয়স জানে না। শেকড়গুলো মাটির ওপর উঠে এসে চারদিকে ছড়িয়ে আছে, যেন কেউ ইচ্ছে করে মাটির নিচ থেকে কিছু ধরে রেখেছে।
বড়রা ছোটদের সবসময় বলত—“ওই গাছটার দিকে বেশি তাকাবি না।”
কারণ কিছু জিনিস শুধু নিষিদ্ধ না, বিপজ্জনকও হয়।
আদিবা এসব শুনে হাসত। সে শহরে বড় হয়েছে, পড়াশোনা করেছে, যুক্তিতে বিশ্বাস করে। তার কাছে এসব ছিল গ্রাম্য ভয় আর কুসংস্কার ছাড়া কিছুই না।
সে কয়েকদিনের জন্য মামার বাড়িতে এসেছে। শহরের ক্লান্ত জীবন থেকে একটু দূরে থাকা, প্রকৃতি দেখা—এই ছিল তার উদ্দেশ্য।
কিন্তু সে জানত না, এই গ্রামটা শুধু প্রকৃতি নিয়ে না। এখানে কিছু গল্প আছে যেগুলো কখনো শেষ হয়নি।
একদিন বিকেলে আদিবা রিমির সাথে বসে ছিল উঠোনে। রিমি গ্রামের মেয়ে, একটু শান্ত স্বভাবের। হঠাৎ কথার মাঝে রিমি বলল,
“তুই ওই বটগাছটার দিকে যাবি না, আদিবা।”
আদিবা হেসে বলল, “কেন? ওখানে কি রাজা-বাদশা থাকে নাকি?”
রিমি একটু চুপ করে থেকে বলল, “না… ওখানে কিছু ডাকা হয়েছে।”
“ডাকা হয়েছে মানে?”
রিমি চোখ নামিয়ে নিল, “বাবা বলে, অনেক বছর আগে গ্রামের একজন মানুষ ভুল করে একটা জিনিস ডেকে এনেছিল। তারপর থেকে সব বদলে গেছে।”
আদিবা কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করল, “কিসের জিনিস?”
রিমি ধীরে বলল, “যেটা নাম দিয়ে ডাকা যায় না… যেটা শুধু নিজের ইচ্ছায় আসে।”
আদিবা তখনো বিশ্বাস করল না। সে ভেবেছিল এটা গ্রামের পুরনো গল্প।
কিন্তু সেই রাত থেকেই শুরু হলো সব।
রাতে ঘুম ভেঙে গেল অদ্ভুত একটা শব্দে। প্রথমে মনে হলো বাতাস। কিন্তু না—ওটা বাতাস না, ফিসফিস।
“আদিবা…”
সে উঠে বসল।
ঘর অন্ধকার। চারপাশ নীরব।
“রিমি?” সে ডাকল।
কোনো উত্তর নেই।
আবার সেই কণ্ঠ,
“আসো…”
এইবার শব্দটা জানালার বাইরে থেকে আসছে।
আদিবা ধীরে ধীরে জানালার কাছে গেল। বাইরে তাকাল।
দূরে বটগাছটা দেখা যাচ্ছে। অন্ধকারের মধ্যে যেন একটা কালো ছায়া দাঁড়িয়ে আছে।
কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর সেটি মিলিয়ে গেল।
সে নিজেকে বোঝাল—“মনের ভুল।”
কিন্তু তার শরীর আর মন এক কথা বলছিল না।
পরদিন বিকেলে সে একাই বের হলো। না বলে, কাউকে না জানিয়ে।
পা আপনাতেই বটগাছটার দিকে নিয়ে গেল।
যতই কাছে গেল, বাতাস ততই ভারী হতে লাগল। পাখির শব্দ নেই, কুকুরের ডাক নেই।
যেন পুরো জায়গাটা নিঃশ্বাস বন্ধ করে আছে।
বটগাছটার নিচে পৌঁছে সে থেমে গেল।
মাটিতে একটা বড় বৃত্ত আঁকা। লালচে দাগ শুকিয়ে গেছে। চারদিকে ছড়িয়ে আছে কিছু অচেনা জিনিস—ছোট হাড়, শুকনো ফুল, কালো মাটি।
মাঝখানে একটা পুতুল রাখা।
কালো কাপড়ে মোড়ানো, চোখ দুটো লাল সুতায় সেলাই করা।
আদিবা নিচু হয়ে তাকাল।
“এটা কে রাখল এখানে?” সে নিজে নিজে বলল।
হঠাৎ পিছন থেকে একটা কণ্ঠ,
“ওটা ছুঁয়ো না।”
আদিবা ঘুরে দাঁড়াল।
একজন বৃদ্ধা দাঁড়িয়ে আছে। মুখে বয়সের দাগ, কিন্তু চোখ দুটো অস্বাভাবিক গভীর।
“আপনি কে?” আদিবা জিজ্ঞেস করল।
বৃদ্ধা ধীরে বলল, “আমি এই গ্রামের সেই মানুষ, যে সব দেখেছে।”
“কি দেখেছেন?”
বৃদ্ধা পুতুলটার দিকে তাকিয়ে বলল, “এই জিনিসটা মানুষ বানায় না। এটা ডাকা হয়।”
“কে ডাকে?”
বৃদ্ধা চোখ তুলে তাকাল, “যে জানে না সে কী করছে।”
আদিবা হেসে ফেলল, “এগুলো শুধু গল্প।”
বৃদ্ধা এবার একটু এগিয়ে এসে বলল, “তুই যদি এটা ছুঁস, তোর ছায়া আর তোর থাকবে না।”
আদিবা কিছু না ভেবে হাত বাড়াল।
“ছোঁয়ার আগে ভাবো,” বৃদ্ধা বলল।
কিন্তু দেরি হয়ে গেছে।
আদিবা পুতুলটা তুলে নিয়েছে।
সাথে সাথে বাতাস থেমে গেল।
চারপাশ নিস্তব্ধ।
তার হাতে একটা ঠান্ডা শীতল অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল, যেন কিছু ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে।
সে পুতুলটা ফেলে দিতে চাইল, কিন্তু হাত নড়ছিল না।
তার মাথার ভেতর একটা কণ্ঠস্বর উঠল—
“শেষে তুমি আমাকে ডাকলে…”
আদিবা চিৎকার করে বলল, “কে তুমি?”
কণ্ঠস্বর আবার বলল, “আমি সেই, যাকে ডাকা হয়…”
বৃদ্ধা পেছন থেকে বলল, “শেষ হয়ে গেছে…”
সেই রাতেই আদিবা বাড়ি ফিরে আসে। বাইরে থেকে সব স্বাভাবিক।
কিন্তু ভিতরে কিছু বদলে গেছে।
তার চোখে আগের উষ্ণতা নেই। মুখে অদ্ভুত একটা শান্তি।
রিমি জিজ্ঞেস করল, “তুই ঠিক আছিস?”
আদিবা হেসে বলল, “হ্যাঁ, আমি ঠিক আছি।”
কিন্তু সে যখন চলে যাচ্ছিল, রিমি খেয়াল করল—তার ছায়া উল্টো দিকে পড়ছে।
রাত গভীর হলে আদিবা আয়নার সামনে দাঁড়াল।
তার মুখ নিজের মতো লাগছে না।
ভেতর থেকে একটা কণ্ঠ বলল,
“একজন যথেষ্ট না…”
আদিবা ফিসফিস করে বলল, “কে?”
“আরও চাই…”
পরদিন সে রিমিকে ডাকল।
“চল, একটু হাঁটি।”
রিমি রাজি হলো না।
কিন্তু কিছুক্ষণ পর সে রাজি হয়ে গেল। যেন কেউ তাকে বাধ্য করল।
বটগাছের কাছে পৌঁছে রিমি থেমে গেল।
“এটা ভালো লাগছে না,” সে বলল।
আদিবা শান্ত গলায় বলল, “আমি আছি তো।”
কিন্তু সেই মুহূর্তে মাটি কেঁপে উঠল।
রিমির ছায়া আলাদা হয়ে গেল।
আর ছায়াটা ধীরে ধীরে তার দিকে এগোতে লাগল।
রিমি চিৎকার করল, কিন্তু তার শব্দ বাতাসে মিলিয়ে গেল।
পরদিন গ্রামে রিমি নেই।
কেউ জানে না সে কোথায় গেছে।
শুধু আদিবা জানে।
সে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।
তার পিছনে এখন দুইটা ছায়া।
একটা তার নিজের।
আরেকটা… কিছুটা লম্বা, কিছুটা অচেনা।
তার ঠোঁটে একটা হালকা হাসি।
“আরও একজন…” সে ফিসফিস করল।
গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে আসছে।
আর বটগাছটা যেন আরও বড় হয়ে উঠছে, যেন সে অপেক্ষা করছে।
শেষ কণ্ঠটা আবার শোনা গেল—
“এবার পুরোটা গ্রাম…”
সমাপ্ত
[ বিঃদ্রঃ ভালো না লাগলে ইগনোর করবেন গল্প লেখার মুড নাই তারপরও কি জানি এডা লেখছি আমি নিজেও জানি না 😑]
গল্প: বৃষ্টিভেজা ভালোবাসা
লেখিকা: সুমাইয়া সরকার
বাইরে তখন টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। রাত প্রায় ১১টা। আকাশে মাঝেমধ্যে বিদ্যুতের আলো ঝলসে উঠছে, যেন প্রকৃতি নিজেই নিজের ছবি আঁকছে।
ঘরের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে আদিবা। বয়স মাত্র ২০, কিন্তু চোখে-মুখে এক অদ্ভুত শান্তি আর গভীরতা। তার লম্বা চুলগুলো হালকা ভেজা—কিছুক্ষণ আগেই বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে হাত ভিজিয়ে এসেছে।
তার চোখটা বারবার দরজার দিকে চলে যাচ্ছে।
“এখনো আসলো না…” সে আস্তে করে ফিসফিস করে।
আজ তুহিনের একটু দেরি হচ্ছে। অফিস থেকে ফেরার কথা ছিল ১০টার মধ্যে, কিন্তু এখন প্রায় এক ঘণ্টা পার হয়ে গেছে।
হঠাৎ দরজার বেল বাজলো।
টিং টং…
আদিবার বুকটা কেমন যেন হালকা কেঁপে উঠলো। সে দ্রুত গিয়ে দরজা খুললো।
দরজা খুলতেই ভেজা শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তুহিন। বয়স ২৬, চোখে ক্লান্তি, কিন্তু ঠোঁটে সেই চেনা হাসি।
“এই বৃষ্টিতে ভিজে আসছো?” আদিবার গলায় হালকা রাগ, কিন্তু চোখে শুধু চিন্তা।
তুহিন মুচকি হেসে বললো,
“তুমি তো জানো , বৃষ্টি আমাকে থামাতে পারে না।”
আদিবা ভ্রু কুঁচকে বললো,
“ঠান্ডা লাগবে, বুঝো না কিছু?”
সে দ্রুত একটা তোয়ালে এনে তুহিনের হাতে দিলো, তারপর নিজেই তার চুল মুছতে শুরু করলো।
তুহিন একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো আদিবার দিকে।
“এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?” আদিবা একটু লজ্জা পেয়ে বললো।
তুহিন আস্তে করে বললো,
“কারণ, তোমার মধ্যে আমি শান্তি খুঁজে পাই …”
এই একটা লাইনেই আদিবার মুখটা লাল হয়ে গেলো। সে কিছু না বলে মাথা নিচু করে ফেললো।
কিছুক্ষণ পর দু’জন বসে আছে সোফায়। বাইরে বৃষ্টির শব্দ আরও বেড়েছে। ঘরের লাইট অফ, শুধু একটা হালকা হলুদ ল্যাম্প জ্বলছে—পুরো পরিবেশটাই যেন নরম, উষ্ণ।
আদিবা চুপচাপ তুহিনের পাশে বসে আছে। তার মাথাটা আস্তে করে তুহিনের কাঁধে রাখা।
“আজ এত চুপচাপ কেন?” তুহিন জিজ্ঞেস করলো।
আদিবা একটু থেমে বললো,
“তুমি দেরি করলে আমি ভয় পাই…”
তুহিন অবাক হয়ে তাকালো,
“ভয়? কিসের?”
“যদি কিছু হয়ে যায়…”—কথাটা বলার সময় তার গলা কেঁপে উঠলো।
তুহিন ধীরে ধীরে তার হাতটা ধরে।
“আমার কিছু হবে না, আমাকে তো তোমার কাছে ফিরতেই হবে…”
এই কথাটা শুনে আদিবার চোখে জল চলে এলো।
“তুমি বুঝো না… আমি তোমাকে ছাড়া কিছুই না…” সে আস্তে করে বললো।
তুহিন আর কিছু বললো না। শুধু তাকে নিজের দিকে টেনে নিলো। আদিবা তার বুকে মুখ লুকিয়ে ফেললো।
বাইরে বৃষ্টি তখন আরও জোরে পড়ছে, আর ভেতরে দু’টা মানুষ একে অপরের মাঝে আশ্রয় খুঁজে পাচ্ছে।
“চল, বারান্দায় যাই?” হঠাৎ তুহিন বললো।
আদিবা অবাক,
“এই বৃষ্টিতে?”
“হ্যাঁ, একসাথে ভিজবো।”
“না! ঠান্ডা লাগবে!”—আদিবা দ্রুত না করে দিলো।
তুহিন একটু দুষ্টুমি করে বললো,
“আমি থাকলে তোর ঠান্ডা লাগবে না।”
“এইসব ডায়লগ দিও না…”—আদিবা হেসে ফেললো।
শেষ পর্যন্ত তুহিন জোর করে তাকে বারান্দায় নিয়ে গেলো।
বৃষ্টি তখন ঝরঝর করে পড়ছে। দু’জন দাঁড়িয়ে আছে একসাথে। প্রথমে আদিবা একটু সরে ছিল, কিন্তু তুহিন তার হাতটা ধরে টেনে নিলো।
ঠান্ডা পানির ফোঁটা গায়ে পড়তেই আদিবা কেঁপে উঠলো।
“দেখছো! বলেছিলাম না ঠান্ডা লাগবে!” সে রাগ দেখালো।
তুহিন তার খুব কাছে এসে দাঁড়ালো।
“এখনো লাগছে?”
আদিবা কিছু বলার আগেই তুহিন তার দুই হাত নিজের হাতে নিয়ে বললো,
“আমি আছি না…”
এই মুহূর্তটা যেন থেমে গেলো আশে পাশে সব স্তব্ধ শুধু মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকানো ছাড়া আর বৃষ্টির আওয়াজ ছাড়া কিছুই নেই।
বৃষ্টির শব্দ, রাতের অন্ধকার, আর তাদের চোখে চোখ রাখা—সবকিছু মিলে এক অদ্ভুত নীরবতা তৈরি হলো।
আদিবা আস্তে করে বললো,
“তুমি সবসময় থাকবে তো?”
তুহিন একটুও দেরি না করে বললো,
“যতদিন বৃষ্টি থাকবে, ততদিন আমি থাকবো। আর বৃষ্টি না থাকলেও… আমি তোমার সাথেই থাকবো।”
এই কথাটা শুনে আদিবার ঠোঁটে একটা নরম হাসি ফুটে উঠলো।
কিছুক্ষণ পর তারা আবার ভেতরে এলো। দু’জনেই ভিজে গেছে পুরো।
“চল, আগে কাপড় পাল্টাও,” আদিবা বললো।
“একসাথে?”—তুহিন মজা করে বললো।
“চুপ!”—আদিবা তাকে হালকা ধাক্কা দিলো।
কিছুক্ষণ পর তারা আবার বসলো—এইবার দু’জনেই শুকনো কাপড়ে, হাতে গরম চা।
বাইরে বৃষ্টি এখনো থামেনি।
“এই রাতটা খুব সুন্দর, না?” আদিবা বললো।
তুহিন তার দিকে তাকিয়ে বললো,
“রাত না… তুমি সুন্দর।”
আদিবা চোখ ঘুরিয়ে বললো,
“আবার শুরু…”
তুহিন হাসলো।
“জানো, তোমার সাথে এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই আমার সবকিছু।”
আদিবা চুপ করে শুনছিল।
“বড় কিছু দরকার নেই… শুধু তুমি পাশে থাকলেই আমার পুরো পৃথিবী হয়ে যায়।”
আদিবার চোখ আবার ভিজে উঠলো।
সে আস্তে করে তুহিনের হাতটা চেপে ধরলো।
“আমিও…”
রাত আরও গভীর হলো।
বৃষ্টি ধীরে ধীরে কমে এলো।
তারা দু’জন বিছানায় শুয়ে আছে—একদম কাছাকাছি। আদিবার মাথা তুহিনের বুকে।
তুহিন তার চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
“ঘুম আসছে?” সে আস্তে করে জিজ্ঞেস করলো।
“হুম…”—আদিবার আধো ঘুমের গলা।
“একটা কথা বলবো?”
“বল…”
“আমি খুব লাকি, জানো?”
“কেন?”
“কারণ, আমি তোমার মতো একজনকে পেয়েছি…”
আদিবা কিছু বললো না। শুধু আরও একটু কাছে সরে এলো।
বাইরে বৃষ্টির শেষ ফোঁটাগুলো পড়ছে।
ঘরের ভেতরে দু’টা হৃদয় একসাথে ধুকপুক করছে।
এই রাতটা শুধু একটা বৃষ্টির রাত না এই রাতটা তাদের ভালোবাসার সাক্ষী।
***সমাপ্ত***
[বিঃদ্রঃ কি লেখছি জানি না সুন্দর না হলে ইগনোর করতে পারেন 🙂👍]
Click here to claim your Sponsored Listing.
