My Dream
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from My Dream, Dhaka.
09/04/2025
"ফিলিস্তিনবিরোধী নীরবতা: মুসলিম বিশ্বের বিভীষণদের প্রতি ধিক্কার"
==========================
ইসলামের শিক্ষা হলো সমগ্র মুসলিম উম্মাহ এক দেহের মতো। কিন্তু গাজার রক্তাক্ত মাটিতে যখন ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি বর্বরতার শিকার, তখন অনেক মুসলিম রাষ্ট্র—বিশেষ করে সৌদি আরব—নীরবতা বা কূটনৈতিক আপসকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। এটি শুধু রাজনৈতিক ব্যর্থতা নয়; এটি বিশ্বাসঘাতকতা, যা "ঘরের শত্রু বিভীষণ"-এর মতো বিষাদময়।
গাজার শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের আর্তনাদ আজ বিশ্বমানবতাকে লজ্জা দিচ্ছে। কিন্তু যারা মুসলিম নামের দাবিদার, তাদের একাংশ অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির স্বার্থে ফিলিস্তিনিদের সাথে ঐক্যবদ্ধতা ভুলে গেছে। সৌদি আরব, যা ইসলামের পবিত্র স্থানের তত্ত্বাবধায়ক, তার নীরবতা আরও বেদনাদায়ক। ইসরায়েলের সাথে সম্প্রতি কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, মার্কিন মিত্রতার খাতিরে ফিলিস্তিনি রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতার মঞ্চ গড়া—এসব কর্মকাণ্ড ইসলামের মৌলিক নীতির সাথে সাংঘর্ষিক।
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,
ٱلَّذِينَ يَتَّخِذُونَ ٱلْكَـٰفِرِينَ أَوْلِيَآءَ مِن دُونِ ٱلْمُؤْمِنِينَ ۚ أَيَبْتَغُونَ عِندَهُمُ ٱلْعِزَّةَ فَإِنَّ ٱلْعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًۭا ١٣٩
"যারা ঈমানদারদের পরিবর্তে কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তারা কি তাদের কাছে মর্যাদা প্রত্যাশা করে?" (সূরা আন-নিসা: ১৩৯)।
অন্যান্য মুসলিম দেশগুলিও কম দায়ী নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, জর্ডান বা সুদানের মতো রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে ফিলিস্তিনি সংগ্রামকে পেছনে ফেলেছে। অথচ ফিলিস্তিনের মুক্তি ছাড়া মুসলিম উম্মাহর গৌরব অসম্পূর্ণ। এই নীরবতা শুধু রাজনৈতিক দুর্বলতা নয়—নৈতিক পতন। নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে যখন স্বার্থান্বেষী শাসকগোষ্ঠী নির্যাতনের সাথে আপস করে, তখন তা ইতিহাসে অভিশাপ হিসেবেই লেখা থাকে।
নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের আর্তি আজ সমগ্র মানবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। যারা এ সময় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তারা কেয়ামতের দিন কিভাবে আল্লাহর কাছে জবাব দেবে? হাদিসে এসেছে, "যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের বিপদে সাহায্য না করে, আল্লাহও তার বিপদে সাহায্য করেন না" (মুসলিম)। ফিলিস্তিনের দুর্বলতার সুযোগে শত্রুর সাথে হাত মেলানো ইসলামের চেতনার বিরুদ্ধে।
ইতিহাস কখনও বিশ্বাসঘাতকদের ক্ষমা করে না। আজ যারা ফিলিস্তিনের রক্তে হাত রাঙাচ্ছে বা তা মেনে নিচ্ছে, তাদের প্রতি নির্যাতিত মুসলিমদের অভিশাপ—এটি কোনো ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং ন্যায়ের দাবি। আল্লাহর আইনে নীরবতা অপরাধ। ফিলিস্তিনের সংগ্রামে ন্যায্য সমর্থন ছাড়া মুসলিম রাষ্ট্রগুলির দাম্ভিকতা ধ্বংসের সাক্ষর বহন করে।
সৌদি আরবের প্রতি আকুল আবেদন:
ইসলামের পবিত্র ভূমির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে আপনার ঐতিহাসিক দায়িত্ব শুধু মক্কা-মদিনার রক্ষণাবেক্ষণে সীমিত নয়; তা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ন্যায়বিচার ও সংহতির দাবি। গাজায় শিশুদের রক্তে যখন পৃথিবী রাঙানো, তখন ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক আপস ও নীরবতা বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। কুরআন স্পষ্ট: “যারা অত্যাচারিত হওয়ার পর প্রতিশোধ নেয়, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই” (সূরা শুরা: ৪১)। ফিলিস্তিনিরা আজ আপনার সাহায্যের মুখাপেক্ষী। অর্থনৈতিক সুবিধা বা রাজনৈতিক চাপে মজলুমের আর্তনাদ উপেক্ষা করবেন না। স্মরণ করুন, নবীজি (সা.) বলেছেন, “সমগ্র উম্মাহ এক দেহস্বরূপ।” এই দেহের কোনো অংশ ক্ষতবিক্ষত হলে বাকি অংশ কীভাবে নিশ্চুপ থাকে? মক্কার গরিমা রক্ষা করুন—ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হোন।
আল্লাহর সাহায্যের আশা
মানুষের সামর্থ্য সীমিত, কিন্তু আল্লাহর ক্ষমতা অসীম। ফিলিস্তিনের মজলুমদের আর্তি তাঁর আরশ নাড়া দিয়েছে। কুরআনে ঘোষণা, “যারা ঈমান এনেছে ও জুলুমের বিরুদ্ধে লড়েছে, আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে বিজয় দান করবেন” (সূরা হাজ্জ: ৪০-৪১)। রক্তপাতের এই অধ্যায়ে আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহই ন্যায়ের পক্ষে হবেন। জালিমরা ধ্বংস হবে, মজলুমরা মুক্তি পাবে—এটাই ইলাহী নীতি। মুমিনের দায়িত্ব সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া; বিজয়দাতা একমাত্র তিনি।
19/12/2024
My Dream
Click here to claim your Sponsored Listing.
