Raqi Abu Saleh
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Raqi Abu Saleh, Health/Beauty, Raqi Abu Saleh, Dhaka.
01/08/2022
অনেকেই জানতে চেয়েছেন, বান মারা এটা কি ও কেমন...
দেখুন ভালো করে ....
একটি কবরস্থান থেকে উদ্ধার করা হয় একটি পুতুল!! এটিকে একজন বিশেষ মানুষের জামা,চুল,নখ প্রভৃতি দিয়ে একদমই একজন মানুষের মত করে দাফন করে দেয়া হয় একটি কবরের উপরে যাকে কালো যাদুর বান বলে।
যার ফলে যার নামে বান মারা হয়েছে ওই জীবন্ত মানুষটি এর প্রভাবে আস্তে আস্তে শেষ হয়ে মারা যাবে। #নাউজুবিল্লাহ
নবীজি (স) বলেছেন:- যারা অন্যের ক্ষতির জন্য এমন কাজ করে, তারা ঈমান নিয়ে মরতে পারবেনা।
কিভাবে যাচাই করবেন আসলেই আপনি যাদুগ্রস্থ কিনা তাদের জন্য এই পোস্ট উপকারী হবে, নিচের লক্ষণগুলো মিলিয়ে দেখুন আপনার সাথে কতগুলো লক্ষণ মিলেঃ
১। চোখের অবস্থা অস্বাভাবিক বা অসুন্দর লাগা।
২। কোন কারণ ছাড়াই শরীর গরম থাকা।
৩। ব্যাকপেইন। বিশেষত মেরুদণ্ডের নিচের দিকে ব্যথা করা।
৪। (মহিলাদের ক্ষেত্রে) অনিয়মিত মাসিক (পুরুষদের ক্ষেত্রে) প্রস্রাবে ইনফেকশন এর সমস্যা।
৫। প্রায়সময় পেট ব্যথা থাকা।
৬। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করেও কোন রোগ ভালো না হওয়া।
৭। তীব্র মাথা ব্যথা, ঔষধ খেয়েও তেমন লাভ হয়না।
৮। হঠাৎ করে কারো প্রতি তীব্র ঘৃণা বা তীব্র ভালোলাগা অনুভব হওয়া।
৯। পরিবার, বাসা, সমাজের প্রতি তীব্র বিতৃষ্ণা থাকা।
১০। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত খুব অস্বস্তিতে ভুগা অথবা মেজাজ খারাপ থাকা।
১১। কোন কারণ ছাড়াই বাড়ি থেকে দৌড় দিয়ে বের হয়ে যেতে ইচ্ছা হওয়া।
১২। শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে অতিরিক্ত ব্যথা হওয়া।
১৩। ঠিকমত ঘুমাতে না পারা। ঘুমালেও ভয়ংকর স্বপ্ন দেখা।
১৪। স্বপ্নে কোনো গাড়ি বা প্রাণিকে আক্রমণ করতে বা ধাওয়া করতে দেখা (যেমনঃ কুকুর, বিড়াল, গরু, মহিষ, বাঘ, সিংহ, সাপ)।
১৫। স্বপ্নে কোন ফাঁকা বাড়ি, মরুভূমি বা গোরস্থানে হাঁটাচলা করতে দেখা।
১৬। স্বপ্নে বিভিন্ন যায়গায় পানি দেখা (যেমন সাগর, নদী, পুকুর, ইত্যাদি)।
১৭। স্বপ্নে ঘনঘন কোথাও আগুন জ্বলতে বা কিছু পোড়াতে দেখা।
১৮। স্বপ্নে নিজেকে উড়তে দেখা বা কোন পাখি অথবা বড়বড় গাছ দেখা।
এসব লক্ষণ যদি মিলে যায় তাহলে ভেবে নিবেন আপনি যাদুগ্রস্ত।
হাত 🤲এমন ভাবে করে- শুরা ইখলাস,সূরা নাস,সূরা ফালাক এইভাবে এক সাথে ৩ বার পরে হাতে ফু দিয়ে সারা শরীরে মুছে দিলে সমস্ত প্রকার জাদু,বান,জ্বীনের দৃষ্টি থেকে আল্লাহ বাচিয়ে রাখবেন- ইনশা আল্লাহ❤
যখন হযরত মুহাম্মাদ (স) কে বান মারা হয়েছিল তখন এই ৩ টি সূরা নাজিল হয় এবং এইভাবে পড়ার ফলে তিনি বান থেকে মুক্তি পান।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন, আমিন।
31/07/2022
বৈধ উপায়ে জীন বশ করা বা জীন দিয়ে কাজ করানো কখনোই সম্ভব না!
পঞ্চাশোর্ধ একজন আলেম। মিশকাত পর্যন্ত এক মাদ্রাসার মুহতামিম। আরো অনেক মাদ্রাসার দায়িত্বে আছেন। উনার থানায় উনি একজন বুজুর্গ হিসেবে প্রসিদ্ধ। সম্পর্কে আমার আত্মীয় হন। ব্যক্তিগতভাবেও তিনি খুব ভালো মানুষ। সেই ছাত্র জামানা থেকেই কবিরাজি করেন। উনার কবিরাজীর খুবই সুনাম আছে।
গত পরশু উনার মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা করেছি। আগে তিনি জীন দিয়ে কাজ করাতেন এটা জানতাম। জ্বীনরা তার একজন ছেলেকে মেরেও ফেলেছে। এখনো করেন কিনা এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এবং আরও কিছু বিষয় জানার জন্য বিভিন্ন বিষয়ে কথা বললাম। এক পর্যায়ে বললাম, আপনি কি জীন দিয়ে কাজ করান?
তিনি তৎক্ষণাৎ জিভে কামড় দিয়ে না সূচক মাথা নেড়ে বললেন, এটাতো নাজায়েজ।
তারপর জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে জীন হাসিল করার কি কোনো উপায় নাই?
তিনি বললেন, এগুলো খুবই ভয়ঙ্কর। বৈধভাবে এদের দ্বারা কিছু করা যায় না। বললাম কেন, তিনি বললেন, এদের দ্বারা কাজ করাতে গেলে এদের কথা শুনতে হয়, হারাম কাজের আদেশ করে। তাদের হুকুম মানলে তারপরে তারা কাজ করে দেয়।
আলহামদুলিল্লাহ, খুবই খুশি লাগলো তিনি জীন দ্বারা এখন কাজ করান না। এমন একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ কবিরাজের স্বীকারোক্তির মাধ্যমে বাস্তবতা আরো স্পষ্ট হলো। উনার মাদ্রাসায় সেই আদিকাল থেকেই জীনছাত্ররা লেখাপড়া করে এটা সবাই জানে। অনেক সময় বিভিন্ন আলামতও প্রকাশ পায়। মাদ্রাসার কিছু অসম্ভব কাজ তারা করে ফেলে যেটা ছাত্ররা করার কথা না। তারপরও তিনি বলছেন জীন দ্বারা বৈধভাবে কাজ করানো সম্ভব না। অথচ তিনার বহু জীনহছাত্র রয়েছে। তাদের দ্বারাও তিনি কাজ করাচ্ছেন না।
সুবহানাল্লাহ! কোথায় আমাদের বড়রা? তিনারা কি নিজেদের আস্তিনের নিচে লুকিয়ে থাকা বিষধর সাপদের ব্যাপারে উম্মাহকে সতর্ক করবেন? কিভাবে করবেন? তিনারাইতো তাদের কাছে দৌড়াদৌড়ি করেন নিজেদের সমস্যার জন্য! আসলে বড়রাও বুঝতে পারছেন না যে, এই জীন সাধনার পথ একটি গোমরাহীর পথ, কুফরের পথ, শিরক-বিদ'আতের পথ।
তবে সম্মানিত ওই আলেমের কিছু বিষয় সন্দেহজনক। যেমন: তিনি রোগীর নাম এবং তার মার নাম জিজ্ঞেস করেন। যেটা জাদুকররা করে থাকে।
রোগ নির্ণয়ের জন্য ওই দুই নামের সংখ্যা বের করে বলেন দেন, রোগীর কি কি সমস্যা আছে।
এই কাজটি কতটুকু বৈধতার মধ্যে পড়ে আল্লাহ ভাল জানেন। কারণ, এখানে দুটি সম্ভাবনা: একটি হল, রোগীর নাম এবং তার মার নাম জিজ্ঞেস করার সাথে সাথে শয়তান উনাকে রোগের ব্যাপারে সংবাদ দেন। মাঝখান দিয়ে তিনি যেই সংখ্যার কাজটি করেন এটি হয়তো শয়তানদের আদেশপ্রাপ্ত। কিন্তু এই সম্ভাবনাটি ওনার সাথে যায় না যেহেতু তিনি জিন দ্বারা কাজ করাকে হারাম মনে করেন এবং আশাবাদী তিনি জীন দ্বারা কাজ করান না।
দ্বিতীয়তঃ এই কাজটি তিনি জ্যোতিষশাস্ত্র বা কোন যাদুবিদ্যা শাস্ত্র অনুযায়ী করেন।
যেটাই হোক কোনটাই বৈধতার সুযোগ দেখছি না।
আবার তিনি তাবিজ দিয়ে এমন কাজ করতে বলেন যেটা সাধারণত জাদুকররা করতে বলে। যেমনঃ আমার এক ভাই একটি মেয়েকে পছন্দ করত এবং তাকে বিয়ের মাধ্যমে পেতে চাইত। অনেক জায়গায় ঘুরে সবশেষে আমার মাধ্যমে উনার কাছে গিয়েছেন। সাথে আমিও ছিলাম। আল্লাহ মাফ করুন। তিনি একটি তাবিজ দিয়েছেন। মেয়ের যাতায়াত পথে পুঁতে রাখার জন্য। আরেকটি দিয়েছেন হাত পাখায় লাগিয়ে বাতাশ করার জন্য। এটা তো কখনোই বৈধ সুরত হতে পারে না। এবং এটার মধ্যে জীন চালান দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। তবে মনে হচ্ছে, তিনি জীন চালান দেন নাই। যার কারণে ঐ মেয়ের সাথে তার বিয়ের নূন্যতম কোন সম্ভাবনাই দেখা যায় নাই। অন্য জাদুকর হলেতো জীন চালান করে ভিকটিমের শরীরে জীন ঢুকিয়ে তাকে বিয়ের জন্য পাগলপারা করে দিতো।
চালান দিলেও তিনি জীনের কথামতো কাজ করেননি। অথবা তিনি কাজ হবে না জেনেও এমন তাবিজ দিয়েছেন কিংবা অন্যকোন সম্ভাবনা থাকতে পারে। একটাও বৈধ মনে হচ্ছে না। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার একটি কাজ অস্বাভাবিকভাবে করতে গেলে অস্বাভাবিক পদ্ধতিই অবলম্বন করতে হয় । আল্লাহ তাআলা সবাইকে ক্ষমা করুন এবং হেদায়েত দান করুন। সর্বোপরি এটা নিশ্চিত যে, তিনি জীন দ্বারা কাজ না করালেও তার কিছু কিছু কাজ অবশ্যই শরীয়ত সমর্থিত নয়। সমাজে আল্লাহ ওয়ালা সকল কবিরাজদের হালত এমনি কিংবা আরো জঘণ্য। তবে ওনার ঝাড়ফুঁকের অনেক প্রভাব রয়েছে। তার ব্যাক্তিগত আমল অনেক ভালো।
প্রিয় পাঠক! আমাদের সমাজে বুজুর্গ হিসেবে পরিচিত যে সব হুজুররা জীন দ্বারা কাজ করায় এবং তাদেরকে জীন হুজুরও বলা হয়, আমরা তাদের এসব শয়তানী শক্তিকে তার কারামত হিসেবে দেখি! এ বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখবেন, শয়তানের জন্য কোন সেক্রিফাইস কিংবা উৎসর্গ না করলে শয়তান কোন কাজ করে দেয় না! কারণ, শয়তান চায়ই মানুষকে আল্লাহর ইবাদত থেকে ফিরিয়ে তার এবাদতে লিপ্ত করতে। মানুষকে গোমরাহ করার এই শপথ আল্লাহতালার কাছে করে এসেছে। যে যেই লেভেলের কবিরাজ শয়তান তার কাছে ওই সুরত ধরে যায়। অতএব এ জাতীয় জীন হুজুর থেকে সাবধান থাকবেন। নিজের ঈমানকে হেফাজত করবেন। যদি আপনি আরও নিশ্চিত হতে চান তাহলে এ জাতীয় কোন হুজুরের কাছে গিয়ে বলবেন যে, হুজুর! আমি জীন সাধন/লাভ করতে চাই। কেউ এসব গোপন রহস্য জানাবে না। একেবারে তার শিষ্যত্ব গ্রহন করতে হবে। কাউকে আবার মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। এই গোপন ভেদ চাইলেই সহজে জানতে পারবেন না।
সর্বশেষ Emrann Mazhari ভাইয়ের একটি মন্তব্য দিয়ে শেষ করছি....
'এখনতো দেখছি যারা জীন দিয়া কাজ করায় তারা সবকটি ইমান হারা! সব বেইমান! কারণ, শয়তানরে খুশি না করলে কোন কাজ কইরা দেয়ার প্রশ্নই উঠে না।'
বি.দ্র. ইমরান মাজহারী ভাই হলেন সেই সাবেক কবিরাজ যিনি কবিরাজির অন্ধকার জগত ছেড়ে তওবা করেছেন। ইতিপূর্বে উনাকে নিয়ে কয়েকটি পোষ্ট করেছিলাম।
30/07/2022
Must read post. 🙂🙂🙂
কালো যাদু : একটি মেয়ের মর্মান্তিক কাহিনী
প্রথমে ছবি গুলো দেখে নেন; বাকিটা খুব সহজে বুঝবেন। শাইত্বন আর যাদুকরের চক্রান্ত কত সুক্ষ্ম কৌশল। কিন্তু মহান আল্লাহু তাআলা তাদের এই সুক্ষ্ম কৌশলকে স্পষ্ট করে দেন কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে।
ভিক্টেমের নাম: মোছা সানজিদা আক্তার, তার মায়ের নাম পারভীন আক্তার; তাবিজে তা-ই লেখায় আছে। তারা শহরের বাসিন্দা। বাবা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল। সানজিদা তার বাবার একমাত্র সন্তান, তাই আদর-সোহাগ ভালোবাসা কোনোর কমতি নেই। বড়লোকের পরিবারে সন্তান হিসাবে সানজিদার অর্থনীতিকের ও চাপে কোনো দিন পরে নি। তাই স্বপ্ন পূরন করতে কোনো বাধা নেই তার। দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তার পড়াশোনা চলছে ইন্টার ফাস্টে। মা-বাবা কিছুটা ধার্মিক হলেও সানজিদা পুরোই আধুনিক! সানজিদার জন্মদিন এই বছরে পালিত হয় কিছুদিন আগে। জন্মদিনে বাবার পক্ষ থেকে Iphone 11 pro গিফট পায় সানজিদা। মায়ের পক্ষ থেকে নিউ ল্যাপটপ আর বন্ধু-বান্ধুবী থেকে বিভিন্ন নামি-দামি উপহার। তার মাঝে মূর্তিমান এই সোপিজটি; যেটাকে কেন্দ্র করে মূল ঘটনা!
জন্মদিনের এক বন্ধু তাকে এই শোপিজটি গিফট করে। ছেলেটি ছিলো খুবই সুন্দর। টগবগে এক যুবক। অনেক মেয়ে তার পিছু পিছু ঘুরে অবৈধ প্রেমের সম্পর্কের জন্য। ছেলেও সুযোগ বুঝে স্বার্থ পূর্ন করে।
এই ছেলে সানজিদার জন্মদিনের অনেক পূর্বে সানজিদাকে প্রেমের অফার দেয় কিন্তু সে রাজী হয়নি।
তাই সে সুবাধে এই ব্ল্যাক ম্যাজিক করে ছেলেটি।
জন্মদিনের রাত অতিবাহিত হওয়ার পরের দিন সন্ধ্যার সময় সানজিদা অসুস্থতা অনুভব করে। অতঃপর তার নিজের মাঝে প্রচুর ডিপ্রেশন ফিল করতে পায়, যা সে কখনও করে নি। অতঃপর সেদিন থেকে বমি করে রক্তের, প্রচুর শরির জ্বালাপোড়া উঠে অস্থিরতা অনুভব করতে করতে একটা সময় সানজিদার মা ও বাবার সাথে খারাপ খারাপ আচরন শুরু করে।
কোনো এক রাতে তার মা'কে সে মারে কিন্তু সানজিদার মা-বাবা বুঝতে পারছে মেয়েটি মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছে। তাই তাকে দ্রুত ডাক্তার দেখানোর কথা হলো রাতে, পরের দিন সকালে ডাক্তার এর কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। তাই রাতে সকলে যার যার রুমে ঘুমিয়ে গেলেও সানজিদার আর ঘুম আসছে না! এদিকে ডিপ্রেশন, অপর দিকে অসুস্হতা।
হটাৎ তার কাছে পৃথিবীটা সংকীর্ণ হয়ে গেলো! তাই বাধ্য হয়ে সুইসাইডের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে সানজিদা। সিলিং ফ্যান নেই এসি আছে, তাই ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে মরতে পারবে না। অনেকক্ষণ বসে বসে চিন্তা করছে! কানের মাঝে আর অন্তরের মাঝে কে যেনো বলছে আর ওয়াসওয়াসা দিচ্ছে দ্রুত আত্মহত্যা কর! সমাধান পাবি! অল্প কিছুক্ষণের মাঝে শ্বয়তান-জ্বীনের ওয়াসওয়াসায় কাবু হয়ে গেলো সানজিদা! তাই দ্রুত গতিতে টয়লেটে ঢুকে হারপিক খাওয়া শুরু করলো সানজিদা! হারপিকের কার্যকারিতা যখন শুরু করছে, তখন সে জোড়ে চিৎকার শুরু করে দিয়েছে! মা-বাবা দ্রুত টয়লেটে ঢুকে দেখে তাদের মেয়ে মৃত্যুপথের যাত্রী! অতি দ্রুত এম্বুলেন্স এর সাহায্যে হসপিটালে ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদান করে হারপিকের ইফেক্ট নষ্ট করা হলো।
৩ দিন হসপিটালে ভর্তি! ৪র্থ দিন সকালে সানজিদাকে রিলিজ করে দেওয়া হবে। তাই হটাৎ ৩য় দিন রাতে সানজিদা হসপিটালের নার্সকে মারধোর করে পালিয়ে যায়! ৫ দিন ধরে নিখোঁজ সানজিদা! এদিকে মা-বাবা সন্তান হারিয়ে রাস্তার পাগলের মতো হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ!
সানজিদার পরিবার জ্বীন বা যাদু এসব মোটেও বিশ্বাস করে না। মহল্লার লোকেরা বুঝানোর চেষ্টা করছে কবিরাজ বা হুজু্রের কাছে যাও।
সানজিদার মা এক জনপ্রিয় কবিরাজের কাছে যায় তার মেয়ের সন্ধ্যান ও সুস্হতার জন্য। কবিরাজ বলল, তার মেয়ে মারা গেছে। সানজিদার মায়ের অবস্থা মানসিক ভাবে আরো ভেঙ্গে পড়লো। আরেক কবিরাজের কাছে গেলো। বলল, বেঁচে আছে, আসবে সে। আপনার ঘরে তার ব্যবহৃত কাপড় সহ আরো অনেক কিছু লাগবে। সময় ২৪ ঘন্টার ১ দিন। ফি - ৪০ হাজার টাকা।
ঠিক আছে, রাজি। টাকাও দিয়ে আসলো। এদিকে ২৪ এর স্থানে ৪৮ ঘন্টা! ২ দিন হয়ে গেলো। তারপরও সানজিদার খবর নেই। আরেক কবিরাজের কাছে গেলো ১২ ঘন্টা সময় লাগবে। ফি ৫০ হাজার ৫শত ৫ টাকা। সাথে একটি ছাগল। তাও করলো। আসার নাম-গন্ধ নেই! ১ দিন চলে গেলো। এই ভাবে বহু কবিরাজের কাছে গেলো কিন্তু সমাধান নেই।
মেয়ে নিখোঁজ ৪ দিন হয়ে গেলো! ৫ম দিন এর রাতে বড় এক মুখলেস আলেমের নিকট যায়। তখন ওনি বলে আপনারা আল্লাহর নিকট দুআ করুন আর কিছু আমল দিয়েছে। ফি ফিরে আসলে গরিবদেরকে সাদকাহ্ করবেন এইটুকু। এই আমলের ৫ দিন শেষ। ৬ষ্ঠ দিনের সূর্য উদিত হলো। আর সানজিদার মায়ের নিকট ফোন আসে তার মেয়ে এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাসায় গতরাতে আসছে।
অতঃপর তারা বাসায় গিয়ে মেয়েকে নিয়ে আসে আর ঐ আলেমের নিকট যায়। আলেম বলল, আপনি দ্রুত রুকইয়াহ করুন অভিজ্ঞ রাক্বীর মাধ্যমে। ভাগ্যক্রমে ঐ মেয়ের কাজিন আমার লিস্টে ছিলো। দ্রুত যোগাযোগ করে পরিবার থেকে। আমি প্রথমে মেয়ের নিকট যেতেই পারিনি। বাসায় ঢুকার পর মেয়ে রুকইয়াহ এর কথা শোনে রুমের দরজা লাগিয়ে বসে আছে, রুকইয়াহ করবে না, রাক্বীকে বলো বাসা থেকে চলে যেতে। আর না হলে আমি মরে যাবো। অতঃপর আমি বাসা থেকে বের হয়ে যায়। তারপর সে দরজা খুলে ২ ঘন্টার পর। মেয়ের অভিভাবক মেয়েকে বসিয়ে রেখে আমাকে মেসেজ করে। তখন আবার যাই। মেয়ে আমাকে দেখেই বলছে সে আমাকে মেরে ফেলবে! সে পুঁড়ে ফেলবে আমাকে! এই ছেলেকে বের করে দাও মা! বের করে দাও বাবা প্লিজ! আমি পরিবারকে বিষয়টি ইঙ্গিতে বুঝিয়ে বললাম। তাকে পুরোটাই খাদেম জ্বীন-শাইত্বন নিয়ন্ত্রণ করছে। অতঃপর ওনাদের পূর্ন সাপোর্ট পাওয়ার পর মহান আল্লাহর নাম নিয়ে রুকইয়াহ্ শুরু করি। এদিকে মেয়ের কন্ঠে জ্বীন-শাইত্বনের চিৎকার বাসার দরজা জানালাগুলো থর থর করে কাপছে! দীর্ঘ ৬ ঘন্টার রুকইয়াহ করার পর জ্বীন বলছে৷ রুকইয়াহ বন্ধ করেন! আমি যাদুর বিষয়ে বলতে আগ্রহী!
আমি ঠিক আছে বল :
আমি শুকুম্রার চন্দ্রদাঁস। আমি সনাতন ধর্মের লোক। আমার পেশা যাদুর খাদেম। আমার গুরু জয় দ্বীপ্ত দাস। ওনার ঠিকানা রাঙ্গামাটি। এর বেশি বললে গুরু আমাকে মেরে ফেলবে!
আমি : তাহলে কে পাঠিয়েছে তোরে!?
জ্বীন : আমাকে আমার গুরু পাঠিয়েছে এই মেয়ে কে হত্যা করার জন্য!
আমি : ঠিক আছে আমিও তোরে হত্যা করবো।
জ্বীন - মুসলিম যুবক বাবা তোর পায়ে পড়ি! আমারে মারিস নে! আমি সব বলছি।
আমি : বলার দরকার নেই তোরে মেরে ফেলবো এটাই কথা।
জ্বীন - এই মেয়ের জন্মদিনে তার বন্ধু তাকে যাদু করে একটি মূর্তিমান বস্তু তাকে গিফট করেছে! এটার ভিতরে যাদু আছে আর বাকিগুলো আছে জোড় কবরে! মূর্তিটা নষ্ট করে দে। আমি কবরের টা নষ্ট করে দিবো। আমি চলে যাবো বাবা! তারপরও হত্যা করিস না।
আমি : মূর্তি কোথায়!?
জ্বীন - বাবা তার রুমের সুকেশ এর ভিতরে ৩য় নাম্বার থাকের বাম পাশে।
আমি ঢুকলাম অতঃপর ঠিক লোকেশনে : এই মূর্তিমান সুপিজ টি পাই৷ যার বিস্তারিত ছবিতে আছে।
অতঃপর কবরস্থানের যাদু নষ্ট করা হয়।
এখন মেয়েটি অনেকটাই সুস্থ আছে। তবে হারপিকের প্রভাবে লিভারে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভবনা প্রবল ডাক্তারের অভিমত।
এখন মহান আল্লাহ তাআলা হায়াত দিলে হয়তো সে বাঁচবে। আর আমি অধম সর্বপরি প্রচেষ্টা করেছি।
নোট - এই সমস্ত মূর্তি মুসলিমদের ঘরে ঘরে এখন সাজানোর বস্তু হয়ে গেছে! অথচ এই বিষয়ে আমরা কোনো চিন্তাও করি না। অবৈধ সম্পর্কের ইতি টানুন এখনি। আর নতুবা এইভাবে আপনি ও বলিদান হতে পারেন কারোর প্রেমের ছোবলে। আর জন্মদিন তো মুসলিমদের ঘরে ঘরে রেওয়াজে পরিণত হয়েছে! যার জন্য অনেকেই এই ভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
সাবধান অবৈধ সম্পর্কের গিফট কিংবা সম্পর্ক দুটিই অবৈধ। সুতরাং নিজেকে বাঁচার জন্য এসব পরিহার করুন।
সংগৃহীত: রাক্বী আমীর হামজা |
নিয়মিত কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণ করে আমল করুন। মাসনূন যিকির-আযকার পাঠ করুন। বিশেষ করে নিয়মিত আয়াতুল কুরসী, সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস পাঠ করুন। তাহলে জ্বীন-যাদু থেকে আল্লাহ হেফাযতে রাখবেন ইনশাআল্লাহ।
30/07/2022
ব্লাক ম্যাজিক থেকে বাঁচার ৪টি আমল
জাদুর একটা ধরন হচ্ছে শয়তান ও জাদুকরের মাঝে এক ধরনের চুক্তি। যেখানে শর্ত থাকে যে জাদুকর কতিপয় হারাম বা শিরকী কাজে লিপ্ত হবে, আর বিনিময়ে শয়তান তাকে সহযোগিতা করবে ও তার অনুসরণ করবে। শয়তানের নিকটবর্তী হওয়ার জন্য জাদুকরেরা ঘৃণ্য কিছু উপায় অবলম্বন করে। যেমন: কুরআনের আয়াত উল্টো করে লেখা, কুরআন পায়ের নিচে দলিত করে টয়লেটে নিয়ে যাওয়া বা নোংরা কিছু দিয়ে কুরআনের আয়াত লেখা, সর্বদা নাপাক থাকা বা বিনা অযুতে নামাজ পড়া, শয়তানের উদ্দেশ্যে পশু জবাই করে জবাইকৃত পশু শয়তানের নির্ধারিত স্থানে অর্পণ করা, ইত্যাদি। এসব কুফরি পদ্ধতিতে জাদুকরেরা শয়তান জিনদের খুশী করে এবং তাদের মাধ্যমে অন্যদের ওপর জাদু করে। যাকে আধুনিক ভাষায় বলে, ব্লাক ম্যাজিক।
আমাদের আশেপাশেই এমন অনেক মানুষ আছে ব্লাক ম্যাজিকের শিকার। ব্লাক ম্যাজিকের কারণে মানুষ কতটা ক্ষতির সম্মুখীন হয়, এটা সেসব মানুষদের না দেখলে বোঝা মুশকিল। আমরা চাই না এরকম কঠিন পরীক্ষায় পড়তে। আর এজন্য আগে থেকেই প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী। জাদুটোনা থেকে বাঁচতে ৪টি কাজ নিয়মিত করা চাই। যথা:
১. ইসলামী শরীয়াহর সমস্ত বিধিবিধান মেনে চলা, হারাম ও নিষিদ্ধ সমস্ত বিষয় পরিহার করা এবং পূর্বের সমস্ত গুনাহসহ যাবতীয় অন্যায় অপকর্ম হতে তাওবা ও ইসতিগফার করা। গুনাহ থেকে যত বেশি দূরে থাকবেন, শয়তান ততই আপনার থেকে দূরে থাকবে। অন্যদিকে নেক আমল যত বেশি করবেন, ফেরেশতারা ততই কাছে থাকবে। অনেক মানুষ গোপন গুনাহের কারণেও জাদুর শিকারে পরিণত হয়ে যায়।
২. অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করা। প্রতিদিন তিলাওয়াতের একটি রুটিন বানিয়ে সে অনুযায়ী তিলাওয়াত করা। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) মাদারিজুস সালিকীন গ্রন্থে বলেছেন, 'আল্লাহ তাআলা কুরআনে আত্মীক ও দৈহিক—উভয় প্রকার শিফা(ওষুধ) রেখেছেন।' আসলে কুরআনের বরকত অজস্র। তাই নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করুন। ১ পৃষ্ঠা করে হলেও।
৩. কুরআন-সুন্নাহতে বর্ণিত বিভিন্ন দুআ, নিরাপত্তা লাভের আয়াত ও দুআ এবং অন্যান্য দুআ ও নির্ধারিত যিকিরসমূহের প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়া। 'হিসনুল মুসলিম' বইতে এই দুআ যিকরগুলো পাবেন। এগুলো প্রতিদিন বই থেকে দেখে দেখে পড়লে এক সময় মুখস্ত হয়ে যাবে। তখন কষ্ট ছাড়াই অনায়াসে পড়ে ফেলতে পারবেন।
৪. ঘুম থেকে উঠার পর সম্ভব হলে খালি পেটে ৭টি আজওয়া খেজুর খাওয়া। সাআদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুল সা.-কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি ভোরে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ অথবা জাদু তার ক্ষতি করতে পারবে না।” (সহীহ বুখারী, ৫৭৭৯) আজওয়ার বিভিন্ন ক্যাটাগরি আছে বাজারে। একদম প্রিমিয়াম কোয়ালিটিরটা সাধ্যের বাহিরে হলেও সাধারণ কোয়ালিটির আজওয়া সংগ্রহে রাখতে পারেন এবং নিয়মিত খেতে পারেন।
হিসনুল মুসলিম গ্রন্থের নতুন অনুবাদ 'দুআ যিকির রুকইয়া' অবলম্বনে।
রুকইয়াহ হলো কোন কিছু পড়ে ফু দেয়া, রুকইয়াহ শারইয়াহ হলো কুরআন থেকে সুরা, আয়াত, সুন্নাহ থেকে দুআ, রবের নিকট নিজ ভাষায় দুআ করে ফু দেওয়া।
--------
ধারাবাহিক রুকইয়াহ সম্পর্কিত ৮টি নীতিমালা
_____________
নীতিমালা ১
আমাদের থেকে রুকইয়াহ করানোর আগে ভালো করে ভাবনা চিন্তা ও প্রয়োজনীয় খোঁজ খবর নিয়ে করবেন। প্রেসক্রিপশনে যা থাকবে তার 95% ফলো করার ব্যাপারে দৃঢ়তা না থাকলে আমাদের কাছে আসবেন না। আর প্রেসক্রিপশনে কুরআন ও সুন্নাহর বাইরে কিছুই থাকবে না।
_____
নীতিমালা ২
আমাদের প্রেসক্রিপশন বাদ দিয়ে যদি নিজের মতো কিছু করা শুরু করেন, তাহলে আপনি নিজেই সেলফ রুকইয়াহর যোগ্য। সুতরাং আমাদের কাছে এসে টাকা ও সময় নষ্ট করবেন না। আর সত্যবাদী থাকুন রবের কাছে এবং সত্য বলুন।
_______
নীতিমালা ৩
রাক্বি বা রুকইয়াহ কনসালটেন্টের মতামতের উপর গিয়ে নিজের মতামত দিবেন। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই এপয়েন্টমেন্ট চাইবেন। তাহলে আপনার চিকিৎসা ঐখানেই ক্লোজ করা হবে কোন নোটিশ ছাড়া ইন শা আল্লাহ।
___________
নীতিমালা ৪
রাক্বি যখন ছিলো না, তখন যাকে অস্থিরতা দেখিয়েছেন তাকেই দেখান। রাক্বির শুধু আপনাকে রুকইয়াহ করা ও প্রেসক্রিপশন দিয়ে গাইড করাই দায়িত্ব। আর কোন দায়িত্ব নেই । তাই পরিবারের গল্প করে রাক্বিকে অস্থির করে তোলার চেষ্টা করবেন না।
______
নীতিমালা ৫
যখন যেটা করতে বলেছে রাক্বি বা রুকইয়াহ কনসালটেন্ট সেটা তখনই করবেন। মন না চাইলেও করবেন । না করতে পারলে এজন্য রাক্বিকে বা রুকইয়াহ কনসালটেন্টকে কষ্ট দিবেন না। আর চিকিৎসার ব্যাপারে ধৈর্য না থাকলে রাক্বির কাছে এসে টাকা ও সময়ের অপচয় করবেন না।
_______
নীতিমালা ৬
পেইজের ইনবক্সে কোন ভয়েস মেসেজ দিবেন না। অনলি টেকস্ট।
_____
নীতিমালা ৭
ধৈর্য সহকারে সেলফ রুকইয়াহ করতে হবে। রাক্বি যখন যা করতে বলবে তা অবশ্যই করতে হবে। তা না হলে কেইজ আগানো হবে না।
-------
নীতিমালা ৮
পেমেন্ট নিয়ে দরকষাকষি করবেন না। যেটা পারবেন সেটা রুকইয়াহর আগেই বলবেন। সম্ভব হলে রুকইয়াহ করা হবে।সম্ভব না হলে করা হবে না।
______
আমাদের অগণিত পেশেন্ট দরকার নেই, আনুগত্যশীল পেশেন্ট দরকার।
_________________
#হাসাদের_লক্ষণ।
১--✓ কাজকর্ম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া।
"ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া।
"লেখাপড়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া।
"আল্লাহর ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া।
যেমন:: সালাত, জিকির, তিলাওয়াত ইত্যাদি।
(এক কথায় বলা যায় সকল কাজের
ক্ষেত্রে অনীহা।)
২--✓প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা।
৩--✓একা একা থাকতে পছন্দ করা।
৪--✓মানুষের থেকে দূরে দূরে এবং বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের সাথেও মিশে না এমনকি তাদের থেকেও দূরে দূরে থাকে যদিও তারা কাছাকাছি আসে।
৫--✓রুকইয়াহ করার সময় প্রচন্ড ঘুম আসা অথবা ঘুমিয়ে যাওয়া।
৬--✓প্রায় সময় পুরো শরীরে গরম অনুভব করা।
✅উপরে বর্ণিত ৬ টি লক্ষণ শুধু হাসাদের জন্য নির্ধারিত।
নিম্নে বর্ণিত লক্ষণগুলো হাসাদের তবে এখান থেকে কয়েকটি লক্ষণ নজরের কারণেও হতে পারে।
৭--✓বমি আশা। (এটা পেটে থাকা যাদুর কারণেও হতে পারে।)
৮--✓ওয়াসওয়াসার সমস্যা হওয়া। (এটা নির্দিষ্ট একটি সমস্যা হতে পারে)
৯--✓ স্বপ্ন দেখে ঘুমের মাঝে চমকে ওঠা।
১০--✓ঘনঘন কফ আশা।
১১--✓চর্মরোগ হওয়া। (অনেক সময় ঔষধেও কাজ হয় না)
১২--✓কোন কারন ছাড়াই অস্থির হয়ে যাওয়া।
১৩--✓ কারো আনুগত্য করে না (কারো কথা শুনেনা।)
১৪--✓ জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথা হওয়া।
১৫--✓ সর্বদা মাইগ্রেনের ব্যথা হওয়া।
১৬--✓ সব সময় মানসিক চাপ ও অস্থিরতা অনুভব করা।
১৭--✓ নির্দিষ্ট কোনো রোগের কারণ ব্যতীতই মেরুদন্ডে অথবা পাকস্থলীতে ব্যথা হওয়া। পাকস্থলীতে জাদু থাকার কারণেও ব্যথা হতে পারে।
১৮--✓ নিদ্রাহীনতায় ভোগা এবং অনিয়মিত ঘুম হওয়া।
১৯--✓ গভীর মনোযোগ দেয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলা।
২০-- ✓মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটা।
পেটের যাদু ---
অনেকেই জাদুর ক্ষতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য জানতে চায়,আমার পেটের জাদু নষ্ট হল কিনা কিভাবে বুঝব বা জানব??
প্রথমে বলি জাদু একটি নিষিদ্ধ বিষয় জঘন্যতম হারাম কাজ। আল্লাহ সুবহানাহু তা 'আলা সতর্ক করেছেন যে কেউ এটি করে, এই ক্ষতিকর আচরণ, যা অন্যের ক্ষতি করে এবং তার জীবনকে ধ্বংস করে, আল্লাহ সুবহানাহু তা 'আলার কাছে তার শাস্তি কঠোর।
শরীয়তে যাদুকরের হুকুম
ইমাম মালেক (রাহেমাহুল্লাহ) বলেন যে, ব্যক্তি যাদু করে তার জন্য আল্লাহ তায়ালার এই বাণী প্রযোজ্যঃ
وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ
অর্থঃ “নিশ্চয় তারা জানে যে, যা তারা ক্রয় করেছে আখেরাতে এরজন্য কোন অংশ নেই।"
(সূরা বাকারাঃ ১০২) অতঃপর বলেনঃ আমার অভিমত হল, যাদুকরকে হত্যা করা, যদি সে যাদু কর্ম করে থাকে।
ইবনে কুদামা (রাহেমাহুল্লাহ) বলেনঃ যাদুকরের শাস্তি হত্যা। আর এই অভিমত পোষণ করেছেন, উমর, উসমান বিন আফফান, ইবনে আমর বিন আব্দুল আযীয, আবু হানীফা এবং ইমাম মালেক।
৩। ইমাম কুরতুবী (রাহেমাহুল্লাহ) বলেন, মুসলিম মনিষীদের মাঝে মুসলিম যাদুকর ও (অমুসলিম) যিম্মী যাদুকরের শাস্তির ব্যাপারে মতবিরোধ রয়েছে।
ইমাম মালেক (রাহেমাহুল্লাহ) বলেন যে, যখন মুসলমান যাদুকর কুফুরি কালামের মাধ্যমে যাদু করে তবে তাকে হত্যা করা হবে। আর তার তাওবা ও গ্রহণীয় হবে না। আর না তাকে তাওবা করতে বলা হবে। কেননা এটা এমন বিষয় যার দ্বারা আল্লাহর নির্দেশকে লঙ্ঘন করা হয়। এজন্য আল্লাহ তায়ালা যাদুকে কুফুরি বলে আখ্যায়িত করেছেন।
وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّىٰ يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ
অর্থঃ “তারা যাকেই যাদু বিদ্যা শিখাতো তাকে বলে দিত যে তোমরা (যাদু শিখে) কুফুরি করো না, নিশ্চয়, আমরা তোমাদের জন্য পরীক্ষা।” (সূরা বাকারাঃ ১০২)
যাদুগ্রস্ত ব্যক্তির দেহের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় জাদু পাওয়া যায় এবং থাকে এরমধ্যে অন্যতম হল পেটের যাদু। পবিত্র কোরআনের যাদু সম্পর্কে যে আয়াত আয়াত রয়েছে রুকইয়াহ করার সময় এগুলো পাঠ করলে আল্লাহর হুকুমে পেটে থাকা যাদুটি বেরিয়ে আসে এবং রুকইয়াহ করার সময় যদি পেটে যাদু থাকে সেই লক্ষণগুলির দেখা দিবে।পেটে যাদু থাকার লক্ষণ গুলি আগে অন্য এক পোস্ট আলোচনা করা হয়েছে।
পেটের যাদু নষ্ট হবার চারটি মাধ্যম
(১)সরাসরি রুকইয়াহ আয়াত পাঠ
(২)বমির মাধ্যমে
(৩)প্রসাবের মাধ্যমে
(৪)বাথরুম করার মাধ্যমে।
পেট থেকে জাদু বের হওয়ার লক্ষণ
বমির মাধ্যমে -
যাদুগ্রস্ত ব্যক্তির যাদুটি যখন বমির মাধ্যমে পেট থেকে বেরিয়ে আসে, এটি যাদুগ্রস্ত ব্যক্তির নিরাময়ের/সুস্থতার ইঙ্গিত দেয়, কারণ যাদুটি প্রচণ্ড বমির মাধ্যমে বের হয়ে যায় এবং আপনি এটির রঙ অদ্ভুত দেখতে পান, যেমন হলুদ - কালো বা লাল, এবং কখনও কখনও আপনি রক্তের সাথে বমি দেখতে পাবেন আর এইসব বমি প্রচন্ড দুর্গন্ধযুক্ত হবে।
প্রসাবের মাধ্যমে -
জাদুগ্রস্ত ব্যক্তি জাদুটি যখন প্রস্রাবের সাথে বাহির হয় তখন প্রসাব হলুদ রঙের পরিবর্তনের বাদামী রং হয়ে আসে এবং এতে কখনো রক্ত পেতে পারেন। আর কখনো কখনো অনুভব হবে খুব দ্রুতগতিতে বির্যের মতো প্রসাবের সাথে কিছু বাহির হচ্ছে।
হামি বা বার্পিং দেওয়া --মল ত্যাগ করার মাধ্যমে -
পেট থেকে যাদু বের হওয়ার লক্ষণগুলির মধ্যে আরেকটি হ'ল বার্পিং হওয়া, যা মুখের মাধ্যমে যাদুগ্রস্ত ব্যক্তির পেটে জমে থাকা গ্যাসগুলি নির্গত হয় এবং বাথরুম মল দিয়ে যাদু বের হয়, যা আপনি পরিবর্তিত দেখতে পান ত্যগ কৃত মলের রঙ এবং অপ্রীতিকর গন্ধ এবং কি কখনো গুরুতর ডায়রিয়া হয়।
যখন পেটের যাদু নষ্টের রুকইয়াহ অনেক কে দেওয়া হয় তাদের গুরুতর অভিযোগ হল তাদের ডায়রিয়া হয়ে যায়। আর কে ডায়রিয়া হয় এটা নিয়েই কিছু বলব
যাদু মানুষের শরীরে খাওয়া-দাওয়ার মাধ্যমে প্রবেশ করে তবে পেটের যাদু ক্ষেত্রে খাদেম জিন থাকেই! পেটের যাদু আপনি সরাসরি রুকইয়াহ করার মাধ্যমে বমি বা প্রসাবের মাধ্যমে এবং মলের ত্যগের মাধ্যমে তা থেকে মুক্তি পেতে পারেন,আপনার পেটের যাদু নিস্ক্রিয় বা নষ্ট হয়ে গেলে আপনার পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্র খুব স্বাভাবিক লাগবে। কার কার ক্ষেত্রে পেটে কোলনের সমস্যা থাকে বা কোলনের যাদু করে রাখে আর পেটের যাদু চিকিৎসার বিভিন্ন উপায় রয়েছে।
(১)সরাসরি রুকইয়াহ করা
(২) ভেষজ উদ্ভিদ দ্বারা
(৩)হিজামা বা কাপিং থেরাপি
প্রাকৃতিক অনেক ভেষজ উদ্ভিদ রয়েছে যা পেট ক্লিয়ার করতে আমাদের জন্য খুব সহায়ক হয় পেটের যাদু নষ্টের রুকইয়াহ তে সেসব ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহার করে তার উপর জাদুর আয়াত এবং পেটের কোলনের সমস্যা আয়াত এবং যাক্কুমের আয়াত পড়ে পানি খেলেই আল্লাহ হুকুমে আপনার পেট হতে যাদুর জিনিসপত্র বমি, প্রসাব মল ত্যগের মাধ্যমে বাহির হয়ে যাবে জেনে রাখা ভাল এই চিকিৎসা সময় সীমা সাত হতে একুশ দিন আল্লাহ চাইলে আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন। বমি সবার ক্ষেত্রে হয়না এজন্য ভেষজ উদ্ভিদ দ্বারা চিকিৎসা চলাকালীন ডায়রিয়া হয়ে মল দিয়ে জাদু বের হয়! আর চিকিৎসা যতদিন চলে ততদিন ই ডায়রিয়ায় চলমান থাকে পরে আবার ঠিক হয়ে যায় এতে ভয় পাবার কিছু নেই।
মল ত্যাগের মাধ্যমে যাদু নষ্ট হবার ভিন্ন রুপ পাবের মলের যেমন
প্রথম দিন :
যাদুগ্রস্ত ব্যক্তি থেকে মল ফেনাযুক্ত মারাত্মক ডায়রিয়া এবং খুব দুর্গন্ধের আকারে বের হবে।
দ্বিতীয় দিন:
মল ডায়রিয়া আকারে বের হয়, গাঢ় সবুজ বর্ণের, প্রচণ্ড পেটে ব্যথা হয়।
তৃতীয় দিন:
মলের সাথে অদ্ভুত ফেনা দিয়ে কালো রক্ত বের হচ্ছে।
চতুর্থ দিন:
ডায়রিয়ার আকারে মল বের হচ্ছে যা অনেক গ্যাসের উপস্থিতি সহ বাদামী রঙের।
পঞ্চম দিন:
চুলের আকারে মল বের হচ্ছে, ভেড়ার মলের মতো, সঙ্গে রঙিন তরল বের হচ্ছে।
ষষ্ঠ দিন:
কালো মল, এবং বাদামী তরল।
সপ্তম দিন:
মল ডায়রিয়ায় এবং তরল কোন দুর্গন্ধ নেই।
তবে সবার ক্ষেত্রে একি রকম হবে তা এমন না, একেকজন একেক রকম সিমটম হবে তবে ডায়রিয়া মতো সবারি হবে।
15/07/2022
ইন্না-লিল্লাহ! কি ভয়ংকর সংবাদ দেখুন।
আমার আত্মা কেঁপে উঠেছে।
ভয়ে হৃদয় কাঁপতেছে।
এটা এড়িয়ে যাবেন কিভাবে?
____________________________________________________________
গাইয়ুন !
আপনি কি জানেন গাইয়ুন কি ?
ইবনে মাসুদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন গাইয়ুন হল জাহান্নামের এক অত্যন্ত গভীর ও ভয়ংকর উপত্যকার নাম । কেন এই উপত্যকা এত ভয়ংকর এত জঘন্য ?
জাহান্নামে মানুষের আকার হবে অনেক বড় । বসা অবস্থায় এক জাহান্নামীর আকার হবে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার ! তার চামড়া এবং মাংস হবে অত্যন্ত পুরু । তার দেহে থাকবে অনেক মাংস । জাহান্নামের আগুনে এই মাংস পুড়ে যখন হাড় বেরিয়ে যাবে তখন তা আবার মাংস দিয়ে পূর্ণ করে দেওয়া হবে । দুনিয়াতে আমরা দেখছি মানুষ আগুনে পুড়ে গেলে সেখানে পুঁজ জমে।
জাহান্নামের মানুষ বারবার আগুনে পুড়বে আর বারবার পুঁজ জমা হবে । সেই পুঁজ কোথায় গিয়ে জমা হবে জানেন ? তা জমা হবে জাহান্নামের গাইয়ুন উপত্যকায় । কারা থাকবে গাইয়ুনে ? যারা সময় মতো, সঠিকভাবে, নিখুত ভাবে সালাত আদায় করেনি !
সাকার !
আপনি কি জানেন সাকার কি ?
সাকার হল জাহান্নামের আরেকটি জঘন্য উপত্যকার নাম ।
সাকার হলো তাদের অবস্থান যারা দুনিয়াতে সালাত আদায় করবে না ।
সাকারবাসীদের সম্পর্কে আল্লাহ সুবাহানুওতায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন,
'আমি দাখিল করব সাকারে । তুমি কি জানো সে সাকার কি ? যা জীবীতও রাখবে না আবার একেবারে মৃত করেও ছাড়বে না । গায়ের চামড়া ঝলসিয়ে দেবে । সেখানে নিয়োজিত আছে ১৯ জন ফেরেস্তা ।' (সূরা মুদ্দাসসির : ২৬-৩০)
ওয়াইল !
আপনি কি জানেন ওয়াইল কি ?
ওয়াল জাহান্নামের আরেকটি ভয়ানক উপত্যকা ।
'অতএব ওয়াইল সেসব সালাত আদায়কারীর জন্য যারা তাদের সালাত সম্পর্কে বেখবর । (সূরা মাউন : ০৪-০৫)
সাহাবীদের মতে ওয়াইল এমন একটি জায়গা যেখানে জাহান্নামীদের সাপ আর জীবজন্তুরা খেয়ে ফেলবে । তারপর তাদের দেহ পূর্ব অবস্থায় ফিরে আসবে । পুনরায় সাপ আর জীবজন্তুরা তাদেরকে খেয়ে ফেলবে । পুনরায় দেহ ফিরে পাবে । এ চলতেই থাকবে ।
ওয়াইল সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাওতায়ালা আরও বলেছেন,
যখন তাদেরকে বলা হবে নত হও তখন তারা নত হয় না । সেদিন মিথ্যা আরোপকারীদের জন্য ওয়াইল হবে ।
(মুরসালাত : ৪৮-৪৯)
আর যারা ছাড়া সালাত আদায় করে না, কারা হবে আখেরাতে তার বন্ধু ?
'আর কেয়ামতের দিন সে ফেরাউন, হামান, কারুণ আর উবাই ইবন খালফদের সঙ্গে থাকবে । (ইবনে হিব্বান :১৪৬৭)
ফেরাউন আর সহচর হামান আর কারুণ কে তো অনেকেই জানেন । অনেকেই জানিনা উবাই ইবন খালফ কে । এ এমন এক জঘন্য ব্যক্তি যাকে দয়ার নবী নিজেই হত্যা করেছেন। এই পাপাচারীকে ছাড়া নবীজি আর কাউকে নিজ হাতে হত্যা করেননি ।
গাইয়ুন ! সাকার ! ওয়াইল হবে বাসস্থান ।
আর বন্ধু হবে ফেরাউন, হামান, কারুণ আর উবাই ইবন খালফ !
নামাজ না পড়া আর নামাজ সঠিকভাবে না পড়ার পরিণতি ।
আল্লাহ আমাকে এবং আমাদেরকে এ আজাব থেকে হেফাজত করুন ।
আমরা অনেকেই ভাবি সব পাপ ছেড়ে বদলে গিয়ে নামাজ ধরবো ।
প্রিয় ভাই আপনি যে অবস্থাই আছেন, যত পাপই করেন, নামাজ ছাড়বেন না ।
বদলে গিয়ে নামাজ ধরা হয় না, বরং নামাজই একদিন আপনাকে বদলে দিবে ।
15/07/2022
#হাসাদের গিট আছে কি? শয়তানের প্রত্যেক কাজই কি গিটের দ্বারা হয়?
"গিট" শব্দটা নিয়ে আমরা একটা বিভ্রান্তিতে পড়ি। সেটা হচ্ছে, গিট বললেই অনেকের মাথায় আসে দড়ির গিটের কথা। আসলেই কুরআনে বা সুন্নাহতে "উক্বাদ" দ্বারা কি শুধু আমরা যেই দড়ির ন্যায় গিট বুঝি সেটা উদ্দেশ্য নাকি অন্যকিছু? যেমন সুরা ফালাকে এসেছে?
وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ (4)
প্রত্যেক "গিটে ফুৎকারদানকারিনী" থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। সুরা ফালাক ৪।
শুধুমাত্র এই আয়াতের দিকে দৃষ্টি থাকার কারনে আমরা বিভ্রান্তির স্বীকার হতে পারি।
আসুন দেখি এই "উক্বাদ" দ্বারা আসলে কি কি উদ্যেশ্য হয়। হাদিস কুরআনে কি আছে...
আসুন প্রথমত দেখি, হাসাদ কাকে বলে?
وقال الجرجاني: (الحسد تمني زوال نعمة المحسود إلى الحاسد)
কোন ব্যক্তি নিয়ামত প্রাপ্ত হলে সেই নিয়ামতের বৃদ্ধির প্রতি অন্য ব্যক্তির ঈর্ষাপরায়ণতা কে হাসাদ বলে।
এবার একটা হাদিস দেখি আসুন। যা ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ "মাথার পেছনে শয়তানের গিট, যখন বান্দা রাতে জাগ্রত হতে পারে না" শীর্ষক অধ্যায়ে এনেছেন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّه صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلَاثَ عُقَدٍ يَضْرِبُ كُلَّ عُقْدَةٍ عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ فَارْقُدْ فَإِنْ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَإِنْ تَوَضَّأَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَإِنْ صَلَّى انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَأَصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ وَإِلَّا أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلَانَ
1091 صحيح البخاري كتاب التهجد باب عقد الشيطان على قافية الرأس إذا لم يصل بالليل
আবু হুরায়রা রাঃ হতে বর্নিত। রাসুল সাঃ বলেছেন, তোমাদের ঘুমের সময় "শয়তান তোমাদের মাথার পেছনে তিনটি 'গিট' দেয়"। এবং প্রত্যেক গিটে সে এই কথা নিক্ষেপ করে (বলে/ ঢুকিয়ে দেয় গিটের মাঝে) যে, রাত অনেক বড় সুতরাং ঘুমিয়ে থাকো।
সুতরাং বান্দা যখন ঘুম থেকে উঠে এবং আল্লাহ কে স্মরন করো "তখন একটি গিট" খুলে যায়। যখন অযু করে এবং আল্লাহ কে স্মরন করে "তখন আরেকটি গিট" খুলে যায়। যখন সে নামাজ পড়ে তখন "আরেকটি গিট" খুলে যায়। ফলে সে অত্যন্ত উদ্দীপ্ত ও শক্তিশালী হয়ে ঘুম থেকে উঠে। আর যদি বান্দা বিফল হয় সে অলস ও নোংরা খবিস অন্তর নিয়ে ঘুম থেকে উঠে।
(সহীহ বুখারী, কিতাবুত তাহাজ্জুদ, অধ্যায়ঃ মাথার পেছনে শয়তানের গিট দেওয়া যখন কেউ রাতে জাগ্রত হতে পারেনা)
এবার আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত দেখি।
وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِي (27)سورة طه
وقال ابن عباس : شكا موسى إلى ربه ما يتخوف من آل فرعون في القتيل ، وعقدة لسانه ، فإنه كان في لسانه عقدة تمنعه من كثير من الكلام
(আর মুসা বললেন, হে আল্লাহ!) আপনি আমার জিহবা থেকে "গিট" খুলে দেন। সুরা ত্ব-হা 27.
ইবনে আব্বাস রাঃ বলেন, মুসা আঃ তার রবের কাছে ফিরাউন কর্তৃক ওনাকে হত্যার ভয় এবং "জিহবার গিটের ব্যাপারে" অভিযোগ জানালেন। কেননা ওনার জিহবায় এমন "গিট" ছিল যা ওনাকে অধিক কথা বলতে বাধাগ্রস্থ করতো। (তাফসীর ইবনে কাসির)
উপরোক্ত হাদিস আর আয়াত থেকে আমরা কি জানতে পারি?
১) শয়তান কর্তৃক সব গিট মানেই সুরা ফালাকে বর্নিত দড়ির গিট নয়।
২) শয়তান নিজেও গিট দেয় ( মানবসৃষ্ট যাদুসহ বা যাদু ছাড়াই)। সুতরাং গিটের সাথে শুধু যাদুর সম্পর্ক- এটি একটি অজ্ঞতাপূর্ন দাবী।
৩) শয়তান শরীরে যেসকল কাজ করে সেগুলো তার "গিটের দ্বারা" করে। সুতরাং শয়তানের কাজ সমূহ গিটের সাথে সম্পর্কযুক্ত করার মাঝে কোন সমস্যা নেই।
৪) শয়তান বান্দাকে সলাতের নেয়ামত পেতে দিতে চায়না। অর্থাৎ হাদিসে বর্নিত সলাতের উপর শয়তানের কাজটি শয়তানের হাসাদ। এবং সে যেই গিটগুলো দিচ্ছে এগুলো তার হাসাদের কারনে দেওয়া গিট। যদিও গিটটি কিসের গিট সেটা সামনে আলোচনায় আসছে ইনশা আল্লাহ । কিন্তু এই গিট দেওয়ার উদ্যেশ্য হাসাদ। যাতে বান্দা সালাত আদায় করতে না পারে। সুতরাং হাসাদের গিট সরাসরি হাদিস থেকে প্রমানিত। আর উপরোক্ত হাদিসে বর্নিত শয়তান টি হাসাদের খাদেম শয়তান। অর্থাত গিট টি যাদু অথবা যা-ই হোক। এই গিট দেওয়ার উদ্যেশ্য হচ্ছে হাসাদ, যেমনটা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'লা সুরা ফালাকে উল্লেখ করেছেন।
وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ (4) وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ (5)
৫) শরীরে কোথাও জমে থাকা "অনুভুতি" যা স্বাভাবিকতাকে বাধাগ্রস্থ করে সেটাও কুরআন মোতাবেক "গিট" যেমনটা আল্লাহ মুসা আঃ এর দু'আর ব্যাপারে উল্লেখ করেছেন। ওনার কথার বাধাগ্রস্থতা ও জড়তাকে গিট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কুরআনে। সুতরাং এই গিটের ব্যবহার শারীরিক রোগ, মানসিক রোগ বা শয়তান গত রোগ সকল ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে। এতে সমস্যা নেই কোন।
৬) শয়তান থেকে সিহর হওয়া, আইন দেওয়া, হাসাদ দেওয়া এগুলো প্রত্যেকটি কুরআন সুন্নাহ থেকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত।
উপরের হাদিস থেকে দেখলাম যে, শয়তান গিট দেওয়ার মাধ্যমে কাজ করে।
সুতরাং এতে সন্দেহ নেই যে, শয়তানের পক্ষ থেকে আইনের গিট, হাসাদের গিট, সিহরের গিট, শয়তানের গিট সবগুলোই হাদিস থেকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত।
(নীচের অংশটি রাক্বী শাইখ গরীব মুসালির একটা লেকচার থেকে নেওয়া)
৭) উপরোক্ত হাদিসে "উক্বাদ" দ্বারা আলিম রা ইখতিলাফ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন এখানে উক্বাদ দ্বারা শয়তানি যিকর বা কথা উদ্যেশ্য যার দ্বারা সে সলাত, আল্লাহর আনুগত্য ইত্যাদি থেকে দুরে রাখে বান্দা কে। এটাও এক প্রকার সিহর।
আর কেউ কেউ বলেছেন এখানে উক্বাদ দ্বারা "প্রকৃত গিট" উদ্যেশ্য। সুরা ফালাকের উপর ক্বিয়াস করে তারা এমনটা উল্লেখ করেছেন। তখন এটা প্রকৃতপক্ষেই সিহর হবে। কারন যাদুর বিভিন্ন ধরনের মাঝে এমন যাদু আছে যেটাতে গিট দেওয়া হয়।
অনেকে এর অপর পিঠে বলেন যে, এটা কিভাবে সম্ভব যে, শরীরের বাহিরে থেকে জীন গিট দিবে। যাদুকর জীন তো শরীরের ভেতরে গিট দিতে সক্ষম।
আর আমরা বলি, এটা মূলত "প্রকৃত গিট" এবং শরীরে ভেতরে পজেসকারী (আছরকারী) যাদুকর জ্বীনের গিট। এবং এই ব্যাখ্যা নেওয়ার মাঝে কোন সমস্যা ও প্রতিবন্ধতকতাও নেই। কারন এর পক্ষে প্রমান হচ্ছে, আমাদের কাছে অসংখ্য রোগী এসেছেন যারা "গিট ধংসের রুকইয়াহ" শোনার পর তার এই নামাজে জাগ্রত হওয়ার সমস্যা চলে গিয়েছে। এবং রোগী জানিয়েছে যে, রোগীর অনুভুত হয়েছে, রোগীর শরীরে সব গিট ধংস হয়ে গিয়েছে। রোগী পা, মাথাসহ বিভিন্ন জায়গায় গরম অনুভব করেছেন, কিছু ধংস হয়ে গিয়েছে অনুভব করেছেন।
(তাই আমরা বলি) এই গিট গুলো রোগীর শরীরে অবশ্যই পাওয়া যায়। যা সালাত, দু'আ ইত্যাদি থেকে দুরে রাখার উদ্যেশ্যে এগুলোর সাথে বেধে রাখা হয়।
আমরা বলেছি যে, এই গিট মূলত "প্রকৃত গিট"। তাহলে শয়তানের এসকল গিট দেওয়ার উদ্যেশ্য কী? এসকল গিট দেওয়ার ফায়দা কী?
আমরা এ ব্যাপারে সহীহ হাদিস উল্লেখ করেছি। এই সপক্ষে উলামাদের কওলসমূহ উল্লেখ করেছি এবং আমাদের বিবেচনা গুলোও উল্লেখ করেছি যে, এসকল গিট শয়তান প্রকৃত গিট, যা ধংস করা সম্ভব।
শয়তানের ফায়দা কি এতে? আমি আপনাদের কে আগেও বলেছি এখনো বলছি, ২৩ এরও অধিক ক্যান্সারজনিত টিউমারের পেশেন্ট যাদের শরীরে শয়তান এসব গিট দিয়েছিল এবং আল্লাহর অনুগ্রহে আমরা তাদের চিকিতসা করেছি ও তারা সুস্থ হয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ।
এখন আমি সংক্ষেপে আরেকটা প্রশ্নের উত্তর দিব। (সেটা হচ্ছে), শয়তানের সাথে গিট কে সম্পর্কযুক্ত করার গুরুত্ব কতটুকু?
হে সম্মানিত ভাই!
শয়তান এই গিট গুলো গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারনে দেয়। প্রথম কারন, বান্দাকে আল্লাহর আনুগত্য থেকে দুরে সরিয়ে দেয়। (উদাহরণস্বরূপ) ফলে বান্দা রাতে ও ফজরে তার রবের জন্য জাগ্রত হতে পারেনা।
এবং অনেকেই আমার কাছে অভিযোগ করেছেন যে। হে ভাই কি যেন আমাকে বাধা দিচ্ছে, চেপে ধরছে যার ফলে রাতে জাগ্রত হতে পারছিনা, সালাত আদায় করতে পারছিনা। কিসে যেন আমাকে অষ্টপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে, ফলে আমি ইবাদতে অগ্রগামী হতে পারছিনা। ইবাদতে স্বাদ পাচ্ছিনা, মনোযোগীতা পাচ্ছি না।
এই গিট গুলো মানুষকে ভাল কাজ থেকে দুরে রাখে। অনেকেই আমাদের কাছে অভিযোগ করেছেন যে, কিসে যেন তাকে ভাল কাজে বাধা দিচ্ছে, তাকে চারপাশ থেকে ভাল কাজে আটকে দিচ্ছে, এত আকাংখা সত্তেও ভাল কাজে অগ্রগামী হওয়া যাচ্ছেনা, বেশি বেশিভাল কাজ করতে প্রশান্তি মিলছেনা। চাকে চারপাশ অষ্টপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলেছে।
এসকল ঘটনাই শরীরে থাকা বিভিন্ন গিটের প্রমান।
এই শয়তানের সাথে সম্পৃক্ত আরেকটি বিষয় হলো, এটি "হুসুন" এবং "দুরু'" দ্বারা শরীরে ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকে।
এরকম কত ঘটনা হয়েছে যে, আমরা রোগীর সামনে সিহরের আয়াত, আইনের আয়াত, হাসাদের আয়াত পড়েছি। আর রোগী শান্তশিষ্ট ভাবে সামনে বসেছিল। এমনকি তার কোন প্রতিক্রিয়াই হয়নি। রোগী এতটাই শান্তশিষ্ট ছিল যে, যেন তার মাথায় পাখি বসেছিল।
কিন্তু যখন আমরা রোগীর উপর "তাফজিরুল উক্বাদের" রুকইয়াহ করলাম। এবং বিসমিল্লাহি তুফাজ্জারুল উক্বাদ। তাফজিরা তাফজিরা বারবার, বারবার রিপিট করলাম। রোগীর প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। কারন আমরা জীন শয়তানের সঠিক জায়গায় আঘাত করেছি যার ফলে শয়তান প্রতিক্রিয়া দেখানো শুরু করেছে এবং দুর্বল হয়ে গিয়েছে।
এই "উক্বাদ" গুলোই প্রমান করে শরীরে থাকা জীনের "দুরু" এবং " হুসুন" কে। যার কারনে শয়তান শক্তিশালী হয়ে থাকে শরীরে। এবং এই শক্তির কারনে সে প্রতিক্রিয়া দেখায় না এবং দুর্বলও হয়না।
ফলে এই গিট গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার অন্যতম কারন হচ্ছে, এই গিটের কারনেই শয়তান শরীরে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকে এবং রুকইয়াহ তে কোন প্রতিক্রিয়া দেখায় না।
এই গিট, জীন এবং শয়তান ধরন প্রকৃতিভেদে বিভিন্ন হয়ে থাকে। ফলে কেউ কেউ গিট ধংসের রুকইয়াহ শুনে প্রথমবারেই প্রতিক্রিয়া অনুভব করেন, কেউ কেউ দ্বীতিয়বার অনুভব করেন আর কেউ কেউ তৃতীয়বার অনুভব করে। কেউ কেউ আরো পরে অনুভব করে। ফলে ভুক্তোভোগী যেসকল রুকইয়াহ শুনেন, তারমাঝে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুকইয়াহ গুলোর অন্যতম হচ্ছে, "রুকইয়াতু তাফজিরিল উক্বাদ" বা গিট ধংসের রুকইয়াহ।
আর একবার শুনেই প্রতিক্রিয়া না হলে হতাশ হবেন না এবং ক্ষ্যান্ত দিবেন না(শোনা বাদ দিবেন না)।
এই রুকইয়াহ শোনার সর্বাধিক উত্তম নিয়ম হচ্ছে আপনি এটি বারবার বারবার শুনবেন। দিনে একসাথে তিনবার বা দুবার। এভাবে পাচদিন সাতদিন শোনার পর আপনি নিজের মাঝে একটি বিরাট পরিবর্তন দেখতে পারবেন।
আমরা কথাকে সংক্ষেপ করছি। উপরে আমরা "উক্বাদের" দলীল দেখলাম। এর গুরুত্ব দেখলাম, এর পরিচয় দেখলাম, এর প্রভাব দেখলাম এবং এর পেছনে থাকা হুসুন এবং দুর' এর অস্তিত্বের প্রমান দেখলাম। যার দ্বারা শয়তান শরীরে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকে। ফলে রোগী বলেন যে, আমি অত অত দিন শোনার পর আমি এরুপ এরুপ অনুভব করেছি, পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি। যেটা আমি প্রথম দিন বা প্রথম দুই তিনদিন শুনে কিছুই অনুভব করিনি।
সুতরাং হতাশ হবেন না। বারবার বারবার শুনুন। লেগে থাকুন। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি শয়তান ঘাড় ও কলবে আঘাত করতে ও তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবেন ইনশা আল্লাহ।
(অপ্রাসঙ্গিক বিধায় এই লিখায় হুসুন এবং দুরু'এর আলোচনা বাদ দিয়েছি আমি, ওনার আলোচনা এতটুকুই)
সুতরাং যারা বলে থাকেন যে, শুধু যাদুর গিট বিদ্যমান। হাসাদের গিট বলে কিছু নেই, শয়তানের গিট বলে কিছু নেই। এটি অসত্য দাবী।
আমরা আল্লাহর জন্য সতর্ক হই। তার কাছে মাথা নত করি। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর কাছেই ফিরে যাব..... আজি-বু দা'ইয়াল্লাহ....
ওয়া মা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ। ইন আজরিয়া ইল্লা আ'লা রাব্বিল আ'লামীন।
اخوكم في الاسلام
فهد بن نورالله القاسمي
(উপকারী হলে কন্টেন্ট ও ছবি কপি করে নিজের টাইমলাইনে পোস্ট করার অনুরোধ রইল। অন্তত শেয়ার করার অনুরোধ রইল। আপনার এই ছোট্ট উদ্যোগে কারো হয়তো রুকইয়াহ সম্পর্কে ভ্রান্তি দুর হবে)...
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka
