Arba Ayatul Nora's Dairy
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Arba Ayatul Nora's Dairy, Health/Beauty, Dhaka.
11/06/2023
নীলুর হঠাৎ লেবার পেইন ওঠে। আগে থেকে ঠিক করা দাইমাকে নিয়ে আসা হয় ডেলিভারির জন্য। যথাসময়ে এই পৃথিবীর আলো-বাতাসেরা নীলুর সন্তানের মুখ দেখে। ভেতির থেকে খবর আসে নীলু মা হয়েছে, আর ওর ছেলে হয়েছে। কিন্তু বাইরে অপেক্ষা করতে থাকা নীলুর সন্তানের বাবা-দাদা আর অন্যান্যরা নবজাতকের কান্না শুনতে পায় না।
নীলুর স্বামী রাজু ব্যস্ত হয়ে ধাত্রী মহিলাকে বলে,
- কিন্তু দাইমা! বাচ্চার কান্না তো শুনতে পেলাম না।
- আরে! ওইসব ঠিক হইয়া যাইব। একটু পরেই দেখবা ক্যাঁ ক্যাঁ কইরা বাড়ি মাথায় তুলছে। (হাসি)
ঠিক তখনই ভেতর থেকে নীলুর চিৎকার ভেসে আসে।
- রাজু! তাড়াতাড়ি এসো। দেখো, ছেলেটার সারা শরীর নীল হয়ে গেছে।
বাচ্চার গায়ে হাত দিয়েই নীলুর শাশুড়ি আঁতকে ওঠেন।
- ছেলের শরীর দেখি ঠান্ডা বরফ হয়ে গেছে। রাজু তাড়াতাড়ি গাড়ির ব্যবস্তা কর। ওকে এখনই হাসপাতালে নিতে হবে।
তাড়াহুড়া করে নীলুর ছোট্ট বাচ্চাটাকে নিয়ে হাসপাতালের দিকে ছুটে সবাই। শত বুঝিয়েও নীলুকে আটকে রাখা যায় না। হাসপাতালে পৌঁছেই ছোট্ট প্রাণটাকে নিয়ে হাসপাতালে ডাক্তারের খোঁজে দৌঁড়াতে থাকে রাজু। নীলুও দৌঁড়ায় তার সমস্ত শক্তি দিয়ে। কিন্তু তার পা আটকে যায় একটা কেবিনের সামনে এসে। জানালা দিয়ে মুখ বাড়াতেই সে দেখে একজন ডাক্তার সদ্য নবজাত শিশুকে খুব জোরে জোরে থাপ্পড় মারছেন। নীলু পাশেই এক মহিলাকে ডেকে জিজ্ঞেস করে,
- ভেতরে কি হচ্ছে?
- এই কেবিনে? এক আপার ইমার্জেন্সি ডেলিভারি। তাই তাড়াহুড়া কইরা এই রুমের ভিতরে ঢুকাইয়া দিছে। বাচ্চা হইছে, কিন্তু বাচ্চা কান্দে নাই। এখন ডাক্তাররা কি জানি করতেছে।
মহিলার কথা শুনে নীলু আরও আগ্রহ নিয়ে ভেতরে তাকায়। দেখে টেবিলের উপর পড়ে থাকা বাচ্চাটির শরীর ঠিক তার বাচ্চাটির মতোই নীল হয়ে আছে। ডাক্তার আর নার্সরা কখনো ভীষণ জোরে বাচ্চাটার পেট-পিঠ ঘষে দিচ্ছে, কখনো বা উলটো করে ধরে পিঠে খুব জোরে জোরে থাপ্পড় মারছে। বাচ্চাটাকে যখন উলটো করে ঝুলিয়ে থাপ্পড় মারছিল তখন বাচ্চাটা এদিক সেদিক দুলছিল। নীলু সদ্য মা হয়েছে। নবজাতকের উপর এমন অত্যাচার সহ্য করতে পারে নি। তাই দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে ডাক্তারকে ডাকতে যাবে তখনই বাচ্চাটা চিৎকার করে কেঁদে ওঠে। নীলুর ভেতরটা ধক করে ওঠে। মনে হয় যেন তার নিজের বাচ্চাটা কেঁদে ওঠেছে। ডাক্তার নীলুর ডাক শুনে নীলুর দুকে তাকাতেই নীলু আমতা আমতা করে বলে,
- আপনারা তখন বাচ্চাটাকে ওভাবে মারছিলেন... আমি বাইরে থেকে দেখলাম... তাই ভাবলাম ছোট বাচ্চা... আর এত জোরে জোরে মারছেন...
- (হেসে) আসলে অনেক সময় বিভিন্ন কারণে দেখা যায় জন্মের পরপর বাচ্চারা কাঁদে না। এতে করে দেখা যায় বাচ্চার ফুসফুসে আটকে থাকা বাতাস বের হতে পারে না। ফলে বাচ্চা নিঃশ্বাসও নিতে পারে না, আর তার সারা শরীর নীল হয়ে যায়। এমন হলে বাচ্চাটা মারা যায়। তাই বাচ্চাটার পিঠে জোরে জোরে, জোরে থাপ্পড় দিলে আর প্রয়োজনে মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস দিলে ফুসফুসের বাতাসটা বেরিয়ে আসতে পারে। তখন বাচ্চাটাও কেঁদে ওঠে। আসলে বাচ্চারা সারাজীবন না কাঁদলেও সমস্যা নেই। কিন্তু জন্মের পরপরই না কাঁদলে মৃত্যু অবধারিত। দেখুন, বাচ্চাটার গায়ের রঙ কি সুন্দর গোলাপি বর্ণ ধারণ করেছে। এই গোলাপি বা লালাভ গায়ের রঙই হচ্ছে নবজাতকের সুস্থতার লক্ষণ।
নীলু মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনে। সে বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে দেখে, একটু আগের নীল রঙ সরে গিয়ে কি সুন্দর গোলাপি আভা ছড়িয়ে পড়েছে বাচ্চাটার গায়ে। ঠিক তখনই কোথা থেকে যেন কান্নার রোল ভেসে আসে। একটু কান পেতে শুনেই নীলু নিজের মনে বলে ওঠে,
- মায়ের গলা না!
নীলু ছুটে যায়। একটু সামনেই দেখে ইমার্জেন্সি বিভাগ। সেখানে গিয়ে দেখে তার আদরের ছোট্ট বাচ্চাটার নিথর হয়ে ডাক্তারের টেবিলের উপর পড়ে আছে। সারা শরীর নীল হয়ে আছে। পাশেই অক্সিজেন মাস্ক। ডাক্তার বাচ্চাটাকে সজোরে আরও দুই একটা ঝাঁকুনি দিয়ে বললেন,
- আপনাদের আসতে একটু দেরি হয়ে গেছে। প্রথমেই যদি বাচ্চাটার গা-হাত পা একটু ঘষে দিতেন আর মুখে মুখে শ্বাস দেয়ার ব্যবস্থা করতেন, তাহলে হয়তো ব্যাপারটা অন্যরকম হতে পারতো।
নীলু সেখানেই বসে পড়ে। কান্না করার শক্তি পাচ্ছে না। কিন্তু পাশে দাঁড়িয়েই তার শ্বাশুড়ি মা চিৎকার করে কাঁদছেন
রাজু ছোট্ট দেহটাকে কোলে তুলে নেয়। গন্তব্য এখন কবরস্থান...
একটুখানি কান্না কতটা মূল্যবান!
মানুষের জীবনের শুরুটাই হয় কান্না দিয়ে। বিজ্ঞান বলে, শিশুর জন্মের পর সে না কাঁদলে ফুসফুসের ভেতর আটকে থাকা বাতাস বের হতে পারে না। ফলে শিশুটি মারাও যেতে পারে।
আমাদের জীবনের সূচনা কান্না দিয়ে। এই কান্না না আসলে মৃত্যু হয়। আর দুনিয়াতে এসে আমরা সারাটাজীবন হাসতে চাই। কান্নাদের মনে করি অভিশাপ।
গবেষণা আরেকটা কথা বলে। মানুষ যখন খুব বেশি কষ্টে থাকে, তখন যেন সে কান্না করে। এতে তার মানসিক স্বাস্থ্য ভাল থাকবে।
কান্নারা কত পাওয়ারফুল!
আমাদের জীবন হাসিতে-খুশিতে পরিপূর্ণ থাকুক। কান্নারা অভিশাপ নয়, বরং আমৃত্যু আশীর্বাদ হয়ে আসুক।
Click here to claim your Sponsored Listing.
