Faria abedin rafa

Faria abedin rafa

Share

i am a nutritionist,
will publish different types of writings.

24/03/2026

বিচ্ছেদ ও ঘৃণা দূর করতে সূরা আস-সাফফাতের আমল --
এশার নামাজের পর ৫ বার সূরা আস-সাফফাত পাঠ করুন।

এই আমলটি করবেন মানুষের মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টিকারী যাদু )سحر التفريق( এবং হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া অনীহা বা ঘৃণা দূর করার নিয়তে

(যেমন: কোনো কারণ ছাড়াই একে অপরকে সহ্য করতে না পারা, আকস্মিক শত্রুতা তৈরি হওয়া কিংবা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া)।

আয়াতের শব্দগুলোর ওপর গভীর মনোযোগ দিন... অতঃপর দেখুন আল্লাহর হুকুমে কীভাবে সেই ঘৃণার তীব্রতা কমতে শুরু করে এবং মানুষের অন্তরগুলো একে অপরের প্রতি নরম হতে থাকে।

এই সূরাটি অনেকের কাছেই অবহেলিত (খুব একটা আমল করা হয় না)... অথচ এর প্রভাব অত্যন্ত বিস্ময়কর। মনে রাখবেন আরোগ্যের আগে খাঁটি নিয়ত বা সংকল্প প্রয়োজন।

-- Raqi Tarek Jamil

24/03/2026

গত বছর আমাদের সাথে হজে যাওয়া এক ভাই, হজ থেকে
ফেরার কয়েক মাস পরই রাসুল (ﷺ) কে স্বপ্ন দেখেন। তিনি শুনতে পান, আল্লাহর রাসুল (ﷺ) তাকে বলছেন, অনেকদিন তো হয়ে গেলো তুমি আমার কাছে আসো না।…

স্বপ্নের বিবরন দিতে গিয়ে এই ভাই অঝোরে কাদছিলেন। তার তো হজে যাওয়ারই কথা ছিলো না। মাল্টিন‍্যাশনাল কোম্পানিতে জব করতেন। আর ১০ জনের মত লাইফ লিড করতেন। রেগুলার নামাজও পড়া হতো না।

বোনের সাথে মাহরাম হিসেবে যাওয়ার কথা ছিল তার আরেকভাইয়ের। কাগজপত্র অনেকটুকু রেডিও হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি কোন কারনে যেতে না পারাতে এই ভাই গিয়েছিলেন।

অথচ আল্লাহ তাকে হজে নিলেন। আল্লাহর রাসুল (ﷺ) কে স্বপ্ন দেখালেন।

অবাক লাগে না! কী মায়া আর ভালবাসা নিয়েই না আল্লাহ তার বান্দাদের তার পথে এগিয়ে আসাকে স্বাগত জানান। রাসুল (ﷺ) যে বলেছেন, কেউ যদি আল্লাহর দিকে এক হাত অগ্রসর হয়, আল্লাহ তার দিকে দুই হাত অগ্রসর হন। এসব ঘটনা তো এই হাদিসেরই বাস্তব উদাহরন। …

আরেকবার। নিজের অভিজ্ঞতা।..

বাইতুল্লাহতে সেদিন অনেক ভীড়। তাওয়াফ শেষে বসে আছি মাতাফে। পাশে এক বিদেশি লোক এসে বসলো। সাদা চামড়ার মানুষ।

ইহরামের কাপড় পরা। পুরো শরিরের নানা জায়গায় ট‍্যাটু। বিশাল বিশাল চুল, পেছনে বেধে রাখা। কিছুক্ষন পর আমাকে গুগল ট্রান্সলেটর দিয়ে জিজ্ঞেস করে ফজরের আযান আর কতক্ষন পর হবে? বললাম, আর আধাঘন্টা বাকি আছে।

এটা শুনেই নামাজে দাড়িয়ে গেলো। কিছুক্ষন নামাজ পড়ে আবার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দুআ করে। মাঝে মাঝে দৃষ্টি বাইতুল্লাহ ছেড়ে আরও উপরে আকাশের দিকে উঠে যাচ্ছিল। বিড়বিড় করে তার মাবুদের সাথে কথা বলছে আর অবিরাম ঝরছে চোখের পানি।

ফজরের আযান হলো। নামাজ শেষ হলো। আরও কিছক্ষন পর সূর্য় উঠলো। এবার বের হয়ে যাওয়ার পালা। পাশাপাশি এতটুকু সময় ছিলাম, সৌজন‍্যমুলক বিদায় সালাম দিয়ে মুসাফাহা করলাম। যেহেতু আর দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই, গুগল ট্রান্সলেটরে লিখলাম -

“আল্লাহ আমাদের জান্নাতে আবার দেখা করিয়ে দেন।”

বিশ্বাস করেন, লোকটি ম‍্যাসেজটি দেখেই এমন কান্না শুরু করলো, হতচকিয়ে গেলাম। যেহেতু ভীনদেশি। ভাষার ভিন্নতায় হয়তো তার কাছে এভাবে দুআটা কোন ভিন্ন অর্থ দেয় কিনা।

কিছুক্ষন পর স্থির হয়ে আমাকে বলে, তুমি যদি আমার পাস্ট জানতে এটা বলতে পারতে না। আল্লাহ যেন আমাকে মাফ করে দেন। আমাকে ভুলে যেয়ো না। এই দুআ তুমি সবসময় কইরো।

লোকটির পাস্ট জানা তো সম্ভব ছিল না, কিন্তু মানুষটি যে অতিতের জীবন ছেড়ে এসেছেন, তা তো বুঝেছিলাম আগেই…

সকালের মিষ্টি রোদ এসে পড়েছে মাতাফে। সেই মাতাফ ধরে লোকটা চলে যাচ্ছে। যার রুচিবোধ কিছুক্ষন আগেই বিরক্তির জন্ম দিচ্ছিল, এখন তাকে দেখতে কেন এত সুন্দর লাগছে! …

অবাক হয়ে ভাবছিলাম…

এই যে মানুষগুলো হঠাৎ করেই পরিবর্তন হয়ে যায়, কেউ গান ছেড়ে দেয়, কেউ হারাম ইনকাম থেকে সরে আসে, কেউ একদম হঠাৎ করে দাড়ি রাখে বা হিজাব/ নিকাব শুরু করে।…

আল্লাহর দেয়া এই নূর, এই হিদায়েতের আলো… যুক্তির বিচারে যোগ‍্যতার প্রশ্নে এই মানুষগুলোর কি তা পাওয়ার কথা ছিল? তারা তো জীবনের লম্বা সময় আল্লাহর নাফরমানীতেই লিপ্ত ছিল। আল্লাহর রাগ ক্রোধ তাদের উপর বেশি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হলো তার উল্টো…

একজন মা যেমন তার সন্তানের শরিরে ময়লা লেগে গেলে, দুরে সরিয়ে না দিয়ে তাকে বরং পরিষ্কার করে দেন, বান্দার প্রতি তার রবের আচরন তো এমনই। তাকে বারবার নানা ভাবে রিমাইন্ডার দেন যেন সে থেমে যায়। যেন সে ফিরে আসে।

কুরআনের আয়াতটি কী অদ্ভুত সুন্দর, তাই না…

আল্লাহ তো ঈমানদারদের বন্ধু। অন্ধকারের পথ থেকে তিনিই তাদের আলোর পথে নিয়ে আসেন। - আয়াত ২৫৭, সুরা বাকারা

17/03/2026

ঈদের আগে ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে কি আপনার দম বন্ধ হওয়ার যোগাড়?

হয়তো আপনি ভুল পদ্ধতিতে কাজ করছেন!

আমরা সারা বছর ঘর গুছিয়ে রাখি না, আর ঈদের আগের ৩ দিনে সব ঠিক করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ি। জাপানিজ অর্গানাইজিং এক্সপার্ট ম্যারি কোন্ডোর 'কণমারি' মেথড ফলো করলে আপনার ঘর গোছানো হবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যাপার।

কম পরিশ্রমে ঘর একদম ঝকঝকে রাখার ৭টি সিক্রেট টিপস:

১. রুম ধরে নয়, ক্যাটাগরি ধরে গুছান: আমরা আগে একটা রুম ধরি, তারপর আরেকটা। এটা ভুল! বরং আগে সব কাপড় এক জায়গায় করুন, তারপর সব বই, এরপর রান্নার সরঞ্জাম। ক্যাটাগরি ধরে কাজ করলে ক্লান্তি কম হয়।

২. 'স্পার্ক জয়' টেস্ট: কোনো জিনিস হাতে নিয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন—এটি কি আপনার মনে আনন্দ দেয়? যদি না দেয়, তবে সেটি স্রেফ মায়া ত্যাগ করে সরিয়ে ফেলুন। জমানো জিনিস কমালে ঘর এমনিতেই বড় দেখাবে।

৩. আগে ছাঁটাই, পরে গোছগাছ: আমরা ভুল করি কি, অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলোকেই সুন্দর করে সাজানোর চেষ্টা করি। আগে ঘর থেকে বাড়তি জিনিস বিদায় করুন, গোছানোর কাজ অর্ধেক কমে যাবে।

৪. লম্বালম্বি ভাঁজ করার ম্যাজিক: কাপড় একটার ওপর একটা না রেখে, খাড়া করে (Vertical) রাখুন। এতে ড্রয়ার বা আলমারি খুললে সব কাপড় একসাথে দেখা যায় এবং নিচে রাখা কাপড় বের করতে গিয়ে সব এলোমেলো হয় না।

৫. সবকিছুর একটা নির্দিষ্ট ঠিকানা দিন: রিমোট থেকে শুরু করে চার্জার—প্রতিটি ছোট জিনিসের জন্য একটা ফিক্সড জায়গা রাখুন। কাজ শেষে সেটি সেখানেই রাখার অভ্যাস করলে ঘর আর অগোছালো হবে না।

৬. আবেগমাখা জিনিস সবার শেষে: পুরনো ছবি বা চিঠি সবার আগে গুছাতে বসলে স্মৃতিচারণেই ৩ ঘণ্টা পার হয়ে যাবে! তাই এই ক্যাটাগরিটা রাখুন সবার শেষে।

৭. মেহমানদের জন্য বাড়তি জিনিসের স্তূপ সরান: বছরে একবার আসবে এমন মেহমানের জন্য ডাইনিং টেবিলের ওপর সব প্লেট-বাটি সাজিয়ে রাখবেন না। সেগুলো বক্সে ভরে স্টোর রুমে রাখুন, এতে ঘর খোলামেলা লাগবে।

এবারের ঈদে ঘর গোছানো শুরু হবে তো? না কি এখনো আলসেমি লাগছে?

আপনার আলমারির অবস্থা এখন কেমন?
১ (একদম পারফেক্ট) থেকে ১০ (পুরো মেসাকার)—রেটিং দিয়ে কমেন্টে জানান !
দেখি কার ঘর গোছানো সবচেয়ে বেশি জরুরি।

16/03/2026

এমন দৃশ্য আমি কখনো দেখিনি। অনেক শাইখ-শাইখাকে শুনিয়েছি, তারাও জীবনে এমন অলৌকিক কিছু দেখেননি।

দিনটি ছিল আর পাঁচটা দিনের মতোই। কর্মস্থল থেকে ফোন এলো, ‘উম্মু ফিরাস! একটি লাশ এসেছে...একজন বয়স্ক মহিলার, আপনি কি এখন আসতে পারবেন?’

আমি মৃত-নারীদের গোসল করাই। আমাদের সৌদি আরবে সরকারিভাবে লাশ গোসল করানোর জায়গা আছে। ফ্রিতেই গোসল করানো, কাফন-দাফন করানো যায়। আবার কেউ চাইলে ফোন করে কোনো কর্মীকে বাসায় ডাকতে পারেন লাশ গোসল করানোর জন্য।

তো, গোসলখানায় গিয়ে দেখলাম বেশ কয়েকজন নারী কান্নাকাটি করছেন। কাঁদতে কাঁদতে যেন জীবনই ছেড়ে দিবেন। দেখে খারাপ লাগল, আবার ভালোও লাগল। ভালো লাগার কারণ, আমাদের এখানে যে লাশগুলো আনা হয়, সেগুলোর সাথে সচারচর এত মানুষ থাকে না। অনেক সময় দরকারেও লাশের আত্মীয়স্বজনকে কাছে পাওয়া যায় না। বেশিভাগ সময় লাশ রেখে চলে যায়, গোসল করানোর পর এসে নিয়ে যায়। থাকলে থাকে এক-দুজন। গোসল করানো, কাফন পরানো—সব আমরাই, গোসলখানার কর্মীরাই করি। কখনো কখনো তো দাফনের দায়িত্বও গোসলখানার লোকদের ঘাড়ে দিয়ে দেয় আত্মীয়রা।

কিন্তু এই লাশের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেখলাম কয়েকজন বয়স্ক মহিলা ‘মা, মা’ বলে কাঁদছেন। মানে যিনি মারা গেছেন, তিনি উনাদের 'মা' হন। ভাবছি, এই মহিলাদের বয়সই তো ষাট-সত্তরের কম হবে না, তাহলে মৃতার বয়স কত!

আমি উনাদেরকে সান্ত্বনা দিলাম। ‘আল্লাহ আপনাদের মায়ের ওপর রহম করুন। তাকে জান্নাতবাসী করুন। একটু শান্ত হোন। কারোরই মা-বাবা চিরদিন বাঁচে না। আমাদের সবাইকেই এক দিন না এক দিন মরতে হবে।’
কিন্তু উনারা এমন ব্যাকুলভাবে কাঁদছিলেন, কখন যে আমার নিজের চোখে পানি চলে এসেছে, বুঝতেও পারিনি।

কিন্তু এঁদের সাথে বসে কান্নাকাটি করলে চলবে না। লাশ গোসল করাতে হবে। আমি যখন গোসলখানার দিকে যাচ্ছি, তখন মহিলাদের আরেক আহাজারি। ‘আমাকে সাথে নিবেন, আপা?’ ‘আমিও গোসল করানোর সময় থাকতে চাই!’ ‘আমি কি আপনার কোনো হেল্প করতে পারি?’ ‘আমাকেও সাথে নিন, প্লিজ!’ ‘শেষবারের মতো মায়ের খেদমত করতে চাই, আমাকে নিন না!’
গোসল করানোর সময় সবাই সাথে থাকতে চাচ্ছেন!
সাধারণত আমি এক-দুজনকে সাথে নিই। কিন্তু উনাদের সবার আবেদনই এত আকুল, কাউকে ফেলতে পারলাম না। এরপর একেকজনকে একেক দায়িত্ব দিলাম। ‘আপনি পানি এগিয়ে দিবেন’, ‘আপনি আতর’, ‘আপনি গোলাপজল’...এভাবে সবাইকে একটা করে কাজ দিতে হলো।

গোসল করাতে গিয়ে দেখি মৃতা প্রায় শতবর্ষী এক বৃদ্ধা। ঠিক কাঠের পুতুলের মতো, গায়ে গোশতের বালাই নেই! কুঁচকানো চামড়ায় জড়ানো হাড় জিরেজিরে এক শরীর। গায়ের রং পাণ্ডুর। চুলগুলো সব পেকে সাদা হয়ে গেছে। বয়সের ভারে পা দুটোও শীর্ণ, কুঁকড়ে এসেছে। নিজে নিজে চলতে পারত নাকি কে জানে! হাতেও হাড় আর চামড়া ছাড়া কিছু নেই। পুরো শরীরটাই ভীষণ নাজুক। ওজনই নেই বলতে গেলে।

যাহোক, গোসল করাতে করাতে টের পেলাম ক্ষীণ কায়ার এই নারী দুনিয়ার জীবনে নিশ্চয় নেককার ছিলেন। কীভাবে বুঝলাম? লাশ গোসল করানোর অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বুঝি এসব। কারণ নেককার বান্দাদের গোসলটা সহজ হয়, আর যারা ভালো আমল করেনি তাদেরটা হয় কঠিন। ভালো ব্যক্তিদের গোসল করানোর সময় মনে হয়, লাশটাও যেন গোসলে সাহায্য করছে। সবকিছু ইজিলি হয়ে যায়। বিরাট শরীরের লাশকে গোসল করাতেও হ্যাসেল পোহাতে হয় না।
কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, হালকা-পাতলা শরীরের লাশও গোসল করানোর সময় অনেক ভারি লাগে। দু-তিনজন মিলে তার হাত-পা উঠানো যায় না! মনে হয়, সে হয়তো চাচ্ছে না তাকে গোসল করানো হোক, কবরে নিয়ে যাওয়া হোক।

সহিহ বুখারিতে এসেছে—
“যখন জানাযা (লাশ) বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন যদি মৃত ব্যক্তি নেককার হয়, সে বলে: ‘আমাকে তাড়াতাড়ি নিয়ে চলো, আমাকে তাড়াতাড়ি নিয়ে চলো।’
আর যদি সে নেককার না হয়, তখন সে বলে: ‘হায় আফসোস! তোমরা তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ?’

এই মহিলাও যেন তাড়াতাড়ি কবরে যেতে চাচ্ছেন। শান্তি লাগছিল আমারও। উনার মেয়েরা তখনো কেঁদে আকুল। কেউ উনার জন্য দুয়া করছেন। কেউ গায়ে আতর ছুঁয়ে দিতে দিতে চোখের পানি ফেলছেন। উনাদেরকে রেখে আমি পাশের রুমে গেলাম।

কাফনসহ কিছু জিনিস আনতে পাশের ঘরে গিয়েছি। প্রায় এক মিনিটের মাথায় গোসলঘরের ভেতর থেকে চিল্লাচিল্লি কানে এলো।
‘ও অমুক! দেখে যা!’ ‘এই মেয়েরা, আসো, দেখে যাও কী হয়েছে!’ সেই সাথে কান্না আর আহাজারি।

ভয়ে আমার কলিজা শুকিয়ে গেল। হাতের জিনিসপত্র ফেলে দিয়েই গোসল ঘরে ছুটে এলাম। এরপর যা দেখলাম...সুবহানআল্লাহ! এরকম অলৌকিক দৃশ্য আমার জীবনে কখনো দেখিনি।

গিয়ে দেখি—যেই লাশের সবগুলো চুল পেকে পাটের আঁশের মতো হয়ে গিয়েছিল, তার সবগুলো চুল কালো হয়ে গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, তার মুখের কুঁচকানো চামড়া আর নেই। সব টানটান হয়ে গিয়েছে। কাফন সরিয়ে তার হাত-পাগুলোও দেখলাম আমি। আগের মতো শীর্ণকায় নেই, টান-টান শক্তিসমর্থ দেখাচ্ছে। তার বয়স যেন একশ বছর নয়, তার বয়স ত্রিশ বছর!

এই দৃশ্য দেখেই সবাই উত্তেজিত হয়ে পড়ে। বৃদ্ধার মেয়েরা বলতে শুরু করে, ‘ও আমার মা রে! আমার মা জান্নাতবাসী হয়ে গেছে রে!’ ‘আল্লাহু আকবার!’

আমার তো হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে, ভয়ে, আতঙ্কে আবার আনন্দেও। অনবরত বলছি ‘সুবহানআল্লাহ!’ ‘মাশাআল্লাহ!’ ‘আল্লাহু আকবার!’

একটু পর সংবিৎ ফিরে পেয়ে বললাম, ‘আল্লাহর দোহায় লাগে, আপনারা একটু শান্ত হোন। আল্লাহ উনাকে উত্তম প্রতিদান দিবেন ইনশাআল্লাহ, কিন্তু আমাদের কাজ তো আমাদেরকে করতে হবে। কাফন পরানো শেষ করতে দিন।’

মৃতার কন্যাদেরকে সরিয়ে রেখে কাফন পরানো শেষ করলাম। যখন চেহারা ঢাকতে যাব, তখন আরেকটি ব্যাপার ঘটল। লাশের চেহারায় এত নুর...সুবহানআল্লাহ...আমি তাকাতে পর্যন্ত পারছিলাম না। নুরে চোখ ঝলসে যাওয়ার অবস্থা। তাও সাদা কাপড়ে চেহারা ঢেকে গিঁট দিয়ে কাফন সম্পন্ন করতে হলো।

কাজ শেষ হওয়ার পর, উনার মেয়েরা যখন একটু শান্ত হয়ে এসেছে, উনাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আল্লাহর দোহায়, আমাকে একটু বলুন আপনাদের মা কোন কোন নেক আমল করতেন?’

আমাকে বলা হলো, ‘কোন নেক আমল করতেন না, তাই বলুন! আমরা উনাকে সব রকমের নেক আমল করতে দেখেছি, কিন্তু তারচেয়েও বেশি আমল উনি করতেন গোপনে। ইয়াতিমদের দায়িত্ব নেওয়া, বিধবাদের খরচ দেয়া, বিভিন্ন মানুষকে-বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাদাকা করা—কিছুই বাদ দিতেন না। আর এগুলোর কোনোটাই উনি আমাদেরকে জানাতেন না যে—‘অমুক ব্যক্তিকে আমি টাকা দিই, অমুক জায়গায় সাদাকা করি’। কোনোভাবে সামনে আসলে তখন আমরা জানতে পারতাম। উনার গোপন আমলের পরিমাণই বেশি। সেগুলোর কথা কেবল মা আর আল্লাহ জানেন।’

তাদের উত্তর শুনে আমি বুঝতে পারলাম, কেন শেষ বিদায়ের সময় আল্লাহ এই নারীকে সম্মানিত করলেন। দুনিয়ার জীবনে তিনি কাজ করেছেন আল্লাহর জন্য, তাই আল্লাহ তাঁর মেহমানকে গ্রহণ করেছেন উত্তম মেহমানদারিতার সাথে।

[সৌদি আরবের একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে]

#রূপান্তর
#প্রস্থানের_পথে

24/02/2026

এক আরবের কাছে সীরাতের কিছু সূত্র শিখলাম!

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনী খুব ভালোভাবে বুঝতে হলে তৎকালীন গোত্র ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে হবে —এই বোধোদয় হয় গতবছর থেকে৷

এরপর থেকে সীরাত পড়তে গিয়ে গোত্রের ইতিহাস নিয়ে পড়তে থাকি।

আজ মক্কায় দেখা হয় এক 'মিচুয়াল ফ্রেন্ডের' সাথে। আমাদের এক ভাইয়ের বন্ধু।

সীরাত নিয়ে আমার আগ্রহ শুনে তিনি নিজের পরিচয় দিলেন— "আমি বনু সুলাইম গোত্রের।"

অতঃপর একে একে তিনি তার গোত্রের সব বিখ্যাত সাহাবীর নাম বলতে থাকলেন— আব্বাস ইবনে মিরদাস, সুহাইম ইবনে সিনান রাদিয়াল্লাহু আনহুমা এবং বিখ্যাত নারী কবি আল-খানসা রাদিয়াল্লাহু আনহা।

এই গোত্রের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্পর্ক, অবদান এসব বলতে লাগলেন।

সুযোগ পেয়ে আমিও জিজ্ঞেস করলাম— বীরে মাউনার জন্যও আপনার গোত্র দায়ী না?

অতঃপর তিনি বীরে মাউনার যে ইতিহাস বললেন, তিনি এমনভাবে বলছেন যেন এটা তার দেখা শৈশবের কোনো ঘটনা। মামার সাথে ভাগ্নের বিশ্বাসঘাতকতা এসব তিনি এমন এক এঙ্গেলে আলোচনা করলেন, আমি সূত্র খুঁজতে লাগলাম।

প্রাচীন আরব, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগের আরব থেকে শুরু করে বর্তমানেও আরবে কীভাবে বংশবিদ্যার চর্চা হয় তিনি উদাহরণ দিতে লাগলেন।

আব্দুর রহমান আস-সুলামী নামের এই আরব বন্ধুর সাথে রাত ২ টায় যাই মরুভূমিতে হাঁটতে। হাই-ওয়ের পাশে গাড়ি পার্ক করে মরুভূমির ভেতরে যেতে যেতে শুনছিলাম তাদের বেদুইন জীবনের গল্প।

তার বাবার জন্ম সৌদিতে হলেও আব্দুর রহমানের জন্ম-কর্ম অস্ট্রেলিয়ায়। কিন্তু, সীরাহ সম্পর্কে তার জানাশোনা, আরব গোত্র ব্যবস্থা, বেদুইন কালচার সম্পর্কে তার জ্ঞান আমাকে মুগ্ধ করেছে।

এবারের মক্কা সফরটা আলহামদুলিল্লাহ বেশ দারুণ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে কাটছে।

সীরাতের একজন স্টুডেন্ট হিসেবে আজকের লার্নিং আমার সীরাত পড়াশোনার অনেকগুলো সূত্র শিখিয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।

22/02/2026

স্কুল বন্ধ বা খোলার ব্যাপারে..

কেন বন্ধ বা খোলা রাখা উচিত - সে ব্যাপারে উভয় পক্ষেই যুক্তি দিয়েছেন অনেক।

উভয় পক্ষেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট উঠে এসে তাদের যুক্তি থেকে। এর মধ্যে অনেকগুলা পয়েন্ট আমার নিজেরই মাথায় আসেনি, আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। :)

১. স্কুল বন্ধ রাখার পক্ষে যুক্তিঃ
এখানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শারীরিক কষ্ট এবং ট্রাফিক জ্যামের বিষয়টিই প্রধান্য পেয়েছে।

অভিভাবকদের (বিশেষ করে মায়েদের) চরম ভোগান্তি: প্রাইমারি লেভেলের বাচ্চারা পুরোপুরি বাবা-মায়ের ওপর নির্ভরশীল। সেহরি খেয়ে ঘুমানোর পর সকালে বাচ্চাদের রেডি করে স্কুলে পাঠাতে মায়েদের ঘুমের মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। রাতের ঘুম দিনে কাভার হয় না, ফলে মায়েরা সারাদিন এক ধরণের স্ট্রেস বা মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন।

ধর্মীয় শিক্ষা ও ইবাদতের সুযোগ: রমজান মাস বরকতের মাস। স্কুল খোলা থাকলে বাচ্চারা ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং ইবাদত বা কুরআন শেখার সুযোগ পায় না। বন্ধ থাকলে তারা ধর্মীয় শিক্ষায় মনোনিবেশ করতে পারে।

শিশুদের রোজা রাখার অভ্যাস: অনেক প্রাইমারি বাচ্চারাই (বিশেষ করে ৩য়-৫ম শ্রেণি) রোজা রাখে। স্কুল খোলা থাকলে রোজা রেখে ক্লাস করা তাদের জন্য খুব কঠিন হয়ে পড়ে। আবার অনেকে স্কুলের অজুহাতে রোজা রাখতে চায় না। ছোটবেলা থেকে অভ্যাস না করলে বড় হয়ে রোজা রাখা কঠিন হতে পারে।

শিক্ষকদের কষ্ট: শিক্ষকরাও রোজা রাখেন। রোজা রেখে সারাদিন বাচ্চাদের সামলানো এবং ক্লাস নেওয়া তাদের জন্য অমানবিক পরিশ্রমের কাজ।

ট্রাফিক জ্যাম ও ভোগান্তি: রমজানে রাস্তায় প্রচণ্ড ট্রাফিক জ্যাম থাকে। বাচ্চারা ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যামে বসে থাকে, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া যাতায়াতে অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও হ্যারেসমেন্ট বা ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

পারিবারিক অসামঞ্জস্যতা: এক ভাইবোনের স্কুল (হাইস্কুল) বন্ধ আর আরেকজনের (প্রাইমারি) খোলা থাকলে ছোট বাচ্চাটির মন খারাপ হয়, সে স্কুলে যেতে চায় না। মানসিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

পড়াশোনার ঘাটতি ও ক্লাসে কম উপস্থিতি: রমজানে ক্লাসে উপস্থিতি এমনিতেই কম থাকে। ফলে শিক্ষকদের একই পড়া বারবার পড়াতে হয়, যা সময়ের অপচয়। এছাড়া প্রাইমারির সিলেবাস এমন বিশাল কিছু না যে এক মাস বন্ধ থাকলে খুব বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

২. স্কুল খোলা রাখার পক্ষে যুক্তি
যারা স্কুল খোলা রাখার পক্ষে, তারা মূলত শিশুদের ডিসিপ্লিন এবং বাস্তবতার নিরিখে যুক্তি দিয়েছেন।

শিশুদের মানসিক অবস্থা ও রুটিন: বাচ্চারা বেশিদিন বাসায় থাকলে একঘেয়েমিতে ভোগে বা অস্বাভাবিক আচরণ করে। স্কুল খোলা থাকলে তারা পড়াশোনার ব্যস্ততায় থাকে, বন্ধুদের সাথে দেখা হয় এবং 'বোরিং' ফিল করে না।

সব বাচ্চা রোজা রাখে না: প্রাইমারি লেভেলের বা প্লে-নার্সারির বাচ্চারা সবাই রোজা রাখে না। তাদের গ্যাপ দিয়ে রোজা রাখানো হয়। তাই তাদের জন্য স্কুল বন্ধ রাখার প্রয়োজন নেই।

কোচিং সেন্টার খোলা থাকা: স্কুল বন্ধ থাকলেও অনেক বাচ্চা কোচিং বা প্রাইভেটে যায়। যদি ট্রাফিক বা কষ্টের কথা চিন্তা করা হয়, তবে কোচিং খোলা থাকলে তো সেই কষ্ট লাঘব হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে স্কুল বন্ধ রাখা অর্থহীন।

অন্যান্য পেশাজীবীদের সাথে তুলনা: অফিস, আদালত, দোকানপাট, পুলিশ - সবাইকে রোজা রেখেই ডিউটি করতে হয়। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে হলে স্কুলও খোলা রাখা যেতে পারে।

একাডেমিক ক্যালেন্ডার: ইংলিশ মিডিয়াম বা অনেক স্কুলে পরীক্ষা বা অ্যাসেসমেন্ট চলমান থাকে, তাই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্কুল খোলা রাখা জরুরি হয়ে পড়ে।

এই আলোচনা থেকে যেটা বুঝা যায়, আসলে একই ডিসিশান সবসময় সবার জন্যই যে ভালো হবে এমনটা না। কারো ক্ষেত্রে তা নেগেটিভও হতে পারে। তবে ডিসিশান সবসময় বৃহৎ গোষ্ঠীকে এডভান্টেজ দেয় এমন চিন্তা করেই নেয়া উচিত। আপাতত, যদ্দুর জানলাম, কোনো স্কুলই বন্ধ হচ্ছে না।
আপনার সবাইকে ধন্যবাদ আপনাদের মতামত ব্যক্ত করার জন্য। :)

© কালেক্টেড

22/02/2026

মায়েরা, এই রমাদানকে সর্বোচ্চ কাজে লাগান। একে তো রোজাদারের দু'আ কবুল হয়। তার উপর সন্তানের জন্য মায়ের দু'আতে রয়েছে আরো পাওয়ার।

বাবু রাত জেগে থাকে। আল্লাহকে বলুন আল্লাহ যেন বাবুর ঘুমের সুন্দর একটা রুটিন করে দেন। বরকতময় ঘুম দেন।

আপনার জন্য দু'আ করুন, ঘুম কম হলেও সেই কম ঘুমেও যেন অসম্ভব বারাকাহ আর প্রশান্তি দেন আল্লাহ।

বাবু খেতে চায় না, আল্লাহকে বলুন। আল্লাহ বাচ্চাটা খেতে চায়না। তুমি তো রজ্জাক। ওর খাওয়ার এই সমস্যাটা তুমি সমাধান করে দাও।

ছোট বাচ্চা, বড় বাচ্চা নিয়ে অগোছালো রুটিন? আল্লাহ সহজতার মালিক। বলেই দেখুন।

যখন গভীর রাত হয়ে যায়। সবাই ঘুমে বিভোর থাকে আর একলা আমি বাবুকে নিয়ে জেগে থাকি। ক্লান্ত শরীর, অশান্ত মন, ঢুলুমুলু চোখ নিয়ে বাবুর কান্না, জ্বালানো সহ্য করতে করতে যখন জেদ ওঠে যায়। হঠাৎ করে দু''আর কথা মনে পড়ে যায়.. বিড়বিড় করে বলি, "আল্লাহ আমিই তোমার এক দুর্বল বান্দা। নিজেকেই নিজে সামলাতে পারিনা। হরমোনের জোয়ার ভাটায় হুটহাট আমি নিজেই কেঁদে ফেলি। এই ছোট্ট অবুঝ ছানাটাকে দেখভাল করতে যেয়ে, রাতের পর রাত জাগতে জাগতে আমি নিজেই ক্লান্ত। তুমি আস সালাম। শান্তি দাও। প্রশান্তিকর ঘুম দাও ইয়া রব্ব... আমাদের দুইজনকেই বরকতময় ঘুমের ব্যবস্থা করে দাও... আমীন।"

বিড়বিড় করতে করতে কখনো সত্যি সত্যিই দুজনে ঘুমিয়ে পড়েছি। কম ঘুমিয়েও ঘুমের মাঝে বারাকাহ টের পেয়েছি! আবার কখনো ঘুমাতে না পারলেও অন্তরভর্তি সুকুন টের পেয়েছি। কখনোবা ধৈর্যহারা অন্তরে ধৈর্য ফিরে এসেছে। আলহামদুলিল্লাহ। দু'আ, এক বিষ্ময়কর সংযোগের নাম!

©ফাতেমা আক্তার মনিরা🌸

21/02/2026

(পোস্টটি বেশি বেশি শেয়ার করে অনেকের সওয়াবে অংশ নেয়ার উসীলা হই।)

রমাদানে রাসূল ﷺ এর জীবনে একটা দারুণ ব্যাপার ঘটতো। এ মাসে প্রতি রাতেই তাঁর দেখা হতো জিবরীল আমীন আলাইহিস সালামের সাথে। তিনি আসতেন, রাসূল ﷺ কে কুরআন শোনাতেন আর রাসূল ﷺ তাঁকে কুরআন শোনাতেন। এই আনন্দের সময়ে আল্লাহর রাসূল ﷺ একটা কাজ বাড়িয়ে দিতেন - সাদাকাহ! তিনি বাতাসের চেয়ে দ্রুতবেগে সাদাকাহ করতেন!

এই সাদাকাহর সুযোগ থাকছে আমাদেরও! আর সেই সাদাকাহ যদি একজন ত্বলিবুল ইলমের পিছনে ব্যয় হয় এটা কিয়ামাত পর্যন্ত সাদাকায়ে জারিয়া হয়ে থাকবে। পাশাপাশি আল্লাহর দ্বীন কায়েমের একটা ওসীলা হয়ে থাকবেন আপনি!

মারকাযুন নাহদায় ফুল দিয়ে যেমন ত্বলিবা পড়াশোনা করে, তেমনি অনেক ত্বলিবা স্কলারশিপে পড়াশোনা করে। তাদের ব্যয় আমরা বহন করি আপনাদেরই সহযোগিতায়। একজন দরিদ্র আবাসিক ত্বলিবুল ইলমের পিছনে প্রতি মাসে ৫০০০/- করে ব্যয় হয়। আপনি আমাদের সাথে এ ব্যয় বহনে শরীক হতে পারেন।

আগামী ০৭ রমাদানের মধ্যে আমরা ৫জন ত্বলিবুল ইলমের এক বছরের খরচ জমা রাখতে চাই। যে কোন এমাউন্ট দিয়ে আপনি পাশে দাঁড়াতে পারেন। সেটা হোক দশ টাকা। কেউ চাইলে এক মাস বা এক বছরের ফি-ও দিতে পারেন। ইন শা আল্লাহ, এ অর্থই কিয়ামাতে সঞ্চিত অর্থ হিসেবে দেখতে পাবেন।

সাদাকাহর অর্থ প্রেরণ করুন:

বিকাশ : 01810078280 (personal)
রকেট : 01810078280-1
নগদ : 01810078280

ব্যাংক একাউন্ট ডিটেলস :
A/C Name: Markazun Nahda
A/C Number: 128 110 003 8907
Routing Number: 090671573
Bank: Dutch-Bangla Bank Limited
Branch: Shimrail

21/02/2026

"ভাষা দিবস" তার উপর আবার "রমজান মাস"

সেই সূত্রে দুটো কথা।

কুরআনের কিছু কিছু দোয়া বা ফ্রেইজ আমরা রেগুলারলিই ব্যবহার করে থাকি

যেমন

সাহস জোগানোর জন্য মুসা (আ:) এর দোয়া

"রাব্বিশ রাহলি সাদ্রী ওয়া ইয়াসসিরলি আমরি"

"হে আমার রব! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন এবং আমার কাজ গুলো সহজ করে দিন"

কিংবা ইব্রাহিম (আ:) এর বিখ্যাত ডায়লগ

"হাসবুন আল্লাহ নিইমাল ওয়াকিল"

"আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার অভিভাবক"

অথবা ধরেন দোয়া ইউনুস

"লা ইলাহা ইল্লা আনতা, সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জ্বালিমীন"

"আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; আপনি পারফেক্ট, নিশ্চয়ই আমি সীমালঙ্ঘনকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত"!

মোটামোটি সব নবীরাই বলা যায় কোন না কোন দোয়া করেছিলেন

কুরআনে স্রষ্টা সেই দোয়াগুলো প্রিজার্ভ করে রেখেছেন।

তবে মজার বিষয় হলো

হজরত মুসার ভাষা ছিল হিব্রু

হজরত ইব্রাহিমের ভাষা ছিল আক্কাডিয়ান

আর হজরত ইউনূসের ভাষা ছিল আরামিক

তার মানে কি দাঁড়াচ্ছে?

তারা যখন দোয়া করেছিলেন, আরবিতে কিন্তু করেননি, করেছিল নিজের ভাষায়

স্রষ্টা সেই দোয়া গুলো আরবিতে অনুবাদ করে প্রেসেন্ট করেছেন মাত্র!

বিষয়টা স্রষ্টা নিজেই কনফার্ম করেছেন

"সব নবীরাই লোকাল সিটিজেন ছিল এবং লোকাল ভাষাতেই কথা বলতেন" [কুরআন ১৪:৪]

আর আমরা আমাদের মূর্খতার দরুন বিষয়টি নিয়ে গোড়ামিতে পরে আছি যে

"দোয়া আরবীতেই পড়তে হবে, যেটা আছে, এক্সাক্টলি সেটাই পড়তে হবে"

তাই যদি হয়, তাহলে তো বলবো এখন আমাদের আরামিক বা হিব্রু ভাষাও শিখা লাগবে।

কেন তুললাম প্রসঙ্গটা?

রমাদান চলে এসেছে

এই মাসটা আসলেই একটা আয়াত ঘুরে ফিরে বার বার শোনা হয়

সূরা বাকারার ১৮৫ নাম্বার আয়াত

আয়াতের কথা গুলো একটু খেয়াল করুন

"রমাদান ঐ মাস, যেই মাসে কুরআন নাজিল হয়েছে

যা মানুষের জন্য একটি গাইডলাইন

যা এমন একটি উপদেশ পূর্ণ স্ট্যান্ডার্ড

যা ঠিক এবং বেঠিকের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরে "

তাই যদি হয়, তাহলে তো বলবো

"বইটা একটু পরে দেখা দরকার"!

"দেখা দরকার এই গাইড বুকে কি বলা আছে" !

উলামারা বলেন:

রমজান তাৎপর্যতা পেয়েছে রোজার জন্য না বরং এই কুরআনের জন্য

শুধু কি তাই?

তাফসীর ইবনে কাসিরে পেলাম

এই রমজানেই নাকি নাজিল হয়েছিল অন্যান রেভেলেশন গুলোও।

এই মাসেই নাজিল হয়েছিল, হজরত ইব্রাহিমের সহিফা, হজরত দাউদের যাবুর, হজরত মুসার তাওরাত এমনকি হজরত ঈসার ইঞ্জিল!

অর্থাৎ মাসটা শুধু রোজা রাখার মাস না, এটা যেন ডিভাইন বই গুলোর প্রকাশনীর মাস।

সো বলাই যায় যে

এটা বই প্রকাশের মাস, এটা ভাষার মাস, এটা জ্ঞানের মাস, এটা বদলে যাওয়ার মাস

অর্থাৎ এটা মূর্খতার মুখোশকে ছুড়ে ফেলে জ্ঞানকে আলিঙ্গন করার মাস

তাই বলি কি, মাসটি যেহেতু চলেই এলো

একটাবার অন্তত বইটাকে আর তাকের উপর ঝুলিয়ে না রেখে

কিংবা তোতা পাখির মত না বুঝে আওড়িয়ে

একটাবার অন্তত সহজ একটা অনুবাদ নিয়ে পড়া শুরু করুন

দেখুনই না একটু , কি আছে বইটিতে

কি বা মধুর বাণী শুনাতে চাইছেন আপনার স্রষ্টা আপনাকে?

16/02/2026

আরবের এক লোক বলেন, "একবার আমি আমার দাদার বাড়িতে গেলাম। গিয়ে দেখি দাদী চাল ও দুধ দিয়ে পায়েস (ফিরনি) রান্না করছেন। আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি এক হাতে নাড়ছেন আর অন্য হাতে তাসবিহ পাঠ করছেন।

সারা রান্নাঘরে মিশকের মতো এক স্বর্গীয় সুঘ্রাণ ছড়িয়ে আছে। সেটি কোনো কৃত্রিম পারফিউম ছিল না, বরং দাদীর পবিত্র নিঃশ্বাস আর জিকিরের বরকতে তৈরি হওয়া এক অদ্ভুত সুবাস।

আমি দাদীকে জিজ্ঞেস করলাম,'দাদী, এই রান্না শেষ হতে আর কতক্ষণ লাগবে?'

তিনি এক চিলতে হাসি দিয়ে বললেন, 'বাবা, আর মাত্র এক হাজার বার "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" অথবা দুই হাজার বার "আলহামদুলিল্লাহ" পড়তে যতটুকু সময় লাগে, ততটুকু সময় লাগবে।'"

কী চমৎকার এক জীবনবোধ! যে খাবার তৈরি হতে হাজার বার আল্লাহর জিকির করা হয়েছে, সেই খাবারের স্বাদ আর প্রভাব কতটা রুহানি ও বরকতময় হবে, তা একবার ভাবুন!

আজ আমাদের জীবন থেকে বরকত উঠে যাওয়ার কারণ হয়তো এটাই, আমরা সময়কে ঘড়ি বা মিনিটের হিসেবে মাপি, কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষরা সময়কে মাপতেন আল্লাহর স্মরণে।

আরেকজন লোকের কথা বলি, যিনি দূর থেকে অফিস করতেন। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো, 'অফিসে পৌঁছাতে আপনার কতক্ষণ লাগে?'

তিনি উত্তর দিলেন, '৫০০ বার দরুদ শরীফ আর ৫০০ বার সুবহানাল্লাহ-আলহামদুলিল্লাহ পড়তে যতটুকু সময় লাগে।'

মা-বোনেরা যখন রান্না করবেন, তখন যদি মুখে জিকির থাকে, তবে সেই খাবার শুধু পেটের ক্ষুধা মেটাবে না, বরং পরিবারের সদস্যদের মনে প্রশান্তি আর তাকওয়া বাড়িয়ে দেবে।

যাতায়াতের পথে, সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় বা গাড়িতে বসে থাকার সময়গুলোকে আমরা জিকিরের মাধ্যমে ইবাদতে পরিণত করতে পারি।

আমাদের দাদী-নানীরা চলে গেছেন সত্য, কিন্তু তাঁদের সেই আমলগুলো তো আমরা ধরে রাখতে পারি।

আসুন আমরা আমাদের সময়কে মিনিট বা সেকেন্ডে নয়, বরং 'সুবহানাল্লাহ' আর 'আলহামদুলিল্লাহ'-র হিসেবে গুণতে শুরু করি।

রান্না থেকে শুরু করে যাতায়াত সবকিছুতে আল্লাহর স্মরণ যোগ করি। দেখবেন, হারানো বরকত আবারও আমাদের ঘরে ফিরে আসবে। ইনশাআল্লাহ ❤️

আরবি আর্টিকেল থেকে অনুদিত

Nur Islam

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address

Dhaka