G ZON
girls tips
08/04/2024
গ্যাসের ওষুধ এর নয়ঃ
পেটের খেয়াল রাখতে ভরসা হতে পারে একটি মাত্র ফল! কী সেটি?
বাঙালির বারো মাসে হাজার পার্বণ। তবে বাঙালি যে শুধু উৎসবপ্রিয়, তা তো নয়। একই সঙ্গে ভোজনরসিকও বটে। আর তাই ঘন ঘন পেটের গোলমালেও ভোগেন অনেকে। গ্যাস-অম্বল, পেট ভার হল নিত্য দিনের সমস্যা। পুষ্টিবিদেরা বলেন, প্রতি দিন এমন কিছু খাবার নিজেদের অজান্তেই খাওয়া হয়ে যায়, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যকে আরও খারাপ করে তোলে। তাই রোজকার খাওয়াদাওয়ায় রাশ টানা জরুরি। সেই সঙ্গে পেটের খেয়াল রাখে, এমন খাবার বেশি করে খেতে পারলে ভাল।
জল কম খাওয়া, বাইরের খাবারের প্রতি অত্যধিক ভালবাসা— এমন কিছু কারণে ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণ হয়। তার ফলেই পেটসংক্রান্ত নানা সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণ ঠেকাতে প্রো-বায়োটিক উপাদান সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন পুষ্টিবিদেরা। তবে সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা জানাচ্ছে, পেটের গোলমাল ঠেকাতে প্রো-বায়োটিক উপাদান কিংবা গ্যাসের ওষুধ খাওয়ার দরকার নেই। আপেল খেলেই নাকি পেট সংক্রান্ত সমস্যা দূরে চলে যাবে।
সুতো দিয়ে ঠোঁটের উপর থ্রেডিং করলে ভীষণ কষ্ট হয়? এ ছাড়া রোম তোলার অন্য উপায় আছে কি?
আপেলে পেকটিন রয়েছে ভরপুর পরিমাণে। পেকটিন অন্ত্রের যত্ন নেয়। পরিপাকক্রিয়া মসৃণ হয়। হজমও হয় দ্রুত। তা ছাড়া ফাইবার সমৃদ্ধ আপেল হজমশক্তি উন্নত করে। প্রতি দিন একটি করে আপেল খেলে হজম সংক্রান্ত সমস্যা তো বটেই, সেই সঙ্গে দূরে থাকে অন্য অসুখ-বিসুখও। পেটের জন্য উপকারী হলেও অনেকেরই ধারণা, আপেল খেলে বরং পেট ফাঁপা, গ্যাস-অম্বল হয়। সত্যিই কি তাই? পুষ্টিবিদ পম্পিতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু তা একেবারেই মানতে রাজি নন।
পম্পিতা বলেন, ‘‘বিষয়টি একেবারেই তা নয়। আপেল খেলে সাধারণত গ্যাস-অম্বল হওয়ার কথা নয়। আপেল এমনিতে সহজে হজম করা যায়। আপেলে রয়েছে ফাইবার। ফলে হজম করতে কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তবে আপেল যদি সেদ্ধ করে খাওয়া যায়, তা হলে আরও ভাল। সেদ্ধ আপেল পেটের খেয়াল রাখে। গ্যাস-অম্বল হওয়ার সুযোগ দেয় না।’’ কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে কি আপেল খাওয়া যায়? পুষ্টিবিদ বলেন, ‘‘যায়। কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে আপেল খাওয়ার কোনও বিরোধ নেই। আপেল খেলে এই সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে, এমন কোনও আশঙ্কা নেই।’’
08/04/2024
ঈদের প্রস্তুতি....
পার্লারে গিয়ে এই কাজগুলো করিয়ে ফেলুন এখনই।
দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। সৌন্দর্যচর্চা কেন্দ্রগুলোতেও বাড়তে শুরু করেছে ভিড়। পোশাক, জুতা ও অন্যান্য কেনাকাটা শেষ করে এখন অনেকেই ছুটছেন বিউটি পার্লারগুলোতে। নিজের যত্নে কিছুটা সময় বের করা কিন্তু ভীষণ জরুরি। কারণ উৎসবের দিন নিজেকে ঠিকঠাক দেখাতে ত্বক ও চুলের জন্য বাড়তি যত্ন চাই। জেনে নিন ঈদের প্রস্তুতি হিসেবে পার্লারে গিয়ে কোন কোন সেবা নেবেন এখন।
প্রোটিন ট্রিটমেন্ট, ডিপ কন্ডিশনিং, হেয়ার স্পার মতো হেয়ার ট্রিটমেন্ট নিতে চাইলে এখনই উপযুক্ত সময়। হাতে দুইদিন সময় রেখে এসব ট্রিটমেন্ট করিয়ে নিন। ঈদের দিন চুলের জৌলুস থাকবে ঠিকঠাক।
নতুন কোনও হেয়ার কাট নিতে চাইলেও ঈদের কয়েকদিন আগে নিয়ে নিন। এতে ঈদের দিন ঠিক মতো সেট হবে চুল। হেয়ার স্টাইলটা কেমন করবেন সেটাও এই কয়দিনে ভেবে নিতে পারবেন।
হাতে মেহেদি পরা হবে চাঁদ রাতে। এখনই তাই ম্যানিকিউর করিয়ে নিন।
ভ্রু প্লাক করার জন্য চাঁদ রাতে পার্লারে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা না করে এখনই করিয়ে ফেলুন।
ফেসিয়াল করিয়ে নিতে পারেন। এ ধরনের ট্রিটমেন্টের প্রভাব ত্বকে আসতে দিন দুয়েক সময় লাগে। ফলে এখন ফেসিয়াল করিয়ে নিলে ঈদে পাবেন উজ্জ্বল ও স্নিগ্ধ ত্বক।
প্রশান্তির জন্য স্পা করিয়ে নিতে পারেন। তবে ঈদের একদম আগে না গিয়ে দুই তিন দিন আগে যান। এতে ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে সময় নিয়ে থেরাপি নিতে পারবেন।
05/04/2024
ফেসওয়াশ কখন ব্যবহার করবেন?
আমরা সবাই জানি ত্বক ভালো রাখার জন্য ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং গুরুত্বপূর্ণ। ত্বক সুস্থ রাখার প্রথম ধাপই হচ্ছে পরিষ্কার রাখা। ত্বক যেমনই হোক, তা পরিষ্কার রাখা ভীষণ জরুরি। তবে তাই বলে অতিরিক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে যাবেন না। ফেসওয়াশে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ত্বকের পিএইচের ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে।
অনেকে মনে করেন ঘরে থাকলে ত্বক পরিষ্কারের বিশেষ প্রয়োজন নেই। কারণ বাইরের মতো ধুলা তো আর ঘরে নেই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে একবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নেওয়া ভালো। কারণ ঘুমোনোর সময় ত্বকের গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত তেল-সেবাম জমে থাকে মুখে।
সকালে উঠে শুধু পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেললে এই তেল পুরোপুরি পরিষ্কার হয় না। তাছাড়া বাইরে বের হওয়ার আগে অনেকেই মুখে মেকআপ করেন। মেকআপ ত্বকে ভালো করে বসার জন্যও ত্বক পরিষ্কার হওয়া জরুরি।আবার দিনশেষে বাড়ি ফিরে ফেসওয়াশ তো ব্যবহার করতেই হবে। এতে ত্বকে জমে থাকা ধুলা ও মেকআপ পরিষ্কার হবে।
কতবার ত্বকে ফেসওয়াশ ব্যবহার করবেন সেটা নির্ভর করছে ত্বকের ধরনের উপর। কারোর ত্বক তৈলাক্ত হলে দিনে তিন থেকে চারবার ফেসওয়াশ দিয়ে ত্বক ধুতে পারেন নিশ্চিন্তে। কিন্তু যাদের ত্বক শুষ্ক, তারা দুইবারের বেশি ত্বকে ফেসওয়াশ ব্যবহার না করলেই ভালো করবেন। সংবেদনশীল ত্বক যাদের, তারাও ঘন ঘন ফেসওয়াশ ব্যবহার করবেন না।
23/09/2020
গর্ভবতী মায়ের ৫টি টিকা ভ্যাক্সিন কখন কোনটা নিবেন জানা আছে কি ?
গর্ভবতী মায়েদের টিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তা আমরা সবাই জানি। টিকা গর্ভবতী মায়েদের ক্ষতিকর সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। শুধু মা নিজেই নন, গর্ভাবস্থায় টিকা নিলে আপনি এবং আপনার সন্তান উভয়েই ক্ষতিকর সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাবেন। এছাড়াও আপনার সন্তানটি জন্মের কয়েকমাস পরেও তার টিকা শুরু করার আগ পর্যন্ত নিরাপদ থাকে। আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আপনার গর্ভের সন্তানকে গুরুতর অসুখ থেকে রক্ষা করবে। চলুন তবে জেনে নেই গর্ভবতী মায়ের টিকা সম্পর্কে বিস্তারিত!
মায়ের অসুস্থতা শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। যেমন গর্ভবতী মায়েদের রুবেলার ইনফেকশন হলে সন্তান জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারে, এমনকি জন্মের পূর্বেও সন্তানের মৃত্যু হতে পারে। রুবেলা আক্রান্ত মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুর এই ত্রুটি স্থায়ী। তাই পরবর্তী সময়ে শিশুটির দুঃসহ যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। গর্ভবতী হওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার রুবেলা প্রতিরোধের ক্ষমতা আছে কি না।
আমাদের দেশে অধিকাংশ নারীই নয় মাস বয়সেই হামের সঙ্গে রুবেলার টিকার প্রথম ডোজ নিয়ে থাকেন, আর দ্বিতীয় ডোজটি নিয়ে থাকেন ১৫ বছর বয়সে। যদি আপনার রুবেলা টিকা না নেওয়া থাকে, তাহলে দ্রুত টিকাটি নিয়ে নিন। আবার কিছু রোগ আছে, যা মায়ের গর্ভ থেকেই শিশুর শরীরে প্রবেশ করে। এইডস, হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-এ এমন কিছু রোগ।
সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে টিকার ভূমিকা অনস্বীকার্য। অনেক সংক্রামক রোগই টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। আমাদের দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের টিকাদানের ব্যবস্থা আছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আমাদের দেশে সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারী যাদের বয়স ১৫ থকে ৪৯ বছর, তাদের জন্য ধনুষ্টংকার ও রুবেলার বিরুদ্ধে টিটি ও এমআর টিকা দেওয়া হয়।
গর্ভবতী মায়ের ৫ ধরনের টিকা
১) ফ্লু এর টিকা ,গর্ভবতী মায়ের ফ্লু শট দেয়া
গর্ভাবস্থার মধ্যবর্তী সময়ে ফ্লুতে আক্রান্ত হলে তীব্র উপসর্গ বা নিউমোনিয়ার মতো জটিল অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। মধ্যম মানের ফ্লুতে আক্রান্ত হলেও জ্বর, মাথা ব্যথা, পেশীর ব্যথা, গলা ব্যথা ও কাশির মতো যন্ত্রণাদায়ক উপসর্গগুলো দেখা দেয়। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (CCD) ফ্লু এর ঋতুতে অর্থাৎ নভেম্বর থেকে মার্চের সময়টাতে যে সকল নারীরা গর্ভবতী হবেন তাদেরকে ফ্লু শট অর্থাৎ ইনজেকশন নেয়ার পরামর্শ দেয়। ফ্লু এর টিকা মৃত ভাইরাস দিয়ে তৈরি বলে মা ও গর্ভজাত সন্তান উভয়ের জন্যই নিরাপদ। কিন্তু ফ্লুমিস্ট এক ধরনের ন্যাজাল স্প্রে ভ্যাক্সিন যা জীবন্ত ভাইরাস দিয়ে তৈরি হয় বলে এটি অবশ্যই এড়িয়ে যেতে হবে প্রেগনেন্ট নারীদের।
২) টিটেনাস/ডিপথেরিয়া/পারটুসিস টিকা (Tdap) গর্ভবতী মায়ের টি.ড্যাপ ভ্যাক্সিন দেয়া
টিটেনাস বা ডিপথেরিয়া বা পারটুসিস টিকা যে কোন সময়ই নেয়া যায়। তবে গর্ভবস্থায় ২৭-৩৬ মাসের মধ্যে নেয়াটাই উপযুক্ত সময়। এই টিকা টক্সয়েড ধরনের বলে গর্ভাবস্থায় নেয়ার জন্য নিরাপদ। টিটেনাসকে লক’জ ও বলা হয়। এর ফলে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হয় এবং পেশীতে বেদনাদায়ক খিঁচুনি হয়। টিটেনাস সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া মাটিতে এবং পশুর বর্জ্যে পাওয়া যায়। মানুষের শরীরের ত্বকের কোন স্থানে কেটে গেলে এটি রক্তস্রোতে প্রবেশ করতে পারে। আপনার শরীরের কোথাও গভীর ও ময়লা ক্ষতের সৃষ্টি হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। গর্ভাবস্থায় টিটেনাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ডিপথেরিয়া শ্বসনতন্ত্রের সংক্রমণজনিত রোগ। এর ফলে শ্বাসকষ্ট হওয়া, প্যারালাইসিস হওয়া, কোমায় চলে যাওয়া এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আর পারটুসিস ব্যাকটেরিয়া ঘটিত চূড়ান্ত রকমের সংক্রামক রোগ। এর ফলে ক্রমাগত ও গভীর কাশি হয় এবং উচ্চ শব্দ হয় বলে একে ‘হুপিংকাশি’ ও বলে।
৩) হেপাটাইটিস বি টিকা
CCD-এর মতে সকল গর্ভবতী নারীরই হেপাটাইটিস বি শনাক্তকরণের পরীক্ষা করানো উচিত। কারণ অনেক সময় এই রোগটি তার উপস্থিতির জানান দেয় না। গর্ভাবস্থায় হেপাটাইটিস বি-এর টিকা নেয়া নিরাপদ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস জনিত সংক্রামক রোগ। এর ফলে যকৃতের প্রদাহ, বমি বমি ভাব, ক্লান্তি এবং জন্ডিস দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এর ফলে দীর্ঘমেয়াদী লিভার ডিজিজ, লিভার ক্যান্সার এবং মৃত্যুও হতে পারে। গর্ভবতী নারী যদি হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত হোন তাহলে ডেলিভারির সময় এই ইনফেকশন নবজাতকের মধ্যে ছড়াতে পারে। সঠিকভাবে চিকিৎসা করা না হলে শিশুর পূর্ণ বয়স্ক অবস্থায় মারাত্মক যকৃতের রোগ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।
৪) হেপাটাইটিস এ টিকা,গর্ভবতী মায়ের হেপাটাইটিস এ টিকা দেয়া
হেপাটাইটিস এ এর টিকা গর্ভবতী মাকে যকৃতের এমন রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়, যা সাধারণত ছড়ায় সংক্রমিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে। জ্বর, ক্লান্তি ও বমি বমি ভাবের মত লক্ষণগুলো দেখা দেয় এই রোগে আক্রান্ত হলে। এটি হেপাটাইটিস বি এর মতো মারাত্মক কোন রোগ নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই অসুস্থতা গর্ভজাত সন্তানের উপর কোন প্রভাব ফেলে না। বিরল ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস এ প্রিম্যাচ্যুর লেবারের সৃষ্টি করতে পারে এবং নবজাতকের ইনফেকশনও হতে পারে।
৫) নিউমোকক্কাল ভ্যাক্সিন
আপনার যদি দীর্ঘমেয়াদী কোন রোগ যেমন- ডায়াবেটিস অথবা কিডনি রোগ থাকে তাহলে আপনার চিকিৎসক আপনাকে নিউমোকক্কাল ভ্যাক্সিন নেয়ার পরামর্শ দেবেন। যা কয়েক ধরনের নিউমোনিয়া থেকে সুরক্ষা দেবে। গর্ভজাত সন্তানের ক্ষতির বিষয়টি এখনও অজানা, তবে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে ঝুঁকি কম।
গর্ভবতী মায়েদের টিটি টিকা দেয়ার নিয়ম
টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) থেকে রক্ষ পাওয়ার জন্য টিটি টিকা নিতে হয়। হবু মায়েদের টিটি টিকা নিতে হবে যেন বাচ্চার ধনুষ্টংকার না হয়। যদি আগে কোনো টিকা নেওয়া না থাকে, তবে সবগুলোই দিতে হবে। শিশুদের যে পেন্টা ভ্যালেন্ট (pentavalent vaccines) টিকা দেয়া হয়, তাতে ধনুষ্টংকার প্রতিরোধী টিকা থাকে।
কিন্তু এই টিকা নবজাতককে সুরক্ষা দিতে পারে না বিধায় সম্প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচির আওতায় আমাদের দেশে সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারী—যাদের বয়স ১৫ থকে ৪৯ বছর, তাদের জন্য ধনুষ্টংকার ও রুবেলার বিরুদ্ধে টিটি ও এমআর টিকা দেয়া হয়। তবে টিটেনাসের ৫টি টিকার ডোজ সম্পন্ন থাকলে আর গর্ভাবস্থায় এই টিকা নেয়ার প্রয়োজন নেই। আর কেউ যদি কোনো টিকা না নিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ৫ মাসের পর ১ মাসের ব্যবধানে পর পর দুটি টিটি টিকা দিয়ে নিতে হবে। আর যদি পূর্বে দুই ডোজ টিকা নেয়া থাকে তাহলে প্রতি গর্ভাবস্থায় মাত্র একটি বুষ্টার ডোজ (booster dose) নিতে হবে।
মাকে দেয়া এই টিকা মা ও বাচ্চা উভয়েরই ধনুষ্টংকার রোগের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলে। প্রসবকালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতায় অসতর্কতা এবং অপরিষ্কার ছুরি, ব্লেড বা কাঁচি ব্যবহার করলে (বাচ্চার নাভী কাটার সময়) অথবা নাভীর গোড়ায় নোংরা কিছু লাগিয়ে দিলে নবজাতকের ধনুষ্টংকার রোগ হয়।
গর্ভবতী মায়ের টিকা দিতে সূর্যের হাসি ক্লিনিক
টিটি টিকা সূর্যের হাসি চিহ্নিত ক্লিনিক, মেরিস্টোপস ক্লিনিক, বড় হাসপাতাল, সরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দেয়া হয়।
শেষ করার আগে বলি যে, আপনি নিজে গর্ভবতী হলে বা আপনার পরিবার ও বন্ধুদের কেউ গর্ভবতী হলে এই টিকাগুলো সময়মতো যাতে নেয়া হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। এর ফলে অনাগত শিশু ও মা উভয়েই নিরাপদ থাকবেন। যেকোন ভ্যাক্সিন নেবার আগে অবশ্যই আপনার গাইনি ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন এবং ভবিষ্যতে যাতে ট্র্যাক করা যায় এজন্য কবে কী ভ্যাক্সিন দিচ্ছেন তার চার্ট সংরক্ষণ করুন। আশা করি এই লেখাটি সবার উপকারে আসবে।
23/09/2020
জেনে নিন সিজারের পর বেল্ট ব্যবহারে মেদ কমাতে কতটা কার্যকরী
সন্তান জন্ম দেয়া একজন নারীর জীবনের অনেক কঠিন সময়। গর্ভবতী মায়ের সন্তান গর্ভে থাকাকালীন যেমন তার যত্ন নিতে হয় তেমনি সন্তান জন্মদানের পরে তার অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। স্বাভাবিক প্রসবের চেয়ে সিজারিয়ান করলে যত্ন নেয়া অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং।
গর্ভধারণের পরবর্তী ওজন এত সহজে কমে না। বিশেষ করে সিজারিয়ান হলে পেটের মেদ কমিয়ে পূর্বের অবস্থায় যেতে অনেক সময় লাগে। যেকোন ধরনের পেটের মেদ কমানো খুব সহজ নয় এবং সিজারিয়ান করলে অবস্থাটা আরো বেশি কঠিন হয়ে যায়। কারণ, তখন স্ট্যান্ডার্ড অ্যাবডোমিনাল এক্সারসাইজ করা যায় না। তথাপি বিকল্প উপায়ে সিজারিয়ান পরবর্তী পেটের মেদ কমানো যায়। আসুন জেনে নেই সিজারের পর বেল্ট ব্যবহার করে কতটুকু উপকার পাওয়া যায় ও এর সুবিধাসহ আরও কিছু উপায় সম্পর্কে!
সিজারের পর বেল্ট ব্যবহার মেদ কমানোর ভূমিকা
বেল্ট ব্যবহার কখন উপযুক্ত?
সিজারের পরে কোমরে বেল্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। বেল্ট ব্যবহারে কোনো সমস্যা নয়। সার্জারির পর হাঁচি-কাশি ও টয়লেট ব্যবহার করার সময় বেল্ট ব্যবহার ভালো। এতে হাঁটতে সুবিধা হবে। নরমাল ডেলিভারির পর একদিন পর থেকেই বেল্ট পরা যায়। তবে সিজারের পর সেলাই শুকানোর পর থেকেই বেল্ট পরা যায়। দিনে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা করে অন্তত ৪০দিন পর্যন্ত বেল্ট ব্যবহার করা উত্তম।
বেল্ট ব্যবহারের সুবিধা
১) এটি পেটের চারপাশে আরামদায়ক টাইট একটি বন্ধনি হিসেবে কাজ করে। হালকা প্রেশারের কারণে পেটের থলথলে ভাব কমে যায়।
২) সিজারের সময় পেটের কয়েক স্তরের মাংস পেশি কেটে যায়। বেল্ট পরার ফলে প্রেশারের কারণে সেই পেশি জোরা লাগার পদ্ধতি ত্বরান্বিত হয়।
৩) বেল্ট ব্যবহার করলে নবজাতককে কোলে নিতে, দুধ খাওয়াতে, নাড়াচাড়া করতে শুবিধা হয় এবং ব্যথা কম হয়।
৪) সিজারের পর নিয়মিত বেল্ট ব্যবহার করলে প্রথম ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যেই জরায়ু পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে।
৫) কোমর ব্যথায় উপশম হয়।
কখন বেল্ট পরা যাবে না?
১) সিজারের পর ইনফেকশন থাকলে বেল্ট ব্যবহার করা যাবে না।
যখন বেল্ট পরা যাবে ও যাবে না - shajgoj.com
২) অতিরিক্ত টাইট করে বেল্ট ব্যবহার করলে হার্নিয়া হতে পারে বা ইন্টার্নাল ব্লিডিং হতে পারে। সেক্ষেত্রে বেল্ট ব্যবহারে সাবধান হতে হবে।
৩) গরমের সময় বেশিক্ষন বেল্ট ব্যবহার করলে বা ঘাম হলে ইনফেকশন হতে পারে বা র্যাশ অথবা চুলকানি হতে পারে।
৪) প্রসবকালীন উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে বেল্ট ব্যবহারে সাবধান হতে হবে। অনেকের হার্টে চাপ পড়ে বুক ধড়ফড় করতে পারে। সেক্ষেত্রে বেল্ট ব্যাবহার করা যাবে না।
সিজারের পর বেল্ট ব্যবহারে যেসকল বিষয় খেয়াল রাখবেন
১) সঠিক মাপের বেল্ট ব্যবহার করতে হবে।
২) বেল্ট এমনভাবে বাধঁবেন যেন তা খুব বেশি শক্ত বা খুব বেশি ঢিলেঢালা না হয়। সহনীয় হয় এমনভাবে বাধঁবেন।
৩) খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট পর বেল্ট বাঁধবেন। ঘুম এবং গোসলের সময় বেল্ট পরবেন না।
৪) ইলাস্টিক ফাইবারের বেল্ট ব্যবহার করবেন। বেল্ট ভিজে গেলে ভেজা বেল্ট পরবেন না। এতে র্যাশ হতে পারে।
সিজারের পর মেদ কমাতে আরও যেসব উপায় আছে
১) ব্রেস্ট-ফিডিং
সিজারের পর মেদ কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো। বাচ্চাকে ৬ মাস শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। এর সাহায্যে পেটের অনেক অতিরিক্ত মেদ কমে যাবে।
২) প্রচুর পানি পান করুন
পানি শরীরের ফ্লুইড ব্যালেন্স রক্ষা করে। পানি অন্ত্র থেকে অতিরিক্ত মেদ বের করে দিতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন, এতে ক্ষুধা কম লাগবে ও পেট ভরা থাকবে।
৩) হালকা ব্যায়াম
স্বাভাবিক প্রসবের অন্তত দেড় মাস পর এবং সিজারিয়ান প্রসবের ২ মাস পর থেকে ব্যায়াম শুরু করতে হবে। তবে হালকা ব্যায়াম দিয়েই শুরু করা উচিত। পেটের ব্যায়ামগুলো আট-নয় মাস পর শুরু করা ভালো। ইয়োগা পেটের মেদ কমানোর ভালো উপায়। যেমন-প্রাণায়াম। এতে পেটের মাংসপেশি দৃঢ় হয়। ব্যায়াম করলেই দ্রুত ওজন কমে যাবে না। অন্তত ২ থেকে ৩ মাস নিয়মিত ব্যায়াম করলে ওজন আস্তে আস্তে কমতে শুরু করবে।
৪) খাবারে সতর্কতা
ভাত, মিষ্টিসহ শর্করা জাতীয় অন্যান্য খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া যাবে না। বিশেষ করে যারা গর্ভধারণের আগে থেকেই একটু মুটিয়ে গিয়েছেন, তাদের এ ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। এছারাও প্রোটিন, ফল ও সবজি খেতে হবে। তবে ঘি, মাখন ও মিষ্টি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৫) পর্যাপ্ত ঘুমান
পর্যাপ্ত ঘুম ওজন কমাতে সহায়তা করে। কম ঘুমালে শরীরে ক্লান্তি থেকে যায়। এই ক্লান্তি কাটাতে অনেকে বেশি খেয়ে ফেলেন। যার কারণে ওজন বেড়ে যায়। সন্তান জন্মের পর মায়েরা ঘুমানোর সময় পান না। তারপরও মাকে খানিকটা সময় বের করে নিতে হবে ঘুমানোর জন্য।
সিজারিয়ান অপারেশনের পরে কিছু দিন ভারী ব্যায়াম করতে পারবেন না বলে আপনি আপনার পূর্বের আকার ফিরে পাবেন না এমন ভেবে হতাশ হবেন না। ধৈর্য ধারণ করুন ও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিন এবং চেষ্টা করুন।
23/09/2020
গর্ভাবস্থায় নিরাপদ ত্বকের যত্ন নিতে জেনে নিন ১০টি টিপস
প্রেগনেন্সি গ্লো এর কথা আমরা সবসময় শুনে থাকি। কিন্তু বাস্তবে বেশিরভাগ হবু মা-ই হরমোনাল নানা রকম পরিবর্তনের কারণে ত্বকের নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হন। যার মধ্যে অন্যতম হলো স্কিন ড্রাই হয়ে যাওয়া, হরমোনাল ব্রেকআউট বা ব্রণ, অনেকের মেলাজমা অর্থাৎ মেছতা হয়ে থাকে যেটার কারণে দেখা যায় মুখে কালো কালো ছোপ পড়ে। এসব কারণে একটা স্কিন কেয়ার রুটিনের মধ্যে এ সময়টা থাকা জরুরি। কিন্তু সমস্যা হলো, প্রেগন্যান্সির এই সময়টা খুবই সেনসিটিভ।
আপনার ভেতরে একটু একটু করে গড়ে উঠছে একটা মানুষ, আপনি যা খাচ্ছেন, যা ব্যবহার করছেন সবকিছুই তার উপর প্রভাব ফেলছে। তাই অন্য সময়ের মতো যেকোনো প্রোডাক্টই এই সময়ে ব্যবহার করা যাবে না। আপনার স্কিন কেয়ারের প্রোডাক্টগুলোতে যেসব উপাদান ব্যবহার করা হয় সেগুলো প্রেগন্যান্সি সেইফ কিনা এই বিষয়ে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
যদিও আমাদের স্কিনের ব্যারিয়ার লেয়ার আমাদের চামড়া রয়েছে, তবুও অনেক উপাদান রয়েছে যা এই লেয়ারকে ভেদ করে আমাদের রক্তে প্রবেশ করতে পারে এবং সেগুলো প্লাসেন্টা হয়ে আপনার গর্ভের বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করলে তৈরি করতে পারে বার্থ ডিফেক্ট সহ নানারকমের প্রতিবন্ধকতা। তাই চলুন আজ জেনে নেয়া যাক গর্ভাবস্থায় নিরাপদ ত্বকের যত্ন নিতে কী কী বিষয় মাথায় রাখতে হবে?
গর্ভাবস্থায় নিরাপদ ত্বকের যত্ন নিতে ১০টি টিপস
প্রতিদিনই বাজারে আসছে হরেক রকম নতুন প্রোডাক্ট তবে এগুলো একটু ঘেটে দেখলে বোঝা যায় একই ধরনের উপাদানের বিভিন্ন মাত্রার মিশ্রণ দিয়ে মূলত ভিন্ন ভিন্ন নামে এগুলো বাজারজাত হয়। বিশেষ কিছু উপাদানের ব্যাপারে সচেতন থাকলেই তাই যেকোন ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। যেই ব্যাপারগুলো মাথায় রাখতে হবে তা নিচে আলোচনা করা হলো-
১) ফিজিক্যাল সানস্ক্রিন
কেমিক্যাল সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যাবে না, ব্যবহার করুন ফিজিক্যাল সানস্ক্রিন। এই দুইয়ের মধ্যে তফাৎ এই যে কেমিক্যাল সানস্ক্রিন কাজ করে আমাদের স্কিনের ভেতরে প্রবেশ করে, যেখানে ফিজিক্যাল সানস্ক্রিন স্কিনের উপরে একটি লেয়ার তৈরি করে বসে থাকে। মূলত যেসব সানস্ক্রিনের মূল উপাদান জিংক অক্সাইড ও টাইটেনিয়াম অক্সাইড সেগুলো ব্যবহার করা সেইফ।
২) রেটিনয়েডস
রেটিনয়েডস ব্যবহার করা একদম নিষেধ। রেটিন এ/একুটেন, রেটিনয়েডস, ভিটামিন এ – এই সবগুলোই প্রেগনেন্সিতে অনিরাপদ ধরা হয়। গবেষণায় এগুলোকে নানারকমের বার্থ ডিফেক্টের কারণ হিসাবে পাওয়া গিয়েছে। রেটিনয়েডস ভিটামিন এ থেকে পাওয়া যায় বলে ভিটামিন এ স্কিনে ব্যবহার ও এভয়েড করতে বলা হয়ে থাকে। তবে ভিটামিন এ থেকে পাওয়া বেটা-ক্যারোটিনকে সেইফ ধরা হয়।
৩) হাইড্রো-অক্সি এসিডসমূহ
ইদানিং কালে হাইড্রো-অক্সি এসিডের ব্যবহার স্কিন কেয়ারে ভীষণভাবে দেখা যায়। এরা এএইচএ, বিএইচএ, পিএইচএ (AHA, BHA, PHA) নামে স্কিন কেয়ারে কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এদের সবগুলোই মূলত প্রেগনেন্সিতে এড়িয়ে চলতে বলা হয়। এর মধ্যে ব্যতিক্রম হলো ল্যাকটিক এসিড। যেহেতু এটি আমাদের শরীরে এমনিতেই প্রচুর পরিমাণে তৈরি হয়, তাই এটি ব্যবহার করা যায়।
অনেকে বলে থাকেন গ্লাইকোলিক এসিডও ব্যবহার করা সেইফ। কিন্তু এটিকে সেইফ বলার জন্য যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ না থাকায় এটিও এভয়েড করে যাওয়াই ভালো। অনেক স্কিন কেয়ারে ইনগ্রিডিয়েন্টস লিস্টের নিচের দিকে সাইট্রিক এসিড থাকে, যার মানে হলো খুবই সামান্য পরিমাণে তা আছে। আর এই সামান্য পরিমাণ সাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয় মূলত পিএইচ ব্যালেন্স (pH balance) ঠিক রাখার জন্য। তাই এগুলো ব্যবহারে কোন সমস্যা নেই।
৪) স্যালিসাইলিক এসিড
এটি অ্যাকনে ট্রিটমেন্টে ব্যবহার করা হয়। তবে এটি প্রেগনেন্সিতে ব্যবহার করা যাবে না। যেকোনো স্যালিসাইলেটস ও ব্যবহার করা যাবে না যার মধ্যে ট্রপিক্যাল উইলো বার্ক ও রয়েছে।
৫) ত্বক উজ্জ্বল করা উপাদান
হাইড্রোকুইনন, আলফা আরবুটিন, লাইকোরাইস রুট, কোজিক এসিড এগুলোও প্রেগনেন্সিতে ব্যবহার না করতে বলে থাকেন বিশেষজ্ঞগণ।
৬) স্নেইল সিক্রেশন
বেনজোয়েল পার-অক্সাইড এবং স্নেইল সিক্রেশন প্রেগনেন্সিতে ব্যবহার না করাই উত্তম।
৭) প্যারাবেন
এমনিতেই প্যারাবেন আমরা এভয়েড করতে বলে থাকি। কিন্তু এটি প্রেগনেন্সিতে আলাদা করে কোন রিস্ক বহন করে না। তবে যেকোনো সময়ই প্যারাবিন ফ্রি প্রোডাক্ট ব্যবহার করাই উত্তম।
৮) হাইলুরোনিক এসিড/সোডিয়াম হ্যালুরোনেট
প্রেগনেন্সিতে যেই এসিডটি ব্যবহার করা যাবে এবং যেটি স্কিন হাইড্রেশনে খুব ভালো কাজ করে তাহলো হাইলুরোনিক এসিড/সোডিয়াম হ্যালুরোনেট। হাইলুরোনিক এসিডের মলিক্যুল অনেক বড় আকারের বলে এটি স্কিনকে ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে না। তাই এটি ব্যবহার করা সেইফ। তবে কোন কোম্পানি যদি ক্লেইম করে যে তাদের প্রোডাক্টের হাইলুরোনিক এসিড স্কিন পেনেট্রেট করে ভেতরে গিয়ে কাজ করে তাহলে সেই প্রোডাক্টটি এড়িয়ে চলাই উত্তম। কারণ সেক্ষেত্রে এই এসিডটি আমাদের রক্ত বাহিকায় চলে গিয়ে বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
৯) অ্যাসেনশিয়াল অয়েল
অ্যাসেনশিয়াল অয়েলগুলোর মধ্যে উইলো বার্ক এবং নিম বাদে বাকিগুলো অল্প মাত্রায় ব্যবহার করা সেইফ। তবুও এসেনশিয়াল ওয়েল বা এক্সট্রাক্টগুলো অনেকেই এই সময়ে এভয়েড করতে বলে থাকেন।
১০) যা করা যাবে না
সানলেস ট্যানিং (DHA), লেজার থেরাপি, বোটক্স, ফিলার, স্টেম সেলস/ গ্রোথ ফ্যাক্টরস এগুলোও প্রেগনেন্সিতে করানো যাবে না।
প্রেগনেন্সিতে স্কিন বেশিরভাগ সময়ই অনেক সেনসিটিভ হয়ে যাওয়ার কারণে অনেক প্রোডাক্ট প্রেগনেন্সি সেইফ হলেও তা ত্বকে ইরিটেশন বা লালচে ভাব তৈরি করতে পারে। এমনটা হলে সেই প্রোডাক্ট ব্যবহার না করাই উত্তম। যেকোনো প্রোডাক্ট কেনা বা ব্যবহারের আগে তার লেবেলে লেখা উপাদানের লিস্টটি নিজে চেক করে মিলিয়ে নিবেন সেটি ব্যবহার করা আপনার গর্ভের বাচ্চার জন্য নিরাপদ হবে কিনা।
ব্রেস্টফিডিং পিরিয়ডে এসব প্রোডাক্ট রেস্ট্রিকশন বেশিরভাগই না থাকলেও এই সময়েও অনেক উপাদান ব্যবহার করা নিষেধ থাকে। এই বিষয়ে ভবিষ্যতে অন্য পোস্টে আলাপ করবো। আপনি বিশেষ কোন প্রোডাক্টের সেইফটি সম্পর্কে জানতে চাইলে এই পোস্টে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমরা যথা সম্ভব সঠিক তথ্য দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো। সুন্দর এবং নিরাপদ কাটুক হবু মায়েদের দিনগুলো।
20/09/2020
খুব দ্রুত রোদে পোড়া ত্বক উজ্জ্বল করে তুলতে চান?
আমি সানস্ক্রিন ইউজ করার খুব বড় ফ্যান। সাজগোজও সবসময় রোদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে সানস্ক্রিন সাজেস্ট করে থাকে। এবং প্রায় অনেক সময় রিডাররা পেজে সাজেশন চান অথবা ইনবক্স করেন রোদে পোড়া ত্বক উজ্জ্বল এবং নিচের সমস্যাগুলো নিয়ে-
“আমার হাত পা রোদে পুড়ে একদম কালো হয়ে গেছে। কিন্তু সামনে এই প্রোগ্রাম সেই প্রোগ্রাম। এখন কি করব? খুব তাড়াতাড়ি স্কিনটোন ঠিক করে ফেলার টিপস চাই।”
আমাদের প্রথম জিজ্ঞাসাই থাকে, সানস্ক্রিন ইউজ করেন তো ডেইলি? রোদে গেলে মাথায় ছাতা থাকে?
দুঃখের ব্যাপার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উত্তরটা হয়-“না”। তারা এগুলো কিছুই করেন না!
যতটা দ্রুত এই প্রচণ্ড গরম এবং রোদে পোড়া ত্বক আগের রূপে ফিরিয়ে আনা সম্ভব তা নিয়ে কথা বলি চলুন। মেইনলি রোদে পুড়ে স্কিনটোন চেঞ্জ হয়ে গেলে অথবা ট্যান লাইন পড়ে গেলে কি করবেন সেটাকে ৩ ভাগে ভাগ করেছি।
স্টেপ ১ – প্রোটেকশন
রোদে পুড়েছেন রোদ গায়ে লাগার কারণে। সুতরাং এখন আপনার মেইন কাজ হবে ট্যান দূর করার সময়েও যেন স্কিনে আবার রোদ না লাগে সেই ব্যবস্থা করা। কীভাবে রোদে পোড়া ত্বক উজ্জ্বল করবেন?
লং স্লিভ কটন ড্রেস পড়বেন পারলে
পা ঢাকা জুতা পরবেন
অবশ্যই রোদ বৃষ্টি যাই থাক না কেন ছাতা খুলবেন। বাইরে গেলেই ছাতা খুলবেন
ফেইসে এবং ঘাড়ে মিনিমাম ১ টি স্পুন সানস্ক্রিন ইউজ করবেন। এর কম কোনভাবেই নয়।
প্রতি হাত পায়ের ১ টেবিল স্পুন সানস্ক্রিন মাখবেন।
সানস্ক্রিন মাখার ১৫-২০ মিনিট পড়ে বাইরে যাবেন।
প্রতি ২ ঘণ্টায় সানস্ক্রিন রিঅ্যাপ্লাই করবেন
ঘরে বসে থাকাটা আপনার সানস্ক্রিন ইউজ না করার অজুহাত? উপরের টিপগুলো তৈরি করতে যাওয়ার আগে ফলো করবেন। যাদের তিল পড়ে যাওয়া এবং ট্যান বেশি হওয়ার ধাত তারা ঘরে দিনের বেলায় spf 20 সানস্ক্রিন ইউজ করবেন।
স্টেপ ২- বডি ব্রাইটেনিং বাথ অয়েল রেসিপি
ট্যান অলরেডি পড়ে গেলে রোজ আপনাকে সময় নিয়ে এই তেলটা ইউজ করতে হবে। তিলের তেল ত্বকের ট্যান কাটাতে খুবই হেল্পফুল। রেগুলার ইউজে তিলের তেল শরীরের ব্রণের দাগ দূর করবে, কালচে ভাব কাটাবে। ট্যান লাইন হালকা করবে এবং শরীরে ব্রণ হওয়ার হার কমাবে।
যারা তিলের তেল পাচ্ছেন না –
সাবস্টিটিউট ১
আমনড অয়েল, বা কাঠবাদামের তেল। পিওর তেল কিনবেন। skincafe ব্র্যান্ডের তেল ইউজ করতে পারেন।
সাবস্টিটিউট ২
২ কাপ নারিকেল তেল
পিওর নারিকেল তেল কিনবেন। আমলা, মেহেদি মিক্স করা হারবাল জিনিসপত্রের কথা বলছি না। এর বেনেফিট স্কিনের জন্য তিলের তেলের মতো হবে না। কিন্তু যাদের স্কিন ড্রাই তারা বেশি বেনেফিট পাবেন নারিকেল তেলে।
আমলকী গুঁড়া – ২ টেবিল চামচ
খুব ইজিলি ৪-৫টা আমলকী রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করেও নিতে পারেন। আমলকীর ভিটামিন সি রোদে পোড়া ভাব কাটাতে এবং শরীরের দাগ দূর করতে সাহায্য করবে।
হলুদের পেস্ট – ২ টেবিল চামচ
রান্নার হলুদ দিয়ে সাবস্টিটিউট করা যাবে না। আস্ত কাঁচা হলুদ কিনে আনবেন। বেঁটে পেস্ট বানাবেন যদি সময় থাকে। হলুদ স্কিন ব্রাইট করতে হেল্প করবে। স্কিনে গোল্ডেন গ্লো নিয়ে আসবে। স্কিনের ব্রণ ফুসকুড়ি ইত্যাদি কমিয়ে দেবে। তবে এলার্জি থাকলে হলুদ এভয়েড করাই বেটার!
যেভাবে তৈরি করবেন-
– খুব অল্প আঁচে তেল গরম করুন। তেল যেন ফুটতে শুরু না করে।
– কাঁচা হলুদের পেস্ট দিয়ে দিন তেলে। এবার জাস্ট ২-৩ মিনিট অল্প আঁচে রাখুন। হলুদের পেস্ট যেন পুড়ে কালো হয়ে না যায়। বা তেল যেন ফুটে না ওঠে।
– চুলা থেকে নামিয়ে তেল ঠাণ্ডা করে একটা কাঁচের বোতলে ভরে নিন। রুম টেম্পারেচারে চলে এলে তেলে আমলকীর গুঁড়া দিয়ে দিন। বোতলটা ঝাঁকিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। ২ দিন পর থেকে তেল ইউজ করতে পারবেন। তেলের রং হবে খুব ঘন হলুদ।
– অবশ্যই তেল বাইরে রাখা যাবে না। ফ্রিজেই রাখতে হবে। এই পরিমাণ তেল আমি ২ সপ্তাহ ইউজ করতে পারি। এরপর নতুন করে বানাই।
ব্যবহার বিধি-
– গোসলের আগে পুরো শরীরে তেল দিয়ে খুব ভালোভাবে ম্যাসাজ করে ১৫-৩০ মিনিট রেখে দিন।
– এবার খুব ভালো করে বাথ লিলি অথবা লুফা দিয়ে বডি স্ক্রাব করে গোসল করে ফেলুন। গোসলের সময় সাবান ইউজ করবেন না। কেনা উপটান অথবা শাওয়ার জেল ইউজ করতে পারেন।
স্টেপ ৩ – মাস্ক সাজেশন
গোসল থেকে বের হয়েও কাজ আছে। নিচে আমার খুব পছন্দের দুটো মাস্ক রেসিপি দিলাম রোদে পোড়া ত্বক উজ্জ্বল করতে-
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য-
টক দই – ১ কাপ
টমেটোর রস বা শসার রস – ৫ টেবিল চামচ
মুলতানি মাটি – ২ টেবিল চামচ
শুষ্ক ত্বকের জন্য-
বেসন – ১ কাপ
শসার রস অথবা দুধ – ৫ টেবিল চামচ
টক দই – ২ টেবিল চামচ
জাস্ট সবকিছু মিক্স করে সারা শরীরে মেখে ১৫ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
এই পুরো ট্রিটমেন্ট-টা ট্যান চলে না যাওয়া পর্যন্ত রোজ করবেন। ট্যান চলে গেলে/ না থাকলে সপ্তাহে ২ বার করাই যথেষ্ট। এটা খুবই টাইম কনজিউমিং এবং কষ্টকর। কিন্তু কোন সাইড এফেক্ট ছাড়া এর থেকে ইজি সলিউশন আমার জানা নেই। আর সানস্ক্রিন ইউজ না করার দাম তো দিতেই হবে তাই না?
বিশেষ দ্রষ্টব্য-
(১) আবার বলছি, সানস্ক্রিন ডেইলি ইউজ না করে কেউ যদি এই ট্রিটমেন্ট শুরু করেন তনে রিগ্রেট করবেন। সো বি কেয়ারফুল।
(২) অনেকেই জানতে চাইবেন মুখের জন্য এটা ইউজ করা যাবে কিনা। উত্তর হচ্ছে, অনেকেই মুখে বিভিন্ন তেল ইউজ করতে ভয় পান। কিন্তু যদি তিলের তেল অথবা আমনড অয়েল আপনার ফেসে স্যুট করে অবশ্যই আপনি এটা ইউজ করতে পারবেন। ড্রাই স্কিনের জন্য আমনড অয়েল বেস্ট। স্কিন সেনসিটিভ না হলে এবং স্যুট করলে নারিকেল তেল ইউজ করতে পারেন। কিন্তু তিল/ আমন্ড ইউজ করাটাই বেস্ট। কিন্তু যদি আপনি না জানেন তেল/ আমন্ড অয়েল আপনাকে মানায় কিনা বোকামি করে আগেই পুরো মুখে মাখবেন না। প্যাচ টেস্ট করুন। স্মার্ট হন, ওকে?
(৩) আন্ডারআর্ম, হাঁটু, কনুইয়ের জেদি দাগের জন্য এই মেথড ট্রাই করতে পারেন।
(৪) হলুদ তেলটা আপনার কাপড় চিরতরে নষ্ট করে ফেলবে। সো বুদ্ধি করে একটা পুরনো কাপড় পড়বেন। অবশ্যই সারা শরীরে তেল মেখে বিছানায়/ সোফায় শুয়ে বসে থাকবেন না। দাগ পড়বে না এমন কোথাও বসুন।
(৫) অনেকের স্কিন হলুদের ব্যবহারে পুরো হলুদ হয়ে যায়। কিন্তু ডেইলি শাওয়ার জেল দিয়ে স্কিন ক্লিন করলে হলদে ভাব চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু সবার স্কিন সমান নয়। যদি আপনার স্কিনে জেদি হলুদের stain পড়ে তবে আপনি হলুদের পেস্ট কমিয়ে দেবেন।
আশা করি স্কিনে জেদি ট্যান পড়ে গেলে ডেইলি এই পুরো ট্রিটমেন্ট করে খুব কম সময়ে রেজাল্ট পাবেন। ট্রাই করে কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না যেন!
20/09/2020
ত্বকে স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট লেয়ারিং করুন ৮ টি সঠিক ধাপে!
হাজার হাজার টাকা দিয়ে স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট কিনে সেগুলো ইউজ করার পরেও অনেক সময় দেখা যাচ্ছে, আমাদের স্কিনই কোনো কেয়ার করছে না, তাই না? প্রায়ই অনেক আপুদেরই মজার ছলে এই কথাটা বলতে শুনি। এর পেছনে অনেক কারনই থাকতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম একটি কারন হচ্ছে, আপনার ত্বকে স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট এর লেয়ারিং সঠিকভাবে না করা।
কি? কথাটা একটু কঠিন লাগছে শুনতে? আচ্ছা, তবে সহজ করেই বুঝিয়ে দেই।
প্রোডাক্ট লেয়ারিং বলতে কী বোঝায়?
স্কিনকেয়ারের জন্য আমরা ক্রিম, সিরাম, টোনার, ফেসিয়াল অয়েল ইত্যাদি তো ব্যবহার করেই থাকি। প্রত্যেকটা প্রোডাক্টেরই আলাদা আলাদা কাজ থাকে এবং এসব প্রোডাক্টের মলিকিউল সাইজও কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেমন, সিরামের মলিকিউল সাইজ ফেসিয়াল অয়েলের থেকে ছোট। ফেসিয়াল অয়েলের মলিকিউল আকারে বড় হয় এবং এটা সিরামের থেকে থিক হয়। আপনি যদি, প্রথমেই স্কিনে ফেসিয়াল অয়েল লাগিয়ে ফেলেন, এরপর সিরাম বা ময়েশ্চারাইজার লাগাতে যান তবে, কিন্তু ফেসিয়াল অয়েলের মলিকিউল ভেদ করে সিরাম স্কিনের ভেতরে ভালোভাবে যেতে পারবে না। মানে সিরাম স্কিনের গভীরে ঢুকতে বাঁধাগ্রস্ত হবে। যার ফলে, টাকা খরচ করে যে সিরাম টি কিনলেন সেটা তেমন কোনো কাজেই দিবে না। তাহলে লাভ কি হলো? কি আর?! শুধু শুধু টাকাগুলোই নষ্ট হচ্ছে আর আপনিও স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট এর উপরে ফেড আপ হয়ে যাচ্ছেন।
ত্বকে স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট তাহলে কী করবেন?
স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট সঠিকভাবে লেয়ারিং করতে জানতে হবে। মানে, কোন প্রোডাক্টটি আগে এবং কোনটি পরে অ্যাপ্লাই করতে হবে তা সম্পর্কে জানতে হবে। কিন্তু, কিভাবে? সেটা নিয়েই আমার আজকের আর্টিকেল। চলুন তবে আর কথা না বাড়িয়ে জেনে নেই, ৮ টি সঠিক ধাপে আপনার ত্বকে কিভাবে স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট লেয়ারিং করবেন!
ত্বকে স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট লেয়ারিং করার ৮ টি সঠিক ধাপ
১. ক্লেঞ্জার :
স্কিন কেয়ারের প্রথম ধাপ হচ্ছে ক্লেঞ্জিং। ক্লেঞ্জিং এর মাধ্যমে আমরা স্কিনে জমে থাকা ডার্ট, অয়েল,মেকআপ ইত্যাদি দূর করি। ময়লা জমে থাকা ত্বকে স্কিন কেয়ার করে তো কোনো লাভ হবে না বরং আরো ক্ষতিই হতে পারে। তাই, শুরুতেই ত্বকের ধরন অনুযায়ী একটা ক্লেঞ্জারের মাধ্যমে স্কিনটা ভালোভাবে ক্লিন করে নেয়া জরুরী। এরপর চাইলে এক্সফোলিয়েটর ইউজ করতে পারেন। তবে, এটা প্রতিদিন করার দরকার হয় না। সপ্তাহে ২-৩ বার ত্বক এক্সফোলিয়েট করাই যথেষ্ট। এরপর আসি এক্সট্রা একটা স্টেপে। সেটা হচ্ছে মাস্ক। সপ্তাহে ১-২ দিন আপনার পছন্দমত একটা মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।
২. টোনার :
স্কিন ক্লিন করে নেয়ার পরেই ব্যবহার করতে হবে টোনার। টোনার অনেকেই স্কিপ করে যান। অথচ, টোনার কিন্তু স্কিন কেয়ারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টোনার স্কিনের এক্সট্রা ময়লা, মেকআপ দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া টোনার আমাদের পোরগুলোকে টাইট করে এবং স্কিনের পি এইচ লেভেলকে ব্যালেন্স করে। একটা কটন প্যাডে টোনার নিয়ে পুরো মুখটা মুছে নিবেন।
৩. ত্বকে স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট শীট মাস্ক :
আজকাল স্কিন কেয়ারে শীট মাস্ক তো বেশ জনপ্রিয়। তাই না? আমার তো বেশ পছন্দ শীট মাস্ক ইউজ করা। শীট মাস্ক মেইনলি সিরামে ভেজানো থাকে এবং এটি ব্যবহারে স্কিন ব্রাইট এবং হাইড্রেটেড হয়ে যায়। যারা শীট মাস্ক লাগাতে চান, তারা টোনারের পরেই শীট মাস্ক লাগিয়ে ফেলবেন। এবং শীট মাস্ক তুলে ফেলার পর আর মুখ ধোয়ার প্রয়োজন নেই। সরাসরি নেক্সট স্টেপে চলে গেলেই হবে। আর আপনি যদি আপনার একনে বা স্পটের জন্য কোনো ট্রিটমেন্ট নিয়ে থাকেন তবে টোনার বা শীট মাস্ক এর পরে সেটা অ্যাপ্লাই করে নিলেই হবে।
৪. সিরাম :
শীট মাস্কের পরের স্টেপ হচ্ছে সিরাম ব্যবহার করা। যারা শীট মাস্ক ব্যবহার করবেন না, তারা টোনারের পরেই সিরামে চলে যাবেন। সিরাম বেসিক্যালি খুবই লাইটওয়েট হয় এবং এর মলিকিউলস গুলো অনেক ছোট থাকার ফলে এটা স্কিনের একদম গভীরে চলে যেতে পারে। সিরাম স্কিনের বিভিন্ন ইস্যু যেমন একনে, রিংকেল, ড্রাই স্কিন ইত্যাদির কারনে ব্যবহার করা হয়। স্কিনে অল্প একটু সিরাম লাগানোই কিন্তু যথেষ্ট।
৫. আই ক্রিম :
বয়স ২০ হবার পরে প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আই ক্রিম লাগানোটা খুবই ইম্পরট্যান্ট। খুব আর্লি এজে চোখের এরিয়ার স্কিনে ফাইন লাইন পরা এবং কোলাজেন লসের প্রবনতা এটা অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়। এছাড়াও আই ক্রিম আমাদের আন্ডারআইকে ব্রাইট করে, চোখের ফোলাভাব দূর করে এবং আই এরিয়াকে হাইড্রেশন দেয়। ফেইসে সিরাম অ্যাপ্লাই করার পর এখন সময় হচ্ছে আই ক্রিম ব্যবহার করার। সবসময় আই ক্রিম রিং ফিংগার দিয়ে অ্যাপ্লাই করতে হবে। কারন আমাদের রিং ফিংগার অন্যসব আঙুলের থেকে একটু উইক হয়। যার ফলে আই এরিয়াতে প্রেশার কম পড়ে। আই এড়িয়াতে কখনোই প্রেশার দিয়ে ম্যাসাজ করা যাবে না। আই ক্রিম চাইলে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। এতে করে, আই ক্রিম অ্যাপ্লাই করার সময় চোখে ঠান্ডা এবং রিল্যাক্সিং ফিল হবে।
৬. ত্বকে স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ময়েশ্চারাইজার
20/09/2020
চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল দূর করুন ৪টি সহজ উপায়ে!
চোখ যে মনের কথা বলে…” আসলেই কি তাই? মনের কথা বলার পাশাপাশি চোখ কিন্তু বলে দেয় আপনার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও। সুন্দর চোখ নিয়ে গল্পকারদের বা কবিদের গল্প, কবিতা বা গানের অভাব নেই। চোখ সুন্দর হলে তা আমাদের চেহারার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় অনেকগুন। কিন্তু প্রতিনিয়ত নানা দুশ্চিন্তা, একটানা অনেকক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটারে তাকিয়ে থাকা, জীবনযাত্রায় অনিয়ম বা নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুমের অভাবে চোখের নিচে দেখা দেয় ডার্ক সার্কেল বা কালো দাগ। আমরা অনেকেই বুঝে উঠতে পারি না যে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কোন প্রোডাক্টসগুলো ব্যবহার করলে ভালো হবে। আজকে আমরা জেনে নিবো চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল দূর করার ৪টি সহজ উপায় সম্বন্ধে! প্রোডাক্ট সিলেকশনের ক্ষেত্রে আমরা যারা কনফিউশনে আছি, আজকের আর্টিকেলটি তাদের জন্য হেল্পফুল হবে।
আন্ডার আই কেয়ার সম্পর্কে জেনে নিন
১) সঠিক আন্ডার আই ক্রিম বেছে নিন
আমাদের চোখের নিচে কালো দাগ পরার অন্যতম কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন গ্রহণ না করা। ভিটামিনের অভাবে চোখের নিচে কালো দাগ থেকে শুরু করে বয়সের ছাপ, এমন কি চোখে ফোলা ফোলা ভাবও দেখা দিতে পারে। শরীরের অন্যান্য জায়গার তুলনায় চোখের জায়গাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই চোখের এই এরিয়াতে যেকোনো প্রোডাক্ট ব্যবহার করার আগে আমাদের সতর্ক থাকতে হয়। রেগ্যুলার ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজ়ার এই অংশে ব্যবহার করলে সমস্যা দূর হবে না। মার্কেটে বিশেষ ধরণের ক্রিম পাওয়া যায় যা আই ক্রিম হিসেবে পরিচিত, চোখের নিচের সংবেদনশীল ত্বকের যত্নে বিশেষভাবে কাজ করে ক্রিমগুলো। এতে থাকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, আয়রন ও খনিজ পদার্থ, যা ডার্ক সার্কেল দূর করতে দারুণ ভাবে কাজ করে।
২) ব্যবহার করুন ভিটামিন-ই যুক্ত তেল
চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতে বহুকাল ধরে তেলের ব্যবহার হয়ে আসছে। আপনার স্কিন যদি ড্রাই হয়ে থাকে, এজিং সাইন আসতে শুরু করে, তাহলে যেসব তেলে ভিটামিন-ই রয়েছে ঐ প্রোডাক্টগুলো বাছাই করতে চেষ্টা করুন। তেল দিয়ে আই এরিয়াতে ম্যাসাজ করার ফলে ত্বকের নিচে ব্লাড সার্কুলেশন যেমন ইম্প্রুভ হয়, পাশাপাশি ত্বকের মসৃণতাও বেড়ে যায়। চেষ্টা করুন মার্কেট থেকে ভালো মানের নারিকেল তেল, আমন্ড অয়েল বা ক্যাস্টর অয়েল কিনে নিতে। সাধারণত এ সকল তেলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে ভালো কাজ করে।
৩) তৈলাক্ত ত্বকের বন্ধু আন্ডার আই জেল
যাদের স্কিন টাইপ অয়েলি, সহজে তারা যেকোনো প্রোডাক্টস ব্যবহার করতে চান না। স্কিন অয়েলি হয়ে যায়, ব্রণের সমস্যা বেড়ে যায়, ফেইস স্টিকি লাগছে এমন নানা কমপ্লেইন করে থাকেন। এমন স্কিন টাইপ যাদের, তারা আই জেল ব্যবহার করতে পারেন নিশ্চিন্তে। চেষ্টা করবেন ভালো ব্র্যান্ডের আই ক্রিম বা জেল কিনতে। দাম একটু বেশি হলেও স্কিনের সাথে কোয়ালিটি নিয়ে কোন কমপ্রোমাইজ করা যাবে না। ডার্ক সার্কেল দূর করার পাশাপাশি এটি চোখের নিচের ফোলা ভাব কমাতেও সাহায্য করে।
৪) ব্যস্ততায় সহজ সমাধান আন্ডার আই প্যাচ
“আই প্যাচ” এই দুটি শব্দের সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত। আবার অনেকেই শুনছেন প্রথমবারের মত। যারা একবার এই প্রোডাক্টটি ব্যবহার করেছেন, আশা রাখি তারা জেনে গিয়েছেন এর গুনাগুণ সম্পর্কে। মার্কেট থেকে কোন প্রোডাক্টটি কিনে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবো, তা জানি না বলেই অনেকেই বেছে নেই ঘরোয়া পদ্ধতি। কিন্তু ব্যস্ত জীবনে এত সময় করে ওঠা কঠিনই বটে। চিন্তার কোন কারণ নেই! আপনার ব্যস্ত জীবনের ভরসা হতে পারে আন্ডার আই প্যাচ। এক্ষেত্রেও অবশ্যই ভালো ব্র্যান্ডের আই প্যাচ বাছাই করতে চেষ্টা করবেন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka
