Md Sobuj

Md Sobuj

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Md Sobuj, Health/Beauty, Sylhet, Dhaka.

নেক্সট পর্ব পেতে ফলো করুন � @ কমেন্ট চেক করবেন নেক্সট পার্ট কমেন্ট দিয়ে থাকি

অবশ্যয় জয়েন থাকবেন �এই বক্সে এ কিলিক করবে জয়েন হবেন সমস্ত গল্পের লিং গুরুপ এ সিয়ার করা হয়

14/07/2024

আমার_তুমি
#পর্ব_২
#একাকিত্ব_জীবনツ

আজ সকাল থেকে সওদাগর বাড়িতে রান্না বান্না বেশ আয়োজন করা হচ্ছে।
বাড়ি বড় মেয়ে কে চেয়ারম্যান এর নাতির জন্য দেখতে আসবে।
কিন্তু কোন নাতি এটা প্রিয়তা বুঝতে পারছে না।
আজ দু টি দিন হয় স্কুলও যেতে পারে না।
বাড়ি ঘর ঝাড়ু মুছা করা থেকে শুরু করে সব আসবাবপত্র পরিস্কার করা।
রান্না বান্না সব করার জন্য কাজের লোক আছে।
কিন্তু মিতা সওদাগর কিছুতেই এই দুই দিন ধরে প্রিয়তা কে বাড়ির থেকে বেরুতে দেয় না।
এটা সে টা কাজ করিয়ে যাচ্ছে।
এর মধ্যে প্রিয়তা বেশ চিন্তা আছে। পাত্র কে হতে পারে?
মির্জা পরিবারে বড় ছেলে মির্জা রাহাত মাহমুদ আর ছোট ছেলে মির্জা সাদনান শাহরিয়া। আচ্ছা আর যাই হোক বাড়ির বড় ছেলে কে রেখে নিশ্চয়ই ছোট ছেলের বিয়ে দেবে না।
এ-সব ভাবতে ভাবতে প্রিয়তা রেডি হয়ে নেয়।
সুন্দর একটা ফ্রক পড়ে গলায় জর্জেট এর একটা ওড়না পেচিয়ে চাদর জড়িয়ে বেরিয়ে আসে রুম থেকে।
করিডর দিয়ে যাওয়ার সময় নিচে নজর পড়তেই দেখা মিলে দুই জন মধ্যবয়সী লোক আর এক জন মুরব্বি আর কলো সুট পড়া এক জন ব্যক্তি আর তিন জন মহিলাও আছে।
আর সারা আর ওর ছোট চাচার এক মাত্র মেয়ে মাইশা কে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উপর আসছে।
মাইশা ওদের দুই বছরের বড় এবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে।
সারা আর মাইশা উপর এসে দু জনেই প্রিয়তার সাথে কুশল বিনিময় করে আয়নার রুমের দিকে চলে যায়। মাইশা সাথে আছে বলে আর সারা কে জিজ্ঞেস করা হলো না পাত্র কে।অবশ্য প্রিয়তা ভাবে যদি সাদনান মির্জা পাত্র হতো তবে অবশ্যই সারা তাকে জানাতো আর জানাতে না পারলে এতো টা স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতো না।
কারণ সারা জানে প্রিয়তা সাদনান কে কি পরিমাণ ভালোবাসে। যদিও সাদনান তা ছোট মানুষ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে।
কিন্তু হয়তো এক দিন সত্যি তা উপলব্ধি করতে পারবে।
প্রিয়তারা আয়নার রুমে এসে দেখলো
আয়না শুধু শাড়ী পড়ে বসে আছে ড্রেসিং টেবিলের সামনে একটা টুলে।
প্রিয়তা আয়না কে এভাবে বসে থাকতে দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে

-"আপু তুমি রেডি হও নি কেন?
সবাই চলে এসছে।"

বলতে বলতে ড্রেসিং টেবিলের উপর হতে ইয়ার রিং জোড়া হাতে নিয়ে তা পড়িয়ে দেয় আয়না কে।
সারা মাইশা দু জনেই চুপ চাপ বিছানায় বসে দেখে যাচ্ছে। ছোট প্রিয়তা কিভাবে তার বড় বোন কে রেডি করে দিচ্ছে।
প্রিয়তা হঠাৎ করে প্রশ্ন করে আয়না কে

-"মন খারাপ?"

আয়না অশ্রুসিক্ত চোখে তাকালো ছোট বোনের দিকে।
টুপ করে গড়িয়ে পড়ে বাম চোখ হতে এক ফোঁটা জল

-"ভাইয়া আসবে না?"

চোখের জল মুছে জিজ্ঞেস করে আয়না।

-"বলেছে তো চলে আসবে।
হয়তো এসে পড়েছে।
প্লিজ লক্ষী আপু কাঁদে না।
আর কাঁদলে চোখের কাজল লেপ্টে তোমাকে ভূত দেখা যাবে।
পরে দেখা যাবে পাত্র মানে দুলাভাই তোমাকে দেখতে এসে না দেখেই পালিয়ে যাবে।"

কথা টা বলতে বলতে হেসে দেয় প্রিয়তা।
পাশ থেকে মাইশা সারাও হাসে।
ঠিক তক্ষুনি কেউ দরজা থেকে বলে উঠে

-"মাশাআল্লাহ।
আমার দুই টা প্রিন্সেস।"

কথা টা বলতে বলতে আয়ান ঘরে ভেতর প্রবেশ করেই বোনদের কপালে আদর করে দিলো।
আয়না জড়িয়ে ধরে আয়ান কে আয়ান ছোট বোনের দিকে নিজের ডান হাত টা বাড়িয়ে দিতেই প্রিয়তাও ঝাপটে জড়িত ধরে বড় ভাই-বোন কে।
কে বলবে এরা দুই মায়ের গর্বে জন্ম?
এদিকে সারা আর মাইশা মুচকি হাসে।
কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো এখানে একজন রমণীর গালে লাল আভা দেখা দিয়েছে।
আয়ান হুট করে নজর পড়ে বিছানায় দুই রমণীর উপর। আয়ান বোনের নিয়ে এতো টাই বিভোর যে এতক্ষণ তাদের নজরেই আসে নি।
কিন্তু এখানে যে তার প্রেয়সীও থাকতে পারে জানা ছিল না।
যাক এক কাজে দুই কাজ হলো।
আয়ান বোনদের ছেড়ে দিয়ে সারা মাইশার সাথে হালকা কথা বলে রুম ত্যাগ করে।
আয়নাও সবার সাথে কথা বলে এখন।এতোক্ষণ মন টা বেচারির বড্ড খারাপ ছিল।
বড় ভাইয়ের আগমনে তা উবে গেলো।
প্রিয়তা আয়নার শাড়ীর কুঁচি গুলো ঠিক করে উঠে দাঁড়াতেই শিউলি এসে বলে গেলো প্রিয়তা কে রান্না ঘরে ডাকছে।
প্রিয়তার মন টা বড্ড খারাপ হলো।
তবে মুখে হাসি রেখে সারা আর মাইশা কে আয়নার রুমে রেখে নিচে যাওয়ার অগ্রসর হয়।
নিচে যেয়ে প্রিয়তা লিভিং রুমে থাকা সব কয়টা মানুষ কে সালাম দিলো।
শফিক সওদাগর পরিচয় করিয়ে দিলো।
বাড়ি ছোট মেয়ে কে।
এক জন মিতা সওদাগরের বয়সী মহিলা ওকে কাছে ডেকে নিয়ে আদর করে দেয়।
প্রিয়তা গিয়েছে অনেক বার মির্জা বাড়ি এটা সাদনানের মা সালেহা বেগম।
কথা বলে ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করে সালেহা প্রিয়তা কে।
প্রিয়তা সবার সাথে কথা বলে রান্না ঘরে চলে যায়।
প্রিয়তা রান্না ঘরে প্রবেশ করতেই মিতা সওদাগর অনেক গুলো ফল একটা ঝুরিতে প্রিয়তার হাতে দিয়ে বলল

-"এগুলো কেটে নিয়ে বসার ঘরে দিয়ে আসবি।"

হুকুমের স্বরে বলেই তিনি রান্না ঘর থেকে চলে গেলো। প্রিয়তা বটি নিয়ে সে গুলো কাটতে বসে গেলো।
শিউলি থালা বাসন সব গুছিয়ে রাখছে।
একটু আগেই হয়তো খাবার পর্ব শেষ হয়েছে বুঝতে পারলো প্রিয়তা।
খাবার কথা মাথায় আসতেই পেটের ভেতর ক্ষুধা অনুভব করে।
ইস সকালে শুধু লুকিয়ে দুই টা বিস্কিট খেয়েছে।
মনে হতেই চোখ দিয়ে গড়িয়ে পানি পড়ে গেলো।
শিউলি বুঝতে পারে।
এগিয়ে এসে কাঁধে রেখে বলে উঠে

-"তোমার বান্ধবী আছে না ছোট আপা?
সারা না কি জানি।অয় কিন্তু খায় নায়।
বলছে তোমার সাথে খাবে বলে সুন্দরী আপা ডারে লইয়া উপর চলে গেছে।"

প্রিয়তা হতভম্ব। অবাক হয়ে তাকালো শিউলির দিকে।
বিস্ময় চাহনি দিয়ে প্রশ্ন করে শিউলি কে

-"কি বলছো এসব চার টা বাজে এখন।"

-"তো আর কইতাছি কি।"

প্রিয়তা আর কিছু বলে না। শিউলিও নিজের কাজে মনোযোগ দেয়।
আর প্রিয়তা তাড়াহুড়ো সহিতে ফল গুলো কেটে সুন্দর করে সাজিয়ে ট্রেতে করে লিভিং রুমের উদ্দেশ্য বেরিয়ে আসে রান্না ঘর হতে।
এরমধ্যে সাদনানের দাদা দাদি তাগাদা দেয়।
মেয়ে কে নিয়ে আসার জন্য।
প্রিয়তা উপর চলে যায় আয়না কে আনতে পেছন পেছন আয়ানও আসে।
তার পর সারা আর মাইশা দু জনেই আগে নিচে চলে আসে।
আর আয়ানের অসহায় চোখে তাকায় প্রেয়সীর দিকে।
সে তো এসছিল এই মেয়ের সাথে একটু কথা বলার জন্য।
সব জায়গা থেকে ব্লক করে রেখেছে তার প্রেয়সী তাকে।
অবশ্য রাখবে নাই বা কেন।সে তো করেছেও এমন অপরাধ। কিন্তু সে তো ইচ্ছে করে এমন টা করে নি।এক বার মনে হয় সব দোষ নিজের
তো একবার মনে হয় এই মেয়ে কষ্ট করে একটু মানিয়ে নিলেই তো হয়।
এ-সব ভাবতে ভাবতে আয়ান আয়না কে ধরে নিয়ে নিচে চলে আসে।
রাহাতের দাদি আম্বিয়া মির্জা তিনি তার পাশে বসিয়ে মুচকি হেসে এটা সে টা জিজ্ঞেস করে আয়না কে।
সবাই কথাবার্তা বলে আয়নার সাথে।
কিন্তু প্রিয়তা ভাবছে।
অন্য কথা সাদনান ভাই কেন আসে নি?
ওনি কোথায়?
প্রিয়তা ভাবনার মাঝেই রাহান সহ বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে সাদনান।
সাদনান কে দেখেই প্রিয়তার বুকের ভিতর ধক করে উঠে। সাদা সার্ট চুল গুলো এলোমেলো। মুখে ক্লান্তির ছাপ।এই লোক টা এতো সুন্দর কেন? প্রিয়তার ভাবনার মাঝেই
সালেহা বেগম গিয়ে ছেলের গালে হাত রেখে আহ্লাদী কণ্ঠে বলে উঠে

-"কি দরকার ছিল এতো টা পথ জার্নি করে এখানে আসার?
কাল সকালেও আসা যেতো।"

সাদনান মাকে আশ্বাস দিয়ে ক্লান্ত ভরা কণ্ঠে জানায়

-"আমি ঠিক আছি।
তবে একটু ফ্রেশ হতে পারলে ভালো হতো।"

#চলবে....
নেক্সট পর্ব পেতে ফলো করুন 👉 Md Sobuj কমেন্ট চেক করবেন নেক্সট পার্ট কমেন্ট দিয়ে থাকি

অবশ্যয় জয়েন থাকবেন ☛ রোমান্টিক প্রেমের গল্প >ツ 👈এই বক্সে এ কিলিক করবে জয়েন হবেন সমস্ত গল্পের লিং গুরুপ এ সিয়ার করা হয়

[ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন প্লিজ।]

14/07/2024

আমার_তুমি
সূচনা_পর্বঃ০১
#একাকিত্ব_জীবনツ
"আমার বয়স জানো?"

সামনে বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যুবক টার করা প্রশ্নে সামনে নীল ড্রেস পড়া স্কুল ব্যাগ কাঁধে দাড়ানো
ষোড়শী কন্যা প্রিয়তা খুব স্বাভাবিক ভাবে জবাব দেয়

-"হুম।'

-"তুমি দশম শ্রেণিতে।
আমাদের বয়সের তফাৎ দেখছো?"

-"হুম।"

-"গুড।
আশা করি আমাকে আর ফলো করবে না। "

-"কেন করবো না?"
বয়সে ছোট বলে কি বড়দের প্রতি অনুভূতি তৈরি হওয়া বারণ?"

প্রিয়তা ফটাফট প্রশ্ন করে বসে।মেয়ে টা ভিতরে ভিতরে ভয় পাচ্ছে। কিন্তু উপর তা প্রকাশ করছে না। নিজে কে স্বাভাবিক রাখা যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর মধ্যে সাদনান আবারও ধমকের সুরে হিসহিসিয়ে বলে উঠে

-"এই মেয়ে বেশি বলছো।
চাচি জানে এ-সব?"

মায়ের কথা শুনে প্রিয়তা কিছু টা ভীতু হয়।চোরা চোখে চাইলো একবার সামনে দাঁড়ানো লম্বা সুদর্শন যুবক সাদনানের এর দিকে।
সাদনানের গভীর দৃষ্টি তাকেই পর্যবেক্ষণ করছে।
যা দেখে আরো এক দফা ভড়কালো।
প্রিয়তা আবারও আগের নেয় মাথা নুইয়ে নিলো।
আর ঠিক তক্ষুনি সাদনানের গম্ভীর কণ্ঠ আবারও শোনা গেলো

-"বাড়ি যাও।
সন্ধ্যায় হওয়ার আগে বাড়ি চলে যাবে রোজ।"

-"বিকেল সাড়ে চারটায় প্রাইভেট থাকে।"

প্রিয়তা মিনমিন করে জানায়।
যা শুনে সাদনান ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করে।

-"কোন স্যার?"

-"মাহিন স্যার।"

-"হুম বাড়ি যাও।
কাল থেকে সকালে আটটায় প্রাইভেট যাবে।
আর প্রাইভেট শেষ স্কুল।"

-"কিন্তু,,,

-"আমি যেতে বললাম তো।"

প্রিয়তা সবটা কথা না শুনেই সাদনান গম্ভীর কণ্ঠে আদেশ করে।
প্রিয়তা আর কিছু বলে না মোটা চার দিকে ডাল পালা মেলে রাখা বট গাছের নিচ থেকে রাস্তা আড়ালে দাঁড়ানো সারা কে নিয়ে বাড়ির পথে হাঁটা ধরে।
প্রিয়তা দৃষ্টি আড়াল হতেই অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা সাত আটজন ছেলে এগিয়ে এলো সাদনানের নিকট।
সব কয়টা ছেলে এসে সাদনান নামক যুবক টাকে চার দিক হতে ঘিরে দাঁড়িয়ে মাথা নুইয়ে রাখে।
এর মধ্যে একজন শুধু সাদনানের এর সময় বয়সী রাহান।

-"কি বলল?"

রাহান সাদনান কে প্রশ্ন করে। সবাই বেশ আগ্রহ নিয়ে ভালো উত্তর এর আশায় তাকিয়ে।
কিন্তু সাদনান সবাই কে হতাশ করে দিয়ে উদাস কণ্ঠে জবাব দিল

-"ছোট মানুষ।
বাদ দে না।"

আর কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। মিনিট খানিক্ষন সবাই চুপ চাপ থাকে।
সাদনান ততক্ষণে একটা স্প্রাইট শেষ করে বোতল টা ছুড়ে ফেলে পাশের ডাস্টবিনে।তার পর নিজে বাইকে উঠে রাহান কেও ইশারা করে। রাহান চুপ চাপ উঠে বসে সাদনান এর পেছনে।
সাদনান বাইকে চাবি ঢোকাতে ঢোকাতে আদেশের সুরে গম্ভীর কণ্ঠে ছেলে গুলো কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে

-"কাল সকালে চলে যাবো।
কোনো রকম সমস্যা যেনো না হয় খেয়াল রাখবি।"

নিজের কথা সমাপ্তি করেই সাদনান চাবি ঘুরিয়ে বাইক স্টাট নিয়ে মূহুর্তের মধ্যে মেইন রাস্তায় উঠে মাহিন স্যার এর বাসার দিকে যেতে লাগলো।
যা দেখে রাহান কিছু টা অবাক হয়।নরম গলায় বন্ধু কে জিজ্ঞেস করে

-"এদিকে কোথায় যাচ্ছিস?"

-"গেলেই দেখতে পাবি।"

প্রশ্নের জবাব তো দিলে ও-ই না উল্টো ত্যাড়া কথা। রাহান আর কিছু বলে না চুপ চাপ বসে থাকে।
প্রায় দশ মিনিট পর বাইক টা একটা টিন দিয়ে বেড়ি দেওয়া একটা বাড়ির সামনে থামিয়ে সাদনান ভিতরে যায়।
পেছনে পেছন রাহানও যায়।
চার রুম বিশিষ্ট একটা একতলা বাড়ির গেইট কড়া নাড়ে।
মিনিটের মাথায় একটা মধ্যে বয়স্ক মহিলা এসে গেইট খোলে দিলেন।
মহিলা কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই সাদনান জিজ্ঞেস করে উঠে

-"মাহিন স্যার বাড়ি আছে?"

মহিলাটা উত্তর "আছে" বলে তাদের ভিতরে আসতে বলে তিনি তার স্বামী কে ডাকতে চলে গেলো।
একটু পর একটা মাঝবয়সী লোক ভিতর থেকে গামছা দিয়ে হাত মুখ মুছতে মুছতে আসে। সাদনান সালাম দিয়ে ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করে।
লোক টাও সালামের উত্তর দিয়ে কুশল বিনিময় করে।
স্ত্রী কে নাস্তা দিতে বলে।

-"স্যার আপনি দশম শ্রেণির কিছু মেয়ে কে বিকেল সাড়ে চারটায় প্রাইভেট পড়ান।
ওদের একটু কষ্ট করে সকালে পড়াবেন।
মেয়ে মানুষ পড়া শেষ করে বাড়ি যেতে অনেক টা সন্ধ্যা হয়ে আসে।
বুঝতে পারছেন আশা করি।"

মাহিন স্যার সাথে সাথে রাজি হয়ে যায়।
সাদনানও রাহান কে নিয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসে।
এদিকে মাহিন স্যার এই শীতের মাঝেও কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম চিকচিক করে।
তিনি তা বাম হাতে থাকা গামছা দিয়ে মুছেন।
আর ঠিক তক্ষুনি ওনার স্ত্রী নাস্তার ট্রে হাতে হাজির হয়।
ছেলে গুলো নেই আর নিজের স্বামী কে এমন অবস্থায় দেখে।
ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে

-"কি হয়েছে আপনার?
আর ছেলে গুলো কারা এলো আবার চলেও গেলো?"

-"গাঢ় নীল সার্ট পড়া ছেলে টা আমাদের এলাকার চেয়ারম্যান এর নাতি।
উপজেলা চেয়ারম্যান আজ্জম মির্জার ছোট ছেলে।"

-"ওহ আচ্ছা।
এইজন্যই বলি ছেলে টা কে চেনা চেনা লাগে। "

-"লাগবে না ভবিষ্যতে এমপি যে।"

---------------

-"থালা বাসন গুলো রান্না ঘরে রাখা আছে।
আমি আধঘন্টা পর রান্না করতে যাব।
তখন গিয়ে যেনো সব পরিস্কার দেখি।"

-"মনি প্লিজ আজ শিউলি আপু কে দিয়ে করিয়ে নেও না প্লিজ।
আমার হাত কেটে গিয়েছে কাল।
আজ স্কুলে লিখতেও পারি নি সারা লিখে দিয়েছে। "

কথা টা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রিয়তার গালে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দেয় মিতা সওদাগর।
প্রিয়তার কাঁধে বেয়ে পিঠের উপর পড়ে থাকা লম্বা বিনুনি টা খপ করে শক্ত হাতের মুঠো পুরে নেয় মিতা সওদাগর
ক্রোধ মিশ্রিত কণ্ঠে হিসহিসিয়ে বলে উঠে

-"আমার মুখে উপর কথা না?
কে দিয়েছে এতো সাহস ওই বড় লোক দরদী বান্ধবী?
চুপ চাপ গিয়ে বাসন গুলো মেজে নে।"

কথা গুলো বলেই ধাক্কা মে'রে ফেলে দিয়ে হনহনিয়ে তিনি রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।
ঠিক তক্ষুনি প্রিয়তার ছোট নরমাল মুটো ফোন টা এটার ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে তুলে।
প্রিয়তা চোখের জল মুছে এগিয়ে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের উপর থেকে ফোন টা হাতে নিয়ে দেখে তার বড় ভাই আয়ান ফোন দিয়েছে।
প্রিয়তা গলা টা কেশে ঠিক করে ফোন টা রিসিভ করতেই কানে ভেসে আসে

-"মা আবার মেরেছে?"

-"এমা তা কেন হবে।
আমি তো মাত্র স্কুল থেকে এলাম।"

-"থাপড়ে তোর মিথ্যা বলা আমি ছুটি দেবো।
আয়না আছে বাড়িতে ভুলে গিয়েছিস?"

প্রিয়তা জ্বি হা কামড়ে ধরে দাঁত দ্বারা।
তার তো মনেই ছিল আয়না আপু আছে বাড়িতে।

-"ছাড়তো এসব।
সন্তান ভুল করলে মা শাসন করতেই পারে।
আচ্ছা তুমি বাড়ি কবে আসবে ভাইয়া?"

-"এটাকে মা-গত শাসন বলে না।
এটাকে অত্যাচার বলে।
তাড়াতাড়ি ফিরে আসবো।
খাবার খেয়েছিস?"

-"না ফ্রেশ হয়ে যাচ্ছিলাম।"

-"আচ্ছা তবে যা।
আর মন দিয়ে পড়বি কিন্তু।
এক্সাম কিন্তু বেশি দূর নয়।"

-"হুম।"

কথা শেষ করে ফোন রাখে আয়ান।
প্রিয়তাও কাজে লেগে পড়ে।নয়তো দেখা যাবে রাতে আবার খাবার দেবে না।
মা তো নেই।কিন্তু বাবা শফিক সওদাগরের উপর ভীষণ অভিমান জমে আছে।
আচ্ছা তিনি কি তা জানে?
-----------

-"ভাইয়া বাবা ডাকে।"

কথা টা বলে সারা চলে যাচ্ছিল।
কিন্তু সাদনান গম্ভীর কণ্ঠে বোন কে ডেকে উঠে

-"তুই ছিল আজ তোর বান্ধবীর সাথে?"

-"না ভাইয়া মানে,,,

-"চল যা। "

সারা আমতা আমতা করে কিছু বলতে চায়।
কিন্তু সাদনান শুনে না তার আগে গম্ভীর কণ্ঠে যেতে বলে।

#চলবে.....

[ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন প্লিজ।]

12/07/2024

প্রিয়_মন্ত্রী_মশাই
পর্বসংখ্যা_২
লেখকঃ #একাকিত্ব_জীবনツ

" বাবা , আমার মনে হচ্ছে এই মেয়েটা খোকার জন্য ভালো হবে"

" আমার ও তাই মনে হচ্ছে বউ মা। শুধু তোমার ছেলে পছন্দ করলেই হয়।"

" আরে অবশ্যই পছন্দ হবে। কি সুন্দর দেখতে মেয়েটা। এবার না করলে বেঁধে বিয়ে করাবো। খোকা তো বলেছে নির্বাচনে জিতলে বিয়ে করবে, কথা দিয়েছিলো আপনাকে। তাছাড়া বাবা ,আপনার নাতি এক কথার মানুষ। "

সবেমাত্র বাড়িতে পা রেখেছে আরহাম। নিজের মা আর দাদার কথা কর্ণগোচর হতেই দরজাতেই দাঁড়িয়ে পড়লো সে। পিছনে ছিল ফাহিম। নীলিমা শিকদার আর আজমল শিকদার এর কথা শুনে ফাহিমের যেনো নাচতে ইচ্ছা করছে। আরহামের জন্যই তো তার বিয়ে করা হচ্ছে না।

" আরে খোকা চলে এসেছিস। ওখানে দাঁড়িয়ে কেনো? আয় আয় দেখতো কোন মেয়েকে পছন্দ হয়!"

" মা, কতবার বলেছি তোমাকে, খোকা বলে ডাকবে না আমায়। তোমার ছেলের বয়স ৩১ মা। তার থেকেও বড় কথা তোমার ছেলে মন্ত্রী।"

" এহ আসছে মন্ত্রী। তোকে খোকা বলে ডেকেছি , ডাকবো। তুই তো এখনো আমার কাছে সেই ছোটো আরহাম খোকা আছিস। মায়ের কাছে সন্তান কখনো বড় হয়?"

" তাই নাকি? তাহলে তোমার এই ছোট খোকাকে এখনি কেনো বিয়ে করাতে চাচ্ছো?"

ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করে আরহাম। বোকা বনে যায় নীলিমা শিকদার। বুঝতে পারেন বরাবরের মতো আজকেও তাকে কথার জালে ফাঁসাচ্ছে তার ছেলে। কিন্তু আজকে তিনি হার মানবেন না পণ করেছেন। যে ভাবেই হোক ছেলেকে তিনি বিয়ে করাবেন। বয়স তো কম হয়নি ছেলেটার।

" খোকা, তুই আজকে যাই করিস না কেনো আমাকে তোর কথার জালে ফাঁসাতে পারবি না। তোকে বিয়ে করতে হবে মানে করতেই হবে। তোর থেকে তোর ছোট ছোট কাজিনরা বিয়ে করেছে, অনেকের তো বাচ্চাও আছে। আর তুই কিনা এখনো বিয়েই করিস নি। জীবনে তো কোনোদিন দিন প্রেম করেছিস বলে মনে হয় না। যদি তোর কোনো পছন্দ থাকে বলে দে। নাহলে আমরা যাকে পছন্দ করবো তাকেই বিয়ে করতে হবে তোর।"

"আমার পছন্দের মেয়ে আছে মা "

ড্রয়িংরুমে মনে হলো ছোটো খাটো একটা বিস্ফোরণ হলো। ড্রয়িংরুমে উপস্থিত সকলে অবিশ্বাস্য নয়নে তাকালো আরহামের দিকে। তারা বিশ্বাস করতে পারছে না আরহামের কথা।
আরহামের জয়লাভের আনন্দে তার নিকট
আত্মীয় সকলে এসেছে শিকদার বাড়িতে। তাছাড়া নীলিমা শিকদার তাদেরকে জানিয়েছেন আরহামের জন্য মেয়ে দেখবে সকলে যেনো উপস্থিত থাকে।

" নাম কি তার , আরহাম? তার সম্পর্কে সব কিছু বলো। আমরা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাবো তার বাড়িতে।"

বাবার দিকে তাকালো আরহাম। একবার সকলকে ভালোভাবে দেখে নিলো সে।

" নাম জানি না তার বাবা। কোথায় থাকে , কি করে, দেখতে কেমন কিছু জানি না। শুধু তার মায়াবী চোখ দুটো দেখেছি। হরিণীর ন্যায় ডাগর ডাগর চোখ তার।সেই চোখের চাহনি ভয়ংকর। অদ্ভুত সুন্দর চোখ জোড়া। যার বর্ণনা দিয়ে শেষ করা যাবে না। বলে দিলাম তার সম্পর্কে। এখন যাও তার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। যাচ্ছি আমি নিজের রুমে। আশা করছি আমাকে কেউ বিরক্ত করবে না।"

বলেই গট গট পায়ে নিজ ঘরের দিকে চলে গেলো আরহাম।
উপস্থিত সকলে বিস্ফোরিত নয়নে তাকিয়ে আছে তার দিকে। যে ছেলে আজপর্যন্ত কোনো মেয়ের দিকে ভালোভাবে তাকিয়েছে কিনা সন্দেহ সেই ছেলে এভাবে একটা মেয়ের বর্ণনা দিচ্ছে।
মিস্টার আসাদ শিকদার ভাবছেন তার ছেলের দেওয়া বর্ণনা সম্পর্কে। এভাবে বুঝি মেয়ে খোজা যায়।

ফাহিমের মনে হচ্ছে মাথায় বাজ পড়েছে। সে ভাবছে সে কি ভুল শুনলো। মন্ত্রী আরহাম শিকদার কাউকে পছন্দ করেছে। এটা যেনো পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্যের থেকে কম কিছু না তার কাছে। বোনের কথা মাথায় আসতেই খারাপ লাগা শুরু হলো তার। শুভ্রা যে তার নেতা মশাইকে খুব করে চায়, ভালোবাসে নেতা মশাইকে। নিজের কোনো বোন না থাকায় সে শুভ্রাকে নিজের আপন বোনের মতোই ভালোবাসে। সেই বোন কষ্ট পাবে ভেবে বুকের মধ্যে হালকা চিনচিন ব্যাথা অনুভব করছে সে।
এতক্ষণ দর্শকের ভূমিকা পালন করা আজমল শিকদার বলে উঠলেন,

"মেয়েটা কে খোজ নেও আসাদ। তোমার ছেলে কোনো মেয়েকে পছন্দ করেছে , নিশ্চই মেয়েটার ভিতরে এমন কিছু দেখেছে যা ওর ভালো লেগেছে। না হলে তোমার যে ছেলে ৩১ বছরে এসেও বিয়ে করতে নারাজ। এটা তোমার ছেলেতো নাকি হাসপাতালে বদলিয়ে এনেছো।বিয়ে পাগলা বাপের বিয়ে নারাজ ছেলে।"

আসাদ শিকদার তাকান তার বাবার দিকে তো আরেকবার নীলিমা শিকদারের দিকে। নীলিমা শিকদার তার ননদ আরিফা তালুকদার কে নিয়ে চলে গেলেন রান্না ঘরের দিকে। পিছনে তার নিজের বোন আর ভাবীও গেলো। এখানে থাকলে নির্ঘাত লজ্জায় পড়তে হবে।

" নানু, মামাইকে বিয়ে পাগলা কেনো বললে?"

জিজ্ঞেস করলো রাইমা।সকলে আগ্রহ নিয়ে তাকালো আজমল শিকদারের দিকে। আসাদ শিকদার বার বার বারণ করছে আজমল শিকদার কে। কিন্তু নাহ্ শুনলো না ওনার কথা।

" তোমার মামাইএর যখন ২৩ বছর তখন আমাকে এসে বলেছিলো সে একটা মেয়েকে ভালবাসে তাকে বিয়ে করতে চায়। আমি প্রথমে বারণ করি। কারণ ওর তখনও প্রাপ্ত বয়স হয়নি। কিন্তু শুনলে তো আমার কথা। ধন্যায় বসে যায় তোমার মামাই। না খেয়ে দেয়ে পাগলামি শুরু করে। মেয়েটা কে ছিল জানো? তোমাদের মামি মা।অবশেষে উপায় না পেয়ে দিয়ে দিলাম বিয়ে।"

উপস্থিত সকলে উচ্চস্বরে হেসে উঠে। আসাদ শিকদার না পারছেন মাটির ফাঁক করে ঢুকে যেতে। ছোটো বাচ্চাদের সামনে দিলো তো তার মান সম্মানের খিচুড়ি বানিয়ে।

ফাহিম এতক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলো। কিন্তু আর চুপচাপ থাকতে পারলো না। হেসে উঠলো সে।

" আরে ফাহিম , আসো এখানে আসো।"

" না দাদু। এখানেই ঠিক আছি। বস কিছুক্ষনের মধ্যে ডাকবে।"

ফাহিমের কথা শেষ হতে না হতে আরহামের ডাক পড়ল। তড়িঘড়ি করে আরহামের রুমের দিকে যেতে লাগলো ফাহিম। দেখে মনে হচ্ছে কোনো পারেনি তাড়া করছে তাকে।
তার কাণ্ড দেখে সকলে আরেকদফা হেসে উঠলো। এই আরহামকে বাড়ির সকলে জমের মতো ভয় পায়।
সকলের মাথায় এখন একটা মাত্র চিন্তা , মন্ত্রী আরহাম শিকদার কোনো মেয়েকে পছন্দ করেছে,মেয়েটি কেমন হবে ।

_________

শাওয়ার নিয়ে বের হলো আরহাম। কিছুক্ষন আগেই ফাহিম কে বাসা পাঠিয়েছে সে। বেলকনিতে থাকা ইজি চেয়ারে বসে আরহাম। তার মস্তিষ্কে বার বার হানা দিচ্ছে সকালের ঘটনা।
সকালের ঘটনা যেনো তার চোখের সামনে বার বার ভেসে উঠছে। মেয়েটাকে তার চেনা চেনা লাগছিল। মনে হচ্ছিলো এর আগেও দেখেছে সে মেয়েটাকে। তার ভাবনার ছেদ ঘটে মায়ের কথায়।

" খোকা, হেয়ালি না করে মেয়েটার সকল তথ্য দে।"

" কোন মেয়ে?"

ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করে আরহাম।অবাক হয়ে যান নীলিমা শিকদার। তার ছেলের আবার কোন দিন থেকে ভুলে যাওয়া রোগ হলো?

" তোকে বললাম না হেয়ালি করবি না।যা তোকে কিছু করতে হবে না , শুধু আমার বউমার একটা ছবি আর নাম্বার দে।"

কুঁচকানো ভ্রু জোড়া যেনো কুচকে যায় আরহামের। ভালোভাবে তাকায় সে মায়ের দিকে। নাহ্, দেখেতো মনে হচ্ছে না তার মা তার সাথে মজা করছে।

" আমি কবে বিয়ে করলাম মা? তুমি আমার বউ কোথায় পেলে?"

ছেলের কথায় আবার যেনো অগ্নিমূর্তি ধারণ করলেন নীলিমা শিকদার। হালকা চেঁচিয়ে উঠলেন তিনি।

" খোকা, আমাকে কি দেখে মনে হচ্ছে আমি তোর সাথে মজা করছি? ড্রয়িং রুমে যে বলে এলি কাকে নাকি তুই পছন্দ করিস। তার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবো।"

কুচকানো ভ্রূজোড়া আপনা-আপনি সমান হয়ে গেলো আরহামের। মস্তিষ্কে একটু চাপ প্রয়োগ করতেই মনে পড়ে গেলো ড্রয়িং রুমে বলা কথাগুলো। নিজে-নিজেই চমকে উঠে আরহাম। তখন যা বলেছিলো একপ্রকার আনমনেই বলেছিল সে। কার বর্ণনা দিয়েছিলো সে সকলের সামনে?
চোখের সামনে ভেসে উঠল সকালের মেয়েটির চোখ জোড়া। হ্যাঁ সে সেই চোখের বর্ণনাই দিয়েছিল। কিন্তু কেনো? নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলো আরহাম।

_________

চলবে……
নেক্সট পর্ব পেতে ফলো করুন 👉 Md Sobuj কমেন্ট চেক করবেন নেক্সট পার্ট কমেন্ট দিয়ে থাকি

অবশ্যয় জয়েন থাকবেন ☛ রোমান্টিক প্রেমের গল্প >ツ 👈এই বক্সে এ কিলিক করবে জয়েন হবেন সমস্ত গল্পের লিং গুরুপ এ সিয়ার করা হয়

11/07/2024

গল্পঃ : নাম_ভরসা
পর্ব ১ (১৮+ এর নিচে পড়বেন না)
লেখকঃ #সবুজ খানツ
আমার স্বামী মা*রা যাওয়ার ২মাস পর থেকে স্বামীর আপন ভাই রাতে আমাকে খা*রাপ ভাবে স্প*র্শ করতে চাই।কয়েকদিন বিষয়টা বুঝতে না পারলেও পরে আমি বুঝতে পারি।
একদিন রাত ১২ টাই সে আমার রুমে ঢুকে আমাকে নানান ভাবে তার কথার ছলে খা*রাপ উ'দ্দেশ্যে ছু'তে চেয়েছে।আমি বলেছি বাসায় সবাইকে জানিয়ে দিব।সে মোটেও ভয় পাচ্ছে না কারণ আমার কথা কেউ বিশ্বাস করবে না সে কথা আমার দে'বর খুব ভালো করে জানে।আমি নিজেও নিশ্চিত কোনো প্রমান ছাড়া আমাকে কেউ বিশ্বাস করবে না।উল্টো আমার উপর দো'ষ চাপাবে।ইদানিং আমি এইটাও খেয়াল করছি সে আমার দিকে কেমন কেমন দৃষ্টিতে তাকায়।
আমার ২বছরের একটা বাচ্চা আছে আমার স্বামী ২ মাস আগে রোড এ'ক্সেডে'ন্টে মা*রা যায়।এখন আমার মানসিক অবস্থা কেমন তা কেবল আমি জানি।মানুষটা গত হওয়ার পর কেমন যেনো একা হয়ে গেছি।তাছাড়া আমার শাশুড়ীর সাথেও আমার সম্পর্ক তেমন ভালো না।স্বামী মা*রা যাওয়ায় তিনি আমাকে অপয়া আর পু'ড়া কপালি ছাড়া আর কিছুই ভাবেন না।
সবার মন র'ক্ষা করে আমাকে চলতে হয়।এখন ই'নকামের একমাত্র পথ আমার একমাত্র দেবর।আমি খুব ভয়ে থাকি সে কখন আমার রু'মে ঢুকে যায়।
রোজ রাতে এখন ঠিক ভাবে ঘুমাতে পারি না।দরজা ভালো করে আটকাই।তাও কেমন যেনো ভয় লাগে।বাচ্চাটাকে শক্ত করে জ'ড়িয়ে ধরে থাকি।ভীষণ একা আর ভয় লাগে।
আমার শাশুড়ী আর শশুর কোথায় যেনো গিয়েছে। আমি জানতাম না যে তারা বাসায় নেই।আমার দেবর আমি আর আমার বাচ্চা আছি বাসায়।আমি রান্না ঘরে কাজ করছি আর মনে মনে ভাবছি রা'তেরবেলা আমাকে ভ'য় দেখালেও দিনে হয়তো সে এমনটা করবে না।কিন্তু দিনেরবেলা সে আরো ভ'য়ানক!রান্না ঘরে এসে আমার হাত ধরে ফেলল আমি জো'র করে ছা'ড়ানোর চেষ্টা করছি।কোনো লাভ হচ্ছেনা।ভাগ্যক্রমে দরজায় কে যেনো বারি দিচ্ছে।আমার দেবর আমার হাত ছেড়ে দিয়ে ভয়ে নিজেই দরজা খু'লতে চলে গেলো।দরজা খু'লতে দেখে আমার শশুর আর শাশুড়ী।।
দিন দিন ভয়টা বেড়ে চলেছে। সবসময় একটা ভ'য়ের মধ্যে কা'টছে আমার প্রতিটা দিন।আমার নিজেরবাবা মা বেঁ'চে নেই।একটা ভাই আছে সেও তার পরিবার চালাতে হিমসিম খাচ্ছে আমাকে কি করে ভরনপোষণ দিবে।তাছাড়া আমার একটা বাচ্চাও আছে।তার দায়িত্ব কে নিবে।
সব কিছু চিন্তা করে এই ঘরে এত অনিশ্চয়তা মধ্যে পরে আছি।কোথায় যাবো আর!লেখাপড়াও তো জানি টুকটাক!তেমন ভলো চাকরিও পাওয়ার আশা নেই।শাশুড়ীকে সব কিছু খু'লে বললে তিনি হয়তো বিশ্বাস করবেন।কিন্তু আমার কাছে তো যথাযথ প্রমাণ নেই।যেটা দিয়ে তাকে আমি বিশ্বাস করাতে পারবো।
আমার স্বামী যখন বেঁ'চে ছিলেন তার ভাই এমনটা ছিল না।আমাকে সম্মান দিয়ে কথা বলতো।আমার বাচ্চাটাকেও আদর যত্ন করতো।আর এখন!
একদিন আমি আমতাআমতা করে শাশুড়ীর রুমে গেলাম।গিয়ে তাকে সবটা খু'লে বললাম। তিনি আমার কাছে প্রামাণ চাইছেন। আমার কাছে তো প্রমাণ নেই।আমি শাশুড়ী কে বললাম আজকের রা'তটা আমার সা'থে থা'কতে।তবে সে কথা যেনো আমার দেবর কোনোভাবে জানতে না পারে।আমার খুব অবাক লাগছে এই প্রথম বার তিনি আমাকে বিশ্বাস করেছেন দেখে।যাই হোক যেই বলা সেই কাজ।
প্রতিদিন আমি ভয় পেয়ে লাইট অন করে ঘুমায় আজকে লাইটটা অফ করে ঘুমালাম।ঘুমালাম বললে ভুল হবে ঘুমের অভিনয় করছি।পাশে আমার শাশুড়ী। রুমটা এতটা অন্ধকার করে রেখেছি যে দেখে বুঝার উপায় নেই আমি ছাড়া রুমে কেউ আছে দরজাটাইও খু'লা রেখেছি।
রার ১ টা বাজতে না বাজতে আমার দেবর রু'মের দিকে আসছে।আমি স্প'ষ্ট বুঝতে পারছি।শাশুড়ী জেগে আছেন তখনো।
দেবর আমার রুমে ঢুকে আমার হাত ধরতেই আমি আমি লাইট দিয়ে দিই।আমার শাশুড়ী এখন একেবারে অবাক।তবে সেটা আমাকে বুঝতে দিচ্ছেন না।
আমার দে'বরের চেহারাও দেখার মত।সে তো আরো অবাক তার মাকে দেখে।
চলবে...
গল্প: নাম_ভরসা
পর্ব ১
নেক্সট পর্ব পেতে ফলো করুন 👉 একাকিত্ব জীবন 彡 কমেন্ট চেক করবেন নেক্সট পার্ট কমেন্ট দিয়ে থাকি

অবশ্যয় জয়েন থাকবেন ☛ রোমান্টিক প্রেমের গল্প >ツ 👈এই বক্সে এ কিলিক করবে জয়েন হবেন সমস্ত গল্পের লিং গুরুপ এ সিয়ার করা হয়
গল্পটি কেমন হয়েছে জানাবেন ভালো হলে বাকি পর্ব লিখবো নাহলে এখানে শেষ।

26/06/2024

🪴🪴🪴এখানে পোক আছে কে কে বলতে পারবে এটা কি পোক কমেন্টে জানাবেন সবাই🪴🪴🪴

26/06/2024

🥰🍀🙄🥰🍀🥰🤭🍀🍀কেমন হলো পিকটা
কমেন্টে জানাবেন 👌🥴🐈🥴👎🌴🌲😁🌴

05/06/2024

❤️❤️আমাদের এলাকার শিল্পী ❤️❤️
🪴🪴সবাই দোয়া করেন তারা 🪴🪴
🫶🫶যেন আরো ভালো গান🫶🫶
🦋🦋গাইতে পারে ভবিষ্যতে 🦋🦋

11/04/2024

🌿🌿🌿🌿সবাইকে ঈদ মোবারক🌿🌿🌿🌿

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Address

Sylhet
Dhaka
3000