Faiza’s Lifestyle
May Allah always help us
16/04/2026
01/03/2026
আজকে একটা পোস্টে দেখলাম, এক মা তার ছয় বছরের মেয়েকে হারিয়েছেন। রাত ৯ টার দিকে বাচ্চা বলেছিল পাশের বাসায় খেলতে যাবে। পরিচিত ফ্ল্যাট, চারপাশে পরিচিত মানুষ, মা হয়তো ভেবেছিলেন নিরাপদ। যদিও এসব ভরসা করার মতো বাস্তবতা এখন আর নেই। রাত ১০টা বাজে, মেয়ে ফেরে না। খোঁজাখুঁজি, মাইকিং, তারপর যে জায়গায় শিশুটিকে পাওয়া গেছে, সেটা কোনো মায়ের জন্য কল্পনারও বাইরে এক দুঃস্বপ্ন। সেফটি ট্যাংকের ভেতর তার লাশ পাওয়া যায়। বাচ্চাটির মুখের ভিতরে নাকি অনেকগুলো বিস্কুটের গুঁড়া ছিল। বিস্কুট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে হয়তো নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। অথবা যেন চিৎকার করতে না পারে সেজন্য জোরপূর্বক মুখের ভিতর বিস্কুট ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শিশুটির নাম তাহিয়া তাসনিম। পশ্চিম রামপুরায় তাদের বাসা। এই বয়সে তার পৃথিবী হওয়া উচিত ছিল খেলনা, কার্টুন আর মায়ের কোলে নিশ্চিন্ত ঘুম। কিন্তু আমরা এমন এক সময়ে বেঁচে আছি, যেখানে একটা শিশু রাত ৯টার পর বাসার কাছেই কোথাও গেলেও নিরাপদ না।
ঘটনার পর যা বেশি চোখে পড়লো, তা হলো পোস্টের মন্তব্যগুলো। মায়ের ১০০% দোষ! কেমন মা! এরা মা না অন্য কিছু?
আমি নিজেও একজন মা। আমারও ভয় লাগে। আমিও কখনোই একা বাচ্চাকে বাইরে দেই না। আমিও রাত ৯ টা বাজলেই বাচ্চাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দেই। কিন্তু একটা কথা ভাবি, দুর্ঘটনা কি সবসময় অবহেলার ফল? নাকি কখনও কখনও আমরা পরিচিত জায়গাকে অতিরিক্ত নিরাপদ ভেবে ভুল করি?
ছয় বছরের একটা বাচ্চা, একই বিল্ডিং, ফুফু থাকে, পরিচিত পরিবার আছে একাধিক, মা হয়তো ভাবতেই পারেননি এমন কিছু হতে পারে। বিপদ প্রতিদিন আসে না, কিন্তু যখন আসে, তখন একটা পরিবারকে সারাজীবনের জন্য ভেঙে দেয়। বিপদ কেবল দূর থেকে আসে না, খুব কাছ থেকেও আসতে পারে।
একজন শোকাহত মাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আগে আমাদেরও কি একটু ভাবা উচিত? হ্যাঁ, সতর্ক থাকা জরুরি। হ্যাঁ, সময় খারাপ। হ্যাঁ, সন্তানদের নিরাপত্তায় আমরা কখনোই অতিরিক্ত সাবধান হতে পারি না সবসময়। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতাই হয়তো আছে। কিন্তু একই সাথে মনে রাখা দরকার, দোষী সে, যে ক্ষতি করেছে।
একজন মা তার সন্তানের মৃত্যু দিয়ে শিক্ষা নিতে চায় না।
তার ভুল যদি থেকেও থাকে, তার শাস্তি সে ইতিমধ্যেই সারাজীবনের জন্য পেয়ে গেছে। ৬ বছরের একটা শিশুকে রাত ৯টার পর একা বাইরে যেতে দেওয়া নিরাপদ সিদ্ধান্ত না। বিশেষ করে বর্তমান বাস্তবতায়। এটা আমরা শিক্ষা হিসেবে নিতে পারি। কিন্তু এই ভুল সিদ্ধান্ত কখনোই অপরাধের সমান না। একজন মা হয়তো ভুল করেছে, কিন্তু অপরাধ করেছে সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা, যারা শিশুটার ক্ষতি করেছে।
একজন মা তার সন্তানের লাশ চায় না, কখনোই না। তার বুকের শূন্যতা আমরা কেউ কল্পনাও করতে পারবো না। তবে এই ঘটনা আমাদের সবার জন্য সতর্কবার্তা। বাচ্চারা পরিচিত জায়গাতেও একা নিরাপদ না, এটা মানতে হবে।
নজরদারি, সময় বেঁধে দেওয়া, সরাসরি দিয়ে আসা, নিয়ে আসা, এগুলো এখন বিলাসিতা না, প্রয়োজন।
কিন্তু বিচার করার আগে একটু সহানুভূতি দেখাই। কারণ আজ যার ঘরে এই দুর্ঘটনা হয়েছে, কাল সেটা আমাদেরও হতে পারে। আল্লাহ মাফ করুন। আমরা বিচার চাই। আমরা নিরাপত্তা চাই। আমরা এমন একটা দেশ চাই যেখানে ৬ বছরের একটা শিশুকে নিয়ে মা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।
আল্লাহ সব সন্তানকে হেফাজতে রাখুন। আর আমাদেরকে দায়িত্বশীল ও মানবিক, দুটোই বানান।
01/03/2026
একজন নারীর পোস্টে একজন পুরুষের কমেন্ট, "আমি তো আপনার মতো স্বামীর ঘাড়ে বসে খাই না। আমি চাকরি করি, আমার এত সময় নেই।"
ঘটনা হলো...
এক মহিলার পোস্ট পড়লাম। পোস্টে সে লিখেছে, তার স্বামী সবসময় বাচ্চাকে মাঝখানে রেখে ঘুমায়। স্ত্রী বেচারা এক কিনারায় শুয়ে থাকে। একদিন বাচ্চা খেলতে খেলতে কিনারায় ঘুমিয়েছে। মহিলা বাচ্চা আর স্বামীর মাঝখানে শুয়ে আছে। হঠাৎ তার স্বামী ঘুম ভেঙে বাচ্চাকে না পেয়ে খুঁজতে শুরু করে এবং খুঁজে পেয়ে ঘুমন্ত বাচ্চাকে মাঝখানে এনে শুইয়ে দিয়ে তারপর সেও ঘুমিয়ে যায়।
মহিলা বিস্তারিত বর্ণনায় বুঝিয়েছে, তার স্বামী স্ত্রীর চেয়ে তার সন্তানকে বেশি ভালোবাসে।
লাস্ট লাইনে মহিলা লিখেছে, কেউ বাচ্চাওয়ালা বিয়াত্তা ব্যাডা বিয়ে কইরেন না কখনও।
পোস্টটা আমি শটকাটেই লিখলাম। ওই পোস্টে আমি মন্তব্য করার প্রয়োজনবোধ করি নাই। কারণ আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এর ওর পোস্টে মন্তব্য না করে নিজের ওয়ালে এসে রচনা লিখে মন্তব্য করব।
মহিলার পোস্ট দেখে আমি একটু কনফিউজড হয়েছি এই ভেবে যে, সে বাচ্চার সৎমা হলে লিখাগুলো এমন হতো না। বরং সে করুণভাবে নিজেকে তুলে ধরতো। যেন সে অসীম নির্যাতিত। এবং স্বামীর এক'শটা দোষও তুলে ধরতো। বরং সে ঠিক আমার মতো করে (ফানি ভাবে) দুঃখের ঘটনা লিখেছে। যেমন, আমি দুঃখের ঘটনা লিখলে অডিয়েন্স আনন্দিত হয়ে হাহা রিয়্যাক্ট দেয়।
মহিলার পোস্টের কমেন্টে গেলাম। একজন কমেন্ট করেছে, "বাচ্চা যদি অসুবিধাই হয় তবে বিয়ে কেন করেছেন বাচ্চার বাবাকে?"
মহিলা রিপ্লাই দিয়েছে, "টাকার জন্য বিয়ে করেছিলাম। এখন বুঝেছি ঠিক হয়নি তাই সবাইকে সাবধান করার জন্য পোস্ট করেছি।"
তার এই রিপ্লাই দেখে আমি বুঝে ফেলেছি, সে এটা ফানি পোস্ট করেছে। বাচ্চাটা মূলত তার নিজের। টাকার জন্য কোনো মেয়ে বিয়ে করলে সেটা সে স্বীকার করবে না কখনও।
তাই এই ভদ্রমহিলা টাকার জন্য বিয়ে করে নাই। এটা আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে বুঝেছি। আরেকটা বিষয় হলো, ফ্রেন্ড এবং ফলোয়ারসরা জানে, পোস্টদাতার লেখার ক্যাটাগরি। মাঝখানে কিছু অচেনা লোকজন এসে লেখার মিনিং না বুঝে কমেন্ট বক্সকে গোয়ালঘর বানিয়ে ফেলে।
এরপরের রিপ্লাইতে লোকটা রচনার মতো বিশাল লম্বা লিখেছে। যেখানে পোস্টদাতা মহিলাকে ছোট করে অসম্মান করে লিখা হয়েছে।
মহিলা রিপ্লাই করেছে, "এত বড় রচনা না লিখে অন্য কোনো কমেন্ট দেখলে বা আমার অন্য কোনো পোস্ট দেখলেই তো সত্যি ঘটনা বুঝতে পারতেন।"
লোকটা ত্যাড়ামি করে লিখছে তার অন্য কমেন্ট পড়ার সময় নাই কারণ সে চাকরি করে। পোস্টদাতা মহিলার মতো স্বামীর ঘাড়ে বসে সে খায় না।
এরমধ্যে একজন রিপ্লাই করেছে, "আপু এমন করেই ফানি পোস্ট করেন। আপুর তিনটা বাচ্চাই আপুর নিজের।"
এই কমেন্ট দেখার পরেও লোকটা রিপ্লাইতে তর্ক করেই চলেছে।
আমার আজকের লেখার মূল বিষয় হলো এটাই, "মহিলা স্বামীর ঘাড়ে বসে খায়।"
আমি সাধারণত কেউ মেনশন না করলে এবং ক্লোজ বন্ধুবান্ধব না হলে যেচে কারও কমেন্টের রিপ্লাই করি না। এটা আমার সভ্যতা এবং ভদ্রতা। তাই ওই লোকটাকে কিছু বলতে পারিনি। নইলে স্বামীর ঘাড়ে বসে খাওয়ার জবাব তাকে আমি দিতাম।
প্রথম কথা হলো, লোকটা চাকরি করে তাই অন্য মানুষের পোস্টের অন্য কমেন্ট পড়ার সময় তার নাই অথচ সে রচনা লেখার মতো লম্বা কমেন্ট করার সময় ঠিকই পেয়েছে এবং নন স্টপ সে রিপ্লাইতে তর্ক করার সময় পাচ্ছে। ইভেন সে ওই মহিলার পোস্ট পড়ার সময় ঠিকই কিন্তু পেয়েছে।
ভাই, দেশের কোটি কোটি ছেলেরা চাকরি করে। সবাই বলে বেড়ায় না।
দ্বিতীয়ত, কে কার ঘাড়ে বসে খাবে এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। স্বামীর ঘাড়ে বসে খাওয়া তো অবৈধ কিছু নয়, অশ্লীল কিছু নয়, পাপ নয়।
তৃতীয়ত, নারীরা চাকরি করলে আপনারা সেটাকে ভালো দৃষ্টিতে দেখেন না। অনেক পুরুষ (সবাই না) চাকরিজীবি নারীদেরকে নারীবাদীও মনে করেন। কেউ কেউ (সবাই না) তো চাকরিজীবি নারীদেরকে চরিত্রহীনও মনে করেন কারণ তারা পুরুষ কলিগদের সাথে কাজ করে। কোনো পুরুষের বউ চাকরি করলে আপনারাই বলেন, বউ এর কামাই খায়।
কী রে ভাই, ঘাড়ে বসে খাইলেও আপনাদের সমস্যা, চাকরি করে খাইলেও আপনাদের সমস্যা, এত সমস্যা কেন আপনাদের?
একসময় আমার মা চাকরি করতে চেয়েছিলেন কিন্তু আমার বাবা করতে দেননি। এখন কেউ যদি বলে, আমার মা আমার বাপের ঘাড়ে বসে খায়। আরেহ ভাই, তোর তো বুঝতে হবে যে, কিছু পুরুষ তার বউকে ভালোবেসে ঘাড়ে বসিয়ে খাওয়াতে পছন্দ করে।
যেমন, আমি নিজে চাকরি করা পছন্দ করি না।আমি তো বিয়ের পর স্বামীর ঘাড়ে বসে শুধু খাব না, ঘাড়ের উপর ঘুমাব, ঘাড়ে উপর গোসল করব, ঘাড়ে বসে রান্নাবান্না করব, এমনকি ঘাড়ে বসে রিলসও দেখব। মাঝে মাঝে স্বামীর মাথায় উঠে তার পাকা চুল গুনবো। কখনও কখনও তার গলা ধরে দোল খাব। আমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কিছুতেই তার ঘাড় থেকে নামবো না।
স্বামী আমার, স্বামীর ঘাড়ও আমার; সেই ঘাড়ে আমি কী কী করব তা নিয়ে কটুক্তি করার বা খোঁচা মারার আপনারা কেউ নন। এই খোঁচাদাতারাই হলো এই সমাজের সবচেয়ে অসভ্য জাতি। তবে আপনারা একটা বিষয় নিয়ে কথা একশবার বলতে পারেন, যদি আমি নিজের স্বামীর ঘাড়ে না বসে অন্য মহিলার স্বামীর ঘাড়ে বসে খাই।
একজন নারী চাকরি না করলেও বাসায় বসে বসে সে খায় না। আপনার পরিবারের জন্য রান্নাসহ সমস্ত কাজ করা, আপনার সন্তান লালন পালন করা, এই বেতনহীন নারীদের মর্যাদা দিতে শিখুন। দিন শেষে আপনার মা একজন নারী, আপনার কন্যাও একজন নারী।
(কিছু ছোটলোক, চামার পুরুষদের উদ্দেশ্যে লিখলাম। দুঃখ একটাই, এই চামারগুলো নারীর পেট থেকেই জন্ম নিয়েছে।)
Silence is the best answer for all questions.
Smiling is the best reaction in every situation.
Hope is the best light for all darkness.
Forgiveness is the best freedom from all pain.
And you are the best creation of a loving heart.
Good Night Everyone ❤️❤️
Never Blame Anyone In Your Life; Good People Give You Happiness; Bad People Give You Experience; Worst People Give You A Lesson; And Best People Give You Memories.
Good Morning 🌅
বাবার ত্যাগ..
বাস্তব ঘটনা …..
১৯১৭ সালের অক্টোবর মাসে, ইতালীয় অভিবাসীদের নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী জাহাজ ভয়াবহ আটলান্টিক ঝড়ের কবলে পড়ে। সেই জাহাজে ছিলেন ২৮ বছর বয়সী কাঠমিস্ত্রি আন্তোনিও রুসো এবং তার ৫ বছরের মেয়ে মারিয়া। আন্তোনিওর স্ত্রী ২ বছর আগে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান। দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে মেয়েকে এমন এক ভবিষ্যৎ দিতে, যা ইতালি দিতে পারেনি, আমেরিকাই ছিল তার শেষ আশার জায়গা।
রাত ২টায় বিশাল ঢেউ জাহাজের ডেকের উপর আছড়ে পড়ে। তৃতীয় শ্রেণির যাত্রীদের ঘুমানোর নিচের অংশগুলোতে পানি ঢুকে যায়। জাহাজটি হঠাৎ তীব্রভাবে কাত হয়ে পড়ে। করিডোর জুড়ে চিৎকার ছড়িয়ে পড়ে, মানুষ আতঙ্কে সিঁড়ির দিকে ছুটতে থাকে—একে অন্যকে ধাক্কা দিতে দিতে, পিষে ফেলতে ফেলতে। আন্তোনিও তাদের খাট থেকে মারিয়াকে তুলে নেন এবং বাড়তে থাকা পানির ওপরে তাকে তুলে ধরে সামনে এগোতে থাকেন। কিন্তু ভিড় ছিল খুব ঘন, পানি বাড়ছিল খুব দ্রুত, আর জাহাজের ঢাল খুব বেশি খাড়া।
আন্তোনিও ভয়ংকর সত্যটা বুঝে যান—তারা লাইফবোটে পৌঁছাতে পারবে না।
আর মাত্র কয়েক মিনিট সময় ছিল।
এই বিশৃঙ্খলার মাঝেই তিনি একটি ভাঙা জানালার মতো ছিদ্র (পোর্টহোল)-এ পৌঁছান, যা ঝড়ে ভেঙে গিয়েছিল। সেটি কেবল একটি শিশুর যাওয়ার মতোই বড়। তার ওপারে ছিল কালো, বরফশীতল আটলান্টিক মহাসাগর। দূরে তিনি পানির ওপর দিয়ে সার্চলাইটের আলো ঘুরতে দেখলেন—উদ্ধারকারী নৌকা আসছিল।
তিনি মারিয়ার দিকে তাকালেন— মেয়ে ভয়ে কাঁপছে, মায়ের জন্য কাঁদছে, তাকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে আছে।
আর তখনই তিনি এমন একটি সিদ্ধান্ত নিলেন, যা তার জীবনকে সংজ্ঞায়িত করে দেবে।
আন্তোনিও তার মেয়েকে সেই ছিদ্র দিয়ে ঠেলে দিলেন।
মারিয়া সমুদ্রে পড়ে গিয়ে চিৎকার করে উঠল। ঝড়ের গর্জন ভেদ করে আন্তোনিও তার দিকে চেঁচিয়ে উঠলেন—
“সাঁতার কাটো, মারিয়া! আলোর দিকে সাঁতার কাটো! জাহাজ আসছে! সাঁতার কাটো!”
তিনি জানতেন, তার মেয়ের বাঁচার একটা সুযোগ আছে।
তিনি জানতেন, তার নিজের বাচার উপায় নেই।
৭ মিনিট পর জাহাজটি ডুবে যায়। ডেকের নিচে আটকে পড়া তৃতীয় শ্রেণির আরও ১১৭ জন যাত্রীর সঙ্গে আন্তোনিও রুসোও ডুবে মারা যান। তার দেহ আর কখনো পাওয়া যায়নি।
৪৫ মিনিট পরে মারিয়া রুসোকে পানি থেকে উদ্ধার করা হয়—তীব্র হাইপোথার্মিয়া ও প্রায় ডুবে যাওয়ার অবস্থায়, কিন্তু জীবিত। তাকে কম্বলে মুড়ে একটি হাসপাতাল জাহাজে নেওয়া হয়। সে তখন মাত্র ৫ বছরের একটি শিশু—অনাথ, মানসিকভাবে বিধ্বস্ত, এক বিদেশি দেশে, ইংরেজি বলতে অক্ষম।
সে শুধু তার বাবার শেষ কথাগুলোই মনে রেখেছিল—
“আলোর দিকে সাঁতার কাটো।”
মারিয়াকে নিউইয়র্কের একটি অনাথ আশ্রমে রাখা হয়। বহু বছর সে বিশ্বাস করত, তার বাবা হয়তো এখনও বেঁচে আছেন। কেউ তাকে আন্তোনিও রুসোর ভাগ্যের কথা বলতে পারেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আশা রূপ নেয় বিভ্রান্তিতে… তারপর যন্ত্রণায়। সে এমন এক অচিন্তনীয় বিশ্বাসে পৌঁছে যায়—তার বাবা তাকে ফেলে দিয়েছেন, সে ভেবেছিলো সমুদ্রে ছুড়ে দেওয়ার মানে তিনি তাকে বাচাতে চাননি।
এই বিশ্বাস নিয়েই সে ২৫ বছর বেঁচে ছিল।
সে ৩০ বছর বয়সে গিয়ে সত্য জানতে পারে। ১৯১৭ সালের সেই জাহাজডুবির যাত্রী তালিকা পর্যালোচনা করতে গিয়ে এক গবেষক মৃতদের তালিকায় আন্তোনিও রুসোর নাম খুঁজে পান। তখনই মারিয়া জানতে পারে তার বাবা কী করেছিলেন—
আসলে মেয়ে বাঁচুক বলেই তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।
মারিয়া রুসো ২০০৪ সালে, ৯২ বছর বয়সে মারা যান।
১৯৯৫ সালে, ৮৩ বছর বয়সে, জাহাজডুবি নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার গল্প বলেন—
“আমি ভেবেছিলাম আমার বাবা আমাকে মেরে ফেলছেন। বুঝতে পারিনি, তিনি আমাকে বাঁচাচ্ছিলেন। বহু বছর ধরে ভেবেছি, তিনি আমাকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। আসলে তিনি আমাকে জীবনের দিকে ছুড়ে দিয়েছিলেন।”
মারিয়া পরে বিয়ে করেন। তার চার সন্তান, নয় নাতি-নাতনি এবং ছয় প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী হয়—মোট ৩১ জন উত্তরসূরি, যারা আজ অস্তিত্বশীল শুধুমাত্র একজন মানুষের অন্ধকার আটলান্টিকে নেওয়া অসম্ভব এক সিদ্ধান্তের কারণে।
“আমার জীবনের প্রতিটি জন্মদিন, প্রতিটি ভালো মুহূর্ত আছে, কারণ আমার বাবা নিজেকে নয়—আমাকে বেছে নিয়েছিলেন। প্রতিরাতে আমি সেই জানালার ফাঁকে তার মুখ দেখি। আমি তাকে চিৎকার করতে শুনি—‘আলোর দিকে সাঁতার কাটো’। ৭৮ বছর ধরে আমি আলোর দিকেই সাঁতার কেটে চলেছি। আশা করি, আমি তাকে গর্বিত করতে পেরেছি।”
বাবা আন্তোনিও রুসো সম্পর্কে তার মেয়ের শেষ কথাগুলো ছিল খুবই সহজ—
“ধন্যবাদ, বাবা। আমাকে জীবনের দিকে ছুড়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। তি আমো।”
কিছু ভালোবাসার কাজ এক জীবনের গণ্ডি ছাড়িয়ে বহু প্রজন্ম ধরে বেঁচে থাকে।
আসলেই…
বাবা মানে সেই মানুষ, যে নিজে ডুবে গিয়েও সন্তানের জন্য আলো খুঁজে দেয়।
বাবা মানে নিঃশব্দ ত্যাগ, যা বুঝতে আমাদের অনেক সময় লেগে যায়।
তার শক্ত হাতটাই শেষ ভরসা, যখন পুরো পৃথিবী অন্ধকার হয়ে আসে।
কিছু বাবা বেঁচে থাকেন না—তবু সারাজীবন আমাদের বাঁচিয়ে রাখেন।
হতাশা হলো মানসিক বিষ, যা মানুষকে ভিতর থেকে ধ্বংস করে দেয়
Click here to claim your Sponsored Listing.
