Ink of Love-ভালোবাসার কালি

Ink of Love-ভালোবাসার কালি

Share

আজকের হাসি, আজকের আনন্দ-সব সময় বিনোদন।হাসি, মজা, আনন্দ-এক ক্লিকে!

16/02/2026

আমি খুবই ভাগ্যবান যে এমন একজন জীবনসঙ্গী পেয়েছি। মানুষটা আমাকে অনেক বেশি সাপোর্ট করে, যার কারণে কাজ করেও শান্তি পাই। একটা মানসিক শান্তি অনুভব করি। ওর কাছে অনেক বেশি কৃতজ্ঞ। প্রিয় মানুষটির উদ্দেশ্যে বলতে চাই, খুব ভালোবাসি তোমাকে।

16/02/2026

বিয়ে, মেকআপ ও একটি বিউটি পারলারের গল্প নিয়েই এই সিনেমা। এর মধ্যে তুলে ধরেছেন সচেতনতার বার্তা। সিনেমার জনরা সামাজিক হলেও এর সঙ্গে যোগ হয়েছে হরর ঘরানা। এর আগে মেহেরজান, আন্ডার কনস্ট্রাকশন, মেড ইন বাংলাদেশ সিনেমাগুলো বানালেও এবার প্রথম হরর বেছে নিয়েছেন তিনি। জানালেন এবারের গল্পটা তাঁর শৈশবে পারলারে চুল কাটাতে যাওয়ার দিনগুলোতে শোনা গল্প। যে গল্পের প্রধান উপাদান তাকে প্রতিবার পারলারে গিয়ে চুল কাটতে গিয়ে ভয়ের জগতে নিয়ে যেত। সেই শোনা গল্পটিই একটু একটু করে এক যুগের বেশি সময় ধরে ডানা মেলেছে। তবে সেই গল্প এখনই প্রকাশ করতে চান না।

16/02/2026

মিষ্টি জান্নাতের দুবাই সফরের বেশ কিছু ভিডিও ও ছবি নায়িকার ওয়ালে ঘুরে বেড়াচ্ছে। একটি ভিডিওতে তাকে মরুভূমিতে উটের পিঠে চড়তে দেখা যায়। সেখানে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘আমার উটটা কেমন??? এইটাকে বাংলাদেশে আনতে চাই। এই উটের দুধ খাই...

29/01/2026

ঢাকাকে আমি আগে শুধু কোলাহলের শহর হিসেবেই চিনতাম। বাসের হর্ন, ফুটপাতের ভিড়, গরমে ভেজা বিকেল এই ছিল আমার ঢাকা। কিন্তু তুমি আসার পর শহরটা ধীরে ধীরে বদলে গেল। অথবা বদলে গেল আমার চোখ।

প্রথম দিন তোমাকে দেখেছিলাম শাহবাগে, বইমেলার ভিড়ে। তুমি দাঁড়িয়ে ছিলে একটা স্টলের সামনে, হাতে একটা পুরোনো কবিতার বই। আমি জানি না কেন, ওই মুহূর্তে চারপাশের সব শব্দ থেমে গিয়েছিল। শুধু দেখেছিলাম তোমার চোখে একটা অদ্ভুত শান্তি, যেন এই বিশৃঙ্খল শহরের মাঝেও তুমি নিজের একটা নিরিবিলি জায়গা খুঁজে নিয়েছ।

আমাদের কথা শুরু হয়েছিল খুব সাধারণভাবে। “এই লেখকের বইটা কেমন?” এই একটা প্রশ্ন দিয়েই। কিন্তু ঢাকায় কিছু প্রশ্ন আছে, যেগুলো আসলে প্রশ্ন নয়, শুরু। সেদিন আমরা হেঁটেছিলাম টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত। চা খেয়েছিলাম ফুটপাতের ছোট দোকানে। চারপাশে মানুষ, ধুলো, ব্যস্ততা আর আমাদের মাঝখানে অদ্ভুত এক নীরবতা, যেটা অস্বস্তির নয়, বরং আপন হয়ে যাওয়ার।

ঢাকায় প্রেম করা সহজ না। সময় নেই, জায়গা নেই, নিশ্চিন্ততা নেই। তবু আমরা চেষ্টা করেছি। কখনো রিকশার পেছনের সিটে বসে বৃষ্টি দেখেছি, কখনো হাতিরঝিলের পাশে বসে শহরের আলো গুনেছি। তুমি হাসলে আমি বুঝতাম, এই শহর শুধু ক্লান্ত করে না এই শহর ভালোবাসতেও শেখায়।

তুমি আমাকে শিখিয়েছ ঢাকাকে ধীরে দেখতে। ফার্মগেটের জ্যামে দাঁড়িয়ে থেকেও যে মানুষের চোখে গল্প থাকে, সন্ধ্যায় চারুকলার দেয়ালে রঙ শুধু ছবি নয় অনুভূতিও। তুমি বলেছিলে, “ঢাকা সুন্দর না, ঢাকায় থাকা মানুষগুলো সুন্দর।” আমি তখন বুঝিনি, এখন বুঝি।

সব গল্পের মতো আমাদের গল্পও নিখুঁত ছিল না। ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, অপেক্ষা হয়েছে, না বলা কথার ভার জমেছে। কখনো মনে হয়েছে এই শহর আমাদের দু’জনকে একসাথে ধরে রাখতে পারবে না। ঢাকার মতো আমাদের সম্পর্কও ছিল ভাঙাচোরা, তবু বাস্তব।

আজ তুমি নেই। কিংবা আছে কিন্তু আগের মতো না। তবু ঢাকায় হাঁটলেই তোমার কথা মনে পড়ে। আজও নীলক্ষেতের কোনো চায়ের দোকানে বসলে মনে হয়, তুমি আসবে। আজও বইমেলায় গেলে তোমাকে খুঁজে ফিরি অচেনা মুখের ভিড়ে।

ঢাকা আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে ক্লান্তি, স্বপ্ন, লড়াই। আর তোমাকে। হয়তো পুরোপুরি না, হয়তো চিরকালের জন্য না। কিন্তু এমনভাবে দিয়েছে, যেটা কোনোদিন ভুলতে পারব না।

এই শহরে আমার একটা প্রেম ছিল।
ঢাকার মতোই অগোছালো, বাস্তব, আর ভীষণ সত্য।

29/01/2026

সে একদিনে সব জানতে পারেনি।
খণ্ড খণ্ড ইঙ্গিতে সত্যটা ধরা দিয়েছিল। অকারণে ফোন না ধরা, বারবার ব্যস্ততার অজুহাত, কথা বলার সময় চোখে চোখ না রাখা। আগে যে মানুষটা তাকে সব খুলে বলত, সে-ই হঠাৎ অচেনা হয়ে উঠছিল।

তিন বছর ধরে তারা একসঙ্গে ছিল। ছোট ছোট অভ্যাস, ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা, নীরব বোঝাপড়া। সবকিছুতেই ছিল এক ধরনের নিশ্চয়তা। সে বিশ্বাস করেছিল, নিঃশর্তভাবে। কারণ ভালোবাসলে মানুষ বিশ্বাসই করে।

সত্যটা আসে এক সাধারণ সন্ধ্যায়। এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু দ্বিধা নিয়ে তার নাম ধরে ডাকে। তারপর ধীরে বলে তার প্রেমিকের জীবনে আরেকজন আছে। নতুন নয়, ভুলও নয়। সম্প্রতি এবং নিয়মিত।

মুখোমুখি হলে সে অস্বীকার করেনি। সেটাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছিল। কোনো ভাঙা গলা, কোনো অনুশোচনা নয়। শুধু কিছু ফাঁপা কথা, “এটার কোনো মানে নেই।”

কিন্তু তার কাছে সেটার মানে ছিল সবকিছু।

পরের দিনগুলো ভারী আর নীরব ছিল। পুরোনো কথোপকথন, স্মৃতি। সব ঘেঁটে সে খুঁজতে থাকে, কোথায় ভুল করেছিল। নিজেকেই প্রশ্ন করে। সে কি যথেষ্ট ছিল না? এই আত্মদোষারোপটাই ছিল সবচেয়ে নিষ্ঠুর।

ধীরে ধীরে সে বুঝতে শেখে। কারও বিশ্বাসভঙ্গ তার নিজের মূল্য কমায় না।

সে নিজেকে গুছিয়ে নিতে শুরু করে। অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষা বন্ধ করে। যাদের দূরে সরিয়ে দিয়েছিল, সেই বন্ধুদের কাছে ফিরে যায়। শেখে ভালোবাসা কখনো ভিক্ষা করে চাইতে হয় না।

সে একদিনে শক্ত হয়ে ওঠেনি।
কিন্তু সে হয়ে উঠেছিল বুদ্ধিমান, নিজের সীমা সম্পর্কে সচেতন, আর পরিষ্কারভাবে জানত ভালোবাসার নামে বিশ্বাসঘাতকতা সহ্য করা কোনো শর্ত হতে পারে না।

সে হারায়নি। সে নতুন করে শুরু করেছে।

28/01/2026

সে কি কেবল ভালোবাসতেই জানে?

সে কি খুব সাধারণ একজন নারী?
নাকি তার ভেতরে লুকিয়ে থাকে অদেখা এক সমুদ্র?

রিমি প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে ওঠে সবার আগে। চুল এলোমেলো, চোখে অল্প ক্লান্তি-তবু সে হাসে। কেন হাসে সে?
কার জন্য এই হাসি?
ভালোবাসা কি অভ্যাস হয়ে যায়?

স্বামী অফিসে যায়, সন্তান স্কুলে। রিমি একা থাকে ঘরে।
এই একাকীত্ব কি তার পছন্দ?
নাকি সে শিখে গেছে একা থাকাকে ভালোবাসতে?

সে রান্না করে, ঘর গুছায়, হিসাব মিলায়। কেউ কি কখনো জিজ্ঞেস করে
তুমি কেমন আছো?
তোমার কোনো স্বপ্ন আছে?

রিমিরও ছিল। একদিন সে কবিতা লিখতে চেয়েছিল।
কোথায় গেল সেই কবিতাগুলো?
সংসারের তাকেই কি তারা চাপা পড়ে গেল?

ভালোবাসা বলতে সে কী বোঝে?
নিজেকে ভুলে অন্যদের যত্ন নেওয়া?
নাকি নীরবে সব সহ্য করা?

সে জানে, ভালোবাসা মানে শুধু পাওয়া নয়, দেওয়াও।
কিন্তু কতটা দিলে একজন নারী ফুরিয়ে যায়?
তার ক্লান্তির কোনো দাম আছে?

একদিন সন্ধ্যায় ছাদে দাঁড়িয়ে রিমি আকাশ দেখে।
এই আকাশ কি তার নিজের?
নাকি এটাও ভাগ করে নিতে হবে?

সে ভাবে ভালোবাসা কি সব সময় ত্যাগ চায়?
নারীর ভালোবাসা কি প্রশ্নহীন হতে হবে?
সে কি কখনো বলতে পারবে “আজ আমি দুর্বল”?

তার চোখে জল আসে, কিন্তু পড়ে না।
কার জন্য এই সংযম?
ভালোবাসার খাতিরে কি কান্নাও লুকাতে হয়?

রিমি জানে, সে শক্ত।
কিন্তু শক্ত হতে হতে সে কি মানুষ থাকা ভুলে যাচ্ছে?
ভালোবাসা কি তাকে বাঁচাচ্ছে, নাকি ধীরে ধীরে নিঃশেষ করছে?

রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে সে জানালার পাশে বসে থাকে।
এই নীরবতায় কি সে নিজেকে খোঁজে?
নাকি এমন এক ভালোবাসা, যেখানে তাকে প্রশ্ন করতে হবে না?

সে কি কখনো এমন ভালোবাসা পাবে
যেখানে তাকে প্রমাণ দিতে হবে না?
যেখানে তার চুপ থাকা নয়, কথা বলাটাই মূল্যবান হবে?

নাকি নারীর ভালোবাসা মানেই
সব বুঝে নেওয়া, কিছু না বলা, তবু থেকে যাওয়া?

রিমি কি ব্যতিক্রম?
নাকি সে এই সমাজের প্রতিটি নারীর গল্প?

আর তুমি
তুমি কি কখনো তার মতো কোনো নারীর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করেছ?
সে কেবল ভালোবাসে-নাকি তারও ভালোবাসা পাওয়ার অধিকার আছে?

27/01/2026

আমি রমনা এলাকায় হাঁটছিলাম। রাত গভীর, রাস্তায় লোকজন কম, গাড়ির হর্ন আর দূরের রিকশার শব্দ শুধু ভেসে আসছে। মোবাইল হাতে আমার চোখ বারবার আরিফের শেষ মেসেজে আটকে গেল-“আমরা আর সম্ভব না।”

আমাদের পরিচয় হয়েছিল অফিসে। প্রথমে কেবল বন্ধু, তারপর ধীরে ধীরে কথাগুলো ঘন হয়ে উঠল। দুপুরের কফি, বৃষ্টি ভেজা ঢাকা, ছোট ছোট হাসি। সবকিছু মনে হতো এক নতুন দুনিয়া। আমি মনে করতাম, এ সব বন্ধুত্ব নয়, এটা বিশ্বাস।

আমি তার কাছে সব খুলে বলতাম। ভয়, স্বপ্ন, আশা। আরিফ সব শুনত, হাসত, বুঝত। সে বলেছিল, “ভয় পেও না, আমি সবসময় তোমার পাশে থাকব।” সেই কথাগুলো আমার হৃদয়ে স্থির হয়ে গেছে। আমি বিশ্বাস করতাম। যে পুরুষ এতটা কথা বলছে, সে নিশ্চয় দায়িত্বও নেবে।

কিন্তু ঠিক সেই দায়িত্বই আসেনি। একদিন হঠাৎ সব বদলে গেল। ফোন বন্ধ, মেসেজে উত্তর নেই। অফিসে দেখা হলে শুধু অজুহাত। তারপর হঠাৎ একদিন বলল, “আমার পরিবার মানবে না, আমি পারছি না।”

আমি চুপচাপ ছিলাম। চোখে পানি জমে গেল, কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম ভুলটা আমার নয়। ভাঙনের দায় তার, যিনি দায়িত্বহীন। আমি বুঝলাম, ভালোবাসা শুধু বিশ্বাস দিয়ে শুরু হয় না, দায়িত্বও লাগে।

সেদিন রাতে আমি রাস্তায় হাঁটছিলাম। গাড়ির আলো আমার পায়ে পড়ছিল, শহরের শব্দ যেন আমার ব্যথার সঙ্গে মিশে গেল। আমার মনে হলো আমি ভেঙে যাইনি। ভাঙনটা আমার নয়, দায়হীনতার ফল।

আমি নিজের জন্য ঠিক করলাম আর কখনো কারো দায়িত্বহীনতায় নিজেকে হারাব না। আমি আবার বিশ্বাস করব, তবে এবার নিজের জন্য।

ঢাকার অন্ধকারে হঠাৎ এক নতুন আলো জ্বলে উঠল আমার ভেতরে। নিজের শক্তি, নিজের মর্যাদা, নিজের অধিকার। আরিফ চলে গেছে, কিন্তু আমার গল্প শেষ হয়নি। আমি আমার জীবন নিজের হাতেই গড়ব।

27/01/2026

ঢাকার মগবাজারের একটি পুরোনো অ্যাপার্টমেন্ট। চারতলার শেষ মাথার ঘরটি দিনের বেলায় প্রায়ই ফাঁকা থাকে। দরজার সামনে কোনো নামফলক নেই, শুধু বিবর্ণ রঙের একটি দরজা-যেন ইচ্ছা করেই নিজের পরিচয় লুকিয়ে রেখেছে।

নীলা প্রথম এখানে এসেছিল ভয় আর কৌতূহল একসাথে নিয়ে। স্বামীর সঙ্গে তার সম্পর্কটা বহুদিন ধরেই কাগজে-কলমে টিকে আছে। কথা হয়, কিন্তু শোনা হয় না। সংসার আছে, কিন্তু উষ্ণতা নেই। অফিসে কাজ করতে গিয়ে পরিচয় রাশেদের সঙ্গে। খুব বেশি কথা বলত না সে, কিন্তু নীলার কথা মন দিয়ে শুনত। এই ছোট ব্যাপারটাই ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠেছিল।

“এটা শুধু কথা বলার জায়গা,” রাশেদ প্রথম দিন বলেছিল।
নীলা বিশ্বাস করতে চেয়েছিল।

ঘরটি ছোট। একটি খাট, দুটো চেয়ার, জানালার পাশে পর্দা। জানালা দিয়ে ঢাকার ব্যস্ততা দেখা যায় না, শুধু আকাশের একটা টুকরো। এখানে এসে সময় থেমে যায় বলে মনে হতো নীলার। এই ঘরেই তারা দু’জন বসে চা খেত, অফিসের গল্প করত, কখনো দীর্ঘ নীরবতায় ডুবে থাকত।

কিন্তু নীরবতার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি কথা জমে।

রাশেদেরও সংসার আছে। তার স্ত্রী গ্রামে থাকে, সন্তানদের নিয়ে। শহরের জীবন, একাকীত্ব সব মিলিয়ে সে নিজেকেই বুঝতে পারছিল না। নীলার সঙ্গে দেখা হওয়াগুলো প্রথমে ছিল আশ্রয়ের মতো। পরে ধীরে ধীরে সেই আশ্রয়ই হয়ে উঠল অভ্যাস।

প্রতিবার ঘর থেকে বের হওয়ার সময় নীলার বুকের ভেতর একটা অজানা ভার জমত। আয়নায় নিজের চোখের দিকে তাকাতে পারত না সে। মোবাইলে স্বামীর মেসেজ এলেও উত্তর দিতে দেরি হতো। অপরাধবোধ আর স্বস্তি-দুটোই একসাথে বাসা বাঁধত তার মনে।

একদিন বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টি নামে। ঘরের ভেতর আলো কম, বাইরে ঝাপসা শহর। রাশেদ চুপচাপ বসে ছিল। নীলা বুঝতে পারছিল, এই চুপ থাকা স্বাভাবিক নয়।

আমরা কি ভুল করছি? নীলা প্রথম প্রশ্নটা করল।

রাশেদ উত্তর দেয়নি। জানালার দিকে তাকিয়ে শুধু বলল,
“ভুলটা কখন শুরু হলো, সেটা আমি আর মনে করতে পারি না।”

সেদিন আর বেশি কথা হয়নি। বৃষ্টির শব্দে ঢাকার কোলাহল ঢেকে গিয়েছিল, কিন্তু দু’জনের ভেতরের শব্দ থামেনি।

এরপর নীলা ধীরে ধীরে আসা কমিয়ে দিল। অজুহাত, কাজের চাপ, অসুস্থতা সবই সত্য, আবার পুরোটা সত্য নয়। একদিন সাহস করে সে রাশেদকে বলল, “আমি আর পারছি না।”

রাশেদ মাথা নেড়েছিল। কোনো অভিযোগ নয়, কোনো নাটক নয়। শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস।

শেষবার ঘরটিতে ঢুকে নীলা চারপাশটা ভালো করে দেখেছিল। এই ঘর তাদের কিছু দিয়েছিল কথা বলার সুযোগ, বোঝার অনুভূতি। আবার অনেক কিছু কেড়েও নিয়েছিল ঘুম, স্বস্তি, নিজের ওপর বিশ্বাস।

দরজা বন্ধ করার সময় নীলা বুঝেছিল, সম্পর্কটা হয়তো শেষ হলো, কিন্তু তার শিক্ষা থেকে যাবে। সম্পর্ক শুধু গোপনে টিকে থাকলেই সত্য হয় না। কখনো কখনো সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো-ভুল জায়গা থেকে সরে আসা।

ঘরটি আবার নীরব হয়ে গেল। ঢাকার হাজারো ঘরের ভিড়ে আরেকটি অচেনা ঘর, যার ভেতরে জমে রইল না বলা গল্পগুলো।

*** যদি এই গল্প আপনাকে একটু আবেগ আর ভালোবাসার অনুভূতি দেয়, তাহলে লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার করতে ভুলবেন না।

27/01/2026

নীরব শহরের গোপন গল্প...

ঢাকার সকাল মানেই কোলাহল। মিরপুর রোডে বাসের হর্ন, ফুটপাতে চায়ের কাপে ধোঁয়া, আর অফিসগামী মানুষের তাড়া। এই ভিড়ের মধ্যেই প্রতিদিন হেঁটে যেতেন রাশেদ। গুলশানের একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। সংসার আছে-স্ত্রী নীলা, একমাত্র ছেলে আদনান। বাইরে থেকে দেখলে সবকিছু নিখুঁত।

নীলা একজন স্কুলশিক্ষিকা। সংসার, সন্তান, শ্বশুরবাড়ির দায়িত্ব-সব মিলিয়ে তাঁর জীবনটা নিয়মের খাতায় বাঁধা। একসময় রাশেদের সঙ্গে গল্প, হাসি, স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই কথা কমে গেছে। এখন দু’জনের মাঝে কথা হয় মূলত বিল, বাজার আর সন্তানের পড়াশোনা নিয়ে।

একদিন অফিসে নতুন যোগ দিলেন তন্বী। ধানমন্ডিতে থাকেন, কাজ করেন মার্কেটিং বিভাগে। স্মার্ট, আত্মবিশ্বাসী, আবার অদ্ভুতভাবে সংবেদনশীল। প্রথম দিকে অফিসের কাজ নিয়েই কথা হতো। লাঞ্চ ব্রেকে কখনো কফি, কখনো হালকা আড্ডা। রাশেদ বুঝতেই পারেননি কখন এই কথাগুলো তাঁর দিনের সবচেয়ে অপেক্ষার মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।

তন্বীর জীবনও সহজ ছিল না। বছরখানেক আগে তাঁর বিয়ে ভেঙেছে। ঢাকার এই শহরে একা থাকা সহজ নয়-চারদিকে প্রশ্ন, দৃষ্টি, চাপা কৌতূহল। রাশেদের সঙ্গে কথা বলে তিনি স্বস্তি পেতেন। দু’জনেই বুঝতেন, এই স্বস্তির পেছনে কোথাও একটা শূন্যতা আছে।

একদিন অফিসের কাজে তারা একসঙ্গে পুরান ঢাকায় গেলেন। কাজ শেষে বুড়িগঙ্গার ধারে দাঁড়িয়ে শহরটাকে অন্য রকম লাগছিল। আলো-ছায়ার সেই মুহূর্তে কেউ কাউকে কিছু বলেনি, তবু নীরবতাই যেন সব বলে দিচ্ছিল। সেদিন থেকেই সম্পর্কটা বদলে যেতে শুরু করে।

তারা কখনো নিজেদের সম্পর্কের নাম দেয়নি। শুধু জানত, এই শহরের ভিড়ে তারা দু’জন দু’জনের কাছে একটু আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু ঢাকার দেয়ালগুলোরও কান আছে। গোপন কিছুই চিরকাল গোপন থাকে না।

এক সন্ধ্যায় নীলা হঠাৎ রাশেদের ফোনে একটি বার্তা দেখেন। ছোট, সাধারণ একটি মেসেজ-কিন্তু তাতে ছিল এমন এক আন্তরিকতা, যা বহুদিন তাঁর নিজের জন্য আসেনি। নীলা কিছু বলেননি। শুধু চুপচাপ ছেলের পড়ার টেবিল গুছিয়ে দিয়েছিলেন। সেই নীরবতাই ছিল সবচেয়ে ভারী।

রাশেদ বুঝলেন, ভুলের হিসাব আর লুকিয়ে রাখা যাবে না। তিনি তন্বীর সঙ্গে দেখা করলেন শেষবারের মতো। ধানমন্ডি লেকের পাশে বসে দু’জনেই জানতেন, এই গল্পের শেষ এখানেই হওয়া উচিত। তন্বী চোখের জল মুছে হালকা হাসলেন-“ঢাকা শহরটা এমনই, কিছু গল্প জন্ম নেয়, কিন্তু টেকে না।”

সময় থেমে থাকে না। রাশেদ ধীরে ধীরে সংসারটাকে নতুন করে ধরার চেষ্টা করলেন। নীলা ক্ষমা করেছিলেন কি না, তা কেউ জানে না। তবে তারা আবার কথা বলতে শিখছিলেন ধীরে, সতর্কভাবে।

ঢাকা তার মতোই রয়ে গেল-ব্যস্ত, নির্দয়, আবার অদ্ভুতভাবে মানবিক। প্রতিদিন হাজারো মানুষের ভিড়ে কত এমন গল্প জন্ম নেয়, কত গল্প হারিয়ে যায়, তার হিসাব এই শহরই শুধু জানে।

সত্য ঘটনা অবলম্বনে...

26/01/2026

কিছুক্ষণ পর, রাশেদা হঠাৎ নোটবুকের শেষ পৃষ্ঠায় লিখল, “আজকের এই ক্ষণ হয়তো শুধু একদিনের জন্য নয়, আমাদের জীবনের প্রথম দিনের প্রারম্ভ।”

শহরের নীরব দুপুর...

ঢাকার কাঁচা রাস্তায় দুপুরের রোদ ঝলমল করছে। ট্রাফিকের শব্দ দূরে, আর রাস্তার একেবারে কোণে ছোট্ট একটি বইয়ের দোকান। রাশেদা হঠাৎ সেই দোকানের সামনে থেমে দাঁড়াল। তার চোখে পড়ল পুরনো কাঠের তাকের ওপর রাখা একটি ছোট্ট, গোলাপি আচ্ছাদনের নোটবুক।

দোকানদার হাসিমুখে বলল, “এই নোটবুকটা খুব বিশেষ। যা লেখা হবে, মনে মনে পড়লে সেই অনুভূতি সত্যি হয়ে যায়।”

রাশেদা হেসে বলল, “দেখি তো।”

তার হাতে নোটবুকটা নিয়ে সে শহরের ব্যস্ততার মাঝে একটু নিঃশব্দ কোণে বসে পড়ল। খোলা পাতার ওপর কলম রেখে প্রথমে লিখল—“আজ ঢাকা শহরটা আমার মনে অন্যরকম লাগছে। কিছু অজানা অনুভূতি ঘিরে আছে।”

ঠিক তখনই পাশের বেঞ্চে এক যুবক বসল। তার চোখে ছিল মৃদু কৌতূহল।

আপনি কি লিখছেন? সে বিনয়ীভাবে জিজ্ঞেস করল।

রাশেদা একটু লজ্জা পেলেও উত্তর দিল, “শহরের অনুভূতি... আর নিজের ভাবনা।”

“আমি শহরটা সবসময় ভিড় আর ধোঁয়ায় ভরা ভাবতাম,” সে হেসে বলল।

“কিন্তু হয়তো আমরা নিজেদের চোখ দিয়ে শহরকে সুন্দর করে দেখি।”

দুজনের চোখে চোখ পড়ল। নিঃশব্দে, রাশেদা অনুভব করল যে কেমন অদ্ভুত ভালো লাগা তার বুকের ভেতরে ঘুলছে। তারা দুজনই জানত না, আজকের এই ক্ষণ তাদের জীবনে নতুন কিছু আনার প্রারম্ভ।

কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকার পর যুবক বলল, “আপনার লেখা শুনতে চাই। যদি অনুমতি দেন।”

রাশেদা কিছুটা লজ্জায়, কিন্তু আগ্রহে, কণ্ঠে দম নিয়ে বলল, “আজকের ঢাকা যেন অন্যরকম। রোদ ঝলমল করছে, বাতাসে গরম আর ধুলোর মিশ্রণ, কিন্তু আমার মনে শান্তি।”

“শুনে ভালো লাগল,” যুবক বলল। “আমার নাম নোমান। আর আপনার?”

“রাশেদা।”

হঠাৎ দোকানের পাশ দিয়ে একটা ছোট ছেলে দৌড়ে গেল, আর নোটবুকের ওপর রাখা একটি গোলাপি পাতা হাওয়ায় উড়ে গেল। রাশেদা চমকে উঠল। নোমান দ্রুত পাতা ধরে ফিরিয়ে দিল। সেই মুহূর্তে রাশেদা তার চোখে গভীর দৃষ্টিতে তাকাল-মৃদু লাজ, মৃদু আনন্দ, আর একটি অদ্ভুত সংযোগ।

“ধন্যবাদ,” রাশেদা বলল। “আপনি না ধরলে হয়তো হারিয়ে যেত।”

নোমান হেসে বলল, “কখনও কখনও ছোট্ট ঘটনা বড় কিছু শুরু করে।”

রাশেদা হঠাৎ বুঝতে পারল যে তার হৃদয় দ্রুত বেগে ধকধক করছে। ঢাকা শহরের ব্যস্ত দুপুরের মধ্যে, এই ক্ষুদ্র মুহূর্তে, যেন সবকিছু স্থির হয়ে গেছে। তাদের চারপাশের ট্রাফিক, চাকার আওয়াজ, মানুষের হাহাকার-সবই ম্লান হয়ে গেছে।

নোমান একসময় বলল, আপনি কি চাইবেন আমার সঙ্গে এক কাপ কফি খেতে?

রাশেদা মৃদু হেসে বলল, “হ্যাঁ।”

তাদের ছোট্ট কফি শপের পাশে তারা বসল, আর রাশেদা নোটবুক খুলল। এইবার তিনি নোমানের জন্য কিছু লিখলেন-একটি অদ্ভুত অনুপ্রেরণা, একটি মৃদু প্রণয়, যা এখন শুধু তার নিজের নয়, নোমানের জন্য।

আপনি কি সত্যিই বিশ্বাস করেন এই নোটবুক সত্যি অনুভূতি ধরে রাখতে পারে? নোমান জিজ্ঞেস করল।

“হয়তো,” রাশেদা বলল। কিন্তু কখনও কখনও আমাদের অনুভূতি নিজেই কিছু সত্যি করে তোলে।

বসার সময়, তারা দুজনেই জানল, আজকের এই ছোট্ট মিশ্রণ, শহরের রোদ, নোটবুক, উড়ে আসা পাতা-সবই এক অদ্ভুত, সুন্দর মুহূর্তে মিলেছে।

কিছুক্ষণ পর, রাশেদা হঠাৎ নোটবুকের শেষ পৃষ্ঠায় লিখল, “আজকের এই ক্ষণ হয়তো শুধু একদিনের জন্য নয়, আমাদের জীবনের প্রথম দিনের প্রারম্ভ।”

নোমান পাতা দেখল, আর হেসে বলল, “তাহলে এই শহর আর আগের মতো থাকবে না।”

রাশেদা হেসে বলল, “না, আর কখনও থাকবে না।”

ঢাকার রোদ, ট্রাফিকের শব্দ, বইয়ের দোকান-সবই যেন সেই মুহূর্তে থেমে আছে। আর নোটবুকটা, গোলাপি কভারসহ, তাদের নতুন গল্পের সাক্ষী হয়ে থেকে গেল।

শহরের ব্যস্ততা যেন ঠিক সেই মুহূর্তে থমকে গেছে, আর দুই অচেনা মানুষ জানল-আজ থেকে কিছু অদ্ভুত সুন্দর শুরু হয়েছে...

*** যদি এই গল্প আপনাকে একটু আবেগ আর ভালোবাসার অনুভূতি দেয়, তাহলে লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address

Dhaka
1216