The Sanchary Chronicles
Chronicles of love, loss, and the little moments that shape me.
04/05/2026
❤️🤍রাঙা আকাশে সাদা প্রেমের গল্প — তৃতীয় পর্ব🤍❤️
কিছু মানুষ আছে যারা ভীষন হাসতে জানে
কিন্তু হাসির ভেতরে একটা ক্লান্তি লুকিয়ে রাখে।
ছেলেটা ছিল সেরকমই।
বাইরে থেকে দেখলে মনে হতো—সব ঠিকঠাক।
ভেতরে গেলে বুঝতে, সব কিছু আছে, কিন্তু কেউ নেই।
সবাই ভাবত—এই ছেলেটার মতো সুখী মানুষ আর নেই।
কারণও ছিল।
ভালো চাকরি, সমাজের চোখে সফল জীবন আরও কত কি।
বন্ধুরা বলত, "তোর মতো গুছানো জীবন কার আছে বল?"
আত্মীয়রা বলত, "এই ছেলেটা সত্যিই ভাগ্যবান।"
সে হাসত—ঠিক যতটুকু হাসা দরকার, ততটুকু।
কিন্তু রাতে যখন সব চুপ হয়ে যেত—
ছাদের দিকে তাকিয়ে সে ভাবত,
"সুখী মানুষের বুকে এত ভার থাকে কেন?"
ঘরে আলো ছিল।
জানালায় পর্দা ছিল।
টেবিলে খাবার ছিল।
শুধু ছিল না—সেই একজন, যার কাছে চুপ করে বসে থাকা যায়।
যাকে বলা যায়, "আজ ভালো নেই।"
কোনো কারণ না দিয়েই।
সে অনেকদিন আগেই শিখে নিয়েছিল—
কিছু সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হয়,
ভালোবেসে নয়—দায়িত্ব দিয়ে।
আর দায়িত্ব পালন করতে করতে একদিন মানুষ ভুলে যায়......
সে নিজে আসলে কী চেয়েছিল।
বাইরে সে ছিল সবার প্রিয় মানুষ।
ভেতরে সে ছিল নিজের কাছেই অচেনা।
এটাই সবচেয়ে কঠিন একাকীত্ব যখন হাজার মানুষের ভিড়েও নিজেকে খুঁজে পাওয়া যায় না।
এভাবেই কাটছিল দিন।
প্রতিবছর বৈশাখ আসত, চলে যেত....
ছেলেটার কাছে সব বৈশাখ একরকম লাগত।
সেই লাল-সাদা রঙ, ঢাকঢোল, মেলার ভিড়, সব কিছু উৎসবের মতো দেখতে, কিন্তু ভেতরে কোনো উৎসব নেই।
সে বছর বৈশাখেও সে বেরিয়েছিল, কোনো উদ্দেশ্য ছিল না, শুধু ঘরে থাকতে ভালো লাগছিল না।
মেলার ভিড়ে হাঁটছিল একা.....
চারদিকে রং, হাসি, কোলাহল।
সে ছিল সেই ভিড়ের মাঝে সবচেয়ে নিঃসঙ্গ মানুষ।
অথচ কেউ দেখলে বলত "দেখো, কত নিশ্চিন্তে হাঁটছে।"
তখনই সে দেখল মেয়েটাকে।
বিশেষ কিছু করছিল না সে
তার বান্ধবীর সাথে দাঁড়িয়ে গল্প করছিল
হাসছিল, কথা বলছিল
এত স্বাভাবিকভাবে, যেন পৃথিবীতে কোনো জটিলতাই নেই।
ছেলেটা থমকে গেল।
এই হাসি সে আগে দেখেনি, মানে দেখেছে, কিন্তু অনেকদিন দেখেনি।
নিজের মনেই হাসলো সে।
কোনো কারণ নেই, কোনো দর্শক নেই
শুধু আছে সেই মুহূর্তটুকু।
না সেদিন কথা হয়নি।
শুধু একবার চোখাচোখি
মেয়েটা একটু হেসে চলে গেল।
কিন্তু ছেলেটা সেখানেই দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ।
বুকের ভেতরে হঠাৎ কেমন যেন লাগলো
অনেকদিন পর....
যেন ভেতরের কোনো বন্ধ ঘরে
কেউ একজন আলতো করে টোকা দিল।
ফেরার পথে আকাশে রং ছিল
কমলা, লাল, একটু সোনালি।
ছেলেটা আকাশের দিকে তাকাল।
অনেকদিন আকাশ দেখেনি সে।
ব্যস্ত ছিল সুখী মানুষের অভিনয়ে।
সেদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে
সে প্রথমবার ভাবল
"বেঁচে থাকা আর বাঁচা—এই দুটো কি এক জিনিস?"
উত্তর জানত না।
অনেকদিন পর প্রথমবার কিছু একটা অনুভব করা তার। বৈশাখ শেষ হলো।
মেয়েটা চলে গেল ভিড়ে।
কিন্তু সেই হাসিটা রয়ে গেল ছেলেটার বুকের সেই বন্ধ ঘরে,আলোর মতো।
কেউ বলবে, "এত সুখী মানুষের আবার কীসের কষ্ট?"
আমি বলব, সুখের মুখোশ পরা মানুষগুলোই
সবচেয়ে বেশি কাঁদে।
একা....চুপচাপ..... কাউকে না জানিয়ে।
পরের বৈশাখের অপেক্ষায় ছিল কি সে?
হয়তো না। কিন্তু ছেলেটার মনের ভেতরে অজান্তেই
একটা অপেক্ষা জন্ম নিয়েছিল
যার নাম সে তখনও জানত না।
শুধু জানত
শুধু জানত — যা পাওয়ার নয়, তা-ই সবচেয়ে বেশি টানে।
02/05/2026
❤️🤍রাঙা আকাশে সাদা প্রেমের গল্প — দ্বিতীয় পর্ব🤍❤️
এই গল্পে প্রেম একটু বড় হয়েছে—যেভাবে গাছ বড় হয়, টের পাওয়া যায় না, কিন্তু একদিন ছায়া পাওয়া যায়।
প্রথম পর্বে ওরা প্রেমের গবেষণাগারে ঢুকেছিল।
এবার ওরা বুঝতে পারছে—গবেষণা শেষ হয় না, কেবল গভীর হয়।
ছেলেটা একদিন আবিষ্কার করল—
মেয়েটার মন খারাপ হলে সে জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকে।
কোনো কথা বলে না, চোখও ফেরায় না।
ছেলেটা প্রথমে ভেবেছিল, "রাগ করেছে বুঝি।"
পরে বুঝল—মন খারাপের ভাষা আলাদা, সেটা শিখতে হয়।
তাই সে আর জিজ্ঞেস করত না, "কী হয়েছে?"
চুপচাপ পাশে বসে থাকত।
দুজনে জানালার বাইরে তাকাত
যেন আকাশটা ওদের যৌথ সম্পত্তি।
মেয়েটাও কম কী!
সে আবিষ্কার করেছিল—ছেলেটা ক্লান্ত হলে কথা বেশি বলে।
উল্টো, তাই না?
কিন্তু এটাই সত্যি—মানুষ ক্লান্ত হলে নিজেকে লুকাতে চায়,
আর লুকাতে গিয়ে আরও বেরিয়ে পড়ে।
মেয়েটা সেই কথার ভিড়ে খুঁজে নিত আসল কথাটুকু।
ভালোবাসা মানে কি এটাই নয়....
একে অপরের ক্লান্তির মানচিত্র চিনে নেওয়া?
একবার ওরা দুজনে বৃষ্টিতে আটকে গিয়েছিল।
ছাদ নেই, ছাতা নেই—কেবল একটা পুরোনো বটগাছ।
মেয়েটা বিরক্ত হয়ে বলল, "এখন কী করব?"
ছেলেটা একটু হেসে বলল, "ভিজব।"
মেয়েটা রাগী চোখে তাকাল।
ছেলেটা বলল, "তুমি বৃষ্টিতে ভেজার গল্প লিখতে চেয়েছিলে না একবার?"
মেয়েটা চুপ।
তারপর দুজনেই ভিজল—হাসতে হাসতে, কাঁপতে কাঁপতে।
সেদিন ওরা বুঝেছিল...
পরিকল্পনা ছাড়া মুহূর্তগুলোই সবচেয়ে বেশি মনে থাকে।
ওদের প্রেমে এখনও কবিতা আছে
তবে এখন কবিতা লেখে না ছেলেটা, পড়ে শোনায়ও না।
এখন কবিতা হয়ে যায়—অজান্তে, আচমকা।
এই প্রেমের নতুন গবেষণার ফলাফল?
ভালোবাসা মানে প্রতিদিন একটু একটু করে নতুন ভাবে চেনা......
একটু একটু করে, স্তরে স্তরে।
যেমন পেঁয়াজ ছাড়ালে চোখে পানি আসে,
তবু ছাড়াতেই থাকো—কারণ ভেতরে আরও কিছু আছে।
এখনও ওরা সমুদ্রের কথা বলে.....
কিন্তু এখন স্বপ্নটা বদলেছে।
আগে চাইত ঢেউয়ের কাছে দাঁড়াতে,
এখন চায় একসাথে বালিতে নাম লিখতে
এতা জেনেই যে ঢেউ মুছে দেবে।
তবু লেখে।
কারণ মুছে যাওয়ার আগের মুহূর্তটুকুও তো ওদেরই।
কেউ বলবে, "এরা আবেগী বড্ড বেশি!"
আমি বলব, "আবেগ না থাকলে গল্প থাকে না
থাকে শুধু তারিখ আর ঘটনার তালিকা।"
আপনি-আমি হয়তো এভাবে ভিজিনি বৃষ্টিতে,
কিন্তু মনের কোথাও একটা বটগাছ আছে
যেখানে একদিন আটকে যেতে মন চায়,
কারো সাথে, বৃষ্টির ভেতরে।
সেই দিনের অপেক্ষায়…
02/10/2025
আজ হঠাৎ মনে হলো…
প্রতিটি শব্দের একটা না একটা পরিণতি আছে।
কিন্তু শুধু শব্দ নয়, নীরবতারও আছে।
আমরা অনেক সময় ভেবে নিই—চুপ থাকাই বোধহয় ভালো, মনে হয়, “না বললেই হলো, ঝামেলা এড়ানো যাবে।”
কিন্তু আসলেই কি তাই?
01/10/2025
❌অপছন্দের মানুষকে সহ্য করা যায়, কিন্তু নিজের ভেতরের অস্বস্তিটাকে কতদিন সহ্য করা সম্ভব?
কিছু মানুষকে আমরা একদমই পছন্দ করি না। মানে তাদের কথা, ব্যবহার বা উপস্থিতিই যেন বিরক্ত লাগে। তবুও সামনে গেলে হাসিমুখে কথা বলতে হয়—ভদ্রতা তো রাখতে হয়, তাই না?
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, ভেতরে ভেতরে যেটা চাপা দিই, সেটা আসলে কমে না। বরং প্রতিবার মনে হয়, বিরক্তিটা আরও জমছে।
আমরা ভাবি, চুপ থাকলে সমস্যা মিটে যাবে। কিন্তু আসলে সেই নীরবতাই আমাদের ভেতরে আরও অস্বস্তি তৈরি করে।
তাহলে কী করা যায়?
সবকিছু মুখের ওপর বলে দেওয়া সবসময় সম্ভব হয় না, কিন্তু অন্তত নিজের ভেতরে স্বীকার তো করা যায় —“হ্যাঁ, আমি তাকে পছন্দ করি না।"
কারণ, সত্যিটা বারবার গিলে ফেলতে গেলে শেষে নিজের শান্তিটাই হারিয়ে যায়।😔😔😔
#মনখোলা
30/09/2025
মানুষ ভাবে, দুর্বলতা বোধহয় শুধু শারীরিক অক্ষমতা অথবা অর্থনৈতিক অভাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো তার আসক্তি। যে মানুষটিকে সে পৃথিবীর আর সবকিছুর চেয়ে বেশি আপন করে নেয়, তার প্রতি তৈরি হয় এক অদৃশ্য বাঁধন, এক অদৃশ্য মায়া।
এই বাঁধনের সূত্র ধরেই জন্ম নেয় সবচেয়ে বড় ভয়: হারানোর ভয়। আমরা ভয়ঙ্কর কোনো প্রাণী বা বিপদের কাছে হার মানতে প্রস্তুত থাকি, কিন্তু ভালোবাসার মানুষটির সামান্য দূরত্বও যেন আমাদের ভেতর থেকে গুঁড়িয়ে দেয়।
কারণ, প্রিয় মানুষটিকে হারানোর অর্থ হলো নিজের ভেতরের সবচেয়ে সুন্দর অংশটি এবং তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নিরাপদ আশ্রয়টুকুকে হারিয়ে ফেলা। এই ভয়ই আমাদের প্রতিনিয়ত সাবধানী করে তোলে, সর্বদা তাকে সুরক্ষিত রাখার এক নীরব সংগ্রামে লিপ্ত রাখে।
আসলে, ভালোবাসার তীব্রতাই হলো আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং দুর্বলতা—দুটোই।❤️❤️
15/08/2025
"শোন, তোকে কিছু বলতে চাই…"
জানিস, মানুষকে যখন তুই নিঃশর্তভাবে ভালোবাসিস, সবটুকু আন্তরিকতা দিয়ে পাশে থাকিস—তখন প্রথমে তারা অবাক হয়, খুশি হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই অবাক হওয়াটাও হারিয়ে যায়, তোর ভালোবাসা হয়ে যায় তাদের কাছে automatic service—যেটা তারা ধরেই নেয় সবসময় চলবে।
তুই ডাক পেলেই ছুটে যাবি, যে কোন পরিস্থিতিতে সাহায্য করবি, রাগ করলেও সেটা অল্প সময়ের মধ্যে ভুলে গিয়ে হাসবি, কষ্ট পেলেও চুপচাপ গিলে ফেলবি—এই অভ্যাসটাই তাদের শেখায়, "ও তো আছেই, গুরুত্ব দেওয়ার দরকার কী!"
একসময় তুই বুঝবি—অন্যদের জন্য তারা যত্নশীল, মনোযোগী, কৃতজ্ঞ… কিন্তু তোর জন্য? যেন সৌজন্যবোধটাও লোপাট হয়ে গেছে।
কখনও কখনও তোর মনে হয়েছে না বল?
"আমার জন্য সামান্য কেয়ারও কি এতটা কঠিন?"
নিজেই উত্তর খুঁজে নিয়েছিস হয়তো দোষ তাদের নয়, তোরই—কারণ তুই নিজের ভালোবাসা, কেয়ার, উপস্থিতি—সব বিনা দামে দিয়ে দিয়েছিস। মানুষ শিখে নিয়েছে, তুই সবসময় থাকবি।
তাহলে কি ভালোবাসবি না?
ভালোবাসবি, অবশ্যই—কিন্তু বেছে ভালোবাসবি।
যে একবার তোকে অবহেলা করেছে, তোর কথা কখনোই ভাবেনি, সেই সুযোগ সে আবারও নেবে—কারণ সে তো কাছে থেকে ওভাবেই পেয়ে অভ্যস্ত।
যাদের তোকে বারবার বোঝাতে হয়, আর তারপরও বোঝে না—তাদের বোঝানোর দায়িত্ব তোর নয়।
যেখানে এটুকু বোঝে না, সেখানে উপস্থিত থাকা মানে নিজের আত্মাকে ছোট করা।
মনে রাখিস প্লিজ —
তুই মূল্যবান। তোর কেয়ার, তোর ভালোবাসা, তোর সময়—সবই প্রাপ্য তাদের, যারা সত্যিই তার যোগ্য।
আর বাকিদের জন্য? চুপচাপ দরজা বন্ধ করে দিস—যেন হাওয়ার মতো তুই হালকা, কিন্তু পাহাড়ের মতো দৃঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকিস নিজের পাশে। অনেক তো করলি।
কারণ শেষমেশ, দিন শেষে তোকে নিজের আঘাতগুলো নিজেকেই সামলাতে হয়।
তুই যদি নিজের জন্য না দাঁড়াস, কেউ দাঁড়াবে না।
ভালোবাসা দিস, কিন্তু নিজের আত্মাকে বিক্রি না করে।
ভালো থাকিস
29/06/2025
“হ্যাঁ, ওটাই তো ছিল ভালোবাসা... হয়তো!”
পর্ব ১:মোহের মরিচা
সঞ্চারী প্রতিভা
প্রেম—শুধু একরঙা অনুভব নয়, বরং একেকটা ধাপে তার রঙ বদলায়, রূপ বদলায়, গভীরতা বাড়ে কিংবা ফিকে হয়। সেটা ভেবেই এই ছোট্ট সিরিজ.........
প্রেম মানে কি শুধু কবিতা, গোলাপ আর জ্যোৎস্না রাত?
না রে ভাই, প্রেম মানে ভাতের সঙ্গে মাছ না মাংস —এই নিয়ে তর্ক করে দুপুরের খাবার ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া।
চলেন প্রেমের ধাপগুলা একটু কাছে থেকে দেখি—যেমনটা হয় আমাদের আশপাশেই!
প্রথম ধাপ
এই সময়টায় দুজনেই মনের মধ্যে নিজের একটা Instagram ফিল্টার লাগিয়ে রাখে।
ছেলে জিমে যায় এক সপ্তাহ, তারপর গলার রগ ফুলিয়ে বলে, "আমি ফিটনেস ফোকাসড!"
মেয়ে এক কাপ চা বানিয়ে বলে, "আমি রান্না করতে ভালোবাসি!"
বাস্তবে?
ছেলে ঘামলে কনফিডেন্স কমে, আর মেয়ের প্রিয় রান্না হচ্ছে—ফুডপান্ডার হোম-ডেলিভারি।
তবুও সবকিছুই তখন সিনেমার মতো—ফুল টাইম বাটারফ্লাই।
কিংবা
প্রেমের প্রথম ধাপ মানেই সিনেমার সিন।
আপনি হেঁটে যাচ্ছেন, হঠাৎ ঝিরঝিরে বৃষ্টি...
সে এসে ছাতা ধরে—
“এই, ভিজছো কেন?”
আপনি চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন “কারণ ছাতাটা তো তোমার কাছে!”
অথচ বাস্তবে?
সে হয়তো ছাতা আনেইনি। আর আপনিও রিকশা করেই চলে এসেছেন দেখা করতে তার সাথে।
এই ধাপ অনেকটা বসন্তের মতো।
হাওয়া একটু বেশিই বসন্তের সুবাসে ভরা,
আপনি অপেক্ষা করেন মেসেজ আসার,
সে হয়তো অপেক্ষা করে দিন শেষে আপনার হাসির।
এই সময় দুজনেই হয় শুদ্ধতম কবিতা,
যেখানে ভুলগুলো ধরা পড়ে না,
দেখা যায় শুধু—চোখের ভেতর জমে থাকা স্বপ্ন।
19/06/2025
"লিখে না রাখা গল্প"। পর্ব ১
সঞ্চারী প্রতিভা
নিশুতি রাত। শহর ঘুমিয়ে পড়েছে।
আমরা হেঁটে চলেছি চুপিচুপি—
রাস্তার মোড় ঘুরে, বাতি-নিভে-যাওয়া অলিগলির পাশে পাশে।
হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ।
তুমি হঠাৎ থেমে গেলে, জিজ্ঞেস করলে—
—তুমি কি আমায় সত্যি ভালোবাসো?
আমি একটু হেসে বললাম—
—ভালোবাসা কি এত সহজে বলা যায়?
আমি শুধু রোজ তোমাকে নতুন করে বুঝতে চাই।
তোমার অভিমান, তোমার হাসি, তোমার চুপ করে থাকা—
সবটা শিখে নিতে চাই ধীরে ধীরে।
তুমি বললে—
—তবে কি এটা ভালোবাসা নয়?
আমি চোখ মেলে বললাম—
—ভালোবাসা তো কোনো তত্ত্ব নয়, কোনো সংজ্ঞাও নয়।
ওটা একটা যাত্রা, যেখানে বাঁক আসে, রাস্তা ফুরায়, আবার নতুন পথ খোলে।
—তাহলে আমরা কি সেই যাত্রায় আছি?
—হয়তো আছি, নয়তো হারিয়ে ফেলেছি পথেই।
তুমি বললে—
—হারিয়ে গেলে আমায় খুঁজবে তো?
আমি চুপ করে থেকে বললাম—
—তুমি তো আমার ভেতরেই আছো, হারানোর নয়, খুঁজে পাওয়ার নয়,
তুমি তো প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্তে লুকিয়ে থাকা এক চেনা স্পর্শ।
তুমি একটু হাসলে—
—তোমার কথাগুলো এত রহস্যময় কেন?
আমি বললাম—
—কারণ ভালোবাসা কখনো সোজাসুজি কথা বলে না।
ও তো অলিখিত, আভাসভরা, নিঃশব্দের গল্প।
—তুমি কি চাও একদিন আমরা সংসার করি?
—আমি চাই না চিহ্ন আঁকতে।
চাই না ভবিষ্যতের ছক কেটে দিতে।
আমি চাই, যতদিন তুমি আমার পাশে থাকবে,
ততদিন তোমার চা বানানোটা আমার প্রিয় অভ্যেস হয়ে থাকুক।
তোমার অফিস থেকে ফেরার ক্লান্ত মুখটাই হোক আমার চেনা ঠিকানা।
তুমি আমার পাশে বসে কাঁধে মাথা রাখলে, বললে—
—তবে কথা কম বলো, হাতটা ধরো শুধু।
আমি বললাম—
—আমি তো কথায় নেই, আমি শুধু এই পথটা জানি—
তোমার সাথে হেঁটে যাওয়ার পথ।
আমরা এখন আর কিছু ঠিক করি না।
শুধু প্রতিদিনের ভিড়ে একটু করে সময় চুরি করি,
তোমার হাসির ভেতর নিজেকে রেখে দিই,
আর সেই চেনা গন্ধে মনে রাখি—
এই মানুষটাকে একদিন ভালোবেসে ফেলেছি,
এখন তাকে রোজ ভালোবাসা শিখে নিচ্ছি।
তুমি আমার গল্প নও, তুমি আমার গদ্যের ভেতরে হারিয়ে যাওয়া কবিতা।
একটা সম্পর্ক, যেটা ভালোবাসা হতেই পারে,
আবার হতে পারে শুধু পাশে থাকার এক প্রাচীন অভ্যেস।
জানো কি?
তুমি আমার এখনকার গল্প।
আমি তোমার অসমাপ্ত কবিতা।
আমরা রোজ একটু করে লেখা হয়ে উঠছি।
ভালোবাসা আমাদের পড়ছে, আবার মুছে দিচ্ছে,
আবার লিখছে নতুন করে।
18/06/2025
চা ও নীরবতা | পর্ব ৪
সঞ্চারী প্রতিভা
সব সম্পর্ক সমান শব্দপ্রিয় হয় না।
কিছু সম্পর্ক আছে, যারা শব্দে ক্লান্ত হয়ে গেছে।
তারা চোখের ভাষা বুঝে, ভুরুর ভাঁজ দেখে থমকে দাঁড়ায়, আর কাঁধে হাত রাখার আগে জানে—এখন কথা বলা ঠিক হবে না।
আমার জীবনেও এমন সম্পর্ক আছে, যার সঙ্গে একসঙ্গে চা খাই, কিন্তু তেমন কিছু বলি না।
তবু সেই নিরব চায়ের আড্ডাগুলোই আমার জীবনের সবচেয়ে অর্থপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে থাকে।
এমন দিনে ওদের দেখি বারান্দায় এসে দাঁড়ায়, মুখে কোনো গল্প নেই, হাতে ফোন নেই, শুধু একটুকরো চোখের ক্লান্তি।
আমি তখন কোনো প্রশ্ন করি না।
শুধু বলি, “বস্। কেটলি চাপাই।”
চা বানাতে বানাতে মাথায় ঘুরতে থাকে—আজ ওর কেমন দিন গেলো? কে আবার কী বলল? অফিসে বস কি ঝাড়লেন, নাকি মায়ের একটা ফোনে মন খারাপ হয়ে গেল?
আমি জানি, ও চা খেতে চায়, কিন্তু তার থেকেও বেশি চায়—এই মুহূর্তের নিশ্চিন্ত নিরবতা।
আদা চেরা হয়, এলাচ ভাঙা হয়, খেজুর গুড় চায়ের মধ্যে ধীরে ধীরে গলে যায়।
এই পুরো প্রস্তুতিপর্ব যেন ওর মনের জট খুলে দেওয়ার মতো।
চা যখন কাপেতে ঢালছি, তখন ভেতরের কথাগুলো ধীরে ধীরে ওর চোখে উঠে আসে।
ও কাপে চুমুক দেয়, আমি পাশে বসি।
না কোনো গল্প, না কোনো প্রশ্ন।
শুধু চা আর হালকা কোনো গান বাজে—মাঝে মাঝে শব্দ এত কম থাকে যে, চায়ের ধোঁয়া আর গান একে অপরকে ঢেকে ফেলে।
এই নিরব চায়ের আড্ডাগুলো আমাদের বন্ধুত্বের একেকটা অদৃশ্য ইটের মতো—
যেগুলো দিয়ে তৈরি হয় এক রকম ভরসার বাড়ি।
যেখানে ভাঙা শব্দ, ক্লান্ত হৃদয়, আর হেসে-চেপে রাখা অভিমান গা ঢাকা দিয়ে বসে থাকে।
মাঝে মাঝে ও হঠাৎ এক চুমুকে বলে ফেলে—“আজকে খুব বাজে একটা কথা শুনেছি।”
আমি ওর দিকে তাকাই, মাথা নাড়ি।
আর কিছু বলি না।
ও আবার চুপ করে যায়।
চায়ের ভাপে গল্পগুলোও নরম হয়ে যায়, বলা না হলেও সব বুঝিয়ে দেয়।
আড্ডার শেষে কাপ ঠান্ডা হয়ে আসে।
আমি বলি, “আর এক কাপ করবো?”
ও মুখে বলে, “না থাক,”
কিন্তু কাপ হাতে রাখে।
আমি বুঝে যাই, ওর মন চায়, আমি বানিয়ে দিই।
এই বোঝাপড়াগুলো কোনো নির্দিষ্ট দিন, নির্দিষ্ট কোনো সময়ে গড়ে ওঠে না।
এটা তৈরি হয় দীর্ঘ আড্ডার ধোঁয়ার ভিতর দিয়ে, একসঙ্গে বসে থাকা বহু সন্ধ্যার ভিতর দিয়ে।
আর চা, সেই সম্পর্কের চুপচাপ সাক্ষী।
---
উপসংহারঃ
সব সময় সম্পর্ককে শব্দে ধরার চেষ্টা করলে ভুল হয়।
কিছু কিছু ভালোবাসা শুধু চুপ করে পাশে বসে থেকে এক কাপ চায়ের গন্ধ শুঁকে নেয়।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Website
Address
Dhaka
