Medicine Corner

Medicine Corner

Share

Medicine and Healing in Bangladesh' examined the history and contemporary practice of sustaining human health in one of the world's great ...

we are here for your personal medicine

21/12/2020

অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাক!
‘আহা রে! এত অল্প বয়সে চলে গেল! এত অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাক! মা–বাবার না জানি কেমন লাগছে!’ বলার এবং নিজ সন্তান নিয়ে আতঙ্কিত অভিভাবক এখন আমাদের চেনা পরিচয়ের মধ্যেই। ৩০তম জন্মদিন পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারা আপাতসুস্থ ছেলেমেয়েদের হঠাৎ মৃত্যুতে আজকাল একটু বেশিই চমকাতে হচ্ছে আমাদের।

পত্রপত্রিকার খবর বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে এ ধরনের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি মনে হচ্ছে, ব্যাপারটা এমন নয়। অল্প বয়সে মৃত্যুর সংখ্যা আগের তুলনায় সত্যি সত্যিই বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, গত ১০ বছরে ৪০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের হার বছরে ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাক হয়ে বেঁচে গেলেও নানা রকমের হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যায়। যে তরুণ বা যুবকের দেশ বা সমাজকে দেওয়ার মতো অনেক কিছু ছিল, তাঁর অকালমৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কিন্তু অল্প বয়সে এই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ছে কেন? ঝুঁকি কমাতে আমাদের কী কী করণীয়?
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা

পরিবারের কারও যদি উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকে, তবে অল্প বয়সী কিশোর বা তরুণটি উচ্চ রক্তচাপে ভোগার ঝুঁকিতে থাকেন। বেশি বয়সেই কেবল উচ্চ রক্তচাপে ভোগার সম্ভাবনা ভেবে অবহেলা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের পারিবারিক ইতিহাস থাকাদের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে থাকা উচিত। যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাঁরা যেন অবশ্যই তা নিয়ন্ত্রণে রাখেন।

রক্তে কোলেস্টেরলের সঠিক মাত্রা বজায় রাখা

উচ্চ রক্তচাপের মতোই রক্তে মাত্রাতিরিক্ত কোলেস্টেরলের পারিবারিক ইতিহাস অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের একটি অন্যতম ঝুঁকি। তাই, কোলেস্টেরলের মাত্রা জানতে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল থাকলে জীবনাচার পরিবর্তন করতে হবে, বা প্রয়োজনে ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।

সঠিক শারীরিক ওজন বজায় রাখা

অতিরিক্ত শারীরিক ওজন বা স্থূলতা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায় বলে প্রয়োজনে ওজন কমানোর মাধ্যমে ঝুঁকি কমাতে হবে।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ করা

খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে শারীরিক ওজন, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ইত্যাদির সংযোগ রয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে মূলত দারিদ্যসীমার নিচে থাকারাই অস্বাস্থ্যকর জাঙ্ক ফুডের দিকে ঝোঁকে। আমাদের দেশে তার বিপরীত চিত্র দেখা যায়। আজকালকার ছেলেমেয়েরা বিস্ময়করভাবে জাঙ্ক ফুড গ্রহণকে স্ট্যাটাস সিম্বল মনে করতে শুরু করেছে। অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোমল পানীয়, অতিরিক্ত লবণযুক্ত ফাস্ট ফুড খাওয়ার অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

নিয়মিত শারীরিক শ্রম বা ব্যায়াম করা

হৃদ্‌যন্ত্রে রক্তের সরবরাহ বাড়াতে এবং তার সামর্থ্য বাড়াতে ব্যায়াম বা শারীরিক শ্রম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়াও নিয়মিত শারীরিক শ্রমের মাধ্যমে শরীরের কাঙ্ক্ষিত ওজন বজায় রাখা, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানো এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, যা প্রকারান্তরে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।

ধূমপান পরিহার করা

ধূমপান উচ্চ রক্তচাপ তৈরির মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই যাঁরা ধূমপান করেন না, তাঁরা অবশ্যই ধূমপান শুরু করবেন না এবং যাঁদের ধূমপানের অভ্যাস আছে, তাঁরা এই অভ্যাস ত্যাগ করবেন। ধূমপান ত্যাগে প্রয়োজনে চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়া উচিত।
মদ্যপান ও নেশাদ্রব্য পরিহার করা

উন্নত দেশগুলোতে অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম ঝুঁকি হিসেবে দেখা হয় মদ্যপান ও নেশাদ্রব্য গ্রহণকে। আমাদের দেশেও এর ব্যবহার বাড়তির দিকে থাকায় আমাদের ছেলেমেয়েরাও এই ঝুঁকির বাইরে নেই। অভিভাবকদের উচিত সন্তানের দিকে খেয়াল রাখা, যেন তাঁরা সঙ্গদোষে খেলাচ্ছলেও মদ্যপান বা নেশার জগতে ঢুকে না পড়ে। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা উচিত, প্রায় সব ক্ষেত্রেই ধূমপান নেশার জগতের গেটওয়ে বা প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা

ডায়াবেটিস রক্তনালি ও নার্ভের ক্ষতি করে বলে যাঁরা ডায়াবেটিসে ভোগেন, তাঁদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বেশি থাকে। তাই ডায়াবেটিস আছে কি না, তা জানার জন্য বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিসের পারিবারিক ইতিহাস আছে, তাঁদেরকে নিয়মিত ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা উচিত এবং ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।

মানসিক চাপ কমানো

মানসিক চাপ নানাভাবে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। ইদানীংকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে প্রেমঘটিত বা চাকরি ক্ষেত্রে নানা ধরনের চাপ থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে মদ্যপান, নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ, অতিরিক্ত ভোজন, ধূমপানে আসক্ত হয়ে যেতে দেখা যায়, যা হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য খারাপ। তাই মানসিক চাপ কমাতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যায়াম করা, খেলাধুলা করা, গান শোনা বা ধ্যানের অভ্যাস করতে পারেন।
পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানো

পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমালে তা উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এবং এই তিনটিই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। আজকালকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে অকারণে রাতজাগা বা সঠিক সময়ে ঘুমাতে যাবার সু–অভ্যাসের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। কারও যদি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টার চেয়ে কম ঘুম হয়, তাহলে তাঁর উচিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক পরিমাণ ঘুমের সু–অভ্যাস গ্রহণ করা।

অল্প বয়সেও হার্ট অ্যাটাক এবং তা থেকে মৃত্যুর ঝুঁকি আছে, এটি আর অস্বীকারের উপায় নেই। এ থেকে বাঁচতে আমাদের চাই এই বিষয়ে সচেতনতা এবং সঠিক পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করা।

01/12/2020

বসা থেকে ওঠায় মাথা ঘোরা
বসা বা শোয়া থেকে উঠে দাঁড়ালে বা পজিশন পরিবর্তন করার সঙ্গে সঙ্গে কিছু সময়ের জন্য মাথা ঘুরে ওঠা বা চেতনা লুপ্ত হওয়ার কারণ অনেক সময় রক্তচাপের আকস্মিক পরিবর্তন, যাকে পোশ্চারাল হাইপোটেনশান বলে। বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে দাঁড়াতে গেলে রক্তচাপ ২০ মিমি কমে যায়, যে কারণে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন হঠাৎ কমে যায়।
রোগ শনাক্ত করার উপায়
যদি পজিশন পরিবর্তনের পর রক্তচাপ সিস্টোলিকভাবে ২০ মিমি বা তার চেয়েও বেশি পরিমাণে হ্রাস পায় এবং ডায়াস্টোলিকভাবে ১০ মিমি কমে যায়, তখন বুঝতে হবে এটি পোশ্চারাল হাইপোটেনশান।
কারা বেশি ঝুঁকিতে
যাঁরা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের সাথে ডাই-ইউরেটিকস ওষুধ খান, যাঁদের ডায়বেটিস দীর্ঘদিনের, ধূমপায়ী, হার্টের রোগী, কিডনি রোগী, শারীরিক পরিশ্রম কম করেন, কোনো অসুখ বা সার্জারির পর দীর্ঘদিন বিছানায় শুয়ে আছেন ইত্যাদি। এ ছাড়া স্পাইনাল কর্ড ইঞ্জুরি, বিশেষ করে চার হাত–পা অবশ রোগীদের প্রাথমিক অবস্থায় প্রায় ৪২ দিন স্ট্রাইকার ফ্রেমে থাকতে হয়, তখন রিহ্যাব পর্যায়ের শুরুতে রোগীরা ভীষণ রকমের পোশ্চারাল হাইপোটেনশানে ভোগেন। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসায় এক ধরনের পজিশনিং ৩০ ডিগ্রি রেঞ্জে শোয়ানো ও ধীরে ধীরে ৬০ ডিগ্রি পজিশনিং করে ও পরবর্তী সময়ে সোজা হয়ে বসানোর চর্চা করানো হয়।

সমাধান
অনেক ক্ষেত্রে যাঁরা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেন, তাঁরা হঠাৎ করে দাঁড়ালে মাথা ঘুরে পড়ে যেতে দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে রোগীকে কোনো সমতল ভূমিতে কিছুক্ষণ শুইয়ে রাখতে হবে, যাতে রক্ত সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হয়। এর জন্য দুই পা সমতল ভূমির চাইতে খানিকটা ওপরে রাখতে হয়, যাতে তা হার্টের লেভেলের ওপরে থাকে এবং শরীরের রক্ত মস্তিষ্কের দিকে ধাবিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে স্ট্রেন্থ ট্রেনিং এবং মাংসপেশির ফ্লেক্সিবিলিটি এক্সারসাইজের ফলে মাথা ঘোরানো ব্যক্তিদের রক্ত চলাচলের মাত্রা বাড়ানোর মাধ্যমে এই রোগের পুনরাবৃত্তি কমাতে পারেন।
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকেরা এ ধরনের সমস্যায় যেসব চিকিৎসার পরিকল্পনা করে থাকেন, তার মধ্যে রয়েছে প্রোগ্রেসিভ স্ট্রেচিং, সেলফ স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ, মাসল স্ট্রেন্দেনিং যেমন, আইসোমেট্রিক, গ্রেডেড ওয়েট প্রোগ্রেসন, ওপেন এবং ক্লোজ চেইন এক্সারসাইজ, এরোবিক এক্টিভিটি যেমন হাঁটাহাঁটি, জগিং। পড়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে এবং স্ট্যাবিলিটি বাড়াতে ব্যালেন্স প্র্যাকটিস।

লেখক, সহযোগী অধ্যাপক, বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনস ইনস্টিটিউট, সিআরপি, সাভার, ঢাকা।

30/11/2020

মেরুদণ্ডের আঘাত থেকে সাবধান
মেরুদণ্ডের আঘাত থেকে পক্ষাঘাত থেকে শুরু করে জীবন সংশয় পর্যন্ত হতে পারে। প্রতিবছর অনেক মানুষ মেরুদণ্ডে আঘাতের কারণে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়ে। মেরুদণ্ডে আঘাত পেলে তাই দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

আঘাত লাগে যেভাবে

নানাভাবেই মেরুদণ্ডে আঘাত লাগতে পারে। যেমন ওপর থেকে পড়ে গিয়ে (যেমন গাছ থেকে পড়া), পেছন থেকে ধাক্কা লেগে (বিশেষ করে মোটর দুর্ঘটনা), পা পিছলে পড়ে গিয়ে অথবা কোনো ভারী বস্তু তুলতে গিয়ে আঘাত লাগতে পারে।
যা হতে পারে

মেরুদণ্ডের কোন জায়গায় কতটা তীব্র আঘাত লেগেছে, উপসর্গের তীব্রতা তার ওপর নির্ভর করে। এ ছাড়া রোগীর বয়স, অন্য কোনো রোগ ইত্যাদিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য আঘাতে কিছু ব্যথা ছাড়া আর কিছু না–ও থাকতে পারে। কিন্তু মেরুদণ্ডের ভেতরে যে স্পাইনাল কর্ড বা মেরুরজ্জু আছে, তাতে আঘাত লাগলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। তীব্রতা ভেদে কোমরব্যথা, কোমর থেকে পায়ের নিচ পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে পড়া, পা অবশ বোধ করা বা একেবারেই নাড়াতে না পারা, প্রস্রাব–পায়খানা বন্ধ হয়ে যাওয়া বা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা ইত্যাদি সমস্যাও হতে পারে।
যা করা উচিত

কোনো দুর্ঘটনায় কিংবা পড়ে গিয়ে কোমর বা মেরুদণ্ডে আঘাত পেলে আহত ব্যক্তিকে খুব বেশি নাড়াচাড়া করা উচিত নয়। আহত ব্যক্তির ঘাড়ের নিচে একটি তোয়ালে রোল করে রেখে চিত করে স্থীরভাবে শুইয়ে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পা ধরে টানাটানি বা পাঁজাকোলা করে ওঠানো ইত্যাদি করলে আঘাত আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ব্যথা কমাতে ব্যথানাশক দেওয়া যেতে পারে। তবে স্নায়ুর সমস্যা থাকলে নিউরোসার্জনের পরামর্শ এক্স–রে, প্রয়োজনে এমআরআই করতে হবে।
সতর্কতা

মেরুদণ্ডে আর মেরুরজ্জুতে আঘাতের পরবর্তী সমস্যাগুলো জটিল হয়। তাই এ ধরনের আঘাত এড়াতে সব সময়ই সতর্ক থাকতে হবে।

* ওপর থেকে কিছু নামানোর সময় অবশ্যই পায়ের ওপর চাপ কমাতে টুল–জাতীয় উঁচু জিনিসের ওপর দাঁড়ান। বাথরুমে বয়স্ক ব্যক্তিদের পড়ে যাওয়া ঠেকাতে হাত দিয়ে ধরা যায়, এমন রেলিং–জাতীয় জিনিস সংযোজন করলে ভালো হয়। মেঝে পিচ্ছিল যেন না থাকে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। সিঁড়ি দিয়ে ওঠা–নামার সময় সাবধান থাকতে হবে।

* ভারী জিনিস হঠাৎ করে তুলতে যাবেন না।

* গাড়িতে ভ্রমণের সময় সিটবেল্ট পরুন।

* হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিস থাকলে চিকিৎসা নিন। বয়স্ক ব্যক্তিদের মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো এটি।

লেখক: বিভাগীয় প্রধান, নিউরোসার্জারি, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল

01/11/2020

অজান্তেই প্রকৃতির ডাকে সাড়া
একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর ‘প্রকৃতির ডাকে সাড়া’ দেওয়ার ব্যাপারটি অনিয়ন্ত্রণে চলে গেলে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। নিজের অজান্তে বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রস্রাব-পায়খানা হয়ে যাওয়ার এমন সমস্যায় ব্যক্তি যেমন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, তেমনি নানা সামাজিক ও শারীরিক সমস্যার সম্মুখীনও হতে পারেন। বয়স্ক পুরুষদের এটি একটি পরিচিত সমস্যা। এমন সমস্যায় পড়লে সংকোচ ভেঙে চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে।
কেন হয়?
প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণের জন্য মূত্রথলি ও মূত্রপথের (স্ফিংকটার) কার্যক্ষমতা যেমন স্বাভাবিক থাকা প্রয়োজন, তেমনি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কার্যক্ষমতাও ঠিক থাকতে হবে। এগুলোর যেকোনো একটির সমস্যা হলেই প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণ হারাতে হতে পারে। প্রায় ৫ শতাংশ পুরুষ এমন অস্বস্তির মুখোমুখি হয়ে থাকেন।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের সমস্যা বেশি হয়। কোনো কারণে মূত্রথলি ছোট হয়ে এলে (যেমন ফাইব্রোসিস কিংবা অস্ত্রোপচার বা রেডিওথেরাপির কারণে) প্রস্রাব ধরে রাখতে সমস্যা হতে পারে। আবার সম্পূর্ণভাবে মূত্রথলি খালি করতে না পারার কারণেও প্রস্রাব জমে থাকে আর যখন-তখন প্রস্রাব বের হয়ে যেতে পারে। পুরুষের প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া কিংবা মূত্রনালিতে স্ট্রিকচার, অর্থাৎ মূত্রনালি সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হিসেবে এমনটা হতে পারে। তলপেটের দিককার হাড় ভেঙে যাওয়া (পেলভিক ফ্র্যাকচার), স্ট্রোক বা মেরুদণ্ডে আঘাত, মূত্রনালিতে আঘাত, মূত্রতন্ত্রের অস্ত্রোপচার, মূত্রনালিতে জীবাণুর সংক্রমণ—এমন নানান কারণেই প্রস্রাব ধরে রাখতে অসুবিধা হতে পারে।

এ ছাড়া ডিমেনশিয়া বা মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির স্থান-কাল বিবেচনা বোধ স্বাভাবিক না-ও থাকতে পারে, ফলে তিনি যেকোনো স্থানে প্রস্রাব করে ফেলতে পারেন। রাতে বাথরুম যাওয়ার আগেই বিছানা ভিজিয়ে ফেলতে পারেন।
করণীয়
এ ধরনের সমস্যায় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার বিকল্প নেই। কারণ অনুযায়ী করাতে হবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সেই মতোই ঠিক করা যাবে চিকিৎসাব্যবস্থা। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে, তাই ইউরোলজিস্ট বা মূত্রতন্ত্রের শল্যচিকিৎসাবিদের কাছে যাওয়া উচিত। চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এমন সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে অন্য কোনো উপায়ে সমস্যার সমাধান না হলে ক্যাথেটার করিয়ে নিতে হয় বা ডায়াপার পরে থাকার মতো সমাধান বেছে নিতে হয়। ক্যাথেটারেরও বিভিন্ন ধরন আছে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বেছে নিতে হবে। তবে এগুলো এ ধরনের সমস্যার মূল সমাধান নয়। তাই বাড়িতে নিজে থেকে এ ধরনের উপায়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা ঠিক নয়। ডায়াপারের ব্যবস্থাপনা সঠিক না হলে সেখান থেকে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে। প্রশিক্ষণবিহীন ব্যক্তি ক্যাথেটার করতে গেলে মূত্রনালিতে আঘাত লাগতে পারে, তাতে জটিলতা বাড়ে।
আছে উপায় প্রতিরোধের
বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ যেহেতু এমন সমস্যার একটি বড় কারণ, তাই সংক্রমণ প্রতিরোধের চেষ্টা অবশ্যই করতে হবে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, তবে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ার কারণে যাঁদের রাতে ঘুম ভেঙে প্রস্রাব করতে হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে সন্ধ্যার পর বেশি পানি পান না করাই ভালো। প্রস্রাব আটকে রাখা উচিত নয়। হাইজিন বা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা আবশ্যক।

৪০ বা ৫০ বছরের পর থেকেই প্রোস্টেট গ্রন্থিতেও সমস্যা একটু একটু দেখা দিতে পারে। শুরুতে চিকিৎসা নিলে অস্ত্রোপচারের দরকার পড়ে না আর বিষয়টা বেশি জটিল হয় না। বাড়িতে বয়স্ক ব্যক্তিটির এই বিব্রতকর সমস্যা সহানুভূতির সঙ্গে দেখতে হবে ও নিয়মিত চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে।
জটিলতাও আছে
অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রস্রাব বের হতে থাকলে মূত্রনালির আশপাশের চামড়ায় একসময় ক্ষত হয়ে যেতে পারে। দাম্পত্যজীবনের স্বাভাবিকতা নষ্ট হতে পারে। অফিসে কর্মক্ষেত্রে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাসে আঘাত লাগতে পারে, জীবনকে দুর্বিষহ মনে হতে পারে। এ ছাড়া জীবাণুর সংক্রমণের ক্ষেত্রে কিডনি–বৈকল্য পর্যন্ত হতে পারে। তাই সমস্যার শুরু থেকেই চিকিৎসা নেওয়াটা জরুরি।

অনুলিখন: রাফিয়া আলম

31/10/2020

জন্ডিস হলে হেলাফেলা নয়
জন্ডিসের কথা শুনলে অনেকে ভাবেন, এ আর এমন কী; হরহামেশাই হচ্ছে, আবার টোটকা বা মামুলি কবিরাজি চিকিৎসায় ভালো হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসক হিসেবে আমরা জন্ডিস হলে একটু চিন্তিতই হই বৈকি। জন্ডিস যে ধরনের বা যে কারণেই হোক, এটি সব সময়ই একটি গুরুতর উপসর্গ। জন্ডিস নিজে কোনো রোগ নয়, বরং অন্য কোনো রোগের লক্ষণ। ভাইরাস সংক্রমণ থেকে শুরু করে সিরোসিস বা ক্যানসারের মতো রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে এই জন্ডিস। তাই জন্ডিস হলে অবহেলা করতে নেই।

আগে জানা দরকার জন্ডিস বলতে আমরা কী বুঝি। মানুষের রক্তে অনেক উপাদানের মধ্যে বিলিরুবিন একটি। এই বিলিরুবিনের উৎপত্তি রক্তের লোহিত কণিকা থেকে। রক্তের লোহিত কণিকা যখন স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, তখনই লিভারে এই বিলিরুবিন তৈরি হয় এবং পরবর্তী সময়ে রক্তে প্রবাহিত হয়ে মল ও প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যায়। এই বিলিরুবিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে এটি জমা হতে থাকে শরীরের বিভিন্ন কোষকলায়। আর তখন কোষকলার স্বাভাবিক রং পরিবর্তন হয়ে হলুদাভ হয়ে যায়। ত্বক ও চোখের ঝিল্লি হলুদ রং ধারণ করলে তা দৃশ্যমান হয় এবং জন্ডিস হয়েছে বলে শনাক্ত করা হয়।

জন্ডিস অনেক কারণে হয়ে থাকে। প্রথমত, যদি রক্তের লোহিত কণিকা অতিমাত্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে বেশি মাত্রায় বিলিরুবিন তৈরি হয়। যেমন থ্যালাসেমিয়া নামের রক্তরোগ। দ্বিতীয়ত, বিলিরুবিন তৈরির কারখানা তথা লিভারে কোনো সমস্যা দেখা দিলে জন্ডিস হবে। যেমন ভাইরাল হেপাটাইটিস, লিভার সিরোসিস, ক্যানসার। তৃতীয়ত, বিলিরুবিন যদি কোনো কারণে লিভার থেকে বের হতে না পারে, বাধাপ্রাপ্ত হলে জন্ডিস হয়। যেমন পিত্তনালির পাথর বা টিউমার।

কীভাবে বুঝবেন আপনার কোন ধরনের জন্ডিস হয়েছে? রোগের ইতিহাস ও লক্ষণ বিবেচনা করে কারণ অনেকাংশে শনাক্ত করা যায়। অল্প বয়স, জন্ডিসের সঙ্গে রক্তশূন্যতা থাকলে বুঝতে হবে লোহিত কণিকার মাত্রাতিরিক্ত ধ্বংস হয়ে যাওয়া থেকেই এর উৎপত্তি, যাকে মেডিকেলের পরিভাষায় হিমোলাইটিক জন্ডিস বলে। জ্বর, পেটের ডান দিকে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, বমি বা বমি ভাব হওয়ার পর চোখ ও জিব হলুদ হয়ে গেলে সাধারণত তাকে লিভারের প্রদাহ বা হেপাটাইটিস মনে করা হয়। জন্ডিসের মাত্রা যদি অনেক বাড়তে থাকে, আর সঙ্গে পেটব্যথা, কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, শরীরে চুলকানি থাকে, তখন পিত্তনালি বন্ধ হয়ে গিয়ে অবস্ট্রাকটিভ জন্ডিস হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এতে সার্জারি লাগে বলে এর আরেক নাম সার্জিক্যাল জন্ডিস।

আমাদের দেশে সব বয়সের মানুষের অ্যাকিউট ভাইরাল হেপাটাইটিস বা ভাইরাসজনিত লিভারের প্রদাহ হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। করোনাভাইরাসের এই সময়ে ভাইরাস সবার কাছে একটি আতঙ্কের নাম। হেপাটাইটিস ভাইরাসের জন্যও এ কথা প্রযোজ্য। ইংরেজি অক্ষর দিয়ে এই ভাইরাসগুলোর নামকরণ করা হয়ে থাকে, যেমন এ, বি, সি, ডি এবং ই ভাইরাস। আমাদের দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ই ভাইরাসের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। এ এবং ই ভাইরাস খাদ্য বা পানিবাহিত রোগ, অর্থাৎ দূষিত খাবার বা খাওয়ার পানির মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায় এবং সাধারণত কোনো দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ তৈরি করে না। তবে কখনো কখনো মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বি, সি এবং ডি ভাইরাস রক্তবাহিত, যা দূষিত রক্তের সংস্পর্শের কারণে হয়ে থাকে। এই ভাইরাসগুলোতে জটিলতাগুলো বেশি হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ হতে পারে, যা থেকে সিরোসিস, ক্যানসারসহ নানা জটিল পরিণতির দিকে যেতে পারে।

জন্ডিস একটি মারাত্মক ব্যাধি। জন্ডিস হলে বিলম্ব না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রোগীর লক্ষণ শুনে এবং কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিতভাবে এর কারণ নির্ণয় করা যায়। তারপর কারণ অনুযায়ী ব্যবস্থা। স্বল্পমেয়াদি ভাইরাল হেপাটাইটিসের চিকিৎসা নিয়ে আমাদের দেশে অপচিকিৎসা হয় অনেক। ঝাড়ানো, মালা পড়া, নানান রকমের কবিরাজি ওষুধ বা লতাপাতা খাওয়া আমাদের সমাজে একশ্রেণির মানুষের কাছে জনপ্রিয়। জন্ডিস চিকিৎসায় এগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। উপরন্তু এসব কবিরাজি লতাপাতা-শিকড় অনেক সময় লিভারের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়ারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই ভাইরাসগুলোর একটি ভালো দিক হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত ব্যক্তি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে ওঠেন। রোগীর পূর্ণ বিশ্রাম, স্বাভাবিক সুষম পুষ্টিকর খাবারের সঙ্গে উপসর্গ অনুযায়ী কদাচিৎ ওষুধ দেওয়া হয়। জন্ডিস রোগীর খাবার নিয়েও অনেক কুসংস্কার আছে, যার কোনো ভিত্তি নেই। জন্ডিসের রোগীর বেশি বেশি গ্লুকোজ বা চিনির শরবত, আখের রস খেতে হবে, হলুদ খাওয়া নিষেধ, বারবার গোসল করা বা মাছ-মাংস খেলে ক্ষতি হবে—কোনোটাই সঠিক নয়। সাধারণ সব খাবার তিনি খেতে পারবেন, তবে অতিরিক্ত তেল-চর্বি এড়িয়ে চলাই ভালো। খাবার সহজপাচ্য, স্বাস্থ্যকর ও বিশুদ্ধ হতে হবে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভালো না হলে বা কোনো রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে বিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এই অস্বাভাবিকতা হতে পারে চেতনা কমে যাওয়া (এনকেফালোপ্যাথি), রক্তবমি বা কালো পায়খানা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্বাভাবিক আচরণ ইত্যাদি।

অন্যান্য অনেক রোগের মতো ভাইরাস হেপাটাইটিস প্রতিরোধযোগ্য। কিছু সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি, যেমন ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি গ্রহণ, আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ না করা বা অন্যের ব্যবহৃত ব্লেড, সিরিঞ্জ ইত্যাদি ব্যবহার না করাই হলো প্রতিরোধ করার অন্যতম উপায়। এ এবং বি ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকরী টিকা আছে, যা উপদেশানুযায়ী সবারই নেওয়া উচিত। বি ভাইরাসের টিকা সরকারি টিকা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ, পরিপাকতন্ত্র ও লিভার রোগ বিশেষজ্ঞ এবং পরিচালক, শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা।

30/10/2020

কুকুর কামড়ালে
আচমকা কুকুর আক্রমণ করে বসলে মানুষ আতঙ্কিত ও দিশেহারা হয়ে পড়েন। র‌্যাবিস বা জলাতঙ্কের কথা ভেবে ভীত হওয়ার কারণ কুকুরের আঁচড় বা কামড়। তবে কেবল জলাতঙ্কই নয়, ধনুষ্টঙ্কারসহ বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগও কুকুরের আঁচড় বা কামড় থেকে ছড়াতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে জলাতঙ্ক যেমন প্রাণসংশয়ের কারণ হতে পারে, তেমনই আক্রান্ত স্থানে বিবিধ সংক্রমণ ছড়িয়ে সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তা ছাড়া কুকুরের কামড় বেশ যন্ত্রণাদায়কও বটে। রাস্তাঘাটে তাই আচমকা কুকুরের আক্রমণের শিকার হলে ভয়ে বিহ্বল না হয়ে কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা ও জরুরি বিষয় মাথায় রাখা উচিত। সাধারণত রাস্তাঘাটের কুকুরকে নিয়মিত ভ্যাকসিন দেওয়া হয় না। তবে বাসাবাড়ির পোষা কুকুরদের সাধারণত নিয়মিত ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। তাই পোষা কুকুর কখনো কামড়ালে বেশি আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
শুরুতেই আক্রান্ত স্থানে ক্ষত ও রক্তপাতের তীব্রতা খেয়াল করতে হবে। কুকুর কামড়ালে প্রথমে ক্ষতস্থান চেপে ধরুন, যাতে তাড়াতাড়ি রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। এরপর টিউবওয়েল বা চাপকলের পানির ধারায় ন্যূনতম ১০ মিনিট ধরে ক্ষত পরিষ্কার করুন। সম্ভব হলে কোনো অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করতে পারেন ক্ষতটি ভালোভাবে পরিষ্কারের জন্য। এটি ক্ষতের ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে। যতটা সম্ভব আক্রান্ত স্থানকে উঁচু করে রাখার চেষ্টা করুন। ক্ষত পরিষ্কার হয়ে গেলে দেরি না করে ক্ষত–পরবর্তী সংক্রমণের হার কমানোর জন্য নিকটস্থ চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে ক্ষতস্থানে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক মলমের প্রলেপ প্রয়োগ করে একটি জীবাণুমুক্ত গজ কাপড় দিয়ে ব্যান্ডেজ করে ফেলুন। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পথ্যের পাশাপাশি অবশ্যই প্রতিদিন ক্ষতস্থান পরিষ্কার করতে হবে। কাটা স্থানে ধুলাবালু ও ময়লা যেন না লাগে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। ক্ষতপ্রদাহ শুকিয়ে আসা অবধি এ নিয়ম মেনে চলা উচিত। যদি অনেক বেশি ব্যথা হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্যারাসিটামল বা অন্য ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করতে পারেন।
সম্ভব হলে আক্রমণকারী কুকুরের দিকে লক্ষ রাখুন। কামড়ানোর কিছুদিনের মধ্যে কুকুরটি মারা গেলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। এ রকম হলে বিষয়টি অবশ্যই চিকিৎসককে অবগত করুন। তবে এত সময় নষ্ট না করে, বরং যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতাল বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে জলাতঙ্ক ও ধনুষ্টঙ্কারের টিকা গ্রহণ করা উচিত। জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেলে তা কিন্তু শতভাগ প্রাণঘাতী। কুকুরের কামড়ের পর জলাতঙ্কের লক্ষণ প্রকাশ পেতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
জলাতঙ্কের জন্য দুই ধরনের টিকা রয়েছে। ক্ষতের তীব্রতা ও আধিক্যের ওপর ভিত্তি করে কারও ক্ষেত্রে একধরনের, আবার কারও কারও ক্ষেত্রে উভয় ধরনের টিকা প্রয়োগের প্রয়োজন পড়ে। যত তাড়াতাড়ি জলাতঙ্কের এ টিকা গ্রহণ করা যায়, ততই মঙ্গল। জলাতঙ্কের আধুনিক টিকার ছয়টি ডোজ রয়েছে। নাভির চারপাশে চামড়ার নিচে এ টিকা নেওয়া হয়। টিকার সব কটি ডোজ সময়মতো গ্রহণ করে টিকার কোর্স সম্পন্ন করা আবশ্যক। জলাতঙ্কের পাশাপাশি ধনুষ্টঙ্কারের সংক্রমণ ঠেকাতে কুকুরের আক্রমণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ধনুষ্টঙ্কারের টিকা গ্রহণ করা উচিত। কুকুরের আক্রমণের পর আঁচড় বা কামড়জনিত যেকোনো জটিলতায় নিকটস্থ চিকিৎসক বা সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।

20/10/2020

নাক কান গলার সমস্যা উপেক্ষার নয়
আমাদের দেশে নাক-কান-গলার সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঠান্ডার কারণে সমস্যা সৃষ্টি হতে দেখা দেয়। কিন্তু ঠান্ডাজনিত সমস্যা ছাড়াও নাক-কান-গলার আরও অনেক জটিল অসুখ হতে পারে, সেগুলো সম্পর্কে আমরা খুব কমই জানি। আর এই নাক-কান-গলার নানা রকমের সমস্যা ও চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলো স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ অনুষ্ঠান এসকেএফ নিবেদিত ‘করোনাকালের অসুখ-বিসুখ’-এর অষ্টম পর্বে।

অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ও নাক-কান-গলা রোগবিশেষজ্ঞ ডা. সুব্রত ঘোষ। সঞ্চালনায় ছিলেন ডা. শ্রাবন্য তৌহিদা। অনুষ্ঠানটি ২৫ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল এবং এসকেএফের ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

প্রথমে নাক-কান-গলার বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে জানা গেল। গলার সমস্যার মধ্যে আছে টনসিল, যেটি ছোট বাচ্চাদের অনেক বেশি হয়। শিশু আর বৃদ্ধদের গলায় খাবার বা অন্য কিছু আটকে যাওয়ার সমস্যা দেখা যায়। নারীদের ফ্যারিঞ্জাইটিস নামের গলার সংক্রমণ বেশি হয়ে থাকে। এগুলো খুবই সাধারণ কিছু গলার অসুখ। এ ছাড়া অনেক সময় হঠাৎ করে গলায় ব্যথা হয়, খাবার গিলতে সমস্যা হয়। এগুলো গলার কোনো ইনফেকশন বা গলা বা খাদ্যনালিতে টিউমারের লক্ষণ।

কানের সমস্যাগুলোর মধ্যে আছে কান পাকা, কানে কম শোনা বা আঘাতজনিত সমস্যা। আর নাকের সাধারণ সমস্যাগুলোর মধ্যে আছে নাকের হাড় বাঁকা, নাকের ভেতর মাংস বৃদ্ধি, সাইনাস প্রভৃতি। এ ছাড়া নাকে ক্যানসার ও টিউমারের মতো সমস্যাও হয়ে থাকে।
আমাদের দেশে দেখা যায়, নাক, কান বা গলার কোনো সমস্যা হলে রোগীরা ইএনটি স্পেশালিস্টদের কাছে না গিয়ে মেডিসিন বা নিউরোমেডিসিন স্পেশালিস্টদের কাছে আগে যান। এর প্রধান একটি কারণ হচ্ছে নাক বা কানের সমস্যায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মাথাব্যথা হয়। এভাবে অন্য চিকিৎসকের কাছে গেলে রোগীর ঠিকমতো ডায়াগনোসিস ও চিকিৎসা হয় না। তাই এসবের কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই নাক-কান-গলা রোগবিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে ডা. সুব্রত ঘোষ নাক ও কানের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। যেমন নাকের হাড় বাঁকা সমস্যা হলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, মাথাব্যথা হয়। হাড় যদি অনেক বেশি বাঁকা থাকে, তাহলে সার্জারি করে সেটি সোজা করা যায়। তবে তার আগে পিএনএস সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে নাকে হাড়ের অবস্থা দেখে নিতে হবে। সঠিকভাবে সার্জারি করলে নাকের হাড় পুনরায় বাঁকা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে সেটি দ্রুত করতে হবে।

সাধারণ মানুষ তো বটেই, এ দেশে অনেক চিকিৎসকের মধ্যেও নাকের পলিপ নিয়ে একটি ভুল ধারণা আছে। বেশির ভাগ মানুষই মনে করেন, নাকের ভেতর মাংস বৃদ্ধি মানে পলিপ। এটি ঠিক নয়। নাকের পলিপ সাধারণত দুই রকমের। ইথমোডাইল ও এন্ট্রোকোঅ্যানাল। এ দুই ধরনের পলিপ এন্ডোস্কপি সাইনাস সার্জারি করে সহজেই অপসারণ করা যায়। সাইনাস সমস্যায়ও একই চিকিৎসা অর্থাৎ এন্ডোস্কপি সাইনাস সার্জারি করা হয়।
কানের যেকোনো সমস্যাই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। কানের সমস্যার মধ্যে একিউট ওটাইটিস মিডিয়া বা কান পাকা অত্যন্ত খারাপ একটি সমস্যা। কানের পর্দা ফেটে গেলে বা ইনফেকশন হলে এমন হয়ে থাকে। এতে কানে ব্যথা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কান থেকে পানি বা পুঁজ বের হয়। অনেক সময় দেখা যায় কানের ইনফেকশন থেকে মস্তিষ্কেও ইনফেকশন হয়। এ ক্ষেত্রে কান পাকার সমস্যা হলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। প্রাথমিক অবস্থায় গেলে সাধারণ চিকিৎসায় ইনফেকশন সারানোর ওষুধ বা অ্যান্টি হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে রোগীকে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। যেমন ইনফেকশন অবস্থায় কান না খোঁচানো, গোসলের সময় কানে যাতে পানি না যায়। এভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চললে এ সমস্যা সার্জারি ছাড়াই সেরে যায় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
আর যদি দীর্ঘদিনের ইনফেকশন হয় বা কানের পর্দা ছেঁড়া থাকে, তখন আগে ইনফেকশন সারিয়ে সার্জারি করতে হবে। তার আগে পরীক্ষা করে দেখতে হবে কানের ভেতরের হাড় ও টিস্যুর ক্ষয় হয়েছে কি না। যদি হয়, তাহলে বড় সার্জারি করতে হবে। না হলে শুধু কানের পর্দা জোড়া দিয়ে মরিঙ্গোপ্লাস্টি বা টেম্পানোপ্লাস্টি করলেই চলবে।
আবার দেখা যায়, অনেকের হঠাৎ করে শ্রবণশক্তি চলে যায়। ভাইরাল বা অন্য কোনো ইনফেকশন বা আঘাতজনিত কারণে এমনটি হয়। এ ক্ষেত্রেও জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ এ সমস্যা নিয়ে ৭ থেকে ১০ দিনের বেশি বসে থাকলে পরে চিকিৎসা করে কোনো লাভ হয় না।
অনুষ্ঠানে জন্মগত বধিরতা নিয়ে বেশ কিছু তথ্য দেওয়া হয়। এখন বাংলাদেশেই জন্মগত বধিরতার ভালো চিকিৎসা হচ্ছে। ঢাকায় জাতীয় নাক-কান-গলা ইনস্টিটিউট, সিএমএইচসহ আরও কয়েকটি জায়গায় ককলারি ইমপ্ল্যান্ট হচ্ছে। যদিও এটি একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। তবে বিশেষজ্ঞ শোনালেন আশার কথা। বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই চিকিৎসার ব্যয় কমানোর জন্য কাজ করছে। এ ছাড়া সরকারি উদ্যোগে অন্যান্য বড় হাসপাতালে এই চিকিৎসা শিগগির চালু করা হবে।

বধিরতার এই চিকিৎসা বা ককলারি ইমপ্ল্যান্ট অল্প বয়সে করাই উত্তম। দেখা যায়, শিশু যদি কানে না শোনে তাহলে তাকে সাধারণ শিশুবিশেষজ্ঞ বা মেডিসিন স্পেশালিস্টের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেকে আবার ভাবেন যে বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে। এ বধিরতার সমস্যা বড় হলে কখনোই ঠিক হয় না, এমনকি সে সময় চিকিৎসা করেও লাভ হয় না। তাই একদম শিশু অবস্থাতেই বধিরতার চিকিৎসা করতে হবে।

সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর আমাদের শ্রবণশক্তি কমতে শুরু করে। বৃদ্ধ বয়সে গেলে দেখা যায় অনেকে কানে ঠিকমতো শোনেন না। বৃদ্ধ বয়সের এ ধরনের বধিরতার সমস্যার জন্য চিকিৎসকেরা ‘হিয়ারিং অ্যাইড’ ব্যবহার করতে বলেন।

আমাদের দেশে কানের চিকিৎসায় রোগীর ‘সার্জারি ভীতি’ খুব দেখা যায়। অনেকে মনে করেন, এখানে সার্জারি করলে শ্রবণশক্তি একেবারেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আশ্বস্ত করে বলেন, এখন বাংলাদেশেই দক্ষ চিকিৎসক দ্বারা স্বল্প খরচে নাক, কান ও গলার উন্নত চিকিৎসা ও সফল সার্জারি হচ্ছে।

15/10/2020

শিশুর দাঁতের যত্ন
সচেতনতার অভাবে প্রাথমিক দাঁত বা শিশুর দুধদাঁত অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুধদাঁতের স্থায়িত্বকাল অল্প হলেও এগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। দুধদাঁতের শিকড়ের নিচে স্থায়ী দাঁতের গঠন শুরু হয়। কাজেই দুধদাঁতের সংক্রমণ স্থায়ী দাঁতকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ ছাড়া স্পস্ট উচ্চারণ, চোয়ালের গঠন ও মুখের আকৃতি ঠিক রাখা এবং স্থায়ী দাঁত সঠিক জায়গায় গজানোর বিষয়টিও দুধদাঁতের ওপর নির্ভরশীল। শিশুর স্মৃতিশক্তি, আত্মবিশ্বাস, প্রাণচঞ্চলতা, লেখাপড়ায় মনোনিবেশসহ মানসিক বিকাশেও দুধদাঁত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শিশুর দাতেঁর যত্নে সচেতন থাকতে হবে সব সময়।

শিশুদাঁত ওঠা ও পড়ার সময়
সাধারণত নিচের মাড়ির সামনের দিকের ৪টি দাঁত ওঠে ৬ থেকে ৯ মাস বয়সে। আর ওপরের মাড়ির সামনের দিকের ৪টি দাঁত ওঠে শিশুর ৭ থেকে ১০ মাস বয়সে। এগুলো ৬ বছর থেকে ৯ বছর বয়সের মধ্যে পড়ে স্থায়ী দাঁত গজায়। ওপরের ও নিচের মাড়ির সামনের ৪ দাঁতের দুই পাশে একটি করে ৪টি দাঁত ওঠে ১৬ থেকে ২০ মাস বয়সে, আর পড়ে ৯ থেকে ১২ বছর বয়সে। ওপরের ও নিচের মাড়ির দুই পাশের ৮টি দাঁতের মধ্যে প্রথমটি ওঠে ১২ থেকে ১৬ মাস বয়সে, পড়ে ৯ থেকে ১০ বছর বয়সে। দ্বিতীয় দাঁত ওঠে ২০ থেকে ২৪ মাসে, আর পড়ে ১১ থেকে ১২ বছর বয়সে। এভাবে ২০টি দুধদাঁত পড়ে ৩২টি স্থায়ী দাঁত ওঠে। সঠিক সময়ে দাঁত ওঠার জন্য শিশুকে বিভিন্ন ধরনের খাবার চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করাতে হবে।

দুধদাঁতের যত্ন
গর্ভধারণের ছয় সপ্তাহ থেকে গর্ভস্থ শিশুর দাঁতের গঠনপ্রক্রিয়া শুরু হয়। তাই গর্ভাবস্থায় খাবারে পর্যাপ্ত পুষ্টি ও ক্যালসিয়াম নিশ্চিত করতে হবে। শিশুর দাঁত ওঠার আগে পরিষ্কার সুতি কাপড় উষ্ণ পানিতে ভিজিয়ে পরিষ্কার করে দিতে হবে। দাঁত ওঠার পর নরম বেবি টুথ ব্রাশ দিয়ে সতর্কতার সঙ্গে দাঁত ও জিহ্বা পরিষ্কার করতে হবে। বেবি টুথ পেস্ট না পেলে বা খেয়ে ফেলার আশঙ্কা থাকলে পেস্ট না দিলেও চলবে। দাঁতের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বুকের দুধের বিকল্প নেই। ঘুমের মধ্যে ফিডারের ব্যবহার দাঁতের ক্ষতি করে। শিশুর সামনে বড়রা দাঁত ব্রাশ করলে তারাও উৎসাহিত হয়।

শিশুর স্মৃতিশক্তি, আত্মবিশ্বাস, প্রাণচঞ্চলতা, লেখাপড়ায় মনোনিবেশসহ মানসিক বিকাশেও দুধদাঁত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে
শিশুর খাদ্যাভ্যাস
দাঁতের যত্নে শিশুর খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। চিনি, কৃত্রিম জুস, কোমল পানীয়, মিষ্টি, চকলেট, আইসক্রিম, চিপস দাঁত ক্ষয় করে। এগুলোর পরিবর্তে ফরমালিনমুক্ত তাজা মৌসুমী ফল, ফলের জুস, শাকসবজি, ডিম, দুধ, মাছ-মাংস খাওয়াতে হবে শিশুকে। দাঁতে গর্তসহ জিহ্বার ওপর সাদা প্রলেপ (ছত্রাকের সংক্রমণ) বা কোনো ক্ষত দেখলে দ্রুত দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

দুধদাঁতের চিকিৎসা
অনেকে ভাবেন, দুধদাঁত তো পড়েই যাবে, এর চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। কিন্তু দুধদাঁতের সুস্বাস্থ্যের ওপর স্থায়ী দাতের সুরক্ষা অনেকটাই নির্ভরশীল। কাজেই দুধদাঁত আক্রান্ত হলে চিকিৎসা করাতে হবে। এখন দুধদাঁতের সর্বাধুনিক নিরাপদ চিকিৎসাপদ্ধতি আছে। শিশুরা সহযোগিতা না করলেও কার্যকর চিকিৎসাব্যবস্থা আছে। ব্যথামুক্ত চিকিৎসাসেবা দেওয়াও সম্ভব। সমস্যার শুরুতে চিকিৎসা নিলে অল্প সময়েই তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। কাজেই শিশুর দুধদাঁতের কোনো রোগকে পুষে না রেখে কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ দিয়ে জটিলতা বাড়ানো ঠিক নয়।

13/10/2020

শিশুর মূত্রনালির সংক্রমণ
শিশুদের ডায়াপার পরানোর পর মলমূত্রসহ দীর্ঘ সময় রেখে দিলে তা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়
কিডনি অকার্যকর হওয়ার পেছনে যতগুলো কারণ আছে, তার মধ্যে বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ অন্যতম। শিশুরাও এই সমস্যায় ভোগে।

শিশুদের মূত্রনালিতে প্রস্রাবের প্রবাহে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা বাধার সৃষ্টি হলে এই সংক্রমণ বারবার হতে পারে। কারণ, প্রতিবন্ধকতা থাকলে প্রস্রাব মূত্রনালিতে জমতে থাকে, ঠিকমতো বের হতে পারে না। জমতে থাকা এই প্রস্রাবে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটে। ধীরে ধীরে তা মূত্রনালির নিচের অংশ থেকে ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং একসময় কিডনিও আক্রান্ত হয়। একপর্যায়ে কিডনি কর্মক্ষমতা হারায়।

মূত্রনালিতে প্রতিবন্ধকতার কারণ
শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে অন্ত্রে জমা কঠিন মল পাশের মূত্রনালির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে মূত্রনালি সংকীর্ণ হয়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হতে পারে।

প্রস্রাব দীর্ঘ সময় চেপে রাখলে সমস্যা হতে পারে।

মূত্রনালির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেকোনো পর্যায়ে জন্মগত ত্রুটি থাকলে প্রস্রাবের প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে।

পানি কম পান করলে।

প্রস্রাব পুরোপুরি না হলে বা মূত্রথলি ঠিকভাবে খালি না হলে এমনটা হতে পারে।

শিশুদের ডায়াপার পরানোর পর মলমূত্রসহ দীর্ঘ সময় রেখে দিলে তা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

রাসায়নিক মিশ্রিত পানি বা সাবানের ফেনাযুক্ত পানিতে দীর্ঘ সময় গোসল করলে সমস্যা হতে পারে।

ছেলেশিশুদের লিঙ্গের বাইরের ত্বকের ছিদ্র খুব সংকীর্ণ থাকলে প্রস্রাবের প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে।

স্নায়বিক সমস্যায় প্রস্রাবে সংক্রমণ হতে পারে।

গুঁড়া কৃমির সংক্রমণ, মূত্রনালির কোনো রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার সময় মূত্রনালিতে যন্ত্রপাতি ঢোকানো কিংবা মূত্রনালিতে পাথর হলেও সংক্রমণ হতে পারে।

বুঝবেন যেভাবে
তীব্র কাঁপুনিসহ জ্বর, পিঠের নিচের দিকে কিডনির জায়গায় ব্যথা থাকতে পারে। অনেক সময় জ্বর তীব্র থাকে না, তবে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া করতে পারে, কিছুক্ষণ পরপর প্রস্রাব হতে পারে। তলপেটে ব্যথা হয়। প্রস্রাবে অনেক সময় রক্ত যেতে পারে।
সংক্রমণ রোধে করণীয়
মূত্রনালির কোথাও কোনো প্রতিবন্ধকতা আছে কি না, তা নির্ণয় করে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।

ইতিমধ্যে কিডনিতে কোনো ক্ষত হয়েছে কি না, তা নির্ণয় করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

শিশুর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৌচাগার সুবিধা উন্নত করতে হবে। বিশেষ করে মেয়েদের ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে হবে।

অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা : বিভাগীয় প্রধান, শিশুরোগ বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল

11/10/2020

সঙ্গী হোক লেবুর রস
লেবু এক আজব ফল। এর রয়েছে রকমফের। নানা জাতের লেবু হয়ে থাকে। আর পুষ্টিগুণ তো বলে শেষ করা যাবে না। তবে হঠাৎ করে লেবু কচলানোর কারণ কিন্তু এর স্বাদ আরও তিতা করে তোলা নয়; বরং জানিয়ে দেওয়া আজ লেবুর রস দিবস। তাই তথ্যগুলো নতুন করে পরিবেশন করা হলো আপনাদের জন্য।

ইতিহাস
লেবুর উৎপত্তির সঠিক ইতিহাস মেলে না। তবে ধরে নেওয়া হয় উত্তর-পূর্ব ভারতই লেবুর আদি নিবাস। প্রথম জন্মায় আসামে। তাও অন্তত আড়াই হাজার বছর আগে। সেখান থেকে আরব বণিকদের হাত ধরে ১০০ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্য আর আফ্রিকায় যায়। এরও ১০০ বছর পর ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে লেবু যায় ইতালিতে। এরই মধ্যে মিশর আর সুমেরে চাষ শুরু হয়ে যায়। তবে দশক শতক পর্যন্ত এর চাষ ব্যাপক ছিল না। স্পেনে গেছে একাদশ শতকে; তাও আরবদের হাত ধরে। এর পর থেকে ইউরোপে ছড়াতে শুরু করে। ১৪৯৩ সালে ইউরোপ থেকে এই লেবুর বীজ আমেরিকায় নিয়ে যান ক্রিস্টোফার কলম্বাস। আমেরিকায় ছড়াতে লেগে যায় আরও অন্তত দু শ বছর। তবে লেমন শব্দটি প্রথম মেরে মিডল ইংলিশ ডিকশনারিতে, ১৩৫০-১৪০০ সালের মধ্যে। তখন শব্দটি ছিল লিমন। এটা আবার ফরাসি শব্দ। এ জন্য ধরে নেওয়া ফরাসি থেকে ইংরেজিতে এসেছে। আবার ফরাসিরা শব্দটি পেয়েছে ইতালির লিমোনি থেকে। আর ইতালিয়ানরা পায় আরবদের শব্দ লাইমুন। পারস্যে এটাই লিমুন। বাংলার লেবু হয়তো হিন্দি বা উর্দুর লিম্বু থেকে এসে থাকবে।
মজার তথ্য
লেবু নিয়ে রয়েছে নানা মজার তথ্য। এই যেমন চতুর্দশ লুইয়ের জমানায় ফরাসি রমণীরা তাদের অধর রাঙাতেন লেবু দিয়ে। আবার স্কার্ভি থেকে রেহাই পেতে ব্রিটিশ নাবিকেরা জাহাজ ভরে লেবু নিয়ে রওনা দিতে বাণিজ্যে কিংবা যুদ্ধে।
পুষ্টিগুণ
লেবুর পুষ্টিগুণ বলে শেষ করা যাবে না। চায়ের কাপের এক-চতুর্থাংশ লেবুর রসে আছে ৩১ শতাংশ ভিটামিন সি; যা কিনা দৈনিক চাহিদার সমান। এ ছাড়া আরও আছে ৩ শতাংশ ফোলেট আর ২ শতাংশ পটাশিয়াম।। সব মিলিয়ে ১৩ ক্যালরি।
কার্যকারিতা
এর রয়েছে নানা কার্যকর ভূমিকা। সতেজ রাখে, ওজন কমায়, ত্বক সুন্দর রাখে, হজমে সহায়তা করে, নিশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করে, কিডনির পাথর হওয়া রোধ করে, রক্ত পরিশুদ্ধ করে, ক্যানসার প্রতিরোধ করে। আর এই ফিরিস্তি দিয়ে শেষ করা যাবে না।
পরিচর্যায়
লেবুর রস চুলের দারুণ লাইটেনার হিসেবে করে। লেবুর রস দিয়ে চুল ধুলে সূর্যের তাপ থেকে মাথাকে রক্ষা করে। জলপাই তেলের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে নখ ভিজিয়ে রাখলে নখের ক্ষয় দূর হয়ে সুস্থও সুন্দর হয়ে ওঠে। শীতের শুষ্ক ঠোঁটে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে লেবুর রস মাখিয়ে ঘুমালে ঠোঁট সুন্দর হয়। বলিরেখা দূর করতেও সহায়ক এই লেবুর রস। দাঁতের যত্নে লেবুর রসের রয়েছে সহায়ক ভূমিকা। লেবুর রস শরীরের দুর্গন্ধ দূর করে। ব্ল্যাক হেড আর ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে।
কেবল আজ নয় লেবু হোক আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। অবশ্য বেশি কচলালে তিতা হওয়ার পরিবর্তে দাম বেড়ে যেতে পারে। কারণ করো না প্রতিরোধে এই ভূমিকার কথা শুনেই তো দাম বাড়িয়ে দেওয়া হলো। অবশ্য এখন দাম সহনীয় পর্যায়েই রয়েছে। তবে বাঙালির পাতে লেবু থাকেই। এমনকি লেবু দিয়ে নানা মুখরোচক পদও তৈরি হয়। রান্নার নানা কাজেও রয়েছে লেবুর ভূমিকা।

অতএব জয় লেবুর রসের জয়।

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address

Dhaka
1206