Royal Sovereign Perfume
Where Elegance Reigns.......
ভাইয়েরা হাদির কথাগুলো যে যেভাবে পারেন যত্ন করে রাখেন আমি এও ভয় পাই যে কখন ডিপ স্টেট তার কথাগুলোর রিচ কমিয়ে দেয়। কৌশলে এগুলো সরিয়ে দেয়। হাদি এমন সব কথা বলেছে যে কথাগুলোই এই সময়ের সর্বোচ্চ প্রয়োজনীয় ছিলো।
হাদি যেদিক গুলোতে ঝড় তুলেছিলো বাংলাদেশের তরুণ সমাজ সেই কথা ধরতে পারে জাস্ট মাথায় নিতে পারে তাহলে এদেশে একটা বড় পরিবর্তন সম্ভব। হাদির মতো করে কেউ বলে নি। এমন কোনো প্রশ্ন ছিলো না যার উত্তর ওর মাথায় ছিলো না। আর এজন্যই ওর মাথাকে ঝাঝড়া করা হয়েছে।
দেখেন এতো এতো মানুষের মাঝে প্রথম টার্গেট হইছে হাদি। শুধু আওয়ামীলীগই নয় এই হত্যাচেষ্টার পিছনে অনেক অনেক অনেক বড় ষড়যন্ত্র।
৫৪ বছর ধরেই আমরা অন্য দেশের হাতের পুতুল হয়ে আছি। আমাদের দেশের ভিতরে রন্ধ্রে রন্ধ্রে পুতুল সেট করা আছে...
হাদিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। হাদির নামে হাজার হাজার পেইজ মিডিয়া গড়ে উঠুক। হাদির কথাগুলো গ্রামের চায়ের দোকানে দোকানে ঝড় তুলুক। রিক্সাচালক মামা ,চায়ের দোকানদার মামা ,মাছের ব্যবসায়ী ভাই সবার মাথায় এই কথাগুলোই সেট হওয়া জরুরি।
মাদ্রাসার ভাইদের কিভাবে স্কিল দিয়ে লড়াই করতে বলেছে সেই কথাগুলো বার বার শোনানো হোক। কিভাবে কালচারাল লড়াই করতে শিখিয়েছে সেটা শোনানো হোক। নতুন প্রজন্ম হাদি হয়ে উঠুক।
মিসইনফর্মেশন না ছড়াই৷
"হাদি চোখ খুলেছে"
"হাদি হাত নাড়ছে"
"হাদির কন্ডিশন ইমপ্রুভ করেছে"
এরকম খবর আমরা সবাই শুনতে চাই। কিন্তু তাই বলে মিথ্যা খবর শুনাবেন? এইআই জেনারেটেড ছবি প্রচার করবেন?
হাদির কন্ডিশন আসলে কী?
আমার দেশের নিউজ থেকে হাদির ভায়ের বরাতে জানলাম, ফুসফুস এবং হার্ট আগের চেয়ে ভালো কাজ করছে। এটা থেকে আমরা কী বুঝবো?
বাংলাদেশে থাকতেও হার্ট বা ফুসফুস বড় ইস্যু ছিলো না। ফ্লাই করার আগে সেগুলো ফেভারেবল কন্ডিশনেই ছিলো। তবে, জার্নিতে কিছুটা আনস্ট্যাবিলিটি তৈরি হতে পারে, সেটা হয়ত হাসপাতালে নেবার পর স্ট্যাবল হয়েছে। ( স্যাচুরেশন, হার্ট রেট, ব্লাড প্রেসার - এগুলো)
তবে, হাদির মেইন চ্যালেন্জ নিউরোলজিকাল কন্ডিশন। সেটার বিষয়ে নিউজে কোন আপডেট জানানো হয়নি। আমার অভিজ্ঞতা বলে, হাদির কন্ডিশন থেকে নিউরোলজিকালি ইমপ্রুভ করা খুবই রেয়ার ঘটনা। তবে, তার পিইপিলারি রিএকশান যদি ফেরে এবং জিসিএস যদি এক ও বাড়ে - তাহলে আমরা তার বেঁচে থাকার ব্যাপারে আশাবাদী হবো। তবে সেক্ষেত্রেও জার্নিটা লং এন্ড ম্যাক্সিমাম কেসে বেঁচে থাকলেও ভেজিটেটিভ স্টেইটে চলে যায় - কোয়ালিটি অফ লাইফ থাকে না। তবে মিরাকেল হ্যাপেনস৷ আমার আইসিইউ লাইফেও বেশ কিছু মিরাকল দেখেছি।
কথা এখনো আগেরটাই, একটা মিরাকল দরকার। আমরা আল্লাহর কাছে মিরাকলের জন্য দোয়া করি। আমরা দোয়া করি সেই খালিকের কাছে যিনি মৃতকে জীবন দেন, যিনি হও বললেই হয়ে যায়।
মিরাকল মানে আল্লাহর রহমত ও কুদরত।
©Mehedi Hasan
হাদির শেষ চাওয়া ছিল একটাই যদি তাকে কেউ মেরে ফেলে, অন্তত তার বিচার যেন হয়। দেখলেন? ও কোন জায়গায় হাত দিলো? একটা চাওয়াই ছিলো। বিচার...
যে হাদি মোনাজাতে বলে আল্লাহর কসম ,তোমার ইজ্জতের কসম আমরা সমস্ত অসততা থেকে বাইচ্চা থাকতে চাই ,ওরা বুঝে গেছিলো সেই হাদিকে কেনা যাবেনা। খেয়াল করে দেখলে দেখবেন ,এই অভ্যুত্থানের অধিকাংশ নেতারা মাদ্রাসার ছাত্র। কিন্তু তাদের কোয়ালিটি বহু স্কুলের ছাত্রদের হার মানায়। হাসিনার বরাবরই টার্গেট ছিলো মুসলমানদের উপরে ,হুজুরদের উপরে ,মাদ্রাসার ছাত্রদের উপরে। তার মধ্যে হাদি হয়ে উঠেছিলো একটা স্ট্যান্ডার্ড আইকন।
হাদির খুনি যদি ধরা না পড়ে, তাহলে বুঝে নিতে হবে ,এই দেশ আমাদের নয়।এই বাংলাদেশ শুধু নামেই বাংলাদেশ।এই বাংলাদেশের কবর রচনা হয়ে গেছে।
আওয়ামী লীগের সময় আমি এমন দু’জন মিডিয়াকর্মীকে চিনতাম, যারা নিয়মিত ভারতের ৩৩তম পররাষ্ট্রসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।তারা মাসে মাসে টাকা পেত চেকের মাধ্যমে ভারতে তথ্য পাঠানোর জন্য।
ভাবতে পারেন, বাংলাদেশে এমন লোকের সংখ্যা কত? এখনো হাজার হাজার আছে।আপনার আমার চোখের সামনেই এজেন্ট আছে।দেশপ্রেমিক সেজে মুখোশ পরে ঠিক আমাদের মাঝেই আছে।
সেসব মিডিয়াকর্মীদের যোগাযোগ ছিল দেশের প্রশাসনের বহু আমলার সঙ্গে।তারা ট্র্যাপ করত।হাসিনার আমলে কে সচিব হবে, কার প্রোমোশন হবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন জায়গায় কে থাকবে এসবও নাকি নির্ধারিত হতো ইন্ডিয়ার নির্দেশে। কালচারাল ফ্যাসিজম এমনি এমনি হয়নাই।
সংস্কার কমিশনের একজনের নিজের মুখে শুনেছি যে প্রশাসন সংস্কার নিয়েও ইন্ডিয়ার চাপ আছে।কিভাবে জানেন? রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে 🙂 প্রশাসন সংস্কার আর হলো? পুলিশ সংস্কার হলো?
দু’দিন পরে হয়তো দেখবেন, আমাকেও কিনে নেওয়া হবে।এজেন্সি এমন জিনিস হয়তো আমি নিজেও বুঝতে পারব না, আমি কখন তাদের হয়ে কাজ করছি।
আমরা “দেশ, দেশ” করে স্লোগান দিচ্ছি, লাশ হচ্ছি
আর দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এজেন্ট।
হাদি আমাদের অনেকগুলো বার্তা দিয়ে গেছে।
তার খুনি ধরা না পড়া মানে ,বাংলাদেশ শেষ।
হাদি, আবরার তারা আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেছে আজন্মকালের আজাদির লড়াই।এটা বুঝতে আমরা অনেক দেরি করে ফেলছি। আমাদের মূল লড়াই আজাদির লড়াই।
©মাহমুদা মিতু
ওসমান হাদীর অবস্থা এখন কোথায় - ১০টা পয়েন্ট গতকাল রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্য নিয়ে
পাবলিকলি এভেইলেবল ইনফর্মেশান এর ভিত্তিতে এই পোস্ট। একটু সহজ করে বুঝানোর চেষ্টা করা হবে এখানে। ওসমান হাদীকে বিদেশে ট্রান্সফার করার কাজ চলছে বলে দেখলাম
১। প্রথম দিন থেকে মেইন যে সমস্যা - বুলেটের কারনে মাথার হাড় গুড়া হয়েছে। এই বুলেটের ফ্র্যাগম্যান্ট ও হাড়ের ফ্র্যাগমেন্ট মিলে হয়েছে traumatic brain injury - যেটার একটা বড় অংশ এফেক্ট করেছে তার ব্রেইনস্টেমে। ব্রেইনস্টেম খুবি গুরুত্বপুর্ন একটা অংশ - ব্রেইন ও শরীরের কানেকশান এটা দিয়ে হয় আর আমাদের নিশ্বাস নেয়া, হৃদপিন্ড কাজ করা সহ বিভিন্ন কাজে এটা জরুরি।
২। বুলেট ঢুকার কারনে ব্লিডিং ও হয়েছিল। রক্তপাত যদিও কন্ট্রোল করেছিল অপারেশানে, এখনো রক্ত জমাট (haemorrhagic contusion) হয়ে আছে। এটা তার ব্রেইনের দুইপাসের টেম্পোরাল লোবে। Temporal Lobe এর কাজ আমাদের কথা বলা, কথা বুঝা, স্মৃতিশক্তি এগুলা নিয়ন্ত্রন করায়। প্রথম দিন বুলেট এই টেম্পোরাল লোব দিয়েই ঢুকেছিল বলে এই ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়াও আরেকটা ব্লিডিং এর কারন রক্ত জমাট (haematoma) হয়ে আছে subarachnoid space এ।
৩। গুলির পরে কয়েকবার হাদীর কার্ডিয়াক এরেস্ট হয় - মানে হার্ট বন্ধ হয়ে যায়। এ কারনে সাময়িক ব্রেইনেও ব্লাড সাপ্লাই কেটে পরে কয়েকবার। এটার ফলে এখন দেখা যাচ্ছে hypoxic brain injury - অক্সিজেনের অভাবে ব্রেইনের যে ইঞ্জুরি হয়।
৪৷ তাছাড়া অক্সিজেনের অভাব + ইঞ্জুরি + ট্রমা জনিত ক্লটিং সমস্যা মিলিয়ে তার ব্রেইনে ইনফার্ক্ট ও হয়েছে বলে মনে হচ্ছে - অনেকটা স্ট্রোকের মত - ব্রেইনের কিছু অংশে ব্লাড ফ্লো বন্ধ হয়ে যায় এমন হলে।
৫। উপরের ৪টা জিনিসই ব্রেইনের swelling করে। এটা বিদ্যমান সব চেয়ে রিসেন্ট সিটি স্ক্যানে। ব্রেইনটা একেবারেই ফুলে গেছে। একারনে প্রথম দিনের অপারেশানটা খুবি জরুরি ছিল, কারন মাথার হাড়ের একটা অংশ কেটে রাখায় সেখান দিয়ে ব্রেইন বেরিয়ে আসতে পেরেছে (herniation)। অপারেশান না করলে এতদিনে এই swelling এর কারনেই আরো অনেক বেশি ক্ষতি হতো। কিন্তু তাছাড়াও, এই হারনিয়েশান ইটসেল্ফ একটা খুব ভাল লক্ষন না। ব্রেইনে এতটা সোয়েলিং ও পানি জমা ফাংশানিং কে অনেকটা এফেক্ট করবে।
৬। পুরা ব্রেইন জুড়ে ছোট ছোট বোন ফ্র্যাগমেন্ট ছড়িয়ে আছে যেগুলা ক্ষতি করতে পারে৷ হাড়ে ফুটা হওয়ার কারনে বাতাস ও ঢুকে গিয়েছে মাথায় (pneumocephalus) যেটা একটা ইনফেকশান রিস্ক
৭। উপরের ৬টা জিনিসের যে কোন একটাই অনেক আশঙ্কাজনক - ৬টা একি সাথে (অবশ্যই সব কিছুর মুল ওই বুলেট) খুবি সিরিয়াস।
৮। এত কিছুর উপরে আরেক বড় রিস্ক হচ্ছে ইনফেকশান - ১। নোংরা বুলেট ২। যেভাবে ঢামেকে নেয়া হয়, এত জনের সংস্পর্শে আসা এগুলার এক রিস্ক ৩। ব্রেইনের যেহেত বাতাসের সাথে কন্ট্যাক্ট হয়েছিল তাই ৪। যে কোন অপারেশানের পরেই ইনফেকশানের রিস্ক থাকে (কিন্তু অপারেশান করতেই হতো) ৫। ভেন্টিলেটারে রাখার কারনেও লাংসে নিউমোনিয়া হওয়ার রিস্ক থাকে (কিন্তু ভেন্টিলেটারে না দিলে নিশ্চিত মৃত্যু তাই দেয়াই লাগবে) ৬। আরো ইঞ্জুরি গুলা (বুকে ও পায়ে) ও সেখানের অপারেশান জনিত রিস্ক ও আছে।
৯। এখন দরকার সময়। উপরের এই সব ইনফেকশান রিস্ক কমিয়ে এনে, তার হার্ট ও লাংস কে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে সাহায্য করে তার ব্রেইনের সোয়েলিং কমানোর জন্যে অপেক্ষা করতে হবে। আগামি দিনগুলোতে ইমপ্রুভমেন্ট এর উপর বেইজ করেই দেখা লাগবে কি হয়। মেডিকেলের জ্ঞান থেকে সত্যি ব্যাপারটা খুবি হতাশাজনক।
১০। শেষমেষ, আসলে দুয়া ছাড়া কোন উপায় নাই। আমি এটার পর ধারাবাহিক আপডেট দেয়া অফ করে দিব। অন্য অনেকেই রেগুলার আপডেট দিয়ে রাখে তাদের ফলো করতে পারেন।
©Raiiq Ridwan
আমি এভারকেয়ারে ছিলাম, সর্বশেষ আপডেট হলো :
ওসমান হাদী ভাইয়ের মেডিকেল রিপোর্ট প্রথমে সিংগাপুরে পাঠানো হয়, রোগীর অবস্থা বেশি ক্রিটিক্যাল হওয়ায় তারা রিস্ক নিবে না বলে জানায়। এরপর পেপার্স সব ব্যাংককের একটা হাসপাতালে সাবমিট করা হয়, তারাও নো সিগন্যাল দিয়েছে। এখন আবার সিংগাপুরে যোগাযোগ করা হচ্ছে, সম্ভবত আগামী ২৪/৪৮ ঘন্টার মধ্যে নিশ্চিত করা যাবে ভাইকে ট্রিটমেন্টের জন্য কোথায় নেয়া হবে?
ওসমান হাদী ভাইয়ের মা, স্ত্রী, সন্তান আজকে হাসপাতালে আসছিলেন। তারা সিসিউর ভিতরে যেয়ে ভাইয়ের সাথে দেখা করে আসছেন। ভাবী অনেক বেশি স্ট্রং ... তাকে আর কে কি সান্তনা দিবে সে সবাইকে সান্তনা দিচ্ছিলেন। ভাবী বলছেন, " আপনাদের ভাইকে বলে আসছি কোটি কোটি মানুষ তোমার জন্য দুয়া করতেছে, এবার বিছানা থেকে উঠে আসো।"
একজন ওসমান হাদী হয়ে উঠাত পিছনে ভাবীর ভূমিকা ছিলো অনেক। সাংসারিক কোন অশান্তি ভাইকে দেন নাই। কোন অভিমান, ঝগড়া আমি অন্তত শুনি নাই। ভাই যে এতো কাজ করতে পারতেন, দৌড়াইতে পারতেন তার পিছনে ভাবীর কোন বাধা ছিলো না। ওসমান ভাই একদিন আমাকে বলতেছিলো,
" এই যে আপা দেখেন, আপনার ভাবীর একটা ক্রিম (মেডিসিন) লাগবে, এইটা আমি দিতে যাবো সেইটা জানাইতেও ভুইলা গেছি, প্রেগন্যান্ট একটা মানুশ তার যত্নটাও আমি নিতে পারি নাই, ওষুধটা দিতে ভুইলা গেছি আপনার ভাবী রাগও করে নাই, দুই দিন পর মনে পড়ছে আমি দৌড়ায়ে যেয়ে দিয়ে আসছি ... "
এমন ছিলো ওসমান হাদী, এমন ছিলো তাদের দাম্পত্য জীবন। আমাদের ভাতিজা কতো সৌভাগ্যবান মা শা আল্লাহ, যে সে এমন সাহসী ধৈর্য্যশীল রমণীর গর্ভে জন্মেছে, ওসমান হাদীর মতোন একজন বীরের রক্ত তার দেহে বইছে। আমরা আমাদের ভাতিজাকে মুক্তার মতোন নিরাপদে রাখবো ইন শা আল্লাহ।
ওসমান ভাইয়ের জন্য দুয়া জারি রাখবেন ... ভাইকে যেনো বাহিরে নেয়ার ব্যবস্থা দ্রুত হয়ে যায়। আমাদের আশার আলো যেনো নিভে না যায়।
#মারফিয়া
ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্য গুলি করার ঘটনার সাথে জড়িত শ্যুটার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং তার সহযোগী মোটরবাইক চালক আলমগীর হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় (১২ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করার পর জাহাঙ্গীর কবির নানকের পিএস মো. মাসুদুর রহমান বিপ্লব, ফয়সাল করিম মাসুদকে এই ভারতীয় নম্বরটি জোগাড় করে দেন বলে বিশেষ গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়।
+৯১৬০০১৩৯৪০**
এই নম্বরটি ব্যবহার করে গতকাল রাতে কয়েকটি নম্বরে নিজেদের এই সেলফি পাঠান ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান। যেসকল নম্বরে এই ছবিটি পাঠানো হয় তার একটি ইন্টারসেপ্ট করে এই ছবিটি পাওয়া যায়, যা গতকাল ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে তোলা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
© Zulkarnain Saer
হাদির যখন গুলি লাগে আমি যে কাপড়ে বাসায় ছিলাম ৩০ সেকেন্ডে সেইভাবেই দৌড়ে নেমে গেছি। কেন গেছি ,কি করবো জানিনা ,শুধু মামাকে বলছিলাম মামা আরও জোরে গাড়ি টানেন। এক সেকেন্ডও দেরি করিনি কিন্তু আমাদের আইন শৃঙ্খলাবাহিনী আমার মতো শোনার সাথে সাথেই একশন শুরু করতে পারেনি। কারন আমার মতো /আমাদের মতো ওই টানটা অনুভব করতে পারেনাই। অথচ ওই অল্প সময়ে দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে যুদ্ধ লাগিয়ে দেয়া যেতো। তারা অনেক দেরিতে একটিভ হয়েছে। এই ব্যর্থতা ইউনুস সরকারের।
ইউনুস সরকারের সুশীল আচরণের জন্য আজ এই ঘটনা ঘটে গেলো। আজ মন্ত্রণালয় হেলথের একটা মিটিং ছিলো। সব কিছু নরমাল চলছে সব স্বাভাবিক। কোথাও যেন কিচ্ছু ঘটেনি যে যার ফাইল ,যার যার এজেন্ডা কারো বদলি ,কারো প্রোমোশন। অথচ এই হাদিদের জন্যই তারা চেয়ার পেয়েছিলো।
একজন শিক্ষিত মহিলা আবার এ আই ছবির কথা জিজ্ঞেস করে সে ভাবছে সত্যি। এই হলো বাংলাদেশের মানুষ।
আমরা সারাবছর নিজেদের ঝুঁকিতে ফেলেছি অথচ শিক্ষিত ,ভন্ড সুশীলেরা চেয়ার দখল করেছে। এদেশে এমনসব নেতা নেত্রীদের বড় বড় পোস্ট দিয়ে প্রোমট করা হয় যারা শাপলা তো দূরের কথা একদিন আবরার ফাহাদকে নিয়েও কথা বলেনাই। ভাবা যায় আবরারকে নিয়েও কথা বলে নি!!!
আমারে আম্মা বলে তুই এতো গরম কথা বলবি না ,অমুক মেয়েটারে দেখো না নরম নরম কথা কয়।
আমি বললাম ,আমি পথের মানুষ ,আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করে বড় হইছি। আমি পিলখানা ,বিশ্বজিৎ ,শাপলা ,সাগররুনি ,কুয়োতে পড়া ,জিহাদ সুন্দরবন ধ্বংস ,আবরার কিংবা জুলাই কখনো তো কথা বলা থামাই নি আম্মু। ২০১২ সালেও আমি ডাক্তারদের নিরাপদ কর্মস্থলের লড়াই করেছি। আমার ২ হাজার ফলোয়ার ছিলো সেই দুইহাজার মানুষের মাঝে আমি প্রতিবাদ জারি রাখছি।
আম্মু বলে তাতে লাভ কি? কোনো প্রোগ্রামেই কোনো চেয়ারেই তো দেখা যায় না ,বলদ তুই। অদ্ভুত লাগে আবরার নিয়ে কথা নাই ,জুলাই নিয়ে কথা নাই তাদের ধরে ধরে তাদের পরিবার ধরে আমরা সুশীল গোষ্ঠী বানাইছি।
তবে আমরা ইংলিশ ভালো না জানলেও স্লোগান জানি ,ইতিহাস আমাদের মনে রাখবে। এতো কাভারেজ পাওয়ার পর ও আমরা আঙুল দিয়ে খুচিয়ে মানুষ সরিয়ে মানুষের সামনে গিয়ে দাড়াতেই হবে এমন মন নিয়ে জন্মাই নি। আমার মনটা এখনো স্নিগ্ধ আছে।
যারা রাজপথে স্লোগান দেয় তারাই সুশীলের ক্ষমতার মসনদ নাড়ায়। আমি ভীষণভাবে পাগলাটে মানুষগুলোকে ওউন করি। আজ মনে হচ্ছে এমপি মন্ত্রী না হয়ে বরং হাদি হয়েই বেঁচে থাকি। এতো সুশীলপনা ভাল্লাগে না আমার। সুশীলতার অতি শিক্ষা আর ক্ষমতার অতিলোভ জুলাইকে শেষ করে দিলো... মাঝখান দিয়ে নিজের জীবন বাঁজি রাখলাম।
জুলাইয়ে সত্যিকারের যে নারীরা ছিলো ,যে নারীরা বরাবরই নিজেদের বাজি রাখে তারা কই?
©mahmuda mitu
হাদির উপর গুলি চালানোয় অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীর প্রাইভেট কারে করে মিরপুর থেকে আশুলিয়া পরে গাজীপুর হয়ে ময়মনসিংহে আসে।
সেখানে আবার গাড়ি পাল্টে হালুয়াঘাটের ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত দিয়ে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে ভারত গেছে। এই প্রতিবেদন যমুনা টিভি'র হোসাইন শাহিদ ভাই করেছে।
তাঁকে আমি পার্সোনালি চিনি। সে ওয়েল কানেক্টেড এবং ট্রাস্টেড। ফলে পুলিশের যে বক্তব্য, হাদির হত্যাচেষ্টাকারীরা দেশেই আছে এরচে' আমি তার এই তথ্যকেই বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে করি।
অন্তত যতক্ষণ আদারওয়াইজ প্রমাণ না হচ্ছে। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট দিয়ে ৫ আগস্টের পর বহু রাঘব বোয়াল এবং এমপি'রাও ভারতে গেছে।
ময়মনসিংহে লোকমুখে শুনেছি সদরের এমপিও এই রুটে নিজেই গাড়ি চালিয়ে ভারতে গেছে। এই রুট দিয়ে ভারতে পার করার পেছনে যে বড়ো চক্র আছে, সেটা কি আন্দাজ করা কঠিন!
নিশ্চয়ই বিরাট পয়সার ব্যাপার এটা। প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার এগুলো অজানা থাকার কথা না। ময়মনসিংহ শহর থেকে প্রাইভেট কার নিয়ে হালুয়াঘাট যাওয়ার একটা মাত্র পথ, সেটা ব্রিজের উপর দিয়ে।
মার্ক ইট, একটা মাত্র দুই লেনের ব্রিজ। একপাশ হয়ে গাড়ি যায়, অন্য পাশ দিয়ে আসে। একটা পিপড়াও এই পথ পার হওয়ার সুযোগ নাই, যদি রাষ্ট্রযন্ত্র আটকাতে চায়।
হালুয়াঘাট যাবার আগে ধারা বাজার থেকে তারা স্থানীয় এক ব্যক্তির মোটরসাইকেলে সীমান্ত পর্যন্ত যায়। সেই ব্যক্তিকে এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে সীমান্তে তাদের জন্য অপেক্ষায় থাকা দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
যারা বর্ডার পার করে দিয়েছে তারা আটক হলেও এখনও পর্যন্ত সরকার জানে না, হাদির হামলাকারীরা ওপাড়ে গেছে, এটাও আমাদের বিশ্বাস করতে হবে?
ফলে রাষ্ট্রযন্ত্র হাদিকে নিয়ে যে নানা আয়োজন করছে, সেগুলো দেখে বিতৃষ্ণা বাড়ছে। প্যারাট্রুপার হাদির ছবি আঁকা হেলমেট পরে জাম্প করবে, হাদিকে বিদেশ নেওয়া হবে এই সমস্তই এখন যেন মাছের মায়ের পুত্রশোক!
প্রশাসনের উপর, এজেন্সির উপর ইন্টেরিমের নিয়ন্ত্রণ যে কত ক্ষীণ, দূর্বল তাই প্রতীয়মাণ হয়ে উঠছে, প্রতিটি বড়ো ঘটনাতেই।
পুলিশ, গোয়েন্দারা অভিযুক্তকে আইডেন্টিফাই করার আগে দ্য ডিসেন্ট তা করতে পারে। সাংবাদিকেরা নিজেদের সোর্স থেকে যাত্রাপথের ডিটেইলস বলতে পারে!
হাদিকে যারা গুলি করেছে, তারা যে পথে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে, সেই পথ কারা নিয়ন্ত্রণ করে সেটা সামনে আনাই হবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের কাজ।
রাষ্ট্রের উপর ভরসা নাই। চোরা কারবারি, প্রশাসনের কারা কারা, কোন কোন রাজনৈতিক নেতারা জড়িত সেগুলো বের করুন। যদি নূন্যতম দায় ও দরদ থাকে এই জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি।
©Arzo
শরীফ ওসমান হাদি - ওর সম্পূর্ণ নাম। মা বাবা আদর করে কি সুন্দর একটা নাম রেখেছে। যাকে আমরাও আদর করে ডাকি হাদি। আমাদের কলিজার হাদি।
একটু আগে শুনলাম তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগামী কাল সিঙ্গাপুর নেয়া হবে আর তার চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যায় বহন করবে বাংলাদেশ সরকার। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে দুইটাই ভালো খবর।
এখন দ্রুত পৌঁছানো যায় এমন জায়গায় হাদিকে নেয়াই যুক্তিসঙ্গত।
হাদি বর্তমানে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে ভেন্টিলেটরে আছে এবং অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রথম ৭২ ঘণ্টা (যা ১৫ ডিসেম্বর রাতে শেষ হবে) সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।
সিঙ্গাপুরে হাদির অবস্থা স্থিতিশীল হলে আমার উপদেশ হবে তাঁকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে স্থানান্তর করা। Queen Elizabeth Hospital Birmingham হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম সেরা নিউরোট্রমা সেন্টার, যেখানে মাথায় গুলিবিদ্ধ রোগীদের বিশেষ চিকিৎসা হয়।
এখানেই ২০১২ সালে মালালা ইউসুফজাই মাথায় গুলি লাগার পর উন্নত চিকিৎসা পেয়ে অলৌকিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠেছিল । মালালার বুলেটও মাথা দিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ব্রেনস্টেম পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি – তবু তারা দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে।
এই হাসপাতালটি যুদ্ধের আহত সৈনিকদের (গানশট ইনজুরি) চিকিৎসায় বিশ্বের সেরা। মাথার গুরুতর আঘাত, ব্রেনস্টেমের সমস্যা, পুনর্বাসন – সবকিছুতে তাদের অভিজ্ঞতা অনেক।
এখানে আধুনিক নিউরোক্রিটিক্যাল কেয়ার, অস্ত্রোপচার ও লং-টার্ম রিহ্যাবিলিটেশন সুবিধা আছে।
অন্যান্য ভালো জায়গা হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ো ক্লিনিক বা শেফার্ড সেন্টার, কিন্তু লন্ডন/বার্মিংহাম কাছাকাছি এবং মালালার সাফল্যের কারণে এটি সবচেয়ে উপযুক্ত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, এখনো কোনো স্থানান্তরের তাড়াহুড়া করা যাবে না। অবস্থা স্থিতিশীল না হলে দূরের যাত্রা প্রাণঘাতী হতে পারে। চিকিৎসকদের পরামর্শই চূড়ান্ত।
সবাই হাদির সুস্থতার জন্য দোয়া করি।
©Sabina
14/12/2025
আগামীকাল দুপুর একটায় একটি এয়ার এম্বুলেন্সে করে হাদীকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হবে।
সূত্র: প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়
#৫১৮২
আপনার আইন শৃঙ্খলা নষ্টকারী বাহিনী আমাদের প্রতিবাদ করলে মারবে, শত্রুরা আমাদের মেরে রেখে গেলে তাদের ধরবে না বা পালানোর ব্যবস্থা করবে। আপনার বিচার বিভাগ খু/নীদের জামিন দেবে, বেকসুর খালাসের ব্যবস্থা করবে। আপনার গোয়েন্দারা জানবে না দেশের শত্রুরা অবৈধ অস্ত্র কোথা থেকে পায়।
কিন্তু যেদিন একজন ট্যাক্সপেয়ার ভাইয়ের রক্তের বদলা নিতে হাতে অস্ত্র তুলে নেবে, সেদিন আপনার রাষ্ট্র তাকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে।
এই যদি আপনার সরকার, এই যদি আপনার রাষ্ট্র জয়, এই যদি হয় আপনার সভ্যতা, এই সভ্যতার পা*য় বেয়নেট ঢোকানোর মাধ্যমে আমরা আমাদের সভ্যতার সংজ্ঞায়ন শুরু করবো।
আমরা আমাদের ভাইদের রক্তের ওপর দাঁড়ায় চোখের পানি ফেলবো না। উত্তরসুরীদের আমরা শেখাবো, শহীদের কবরে শুভেচ্ছা দিতে হয় বেঈমানদের রক্ত ঢালার মাধ্যমে। আপনারা আমাদের পিঠকে যত দেয়ালের দিকে ঠেলে দেবেন, আমরা ততই র্যাডিক্যাল হয়ে উঠবো। চব্বিশের ফ্ললেস রেভলুশন যাদের পছন্দ হয় নাই, যারা এর সাথে শত্রুতা করেছে, তাদের মুখের ওপর থুতু দিয়ে আমরা ভবিষ্যতকে শিখায়ে যাবো, *নকীর ছেলেদের কনসেন্ট নিয়ে কোনদিন ইনসাফ কায়েম করা যায় না।
খোদার জমিন কোন রক্তের ফোটার হিসাব বাকি রাখে না। শরীফ ওসমান হাদীর রক্তেরও হিসাব নেয়া হবে। মাসুমের রক্ত আপনাদের তাকদীর অন্ধকার করে দেবে, ইনশাল্লাহুল আযীয।
©
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka
1219
Opening Hours
| Monday | 09:00 - 22:00 |
| Tuesday | 09:00 - 22:00 |
| Wednesday | 09:00 - 22:00 |
| Thursday | 09:00 - 22:00 |
| Saturday | 09:00 - 22:00 |
| Sunday | 09:00 - 22:00 |
