TANHA আপু
TT: nadiya.quenn0
ig: nadiya.quenn0
Ff uid: 4691585293
∘₊✧.тαинα_🦢🫧
😝🙌🏻
゚viralシ ゙ン #𝖳𝗁𝗏
゚viralシ
11/06/2026
𝐏𝐚𝐫𝐭:- 𝟏𝟎
রিটস চুপচাপ কিচেনে ঢুকে গেল। তার মুখে কোনো হাসি নেই, চোখ দুটো ঠান্ডা আর গম্ভীর। সে এক কাপ ব্ল্যাক কফি বানিয়ে নিল—চিনি ছাড়া, তিতা, যেন তার মনের অবস্থার সাথে মিলে যায়। কফির কাপ হাতে নিয়ে সে সোজা নিজের রুমে চলে গেল। দরজা বন্ধ করার আগে একবার ড্রয়িং রুমের দিকে তাকাল। এলেসা আর হিরোর ঘুমন্ত অবস্থাটা তার চোখে আটকে রইল। তার আঙুল আবার সেই রাগী রিদমে টোকা দিতে শুরু করল। ভেতরে ভেতরে একটা জেলাসির আগুন জ্বলছে। “হিরোর সাথে এত কাছাকাছি… এটা আমার একদম সহ্য হয় না।”
মায়া এলেসাকে ডেকে তুলল। “জানু, উঠ। ফ্রেশ হয়ে নে। এত রাত পর্যন্ত জেগে থাকিস, শরীর খারাপ করবে।”
এলেসা ঘুম জড়ানো চোখে উঠে বসল। কাশতে কাশতে বলল, “আচ্ছা যাচ্ছি…” সে উঠে গোসল করতে চলে গেল। গরম পানিতে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। আইসক্রিম আর ঠান্ডা ড্রিংকের কারণে তার গলা ধরে এসেছে। শরীরটা একটু দুর্বল লাগছে।
এদিকে হিরো এখনো সোফায় আরাম করে ঘুমাচ্ছে। মিহিদ তার দিকে তাকিয়ে বিরক্ত হয়ে গেল। সে হিরোকে এক ধাক্কায় সোফা থেকে ফেলে দিল।
“আআআহ! শা’লা কোন মা’দা’র’চো’দ—” হিরো ব্যথায় চিৎকার করে উঠে বসতে গিয়ে মিহিদকে দেখে থেমে গেল। তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
মিহিদ চোখ সরু করে বলল, “কী যেন বলছিলি? মা’দা’র’চো’দ? আবার বল তো?”
হিরো তড়িঘড়ি উঠে পালিয়ে নিজের রুমের দিকে দৌড় দিল। মিহিদ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কয়েকটা গালি দিয়ে ফিরে এল। তার মুখে হালকা হাসি, কিন্তু চোখে রাগ।
এলেসা ততক্ষণে ফ্রেশ হয়ে নেমে এসেছে। তার চুল ভেজা, পরনে একটা সাদা টি-শার্ট আর শর্টস। গলায় সেই ড্রাগন লকেটটা জ্বলজ্বল করছে। কিন্তু ঠান্ডা লেগে সে কাশছে। “উফ, আইসক্রিম খাওয়ার শাস্তি…”
সে পিছনের বাগানের দিকে চলে গেল। বাড়িতে কোনো ফিক্সড রুটিন নেই। আজ সরকারি ছুটি, তাই বিকেলে সবাই মিলে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান।
পিছনের বাগানটা শান্ত আর সবুজ। এলেসা একটা বড় পেয়ারা গাছের নিচে দাঁড়াল। গাছে অনেক বড় বড় পেয়ারা ঝুলছে। ঠান্ডা কমানোর জন্য সে কিছু না ভেবেই গাছে উঠে পড়ল। তার চনচলে স্বভাবটা এখনো জেগে আছে। পায়ের ব্যথা সে প্রায় ভুলেই গেছে। কয়েকটা পেয়ারা পেড়ে নিচে নেমে এল।
সুইমিং পুলের কাছে গিয়ে দেখল টেবিলের উপর পানির জগ রাখা। একটা পেয়ারা ধুয়ে নিয়ে গাছের নিচে ঘাসের উপর বসে পড়ল। পেয়ারায় কামড় দিতেই মিষ্টি রস মুখে ছড়িয়ে পড়ল। সে চুপচাপ খাচ্ছিল, কিন্তু মাথায় অনেক কিছু ঘুরছিল। কাল রাতের ঘটনা, রিটসের সেই ঠান্ডা দৃষ্টি, হিরোর সাথে আড্ডা—সব মিলিয়ে তার মেজাজটা একটু উত্তেজিত।
পিছনের বাগানে ঠান্ডা হাওয়া বইছিল। এলেসা ঘাসের উপর আরাম করে বসে পেয়ারা খাচ্ছিল। প্রতিটা কামড়ে মিষ্টি রস তার ঠোঁট বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিল। তার চনচলে মেজাজটা এখন একটু শান্ত। পায়ের ব্যথা প্রায় ভুলে গেছে। সে চোখ বন্ধ করে মুহূর্তটা উপভোগ করছিল।
হঠাৎ পিছনে কারো উপস্থিতি টের পেল। কেউ একজন নীরবে দাঁড়িয়ে আছে।
“ড্রেস চেঞ্জ করে আয়।”
রিটসের গম্ভীর, ঠান্ডা গলা। এলেসা চমকে পিছনে ঘুরতেই দেখল সে দাঁড়িয়ে আছে, হাতে কফির কাপ। তার চোখ দুটো সেই একই রকম — গভীর, তীক্ষ্ণ, আর কিছুটা জেলাসি মেশানো।
এলেসা ভ্রু কুঁচকে নিজের ড্রেসের দিকে তাকাল। সাদা টি-শার্ট আর শর্টস — তার কাছে তো একদম নরমাল। সে বুঝতেই পারল না এতে খারাপ কী আছে। কিন্তু রিটসের ধমকানো সুরটা তার মেজাজ খারাপ করে দিল।
সে কোনো কথা না বলে উঠে পড়ল। পেয়ারাগুলো হাতে নিয়ে সোজা বাড়ির ভিতরে চলে গেল। রিটসের সাথে কথা বলার বা ঝগড়া করার কোনো ইচ্ছাই তার ছিল না। “কে তুই যে আমাকে ড্রেস চেঞ্জ করতে বলবি? মাথা খারাপ নাকি?” মনে মনে গজগজ করতে করতে সে নিজের রুমে ঢুকে পড়ল।
রুমে এসে সে একটা কালো শার্ট আর ব্যাগি প্যান্ট পরে নিল। তারপর বিছানায় শুয়ে ল্যাপটপ খুলল। তার প্রিয় কোরিয়ান ড্রামা “My Demon” চালিয়ে দিল। এই ড্রামাটা সে আগেও অনেকবার দেখেছে, কিন্তু প্রতিবারই নতুন করে ভালো লাগে। ডেমনের সাথে মানুষের গল্প, প্রেম, অন্ধকার — সবকিছু তার নিজের জীবনের সাথে মিলে যায়।
সময় যে কীভাবে কেটে গেল সে খেয়ালই করেনি। হঠাৎ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে চমকে উঠল। সকাল ১১:৪৫ বাজে। সে রুমে ঢুকেছিল প্রায় ৮:৪৫-এর দিকে। এতক্ষণ কেউ তাকে ডাকল না কেন?
ল্যাপটপ বন্ধ করে সে দ্রুত নিচে নেমে এল। ড্রয়িং রুমে সবাই বসে গল্প করছে। হাসি-ঠাট্টা চলছে। কিন্তু কেউ তাকে খুঁজতে আসেনি। এলেসার মেজাজটা একটু খারাপ হয়ে গেল।
রিটস একটু দূরে মিহিদের সাথে দাঁড়িয়ে মোবাইলে কথা বলছিল। মিহিদ কান পেতে শুনছে। এলেসা লাফিয়ে লাফিয়ে মিহিদের কাছে গিয়ে ইচ্ছে করে তাকে ধাক্কা দিল।
“আরে!” মিহিদ তাল সামলাতে না পেরে পড়ে গেল।
সবাই হেসে উঠল। এলেসাও হাসছে। রিটস কথা বলতে বলতে দূরে সরে গেল। মিহিদ উঠে এলেসাকে ধরতে ছুটল। “এই শয়তান মেয়ে! ধরবই তোকে!”
এলেসা হাসতে হাসতে পুরো বাড়ি ঘুরিয়ে দৌড়াতে লাগল। মিহিদ হাঁপিয়ে গেলেও তাকে ধরতে পারছিল না। এলেসা জিভ দেখিয়ে আবার দৌড় দিল। কিন্তু হঠাৎ পিছনে তাকিয়ে দেখে — রিটস সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। তার ঠান্ডা, গম্ভীর চোখ দুটো সরাসরি তার দিকে।
এলেসা ভয়ে চিৎকার করে সোফার কোনায় ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেল। পায়ের আগের ক্ষতটায় আবার ব্যথা করে উঠল।
সবাই আবার হেসে উঠল। মায়া, হিরো, নেহাম — সবাই হাসতে হাসতে প্রায় মরে যাওয়ার অবস্থা। কিন্তু এলেসার ব্যথাটা অন্য কেউ খেয়াল করল না। শুধু মিহিদ, জোনাকি আর রিটস খেয়াল করেছে।
রিটসের চোখ সরু হয়ে গেল। তার ভেতরে জেলাসির সাথে এবার একটা অদ্ভুত চিন্তা মিশে গেল। সে কিছু বলল না, কিন্তু তার আঙুল আবার টোকা দিতে শুরু করল। “এই মেয়েটা সবসময় এমন করে কেন? আর আমি কেন এতটা প্রতিক্রিয়া দিচ্ছি?”
এলেসা উঠে বসে পা টিপতে টিপতে হাসল। কিন্তু তার চোখে একটা অস্বস্তি। রিটসের সেই দৃষ্টিটা তার ভালো লাগছিল না।
To be continued...
~[𝐓𝐢𝐤𝐭𝐨𝐤:- 𝐧𝐚𝐝𝐢𝐲𝐚.𝐪𝐮𝐞𝐧𝐧𝟎
𝐅𝐚𝐜𝐞𝐛𝐨𝐨𝐤:- 𝐓𝐚𝐧𝐡𝐚_আপু/𝐧𝐚𝐝𝐢𝐲𝐚𝐪𝐮𝐞𝐧𝐧𝟎𝟎
𝐈𝐧𝐬𝐭𝐚𝐠𝐫𝐚𝐦:- 𝐧𝐚𝐝𝐢𝐲𝐚.𝐪𝐮𝐞𝐧𝐧𝟎]
অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ 🚫
゚viralシ
11/06/2026
𝐏𝐚𝐫𝐭:- 𝟎𝟗
ড্রয়িং রুমের নরম আলোয় টিভির স্ক্রিনে জম্বিরা চিৎকার করে ছুটছে। এলেসা একদম মনোযোগ দিয়ে দেখছিল। তার চোখ দুটো স্ক্রিনের দিকে স্থির, কিন্তু মাঝে মাঝে তার ঠোঁটের কোণে একটা ছোট্ট হাসি খেলে যাচ্ছে। ভয় পেলেও এইসব মুভি তার ভেতরের অন্ধকারকে যেন একটু শান্ত করে। চিপসের প্যাকেটটা হাতে নিয়ে ঝাঁকিয়ে দেখল—একদম খালি।
পাশে তাকাতেই দেখে হিরো আরেকটা প্যাকেট খুলে নিঃশব্দে চিপস খাচ্ছে।
“এই চোর!” এলেসা বালিশটা তুলে হিরোর মাথায় মেরে দিল। “চিপস আর কোল্ড ড্রিংক নিয়ে আয় জলদি! নিজে খেয়ে খেয়ে আমারটা শেষ করলি?”
হিরো হাসতে হাসতে উঠে পড়ল। বিড়বিড় করে বলতে বলতে কিচেনের দিকে যাচ্ছিল, “আরে বাবা, একটু খেলাম আর এত রাগ! অ্যাটিটিউড কুইন…”
কিছুক্ষণ পর হিরো দুই হাত ভর্তি করে স্ন্যাক্স নিয়ে এল। চিপস, চকলেট, কোল্ড ড্রিংক, এমনকি কয়েকটা আইসক্রিমও। হাত থেকে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। দুজনে আবার মুভিতে ডুবে গেল। হাসি, গল্প, খাওয়া—সব মিলিয়ে রাতটা বেশ মজারই ছিল।
কিন্তু ধীরে ধীরে ঘুম তাদের চোখে ভর করে আসতে লাগল। এলেসা সোফার এক পাশে কুঁকড়ে শুয়ে পড়ল। হিরো অন্য সোফায়। দুজন দুই দিকে মুখ করে ঘুমিয়ে পড়ল। টেবিলের উপর চিপসের খালি প্যাকেট, ক্যান আর কয়েকটা চকলেটের মোড়ক ছড়িয়ে আছে। যেন দুই বাদর রাতভর আনন্দ করে ঘুমিয়ে পড়েছে।
সকালের নরম আলো জানালা দিয়ে ঢুকছে। মায়া ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে মিহিদের রুমের সামনে এসে দাঁড়াল। দরজায় নক করতেই দেখল দরজা ভেজানো। সে হালকা করে ঠেলে ভেতরে ঢুকল।
“মিহিদ?”
রুম খালি। মায়া ঘুরে বেরিয়ে যেতে যাচ্ছিল, হঠাৎ পিছন থেকে মিহিদ এসে তার হাতটা ধরে ফেলল। মায়া চমকে উঠে পিছনে তাকাল।
মিহিদ তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, “সকাল সকাল আমার রুমে কী হুম?”
মায়া লজ্জায় লাল হয়ে গেল। “না… ওই আমি এদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম, তাই ভাবলাম দেখি তুমি কী করছ…”
“হুম, বুঝেছি,” বলেই মিহিদ তাকে জড়িয়ে ধরল। তার হাত মায়ার কোমরে শক্ত হয়ে বসল। মায়া প্রথমে একটু নড়াচড়া করল, কিন্তু মিহিদ ছাড়তে চায় না। তার চোখে সেই চেনা আদর আর অধিকারের মিশ্রণ।
ঠিক তখনই দরজার কাছে পায়ের শব্দ হলো। রিটস এসে দাঁড়িয়েছে। তার ঠোঁটে একটা মুচকি হাসি। চোখ দুটো ঠান্ডা, কিন্তু ভেতরে যেন আগুন জ্বলছে।
মায়া লজ্জায় এক ঝটকায় মিহিদকে সরিয়ে দিয়ে দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে গেল। তার গাল লাল, চোখ নিচু।
রিটস ভেতরে ঢুকে মিহিদকে দেখে শুকনো গলায় বলল, “সকালেই এত এনার্জি? ভালো ভালো।”
মিহিদ হেসে কাঁধ ঝাঁকাল। রিটস আর কিছু বলল না। কিন্তু তার চোখে সেই চিরকালীন গম্ভীরতা আর একটা তীক্ষ্ণ জেলাসির ছায়া।
দুজনে নিচে ড্রয়িং রুমে এসে দেখল—একটা সোফায় এলেসা, অন্যটায় হিরো। দুজনেই ঘুমিয়ে আছে। টেবিলের উপর চিপসের খালি প্যাকেট, কোল্ড ড্রিংকের ক্যান, চকলেটের মোড়ক ছড়ানো। রাতভর দুজনের আড্ডার স্পষ্ট চিহ্ন।
রিটসের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। তার চোখ এলেসার দিকে স্থির। হিরোর সাথে এত কাছাকাছি ঘুমিয়ে থাকাটা তার একদম পছন্দ হচ্ছে না। ভেতরে ভেতরে একটা রাগী ঝড় উঠছে। তার আঙুল আবার সেই রাগী রিদমে টোকা দিতে শুরু করল। মুখে কোনো কথা নেই, কিন্তু চোখ দুটো যেন বলছে—এটা আমার সহ্য হয় না।
মিহিদ এলেসার কাছে গিয়ে ডাকল, “এলেসা, উঠ। সকাল হয়ে গেছে।”
এলেসা বিরক্ত হয়ে চোখ খুলল। ঘুম জড়ানো গলায় বলল, “কী হয়েছে? আরেকটু ঘুমাতে দে না…”
দুই-একটা গালি দিয়ে সে আবার চোখ বন্ধ করতে যাচ্ছিল। মিহিদ হাসতে হাসতে বলল, “উঠ উঠ, নয়তো জোনাকি আপু এসে দেখলে আবার লেকচার শুরু করবে।”
রিটস চুপচাপ দাঁড়িয়ে সব দেখছিল। তার মনে একটা প্রশ্ন ঘুরছিল—এলেসা কেন হিরোর সাথে এত স্বাভাবিক? আর আমার সাথে কেন এত দূরত্ব?
এলেসা উঠে বসল। চুলগুলো এলোমেলো, চোখে এখনো ঘুম। কিন্তু রিটসের দিকে তাকাতেই তার অ্যাটিটিউড কুইন মোড অন হয়ে গেল। সে ভ্রু কুঁচকে একবার তাকাল, তারপর মুখ ঘুরিয়ে নিল।
রিটস কিছু না বলে সোজা রান্নাঘরের দিকে চলে গেল। কিন্তু তার ভেতরের জেলাসি আর রাগটা আরও গভীর হয়ে বসে গেল।
To be continued...
~[𝐓𝐢𝐤𝐭𝐨𝐤:- 𝐧𝐚𝐝𝐢𝐲𝐚.𝐪𝐮𝐞𝐧𝐧𝟎
𝐅𝐚𝐜𝐞𝐛𝐨𝐨𝐤:- 𝐓𝐚𝐧𝐡𝐚_আপু/𝐧𝐚𝐝𝐢𝐲𝐚𝐪𝐮𝐞𝐧𝐧𝟎𝟎
𝐈𝐧𝐬𝐭𝐚𝐠𝐫𝐚𝐦:- 𝐧𝐚𝐝𝐢𝐲𝐚.𝐪𝐮𝐞𝐧𝐧𝟎]
অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ 🚫
10/06/2026
𝐏𝐚𝐫𝐭:- 𝟎𝟖
রক্তের গন্ধটা এখনো এলেসার নাকে লেগে আছে। কিন্তু সে বেশি কিছু ভাবতে চায় না। সোফায় বসে পায়ের ক্ষতটা দেখল। রক্ত টপটপ করে পড়ছে। সে বিরক্ত হয়ে ফার্স্ট এইড বক্স খুলে বেন্ডেজ করে নিল। ক্ষতটা মুছে ফেলল দ্রুত। ব্যথা আছে, কিন্তু এলেসার কাছে এটা কিছুই না। সে তো অনেক বড় বড় ব্যথা সহ্য করতে শিখেছে।
“এই ইটগুলো কে এখানে ফেলে রাখলো?” সে মনে মনে বিড়বিড় করল। তার মেজাজটা এখনো গরম। আজকের সারাদিনটা তার জন্য একটা ঘূর্ণিঝড়ের মতো কেটেছে।
উঠে কিচেনের দিকে গেল। পা হাঁটতে একটু ব্যথা করছে, কিন্তু সে গ্রাহ্য করল না। ফ্রিজ খুলতেই তার চোখ চকচক করে উঠল। তার প্রিয় চকলেট আইসক্রিমটা দেখে খপ করে তুলে নিল। সাথে একটা রেডবুল আর কয়েক প্যাকেট চিপস। সবকিছু নিয়ে সোফায় এসে বসল।
রিমোটটা তুলে টিভি অন করল। একটা জম্বি মুভি চলছে। এলেসা জম্বি দেখতে ভয় পায়, তবু মাঝে মাঝে এইসব মুভি দেখে। কারণ এতে তার নিজের ভেতরের অন্ধকারটা যেন একটু শান্ত হয়। সে আইসক্রিমের বাটিতে চামচ চালাতে চালাতে মুভিতে ডুবে গেল।
মুভি দেখতে দেখতে হঠাৎ তার মনে হলো — কেউ তার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। ঘাড়ের কাছে একটা ঠান্ডা অনুভূতি। এলেসা মনে মনে ভাবল, “নিশ্চয়ই টিভি থেকে কোনো জম্বি বের হয়ে এসেছে!” তার হৃদয় ধড়াস করে উঠল। আল্লাহ আল্লাহ বলে পিছনে ঘুরতেই—
“বুুুুুু!!”
হিরো ধুম করে পিছন থেকে লাফিয়ে এসে চিৎকার করে তাকে ভয় দেখাল।
“আআআহhh!” এলেসা ভয়ে চিৎকার করে উঠল। তারপরই রাগে ফেটে পড়ল। সে হিরোর দিকে ঘুরে দুই-তিনটা জোর ঘুসি মেরে দিল।
“এই ফাজিল কোথাকার! এত রাতে ড্রয়িংরুমে কী করছিস তুই? আমাকে ভয় দেখাচ্ছিস? মরবি নাকি আজ?”
হিরো হাসতে হাসতে পিছিয়ে গেল। তার মুখে সেই চিরকালীন দুষ্টু হাসি। “আরে আরে, রাগ করিস না এলেসা! তোর মুখটা দেখার জন্যই তো করলাম। কী সুন্দর ভয় পেলি!”
এলেসা চোখ পাকিয়ে তাকাল। তার চনচলে স্বভাবটা এখন পুরোপুরি রুড মোডে চলে গেছে। “তোর এই ফাজলামি একদিন তোকে বিপদে ফেলবে। যা, ঘুমাতে যা। নয়তো আমি তোকে এখানেই শেষ করে দিবো।”
হিরো হাসতে হাসতে সোফার অন্য পাশে বসে পড়ল। “আর তুই? এত রাতে জম্বি মুভি দেখছিস, যেটা দেখলে তুই নিজেই ভয়ে কাঁপিস? কী ব্যাপার বল তো?”
এলেসা আইসক্রিমের চামচ মুখে দিয়ে কাঁধ ঝাঁকাল। “মন ভালো নেই। আর তুই এসে আরও খারাপ করে দিলি।”
দুজনের কথার মাঝে সিঁড়ির দিক থেকে একটা হালকা শব্দ হলো। রিটস নিচে নেমে আসছিল। তার চোখে সেই চিরকালীন গম্ভীর, ঠান্ডা দৃষ্টি। সে কোনো কথা বলল না। শুধু একবার এলেসা আর হিরোর দিকে তাকাল। তার চোখে একটা অদ্ভুত জেলাসি আর বিরক্তির মিশ্রণ। বিশেষ করে হিরোর সাথে এলেসার এই হাসি-ঠাট্টা দেখে তার ভুরু আরও কুঁচকে গেল।
রিটস চুপচাপ পানির বোতল নিয়ে আবার উপরে চলে গেল। কিন্তু তার মাথায় ঘুরছিল — এলেসা কেন এত রাতে জেগে আছে? আর হিরোর সাথে এত কাছাকাছি কেন?
এলেসা রিটসকে দেখে একটু থমকে গেল। সে মনে মনে ভাবল, “কী চায় এই ছেলেটা? সারাদিন চুপ করে থাকে, আর যখনই আমি একটু স্বাভাবিক থাকি, তখনই এমন করে তাকায় যেন আমি কোনো অপরাধ করেছি নিজে অসরাধ করে আমার দিকে এইভাবে তাকিয়ে থাকে হুহ।”
কিন্তু সে কিছু বলল না। আইসক্রিমে আরেকটা চামচ দিয়ে মুভিতে মন দিল। হিরো তার পাশে বসে চিপস খেতে খেতে মজা করে কথা বলতে লাগল।
রাত আরও গভীর হচ্ছিল। বাড়ির ভেতরে শান্তি, কিন্তু এলেসার ভেতরে ঝড় চলছেই। আর কোথাও, অন্ধকারে, রিটস তার রুমের জানালার কাছে দাঁড়িয়ে বাইরের অন্ধকার দেখছিল। তার আঙুল আবার সেই রাগী রিদমে টোকা দিচ্ছিল।
To be continued...
~[𝐓𝐢𝐤𝐭𝐨𝐤:- 𝐧𝐚𝐝𝐢𝐲𝐚.𝐪𝐮𝐞𝐧𝐧𝟎
𝐅𝐚𝐜𝐞𝐛𝐨𝐨𝐤:- 𝐓𝐚𝐧𝐡𝐚_আপু/𝐧𝐚𝐝𝐢𝐲𝐚𝐪𝐮𝐞𝐧𝐧𝟎𝟎
𝐈𝐧𝐬𝐭𝐚𝐠𝐫𝐚𝐦:- 𝐧𝐚𝐝𝐢𝐲𝐚.𝐪𝐮𝐞𝐧𝐧𝟎]
অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ 🚫~
আমি কি পার্ট গুলো একটু বেশিই ছোট করে দিচ্ছি নাকি...!? 🙂
10/06/2026
𝐏𝐚𝐫𝐭:- 𝟎𝟕
রাত তখন অনেক গভীর। বাংলোর পিছনের গোডাউনের ভেতরে এখনো রক্তের গন্ধ ভাসছে। লাল তরল মেঝেতে ছড়িয়ে আছে, দেওয়ালে ছিটকে লেগেছে। চারটি নিথর দেহ পড়ে আছে—একসময় যারা এলেসাকে অপমান করার মজা পেত, আজ তারাই নিজেরা অপমানের চরম সীমায় পৌঁছে গেছে। কিন্তু মৃত্যুর পরও তাদের চোখে সেই অবিশ্বাসের ছাপ রয়ে গেছে।
মিহিদ একটা সিগারেট ধরিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। ধোঁয়াটা এলেসার নাকে গেলেই তার শ্বাসকষ্ট হয়, গলা চেপে আসে। তবুও তা যেনো তার মাথাতেই নেই । তারপর হঠাৎ মিহিদের দিকে তাকিয়ে সিগারেটটা তার হাত থেকে কেড়ে নিয়ে মেঝেতে ফেলে দিল। তারপর জুতোর নিচে পিষে পিষে নিভিয়ে দিল।
“তোর এই নোংরা অভ্যাসটা আমার একদম পছন্দ না,” এলেসা মিহিদের দিকে না তাকিয়েই বলল। তার গলায় বিরক্তি আর ক্লান্তি মিশ্রিত। “আর তোর ভাই আভিকে একটা শিক্ষা দিতে হবে। এই মানুষদের সামনে ভালো মানুষ সেজে থাকতে থাকতে আমি হাপিয়ে গেছি। আভি একটু বেশিই উড়ছে। ওর ডানা কেটে ফেলার সময় হয়েছে।”
হিরো পাশ থেকে ফিক করে হেসে উঠল। তার চোখে সেই চেনা উন্মাদ আলো। “ঠিক বলেছিস এলেসা। ওই মা’দা’র’চো’দের সাহস অনেক বেড়ে গেছে। ওর ডানা কাটতে হবে, নয়তো আরও বড় বিপদ হবে।”
মিহিদ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তার চোখে গভীর চিন্তা। সে তার ছোট ভাইকে খুব ভালো করে চেনে। আভি এখনো অনেকটা অপরিপক্ব। কিন্তু পরিবারের সম্মানের ব্যাপারে সে কখনো ছাড় দেয় না। অবশেষে সে মাথা নেড়ে বলল,
“ঠিক আছে। যেদিন আভি প্রথমবার খান বাড়িতে আসবে, সেদিনই সব খুলে বলব।”
এলেসা মিহিদের কথায় পাত্তা দিল না। সে তার চুলের গোছা পিছনে সরিয়ে বলল, “আরেকটা ব্যাপার। ওদের নামের মধ্যে ভেজাল আছে। এখানে আমাদের এক নাম, আসলে আরেক নাম। এটা আমার আর সহ্য হয় না। আমার আসল নাম Mahi Elesa Evolb। কিন্তু সবাই আমাকে চেনে Mahi Elesa Chowdhury নামে। পদবিটা বদলাতে হবে।”
মিহিদ হালকা হেসে বলল, “তো কী চাস? সবার নাম বদলে দিবো?”
এলেসা ঠোঁট উল্টে বলল, “তাই তো বলছি কয়েক বছর ধরে। কিন্তু তোরা কেউ শুনিস না।”
মিহিদ তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে হাসল, “আচ্ছা বাবা আচ্ছা। এমন মুখ ফুলিয়ে নিচ্ছিস কেন? আর কিছুদিনই তো। একটু অ্যাডজাস্ট কর বেস্টি।”
এলেসা হালকা হেসে উঠল। “হে হে, বুঝেছি। চল, বাড়িতে যাই। নয়তো সবাই সন্দেহ করবে আমরা এখানে কী ঘোল পাকাচ্ছি।”
হিরো ফিক করে হেসে উঠল। এলেসা তার হাসির কারণ বুঝতে পারল না, কিন্তু কিছু বললও না। তিনজনে গাড়িতে উঠে পড়ল।
৪০ মিনিট পর। চৌধুরী বাড়ি।
বাড়িটা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। এলেসা, মিহিদ আর হিরো চুপিচুপি পিছনের দরজা দিয়ে ঢুকে নিজেদের রুমে চলে গেল।
এলেসা তার রুমে ঢুকেই গভীর শ্বাস নিল। আজকের ঘটনাগুলো তার মাথায় ঘুরছিল। সে মোবাইলটা বিছানায় ছুড়ে ফেলে ওয়াশরুমে গেল। গরম পানির নিচে দাঁড়িয়ে সে চোখ বন্ধ করল। রক্তের গন্ধ, চিৎকার, থাপ্পড়ের শব্দ—সবকিছু ধীরে ধীরে ধুয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তার ভেতরের আগুনটা ধোয়া যাচ্ছিল না।
শাওয়ার শেষে সে একটা কালো শার্ট আর ব্যাগি প্যান্ট পরে নিল। গলায় ঝুলছিল একটা লকেট—ড্রাগনের মুখের আকৃতির, মাঝখানে একটা ছোট নীল মুক্তা যা অন্ধকারেও জ্বলজ্বল করছে। যেন তার নিজের অন্ধকার আত্মার প্রতীক।
খিদে পেয়েছিল। মোবাইল না নিয়েই সে রুম থেকে বের হলো। সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে হঠাৎ পায়ে কিছুতে লেগে সে হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেল। অন্ধকারে কিছু দেখতে পায়নি। পায়ের বুড়ো আঙুল কেটে গিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করল।
“আহ!” ছোট্ট একটা শব্দ বের হলো তার মুখ থেকে। সে সোফায় বসে পড়ল। স্মার্ট রোবোকে বলতেই হালকা লাইট জ্বলে উঠল। সে দেখল—সিঁড়িতে কয়েকটা ইট পড়ে আছে। বাড়ির পিছনের দেওয়াল মেরামতের জন্য আনা হয়েছিল, কিন্তু কেউ সেগুলো এখানে ফেলে রেখেছে।
এলেসা বিরক্ত হয়ে পায়ের দিকে তাকাল। রক্ত টপটপ করে পড়ছে। তার রাগ আরও বেড়ে গেল।
এদিকে রিটস-এর ঘুম আসছিল না। গলা শুকিয়ে গিয়েছিল। সে উঠে পানি খুঁজতে লাগল। রুমে না পেয়ে বিরক্ত হয়ে বাইরে বের হলো।
সিঁড়ির কাছে এসে সে দেখল—কেউ একজন পড়ে গেছে। লো লাইট জ্বলতেই সে বুঝল এলেসা। তার পায়ের আঙুল থেকে রক্ত পড়ছে। রিটসের চোখ সরু হয়ে গেল। কিন্তু সে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল না। যেন কিছুই দেখেনি।
সে নিচে নেমে পানির বোতল রেখে দিল। তারপর একটা ফার্স্ট এইড বক্স এনে সেন্টার টেবিলের উপর রেখে দিল। এলেসা অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল। রিটস কিছু না বলে, কোনো দিকে না তাকিয়ে চলে গেল।
কিন্তু তার চোখে একটা অদ্ভুত চমক ছিল। যেন সে এলেসার রক্তের গন্ধটা গভীরভাবে অনুভব করেছে। তার শরীরে একটা অস্বাভাবিক শীতলতা।
এলেসা ফার্স্ট এইড বক্সের দিকে তাকিয়ে রইল।
To be continued...
~[𝐓𝐢𝐤𝐭𝐨𝐤:- 𝐧𝐚𝐝𝐢𝐲𝐚.𝐪𝐮𝐞𝐧𝐧𝟎
𝐅𝐚𝐜𝐞𝐛𝐨𝐨𝐤:- 𝐓𝐚𝐧𝐡𝐚_আপু/𝐧𝐚𝐝𝐢𝐲𝐚𝐪𝐮𝐞𝐧𝐧𝟎𝟎
𝐈𝐧𝐬𝐭𝐚𝐠𝐫𝐚𝐦:- 𝐧𝐚𝐝𝐢𝐲𝐚.𝐪𝐮𝐞𝐧𝐧𝟎]
অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ 🚫
10/06/2026
𝐏𝐚𝐫𝐭:-𝟎𝟔
রাত গভীর হয়েছে। আকাশে চাঁদ ঢাকা পড়েছে মেঘের আড়ালে। তিনটি কালো গাড়ি—যেন তিনটি অন্ধকার ছায়া—নিঃশব্দে ছুটে চলেছে শহরের প্রান্তের দিকে। ইঞ্জিনের গর্জনও যেন দমিয়ে রাখা হয়েছে। চারপাশে নিস্তব্ধতা। ১৫-২০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো জনবসতির চিহ্ন নেই, শুধু মাঝে মাঝে শুকনো গাছের ডাল হাওয়ায় কাঁপছে। বাংলোটা শহরের একদম শেষ প্রান্তে, অথচ শহর থেকে খুব দূরেও নয়। যেন ইচ্ছে করেই এমন জায়গায় বানানো হয়েছে—যেখানে চিৎকারও হারিয়ে যায়, রক্তও মাটিতে মিশে যায়।
গাড়িগুলো বাংলোর সামনে এসে থামতেই বিশাল লোহার গেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে গেল। গার্ডরা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সালাম দিল। তাদের চোখে ভয় আর শ্রদ্ধার মিশ্রণ। মিহিদ— —গাড়ি থেকে নামতেই সবাই মাথা নিচু করে দাঁড়াল। তার উপস্থিতিই যেন বাতাসকে ভারী করে দেয়।
এলেসা— —পিছনের গাড়ি থেকে নামল। তার চোখে আজ আর কোনো ক্লান্তি নেই। শুধু একটা ঠান্ডা, ধারালো আগুন। আজকের সকালের অপমান এখনো তার চুলের গন্ধে লেগে আছে। ডিম আর ময়দার সেই আঠালো অনুভূতি, হাসির সেই নিষ্ঠুর ঢেউ—সবকিছু তার ভেতরে একটা ঝড় তুলে দিয়েছে। সে ভাবছিল, “আমি কেন সবসময় সহ্য করব? কেন শুধু আমি চুপ করে থাকব? আজ থেকে আর না।”
হিরো— —তার পাশে দাঁড়িয়ে। তার ঠোঁটে একটা উন্মাদ হাসি। সে এই ধরনের রাত পছন্দ করে। যেখানে নিয়ম ভাঙা হয়, যেখানে কেউ চিৎকার করলেও কেউ শুনতে পায় না।
মিহিদের নির্দেশে চারজন মেয়েকে (রিয়া, সামিয়া, প্রিয়া, নিহা) বাংলোর পিছনের পুরনো গোডাউনে নিয়ে যাওয়া হলো। জায়গাটা অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে, দেওয়ালে পুরনো রক্তের দাগের মতো কালো ছোপ। মেয়েদের চেয়ারের সাথে শক্ত করে বেঁধে ফেলা হলো। হাত-পা এমনভাবে বাঁধা যে নড়াচড়ার কোনো সুযোগ নেই।
হিমাংশু এক বালতি ঠান্ডা পানি তাদের মুখে ছুড়ে মারল একে একে। ঠান্ডা পানিতে চোখ খুলতেই মেয়েরা ভয়ে চিৎকার করে উঠল। আর তারপরই তাদের চোখ পড়ল এলেসার উপর। সেই মেয়েটা, যাকে তারা প্রতিদিন অপমান করত, আজ তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে—চোখে কোনো দয়া নেই, শুধু একটা নীরব প্রতিশোধের আগুন।
রিয়া কাঁপা গলায় বলল, “এলেসা… প্লিজ… এটা মজা করছিস না তো?”
এলেসা কোনো উত্তর দিল না। শুধু হিরোর দিকে তাকাল। হিরো ইশারা করতেই হিমাংশু ফুটন্ত গরম পানির বালতি নিয়ে এল। প্রথম বালতিটা রিয়ার শরীরে ঢেলে দেওয়া হলো।
“আআআআহhhhhhh!!!”
চিৎকারটা গোডাউনের দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে এল। মেয়েদের শরীর পুড়ে যাচ্ছে, চামড়া লাল হয়ে ফোসকা পড়ছে। পর পর দশবার ফুটন্ত পানি ঢেলে দেওয়া হলো। প্রতিবার চিৎকার আরও ক্ষীণ হয়ে আসছিল। তারা প্রাণভিক্ষা চাইছিল, কাঁদছিল, মা-বাবার নাম নিচ্ছিল। কিন্তু এখানে কারো মন গলল না।
এলেসার ভাবনা:
সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখছিল। তার ভেতরে একটা অদ্ভুত তৃপ্তি হচ্ছিল। আজ সকালে যখন তারা তার মাথায় ডিম ফাটিয়েছিল, তখন সে চুপ করে সহ্য করেছিল। কিন্তু এখন সে বুঝতে পারছে—ক্ষমতা থাকলে কেউ সহ্য করে না। তার হাত কাঁপছিল না। বরং একটা শান্তি লাগছিল। “এটাই আমি। এতদিন নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলাম।”
মিহিদের ভাবনা:
সে পিছনে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছিল। তার চোখে কোনো আবেগ নেই। সে নিজেই এলেসা আর হিরোকে এভাবে গড়ে তুলেছে। -এর বস হিসেবে সে জানে—দুর্বলতা মানে মৃত্যু। তার ছোট ভাই আভি (মাহিদ অসকার্ডো আভি) এই বুলি গ্যাং চালাত। আর এলেসা তার পরিবারের মেয়ে। কেউ তার পরিবারের কাউকে স্পর্শ করবে—এটা সে সহ্য করবে না।
হঠাৎ মিহিদ হাসতে হাসতে বলে উঠল,
“তোরা যে বুলি গ্যাং-এর মেম্বার, সেই গ্যাং-এর আসল বস আমার ছোট ভাই— । আর আমি… MN Shadow Gang-এর Boss। The King.”
রিয়ার চোখ বড় হয়ে গেল। সে বুঝতে পারছিল না কী হচ্ছে। তারা তো আভির কথাতেই এলেসাকে টিজ করত। কিন্তু এখন সবকিছু উল্টে গেছে।
এলেসা হাসতে হাসতে রিয়ার কাছে গিয়ে দুটো জোরালো থাপ্পড় মারল। তারপর পিছিয়ে এসে বলল,
“আজকে আমার অ্যাডভান্স বার্থডে গিফট… তোদের কাছ থেকে।”
হিমাংশু দুটো ধারালো, বড় ছুরি নিয়ে এল। একটা হিরোর হাতে, একটা এলেসার হাতে। দুজনেই ছুরি নিয়ে এগিয়ে গেল।
এলেসার হাত কাঁপছিল না। তার মনে শুধু একটা কথা ঘুরছিল—“যারা আমাকে অপমান করে, তাদের আর বেঁচে থাকার অধিকার নেই।”
রক্তপাত শুরু হলো। চিৎকারগুলো ধীরে ধীরে থেমে গেল। গোডাউনের মেঝে লাল হয়ে উঠল। এলেসা আর হিরোর পোশাক রক্তে ভিজে গেল। তারা নিখুঁতভাবে, ঠান্ডা মাথায় কাজটা শেষ করল। চারটি নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে রইল।
রিটসের কথা মনে পড়ল এলেসার:
সে জানে না, কিন্তু এই রাতে কোথাও দূরে, হয়তো তার আঙুল টোকা দিয়ে বসে আছে। তার চোখে সেই একই গভীর দৃষ্টি। যেন সে সবকিছু দেখতে পাচ্ছে।
গোডাউনের দরজা বন্ধ হয়ে গেল। বাইরে রাত আরও নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
To be continued...
~[𝐓𝐢𝐤𝐭𝐨𝐤:- 𝐧𝐚𝐝𝐢𝐲𝐚.𝐪𝐮𝐞𝐧𝐧𝟎
𝐅𝐚𝐜𝐞𝐛𝐨𝐨𝐤:- 𝐓𝐚𝐧𝐡𝐚_আপু/𝐧𝐚𝐝𝐢𝐲𝐚𝐪𝐮𝐞𝐧𝐧𝟎𝟎
𝐈𝐧𝐬𝐭𝐚𝐠𝐫𝐚𝐦:- 𝐧𝐚𝐝𝐢𝐲𝐚.𝐪𝐮𝐞𝐧𝐧𝟎]
অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ 🚫
#উপন্যাস #লেখিকা
#উপন্যাস #লেখিকা
Click here to claim your Sponsored Listing.
Website
Address
Gazipur
