Anamul Haque
আজ অথবা কাল তুমি আমি এবং আমরা সবাই পৃথিবীতে থাকব না।
12/02/2026
ফাঁস হওয়া নথিতে ৬৪ ডিসির রাজনৈতিক পরিচয়: ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনে দলীয়করণের ছায়া
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
সামনে জাতীয় নির্বাচন, অথচ মাঠ প্রশাসনের ‘নিরপেক্ষতা’ নিয়ে জনমনে যখন নানা প্রশ্ন, ঠিক তখনই ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) একটি গোপন তালিকা প্রকাশ্যে এসেছে। ফাঁস হওয়া ওই নথিতে দেখা যাচ্ছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মেধা বা দক্ষতাকে পাশ কাটিয়ে তাঁদের বিচার করা হচ্ছে রাজনৈতিক পরিচয়ে। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই কর্মকর্তাদের নামের পাশে ‘বিএনপি’, ‘জামায়াত’ এবং ‘এনসিপি’ (NCP)—এই তিন ক্যাটাগরিতে রাজনৈতিক ট্যাগ বা পরিচয় জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া এই নথিতে ৬৪ জেলার ডিসিদের নাম, বিসিএস ব্যাচ এবং তাঁদের রাজনৈতিক মতাদর্শের বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। নথির তথ্যানুযায়ী, প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণ করা হয়েছে, যেখানে ৫২টি জেলাতেই জামায়াত ও এনসিপি মতাদর্শের কর্মকর্তাদের ডিসি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিপরীতে বিএনপিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মাত্র ১২ জনকে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিসিরা নির্বাচনের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। ফলে প্রশাসনের এমন একপাক্ষিক রাজনৈতিক বিন্যাস এবং গোপন নথিতে কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় সংরক্ষণ সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়।
দলীয়করণের পরিসংখ্যান
প্রাপ্ত নথির সারসংক্ষেপে দেখা গেছে, মোট ৬৪ জন জেলা প্রশাসকের মধ্যে:
জামায়াত: ৩২ জন
এনসিপি: ২০ জন
বিএনপি: ১২ জন
তালিকায় বিশেষ মন্তব্যের ঘরে অনেক কর্মকর্তার বর্তমান পরিচয়ের পাশাপাশি অতীত রাজনৈতিক ইতিহাসের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে (যেমন: ‘পূর্বে জামায়াত’ বা ‘পূর্বে বিএনপি’)।
নিচে বিভাগওয়ারি ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের তালিকা ও নথিতে উল্লিখিত তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয়ের তথ্য তুলে ধরা হলো:
ঢাকা বিভাগ: প্রশাসনের কেন্দ্রে জামায়াতের আধিপত্য
দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলার অধিকাংশেই জামায়াতপন্থী কর্মকর্তাদের নাম উঠে এসেছে।
১. ঢাকা: মো: রেজাউল করিম (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত।
২. গাজীপুর: মোহাম্মদ আলম হোসেন (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত।
৩. নারায়ণগঞ্জ: মো: রায়হান কবির (২৯ ব্যাচ) — জামায়াত (পূর্বে বিএনপি)।
৪. মুন্সীগঞ্জ: সৈয়দা নুরমহল আশরাফী (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত।
৫. নরসিংদী: মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত।
৬. মানিকগঞ্জ: নাজমুন আরা সুলতানা (২৮ ব্যাচ) — বিএনপি।
৭. টাঙ্গাইল: শরীফা হক (২৫ ব্যাচ) — বিএনপি।
৮. কিশোরগঞ্জ: মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত (পূর্বে বিএনপি)।
৯. ফরিদপুর: কামরুল হাসান মোল্যা (২৫ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)।
১০. রাজবাড়ী: সুলতানা আক্তার (২৭ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)।
১১. গোপালগঞ্জ: আরিফ-উজ-জামান (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত।
১২. মাদারীপুর: জাহাঙ্গীর আলম (২৮ ব্যাচ) — জামায়াত।
১৩. শরীয়তপুর: তাহসিনা বেগম (২৫ ব্যাচ) — জামায়াত।
চট্টগ্রাম বিভাগ
চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলায় বিএনপি ও জামায়াতের মিশ্র অবস্থান দেখা গেলেও জামায়াত ও এনসিপির প্রভাব স্পষ্ট।
১৪. চট্টগ্রাম: জাহিদুল ইসলাম মিঞা (২৫ ব্যাচ) — বিএনপি।
১৫. কক্সবাজার: মো: আ: মান্নান (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত (পূর্বে বিএনপি)।
১৬. কুমিল্লা: রেজা হাসান (২৯ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে বিএনপি)।
১৭. ব্রাহ্মণবাড়িয়া: শারমিন আক্তার জাহান (২৫ ব্যাচ) — বিএনপি।
১৮. চাঁদপুর: নাজমুল ইসলাম সরকার (২৯ ব্যাচ) — বিএনপি।
১৯. নোয়াখালী: মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম (২৭ ব্যাচ) — বিএনপি।
২০. লক্ষ্মীপুর: এস এম মেহেদী হাসান (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত।
২১. ফেনী: মনিরা হক (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত।
২২. খাগড়াছড়ি: আনোয়ার সাদাত (২৯ ব্যাচ) — জামায়াত।
২৩. রাঙ্গামাটি: নাজমা আশরাফী (২৯ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে সুশীল)।
২৪. বান্দরবান: শামীম আরা রিনি (২৭ ব্যাচ) — বিএনপি।
রাজশাহী বিভাগ
উত্তরাঞ্চালের এই বিভাগে এনসিপি ও জামায়াতের শক্ত অবস্থান নথিতে উঠে এসেছে।
২৫. রাজশাহী: আফিয়া আখতার (২৫ ব্যাচ) — বিএনপি।
২৬. বগুড়া: তৌফিকুর রহমান (২৭ ব্যাচ) — বিএনপি।
২৭. পাবনা: ড. শাহেদ মোস্তফা (২৫ ব্যাচ) — জামায়াত (পূর্বে বিএনপি)।
২৮. সিরাজগঞ্জ: আমিনুল ইসলাম (২৭ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)।
২৯. নওগাঁ: সাইফুল ইসলাম (২৯ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)।
৩০. নাটোর: আসমা শাহীন (২৭ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)।
৩১. চাঁপাইনবাবগঞ্জ: শাহাদাত হোসেন মাসুদ (২৮ ব্যাচ) — জামায়াত।
৩২. জয়পুরহাট: আল-মামুন মিয়া (২৮ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)।
খুলনা বিভাগ
দক্ষিণাঞ্চালের এই বিভাগে জামায়াতপন্থীদের আধিক্য লক্ষ্য করা গেছে।
৩৩. খুলনা: আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার (২৯ ব্যাচ) — জামায়াত (পূর্বে বিএনপি)।
৩৪. যশোর: মোহাম্মদ আশেক হাসান (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত।
৩৫. সাতক্ষীরা: আফরোজা আখতার (২৮ ব্যাচ) — জামায়াত।
৩৬. বাগেরহাট: গোলাম মো: বাতেন (২৮ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে বিএনপি)।
৩৭. কুষ্টিয়া: মো. ইকবাল হোসেন (২৯ ব্যাচ) — জামায়াত।
৩৮. ঝিনাইদহ: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ (২৭ ব্যাচ) — বিএনপি।
৩৯. চুয়াডাঙ্গা: মোহাম্মদ কামাল হোসেন (২৭ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে সুশীল)।
৪০. মেহেরপুর: ড. সৈয়দ এনামুল কবির (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত (পূর্বে বিএনপি)।
৪১. নড়াইল: ড. মোহাম্মদ আব্দুল ছালাম (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত।
৪২. মাগুরা: আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (২৮ ব্যাচ) — জামায়াত।
রংপুর বিভাগ
রংপুরে বিএনপি কোণঠাসা, প্রায় পুরোটাই এনসিপি ও জামায়াতের দখলে।
৪৩. রংপুর: মোহাম্মদ এনামুল আহসান (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত (পূর্বে বিএনপি)।
৪৪. দিনাজপুর: রফিকুল ইসলাম (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত (পূর্বে বিএনপি)।
৪৫. কুড়িগ্রাম: অন্নপূর্ণা দেবনাথ (২৮ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)।
৪৬. গাইবান্ধা: মাসুদুর রহমান মোল্লা (২৭ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)।
৪৭. নীলফামারী: মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান (২৫ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)।
৪৮. লালমনিরহাট: এইচ এম রকিব হায়দার (২৫ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)।
৪৯. ঠাকুরগাঁও: ইশরাত ফারজানা (২৫ ব্যাচ) — বিএনপি।
৫০. পঞ্চগড়: কাজী মো. সায়েমুজ্জামান (২৮ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)।
বরিশাল বিভাগ
৫১. বরিশাল: খায়রুল আলম সুমন (২৯ ব্যাচ) — বিএনপি।
৫২. পটুয়াখালী: ড. মো: শহীদ হোসেন চৌধুরী (২৫ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে বিএনপি)।
৫৩. ভোলা: ডা. শামীম রহমান (২৯ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে বিএনপি)।
৫৪. পিরোজপুর: আবু সাঈদ (২৮ ব্যাচ) — জামায়াত (পূর্বে বিএনপি)।
৫৫. ঝালকাঠি: মো. মমিন উদ্দিন (২৭ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)।
৫৬. বরগুনা: তাছলিমা আক্তার (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত।
ময়মনসিংহ বিভাগ
৫৭. ময়মনসিংহ: মো: সাইফুর রহমান (২৮ ব্যাচ) — জামায়াত।
৫৮. জামালপুর: মোহাম্মদ ইউসুপ আলী (২৭ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে সুশীল)।
৫৯. নেত্রকোনা: মো: সাইফুর রহমান (২৮ ব্যাচ) — জামায়াত।
৬০. শেরপুর: তরফদার মাহমুদুর রহমান (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত।
সিলেট বিভাগ
৬১. সিলেট: মো: সারওয়ার আলম (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত।
৬২. সুনামগঞ্জ: ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া (২৫ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে সুশীল)।
৬৩. হবিগঞ্জ: আবু হাসনাত মো: আরেফীন (২৫ ব্যাচ) — জামায়াত।
৬৪. মৌলভীবাজার: তৌহিদুজ্জামান পাভেল (২৮ ব্যাচ) — জামায়াত।
প্রশাসনের এমন নগ্ন দলীয়করণের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক এক মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের কন্ঠকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসকরা রাষ্ট্রের প্রতিনিধি, কোনো দলের কর্মী নন। যখন ডিসিদের নামের পাশে ব্র্যাকেটে দলের নাম লেখা হয়, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। নির্বাচনের আগে এমন তালিকা তৈরি বা ফাঁস হওয়া প্রমাণ করে যে, মাঠ প্রশাসনকে কব্জা করে নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করার একটি নীলনকশা প্রস্তুত করা হয়েছে।’
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক বিবেচনায় পদায়ন পাওয়া কর্মকর্তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হন, যা শেষ পর্যন্ত সুশাসনের ভিত্তি দুর্বল করে দেয়। ফাঁস হওয়া এই তালিকা যদি সত্য হয়, তবে তা দেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য এক অশনিসংকেত।
11/02/2026
নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া: চট্টগ্রামের সমন্বয়ক রাফি আগ্রাবাদের একটি ট্রাভেল এজেন্সি থেকে দুবাইয়ের টিকেট বুকিং করেছেন। নির্বাচনের পরিস্থিতি বুঝে উড়াল দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যতটুকু জানা গেছে তিনি পাসপোর্ট বানিয়েছেন ৫ আগস্টের পর এবং দুবাইতে হাই প্রফেশনাল ওয়ার্কার ভিসা নিয়েছেন।
সে অনার্স পাশ না হলেও সার্টিফিকেট জালিয়াতি করে ভিসা নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আপনার আশেপাশে সমন্বয়কদের ব্যাপারে চোখ-কান খোলা রাখুন। এদেরকে কোনভাবেই পালাতে দেওয়া যাবে না।
সার্বক্ষণিক আপডেট পেতে নিউক্লিয়াসের সাথে থাকুন এবং যে কোন ধরনের গোপন তথ্য আমাদের ইনবক্সে দিন। (পরিচয় গোপন রাখা হবে)
11/02/2026
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘দায়মুক্তি’ অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি ১০ মানবাধিকার সংস্থার
নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই গণঅভ্যুত্থান–সংক্রান্ত অপরাধের ‘দায়মুক্তি’ দিয়ে জারি করা অধ্যাদেশকে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের জন্য ‘গুরুতর হুমকি’ উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে ১০টি আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা।
গতকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ফ্রান্সের প্যারিসভিত্তিক সংগঠন ‘জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (জেএমবিএফ)’-এর নেতৃত্বে সংস্থাগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’-এর নামে সংঘটিত অপরাধের দায়মুক্তি প্রদান বাংলাদেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী ১০টি সংগঠনের মধ্যে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, মিসর, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, কাজাখস্তান ও উগান্ডাসহ বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার সংস্থা রয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৫ জানুয়ারি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স বিভাগ ‘জুলাই ম্যাস আপরাইজিং (প্রোটেকশন অ্যান্ড ডিটারমিনেশন অব লাইয়াবিলিটি) অর্ডিন্যান্স–২০২৬’–এর গেজেট প্রকাশ করে। এর আগে ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এর খসড়া অনুমোদিত হয়। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত কর্মকাণ্ডকে ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ আখ্যা দিয়ে দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, দায়মুক্তি কখনো গণতন্ত্রকে রক্ষা করে না; বরং অপরাধকে উৎসাহিত করে। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে সরকার কার্যত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার ভিত্তিতে হত্যা, সহিংসতা ও গুরুতর অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’–এর সংজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন
বিবৃতিতে বলা হয়, অধ্যাদেশে ব্যবহৃত ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ শব্দটির কোনো সুনির্দিষ্ট বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনি সংজ্ঞা নেই। এই অস্পষ্টতা বিচারবহির্ভূত হত্যা, সম্পদ ধ্বংস ও সহিংস অপরাধকে একই ছাতার নিচে আনার ঝুঁকি তৈরি করে। এর ফলে অপরাধ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সীমারেখা ইচ্ছামতো পুনঃসংজ্ঞায়িত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা আইনের শাসনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃতি নির্ধারণের ক্ষমতা বিচারবহির্ভূত একটি সংস্থার হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। অথচ এ মুহূর্তে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কার্যত অকার্যকর। এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতার পৃথক্করণ নীতির সরাসরি লঙ্ঘন।
ভুক্তভোগীদের অধিকার অস্বীকার
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, অধ্যাদেশটি পূর্বের সব ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যৎ মামলা দায়ের নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেয়। ফলে স্বজনহারা পরিবারগুলোর বিচার পাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। এটি কেবল আইনি প্রতিকার অস্বীকার নয়, বরং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন। নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি (আইসিসিপিআর) অনুযায়ী, জীবনহানি সংক্রান্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কার্যকর তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রাষ্ট্রের রয়েছে। কিন্তু এই অধ্যাদেশ বিচারিক প্রক্রিয়া স্থগিত করে উল্টো পথে হাঁটছে।
সংস্থাগুলোর ৫ দফা দাবি
বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থাগুলো পাঁচটি দাবি তুলে ধরেছে। সেগুলো হলো—
১. অবিলম্বে অধ্যাদেশটি বাতিল বা এর বাস্তবায়ন স্থগিত করা।
২. রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সব ফৌজদারি অপরাধকে বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনা।
৩. ভুক্তভোগীদের জন্য স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৪. জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও সক্ষমতাসহ পুনর্গঠন করা।
৫. দায়মুক্তির পরিবর্তে জবাবদিহি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
জেএমবিএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহানুর ইসলামের পাঠানো ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী অন্য সংগঠনগুলো হলো—গ্লোবাল হিউম্যান রাইটস ডিফেন্স (নেদারল্যান্ডস), অ্যারাব সেন্টার ফর দ্য ইন্ডিপেনডেন্স অব দ্য জুডিশিয়ারি অ্যান্ড লিগ্যাল প্রফেশন (মিসর), পাবলিক অ্যাসোসিয়েশন ‘ডিগনিটি’ (কাজাখস্তান), নর্দার্ন উগান্ডা ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি ফোরাম (উগান্ডা), তাল স্পারল্য (পাকিস্তান), কন্ট্রে লা টরচার আন তিউনিজি (তিউনিসিয়া), গ্লোবাল বাংলাদেশ ইউনিটি নেটওয়ার্ক (অস্ট্রেলিয়া), মুভমেন্ট ফর দ্য ডিফেন্স অব হিউম্যানিটি অ্যান্ড দ্য অ্যাবোলিশন অব টরচার (ক্যামেরুন) এবং অ্যাকশন্স দে প্রোটেকশন মেরে এ এনফঁ (কঙ্গো)।
10/02/2026
‘রঙিন বিপ্লব’-এর পর বাংলাদেশ কি ইসলামি একনায়কতন্ত্রের পথে? নতুন বইয়ে সতর্কবার্তা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে, তাকে যুক্তরাষ্ট্রের মদদে সংঘটিত ‘রঙিন বিপ্লব’ বা ‘কালার রেভল্যুশন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে সদ্য প্রকাশিত একটি বইয়ে। বইটিতে সতর্ক করা হয়েছে, নোবেলজয়ী ব্যাংকারের নেতৃত্বে পরিচালিত এই পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ অপশাসন, গণতান্ত্রিক অবক্ষয় এবং ইসলামি মৌলবাদী শাসনের গভীর সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত বইটির নাম ‘বাংলাদেশ অন দ্য ব্রিংক, ব্লিডিং বাউন্ডারিজ’ (রক্তপাতের সীমানার সঙ্কটের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ)। বইটির যৌথ রচয়িতা রবার্ট বি ল্যান্সিয়া, ক্রিস্টোফার ব্ল্যাকবার্ন ও প্রিয়জিত দেবসরকার। এতে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে ভাঙন
বইটিতে লেখকরা দাবি করেছেন, দেড় বছর আগে রাজধানী ঢাকার ক্ষমতা তথাকথিত ‘সংস্কারপন্থী’ শিক্ষার্থীদের হাতে যাওয়ার পর থেকে দেশে আইনের শাসন দ্রুত ভেঙে পড়েছে। লেখকদের অভিযোগ, অনির্বাচিত ব্যক্তিদের দিয়ে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সুপরিকল্পিতভাবে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
বইটিতে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির একটি ভীতিজাগানিয়া চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড, নির্বিচার গ্রেপ্তার এবং সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, বুদ্ধিজীবী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ঢালাও মামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। লেখকদের মতে, এসব ঘটনা দেশে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
ইসলামি একনায়কতন্ত্রের আশঙ্কা
বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্ব বা ছাত্রনেতারা প্রকাশ্যে খিলাফত বা শরিয়া আইনের কথা না বললেও, তাঁদের রাজনৈতিক গতিপথ ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। লেখকদের দাবি, তাঁদের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তি বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে অঘোষিত নির্বাচনী জোট বা সমঝোতার অংশ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা বাংলাদেশে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ ইসলামি একনায়কতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি তৈরি করেছে, যা দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে বদলে দিতে পারে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার সমীকরণ
বইটিতে বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে না দেখে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর রাজনৈতিক অস্থিরতার অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। লেখকরা আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখল এবং পাকিস্তানে নির্বাচিত সরকার উৎখাত করে সেনাবাহিনীর আড়ালে সরকার পরিচালনার ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতির মিল খুঁজে পেয়েছেন।
তাঁরা উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত কেন্দ্রে অবস্থিত। ফলে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা বা উগ্রবাদের উত্থান শুধু অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
লেখক পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট
বইটির লেখকদের পরিচয় এর বিষয়বস্তুর প্রেক্ষাপট বুঝতে সহায়তা করে। রবার্ট বি ল্যান্সিয়া যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের সাবেক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি নিয়ে কাজ করছেন। ক্রিস্টোফার ব্ল্যাকবার্ন একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, যিনি বিশেষত জামায়াত-ই-ইসলামী ও সন্ত্রাসবাদ দমনের বিষয়ে লেখালেখির জন্য পরিচিত। অন্যদিকে, প্রিয়জিত দেবসরকার লন্ডনভিত্তিক একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেখক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, বইটিতে ব্যবহৃত ‘কালার রেভল্যুশন’ পরিভাষাটি সাধারণত পশ্চিমা বিশ্বের, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচকরা ব্যবহার করে থাকেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ভারতের এবং পশ্চিমা বিশ্বের একাংশের পর্যবেক্ষকদের মধ্যে যে উদ্বেগ দেখা গেছে, এই বইটিতে তারই প্রতিফলন ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংকট উত্তরণে সুপারিশ
বইটির উপসংহারে বাংলাদেশকে একটি ‘সংকটময় সন্ধিক্ষণে’ দাঁড়িয়ে থাকা রাষ্ট্র হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বাংলাদেশ যাতে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত না হয়, সেজন্য লেখকরা দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে:
১. সব গণতান্ত্রিক শক্তির অংশগ্রহণে অবিলম্বে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন।
২. নির্বিচার গ্রেপ্তার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা।
৩. আইনের শাসন ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
৪. জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৫. নারীর অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা।
লেখকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এসব পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ উগ্রবাদী শাসনের দিকে পুরোপুরি ঝুঁকে পড়তে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে।
10/02/2026
*আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন মানি না: দেশজুড়ে ভোট বর্জনের ডাক যুবলীগের *
ডেস্ক রিপোর্ট | ঢাকা
আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী যুবলীগ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এমপি দেশব্যাপী ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার ঢাকায় এক বিবৃতিতে নিখিল এমপি বলেন, আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে আয়োজন করা কোনো নির্বাচনই গণতান্ত্রিক বা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি জানান, এমন নির্বাচন হলে যুবলীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট বর্জন কর্মসূচি পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী আওয়ামী যুবলীগ সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট বর্জনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। অবৈধ ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন প্রতিহত করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
যুবলীগ নেতাদের দাবি, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন জনগণের মতামত ও ভোটাধিকারকে উপেক্ষা করার শামিল। তারা বলেন, এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের অনুভূতিরই প্রতিফলন এবং গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থেই এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুবলীগের এই ভোট বর্জনের ঘোষণা আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। তাদের ধারণা, এ ধরনের অবস্থান দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
10/02/2026
‘জুলাই সনদের আড়ালে এলজিবিটি ও পশ্চিমা এজেন্ডা?’—না ভোটের ডাক দিয়ে আসিফ মাহতাবের সতর্কবার্তা
আজকের কন্ঠ ডেস্ক,
রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্দেশ্যে প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’-এর বিভিন্ন ধারায় লুকায়িত এজেন্ডা এবং পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুপ্রবেশের আশঙ্কা প্রকাশ করে এর বিপক্ষে ‘না’ ভোটের ঘোষণা দিয়েছেন আলোচিত শিক্ষক ও বক্তা আসিফ মাহতাব উৎসহ। তার দাবি, সনদের ৮৪ নম্বর ধারা এবং মূলনীতিতে ব্যবহৃত শব্দচয়ন বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি সনদের অস্পষ্টতা এবং এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
‘ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপ’ ও এলজিবিটি শঙ্কা
আসিফ মাহতাব তার বক্তব্যে জুলাই সনদের ৮৪ নম্বর ধারার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, যেখানে বলা হয়েছে বাংলাদেশ ‘ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপ’ (OGP)-এ যোগদান করবে। তিনি স্ক্রিনে নথিপত্র প্রদর্শন করে দাবি করেন, এই সংস্থার অন্যতম এজেন্ডা হলো বিশ্বব্যাপী এলজিবিটি (LGBT) বা সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, "জুলাইয়ে আমরা যারা আন্দোলন করেছি, তারা কি সমকামিতা বা ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপের জন্য রক্ত দিয়েছি?" তার যুক্তি, সনদে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক দোহাই দিয়ে এদেশে সমকামিতা ও পশ্চিমা সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়া হবে, যা দেশের সামাজিক কাঠামোর পরিপন্থী।
‘সোশ্যাল জাস্টিস’ ও ‘ইনক্লুসিভ’ শব্দের আড়ালে কী?
আসিফ মাহতাব অভিযোগ করেন, সনদের মূলনীতিতে থাকা ‘সোশ্যাল জাস্টিস’ (সামাজিক সুবিচার), ‘হিউম্যান ডিগনিটি’ (মানবিক মর্যাদা) এবং শিক্ষা আইনে ব্যবহৃত ‘ইনক্লুসিভ’ (অন্তর্ভুক্তিমূলক) শব্দগুলো শুনতে শ্রুতিমধুর হলেও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এগুলোর অর্থ ভিন্ন।
চ্যাটজিপিটি এবং বিভিন্ন তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি দেখান যে, পশ্চিমা বিশ্বে ‘সোশ্যাল জাস্টিস’ একটি আমব্রেলা টার্ম, যার আওতায় এলজিবিটি রাইটস, জেন্ডার ইকুয়ালিটি এবং র্যাডিক্যাল জাস্টিসের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। তিনি শায়খ আহমাদুল্লাহর একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘ইনক্লুসিভ’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক শব্দের আড়ালে মূলত ট্রান্সজেন্ডার মতবাদ ও সমকামিতাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা সাধারণ মানুষ বা অনেক ইসলামী দলও বুঝতে পারছে না।
সংবিধান ও আইনের ফাঁদ
তার মতে, জুলাই সনদ পাস হলে এর বিষয়বস্তুগুলো সংবিধানের অংশ হয়ে যাবে। যেহেতু সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন (Supreme Law), তাই পরবর্তীতে দেশের প্রচলিত আইন বা ধর্মীয় অনুশাসন দিয়ে এসব এজেন্ডা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সুন্দর সুন্দর শব্দের মোড়কে এমন সব ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ইসলাম ও দেশীয় সংস্কৃতি পালনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
ইসলামী দলগুলোর প্রতি বার্তা
ভিডিওতে আসিফ মাহতাব ইসলামী দলগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, তারা মূলনীতিতে ‘ইসলাম’ শব্দটি রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বা চায়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতে যেমন ‘সেক্যুলারিজম’ বা ধর্মনিরপেক্ষতার নামে দীর্ঘ সময় ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর আঘাত করা হয়েছে, ঠিক তেমনি জুলাই সনদের এই শব্দগুলো ব্যবহার করে ভবিষ্যতে ইসলামপন্থীদের কোণঠাসা করা হতে পারে।
পরিশেষে, তিনি দেশবাসীকে জুলাই সনদ না পড়ে অন্ধভাবে সমর্থন না করার আহ্বান জানান এবং নিজে ‘না’ ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেন। তার মতে, স্বৈরাচার ঠেকানোর জন্য জুলাই সনদ অপরিহার্য নয়, বরং এর মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নৈতিকতা ধ্বংসের একটি দীর্ঘমেয়াদী নীল নকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
।।
10/02/2026
নেত্রকোণা সদরে রাতের অন্ধকারে চারটি ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
#ভোটকেন্দ্র #অগ্নিসংযোগ
10/02/2026
10/02/2026
খাদ্য নিরাপত্তা: ১৮ মাস পরেও ভরসা সেই ‘হাসিনা আমলের’ মজুদ
এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য,
দেড় বছরেও বাড়েনি নতুন কোনো খাদ্য গুদাম বা সাইলোর সক্ষমতা
২০ থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার আগের কাঠামোর ওপরই নির্ভরতা
সামাজিক নিরাপত্তা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে চলছে পুরোনো পরিকল্পনার বাস্তবায়ন
নতুন উদ্যোগ না থাকায় ভবিষ্যতে ঝুঁকির আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদলের পর কেটে গেছে প্রায় আঠারো মাস। সরকার ও প্রশাসনের নানা স্তরে পরিবর্তনের ঢেউ লাগলেও দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন এখনো দৃশ্যমান নয়। বরং অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বর্তমান সময়ের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার ব্যবস্থাপনা মূলত বিগত শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে গড়ে তোলা মজুদ সক্ষমতা এবং সেই আমলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।
খাদ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত দেড় বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন সাইলো নির্মাণ বা মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোর বড় প্রকল্প নেওয়া হয়নি। বরং আগের সরকারের রেখে যাওয়া ২০ থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার গুদাম ও বাফার স্টক (আপৎকালীন মজুদ) ব্যবহার করেই বর্তমান চাহিদা মেটানো হচ্ছে।
মজুদ সক্ষমতার ‘লিগ্যাসি’
খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, শেখ হাসিনা সরকারের শেষ মেয়াদে দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ সক্ষমতা ২১ লাখ মেট্রিক টনের বেশিতে উন্নীত করা হয়েছিল। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘মডার্ন ফুড স্টোরেজ ফেসিলিটিজ প্রজেক্ট’ (MFSP)-এর আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত আধুনিক সাইলো এবং গুদামগুলোই এখন জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই সময়ে নেওয়া পরিকল্পনা ছিল মূলত ১৮ থেকে ২৪ মাসের আগাম নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। অর্থাৎ, কোনো কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে বা আমদানি বন্ধ থাকলেও যেন অন্তত দুই বছর দেশ খাদ্য সংকটে না পড়ে। বর্তমান সরকার মূলত সেই ‘সুরক্ষা বলয়ের’ সুবিধাই ভোগ করছে।
সাবেক এক কৃষি সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা হুট করে তৈরি করা কোনো বিষয় নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি নীতির ফল। বর্তমানে আমরা যে স্থিতিশীলতা দেখছি, তা মূলত বিগত ৫-৭ বছরে গড়ে তোলা সরবরাহ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর সুফল। গত ১৮ মাসে নতুন করে সক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বড় প্রমাণ আমরা পাইনি।’
সংকট মোকাবিলায় পরীক্ষিত কাঠামো
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোভিড-১৯ মহামারি এবং পরবর্তীতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। সেই সময়ে বাংলাদেশ বড় ধরনের কোনো খাদ্য সংকট ছাড়াই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিল।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সেই সময়ের দূরদর্শী ‘বাফার স্টক’ নীতি এবং কৃষকদের প্রণোদনা দিয়ে উৎপাদন ধরে রাখার কৌশলটি ছিল কার্যকর। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বর্তমানেও ওএমএস (খোলা বাজারে বিক্রি), টিসিবি এবং ভিজিডি-ভিজিএফের মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যে চাল ও গম সরবরাহ করা হচ্ছে, তা সেই কাঠামোরই ধারাবাহিকতা।
নতুন উদ্যোগের ঘাটতি
খাদ্য অধিদপ্তরের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ১৮ মাসে খাদ্যশস্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে রুটিন কাজের বাইরে বড় কোনো উদ্যোগ ছিল না। বরং অনেক ক্ষেত্রে আগের সরকারের সময়ে করা জি-টু-জি (সরকার টু সরকার) চুক্তির আওতায় আসা চাল ও গম দিয়েই মজুদ ঠিক রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, খাদ্য গুদাম ও সাইলো ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশন বা অটোমেশনের যে প্রক্রিয়া আগে শুরু হয়েছিল, তা-ই চলমান আছে। নতুন করে সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো মেগা প্রকল্প বা কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের নতুন কোনো পদ্ধতি চালু করতে দেখা যায়নি। বরং গুদাম রক্ষণাবেক্ষণে আগের চেয়ে কিছুটা ধীরগতির অভিযোগও রয়েছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে।
ভবিষ্যৎ ঝুঁকির সতর্কতা
খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ১৮ মাস সময়টি কম নয়। পুরোনো মজুদের ওপর অনির্দিষ্টকাল নির্ভর করা যায় না। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে মজুদ সক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন আন্তর্জাতিক উৎস খোঁজার উদ্যোগ এখনই নেওয়া প্রয়োজন।
মজুদ কমে আসা বা সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই বাজারে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যেহেতু গত দেড় বছরে বড় কোনো সংকট হয়নি, তাই পুরোনো ব্যবস্থাই কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্য ভবন বা সাইলো কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেয় না; কিন্তু এগুলো সাক্ষ্য দেয় রাষ্ট্র পরিচালনার দূরদর্শিতার। বর্তমান প্রেক্ষাপট এটিই নির্দেশ করছে যে, শেখ হাসিনা সরকারের খাদ্য পরিকল্পনার সুফল দিয়েই এখনো পার হচ্ছে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার বৈতরণি।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Gopalganj
8110
