Annu media
� ব্যবহারেই ব্যক্তিত্বের পরিচয় �
05/02/2026
অপ্সরা মেনকাকে কাম চক্ষে দেখার কারণে কে কুমিরে পরিণত হন?👇👇
🔹 সুতপা নামক এক ব্রহ্মর্ষি অসীম পুণ্যবলে ব্রহ্মলোকে স্থান প্রাপ্ত হন। সেখানে একদিন তিনি অন্যান্য দেবতাদের সঙ্গে ব্রহ্মার সভায় উপবিষ্ট ছিলেন। হঠাৎ সেই স্থানে স্বর্গের অপ্সরা মেনকার আগমন ঘটে। অসম্ভব রূপবতী মেনকা সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখনই তাঁকে দেখতে পান ব্রহ্মার সভায় উপস্থিত দেবতাগণ। মেনকাকে দেখে অন্য সবাই মাথা নিচু করে নিজেদের দৃষ্টি নিচের দিকে ফেরান। একমাত্র সুতপা ঋষি মেনকার দিক থেকে দৃষ্টি ফেরাতে পারেন না। তিনি নির্নিমেষ নয়নে অপরূপা সুন্দরী যৌবনবতী অপ্সরা মেনকাকে দেখতে থাকেন। এ দৃশ্য দেখে ব্রহ্মা খুব রেগে যান এবং সুতপাকে বলেন, ব্রহ্মলোকে থেকেও এহেন দুর্নীতি করছে সে কোন্ সাহসে! এ কথা বলে ক্রুদ্ধ ব্রহ্মা ঋষি সুতপাকে কুমিরে পরিণত হওয়ার অভিশাপ দেন। ব্রহ্মা বলেন, সুতপাকে কুমির রূপে মর্ত্যলোকের ব্রহ্মাহ্রদে থাকতে হবে। পরশুরাম যখন মাতৃবধের পাপস্খলন করতে ব্রহ্মাহ্রদে আসবেন তাঁর স্পর্শে সুতপার শাপমুক্তি ঘটবে। এরপর ব্রহ্মলোক থেকে ঋষি সুতপার ব্রহ্মাহ্রদে পতন হয় এবং কুমির রূপে সেই হ্রদে বাস করতে থাকেন তিনি। বহুকাল পরে পরশুরাম মাতৃবধের পাপে হাতে আটকে থাকা টাঙ্গি ছাড়াতে সেই হ্রদে স্নান করতে আসেন। খুব সাংঘাতিক ছিল সেই হ্রদ, সেখানে জলস্রোত এত তীব্র ছিল যে কোনো সাধারণ মানুষ সেখানে নামলে মৃ'ত্যু অবধারিত ছিল। কিন্তু পরশুরাম যখন সেই হ্রদে নামেন, জলস্রোত উথলে উঠলে তিনি শোষক মন্ত্রে সেই জলস্তর নিবারণ করেন। তারপর টাঙ্গি দিয়ে হ্রদদ্বার উন্মুক্ত করে পরশুরাম জলে নামলেন। তখনই বিশালাকার এক কুমির এসে পরশুরামের পায়ে ধরে। পরশুরাম তখন সেই কুমিরটিকে ধরে পাড়ে তোলেন আর তখনই কুমিরটি দেহত্যাগ করে। সেই কুমিরটিই ছিল ঋষি সুতপা। পরশুরামের স্পর্শে তাঁর শাপ মুক্তি হয় এবং কুমির জীবনের অবসান হয়।© টুকরো ভাবনারা
তথ্যসূত্র: কাশীদাসী মহাভারত (শান্তি পর্ব)
31/01/2026
❤️❤️কে এই নিত্যানন্দ মহাপ্রভু ❓
নিত্যানন্দ প্রভু (নিতাই নামেও পরিচিত) হলেন গৌড়ীয় বৈষ্ণবভাষ্য অনুসারে, শ্রীকৃষ্ণের অগ্রজ বলরামের অবতার। তিনি ছিলেন শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর প্রধান ও অন্তরঙ্গ পার্ষদ বা সঙ্গী। তাদের দুজনকে একত্রে গৌর-নিতাই বা নিমাই-নিতাই নামে অভিহিত করা হয়। নিত্যানন্দ বৈষ্ণবীয় পঞ্চতত্ত্বের একজন।
🌷তিনি ১৪৭৪ সালের মাঘ মাসে শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে বীরভূম জেলার একচক্রা গ্রামে হাড়াই পণ্ডিত ও পদ্মাবতীর গৃহে জন্মগ্রহণ করেন। তার পূর্বনাম ছিল কুবের। তাঁর কয়েকজন ভাই ছিল।বৈষ্ণব ভজন গাওয়ার জন্য তাঁর নিষ্ঠা এবং দুর্দান্ত প্রতিভা খুব ছোটবেলা থেকেই প্রকাশ পেয়েছিল। তিনি ছেলেবেলায় অন্যান্য ছেলেদের সাথে ভগবান রামের লীলার পুনর্নির্মাণে রামের ছোট ভাই লক্ষ্মণের ভূমিকা পালন করতেন।
🌷খুব অল্প বয়সেই (১২ বছর) গৃহত্যাগ করে তিনি সন্ন্যাসী লক্ষ্মীপতি তীর্থের সঙ্গে বিভিন্ন তীর্থস্থান ভ্রমণে বের হন।নিতাইয়ের বাবা সন্ন্যাসীকে উপহার হিসাবে কিছু দিতে চাইলে লক্ষ্মীপতি তীর্থ জবাব দিয়েছিলেন যে তীর্থস্থানে যাতায়াত করতে তাঁকে সহায়তা করার জন্য কারও প্রয়োজন এবং নিতাই এই কাজের জন্য নিখুঁত হবেন। যখন তিনি এ কথা বলেছিলেন হাড়াই পণ্ডিত নিতাই থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার চিন্তায় দুঃখ বোধ করছিলেন। তবে তিনি রাজি হয়েছিলেন।কারণ একজন সাধু ব্যক্তির অনুরোধ সর্বদা অত্যন্ত মঙ্গলজনক । নিতাই তাঁর ভ্রমণে তাঁর সাথে যোগ দিয়েছিলেন। এভাবে নিতাইয়ের দীর্ঘ শারীরিক ও আধ্যাত্মিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। যা তাকে বৈষ্ণব মতের গুরুদের সাথে পরিচিত করায়। তিনি অবধুত সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসী হন। এছাড়া লক্ষ্মীপতি তীর্থের বিখ্যাত শিষ্য মাধবেন্দ্র পুরী, অদ্বৈত আচার্য এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর আধ্যাত্মিক গুরু ঈশ্বর পুরীর সাথে তার পরিচয় হয়।
🌷মহাপ্রভুর নির্দেশে সংসারে কৃষ্ণ নাম প্রচারের জন্য ১৫১৯ সালে বর্ধমান জেলার সূর্যদাস সরখেলের দুই কন্যা বসুধা ও জাহ্নবী দেবীর পাণিগ্রহণ করেন নিত্যানন্দ।তখন তার বয়স ছিল ছাপ্পান্ন বছর। তার পর কুঞ্জবাটীতেই(বর্তমান খড়দহ) সংসার। প্রথম পক্ষের বসুধার গর্ভে একটি কন্যা গঙ্গা ও একটি পুত্র সন্তান(অষ্টম) বীরভদ্র গোস্বামীর জন্ম হয়।পরে বীরভদ্রকে তাঁর সৎ মা জাহ্নবী দেবী বৈষ্ণব আচারে দীক্ষা দিয়েছিলেন।ঝামটপুরের যদুনন্দন আচার্যের কন্যা শ্রীমতী ও নারায়ণীর সাথে বীরভদ্রের বিয়ে হয়।তাদেরও জাহুবী দেবী দীক্ষা দেন। জাহুবী দেবীর কোনো সন্তান না হওয়ায় তিনি বংশীবদনের পুত্র দত্তক নেন ।যার নাম রামচন্দ্র গোস্বামী (রামাই)। এনার বংশধররা হলেন খড়দহের গোস্বামীরা। নবদ্বীপে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার পর উভয়ে মিলে কৃষ্ণনাম/হরিনাম প্রচার করেন। তাকে পরমেশ্বরের সর্বশ্রেষ্ঠ করুণাময় অবতার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
"নিতাই পদ কমল কোটি চন্দ্র সুশীতল
যে ছায়ায় জগত জুড়াই
হেন নিতাই বিনে ভাই
রাধাকৃষ্ণ পাইতে নাই
দৃঢ় করি ধর নিতাই পাই।"
আজকের প্রচলিত গৌড়ীয় বৈষ্ণব মত মূলত তারই প্রচারিত। তিনি সমাজের সব শ্রেণীর লোকের কাছে বৈষ্ণব মতকে জনপ্রিয় করে তোলেন।তিনি ও তার সহচর দ্বাদশ গোপাল কৃষ্ণ নামে সবাইকে মাতোয়ারা করে তোলেন। নিজের শিষ্য বৃন্দাবনদাসকে তিনি চৈতন্যভাগবত রচনা করতে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন।১৫৪০ সালে তিনি অপ্রকট লীলা করেন।
Annu media 🙏🏻
11/01/2026
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কেন জনসমক্ষে অষ্টকালীন লীলা কীর্তন করতে নিষেধ করেছিলেন?🌷🌷
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু অষ্টকালীন লীলা বা রাধা-কৃষ্ণের লীলার মূর্ত প্রতীক। তিনি নিজেই রাধার ভাব অঙ্গীকার করে দিন-রাত এই লীলা আস্বাদন করতেন।
তবে, তিনি অযোগ্য ব্যক্তির সামনে বা জনসমক্ষে এই নিগূঢ় লীলা কীর্তন করতে নিষেধ করেছিলেন। একে বৈষ্ণব সমাজে "রসাভাস" বা "সহজিয়া দোষ" বলা হয়।
মহাপ্রভু কেন সাধারণের জন্য এর দরজা বন্ধ রেখেছিলেন, তা একটি সুন্দর একটি ঘটনার মাধ্যমে নিচে তুলে ধরা হলো।
মহাপ্রভু ও গম্ভীরায় লীলা আস্বাদন
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনের শেষ ১২ বছর কেটেছিল পুরীর জগন্নাথধামে, গম্ভীরার নির্জন প্রকোষ্ঠে। এই সময় তিনি বাহ্যজ্ঞান প্রায় শূন্য থাকতেন। কিন্তু লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি যখন সাধারণ ভক্তদের সাথে মিশতেন বা সংকীর্তন করতেন, তখন তিনি কী গাইতেন?
"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।"
তিনি সর্বসাধারণের জন্য কেবল এই 'নাম-সংকীর্তন'-এর প্রচার করেছেন। কিন্তু অষ্টকালীন লীলা বা রাধা-কৃষ্ণের গোপন প্রেমলীলা তিনি সবার সামনে কখনও প্রকাশ করতেন না।
একদিন রাতে গম্ভীরায় মহাপ্রভু রাধাভাবে বিভোর হয়ে আছেন। বাইরে চাঁদের আলো, কিন্তু মহাপ্রভুর হৃদয়ে তখন ঘোর বিরহ। তিনি রাধারাণীর মতো কৃষ্ণকে খুঁজছেন। এই সময় তাঁর সাথে মাত্র দু'জন মানুষ থাকার অনুমতি ছিল— শ্রীল স্বরূপ দামোদর এবং রায় রামানন্দ।
মহাপ্রভু স্বরূপ দামোদরকে বললেন,
"স্বরূপ, আজ আমার মন বৃন্দাবনে চলে গেছে। ললিতা-বিশাখা কী করছে, রাধারাণী কুঞ্জে কীভাবে আছেন— সেই পদের গান গাও।"
স্বরূপ দামোদর তখন বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস এবং গীতগোবিন্দ থেকে গূঢ় লীলা কীর্তন গাইতে লাগলেন। মহাপ্রভু সেই রসে ডুবে গেলেন। কিন্তু যেইমাত্র বাইরের কোনো সাধারণ লোক বা নতুন ভক্ত সেখানে আসার চেষ্টা করত, মহাপ্রভু তৎক্ষণাৎ স্বাভাবিক হয়ে যেতেন এবং গম্ভীর হয়ে যেতেন। তিনি সেই গোপন কথা বাইরে প্রকাশ করতেন না।
কেন এই গোপনীয়তা? (মহাপ্রভুর দর্শন)
মহাপ্রভু জানতেন, সাধারণ মানুষের চিত্ত কাম-বাসনায় পূর্ণ। তারা যদি এখনই রাধা-কৃষ্ণের নিভৃত কুঞ্জলীলা বা অষ্টকালীন লীলা শোনে, তবে তারা ভগবানকে সাধারণ নারী-পুরুষের মতো মনে করবে। তাদের মনে আধ্যাত্মিক ভাবের বদলে জাগতিক কামভাব জাগবে।
এ প্রসঙ্গে মহাপ্রভু রঘুনাথ দাস গোস্বামীকে যে শিক্ষা দিয়েছিলেন, তা এই বিষয়ের সবথেকে বড় প্রমাণ।
রঘুনাথ দাস গোস্বামীর কথা ও শ্লোক
রঘুনাথ দাস গোস্বামী যখন গৃহত্যাগ করে মহাপ্রভুর কাছে এসেছিলেন, তিনি অত্যন্ত কঠোর বৈরাগ্য পালন করতে চাইলেন। তিনি চেয়েছিলেন মহাপ্রভুর মতো অষ্টকালীন লীলায় ডুবে থাকতে। কিন্তু মহাপ্রভু তাঁকে থামিয়ে দিলেন এবং ভজনের ক্রম শেখালেন।
মহাপ্রভু তাকে নির্দেশ দিলেন,
তুমি এখনই লোকদেখানো বৈরাগী সেজে বনের মধ্যে যেও না বা উচ্চাঙ্গের ভজন বাইরে দেখিও না। তিনি বললেন:
"মর্কট-বৈরাগ্য না কর লোক দেখাঙ।
যথাযোগ্য বিষয় ভুঞ্জ’ অনাসক্ত হঞা।।"
(শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, মধ্যলীলা ১৬/২৩৮)
বানরের মতো লোকদেখানো বৈরাগ্য করো না। অনাসক্ত হয়ে সংসার চালাও।
এরপর মহাপ্রভু তাকে আসল ভজনের রহস্য বা অষ্টকালীন লীলার সূত্র দিলেন, যা কেবল মনে মনে করতে হয়, বাইরে ঢাক পিটিয়ে নয়:
"অন্তরে নিষ্ঠা কর, বাহ্যে লোক-ব্যবহার।
অচিরাতে কৃষ্ণ তোমায় করিবেন উদ্ধার।।"
(শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, মধ্যলীলা ১৬/২৩৯)
এবং পরবর্তীতে যখন রঘুনাথ দাস গোস্বামী পাকাপাকিভাবে মহাপ্রভুর কাছে এলেন, মহাপ্রভু তাকে নির্দেশ দিলেন:
"গ্রাম্যকথা না শুনিবে, গ্রাম্যবার্তা না কহিবে।
ভাল না খাইবে আর ভাল না পরিবে।।
অমানী মানদ হঞা কৃষ্ণনাম সদা লবে।
ব্রজে রাধা-কৃষ্ণ সেবা মানসে করিবে।।"
(শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, অন্ত্যলীলা ৬/২৩৬-২৩৭)
মহাপ্রভু স্পষ্ট বললেন,
"কৃষ্ণনাম সদা লবে"—অর্থাৎ মুখে বা বাইরে সবসময় হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ বা কীর্তন করবে। আর "মানসে করিবে"—অর্থাৎ মনে মনে বা গোপনে রাধা-কৃষ্ণের অষ্টকালীন সেবা (লীলা চিন্তন) করবে।
সিদ্ধান্ত:
মহাপ্রভু কেন জনসমক্ষে এর বিরোধিতা করেছেন?
মহাপ্রভু অষ্টকালিন লীলা কীর্তন জনসমক্ষে নিষিদ্ধ করেছিলেন মূলত তিনটি কারণে:
১. অধিকার ভেদ:
যেমন শিশু শক্ত খাবার হজম করতে পারে না, তেমনি কামরহিত শুদ্ধ চিত্ত ছাড়া এই লীলা হজম করা যায় না। মহাপ্রভু বলতেন,
“নামাশ্রয় করি’ যবে চিত্ত শোধ হয়”—আগে নাম করে চিত্ত শুদ্ধ করো, লীলা তার পরে।
২. প্রাকৃত সহজিয়া হওয়ার ভয়:
মহাপ্রভু ভয় পেতেন যে, কলিযুগের মানুষ ভজন না করে কেবল লীলা শুনলে 'সহজিয়া' হয়ে যাবে। তারা বিড়ি-তামাক খাবে আর রাধা-কৃষ্ণের রাসলীলার কীর্ত্তন করবে, যা অপরাধ।
৩. গুপ্তধন:
নিজের বাড়ির সবথেকে দামী হীরা যেমন রাস্তায় দেখানো হয় না, সিন্দুকে রাখা হয়—তেমনি মহাপ্রভু অষ্টকালীন লীলাকে ভক্তির ভাণ্ডারের 'গুপ্তধন' হিসেবে লুকিয়ে রাখতে বলেছিলেন।
তাই মহাপ্রভুর শিক্ষা হলো:
"মুখে নাম, অন্তরে লীলা।"
তিনি লীলার পবিত্রতা রক্ষক ছিলেন।🌷🌷
সংগৃহীত
#হরেকৃষ্ণ_হরেকৃষ্ণ_কৃষ্ণকৃষ্ণ_হরেহরেঃ #সনাতন_ধর্ম #শ্রীকৃষ্ণ #রাধে_রাধে
11/01/2026
বর্ণ যদি কর্মের দ্বারা হয়,তাহলে শাস্ত্র গ্রন্থে জন্মের কথা বলা হয়েছে কেন ❓
আজকের সমাজে একটি প্রচলিত প্রশ্ন হলো—
“বর্ণ কি জন্ম দ্বারা নির্ধারিত, না কি কর্ম দ্বারা?”
অনেকেই বলেন, শাস্ত্রে জন্ম অনুযায়ী ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র বলা হয়েছে—আবার অন্যদিকে ভগবদ্গীতা-তে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে বর্ণ গুণ ও কর্ম দ্বারা নির্ধারিত।
তাহলে প্রশ্ন আসে—শাস্ত্র কি নিজের মধ্যেই পরস্পরবিরোধী?
উত্তর হলো—না। বরং বিষয়টি স্তরভিত্তিক ও প্রেক্ষিতনির্ভর।
🔶 গীতা: বর্ণের মূল ভিত্তি — গুণ ও কর্ম
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন—
চাতুর্বর্ণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ
— গীতা ৪.১৩
অর্থাৎ,
চার বর্ণ সৃষ্টি হয়েছে গুণ (স্বভাব) ও কর্ম (কার্য) অনুসারে—জন্ম অনুসারে নয়।
🔹 এখানে “গুণ” বলতে বোঝায়—
সাত্ত্বিক (জ্ঞান, সংযম, সত্য)
রাজসিক (কর্মপ্রবণতা, শক্তি, নেতৃত্ব)
তামসিক (অজ্ঞান, আলস্য)
🔹 আর “কর্ম” মানে—
ব্যক্তি জীবনে কী কাজ করছে, কী দায়িত্ব পালন করছে।
➡️ অতএব গীতার দৃষ্টিতে বর্ণ = চরিত্র + কর্মজীবন
🔶 তাহলে শাস্ত্রে “জন্ম” কথাটি এল কেন?
এখানেই আসে ভুল বোঝাবুঝি।
✔️ জন্ম ≠ চূড়ান্ত বর্ণ
শাস্ত্রে জন্মকে সম্ভাবনা (potential) হিসেবে দেখা হয়েছে, ফলাফল (final status) হিসেবে নয়।
একটি পরিবারে জন্ম মানে—
নির্দিষ্ট সংস্কার
নির্দিষ্ট শিক্ষা
নির্দিষ্ট পরিবেশ
কিন্তু সেই সন্তান যদি সেই গুণ ও কর্ম ধারণ না করে, তাহলে সে বর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয় না।
🔶 মনুস্মৃতি ও অন্যান্য স্মৃতিশাস্ত্র কী বলে?
মনুস্মৃতি ও পুরাণে অনেক জায়গায় “ব্রাহ্মণের ঘরে জন্ম” কথাটি এসেছে।
কিন্তু একই শাস্ত্রে আবার স্পষ্ট বলা হয়েছে—
কর্মণা জায়তে শূদ্রঃ, সংস্কারাদ্ দ্বিজ উচ্যতে
অর্থাৎ—
জন্মে সবাই শূদ্রসমান,
সংস্কার ও বিদ্যার মাধ্যমে দ্বিজ (উচ্চতর) হয়।
🔹 এখানে সংস্কার, শিক্ষা ও আচরণ-ই মূল বিষয়।
🔶 ইতিহাস ও পুরাণ থেকে প্রমাণ
শাস্ত্র নিজেরাই জন্মভিত্তিক বর্ণবাদ ভেঙে দিয়েছে—
🔹 ঋষি বাল্মীকি
ডাকাত পরিবারে জন্ম, কিন্তু কর্ম ও তপস্যায় মহর্ষি।
🔹 ঋষি ব্যাস
জেলে কন্যার গর্ভে জন্ম, অথচ বেদব্যাস।
🔹 বিদুর
দাসী-পুত্র, কিন্তু মহাভারতে সর্বশ্রেষ্ঠ নীতিবিদ।
➡️ যদি জন্মই চূড়ান্ত হতো, তাহলে এরা কেউই ঋষি হতেন না।
🔶 তাহলে বিভ্রান্তি এল কোথা থেকে?
🔸 কালের প্রবাহে
🔸 সামাজিক সুবিধা রক্ষার জন্য
🔸 বংশগত পেশাকে স্থায়ী করে তোলার প্রয়োজনে
জন্মকে স্থায়ী পরিচয় বানানো হয়েছে, যা শাস্ত্রের আত্মার বিরোধী।
গীতা ধর্ম নয় জীবন্ত দর্শন,
আর দর্শন কখনো স্থবির নয়।
🔶 শাস্ত্রসম্মত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
✔️ বর্ণের মূল ভিত্তি = গুণ + কর্ম
✔️ জন্ম = প্রাথমিক পরিবেশ, চূড়ান্ত পরিচয় নয়
✔️ শাস্ত্র পরস্পরবিরোধী নয়, আমরা ব্যাখ্যায় ভুল করি
✔️ কর্মহীন জন্ম কোনো মর্যাদা দেয় না
✔️ গুণহীন ব্রাহ্মণ শাস্ত্রসম্মত ব্রাহ্মণ নয়
🔶 উপসংহার
যারা বলেন—
“শাস্ত্রে জন্ম অনুযায়ী বর্ণ বলা আছে”
তাদের উত্তর একটাই—
শাস্ত্র পুরো পড়ুন, খণ্ডাংশ নয়।
গীতা, উপনিষদ ও ইতিহাস—সবই কর্মকেই শেষ কথা বলে।
👉 বর্ণ অহংকার নয়, দায়িত্ব।
বংশ পরিচয় নয়, চরিত্রই ধর্ম।
Annu media
#রাধে রাধে শ্রী বৃন্দাবনে মহাপ্রসাদ
16/12/2025
📖প্রাণিগণের দেহ অনিত্য এবং বিনাশশীল, এতে প্রতিক্ষণে পরিবর্তন হচ্ছে। এই সমস্তের মধ্যে সমভাবে বিরাজমান পরব্রহ্ম পুরুষোত্তম এই রক্তমাংসের শরীর হতে সর্বতোভাবে রহিত, অশরীরী। এই কারণে তিনি নিত্য এবং স্থির। প্রাকৃত দেশ-কাল এবং গুণাদি দ্বারা অপরিচ্ছিন্ন সেই মহান সর্বব্যাপী, সকলের আত্মাস্বরূপ পরমেশ্বরকে জানতে পারলে সেই জ্ঞানী মহাপুরুষ কোনো দিন কোনো কারণে কিঞ্চিৎমাত্রও শোকে অভিভূত হন না। আর এই হচ্ছে সেই জ্ঞানীর লক্ষণ।
কঠোপনিষদ্ ১.২.২২ ৷৷✨
Annu media
08/12/2025
Joy sree radhe,, 🙏🧡
Good night
01/11/2025
রাঁধে রাঁধে,, শুভ সকাল
20/10/2025
শ্রীমতি বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী জাহ্নবা দেবীর কাছে বিদায় নিয়ে অদ্বৈত ঘরণী সীতা মাতার চরণে প্রনাম করতে গেল।সীতা মাতা অতি ব্যগ্র হয়ে শ্রীমতিকে কোলে তুলে বুকে জড়িয়ে আদর চুম্বন করতে লাগলো।মায়ের মতো আদর পেয়ে শ্রীমতির শচী মায়ের কথা মনে পড়ে গেল।শ্রীমতি সীতা মায়ের কোলে বসে অঝোর নয়নে কাঁদতে লাগলো।সীতা মাতা নিজের কাপড়ের আঁচল দিয়ে শ্রীমতির চোখের জল মুছিয়ে বললো 'মা তোমাকে দেখলে আমরা নিমাইয়ের শোক ভুলে থাকি'।তোমাকে বুকে জড়িয়ে আমার সন্তপ্ত হৃদয়ের জ্বালা জুড়িয়ে গেল।মা তুমি এমন করে কেঁদো না।তুমি জগৎবাসীকে গৌর ভজন শিক্ষা দিয়ে তোমার প্রাণনাথের ইচ্ছে পূরণ কর।তোমার আদর্শ চরিত্র শ্রবণ করে কলির অধম জীব সর্বপাপ মুক্ত হবে।তোমার ন্যায় অর্ধাঙ্গিনীর জীবন জগতের সকল নারীদের আদর্শ ধর্ম হবে।তোমার মতো পতিব্রতার নয়ন জলে কলির মহাপাতকি জীবজগতের সব পাপ ধুয়ে যাবে।যেমন রাধা ছাড়া কৃষ্ণ অসম্পূর্ণ তেমন তুমি বিনে গৌরাঙ্গ অসম্পূর্ণ।রাধাকৃষ্ণের মতো তুমি সদা সর্বদা গৌরাঙ্গের পাশে পূজিত হবে।
শ্রী বিষ্ণুপ্রিয়া-গৌর বিগ্রহ ঘরে ঘরে পূজিত হবে।মাগো এই কলির জীবের উপর তুমি তোমার কৃপাদৃষ্টি দান করো,জগতের উপর করুনা করো।জগৎকে কৃপা করাই তোমার সাধনা।
শ্রীমতি বিষাদ নয়নে সীতা মায়ের বক্ষমাঝে মুখ লুকিয়ে চুপ করে শুনছে।
সীতা মায়ের অনেক বয়স হয়েছে কিন্তু তবুও বদনে দিব্য তেজ।সীতা মাতা ঠাকুরানী সাক্ষাৎ যোগমাতা জগতজননী।
শ্রীমতি সব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলো।মাতা সীতার স্নেহ ও উৎসাহ ব্যক্যে শ্রীমতির হৃদয় শান্ত হলো।
শ্রীমতি সীতা মাতাকে বললো মা তুমি আমার প্রাণবল্লভকে ছোট থেকে মতো আদর যত্ন দিয়ে লালন পালন করেছো,মায়ের মতো ভালবেসেছো আমার প্রাণনাথকে।সেই অর্থে তুমি আমারও মা।
মা তোমার কথা শুনে আমার নিরাশ হৃদয়ে আশার সঞ্চার হলো।মা কলির জীবের মঙ্গলের জনই আমি কঠোর ব্রত গ্রহণ করেছি।আমার প্রাণনাথ জগত জীবের দুঃখে কাতর হয়ে ভিখারী বেশে দেশে দেশে ভিক্ষা করে বেড়িয়েছে,তাই আমি ঘরে বসেই অতি সামান্য ভজনে প্রবিত্ত হয়েছি।কিন্ত এতে ভক্তগণ কষ্ট পায়।তোমার কথায় আশ্বাস পেয়ে আমি আরো বেশি উৎসাহে শ্রী গৌর ভজনে প্রবিষ্ঠ হবো।
মা তুমি আমায় আশীর্বাদ করো আমি যেন সফল হতে পারি।
সীতা মাতা বলল মা তোমাকে আশীর্বাদ দেবার সাধ্য আমার নাই।তুমি সাক্ষাৎ গৌরপ্রিয়া তুমি প্রেমময়ী।তোমার কৃপায় জগৎ উদ্ধার হবে। তুমি সর্ব জীবের প্রতি কৃপা দৃষ্টি দান করো।যেরূপে রাধারানীর কৃপা ব্যতীত কেউ কৃষ্ণ কৃপা পেতে পারে না,তেমনি তোমার কৃপা বিনে গৌরের কৃপা কেউ লাভ করতে পারবে না।
শ্রীমতি আর কিছুই বললো না।নয়ন জলে সীতা মায়ের কাছে বিদায় নিয়ে নিজ গৃহে ফিরে এলো।
শ্রীমতি আরো কঠোরতার সাথে ভজন করতে লাগলো।শ্রীমতির ভজন শ্রীমতির অশ্রু জীব উদ্ধারের ব্রত গ্রহণ করল।কলির জীবের আর ভাবনা রইলো না।
বিশ্ব বিধাতা জগতের মাতা মিলিয়াছে এক সঙ্গে।
ভাবনা কি আর পাপী দুরাচার হাস খেল সব রঙ্গে।।
জয় জয় কলিযুগ পাবন অবতার
শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া-গোরার জয়💙❤️🙏💖
জয় জয় শ্রীমতি বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর জয়❤️💙🌸🙏🏿
Annu media 🙏
আমাদের ভাইজি হৃদয় ছোঁয়া নৃত্য পরিবেশন করলেন Part 3
আমাদের ভাইজি হৃদয় ছোঁয়া নৃত্য পরিবেশন করলেন Part 2
Click here to claim your Sponsored Listing.
