Muntasir Araf Page
Gift ot Nature
হযরত উমর (রা.) যখন মারাত্মকভাবে আহত হলেন, তখন তাকে দুধ খেতে দেওয়া হলো। কিন্তু দুধ পান করার সাথে সাথেই তা তার পাঁজরের ক্ষত দিয়ে বেরিয়ে এল। তখন চিকিৎসক বলে দিলেন, "হে আমিরুল মুমিনীন! আপনার হাতে আর বেশি সময় নেই, আপনি অসিয়ত করে নিন।"
মৃত্যুশয্যায় শুয়ে হযরত উমর (রা.) তার ছেলে আব্দুল্লাহকে ডেকে বললেন, "আমার কাছে হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.)-কে ডেকে আনো।"
হুজাইফা (রা.) ছিলেন সেই সাহাবি, যাকে রাসূলুল্লাহ (সা.) মুনাফিকদের গোপন তালিকা দিয়েছিলেন। তিনি ছাড়া আর কেউ সেই নামের তালিকা জানতেন না।
রক্তাক্ত অবস্থায় হযরত উমর (রা.) হুজাইফা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, "হে হুজাইফা! আমি তোমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, রাসূলুল্লাহ (সা.) কি মুনাফিকদের তালিকায় আমার নাম রেখেছেন?"
হুজাইফা (রা.) কান্নায় ভেঙে পড়লেন এবং বললেন, "এটা রাসূল (সা.)-এর গোপন আমানত, আমি কাউকে বলতে পারব না।"
উমর (রা.) আবার আকুতি জানিয়ে বললেন, "আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে শুধু এটুকু বলো, আমার নাম কি সেখানে আছে?"
হুজাইফা (রা.) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, "হে উমর! আমি শুধু আপনাকে বলছি, অন্য কেউ হলে বলতাম না। জেনে রাখুন, আল্লাহর রাসূল (সা.) আপনার নাম ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেননি।"
এরপর উমর (রা.) একটু শান্ত হলেন এবং ছেলেকে বললেন, "আমার একটি শেষ ইচ্ছা বাকি আছে। আমি রাসূল (সা.)-এর রওজার পাশে দাফন হতে চাই। তুমি মা আয়েশা (রা.)-এর কাছে যাও এবং তাকে বলো, 'উমর তার দুই সাথীর (নবীজি ও আবু বকর) পায়ের কাছে কবরস্থ হওয়ার অনুমতি চাইছে।' তাকে 'আমিরুল মুমিনীন' বলো না, শুধু 'উমর' বলো।"
হযরত আয়েশা (রা.) অনুমতি দিলেন। তিনি বললেন, "আমি এই জায়গাটি নিজের জন্য রেখেছিলাম, কিন্তু আজ আমি উমরের জন্য তা ছেড়ে দিলাম।"
আব্দুল্লাহ ফিরে এসে সুখবর দিলেন। তখন উমর (রা.) তার গাল মাটির সাথে মিশিয়ে দিলেন। ছেলে তার মাথা কোলে তুলে নিতে চাইল, কিন্তু উমর (রা.) বললেন, "ছেড়ে দাও! আমার গাল মাটিতেই থাকতে দাও। ধ্বংস উমরের জন্য, যদি কাল আল্লাহ তাকে ক্ষমা না করেন!"
মৃত্যুর আগে তিনি ছেলেকে এক কঠিন অসিয়ত করলেন:
"আমার জানাজা যখন পড়ানো হবে, তখন হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.)-এর দিকে নজর রাখবে। যদি সে আমার জানাজায় অংশ নেয়, তবে বুঝবে আমি মুনাফিক নই। তখন আমার লাশ রওজা শরীফের দরজায় নিয়ে যেও এবং আবার অনুমতি চাইবে। কারণ হতে পারে আমার জীবদ্দশায় লজ্জায় পড়ে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। যদি অনুমতি পাওয়া যায়, তবে দাফন করবে; নতুবা সাধারণ কবরস্থানে দাফন করে দিও।"
জানাজার সময় আব্দুল্লাহ দেখলেন, হুজাইফা (রা.) জানাজায় শরিক হয়েছেন। এতে তিনি আশ্বস্ত হলেন। রওজার দরজায় গিয়ে অনুমতি চাইলে মা আয়েশা (রা.) বললেন, "উমরকে তার সাথীদের পাশে দাফন হওয়ার জন্য স্বাগতম।" (বুখারী,মুসলিম,তারিখুত তাবারী)
যাকে রাসূল (সা.) দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন এবং যার শাসনে অর্ধেক পৃথিবী চলত, সেই হযরত উমর (রা.)-ও আল্লাহর ভয়ে এবং মুনাফিক হওয়ার আশঙ্কায় কতটা ভীত ছিলেন! আর আমরা পাপে ডুবে থেকেও কত নিশ্চিন্ত!
05/12/2025
একদিন জালালউদ্দিন রুমি একটি বনের পথ ধরে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি একটি বিশাল, কৃষ্ণবর্ণ তিতির পাখি ধরে ফেললেন। রুমি মনে মনে ভাবছিলেন, আজকের আহার হিসেবে পাখিটিকে ঝলসানো হবে, নাকি সুস্বাদু তরকারি রান্না করা হবে!
ঠিক সেই মুহূর্তে পাখিটি মানবীয় কণ্ঠে বলে উঠল - ‘হে রুমি! আপনি এই জীবনে এত গোশত আহার করেছেন, তবুও আপনার আমিষের আকুতি কেন শেষ হয় না? আপনি যদি আমাকে মুক্ত করে দেন, তবে আমি আপনাকে তিনটি অমূল্য উপদেশ দেব, যা আপনার জীবনকে শান্তি ও সন্তোষে ভরে দেবে।’
রুমি কিছুটা বিচলিত হলেন, কিন্তু প্রজ্ঞার লোভে রাজি হলেন। তিনি বললেন, ‘বেশ, তবে আমার হাতের মুঠোর মধ্যেই প্রথম উপদেশটি দাও। যদি পছন্দ না হয়, তবে এই মুহূর্তেই তোমাকে হত্যা করব।’
পাখিটি সম্মতি জানিয়ে বলল:
প্রথম উপদেশ: "আপনি সবসময় আপনার বন্ধুদের উদ্ভট বা অর্থহীন আলোচনায় খুব বিচলিত হয়ে পড়েন। এর চেয়ে তাদেরকে তাদের মতো থাকতে দিন। তাতে আপনার জীবন আরও শ্রেয়তর হবে, এবং আপনি শান্তিতে থাকবেন।"
রুমি কিছুক্ষণ চিন্তা করে দেখলেন, পাখিটির কথায় গভীর প্রজ্ঞা আছে। তিনি দ্বিতীয় উপদেশের জন্য অনুরোধ করলেন।
পাখি এবার বলল, ‘আমাকে মুক্ত করে দিলে আমি ওই কাছের গাছের ডালে বসে দ্বিতীয় উপদেশটি দেব।’
রুমি তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পাখিটিকে মুক্ত করে দিলেন। পাখিটি উড়ে গিয়ে কাছেই একটি গাছের ডালে বসল।
দ্বিতীয় উপদেশ দেওয়ার আগে পাখিটি বলল, ‘রুমি! তুমি এক বিরাট বোকামি করেছ! আমার পেটের ভেতরে তিন কেজি ওজনের মহামূল্যবান হীরা ছিল। তুমি এটা পেলে তোমার সাত পুরুষ বসে খেতে পারতো!’
এই কথা শুনে রুমি সাংঘাতিকভাবে ঘাবড়ে গেলেন। তিনি ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে পাখিটিকে আবার ধরার জন্য তার দিকে ছুটতে শুরু করলেন।
তখন পাখিটি জোরে জোরে হেসে উঠল এবং চিৎকার করে বলল:
‘রুমি, তুমি তো দেখছি আমার প্রথম উপদেশটি একেবারেই শোননি! আমার নিজের ওজন যেখানে মাত্র দুই কেজির বেশি নয়, সেখানে আমার পেটে তিন কেজি হীরা থাকবে কী করে? তুমি এখনো উদ্ভট আর বোধহীন কথায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছো!
দ্বিতীয় উপদেশ: "অতীতকে কখনো পাল্টানো যায় না, আর আমি এখন তোমার অতীত। তুমি যা হারিয়েছো, তার জন্য আফসোস না করে বর্তমান মুহূর্তটিকে উপভোগ করো এবং ভবিষ্যতের জন্য বাঁচো।"
পুরোপুরি স্তম্ভিত হয়ে রুমি তখন লজ্জিত কণ্ঠে তৃতীয় উপদেশের জন্য অনুরোধ করলেন।
তিতির পাখিটি শেষ উপদেশটি দিল:
তৃতীয় উপদেশ: "সবাইকে উপদেশ দিতে যেও না। শুধু তাদের উপদেশ দাও, যারা তা শুনবে এবং মনে রাখবে। মনে রেখো, কিছু কাপড় এত জীর্ণ হয়ে যায় যে, তা আর কখনো সেলাই করা যায় না - অর্থাৎ কিছু মানুষ উপদেশ পাওয়ার যোগ্যই নয়।"
Click here to claim your Sponsored Listing.
Contact the business
Telephone
Website
Address
Narayanganj
1400

16/11/2025
16/11/2025
16/11/2025
03/11/2025
03/11/2025