Atomy Bangladesh

Atomy Bangladesh

Share

Discover holistic wellness tips for a vibrant life. Explore beauty secrets rooted in nature.join us

03/11/2025

একটা এঙ্গার ম্যানেজমেন্ট টিপ দেই: আপনার লাইফে যত বেশি স্ট্রেস থাকবে, তত আপনার রাগ বাড়বে। লাইফ থেকে অপ্রয়োজনীয় স্ট্রেস কমান। সেটার উপায় কী? সবকিছু কন্ট্রোল করার চেষ্টা করা বন্ধ করুন। আপনি সবকিছু কন্ট্রোল করতে পারবেনও না। একমাত্র যেটা আপনি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন সেটা হল, আপনার নিজের চিন্তা, ইমোশন, রিএকশন। নিজেকে বলুন, "আমার সবকিছু কন্ট্রোল করার প্রয়োজন নাই।"

- বাচ্চা বাইরে যাওয়ার সময় একটা খেলনা/র‍্যান্ডম জিনিস নিয়ে বের হতে চাচ্ছে, খুব সমস্যা না হলে নিতে দিন। বাসার কোন পরিচিত জিনিস হাতে রাখা অনেক সময় বাইরের পরিবেশে ওদেরকে সেইফ ফিল করায়।

- বাচ্চা আপনার কথামতো জামা পরবে না, নিজের ইচ্ছামতো ম্যাচিং হয় না এমন একটা জামা পরবে, তেমন সমস্যা না হলে এটা নিয়ে power struggle করার দরকার নাই। সবার বাচ্চাই একটা বয়সে এসব করে।

- বাচ্চা এক বেলা খেতে চাচ্ছে না? ক্ষুধা লাগলে এমনিই খাবে। খাবার তুলে রাখুন, তৎক্ষনাৎ নতুন কিছু বানিয়ে সামনে দেয়ার প্রয়োজন নাই। আর এক বেলা না খেলে বাচ্চা শুকিয়ে যাবে না, বরং সে শিখবে ক্ষুধা লাগলে নিজে থেকে খাবার চাইতে।

- বাচ্চা এক জায়গায় বসে না খেয়ে হেঁটে হেঁটে খাবে, খাক না! ছোট বাচ্চারা বেশিক্ষণ বসে থাকতে না চাওয়াটাই স্বাভাবিক!

- বাচ্চা সোফায় ঠিকমতো না বসে উল্টো হয়ে শুয়ে আছে- এটাই তখন ওর শরীরের জন্য কম্ফোর্টেবল পজিশন। ভদ্রতা শেখানোর বয়স পড়ে আছে।

- বাচ্চা আন্টি/আঙ্কেলের সামনে নাম বলতে লজ্জা পায়? একেবারেই স্বাভাবিক আচরণ, জোর করা যাবে না। জিজ্ঞাসা করুন, "নাম বলতে চাও?" না চাইলে নাই। অপরিচিত মানুষের এতো ইনফরমেশন জানার দরকারও নাই। কারো কোলে বা কাছে যেতেও জোর করা ক্ষতিকর। এ নিয়ে বিস্তারিত ভিডিও কমেন্টে।

- শিশু ঘুমাবে না? জোর করে ঘুম আসেও না। চেষ্টা করুন তাকে দিনে ছুটোছুটি করতে দিয়ে টায়ার্ড হওয়ার সুযোগ দিতে।

- শিশু আকাশের রং নীল না দিয়ে সবুজই দিবে? দিক না! কী এমন ক্ষতি হয়ে যাবে? বরং এতে ওদের কল্পনার জগৎ বিকশিত হচ্ছে।

- বাচ্চা নিজের হাতে খেতে চাচ্ছে কিন্তু খাবার চারপাশে ফেলে দেয়, দিক! এভাবেই তো শিখবে!

- গ্লাসে পানি ঢালছে নিজে নিজে চারপাশে ফেলে, এভাবেই তো শিখবে!

- কাটা চামচ দিয়ে ডাল খেতে চাচ্ছে? দিন না চেষ্টা করতে! নিজে থেকে Cause & effect বুঝুক!

বাচ্চা যখন যা চাবে, বা যা করতে চাবে দেয়া যাবে না নিশ্চয়ই, কিন্তু যখন আসলেই নিষেধ করতে বা বাউন্ডারি সেট করতে হবে, তখন যেন আমরা সেটা ধৈর্য ধরে করতে পারি, তার জন্য আমাদের এনার্জি সেইভ করতে হবে। আমরা অপ্রয়োজনে "না না" করতে থাকলে এনার্জি ওখানেই শেষ হয়ে যায়, তারপর ধৈর্য ধরা আর সম্ভব হয় না। এছাড়া বাচ্চারা অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত না শুনলে "no-resistant" হয়ে যায়। আপনার কোন কথাই একসময় আর কানে ঢুকবে না।

বাচ্চা নিজে নিজে কাজ করতে গিয়ে প্রথম প্রথম ফেলে দিবে, এলোমেলো করবে, ঘর অগোছালো থাকবে, থাকুক! আজীবন এমন থাকবে না। বাচ্চাও বড় হবে, আপনার কাজও সহজ হবে। আর যদি এখন থেকে এলোমেলো করে, ফেলে, ভেঙে শেখার সুযোগ পায়, ওরাও দ্রুত রেস্পন্সিবল হওয়া শিখবে, ওদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে, এবং আপনার লাইফ আরও দ্রুত সহজ হবে।

আরেকটা কথা, আপনি যখন এই ছাড়গুলো দিবেন, দেখবেন আপনাকে অবাক করে দিয়ে ও এমন এমন কাজ করে ফেলছে, যেটা আপনি ভাবতেই পারতেন না ওর দ্বারা সম্ভব!


Parenting Page: The Cycle Breaker Mom

02/11/2025

টিনএজ সন্তানদের মোটিভেট করার দারুন ট্রিকস💁‍♀️
পর্ব-০৬
আজকে চেষ্টা করবো বিজ্ঞানসম্মত কিছু কার্যকরী টিপস & ট্রিকস নিয়ে আলোচনা করতে।
🧠 গবেষণা-ভিত্তিক তথ্য (Neuro- & Motivation Science)

নিচে কয়েকটি মূল পয়েন্ট এবং সেগুলোর সঙ্গে গবেষণা ফলাফল দেওয়া হলো, যাতে আপনারা পরিষ্কার ভাবে বুঝতে পারেন।

মস্তিষ্কের বিকাশ ও তার প্রভাব

টিনএজারদের মস্তিষ্ক এখনও বিকাশমান: উদাহরণস্বরূপ, কাঠামোগত নেটওয়ার্ক-অর্গানাইজেশন (structural brain networks) বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুসংহত হয়। যেমন এক গবেষণায় দেখা গেছে: ৮-২২ বছরের মধ্যে অংশ নেওয়া ৮৮২ জনের ডেটায় দেখা গেছে, “মডিউলার সেগ্রিগেশন” (module segregation) বাড়ার সঙ্গে এক্সিকিউটিভ ফাংশন (যেমন সিদ্ধান্ত নেওয়া, নিয়ন্ত্রণ) ভালো হচ্ছিল।

ইউনিসেফের এক রিভিউ বলছে: “বুদ্ধিমত্তা আছে, তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ-ক্ষমতা (decision making) ও নিয়ন্ত্রণগত ক্ষমতা (cognitive control) এখনও পুরোপুরি পরিণত হয়নি”।

অর্থাৎ বাবা-মা হিসেবে আমাদের ধারণা করা উচিত, “সে তো বড় মানুষ” হলেও তার মস্তিষ্ক এখনও বিকাশে। এই বাস্তবটি বুঝলে বেশি ধৈর্যের সঙ্গে ও বাস্তবমুখীভাবে করণীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।

মোটিভেশন, রিওয়ার্ড সিস্টেম ও টিনএজার

একাধিক গবেষণা বলছে, টিনএজারদের রিওয়ার্ড সিস্টেম (reward-sensitivity) একটু বেশি সক্রিয় হয়, বিশেষ করে “নতুনতা” (novelty) বা “উঁচু রিস্ক/উঁচু রিওয়ার্ড” পরিস্থিতিতে।

যেমন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ১০-১২ বছরের, ১৪-১৫ বছরের ও ১৮-২৩ বছরের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রিওয়ার্ড anticipation (প্রত্যাশা) ও রিওয়ার্ড গ্রহণের সময় মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের সক্রিয়তা ভিন্ন ছিল।

আরেকটা গবেষণা বলছে, যখন রিওয়ার্ড বা প্রোফিট সম্ভাবনা থাকে, টিনএজারদের “মোটিভেশনাল সিস্টেম” (incentive motivation) বেশি কাজ করে এবং তারা হয়তো কম নিয়ন্ত্রণ (self-regulation) দেখাতে পারে।

এছাড়া, শিক্ষণ বা শেখার প্রসঙ্গে: একটি গবেষণায় দেখা গেছে ১০-১৮ বছর বয়সের সবাই বলেছে শব্দ শেখার সময় “সাফল্যের আনন্দ” অনুভব করেছে, অর্থাৎ তারা অভ্যন্তরীণ রিওয়ার্ড (intrinsic reward) অনুভব করতে পারে।

কী অর্থে এই গবেষণা আমাদের জন্য মূল্যবান, বাবা-মা হিসেবে এটা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ :

যখন আমরা বলি “তোমার এখনই পড়াশোনা করা জরুরি”, “ না করলে ভবিষ্যতে শেষ ”, এসব বার্তা অনেক সময় দূর ভবিষ্যতের ভয়ভিত্তিক হয়। কিন্তু গবেষণা বলে: টিনএজারদের রিওয়ার্ড সিস্টেম বেশ আকর্ষণ করে তাত্ক্ষণিক, স্পষ্ট, অর্থপূর্ণ পুরস্কারগুলোর প্রতি। (যেমন: তুমি এখনই ছোট কিছু করেছ, সেটা দেখছি, আমরা তার জন্য গর্বিত), যেমন : ক্লাস টেস্টে সে ৮/১০ এ সেটার জন্য খুশি হন, বলুন নেক্সট এক্সামেও এমন ভালো ফলাফল রেখো সোনা"।

আবার, যেহেতু নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা (cognitive control) পুরোপুরি পরিণত নেই, তারা সিদ্ধান্ত নেওয়া বা নিজেকে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ পেতে পারে, তাই শুধু আদেশ বা চাপ নয়, গাইডিং, সহযোগিতা, পরিকল্পনা দরকার।

এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, রিওয়ার্ড-সেন্সিটিভিটি নেতিবাচক দিকে যেমন ঝোঁক বাড়াতে পারে (রিস্ক টেকিং, উত্তেজনা খোঁজা) তেমনি ইতিবাচক দিকে বড় সুবিধা নিয়ে আসতে পারে, আমরা যদি ভালোভাবে “মোটিভেশনাল চ্যানেল” তৈরি করি।

বাবা-মায়েদের জন্য প্রয়োগযোগ্য বাস্তব ধাপ ও কৌশল💁‍♀️

গবেষণার ওপর ভিত্তি করে নিচে ধাপে ধাপে করণীয় দেওয়া হলো, আপনার টিনএজারের সঙ্গে ব্যবহার করতে পারবেন। আমি, আমার মতোন সাহায্য করার চেষ্টা করছি, আপনাদের ভালো আইডিয়া গুলো কমেন্টে বলতে পারেন।

ধাপ ১: সংযোগ ও অনুভূতিপূর্ণ সম্পর্ক গঠন

প্রতিদিন কিছু সময় শুধু শুনতে বসুন, কোনও উপদেশ নয়, শুধু “আজ তুমি কেমন অনুভব করেছিলে?” এ ধরনের খোলা প্রশ্ন। সারাদিন কি হলো, কি করেছে, নিছক খোলা আলাপ, কোনো জেড়া নয়।

যখন তারা কিছু দেয় বা কিছু করে, সেটা দেখুন এবং বলুন, “আমি দেখেছি তুমি এই কাজটা করেছ, ভালো হয়েছে”, এমনভাবে প্রশংসা করুন। গবেষণা বলছে, ইতিবাচক সংযোগ মস্তিষ্কে নিরাপত্তা ও মোটিভেশন তৈরি করে।

যদি আপনার পছন্দের বাইরের কোনো কাজ করে, তবে, “তুমি কেন এটা করেছ” না বলে বোঝার চেষ্টা করুন উদাহরণস্বরূপ: “তোমার মনের কথা বলো, কি কারণে তুমি এই ক্লাবে যোগ দিতে চাও?” শুধু ফলাফল নয়, কারণ শুনুন। এতে আপনার ও সন্তানের মধ্যে খুব ভালো একটা সম্পর্ক বজায় থাকবে, কোনে লুকোচুরি হবেনা।

ধাপ ২: উদ্দেশ্য-বোধ (purpose) তৈরি করা

একসঙ্গে বসে আলোচনা করুন: “তুমি কেমন মানুষ হতে চাও?”, “পাঁচ বছর পর তুমি কী করেছ বলে ভাবছ?” বড় ছবির সাথে তাদের সংযোগ দিন। মাঝে মাঝে ভালো ভালো মোটিভেশনাল স্পিকারের অনুষ্ঠানে সন্তান নিয়ে যান, এতে ওদের মধ্যে ভালো রকম পরিবর্তন আসবে, যখন শুনবে ওই একটা ছেলে SSC এর পড়েই Programming এর দারুন দারুন Problem Solve করছে, বা HSC শেষ করেই রিসার্চ পেপার পড়ছে ও নতুন গবেষণা পেপার রেডি করে ফেলছে, আর সবাই তার প্রশংসায় ভাসছে, তখন আপনার সন্তানেরও ইচ্ছে হবে দারুন কিছু করার, চমকে দেবার, আর বাবা- মার গর্ব হবার।

আপনার সন্তানের উদ্দেশ্য ভালোভাবে শুনুন, তারপর
সেই উদ্দেশ্যকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করুন, যেমন: “এই সপ্তাহে তুমি এই একটি ছোট কাজ করতে পারো যা তোমার বড় উদ্দেশ্যের দিকে এগিয়ে যাবে”।

তাদের স্বার্থ ও ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানান, ইচ্ছে আছে কি না, সেটি শুনুন এবং সমর্থন করুন।

ধাপ ৩: রিওয়ার্ড ও অগ্রগতি উৎসাহ দেওয়া

ছোট পুরস্কার এবং দৃশ্যমান অগ্রগতির সুযোগ দিন, যেমন: “এই দিন তুমি সময়মতো পড়েছ, আমরা একসাথে একটু সময় কাটাব”।

রিওয়ার্ড বলতে বড় কিছু নয়, যুক্ত-যোগ্য কিছু হতে পারে, সময়, কথোপকথন, নতুন সুযোগ।

গবেষণা অনুসারে, তাত্ক্ষণিক অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়া বেশি কার্যকর হয় টিনএজারে। যেমন: যখন তারা আজ কিছু নতুন শিখেছে বা করেছে, তা আজই দেখিয়ে দিন, “ভালো হয়েছে, তুমি এগিয়ে গেছে”।

ধাপ ৪: নিজেদের মডেল হওয়া

আপনি যেমন সময়মতো কাজ করেন, বাসায় পড়াশোনা বা বই পড়ার অভ্যাস রাখেন, এটি টিনএজারে “মিরর নিউরন” কাজ করবে।

ভুল হলে তা স্বীকার করুন, “হ্যাঁ আমি আজ একটু দেরি করেছিলাম, কালকে থেকে আর হবেনা” বলুন। এটি তাদের শেখাবে নিজ-নিয়ন্ত্রণ ও নম্রতা।

ঘর-বাড়িতে আলোচনার পরিবেশ রাখুন, পড়াশোনা, সামাজিক দায়িত্ব, মানবিক কাজ নিয়ে কথা বলুন, শুধু অঙ্ক বা ইংরিজির প্রসঙ্গ নয়।

ধাপ ৫: ডিজিটাল-ডিসিপ্লিন ও মননশীলতা

টিনএজারদের স্ক্রিন-টাইম, সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদিতে বেশি সময় কাটানোর প্রবণতা আছে। হালকা নিয়ম নির্ধারণ করুন: যেমন রাত ৯টার পর No Phone. বাসার সবার জন্য।

নিজে একটি ছোট মাইন্ডফুলনেস বা ধ্যান অভ্যাস শুরু করুন, টিনএজারের সঙ্গে একসাথে ৫-১০ মিনিট বসুন। এটি তাদের মন শান্ত রাখতে সহায়ক। শরীর ও ব্রেইনের জন্য দারুন উপকারী । ভালো কেনো মেডিটেশন একসাথে সবাই করতে পারেন।

শেখাতে হবে, স্ক্রীন কেবল ভালো কাজে, অহেতুক সময় নষ্ট করার কাজে না। HSC শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিজের স্মার্ট ফোন নয়। বাসায় ল্যাপটপ বা কম্পিউটার রাখুন, যাতে সে তার প্রয়োজনীয় স্ক্রীন টাইম কাটাতে পারবে। কোনো স্কীল শেখার ব্যাপারে উৎসাহ দিন, ধাপে ধাপে সাহায্য করুন ও প্রশংসা করুন। ❤️ নিজেই পরিবর্তন দেখতে পারবেন।

ধাপ ৬: মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্বের ধারণা জাগানো

সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করান, যেমন: একসাথে গরিবদের সহায়তা, পরিবেশ-সচেতন কার্যক্রম। এটি তাদের মনে করবে “আমার কাজ শুধু নিজে নয়, অন্যদের জন্যও”। মাঝে মাঝে বৃদ্ধাশ্রম, অনাথালয় নিয়ে যান।

গল্প, ইতিহাস, সাহিত্য পড়ান, যেখানে মানবিক মূল্যবোধ, দায়িত্ব, অন্য-জনের প্রতি সহমর্মিতা আসে।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বলুন: “এই সিদ্ধান্ত কি অন্যকে ক্ষতি করতে পারে?”, এমন প্রশ্ন ভাবতে উৎসাহ দিন।

আসলে,

টিনএজারদের মস্তিষ্ক এখনো বিকাশে আছে; তারা রিওয়ার্ড-সেন্সিটিভ এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রেনিং প্রয়োজন।

তাই মোটিভেশনের জন্য শুধুই আদেশ বা ভয় নয় সংযোগ, উদ্দেশ্য, ছোট পুরস্কার, অগ্রগতি দৃশ্যমান করা, মডেলিং ও মানবিকতা জরুরি।

এই ৮ টি পর্বের সিরিজে চেষ্টা থাকবে আপনাদের সাহায্য করার, টিনএজরা সঠিক দিশা ও পথ পাক। শুধু আমার একার চেষ্টা হলেই হবেনা, আপনাদের চেষ্টাও অনেক বেশি দরকার।

পর্বগুলো পড়ে নেবেন।
নিজে জানুন, অন্যকে জানান।

আমাদের চেষ্টা দারুন এক জেনারেশন আসুক, অসুস্থ সমাজ সুস্থ হোক। আপনারা বাবা-মা হিসেবে নিজের সেরারা চেষ্টা করুন। 🙏
ধন্যবাদ 🙏

01/11/2025

মা হওয়া প্রসেস শুরু হয় বটে শেষ হয় না এই জীবনে।
মা হওয়ার প্রক্রিয়াটা ধীরে ধীরে কঠিন হয়।
মানুষ বলে ছোট বাচ্চা বড় করাটা মায়েদের কঠিন সময়, আমার মনে হয় সেটা ভুল কথা।

সন্তান যখন ছোট থাকে তখন মা সব। মা বকা দিলেও মা।।মেরে ধরে খাওয়ালেও মা।
পড়তে বসিয়ে থাপ্পড় দিয়ে ঠোঁট ফাটিয়ে দিলেও দিন শেষে যখন মা আদর করে চুলে হাত বুলিয়ে দেয় অমনি মা হয়ে যায়,world best mom.

মায়েরা বেস্ট মম হয়ে থাকাটা কঠিন হয়ে যায় যখন সন্তান বড় হয়।
তখন মায়েরা রেগে গেলে দ্রুত মেরে ঠোঁট ফাটিয়ে দিতে পারে না। বকা দিয়ে আবার ভুলে যেতে পারে না।

বকা দিলে, রেগে গেলে, কথা মন মতো না হলে, কোন মত না মিললে, মায়েরা যতোই জানুক তার সন্তান মানবে না বুঝবে না।
তাও নিজেকে থামাতে পারে না।

সন্তানরাও গাল ফুলিয়ে কান্না করে ব্যাপার টা সেখানে শেষ করতে পারে না।

এর রেশ রয়ে যায় বহু দিন ধীরে ধীরে সন্তানরা দূরে স ড়ে যায়। না চাইতেও একটা চিনচিন ব্যাথা বুকের কোণে রেখে মায়েরা কঠিন হতে থাকে। চুপ হতে থাকে। দেখেও নীরব হতে থাকে।

যে ছেলে মেয়ে মায়ের নামে একটা খারাপ কথা শুনলে দুনিয়ার সাথে যুদ্ধ করে আসতো তারাই যেন এক হয়ে বসে বলে, আমার মা টা কেমন যেন!

এই যে ব্যাপার গুলো আজকাল সব ঘরেই আছে। সন্তান বড় হয়ে গেলে মায়েদের কষ্ট কমে না। বরংচ বাড়ে। অযথা বাড়ে।

যে দোষ সন্তান করে, তার দোষেই মায়েরা ভাগিদার হয়ে কথা শুনে। মাথা নিচু হেঁটে আসতে হয়।

মা হওয়া টা কঠিন নয় আজকাল কেমন যেন দিন দিন মা হয়ে থাকাটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

মা দিবসে, মায়ের সাথে সবার দূরত্ব ঘুচে যাক।
এতটুকু সরলতা সহজতা চলে আসুক যাতে সন্তান দের মন খারাপ লাগলে অনায়াসে বিনা বাক্যে মায়ের কাছে তা বলা যায়।
খুশির কিছু আসলে জীবনে সবার আগে মাকে দেওয়ার উচ্ছ্বাসতা আবার ফিরে আসুক।

হ্যাপি মাদারর্স ডে।

#দোলনা_বড়ুয়া_তৃষা

এটা আমার কথা:-
আমি অনেক ওয়াজ শুনেছি মাহফিলে,মসজিদে বড় বড় আলেমরা বাবা মায়ের হক বা অধিকার ( সন্তানরা পিতা-মাতার সাথে কেমন ব্যবহার করবে কিভাবে তাদের সাথে কথা বলবে ইত্যাদি ) নিয়ে কথা বলেন এটা অনেক বড় ও ভাল বিষয় এ বিষয়ে কথা বলা অপরিহার্য যেমন, ঠিক তেমনি বাবা-মায়ের সন্তানদেরকে কিভাবে পালন করতে হবে এ বিষয়ে জ্ঞান থাকা দরকার।

#অনেকে বলবে এটা কোনো শিক্ষার বিষয় নাকি বা আমরা তো বুঝি বা বুঝ হওয়ার পর থেকে দেখে আসতেছি শিক্ষার দরকার নাই।

#ভাই আমি বলব প্রয়োজন আছে। আমাদের এই জীবনটা অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হবে।

#সন্তানের বিষয়ে বড় ভুমিকা রাখতে হবে আলেম সমাজ,শিক্ষক সহ শিশু ডাক্তার ও সাইকোলজি সহ সবাইকে একটি সুন্দর ভালো প্রজন্মের জন্য। আলেমদেরকে বেশি বেশি ওয়াজ নছিহত, আলোচনা করতে হবে।

#সন্তানরা ছোট থেকে বড় হওয়ার এই প্রসেস একেক সময়ে একেক রকম ৩ বা ৪ বছরের শিশুকে হালকা শাসন করে বা সত্য মিথ্যা বুঝ দিয়ে রাখা যায়, এরপর যখন তারা বুঝতে শিখে তখন মিথ্যা কথা দিয়ে বুঝ দেওয়া ভাল বিষয় নয়,এতে তারা মিথ্যা কথা শিখে নেয়,যা কখনোই কাম্য নয়,এটা পরিত্যাগ করতে হবে বাবা-মা সহ যে পরিবেশে বড় হচ্ছে।
#টিনএজ এর সময় এদের আবেগ ইমোশন বেশি কাজ করে,এই সময়ে বাবা মায়ের থেকে বন্ধদেরকে বেশি প্রাধান্য দেয়। কেন সন্তানেরা বাবা-মা কে প্রায়োরিটি দিচ্ছে না সমস্যা কথায় এটা ফাইন্ড আউট করতে হবে সাথে বাবা-মা কে এ বিষয়ে যথার্থ কাউন্সিলিং নিতে হবে বিশেষজ্ঞদের থেকে How to control teenagers children, How to understand children.

#জানি আপনারা অনেক জ্ঞানী কেউ বা ডাক্তার, উকিল,জজ,অফিসার ইত্যাদি আপনি যেই হোন না কেন,,একজন ডাক্তার কে ইন্টার্নি করতে হয়,রোগী কে সেবা দেওয়ার আগে,একজন বাস ড্রাইভার কে আগে গাড়ি চালাতে শিখতে হয় যাত্রীদের গন্তব্যে হেফাজতে পৌঁছে দিতে। ঠিক তেমনি বাবা-মা কে লম্বা সময় সন্তানের সাথে চলতে হলে সন্তানের বিষয়গুলো জ্ঞান রাখা জরুরি। তা না হলে এক্সিডেন্ট অনিবার্য মানে সম্পর্ক ভাল থাকবে না।
#সন্তানদেরকে ভালো ভাবে বুঝতে শিখুন, দেখবেন যতই রাগারাগি হোক না কেনো, দিন শেষে আপনার সন্তান আপনার কাছেই ফিরে আসবে।

01/11/2025

যেভাবে টিনএইজ সন্তানের প্রেম হ্যান্ডেল করবেন।
বাদল সৈয়দ

গতকাল টিনএইজ প্রেমের সমস্যা নিয়ে লিখেছিলাম। আজ লিখছি, এধরনের সমস্যা বাবা-মা কীভাবে হ্যান্ডেল করবেন সে ব্যাপারে। একমাত্র ভুক্তভোগী জানেন এটি কত বড় সমস্যা। তাই এ লেখার মাধ্যমে একজন উপকৃত হলেও ধন্য হবো।

১। প্রথমে নিজেকে সামলান।

টিনএইজ বাচ্চার প্রেমের খবর জানলে মা-বাবা সাধারণত খুব দ্রুত রিয়্যাক্ট করেন। সাধারণত তা হয় রাগারাগি, কান্নাকাটি, চেঁচামেচি, মারধোর। দয়া করে এগুলো করবেন না। শান্ত থাকুন। এ ধরনের সমস্যা কমন। আপনার বাচ্চার ক্ষেত্রে প্রথম হয়নি। তাই রাগারাগি বা খুব ইমোশোনাল আচরণ না করে ঠান্ডা মাথায় ব্যাপারটি হ্যান্ডেল করুন। এটা নিয়ে যত চেঁচামেচিই করুন না কেন সমস্যার সমাধান হবে না।বরং আপনার সন্তান আরো জেদি হয়ে উঠবে এবং কোনো কথা শুনবে না। তাই সবার আগে নিজেকে সামলান।

২। পার্টনারের সাথে আলোচনা করুন।

এ সমস্যার মুখোমুখি হলে স্বামী-স্ত্রী একান্তে তা কীভাবে মোকাবেলা করবেন সে ব্যাপারে আলোচনা করুন। এক্ষেত্রে মায়েরা অনেক সময় একটি ভুল করেন। তাহলো, ব্যাপারটি জানলে স্বামী রাগ করবেন ভেবে তা তাঁর কাছে গোপন রাখেন।নিজে নিজে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত বাচ্চার বাবা যখন জানতে পারেন তখন সমস্যাটি এত প্রকট হয়ে যায় যে, সমাধান অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই মা কিংবা বাবা যেই প্রথম ব্যাপারটি জানবেন, তিনি তা অপরজনকে জানাবেন। একার বুদ্ধিতে নয়, দুজনের বুদ্ধিতে সমস্যাটি মোকাবেলা করুন।

৩। সন্তানের সাথে খোলামেলা আলাপ করুন।

রাগারাগি না করে ব্যাপারটি নিয়ে সন্তানের সাথে খোলামেলা আলাপ করুন। বোঝার চেষ্টা করুন ব্যাপারটি কতদূর এগিয়েছে। তাকে নির্ভয়ে কথা বলার সুযোগ দিন। শোনার আগেই বিচারের রায় না দিয়ে তার বক্তব্য কী, কেন সে এ পছন্দে জড়ালো তা বলতে দিন। ওর বক্তব্য হয়ত আপনার পছন্দ হবে না, তারপরও শুনুন। এধরনের সমস্যা সমাধানে তার কথা শোনা অনেক কাজে লাগবে।

৪। ঠান্ডা মাথায় বোঝান।

তার বক্তব্য শোনার পর খুব ঠান্ডা মাথায় কেন আপনি এ সম্পর্ক সমর্থন করেন না তা বোঝান। বিপক্ষে বলার অনেক ক্লু ওর কথাতেই পেয়ে যাবেন। যেমন, যার সাথে সম্পর্ক তার অনিশ্চিত ভবিষ্যত, পারিবারিক ঝামেলা, যা ভবিষ্যতে সমস্যা করবে, এরকম অনেক ক্লু। তবে যাকে ওর পছন্দ তার বদনাম করবেন না, তার পরিবারকে টেনে এনে ছোটো কথা বলবেন না। এটি উলটো সমস্যা করবে। বরং ওকে বোঝান কেন এ সম্পর্ক প্র্যাকটিক্যাল নয়। ও যদি বুঝতে পারে আসলেই সম্পর্কটির ভবিষ্যত নেই তাহলে নিজেই সরে আসবে।

৫। টিনএইজ প্রেমের সমস্যা সম্পর্কে বলুন।

ওকে উদাহরণ দিয়ে টিনএইজ প্রেমে কী কী সমস্যা হয় তা বুঝিয়ে বলুন। আপনার আশেপাশেই এরকম উদাহরণ আছে। আমি গতকাল এধরনের প্রেমে কী সমস্যা হয় তা লিখেছি। চাইলে আমার পেইজ স্ক্রল করে তা পড়তে পারেন।

৬। ওর বন্ধুদের সাহায্য নিন।

এ বয়সের ছেলেমেয়েরা বাবা-মায়ের কথা যত শুনে তার চেয়ে বেশি শুনে ওদের বন্ধু বা সমবয়স্কদের কথা। তাই ওর সবচে কাছের বন্ধবান্ধব বা কাজিনের সাথে কথা বলুন। তাদের অনুরোধ করুন ওকে বুঝিয়ে বলতে। ওরা বোঝালে কাজ হতে পারে।

৭। হুমকি দেবেন না।

অনেক মা-বাবা এধরনের সম্পর্কের কথা শুনে যার সাথে সম্পর্ক তাকে হুমকি দেন, ভয় দেখান, ক্ষমতা দেখানোর চেষ্টা করেন। প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রে এর ফলাফল নেগেটিভ। এতে দুজনে জেদ আরো বাড়ে এবং শুধু জেদের কারণে আরো গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।

৮। বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করুন।

এরকম সমস্যায় পড়লে নিজেকে সন্তানের কাছে শত্রু বানাবেন না। বরং তার বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করুন। সে বিশ্বাস করবে, আপনি মান-সম্মান বা নিজ স্বার্থে নয়, ওর ভালোর জন্য উপদেশ দিচ্ছেন। এরকম একটি জায়গা তৈরি করলে সে আপনার উপর আস্থা রাখবে এবং ভুল সম্পর্ক থেকে সরে আসবে।


৯। সবাইকে বলে বেড়াবেন না।

দয়া করে জনে জনে আলাপ করে পরামর্শ চাইবেন না। এতে আপনার সন্তান অপমানিতবোধ করবে এবং আরো জেদি হয়ে উঠবে। ফলাফল হচ্ছে, সম্পর্কচ্ছেদ না করে সে জিদ করে আরো বেশি জড়াবে।

১০। ওর অনুভূতিকে অপমান করবেন না।

টিনএইজ বাচ্চারা খুব অনুভূতিপ্রবণ। ওদের অনুভূতিতে আঘাত করলে ওরা কখনোই তা মেনে নেয় না। বরং উল্টো আচরণ করে। তাই ওর অনুভূতিকে আঘাত না করেই ওকে বোঝান। মাথায় হাত বুলান, বলুন, 'এ সম্পর্ক শেষ করার কষ্ট আমি বুঝি। কিন্তু জীবনের বাস্তবতায় আমাদের অনেক কিছু মেনে নিতে হয়। তোমার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তোমাকেও মানতে হবে।'

১১। বিশ্বস্ত কারো পরামর্শ চাইতে পারেন।

জনে জনে না বললেও, খুব বিশ্বস্ত এবং আস্থা রাখা যায় এরকম কারো সাথে আলাপ করতে পারেন। যিনি পুরো প্রাইভেসি বজায় রেখে আপনাকে পরামর্শ দেবেন।

১২। ঘরে আটকে রাখবেন না: পড়াশোনা বন্ধ করবেন না।

পারতপক্ষে প্রেমের কারণে ওকে ঘরে আটকে রাখবেন না। যোগাযোগের এ যুগে চার দেয়ালের মাঝে আটকে রেখে প্রেম আটকে রাখা যায় না। ওকে স্কুল-কলেজে যেতে দিন। তবে তাকে একটি কথা বলবেন, তাহলো, ‘আমি তোমাকে বিশ্বাস করছি, এর অমর্যাদা করো না।‘ তার প্রতি এ শ্রদ্ধা ও আস্থা তাকে বন্দি রাখার চাইতে বেশি কাজ করবে বলে আমার ধারণা। তবে কতক্ষণ বাইরে থাকবে তা ঠিক করে দিন। যেমন, স্কুল বা কলেজ শেষ করে বাড়ি ফিরতে হবে। অন্যকোথাও গেলে কোথায় যাচ্ছে তা জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ে বাড়ি ফিরতে হবে। এধরনের পরিস্থিতিতে কখনোই পড়াশোনা বন্ধ করবেন না।এতে তার জীবন ধ্বং*স হয়ে যাবে।

১৩। একে অন্যকে দোষ দেবেন না।

এধরনের সমস্যায় অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে দোষারোপ করেন। বিশেষ করে বাচ্চার মাদের দায়ী করা হয়। দয়া করে তা করবেন না। বরং দুজনে একসাথে সমস্যা মোকাবেলা করুন। নিজেরা ঝগড়াঝাটি করলে বাচ্চাকে সামলাবেন কখন?

১৪। ইট'স অ্যা পিউর মাইন্ড গেইম।

মনে রাখবেন, আপনার সন্তানকে এ সমস্যা থেকে বের করে আনার জন্য আপনি একটি মাইন্ড গেইম খেলছেন। এতে কে জিতবে আপনি না আপনার সন্তানের সর্বনাশা প্রেম? আপনি জিতবেন, যদি কৌশলী হন।যে কৌশলগুলোর কথা বলেছি সেগুলো প্রয়োগ করতে পারেন। মাইন্ড গেইম সাপ-লুডু খেলার মতো। একটি ভুল চাল দিলেন তো সাপ আপনাকে খেয়ে ফেলবে। তাই সাবধানে খেলুন। ভেবেচিন্তে খেলুন। আপনার জেতার উপর নির্ভর করছে সন্তানের ভবিষ্যত।


১৫। প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর।

অপ্রিয় সত্য হলো, টিনএইজ এমন একটি বয়স যখন কথা শোনানো খুব কঠিন। তাই সম্পর্কে জড়ালে তা থেকে সরিয়ে আনা খুব কঠিন। সেজন্য তাতে যাতে না জড়ায় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। এর জন্য যা করা দরকার তাহলো,

ক) টিন এইজে পা দিলেই সন্তানের সাথে এ ধরনের সম্পর্কের খারাপ পরিণতি নিয়ে খোলামেলা আচরণ করুন। আমার মেয়ে এ বয়সে পড়লে তার মা ব্যাপারটি নিয়ে ওর সাথে খোলামেলা আলোচনা করেছিলেন। এটি খুব কাজে লেগেছে।

খ) তার প্রতি সতর্ক নজর রাখুন। কার সাথে মিশছে খেয়াল রাখুন। বন্ধুদের মাঝে মাঝে বাসায় ডাকুন।তাহলে অনেক কিছু বুঝতে পারবেন। বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট।

গ। স্মার্ট ফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করুন। রাতে ঘুমানোর সময় ওর নাগালে এ দুটো বস্তু যাতে না থাকে তা নিশ্চিত করুন। বাসায় ওয়াইফাই থাকলে তা রাতে নির্দিষ্ট সময়ের পর বন্ধ রাখুন। মোবাইল সেট আপনার কাছে জমা দিতে বলুন। একেবারে প্রথমদিকে যদি এ নিয়মগুলো বেঁধে দেন ও মেনে নেবে। তাই স্মার্টফোন কিনে দেওয়ার আগেই এ শর্ত ক্লিয়ার করুন। গভীর রাতে বাচ্চার হাতে মোবাইল ফোন ‘ইবলিশ’ হয়ে উঠতে পারে।

শেষ কথা হচ্ছে, টিনএইজ সন্তানের প্রেমের কথা জানলে ঝাঁটা নিয়ে 'তোর প্রেম বের করছি' বলে ঝাঁপিয়ে পড়বেন না। লম্বা দম নিন, তারপর ভাবুন, 'আমি একটু যুদ্ধে নামছি এবং যুদ্ধে জিতে ঠান্ডা মাথা, গরম মাথা নয়। তাই আমার মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে।'
তারপর যুদ্ধে নামুন। দেখবেন, আপনি জিতবেন।

#আসুনমায়াছড়াই

30/10/2025

১. আপনি যখন কাউকে নিয়ে মজা করেন তখন সে যদি সেটা উপভোগ না করে তাহলে এখনই আপনার থামা উচিত এবং ভবিষ্যতে আর কখনো এধরনের রসিকতা করবেন না।

২. এখনো বিয়ে করোনি কেন, বাচ্চা নিবে কবে, চাকরি পাচ্ছ না কেন, কাউকে এধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবেন না। এতে মানুষ বিব্রত হয়।

৩. আপনি বিলাসবহুল গাড়িতে চড়েন, নামীদামি রেস্টুরেন্টে খান, সুন্দর সুন্দর ড্রেস বা অর্নামেন্ট পড়েন, ভালো ভালো জায়গায় ঘুরে বেড়ান এসব জানান দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত পোস্ট করবেন না। এতে লোকজন আপনার ওপর বিরক্ত হয়।

৪. আপনি যদি কোনো বন্ধু বা সহকর্মীর সঙ্গে রেস্টুরেন্টে খেতে যান তাহলে আপনার বন্ধু বা সহকর্মীটি আজ বিল দিলে পরেরবার আপনি বিল পরিশোধ করুন।

৫. তুমি কালো হয়ে গেছ, তোমার চেহারা আগের চেয়ে খারাপ হয়ে গেছে, তুমি অনেক মোটা গেছ এই কথাগুলো কাউকে বলবেন না। আপনি তার বিউটিশিয়ান না।

৬. কেউ যদি কোনো ছবি বা ভিডিও দেখার জন্য তার ফোনটি আপনার হাতে দেয় তাহলে নির্দিষ্ট ছবি বা ভিডিওটি দেখুন, ভুলেও তার ফোনের গ্যালারিতে প্রবেশ করবেন না।

৭. কাউকে একসঙ্গে দুইবারের বেশি ফোন করবেন না। যেহেতু আপনার কল রিসিভ হচ্ছে না তার মানে তিনি আপনার সাথে কথা বলতে চাচ্ছেন না অথবা আপনার কলের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে ব্যস্ত আছেন।

৮. কেউ পাসওয়ার্ড টাইপ করার সময় ভদ্রতার সাথে চোখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে ফেলুন। মানুষের গোপনীয়তাকে সম্মান করতে শিখুন।

৯. কারো বেতন, ব্যবসার বর্তমান অবস্থা এসব নিয়ে প্রশ্ন করবেন না। এতে মানুষ অস্বস্তি বোধ করে।

১০. কারো সঙ্গে কথা বলার সময় স্মার্ট ফোন টেপাটিপি করা থেকে বিরত থাকুন। মানুষ প্রত্যাশা করে আপনি তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন।

১১. কারো নিকট থেকে কোনোভাবে উপকৃত হলে তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন এবং তার অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করতে শিখুন।

১২. কারো ধর্মকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে ফেসবুকে পোস্ট করবেন না। অন্যের বিশ্বাস এবং মতামতকে সম্মান জানাতে শিখুন — দুনিয়ার সবাই আপনার মনের মতো হবার জন্য আসেনি।

১৩. কারো ব্যক্তিগত ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবেন না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনার কাছে উপদেশ চাওয়া হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত উপদেশ দিতে যাবেন না।

১৪. কারো কাছ থেকে টাকা ধার করলে সেটা অবশ্যই সময়মতো পরিশোধ করুন। যদি ঋণদাতার মনে নাও থাকে তারপরও টাকাটা তাকে ফেরত দিন বা এমনভাবে পুষিয়ে দিন যাতে তার মনে প্রশান্তি আসে।
#𝑪𝒐𝒍𝒍𝒆𝒄𝒕𝒆𝒅

26/10/2025

আপনি দেখছেন আমার শিশু জেদ করছে,
আমি দেখছি ওর ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠছে।

আপনি দেখছেন আমার শিশু ছোটাছুটি করে দুষ্টুমি করছে,
আমি দেখছি তার motor skills, body awareness develop করছে।

আপনি দেখছেন আমার শিশু অকারণে কাঁদছে,
আমি দেখছি সে নিজের ইমোশন রেগুলেট করছে।

আপনি দেখছেন আমার শিশু অকারণে প্রশ্ন করছে,
আমি দেখছি তার ভেতর জানার আগ্রহ, কৌতুহল জন্মাচ্ছে।

আপনি দেখছেন আমার শিশু যেখানে সেখানে আঁকাআঁকি করছে,
আমি দেখছি তার সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটছে।

আপনি দেখছেন আমার শিশু বড়দের পছন্দকে গুরুত্ব দিচ্ছে না,
আমি দেখছি সে নিজের পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দিতে শিখছে।

আপনি দেখছেন আমার শিশু যে কাজ পারে না তা করতে চাইছে,
আমি দেখছি সে সাবলম্বী হতে চাইছে।

আপনি দেখছেন আমার শিশু পেট ভরে কিছু খায় না।
আমি দেখছি ওর ক্ষিধে পেলে ও খায়।

আপনি দেখছেন আমার শিশু প্লেটের খাবার শেষ করেনি।
আমি দেখছি ও ওর প্রয়োজনমতো খেয়েছে।

আপনি দেখছেন শিশু রেগে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে বা উঠে চলে গেছে বা মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে,
আমি দেখছি সে নিজেকে রেগুলেট করতে স্পেইস চাইছে।

আপনি দেখছেন আমার শিশু চিৎকার করছে,
আমি দেখছি সে তার আবেগ প্রকাশ করার উপায় খুঁজছে।

আপনি দেখছেন আমার শিশু গায়ে, মুখে খাবার মাখছে।
আমি দেখছি সে খাবারের সাথে পরিচিত হচ্ছে, খাবার চিনতে শিখছে।

আপনি দেখছেন আমার শিশু অপরিচিত মানুষের সামনে লজ্জা পাচ্ছে।
আমি দেখছি সে নতুন পরিবেশে, নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে সময় নিচ্ছে।

আপনি দেখছেন আমার শিশু বাইরে চুপচাপ কিন্তু বাসায় এসে জ্বালাচ্ছে।
আমি দেখছি সে বাসায় তার বাবা মায়ের কাছে তার অনুভূতি প্রকাশ করতে নিরাপদ বোধ করছে।

আপনি দেখছেন আমার শিশু জিনিস ছুঁড়ে ফেলছে।
আমি দেখছি সে তার শক্তি নিয়ন্ত্রণের এবং অনুভূতি প্রকাশের উপায় খুঁজছে।

আপনি দেখছেন আমার শিশু গায়ে হাত তুলছে।
আমি দেখছি সে তার বড় অনুভূতি প্রকাশ করার উপায় খুঁজছে।

আপনি দেখছেন দুষ্ট শিশু, আমি দেখছি সুস্থ শিশু।
We are not same bro.

Fariha Rashid
Parenting page: The Cycle Breaker Mom.

21/10/2025
21/10/2025

একটি ব্যাঙকে যদি পানি ভর্তি পাত্রে রেখে সেই পানিকে উত্তপ্ত করতে থাকা হয়, তাহলে ব্যাঙটি কিন্তু পানি থেকে লাফ মারে না! ব্যাংঙটি পানির তাপমাত্রার সাথে নিজের শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করতে শুরু করে। অর্থাৎ সে পানির উত্তাপ সহ্য করতে থাকে, লাফ দিয়ে বেরোনোর পরিবর্তে!

কিন্তু একসময় পানির প্রচন্ড তাপমাত্রার সাথে ব্যাঙের শরীর আর মানিয়ে নিতে পারে না। সেই সময় সে ফুটন্ত পানির পাত্র থেকে লাফ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু হায়! ব্যাঙটি তখন আর লাফ দিতে পারে না।

কেন জানেন? কারণ সে তার সমস্ত শক্তি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যয় করে ফেলেছে যে! এখন পানি থেকে লাফ মারার মতো কোনো শক্তিই আর অবশিষ্ট নেই তার শরীরে। ফলে সে পানিতে সেদ্ধ হয়ে একসময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এটাকে বলে "বয়লিং ফ্রগ সিনড্রোম"।

ব্যাঙের মৃত্যুর কারণটা আসলে গরম পানি না, বিপজ্জনক পরিস্থিতির শুরুতেই প্রতিরোধ না করাটাই তার করুণ পরিণতির জন্য দায়ী।

একইভাবে, বাস্তব জীবনেও আপনাকে এরকম কিছু পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় যেটা আপনার জন্য যন্ত্রণাদায়ক হলেও আপনি সহ্য করতে থাকেন। বাস্তবতা হলো, এসব ক্ষেত্রে খুব বেশি দেরি হয়ে যাবার আগেই প্রতিবাদ না করলে আপনার পরিণতিও হবে ওই সিদ্ধ ব্যাঙের মতোই।

সংগৃহীত

19/10/2025

১. যদি তুমি একটি বাড়ি কিনতে চাও, তাহলে তুমি একটি জমি কিনে শুরু করো।

২. যদি তুমি একটি সাম্রাজ্যের মালিক হতে চাও, তাহলে তুমি তোমার ব্যবসা বৃদ্ধি করে শুরু করো।

৩. যদি তুমি সুস্থ থাকতে চাও, তাহলে তুমি স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে শুরু করো।

৪. যদি তুমি জ্ঞানী হতে চাও, তাহলে তুমি বই পড়ে শুরু করো।

৫. যদি তুমি বিশ্ব ভ্রমণ করতে চাও, তাহলে তুমি অর্থ সঞ্চয় করে শুরু করো।

৬. যদি তুমি সুখী হতে চাও, তাহলে তুমি কৃতজ্ঞ হয়ে শুরু করো।

৭. যদি তুমি ধনী হতে চাও, তাহলে তুমি তোমার আর্থিক ব্যবস্থাপনা করে শুরু করো।

৮. যদি তুমি একজন ভালো নেতা হতে চাও, তাহলে তুমি প্রথমে নিজেকে নেতৃত্ব দিয়ে শুরু করো।

৯. যদি তুমি একজন ভালো বাবা-মা হতে চাও, তাহলে তুমি একজন ভালো আদর্শ হয়ে শুরু করো।

১০. যদি তুমি সফল হতে চাও, তাহলে তুমি ছোট ছোট পদক্ষেপ নিয়ে শুরু করো।

১১. যদি তুমি আত্মবিশ্বাসী হতে চাও, তাহলে তুমি নিজের উপর বিশ্বাস রেখে শুরু করো।

১২. যদি তুমি একটি নতুন দক্ষতা শিখতে চাও, তাহলে তুমি প্রতিদিন অনুশীলন করে শুরু করো।

১৩. যদি তুমি সৃজনশীল হতে চাও, তাহলে তুমি নতুন কিছু চেষ্টা করে শুরু করো।

১৪. যদি তুমি সম্মানিত হতে চাও, তাহলে তুমি সম্মান দিয়ে শুরু করো।

১৫. যদি আপনি দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান, তাহলে আপনাকে বিশ্বস্ত হয়ে শুরু করতে হবে।

১৬. যদি তুমি তোমার লক্ষ্য অর্জন করতে চাও, তাহলে সেগুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে শুরু করো।

১৭. যদি তুমি সংগঠিত হতে চাও, তাহলে তোমার স্থান পরিষ্কার করে শুরু করো।

১৮. যদি তুমি মুক্ত থাকতে চাও, তাহলে তোমার ভয় ত্যাগ করে শুরু করো।

১৯. যদি তুমি পরিবর্তন আনতে চাও, তাহলে প্রথমে নিজেকে পরিবর্তন করে শুরু করো।

২০. যদি তুমি ম্যারাথন দৌড়াতে চাও, তাহলে প্রতিদিন হাঁটা দিয়ে শুরু করো।

২১. যদি তুমি ব্যবসা শুরু করতে চাও, তাহলে প্রথমে একটি চাহিদা চিহ্নিত করে শুরু করো।

২২. যদি তুমি অন্যদের সাহায্য করতে চাও, তাহলে প্রথমে নিজেকে সাহায্য করে শুরু করো।

২৩. যদি তুমি একটি ভাষা শিখতে চাও, তাহলে প্রতিদিন অনুশীলন করে শুরু করো।

২৪. যদি তুমি উৎপাদনশীল হতে চাও, তাহলে তোমার সময়কে বুদ্ধিমানের সাথে পরিচালনা করে শুরু করো।

২৫. যদি তুমি জ্ঞান অর্জন করতে চাও, তাহলে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে শুরু করো।

২৬. যদি তুমি সুস্থ থাকতে চাও, তাহলে নিয়মিত ব্যায়াম করে শুরু করো।

২৭. যদি তুমি শান্তিতে থাকতে চাও, তাহলে তুমি ক্ষোভ ত্যাগ করে শুরু করো।

২৮. যদি তুমি শক্তিশালী হতে চাও, তাহলে চ্যালেঞ্জ সহ্য করে শুরু করো।

২৯. যদি তুমি সদয় হতে চাও, তাহলে প্রথমে নিজের প্রতি সদয় হওয়ার মাধ্যমে শুরু করো।

৩০. যদি তুমি প্রভাব ফেলতে চাও, তাহলে খাঁটি হওয়ার মাধ্যমে শুরু করো।

সাফল্য রাতারাতি আসে না, এবং উল্লেখযোগ্য কিছু অর্জনের জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন।

বাড়ি তৈরি হোক, ব্যবসা শুরু হোক, অথবা সম্মান অর্জন হোক, যাত্রা শুরু হয় একটি মাত্র পদক্ষেপ দিয়ে। সামনের লক্ষ্যের বিশালতা দেখে হতাশ হবেন না।

প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার উপর মনোযোগ দিন, তারপর পরবর্তী পদক্ষেপ নিন, এবং আপনি এটি বুঝতে না পেরে, আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবেন।

মূল কথা হল শুরু করা, যত ছোটই হোক না কেন, এবং অধ্যবসায়ী থাকা।
বিশ্বাস রাখুন, এবং আপনি অগ্রগতি দেখতে পাবেন।

সংগৃহীত

19/10/2025

একবার এক রাজা ছিলেন, তাঁর রাজ্যে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ চাকরির জন্য আসত। একদিন সকালে দরবারে এক অচেনা লোক এসে মাথা নোয়াল —
“মহারাজ, আমি আপনার সেবায় যোগ দিতে চাই।”

রাজা মুচকি হেসে বললেন, “তোমার বিশেষ যোগ্যতা কী?”

লোকটি শান্ত গলায় বলল, “আমি মানুষের মুখ দেখে বুঝতে পারি, তার ভেতরে মানুষ লুকিয়ে আছে, না পশু।”

রাজা একটু থেমে তার দিকে তাকালেন। কৌতূহলী হয়ে তাঁকে রাজপ্রাসাদের সবচেয়ে প্রিয় ঘোড়ার আস্তাবলের দায়িত্ব দিলেন।

কিছুদিন পরে রাজা তাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন,
“আমার সবচেয়ে দামি ঘোড়াটিকে কেমন দেখছ?”

লোকটি উত্তর দিল, “মহারাজ, ঘোড়াটি বাহ্যিকভাবে খুব সুন্দর, কিন্তু এটি খাঁটি জাতের নয়।”

রাজার মুখে বিস্ময়!
তিনি সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের অভিজ্ঞ ঘোড়সওয়ারকে ডেকে পাঠালেন।
ঘোড়সওয়ার মাথা নোয়াল ও বলল, “ঘোড়াটি সত্যিই খাঁটি জাতের, তবে জন্মের পরপরই তার মা মারা যায়। ছোটবেলায় সে গরুর দুধ খেয়ে বড় হয়েছে।”

রাজা তখন চাকরটিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কীভাবে এমনটা বুঝলে?”

লোকটি বিনম্রভাবে বলল, “মহারাজ, ঘোড়াটি যখন ঘাস খায়, তখন গরুর মতো মাথা নিচু করে খায়। কিন্তু খাঁটি জাতের ঘোড়া ঘাস মুখে নেওয়ার সময় মাথা উঁচু করে রাখে।”

রাজা তার প্রখর বুদ্ধিতে মুগ্ধ হয়ে প্রচুর পুরস্কার দিলেন — শস্য, ঘি, ছাগল, মুরগি সব পাঠিয়ে দিলেন তার ঘরে।

তারপর রাজা বললেন, “তুমি এখন রাণীর প্রাসাদে কাজ করো।”

কয়েকদিন পরে রাজা জানতে চাইলেন, “আমার রাণী সম্পর্কে তোমার মত কী?”

লোকটি শান্তভাবে বলল, “রাণী খুবই মার্জিত, তার আচরণও রাজকীয়, কিন্তু তিনি জন্মসূত্রে রাণী নন।”

রাজা আবার হতভম্ব হয়ে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি তার শাশুড়িকে ডাকলেন।

শাশুড়ি কিছুটা ভারী গলায় বললেন, “এটা সত্যি মহারাজ, আপনার জন্মের আগে আমরা আমাদের মেয়েকে হারিয়েছিলাম। তাই সম্পর্ক বাঁচাতে আমরা অন্যের এক কন্যাকে নিজের মেয়ে হিসেবে বড় করেছি।”

রাজা আবার চাকরটিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি এতটা কীভাবে বুঝলে?”

লোকটি বলল, “মহারাজ, আসল রাজকন্যারা তাদের ভৃত্যদের সঙ্গে শ্রদ্ধা ও সৌজন্যে কথা বলে। কিন্তু আপনার রাণী ভৃত্যদের সঙ্গে আচরণ করেন এমনভাবে, যেন ওরা কেবল তার আদেশ পালনের যন্ত্র।”

রাজা আবারও মুগ্ধ হলেন।
তিনি তাকে আরও প্রচুর পুরস্কার দিলেন— ভেড়া, ছাগল, শস্য, ঘি— এবং এবার তাকে নিজের দরবারে স্থায়ী চাকরিতে নিযুক্ত করলেন।

কয়েক মাস পর, রাজা একদিন মুচকি হেসে বললেন,
“তুমি তো সবাইকে চিনে ফেলছো, এবার বলো, আমার সম্পর্কে কী ভাবো?”

চাকরটি চুপ করে রইল। কিছুক্ষণ পর বলল,
“মহারাজ, আপনি যদি প্রতিশ্রুতি দেন যে আমার প্রাণ নেবেন না, তবে আমি বলি।”

রাজা রাজকীয় গম্ভীরতায় বললেন, “প্রতিশ্রুতি দিলাম।”

লোকটি মাটির দিকে তাকিয়ে বলল,
“আপনি রাজার সন্তান নন, আর আপনার আচরণেও রাজরক্তের ছাপ নেই।”

রাজার চোখ রাগে লাল হয়ে গেল, কিন্তু প্রতিশ্রুতির কথা মনে পড়ল। তিনি সরাসরি নিজের মায়ের প্রাসাদে গেলেন।

রানীমা গভীর নিঃশ্বাস ফেলে বললেন,
“হ্যাঁ, এটা সত্যি। আমরা সন্তানহীন ছিলাম, তাই এক রাখালের শিশুকে দত্তক নিয়েছিলাম, সেটাই তুমি।”

রাজা চোখ মেলে তাকিয়ে রইলেন, যেন পৃথিবীটা এক মুহূর্তে বদলে গেল।

তিনি আবার লোকটিকে ডেকে বললেন,
“তুমি কীভাবে জানলে?”

লোকটি মৃদু হেসে বলল,
“মহারাজ, রাজারা যখন পুরস্কার দেন, তখন তারা হীরা, মুক্তা বা সোনাদানা দেন। কিন্তু আপনি যে পুরস্কার দেন— ঘি, ছাগল, ভেড়া, শস্য— সেটা রাখালের স্বভাব।”

তারপর কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলল,
“মহারাজ, একজন মানুষের আসল পরিচয় তার মুখে নয়, তার আচরণে লুকিয়ে থাকে। পদ-মর্যাদা বা ধনসম্পদ যতই হোক না কেন, মানুষকে মানুষ করে তোলে তার ব্যবহার।”

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Rangpur?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address

Rangpur, Jahaj Company More
Rangpur
5400