Raqi mufti yeahea Mahmud
জীনের আসর, কালোজাদু, বিবাহ বন্ধ ব্যাবসায় অবনতি, স্বামীর মহব্বত লাভ, ইত্যাদির সুন্নাহ পদ্ধতিতে রুকইয়্যাহ দ্বারা চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয় 01985919027
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর শুকরিয়া, রাক্বীদের শরিয়া ভিত্তিক রুকইয়্যাহ চিকিৎসা পদ্ধতির প্রতি মুসলিমদেরকে আহ্বান করার ফল এখন পাওয়া যাচ্ছে।
সচেতন মানুষ গুলো তাবিজ হুজুর ও তান্ত্রিক কবিরাজদের ত্যাগ করতে শুরু করেছে আলহামদুলিল্লাহ।
আজ মির্জাপুরের ফতেহপুর থেকে এই দুজন ( স্বামী স্ত্রী) এসেছিরেন শুধু ডায়াগনসিস করাতে। তাদের মুলত কোনো সমস্যা নেই, এটা তারাও জানে, তবুও বাড়তি সতর্কতার জন্য ডায়াগনসিস করাতে এসেছিলেন। আমি তাদের এই চিন্তা ধারাকে স্বাগত জানাই ।
হ্যাঁ, আমি মনে করি এই সময়টাতে যাদের সময় সুযোগ আছে তাদের প্রতি ৬ মাস পর পর একটা ডায়াগনসিস করা উচিৎ, কারন এখন ভারতীয় উপমহাদেশে যাদুর অনেক বেশি চর্চা হচ্ছে এবং যাদু কৃত ব্যাক্তি ছাড়াও অনেকের অজানা যাদু লেগে যাচ্ছে।
অজানা যাদুতে আক্রান্ত কারা হয় এই বিষয়ে আরেকটা পোস্ট আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।
রাক্বী মুফতী ইয়াহইয়া মাহমূদ
ফোন : 01682618771/01985919027
31/03/2026
আজ একই পরিবারের চারজনের রুকইয়্যাহ হলো ( দ্বিতীয় সেশন) ।
কিছুদিন আগে তাদের প্রথম সেশন হয়েছিলো ( ডায়াগনসিস) তখন তাদের উপর এবং তাদের ৬ তলা ভবন এর উপর আইন হাসাদ ( নজর এবং হিংসা সহ দুষ্টু জিনের আছর প্রকাশিত হয়েছিলো ।
আজকের সেশনে তাদের লক্ষন ভালো আলহামদুলিল্লাহ।
আধ্যাত্মিক কোনো সমস্যার মুখোমুখি হলে যোগাযোগ করতে কল করুন এবং পরামর্শ নিন ।
রাক্বী মুফতী ইয়াহইয়া মাহমূদ।
ফোন : 01682618771/01985919027
18/03/2026
শরীরের ভেতরে জাদুর নেটওয়ার্ক বা সিস্টেম কিভাবে কাজ করে সে বিষয়ে আমরা আজকে জানব।শরীরের ভেতরে জাদু কাজ করার জন্য শাইত্বানের একটি দল কাজ করে। এই দলের মধ্যে থাকে (خادم السحر) মানে জাদুর কাজে নিয়োজিত খাদেম, অন্যান্য জিন এবং শরীরের বাইরে থাকা পাহারাদার। এছাড়াও, বাইরে থেকে তাদের জন্য নতুন শক্তি পাঠানো হয়।
জিনেরা শরীরে প্রবেশ করার পর নিচের কাজগুলো শুরু করে:
- তারা শরীরের ভেতরে চলাচলের পথ তৈরি করে এবং বিভিন্ন জায়গায় গিঁট দেয়। বিশেষ করে মেরুদণ্ডের নিচের অংশ এবং কাঁধের অংশে গিঁট দেয়।
- অনেক সময় উরু, বুক এবং নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুতে গিঁট দেয়। এছাড়াও মাথার পেছনে এবং মগজে কুফরি নকশা বা আরবী সংখ্যার জাদু তৈরি করে রাখে। এই গিঁটগুলো সাধারণত পানি বা রক্তের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়।
- তারা শরীরে চলাচলের জন্য বিশেষ 'গেইট' বা প্রবেশপথ তৈরি করে, যাতে দ্রুত মাথা থেকে শরীরের অন্য অংশে যাতায়াত করতে পারে। জিনেরা শরীরকে খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে সন্ধিস্থল, শরীরের ভাঁজ বা গহ্বরগুলোতে গিঁট দিয়ে লুকিয়ে থাকে।
- তারা নিজেদের রক্ষার জন্য শরীরের ভেতরে (حصون) দুর্গ ও বর্ম তৈরি করে। চিকিৎসা ছাড়াই যত বেশি দিন এরা শরীরে থাকে, এই দুর্গ ও গিঁটগুলো তত বেশি মজবুত হয়। আর যদি কেউ ভুল করে তান্ত্রিক বা কবিরাজের কাছে যায়, তবে এই বন্ধনগুলো আরও পাকাপোক্ত হয়ে যায়।
- জাদুর প্রধান খাদেম সাধারণত জাদুর চেইনের একদম শেষ প্রান্তে অবস্থান করে। নারীদের ক্ষেত্রে এটি জরায়ু বা চর্বিযুক্ত স্থানে এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে তলপেট বা নাভির নিচের অংশে বেশি থাকে।
সঠিক চিকিৎসার জন্য:
- বাইরের কানেকশন বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এর জন্য ঘর থেকে ছিটানো বা পোঁতা জাদুর আছর নষ্ট করতে হবে এবং ঘরকে নিয়মিত আমলের মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
- গিঁট ও দুর্গ ধ্বংস করতে হবে। রুকইয়াহ সেশনের মাধ্যমে জাদুর আয়াতের পাশাপাশি গিঁট খোলা, দুর্গ ধ্বংস করা এবং শিকল কাটার বিশেষ আয়াতগুলো তিলাওয়াত করতে হবে।
- ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। শুধু জাদুর পেছনে পড়লে হবে না, আবার শুধু জিনের পেছনে পড়লেও হবে না। কারণ শুধু জাদুর চিকিৎসা করলে জিনটি উগ্র হয়ে ওঠে, আর শুধু জিনের চিকিৎসা করলে জাদু নষ্ট হয় না। ফলে একটি জিন মারা গেলে জাদুর টানে আরেকটি নতুন জিন তার জায়গা দখল করে। তাই দুটোরই চিকিৎসা একসাথে করতে হবে।
- সঠিক ডায়াগনোসিস ও ব্যবস্থা: জাদুর ধরন বুঝে শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে প্রভাব ফেলতে হবে। যেমন-ছিটানো জাদুর জন্য পা ডুবিয়ে রাখার আমল, খাওয়ানো জাদুর জন্য জরায়ু বা পেটের বিশেষ প্রোগ্রাম এবং মাথায় প্রভাব বেশি হলে মাথার জন্য বিশেষ ভেষজ প্রলেপ বা আমল ব্যবহার করতে হবে।
রাক্বী মুফতী ইয়াহইয়া মাহমূদ
ফোন : 01682618771/01985919027
সিহরুল ক্বতল ( মরন বান দেয়া হয়েছে এই ভাইটি কে।
রুকইয়্যাহ চলাকালীন অসহ্য যন্ত্রনায় ছটফট করছিল।
আল্লাহ তাআলা দ্রুত শিফা দান করুন আমীন
# # রাক্বী মুফতী ইয়াহইয়া মাহমূদ
ফোন : 01682618771/01985919027
সিহরুল ক্বতল ( মরন বান ) দেয়া হয়েছে এই ভাইটি কে ।
রুকইয়্যাহ চলাকালীন অসহ্য যন্ত্রনায় ছটফট করছিলো।
আল্লাহ তাআলা দ্রুত শিফা দান করুন আমীন।
# # রাক্বী মুফতী ইয়াহইয়া মাহমূদ।
ফোন : 01682618771/01985919027
24/02/2026
🌿 ভারতীয় কস্টাস বৃক্ষের তৈরি নাকের ড্রপ
(রুকইয়াহর একটি ঐতিহ্যগত উপকরণ)
ভারতীয় কস্টাস (سَعْدُ الْهِنْدِي / القُسْطُ الْهِنْدِي) একটি সুগন্ধী ও তীব্র ঝাঁঝালো বৃক্ষজাত উপাদান। ইসলামী চিকিৎসা ও রুকইয়াহ শাস্ত্রে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষত কিছু রুকইয়াহ-আলেমের মতে, ধূর্ত ও কুটিল জ্বিনকে বিরক্ত ও দুর্বল করার জন্য ভারতীয় কস্টাস দ্বারা প্রস্তুত নাকের ড্রপ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
রুকইয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়— এই নাকের ড্রপ এমনভাবে গ্রহণ করা হয় যাতে এর প্রভাব মাথার ভেতরের অংশে পৌঁছায়। এতে জ্বিন অত্যন্ত বিরক্ত হয়। কখনো সে সহ্য করতে না পেরে পালানোর চেষ্টা করে, কখনো রাকীর সঙ্গে কথা বলে চলে যাওয়ার অঙ্গীকার করে, এবং আর ফিরে না আসার প্রতিশ্রুতি দেয়—আল্লাহর ইচ্ছায়।
📖 হাদীসে ভারতীয় কস্টাসের উল্লেখ
১. সহীহ বুখারীর হাদীস
উম্মে কায়েস বিনতে মিহসান (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি—
“তোমরা ভারতীয় কস্টাস ব্যবহার করবে। এতে সাতটি রোগের নিরাময় রয়েছে। এটি নাকের ড্রপ হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং এটি গলা ও মুখের ভেতরের প্রদাহে উপকারী।” — সহীহ বুখারী, কিতাবুত তিব্ব (ফাতহুল বারী)
২. তিরমিযীর বর্ণনা
আত-তিরমিযী ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে মারফু হাদীস বর্ণনা করেন—
“চিকিৎসার জন্য সর্বোত্তম পদ্ধতিগুলোর একটি হলো নাকের ড্রপ।”
৩. ইমাম বুখারীর অধ্যায়
ইমাম বুখারী (রহঃ) তাঁর সহীহ গ্রন্থে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন:
“ভারতীয় কস্টাসের তৈরি নাকের ড্রপ ব্যবহারের অধ্যায়”
🌱 কস্টাসের প্রকারভেদ
ভারতীয় কস্টাস (কালো) – তীব্র ঝাঁঝালো
রুকইয়াহর ক্ষেত্রে মূলত ভারতীয় (কালো) কস্টাস ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ এবং বিরক্তিকর প্রভাব সৃষ্টি করে।
🩺 “সাতটি রোগের নিরাময়” — ব্যাখ্যা
আল-হাফিজ ইবনে হাজার (রহঃ) বলেন—
হাদীসে সরাসরি দু’টি রোগের কথা উল্লেখ আছে
সম্ভবত সাতটির কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় দু’টি এসেছে
চিকিৎসকরা কস্টাসের সাতটিরও বেশি ব্যবহার উল্লেখ করেছেন
তাফসীরবিদদের মতে, কিছু ব্যবহার ওহীর মাধ্যমে, আর কিছু অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জানা গেছে
⚕️ কস্টাস ব্যবহারের বিভিন্ন পদ্ধতি
ইবনে হাজার (রহঃ) বলেন, “সাতটি রোগ” দ্বারা কস্টাসের বিভিন্ন প্রয়োগ বোঝানো হতে পারে:
🧴 মলম (তেল ও ক্রিমের সাথে পেস্ট)
🥤 পানীয় (পাউডার + মধু/পানি)
🔥 সেক / গরম সেঁক
👃 নাকের ড্রপ
👄 লুদুদ (মুখের এক পাশ দিয়ে ওষুধ গ্রহণ)
🌫️ ধূপ
🤲 মালিশ
👃 ভারতীয় কস্টাসের নাকের ড্রপ তৈরির ও প্রয়োগ পদ্ধতি
প্রস্তুত প্রণালী:
ভারতীয় কস্টাস এক উকিয়া পরিমাণ নিয়ে ভালোভাবে গুঁড়া করে পাউডার বানাতে হবে
এই পাউডার খাঁটি জলপাই তেলের সাথে মিশাতে হবে
প্রয়োগ পদ্ধতি (ফাতহুল বারীর বর্ণনা অনুযায়ী):
রোগীকে চিৎ করে শুইয়ে দিতে হবে
কাঁধের নিচে কিছু দিয়ে মাথা একটু পেছনের দিকে ঝুঁকাতে হবে
এরপর নাক দিয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় কস্টাস-তেল মিশ্রণ দিতে হবে
এতে সাধারণত হাঁচি আসে
আল্লাহর ইচ্ছায় শরীরের ক্ষতিকর প্রভাব হালকা হয় বা বের হয়ে আসে।
অডার করতে যোগাযোগ করুন
রাক্বী মুফতী ইয়াহইয়া মাহমূদ
01682618771
01985919027
রমজানে(রমাদানে) শয়তানকে বেঁধে রাখা হয়, তাহলে যাদু কীভাবে কাজ করে?
রমজান মাসে শয়তানকে শিকলবন্দি করা হয় – এটা সহীহ হাদীসে স্পষ্ট। তাহলে প্রশ্ন উঠে:
রমজানে যাদু/জিনের আছর কেন চলতে থাকে?
শয়তান বন্দি হলে মানুষের উপর যাদুর প্রভাব কেন থাকে?
রমজানে অসুস্থতা, ঝগড়া, রিজিক বন্ধ বা ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখা যায় কেন?
এগুলো অনেক সময় খবিস জিন বা পূর্ব-নির্ধারিত যাদুর আছরের লক্ষণ, যা রমজানেও কাজ করে।
কুরআন-হাদীসে এই বিষয়ের ব্যাখ্যা
আল্লাহ তা’আলা বলেন (সূরা কাহফ: ৫০):
﴿وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ ۗ أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ ۚ بِئْسَ لِلظَّالِمِينَ بَدَلًا﴾
“আর যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, আদমকে সিজদা করো, তখন তারা সিজদা করল ইবলীস ছাড়া। সে ছিল জিনদের একজন, সে তার রবের আদেশ অমান্য করল। তবে কি তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে ও তার বংশধরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? যালিমদের জন্য কত নিকৃষ্ট বিনিময়!”
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ»
“যখন রমজান আসে, জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শিকলবন্দি করা হয়।” (সহীহ বুখারী: ১৮৯৯, সহীহ মুসলিম: ১০৭৯)
আলেম ও সালাফদের ব্যাখ্যা
ইবনে হাজার আল-আসকালানী রহ. (ফাতহুল বারী) বলেন:
“রমজানে শয়তানদের শিকলবন্দি করা হয় মানে তাদের ক্ষমতা কমে যায়, কিন্তু সব শয়তান বন্দি হয় না। যারা যাদুকরদের সাথে কাজ করে বা যাদুতে বসানো হয়েছে, তারা বন্দি হয় না।”
ইবনে রজব আল-হাম্বলী রহ. (লাতাইফুল মা’আরিফ) বলেন:
“শয়তান বন্দি হলেও যাদু যদি রমজানের আগে করা হয়ে থাকে, তাহলে তার প্রভাব অব্যাহত থাকে। এছাড়া মানুষের নফস ও পাপাচার যাদুকে শক্তি দেয়।”
ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ. (মাজমূ’ ফাতাওয়া) বলেন:
“জিন জাতির মধ্যে অনেক প্রকার আছে। ইবলীসের অনুসারী কিছু শয়তান বন্দি হয়, কিন্তু যাদুকরদের সাথে চুক্তিবদ্ধ জিন বা খবিস জিনের অনেকগুলো মুক্ত থাকে এবং কাজ করে।”
উদাহরণস্বরূপ: আপনার দেওয়া উদাহরণের মতো – জিন জাতির মধ্যে অনেক প্রকার আছে (ইফরিত, মারিদ, শয়তান, জান, গুল, আওয়ামির, হুয়ান, কারিন, খান্নাস, হিন, সিলাত, পালিস, যাহুম, নাসনাস, শিক ইত্যাদি)। এদের মধ্যে দু’এক প্রজাতির জিন ইবলীসের অনুসারী, তারা বন্দি। বাকিরা মাঠে আছে – যেমন নির্বাচনের সময় বড় নেতারা জেলে থাকলে বাকিরা মাঠে নেমে কুকর্ম করে।
যাদুর লক্ষণসমূহ (রমজানেও দেখা যায়)
অকারণ শারীরিক অসুস্থতা বা ঔষধের কার্যকারিতা না হওয়া
পরিবারে অকারণ ঝগড়া, বিচ্ছেদ বা রিজিক বন্ধ হয়ে যাওয়া
ভয়ঙ্কর স্বপ্ন বা শয়তান দেখা
ইবাদতে অলসতা, কুরআন শুনলে অস্বস্তি বা রাগ হওয়া
শরীরে অদ্ভুত জ্বালা, দাগ বা দুর্বলতা অনুভব করা
শারঈ মুক্তির উপায় (রমজানে বিশেষ জোর দিয়ে)
১. প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা আয়াতুল কুরসি + সূরা ফালাক + সূরা নাস ৭ বার পড়ে নিজের ও পরিবারের উপর ফুঁ দিন।
২. ঘুমানোর আগে সূরা বাকারার শেষ ২ আয়াত পড়ে ফুঁ দিন (বালিশের নিচে বা বিছানার চারপাশে)।
৩. রুকইয়াহ পানি তৈরি করে পান করুন এবং গোসল করুন।
৪. ঘরে প্রতিদিন সূরা বাকারা পূর্ণ পাঠ করুন বা অডিও চালিয়ে দিন (শয়তান পালিয়ে যায়)।
৫. হারাম কনটেন্ট, অশ্লীলতা ও পাপ থেকে দূরে থাকুন – এগুলো যাদু ও জিনকে শক্তি দেয়।
৬. নিয়মিত সাদাকা দিন, তওবা করুন এবং কুরআন তিলাওয়াত বাড়ান।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: লক্ষণ দেখা গেলে অবিলম্বে রুকইয়াহ শুরু করুন। তাবিজ-কবজ, ঝাড়ফুঁক বা জাদুকরের কাছে যাওয়া থেকে দূরে থাকুন – এটা শিরক ও কুফর। সমাধান শুধু কুরআন ও সুন্নাহতে।
📞 রুকইয়াহ অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে যোগাযোগ করুন
রাক্বী মুফতী ইয়াহইয়া মাহমূদ।
01682618771/01985919027 (WhatsApp)
⤵️ ক্বারীনের জাদু সহ সকল জাদু বিষয় বিস্তারিত আলোচনা।
ক্বারীন আমাদের শরীরের দারোয়ান পাহারাদার, তার অনুমতি ছাড়া শরীরে কোন যাদুর খাদেম প্রবেশ করতে পারেনা।
যেমন আপনার বাড়ির দারোয়ান, ডাকাত চোর প্রবেশ করতে দেয়না বাধা দেয়। ক্বারিন কে জাদুকর ভিক্টিমের সাথে জাদুতে বেধে ফেলে তারপর আপনার শরীরে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
▪️কেন আল্লাহ কারীন দিয়েছেন
আল্লাহ কোনো কিছুই অকারণে সৃষ্টি করেন না।কারীন মূলত এক পরীক্ষা ও ভারসাম্যের শক্তি।আল্লাহ মানুষের মধ্যে আলো ও অন্ধকার দুই দিক সৃষ্টি করেছেন
রূহ (আলোর দিক) নফস ও কারীন (অন্ধকারের দিক)এ দুইটার থেকে টানাপোড়েনেই মানুষকে বেছে নিতে হয় আলো না অন্ধকার।কারীনের কাজ হলো নফসকে প্রলুব্ধ করা, যাতে মানুষ ইখলাস (আন্তরিকতা) দিয়ে নিজের রূহকে জাগিয়ে রাখতে পারে।এটা না থাকলে মানুষ কখনও সংগ্রাম করত না, উন্নতি করত না, পাপ ও তওবা চিনত না।
এটা ইলাহি পরীক্ষা যেভাবে ফেরেশতারা বাহ্যিক নির্দেশ পালন করে।তেমনি কারীন তোমার অন্তরের প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করে
তুমি কি শয়তানের দিকে যাবে, না রূহের আলোর দিকে।কারীন হচ্ছে তোমার ছায়া-আত্মা যা তোমার অবচেতন ভয়, কামনা, রাগ ও সন্দেহের প্রতীক।
আল্লাহ কোরআনে বলেন -
وَ مَنۡ یَّعۡشُ عَنۡ ذِكۡرِ الرَّحۡمٰنِ نُقَیِّضۡ لَهٗ شَیۡطٰنًا فَهُوَ لَهٗ قَرِیۡنٌ ﴿۳۶﴾
আর যে পরম করুণাময়ের যিকির থেকে বিমুখ থাকে আমি তার জন্য এক শয়তানকে নিয়োজিত করি, ফলে সে হয়ে যায় তার সঙ্গী।
এই শয়তান আল্লাহর যিকর থেকে উদাসীন ব্যক্তির সাথী হয়ে যায়। সে সব সময় তার সাথে থেকে তাকে সমস্ত নেকীর কাজে বাধা দেয়। অথবা মানুষ নিজেই এই শয়তানের সঙ্গী হয়ে যায় এবং তার নিকট থেকে কোন সময় পৃথক হয় না, বরং সমস্ত কার্যকলাপে তারই অনুসরণ করে এবং তার যাবতীয় কুমন্ত্রণায় তার আনুগত্য করে।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
قَالَ قَرِیۡنُهٗ رَبَّنَا مَاۤ اَطۡغَیۡتُهٗ وَ لٰکِنۡ کَانَ فِیۡ ضَلٰلٍۭ بَعِیۡدٍ - قَالَ لَا تَخۡتَصِمُوۡا لَدَیَّ وَ قَدۡ قَدَّمۡتُ اِلَیۡکُمۡ بِالۡوَعِیۡدِ
`তার সহচর (শয়তান) বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমি তাকে অবাধ্য হতে প্ররোচিত করিনি। বস্তুতঃ সে নিজেই ছিল ঘোর বিভ্রান্ত। আল্লাহ বলবেন, তোমরা আমার কাছে বাক-বিতণ্ডা করো না। অবশ্যই আমি আগেই তোমাদের সতর্ক করেছিলাম।'
[সুরা কাফ : আয়াত ২৭-২৮ ]
অন্য এক হাদিসে সুফিয়ানের বর্ণনায় এসেছে-
وقد وكِّل به قرينُه من الجنِّ وقرينُه من الملائكة
‘তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার সঙ্গে তার সহচর জিন (শয়তান) এবং সহচর ফেরেশতা নিযুক্ত করে দেওয়া হয়নি।
[মুসলিম ]
⤵️ জাদুর সাথে ক্বারীন জাদু করা হলে শরীরে কোন জাদু প্রবেশ করতে পারেনা এটা একমাএ বড় বড় জাদুকর করে থাকে।
⤵️ কারীন জাদুর খাদেম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং চিকিৎসা পরামর্শ :
ইবনু তাইমিয়াহ (رحمه الله) বলেন:
> “القرين هو الشيطان المقرون بالإنسان، وهو أعلم الناس به، وقد يعينه السحرة في إيذاء الإنسان.
অর্থ: কারিন হলো মানুষের সাথে থাকা শয়তান, সে মানুষকে সবচেয়ে ভালো জানে, এবং জাদুকরদের সে মানুষকে ক্ষতি করার জন্য সাহায্য করতে পারে।
[ মাজমাউল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া ১৭/৪২৭ ]
⤵️ ইবনু তাইমিয়াহ (رحمه الله) বলেন
وَالْقَرِينُ هُوَ الَّذِي يُوَسْوِسُ لِلْإِنْسَانِ، وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِ مِنْ غَيْرِهِ، فَإِذَا دَخَلَ الْجِنّ أَوِ السِّحْرُ إِلَى الْإِنْسَانِ كَانَ الْقَرِينُ أَوَّلَ مَنْ يُعِينُهُمْ عَلَيْهِ.
কারিনই মানুষের জন্য ওয়াসওয়াসার উৎস। সে অন্যদের তুলনায় মানুষকে সবচেয়ে ভালো জানে। তাই যখন জ্বিন বা জাদু মানুষের উপর প্রভাব ফেলে, তখন কারিনই সবার আগে তাদের সাহায্য করে।
[ মাজমাউল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া ৩৭/৩০০ ]
অর্থাৎ, কারিন মূলত ওয়াসওয়াসা দেয়, কিন্তু যদি জাদু বা জ্বিন আক্রমণ করে, সে তখন তাদের সহযোগী হয়ে যায়।
⤵️ ইমাম মুহাম্মদ মুতাওয়াল্লি আশ-শা‘রাওয়ী (রহ.)
القرين لا يصنع السحر بنفسه، ولكنه يتعاون مع شياطين السحرة ليُمكِّنهم من التأثير على الإنسان.
কারিন নিজে জাদু বানায় না, তবে সে জাদুকরদের শয়তানদের সাথে সহযোগিতা করে, যাতে তারা মানুষের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
[ তাফসীর আল-শা‘রাওয়ী,সূরা আ‘রাফ
২৭ -এর ব্যাখ্যায় ]
⤵️ আরব শায়েখ / রাক্বীদের অভিজ্ঞতা
القرين هو بوابة الجسد لكافة الإصابات الروحية، فإذا تمت السيطرة على القرين لا يستطيع الجن الآخر الدخول.
কারিন হলো মানুষের দেহের জন্য সমস্ত জাদুটোনা আঘাতের দরজা। যদি কারিনের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়, তাহলে অন্য জিনের প্রবেশ সম্ভব হয় না। ( আরবি রাক্বী)
সহজভাবে বললে, কারিন যদি দুর্বল বা নিয়ন্ত্রণহীন থাকে, তখন মানুষ জ্বিন যাদুটোনা আঘাতের জন্য সহজ লক্ষ্য হয়ে যায়।
----------------------------------------------------------
⤵️ কিভাবে কারিন জাদুর খাদেম হয়?
কারিন মানুষের সাথে সবসময় থাকে
তাই সে সবচেয়ে ভালো জানে মানুষের স্বভাব, চিন্তা, ভয়-ভীতি ও দুর্বলতা।
⤵️জাদুকর যখন জাদু করে সে বাইরের জ্বিনদের পাঠায়। কিন্তু শরীরে প্রবেশ বা প্রভাব ফেলার জন্য দরজা খুলে দেয় কারিন। কারিন সহযোগী হয়ে যায়।তখন কারিন হয়ে যায় জাদুর খাদেম, অর্থাৎ সহকারী।সে আক্রান্ত মানুষের ভেতরে জাদুর প্রভাব চালু রাখতে সাহায্য করে।
⤵️ কারিন খাদেম হলে লক্ষণ:
▪️সবসময় খারাপ চিন্তা/ওয়াসওয়াসা আসা
▪️নামাজে মনোযোগ না থাকা।
▪️বারবার একই জাদু ফিরে আসা।
▪️ঘুমে অশান্তি, ভয়ঙ্কর স্বপ্ন, খাবার-স্বপ্ন।
▪️চিকিৎসা (রুকইয়াহ) করলে কিছুটা ভালো হয়, আবার ফিরে আসে।
▌খাদেমুস সিহর (খেদমতকারী জ্বিন)
খাদেমুস সিহর হলো কিছু জ্বিন, যারা জাদুর ব্যবস্থাপনায় কাজ করে।
▪️কেউ থাকে বাইরের জাদু পাহারায় (যেমন মাটির নিচে চাপা জাদু ইত্যাদি)।
▪️কেউ থাকে মাসহূরের (জাদুগ্রস্তের) ঘরে।
▪️কেউ হয় সাহির (যাদুকর) আর মূল খাদেমের মাঝে বার্তাবাহক।
▪️কেউ থাকে মানুষের শরীরের ভেতরে।
▪️কেউ থাকে শরীরের চারপাশে।
⤵️এর মধ্যে থাকে:
▪️শয়তানি আযায়েমের খাদেম।
▪️তাবিজ-তালিসমের খাদেম।
▪️উওফাক (ওফাক/নকশা) আর শয়তানি কসমের খাদেম।
▪️জাদুবিদ্যার কিতাবের খাদেম ইত্যাদি।
❗ এরা সবাই আসলে ইবলিসের সৈন্য।
মূল খাদেম সাধারণত মানুষের মগজে বসবাস করে এবং সেখানে থেকে যাদুকরের আদেশ বাস্তবায়নের চেষ্টা করে।
দ্বিতীয়তঃ কতটুকু ক্ষতি করতে পারে?
▪️ খাদেমুস সিহর তার ক্ষমতা আর শয়তানি সহযোগীদের সহায়তায় যাদুকরের নির্দেশ মেনে কাজ করে।
নির্দেশ হতে পারে: অসুখ সৃষ্টি,কর্মক্ষেত্রে বা জীবনে বাধা,স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন ভাঙা,
দেশ/ঘরছাড়া,পাগলামি,সর্বজনীন অচলাবস্থা,এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত।
⤵️তাদের ক্ষতির ধরন তিনটি:
▪️ যাদুকরের দেয়া কাজ — (অসুখ, অচলাবস্থা ইত্যাদি)।
▪️কাজ করতে গিয়ে শরীর/মন/চিন্তায় আঘাত দেওয়া।
▪️ চিকিৎসার সময় প্রতিরোধ, ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা হিংসা থেকে বাড়তি ক্ষতি করা।
⤵️ তৃতীয়তঃ খাদেমুস সিহর কি মারিদ বা আফরীত হতে পারে?
হ্যাঁ, তবে শুধু এক ক্ষেত্রে:
যদি জাদু হয় কালো জাদু আর যাদুকর হয় অভিজ্ঞ, অত্যাচারী, এবং শয়তানি বিদ্যায় দক্ষ।
⤵️ চতুর্থতঃ খাদেমুস সিহরের কিছু গোপন দিক:
▪️অনেক খাদেম নিজেরাই শরীরের ভেতরে বাঁধা থাকে।
▪️অনেক সময় যাদুকর তাদের জিহ্বা বেঁধে রাখে যেন তারা রুকইয়াহ পড়ুয়ার কাছে কিছু ফাঁস না করে।
▪️ মূলত এক জন খাদেম থাকে, তবে তার সহকারী থাকে ভেতরে ও বাইরে। অনেক সময় শত শত জ্বিন শরীরে বসবাস করতে পারে।
▪️তাদের মধ্যে থাকে কুকুর, সাপ, আর নানা পশুর রূপধারী জ্বিন।
▪️ তাদেরও নেতা থাকে, তারা টয়লেট, নোংরা জায়গায় বৈঠক করে।
▪️সিহর মুত্তাবি (বারবার নতুন করে সক্রিয় হওয়া জাদু) খাদেমদের শয়তানি শক্তি ও চিকিৎসা সরবরাহ করে, মৃত্যুর কাছাকাছি এলে তাকে সরিয়ে নতুন খাদেম বসায়।
▪️খাদেমদের মধ্যেই থাকে সাহির (যাদুকর জ্বিন)।
▪️বুদ্ধিমান ও শক্তিশালী খাদেম সাধারণত মানুষের মুখে কথা বলে না। সে গোপন থাকে এবং নিজের সুরক্ষার জন্য আলাদা জাদু বানায় বা অন্য জ্বিন যাদুকরের বানানো জাদু ব্যবহার করে।
নোট : খাদেমুস সিহর আসলে ইবলিসের চাকর । তারা জাদুকরের আদেশ পালন করে, মানুষের শরীর, ঘর, জীবন ধ্বংস করে। কখনো মারিদ/আফরীতও হতে পারে। তাদের দল, নেতা, সাপ-কুকুর আকৃতি, পায়খানা টয়লেট নোংরা জায়গা বৈঠক সবই শয়তানি জগতের অংশ।
▌ক্বারিনের জাদু বিষয় আলোচনা।
ক্বারীন বলতে বোঝানো হয় মানুষের সাথে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত থাকা এক অদৃশ্য সঙ্গীকে। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে ক্বারীন হলো জ্বিন/শয়তান।
▪️ক্বারীনের বৈশিষ্ট্য
প্রতিটি মানুষের জন্য আলাদা ক্বারীন থাকে। কারও ক্বারীন অন্য কারও সঙ্গে মিলে যায় না।ক্বারীন শব্দের অর্থ হলো চিরসঙ্গী বা স্থায়ী সাথী।ক্বারীনের কাজ হলো মানুষকে মন্দ কাজে প্রলুব্ধ করা, আল্লাহর আদেশ অমান্য করানো।
▪ রাসূলুল্লাহ ﷺ ছাড়া কারও ক্বারীন ইসলাম গ্রহণ করেনি। উনার ক্বারীনকে আল্লাহ ইসলাম কবুল করিয়েছিলেন।
▪️কোরআনে ক্বারীন বিষয় উল্লেখ করেন।
১. আল্লাহ বলেন:
وَ مَنۡ یَّعۡشُ عَنۡ ذِكۡرِ الرَّحۡمٰنِ نُقَیِّضۡ لَهٗ شَیۡطٰنًا فَهُوَ لَهٗ قَرِیۡنٌ ﴿۳۶﴾
আর যে পরম করুণাময়ের যিকির থেকে বিমুখ থাকে আমি তার জন্য এক শয়তানকে নিয়োজিত করি, ফলে সে হয়ে যায় তার সঙ্গী।
[সুরা আয - যুখরুক আয়াত -৩৬]
২. আরেক স্থানে:
قَالَ قَآئِلٌ مِّنۡهُمۡ اِنِّیۡ كَانَ لِیۡ قَرِیۡنٌ ﴿ۙ۵۱﴾
সে বলবে: আমার একজন ক্বারীন ছিল।
[সূরা আস-সাফফাত: ৫১ ]
৩. আবার বলা হয়েছে:
حَتّٰۤی اِذَا جَآءَنَا قَالَ یٰلَیۡتَ بَیۡنِیۡ وَ بَیۡنَكَ بُعۡدَ الۡمَشۡرِقَیۡنِ فَبِئۡسَ الۡقَرِیۡنُ ﴿۳۸﴾
অবশেষে যখন সে আমার নিকট আসবে তখন সে [তার শয়তান সংগীকে উদ্দেশ্য করে] বলবে, ‘হায়, আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব-পশ্চিমের ব্যবধান থাকত’ সুতরাং কতইনা নিকৃষ্ট সে সঙ্গী!
[সূরা আয যুখরুফ: ৩৮]
▪️ ক্বারীনের কাজ ও প্রভাব
ক্বারীন মানুষকে পাপের প্রতি উৎসাহিত করে।মানুষের শরীরের দুর্বল জায়গা সে ভালো জানে।কোনো জাদু সফল হয় না যদি না ক্বারীন তাকে সহযোগিতা করে।
ক্বারীন মানুষের কাছাকাছি সর্বোচ্চ ৩০০-৪০০ মিটার দূরত্বে থাকতে পারে এবং কখনও শরীরে প্রবেশ করতেও পারে (বিশেষ করে জাদুর মাধ্যমে)।
▪️ইবনু তাইমিয়াহ (رحمه الله) বলেন:
القرين هو الشيطان المقرون بالإنسان، وهو أعلم الناس به، وقد يعينه السحرة في إيذاء الإنسان.
অর্থ: কারিন হলো মানুষের সাথে থাকা শয়তান, সে মানুষকে সবচেয়ে ভালো জানে, এবং জাদুকরদের সে মানুষকে ক্ষতি করার জন্য সাহায্য করতে পারে।
( মাজমাউল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া ১৭/৪২৭)
▪️ক্বারীন সম্পর্কিত জাদু
ক্বারীনের জাদু: শয়তানরা নতুন ধরনের চুক্তি তৈরি করে যেখানে ক্বারীনকে মানুষের শরীরে বেঁধে ফেলা হয়।ক্বারীনের ওপর রুকইয়া সাধারণভাবে কাজ করে না। কারণ সে মানুষের দুর্বলতা খুব ভালো জানে।
আরেক ধরনের জাদু হলো ক্বারীনের বিপরীত জাদু এর উদ্দেশ্য হলো মানুষকে পাপ ও অশ্লীলতায় ফেলানো—এক্ষেত্রে এক মানুষের ক্বারীন আরেকজনের ক্বারীনের উপর প্রভাব ফেলে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক ঘটানোর জন্য।
▪️ক্বারীন দ্বারা ক্ষতির লক্ষণ
অকারণ দুঃখ ও হতাশা, অনেক সময় কান্না।ক্ষুধামন্দা, কাজের প্রতি অনীহা।
ঘুম কম হওয়া, দুঃস্বপ্ন দেখা।মাথাব্যথা, অবসাদ, মনোযোগে ঘাটতি।মৃত্যু কামনা বা হতাশা। আত্মহত্যার প্রবণতা, বিচ্ছেদ এবং করা। বারবার একই জাদু ফিরে আসা।
চিকিৎসা (রুকইয়াহ) করলে কিছুটা ভালো হয়, আবার ফিরে আসে।
▪️নারীর ক্ষেত্রে: মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক রক্তপাত।পুরুষের ক্ষেত্রে যৌন দুর্বলতা।
নোটঃ কারিন জাদুর সাথে সম্পৃক্ত থাকলে রুকইয়াহ সাধারনভাবে কাজ করেনা তার অন্যতম কারন হলো সে ভিক্টিমের দূর্বলতা বেশি জানে।
#স্বপ্নে ‘খাওয়ানো জাদু’ (Sihr al-Ma'kul): স্বরূপ, লক্ষণ ও স্থায়ী পরিত্রাণ
১. মায়াবী খাবারের আড়ালে জাদুর স্বরূপ
আধ্যাত্মিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য স্বপ্নে খাওয়ানো জাদু বা সিহরুল মাকুল (Sihr al-Ma'kul: سحر المأكول) একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও জটিল বিষয়। সাধারণত শরীরে অবস্থানরত অবাধ্য জিন (Jinn: جن) বা শয়তান (Shaytan: شيطان) তার অশুভ শক্তিকে টিকিয়ে রাখতে ঘুমের ঘোরে ভিক্টিমের লালাতে কুফরি মন্ত্র পড়ে ফুঁ দেয়।
এরপর স্বপ্নের জগতে হরেক রকম সুস্বাদু খাবারের প্রলোভন তৈরি করা হয়। ভিক্টিম যখনই সেই মায়াবী খাবার গ্রহণ করে, মূলত সে জাদুকরী সেই দূষিত লালা বা অপবিত্র বস্তুই উদরস্থ করে ফেলে। এই প্রক্রিয়ায় জিনেরা মানুষের পেটে তাদের শক্তির রসদ জমা করে এবং জাদুর প্রভাবকে দীর্ঘস্থায়ী করে। কখনো কখনো জাদুর খাদিম জিনেরা (Khadim al-Sihr: خادم السحر) সুতা, চুল কিংবা গিট দেওয়া তাবিজের মতো নাপাক বস্তুও ভিক্টিমের উদরে প্রবিষ্ট করে দেয়।
২. মুক্তির পথ ও আধ্যাত্মিক চিকিৎসা
যতক্ষণ এই জাদুকরী বিষক্রিয়া পেটে থাকে, ততক্ষণ জাদুর পূর্ণ মুক্তি পাওয়া কঠিন। তবে আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে নিচের পদ্ধতিতে এর বিনাশ সম্ভব:
রুকইয়াহ (Ruqyah: رقية): নির্দিষ্ট আয়াতের মাধ্যমে জাদুর প্রভাব নষ্ট করা।
ইস্তিফরাগ (Vomiting: استفراغ): বমির মাধ্যমে সরাসরি পেট থেকে জাদুর বর্জ্য বের করে আনা।
পড়া পানি: রুকইয়াহকৃত পানি পান করার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বিষক্রিয়া ধ্বংস করা।
স্বপ্নে জাদু থেকে সুরক্ষার আধ্যাত্মিক বেষ্টনী (Shield)
নিদ্রার পূর্বে নিজেকে একটি অদৃশ্য দুর্গের মধ্যে সুরক্ষিত করতে নিচের নিয়মগুলো অত্যন্ত যত্ন সহকারে পালন করুন:
শারীরিক পবিত্রতা: ঘুমানোর আগে অবশ্যই মিসওয়াক (Miswak: مسواك) করবেন এবং সুন্দরভাবে অজু (Ablution: وضوء) করে বিছানায় যাবেন। ঘুমের আগে অজু ভেঙে গেলে পুনরায় অজু করে নেওয়া উত্তম।
কুরআনী আমল:
সুরা বাকারার (Surah Al-Baqarah: سورة البقرة) শেষ দুই আয়াত পাঠ করবেন।
সুরা ইয়াসিনের (Surah Yaseen: سورة يس) ১ থেকে ৯ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করবেন।
আয়াতুল কুরসি (Ayat al-Kursi: آية الكرسي) পাঠ করবেন।
সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস তিনবার করে পাঠ করে হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে সমস্ত শরীর মাসেহ (Wiping: مسح) করবেন।
নিদ্রার প্রস্তুতি: ঘুমানোর দোয়া পাঠ করে শয়ন করুন। যদি ঘুম আসতে বিলম্ব হয়, তবে চোখ বন্ধ করে দরুদ শরিফ (Salawat: صلوات) পড়তে থাকুন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: রাত, দিন বা দুপুর—যখনই ঘুমানোর ইচ্ছা করবেন, এই একই নিয়ম অনুসরণ করবেন। যদি সময়ের অভাবে সবগুলো আমল করা সম্ভব না হয়, তবে অন্তত অজু এবং আয়াতুল কুরসি পড়ে অবশ্যই ঘুমাবেন। ইনশাআল্লাহ, নিয়মিত আমল করলে স্বপ্নে জাদু খাওয়ানো চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
#যদি স্বপ্নে কিছু খেয়ে ফেলেন তবে জরুরি করণীয়
যদি অনুভব করেন যে স্বপ্নে আপনাকে কিছু খাওয়ানো হয়েছে, তবে ঘুম থেকে ওঠার পর বিলম্ব না করে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন:
১. খালি পেটে রুকইয়াহর পানি: ঘুম থেকে উঠেই রুকইয়াহ করা পানি (পড়া পানি) পান করুন।
২. ইস্তিফরাগ বা বমি (Vomiting Method): একটি বড় পাত্রে পানি নিয়ে পেট ভরে পান করুন। অতঃপর কানে ইয়ারফোন (Earphone) লাগিয়ে 'আজাব' (Punishment: عذاب) বা 'হারক' (Burning: حرق)-এর রুকইয়াহ অডিও শুনুন এবং বমির মাধ্যমে পেটের দূষিত বস্তু বের করে দেওয়ার চেষ্টা করুন।
৩. নিরাময়ের বিশেষ তিলাওয়াত
(প্রতিটি অংশ ৫ মিনিট করে পাঠ করুন)
সুরা নাহল (আয়াত ৬৯): >
يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِّلنَّاسِ
সুরা নিসা (আয়াত ১০):
> إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا
সুরা ইউনুস (আয়াত ৮১):
> فَلَمَّا أَلْقَوْا قَالَ مُوسَىٰ مَا جِئْتُمْ بِهِ السِّحْرُ ۖ إِنَّ اللَّهَ سَيُبْطِلُهُ ۖ إِنَّ اللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ
পরিশেষ: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের সকলকে জিন ও মানুষ শয়তানের অনিষ্টতা থেকে হেফাজত করুন। সকল যাদুগ্রস্ত ও অসুস্থ ভাই-বোনদের তিনি পরিপূর্ণ সুস্থতা (Shifa: شفاء) দান করুন। আমিন।
পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন:-
রাক্বী মুফতি ইয়াহইয়া মাহমূদ।
ফোন 01985919027
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Tangail
