AHSAN ULLAH
welcome to my new page..
17/10/2023
ইমাম আ'যম আবু হানিফা রহ. জীবন, কর্ম ও ইলমে হাদিসে তাঁর অবদান; আপত্তি ও বিভ্রান্তির অবসান শীর্ষক সেমিনার
তারিখ : ২১শে অক্টেবর ২৩ ঈ. শনিবার, বাদ জোহর হতে।
স্থান : #উচ্চতর_হাদিস_গবেষণা_বিভাগ_মিলাতায়ন
দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম
আপনি সবান্ধব আমন্ত্রিত।
08/10/2023
ইনশাআল্লাহ
আগামী ১২/১০/২০২৩ ইংরেজি রোজ বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব
তাফসীর ও উলূমুল কুরআন শাস্ত্র: তালিবুল ইলমদের করণীয় বিষয়ে মুহাদারা পেশ করবেন।
শায়খ ড. মুহাম্মদ হাসীবুর রহমান আযহারী হাফিজাহুল্লাহ
এতে উপস্থিত হয়ে দরস স্রবণ করতে আগ্রহী তালেব ইলমরা, উল্লেখিত তারিখে মাগরিবের নামাজ মারকাযুত তা’লীম ওয়াত তারবিয়াহ হাটহাজারী এর জামে মসজিদে পড়ার অনুরোধ করা যাচ্ছে।
11/09/2023
মরক্কোয় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনায় হাটহাজারী মাদ্রাসা মহাপরিচালকের শোক ও সমবেদনা প্রকাশ
--------------------------
মরক্কোতে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী (দা.বা.)।
রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী (দা.বা.) বলেন, বিশ্বের সর্বপশ্চিমের মুসলিম অধ্যুষিত দেশ মরক্কোতে গতকাল সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত দুই হাজারের অধিক মানুষের মৃত্যু এবং বহু ভবন ধ্বসে পড়াসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর জানা যাচ্ছে। শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ হাজার হাজার মানুষ ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে আছে। জোরালো আশঙ্কা করা যাচ্ছে যে, নিহতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। জাতিসংঘ বলছে ভূমিকম্পে মরক্কোর অন্তত ৩ লাখ লোক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ভ্রাতৃপ্রতিম দেশটির এই ভয়াবহ বিপদে আমি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি। দয়াময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিহতদের সকলকে মাগফিরাত ও শহীদী মর্যাদা এবং শোকাহত স্বজনদেরকে ধৈর্যধারণের তাওফীক দান করুন। একই সাথে আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্যও মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে বিশেষভাবে দোয়া করছি।
আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী (দা.বা.) আরো বলেন, আফ্রিকা মহাদেশের পশ্চিমপ্রান্তে অবস্থিত মরক্কো মুসলিম অধ্যুষিত ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। একই সাথে দেশটি ওআইসির সদস্য রাষ্ট্র। সুতরাং ওআইসি ও আরববিশ্বসহ মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের মরক্কোর এই বিপর্যায়কালে তাদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব রয়েছে। কারণ, পবিত্র কুরআনের সূরা হুজুরাতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা মুসলমানদেরকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ করেছেন, اِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ اِخْوَةٌ অর্থাৎ- মুমিনরা পরস্পর ভাই-ভাই। অপরদিকে হাদীসে হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “সব মুসলমান একটি দেহের মতো, যদি তার চোখ অসুস্থ হয়, তাহলে পুরো শরীর অসুস্থ হয়ে যায়; যদি তার মাথা অসুস্থ হয়, তাহলে পুরো শরীর অসুস্থ হয়ে যায়”। রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো ইরশাদ করেছেন, “বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সহযোগিতায় আত্মনিয়োগ করে, আল্লাহ তাআলা ততোক্ষণ তার সহযোগিতা করতে থাকেন”। একই সাথে সাধারণ মুসলমানদের কর্তব্য হচ্ছে, নিজ নিজ অবস্থান থেকে মরক্কোতে ভূমিকম্পে নিহতদের মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা ও সকলপ্রকার বিপদ থেকে হেফাজতের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া-মুনাজাত করা।
আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী (দা.বা.) বলেন, দুনিয়ার বুকে যতো বিপর্যয় আসে, এগুলোর পেছনে মানুষের কর্মই দায়ী। কুরআন-হাদীসের ভাষ্যমতে মানুষ যখন বিভিন্ন পাপাচারে লিপ্ত হয়ে পড়ে, জুলুম-অত্যাচারকে গুনাহ বলে মনে করে না, তখন আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন আযাব-গযব ও দূর্যোগ-দুর্বিপাক, খরা, দুর্ভিক্ষ, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় ও করোনার মতো বিপদে পতিত করে বান্দাকে সতর্ক করেন। আল্লাহ প্রদত্ত এত সতর্কতা প্রদর্শন সত্ত্বেও আমরা যদি গুনাহ থেকে তাওবা করে সঠিক পথে ফিরে না আসি, তবে জাতি হিসেবে আমাদের কপালেও যে কোন সময় যে কোন বিপদাপদ ও দুর্যোগ নেমে আসার প্রবল ভয় আছে।
তিনি সকলকে হুঁশিয়ার করে যাবতীয় পাপাচার ও অন্যায় র্কম পরিত্যাগ করে আল্লাহমুখী হওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বর্তমানে চতুর্দিকে যে হারে ইসলামের বিরুদ্ধে, আল্লাহ-রাসূল ও পবিত্র কুরআনের বিরুদ্ধে অবমাননাকর বক্তৃতা-বিবৃতি ও ক্রিয়কলাপ চলছে এবং অনাচার, ব্যভিচার, অপরাধ, দুর্নীতি, অন্যায়, মিথ্যাচার ও মানুষের অধিকার হরণের উৎসব চলছে, অনতিবিলম্বে এসব বন্ধ না হলে এবং সৎ ও ইনসাফের পথে ফিরে না আসলে যেকোন সময় যে কারো উপর আসমানী আযাব-গযব ও দুর্যোগ নেমে আসার প্রবল ভয় আছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে ঈমান-আমল হেফাজত করুন। আমিন।
বাংলাদেশর চেষ্ট জেলা আঁরার চট্টগ্রাম
04/06/2023
সদ্য মনোনীত মহাপরিচালক আল্লামা মুফতী খলীল আহমদ কাসেমী এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
☞ আল্লামা মুফতী খলীল আহমদ সাহেব হাটহাজারী থানার অন্তর্গত আলীপুর গ্রামে ১৫ই ফেব্রুয়ারি ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাটহাজারী মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা হাবিবুল্লাহ কুরাইশী রহ. এর সাহেবজাদা আল্লামা হাফেজ ওমর সাহেব এর সন্তান।
☞ শিক্ষাজীবন
তিনি প্রাথমিক থেকে কাফিয়া পর্যন্ত হাটহাজারী মাদরাসায় পড়াশোনা করেন।এরপর ভারতের দারুল উলুম নয়ারহাট মাদরাসায় ১ বছর, খাদিমুল ইসলাম হাপুরে মাদরাসায় ৪ বছর এবং দারুল উলুম দেওবন্দে তাফসির বিভাগসহ ৫ বছর পড়াশোনা করেন। এরপর খাদেমুল ইসলাম হাপুর মাদরাসার ইফতা সম্পন্ন করেন।
☞ কর্মজীবন (ভারত)
তিনি পড়ালেখা শেষ করে দীর্ঘ ২২/২৩ বছর ভারতের কয়েকটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করেছেন। সেখানে প্রায় এক যুগ ধরে বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, তিরমিজি শরীফসহ অন্যান্য হাদিসের কিতাবের দরস দিয়েছেন।
☞ স্বদেশ ফেরা
তারপর হযরত দেশে ফিরে হাটহাজারীস্থ কাসেমুল উলূম চারিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। সেখানেও তিনি অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে ১০ বছর খেদমত করেছেন।
☞ দারুল উলূম হাটহাজারীতে নিয়োগ
হাটহাজারী মাদরাসার মজলিসে শুরার সিদ্ধান্তে ২০২০ সালে হযরতকে দারুল উলূম হাটহাজারীতে মুহাদ্দিস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর থেকে তিনি ইবনে মাজা শরীফ, জালালাইন শরীফসহ অন্যান্য কিতাব অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে পাঠদান করে আসছেন।
☞ মহাপরিচালক হিসেবে মনোনয়ন
আলহামদুলিল্লাহ, মজলিসে শুরার সিদ্ধান্তক্রমে আজ ৩ রা জুন, শনিবার দারুল উলূম হাটহাজারীর মহাপরিচালক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।
খুবই সাদাসিধে, নিরহঙ্কারী, যোগ্য, মুখলিস এবং জামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা রহ. এর উত্তরাধিকার হিসেবে একজন মহাপরিচালক পেলো দারুল উলূম হাটহাজারী।
আল্লাহ তায়ালা হযরতের ছায়া আমাদের উপর দীর্ঘ করুন। দারুল উলূম হাটহাজারীর ঐতিহ্য ধরে রাখার তাওফীক দান করুন আমিন!
সংকলক
মুহাম্মাদ ইশতিয়াক সিদ্দিকী
পরিচালক, বাংলাবাড়ি, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।
পরিচালক, আলহাজ্ব নাদিরা হোসাইন মাদরাসা, পশ্চিম মির্জাপুর, হাটহাজারী।
আলহামদুলিল্লাহ সুম্মা আলহামদুলিল্লাহ
দারুলউলুম হাটহাজারীর নবনির্বাচিত মুহতামিম হিসেবে মনোনীত হলেন জামেয়ার প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা হাবিবুল্লাহ কুরাইশি রঃ এর নাতি আল্লামা মুফতি খলিল আহমদ কাসেমী হাফিযাহুল্লাহ
নায়েবে মুহতামিম মনোনীত হয়েছেন আল্লামা শোয়াইব জমিরি সাহেব হাফিযাহুল্লাহ
মুঈনে মুহতামিম মনোনীত হয়েছেন মুফতি জসিম উদ্দিন সাহেব
আল্লাহ উভয় হজরতকে সুস্থতার সাথে,ইখলাসের সাথে উম্মুল মাদারিসকে এগিয়ে নেওয়ার তাওফিক দান করুন
30/05/2023
অদ্য বাদ মাগরিব থেকে
20/05/2023
সরকার না চাইলে সনদের স্বীকৃতি হতো না।
আল্লামা মোহাম্মদ ইয়াহইয়া সাহেব হাফিজাহুল্লাহ
মহাপরিচালক -দারুল উলুম মইনুল ইসলাম হাটহাজারী চট্টগ্রাম।
দেশের বৃহৎ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক। কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা হাইয়াতুল উলইয়ার সদস্য ও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের সহসভাপতি। সম্প্রতি তিনি দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন কওমি মাদ্রাসার সিলেবাসের সংস্কার ও সনদের স্বীকৃতিসহ সমসাময়িক নানা প্রসঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এহসান সিরাজ
দেশ রূপান্তর : হাটহাজারীর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কত দিনের?
মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া : জন্ম থেকে হাটহাজারীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক। হাটহাজারী মাদ্রাসার তৎকালীন মুহতামিম ও আমার পীর মাওলানা আব্দুল ওহাব (রহ.) এবং মাওলানা হাফিজুর রহমান (প্রকাশ পীর সাহেব হুজুর) আমার আকিকায় গিয়ে নাম রেখেছিলেন মুহাম্মদ ইয়াহইয়া। তাদের সঙ্গে আমার বাবার সুসম্পর্ক ছিল। তা ছাড়া আমার পড়াশোনাও হাটহাজারীতে। পরবর্তী সময় ১৯৯০ সালে আল্লামা আহমদ শফী (রহ.)-এর অনুরোধে আমি শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হই। বলতে গেলে আমার জীবনই হাটহাজারীর সঙ্গে জড়িত।
দেশ রূপান্তর : দেশের অন্যতম প্রাচীন ও আলোচিত মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্বে আছেন, কোনো চাপ কিংবা প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে হয়?
মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া : এমনটা মনে হয়নি। কারণ, আমি মাওলানা আব্দুল ওহাব (রহ.), মাওলানা হামেদ (রহ.) ও আল্লামা আহমদ শফী (রহ.)কে মাদ্রাসার পরিচালনায় দেখেছি। তাদের থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তা ছাড়া আমার বাবার কাছ থেকে শিখেছি প্রতিষ্ঠান কীভাবে চালাতে হয়। তিনি খুব সহজে মানুষের মধ্যে কাজ বণ্টন করে দিয়ে দিতেন, আমিও তাই করি।
দেশ রূপান্তর : অর্থনৈতিক বিষয়ে কখনো কোনো চাপ অনুভব হয়েছে?
মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া : আলহামদুলিল্লাহ, ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনো অর্থনৈতিক অভাবের মধ্যে পড়িনি। পারিবারিকভাবে আমরা স্বাবলম্বী ছিলাম। কিন্তু মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর হয়তো জানানো হয়েছে, বোর্ডিংয়ের চাল নেই! খাবার তিনদিনের আছে তখন কিছুটা চিন্তিত হয়েছি। আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করি, এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করি, হয়ে যায় ব্যবস্থা।
দেশ রূপান্তর : হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে এ যাবত কী পরিমাণ মাওলানা, মুফতি বের হয়েছে, কোনো পরিসংখ্যান আছে কি?
মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া : হাটহাজারী থেকে অনেক মুফতি, মুহাদ্দিস এবং মাওলানা বের হয়েছেন। শুরুর দিকে হয়তো কিছু বাদ গেছে। পরে যখন নিয়মতান্ত্রিকভাবে ফতোয়া বিভাগ চালু হয়, তখন থেকে সবার তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। মাওলানাদেরগুলো আগে থেকেই সংরক্ষণে আছে।
দেশ রূপান্তর : তাদের নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া : সরকার হাইয়াতুল উলইয়ার স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু দারুল উলুম দেওবন্দ এমন স্বীকৃতি নেয়নি, তারা স্বাধীন। হাটহাজারী মাদ্রাসা কখনোই সরকারের অধীনে ছিল না, এখনো থাকতে চায় না। দফতুরে দারুল উলুম দেওবন্দ (দেওবন্দের নীতিমালা) যেভাবে হয়েছে, তেমনিভাবে বাংলায় আমি একটি দফতুরে হাটহাজারী তৈরি করেছি। মজলিসে শূরা এটার অনুমোদন দিলে হাটহাজারীর ফুজালাদের (প্রাক্তন ছাত্রদের) ডেকে এই নীতিমালা তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এই আলোকে মাদ্রাসা পরিচালনা হবে। এটা আমার চিন্তা। বাস্তবায়ন হতে পারে আবার নাও হতে পারে। আমার কাজ তো শুধু চেষ্টা করা!
দেশ রূপান্তর : শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) একসময় কওমি সনদের স্বীকৃতি চাননি, পরে তার হাত দিয়েই স্বীকৃতি এসেছে বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন?
মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া : না, না, বড়দের বিষয়ে কোনো কথা বলব না। সরকার চেয়েছে এ জন্য স্বীকৃতি হয়েছে। সরকার না চাইলে এটা হতো না। কারণ, সরকারের শরিকদের অনেকেই এর বিরোধিতা করেছে, তারপরও দারুল উলুম দেওবন্দের উসুলে হাসতেগানা (আট মূলনীতি) অনুযায়ী স্বীকৃতি হয়েছে। ভবিষ্যতে এতে কোনো পরিবর্তন হবে না এটা বলা যায় না। সরকার চাইলে সবই করতে পারে।
দেশ রূপান্তর : হাটহাজারী মাদ্রাসা একটি আবেগের নাম। বর্তমানে ছাত্ররা কি সেটা ধারণ ও ধরে রাখতে পারছে?
মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া : শুধু হাটহাজারী নয়! প্রায় জায়গাতেই কিছুটা কমেছে, আগের মতো আবেগ বা আমল ছাত্রদের মধ্যে কাজ করে না। তবে উস্তাদগণ যথেষ্ট মেহনত করে যাচ্ছেন! এ জন্য খানকা তৈরি করা হয়েছে।
দেশ রূপান্তর : মাদ্রাসা পরিচালনা ছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। আপনার একটি ফাউন্ডেশন আছে। আবার দেশজুড়ে মাহফিলসহ দ্বীনি কাজে প্রচুর সফর করনে, এ বয়সে এত কাজের প্রেরণা কোথায় পান?
মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া : বুজুর্গদের দোয়া এবং ছায়া আমার ওপর আছে। তা ছাড়া আমি শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) এবং আমার বাবাকে দেখেছি, তারা কোনো অবস্থাতেই হাল ছেড়ে দিতেন না। অনেক বড় বড় কাজ তারা চাপমুক্ত হয়ে করেছেন। তাদের থেকে প্রেরণা পাই, আমিও তাই করি। ফাউন্ডেশনের জন্য লোক রাখা আছে। তারা কাজ করে।
দেশ রূপান্তর : অন্য মুহতামিমদের জন্য আপনার কোনো বার্তা আছে কি?
মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া : মাদ্রাসার সুনাম মুহতামিমের আচরণের ওপর নির্ভর করে। মাদ্রাসার মুহতামিম যদি অর্থনৈতিক হিসাব, শিক্ষকদের বেতন এবং ছাত্রদের পড়ালেখার মান নিয়ে ভাবে, বিশেষ করে ফান্ড নিজের পকেটে না রাখে তাহলে অবশ্যই মাদ্রাসা সুনাম হবে, না হয় মাদ্রাসার স্বতন্ত্র কোনো বৈশিষ্ট্য দাঁড়াবে না। মনে রাখবেন, মুহতামিম যত বেশি আমানতদার হবে, মাদ্রাসার আয় উন্নতিতে আল্লাহতায়ালা তত বেশি বরকত দেবেন।
দেশ রূপান্তর : অনেকেই কওমি সিলেবাসে সংস্কারের দাবি করছেন, আপনার কী মত?
মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া : এই দাবির পক্ষে আমিও। তবে সেটা প্রাচীন পদ্ধতিতে! হাটহাজারীতে কিংবা কওমি মাদ্রাসায় আগে যেসব কিতাব পড়ানো হতো, সেই কিতাবগুলো আবার পাঠ্যপুস্তকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলে বর্তমান সময়ের বিজ্ঞানসহ আধুনিক যত বিষয় আছে এগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। আমাদের কী নেই? আমাদের সবই আছে। কিন্তু আমরা ভুলে যাচ্ছি!
দেশ রূপান্তর : কওমি সনদের স্বীকৃতিকে কর্মক্ষেত্র ও উচ্চশিক্ষার কাজে ব্যবহারের দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে, আপনার মত কী?
মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া : সনদের স্বীকৃতি দিয়ে কর্মক্ষেত্র বলতে আমি সরকারের চাকরি বুঝি। কেউ যদি সরকারের সার্টিফিকেট নেয় এবং তার অধীনে চাকরি করে, তাহলে কোনোদিন সে সরকারের অনৈতিকতা কিংবা ধর্মবিরোধী কোনো কাজের বিরুদ্ধে বলার নৈতিক সাহস করবে না। হজরত ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-কে তখনকার সরকারের কাজির পদ নেওয়ার জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি নেননি, কারণ কী ছিল? কারণ একটাই ছিল। সেটা হলো সরকারের কোনো শরিয়তবিরোধী কাজের সমালোচনা করা যাবে না, এমনকি সাধারণ মাকরুহ কাজেরও স্বীকৃতি দিতে হবে। আলেম হিসেবে যা কখনোই সম্ভব নয়।
আর উচ্চ শিক্ষা! কওমির সনদ নিয়ে ছাত্ররা দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে? সেখানে কোন বিভাগে পড়বে তারা? কারা পড়াবেন তাদের? যারা পড়াবেন তারা কি আলেমদের চেয়ে বেশি শিক্ষিত? হাটহাজারীর সনদ দিয়ে ছাত্ররা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে। এ জন্য হাইয়াতুল উলইয়ার সনদের প্রয়োজন পড়েনি!
দেশ রূপান্তর : গণমাধ্যমে ইসলাম উপস্থাপনে কীভাবে কাজ করা যেতে পারে?
মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া : আমি এ লাইনের মানুষ না। যারা গণমাধ্যম নিয়ে কাজ করেন তারা এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।
দেশ রূপান্তর : হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম হিসেবে আপনি সারাদেশের আলেম-উলামাদের মুরব্বি। দেশবাসীর উদ্দেশ্যে আপনার কোনো বিশেষ বার্তা রয়েছে কি?
মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া : প্রথমে আলেমদের বলব, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়া। মানুষ আলেমদের কাছে কম আসে। এ জন্য আলেমদের উচিত তাদের কাছে বেশি বেশি যাওয়া, তাদের দ্বীন শেখানো, সাহায্য-সহযোগিতা বেশি বেশি করা। ইতিহাস ঘাঁটলে আমরা দেখি, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে সাহাবিদের এক ইহুদির কূপ থেকে পানি আনতে হতো বিনিময় দিয়ে। তাও আবার তার ইচ্ছা অনুযায়ী বিতরণ করত। মুসলমানদের জন্য সেটা ছিল কষ্টদায়ক, কারণ সেই ইহুদি মনে চাইলে কাউকে দিতেন না হয় দিতেন না। হজরত উসমান (রা.) মানুষের কল্যাণে সেই কূপ ক্রয় করে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন।
আর সাধারণ মানুষের উচিত, সত্য বুঝে আল্লাহওয়ালা আলেমদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলা। তাহলে খুব সহজেই তিনি দিনের পথে চলতে পারবেন।
16/05/2023
উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যাংককের উদ্দেশ্য রওয়ানা হলেন, জামিয়া আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আল্লামা মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া (হাফি.)।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা হযরতকে পরিপূর্ণ সুস্থতা ও দীর্ঘ হায়াতে তাইয়্যেবাহ দান করুন। আমিন।
15/05/2023
দারুল উলূম হাটহাজারীর স্বনমাধন্য উস্তাদ আল্লামা ডক্টর নূরুল আবছার আযহারী হাফিযাহুল্লাহ। তাঁর ঈর্ষণীয় সাফল্য হলো- তিনি "ইলালে হাদীস" এর উপর উপমহাদেশের একমাত্র পিএইচডি ডিগ্রিধারী আলিম। খুব অল্প সময়েই তাঁর দরসের সুখ্যাতি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাঁকে হিংসুকদের কবল থেকে রক্ষা করুন। আমীন।
মুফতী নূর আহমদ রাহ.র নামাযে জানাযা আজ ৮ রমাযান, ৩১ মার্চ জুমাবার বাদ আসর হাটহাজারি মাদরাসা-মাঠে অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ!
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Website
Address
Hathazari
Chittagong
