Md Tarak aziz
লেখক
18/08/2025
মানুষ বলে,
জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না।
আমার মনে হয়,
জীবন নয়,,
বরং সময় কারো জন্য থামে না’
মানুষ খা'রা'প থাক বা ভালো
সময় ঠিকই চলে যায়।
লেখাঃ অনুমেঘা
📷 Rimon Mridha
# বউ_আমার_সিনিয়র_পেত্নি
✍Writer→ ღMskღ
# অন্তিমপর্ব
আসলে মিম আমায় ভালোবাসে । ও এমন মূহুর্তে আমার সাথে ছিল যখন আমি নিজেই নিজেকে জানতাম না । আমি অর কাছে ঋণী । কি বলবো ওকে আমি ! ও বা এখন কি করবে আমার সাথে !
নাহ ! ও আমার জন্য অনেক কিছু করেছে । ও যদি আমায় বিয়ে করতে চায় তবে আমার ওকে মেনে নিতেই হবে । মিমের ব্যাপারে নুজুমকে জানানো উচিৎ ।
এসব ভাবতে ভাবতেই নিচে চলে গেলাম । সবাই একসাথে বসে আছে । ♥মেহেরিমা আমাকে দেখেই 'বাবাই' বলে ছুটে আসলো আমার কাছে ।
আমি ওকে কোলে নিয়ে সবার কাছে গেলাম । নুজুকে দেখলাম রান্না করছে । আমি বসে সবার সাথে গল্প করছি । হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো । মিম চলেগেল দরজা খুলতে ।
আরে এতো সিদ্দীক সাহেব !
> বাবা আপনি !
> হ্যা চলে আসলাম তৃনয় তোমার পরিবারের সাথে সময় কাটাতে ।(সিদ্দীক সাহেব)
> ভালো করেছেন বাবা । জেবীন বাবাকে রুম দেখিয়ে দে (জেবীনকে উদ্দেশ্য করে)। যান বাবা ফ্রেস হয়ে আসুন ।
সিদ্দীক সাহেব ফ্রেস হয়ে আসলেন । সবাই ব্রেক-ফাস্ট করতে বসে গেলাম । ব্রেক-ফাস্ট সেড়ে সবাই এক জায়গায় বসলাম । ♥মেহেরিমা আমার কোলে আর নুজুমতো আমার একহাত জড়িয়ে বসে আছে ।
> বাবা বল কি হয়েছিল সে দিন !(মা আমায় জিগ্গাসা করলো)
আমি বলতে সুরু করলাম ....
> তুমি বাড়ী থেকে বেড় করে দেওয়ার পরই মাসুমকে ফোন করে সব বলি আর সকালে বাড়ী আসতে বলি । ভাবছিলাম তোমরা যেহেতু রাগ করেছো তাই আজ রাতটা কোনো হোটেলেই কাটাই । বিশ্বাস করো তোমাদের ওপর বিন্দু মাত্র রাগ ছিলো না তোমারা ভালো করেই জানো আমার কখনো রাগ হয় না ।
হোটেলের দিকে যাচ্ছিলাম হঠাৎ মাথায় আঘাত করে একদল ছিনতাই কারীরদল তারা আমার ফোন,মানিব্যাগ আর অন্যান্য সব কিছু নিয়ে নেওয়ায় পরবর্তিতে সিদ্দীক সাহেব আমার পরিচয় বের করতে পারেন নি । তারপর তাদের কাছেই কেটে যায় এই ৫টি বছর ।
> আপনাকে যে কি বলবো বুঝতে পারছি না । আপনি না থাকলে আমার ছেলোটার যে কি হতো !(বাবা সিদ্দীক সাহেবের হাত ধরে কথাগুলো বললো)
> আরে কি বলছেন এটা আমার দায়িত্য ছিলো । আর হ্যা ও যেমন আপনাদের তৃষান তেমনি আমার তৃনয় মানে হচ্ছে ছেলেটা শুধু আপনাদের নয় ।(সিদ্দীক সাহেব)
এ নিয়ে কথা হচ্ছিলো হঠাৎ করেই নুজুম উঠে দৌড়ে রুমে চলে গেলো । আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না ওর এমন করার কারণ । আমি ♥মেহেরিমাকে জেবীনের কাছে দিয়ে চলে আসলাম নুজুমের কাছে । দেখি ও রুমে এসে কাদছে .....
> কি হলো এভাবে চলে আসলে ! আর কাদছো কেনো ?(কাধে হাত রেখে বললাম নুজুমকে)
ও আমাকে খপ করে জড়িয়ে ধরে কাদতে লাগলো ...
> আরে আমার পাগলি কাদছো কেন ?
> আমার কারনেই তোমার সাথে এতো বড় একটা ঘটনা ঘটে গেলো । আমার কারনেই তোমার এক্সিডেন্ট হয়েছিল । আমি যদি তোমায় সেদিন অবিশ্বাস না করতাম তবে এসব হতো না । সব কিছু আমার জন্যই হয়েছে (বলেই আরো জোড়ে কান্না শুরু করে দিল নুজুম)
> আরে পাগলি । এতে তোমার কোনো দোষ নেই । ভুলটা আমারই ছিলো । আমার উচিৎ ছিলো রিয়ার ব্যাপারে তোমায় সব বলে দেওয়া । তাহলে তুমি আর আমায় অবিশ্বাস করতো না । আমি সরি । (নুজুমের হাত ধরে)
> আরে এ কি করছো ! তোমার কোনো দোষ নেই । দেখো না আমি বা তোমায় কেমন ভালোবাসতাম এইটুকু আস্থা রাখতে পারি নি তোমার ওপর ।(নুজুম)
কথাগুলো নুজুম আমার বুকে মুখ লুকিয়ে কান্না করতে করতে বলছিল ।
> উহুম ..উহুম.. এখানে যদি ইমোশোনাল সিন শেষ হয়ে থাকে তবে আমার কিছু বলার ছিল (হঠাৎ করেই মিম এসে কথাগুলো বললো)
> কি বলবে বলো !
> এখানে না তুমি নুজুম আপুকে নিয়ে ছাদে আসো ।আমি ওখানে তোমাদের অপেক্ষা করছি (মিম কথাগুলো বলেই চলে গেলো)
মিম চলে যাওয়ার পর আমি নুজুমকে মিমের ব্যাপারে সব খুলে বললাম । মিম আমায় ভালোবাসে একথাটা শুনে যেন নুজুমের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো । ও বেশ চিন্তিত হয়ে পড়লো ।
> চলো ছাদে চলো ..
> হুম চলো (নুজুম)
আমি আর নুজুম ছাদে গেলাম । গিয়ে দেখি মিম এক কোণে দাড়িয়ে আছে । আমি ওকে ডাকদিলাম ..
> মিম ....
ও ব্যাস্ত হয়ে কি যেন করলো । মনে হয় চোখ মুছছিল ।
> ও তোমরা এসে গেছো !(মিম)
> বোন তুমি কাদছো ! (নুজুম)
> ও কিছু না আপু আমি ঠিক আছি ।(মিম)
> আমি জানি তুমি তৃষানকে ভালোবাসো । তুমি চাইলে ওর সাথে ঘড় করতে পারো আমি তোমায় বাধা দেবো না বোন । ওকেতো আমি চারটি মাস কাছে পেয়েছি তাই এই ৫টি বছর আমি এতোটা কেদেছি ওকে না পেয়ে আর তুমি তো ওকে ৫টি বছর খেয়াল রেখেছো সেখানে আমি বুঝি ওকে ছাড়া তুমি কেমন থাকবে ।(নুজুম)
> না আপু ! তৃষান শুধু আপনারই । আমি ওকে আপনার কাছ থেকে কেড়ে নিতে চাইনা । আপনি আমার বড়-বোনের মতো আমি কি করে বোন হয়ে বোনের সংসার ভাংতে পারি । আমি যা বলার জন্য আপনাদের ডেকেছি তা হচ্ছে , আমি এখান থেকে চলে যাচ্ছি আজই । আমি তৃষানকে ভালোবাসি না আমিতো ভালোবাসি #তৃনয়কে যাক অস্তিত্য আজ আর নেই । তৃষান আপনাকে অনেক ভালোবাসে । ওর উপর বিশ্বাস রাখবেন । ৫টি বছরে যখন অচেনা কোনো মানুষের বিশ্বাস নষ্ট করে নি তখন নিজের ভালোবাসার মানুষের বিশ্বাস কখনোই ও নষ্ট করবে না । আর তৃনয় ওহ সরি তৃষান ! আমরা সাড়া জীবন ভালো বন্ধু হয়ে থাকবো ঠিক আছে । আর নুজুম আপুকে আর কষ্ট দিয়ো না । ভালো থেকো তোমরা (মিম)
কথাগুলো বলেই দৌড়ে চলে গেলো মিম । আমি আর নুজুম ঠায় দাড়িয়ে আছি সেখানে । দুজনই নির্বাক । কি বা বলার আছে আমাদের । এ যেন নিয়তির এক নির্মম পরিহাস ।
আমরা সেখান থেকে নিচে চলে আসি । বিকেলে মিম আর সিদ্দীক সাহেব চলে যায় । তবে মিমের জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে । নিয়তি কতটাই নির্মম হয় !
কিছুদিন লাগলো সব কিছু কাটিয়ে স্বাভাবিক হতে ।এখন সব কিছু ভালোই চলছে । আমাদের ব্যাবসাগুলো আমি দেখি আর নুজুম একজন গৃহিনীর মতো বাড়ীর সবার খেয়াল রাখে । আর আমার যত্নতও আলাদা ।
অফিস থেকে বাড়ী ফিড়ছি ...
আজ একটু বেশী লেট করে ফেলছি । আমার সিনিয়র পেতনিটা হয়তো রেগে আছে কারণ ফোনটাও অফ ।
ফেড়ার পথে জেবীন ও ♥মেহেরিমার জন্য কিছু চকলেট নিয়ে নিলাম ।
আমার পেতনিটার জন্য কিছুই নেই নি । আমি জানি ওর রাগ কীভাবে ভাঙ্গাতে হয় ।
চলে আসলাম বাড়ী । কলিং বেল দিতেই দরজা খুলে দিলো নুজুম । আমি জানতাম পাগলিটা আমার অপেক্ষায় আছে ।ঘড়ে ডুকে প্রতিদিনের মতো নুজুমকে জড়িয়ে ধরে চুমু দিলাম না আজ ।হয়তো ভেবেছিল একটু রাগ ঝাড়বে আমার ওপর কিন্তু আমার এরূপ পরিবর্তন ও কখনোই আসা করে নি । আমি সোজা জেবীনের ঘড়ে চলে গেলাম কারন আমার কলিজাটাও ওখানেই রয়েছে ।রুমে গিয়ে দেখলাম দুজনেই ঘুমিয়ে গেছে ।সত্যি আজ অনেক লেট হয়ে গেছে । আমি চকলেটগুলো দুজনের বালিশের দুপাশে রেখে ফ্রেস হতে চলে আসলাম । ফ্রেস হয়ে খাওয়ার টেবিলে আসলাম দেখি নুজুম খাবার নিয়ে মন খারাপ করে বসে আছে ....
আমি বসে খাওয়া শুরু করলাম । আমি জানি নুজুম আমাকে রেখে খায়নি তবুও আমি নুজুমকে কিছুই বললাম না । আমার এরূপ কাজের ফলে নুজুম না খেয়ে রুমে চলে গেলো ।
নাহ এবার বেশী হয়ে যাচ্ছে মনে হয় ! আমি খেয়ে নুজুমের জন্য খাবার নিয়ে রুমে আসলাম ।
> কি হলো আজ খেলে না যে ?
> ....(চুপ করে মুখ ফিড়িয়ে বসে আছে)....
> এই খাবারগুলো খেয়ে নাও ।
> না আমি খাবো না । আমি না খেলে কার কি ? আমি খাবোনা ।(নুজুম)
> এই নাও হা করো আমি খাইয়ে দিচ্ছি (খাবার এগিয়ে দিয়ে)
> না আমি খাবো না । এখন আলগা পিরীত দেখানো লাগবো না (এই বার কেদেই দিলো নুজুম)
> এই নাটক বন্ধ করে হা করো তো (ধমক দিয়ে বললাম নুজুমকে)
আমি কখনো নুজুমকে ধমক দেই নি তাই একটু ভয় পেয়ে গেছে । তারপর চুপচাপ আমার হাতে খাবারগুলো খেয়ে নিলো । ওকে খাবার খাইয়ে উলটো দিকে ফিড়ে শুয়ে পরলাম ওকে কিছুই বললাম না । নুজুম এ বার শুয়ে শুয়ে কাদতে লাগলো । আমি ওকে থামালাম না ।
রাত ১১:৫০
নুজুমের দিকে ফিরে দেখলাম নুজুম বিছানায় নেই । আমি উঠে ওকে খুজতে লাগলাম । দেখি বেলকোনিতে কিসের যেন ছায়া দেখা যাচ্ছে । হ্যা নুজুমই এটা । ওখানে দাড়িয়ে দাড়িয়ে কাদছে । আমি গিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে নিলাম । ওর জন্য লুকিয়ে নিয়এ আসা শাড়ী আর একটা গোলাপ বেড় করে টেবিলে লুকিয়ে রাখলাম ।
এবার আমি বেলকোনিতে গিয়ে বললাম ...
> তুমি কাদছো কেন ! কি হয়েছে তোমার ?
> আমার একজন খুব আপন মানুষ আমায় পর করে দিচ্ছে।?(কাদতে কাদতে বললো নুজুম)
> কি ! কে সে ?
> থাক তোমার জানা লাগবে না । তুমি গিয়ে ঘুমাও (নুজুম)
> তুমিও আসো আমার সাথে
বলেই ওকে হাত ধরে টেনে ঘড়ে নিয়ে আসলাম । আরে কি করছো হাত ছাড়ো বলেই হাত ছাড়িয়ে নিলো ।
এর মধ্যেই লুকিয়ে রাখা শাড়ী আর ফুলটা আসতে করে হাতে নিয়ে হাটু গেড়ে বসে বলতে লাগলাম ,
'""এ সেই দিন
যখন তুমি এসেছিলে মোর ঘড়ে ,
এই সেই দিন
যখন তুমি নিয়েছিলে আমায় আপন করে ,
এই সেই দিন
যেদিন তুমি প্রথম আমায় নিয়েছিলে নিজের করে,
এই সেই দিন
যেদিন তোমার বাবা করে দিয়েছিল তোমায় আমায় এক করে ।
সেদিন হয়তো বলা হয়নি !
কিন্তু আজ বলছি ,
মনের গভীর থেকে বলছে ,
ভালোবাসি , ভালোবাসি , খুব বেশি ভালোবাসি আমার এই সিনিয়ার পেতনি বউটাকে'""
তাকিয়ে দেখলাম নুজুমের চোখদিয়ে অঝড়ে পানি পড়ছে । আমাকে বসা থেকে উঠিয়ে শক্ত করে জড়ীয়ে ধরলো ।
> তোমার মনে আছে সব !!(নুজুম)
> তোমার সাথে সম্পর্কিত সব কিছুই আমার কাছে ভোলার নয় ।
> কচু মনে থাকে তোমার ! আজ অফিস থেকে এসে আমায় চুমু দাওনি কেন ?(নুজুম)
> তোমায় এই সারপ্রাইজটার জন্য প্রস্তুত করছিলাম একটু 😂😂😂
> কুত্তা , হারামি জানিস আমি মড়েই যাচ্ছিলাম । আমি কত কষ্ট পেয়েছি কুত্তা একটা ।(বলেই আমার বুকে কিল মাড়তে লাগলো নুজুম)
> আমাল সিনিয়ার পেতনি বউটা বুঝি কষ্ট পেয়েছে ! আসো আদর করে দেই ।
কথাটা বলতেই নুজুম আমার পেটে মাড়লো জোড়ে এক ঘুশি ...
> ওরে মা গো ! ওরে বাবা গো ! ওরে বউ গো ! মড়ে গেলাম গো 😭😭😭
> আলে আলে আমাল বাবুতা বেশি ব্যাথা পেয়েছো ! আসো আদর করে দেই 😘(নুজুম)
> আদর করবে ঠিক আছে কিন্তু মাড়লে কেন ! ওরে কি ব্যাথারে বাবা । পেতনির কি জোড় হাতে । ওরে বাবা😭
> আরে আমি কি তোমার শুধু সিনিয়র বউ নাকি যে শুধু আদরই করবো । আমি হচ্ছি তোমার সিনিয়র পেতনি বউ । তাই আগে পেতনির মতো মাড়বো তারপর সিনিয়র বউয়ের মতো আদর করবো ।😊😊(নুজুম)
> তা হলে মনে হয় আমার একটা শুধু সিনিয়ার বউ আনতে হবে যে আমায় শুধুই আদর করবে ...
> তাই না দেখাচ্ছি দাড়াও (বলেই আমায় খাটে ফেলে দিলো)
> এই কি করছো ?
> আমার না একটা ছোট্ট ফাউল পোলা লাগবে😊😊(নুজুম)
> আমি ভুলেও সে কাজ করছি না । আমি এখনো মেহেরিমাকে সময় দিতে চাই ।
> তুমি ♥মেহেরিমাকে দেখো আমি পিচ্চি ফাউলটাকে দেখবো সমস্যা নাই 😊😊(নুজুম)
> তাহলে আমার কি হবে ! আমায় কে দেখবে ?
> কেন আমি তো আছি নাকি । বেশি কথা বলো না যা বলছি তাই আমার পিচ্চি একটা ফাউল পোলা লাগবে😊😊(নুজুম)
> আ.আমি কিছু করতে পারবো না 😣😣
> ঠিক আছে তোমার কিছু করা লাগবে না । যা করার আমি করছি😘😘😘😘
চলতে থাকুক এদের ভালোবাসা । চলেন পাঠক ভাইবোনেরা আমরা বিদায় নেই ।
((((((( পেতনিটার সংসারে ৩য় পক্ষকে আনলাম না)))))))
(((((((কেমন লাগলো গল্পটা অবশ্যই জানাবেন)))
# বউ_আমার_সিনিয়র_পেত্নি
# পর্ব_১২
✍Writer→ Md Abdul Aziz
নুজুম একদৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে আছে । ওর চোখ দুটো যেন গত পাঁচ বছরের না বলা কথা গুলোই প্রকাশ করতে চাইছে , প্রকাশ করতে চাইছে ৫টি বছরের সেই কান্নাগুলো যা সে একা একা কেদেছিলো আমায় মনে করে ।
আমি লক্ষ্য করলাম ওর চোখে বিন্দু জল জমেছে । হয়তো এগুলো এতোদিনের কষ্টের অবসানের জানান দিচ্ছে আবার হয়তো আমার ওপর তৈরি অভিমানের ।
ও আর বেশিক্ষন আমার সামনে থাকলো না । চোখ মুছতে মুছতে চলে গেলো নিজের রুমে । আমি ♥মেহেরিমা কে জেবীনের কাছে দিয়ে চলে গেলাম নুজুমের পিছু পিছু ।
রুমে ঢুকে দেখি নুজুম বিছানায় বসে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদছে । আমি ওর কাছে গেলাম ..
> নুজুম ...
> (চুপ করে শুধু কাদছে)
> বউ ! আমার বউ
> (কেদেই চলেছে)
> আমার সিনিয়র পেতনি বউটা কি আমার সাথে কথা বলবে না !
এবার নুজুম আমায় জড়িয়ে ধরে জোড়ে জোড়ে কাদতে লাগলো ।
> কাদছো কেন ! পাগলি একটা । আমি এসে গেছি তো (ওর চোখের পানি মুছে দিতে দিতে)
> (ও আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কেদেই চলেছে)
আমি ওর মুখটা আমার বুক থেকে উঠিয়ে চোখ মুছে দিয়ে কপালে আলতো করে চুমু দিলাম ...
> please কেদো না । আমার কষ্ট হয় ।
> কষ্ট হয় তাইনা ! ৫টি বছর প্রতিটি রাত কেদেছি তখন কষ্ট লাগেনি । ৫টি বছর কত সময় জানো ! কোথায় ছিলো এতো দিন তোমার এই ভালোবাসা ! একটি দিন কি আমায় মনে পড়ে নি !(ফুপিয়ে ফুপিয়ে কথাগুলো বললো নুজুম)
> আরে পাগলি আমার তো কিছুই করার ছিল না।
> কিছুই করার ছিলো না মানে ! একটা ভুল না হয় করেছি তাই বলে ৫টি বছর এভাবে কাদালে (কাদতে কাদতে নুজুম)
> আরে আমি পড়ে তোমায় সব বলবো এখন কান্না বন্ধ করো । না হলে কিন্তু আবার চলে যাবো ।
> চলে যাবে তাই না ! যাও চলে যাও । কে আসতে বলেছিল ! ৫ বছর যখন পেরেছি বাকি জীবনটাও কাটিয়ে দিতে পারবো ।(নুজুম)
> আচ্ছা তা হলে চলে গেলাম (আমি জানি নুজুম আমায় আটকাবেই । তাই হাটতে লাগলাম)
দরজা পর্যন্ত যেতেই নুজুমের চিৎকার ......
> তুই খালি এইরুম থেকে বেড় হো । তারপর এইরুম থেকে আমার লাষটাই পাবি শুধু । কেন বুঝিস না কত্তো ভালোবাসি । তুই কি বুঝিস আমায় ! (বলেই দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো নুজুম)
আমি ওর মাথায় হাতবুলিয়ে দিয়ে ....
> কোথাও যাবো না আমার পাগলিটাকে ছেড়ে । আর কাদতে দেবো না আমার পাগলিকে ।
> এইবার ছেড়ে গেলে দুনিয়াই ছেড়ে দেবো দেখিস (অনেক অভিমান নিয়ে বললো নুজুম)
আমি নুজুমের মাথাটা তুলে কপালে আলতো করে ভালোবাসার পরশ দিলাম..
> আর যাবো না কোথাও । তুমি যাও ফ্রেস হয়ে এসো । সবাই নিচে বসে আছে ।
নুজুমও আমায় একটা চুমু দিয়ে বললো তুমি যাও আমি আসছি ।
নুজুম ফ্রেস হতে চলে গেল । আমি নিচে আমার কলিজাটার কাছে চলে আসলাম ...
> বাবাই ..(♥মেহেরিমা)
> হুমম মামনি বলো
> আম্মু বলেছিল তুমি আমার জন্য অনেক চকলেট , পুতুল নিয়ে আসবে । তুমি কি আমার জন্য কিছুই আনো নি ।(♥মেহেরিমা)
> না বাবাই । আমি তোমাকে সাথে করে মার্কেট নিয়ে জাবো সেখান থেকে সব কিছু নিয়ে আসবো । তুমি যেটা পছন্দ করবে সেইটাই কিনে নিয়ে আসবো ।
> সত্যি বাবাই । তুমি খুব ভালো (বলেই জড়িয়ে ধরলো মেহেরিমা)
> হুমম মামনি আজ বিকেলে তোমার জন্য সব নিয়ে আসবো ।
> বাবাই ওনি কে ?(মিমকে দেখিয়ে বললো ♥মেহেরিমা)
> আমি তোমার আন্টি হই মামনি (মিম)
> তুমি আমার আন্টি ! তুমি আগে কোথায় ছিলে ?(♥মেহেরিমা)
> আমি তো তোমার বাবাইয়ের সাথে বাইরে ছিলাম মামনি ।(মিম)
এভাবেই মিম ♥মেহেরিমার সাথে কথা বলতে লাগলো । আমি চিন্তা করতে লাগলাম মিমের কথা ।
এরি মধ্যে নিচে চলে এলো নুজুম । খুব সুন্দর লাগছে ওকে । একটা সিম্পিল শাড়ী পড়ে এসেছে ও এতেই যেন ওকে অনেক মানিয়েছে । নুজুম সোজা রান্না ঘড়ে চলে গেলো । আমিও নুজুমের পিছনে গেলাম ।
> তুমি রান্না ঘড়ে কেন এলে ?
> আজ আমি নিজ হাতে তোমায় রান্না করে খাওয়াবো তাই । বিয়ের পরতো তোমায় রান্না করে খাওয়াতে পারি নি । তাই আজ থেকে অফিসের সকল দায়িত্য তোমার আর এই সংসারের কাজটা আমি বুঝে নিলাম । জানো কতো সপ্ন আমার , তুমি সকালে অফিসে যাবে , আমি তোমার টাই বেধে দেব , তুমি যাওয়ার আগে আমায় জড়ীয়ে ধরে আমার কপালে একটি চুমু খেয়ে যাবে । বাড়ীর কাজ করে তোমার পথ চেয়ে বসে থাকবো কখন তুমি আসবে । তুমি বাড়ী আসলে আমি তোমার বেগ নিয়ে নিব তুমি ঘড়ে ঢুকেই আবার আমায় সাড়াদিনের প্রাপ্য হিসেবে একটা চুমু দিবে । আমি একজন গৃহীনির মতো থাকবো । তোমার সেবা করবো , যত্ন নিবো । অথচো দেখো না বিয়ের পরই আমার একটা ভুলের কারনে ৫টি বছর তোমার থেকে দুড়ে থাকতে হলো (কথাটা বলেই আবার কেদে দিল)
> আলে আমাল বউতা আবার কাদছে কেন ! আমি এসে গেছিতো সব ঠিক হয়ে যাবে । কাদা বন্ধ করে রান্না করো আমি আজ তোমার হাতের রান্না খাব । আচ্ছা আমি এখন ♥মেহেরিমাকে নিয়ে বাইড়ে যাচ্ছি তুমি রান্না করো ।
> আচ্ছা সাবধানে যেও (নুজুম)
পাগলিটা একটু বেশী ভালোবাসে আমাকে ।
আমি ♥মেহেরিমা , জেবীন আর মিমকে নিয়ে বাইড়ে বেড় হলাম । সবার জন্য সপিং করে বাড়ী ফিরলাম সন্ধায় । বাড়ি ঢুকে দেখি নুজুম এখোনো রান্না ঘরে ।
আমি রুমেগিয়ে ফ্রেস হয়ে নিলাম । একটু পরেই ঘুমিয়ে পরলাম।হঠাৎ করে কপালে কারো শীতল ঠোটের ছোয়া পেলাম । ঘুম ভেঙ্গে গেলো । তাকিয়ে দেখলাম নুজুম আমার মাথাটা নিজের কোলে নিয়ে আমার মাথেয় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে । চারিদিক সান্ত মনে হয় অনেক রাত হয়ে গেছে । ঘড়ীর দিকে তাকিয়ে দেখলাম রাত ১টা বেজে গেছে .....
> একি এতো রাতে তুমি ঘুমাও নি কেন ??
> তোমাকে খাওয়ার জন্য ডাকতে এসে দেখলাম তুমি ঘুমিয়ে আছো তাই তোমার পাসে বসে তোমায় দেখছিলাম ।(নুজুম)
> আমায় ডাক দিলে না কেন ?
> ইচ্ছা করছিল না । ৫টি বছর এই প্রিও মুখটি আমার চোখের আড়ালে ছিল তাই আজ মন ভোড়ে দেখছিলাম ।(নুজুম আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে)
> তো মন ভড়েছে !!
> না স্বাড়া জীবন দেখলও ভোড়বে না । এখন ওঠো তোমার জন্য এতো কষ্ট করে রান্না করলাম আর তুমি ঘুমিয়ে যাচ্ছো !(নুজুম)
> আচ্ছা উঠছি । সবাই খেয়েছে ?
> হুমম । সবাই খেয়ে শুয়ে পরেছে । তুমি চলো ।(নুজুম)
> তুমি খেয়েছো ?
> না আমি তোমার সাথে খাবো (নুজুম)
> আচ্ছা চলো ফ্রেস হয়ে দুজন একসাথে খেয়ে নি ।
তারপর নুজুম আর আমি ফ্রেস হয়ে চলে গেলাম খাবার টেবিলে । সেখানে গিয়ে অবাক না হয়ে পারলাম না । আমার পছন্দের যত আইটেম আছে সব করা হয়েছে ভর্তা থেকে শুরু করে চিংড়ি মাছ ভুনা , পিঠা থেকে শুরু করে পায়েস পর্যন্ত সব ।
> এতো কিছু !!!!
> হ্যা সব তোমার পছন্দের খাবার । আজ তুমি সব খাবে ।(নুজুম)
> আমি জ্ঞান হাড়াবো ,
মড়েই যাবো ,
বাঁচাতে পারবে না কেও ।
> ওই চুপ নাটক বন্ধ করে চুপচাপ বসো আমি খাইয়ে দিচ্ছি (নুজুম)
আর কি করবো সমাজের নিয়ম সিনিয়রদের কথা সুনতে হয় । তাই চুপচাপ বসে গেলাম । নুজুম আমায় খাইয়ে দিলো আমিও নুজুমকে খাইয়ে দিলাম । খাওয়া-দাওয়া শেষ করে চলে আসলাম রুমে । এসেই ধপাস করে সুয়ে পড়লাম ...
ওরে বাবা ! বাপের জন্মেও এত্তো খাইনি । পেটটা ফেটেই যাচ্ছে ।
কি বা করতাম ? ও যেই লেবেলের গুন্ডি তাতো আপনারা যানেনই । আমি এখনো বাশর রাতের কথা গুলো ভুলতে পারিনি । যেই মেয়ে বাশর রাতে বরকে কেলাতে পারে সে কোন লেভেলের গুন্ডি আপনারাই চিন্তা করেন ।
বলতে বলতেই রুমে চলে আসলো নুজুম ......
> একি তোমার এ অবস্থা কেন !!??(নুহুম)
> নিজেই গিলিয়ে গিলিয়ে আমার এই অবস্থা করে এখন বলছে তোমার এই অবস্থা কেন !
> আমি কষ্ট করে রান্না করেছি আর তুমি খাবে না এটাকি হয় । বাদ দাওতো খুব ঘুম পাচ্ছে ঘুমোবো । (বলেই এসে আমার বুকে মাথা রেখে সুয়ে পরলো)
> আরে কি করছো ! একেই তো পেটের চাপে শ্বাস নিতে পারতেছি না । তার ওপর তুমি এভাবে শুলে আমার দম বন্ধ হয়ে যাবো ।
এবার শক্ত করে জড়ীয়েধরে ...
> যাক আমি আছিতো সমস্যা নাই । দম বন্ধ হয়ে গেলে আমি নিজে তোমায় দম দিয়ে দেব(নুজুম)
> কিভাবে !!!!
> এই ভাবে 😘😘😘
উমমমমমমমমমমমমম..........
পুরো পাঁচ মিনিট পরে ছারলো ......
> এই তোমার লিপিস্টিকটা না দারুন 😋😋
> আরো লাগবে নাকি !!!(নুজুম)
> হুমমম
> দাড়াও দিচ্ছি ।(নুজুম)
তারপরের টুকু কমুনা । আরে ভাই কমুনা মানে কমুনা এতো বেশী বোঝেন কে ।
সকালে ঠোটে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করছিলাম । চোখ খুলতেই দেখলাম আমার পেতনিটা ঠোট কামড়ে ধরে আছে ...
> আউউচচ । এইটা কি করলা ??
> কই কি করলাম ?(নুজুম মিটি হাসছে)
> কামড় দিলা কেনো ?
> আর কতো ঘুমাবে ? তাই তোমায় তুলছিলাম ।(নুজুম)
> তাই বলে এইভাবে !!
> হুমম । আজ এভাবে কাল অন্যভাবে । যাও এখন ফ্রেস হয়ে নিচে আসো (নুজুম)
আমি ফ্রেস হতে চলে গেলাম । হঠাৎ মনে পরলো মিমের কথা । মেয়েটা আমার বিপদের বন্ধু । ওকে নিয়ে আসলাম আর ওর তো খোজই নেওয়া হলো না । ও তো আমায় ভালোবাসে । ওকে নিয়ে এখন কি করবো বুঝেউঠে পারছি না ।
ফ্রেস হয়ে নিচে গেলাম ..........
চলবে------------>>>>>>>>>
গল্প পরের পর্বে শেষ করে দিবো তাই পাশে থাকবেন
# বউ_আমার_সেনিয়র_পেত্নি
✍Writer→ Md Abdul Aziz
# পর্ব_৯_১০_১১
>তুই আমার মেয়ে হয়ে কেমনে এই কথা গুলা বলতে পারলি ছেলে টাকে
> কি বাবা ঠিক বুজতে পারিনায়।
>আমার গাড়ির সাথে দাক্কা না খেলে আজ ছেলে টাকে এখানে এই পরচথিতিতে আস্তে হতনা
>বাবা আসলে আমি বুজতে পারিনি আমি এখন এই তৃনয় এর কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিব
>নাহ এখন যাওয়া লাগবে না।
>মা তুই পরে এক সময় বুজিয়ে বলিস এখন হয়ত তৃনয় এর মনটা ভাল না।
>ঠিক আছে বাবা
>ছেলেটা খেতে ও আসলোনা
>বাবার কথা সুনে সত্যি অনেক খারাপ লাগছে (মনে মনে)
এই দিকে আমি ছাদের এককোনে ভাবতেছি আমি কেন এখানে তাদের অসান্তির কারণ হয়েছি না আজকে চলে যেতে হবে। কিন্তু কোথায় যাবো কি করবো কিছুইতো মনে নাই
এমন সময় মিম কেন জানি ছাদে উঠে আর ছাদে উঠে আমাকে দেখে ছাদের কোনে তাই সেও আমার কাছে এলো আর বলতে শুরু করলো
>তৃনয় আসলে আমি দুঃখিত
>না ঠিক আছে আপনার জায়গায় অন্য কেউ হলেও তাই বলত😒
>সুনলাম আপনি নাকি আজকে চলে যাবেন😖??
>হুম এখানে থেকে তোমাদের কেন ঝামেলা বাড়াবো😞
>আসলে না গেলে হয়না
,
আমি কিছু না বলে ওখান থেকে আমার রুম চলে আসলাম।
সব কিছু সকালে গুছিয়ে রাখছিলাম তাই আমি সব কিছু নিয়ে যখন বের হবো সেই সময় মিম আসে আমার সামনে
>আপনি কি আমাকে এখনও ক্ষমা করেন নি
>আরে না আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি😊
>তাহলে চলে যাচ্ছেন কেন।আপনি যেতে পারবেন না ব্যাস।
>আমার তো কিছু মনে নেই আবার কই যাবো সেটাও জানি না এখানে থেকে যাই যত দিন না মনে করতে পারছি সব কিছু (মনে মনে ভাবছি)
এই দিকে নুজুম প্রত্যেক রাতে জায় নামাজে আল্লাহর কাছে দুহাত তুলে কাদে আমার জন্য আর
>আমার জন্য সব কিছু হলো কেন করলাম এটা আমি😭(মনে মনে) কাদতে কাদতে ভাবতেছ
নুজুম এর একটা পরির মতো বাচ্চা হয়েছে আমার তাহ ভাবনার বাইরে.......
৫বছর পর
এখন আমি রোজ অফিফ যাই। আর অফিস করে প্রতিদিন এর মতো বাসা এসে কলিং বেল বাজাতে
>মিম দেখতো কে এসেছে..!![মিম এর আব্বু]
>আচ্ছা বাবা (হাটতে হাটতে বলে দরজার সামনে মিম)
>এতো লেট করলে কেন.??? (আমি)
>এতপক্ষন অফিসে কি করলে
>আজকে একটা নিউ প্রজেক্ট নিয়ে ভায়ার দের সাথে কথা বলে অনেক কষ্টে কাজ টা পেয়েছি তাই অনেক দেরি হয়েগেলো
>হুম বুজছি এখন চলো.........
মিম এর সাথে আমার অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব হয়ে গেছে
কিন্তু ৫ বছরের বন্ধুত্ব তাই মিম আমাকে নিয়ে একটু বেশি ভেবে ফেলছে
এইদিকে নুজুম প্রতি রাতে আমার ছবি বুকে নিয়ে কান্না করে তাই আমার ছোট পরিটা আম্মুকে বলতেছে
>আম্মু তুমি কাদ কেন বাবাই কি কাললে আসবে
>না আম্মু তোমার বাবাই কাজে বাইরে গেছে কাজ শেষ করে তোমার জন্য অনেক চকলেট আর টেটিবিয়ার নিয়ে আসবে ( নুজুম আমার পরিটাকে মিথ্যা বলে সান্তনা দিলো)
এ দিকে আমি বাসা থেকে এসে ঘুম গেছি তার কোনো হুস নাই সেই সময় কে জন ডাকতেছে
>সাহেব তোমার ঘুম কি উঠবেন আজকে নিউ প্রজেক্ট এর কাজ করতে চাইছিলেন
>কয়টা বাজে এখন (চোখ কচলাতে কচলাতে)
>৯.৩০ বাজে তাড়াতাড়ি উঠো
>আগে ডাকদিবানা ধুর ভাল লাগেনা (তাড়াতাড়ি উঠতে উঠতে)
>তোমাকে কখন থেকে ডাকতেছি দেখ চা ও ঠান্ডা হয়ে,, যাচ্ছে নাও খেয়ে নাও
"এখন মিম আমার অনেক খেয়াল রাখে আর মিম এর আব্বু সব কিছু আমাকে বুজাই দিয়ে এখন রিলাক্স এ আছে,
অফিসে কাজ করছিলাম এমন সময় কে যেন কল দিলে ফোন বের করে দেখি মিম কল দিয়েছে
>আজকে তাড়াতাড়ি বাসায় আসো (মিম)
>কেন কোন জরুরি কাজ আছে নাকি.???
>না তুমি একটু তাড়াতাড়ি বাসায় আসবে একটু শপিং করতে হবে
>আজকে হঠাৎ শপিং কেন..??
>আমার কাজিন এর বিয়ে কালকে তাই...!"
>আচ্ছা মেরি ডাইনি আমি আসতেছি☺
>👿অই কি বললে
>না কিছুনা
বলে ফোন কেটে দিলাম আর (মিম মনে মনে বলতেছে)
ফোন কাটচো ঠিক আছে তাড়াতাড়ি আসলে আমি খুশি😍
বাসায় আসে কলিং বেল দিতেই মিম এসে হাজির মনে হয় দরজার কাছেই ছিলো
>তুমি আসছ
>তোকি আমি কখন ও কথা দিয়ে কথা রাখিনি মনে হয়
>এই আমি কি তোমাকে কখন ওই কথা বলছি নাকি
>তোমার কথায় বুজা জায়
>এখন চলো বাবা তোমাকে ডাকতেছে
>ঠিক আছে যাচ্ছি বলে মিম এর আব্বুর রুম এর দিকে যাচ্ছি
>(সিদ্দিক সাহেব মানে মিম এর বাবার রুম এ ডুকে)
বাবা কিছু বলতে চাইছিলেন কি
>হুম বাবা কালকে মিম এর বোন এর বিয়ে তাই তোমাকে ওর সাথে যেতে হবে
>বাবা আমার অফিসে নিউ কাজ চলতেছে তাই আমি যেতে পারবোনা
এমন সময় মিম এসে
>আব্বু কালকে অসিফে কাজ করবে তুমি আমার সাথে যাচ্ছ মানে যাচ্ছ(মিম)
>তুমি বুজতেছনা নিউ কাজ বাবা এগুলা পাবেনা
>আচ্ছা বাবা তুমি কালকে না গেলে কিছু ক্ষতি হবেনা (মিমের আব্বি)
এখন মিম কে নিয়ে শপিং করে বিয়ে বাড়িতে গেলাম
।। চলবে
# বউ_আমার_সিনিয়র_পেত্নি
✍Writer→ md abdul aziz
# পর্ব_১০
ব্রেক-ফাস্ট করে চলে এলাম বিয়ে বাড়ীতে । এটাও বেশ বড় বাড়ী আর এখন সুন্দর করে সাঁজানোর ফলে বাড়ীটাকে অস্থীর লাগছে । আমি গাড়ী পার্ক করে এসে দেখি মিম আমার জন্য দাড়ীয়ে আছে ।
> কি হলো ! ভিতরে যাবে না ?
> হুমম তোমার জন্যই দাড়িয়ে আছি । চলো ভেতরে চলো । আর হ্যা একটা কথা ভুলেও কোন মেয়ের লগে টাংকি মারবানা । তাইলে অবস্থা টাইট করে ফেলবো ।(মিম)
> আমি কার সাথে টাংকি মারবো আবার ! আমার ওসব ভালোলাগে না ।
> হুমম গুড । সব সময় আমার পাসে থাকবা । বুঝলা ?(মিম)
> যথা আজ্ঞা ....
তারপর মিম আমাকে নিয়ে বিতরে ঢুকলো । ও আমার হাত ধরে আছে যেন আমি কোন ছোট বাচ্চা । হাত ছাড়লেই হাড়িয়ে যাবো । যাইহোক ওর বোনের বিয়ে আর বিয়ে বাড়ী আর যাই হোক মেয়েদের অভাব নেই । আমি তো দেখতে লাগলাম ভাই । কত সুন্দর সুন্দর ময়দা সুন্দরি । আহা যেন পুরো ময়দার বস্তা ।
> ওই মেয়েদের দিকে কি হ্যা ?(কলার ধরে মিম)
> ক.ক.ই নাতো । আমি তো বাড়ী সাজানোটা দেখছিলাম ।
> ও আচ্ছা ! আমাকে কি দেখে মনে হয় আমি বাড়ী থেকে ফিডার খেয়ে এসেছি ?(মিম)
> কই নাতো ! কোথাও তো লেগে নেই । আর বাড়ী তুমি ফিডার পাবে কোথায় ?
> ঔ চুপ । মেয়েদের দিকে তাকিয়ে ছিলি আমি কি কিছুই বুঝিনা ?(অনেকটা ধমকের স্বড়ে মিম)
> আচ্ছা সরি । আর তাকাবো না ।
> তাকাবে না মানে তোমার যত মন চায় তুমি ততদেখবা তবে সেটা সুধুই আমাকে ।(কিছুটা লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে মিম)
> মানে ....!
> মানে তোমার বোঝা লাগবে না চলো তো ।(মিম)
এরপর মিম আমায় এক এক করে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো । আজ যার বিয়ে তার নাম নীলিমা অথ্যাৎ মিমের বোনের নাম । মিম তার কাজিনদের সাথে ব্যাস্ত তাই আমি ওর কাছ থেকে সড়ে গিয়ে একটু ফাকা যায়গায় বসলাম ।
বিয়ে বাড়ীর কোলাহল , এ আনন্দ যেন আমায় কিছু মনে করিয়ে দিতে চাচ্ছে । কিছু বলতে চাইছে আমাকে কিন্তু তবুও কিছু মনে আসছে না ।
আমি মনে করার চেষ্টা করছি বসে বসে এমন সময় একটা মেয়ে এসে .....
> আমি কি এখানে বসতে পারি ???(মেয়েটি)
> অবস্যই ।
> আচ্ছা আপনাকে তো ঠিক চিনলাম না ?(মেয়েটি)
> (আমি তো নিজেই নিজেকে চিনি না.....মনে মনে) আমি তৃনয় । মিমেরর সাথে এসেছি ।
> মিম কি হয় আপনার ?(মেয়েটি)
> (কি বলবো ভেবে পাই না তাই না পেড়ে বললাম)আমি মিমের বডিগার্ড ।
> ও আচ্ছা.ভালো কথা । তো একা একা বসে কি ভাবছেন !!!(মেয়েটি)
> না কিছু না । এমনি ভালো লাগছিলো না তাই ।
> ও আমি সাদিয়া । মিম আমার কাজিন হয় ।(মেয়েটি)
> ও আচ্ছা ...
এভাবেই কথা হতে থাকে আমার আর সাদিয়ার । তা দেখে তো মিমের গায়ে পুরো ফোসকা পড়ে গেলো ।(আসলে চার বছর এক সাথে থাকলে যে কোনো মানুষেরই সম্পর্ক আর শুধু মাত্র বন্ধুত্বের মধ্যে শীমাবদ্ধ থাকে না মিমের ক্ষেত্রেও তার বিপরিত ঘটেনি)
> ঔ সাদিয়া তুই এখানে কি করছিস ?(আমার কাছে এসেই মিম)
> না মানে ভালো লাগছিল না তাই ওনার সাথে একটু গল্প করছিলাম।(সাদিয়া)
> মিম একটু এদিকে আয় না (মিমের হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে যায় সাদিয়া)
> কি হইছে ? এখানে টেনে আনলি কেন ?(মিম)
> শোন না আমার না তোর বডিগার্ডটাকে খুব পছন্দ হয়েছে । তুই ওর সাথে আমার একটু লাইন করিয়ে দিবি !please (সাদিয়া)
> না এ কখ্যনো হতে পারে না (কিছুটা চিৎকার করে মিম)
> কেন ? কেন হতে পারে না ?(সাদিয়া)
> কারন ও তোর হবু দুলাভাই লাগে ।(মিম)
> মানে ??(অবাক দৃষ্টিতে সাদিয়া)
> মানে হচ্ছে ওর সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে ।(মিথ্যা বললো মিম)
> তুই তোর বডিগার্ডকে বিয়ে করবি !!(সাদিয়া)
> হ্যা করলাম সমস্যা কি ?(মিম)
> তুই দিলি আমার সব কিছুতে পানি ঢেলে । দুররর ভালো লাগে না (বলেই সাদিয়া চলে গেলো।মিম এবার আমার কাছে এসে .........)
> ঐ তোকে বলছিলাম না সবসময় আমার সাথে থাকতে ???(অনেকটা রেগে মিম)
> তুমিতো তোমার কাজিনদের সাথে ব্যাস্ত ছিলে তাই ভাবলাম এখানে এসে বসি .....
> তাই বলে তুই এখানে এসে মেয়েদের সাথে লাইন মারবি !!(রাগের চোটে এবার কলার ধরে বললো মিম)
> আরে তুমি রাগ করছো কেন ? তুই তুই করে বলছো কেনো ?
> তো কি করে বলবো ? এখন থেকে আমার সাথেই থাকবি । কোন মেয়ের দিকে তাকাবি না । যা বলার আমাকে বলবি ।(মিম)
>.................
> কি হলো কথা বলছিস না কেন ?(মিম)
> কি বলবো আমি !!!
> চুপ করে থাকলে দাঁত ভেঙ্গে ফেলবো । তুই আমার সাথে কথা বলবি সব সময় (মিম)
> আচ্ছা ঠিক আছে ।
> আচ্ছা চল ভেতরে চল .....(মিম)
আমি বা কি করবো ! বাঁশকলে পরেছি । এবার আমার ডানহাতটা এমন জড়িয়ে ধরে রেখেছে যেন আমরা স্বামি-স্ত্রী ।বিয়ে বাড়ির সবাই যেন আমাদের দিকেই দেখছিলো ....
> এই মিম ! এভাবে ধরে রেখেছো কেন ? সবাই কি ভাবছে বলতো !
> কে কি ভাবছে তা জেনে তোমার কি লাভ ! চুপচাপ থাকোতো (এবার হয়তো রাগ কমেছে মিমের)
আমি চুপচাপ ওর কান্ডগুলো দেখে যেতে লাগলাম । ওকে না করলে বিয়ে বাড়িতেই ছিচুয়্যেশন ক্রিয়েট করতে পারে । ও আমাকে ওভাবে ধরে রেখে ওর কাজিনদের কাছে নিয়ে গেল ......
আমাদের এ অবস্থা দেখে ওর কাজিনরা হাসছে ....
> মিম ওনি কে রে .??(সবাই একসাথে)
> ইনি হচ্ছে তোদের হবু দুলাভাই (মিম)
মিমের কথা শুনে যেন আশমান থেকে পরলাম ....
আমি মিমের কানে কানে বললাম "কি বলছো এসব?"
"যা বলছি চুপচাপ শুনে যা না হলে কিন্তু খারাপ কিছু করে ফেলবো"বলেই আমার পেটে হাতের কনুই দিয়ে একটি গুতো দিলো মিম ।
> কি গো দুলাভাই ! আমার বোনটাকে কি বলছো ?(ওদের মধ্য থেকে একজন)
> কিছু নাগো । বলছিলাম আমার শালিকাগুলো খুব সুন্দরি । আমার ভালোই খাতির যত্ন করবে ।
> তাতো অবস্যই করবো গো দুলাভাই । আমরা যদি না করি তো কে করবে গো (মিমের কাজিনরা)
কথাটা বলতেই সবাই হাসতে লাগলাম । মিমের দিকে চেয়ে দেখি কিং-কোবরার মতো ফোস ফোস করছে ।
> কিছু বলবে !!?(মিমকে উদ্দেশ্য করে)
ও কোন কথা না বলেই আমাকে ওখান থেকে নিয়ে গেলো ।
> মেয়ে দেখলেই খালি লুচুমি করতে ইচ্ছা করে তাই না ! আর যদি একটা মেয়ের সাথে কথা বলেছিস তবে তোকে খুন করে ফেলবো (অনেক রাগের সাথে কথাগুলো বললো মিম)
আমি আর কি করবো শান্ত ছেলের রূপ ধারন করলাম । আর এবার মিম আমায় আরো নজরে রাখতে শুরু করলো ।
বিয়ে বাড়ী অানন্দে চারিদিক মেতে আছে । এদিকে বর আসার সময় হয়ে গেছে । আমি আর মিম বসে আছি কনের পাশে ।
বর আসার সময় পেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু বর আসছে না ।আসতে আসতে বিয়ে বাড়ীর সবাই যেন চিন্তিত হয়ে পরলো । বিয়ে বাড়ীর এই চিন্তিত পরিবেশ আমার কাছে যেন অতি চেনা , আমার কেন যেন মনে হচ্ছে আমি আগেও এ পরিবেশের সাথে পরিচিত ।
খুব মাথা ব্যাথা করছে ...
> মিম আমার খুব মাথা ব্যাথা করছে ..
> কি হয়েছে তোমার । এমন করছো কেনো ?(মিম চিন্তিত হয়ে পরে)
> মাথায় কেমন যেন লাগছে অসহ্য ব্যাথা করছে ।
হঠাৎই একজন লোক এসে বললো বর নাকি পালিয়েছে ।
এবার মাথায় আরো চাপ পরতে শুরু করে । হ্যা হ্যা আমার সাথেও এমন ঘটেছিল হ্যা এমনটা ঘটেছিল । চোখের সামনে পুরোনো স্মৃতিগুলো ভেসে উঠতে থাকে .....
মনে হতে থাকে আমার নুজুমের কথা । প্রচন্ড মাথা ব্যাথার কারনে সেখানেই জ্ঞান হাড়াই ............
# বউ_আমার_সিনিয়র_পেত্নি
✍Writer→md abdul aziz
# পর্ব_১১
বিয়ে বাড়ীতেই জ্ঞান হারাই । আমার এ অবস্থায় মিম অনেকটা বিচলিত হয়ে পরে । ও বিয়ে বাড়ী ছেড়েই আমায় হসপিটালে নিয়ে যায় ।
টানা ৪ ঘন্টা অজ্ঞান থাকার পর জ্ঞান ফেড়ে আমার । তাকিয়ে দেখি মিম আমার পাশেই বসে আছে ।চোখ ফুলে গেছে হয়তো কান্না করেছে ........
> মিম ...
আমাকে কথা বলতে দেখেই ...
> এই তুমি ঠিক আছোতো ? কি হয়েছিল তোমার ? এতো খারাপ লাগছিল একবার বলতে পারতে তো ? এখন কেমন লাগছে তোমার ?(মিম)
> আরে একটু ঠান্ডা হও । আমি ঠিক আছি । মিম আমার সব মনে পর গেছে ।
> সত্যি !!! (মিম)
> হুমম ।
> আজ আমি অনেক খুশি ।
>জানো আমি তোমায় অনেক ভালোবাসি । তোমায় নিজের করে পেতে চাই কিন্তু তুমিতো নিজের সম্পর্কে কিছুই জানতে না তাই তোমায় কি করে বিয়ে করতাম । এখন যখন তোমার সব কিছু মনে পরেছে তাই আজই আমি ,তুমি আর বাবা তোমার বাড়ী যাব । সেখানে বাবা আমাদের বিয়ের কথা পাঁকা করে আসবে (অনেকটা হাসি মুখে মিম)
মিমের কথাগুলো শুনে মূহুর্তের মধ্যেই মন খারাপ হয়ে গেল আমার ...
> কি হলো মন খারাপ করে আছো কেন ??(মিম)
> মিম তোমাকে একটা কথা বলার ছিল !!
> হ্যা বলো (অধির আগ্রহের সাথে মিম)
> আসলে.আসলে আমি বিবাহিত ।
একথাটা শুনে যেন মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো মিমের । চার বছরে তিল তিল করে সাঁজানো সপ্নগুলো যেন নিমিশেই শেষ হয়ে গেল মিমের....
> কি বলছো এগুলো ! আমি বিশ্বাস করি না (মিম চোখের কোনে জল নিয়ে)
> আমি সত্যি বলছি আমি বিবাহিত । (তারপর নুজুমের সাথের কথা সব বললাম আমি মিমকে)
> খুব ভালোবাসো না নুজুমকে !!(মিম)
> হুম অনেক । ওই আমার সিনিয়র পেতনি বউ ।
> আমি দেখা করতে চাই নুজুম আপুর সাথে (মিম)
> ঠিক আছে চলো আমরা আজই খুলনায় যাবো ।
এরপর হসপিটাল থেকে বেরিয়ে গাড়ী নিয়ে রওনা হোলাম খুলনার উদ্দেশ্যে । রাস্তায় মিম আমার সাথে একটিও কথা বললো না । আমি খেয়াল করলাম ও মাঝে মাঝে আমায় দেখছে আর নিজের চোখ মুসছে । আমার কি বা করার আছে ! এর জন্যতো পরোক্ষ ভাবে আমি দায়ী ।
লম্বা সময়ের পর পৌছালাম আমার প্রিয় শহরটাতে । আমার সেই চিরচেনা শহরটায় । গত ৫ বছরে অনেকটাই পালটেছে এলাকাটা । বাড়ী চিনতে একটু কষ্ট হচ্ছিলো বটে তবে চিনে নিয়েছিলাম । বাড়ীটা আগের মতোই আছে । খেয়াল করলাম বাড়ীর সামনে ছোট্ট করে একটা ফুলগাছের বাগান তৈরী করা হয়েছে ।
আমি গিয়ে কলিং বেল বাজালাম । কেও আসছে না তাই.আবার বাজালাম ।
এবার দরজা খুললো ।দরজা খুলতেই দেখি দাড়িয়ে আছে ...
> মা .....
ঠাসসসসস
> মাগো
ঠাসসসস
> তুই একদম আমার সাথে কথা বলবি না । আমি তোর মা নই ।(মা)
> মা আমি তোমায় সব বলবো তুমি আমার উপর রাগ করো না please
এবার মা আমায় জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলো ....
> এতোদিন ! ওতোদিন পর তোর আসার সময় হলো ? এতো রাগ তোর ! তুইতো কখনো রাগ করতিস না তবে এমন কেন করলি বল ? ৫টি বছর ! আজ ৫টি বছর পর তুই ফিরে আসলি । আমাদের খবর তো কিছুই জানিস না , কেমন আছি বেঁচে আছি কি মড়ে গেছি আরে আমাদের কথা বাদ দে । বৌমাতো এই ৫টি বছর পাথড়ের মতো ছিলো । আরে তুই কি জানিস তোর একটা মেয়েও আছে ?(অনের অভিমান , কষ্ট নিয়ে একদমেই কথাগুলো বললো মা)
> আমার মেয়ে ! সত্যি বলছো আমার মেয়ে ?কোথায় ও ,নুজুম কোথায় , জেবীন কোথায় ?
> কে এলো গো ?(বাবা রুম থেকে বেড়োতে বেড়োতে)
> দেখো না কে এসেছে !(মা বাবাকে উদ্দেশ্য করে)
বাবা আমাকে দেখেই
ঠাসসসস
> কোন কান্ড-জ্ঞান কি নেই তোর । রাগারাগী করে এত্তোগুলোদিন দুরে ছিলি একটিবার ফোন করে তো খোজ নিতে পারতি । আমাদের জন্য না হয় বৌমার জন্য হলেওতো একটি বার ফোন করতে পারতি ।(বাবা)
> আব্বু আমি ফোন করার অবস্থায় ছিলাম না । কিভাবে করতাম ?
> কি হয়ে ছিল তোর ?(মা)
> আরে সব কথা কি দরজায় দাড়িয়েই করবে নাকি ?ছেলেটাকে ঘড়ে আসতে দিবা না (মাকে উদ্দেশ্য করে বললো বাবা)
> ও হ্যা আয় বাবা আয় (মা)
এবার মার চোখে পড়লো মিম । মিম এতোক্ষন নিরব দশ্যকের মতো দাড়িয়ে ছিল কি বা বলতো ও ।
> ও কেরে বাবা (মা)
> মা ও হলো মিম । তোমাকে পরে বলবো সব আগে ভিতরে আসতে দিবা । অনেক বড় জার্নি করে আসলাম ।
> হ্যা আয় ঘড়ে আয় । আসো মা তুমিও আসো(মিমকে উদ্দেশ্য করে)(মা)
> যাও তোমরা ফ্রেস হয়ে আসো (বাবা)
মিমকে ওর জন্য একটি রুম দেখিয়ে দেওয়া হলো । আমি আমার আগের রুমটায় গেলাম ।
রুমটা খুব সুন্দর সাজানো যেন প্রতিটা জিনিসই খুব যত্ন করে রাখা হয় এখানে । দেয়ালে একটি ছোট মেয়ের ছবি দেখতে পেলাম একদম পড়ীর মতো দেখতে (পরীর মতো বললে ভুল হবে একদম আমার নুজুুমের মতো আর নুজুমও পরী থেকে কম কোথায়) ।
ছবিটি আলতো করে ছুয়ে দিলাম । খুব মায়া কাজ করছে ছবিটিতে । ছবিটা রেখে হাটলাম আলমারির দিকে । আলমারী খুলে দেখলাম আমার সকল জিনিস পত্রগুলো অতিযত্ন সহকারে সাজানো রয়েছে । আমি জানি এটা নুজুমের কাজ । পাগলিটা আমায় অনেক ভালোবাসে ।
আমি ফ্রেস-হতে চলে গেলাম । ফ্রেস হয়ে নিচে গেলাম । মা রান্না করছে আমার জন্য । আমি মায়ের কাছে গেলাম .....
> মা নুজুম কোথায় ?
> ওতো অফিসে । আমি ওকে খবর দিয়েছি ও আসছে ।(মা)
> আমার মেয়ের কি নাম রেখেছো মা তোমরা ?
> তোর মেয়ের নাম আমরা নয় বৌমা রেখেছে । তুই চলে যাওয়ায় তোর দেওয়া নামর তোর মেয়ের নাম রেখেছে ♥মেহেরিমা ।(মা)
> মা ও কোথায় .???
> ওকে নিয়ে জেবীন একটু বাইড়ে গেছে । এখনি চলে আসবে (মা)
বলতে বলতেই কলিং বেল বেজে উঠলো ...
আমি দরজা খুলে দিলাম । দরজা খুলতেই জেবীন আমায়. জড়িয়ে ধরলো ...
> কই ছিলি ভাই তুই । তোর সাথে তো মা আর ভাবির রাগারাগি হয়েছে তবে তুই কেন আমাকেও ছেড়ে চলে গেলি বল .?(কান্না করতে করতে জেবীন)
> আমি তো কোথাও যাইনি দেখ আবার ফিরে এসেছি ।
> আর কক্ষোনো এমন করবি না । জানিস ভাই তুই চলে যাওয়ার পরে আমি কাওকে জালাতে পারতাম না , কেউ রোজ সন্ধায় আমার জন্য চকলেট আনতো না । জানিস তোকে কত্তো miss করই আমি ?(জেবীন এখনো কান্না করছে)
> সরি ভুল হয়ে গেছে আর এমন করবো না ।
> বাবাই তুমি শুদু ফুপির সাথেই কথা বলবে আমার সাথে কথা বলবে না ?(♥মেহেরিমা)
আমি ♥মেহেরিমাকে বুকে জড়িয়ে কটা চুমু খেয়ে বললাম
> হ্যা মামনি । আমি আমার মামনির সাথে কথা বলার জন্যই তো এসেছি । মামনি তুমি আমায় চিনলে কিভাবে ?
> আমি আম্মুকে দেখেছি তোমার ছবি নিয়ে কান্না করতে তখন আমি আম্মুর কাছ থেকে শুনেছি । বাবাই তুমি কি আবার আমাদের ছেড়ে চলে যাবে ? তুমি আর যেয়ো না বাবাই ।(♥মেহেরিমা)
>না মামনি আমি আর কোথাও যাবো না তোমাকে ছেড়ে।
(ওর কথাগুলো শোনে চোখের পানি আটকে রাখতে পারলাম না । নিয়তি আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে ৫টি বছর । তবুও তার ওপর আমার কোনো অভিযোগ নেই কারণ সে আবার আমায় সব কিছু ফিড়িয়ে দিয়েছে)
আমি ♥মেহেরিমাকে কোলে নিয়ে ছোফায় বসলাম । জেবীন ওর রুমে চলে গেল । আর এর মধ্যেই মিম ফ্রেস হয়এ নিচে চলে এলো । মিমকে ♥মেহেরিমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলাম । মেহেরিমা আমার কোলে বসেই মিমের সাথে কথা বলছে ।
এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠলো । মিম গিয়ে দরজা খুলে দিল । নুজুম এসেছে ।
আমি নুজুমের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম ।
কতোটা শুখিয়ে গেছে ও , চোখের নিচে কালো দাগ হয়ে গেছে ।
আমি দেখলাম ও আমার দিকে এক মায়াময়ী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । ওর চোখগুলো যেন আমায় কিছু বলতে চাইছে । অনেক কথা লুকোনো ছিল ওর চোখ দুটোয় । হঠাৎ করেই কয়েকবিন্দু নোনাজল গড়ীয়ে পরলো ওর চোখ থেকে । ও আর আমার সামনে না থেকে চোখ মুছতে মুছতে নিজের রুমে চলে গেল........
চলবে------------->>>>>>>
চলবে--------------->>>>>>
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Website
Address
Hathazari
Chittagong
