asthma relief

asthma relief

Share

আপনার সুস্থতা আমাদের সফলতা

12/03/2023

লেটুস পাতার উপকারিতা

এ পাতায় নিয়মিত খেলে বার্ধক্য আসে দেরিতে ত্বকের বলিরেখাও পড়ে না। ঠাণ্ডাজনিত অসুখ হাঁচি, কাশি, কফ, হাঁপানি ও ফুসফুসের ইনফেকশন দূর করতে সালাদে প্রতিদিন লেটুসপাতা খেতে পারেন। * কাঁচা বা ভাজা লেটুসপাতার সালাদ রক্ত পরিষ্কার করে, হৃৎপিণ্ডের শিরা-উপশিরার দেয়ালে চর্বি জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।

12/03/2023

মূত্রনালির যে কোন সংক্রমণে, রক্তপিত্তে, পেট ফাঁপায়, শিশুদের পেট ব্যথায়, মৃগী রোগীদের পাথরকুচির রস খাওয়ানো হয়। মূত্র পাথর সারিয়ে দিতে সক্ষম পাথরকুচি। এ ছাড়া ব্রণ, ক্ষত ও মাংসপেশী থেঁতলে গেলে, বিষাক্ত পোকায় কামড়ালে এই পাতার রস আগুনে সেঁকে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

11/03/2023

নিয়মিত থানকুনি পাতার রস (Centella Asiatica) খেলে ব্লাড ভেসেলের যে দেওয়াল রয়েছে, তার ক্ষমতা যেমন বাড়ে, তেমনই সারা শরীরে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের প্রবাহ বেড়ে যায়। ফলে দেহের প্রতিটি অঙ্গে বিশুদ্ধ রক্ত পৌঁছে যাওয়ার কারণে রোগ-ব্যাধির প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। বাড়ে শরীরের ক্ষমতাও।

07/03/2023

গাছ কতটা মূল্যবান তা আমরা সবাই জানি তার সাথে সবুজ প্রকৃতি সবার প্রিয়। ছোট কালে আমরা পড়েছি গাছ কার্বনডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে যার ফলে আমরা নিশ্বাস ঠিকভাবে নিতে পারি। তবে, এখনকার সময় গ্রাম এলাকায় গাছ দেখা গেলেও শহরে তেমন দেখা যায় না।

কিন্তু, বাড়ির ব্যালকনিতে আমরা অনেকেই ছোট ছোট সুন্দর প্লান্টিং করি যা দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি আমাদের লাইফস্টাইল সুন্দর করে তোলে। কিন্তু ,এই প্লান্টগুলো শুধু সুন্দর না বরং আমাদের মানসিক ও শরীর স্বাস্থ্য ঠিক রাখতেও কাজে আসে।

বাড়িতে প্লান্টিং এর ফলে কি ধরনের উপকার পাওয়া যায়?

• গাছপালা স্ট্রেস দুর করতে সাহায্য করে।

চারপাশের গাছপালায় সবুজে ঘেরা দেখলে উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার প্রবণতা কম থাকে। চিন্তামুক্ত থাকার ফলে রক্তচাপ কম থাকে এবং মন ও শরীর স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

• প্লান্টিং এর ফলে সর্দি কাটাতে উপকার পাওযা যায়।

গাছপালা সর্দি কাটানোর সম্ভাবনা ৩০% হ্রাস করতে পারে। গাছের পাতাগুলি আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে এবং বায়ুবাহিত ধূলিকণা অপসারণ করে ।

• বাড়িতে গাছপালা থাকলে চারপাশের বায়ু পরিষ্কারে সহায়তা করে।

আমরা জানি, গাছ বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড হ্রাস করে এবং এটি অক্সিজেন ত্যাগ করে। তারই সাথে গাছপালা ধূলিকণা সংগ্রহ করে এবং বায়ুমণ্ডলে ক্ষতিকারক পদার্থগুলিও ভেঙে দেয়। স্বাস্থ্যকর আর্দ্রতা বাড়ির বাতাসের গুণমানকেও উন্নত করে। এপিপ্রিমেনাম এবং স্পাথিফিলিয়ামের মতো ধরণের গাছপালা বায়ু-বিশোধক উদ্ভিদ।

• গাছপালা এলার্জি প্রতিরোধে সহায়তা করে।

বাড়িতে গাছপালা থাকার ফলে এলার্জি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, বিশেষ করে শিশুদের।

• গাছ সিগারেটের ধোঁয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে।

গাছ সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা টক্সিনগুলিকে ফিল্টার করে এবং বায়ু পরিষ্কার করে।

• বাড়িতে গাছপালা লাগালে ঘুম ভালো হয়।

এয়ার-পিউরিফাইং হাউস গাছ জলবায়ু তৈরি করে এবং আরও অক্সিজেন উৎপন্ন করে। পাশাপাশি তাদের সৌন্দর্য এবং প্রশম শক্তি আরও ভাল ঘুমাতে সহায়তা করে।

• গাছপালা অনেক ক্ষেত্রে হতাশামুক্ত করতে পারে।

গবেষণা দেখায় যে, গাছ হতাশার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। মনের অবস্থা ভালো ও প্রফুল্ল করে তোলে এবং ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করে।

• বাড়িতে প্লান্টিং ফলে মাথা ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে গাছপালা বায়ু থেকে বেনজিন, ট্রাইক্লোরিথিলিন এবং ফর্মালডিহাইড অপসারণে সহায়তা করতে পারে এবং মাথা ব্যথা হ্রাস করতে পারে।

• গাছপালা ফোকাস ঠিক রাখতে সহায়তা করে।

পরিষ্কার বাতাস এবং একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশে মন প্রফুল্লিত থাকে। কাজের জায়গার হোক বা বাড়ি, গাছপালা মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। গাছ আমাদের মনোযোগের পেশীগুলি রিচার্জ করতে পারে, আরও সজাগ থাকতে এবং ক্লান্তি দূরে রাখতে সহায়তা করে তারই সাথে স্মৃতিশক্তি ধরে রাখে।

গাছপালা অনেক উপকারি সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। শহরের উঁচু দালানের মাঝে বৃক্ষরোপণ না করা গেলেও বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট প্লান্ট লাগানো যায়। যার ফলে বাড়ি দেখতে ডেকোরেটেড লাগে এবং আমাদের লাইফস্টাইলে অনেক পরিবর্তন

07/03/2023

হাসুন ভালো থাকুন এবং ভালো রাখুন সবাইকে
হাসুন ভালো থাকুন এবং ভালো রাখুন সবাইকে
দিনশেষে ভালো থাকতে চায় না এমন মানুষ পৃথিবীতে একজনও পাবেন না।

সবাই ভালো থাকতে চায়, অবশ্যই সবাই। অথচ ভালো রাখা এবং ভালো থাকার ফ্রি ঔষধ যে হাসি খুশি থাকা, এটা ক'জনে জানে বা জানার চেষ্টা করে, কিংবা মানার চেষ্টা করি আমরা?

ভালো থাকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে এই হাসির বিষয়টি। ভালো থাকতে হলে হাসিখুশি থাকার চেয়ে সহজ উপায় আর হয়না। যিনি যতটা হাসিখুশি থাকেন, দিন শেষে তিনি নিজেকে ততটাই সুখী মানুষ হিসেবে আবিষ্কার করতে পারেন। দীর্ঘদিন সুস্থ ও সুখী মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে চাইলে হাসিখুশি থাকার বিকল্প নেই।

আসুন জানি হাসির কিছু উপকারিতাঃ

হার্টের সমস্যা তুলনামূলক ভাবে খুব কম হয়।
হাসতে জানলে ব্যক্তিগত জীবনেও নানা রকমের সমস্যায় পড়তে হয়না, হঠাৎ কারোও সাথে অনাহূত মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়না সুতরাং তুলনামূলক কম দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকতে হয়। মন রাখা দরকার যে - মানুষিক দুশ্চিন্তা ধিরে ধিরে মানুষকে বার্ধক্যের দিকে ঠেলে দেয়, রোগ বালাইয়ের কারনে আয়ু কমিয়ে দেয়।
মানুষ যখন হাসে তখন দেহের রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায় এবং অক্সিজেন গ্রহণের মাধ্যমে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়।
হাসি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে সাথে নতুন করে মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়তে, নেটওয়ার্কিং করতে সাহায্য করে।
হাসি মানুষকে একে অপরকে কাছাকাছি রাখতে সাহায্য করে এবং সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করে।
হাসি মস্তিষ্কের এনডোরফিন (একটি হরমোন) নামের একটি কেমিক্যাল নিঃসরণ করে থাকে যা আমাদের দেহের ব্যথা দূর করে।
হাসি এবং রাগের একে অপরের প্রশমক। তাই হাসলে রাগ আনুপাতিক হারে কমতে থাকে। পৃথিবীতে যত অনিষ্ট হয়েছে অদ্যবধি তার প্রায় সবই রাগের মাথায় ভুল সিদ্ধান্তের কারনে। সুতরাং হাসি যত সার্বজনীন (যত বেশি মানুষের মধ্যে অনুশীলন) হবে রাগ তত কমবে, পৃথিবী থেকে "ধ্বংস" নামক শব্দটা তত দ্রুত বিলুপ্ত হতে থাকবে।
হাসি দেহকে ক্যান্সার রোগ থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। আমেরিকার ক্যান্সার ট্রিটমেন্ট সেন্টারে ক্যান্সার রোগীদের হাসানোর জন্য বিশেষ থেরাপি দেয়া হয়ে থাকে।
হাসি তাৎক্ষণিকভাবে মানুষকে দেখতে সুন্দর করে। তাছাড়া হাসিখুশি থাকলে মানুষকে শুধু দেখতেই সুন্দর লাগে না, তার হৃদপিণ্ডসহ শরীরের অঙ্গগুলোও একটা অদৃশ্য এনার্জি পায় যার কারনে মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে কর্মতৎপর হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে পড়ে।
হাসিখুশি থাকার কৌশলঃ

হাসিখুশি থাকার কৌশল জানতে গুগল কিংবা ইউটিউবকে প্রশ্ন করলে অসংখ্য থিওরি বা রাস্তা দেখা যাবে। কিন্তু আমি বলবো কোনো পুথিগত সূত্র জানা লাগেনা প্রানবন্ত হাসি দিতে, শুধু মানুন নিচের নিয়মগুলো-

নিজের অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন সর্বদা
নিজের অবস্থানের চাইতে নিচের দিকে সবসময় দেখুন এবং তাদের নিয়ে ভাবুন।
সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন।
মনকে সব সময় বলুন - "সব কিছু ঠিক আছে, আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো আছি"
কেউ খারাপ কিছু আপনাকে বললে মনে মনে বলুন আপনার এই বস্তা ভর্তি নোংরা আমি নিলাম না। তারপর সিচুয়েশান বুঝে নিজেকে কিংবা তাকে হাসি দিয়ে অন্যকিছুতে মন দিন। (দয়া করে এটা জোরে বলার দরকার নেই)
দিনে অন্তত একবার আয়নার সামনে দাড়িয়ে হাসুন। মনে রাখবেন আপনি যদি অন্যের কাছে হাসি আশা করেন তাহলে আপনাকেই সেটা আগে দিতে হবে। হাসি দিতে হাসিকে চেয়ে নিন সবার কাছ থেকে।

07/03/2023

এ্যা"জ'মা- হাঁ" পানি- শ্বা'স' কষ্ট কে চিরতরে বিদায় জানান মাত্র ৪৫ দিনে।

🌿 সম্পুর্ন ন্যা'চা-রাল উপাদানে তৈরি। কোনো প্বার্শ' প্রতি-ক্রিয়া নেই।

বিস্তারিত জানতে Send Massage অপশনে ক্লিক করুন অথবা কল করুন পেইজে দেওয়া নাম্বারে☎️+8801617552072

07/03/2023

ইদানীং ক্লান্তি লাগে। স্ট্যামিনা যেন কমে যাচ্ছে। এনার্জি লেভেল লো। আগে অনেক পরিশ্রম করেও হাঁপিয়ে উঠতেন না। এখন অফিস থেকে ফিরে এত ক্লান্তি লাগে যে বাচ্চাদের নিয়ে কোথাও আর বেরোতে ইচ্ছা হয় না। একি বয়স বাড়ার ফল? বুড়িয়ে যাওয়ার উপসর্গ? অনেকে তো অনেক বেশি বয়সেও এত উদ্দীপ্ত থাকেন, যেন চিরতরুণ। তবে আপনার এমন লাগবে কেন?

এক. অনেক সময় কিছু সাধারণ রোগের জন্য শক্তি কমে যেতে থাকে। ক্লান্তি ও অবসাদ লাগে। এর অন্যতম হলো ডায়াবেটিস। এ ছাড়া থাইরয়েডের সমস্যা, রক্তশূন্যতা বা হৃদ্রোগ আপনার শক্তি ও উদ্দীপনা কমিয়ে দিতে পারে। এমনকি নির্ঘুমতা, স্লিপ এপনিয়া বা বিষণ্নতায় ভুগলে সারা দিন অবসাদগ্রস্ত লাগে। কিছু করতে ইচ্ছা হয় না। জেনে নিন, আপনার এ ধরনের কোনো সমস্যা আছে কি না।
দুই. অনেক ওষুধ আছে যেগুলো সেবন করলে সাময়িকভাবে ক্লান্তি ও অবসাদগ্রস্ত লাগে। যেমন স্নায়ুরোগে ব্যবহৃত কিছু ওষুধ, ডাইউরেটিক, অ্যান্টি-হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ। কোনো ওষুধ শুরু করার পর আপনার খারাপ লাগলে চিকিৎসককে অবহিত করুন।
তিন. খাদ্যাভ্যাসে কোনো সমস্যা আছে কি না, খেয়াল করুন। অনেকেই কিছু না বুঝে উল্টাপাল্টা ডায়েট শুরু করে দিয়ে এ ধরনের সমস্যায় ভোগেন। ডায়েট করার সময় ক্যালরি মেপে চার্ট করে নিতে হবে যেন ক্যালরি প্রয়োজনের তুলনায় কম না হয়ে যায়। তাহলে আপনার অবসাদ লাগবে। ডায়েট করার অর্থ না খেয়ে থাকা নয়। কোনো খাবার, বিশেষ করে সকালের নাশতা বাদ দেওয়া যাবে না। বিপাক ক্রিয়া বা মেটাবলিজম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এতে। নিয়মিত বিরতিতে খেতে হবে।
চার. এমন হতে পারে যে আসলে আপনার ফিটনেস কমে যাচ্ছে। ফিটনেস বাড়ানোর সবচেয়ে ভালো কৌশল হলো নিয়মিত ব্যায়াম করা বা হাঁটা। ব্যায়াম আপনার ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্র ও পেশির কর্মক্ষমতা বাড়ায়, জ্বালানি জোগায়। গবেষণায় প্রমাণিত যে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
পাঁচ. কর্মদক্ষতা ও উদ্দীপনা ঠিক রাখার জন্য নিয়মিত ভালো ঘুম চাই। রাত জেগে কাজ করবেন না। সময়মতো ঘুমাতে যান এবং সময়মতো ঘুম থেকে উঠুন। যাঁরা কাজের জন্য রাতে যথেষ্ট ঘুমাতে পারেন না বা খুব ভোরে ওঠেন, তাঁরা দুপুরে সময় পেলে আধা ঘণ্টা বিশ্রাম নিতে পারেন। এতে ক্লান্তি দূর হয়।
ছয়. যথেষ্ট পানি পান করুন। গরমে পানিশূন্যতা ও লবণশূন্যতা ক্লান্তি আনে। গরমের দিনে পানির সঙ্গে ফলের রস, ডাবের পানি, লেবু পানি, টক দই ইত্যাদি খেতে পারেন। এতে স্ট্যামিনা ফিরে পাবেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিদিন একমুঠো বাদামে ম্যাগনেসিয়াম পাবেন, যা উদ্দীপনা বাড়ায়। আমিষ খাবেন যথেষ্ট। বিশেষ করে মাছ। এ ছাড়া খাবেন দুধ। ভিটামিন ডি আছে সূর্যালোকে, তাই বাইরে গিয়ে হাঁটুন। ভিটামিন ডি-এর অভাব কিন্তু অবসাদ বাড়াতে পারে।
সাত. একঘেয়ে জীবনযাপন অনেক সময় শরীর-মনে ক্লান্তি আনে। তাই মাঝে মাঝে রুটিন বদলানো ভালো। দু-এক দিনের সুযোগ পেলে সপরিবার বা সবান্ধব

07/03/2023

পুষ্টিগুণ ও উপাদেয়তার দিকটি বিবেচনা করে যদি আমরা খাবারের একটি তালিকা করি, সে তালিকার প্রথম সারিতেই থাকবে ‘মধু’র নাম। এটি শরীরের জন্য উপকারী এবং নিয়মিত মধু সেবন করলে অসংখ্য রোগবালাই থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। এটি বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রমাণিত।

মধুর উপাদান
মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। ফুলের পরাগের মধুতে থাকে ২৫ থেকে ৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ, ৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ ফ্রুক্টোজ, ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ এবং ৫ থেকে ১২ শতাংশমন্টোজ। আরও থাকে ২২ শতাংশ অ্যামাইনো অ্যাসিড, ২৮ শতাংশ খনিজ লবণ এবং ১১ শতাংশএনকাইম। এতে চর্বি ও প্রোটিন নেই। ১০০ গ্রাম মধুতে থাকে ২৮৮ ক্যালরি।

মধুর উপকারিতা

শক্তি প্রদায়ী : মধু ভালো শক্তি প্রদায়ী খাদ্য। তাপ ও শক্তির ভালো উৎস। মধু দেহে তাপ ও শক্তি জুগিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে।

হজমে সহায়তা: এতে যে শর্করা থাকে, তা সহজেই হজম হয়। কারণ, এতে যে ডেক্সট্রিন থাকে, তা সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিয়া করে। পেটরোগা মানুষের জন্য মধু বিশেষ উপকারী।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: মধুতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। এটি ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ১ চা–চামচ খাঁটি মধু ভোরবেলা পান করলে কোষ্ঠবদ্ধতা এবং অম্লত্ব দূর হয়।

রক্তশূন্যতায়: মধু রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে বলে এটি রক্তশূন্যতায় বেশ ফলদায়ক। কারণ, এতে থাকে খুব বেশি পরিমাণে কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ।

ফুসফুসের যাবতীয় রোগ ও শ্বাসকষ্ট নিরাময়ে: বলা হয়, ফুসফুসের যাবতীয় রোগে মধু উপকারী। যদি একজন অ্যাজমা (শ্বাসকষ্ট) রোগীর নাকের কাছে মধু ধরে শ্বাস টেনে নেওয়া হয়, তাহলে সে স্বাভাবিক এবং গভীরভাবে শ্বাস টেনে নিতে পারবে। অনেকে মনে করে, এক বছরের পুরোনো মধু শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য বেশ ভালো।

অনিদ্রায়: মধু অনিদ্রার ভালো ওষুধ। রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস পানির সঙ্গে দুই চা–চামচ মধু মিশিয়ে খেলে এটি গভীর ঘুম ও সম্মোহনের কাজ করে।

যৌন দুর্বলতায়: পুরুষদের মধ্যে যাঁদের যৌন দুর্বলতা রয়েছে, তাঁরা যদি প্রতিদিন মধু ও ছোলা মিশিয়ে খান, তাহলে বেশ উপকার পাবেন।

প্রশান্তিদায়ক পানীয়: হালকা গরম দুধের সঙ্গে মিশ্রিত মধু একটি প্রশান্তিদায়ক পানীয়।

মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায়: মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায় মধু ব্যবহৃত হয়। এটা দাঁতের ওপর ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষয়রোধ করে। দাঁতে পাথর জমাট বাঁধা রোধ করে এবং দাঁত পড়ে যাওয়াকে বিলম্বিত করে। মধু রক্তনালিকে সম্প্রসারিত করে দাঁতের মাড়ির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। যদি মুখের ঘায়ের জন্য গর্ত হয়, এটি সেই গর্ত ভরাট করতে সাহায্য করে এবং সেখানে পুঁজ জমতে দেয় না। মধু মিশ্রিত পানি দিয়ে গড়গড়া করলে মাড়ির প্রদাহ দূর হয়।

পাকস্থলীর সুস্থতায়: মধু পাকস্থলীর কাজকে জোরালো করে এবং হজমের গোলমাল দূর করে। এর ব্যবহার হাইড্রোক্রলিক অ্যাসিড ক্ষরণ কমিয়ে দেয় বলে অরুচি, বমিভাব, বুকজ্বালা এগুলো দূর করা সম্ভব হয়।

তাপ উৎপাদনে: শীতের ঠান্ডায় এটি শরীরকে গরম রাখে। এক অথবা দুই চা–চামচ মধু এক কাপ ফুটানো পানির সঙ্গে খেলে শরীর ঝরঝরে ও তাজা থাকে।

পানিশূন্যতায়: ডায়রিয়া হলে এক লিটার পানিতে ৫০ মিলিলিটার মধু মিশিয়ে খেলে দেহে পানিশূন্যতা রোধ করা যায়।

দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে: চোখের জন্য ভালো। গাজরের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে দৃষ্টিশক্তি বাড়ে।

রূপচর্চায়: মেয়েদের রূপচর্চার ক্ষেত্রে মাস্ক হিসেবে মধুর ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। মুখের ত্বকের মসৃণতা বৃদ্ধির জন্যও মধু ব্যবহৃত হয়।

ওজন কমাতে: মধুতে নেই কোনো চর্বি। পেট পরিষ্কার করে, চর্বি কমায়, ফলে ওজন কমে।

হজমে সহায়তা: মধু প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি। তাই মধু সহজে হজম হয় এবং হজমে সহায়তা করে।

গলার স্বর: গলার স্বর সুন্দর ও মধুর করে।

তারুণ্য বজায় রাখতে: তারুণ্য বজায় রাখতে মধুর ভূমিকা অপরিহার্য। এটি অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের রং ও ত্বক সুন্দর করে। ত্বকের ভাঁজ পড়া ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে। শরীরের সামগ্রিক শক্তি ও তারুণ্য বাড়ায়।

হাড় ও দাঁত গঠনে: মধুর গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ক্যালসিয়াম। ক্যালসিয়াম দাঁত, হাড়, চুলের গোড়া শক্ত রাখে, নখের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে, ভঙ্গুরতা রোধ করে।

রক্তশূন্যতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে: এতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, যা রক্তশূন্যতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

আমাশয় ও পেটের পীড়া নিরাময়ে: পুরোনো আমাশয় এবং পেটের পীড়া নিরাময়সহ নানাবিধ জটিল রোগের উপকার করে থাকে।

হাঁপানি রোধে: আধা গ্রাম গুঁড়ো করা গোলমরিচের সঙ্গে সমপরিমাণ মধু এবং আদা মেশান। দিনে অন্তত তিনবার এই মিশ্রণ খান। এটা হাঁপানি রোধে সহায়তা করে।

উচ্চ রক্তচাপ কমায়: দুই চামচ মধুর সঙ্গে এক চামচ রসুনের রস মেশান। সকাল-সন্ধ্যা দুইবার এই মিশ্রণ খান। প্রতিনিয়ত এটার ব্যবহার উচ্চ রক্তচাপ কমায়। প্রতিদিন সকালে খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে খাওয়া উচিত।

রক্ত পরিষ্কারক: এক গ্লাস গরম পানির সঙ্গে এক বা দুই চামচ মধু ও এক চামচ লেবুর রস মেশান। পেট খালি করার আগে প্রতিদিন এই মিশ্রণ খান। এটা রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। তা ছাড়া রক্তনালিগুলোও পরিষ্কার করে।

রক্ত উৎপাদনে সহায়তা: রক্ত উৎপাদনকারী উপকরণ আয়রন রয়েছে মধুতে। আয়রন রক্তের উপাদানকে (আরবিসি, ডব্লিউবিসি, প্লাটিলেট) অধিক কার্যকর ও শক্তিশালী করে।

হৃদ্‌রোগে: এক চামচ মৌরি গুঁড়োর সঙ্গে এক বা দুই চামচ মধুর মিশ্রণ হৃদ্‌রোগের টনিক হিসেবে কাজ করে। এটা হৃৎপেশিকে সবল করে এবং এর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়ায়: মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়ায় এবং শরীরের ভেতরে এবং বাইরে যেকোনো ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষমতাও জোগান দেয়। মধুতে আছে একধরনের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী উপাদান, যা অনাকাঙ্ক্ষিত সংক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে।

07/03/2023

ছোট বয়স থেকে লাইফস্টাইল এবং খাবারের তালিকায় নজর দিলে বেশি বয়স পর্যন্ত হাড় মজবুত রাখা সম্ভব। রোজকার খাবারের তালিকায় কী রাখলে হাড় মজবুত রাখা যাবে, তার পরামর্শ দিলেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাড় মজবুত থাকলে শরীরকেও বিভিন্ন অসুখের হাত থেকে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট একটা বয়সের পর থেকেই হাড়ের ক্ষয় দেখা দেয়। শুধু বয়সজনিত কারণেই নয়, অনিয়মিত লাইফস্টাইল এবং অস্বাস্থ্যকর ডায়েটের ফলে হাড়ের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের হাড়ও তত দুর্বল হতে থাকে। জেনে নিন কোন কোন খাবার খেলে হাড় মজবুত হয়।

১. বাদাম - ব্রেকফাস্টে বা স্ন্যাকস হিসেবে অন্য কোনও খাবার না খেয়ে একমুঠো বাদাম খেতে পারেন। বাদামে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্টস রয়েছে। যা হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে।

২. চিজ - বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে হাড়ের ক্ষয় দেখা দেয়। বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে। ৩০ বছরের উর্ধ্বের মহিলাদের মধ্যে বিশেষ করে হাড়ের ক্ষয় দেখা দেয়। এই সময়ে ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার খাওয়া খুবই জরুরি। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন চিজ খাওয়ার। তাদের মতে, চিজ খেতেও সুস্বাদু আবার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারীও। রোজকার খাবারের তালিকায় চিজ রাখলে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ হয়।

৩. পালং শাক - সবুজ শাক-সবজি সবসময়ই শরীরের জন্য উপকারী। তার মধ্যে পালং শাক হাড়ের জন্য খুবই উপকারী। পালং শাকে থাকা ম্যাগনেশিয়াম এবং ভিটামিনকে হাড়ের ক্ষয় রোধ করে বৃদ্ধি ঘটায়। পালং শাক ছাড়া ব্রকোলি এবং বাঁধাকপিও হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে।

৪. স্যামন মাছ - স্যামন বা টুনা মাছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন ডি রয়েছে। রোজকার খাবারের তালিকায় রাখলে হাড় মজবুত থাকবে।

৫. মুরগির মাংস - হাড় মজবুত রাখার কথা চিন্তা করবেন আর সেই তালিকায় মুরগির মাংস রাখবেন না, তা হয় নাকি! প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে মুরগির মাংসে। হাড় মজবুত করার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন ঘাটতি পূরণে কার্যকরী চিকেন।

হাড় মজবুত রাখার জন্য লাইফস্টাইলেও নজর দেওয়া জরুরি বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রে তাদের মত, স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা করাও খুবই জরুরি। এরই সঙ্গে অত্যধিক ধূমপান কিডনির সমস্যার সঙ্গে হাড়েরও ক্ষতি করে। তাই হাড়ের ক্ষয় দূর করে সুস্থ থাকার জন্য ধূমপান এবং মদ্যপান অবশ্যই ত্যাগ করা দরকার।

04/03/2023

বড় মাছের তুলোনায় ছোট মাছে রয়েছে অনেক গুন পুষ্টি ও শক্তি । ছোট মাছে ফুষ্টি ও শক্তি খুজে বের করে শেষ করা যাবে না । ছোট মাছ চাষ করতে হয় না । এটি খাল বিল নদী নালা পুকুর সব যায়গায় পাওয়া যায় ।

ছোট মাছের উপকারিতাঃ

আমাদের দেশে নানা ধরনের ছোট মাছ পাওয়া যায়। যেকোনো পুকুর, নদী অথবা জলাশয়ে এই মাছ পাওয়া যায়। তাই ছোট মাছ নিয়মিত খেলে যেসব উপকারিতা পাবেন—

ছোট মাছে আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম। কাঁটাসহ ছোট মাছ ক্যালসিয়ামের এক অনন্য উপাদান। মলা, ঢেলা, চাঁদা, ছোট পুঁটি, স্বরপুঁটি, ছোট চিংড়ি, কাঁচকি, কৈ, শিং, মাগুর, মৌরলা, কাজলি, পিউলি, বাঁশপাতা, পাতাশি, ইত্যাদি জাতীয় মাছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং ভিটামিন ‘এ’ বিদ্যমান। মানবদেহে দৈনিক প্রচুর ক্যালসিয়ামের চাহিদা থাকে। বিশেষ করে বাড়ন্ত শিশু, গর্ভবতী মা এবং প্রসূতি মায়েদের ক্যালসিয়ামের চাহিদা আরও বেশি। হাড় ও দাঁত গঠনে ক্যালসিয়াম অত্যন্ত দরকারি। তাই প্রতিদিন আমাদের ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ ছোট মাছ খাওয়া উচিত।

উঠতি বয়সী শিশুদের জন্য প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-৩ এবং ভিটামিন ডি যুক্ত গুঁড়া বা ছোট মাছ খুবই উপকারী।

ছোট মাছে অসম্পৃক্ত চর্বি আছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। এ ছাড়া আয়রন, প্রোটিন, ফসফরাস, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি২, ফ্যাটি অ্যাসিড, লাইসনি ও মিথিওনিনেরও ভাল উৎস ছোট মাছ।

ছোট মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ থাকে যা রাতকানা, অন্ধ হয়ে যাওয়া ছাড়াও দৈনন্দিন অনেক শারিরীক সমস্যা দূর করতে সক্ষম। শিশুদের রাতকানা রোগ ঠেকাতে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ মলা, ঢেলা ও গুঁড়া মাছ খাওয়ান। দৃষ্টিশক্তির জন্যও গুঁড়া মাছ দরকার।

যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ গুঁড়া মাছ তাদের ব্ল্যাডপ্রেসার কমাতে সাহায্য করবে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খনিজ লবণ সমৃদ্ধ গুঁড়া মাছ উপকারী। হৃদরোগী, স্ট্রোকের রোগীর ও গর্ভবতী মা ও দুগ্ধদানকারী মায়ের জন্য গুঁড়া মাছ খুবই উপকারী।

ছোট মাছের প্রজাতিভেদে পুষ্টিগুণঃ

পুঁটি: প্রতি ১০০ গ্রাম পুঁটি মাছে আছে ১০৬ ক্যালরি শক্তি। এর ১৮.১ গ্রাম প্রোটিন, ২.৪ গ্রাম চর্বি, ১১০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম। দাঁত ও হাড়ের গঠনে এটি সাহায্য করে।

ট্যাংরা: ১০০ গ্রাম ট্যাংরা মাছে ১৪৪ ক্যালরি শক্তি মিলবে। এতে প্রোটিন ১৯.২ গ্রাম, চর্বি ৬.৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৭০ মিলিগ্রাম। আয়রন আছে ২ মিলিগ্রাম। রক্তশূন্যতার রোগীদের ট্যাংরা মাছ খাওয়া উচিত।

মলা: রাতকানা রোগ, ভিটামিন ‘এ’-র স্বল্পতাজনিত চোখের সমস্যা রোধে মলা মাছ খুবই কার্যকর। এতে ক্যালসিয়াম অনেক। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড আছে এই মাছে, যা হৃদ্‌রোগীদের জন্য ভালো। ১০০ গ্রাম মলা মাছে প্রায় ৮৫৩ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম আছে। আরও আছে ৫.৭ মিলিগ্রাম আয়রন, ভিটামিন ‘এ’ ২০০০ ইউনিট এবং ৩.২ মিলিগ্রাম জিংক।

কাঁচকি মাছ: ১০০ গ্রাম কাচকি মাছে ১২.৭ গ্রাম প্রোটিন আছে। আছে ৩.৬ গ্রাম চর্বি, ৪৭৬ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ২.৮ মিলিগ্রাম আয়রন। এই মাছ কোটারও ঝামেলা নেই, ধুয়ে বেছে খেয়ে নেওয়া যায়।

ফলি: কাঁটাযুক্ত এই মাছের প্রতি ১০০ গ্রামে প্রোটিন ২০.৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১০৩ মিলিগ্রাম, আয়রন ১.৭ মিলিগ্রাম ও ফসফরাস ৪৫০ মিলিগ্রাম।

ছোট মাছের সার্বিক পুষ্টিগুণ (প্রতি ১০০ গ্রামে):

১. জলীয় অংশ = ৭৫.০ গ্রাম

২. খনিজ পদার্থ = ১.৪ গ্রাম

৩. ক্যালসিয়াম = ১১০ মিলিগ্রাম

৪. প্রোটিন/আমিষ = ১৮.১ গ্রাম

৫. চর্বি/ফ্যাট = ২.৪ গ্রাম

৬. কার্বোহাইড্রেট = ৩.১ গ্রাম

৭. ভিটামিন-সি = ১৫ মিলিগ্রাম

৮. লৌহ বা আয়রন = ১.০ মিলিগ্রাম

৯. এনার্জি = ১০৬ কিলোক্যালরি

04/03/2023

করোনাকালে মানুষ জীবন যাপনে অনেক পরিবর্তন এনেছেন। কি ভাবে সুস্থ থাকা যায় তার উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। খাওয়া-দাওয়া তো বটেই এর সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়ামকেও প্রাধান্য দিচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরচর্চা প্রচুর পরিমাণে করার দরকার নেই। অভ্যাস না থাকলে হিতে বিপরীত হতে পারে। আবার একেবারে না করলেও সমস্যা। কাজেই শরীর বুঝে ব্যায়াম করুন। যতটুকু করলে শরীর ঝরঝরে লাগে, মন ভাল হয়, কাজে মন বসে, ঠিক ততটুকু করুন। তাতেই শরীর সুস্থ থাকবে। বাড়বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

এই প্রসঙ্গে ভারতের ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক মৌলি মাধব জানিয়েছেন, মাঝারি ব্যায়ামে শরীরে যে সমস্ত পরিবর্তন হয়, তার হাত ধরে সবল হয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়ে।

ব্যায়ামে বাড়ে প্রতিরোধ ক্ষমতা

• সংক্রমণ হলে যেমন ‘ইমিউন সিস্টেম’ শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে জীবাণুর বংশবিস্তার থামানোর চেষ্টা করে। ঠিক সেইভাবেই ব্যায়াম করলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় বলে জীবাণুও আর তেমন একটা বাড়তে পারে না।

• নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরে শ্বেতকণিকার সংখ্যা বাড়ে অর্থাৎ জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়ে। ফলে সহজে সংক্রমণ হয় না।

• ব্যায়ামে বাড়ে বিপাক ক্রিয়ার হার। তার ফলে রোগ প্রতিরোধ শক্তি যেমন বাড়ে, তেমনি ওজনও থাকে বসে। আর এতে সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে যায়।

• ব্যায়াম করলে শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুততর হয়। তাজা বাতাস ভেতর থেকে জীবাণু বের করে দিতে সাহায্য করে। কাজেই যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের চট করে সর্দি কাশি ও শ্বাসনালীর সংক্রমণ হয়
না।

ব্যায়ামে কমে কোভিডের ঝুঁকি

কোভিডের কো-মর্বিডিটি কমাতেও কাজে আসে ব্যায়াম। যেমন-

• ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।

• কমায় উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস ওকোলেস্টেরলের আশঙ্কা ও প্রকোপ।

• হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ায়।

• কমায় হৃদরোগের আশঙ্কা ও প্রকোপ।

• রক্তবাহী শিরা-ধমনী সুস্থ থাকার সুবাদে স্ট্রোকের আশঙ্কাও কম থাকে।

• নিয়মিত ব্যায়াম করলে মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা আপনাকে কাবু করতে পারবে না

কোন ব্যায়াম, কীভাবে করবেন

রিউম্যাটোলজির বিশেষজ্ঞদের মতে, “বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও আমেরিকান কলেজ অব স্পোর্টস মেডিসিনের মতে ১৮-৬৪ বছর বয়স্ক সুস্থ মানুষের উচিত সপ্তাহে ১৫০ মিনিট মাঝারি বা ৭৫ মিনিট জোর গতিতে অ্যারোবিক ব্যায়াম করা। এর সঙ্গে নমনীয়তা বাড়ানোর ব্যায়াম ও সপ্তাহে ২-৩ দিন পেশির শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করলে সব দিক বজায় থাকে।”

এবার জেনে নেওয়া যাক কখন কোন ব্যায়াম কীভাবে করতে হবে সে সম্পর্কে

• অ্যারোবিক এক্সারসাইজ বলতে হাঁটা, জগিং, সাঁতার, সাইকেল চালানো, নাচ ইত্যাদিকে বোঝায়। অর্থাৎ এসব ব্যায়ামে হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা ও হার্ট রেট বাড়ে। টানা ২০-৩০ মিনিট করতে পারলে সবচেয়ে ভাল। না পারলে সকালে ২০ মিনিট ও বিকেলে ২০ মিনিট। এমন গতিতে করবেন যাতে হাঁপিয়ে হলেও দু-চারটা কথা বলা যায়, কিন্তু গান গাওয়া যায় না। তবে তার আগে হাঁটু-কোমর-গোড়ালির অবস্থা ও হৃদযন্ত্র-ফুসফুসের কার্যক্ষমতা দেখে নেবেন। হাঁটা বা জগিংয়ের সময় পরে নেবেন সঠিক জুতা। না হলে চোট লেগে যেতে পারে।

• শরীরের নমনীয়তা বাড়াতে যোগা’র বিকল্প নেই। হালকা স্ট্রেচিংয়েও কাজ হয়।

• হাড় ও পেশি সবল করার ব্যায়াম দুই ভাবে করা যায়। ওজন নিয়ে বা শরীরের ওজনকে ব্যবহার করে, যাকে বলে বডি ওয়েট ট্রেনিং। এর মধ্যে বিভিন্ন রকম স্কোয়াট আছে, আছে লেগ রাইজিং, প্ল্যাঙ্ক, পুশ-আপ ইত্যাদি। তবে বয়স্ক বা ক্রনিক অসুখ আছে বা ফিটনেস কম বা হাঁটু-কোমরে ব্যাথা আছে এমন মানুষের আচমকা এগুলো না করাই ভাল।

• এছাড়া আছে নিউরোমোটর স্কিল ট্রেনিং বা ব্যালান্স ট্রেনিং রয়েছে। এগুলো বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান ছাড়া করা ঠিক নয়।

• ইদানিং কয়েকটি নতুন ধরনের ব্যায়ামের ধারা চালু হয়েছে, যাতে সুরের তালে তালে অ্যারোবিক্সের সঙ্গে স্ট্রেচিং, ব্যালান্সিং, স্ট্রেন্থ ট্রেনিং সব হয়ে যায়। সে রকমই একটি হল টাবাটা। বয়স কম হলে, ফিটনেস ভাল থাকলে শিখে নিয়ে করতে পারেন।

• জুম্বাও করা যায়। তবে বয়স কম ও ফিটনেস বেশি থাকলে তবেই।

• নাচ খুব ভাল ব্যায়াম। এতে শরীর যেমন ভাল থাকে, ভাল থাকে মনও।

এগুলোর পাশাপাশি দিনের বেশির ভাগ সময় সচল থাকার চেষ্টা করুন। এক জায়গায় টানা বসে থাকার অভ্যাস হলে ব্যায়ামের ফল সেভাবে পাবেন না।

04/03/2023

পুষ্টি চাহিদা পূরণে ডিমের জুড়ি নেই। ডিম খাওয়ার সব ধরনের উপায়ের মধ্যে সিদ্ধ করে ডিম খাওয়াকে সবচেয়ে পুষ্টিকর উপায় মনে করা হয়। কারণ সিদ্ধ ডিমের ক্যালোরি মোটামুটি কম। এতে প্রচুর পুষ্টি, প্রোটিন, ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। আপনি যদি দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করে থাকেন তবে সিদ্ধ ডিম আপনাকে সাহায্য করতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন ওমলেট, পোচের তুলনায় সিদ্ধ ডিমই কিন্তু বেশি উপকারি।

গবেষণায় দেখা গেছে, সিদ্ধ ডিম দুই সপ্তাহের মধ্যে ১১ কেজি পর্যন্ত ওজন কমাতে পারে। ওজন হ্রাস ছাড়াও এই ডায়েট হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়, চুল এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে ও ব্লাড সুগারকে কার্যকর উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

সিদ্ধ ডিমের কুসুম ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে অবশ্যই নিয়ম মেনে আপনাকে ডিম খেতে হবে।

ডিমের অনেক উপকার। ডিম খেলে পেট তো ভরেই, তার সঙ্গে নানারকম পুষ্টিকর উপাদানও শরীরে যায়। চিকিৎসকদের মতে, ভাজা বা অন্য কোনও পদের চেয়ে সেদ্ধ ডিমেই বেশি উপকার।

যে কোনও বয়সেই ডিম খাওয়া যায়। সব বয়সেই ডিম খেলে উপকার পাওয়া যায়।

সিদ্ধ ডিমে থাকে ৭৮ ক্যালরি, ৫ গ্রাম ফ্যাট, ২ গ্রাম সম্পৃত্ত ফ্যাট, ১৮৭ মিলিগ্রাম কোলেস্টরল, ৬২ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১ গ্রাম সুগার ও ৬ গ্রাম প্রোটিন।

ডিম হালকা সিদ্ধ করা হচ্ছে না বেশিক্ষণ সিদ্ধ করা হচ্ছে, তার উপর পুষ্টিগুণ অনেকটা নির্ভর করছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, বেশিক্ষণ ধরে ডিম সিদ্ধ করলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করা যায়।

সিদ্ধ ডিম ওজন কমাতে সাহায্য করে। সামান্য ক্যালরি থাকায় সিদ্ধ ডিম খেলে শরীরে মেদ জমে না।

শিশুরা নিয়মিত সিদ্ধ ডিম খেলে দাঁত, হাড় শক্তিশালী হয়। গর্ভাবস্থায় মহিলারা নিয়মিত সিদ্ধ ডিম খেলে তাদের ও সন্তানের উপকার হয়।

সিদ্ধ ডিম স্নায়ু ও হৃদযন্ত্র সচল রাখতে কোলিন সাহায্য করে। এটা মস্তিষ্কের মেমব্রেন ও পেশি সুগঠিত রাখতে সাহায্য করে, যা মস্তিষ্কের ঝিল্লি গঠন করতে সহায়তা করে এবং এটা স্নায়ু থেকে পেশিতে সংবেদন পৌঁছাতে সহায়তা করে।

চোখ, চুল ও নখের জন্য উপকারী: সিদ্ধ ডিম চোখের জন্য উপকারী। প্রতিদিন একটা করে সিদ্ধ ডিম খাওয়া ‘ম্যাকুলার’ ক্ষয় কমায়। কারণ এতে আছে লুটেইন ও জ্যাক্সেন্থিন।

সিদ্ধ ডিমের সাদা অংশ কোলেস্টরল কমাতে সাহায্য করে।

সকালে কিছু খাওয়ার পর সিদ্ধ ডিম খেলে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়।

তাছাড়া সিদ্ধ ডিম খাওয়া চোখের ছানি হওয়ার ঝুঁকি কমায়। ডিমে উচ্চ মাত্রায় সালফার থাকায় তা ভিটামিন ডি’য়ের ভালো উৎস। যা চুল ও নখ ভালো রাখতেও সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে, দিনে ৩টি পর্যন্ত ডিম খাওয়ার কোনো সমস্যা নেই। সিদ্ধ ডিম খাওয়া শরীরের পক্ষে ভাল হলেও বেশি খাওয়া মোটেই ভাল নয়। যারা উচ্চরক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন তাদের বেশি সিদ্ধ ডিম বা ডিম না খাওয়াই ভাল। ইউরিক অ্যাসিডের প্রবণতা থাকলে, ডিম এড়িয়ে চলাই উচিত।

তবে ডিম শরীরের উত্তাপ বাড়িয়ে দেয় এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা উন্নত করে। তাই আপনি কোনোরকম ক্রনিক অসুখে ভুগলে ডিম খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Chittagong?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Address


Ctg
Chittagong
4000