Effective Care BD

Effective Care BD

Share

Welcome to my video for free tips. thank you all.

06/05/2026
30/05/2022

প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে নাকি ডাক্তারের কাছে যেতে হয় না, এ কথাটি অনেকেই হয়তো শুনেছেন। আপেল একটি সুস্বাদু ফল। আপেল খেলে পেটও ভরে বলে হালকা নাস্তা হিসেবে আপেলের জুড়ি নেই। চোখ ধাঁধ���নো রঙ এর কারণে ছোটরাও বেশ পছন্দ করেই খায় এই ফলটি। আসুন জেনে নেয়া যাক প্রতিদিন আপেল খাওয়ার ১০টি স্বাস্থ্য উপকারীতা সম্পর্কে। ক্যান্সার প্রতিরোধঃ আপেল ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে । আপেলের মধ্যে পেকটিন জাতীয় একটি উপাদান থাকে যা শরীরকে কোলন ক্যান্সার থেকে দূরে রাখে। ফুসফুসের ক্যান্সার ও লিভার ক্যান্সার প্রতিরোধেও আপেলের ভূমিকা আছে। হার্ট ভালো রাখেঃ আপেলে রয়েছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট উপাদানসমূহ, যা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকেঃ প্রতিদিন গড়ে ৩টি আপেল খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা বেশ সহজ হয়। দাঁত ভালো রাখেঃ আপেলের রস দাঁতের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। ফলে দাঁত ভালো থাকে। ত্বক ভালো থাকেঃ গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে প্রতিদিন আপেল খেলে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয়। হজম ক্ষমতা বাড়েঃ প্রতিদিন আপেল খেলে হজমের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরী হয় পেটে| ফলে হজম শক্তি বাড়ে।

হাড় শক্ত করেঃ আপেলে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে বোরন যা হাড়কে শক্ত রাখতে সাহায্য করে। অ্যালঝেইমার্স প্রতিরোধঃ প্রতিদিন আপেল খেলে বয়সজনিত জটিল অ্যালঝেইমার্স রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। পানিশুন্যতা দূর করেঃ আপেলে আছে প্রচুর পরিমানে পানি যা তৃষ্ণা ও পানিশুন্যতা দূর করে এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেঃ আপেলে পেকটিন নামের একটি উপাদান থাকে। পেকটিন ইনসুলিনের পরিমাণ ঠিক রেখে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
🖤🖤

30/05/2022

ড্রাগন ফলের দাম বেশি হলেও এর স্বাস্থ্য উপকারিতা কিন্তু চমকে ওঠার মতো। বেশ কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে বিদেশি এই ফল চাষ করা হচ্ছে।

একটি ড্রাগন ফলে ৬০ ক্যালরি এবং প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি, ওমেগা ৩ ও ওমেগা ৯ থাকে। এই ফলে বিটা ক্যারোটিন ও লাইকোপিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও রয়েছে। বিটা ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়ে ত্বক, চোখ ও ইমিউন সিস্টেমের উন্নতি করে। এখানে ড্রাগন ফলের কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা উল্লেখ করা হলো।

কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে: একটি ড্রাগন ফলে প্রায় ৭ গ্রাম ফাইবার থাকে, যা দৈনিক সুপারিশকৃত পরিমাণের চারভাগের প্রায় একভাগ। এটা অন্ত্রের বর্জ্য দূরীকরণে সহায়তা করে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা রয়েছে তারা এই ফল খেলে উপকার পেতে পারেন। সালসা তৈরি করে অথবা ফ্রুট সালাদ বা স্মুদিতে যোগ করে ড্রাগন ফল খেতে পারেন। এই ফলের স্বাদ হালকা।

হার্টের উপকার করে: ড্রাগন ফলের বীজে হার্টের জন্য উপকারী ওমেগা ৩ ও ওমেগা ৯ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। নিউ ইয়র্কের পুষ্টিবিদ ও দ্য স্মল চেঞ্জ ডায়েটের লেখক কেরি গানস বলেন, ‘ড্রাগন ফলের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে প্রদাহনাশক উপাদান রয়েছে। একারণে এই ফল খেলে হার্টের রোগের ঝুঁকি ও জয়েন্টের ব্যথা কমে যায়। ড্রাগন ফল খেলে বিষণ্নতাও কমতে পারে।’

হাড়ের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে: অধিকাংশ ফলের চেয়ে ড্রাগন ফলে ম্যাগনেসিয়াম বেশি থাকে। এটা হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করে। অস্টিওপোরোসিসে হাড় এতই দুর্বল হয়ে যায় যে সহজেই ভেঙে পড়তে পারে। এক বাটি ড্রাগন ফলে দৈনিক সুপারিশকৃত ম্যাগনেসিয়ামের প্রায় ১৮ শতাংশ পাওয়া যায়। জার্নাল অব ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল রিসার্চে প্রকাশিত গবেষণা বলছে, মাসিক চক্র স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এমন নারীদের হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ড্রাগন ফল বিশেষ সহায়ক হতে পারে।
🖤🖤

29/05/2022

মাঝ জ্যৈষ্ঠে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা অনেকের। সারাদিনের ব্যস্ততায় পথ চলতে শরীরে ঘামের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পানি বেরিয়ে যায়। এতে শরীর নিস্তেজ হয়ে আসে। এমন পরিস্থিতিতে স্বস্তি এনে দিতে পারে ডাবের পানি। বাজারে তরল পানীয়গুলো জোর প্রচারণা চালিয়ে গেলেও স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় গরমে এখনো সবার প্রথম পছন্দ ডাবের পানিই। শুধু ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা নয়, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা সহ ডাবের পানিতে আছে আরো অনেক গুণ। তাহলে জেনে নেওয়া যাক ডাব খাওয়ার ১০ উপকারী তথ্য-

১. ত্বকের ইনফেকশন ও অন্যান্য সমস্যায় ডাবের পানির ব্যবহার বেশ প্রচলিত। ডাবের পানিতে আছে অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ। এছাড়া ডাবের পানি ত্বকের অতিরিক্ত তেলকে দূর করতে ময়েশ্চারাইজার হিসেবেও কাজ করে।

২. ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করতে ডাবের পানি অনেক বেশি কার্যকরী। এতে আছে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও ভিটামিন সি যা ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণ করে।

৩. হাড়কে মজবুত রাখার জন্য দরকার ক্যালসিয়াম সহ আরো অনেক পুষ্টিগুণ। ডাবের পানিতে যে ক্যালসিয়াম আছে তা হাড়ের জন্য একটি অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। এবং আছে ম্যাগনেসিয়াম, যা হাড়কে ভালো রাখতে সাহায্য করে।



৪. যাদের অ্যাকনের সমস্যা রয়েছে, তারা ডাবের পানি তুলায় ভিজিয়ে ত্বকের উপর লাগাতে পারেন। তৈলাক্ত বা শুষ্ক যে কোনো ত্বকেই ব্যবহার করতে পারেন এই পানি। ডাবের পানি খেলে মুখের ত্বক আদ্র হয়। পাশপাশি বেশ তরতাজাও দেখায়। তাছাড়া ডাবের শাঁসে যে ক্যালরি রয়েছে তা কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।

৫. অতিরিক্ত গরমের ফলে শরীরে ঘামের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পানি বেরিয়ে যায়। আবার কখনও গরমে বমির ফলেও শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। ফলে ডিহাইড্রেশনের মতো সমস্যা দেখা দেয়। ডাবে আছে কার্বোহাইড্রেড যা শক্তি বাড়ায়। এবং শরীরে পানি শূন্যতা পূরণ করে।

৬. ডাবের পানিতে যে প্রাকৃতিক শর্করা ও মিনারেল রয়েছে তা শরীরকে শীতল ও আর্দ্র রাখে। এজন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যোদ্ধাদের স্যালাইনের বিকল্প হিসেবে ডাবের পানি দেওয়া হতো। এর ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও ফাইবার কর্মশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

৭. ডাবের পানি খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং ক্ষুধার প্রবণতা কমে আসে। ফলে কম খাওয়া হয়। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। ডাবের পানিতে কোনো চর্বি নেই, বরং এটি শরীরের অতিরিক্ত চিনি শোষণ করে। ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৮. ডাবের পানি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। ফলে গরমের সময়ও শরীর সুস্থ ও সতেজ থাকে।

৯. ডাবের পানিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা আমাদের পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখে। হজমশক্তি অনেক বাড়িয়ে তোলে। এছাড়া নিয়মিত ডাবের পানি খেলে অ্যাসিডিটির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

১০. ডাবের পানি প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্যের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন তাদের জন্যও ডাবের পানি খুব উপকারী। এছাড়া ডাবের পানিতে রয়েছে ডাই-ইউরেটিক উপাদান যা ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশনের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াকে নষ্টই শুধু করে না পাশাপাশি শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলে।

♦♦♣♣♦♦

28/05/2022

আমলকির বিশেষ উপকারিতা।

প্রতিদিন একটি করে আমলকি খাওয়ার করুন। কারণ আমলকি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি। খেতে পারেন আমলকীর আচার কিংবা মোরব্বা। এই ছোট্ট ফলটি আপনাকে দেবে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার নিশ্চয়তা। চলুন জেনে নেই আমলকির বিশেষ কিছু উপকারিতা।আমলকি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়। কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকি অনেক উপকারী।আমলকির রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে। এছাড়াও এটি পেটের গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে।চোখ ভালো রাখার জন্য উপকারী আমলকি। এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা চোখের সঙ্গে জড়িও ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।আমলকি চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি কেবল চুলের গোড়া মজবুত করে তা নয়, এটি চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। এটি চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে ও পাকা চুল প্রতিরোধ করে।আমলকি সর্দি-কাশি, পেটের পীড়া ও রক্তশূন্যতা দূরীকরণে বেশ ভালো কাজ করে। ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে।ব্রঙ্কাইটিস ও এ্যাজমার জন্য আমলকির জুস উপকারী। শরীর ঠান্ডা রাখে, শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশী মজবুত করে।আমলকি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে। আমলকির আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করে। শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে।আমলকির টক ও তেতো মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়ায়। রুচি বৃদ্ধি ও খিদে বাড়ানোর জন্য আমলকি গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য মধু ও মাখন মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেতে পারেন।

27/05/2022

কলার উপকারিতাঃ

কলা মানসিক চাপ কমায় – ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামিনো এসিড কলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, এটি রক্তে মিশে যাওয়ার পর রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সেরাটোনিনে রূপান্তর হয়।আনন্দদায়ক অনুভূতি সৃষ্টির জন্য সেরাটোনিন কাজ করে। সেরাটোনিনের সঠিক মাত্রা আপনার মন ভালো রাখবে এবং মানসিক চাপ কমাবে।মনতো ফুরফুরা তাইলে ভালো ঘুম তো এমনি হবে।এর মধ্যে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম- যা বিষণ্ণতা রোধে কাজ করে।

কলা রক্ত বৃদ্ধি করে – কলাতে ভিটামিন বি-৬ থাকে এটি রক্তের লোহিত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি করে। এর ক্যালসিয়াম হাড় মজবুত করে ফলে হাড় থেকে রক্ত কণিকা ভালো মাত্রায় উৎপন্ন হয় এবং রক্ত স্বল্পতা কমায়।

কলা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে – কলায় প্রচুর ক্যারোটিনয়েড নামক এন্টি অক্সিডেন্ট আছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। এর ভিটামিন ই প্রজনন স্বাস্থ্য ভালো করে। ভিটামিন এ কলায় প্রচুর আছে ফলে এটি আপনার চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করবে।

কলা স্মৃতিশক্তি বাড়ায় – প্রতিদিন একটি করে কলা খেলে আপনার মস্তিষ্কের স্মৃতিভাণ্ডার শক্তিশালি হবে মানে আপনার স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি পাবে। এর বিভিন্ন উপাদান মগজের প্রয়োজনীয় খাদ্যের জোগান দেয়।

কলার ওজন বাড়াতে ও কমাতে সাহায্য করে – একদম পাকা কলা ২টি ও ঘন দুধ ২৫০ মিলি রোজ খেলে দেহের ওজন বাড়ে। আবার একটু কম পাকা কলা ২-৩ কয়েক মিনিট পরপর খেলে পেট ভরে যায় ক্ষুধা কম লাগে তাই ওজন কমে যায়। ওজন কমানোর জন্য বেশি পাকা কলা না খেয়ে একটু কম পাকা কলা খান। কম পাকা কলাতে রেসিস্ট্যান্স স্টার্চ পাওয়া যায় বেশি।এটি ওজন কমাতে সাহায্য করবে কিন্তু শক্তি বাড়াবে।
ধন্যবাদ

25/05/2022

এমন কোন বাঙালি বাড়ি নাই, যার রান্নাঘরে পেঁয়াজ খুঁজে পাওয়া যাবে না। খাবারের স্বাদ বাড়াতে মসলা হিসেবে আবার কখনো সালাদ হিসেবে কাঁচা পেঁয়াজ খেয়ে থাকি আমরা। পেঁয়াজের গুণাবলী যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে নানা পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া। আসুন দেখে নেই পেঁয়াজের পুষ্টিগুণ থেকে শুরু করে এর নানা ব্যবহার।

একজন শেফ হিসেবে আমি পেঁয়াজ দিয়ে যেমন নানারকম রান্না করি তেমনি পেঁয়াজ ছাড়াও অনেক কিছু রান্না করি। দেশি রান্নায় ঝোল ঘন করতে পেয়াজের ব্যবহার বেশি যেমন- মাছের ঝোল, মুরগীর ঝোল ও নানারকম ভুনা ইত্যাদি।

বিদেশি কিছু রান্তেনায় পেঁয়াজ লাগলেও সব রান্নায় পেঁয়াজের প্রয়োজন হয় না। যেমন স্টেক, কাবাব, সালাদ, চিকেন ফ্রাই, চিকেনের অনেক রকম রেসেপি, ফিস ফ্রাই, স্যুপ, নানারকম খাবার রয়েছে যাতে পেঁয়াজের ব্যবহার নেই।

একটি বড় পেঁয়াজে ৮৬.৮ শতাংশ পানি, ১.২ শতাংশ প্রোটিন, ১১.৬ শতাংশ শর্করা, ০.১৮ শতাংশ ক্যালসিয়াম, ০.০৪ শতাংশ ফসফরাস ও ০.৭ শতাংশ লোহা থাকে। রয়েছে খাদ্য আঁশ, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন এ, বি ও সি। অল্প পরিমাণে ক্যালসিয়াম, লোহা, ফোটা, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস কোরাসিটিন এবং সালফারও রয়েছে পেঁয়াজে। তাই প্রতিদিন ১০০ গ্রাম থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত পেঁয়াজ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

রান্না ছাড়াও নানাভেব পেঁয়াজ ব্যবহার করতে পারি আমরা। রইলো কিছু নমুনা-

ডায়াবেটিস রোধে
পেঁয়াজ শরীরের ইনসুলিন উৎপাদন বাড়িয়ে ডায়াবেটিস রোধ করতে সাহায্য করে। তাছাড়া রক্তে চিনির পরিমাণ ঠিক রাখতেও সাহায্য করে।

জ্বর, সর্দি- কাশি দূর করতে
জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি, গলা ব্যথা, এলার্জি ইত্যাদি খুব দ্রুত পেঁয়াজের দ্বারা দূর করা সম্ভব। পেঁয়াজের রসের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে তাৎক্ষণিকভাবেই রোগ নিরাময় হয়।

রক্তপাত বন্ধ করতে
নাক দিয়ে রক্ত পড়লে, এক টুকরা পেঁয়াজ নাকের সামনে নিয়ে নিঃশ্বাস নিলে, রক্তপাত ধীরে ধীরে কমে যাবে।

হজম সমস্যায়
পেঁয়াজ পাচনতন্ত্রের উন্নয়নে কাজ করে। যাদের হজমে সমস্যা রয়েছে তারা পেঁয়াজ খেলে ফলে হজম রস বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সমস্যা নিরাময় হয়।

ক্ষত সারতে
পোড়া ত্বকে, পোকা-মাকড় বা মৌমাছি কামড় দিলে সেই জায়গায় পেঁয়াজের রস লাগালে তা ক্ষত সারতে সাহায্য করে। যদিও কিছুটা জ্বলতে পারে।

ক্যান্সার রোধে
ক্যান্সার রোধ করতেও পেঁয়াজ সাহায্য করে। এটি মাথা, ঘাড় ও কোলন ক্যান্সার দূর করতে সাহায্য করে।

রোগ-প্রতিরোগে
পেঁয়াজে রয়েছে অ্যান্টি-বায়োটিক, অ্যান্টি-সেপ্টিক, অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান। তাই রোগের সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে এটি।

ব্যাথা নিরাময়ে
শরীরের যেকোনো ব্যথা দূর করতে পেঁয়াজ ব্যাবহার করা যায়। এর জন্য তিলের তেল অথবা রেড়ীর তেলের সাথে পেঁয়াজ ভেজে নিতে হবে। তারপর ব্যথার জায়গায় লাগিয়ে রাখুন।

ত্বকের কাল দাগ দূর করতে
ত্বকের কাল দাগ দূর করার জন্য পেঁয়াজ ও হলুদের রস একসাথে মিশিয়ে লাগিয়ে রাখুন। অনেক উপকার পাবেন।

চুল পড়া রোধ করতে
চুল পড়া রোধ করার জন্য মাথায় পেঁয়াজের রস ব্যাবহার করলে উপকার পাওয়া যায়।

গ্যাসের সমস্যায়
পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে পানি রয়েছে। তাই কাহাবার হজমের মাধ্যমে গ্যাসের সমস্যা দূর করতে এটি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

গাছকে পোকা থেকে রক্ষা করতে
৪ টি পেঁয়াজ বাঁটা, ২ টেবিল চামচ লাল মরিচ গুঁড়ো, ২ কোয়া রসুন আর পানি ভাল করে মিশিয়ে নিন। এবার দুই গ্যালন পানিতে দুই টেবিল চামচ সাবান মিশিয়ে নিন। এই সাবান পানির মধ্যে মসলা মেশান। একটি স্প্রে বোতলে এই মিশ্রণটি ঢুকিয়ে গাছে স্প্রে করুন। এটি আপনার গাছকে বিভিন্ন পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে।

রঙের গন্ধ দূর করে
ঘরে নতুন রং করালে এক ধরণের গন্ধ থাকে। এক টুকরা পেঁয়াজ কেটে পানিতে ডুবিয়ে নতুন রং করা ঘরের এক কোণায় রেখে দিন। পেঁয়াজ রঙের গন্ধ সম্পূর্ণ শুষে নেবে।

মরিচা দূর করতে
ছুরিতে প্রায় সময় মরিচা ধরে থাকে। একটি বড় পেঁয়াজ কাটুন মরিচা ধরা ছুরি দিয়ে। একবারে সম্পূর্ণ মরিচা দূর না হলে আবারও পেঁয়াজ কাটুন।

হাঁড়ি পাতিলের পোড়া দাগ দূর করতে
অনেক সময় তরকারি পুড়ে হাড়ি-পাতিলে পোড়া দাগ হয়। এই দাগ দূর করতে পেঁয়াজ অনেক কার্যকরী। পেঁয়াজের রস দিয়ে পোড়া হাঁড়ি-পাতিল পরিষ্কার করুন। দেখবেন পোড়া দাগ একদম দূর হয়ে গেছে।

চুলা পরিষ্কার করতে
তেল, চর্বিতে চুলা তেল চিটচিটে হয়ে যায়। এই তেল চিটচিটে ভাব দূর করে চুলা পরিষ্কার করতে পেঁয়াজের জুড়ি নেই। পেঁয়াজের রস এবং সমপরিমাণে লবণ মিশিয়ে নিন। এটি দিয়ে চুলার দাগের ওপর ঘষুন। কিছুক্ষণ পর দেখবেন সব দাগ দূর হয়ে গেছে।

পেঁয়াজ খাওয়ার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
রান্না করে খেলে পেঁয়াজের তেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি নাই বললেই চলে। টানা ছয় সপ্তাহ ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পেঁয়াজ খেলে তেমন একটা ক্ষতির সম্ভাবনা নাই। অতিরিক্ত পেঁয়াজ খেলে ত্বকে হালকা একজিমা বা জ্বালাপোড়া ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পেট খারাপ বা পেটেব্যাথার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অনেকের হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি নিয়মিত হজমে সমস্যা দেখা দেয় তবে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে পেঁয়াজ খাওয়ার পরিমাণ জেনে নেবেন।

অনেকসময় অনেক ওষুধ চলার সময় পেঁয়াজ খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। রক্ত জমাট বাঁধতে দেরী করাতে পারে। তেমন ঝুঁকি থাকলে আপনার চিকিৎসকই সেটা বলে দেবেন।

অনেকের পেঁয়াজ খেলে এলার্জি দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শই শেষ কথা।

পেঁয়াজ রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে বলে অনেক গবেষণায় দেখা গেছে। কিন্তু ডায়াবেটিস থাকলে পেঁয়াজ খাওয়ার মাত্রার ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেননা।

25/05/2022

আম কেন খাবেন? আমের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ কি কি?
১. পাকা আম আমাদের ত্বক কে সুন্দর, উজ্জ্বল ও মসৃণ করে। শুধু তাই নয়, এটি আমাদের ত্বকের ভেতর ও বাইরে থেকে উভয়ভাবেই সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। আম আমাদের ত্বকের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে ও ব্রণের সমস্যা সমাধানে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২. গাছপাকা আমে পর্যাপ্ত পরিমাণে খনিজ লবণের উপস্থিতিও রয়েছে । আমাদের শরীরের দাঁত, নখ, চুল ইত্যাদি মজবুত করার জন্য আমের খনিজ লবণ উপকারী ভূমিকা পালন করে।

৩. সাধারণত পাকা আম ত্বকের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে ফলে মুখের ও নাকের উপর জন্মানো ব্ল্যাকহেড দূর করতে অনেকাংশে সাহায্য করে। আপনি যদি প্রতিদিন ১০০ গ্রাম পাকা আম খান তাহলে আপনার মুখের কালো দাগ দূর হবে।

৪. আমের উপকারিতা গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে আমের পুষ্টি উপাদান। পাকা আমের আঁশে কিছু উপাদান যেমন- ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ থাকায় তা হজমে সহায়তা করে থাকে। আমে আছে প্রচুর পরিমাণে এনজাইম এটা আমাদের শরীরের প্রোটিন অণুগুলো ভেঙ্গে ফেলতে সাহায্য করে যা হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

৫. আমে প্রায় ২৫ রকমের বিভিন্ন কেরাটিনোইডস উপকারী ব্যাকটেরিয়া আছে যা আপনার ইমিউন সিস্টেমকে সুস্থ ও সবল রাখে।

৬. আমে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন- বি কমপ্লেক্স। এই ভিটামিন আমাদের শরীরের স্নায়ুগুলোতে অক্সিজেনের সরবরাহ সচল রাখতে সাহায্য করে। আমাদের শরীরকে রাখে পুরোপুরি সতেজ। যার ফলে খুব দ্রুত ঘুম আসতে সাহায্য করে।

৭. আমে রয়েছে বেটাক্যারোটিন, ভিটামিন ই এবং সেলেনিয়াম। এসব উপাদান পরিমাণে পর্যাপ্ত থাকায় পাকা আম হার্টের সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে।আমাদের হার্টকে সুস্থ ও সবল রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৮. আপনি যদি প্রতিদিন এককাপ আম খেতে পারেন তাহলে এটি আপনার শরীরে ভিটামিন ‘এ’ এর চাহিদার প্রায় পঁচিশ শতাংশের যোগান দিতে পারবে। ভিটামিন ‘এ’ আমাদের চোখের জন্য খুবই উপকারী। এটি আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা করে।

৯. আমে প্রচুর পরিমাণে এসিড থাকে যেমন- টারটারিক এ্যাসিড, ম্যালিক এ্যাসিড ও সাইট্রিক এ্যাসিড যা আমাদের শরীরে অ্যালকালাই বা খার ধরে রাখতে সহায়তা করে অনেকাংশেই।

১০. আমের মধ্যে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা কিনা শরীরের ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। স্তন, লিউকেমিয়া, কোলন প্রোস্টেট ক্যান্সারের মত মারাত্মক ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। এতে প্রয়োজনীয় এনজাইমও পাওয়া যায়।

১১. পাকা আম পটাশিয়ামসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি আমদের হার্টবিট ও রক্তস্বল্পতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। আমাদের হার্টবিটকে সচল রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

১২. পাকা আম আমাদের শরীরের রক্ত পরিষ্কারে সহায়তা করে। আমের মধ্যে থাকা টারটারিক, ম্যালিক ও সাইট্রিক এ্যাসিড শরীরে অ্যালকোহল ধরে রাখতে সহায়তা করে।

১৩. আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, পাকা আমের তুলনায় কাঁচা আমে ভিটামিন-সি এর পরিমাণ বেশি। যা আমাদের দাঁত ও হাড় গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

১৪. আম আমাদের শরীরের ক্ষয়রোধ করে। প্রতিদিন আম খেলে দেহের ক্ষয়রোধ হয় এবং স্থূলতা কমিয়ে শারীরিক গঠনে ইতি বাচক ভূমিকা পালন করে।

১৫. শুধু তাই নয়, আমের ভেষজ গুণ আমাদের স্কিন ক্যান্সারসহ ভিভিন্ন জটিল রোগ থেকে রক্ষা করে।

১৬. আমে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ সেই সাথে আরো আছে ফাইবার যা সিরাম কোলেস্টরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়, বিশেষ করে রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টরল যেমন কম ঘনত্বের লাইপোপ্রটিন এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

অতএব বুঝতেই পারছেন আমের উপকারিতা অপরিসীম। আসছে আমের সিজন। অবশ্যই আপনি এবং আপনার পরিবারের সদস্যরা আম খাবেন। তবে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত আম খেতে হবে। বাজারের ফরমালিন যুক্ত আমের উপকারিতা থেকে অপকারিতাই বেশি। এই বিষয়ে সাবধান হবেন।

24/05/2022

লিচুর উপকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

লিচু একটি অতি পরিচিত ফল। আমাদের প্রায় সবারই এ ফল বেশ প্রিয়।

লিচুর উপকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

লিচুর উপকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লিচু

লিচু একটি অতি পরিচিত ফল। আমাদের প্রায় সবারই এ ফল বেশ প্রিয়।

বাজারে উঠতে শুরু করেছে লিচু। গ্রীষ্মকালীন এ রসালো ফল খুব কম সময়ের জন্য আসে।
স্বাদ ও গন্ধের জন্য লিচু অনেকের কাছেই প্রিয়। শুধু স্বাদই নয়, পুষ্টিগুণেও ভরপুর এ ফল।
নানা রকম অসুখের থেকে আপনাকে দূরে রাখবে এ ফল। আবার বেশি খেলেও হতে পারে ক্ষতি।
লিচুর উপকারী দিকগুলো-

* শরীরের বিভিন্ন ধরনের ব্যথা দূর করতে কাজ করে লিচু।
* রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।
* লিচুতে ভিটামিন, নানা খনিজ উপাদান রয়েছে, যেগুলো রক্তের উপাদান তৈরিতে সহযোগিতা করে।
* ত্বকের বলিরেখা দূর কর।
* বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না এবং ত্বক উজ্জ্বল করে।
* লিচুতে ভিটামিন ও নানা খনিজ উপাদান থাকায় এ ফল রক্তের উপাদান তৈরিতে সহযোগিতা করে।

এ ফলটির যেমন ভালো দিক আছে, তেমনি বেশি খেলেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে-

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো-

* মাত্রাতিরিক্ত লিচু খেলে রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে।
* লিচু ওজন বৃদ্ধি করে।
* লিচুতে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, জরুরি ফ্যাটি এসিড নেই। ফলে বেশি পরিমাণে লিচু খেলে তা শরীরের স্বাভাবিক ব্যালেন্স নষ্ট করে।
* খালি পেটে লিচু খেলে শরীরে বিষক্রিয়া হতে পারে।
* রক্তের গ্লুকোজ কমে যায়।

তাই খেতে সুস্বাদু হলেও ইচ্ছেমত লিচু খাওয়ার সুযোগ নেই। দিনে ১০-১২ টি লিচু খাওয়া যেতে পারে। বয়স, শরীর, অসুস্থতা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরিমিতভাবে লিচু বা যেকোনো ফল খেতে হবে।

24/05/2022

নিয়মিত ভিটামিন এ খাচ্ছেন ভুলে যান বাইরের ভিটামিনের কথা। খেয়ে নিন একটি লাল রঙের গাজর। কারণ, একটি গাজর আপনাকে দিতে পারবে অনেক ভিটামিন এছাড়াও নানা উপকার থাকে এতে।

শক্তিশালী খাদ্য উপাদান শুধু ভিটামিন-এ পাওয়া যায় তাই নয়, গাজরে আছে নানাবিধ উপকারী উপাদান যা আপনাকে উপহার দেবে সুন্দর ত্বক থেকে শুরু করে ক্যানসার থেকেও সুরক্ষা। ‍আসুন তাহলে এবার জেনে নেই গাজরের উপকারিতা গুলো:

১) দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে: আগে গাজর না খেয়ে থাকলে এখন থেকে গাজর খাওয়া শুরু করুন। কারণ, গাজরের মধ্যে আছে বেটা ক্যারোটিন যা দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। বিটা ক্যারোটিন যা আমাদের লিভারে গিয়ে ভিটামিন-এ তে বদলে যায় এবং চোখের রেটিনায় গিয়ে পৌঁছে চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

সেই সাথে রাতের বেলায় অন্ধকারে ভালো দেখার জন্য দরকারি এমন এক ধরনের বেগুনি পিগ্মেট এর সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়ে দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে এই গাজর।

২) ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে: গাজর ক্যান্সারের ঝুঁকি কম করতে সাহায্য করে। কারণ, গাজরে আছে Falcarinol এবং Falcarindiol যা আমাদের শরীরে এন্ট্রিক্যান্সার উপাদানগুলিকে রিফিল করে। গাজর খেলে ফুসফুস ক্যান্সার, কলোরেক্টাল ক্যান্সার এবং প্রোস্টেট ক্যান্সারে হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

বেশিরভাগ সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিদিন দেড় কাপ গাজরের রস পান করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়।

৩) লিভারের জন্য গাজর: গাজরের মধ্যে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন-এ রয়েছে যা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এছাড়াও এটি লিভারের পিত্ত এবং হিমায়িত ফ্যাট কম করতে সাহায্য করে। গাজরে দ্রবণীয় ফাইবার প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় যা আপনার লিভার এবং কোলনকে মলত্যাগের প্রক্রিয়াটিকে উদ্দীপনা দিয়ে পরিষ্কার করতে সহায়তা করে।

প্রতিদিন একটি করে গাজর সেবন করলে লিভারে প্রদাহ, ফোলা ভাব ও সংক্রমণ কমে যায়। লিভারের হেপাটাইটিস, সিরোসিস এবং কোলেস্টেসিসের মতো সমস্যা থেকে লিভারকে রক্ষা করে।

৪) অ্যান্টি এজিংয়ের জন্য গাজর: এটি আমাদের শরীরের জন্য শুধু ভালো তাই নয়, এটি অ্যান্টি এজিং উপাদান হিসেবেও কাজ করে। এতে যে বিটা ক্যারোটিন আছে তা আমাদের শরীরের ভিতরে গিয়ে অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

আমাদের শরীরে ক্ষয়প্রাপ্ত সেলগুলিকে ঠিকঠাক করে যা সাধারণ মেটাবলিজমের কারণে হয়ে থাকে। এছাড়াও এটি এজিং সেলগুলোর গতি ধীর করে দিতে সাহায্য করে। এর ফলে আপনি ধরে রাখতে পারবেন আপনার যৌবনকে অধিক সময়ের জন্য।

৫) সুন্দর ত্বকের জন্য গাজর: সুন্দর ত্বকের জন্য গাজর খেতে পারেন। এটা আপনার ত্বককে ভেতর থেকে সুন্দর করে তুলতে সাহায্য করে। কাজের মধ্যে ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার ত্বকের রোদে পোড়া পোড়া ভাব দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া ভিটামিন-এ ত্বকের ভাঁজ পড়া, কালো দাগ, ব্রণ ইত্যাদি দূর করতে সাহায্য করবে। যার ফলে আপনার ত্বক সুন্দর দেখাবে।

৬) অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে: গাজর একটু ভালো অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। ইনফেকশন হওয়া থেকে রক্ষা করে। সব কেটে গেলে বা পুড়ে গেলে সেখানে লাগিয়ে দিন গাজরের রস। ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কা আর থাকবে না।

৭) হৃদরোগের জন্য গাজরের উপকারিতা: এছাড়া হৃদপিণ্ডের নানান অসুখে এটা খুব ভালো কাজ করে। এর কেরাটিন ক্যারোটিনয়েড হৃদপিণ্ডের নানা অসুখের ঔষধ হিসেবে কাজ করে। যেসব খাবারে যেমন: গাজর এর উচ্চমাত্রায় এই পাওয়া যায়।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিন একটি গাজর খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৬৮% পর্যন্ত কমে যায়।

৮) ওরাল স্বাস্থ্যের জন্য গাজরের উপকারিতা: আপনি সুন্দর ও সুস্থ সবল দাঁত চান? তবে, এখনই গাজর খাওয়া শুরু করুন। গাজর মুখের লালা উত্পাদন বাড়ায় এবং প্রাকৃতিকভাবে এটি ক্ষারীয় কারণে মুখের মধ্যে অ্যাসিডের প্রভাবকে ভারসাম্যহীন করে তোলে। ক্ষারীয় প্রভাব মুখের ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধ করে। যার ফলে গহ্বর, মুখের গন্ধ এবং অন্যান্য মুখের স্বাস্থ্য সমস্যা দূরে রাখে।

গাজরের মধ্যে ভিটামিন-সি থাকে। এর ফলে যা সংযোজক টিস্যু, দাঁত এবং মাড়ির জন্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। গাজর আপনার দাঁত ও মুখ পরিষ্কার করে। গাজরের মিনারেলস গুলো দাঁত মজবুত থাকতে সাহায্য করে।

৯) স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে গাজরের উপকারিতা: এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা মানব শরীরের স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের মতে জানা গেছে যে যারা ৬ টির গাজর খেয়েছেন বা খাচ্ছেন তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি এর থেকে কম পরিমাণে কম একটি গাজর খাচ্ছেন তাদের তুলনায় অনেক কম হয়েছে।

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে এখন থেকে খাদ্যতালিকায় গাজর যোগ করুন।

১০) কানের ব্যথার জন্য গাজরের উপকারিতা: সর্দি-কাশি বা কোনও অসুস্থতার পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হিসাবে যদি কানে ব্যথা হয়। তবে, গাজরকে ব্যবহার করার মাধ্যমে স্বস্তি দেয়। কলা, গাজর, আদা এবং রসুনের খোলা জল উষ্ণ গরম করে কানে ১-২ ফোঁটা লাগলে কানের ব্যথা কমে যায়।

১১) দাঁতের রোগের জন্য গাজর: গাজর রক্ত পরিষ্কার করে। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে। তামাক চিবিয়ে গাজর সেবন করলে দাঁতগুলিও শক্ত, পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল এবং মাড়িও শক্ত হয়।

১২) কৃমি রোগের জন্য গাজর: শিশুদের পেটে সবচেয়ে কৃমির সমস্যা বেশি দেখা যায়। একটি গাজর কেটে ২০-৪০ মিলি জুস তৈরি করুন এবং শিশুকে পান করান। দেখবেন পেটের কৃমি থেকে মুক্তি পাবেন।

চেনা হয়ে গেল গাজরের নানা প্রকার উপকারিতার কথা একটু ভালো থাকার জন্য আমরা কতই কিছু না করি। জানা হয়ে গেল গাজরের নানা উপকারিতার কথা।

একটু ভালো থাকার জন্য আমরা কত কিছুই না করি। যদি একটি খাদ্য উপাদান আমাদের দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় যোগ করেন নিজেদের আরেকটু ভালো রাখতে পারি তাহলে কেন করব না। তাই চলুন একটি করে রোজ গাজর খায় নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য।

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Address


Mohakhali
Dhaka