Dr. Humayun Kabir
Dr. Humayun Kabir, MBBS from Dhaka Medical College, General Practitioner, Researcher...
17/05/2026
বাংলাদেশের রোগীদের সবথেকে বড় ভোগান্তির কারণ হলো, তাঁরা জানেন না, তাঁদের রোগটি নিয়ে কোথায় যেতে হবে।
ফলে তাঁরা তাঁদের রোগ নিয়ে একবার এ ডাক্তার, আরেকবার ও ডাক্তারের কাছে দৌড়াদৌড়ি করতে থাকেন। ফলে তাঁদের অবর্ণনীয় হয়রানি হতে থাকে। সাথে চলে যায় পানির মতো টাকা।
ধরা যাক, একজনের রোগ এন্ডোক্রাইনোলজির, তিনি গিয়েছেন নিউরোলজির ডাক্তারের কাছে। আবার উক্ত নিউরোলজির ডাক্তার সাহেব কিছুদিন নিজের মতো করে চিকিৎসা দিতে থাকলেন, রোগীটি তাঁর সংশ্লিষ্ট না হবার পরও।
এই দোষ অবশ্য আমি উক্ত নিউরোলজির ডাক্তারকে দেবো না। এই দোষ বাংলাদেশের সিস্টেমের। আমাদের এখানে ভালো কোনো রেফারাল সিস্টেম গড়ে ওঠেনি।
আবার কোনো ডাক্তার যদি সৎ মনে রোগী রেফার করেন, অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা মনে করেন, আরে, এই ডাক্তার তো কিছুই পারে না, ফলে আমাকে আরও বড় ডাক্তারের কাছে রেফার করেছে- এই মিথ্যা অপবাদ অনেক ডাক্তার নিতে চান না বলে রেফার করেন না।
যাইহোক, উন্নত রাষ্ট্রগুলোয় সুন্দর রেফারাল সিস্টেম রয়েছে। সেখানকার জিপি ডাক্তাররা (জিপি= জেনারেল প্রাক্টিশনার) প্রথমে রোগী দেখেন। রোগটি যদি তাঁরা আয়ত্তে থাকে তবে তিনিই চিকিৎসা করেন। আর তাঁর আয়ত্তে না হলে, অন্য কোনো স্পেশালিটির হলে তিনি তখন রেফার করেন। রোগীকে কিছুই চিন্তা করতে হয় না।
এদিকে দেখেন, আমাদের দেশে সামান্য সর্দি হলেও লোকে প্রফেসরের কাছে চলে যান। ফলে উক্ত প্রফেসরের চেম্বারের সামনে কম্বা লাইন। একটা লোক দিনে একশটার মতো রোগী দেখলে তার এনার্জি স্বাভাবিকভাবেই থাকবে না। ফলে আমাদের অভিযোগ, আমার কথা ডাক্তার মন দিয়ে শোনেননি, আমাকে ভালোমতো সময় দেননি।
যদি আমাদের দেশে এমন সিস্টেম হত, লোকে প্রথমে একজন জেনারেল প্রাক্টিশনারের কাছে যাবেন। এরপর উক্ত জেনারেল প্রাক্টিশনার রেফার করতে হবে নাকি হবে না সেই সিদ্ধান্ত নেবেন, তাহলে কেমন হতো ভাবুন তো!
কিছুদিন আগে আমার মা স্ট্রোক করেছিলেন। আমি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জানি বলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পেরেছিলাম (এরপরও কিছু হয়রানি হয়েছিল অবশ্য) এবং এখন আমার মা মোটামুটি সুস্থ। আমি যদি কিছু না জানতাম, এত দ্রুত হয়তো আমার মা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারতেন না। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, স্ট্রোক জিনিসটা কতটা ভয়াবহ।
যাইহোক, আপনারা যদি কখনো স্বাস্থ্য বিষয়ে দ্বিধায় পড়েন, এই অধমকে নক দিতে পারেন। আমি আমার সর্বাত্মক চেষ্টা করব আপনাকে উপযুক্ত পরামর্শ দেবার। যদি তা আমার আওতায় থাকে তাহলে তো হলোই, আমার আওতায় না হলে কোথায় যেতে হবে, কোন স্পেশালিষ্টকে কিভাবে দেখাবেন, সে বিষয়ে পরামর্শ দেবার চেষ্টা করব। আমি চাই, স্বাস্থ্য বিষয়ে কেউ হয়রানির শিকার না হোক।
আপনার নিজের কেউ খুব বেশি অসুস্থ হলে যদি তাঁর আইসিইউ লাগে তবে যত্রতত্র মানহীন আইসিইউতে নেবেন না। মনে রাখবেন, আইসিইউ নিয়ে এই দেশে বিরাট ব্যবসা চলে। ফলে এই সেক্টরে দালালেরও অভাব নেই।
মানহীন হলেও টাকা নেবার ক্ষেত্রে এই আইসিইউগুলো পিছপা হয় না। চিকিৎসার চেয়ে টাকাটা মূখ্য এদের কাছে।
আপনার রোগীর জীবন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি টাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই আইসিইউতে নেবার ক্ষেত্রে দালালের কথা শুনবেন না। নেবার আগে জানা-শোনাওয়ালা, বিশ্বস্ত কাউকে জিজ্ঞেস করে নেবেন উক্ত আইসিইউ সম্পর্কে।
আজ একজন ফোন করে বলল- আমার স্ত্রীর বয়স ৩৩, দেখতে ফর্সা। কিন্তু তার মুখে অনেক মেছতার দাগ। তাছাড়া শারিরীকভাবে সে অত্যন্ত দূর্বল।
জিজ্ঞেস করলাম- জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য আপনারা কোন পদ্ধতি ব্যবহার করেন (মেছতার অন্যতম একটি কারণ জন্মবিরতিকরণ পিল সেবন)।
লোকটা উত্তর দিল- ও বড়ি খায়, সুখী বড়ি।
বুঝিয়ে বললাম- এজন্যই এত সমস্যা আপনার স্ত্রীর। এই জন্মনিরোধক পিলগুলো মানবদেহে হরমোনাল পরিবর্তন আনে। এজন্য মেয়েদের নানা ধরণের শারিরীক সমস্যা দেখা দেয়।
কনডম ব্যবহারে এই সমস্যা হয় না। তাছাড়া কনডম নিরাপদও। এতে আপনিও ভালো থাকবেন, আপনার স্ত্রীও ভালো থাকবেন।
কনডমে আরাম পাই না, মজা নাই- লোকটা হেসে বলল। হাসিতে নির্লজ্জতা মাখা ছিল।
বললাম- পুরুষও কনডম ছাড়া জন্ম নিয়ন্ত্রণের অন্যান্য কিছু পদ্ধতি আছে, সেগুলো এ্যাপলাই করতে পারে, জানেন?
জানে, বলল লোকটা।
তাহলে আপনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? এতে আপনার আরামেরও ব্যাঘাত ঘটবে না। সবসময় শুধু স্ত্রীকেই কেন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে?
লোকটা দাঁত ক্যালিয়ে হেসে বলল- সাইড ইফেক্ট হয়, শরীল কিড়মিড় করে, দূর্বল লাগে, গিরায় গিরায় শূলায়। তাছাড়া এসব বাড়ির মহিলারাই নিবে। এটাই তো নিয়ম।
আমি বললাম- ঠিক আপনার যে সমস্যাগুলো হয়, সেসব আপনার স্ত্রীরও হয়। আপনার স্ত্রী কখনো মুখ ফুটে বলে না, সহ্য করে যায়। ওরা ধরে নিয়েছে এটাই নিয়ম।
লোকটা বিজবিজ করে "আমার বউ, আমি যা ইচ্ছা খাওয়ামু। যত ইচ্ছা পিল খাওয়ামু। দরকার হলে মবিল, আলকাতরা, পেট্রোল, ডিজেল খাওয়ামু। আইছে নারীবাদী জ্ঞান মারাইতে" বলে খট করে ফোনটা কেটে দিল।
09/01/2026
গত রাতে পরিচিত একজন কল দিলেন। ঠিকমতো কথাও বলতে পারছেন না। কোনোরকমে বললেন, চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন, শরীর প্রায় নিস্তেজ হয়ে আসছে, মাথা ঘোরাচ্ছে, মনে হচ্ছে যেন তিনি মারা যাচ্ছেন।
উনি আমার থেকে অনেক দূরে থাকেন। কথাই বলতে পারছেন না, তবুও কয়েকটা প্রশ্ন করলাম, আপনার ডায়াবেটিস আছে? ইনসুলিন নেন? বাবা-মার ডায়াবেটিস আছে? রাতে কিছু খেয়ে শুয়েছিলেন? আপনার ব্লাড প্রেশার কেমন থাকে?
উনি বললেন, ডায়াবেটিস নেই, বাবা-মার ছিল কি না, জানেন না, উনারা জীবিত নেই, প্রেসার নরমালই থাকে। আজ রাতে না খেয়ে ঘুমিয়েছিলেন।
আসলে এই অবস্থায় এতদূর থেকে কিছুই করা যায় না। প্রপারলি হিস্ট্রি না নিয়ে, পরীক্ষা না করে কিছু এডভাইস করাটা হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে। বড় বিপদের আশংকা তৈরি হয়।
লোকটা আমার বেশ কাছেরই। রিস্ক নিয়ে ফেললাম। বললাম, আপাতত হাতের কাছে যদি চিনি থাকে, কয়েক চামচ চিনি খেয়ে ফেলেন। এক গ্লাস পানিও খেয়ে নেন আপাতত। এরপর একটু সুস্থবোধ করলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যান। আশেপাশে কেউ থাকলে তাঁকে ডাক দিন।
কিছুক্ষণ পর উনি কল দিয়ে বললেন, বেশ ভালো লাগছে এখন। বললাম, দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যান।
পরবর্তীতে জানা যায়, উনার নাকি ব্লাড সুগার ফল করেছিল।
ঘটনা হলো, আপনারা আর যাই করেন, অন্তত খাবারদাবারটা হেলদি আর নিয়মিত রাখবেন। মাঝে মাঝে সম্ভব হলে একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শে ব্যাসিক লেভেলের কিছু পরীক্ষানিরীক্ষা করবেন।
ভালো থাকবেন সবাই।
ধরা যাক, কারও বাসায় একজন হঠাৎ অসুস্থ হলেন। অসুস্থ ব্যক্তিকে নিয়ে বের হলেন হাসপাতালের উদ্দেশ্যে।
একের পর এক হাসপাতাল ঘুরছেন। অধিকাংশ হাসপাতাল থেকেই বলা হচ্ছে- এই চিকিৎসা আমাদের এখানে হয় না, বা সিট ফাঁকা নেই, আপনি অন্য হাসপাতালে নিন।
এভাবে ঘুরতে ঘুরতে আপনার রোগীর অবস্থা আরও বেশি খারাপ হয়ে গেলো।
শেষমেশ কোনো দালালের খপ্পরে পড়ে নিয়ে গেলেন কোনো মানহীন হাসপাতালে বা আইসিইউতে, যেখানে যথেষ্ট চিকিৎসক বা চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই।
ভর্তি করিয়ে টাকা দিচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাচ্ছেন না। কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আপনার রোগীর কোনো আপডেটই দেয়া হচ্ছে না আপনাকে।
তাই আমার মতে, রোগী নিয়ে বের হবার পূর্বে কোনো একজন অভিজ্ঞ রেজিস্টার্ড ডাক্তারকে বিস্তারিত বলে তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে বের হবেন যে- আপনার রোগীকে ঠিক কোন হাসপাতালে নিলে সর্বোত্তম চিকিৎসা পাওয়া যাবে।
যেমন, আপনার যদি ইমিডিয়েট আইসিইউ লাগে, আর আপনি যদি আপনার রোগীকে কোনো সরকারি হাসপাতালে নিয়ে বসে থাকেন, তবে বলা যায় যে, ৯০% এর ওপরে সম্ভাবনা, আপনি আইসিইউতে সিট পাবেন না। সেক্ষেত্রে প্রায় বিনা চিকিৎসায় এক বড় দূর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে।
আবার আপনি প্রাইভেট আইসিইউতেই নিলেন কারও প্ররোচনায়, তখন সে আইসিইউ কতটা মানসম্মত, সেই দিকটাও সর্বাগ্রে বিবেচ্য।
কাজেই, যদি সম্ভব হয়, রোগী নিয়ে বের হবার পূর্বে কোনো অভিজ্ঞ রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন সম্ভব হলে।
আগামীকাল গরুর মাংস খাবার পর নিজের ব্লাড প্রেশারের দিকে খেয়াল রাখবেন। বিশেষ করে যাঁদের উচ্চরক্তচাপ রোগ রয়েছে, তাঁরা বিশেষ সতর্ক থাকবেন।
সাধারণত গরুর মাংস খাবার পর ব্লাডপ্রেশার কিছুটা বেড়ে যায়। যাঁরা নিয়মিত প্রেশারের ওষুধ খান, তাঁরা অবশ্যই আজ রাতের প্রেশারের ওষুধটা খেতে ভুলবেন না।
হঠাৎ প্রেশার বেড়ে গিয়ে অনেকসময় স্ট্রোক, হার্ট এ্যাটাকের মতো বিপদজনক ঘটনাও ঘটে যায়।
সাথে যাঁদের ডায়াবেটিস আছে, তাঁরা মিষ্টি জাতীয় খাবারের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করবেন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Contact the business
Telephone
Website
Address
Dhaka
