MD Ashraf Uddin

MD Ashraf Uddin

Share

একবিংশ শতাব্দীতে আজ আমরা দাঁড়িয়ে যেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উত্তরোত্তর মৃত্যুর ফাঁদ তৈরি করে তুলেছে

13/10/2024

শুরুপরীর কাজী ও দুঃসাহসী মাছি

১০৬

بيْنَ قَاضٍ وَقَوْرٍ وَذُبَابٍ جَسُورٍ

فَمَا زَالَ يُلِحُ عَلَيْهِ حَتَّى اسْتَفْرَغَ صَبْرَهُ وَبَلَغَ مَجْهُودَهُ، فَلَمْ يَجِدْ بُدًّا مِنْ أَنْ يَذُبَّ عَنْ عَيْنَيْهِ بِيَدِهِ، فَفَعَلَ وَعُيُونُ الْقَوْمِ تَرْمُقُهُ، وَكَأَنَّهُمْ لَا يَرَوْنَهُ، فَتَتَحَى عَنْهُ بِقَدْرِ مَا رَدَّ يَدَهُ وَسَكَنَتْ حَرَكَتُهُ، ثُمَّ عَادَ إِلَى مَوْضِعِهِ، ثُمَّ أَلْجَاهُ إِلَى أَنْ ذَبَّ عَنْ وَجْهِهِ بِطَرْفِ كُنَّهِ، ثُمَّ أَلْجَاهُ إِلَى أَنْ تَابَعَ ذَلِكَ، وَعَلِمَ أَنْ فِعْلَهُ كُلَّهُ

بِعَيْنِ مَنْ حَضَرَهُ مِنْ أَمَنَائِهِ وَجُلَسَائِهِ. فَلَمَّا نَظَرُوا إِلَيْهِ قَالَ : أَشْهَدُ أَنَّ الذُّبَابَ أَلَجُ مِنْ الخُنْفُسَاءِ، وَأَزْهَى مِنْ الْغُرَابِ، قَالَ : وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ، فَمَا أَكْثَرَ مَنْ أَعْجَبَتْهُ نَفْسُهُ، فَأَرَادَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُعَرِّفَهُ مِنْ ضُعْفِهِ مَا كَانَ عَنْهُ مَسْتُوْرًا، وَقَدْ عَلِمْتُمْ أَنِّي عِنْدَ نَفْسِي وَعِنْدَ النَّاسِ مِنْ أَرْزَنِ النَّاسِ، فَقَدْ غَلَبَنِي وَفَضَحَنِي أَضْعَفُ خَلْقِهِ، ثُمَّ تَلَا قَوْلَهُ تَعَالَى وَانْ يَسْلُبْهُمُ الذُّبَابُ شَيْئًا لَا يَسْتَنْقِذُوهُ مِنْهُ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالْمَطْلُوبُ ﴾ [الحج : ٧٣]

وَكَانَ بَيْنَ اللَّسَانِ، قَلِيْلَ فُضُولِ الْكَلَامِ، وَكَانَ مَهِيبًا فِي أَصْحَابِهِ، وَكَانَ أَحَدٌ مَنْ لَمْ يُطْعَنْ عَلَيْهِ فِي

نَفْسِهِ، وَلَا فِي تَعْرِيضِ أَصْحَابِهِ لِلْمَنَالَةِ.

অনুবাদ: এভাবে তিনি ক্রমাগত চোখ বন্ধ করতে ও খুলতে থাকলেন। এক পর্যায় তিনি ধৈর্য হারিয়ে

ফেললেন এবং তার চেষ্টার চূড়ান্তে এসে পৌঁছলেন। এ অবস্থায় নিজ হাতে মাছিটিকে সরিয়ে দেয়া ব্যতিত তার আর কোন উপায় ছিল না। তাই তিনি সেটাই করলেন। এ দিকে উপস্থিত সকলে চোরা দৃষ্টিতে তার এ কর্মকাণ্ড দেখছিল। এমনভাবে যেন তারা কিছুই দেখছিল না। যতক্ষণ হাত দ্বারা মাছিটিকে সরিয়ে দিয়ে তাড়ানো অব্যাহত রাখতেন ততক্ষণ মাছিটি সরে থাকত। অতঃপর পূর্বের স্থানে আবার ফিরে আসতো। এ অবস্থা চলতে থাকল এক পর্যায়ে তিনি জামার আস্তিন দ্বারা মাছিটিকে তাড়াতে বাধ্য হলেন। এভাবেই মাছিটি তাকে একাজে ব্যস্ত রাখল। তার বুঝতে বাকি রইল না যে, কোনো কিছুই তার দায়িত্বশীল ও পরিষদবর্গের অগোচরে নেই। উপস্থিত সকলে যখন কাজী সাহেবের দিকে মনোযোগ দিলেন, তখন তিনি বলে উঠলেন, আমি তো দেখছি মাছি গুবরে পোকার চেয়েও হঠকারী, কাকের চেয়েও নির্লজ্জ। তিনি বলেন, আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন। কতো মানুষ আত্মপ্রতারিত হয়েছে। তাই আল্লাহ তাকে তার অন্তর্নিহিত দুর্বলতাগুলো দেখিয়ে দিতে চাইলেন। তোমরা ভালোভাবেই জান, আমি নিজের কাছে এবং তোমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুগম্ভীর ব্যক্তি। অথচ আল্লাহর একটি দুর্বল প্রাণি আমাকে লজ্জিত ও নাজেহাল করে ছাড়ল। তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেন, "যদি মাছি তাদের থেকে কোনো কিছু ছিনিয়ে নেয়, তারা তা পুনরুদ্ধার করতে পারে না। যে চায় সেও দুর্বল, যার কাছে চাওয়া হয় সেও দুর্বল।" কাজী সাহেব ছিলেন সুস্পষ্টভাষী, অনর্থক কথা বর্জনকারী, সকলের সমীহের পাত্র। এ সকল গুণাবলির কারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও কখনো সমালোচিত হননি এবং সাথীসঙ্গীকেও নিন্দার পাত্র বানাননি।

13/10/2024

সুখতারাত (আরবি-বাংলা।

১০৫

مختارات من أداب العرب

كَذَلِكَ كَانَ شَأْنُهُ فِي طِوَالِ الْأَيَّامِ وَفِي قِصَارِهَا، وَفِي صَيْفِهَا وَفِي شِتَائِهَا، وَكَانَ مَعَ ذَلِكَ لَا يُحَرِّكُ يَدًا، وَلَا عُضْوا، وَلَا يُشِيرُ بِرَأْسِهِ، وَلَيْسَ إِلَّا أَنْ يَتَكَلَّمَ، ثُمَّ يُوجِزُ، وَيَبْلُغُ بِالْيَسِيرِ مِنَ الْكَلَامِ الْمَعَانِي الْكَبِيرَةَ. فَبَيْنَا هُوَ كَذَلِكَ ذَاتَ يَوْمٍ وَأَصْحَابُهُ حَوَالَيْهِ وَفِي السَّمَاطَيْنِ بَيْنَ يَدَيْهِ، سَقَطَ عَلَى أَنْفِهِ ذُبَابٌ، فَأَطَالَ الْمُكْتَ، ثُمَّ تَحَوَّلَ إِلَى مُوْقِ عَيْنِهِ، فَرَامَ الصَّبْرَ عَلَى سُقُوْطِهِ عَلَى الْمُوْقِ، وَصَبَرَ عَلَى عَضَهِ وَنَفَادِ خُرْطُوْمِهِ

كَمَا رَامَ الصَّبْرَ عَلَى سُقُوْطِهِ عَلَى أَنْفِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يُحَرِّكَ أَرْتَبَتَهُ أَوْ يُغَذِّنَ وَجْهَهُ أَوْ يَذْبَ بِإِصْبَعِهِ. فَلَمَّا طَالَ ذَلِكَ عَلَيْهِ مِنَ الذُّبَابِ، وَشَغَلَهُ وَأَوْجَعَهُ وَأَحْرَقَهُ، وَقَصَدَ إِلَى مَكَانِ لَا يَحْتَمِلُ التَّغَافُلَ، أَطْبَقَ جَفْتَهُ الْأَعْلَى عَلَى جَفْنِهِ الْأَسْفَلِ، فَلَمْ يَنْهَضُ، فَعَادَهُ ذَلِكَ إِلَى أَنْ يُوَالِي بَيْنَ الْإِطْبَاقِ وَالْفَتْحِ، فَتَحَى رَيْتَمَا سَكَنَ جَفْنَهُ، ثُمَّ عَادَ إِلَى مُوْقِهِ بِأَشَدَّ مِنْ مَرَّتِهِ الْأُولَى، فَغَمَسَ خُرْطُوْمَهُ فِي مَكَانٍ كَانَ قَدْ آذَاهُ فِيْهِ قَبْلَ ذلِكَ، فَكَانَ احْتِمَالُهُ أَقَلَّ، وَعَجْرُهُ عَنْ الصَّبْرِ فِي الثَّانِيَةِ أَقْوَى، فَحَرَّكَ أَجْفَانَهُ، وَزَادَ فِي شِدَّةِ الْحَرَكَةِ، وَأَلَحٌ

فَتْحِ الْعَيْنِ وَفِي تَتَابُعِ الْفَتْحِ وَالْإِطْبَاقِ، فَتَتَحَى عَنْهُ بِقَدْرِ مَا سَكَنَتْ حَرَكَتُهُ، ثُمَّ عَادَ إِلَى مَوْضِعِهِ. في

অনুবাদ: বড় দিন, ছোট দিন, শীত-গ্রীষ্ম সর্বাবস্থায় এটাই ছিল তার নিত্য দিনের কর্মসূচী। তদুপুরি না হাত নাড়াতেন, না অন্য কোনো অঙ্গ। এমনকি মাথা দিয়ে ইশারাও করতেন না। শুধু সংক্ষিপ্তভাবে মতামত ব্যক্ত করতেন। তাও অতি সংক্ষিপ্ত ও সহজ কথায় অনেক অর্থবহ করে। একদা তিনি যখন তার বিচারপ্রার্থী ও পরিষদবর্গ পরিবেষ্টিত হয়ে নিজের ভাব অনুযায়ী সেই অবস্থায় বসে

ছিলেন, এমন সময় তার নাকের উপর একটি মাছি এসে বসল। দীর্ঘ সময় মাছিটি বসে ছিল। কিছুক্ষণ পর মাছিটি নাকের উপর থেকে চোখের কোটরে অবস্থান নিল। তখন তিনি চোখের কোটরে মাছিটির অবস্থান সয়ে যেতে চাইলেন। আঘাত ও হুল ফোটানো সত্ত্বেও তিনি ধৈর্য ধারণ করলেন। যেভাবে নাকের ডগায় মাছির অবস্থান সহ্য করেছেন নাক না নাড়িয়ে, বিরক্তভাব প্রকাশ করা, বা আঙ্গুল দিয়ে মাছিটিকে সরিয়ে না দিয়েই। এক পর্যায়ে চোখের কোটরে মাছিটির অবস্থান যখন দীর্ঘায়িত হচ্ছিল, সাথে সাথে তাকে জ্বালাতন ও নিপীড়ন করছিল। এক পর্যায়ে এমন একটি জায়গায় চলে গেল, যা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়, তখন তিনি চোখের উপরের পাপড়ি নিচের পাপড়ির সাথে মেলালেন। কিন্তু এতদসত্ত্বেও মাছিটি সরল না, এ পরিস্থিতি তাকে বারবার চোখ খুলতে ও বন্ধ করতে বাধ্য করল। যতক্ষণ চোখের পাতা বন্ধ থাকে ততক্ষণ মাছিটি কিছুটা দূরে সরে যেত পরক্ষণে পূর্বের চেয়ে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে আপন স্থানে ফিরে আসত। আর ইতোপূর্বে যে স্থানে হুল ফুটিয়েছে, পুনরায় সেখানেই হুল ফুটাল। এতক্ষণে কাযি সাহেবের ধৈর্য শক্তি এমনিতেই কমে গিয়েছিল। আবার একই জায়গায় আরেকবার ধৈর্য্য ধরাও সহজ কথা নয়। তখন তিনি জোর করে চোখের পাতা সঞ্চালন করতে থাকলেন। অনবরত চোখের পাতা সঞ্চালন করতেই থাকলেন। মাছি সরে গেল ঠিকই। কিন্তু যেই চোখ নাড়ানো বন্ধ হল সেই জায়গামত ফিরে এল।

13/10/2024

গুরুগম্ভীর কাজী ও দুঃসাহসী মাছি

১০৪

بَيْنَ قَاضٍ وَقَوْرٍ وَذَبَابٍ جَسُورٍ

بَيْنَ قَاضٍ وَقُوْرٍ وَذُبَابٍ جَسُوْرٍ গুরুগম্ভীর কাজী ও দুঃসাহসী মাছি -আবু উসমান আমর ইবনে জাহিয

كَانَ لَنَا بِالْبَصْرَةِ قَاضٍ يُقَالُ لَهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ سَوَّارٍ، لَمْ يَرَ النَّاسُ حَاكِمًا زِمِّيْتًا رَكِينًا، وَلَا وَقُوْرًا حَلِيْمًا، ضَبَطَ مِنْ نَفْسِهِ وَمَلَكَ مِنْ حَرَكَتِهِ مِثْلَ الَّذِي ضَبَطَ وَمَلَكَ. كَانَ يُصَلَّى الْغَدَاةَ فِي مَنْزِلِهِ، وَهُوَ قَرِيبُ الدَّارِ مِنْ مَسْجِدِهِ، فَيَأْتِي مَجْلِسَهُ، فَيَحْتَنِي وَلَا يَنكِيُّ، فَلَا يَزَالُ مُنْتَصِبًا لَا يَتَحَرَّكُ لَهُ عُضْوٌ، وَلَا يَلْتَفِتُ، وَلَا تُحَلُّ حَبْوَتُهُ، وَلَا يُحَوِّلُ رِجْلًا عَنْ رِجْلٍ، وَلَا يَعْتَمِدُ عَلَى أَحَدٍ شِقَيْهِ، حَتَّى كَأَنَّهُ بِنَاهُ مَبْنِي أَوْ صَخْرَةٌ مَنْصُوبَةٌ، فَلَا يَزَالُ كَذَلِكَ حَتَّى يَقُوْمَ إِلَى صَلَاةِ الظُّهْرِ ، ثُمَّ يَعُودُ إِلى مَجْلِسِهِ، فَلَا يَزَالُ كَذَلِكَ حَتَّى يَقُوْمَ إِلَى صَلَاةِ الْعَصْرِ، ثُمَّ يَرْجِعُ لِمَجْلِسِهِ، فَلَا يَزَالُ كَذَلِكَ حَتَّى يَقُوْمَ لِصَلَاةِ الْمَغْرِبِ، ثُمَّ رُبَّمَا عَادَ إِلَى مَجْلِسِهِ، بَلْ كَثِيرًا مَا كَانَ يَكُونُ ذَلِكَ، إِذَا بَقِيَ عَلَيْهِ شَيْءٌ مِنْ قِرَاءَةِ الْعُهُودِ وَالشُّرُوطِ وَالْوَثَائِقِ، ثُمَّ يُصَلِّي الْعِشَاءَ الْآخِرَةَ، وَيَنْصَرِفُ فَالْحَقُّ يُقَالُ : لَمْ يَقُمْ فِي طُولِ تِلْكَ الْمُدَّةِ وَالْوِلَايَةِ مَرَّةً وَاحِدَةً إِلَى الْوُضُوءِ، وَلَا احْتَاجَ

إِلَيْهِ، وَلَا شَرِبَ مَاءً وَلَا غَيْرَهُ مِنْ الشَّرَابِ.

অনুবাদ : আব্দুল্লাহ ইবনে সাওয়ার নামে বসরায় একজন বিচারক ছিলেন। মানুষ এমন গুরুগম্ভীর, সহনশীল, শান্ত

ও স্থিরপ্রকৃতির কোনো বিচারক আর দেখেনি। তিনি নিজের এবং নিজের কর্মকাণ্ডকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন, যা

শুধু তার পক্ষেই সম্ভব হয়েছিল। তিনি মসজিদের নিকটে অবস্থিত নিজ বাসগৃহে ফজরের নামাজ আদায় করতেন।

নামাজ শেষে নিজ কর্মস্থলে এসে পেট-পিঠ ও উরুদ্বয় একত্র করে বসে পড়তেন, কোনো কিছুতে হেলান দিতেন না,

এভাবে স্থীর হয়ে বসে থাকতেন, কোনো অঙ্গ নাড়াতেন না, কোথাও দৃষ্টি দিতেন না, পেট-পিঠ ও উরুদ্বয় একত্র করে

যে বসতেন, তাতেও কোনো পরিবর্তন করতেন না, এক পা অন্য পায়ের উপর তুলে দিতেন না, দু'পাশের কোনো

এক পাশে হেলান দিতেন না। দেখে মনে হত, তিনি যেন এক নির্মিত ভবন বা স্থাপিত কোনো স্থাপনা। যোহরের

নামাজের জন্য উঠা পর্যন্ত এভাবেই থাকতেন। তারপর ফিরে এসে আসরের নামাজের আগ পর্যন্ত এভাবেই

থাকতেন। তারপর আবার ফিরে এসে মাগরিবের নামাজের আগ পর্যন্ত এভাবেই থাকতেন। এরপর মাঝে মধ্যে

আবার আসতেন; বরং কোনো চুক্তি, শর্ত ও নথিপত্র পড়া বাকি থাকলে অধিকাংশ সময় এমনটাই হত। তারপর

অবশ্য এশার নামাজ পড়ে চলে যেতেন। সত্য বলতে কি, তিনি তার বিচারকার্যের এই সুদীর্ঘ সময়ে একবারও অজুর

প্রয়োজনে উঠতেন না বরং এটা তার প্রয়োজন হতো না। পান বা অন্য কোনো পানীয়ও গ্রহণ করতেন না।

13/10/2024

সুখতারাত (আরবি-বাংলা

১০১

ارات من أدب العرب

ومِنَ الْمَأْمُون :

وَصَلَتْ رُفْعَتُكِ يَا أَمَّاهُ أَحَاطَكِ اللهُ، وَتَوَلَّاكِ بِالرِّعَايَةِ، وَ وَقَفْتُ عَلَيْهَا، وَسَاءَ نِي شَهِدَ اللهُ - جَمِيعُ مَا أَوْضَحْتِ فِيْهَا، لَكِنَّ الْأَقْدَارَ نَافِئَةٌ، وَالْأَحْكَامَ جَارِيَةٌ، وَالْأُمُورَ مُتَصَرِّفَةٌ، وَالْمَخْلُوْقُوْنَ فِي قَبْضِتِهَا لَا يَقْدِرُوْنَ عَلَى دِفَاعِهَا، وَالدُّنْيَا كُلُّهَا إِلَى شَتَاتٍ، وَكُلٌّ حَيَّ إِلَى مَمَاتٍ، وَالْغَدَرُ وَالْبَغْيِ حَتْفُ الْإِنْسَانِ وَالْمَكْرُ رَاجِعُ إِلَى صَاحِبِهِ، وَقَدْ أَمَرْتُ بِرَدٌ جَمِيعِ مَا أُخِذَ لَكِ، وَلَمْ تَفْقِدِي مِمَّنْ مَضَى إِلَى رَحْمَةِ اللَّهِ إِلَّا وَجْهَهُ، وَأَنَا بَعْدَ ذَلِكَ لَكَ عَلَى أَكْثَرَ مِمَّا تَخْتَارِينَ، وَالسَّلَامُ

খলিফা মামুনের উত্তর: আম্মাজান। আপনার পত্রখানা আমার কাছে পৌঁছেছে। আল্লাহ আপনাকে হেফাজত করুন এবং যাবতীয় দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করুন। চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। আল্লাহ সাক্ষী, আপনার চিঠির যাবতীয় বিষয় আমাকে মর্মাহত করেছে। কিন্তু আল্লাহর ফায়সালা অবধারিত। দ্বীনের যাবতীয় বিধি-বিধান চলমান। শরিয়তের যাবতীয় বিষয় কার্যকর। সকল মাখলুক ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণে, তা প্রতিহত করার সাধ্য কারও নেই। পুরো জগত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হবে। সকল জীব মৃত্যুর মুখোমুখি হবে। সীমালঙ্ঘন ও বিশ্বাসভঙ্গ ধ্বংসের অন্যতম কারণ। আর প্রতারণার ফল প্রতারককেই ভোগ করতে হবে। তবে আপনার বাজেয়াপ্ত সম্পদ আমি ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। যিনি আল্লাহর রহমতের কোলে চলে গেছেন আপনি শুধু তার বাহ্যিক দর্শন থেকে বঞ্চিত হবেন, আমি আপনার অভিপ্রায়ের চেয়েও বেশি কিছু করার জন্য প্রস্তুত। সালাম নিবেন।

13/10/2024

মহীয়সী যুবায়দা ও খলিফা মামুনের চিঠি আদান প্রদান

১০০

بَيْنَ السَّيِّدَةِ زَبَيْدَةَ وَالْمَأْمُونِ

بَيْنَ السَّيِّدَةِ زُبَيْدَةَ وَالْمَأْمُوْنِ

মহীয়সী যুবায়দা ও খলিফা মামুনের চিঠি আদান-প্রদান

مِنَ السَّيدَةِ زُبَيْدَة :

كُلُّ ذَنْبٍ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِيْنَا وَإِنْ عَظْمَ صَغِيْرٌ فِي جَنْبِ عَفْوِكَ، وَكُلُّ زَلَلٍ وَإِنْ جَلَّ حَقِيْرٌ عِنْدَ صَفْحِكَ.

وَذَلِكَ الَّذِي عَوَّدَكَ اللهُ، فَأَطَالَ مُدَّتَكَ، وَتَمَّمَ نِعْمَتَكَ، وَأَدَامَ بِكَ الْخَيْرَ، وَرَفَعَ بِكَ الشَّرَّ. هَذِهِ رُقْعَةُ الْوَالِهِ الَّتِي تَرْجُوكَ فِي الْحَيَاةِ لِنَوَائِبِ الدَّهْرِ وَفِي الْمَمَاتِ لِجَمِيلِ الذِّكْرِ. فَإِنْ رَأَيْتَ أَنْ تَرْحَمَ ضُعْفِي وَاسْتِكَانَتِي وَقِلَّةَ حِيْلَتِي وَأَنْ تَصِلَ رِحْيِي وَتَحْتَسِبَ فِيمَا جَعَلَكَ اللَّهُ لَهُ طَالِبًا وَفِيهِ رَاغِبًا :

فَافْعَلْ، وَتَذَكَّرْ مَنْ لَوْ كَانَ حَيًّا لَكَانَ شَفِيعِي إِلَيْكَ.

অনুবাদ: যুবায়দার (১) পক্ষ থেকে: হে আমীরুল মুমিনীন। অপরাধ যত বড়ই হোক, আপনার মার্জনার সামনে অতি নগণ্য। পদস্খলন যত গুরতরই হোক, আপনার ক্ষমার কাছে খুইব সামান্য। এমন মহানুভবতাই আল্লাহ আপনার স্বভাবে দান করেছেন এবং আপনার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করেছেন। আপনার প্রতি তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেছেন। আপনার মাধ্যমে সকল কল্যাণ অব্যাহত রেখেছেন। সকল অকল্যাণের গ্লানি মুছে দিয়েছেন।

একজন দুঃখ-বেদনায় জর্জরিত অসহায় নারীর পত্র, যে জীবদ্দশায় বিপদ সংকটে আপনাকে পাশে পাবার আশা করে, আর মৃত্যুর পর আপনার সুন্দর আলোচনার প্রত্যাশা করে। অতএব আপনি যদি চান আমার দুর্বলতা, অসহায়ত্ব, ও বিপন্ন অবস্থার প্রতি করুণা করে আমার সাথে আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখবেন এবং আল্লাহ আপনাকে যে বিষয়ে আগ্রহী ও অনুরাগী করেছেন, তাতে সওয়াবের ভাগী হবেন, তাহলে করতে পারেন। আর তার কথা স্বরণ করুন, যিনি বেঁচে থাকলে অবশ্যই আমার জন্য আপনার কাছে সুপারিশ করতেন।

13/10/2024

অন্তরঙ্গ কয়েকজন বন্ধুর কথা

الجوال الصفاء xong

وَكُلُّ أَمْرِكَ يَا دَاوُدًا عَجَبٌ، أَمَا كُنْتَ تَشْتَهِي مِنْ الْمَاءِ بَارِدَهُ، وَلَا مِنْ الطَّعَامِ طَيِّبَهُ، وَلَا مِنَ اللَّبَاسِ لِينَهُ؟ بَلَى، وَلَكِنَّكَ زَهِدْتَ فِيْهِ لِمَا بَيْنَ يَدَيْكَ، فَمَا أَصْغَرَ مَا بَذَلْتَا وَمَا أَحْفَرَ مَا تَرَكْتَ وَمَا أَيْسَرَ مَا فَعَلْتَ فِي جَنْبِ مَا أَمَلْتَا أَمَّا أَنْتَ فَقَدْ ظَفِرْتَ بِرُوحِ الْعَاجِلِ وَسَعِدْتَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ فِي الْآجِلِ، عَزَلْتَ الشَّهْرَةَ عَنْكَ فِي حَيَاتِكَ لِكَيْ لَا يَدْخُلَكَ عُجْبُهَا وَلَا يَلْحَقَكَ فِتْنَتُهَا، فَلَمَّا مُتَّ شَهَرَكَ رَبُّكَ بِمَوْتِكَ وَأَلْبَسَكَ رِدَاءَ عَمَلِكَ، فَلَوْ رَأَيْتَ الْيَوْمَ كَثْرَةَ تَبَعِكَ عَرَفْتَ أَنَّ رَبَّكَ قَدْ أَكْرَمَكَ.

অনুবাদ: হে দাউদ! তোমার প্রতিটি কর্মই ছিল আশ্চর্যজনক। তোমার কি ঠাণ্ডা পানি, সুস্বাদু খাবার ও মসৃন পোশাকের কোনো চাহিদা ছিল না? অবশ্যই ছিল। কিন্তু পরকালের সাফল্য কামনায় তুমি সবকিছু পরিহার করেছ। সুতরাং তোমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে যা কিছু ব্যয় করেছ, তা কতইনা ক্ষুদ্র, যা কিছু ত্যাগ করেছ, তা কতইনা তুচ্ছ। যা কিছুই করেছ তা একেবারে নগণ্য। তুমি তো পার্থিব জগতে সফল-সার্থক। ইনশাআল্লাহ পরকালেও তুমি সৌভাগ্যের মুকুট পরিধান করবে। তুমি পার্থিব জীবনে সুনাম-সুখ্যাতি পরিত্যাগ করেছ। যাতে তুমি প্রবঞ্চিত না হও, এবং তার অনিষ্টতা তোমাকে স্পর্শ করতে না পারে। তাইতো যখন তুমি মৃত্যুবরণ করলে, তখন তোমার রব তোমার সুনাম-সুখ্যাতি ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তোমাকে তোমার নেক আমলের চাদর পরিধান করালেন। সুতরাং আজ যদি তুমি তোমার বিপুল অনুসারী দেখতে পেতে, তাহলে অবশ্যই তুমি উপলব্ধি করতে পারতে, যে আল্লাহ অবশ্যই তোমাকে সম্মানিত করেছেন।

13/10/2024

মুখতারাত [আরবি-বাংলা]

৯৭

مُخْتَارَاتٌ مِنْ أَدَبِ الْعَرَبِ

جَاوَزْتَ حَدَّ الْمُسَافِرِينَ فِي أَسْفَارِهِمْ، وَجَاوَزْتَ حَدَّ الْمَسْجُوْنِيْنَ فِي سُجُونِهِمْ. فَأَمَّا الْمُسَافِرُونَ فَيَحْمِلُوْنَ مِنَ الطَّعَامِ وَالْحَلَاوَةِ مَا يَأْكُلُوْنَ، فَأَمَّا أَنْتَ فَإِنَّمَا هِيَ خُبْرَتُكَ أَوْ خُبْزَتَانِ فِي شَهْرِكَ تَرْنِي بِهَا فِي دَنَّ عِنْدَكَ. فَإِذَا أَفْطَرْتَ أَخَذْتَ مِنْهُ حَاجَتَكَ، فَجَعَلْتَهُ فِي مِظْهَرَتِكَ، ثُمَّ صَبَّبْتَ عَلَيْهِ مِنَ الْمَاءِ مَا يَكْفِيكَ، ثُمَّ اصْطَبَعْتَ بِهِ مِلْحًا، فَهُذَا إِدَامُكُ وَحَلْوَاكَ، فَمَنْ سَمِعَ بِمِثْلِكَ صَبَرَ صَبْرَكَ، أَوْ عَزَمَ عَزْمَكَ، وَمَا أَظُنُّكَ إِلَّا قَدْ لَحِقْتَ بِالْمَاضِينَ، وَمَا أَظُنُّكَ إِلَّا قَدْ فَضَلْتَ الْآخِرِينَ، وَلَا أَحْسِبُكَ إِلَّا قَدْ أَنْعَبْتَ الْعَابِدِينَ.

وَأَمَّا الْمَسْجُوْنُ فَيَكُوْنَ مَعَ النَّاسِ مَحْبُوسًا، فَيَأْنَسُ بِهِمْ وَأَمَّا أَنْتَ فَسَجَنْتَ نَفْسَكَ فِي بَيْتِكَ وَحْدَكَ فَلَا مُحَدَّثَ وَجَلِيْسَ مَعَكَ. وَلَا أَدْرِي أَيُّ الْأُمُورِ أَشَدُّ عَلَيْكَ : الْخَلْوَةُ فِي بَيْتِكَ تَمُرُّ بِكَ الشُّهُورُ وَالسَّنُوْنَ أَمْ تَرْكُكَ الْمَطَاعِمَ وَالْمَشَارِبَ. لَا سِتْرَ عَلَى بَابِكَ، وَلَا فِرَاشَ تَحْتَكَ، وَلَا قُلَّةَ يَبْرُدُ فِيهَا مَاؤُكَ، وَلَا قَصْعَةَ يَكُونُ فِيهَا غَدَاؤُكَ

وَعَشَاؤُكَ، مَظْهَرَتُكَ قُلْتُكَ، وَقَصْعَتُكَ تَوْرُكَ.

অনুবাদ: তুমি তো মুসাফিরদের অগণিত সফরজীবনকে ছাড়িয়ে গেছ, কারাবাসীদের একের পর এক কারাবরণকেও হার মানিয়েছ। মুসাফির তো প্রয়োজনীয় খাবার ও পাথেয় সাথে নেয়। আর তোমার খাবার

ছিল বিশেষ পাত্রে সংরক্ষিত মাসে দু'একটি রুটি। যখন খাবারের প্রয়োজন অনুভব করতে, তখন তা থেকে সামান্য পরিমাণ নিয়ে অজুর পাত্রে রাখতে। তারপর তাতে অল্প কিছু পানি ও লবন মেশাতে। এটাই ছিল তোমার সালন ও মিষ্টান্ন। যে তোমার কথা শুনেছে, সে তোমার মত ধৈর্য ধরতে চেয়েছে কিংবা সংকল্প করেছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস তুমি মহান পূর্বসূরীদের অন্তর্ভুক্ত। আমি বিশ্বাস করি তুমি পরবর্তীদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছো। আমার বিশ্বাস তুমি আবেদদের ক্লান্ত করে দিয়েছ।

কারাবন্দি সে-ও তো সহবন্দিদের সাথে বন্দি জীবন যাপন করে। তাদের দ্বারাই অন্তরঙ্গতা বোধ করে। অথচ তুমি নিজেকে স্বগৃহে একাকিত্বের সাথে বন্দী রেখেছ। তোমার সাথে কথা বলার কিংবা উঠা বসা করার কেউ ছিল না। আমি বলতে পারি না, কোনটা তোমার জন্য সবচেয়ে কঠিন ছিল, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করা, না পানাহার ত্যাগ করা? তোমার দুয়ারে কোনো পর্দা ছিল না। তোমার নিচে কোনো বিছানা ছিল না। পানি সংরক্ষণের কোনো পাত্র ছিল না। খাবার রাখার কোনো বড় বর্তন ছিল না। ওযুর পাত্রটিই তোমার পানপাত্র আর ছোট পেয়ালাটিই খাবারের বর্তন।

13/10/2024

الخوان الصفاء

অন্তরঙ্গ কয়েকজন বন্ধুর কথা

৯৬

1

يَا دَاوُدًا مَا أَعْجَبَ شَأْنَكَ أَلْزَمْتَ نَفْسَكَ الصَّمْتَ، حَتَّى فَوَّمْتَهَا عَلَى الْعَدْلِ، أَهَنْتَهَا وَإِنَّمَا تُرِيدُ كَرَامَتَهَا، وَأَذْلَلْتَهَا وَإِنَّمَا تُرِيدُ إِعْزَازَهَا، وَوَضَعْتَهَا وَإِنَّمَا تُرِيدُ تَشْرِيفَهَا، وَأَنْعَبْتَهَا وَإِنَّمَا تُرِيدُ رَاحَتَهَا وَأَجَعْتَهَا وَإِنَّمَا تُرِيدُ شَبْعَهَا، وَأَطْمَأْتَهَا وَإِنَّمَا تُرِيدَ رِبَّهَا، وَخَشَّنْتَ المَلْبَسَ وَإِنَّمَا تُرِيدُ لِيْنَهُ، وَجَنَّبْتَ

الْمَطْعَمَ وَإِنَّمَا تُرِيدُ طِيبَهُ. وَأَمَتَّ نَفْسَكَ قَبْلَ أَنْ تَمُوْتَ، وَقَبَرْتَهَا قَبْلَ أَنْ تُقْبَرَ، وَعَذَّبْتَهَا قَبْلَ أَنْ تُعَذِّبَ، وَغَيَّبْتَهَا عَنْ النَّاسِ كَيْ لا تُذكَرَ، وَغِبْتَ بِنَفْسِكَ عَنْ الدُّنْيَا إِلَى الْآخِرَةِ، فَمَا أَظُنُّكَ إِلَّا قَدْ ظَفِرْتَ بِمَا طَلَبْتَ . كَانَ سِيْمَاكَ فِي عَمَلِكَ وَسِرَّكَ، وَلَمْ يَكُنْ سِيمَاكَ فِي وَجْهِكَ. فَقُهْتَ فِي دِينِكَ ثُمَّ تَرَكْتَ النَّاسَ يُفْتُوْنَ، وَسَمِعْتَ

الْأَحَادِيثَ ثُمَّ تَرَكْتَ النَّاسَ يُحَدِّثُونَ وَيَرْوُوْنَ، وَخَرِسْتَ عَنِ الْقَوْلِ وَتَرَكْتَ النَّاسَ يَنْطِقُوْنَ . وَلَا تَحْسُدُ الْأَخْيَارَ، وَلَا تَعِيبُ الْأَشْرَارَ، وَلَا تَقْبَلُ مِنَ السُّلْطَانِ عَطِيَّةٌ، وَلَا مِنَ الْإِخْوَانِ هَدِيَّةٌ أَنَسُ مَا تَكُوْنُ إِذَا كُنْتَ بِاللَّهِ خَالِيًا، وَأَوْحَشُ مَا تَكُونُ إِذَا كُنْتَ مَعَ النَّاسِ جَالِسًا، فَأَوْحَشُ مَا تَكُوْنُ

آنسُ مَا يَكُونُ النَّاسُ، وَأَنَسُ مَا تَكُونُ أَوْحَشُ مَا يَكُوْنُ النَّاسُ.

অনুবাদ: হে দাউদ। তোমার অবস্থা কত না বিস্ময়কর। তুমি তো নিজের জন্য নীরবতাকে অনিবার্য করেছ, তথাপি নিজেকে ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছ। মর্যাদা পাবার আশায় দুনিয়াতে অমর্যাদা স্বীকার করেছ। প্রকৃত ভালোবাসার আশায় অপমান বরণ করেছ। সত্যিকারের সম্মান ও আভিজাত্যের আশায় সাময়িক অসম্মান মেনে নিয়েছ। নিজেকে করেছ কর্ম-ক্লান্ত, অথচ আত্ম-প্রশান্তি তোমার কাম্য ছিল। নিজেকে রেখেছ ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত, অথচ তোমারও চাহিদা ছিল পরিতৃপ্ততা। মোটা পোশাক পরিধান করতে, কিন্তু অন্যদের ন্যায় তোমারও চাহিদা ছিল নরম পোশাকের। সুস্বাদু খাবারের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ খাবার গ্রহণ করেছ। মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করার পূর্বেই নিজেকে মৃতদের কাতারে অন্তর্ভুক্ত করেছ। সমাধিস্থ হওয়ার পূর্বেই নিজেকে সমাধিস্থ করেছ। কষ্ট আসার পূর্বেই নিজেকে কষ্ট দিয়েছ। আলোচিত হতে চাওনি বলে নিজেকে রেখেছ লোক চক্ষুর অন্তরালে। পার্থিব জগত থেকে নিবৃত থেকে নিজেকে আখেরাতমুখী করেছ। তোমার ব্যাপারে আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে তুমি সফল-সার্থক। তোমার প্রকৃত সৌন্দর্য ছিল তোমার আমলে ও অন্তরে, তোমার চেহারার মাঝে নয়। দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করে ফাতওয়ার ভার দিয়েছ অন্যের কাঁধে। হাদিসের জ্ঞান লাভ করে অন্যকে হাদিস বর্ণনার সুযোগ দিয়েছ। অন্যকে বলার সুযোগ দিয়ে নিজে বাকরুদ্ধ থেকেছ। ভাল লোকদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে না, আর মন্দদের দোষ চর্চা করতে না। শাসকদের হাদিয়া আর বন্ধুদের উপহার গ্রহণ থেকেও বিরত থাকতে। একান্তে আল্লাহর ইবাদত কালে তুমি থাকতে অধিক হাস্যোজ্জ্বল-উদ্দীপ্ত। আর মানুষের সাথে উঠা বসায় তুমি হতে নিষ্প্রভ। তোমার কাছে সবচে' অপ্রিয় মুহূর্তটাই মানুষের সবচে' প্রিয় আর তোমার কাছে সবচে' প্রিয় মুহূর্তটিই মানুষের কাছে সবচে' অপ্রিয়।

13/10/2024

সুখভারাত (আরবি-বাংলা।

৯৫

مُخْتَارَاتٌ مِنْ أَدَبِ الْعَرَبِ

وَصْفُ الزَّاهِدِ দুনিয়া বিমুখ এক দরবেশের কথা

- ইবনে সাম্মাক (১)

قَالَ ابْنُ السَّمَاكِ حِيْنَ مَاتَ دَاوُدُ الطَّائِيُّ : يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ أَهْلَ الدُّنْيَا تَعَجَّلُوا غُمُوْمَ الْقَلْبِ وَهُمُوْمَ النَّفْسِ وَتَعَبَ الْأَبْدَانِ مَعَ شِدَّةِ الْحِسَابِ، فَالرَّغْبَةُ مُنْعِبَةً لِأَهْلِهَا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَالزَّهَادَةُ رَاحَةُ لِأَهْلِهَا في الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ. وَإِنَّ دَاوُدَ الطَّائِي نَظَرَ بِقَلْبِهِ إِلَى مَا بَيْنَ يَدَيْهِ، فَأَغْشَى بَصَرُ قَلْبِهِ بَصَرَ الْعُيُونِ، فَكَأَنَّهُ لَمْ يُبْصِرْ مَا إِلَيْهِ تَنْظُرُوْنَ، وَكَأَنَّكُمْ لَا تُبْصِرُوْنَ مَا إِلَيْهِ يَنْظُرُ، فَأَنْتُمْ مِنْهُ تَعْجَبُونَ وَهُوَ مِنْكُمْ يَتَعَجَّبُ. فَلَمَّا نَظَرَ إِلَيْكُمْ رَاغِبِيْنَ مَغْرُورِينَ قَدْ ذَهَبَتْ عَلَى الدُّنْيَا عُقُوْلُكُمْ، وَمَاتَتْ مِنْ حُبَّهَا قُلُوْبُكُمْ وَعَشِقَتْهَا أَنْفُسُكُمْ، وَامْتَدَّتْ إِلَيْهَا أَبْصَارُكُمْ، اِسْتَوْحَشَ الزَّاهِدُ مِنْكُمْ، لِأَنَّهُ كَانَ حَيًّا وَسَطَ مَوْتَى.

অনুবাদ: দাউদ তাঈর (২) ইন্তেকালের পর ইবনে সাম্মাক বলেন, হে লোকসকল। নিঃসন্দেহে দুনিয়াদারদের নগদ প্রাপ্তি হল মনের উদ্বেগ, অন্তরের উৎকণ্ঠা, শরীরের ক্লান্তি আর হিসাবের কাঠিন্য । দুনিয়ার মোহ ও আসক্তি দুনিয়া ও আখেরাতে মানুষের জন্য ক্লান্তির কারণ। আর দুনিয়ার প্রতি নির্মোহতা দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের প্রশান্তির কারণ। নিশ্চয় দাউদ তাঈ তার অন্তরদৃষ্টি দ্বারা সবকিছু অবলোকন করতেন। তার অন্তর্চক্ষু চর্মচক্ষুকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল। তাই তো তোমরা চর্মচক্ষু দিয়ে যা কিছু দেখতে, তিনি তা দেখতেন না। আর তিনি যা দেখতেন তোমরা তা দেখ না। ফলে তোমরা তাকে দেখে অবাক হতে এবং তিনিও তোমাদের দেখে অবাক হতেন। তিনি যখন দেখলেন, তোমরা দুনিয়ার মোহে মত্ত, ধোঁকাগ্রস্ত, দুনিয়ার সন্ধানে তোমাদের বিবেক বুদ্ধি লোপ পেয়েছে, দুনিয়ার ভালোবাসায় তোমাদের অন্তকরণ মরে গিয়েছে, দুনিয়ার প্রতি মত্ত হয়ে সেদিকেই তোমাদের দৃষ্টি প্রসারিত, তখন এ দরবেশ তোমাদের থেকে নিরাপদ দূরত্বকেই বেছে নিলেন। কেননা মৃতদের মাঝে তিনি ছিলেন প্রকৃত জীবিত।

07/10/2024

مختارات مِنْ أَدب العرب

সুখভারাত (আরবি-বাংলা।

৯০

فَفَكَرَ فِي أَمْرِهِ مَعَ الظَّنِّي الْمُتَظَلَّعِ، فَظَنَّ أَنَّهُ خُوْلِطَ فِي عَقْلِهِ، وَفَكَرَ فِي أَمْرِ الظَّنِّي وَالْغُرَابِ الَّذِي كَأَنَّهُ يَأْكُلُ مِنْهُ، وَقَرْضِ حِبَالَتِهِ، فَاسْتَوْحَشَ مِنْ الْأَرْضِ، وَقَالَ : هَذِهِ أَرْضُ مِنْ أَوْ سَحَرَةٍ، فَرَجَعَ مُوَلَّيًا لَا يَلْتَمِسُ شَيْئًا وَلَا يَلْتَفِتُ إِلَيْهِ وَاجْتَمَعَ الْغُرَابُ وَالظَّبْي وَالْجُرَذُ وَالسُّلَحْفَاةُ إِلَى عَرِيْشِهِمْ سَالِمِينَ آمِنِيْنَ كَأَحْسَنِ مَا كَانُوا عَلَيْهِ، فَإِذَا كَانَ هَذَا الْخَلْقُ مَعَ صِغَرِهِ وَضُعْفِهِ قَدْ قَدَرَ عَلَى التَّخَلَّصِ مِنْ مَرَابِطِ التَّهْلُكَةِ مَرَّةً بَعْدَ أُخْرَى بِمَوَدَّتِهِ وَخُلُوْصِهَا وَثَبَاتِ قَلْبِهِ عَلَيْهَا وَاسْتَمْتَاعِهِ مَعَ أَصْحَابِهِ بَعْضِهِمْ بِبَعْضٍ، فَالْإِنْسَانُ الَّذِي قَدْ أُعْطِيَ الْعَقْلَ وَالْفَهُمَ، وَأَلْهِمَ الْخَيْرَ وَالشَّرَّ، وَمُنِعَ التَّمْبِيْنَ وَالْمَعْرِفَةَ، أَوْلَى وَأُخْرَى بِالتَّوَاصُلِ وَالتَّعَاضُدِ. فَهُذَا مِثْلُ إِخْوَانِ

الصَّفَاءِ وَاخْتِلَافِهِمْ فِي الصُّحْبَةِ.

অনুবাদ: শিকারী তখন প্রতারক হরিণের সাথে তার কর্ম নিয়ে ভাবল। তখন তার মনে হল তার মস্তিস্কের

বিকৃতি ঘটেছে। শিকারী হরিণ ও হরিণ খাওয়ার ভানকারী কাক ও কর্তৃত জাল ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ভাবছিল। এ অবস্থায় সে স্থানটি তার ভীতিকর মনে হল। বলে উঠল, এতো জ্বীন যাদুকরদের ভবের

আস্তানা। তৎক্ষণাৎ শিকারী আর কোনো কিছুর সন্ধান না করে কোনো দিকে না তাকিয়ে পিছু হটল। তারপর কাক, হরিণ, কচ্ছপ, ইঁদুর তাদের চালাঘরে একত্র হল। তারা এখন পূর্বের চেয়েও নিশ্চিন্ত, নিরাপদ। এই ক্ষুদ্র ও দুর্বল সৃষ্টিজীব পারস্পরিক ভালোবাসা ও একনিষ্টতা এবং তার উপর অবিচলতা এবং একে অপরের সহযোগিতার মধ্যমে যদি একের পর এক মরণফাঁদ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে, তাহলে যে মানুষকে দান করেছেন আল্লাহ বিবেক ও চিন্তাশক্তি, ভাল-মন্দ উপলদ্ধি করার যোগ্যতা, ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্যকারী ইলম ও জ্ঞান, সেই মানুষতো পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখার অধিকতর উপযোগী। এ

হল অকৃত্রিম বন্ধুদের মিলেমিশে জীবন যাপনের অনন্য দৃষ্টান্ত।

07/10/2024

অন্তরঙ্গ কয়েকজন বন্ধুর কথা

১২

الخوان الصفاء

فَقَالَ الظَّبْيَ وَالْغُرَابُ لِلْجُرَدَ : إِنَّ حَذْرَنَا وَحَذْرَكَ وَكَلَامَكَ وَإِنْ كَانَ بَلِيْغًا - كُلٌّ مِنْهَا لَا يُغْنِي عَنْ السُّلَحْفَاةِ شَيْئًا، وَإِنَّهُ كَمَا يُقَالُ : إِنَّمَا يُخْتَبَرُ النَّاسُ عِنْدَ الْبَلَاءِ، وَذُو الْأَمَانَةِ عِنْدَ الْأَخْذِ وَالْعَطَاءِ

وَالْأَهْلُ وَالْوَلَدُ عِنْدَ الْفَاقَةِ، كَذَلِكَ يُخْتَبَرُ الْإِخْوَانُ عِنْدَ التَّوَائِبِ». قَالَ الْجُرَدُ : أَرى مِنْ الْحَيْلَةِ أَنْ تَذْهَبَ أَيُّهَا الظَّنِّي فَتَفَعَ بِمَنْظَرِ مِنَ الْقَائِصِ كَأَنَّكَ جَرِيحٌ، وَيَقَعَ الْغُرَابُ عَلَيْكَ كَأَنَّهُ يَأْكُلُ مِنْكَ، وَأَسْعَى أَنَا فَأَكُونَ قَرِيبًا مِنَ الْقَائِصِ، مُرَاقِبًا لَمْ لَعَلَّهُ أَنْ يَرْنِي مَا مَعَهُ

مِنْ الْآلَةِ، وَيَضَعَ السُّلَحْفَاةُ، وَيَقْصِدَكَ طَامِعًا فِيْكَ، وَرَاجِيًا تَحْصِيلَكَ. فَإِذَا دَنَا مِنْكَ فَفِرَّ عَنْهُ رُوَيْدًا بِحَيْثُ لَا يَنْقَطِعُ طَمَعُهُ مِنْكَ، وَمَكَّنْهُ مِنْ أَخْذِكَ مَرَّةً بَعْدَ مَرَّةٍ حَتَّى يَبْعُدَ عَنَّا، وَانْحُ مِنْهُ هذَا النَّحْوَ مَا اسْتَطَعْتَ، فَإِنِّي أَرْجُو أَلَّا يَنْصَرِفَ إِلَّا وَقَدْ قَطَعْتُ الْحَبَائِلَ عَنْ السُّلَحْفَاةِ، وَأَنْجُوْ بِهَا. فَفَعَلَ الْغُرَابُ وَالظَّبْي مَا أَمَرَهُمَا بِهِ الْجُرَدُ، وَتَبِعَهُمَا الْقَائِصُ، فَاسْتَجَرَّهُ الظَّبْي حَتَّى أَبْعَدَهُ عَنْ الْجُرَةِ وَالسُّلَحْفَاةِ، وَالْجُرَدُ مُقْبِلُ عَلَى قَطْعِ الحَبائِلِ، حَتَّى فَطَعَهَا، وَنَجَا بِالسُّلَحْفَاةِ، وَعَادَ

الْقَائِصُ مَجْهُودًا لَاعِبًا، فَوَجَدَ حِبَالَتَهُ مُقَطَّعَةٌ.

অনুবাদ: হরিণ ও কাক ইঁদুরকে বলল, আমাদের সতর্কতা ও তোমাদের সতর্কতা এবং তোমার জ্ঞানের কথা যদিও তা সাহিত্যপূর্ণ হয় কোনো কিছুই কচ্ছপের কাজে আসবে না। যেমন বলা হয়, মানুষের পরীক্ষা হয় বিপদের সময়। বিশ্বাসের পরীক্ষা হয় লেনদেনের সময়। পরিবার পরিজন ও সন্তানের পরীক্ষা হয় দরিদ্রতার সময়। তেমনই বন্ধু চেনা যায় বিপদের সময়।

ইঁদুর বলল, আমি একটি কৌশল নিয়ে ভাবছি। হরিণ তুমি শিকারীর দৃষ্টিসীমায় আহতের ভান করে পরে থাকবে, আর কাক তখন তোমার উপর গিয়ে বসবে যেন তোমাকে ঠুকরে খাচ্ছে। এদিকে আমি শিকারীর প্রতি সজাগ দৃষ্টি রেখে তার কাছাকাছি চলে আসার চেষ্টা করব। খুব সম্ভব শিকারী লোভ সামলাতে না পেরে তোমাকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় তার কাছে থাকা হাতিয়ার ও কচ্ছপ ফেলে এগিয়ে আসবে। এভাবে যখন শিকারী তোমার কাছাকাছি চলে আসবে তখন তুমি ধীরগতিতে এমনভাবে পিছু হটতে থাকবে

যাতে তোমার ব্যাপারে আশাহত না হয়ে পড়ে, আর তাকে বারবার তোমাকে ধরার সুযোগ দিতে থাকবে

আমাদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে চলে যাওয়া পর্যন্ত এভাবে সে একপর্যায়ে আমাদের থেকে দূরে চলে যাবে।

আশা করি, শিকারী ফিরে আসার আগেই জাল কেটে কচ্ছপকে নিয়ে পালাতে পারব। হরিণ ও কাক ইঁদুরের পরামর্শ মতো কাজ করল। শিকারী তাদের পিছু নিল। হরিণ একটু একটু করে শিকারীকে নিয়ে ইঁদুর ও কচ্ছপ থেকে অনেক দূরে চলে গেল। এদিকে ইঁদুর জাল কাটায় মনোনিবেশ করল। এক পর্যায়ে জাল কেটে কচ্ছপকে উদ্ধার করতে সক্ষম হল। শিকারী ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে ফিরে এল। তখন কচ্ছপকে বেধে রাখা জালটিও কর্তৃত দেখতে পেল।

07/10/2024

মুখতারাত (আরবি-বাংলা।

৯১

مُخْتَارَاتٌ مِنْ أَدَبِ الْعَرَبِ

فَنَجَا الظَّي بِنَفْسِهِ، وَطَارَ الْغُرَابُ مُحَلَّقًا، وَدَخَلَ الْجُرَدُ بَعْضَ الْأَجْحَارِ، وَلَمْ يَبْقَ غَيْرُ السُّلَحْفَاةِ، وَدَنَا الصَّيَّادُ، فَوَجَدَ حِبَالَتَهُ مُقَطَّعَةً، فَنَظَرَ يَمِينًا وَشِمَالًا، فَلَمْ يَجِدْ غَيْرَ الشَّلَحْفَاةِ تَدِبُّ، فَأَخَذَهَا وَرَبَطَهَا. وَطَارَ الْغُرَابُ مُخَلَّقًا، وَدَخَلَ الْجُرَةُ بَعْضَ الْأَجْحَارِ، وَلَمْ يَبْقَ غَيْرُ السُّلَحْفَاةِ، وَدَنَا الصَّيَّادُ، فَوَجَدَ حِبَالَتَهُ

مُقَطَّعَةٌ، فَنَظَرَ يَمِينًا وَشِمَالًا، فَلَمْ يَجِدْ غَيْرَ السُّلَحْفَاةِ تَدِبُّ، فَأَخَذَهَا وَرَبَطَهَا. فَلَمْ يَلْبَتْ الْغُرَابُ وَالْجُرَةُ وَالظَّنِّي أَنِ اجْتَمَعُوْا، فَنَظَرُوا الْقَائِصَ قَدْ رَبَطَ السُّلَحْفَاةَ، فَاشْتَدَّ حُزْنُهُمْ وَقَالَ الْجُرَدُ : مَا أَرَانَا تُجَاوِزُ عَقَبَةً مِنَ الْبَلَاءِ إِلَّا صِرْنَا فِي أَشَدَّ مِنْهَا، وَلَقَدْ صَدَقَ الَّذِي قَالَ : لَا يَزَالُ الْإِنْسَانُ مُسْتَمِرًا فِي إِقْبَالِهِ مَا لَا يَعْثِرُ، فَإِذَا عَثَرَ لَجَّ بِهِ الْعِثَارُ وَإِنْ مَشَى فِي جَدَدِ الْأَرْضِ». وَحَذَرِي عَلَى السُّلَحْفَاةِ خَيْرِ الْأَصْدِقَاءِ الَّتِي خُلَتُهَا لَيْسَتْ لِلْمُجَازَاةِ وَلَا لِالْتِمَاسِ مُكَافَأَةٍ، وَلَكِنَّهَا خُلَّهُ الْكَرَمِ وَالشَّرَفِ، خُلَّةٌ هِيَ أَفْضَلُ مِنْ خُلَّةِ الْوَالِدِ لِوَلَدِهِ، خُلَّةٌ لَا يُزِيلُهَا إِلَّا الْمَوْتُ. وَيْحٌ لِهَذَا الْجَسَدِ الْمُوَكَّلِ بِهِ الْبَلَاءُ الَّذِي لَا يَزَالُ فِي تَصَرُّفٍ وَتَقَلُّبِ، وَلَا يَدُومُ لَهُ شَيْءٌ، وَلَا يَلْبَتُ مَعَهُ أَمْرُ، كَمَا لَا يَدُوْمُ لِلطَّالِعِ مِنْ النُّجُومِ طُلُوْعٌ، وَلَا لِلْآفِلِ مِنْهَا أَقولُ، لَكِنْ لَا يَزَالُ الطَّالِعُ مِنْهَا آفِلًا وَالْآفِلُ طَالِعًا، وَكَمَا تَكُوْنُ

آلَامُ الْكُلُومِ وَانْتِقَاضُ الْجِرَاحَاتِ، كَذَلِكَ مَنْ فَرِحَتْ كُلُوْمُهُ بِفَقْدِ إِخْوَانِهِ بَعْدَ اجْتِمَاعِهِ بِهِمْ.

অনুবাদ: হরিণ প্রাণে বেঁচে গেল। কাক আকাশে উড়াল দিল। ইঁদুর ডুকে গেল কোনো এক গর্তে। শুধু কচ্ছপ রয়ে গেল। শিকারী এসে লক্ষ করল যে তার জাল কর্তৃত অবস্থায় পড়ে আছে। ডানে বামে শুধু কচ্ছপটি দেখতে পেল, ধীরগতিতে হাঁটছে। শিকারী কচ্ছপটি ধরে বেঁধে ফেলল। কাক, ইঁদুর ও হরিণের একত্র হতে বিলম্ব হল না। তারা দেখল শিকারী কচ্ছপটি বেধে ফেলেছে। এ দৃশ্য দেখে তাদের হৃদয়-মন দুঃখ ভারাক্রান্ত হল। ইঁদুর বলল, আমরা তো দেখছি একটি বিপদ কাটিয়ে উঠতে না উঠতে তার চেয়ে বড় বিপদে পতিত হচ্ছি। যিনি বলেছেন যথার্থই বলেছেন, মানুষের অগ্রযাত্রা হোঁচট খাওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। একবার যখন হোঁচট খায় তখন বারবার হোঁচট খেতেই থাকে, যদিও সে সমতল ভূমিতে বিচরণ করে। আফসোস, প্রিয়তম বন্ধু কচ্ছপের জন্য- যার বন্ধুত্ব কোনো কিছু পাওয়ার আশায় ছিল না; বরং তা ছিল সম্মান ও মর্যাদার, পিতা ও পুত্রের সম্পর্ককেও এ বন্ধুত্ব হার মানায়, মৃত্যু ছাড়া এ সম্পর্ককে আর কোনো কিছু ছিন্ন করতে পারে না। সদা পরিবর্তনশীল সদা বিপদগ্রস্ত, এ দেহের ধ্বংস হোক। এ দেহের কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। যেমন উদীয়মান নক্ষত্রের উদয় স্থায়ী হয় না এবং অস্তমান নক্ষত্রের অস্তগামিতা অব্যাহত থাকে না। তবে উদিত নক্ষত্রের অন্তগামিতা হতেই থাকে এবং অস্তমান নক্ষত্রের উদয় হতেই থাকে। ক্ষতবিক্ষত দেহের যন্ত্রণা যেমন আপনজনের সাথে মিলনের পর তাদেরকে হারানোর বেদনা যে তেমনই।

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address


Dhaka
238338