Health Treatment

Health Treatment

Share

Here you will get all types of Bangla health tips, beauty tips, natural health tips, beauty tips, sk

23/10/2022

শরীর মোটা নয় কিন্তু পেটে অনেক মেদ কিংবা দেহের কিছু কিছু স্থানে মেদ জমায় খুবই অস্বস্তি বোধ করছি। এমন কথা অনেক বেশি শোনা যায় আজকাল। এর কি কোন গতি নেই? আছে অবশ্যই আছে। আসুন জেনে নিই পেটের মেদ কমানোর উপায় তথা পেটের মেদ কমাতে খাবার নিয়ে বিস্তারিত যা আপনার শরীররকে অবাঞ্ছিত মেদ থেকে রক্ষা করবে।
Peter med komanor khabar | Peter Chorbi komanor upay | How to reduce belly fat | Weight loss

Video link
https://youtu.be/8AviuIXqzhk






Thanks For Watching
Please Subscribe our Channel

23/10/2022

পিত্তথলির পাথর গলাতে শুধু এই একটি ফলই যথেষ্ট । জানুন, শিখুন এবং নিয়ম মেনে খান | Health Treatment

জলপাই বাংলাদেশের একটি সুপরিচিত ফল। কাঁচা জলপাই বেশ পুষ্টিকর, প্রচুর ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। কাঁচা জলপাই রান্না করে ও আচার তৈরি করে খাওয়া যায়। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এই ফলটি পাওয়া যায়।
প্রতিদিন জলপাই খাওয়ার অভ্যাস করলে আপনার স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। তাছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে। কারণ জলপাইয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, ক্যালরি, শর্করা, ক্যালসিয়ামের মতো একাধিক উপাদান। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন এই ফলটি। তাহলে আসুন জেনে নেই জলপাইয়ের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে-

23/10/2022

শীত আসছে। সবাই এ সময় ত্বকের একটু বাড়তি যত্ন নিয়ে থাকেন। তবে পায়ের গোড়ালির দিকে নজর একটু কমই থাকে। এ সময় অনেকের পায়ের গোড়ালি ফেটে যায়। যাঁরা এ বিড়ম্বনায় পড়তে চান না, তাঁরা একটু বাড়তি যত্ন নিতে পারেন।

#মোমবাতির_মোম : মোমবাতির মোমের সঙ্গে সরিষার তেল মিশিয়ে তা ফাটা স্থানে লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিন। এতে #পা_ফাটা সেরে যাবে।

# #গ্লিসারিন ও গোলাপজল: গোলাপজলের সঙ্গে কিছুটা গ্লিসারিন মিশান। এই মিশ্রণ পায়ের গোড়ালিতে লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিন। এতে #পা_ফাটা ও ব্যথা কমবে।

#তিলের_তেল : #পা_ফাটা সমস্যা সমাধানে তিলের তেল দারুণ কার্যকর। পায়ে তিলের তেল মাখলে পা ফাটা দূর হয়।
#ভ্যাসলিন_ও_লেবুর_রস : ভ্যাসলিনের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে তা ফাটা স্থানে মালিশ করুন। এতে ওই মিশ্রণ সেখানে শোষণ হয় বলে #পা_ফাটা দ্রুত সেরে যায়।
#মধু_পানি: এক কাপ মধু আধা বালতি গরম পানিতে মিশিয়ে এতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন। এতে #পা_ফাটা দূর হবে।
#ভেসলিন_ও_লেবুর_রস
লেবুর রসের সঙ্গে ভেসলিন মিশিয়ে পা লাগাতে পারেন। পায়ের মরা কোষ তুলতে প্রতিদিন পিউমিক স্টোন দিয়ে পা ভালো করে ঘষুন। আস্তে আস্তে মরা চামড়া সরে গোড়ালি সফট হবে। গোড়ালি ফাটা রোধ হবে।
#পাকা_কলার_ব্যবহার
পাকা কলা চটকে পায়ের ফাটা অংশে ২০মিনিট লাগান। কিছুক্ষণ পর কুসুম গরম পানি দিয়ে পা ধুয়ে ফেলুন। এতে প্রচুর ভিটামিন রয়েছে, যা পা ফাটা রোধ করতে সাহায্য করবে। পায়ের ত্বক কোমল ও মসৃণ হবে।

#পা_ফাটা রোধ করার আরও অনেক উপায় রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে জানতে সম্পূর্ণ ভিডিওটি দেখুন।


শুষ্ক মৌসুম আর আর্দ্রতার ঘাটতিতে এ সমস্যা হয়। পা ফাটলে পায়ের গোড়ালিতে যন্ত্রণা হতে থাকে। পায়ের গোড়ালি ফেটে গেলে তা সারাতে ঘরোয়া কিছু সমাধান নিজেই করতে পারেন। আজকের এই ভিডিওতে জানতে পারবেন পা ফাটার কারণ এবং #পা_ফাটা দূর করার সহজ উপায় সম্পর্কে।

22/10/2022

symptoms of cancer in women | ভেষজ গুণসমৃদ্ধ মুলা | Cancer Treatment Home Remedy

শীতকালীন সবজির মধ্যে মুলা অন্যতম। অনেকে এর নাম শুনলে বিরক্ত হলেও অনেকেরই পছন্দের তালিকায় আছে এই সবজি। মুলাতে রয়েছে নানান স্বাস্থ্য উপকারিতা। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সমাধানে এর জুড়ি মেলা ভার।
মুলাতে বিভিন্ন ধরনের মিনারেসল পাওয়া যায়। এতে রয়েছে নানা রোগের দাওয়াই ফাইটোকেমিক্যালস। এছাড়াও ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে মুলা। এর আরো অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। চলুন জেনে নেয়া যাক সেসব-

ক্যান্সার প্রতিরোধ করবে মুলা | ভেষজ গুণসমৃদ্ধ মুলা | Cancer Treatment Home Remedy | Health Treatment
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে
মুলায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং বিশেষ ধরনের অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ রয়েছে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ করে
মুলা ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমায়। এটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকরী।

জন্ডিস রোগীদের জন্য উপকারী
জন্ডিস রোগীদের জন্য মুলো খুব উপকারী। যাদের জন্ডিস হয়েছে বা যারা ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন,তারা অবশ্যই লবণের সঙ্গে মুলা খান। এতে করে রক্তে বিলিরুবিন নিয়ন্ত্রণ করবে এবং দেহে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করবে মুলা। এছাড়াও মুলা রক্ত পরিশোধন করে।

কিডনি ভালো রাখে
কিডনির জন্য খুবই উপকারী এই সবজি। মুলায় থাকা ভিটামিন এবনহ খনিজ উপাদানগুলো কিডনির যেকোনো সমস্যা রোধ করতে সহায়তা করে।

সাধারণ ফ্লু থেকে রক্ষা করে
শীতকালে সবচেয়ে বেশি যে শারীরিক সমস্যা হয় তা হল - সর্দি, জ্বর। যদি নিয়মিত মুলা খান তবে এইসব সমস্যা কম হবে। এছাড়া মুলা খাওয়ার আরো অনেক সুবিধা রয়েছে। এতে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।

গ্যাসের সমস্যা দূর করে
অনেকেই পেটে গ্যাসের সমস্যায় ভোগেন। এক্ষেত্রে মুলা খেতে পারেন। অনেকেই ভাবেন, মুলা খেলে পেটের গ্যাস আরো বাড়ে। এটি পুরোপুরিই ভুল ধারণা। উল্টো মুলা খেলে পেটের গ্যাস কম হয়। এছাড়াও হজম প্রক্রিয়ার জন্যও এটি খুবই ভালো। এতে উচ্চ পরিমাণে ফাইবার রয়েছে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপকারী এই মুলা। মুলায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা এটি নিশ্চিন্তে গ্রহণ করতে পারেন। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

22/10/2022

Weight Loss Tips | Egg diet for weight loss | Diet Plan To Lose Weight fast | Weight Loss Workout

11/08/2022

It's important video

02/05/2022

EID MUBARAK
MAY ALLAH BRINGS YOU HAPPINESS & PEACE.

04/04/2022

রোজায় চিকিৎসা:
১. রোজা অবস্থায় ইনহেলার, নাকের স্প্রে ব্যবহার করা যাবে।
২. রোজা অবস্থায় চোখ, ও কানের ড্রপ ব্যবহার করা যাবে।
৩. হার্টের এনজাইনার সমস্যার জন্যে বুকে ব্যথা উঠলে ব্যবহৃত নাইট্রোগ্লিসারিন ট্যাবলেট বা স্প্রে জিহবার নিচে ব্যবহার করলে রোজা নষ্ট হবে না।
৪. রোজা রেখে শিরাপথে খাদ্য-উপাদান ছাড়া কোনো ওষুধ ত্বক, মাংসপেশি বা হাড়ের জোড়ায় ইনজেকশান হিসেবে প্রয়োগ করলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।
৫. রোজা রাখা অবস্থায় স্যালাইন বা গ্লুকোজ জাতীয় কোনো তরল শিরাপথে গ্রহণ করা যাবে না।
৬. চিকিৎসার প্রয়োজনে রোজা রেখে অক্সিজেন কিংবা চেতনা নাশক গ্যাস গ্রহণে রোজা নষ্ট হবে না।
৭. চিকিৎসার প্রয়োজনে ক্রিম, অয়েনমেণ্ট, ব্যাণ্ডেজ, প্লাস্টার ইত্যাদি ব্যবহার করলে এবং এসব উপাদান ত্বকের গভীরে প্রবেশ করলেও রোজার কোনো সমস্যা হবে না।
৮. রোজা রেখে দাঁত তোলা যাবে। দাঁতের ফিলিং করা যাবে এবং ড্রিল ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া দাঁত পরিষ্কার করার সময় অসাবধানতাবশত কিছু গিলে ফেললে রোজা নষ্ট হবে না।
৯. রোজা রেখে রক্ত পরীক্ষার জন্যে রক্ত দিতে বাধা নেই।
১০. কাউকে রক্তদানে এবং রক্তগ্রহণেও বাধা নেই।
১১. চিকিৎসার জন্যে যোনিপথে ট্যাবলেট কিংবা পায়ুপথে সাপোজিটোরি ব্যবহার করলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।
১২. হার্ট কিংবা অন্য কোনো অঙ্গের এনজিওগ্রাফি করার জন্যে কোনো রোগ নির্ণয়কারক দ্রবণ শরীরে প্রবেশ করানো হলে রোজার ক্ষতি হবে না।
১৩. কোনো অঙ্গের আভ্যন্তরীণ চিত্রধারণের জন্যে সেই অঙ্গের প্রবেশপথে কোনো ক্যাথেটার বা নালীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তরল রঞ্জক প্রবেশ করালে রোজা নষ্ট হবে না।
১৪. রোগ নির্ণয়ের জন্যে এণ্ডোস্কোপি বা গ্যাস্ট্রোস্কোপি করলেও রোজা নষ্ট হয় না। তবে এণ্ডোস্কোপি বা গ্যাস্ট্রোস্কোপি করার সময় ভেতরে তরল কিংবা অন্য কোনো কিছু প্রবেশ করানো যাবে না যার খাদ্যগুণ রয়েছে।
১৫. রোজা রাখা অবস্থায় না গিলে মাউথওয়াশ, মুখের স্প্রে ব্যবহার করা যাবে এবং গড়গড়া করা যাবে।
১৬. রোজা রাখা অবস্থায় লিভারসহ অন্য কোনো অঙ্গের বায়োপসি করা যাবে।
১৭. রোজা রাখা অবস্থায় পেরিটোনিয়াল কিংবা মেশিনে কিডনি ডায়ালাইসিস করা যাবে।
রোজা রাখা অবস্থায় চিকিৎসা সংক্রান্ত কী কী করা যাবে আবার কী কী করা যাবে না তা নিয়ে যেমন সাধারণ রোগীদের মধ্যে জ্ঞান ও সচেতনতার অভাব রয়েছে, তেমনি নানা সংশয় ও বিভ্রান্তি রয়েছে চিকিৎসকদের মাঝেও। এ সমস্ত বিভ্রান্তি দূর করার জন্যে ১৯৯৭ সালের জুন মাসে মরক্কোতে অনুষ্ঠিত নবম ফিক্বহ-চিকিৎসা সম্মেলন থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ সম্মেলনে জেদ্দা ইসলামিক ফিকহ একাডেমি, আল আজহার ইউনিভার্সিটি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আলেকজান্দ্রিয়া, মিশর এবং ইসলামিক শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (আইএসইএসসিও) প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞ প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এই সম্মেলনের মূল আলোচনার বিষয় ছিল--রোজা অবস্থায় যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ওষুধ প্রয়োগে রোজা নষ্ট হবে না সে বিষয়ে একটা সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া। এ লক্ষ্যে ইসলামিক চিন্তাবিদগণ চিকিৎসা বিজ্ঞানের সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা ও গবেষণা করে রোজা অবস্থায় ওষুধ প্রয়োগ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পর্কে সুচিন্তিত তথ্য উপস্থাপন করেন যা ২০০৪ সালে বিখ্যাত ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ হিসেবে প্রকাশিত হয়।
(তবে নাকের ড্রপের ব্যাপারে অনেক স্কলার আপত্তি করেন। অনেকসময় এসব ফিক্বহী বিষয়ে বিভিন্ন স্কলারদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। সব স্কলারের মতামতের প্রতিই আমাদের শ্রদ্ধা থাকা প্রয়োজন।)

27/03/2022

স্তন বাড়ানোর ঘরোয়া উপায় – How to increase breast size in Bangla.

অনেক মহিলাই স্তন ছোট হওয়ার সমস্যায় ভোগেন । যদিও অনেকের শরীরের গঠনের ওপর নির্ভর করে, তাও অনেকের মনে হীনমন্যতার সৃষ্টি হয়। আমাদের এই প্রতিবেদনে এই সংক্রান্ত নানা তথ্য ও স্তন বাড়ানোর কিছু ঘরোয়া উপায় আলোচনা করা হল।

In This Article

স্তন ছোট হওয়ার কারণগুলি কি কি ?
স্তন বাড়ানোর ঘরোয়া উপায়ের তালিকা
স্তন বাড়ানোর এক্সারসাইজ
স্তন বাড়ানোর জন্য যোগব্যায়াম
স্তন বাড়ানোর উপযুক্ত ডায়েট
স্তন বাড়ানোর জন্য কিছু টিপস
স্তন ছোট হওয়ার কারণগুলি কি কি ?
মূলত স্তন গঠিত হয় ফ্যাট টিস্যু দিয়ে। শরীরের ওজনের তারতম্য হলে স্তনের আকারের অনেক সময় পরিবর্তন হয়।

জিন
আপনার স্তনের আকার অনেকটাই নির্ভর করে জিনের ওপর। তাই স্তন ছোট হওয়ার ব্যাপারটিও জিনগত হতেই পারে।

হরমোন
হরমোনের সমস্যার জন্যও অনেক সময় স্তনের আকার ছোট বা বড়ো হতে পারে। শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের পরিমান বেশি হলে স্তনের আকারও বৃদ্ধি পেতে পারে।

চলুন এবার জেনেনি ঠিক কি কি উপায়ে স্তন বাড়ানো সম্ভব।

স্তন বাড়ানোর ঘরোয়া উপায়ের তালিকা
১. এসেনশিয়াল অয়েল
লেমনগ্রাস এসেনশিয়াল অয়েল

লেমনগ্রাস এসেনশিয়াল অয়েলে থাকে মনোটারপিন জাতীয় উপাদান নেরোল যা শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের ক্রিয়াকলাপ বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে আপনাকে স্তন বাড়াতে সাহায্য করে (1)।

কি কি লাগবে ?

দশ থেকে বারো ফোঁটা লেমনগ্রাস এসেনশিয়াল অয়েল
তিরিশ মিলিগ্রাম নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল

কি করতে হবে ?

লেমনগ্রাস এসেনশিয়াল অয়েল ও নারকেল তেল ( বা অলিভ অয়েল ) মিশিয়ে কমপক্ষে পাঁচ মিনিট ভালোভাবে নিজের স্তনে ম্যাসাজ করতে হবে।

রোজ এসেনশিয়াল অয়েল

রোজ এসেনশিয়াল অয়েলে মনোটারপিন জাতীয় উপাদান গেরানিওল উপস্থিত থাকে, যেটি স্তনের টিস্যুর বিকাশ ঘটাতে পারে, ফলে স্তনের আকার বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে (2)।

কি কি লাগবে ?
দশ থেকে বারো ফোঁটা রোজ এসেনশিয়াল অয়েল
তিরিশ মিলিগ্রাম নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল
কি করতে হবে ?

রোজ এসেনশিয়াল অয়েল ও নারকেল তেল ( বা অলিভ অয়েল ) মিশিয়ে কমপক্ষে পাঁচ মিনিট ভালোভাবে নিজের স্তনে ম্যাসাজ করুন দিনে দুইবার করে।

২. মেথি
মেথিতে থাকে ফাইটোইস্ট্রোজেন যা শরীরে প্রোল্যাক্টিনের পরিমান বাড়িয়ে দেয়। তাই এটি আপনার স্তনের আকারও বাড়াতে সাহায্য করতে পারে (3)।

কি কি লাগবে ?

৫০০ মিলিগ্রাম মেথির ট্যাবলেট

কি করতে হবে ?

প্রতিদিন একটি করে উপরে উল্লেখিত ট্যাবলেট খান।

৩. পেঁপে
অনেকে বলেন পেঁপে পাতার রস বা পেঁপের রস খেলে নাকি স্তনের আকারও বাড়াতে পারে। তবে এটি এখনও প্রমাণিত নয়।

কি কি লাগবে ?

পেঁপের নির্যাসযুক্ত ট্যাবলেট

কি করতে হবে ?

প্রতিদিন একটি করে উপরে উল্লেখিত ট্যাবলেট খান।

৪. সয়া মিল্ক
সয়াবিনের থেকেই পাওয়া যায় সয়া মিল্ক। এতে থাকে প্রচুর পরিমানে ফাইটোইস্ট্রোজেন জাতীয় উপাদান রাইবোফ্ল্যাভিন থাকে, যা ধীরে ধীরে স্তনের আকার বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে (4)।

কি কি লাগবে ?

মিষ্টি ছাড়া এক থেকে দুই কাপ সয়া মিল্ক

কি করতে হবে ?

প্রতিদিন এক থেকে দুই কাপ সয়া মিল্ক পান করুন।

৫. মৌরি
মৌরিতে ভরপুর ফ্ল্যাভোনোয়েডস থাকে যা শরীরে ইস্ট্রোজেনের উৎপাদন ও কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে (5) ।

কি কি লাগবে ?

এক টেবিল চামচ মৌরি
এক কাপ জল
মধু
কি করতে হবে ?

এক কাপ জলে এক টেবিল চামচ মৌরি দিয়ে সেটি পাঁচ মিনিট ধরে ফুটিয়ে নিন এবং তারপর সেটি ছেঁকে মধু মিশিয়ে পান করুন দিনে দুইবার করে।

৬. দুধ
শোনা যায় দুধ বা দুগ্ধজাত কোনো উপাদান নিয়মিত খেলে নাকি স্তনের আকার বৃদ্ধি পায়।

কি কি লাগবে ?

এক গ্লাস দুধ

কি করতে হবে ?

নিয়মিত এক গ্লাস দুধ পান করার অভ্যেস করুন, এতে ফল পেতে পারেন।

৭. সও পালমেটো
সও পালমেটো (Saw Palmetto) হল এমন একটি গাছ, যার নির্যাস বহু বছর ধরে স্তনের আকার বৃদ্ধি করতে ব্যবহার করা হয় আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে । এর মূল কারণ হল এতে উপস্থিত ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস (6) ।

কি কি লাগবে ?

৫০০ মিলিগ্রাম সও পালমেটোর নির্যাসযুক্ত ট্যাবলেট

কি করতে হবে ?

প্রতিদিন একটি করে উপরে উল্লেখিত ট্যাবলেট খান।

৮. রেড ক্লোভার
রেড ক্লোভার গাছে আইসোফ্ল্যাভিন থাকে যা শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে। এছাড়া এই গাছের নির্যাসে জেনিস্টন নামক ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট পাওয়া যায়। এইসব উপাদানের উপস্থিতির জন্য এটি স্তনের আকার বড় করতে উপযোগী হতে পারে (7) ।

কি কি লাগবে ?

এক থেকে দুই টেবিল চামচ রেড ক্লোভারের নির্যাস
এক কাপ জল
মধু
কি করতে হবে ?

এক কাপ জল নিয়ে তাতে এক থেকে দুই টেবিল চামচ রেড ক্লোভারের নির্যাস দিয়ে পাঁচ মিনিট ধরে ফুটিয়ে নিন, তারপরে ঠান্ডা করে পান করে নিন মধু মিশিয়ে ।

কি করতে হবে ?

থেকে তিনবার এটি পান করুন।

৯. রাঙালু
রাঙালুতে উপস্থিত ফাইটোইস্ট্রোজেন ব্রেস্ট টিস্যুকে বিকশিত হতে সাহায্য করে, ফলে স্তনের আকারও বৃদ্ধি পেয়ে থাকে (8)।

কি কি লাগবে ?

একটি রাঙালু
এক কাপ জল
মধু
কি করতে হবে ?

রাঙালুটিকে ছোটো করে কেটে নিন। তারপর এক কাপ জল নিয়ে তাতে রাঙালুর টুকরোগুলি দিয়ে পাঁচ মিনিট ফুটিয়ে নিন। জলটি ছেঁকে নিয়ে স্বাদের জন্য অল্প মধু দিয়ে গরম গরম পান করুন। দিনে দুইবার পান করুন এই পানীয়।

১০. ভিটামিন
ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার পাশাপাশি ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। ভিটামিন সি শরীরে কোলাজেন সংশ্লেষ বাড়িয়ে (9) ও ভিটামিন বি থ্রি শরীরে রক্তচলাচল বৃদ্ধি করে স্তন বাড়াতে সাহায্য করে ।

স্তন বাড়ানোর এক্সারসাইজ
একটি সুন্দর ডায়েটের সাথে কিছু চেস্ট এক্সারসাইজ করলে হয়তো আপনি এক্ষেত্রে ফল পেতে পারেন। নিচে কার্যকরী এক্সারসাইজ গুলির নাম উল্লেখ করা হল।
পুশ আপ
চেয়ার লিফ্ট
ওয়াল প্রেস
চেস্ট প্রেস ইত্যাদি।
স্তন বাড়ানোর জন্য যোগব্যায়াম
১. উষ্ট্রাসন
প্রথমে বজ্রাসনে বসুন। তারপর পুরো শরীরের ভর হাঁটুর ওপর দিয়ে পিছনের দিকে হেলে হাত দুটি দিয়ে দুটি পায়ের গোড়ালি ছুঁয়ে ফেলুন এক এক করে, নাহলে শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবেন। এই ভঙ্গিমায় কুড়ি থেকে তিরিশ সেকেন্ড থাকার চেষ্টা করুন। তারপর আবার বজ্রাসনে ফিরে আসুন। তারপর পনেরো সেকেন্ড অপেক্ষা করে আবার এই যোগাসনের পুনরাবৃত্তি করুন।

২. ভুজঙ্গাসন
প্রথমে উপুড় হয়ে দুই পা জোড় করে মাটিতে শুয়ে পড়ুন। হাত দুটো শরীরের দুপাশে রেখে হাতের পাতা মাটিতে লেগে থাকবে এমন অবস্থানে আসুন। এবার হাত দুটো টেনে নিয়ে এসে হাতের ওপর ভর করে মাথা ওপরে তুলুন। বুক মাটি থেকে ওপরে উঠিয়ে রাখুন। কোমর থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত পা জোড়া অবস্থায় রাখবেন। এভাবে এই ভঙ্গিমায় এসে দশ থেকে পনেরো সেকেন্ড থাকুন। একই পদ্ধতি আবার পুনরাবৃত্তি করুন।

স্তন বাড়ানোর উপযুক্ত ডায়েট
স্তনের আকার বৃদ্ধি করতে ডায়েটে অবশ্যই রাখুন ফ্যাট আর উচ্চ পরিমাণে ইস্ট্রজেন রয়েছে এমন জাতীয় খাবার ৷ নিচে কিছু খাবারের নাম উল্লেখ করা হল, যা খেতে ভুলবেন না কিন্তু।

উচ্চ ফাইটোইস্ট্রোজেন যুক্ত ফল যেমন আপেল, পেঁপে, খেজুর, বেদনা
মুলো, গাজর, সয়াবিন, বেগুন, রসুন, শশা
নানা ধরণের বাদাম
অ্যাভোকাডো।
স্তন বাড়ানোর জন্য কিছু টিপস
নিজের ডায়েট ঠিক করুন।
উপরে উল্লেখিত এক্সারসাইজ ও যোগব্যায়াম করুন।
প্রয়োজনে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
তাহলে নিশ্চয়ই জানলেন কিভাবে ঘরোয়া উপায়ে স্তনের আকার বাড়াতে পারবেন, তবে এই ব্যাপারটি রাতারাতি ঘটা সম্ভব না, তাই আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে। আশা করি এই প্রতিবেদন আপনাদের ভালো লেগেছে। নিজের যত্ন করুন ও সুস্থ রাখুন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
শরীরের ওজন কমলে কি স্তনের আকারও কমে ?

উঃ হ্যাঁ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শরীরের ওজন কমলে স্তনের আকারও কমে।

বয়স অনুযায়ী স্তনের আকার কি হওয়া উচিত ?

উঃ যেহেতু জিনের ওপরই স্তনের আকার নির্ভর করে তাই এভাবে বলা সম্ভব নয়। মোটামোটি একজন নারীর তিরিশ থেকে চল্লিশ ইঞ্চি পর্যন্ত আকারের স্তন হয়।

ভেসলিন কি স্তনের আকার বৃদ্ধি করতে উপযোগী ?

না, ভেসলিন কি স্তনের আকার বৃদ্ধি করতে উপযোগী নয়।

এক সপ্তাহের মধ্যে কিভাবে স্তনের আকার বৃদ্ধি করা যায় ?

ঘরোয়া উপায়ে এক সপ্তাহের মধ্যে স্তনের আকার বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়।

সবচেয়ে তাড়াতড়ি কিভাবে স্তনের আকার বৃদ্ধি করা যায় ?

আজকাল নানা ধরণের সার্জারি হয়। এক্ষেত্রে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

ডিম কি স্তনের আকার বাড়াতে সাহায্য করে ?

যেহেতু ডিমে প্রোটিন থাকে, তাই ডিম স্তনের আকার বৃদ্ধি করতে সাহায্য করতেই পারে।

কোনো ধরণের সাপ্লিমেন্ট কি স্তনের আকার বৃদ্ধি করতে পারে ?

স্তনের আকার বৃদ্ধি করতে কোনো ধরণের সাপ্লিমেন্ট না খাওয়াই উচিত ।

স্তনের আকার বৃদ্ধি করতে কফি কি উপযোগী ?

কফি স্তনের আকার বৃদ্ধি করতে উপযোগী কিনা তার কোনো প্রমান এখনও পাওয়া যায়নি।

Photos from Health Treatment's post 27/03/2022

কৃমির সংক্রমণ চিকিৎসার ঘরোয়া প্রতিকার | Pinworms Home Remedies in Bangla.

কৃমি হল এক ধরণের ছোট কৃমির মত পরজীবী যা আপনার দেহের পুষ্টিতে বাঁচে এবং আপনার দেহেই সংক্রমণের সৃষ্টি করে। এই সংক্রামক কৃমি সাধারণত প্রথমে সংক্রামিত ব্যক্তির অন্ত্রে থাকে এবং ধীরে ধীরে সারা শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে দেয়। কৃমিগুলি ছোট হলেও প্রায় আধা ইঞ্চি আকারের হয় এবং খালি চোখে সহজেই দেখা যায়। চিকিৎসার ভাষায় একে এন্টারোবিয়াস ভার্মিকুলারিস (Enterobius vermicularis) বলা হয়। (1) কৃমি দ্বারা সংক্রমণ শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবে, প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন না করা হলে প্রাপ্তবয়স্করাও এই সংক্রামক কৃমি দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।

আপনার পরিবারের কোনো সদস্য কি এই কৃমির সমস্যার জর্জরিত? আপনিও কি এই সংক্রমণের জন্য দ্রুত কার্যকারী এমন কিছু ঘরোয়া প্রতিকারের সন্ধান করছেন? তাহলে স্টাইলক্রেজের আজকের এই নিবন্ধ আপনাকে শেষ পর্যন্ত পড়ে যেতে হবে। এই নিবন্ধে, আমরা এই সমস্যার সাথে সম্পর্কিত প্রতিটি তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করব। আমরা আপনাকে বলব যে পিনওয়ার্মের কারণ এবং এর লক্ষণগুলি কী কী। এছাড়াও, এই নিবন্ধের মাধ্যমে আপনি কীভাবে সংক্রমণ এড়াবেন এবং সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে এমন কয়েকটি সাধারণ ঘরোয়া উপায় সম্পর্কেও জানতে সক্ষম হবেন।

আসুন প্রথমে আপনাকে বলি কৃমি সংক্রমণ কী কী কারণে ঘটতে পারে।

In This Article

পিনওয়ার্ম সংক্রমণ কী?
কী কী কারণে কৃমি দ্বারা সংক্রমণ হয়?
কাদের ক্ষেত্রে পিনওয়ার্ম সংক্রমণের ঝুঁকি বেশী?
কৃমি সংক্রমণের ঘরোয়া প্রতিকার-
পিনওয়ার্ম সংক্রমন প্রতিরোধে ডায়েট:
পিনওয়ার্ম সংক্রমণের ঝুঁকি এবং জটিলতা:
পিনওয়ার্মস সংক্রমণ প্রতিরোধ করার উপায়:
পিনওয়ার্ম সংক্রমণ কী?
একটি পিনওয়ার্ম সংক্রমণ হ’ল মানব অন্ত্রের কৃমি সংক্রমণের সবচেয়ে সাধারণ ধরণের একটি ধরণ। পিনওয়ার্মগুলি হল অত্যন্ত ক্ষুদ্র, সরু, সাদা বর্ণের এবং দেড় ইঞ্চিরও কম লম্বা কৃমি। পিনওয়ার্ম সংক্রমণ এন্টোবায়াসিস বা অক্সিউরিয়াসিস হিসাবেও পরিচিত। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) অনুসারে এগুলি হ’ল যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে সাধারণ ধরণের মানব কৃমি সংক্রমণ।

পিনওয়ার্ম সংক্রমণ সহজেই ছড়াতে পারে। সাধারণত, ৫ থেকে ১০ বছর বয়সের বাচ্চাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এই সংক্রমণ দেখা যায়। সংক্রমণটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে তাই আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকা অন্যান্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংক্রমিত হবার ঝুঁকি থাকে এবং সংক্রমণ সেরে গেলেও পুনরায় সংক্রমণ সম্ভব। সঠিক সময় থেকে চিকিৎসা শুরু না হলে অনেক রকমের দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।

কী কী কারণে কৃমি দ্বারা সংক্রমণ হয়?
কৃমিগুলি অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং সাদা কৃমি হয় যা সংক্রামিত ব্যক্তিদের কোলন এবং মলদ্বারে থাকে। এই পরজীবী সংক্রমণটি সাধারণত এন্টারোবিয়াসিস বা হেল্মিন্থিয়াসিস হিসাবে পরিচিত যা অত্যন্ত ছোঁয়াচে প্রকৃতির সংক্রমণ। সাধারণত দূষিত খাবার, পানীয় বা অন্যান্য সংক্রামিত পাত্রের মধ্যে রাখা খাবার খাদ্যবস্তু গ্রহণের মাধ্যমে এই ধরণের পরজীবী আপনার দেহে প্রবেশ করে। এইরকম দুর্ঘটনাজনিত ইনহেলেশনের পরে পরজীবীগুলি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সারা শরীরে ছড়িয়ে পরে। প্রাপ্তবয়স্ক কৃমিগুলি আক্রান্ত ব্যক্তির মলদ্বার অঞ্চলে আরও বেশি ডিম দেয় এবং এগুলি কয়েক ঘন্টার মধ্যে সংক্রামিত হয়ে যায়। সংক্রমণ সম্পূর্ণরূপে নিরাময় না হওয়া অবধি এই চক্রটি অব্যাহত থাকে।

এই ডিমগুলি অত্যন্ত ছোট এবং খালি চোখে দেখা যায় না। ফলে, আমাদের অজান্তেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পরে একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে। কৃমি সংক্রমণ নিম্নলিখিত উপায়ে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে যেতে পারে:

কৃমিগুলি সংক্রমিত ব্যক্তির ত্বকের যে অংশে চলাফেরা করে অথবা ডিম পারে সেখানে চুলকানি হয়। এমন পরিস্থিতিতে সংক্রামিত ব্যক্তি (বিশেষত শিশু) সহ্য করতে না পেরে চুলকানোর জন্য সেই অঙ্গ স্পর্শ করে, তখন ডিমগুলি তার নখ এবং আঙ্গুলে আটকে যায়। ভালোভাবে হাত না ধুয়ে, সেই হাত অন্য কোথাও দিলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সংক্রামিত বাচ্চা যখন বাথরুম ব্যবহার করার পরে ভালোভাবে হাত না ধুয়ে তার খেলনা বা অন্যান্য জিনিস স্পর্শ করলে সেইসব জিনিস থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সংক্রামিত ব্যক্তির বিছানা এবং পোশাকের মাধ্যমে কৃমি সংক্রমণ ছড়িয়ে যেতে পারে। ঘরের তাপমাত্রায় পোশাক, বিছানাপত্র বা অন্যান্য সামগ্রীগুলিতে পিনওয়ার্মগুলি দুই সপ্তাহ অবধি বেঁচে থাকতে পারে।
সংক্রামিত ব্যক্তির পুরো পরিবার যতদিন না পর্যন্ত পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত হয় ততদিন পর্যন্ত বাতাসে ছড়িয়ে থাকা কৃমির ডিম, সংক্রামিত খাবার বা স্পর্শের মাধ্যমে অন্য সুস্থ ব্যক্তির আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থেকে যায়। কারণ, অনেকসময় পরজীবির ডিমগুলি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে বা খাবারের ওপর জমা হয়ে খাবারকে সংক্রামিত করে দেয়।
পিনওয়ার্মগুলি সাধারণত ১৩ সপ্তাহ পর্যন্ত বেঁচে থাকে। সংক্রমিত অঞ্চলে চুলকালে বা বার বার সেই স্থাণ স্পর্শ করলে পুনরায় সংক্রমণ ফিরে আসতে পারে এবং পিনওয়ার্মগুলি তার পুরো জীবন প্রক্রিয়া পুনরায় আরম্ভ করতে পারে।
কখনও কখনও মলদ্বারে থাকা ডিম থেকে ফোটা পিনওয়ার্মের লার্ভা যেখান থেকে এসেছিল সেখানে ফিরে গিয়ে অর্থাৎ অন্ত্রে গিয়ে পুনরায় তার জীবনপ্রক্রিয়া শুরু করে। এটি যদি চিকিৎসা না করা হয় তবে অনির্দিষ্টকালের জন্য সংক্রমণ অব্যাহত থাকতে পারে এবং জটিল কিছু সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

কাদের ক্ষেত্রে পিনওয়ার্ম সংক্রমণের ঝুঁকি বেশী?
পিনওয়ার্ম সংক্রমণ সমস্ত বয়সের এবং সমস্ত ভৌগলিক অঞ্চলের মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে। যেহেতু পিনওয়ার্ম এর ডিমগুলি অণুবীক্ষণিক, তাই সংক্রামিত ব্যক্তি কে বা সংক্রামিত অঞ্চল কোনটি তা বোঝা অসম্ভব। আগেই বলেছি, বাচ্চা থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক সবাই আক্রান্ত হতে পারে। তবুও, কিছুজনের ক্ষেত্রে পিনওয়ার্ম সংক্রমণের ঝুঁকি বেশী, যেমন –

বাচ্চারা যারা কিন্ডার গার্ডেন, প্রিস্কুল বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায়।
যেসব বাচ্চাদের নখ চেবানোর বা আঙুল চোষার অভ্যাস আছে।
বাচ্চারা বা প্রাপ্তবয়স্করা যারা খাওয়ার আগে নিয়মিত এবং যত্ন সহকারে হাত ধোওয়ার অনুশীলন করে না।
যেহেতু সংক্রমণটি খুব ছোঁয়াচে তাই আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের এক্ষেত্রে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা খুবই বেশী।
পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করার পরও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই, একান্তই ভিড় আছে এরকম জায়গার বাথরুম ব্যবহার করতে হলে প্রথমে ভালোভাবে বাথরুম ধুয়ে নেবেন জল দিয়ে।

কৃমি সংক্রমণের লক্ষণসমূহ:
সংক্রামিত ব্যক্তির মধ্যে নিম্নলিখিত কিছু উপসর্গ ও লক্ষণসমূহ দেখা দিতে পারে: (2)

মলত্যাগের সময় অনেকেই মলের মধ্যে পিনওয়ার্মের উপস্থিতি লক্ষ করে থাকেন। শুধু তাই নয়, অনেকে পায়ুপথে ঘন ঘন চুলকানি এবং জ্বালাভাব অনুভব করেন।
পরজীবীগুলি মলদ্বারের চারপাশে ডিম দেয় তাই অনেকে মলদ্বারের চারপাশের ত্বকে চুলকানি অনুভব করেন।
মেয়েরা যোনিতে চুলকানি এবং জ্বালাভাব (ভ্যাজিনাইটিস) অনুভব করতে পারে, যদি পিনওয়ার্মগুলি যোনির কাছাকাছি থাকে।
আক্রান্ত ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়লে সাধারণত রাতের দিকে পরজীবীগুলি ডিম পাড়ে ফলে পায়ুপথ অঞ্চলে অস্বস্তিভাব, চুলকানি, জ্বালাভাব শুরু হওয়ায় ঘুমের সমস্যা বা অনিদ্রা দেখা দেয়।
অনেকে বমি বমি ভাব অনুভব করেন এবং মাঝে মাঝে পেটে ব্যথা হয় তাদের।
অনেক আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়।
অনেকের মধ্যে নার্ভাসনেস কাজ করে।

অতএব বুঝতেই পারছেন, পিনওয়ার্ম সংক্রমণ অত্যন্ত বিরক্তিকর এবং দীর্ঘমেয়াদী একটি সমস্যা যা সম্পূর্ণ সারতে কম করে হলেও সাধারণত এক সপ্তাহ সময় লেগে যায়। এছাড়া এই সংক্রমণ শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয় এমনকী এটি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও সংক্রমণ ঘটায়। তাই, সংক্রমণ শুরু হবার সাথে সাথেই চিকিৎসা শুরু করে দেওয়া ভাল। নীচে উল্লিখিত প্রাকৃতিক এবং ঘরোয়া প্রতিকারগুলি আপনাকে পিনওয়ার্ম সংক্রমণ মোকাবেলায় সহায়তা করতে পারে।

কৃমি সংক্রমণের ঘরোয়া প্রতিকার-
আপনি বা আপনার শিশু যদি এই পিনওয়ার্ম কৃমির সংক্রমণে আক্রান্ত হন, তবে তার ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসার জন্য নিম্নে উল্লিখিত প্রতিকারগুলির সাহায্য নিতে পারেন।

১. অ্যাপল সাইডার ভিনিগার:
অ্যাপল সিডার ভিনেগারে প্রায় ৬% এসিটিক অ্যাসিড থাকে যা আপনার দেহের পিএইচ মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে পরজীবীগুলি দীর্ঘক্ষণ বেঁচে থাকতে পারেন এবং ছড়িয়ে পড়তে ও পারে না। এছাড়াও, এতে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা কৃমিগুলিকে ধ্বংস করে এবং বংশবিস্তার বাধা করতেও দেয়। (3) তবে অ্যাপল সিডার ভিনেগার কীভাবে কীটপতঙ্গ নিরাময়ে কার্যকর তা নিয়ে গবেষণার অভাব রয়েছে। যদিও একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে কোনো দ্রব্যের অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য পরজীবী নির্মূল করতে সহায়ক। (4)

আপনার প্রয়োজন হবে

আপেল সিডার ভিনেগার ২ চামচ
১ গ্লাস জল
মধু (ঐচ্ছিক)
পদ্ধতি:

এক গ্লাস জলে দুই চামচ আপেল ভিনেগার মিশিয়ে নিন।
আপনি চাইলে স্বাদের জন্য কিছুটা মধুও যোগ করতে পারেন।
এই দ্রবণটি দিনে দুবার পান করুন।
২. নারকেল তেল:
নারকেল তেলের অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা সংক্রমণ ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাকটিরিয়াকে রোধ করতে সহায়তা করে। এটিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্ট-ফাংগাল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যও রয়েছে, যা ব্যাকটিরিয়া (5) দূর করতে সহায়তা করে এবং সংক্রমণের ফলে হওয়া জ্বালাভাব ও চুলকানি কমাতেও সাহায্য করে।

আপনার প্রয়োজন হবে

এক থেকে দুই চামচ নারকেল তেল
পদ্ধতি:

নারকেল তেল রান্নায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
ঘুমানোর আগে আপনি প্রতি রাতে সংক্রামিত জায়গায় নারকেল তেল প্রয়োগ করতে পারেন।
৩. রসুন:
রসুনের অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্যগুলি পিনওয়ার্ম সংক্রমণের লক্ষণ ও উপসর্গগুলি কম করতে সাহায্য করবে। (6) এমনকী, এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্যগুলি আপনাকে পিনওয়ার্ম ব্যাকটেরিয়া (7) থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করতে পারে। তবে এটি কতটা কার্যকর হবে সে সম্পর্কে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

আপনার প্রয়োজন হবে

এক থেকে দুটি রসুনের কোয়া
পদ্ধতি:

প্রতিদিন এক থেকে দুটি রসুনের কোয়া চিবান।
৪. গরম জল:
যেহেতু পিনওয়ার্মগুলি অত্যন্ত সংক্রামক, তাই এ থেকে পরিত্রাণ পেতে আপনার পুরো পরিবারের ব্যবহৃত সামগ্রী গরম জল ব্যবহার করে জীবাণুমুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পরজীবীগুলিকে ধ্বংস না করতে পারলেও এর ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে সহায়তা করবে। এ জাতীয় পরিস্থিতিতে হালকা গরম জল দিয়ে স্নান করলে উপকার পাওয়া যায়।

আপনার প্রয়োজন হবে

গরম জল (প্রয়োজনীয় হিসাবে)
সাবান এবং সার্ফ
ডেটল (ঐচ্ছিক)
পদ্ধতি:

সংক্রামিত ব্যক্তি / ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিস স্পর্শ করার পরে আপনার হাত ভালভাবে গরম জল দিয়ে ধুয়ে নিন।
বিছানার চাদর এবং জামাকাপড় গরম জলে রেখে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
গরম জলে সার্ফ মিশিয়ে ভাল করে বাথরুম ধুয়ে ফেলুন।
আপনি যদি চান তবে আপনি গরম জলে ডেটল যোগ করেও জীবানুমুক্ত করতে পারেন।
৫. এসেনশিয়াল অয়েল:
ক. টি ট্রি অয়েল:

এই তেলের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্রমণের উপসর্গগুলির প্রভাব কম করার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে। টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টি-প্যারাসিটিক বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। তবে এন্টারোবিয়াস ভার্মিকুলিস (কৃমি) ধ্বংস করার ক্ষেত্রে এর সরাসরি কার্যকারিতার বিষয় সমর্থন করেছে এরকম কোনও গবেষণা নেই।

আপনার প্রয়োজন হবে

১-২ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল
১-২ চামচ নারকেল তেল (ঐচ্ছিক)
পদ্ধতি

নারকেল তেলের সাথে ১-২ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মেশান।
প্রতি রাতে তেলের এই মিশ্রণটি সংক্রমিত জায়গায় লাগান।
আপনি সরাসরি টি ট্রি অয়েল ও ব্যবহার করতে পারেন তবে এটি সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে অ্যালার্জির মত কিছু অস্বস্তির সৃষ্টি করতে পারে। ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করিয়ে দেখে নেবেন আপনার ত্বক সংবেদনশীল কি না।
খ. লবঙ্গ তেল বা ক্লোভ এসেনশিয়াল অয়েল:
লবঙ্গ তেলের মধ্যে ইউজেনল এর মত কিছু উপাদান থাকে যা জীবাণুধ্বংসকারী, অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্যগুণে সমৃদ্ধ। (8) তেলের এই বৈশিষ্ট্যগুলি পিনওয়ার্ম সংক্রমণের চিকিৎসায় সহায়তা করতে পারে।

আপনার প্রয়োজন হবে

১-২ ফোঁটা লবঙ্গ তেল
১ চা চামচ নারকেল তেল
পদ্ধতি

সরাসরি আক্রান্ত স্থানে লবঙ্গ তেল লাগাতে পারেন।
বিকল্পভাবে, আপনার যদি সংবেদনশীল ত্বক থাকে তবে জ্বালাভাব এড়াতে আপনি নারকেল তেলের সাথে লবঙ্গ তেল মিশিয়ে মিশ্রণটি পাতলা করে লাগাতে পারেন।
এটি প্রতি রাতে আক্রান্ত স্থানে তেল লাগিয়ে শুলে চুলকানি বা জ্বালাভাব হবে না।
৬. আঙ্গুরের বীজের নির্যাস বা গ্রেপফ্রুট সিড এক্সট্র্যাক্ট:
গবেষণায় দেখা গেছে যে আঙ্গুরের বীজে পলিফেনল থাকে যার শক্তিশালী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য সংক্রমণজনিত ব্যাকটিরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে। এটি সংক্রামক পরজীবীগুলিকে হত্যা করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করে। আঙ্গুরের ইথানলিক নির্যাসের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল কার্যকলাপ সংক্রমণের প্রভাব হ্রাস করতে সাহায্য করে। (9)

আপনার প্রয়োজন হবে

আঙ্গুরের বীজের নির্যাস দিয়ে বানানো খাদ্য পরিপূরক বা যাকে বলে ফুড সাপ্লিমেন্ট
পদ্ধতি:

প্রতিদিন আঙ্গুরের বীজের নির্যাস সমৃদ্ধ ফুড সাপ্লিমেন্ট খাওয়া যায়।
তবে খাওয়ার আগে এর পরিমাণ সম্পর্কে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করবেন অবশ্যই।
৭. লেবুর রস:
লেবুর রসে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা সাত ধরণের ব্যাকটেরিয়া এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। লেবুর রস ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস করে এবং সংক্রমণ থেকে মুক্তি দিতে সহায়তা করে। (10)

আপনার প্রয়োজন হবে

অর্ধেক লেবুর রস
এক গ্লাস পানি
মধু (ঐচ্ছিক)
পদ্ধতি:

এক গ্লাস জলে অর্ধেক লেবুর রস মেশান।
লেবুর এই সরবতটি প্রতিদিন একবার খান।
আপনি চাইলে স্বাদের জন্য মধুও যোগ করতে পারেন এতে।
৮. আনারসের সরবত:
লেবুর রসের মতো আনারসে ও ভিটামিন-সি পাওয়া যায়। আগেই বলেছি যে ভিটামিন-সি এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের প্রভাব হ্রাস করে। এটি দ্রুত সংক্রমণ নিরাময়ে সহায়তা করে। প্রায় ১৪৮ টি গবেষণায় দেখা গেছে যে ভিটামিন সি ব্যাকটিরিয়া, ভাইরাস এবং প্রোটোজোয়া (পরজীবী)দ্বারা সৃষ্ট সংক্রমণ থেকে মুক্তি দিতে পারে।

আপনার প্রয়োজন হবে

এক চতুর্থাংশ আনারস
আধা গ্লাস জল
পদ্ধতি:

আনারস ছোট ছোট টুকরা টুকরো করে কেটে নিন।
এই টুকরোগুলিকে ব্লেন্ডারের দিয়ে তাতে আধা গ্লাস জল মিশিয়ে আনারসের সরবত বানিয়ে নিন।
প্রতিদিন এক গ্লাস আনারসের সরবত খেলে সংক্রমনের ঝুঁকি এবং প্রভাব কমে।
৯. গাজরের রস:
গাজর শরীরে পিত্ত অ্যাসিড (পাচক অ্যাসিড) উৎপাদন বাড়ায়। এছাড়াও, গাজর হল ডায়েটরি ফাইবারের একটি খুব ভাল উৎস যা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে, অন্ত্রের গতিবিধি উন্নত করে মল প্রবাহকে স্বাভাবিক রাখে। ফলে, মল ত্যাগের মাধ্যমে পিনওয়ার্মের মত ক্ষতিকারক পরজীবীগুলি শরীর থেকে বেড়িয়ে যেতে পারে। যদিও, পিনওয়ার্ম সংক্রমনের চিকিৎসার ক্ষেত্রে গাজরের রস সরাসরিভাবে কতটা কার্যকর সেই বিষয়ে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা নেই।।

আপনার প্রয়োজন হবে

তিন থেকে চারটি গাজর
পদ্ধতি:

গাজর ভালো করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিন।
এবার এটি টুকরো টুকরো করে কেটে নিয়ে স্যালাডের সাথে খেতে পারেন।
অথবা, ব্লেন্ডারের সাহায্যে গাজরের সরবত বানিয়ে নিয়েও খেতে পারেন।
১০. রাবিং অ্যালকোহল
অ্যালকোহলের অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা বিভিন্ন ধরণের জীবাণুগুলি ধ্বংস করতে সহায়তা করে। ত্বকের অ্যান্টিসেপটিক হিসাবে এটি ব্যবহার করার কারণে, এটি বলা যেতে পারে যে সংক্রমণ-আক্রান্ত মলদ্বারে এটি লাগালে তা সংক্রামক পরজীবীগুলির সাথে পিনওয়ার্মের ডিমগুলিকে ধ্বংস করবে। (11)

আপনার প্রয়োজন হবে

রাবিং অ্যালকোহল
সুতির কাপড়ের টুকরো বা তুলো
পদ্ধতি:

বাথরুমে গেলে তুলো বা সুতির কাপড়ের সাহায্যে আক্রান্ত মলদ্বারে রাবিং অ্যালকোহল লাগান।
যতবার বাথরুমে যাবেন ততবার এই প্রক্রিয়াটি পুনরাবৃত্তি করুন।
১১. কুমড়োর বীজ
কুমড়োর বীজে কিউকারবিটাসিন (cucurbitacins) নামক যৌগ থাকে যা অ্যান্থেলিমিন্টিক (anthelmintic) ক্রিয়াকলাপের জন্য পরিচিত। এই যৌগের অ্যান্টিপ্যারাসিটিক এবং অ্যান্থেলমিন্টিক বৈশিষ্ট্যের প্রভাবে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে থাকা ক্ষতিকারক পরজীবীগুলি মারা যায়। এছাড়াও, কুমড়োর বীজ দিয়ে বানানো প্রতিকারটি প্রতিদিন খেলে এটি পিনওয়ার্ম সংক্রমনের লক্ষণগুলি উপশম হবে খুব তাড়াতাড়ি। (12)

আপনার প্রয়োজন হবে

এক কাপ কাঁচা কুমড়োর বীজ
আধা কাপ নারকেল দুধ
আধা কাপ জল
পদ্ধতি:

একটি ব্লেন্ডারে তিনটি উপাদান এক সাথে পিষে একটি পেস্ট তৈরি করুন।
এই পেস্টটি প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেয়ে দেখুব উপকার পাবেন নিশ্চিত।
পিনওয়ার্ম সংক্রমণের প্রভাব সম্পূর্ণভাবে সেরে না যাওয়া পর্যন্ত খেয়ে যেতে হবে এই ঘরোয়া টোটকাটি।
১২. ভেসলিন
সংক্রমিত স্থাণে ভ্যাসলিন ব্যবহার করে পিনওয়ার্ম সংক্রমনের কারণে হওয়া চুলকানি এবং জ্বালাভাব থেকে সহজেই মুক্তি পেতে পারেন। ভ্যাসলিনের নিরাময় ক্ষমতা যাকে বলে হিলিং প্রপার্টি চুলকানি, জ্বালাভাবের মত ত্বকের বিভিন্ন অস্বস্তিকর উপসর্গ কম করতে পারে। তবে মনে রাখবেন যে ভেসলিন পেট্রোলিয়াম জেলি কেবল সাময়িক স্বস্তি দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে পিনওয়ার্ম সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে না।

আপনার প্রয়োজন হবে

ভেসলিন
পদ্ধতি:

রাতে ঘুমানোর আগে আক্রান্ত মলদ্বারে ভেসলিন লাগান চুলকানি, জ্বালাভাব বা কোনোরকম অস্বস্তি আর হবে না।
যতদিন না পর্যন্ত এই পিনওয়ার্ম সংক্রমণ থেকে সম্পূর্ণ স্বস্তি পান এই প্রক্রিয়াকে প্রতি রাতে পুনরাবৃত্তি করুন।
১৩. করলার রস:
করলার মধ্যেও কিউকারবিটাসিন (cucurbitacins) নামক যৌগ আছে যার অ্যান্টিপ্যারাসিটিক এবং অ্যান্থেলিমিন্টিক বৈশিষ্ট্য পিনওয়ার্ম সংক্রমণের ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে।

আপনার প্রয়োজন হবে

একটি বা দুটি মাঝারি আকারের করলা
এক কাপ জল
মধু (ঐচ্ছিক)
পদ্ধতি:

করলাগুলি কেটে এক কাপ জলে মিশিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।
আপনি চাইলে স্বাদের জন্য মধুও যোগ করতে পারেন করলার রসের সাথে।
প্রতিদিন এই করলার রস খেলে পিনওয়ার্ম সংক্রমণের প্রভাবগুলি হ্রাস পাবে এবং খুব তাড়াতাড়ি সংক্রমণ সেরে যাবে।
১৪. দই:
দই প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ যা আপনার পাচনতন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলির প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। দইতে উপস্থিত ল্যাকটোবিলাস প্রোবায়োটিক (Lactobacillus probiotic)শরীরের বিভিন্ন ক্ষতিকারক ব্যাকটিরিয়া, ভাইরাস এবং পরজীবীগুলিকে ধ্বংস করে এবং তাদের বংশবিস্তারে বাধা দেয়। এছাড়াও, এটি ল্যাকটিক অ্যাসিডের সাহায্যে অন্ত্রের মধ্যে পিএইচ মাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখে, যা ক্ষতিকারক পরজীবীগুলির প্রভাব হ্রাস করে এবং সারা শরীরে সংক্রমন ছড়িয়ে পড়তে দেয় না।

আপনার প্রয়োজন হবে

এক কাপ দই
পদ্ধতি:

পিনওয়ার্ম সংক্রমন থেকে মুক্তি পেতে চাইলে প্রতিদিন এক কাপ করে দই খান।
১৫. ওয়ার্মউড টি:
মাদাগাস্কারের এক আশ্চর্য ঔষধীগুণে সম্পন্ন এক স্থানীয় উদ্ভিদ হল ওয়ার্মউড। এই গাছের কাঠের নির্যাস থেকে তৈরি পানীয়কে চা হিসেবে খেলে পিনওয়ার্ম সংক্রমণের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আর্টেমিসিয়া-নির্যাসযুক্ত এই চায়ের অ্যান্টিপ্যারাসিটিক প্রভাব শরীরের ক্ষতিকারক ব্যক্টেরিয়া, ভাইরাস এবং অন্যান্য পরজীবীগুলিকে ধ্বংস করে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

আপনার প্রয়োজন হবে

তিন থেকে চার ফোঁটা ওয়ার্মউড গাছের কাঠের নির্যাস
এক কাপ গরম জল
মধু (ঐচ্ছিক)
পদ্ধতি:

এক কাপ উষ্ণ জলে তিন থেকে চার ফোঁটা ওয়ার্মউড গাছের কাঠের নির্যাস মিশিয়ে নিন।
আপনি চাইলে স্বাদের জন্য এক চামচ মধুও যোগ করতে পারেন।
যতদিন না পর্যন্ত সংক্রমণ সারছে ততদিন পর্যন্ত বা কমপক্ষে এক সপ্তাহ দিনে দুই থেকে তিন বার করে এই চা পান করুন।
১৬. ক্যাস্টর অয়েল
ক্যাস্টর অয়েল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য বেশ জনপ্রিয় যা আপনার শরীর থেকে ক্ষতিকারক কৃমি এবং পরজীবীগুলি ধ্বংস এবং নির্মূল করতে পারে। তাই, ক্যাস্টর অয়েলকে পিনওয়ার্ম সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য ঘরোয়া প্রতিকার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। পিনওয়ার্মগুলি সাধারণত আপনার অন্ত্রের দেয়াল ধরে থাকে এবং তাই আপনার দেহ থেকে নির্গত হয় না। আক্ষরিক প্রভাব এর ফলে ক্যাস্টর অয়েল আপনার অন্ত্র থেকে ক্ষতিকারক পরজীবীগুলিকে সরিয়ে দেয় এবং মল্মূত্র ত্যাগের মাধ্যমে তাদের দেহ থেকে নির্গত করে দিতে সাহায্য করে।

আপনার প্রয়োজন হবে

এক চা চামচ ক্যাস্টর অয়েল
এক কাপ গরম জল
পদ্ধতি:

এক কাপ গরম জলে এক চামচ ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে পান করুন।
প্রতিদিন একবার এই পথ্যটি সেবন করে দেখুন উপকার পাবেন নিশ্চিত।
১৭. পেঁয়াজ
সালফার সমৃদ্ধ পেঁয়াজ এক বা দুই দিনের মধ্যে ক্ষতিকারক পরজীবীগুলিকে মল-মূত্র ত্যাগের মাধ্যমে দেহ থেকে নির্গত করে দিতে সহায়তা করে। এছাড়াও, একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে পেঁয়াজের ও অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা পিনওয়ার্ম সংক্রমণের প্রভাব হ্রাস করতেও সাহায্য করে। তবে, এই প্রভাবটি প্রমাণ করার জন্য এখনো পরররযন্ত পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

আপনার প্রয়োজন হবে-

একটি বা দুটি মাঝারি আকারের পেঁয়াজ
এক বোতল জল
পদ্ধতি:

পেঁয়াজের খোসা ছাড়িয়ে নিন।
এবার, এগুলিকে ভাল করে ধুয়ে পাতলা টুকরো টুকরো করে কেটে নিন।
এগুলি একটি পাত্রে রাখুন এবং এক বোতল জল যোগ করুন এতে।
পেঁয়াজের টুকরোগুলি সারা রাত জলে ভিজতে দিন (কমপক্ষে ১২ ঘন্টা)।
এবার পেঁয়াজ ভেজানো জলটি ছেঁকে নিয়ে খেয়ে নিন।
শুধু পেঁয়াজ ভেজানো জল নয়। ভাত, রুটি বা মুড়ির সাথে কাঁচা পেঁয়াজ চিবিয়ে খেতে পারেন, স্যালাডে পেঁয়াজ দিয়ে খেতে পারেন একই উপকার পাবেন।

এই ঘরোয়া প্রতিকারগুলি পিনওয়ার্ম সংক্রমণ থেকে তাড়াতাড়ি মুক্তি পেতে সহায়তা করে। যদিও, এদের মধ্যে কিছু কিছু প্রতিকারের পিনওয়ার্ম সংক্রমণ নিরাময়ের ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো প্রভাব আছে কি না এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এইসব প্রতিকারগুলিতে উপস্থিত যৌগ এবং উপাদানগুলির উপকারী কিছু বৈশিষ্ট্য সংক্রমণ নিরাময়ের অনুকূলে আছে বলেই এগুলি ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। এইসব ঘরোয়া প্রতিকারগুলির বেশীরভাগই প্রাকৃতিক, তাই সেরকম কোনো ক্ষতিকারক প্রভাব নেই বললেই চলে। তবুও, এইসব ঘরোয়া টোটকা পদ্ধতি অনুসরণের আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে কোনও উপাদানে আপনার অ্যালার্জি নেই। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ ও নিতে পারেন।

পিনওয়ার্ম সংক্রমন প্রতিরোধে ডায়েট:
আপনি বা আপনার পরিবারের কোনোও সদস্য যদি পিনওয়ার্ম সংক্রমণের লক্ষণগুলি নিয়ে ভুগছেন তবে নীচে উল্লিখিত খাদ্য সামগ্রী থেকে দূরে থাকুন। গবেষণায় দেখা গেছে যে এই খাবারগুলি অন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে:

আম
কলা
টমেটো
অ্যাভোকাডো
ক্যাপসিকাম
লেটুস
সবুজ পেঁয়াজ
পার্সলে
এবার জেনে নিন, যে পিনওয়ার্ম সংক্রমণের ফলে পারস্পারিক আরও কী কী শারীরিক জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।

পিনওয়ার্ম সংক্রমণের ঝুঁকি এবং জটিলতা:
পিনওয়ার্ম সংক্রমণ মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শারীরিক জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হয়। এছাড়াও, অন্যান্যদের ক্ষেত্রে আরোও কিছু দীর্ঘমেয়াদী পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। যেমন –

মূত্রনালীর সংক্রমণ: পিনওয়ার্মগুলি মূত্রনালীতে প্রবেশ করতে পারে এবং আপনার মূত্রাশয়কে সংক্রামিত করতে পারে।
শ্রোণীর প্রদাহজনিত রোগ: যদি সময় মতো পিনওয়ার্মের চিকিৎসা না করা হয় তবে এটি মলদ্বারের মাধ্যমে যোনিতে প্রবেশ করতে পারে। যোনিতে প্রবেশের পরে, এই পরজীবীগুলি জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান টিউব এবং শ্রোণী বা পেলভিস এর মত অঙ্গগুলির ক্ষতি করতে পারে। কৃমিগুলি ফ্যালোপিয়ান টিউব বা ডিম্বাশয়ে এর আস্তরণগুলিকে সংক্রামিত করে মহিলাদের মধ্যে পেলভিক অঞ্চলে প্রদাহজনিত রোগ তৈরী করতে পারে।
ওজন হ্রাস: আগেই বলা হয়েছে যে কৃমি হল এক ধরণের ছোট কৃমির মত পরজীবী যা আমাদের দেহের পুষ্টিতে বাঁচে। তাই, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ওজন হ্রাসের প্রবণতা দেখা যায়।
সংক্রমণের বারবার পুনরাবৃত্তি: সংক্রামিত ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা সঠিক স্বাস্থ্যবিধি বজায় না রাখলে পিনওয়ার্ম সংক্রমণ বার বার ফিরে আসে এবং এক থেকে অন্য ব্যক্তি সহজেই আক্রান্ত হয়ে পড়েন।
আসুন এখন আপনাকে পিনওয়ার্মস সংক্রমণ এড়ানোর কিছু উপায় বলি।

পিনওয়ার্মস সংক্রমণ প্রতিরোধ করার উপায়:
নিজেকে এবং নিজের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না রাখাই যে কোনো সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ। এই ক্ষেত্রে, নীচে উল্লিখিত কয়েকটি জিনিসের কথা মাথায় রেখে আপনিও পিনওয়ার্মের সংক্রমণ এড়াতে পারবেন-

আপনার ডায়েটে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন। কাঁচা শাকসব্জী, যেমন গাজর এবং বাঁধাকপি, পুরো ফল এবং শস্যগুলি সংক্রমণের বিরুদ্ধে যে চিকিৎসা চলছে তার কার্যকারীতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
দই এবং বাটার মিল্কের মতো প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবারগুলি আপনার পাচনতন্ত্র ও শরীর থেকে পিনওয়ার্মগুলি নির্মূল করতে সহায়তা করতে পারে।
সংক্রমণটি ছড়িয়ে পড়া থেকে রোধ করতে নিজেকে এবং বিশেষত আপনার হাত পরিষ্কার রাখুন।
অন্তর্বাস এবং বিছানার চাদরগুলি প্রতিদিন পরিবর্তন করুন।
নখগুলি খুব ছোট করে কেটে রাখুন এবং পরিষ্কার রাখুন।
বাচ্চারা পিনওয়ার্ম সংক্রমণে সংক্রমিত হলে তাদের ডায়াপার পরিবর্তন করার পরে হাত এবং নখগুলির নীচে ভালভাবে ধুয়ে নিন।
গরম জলে ডেটল মিশিয়ে জামাকাপড়, বিছানার চাদর এবং গামছা বা তোয়ালে ইত্যাদি ধুয়ে ফেলুন।
প্রতিদিন সকালে মলদ্বার এবং আশেপাশের অংশগুলি ভালভাবে পরিষ্কার করা জরুরী।
মলদ্বারের চারপাশে চুলকাবেন না। খুব অস্বস্তি হলে তেল বা ক্রিম জাতীয় কিছু লাগিয়ে রাখুন। এবং ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন।
সংক্রামিত পরিবারের প্রত্যেককে অবশ্যই খাবারের আগে হাত ধোওয়া, প্রতিদিন স্নান করা, গরম জলে জামা-কাপড় এবং বিছানার চাদর ধোয়া এবং বাথরুমগুলিকে প্রতিদিন পরিষ্কার করার মতো স্বাস্থ্যকর অনুশীলনগুলি অবলম্বন করতে হবে।
সংক্রামিত ব্যক্তির পরিবারকে মেঝে থেকে শুরু করে সমস্ত বিছানার চাদর, গামছা বা তোয়ালে সমস্ত কিছু শুধু ধুলেই হবে না ভালোভাবে জীবানুমুক্ত করতে হবে।
জীবনযাত্রার এই পরিবর্তনগুলি পিনওয়ার্মস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করবে এবং সংক্রমণের পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ করবে।

উপসংহার:
পিনওয়ার্ম এমন একটি সংক্রমণ যা সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। যেমনটি আমরা উপরে উল্লেখ করেছি, এটি বেশিরভাগ বাচ্চাদের মধ্যে দেখা যায়। এইরকম পরিস্থিতিতে, আমাদের এবং শিশুর চারপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা উচিত। এই সমস্ত কিছুর পাশাপাশি, আপনি এই নিবন্ধে উল্লিখিত ঘরোয়া প্রতিকারগুলি পিনওয়ার্ম সংক্রমণের ফলে সৃষ্টি হওয়া চুলকানি, জ্বালাভাব ও অন্যান্য উপসর্গগুলি উপশম করতে ব্যবহার করতে পারেন।

একবার এই সংক্রমণ হলে পরবর্তীতে আরও কী কী শারীরিক জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে তা জানলেন তো। সুতরাং, নিবন্ধে উল্লিখিত পিনওয়ার্ম সংক্রমণের লক্ষণগুলির সামান্যমাত্রও আভাস পান তবে অবিলম্বে চিকিৎসা শুরু করুন। তবে মনে রাখবেন, এই নিবন্ধে উল্লিখিত প্রতিকারগুলি কেবল আপনার ওষুধের পরিপূরক হতে পারে এবং এটি প্রতিস্থাপন করতে পারে না। সুতরাং, কোন প্রতিকার আপনার সুস্থতাকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে তা বুঝতে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন।

এই প্রতিকারগুলি ব্যবহার করার পরে আপনি আমাদের সাথে আপনার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে পারেন। আপনি যদি এই বিষয়ের সাথে আরও কিছু জিজ্ঞাসা করতে চান তবে নীচের মন্তব্য বাক্সের মাধ্যমে আপনার প্রশ্নগুলি আমাদের কাছে জানান।

সম্ভাব্য জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী:
আপনার মলে পিনওয়ার্ম বা কৃমি আছে কি না তা বুঝবেন কীভাবে?

পিনওয়ার্মগুলি প্রায় দেড় ইঞ্চি লম্বা সাদা কৃমি, যা সহজেই চোখে দেখা যায়।

আপনার ত্বকের নীচে কৃমি আছে কি না বুঝবেন কীভাবে?

আপনি যদি আপনার ত্বকের নীচে চুলকানি বা সুড়সুড়ি এর মত সংবেদনশীল কিছু অনুভব করেন তবে এক্ষেত্রে ত্বকের নীচে কোনোরকম পরজীবী সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে। যাইহোক কিছু ক্ষেত্রে, ছোটো কোনো পোকামাকড় কামড়ালে, ডায়বেটিক থাকলে, ত্বক বা ত্বকের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকলেঅ এ ধরণের অনুভূতি হতে পারে। যেহেতু, একবার এই সংক্রমণ হলে পরবর্তীতে আরও নানান রকমের শারীরিক জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে তাই আপনি যদি ত্বকে চুলকানি বা সুড়সুড়ি জাতীয় কিছু অনভব করেন, তবে চিকিৎসকের থেকে একবার পরামর্শ নিয়ে নেওয়া ভাল।

কীভাবে পিনওয়ার্ম সংক্রমণ নির্ণয় করা হয়?

রাতে প্রাপ্তবয়স্ক কৃমিরা মলদ্বারের চারপাশে ডিম পারে। এই সময় পায়ুপথের চারপাশে এব্বং পায়জামায় কৃমিগুলিকে দেখা যায়। প্রাপ্ত বয়স্ক কৃমিগুলি (এক চতুর্থাংশ থেকে দেড় ইঞ্চি লম্বা) খালি চোখে পরিষ্কার দেখা যায়।
যদি প্রাপ্তবয়স্ক কৃমিগুলি দৃশ্যমান না হয় তবে সকালে একটি টেপ পরীক্ষা করান। মলদ্বারের চারপাশে ত্বকের ভাঁজগুলির ওপর এক টুকরো স্বচ্ছ টেপ লাগান, টেপের মধ্যে কৃমির ডিম বা কৃমি লেগে যাবে। এবার এটি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ মধ্যে সীল করে রেখে দিন। এবার টেপটি স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহকারীর কাছে নিন। টেপটিতে ধরা ডিম এবং কৃমি একটি মাইক্রোস্কোপের নীচে সনাক্ত করা যায়।
পিনওয়ার্মগুলি খুব কমই মলের নমুনায় ধরা পড়ে। তাই, টেপ পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই পিনওয়ার্ম সংক্রমণ নির্ণয় করা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তির সকালে উঠার সাথে সাথেই টেপ টেস্ট পরীক্ষাটি করা উচিত।
আপনার পোষা প্রাণীর কাছ থেকে কী পিনওয়ার্ম সংক্রমণ সম্ভব?

মানুষই একমাত্র পিনওয়ার্ম সংক্রমণের জন্য দায়ী কৃমিগুলির বাহক। তাই, আপনার পোষা বিড়াল বা কুকুর আপনাকে এক্ষেত্রে সংক্রামিত করতে পারে না। এমনকী আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ির অন্য সদস্যরা সংক্রামিত হলেও আপনার পোষ্য সংক্রামিত হবে না হলেও তার চিকিৎসার প্রয়োজন হবে না। কারণ কৃমিগুলি মানুষ বাদে অন্য কোনো প্রাণীর দেহে বেঁচে থাকতে পারে না।

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Address


Dhaka
1216