Dars

Dars

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Dars, Health/Beauty, 41 lake Circus, kalabagan, dhanmondi, Dhaka.

11/10/2025

এই সমাজে মাদরাসার শিক্ষক, ইমাম ও মুয়াল্লিমদের জীবন যেন বন্দী হয়ে গেছে মাসে দশ-বারো হাজার টাকার এক চেকের মধ্যে।
এই অর্থে চলে না সংসার, চলে না সন্তানের শিক্ষা, চলে না দীনী দাওয়াতের কাজ, তবুও ওলামায়ে কেরামদের বলা হয়, “তোমরা সন্তুষ্ট মানুষ, অল্পেই খুশি।” অথচ বাস্তবতা হলো তারা সন্তুষ্ট নন, বরং সংকটে বন্দী।

আজকের দিনে ওলামায়ে কেরামদের একটা বড় অংশ এমন মানসিকতায় আটকে আছেন, যদি তারা ব্যবসা করেন, গাড়ি চালান, দোকানদারি করেন, কিংবা কোনো কোম্পানির ম্যানেজারি করেন— মানুষ বলবে, “হুজুর দুনিয়াদার হয়ে গেছে।”
অথচ এই কথাটাই হচ্ছে শয়তানের তৈরি মানসিক দাসত্ব।
কারণ বাস্তবে, সারাজীবন দুনিয়াদারদের কাছে হাত পেতে বসে থাকাই দুনিয়াদারিত্ব এবং সেটাই প্রকৃত দাসত্ব।

আজ অনেক বড় বড় ওলামা একরামমাদরাসা ও মসজিদ কমিটির কর্মচারী হিসেবে চাকরি করছেন। তাদের কলম, তাদের মুখ, তাদের অবস্থান আজ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে কমিটির মর্জির মধ্যে। তারা চাইলেও পূর্ণ স্বাধীনভাবে হক কথা বলতে পারে না, কারণ তাদের জীবিকা নির্ভর অন্যের হাতে।

অথচ ভারত ও পাকিস্তানের বহু প্রখ্যাত ওলামা একরাম নিজের অর্থে মাদরাসা চালান, নিজের রুজির হালাল উপায়ে উপার্জন করেন, আর মাদরাসায় পড়ান বিনা বেতনে, শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
কারণ তারা জানেন কারোর গোলামী করে হক কথা বলা যায় না।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন
وَلَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ
অর্থাৎ “তোমরা জালিমদের দিকে ঝুঁকো না, নইলে আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে।” (সূরা হূদ ১১:১১৩)

যে ওলামা মাখলুকের উপর নির্ভরশীল, সে কখনো তাগুতের বিরুদ্ধে জোরে আওয়াজ তুলতে পারে না। কারণ তার রুটি যেখানে, তার নরম কথাও সেখানেই।

তাই প্রথম শর্ত দীন কায়েম করতে চাইলে আগে নিজেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন করতে হবে।

আজ একজন রিকশাওয়ালার মাসিক আয় ২৫-৩০ হাজার টাকা, একজন সবজি বিক্রেতার আয় ৫০-৬০ হাজার, একজন পিঠা বিক্রেতার আয়ও ২০-৩০ হাজার। অথচ একজন আলেম, যিনি কোরআন ও হাদীসের জ্ঞান বিতরণ করেন, তার বেতন মাত্র দশ-বারো হাজার টাকা।
এটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, মানসিক অপমানও বটে।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى
“উপরে থাকা হাত (যে দেয়) নিচে থাকা হাতের (যে নেয়) চেয়ে উত্তম।” (বুখারি ও মুসলিম)

অর্থাৎ মুসলমানের সম্মান স্বাধীনতায়, নির্ভরশীলতায় নয়।
ওলামায়ে কেরাম যদি চান সমাজকে বদলাতে, দীনকে কায়েম করতে, তাহলে প্রথমে তাদের নিজেদের হাতকে “উপরের হাত” বানাতে হবে, মানে স্বাবলম্বী হতে হবে।

নিজের ইনকামের ব্যবস্থা করুন, হালাল ব্যবসা করুন, রুজির পথ খুলে নিন। তারপর দীনী খেদমত করুন মুক্তভাবে, কারোর মুখের দিকে না তাকিয়ে।
যেদিন ওলামায়ে কেরামরা মাখলুকের ওপর নির্ভর করা ছেড়ে দেবে, সেদিনই সমাজে পুনরায় হকের আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হবে ইনশাআল্লাহ।

কপি ফ্রম Emam Uddin

02/10/2025

আসেন, একটি মজার গল্প শোনাই...

একজন শিক্ষক বলেন:
আমি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে কাজ শুরু করি। প্রধান শিক্ষক আমাকে তৃতীয় শ্রেণি পড়ানোর দায়িত্ব দেন। তারপর আমাকে তার অফিসে ডাকলেন এবং সরাসরি বললেন:
“আমাদের স্কুলে তৃতীয় শ্রেণির তিনটি শাখা আছে। এই শিক্ষাবর্ষে আমরা শিক্ষকদের সাথে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে—দুটি শাখায় ভালো মেধাবী ছাত্ররা থাকবে। আর তৃতীয় শাখা, যেটি তোমার দায়িত্বে, সেখানে থাকবে কেবল সেই ছাত্ররা যাদের নিয়ে আর কোনো আশা নেই। তুমি যদি তাদের মধ্যে থেকে তিন–চারজনকেও উন্নত করতে পারো, তবে সেটাই আমাদের জন্য অনেক বড় ব্যাপার হবে। আর যদি না-ও পারো, তাতেও তোমার কোনো দোষ নেই, কারণ তাদের অভিভাবকরাও জানেন যে তাদের পড়াশোনার মান খুব দুর্বল।”

শিক্ষক বলেন:
আমি ক্লাসে প্রবেশ করে প্রত্যেক ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলাম: “তুমি বড় হয়ে কী হতে চাও?”
কেউ বলল—সেনা অফিসার, কেউ বলল—ডাক্তার, আরেকজন বলল—ইঞ্জিনিয়ার।
এতে আমার মন ভরে গেল এবং আমি বললাম: “আলহামদুলিল্লাহ! তাদের স্বপ্ন এখনও বেঁচে আছে।”

পরের দিন আমি নতুনভাবে বসার আসনগুলো সাজালাম—যাতে সেনা অফিসার হতে চাওয়া ছাত্ররা একসাথে বসে, ডাক্তার হতে চাওয়া ছাত্ররা একসাথে বসে, আর ইঞ্জিনিয়াররা একসাথে বসে।
আমি প্রত্যেকের খাতায় তাদের স্বপ্নের পেশার উপাধি লিখে দিলাম:
• অফিসার: মুহাম্মদ
• ডাক্তার: আবদুল্লাহ
• ইঞ্জিনিয়ার: খালিদ

তারপর আমি আমার কাজ শুরু করলাম এই চিন্তা নিয়ে যে, তারা অন্য শিক্ষার্থীদের মতোই সক্ষম, দুর্বল নয়—যেমন বলা হয়।
অবশ্যই তাদের মধ্যে কেউ ভুল করত, কেউ আলসেমি করত, কেউ আবার বাড়ির কাজ লিখে আনত না।

কিন্তু শাস্তির ব্যাপারে আমার পদ্ধতি ছিল একেবারে ভিন্ন। আমি তাদের মারতাম না। বরং আমি শুধু তাদের উপাধি (স্বপ্নের পরিচয়) কেড়ে নিতাম। অর্থাৎ তাদের স্বপ্ন কেড়ে নিতাম এবং ক্লাসের এক বিশেষ জায়গায় বসাতাম, যেটার নাম রেখেছিলাম “রাস্তা”। এটা তাদের খুব কষ্ট দিত এবং তারা দ্বিগুণ পরিশ্রম করত যেন আবার তাদের জায়গায় ও প্রিয় উপাধিতে ফিরে যেতে পারে।

এভাবেই ধীরে ধীরে তাদের পড়াশোনার মান উন্নত হলো। তারা নিয়মিত হোমওয়ার্ক করতে শুরু করল, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করল, পরস্পরের সাথে সুন্দর প্রতিযোগিতা শুরু করল। আমি মাঝে মাঝে তাদের উৎসাহিত করতাম ছোটখাটো উপহার দিয়ে—যেটি তাদের স্বপ্নের ক্ষেত্রের সাথে সম্পর্কিত হতো।

প্রথম সেমিস্টার শেষে আমার সব শিক্ষার্থীই পড়াশোনাকে ভালোবাসতে শুরু করল—ক্লাস, স্কুল ও শিক্ষককে। খুব কমই এমন হতো যে কাউকে “রাস্তা”-য় বসাতে হতো।

বছর শেষে, আলহামদুলিল্লাহ, আমার শ্রেণিটি অন্য দুই শ্রেণিকে অনেক ব্যবধানে পেছনে ফেলে দিল।

প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য সহকর্মীরা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন:
“আল্লাহর কসম! আমাদের বলো, তুমি কোন শিক্ষণ-পদ্ধতি ব্যবহার করেছো, যেটি এই ছাত্রদের এভাবে আমূল বদলে দিয়েছে?”

আমি বললাম:
“আমার শিক্ষণ-পদ্ধতি ও কৌশলগুলো তোমাদের মতোই। শুধু আমি প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তার নিজের স্বপ্নকে রক্ষা করার দায়িত্ব দিয়েছি।”
~সংগৃহীত পোস্ট

29/09/2025

সহকর্মী সব সময় একই পোশাক পরে আসতেন। এমনিতে আমি কারও সাথে খুব একটা কথা বলতাম না। তখনও বয়স কম। মাত্রই বিদেশ থেকে ফিরেছি। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ছয় মাস পড়িয়ে জয়েন করেছি আমাদের ঢাকার বাসার ঠিক পাশের আহসানুল্লাহ ইউনিভার্সিটিতে।

কত হবে তখন বয়স? সুইডেনে প্রায় ছয় বছর থেকে দেশে ফিরেছি। ২৭/২৮ হবে হয়ত বয়স। আর্টস এন্ড সায়েন্স ফ্যাকাল্টি নামে একটা বিভাগ আছে। সেখানে সব বেসিক সাবজেক্টের শিক্ষকরা বসেন। তখনও তেমন কারো সাথে পরিচয় হয়নি। তো, একদিন প্রথম পরিচয়েই গণিতের ওই লেকচারার আমাকে বললেন

- আপনার জামা-কাপর আসলে কয়াটা?

মানে ওই সময় আমার পোশাক নিয়ে এক ধরণের আদিখ্যেতা ছিল। একেক সময় একেক পোশাক পরতাম। কিন্তু কেউ যে প্রথম পরিচয়ে এমন প্রশ্ন করতে পারেন। এটা ভাবতে পারিনি। তাই উল্টো বলেছি

- আপনাকে তো দেখি সব সময় একই পোশাক পরে আসেন!

এরপর আর কথা হয়নি। একদিন ওই সহকর্মী বললেন

- আমার সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন?

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্রই পাশ করে আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইউনিভার্সিটিতে জয়েন করেছিলেন। আর আমি সুইডেন থেকে গিয়ে জয়েন করেছি। দুজনের বয়সও কাছাকাছি। আমি একটু অবাক হলাম। বললাম

- কেন যেতে হবে?
- আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে মাস্টার্সে ফার্স্ট ফ্লাস ফার্স্ট হয়েছি। প্রেসিডেন্ট গোল্ড মেডেল পাবো। আপনি কি যাবেন ওই অনুষ্ঠানে?

সাধারণত এইসব অনুষ্ঠানে মানুষ বাবা-মাকে নিয়ে যায়। অথচ তিনি আমাকে যেতে বলেছেন! তবে আমি রাজি হয়ে গেলাম। সেদিন ইউনিভার্সিটি খোলা ছিল। নিজের গাড়ি নিয়ে গিয়েছি। ক্লাস শেষে দুপুরের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাব। বললাম, 'আমার গাড়িতে করে যাই।' তিনি রাজি হলেন না। বললেন, ' চলেন বাসে করে যাই'।

ঢাকায় জন্ম ও বেড়ে উঠা আমার। অথচ কোন দিন ঢাকার পাবলিক বাসে চড়া হয়নি। দুর থেকে দেখতাম আর ভাবতাম, এই যে মানুষগুলো এভাবে দৌড়ে দৌড়ে উঠা-নামা করে। ভয় করে না! যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে যায়। তেজগাঁও থেকে রিকশা করে ফার্মগেট গেলাম। সেখান থেকে বাসে করে শাহাবাগ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

তিনিই শিখিয়ে দিলেন কিভাবে বাম পা আগে দিতে হবে। কিভাবে নামতে হবে ইত্যাদি। ওটাই আমার প্রথম এবং শেষ ঢাকার পাবলিক বাসে চড়া। তিনি গোল্ড মেডেলটা নিলেন। আমি দর্শকের জায়গা থেকে দেখলাম। এরপর সবাইকে খাবার দেয়া হলো। আমাকেও দেয়া হয়েছে।

ফিরে আসার সময় তিনি বললেন,

-এই মেডেলটা ভেঙে যে গোল্ড পাওয়া যাবে; সেটা বোনের বিয়েতে কাজে লাগবে।

আমার কল্পনাতেও ছিল না, কেউ এমন কিছু ভাবতে পারে। জিজ্ঞেস করে যা জানলাম, এর জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। একটা অজপাড়া গাঁয়ে উনার জন্ম ও বেড়ে উঠা। সেখান থেকেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছিলেন।

বাবা-মা কিছু করেন না। তেমন কোন সহায়-সম্পত্তিও নেই। তিন ভাই-বোনের মাঝে তিনিই বড়। ছাত্র থাকা অবস্থায় টিউশনি করে কাঁচা বাড়িটা পাকা করেছেন। এখন বোনের বিয়ে ঠিক করেছেন ইত্যাদি। সে দিন যেই লজ্জা আর শিক্ষাটা আমি পেয়েছিলাম; গত ১৫ বছরে সেই শিক্ষা আমি ভুলিনি। এই মানুষটাকেই কিনা আমি বলেছি, 'আপনি তো সব সময় একই পোশাক পরে আসেন।'

অভাব কী জিনিস সেটা আমি দেখিনি। তখনও রক্ত গরম। এমনিতে আমার মত মানুষের এমন কথা বলার কথা না। তবুও কেন যেন বলে ফেলেছি! তবে এই ঘটনা থেকে আমি শিক্ষা নিয়েছি। এরপর আর কোন দিন কাউকে এমন কথা বলা তো দূরে থাক, চিন্তায়ও আনিনি। নিজ শ্রেণীর ঊর্ধে উঠে চিন্তা করার যে বিষয়টা; আমি আরও ভালো ভাবে রপ্ত করেছি ওই ঘটনার পর।

একদিন শুনলাম তিনি বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারে চাকরি পেয়েছেন। তখন অবশ্য আমরা ভালো বন্ধু হয়ে গেছি। তিনি বললেন, ' কী বলেন? যাওয়া ঠিক হবে?' আমি বললাম, ' বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতাই তো ভালো।' এরপর অনেক কিছু চিন্তা করে হয়ত তিনি যান নাই।

এরপর নামকরা একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও চাকরি পেলেন। আমি বললাম, 'একবারে বিদেশে পিএইচডি করতে চলে যান।' আমিই না হয় আপনার হয়ে চেষ্টা করে দেখি। গণিতের 'গ' না বুঝা আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে নানান জায়গায় উনাকে এপ্রোচ করতে বললাম। একদিন হয়েও গেল পুরো স্কলারশিসহ পিএইচডি।

পৃথিবীর সেরা ৩০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি থেকে তিনি পিএইচডি করলেন। আমার মনের মাঝ থেকে একটা বোঝা নেমে গেল। ভয়াবহ একটা অন্যায় কথা বলে ফেলা আমি ভীষণ মনঃকষ্টে ভুগছিলাম। জীবনে কোন দিন একটা গালিও মনে হয় না কোন বন্ধু-বান্ধব আমার মুখ থেকে শুনেছে। আমার বন্ধু-বান্ধবরাও বোধকরি এটা স্বীকার করবে।

সেই আমি এই কথা কী করে বললাম, কে জানে! তবে একটা মজার বিষয় হচ্ছে- প্রথম পরিচয়ে যার সাথে এমন ঘটনা ঘটেছে। তাঁর সাথেই চমৎকার বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল।

আমাদের বন্ধুত্বের ১৫ বছর হতে চলেছে আজ। আমিও দেশে বেশি দিন আর থাকিনি। বছর খানেক থেকেই ফিরে এসেছি। তবে আমাদের মাঝে বন্ধুত্ব আজও আছে। দেশে গেলে এমনকি মাঝে মাঝে উনার গ্রামের বাড়িতেও আমি যাই। প্রায় ২১ বছর হয় বিদেশে থাকছি। কিন্তু মাঝের ওই এক বছরটা এখনো আমার কাছে কেমন ঘোর লাগানো মনে হয়। যে বছরটা আমি দেশে ছিলাম।

এরপর আমি অনেকবার উনাকে জিজ্ঞেস করেছি- কেন আপনি সম্পূর্ণ একজন অপরিচিত মানুষকে এমন একটা অনুষ্ঠানে নিয়ে গেলেন? তিনি বার বার হেসে বলেছেন- ঢাকায় আমার কেউ থাকে না। তাই ভেবেছিলাম আপনাকে নিয়ে যাই। প্রথম পরিচয়েই আমার মনে হয়েছে, আপনার মাঝে কোন ভান-ভনিতা নেই। যা মনে আসে বলে দেন।

বাংলাদেশ নামক এই জনপদে অনেক সমস্যা আছে। সেই সমস্যাগুলো নিয়েই লেখালেখি করি। তবে উত্তরমেরু থেকে দক্ষিণমেরু ঘুরে ফেলা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, জগতের আর কোন দেশে বোধকরি এমন ঘটনা ঘটা সম্ভব না। আমরা বাংলাদেশিরা খুব সহজে মানুষকে আপন করে নিতে পারি।

ও আচ্ছা, গোল্ড মেডেলটা উনাকে ভাঙ্গাতে হয়েছিল। অনেকবার বলেছিলাম, আমি টাকা দেই? তিনি নেন নাই। উনার কাছে সামান্য গোল্ড মেডেলের চাইতে বোনের ভালো থাকাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। নিজেকে অনেকবার প্রশ্ন করেছি- আমি হলে কি কোন দিন এমন কিছু করতে পারতাম? কিংবা পৃথিবীর আর কোন দেশে কেউ কি জীবনের এমন মূল্যবান অর্জন বোনের জন্য বিলিয়ে দেবেন? ভালোবাসি প্রিয় বাংলাদেশ।
Copy

21/09/2025

এক দেশে অদ্ভুত এক নিয়ম ছিল। যারা বার্ধক্যে উপনীত হয়ে কাজ করতে অক্ষম হয়ে পড়ত, তাদের পাহাড়ে ফেলে আসতে হতো। ওই দেশের রাজা মনে করতেন, বয়স্কদের যত্ন নেওয়ার বোঝা কমালে সাধারণ মানুষের জীবন সহজ হয়ে যাবে।

সেই দেশে এক পিতা পুত্র খুব ভালোবাসত একে অপরকে। সময় গড়িয়ে গেল। পিতা বুড়ো হলেন, তিনি আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। দেশের নিয়ম অনুযায়ী, ছেলেকে বাধ্য হয়ে তাকে পাহাড়ে ফেলে আসতে হবে। কিন্তু বাবাকে ছেড়ে থাকতে পারার কথা ছেলে ভাবতেই পারছিল না। তবু, শাস্তির ভয়ে সে বাবাকে কাঁধে নিয়ে পাহাড়ের দিকে রওনা দিল।

পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে তার মন কেঁদে উঠল। শেষ পর্যন্ত বাবাকে সেখানে রেখে আসতে পারল না। সে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে এলো এবং বাড়ির পিছনে লুকিয়ে রাখল। প্রতিদিন চুপিচুপি খাবার এনে তাকে খাওয়াতে লাগল।

একদিন রাজা তার প্রজাদের বুদ্ধি পরীক্ষা করতে চাইলেন। তিনি ঘোষণা করলেন: "যে ছাই দিয়ে দড়ি বুনে এনে দিতে পারবে, তাকে পুরস্কৃত করা হবে!"

ঘোষণা শুনে লোকজন হতভম্ব হয়ে গেল। ছাই দিয়ে কি কখনও দড়ি তৈরি করা সম্ভব? ছেলেটি এই ধাঁধার কথা শুনে বাবাকে বলল। বাবা বললেন, "একটা দড়ি নিয়ে বড় পাত্রে পেঁচিয়ে রাখো, তারপর সেটা জ্বালিয়ে দাও।"

ছেলে বাবার কথা মতো কাজ করল। দড়ি পুড়ে গেল, কিন্তু তার ছাই ঠিক আগের মতো দড়ির আকারেই থেকে গেল। সে সেটি রাজাকে দেখাল এবং পুরস্কার জিতে নিল।

এক মাস পর, রাজা দ্বিতীয় পরীক্ষার আয়োজন করলেন। তিনি একটি কাঠের ডাল দিলেন এবং বললেন, "এর আগা আর গোড়ার খুঁজে বের করো!"

ডালের দু’প্রান্ত দেখতে একই রকম ছিল, তাই কেউই এর উত্তর খুঁজে পেল না। ছেলে কাঠের ডালটি বাড়িতে এনে বাবাকে দেখাল। বাবা বললেন, "ডালটি পানিতে রাখো। যেটি বেশি ডুবে যাবে, সেটি গোড়া, আর যেটি ভেসে থাকবে, সেটি আগা।"

ছেলে বাবার উপদেশ মতো কাজ করল এবং রাজাকে দেখিয়ে আবারও পুরস্কার জিতল।

এরপর রাজা আরও কঠিন এক ধাঁধা দিলেন। তিনি বললেন, "একটি ঢোল তৈরি করো, যা কোনো আঘাত ছাড়াই শব্দ করবে!"

এবার সবার মাথা ঘুরে গেল। কেউই এমন ঢোল বানানোর উপায় খুঁজে পেল না। ছেলে আবার বাবার শরণাপন্ন হলো। বাবা বললেন, "একটি ঢোল তৈরি করে তার ভেতরে একটি মৌমাছির চাক রাখো।"

ছেলে বাবার নির্দেশ মতো ঢোল বানিয়ে রাজাকে দিল। রাজা ঢোলটি হাতে নিয়ে নাড়া দিতেই এর ভেতরের মৌমাছিরা উড়তে লাগল, ফলে ঢোলে আঘাত ছাড়াই শব্দ হতে লাগল!

রাজা বিস্মিত হয়ে ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি কীভাবে এত কঠিন প্রশ্নের উত্তর পেলে?"

ছেলে বলল, "মহারাজ, আমার নিজের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। আমার বৃদ্ধ বাবাই সব উত্তর দিয়েছেন।"

ছেলের কথা শুনে রাজা খুবই নরম হয়ে গেলেন। তিনি উপলব্ধি করলেন, জীবনের কঠিন সমস্যার সমাধান বের করতে অভিজ্ঞতা সবচেয়ে মূল্যবান।

রাজা সঙ্গে সঙ্গে ঘোষণা করলেন, "আজ থেকে আর কোনো বৃদ্ধকে পাহাড়ে ফেলে আসতে হবে না!" এরপর থেকে সকল বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা পরিবারের সঙ্গেই আনন্দে থাকতে লাগলেন।

শিক্ষা: অভিজ্ঞতা অমূল্য। বয়স্করা আমাদের জীবনের আশীর্বাদ। তাদের যত্ন নেওয়া আমাদের দায়িত্বই নয়, বরং এটা আমাদের সৌভাগ্য।

05/09/2025

আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপ বা অস্ট্রেলিয়ার সাথে তুলনা করছি না, কারণ তাদের রয়েছে দীর্ঘ সভ্যতার ইতিহাস। আমি যখন মালয়েশিয়াতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম তখন আমার ফ্যাকাল্টির ডীন ছিলেন খুবই প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি ছিলেন ওই দেশের রয়েল একাডেমী অব সায়েন্সের একজন সম্মানিত ফেলো। গবেষণায় তার ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতি। আমি যখন ফ্যাকাল্টির ক্যান্টিনে খেতে যেতাম, আমার আশে পাশের টেবিলে মাঝে মধ্যেই দেখা হতো। আমাদের অন্য সবার মত তিনিও ট্রে তে করে খাবার নিতেন আর তা শেষ করে নিজ হাতেই ট্রে টা বিন এ ফেলতেন। একবার ফ্যাকাল্টিতে এক সেমিনারে NTU, Singapore থেকে এক বিখ্যাত প্রফেসর এসেছিলো। সেমিনার শেষে আমাদের ডীন আর সেই বিখ্যাত প্রফেসর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কথা বলছিলো, ঠিক তার পাশেই সোফাতে আরাম করে বসে পা তুলে ফ্যাকাল্টির এক ক্লিনার আর এক টেকনিশিয়ান আড্ডা মারছিলো। আবার যখন শুক্রবার জুম্মার সময়ে মসজিদে যেতাম মাঝে মধ্যে দেখতাম ভিসি নির্লিপ্তভাবে একা গোবেচারার মত অন্য সবার সাথেই কাধ মিলিয়ে নামাজ পড়ছে। আমাদের কালচারে এসব দৃশ্য দেখতে অভ্যস্ত ছিলাম না বলে প্রথম প্রথম কিছুটা অবাক হতাম আর অদ্ভুত এক শান্তির সাথে আক্ষেপও হতো ইস!! আমাদের দেশটা যদি এমন হতো!!!

আমি টেবিল টেনিস খেলতে খুব পছন্দ করতাম, খেলায় আমার অন্যতম রাইভাল ছিলো আমার রিসার্চ সুপারভাইজার, প্রায়ই পার্টনার করে খেলতাম ফ্যাকাল্টির অন্যসব টিচারদের সাথে, অথচ আমি একজন ছাত্র, সে সময় মনে হতো আমরা বন্ধু, সাথে খেলতো ল্যাব টেকনিশিয়ান সহ অন্য স্টাফরা। খুব ফান করতাম আমরা। আমার সুপারভাইজার মুসলিম ছিলেন, বয়সে প্রায় ১০ বছরের বড় ছিলেন, কিন্তু দেখা হলে অনেক সময় নিজেই আগে আমাকে সালাম দিতেন। আবার থিসিস ডিফেন্স বা একাডেমিক কাজে তারা ছিলেন সিরিয়াস প্রফেশনাল। সেইসব দিনগুলো অনেক মিস করি।

ব্রিটিশরা মালয়েশিয়া ( সিংগাপুর তখন মালয়েশিয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল) ত্যাগ করে আমাদের উপমহাদেশ ত্যাগ করারো অনেক পরে, কিন্তু আমাদের দেশের মত তথাকথিত ঔপনিবেশিকতা তাদের মাঝে দেখা যায়নি। আসলে যেটা বলা হয় যে ব্রিটিশরা আমাদের এসব শিখিয়ে দিয়ে গেছে ঔপনিবেশিক আমলে কিন্তু আমি মনে করি এটা সম্পূর্ণ ভুল। দাসবৃত্তিক মনোভাব, বিশ্বাসঘাতকতা, বিড়ালের মত চোর চোর ভাব, পিছন দিয়ে ছুড়ি মারা, আত্নবিশ্বাসের অভাব, নিম্নমানের নৈতিকতা, সস্তা রসিকতা, ব্যক্তি পূজা, কারো উন্নতিকে বাধাগ্রস্ত করা, জিলাপির প্যাঁচ, চামচামি, অন্যের ক্রেডিট চুরি করা এসব মনোভাবগুলো বোধহয় আমাদের স্থায়ী জীনগত বৈশিষ্ট্য। যা অনেকেই পরিবেশগত, পারিপার্শ্বিক লার্নিং থেকে পরিবর্তিত হয়েছে, অনেকে হতে পারেনি।

তাই এখনো এই একবিংশ শতাব্দীর দুই দশক পরেও দেখি এক পাতি নেতার জন্য আমাদের রাস্তা ছেড়ে দিতে হয়, পাতি আমলারা ক্ষমতার দাপট দেখায়, শিক্ষকরা ছাত্রদের মানুষ বা নিজস্ব সত্তা থাকতে পারে তা মনে করে না, খালি প্রভু ভৃত্যের মত একতরফা সম্মান চায়৷ বড় আমলাদের জন্য লিফট ছেড়ে দিতে হয়। মন্ত্রী এমপিদের বরণ করার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে রোদে পুড়ে অপেক্ষমান থাকতে হয় স্কুলের কোমলমতি শিশুদের। খালি অযোচিত প্রটোকল আর প্রটোকল। এসব দেখে দেখে সবাই শুধু ভিআইপি হতে চায়, রাষ্ট্রের বিনির্মানে, নাগরিকদের কল্যানে পেশাদারি মনোভাব নিয়ে কাজ করার মানসিকতার দিকে কারো কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। কি লাভ তাতে!! যার কোন সঠিক মূল্যায়নই নেই। আমি মাঝে মাঝে ভাবি এসব কথিত ভিআইপিদের দেশের বা সমাজের জন্য কন্ট্রিবিউশানটা কি!!

তাই আমি দেশের কাঠামোগত উন্নয়নের প্রচেষ্টার মাঝে আজও গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলি, তাতে নেই কোন স্বস্তি।

©

01/09/2025

ঢাকার একটি নামী প্রাইভেট স্কুল। সেদিন শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ চলছিল। বড় বড় ডিগ্রিধারী তরুণ-তরুণীরা সারিবদ্ধভাবে বসে আছে। হঠাৎ তাদের মাঝে প্রবেশ করলেন এক সাধারণ শাড়ি পরা, মধ্যবয়সী এক মহিলা। চোখে-মুখে বয়সের ছাপ থাকলেও দৃষ্টিতে দৃঢ়তা।

বোর্ডরুমে ঢুকতেই চেয়ারম্যান ভ্রু কুঁচকে তাকালেন।

চেয়ারম্যান:
“মিসেস রুবিনা, আপনার বয়স তো চল্লিশের বেশি। এত দেরিতে শিক্ষকতা শুরু করার কারণ কী?”

মহিলা বিনয়ের সঙ্গে হেসে উত্তর দিলেন—

রুবিনা:
“হ্যাঁ স্যার, আমি জানি বয়স আমার দুর্বলতা। কিন্তু অভিজ্ঞতা আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”

ঘরে নীরবতা নেমে এলো। অন্য প্রার্থীরা কৌতূহলী হয়ে তাকালো তার দিকে।

চেয়ারম্যান আবার জিজ্ঞেস করলেন—
“আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে, সেটা ঠিক। কিন্তু এত বছর কোথায় ছিলেন?”

রুবিনার চোখে অশ্রুর ঝিলিক ফুটে উঠলো।
“আমি ছিলাম সংসারের যোদ্ধা। আমার স্বামী ছিলেন ব্যাংকের ছোট চাকুরে। এক রাতে হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা যান। তখন আমার বড় ছেলে ক্লাস সেভেনে, মেয়ে ক্লাস ফোরে, আর ছোট মেয়েটা মাত্র প্লে-গ্রুপে। সংসার তখন পাহাড়সম বোঝা।”

একজন বোর্ড সদস্য অবাক হয়ে বললেন—
“তাহলে আপনি সংসার কীভাবে চালালেন?”

রুবিনা একটু হেসে বললেন—
“ভোরে সংবাদপত্র বিলি করতাম, দুপুরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেলাইয়ের কাজ নিতাম, আর রাতে বাচ্চাদের পড়াতাম। মাসের শেষে যখন স্কুল ফি জমা দিতে যেতাম, তখন অনেক সময় অন্যদের কাছে লজ্জায় মাথা নিচু করতে হতো। কিন্তু সন্তানদের পড়াশোনা কখনো বন্ধ হতে দিইনি।”

ঘরের ভেতরকার সবাই নিঃশব্দে শুনছিল।

“আমার ছেলে এখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে, মেয়ে মেডিকেলে। ছোট মেয়ে স্কুলে পড়ে। । আমি সবসময় তাদের বলেছি—‘অভাব আমাদের পা আটকে রাখতে পারবে না, বরং সামনে ঠেলে দেবে।’”

চেয়ারম্যান এবার নরম কণ্ঠে বললেন—
“আপনি শিক্ষকতার জন্য কেন আবেদন করেছেন?”

রুবিনা শান্ত কণ্ঠে উত্তর দিলেন—
“কারণ আমি জানি, একজন শিশুকে শুধু বই পড়ালেই মানুষ করা যায় না। জীবন শিখিয়ে মানুষ করতে হয়। আমি চাই আমার কষ্টের অভিজ্ঞতা দিয়ে ছাত্রদের বোঝাতে—পড়াশোনা হলো সবচেয়ে বড় অস্ত্র, যেটা দিয়ে দারিদ্র্যকেও হারানো যায়। আমি চাই ক্লাসরুমে শুধু পাঠ্যবই নয়, জীবনের পাঠও দিতে।”

বোর্ডরুমে পিনপতন নীরবতা। সবার চোখ ভিজে উঠলো।

একসময় চেয়ারম্যান উঠে দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে দিলেন—
“মিসেস রুবিনা, আমরা হয়তো অনেক প্রার্থীর নাম শুনেছি, কিন্তু আজকের সাক্ষাৎকারে আমরা একজন সত্যিকারের শিক্ষককে খুঁজে পেয়েছি। আপনাকে স্বাগতম।”

রুবিনার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। তিনি জানলেন—এ চাকরি কেবল তার জীবনের নতুন শুরু নয়, বরং তার সন্তানদের স্বপ্নপূরণের পথে আরেকটি আলোকবর্তিকা।
বয়স বা অভাব কোনোদিন যোগ্যতাকে হারাতে পারে না। জীবন-সংগ্রামই সবচেয়ে বড় সার্টিফিকেট।

প্রেরণা

09/08/2025

মূল থেকে সাদা কোট: এক পিতার নীরব ত্যাগ আর সেই কন্যারা যারা বদলে দিল পৃথিবী

১৯৮৫ — পূর্ব আফ্রিকার এক শান্ত গ্রামের মানুষ ড্যানিয়েল দাঁড়িয়ে আছেন খালি পায়ে, সঙ্গে তার তিন মেয়ে। তার স্ত্রী আগের বছর সন্তান জন্মের সময় মারা গিয়েছিলেন। তিনি আর বিয়ে করেননি। সময় ছিল না—মনও ছিল না।
তিনি ছিলেন কৃষক, নির্মাতা, পিতা, আর স্বপ্নদ্রষ্টা—সব মিলিয়ে একজন মানুষ।

তাদের ঘরে ছিল না বিদ্যুৎ। কিছু রাতে রাতের খাবার মানেই ছিল শুধু সেদ্ধ মূল আর পানি। কিন্তু যা তারা পেত—যা ড্যানিয়েল সবসময় নিশ্চিত করতেন—তা ছিল মর্যাদা।

প্রতিদিন ভোরের আগেই তিনি মেয়েদের জাগিয়ে তুলতেন এবং দুই মাইল হেঁটে নিয়ে যেতেন স্কুলে। তিনি নিজে পড়তে বা লিখতে পারতেন না, কিন্তু প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষের বাইরে ছায়ায় বসে থাকতেন—শুধু যাতে মেয়েরা একা হেঁটে বাড়ি ফিরতে না হয়।

কখনও তিনি নিজে না খেয়ে থাকতেন, যাতে তারা একটি পেন্সিল কিনতে পারে।
পরীক্ষার ফি দিতে নিজের বিয়ের আংটি বিক্রি করেছিলেন।
দ্বিতীয় হাতের পাঠ্যবই কিনতে—যার অনেক পৃষ্ঠাই অনুপস্থিত—ফসল তোলার মৌসুমে একসাথে তিনটি কাজ করতেন।
মানুষ হাসতো।
“ওরা মেয়ে,” তারা বলত।
“ওদের কী ভবিষ্যৎ আছে?”
ড্যানিয়েল কিছু বলতেন না।
তিনি শুধু মেয়েদের পাশে হেঁটে যেতেন।

বছর কেটে গেল। একে একে তারা স্নাতক হলো।
একে একে তারা বৃত্তি পেল।
এবং একে একে… তারা পাড়ি দিল সমুদ্র পেরিয়ে।

২০২৫ — সেই ছবির চল্লিশ বছর পর, বিশ্ব দেখল এক অপ্রত্যাশিত দৃশ্য:
একটি নতুন ছবি—সেই একই মানুষ, এবার একটি হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন—তার তিন মেয়ের সঙ্গে, সবার গায়ে সাদা কোট।
ডাক্তার।
তিনজনই।

যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো তিনি কেমন অনুভব করছেন, ড্যানিয়েলের চোখে জল এসে গেল, আর আস্তে করে বললেন:
“আমি তাদের পৃথিবী দিতে পারিনি।
শুধু পৃথিবীকে তাদের আশা কেড়ে নিতে দিইনি।”

তিনি হাত দিয়ে ফসল ফলিয়েছেন—
কিন্তু হৃদয় দিয়ে গড়েছেন ডাক্তার।
আর সেই নীরব মানুষটির ছায়ায়, যাকে পৃথিবী কখনও চিনত না,
তিন কন্যা উঠে দাঁড়াল… আর বদলে দিল পৃথিবীকে। 💔🌍👩🏽‍⚕️

✍️:- Collected.

22/07/2025

সালাতে অলসতা দূর করার ১৩ উপায়:
▬▬▬▬🌐💠🌐▬▬▬▬
প্রশ্ন: ইদানীং নামাজ পড়ার ব্যাপারে মনের মধ্যে খুব অলসতা অনুভব করি। নামাজ পড়ি ঠিকই কিন্তু শুধু মনে হয় সবে তো আযান হল, কিছু সময় পরে পড়ব। আবার একটু পরে মনে হয় এখন আর পড়ব না কাজা নামাজ আদায় করে নিব। কি করে এই সমস্যার সমাধান করতে পারি?

উত্তর: এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কালিমার পরে সালাতের মত এত গুরুত্ব ও মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত আর কিছু নেই। এটি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ইবাদত। সালাত পরিত্যাগ করা কুফুরি পর্যায়ের গুনাহ। এ ব্যাপারে কুরআন-হাদিসে এত বেশি আলোচনা ও তাগিদ এসে যে, অন্য কোনো বিষয়ে এতটা আসে নি।

কিন্তু বাস্তব কথা হল, একমাত্র আল্লাহ ভীরুদের জন্য ছাড়া পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা খুবই কঠিন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ ۚ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ
“ধৈর্য্যের সাথে সাহায্য প্রার্থনা কর নামাযের মাধ্যমে। অবশ্য তা যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু আল্লাহ ভীরু লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব।“ (সূরা বাকারা: ৪৫)

♦এ পর্যায়ে আমরা সালাতে অলসতা ও অবহেলা প্রদর্শনের কঠিন পরিণতির কথা জানবো।

▪১. সালাতে অলসতা ও অবহেলা প্রদর্শনকারীর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ: যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّيْنَ، الَّذِيْنَ هُمْ عَنْ صَلاَتِهِمْ ساَهُوْنَ
“ঐ সকল নামাযীদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি (অথবা জাহান্নামের মধ্যে ওয়াইল নামক একটি আগুনের উপত্যকা) যারা সালাত থেকে উদাসীন।” (সূরা মাঊন ৪ ও ৫)
এ আয়াতের তাফসীরে সা‘দ বিন আবী ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হল, তারা কারা যাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি? তিনি বললেন, “যারা সালাতের নির্দিষ্ট সময় পার করে দিয়ে সালাত আদায় করে।”
▪২) নামাযে অলসতা করা মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য:
মহীয়ান আল্লাহ বলেন:
إنَّ الْمُناَفِقِيْن يُخاَدِعُوْنَ اللهَ وَهُوَ خاَدِعُهُمْ، وإذاَ قاَمُوْا إلَى الصَََلاَةِ قاَمُوْا كُسَالَى يُراَؤُونَ الناَّسَ وَلاَ يَذْكُرُوْنَ اللهَ إلاَّ قَلِيْلاً
“অবশ্যই মুনাফেকরা প্রতারণা করছে আল্লাহর সাথে অথচ তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতারিত করে। বস্তুত: তারা যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন দাঁড়ায় অলস ভঙ্গিতে লোক দেখানোর জন্য। আর তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে।" (সূরা নিসা: ১৪২)

▪ ৩) আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
لَيْسَ صَلاَةٌ أثْقَلَ عَلىَ الْمُناَفِقِيْنَ مِنْ صَلاَةِ الْفَجْرِ وَالعِشاَءِ وَلَوْ يَعْلَمُوْنَ ماَ فِيْهِماَ لأَتَوْهُماَ وَلَوْ حَبْواً
“মুনাফিকদের উপর ইশা ও ফজর সালাতের চাইতে এমন কষ্টকর কোনো সালাত নেই। তারা যদি জানতো যে, এ দু সালাতে কি প্রতিদান রয়েছে তবে হামাগুড়ি দিয়ে ( বা নিতম্বের উপর ভর করে) হলেও তাতে উপস্থিত হত।” (বুখারী ও মুসলিম)

▪ ৪) ইচ্ছাকৃত ভাবে দেরী করে সালাত আদায়কারীকেও হাদিসে মুনাফিক বলা হয়েছে।

আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

“ঐ টা মুনাফেকদের সালাত.. ঐটা মুনাফেকদের সালাত..ঐ টা মুনাফেকদের সালাত- যে ইচ্ছাকৃত ভাবে বসে থাকে। তারপর সূর্য (অস্ত যাওয়ার পূর্বে) যখন তা হলুদ বর্ণ ধারণ করে এবং শয়তানের দু শিংয়ের মাঝে অবস্থান করে তখন সে চারটি ঠোকর মারে আর তাড়াহুড়ার কারণে তাতে খুব অল্পই আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে থাকে।” (আহমাদ, আবু দাঊদ, মালিক)
▪ ৫. সময়মত সালাত আদায় করা অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল:
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
أَىُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ قَالَ ‏"‏ الصَّلاَةُ عَلَى وَقْتِهَا ‏"‏‏.‏ قَالَ ثُمَّ أَىُّ قَالَ ‏"‏ ثُمَّ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ ‏"‏‏.‏ قَالَ ثُمَّ أَىّ قَالَ ‏"‏ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহর নিকট কোন আমল সবচেয়ে বেশী পছন্দনীয়? তিনি বললেন:
সময় মত সালাত আদায় করা।
(আবদুল্লাহ) জিজ্ঞাসা করলেন: তারপর কোনটি?
তিনি বললেন: পিতা মাতার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করা।
আবদুল্লাহ জিজ্ঞাসা করলেন: তারপর কোনটি?
তিনি বললেন: আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।
আবদুল্লাহ বলেন: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলো সম্পর্কে আমাকে বলেছেন। আমি যদি তাকে আরও বেশী প্রশ্ন করতাম, তিনি আমাকে অধিক জানাতেন।

এ সকল আয়াত ও হাদিস থেকে যথাসময়ে সালাত আদায় করার গুরুত্ব এবং তা আদায়ের ক্ষেত্রে অলসতা ও ঢিলেমী করার ভয়াবহতা সুষ্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়।

♦ নিম্নে সালাতে অলসতা দূর করার ১৩টি উপায় পেশ করা হল:

১. যথাসময়ে সালাত আদায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদার কথা স্মরণ করা।
২. সালাতে অবহেলা বা অলসতা প্রদর্শনের ভয়াবহতার কথা মনে জাগ্রত করা।
এ দুটি বিষয়ে কুরআনের আয়াত ও হাদিস সম্বলিত ভালো মানের বই বা আর্টিকেল পাঠ করা উচিৎ বা এ বিষয়ে ভালো মানের লেকচার শোনা উচিৎ। জানা থাকলেও আবারও পড়তে পারেন বা আবারও ভিডিও লেকচার শুনতে পারেন। এতে মনের মধ্যে নতুনভাবে অনুপ্রেরণা আসবে।

৩. মনে মৃত্যুর কথা জাগ্রত রাখা যে, যে কোনো সময় আমার মৃত্যু ঘটতে পারে। সুতরাং সময় হওয়ার পরও যদি সালাত আদায়ে বিলম্ব করি আর ইতোমধ্যে যদি আমার মৃত্যু সংঘটিত হয় তাহলে অলসতা বশত: কাযা সালাতের দায়ভার মাথায় নিয়ে আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

৪. অলসতা দূর করার জন্য আল্লাহ নিকট দুআ করা। বিশেষ ভাবে এই দুআটি পাঠ করা:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْهَرَمِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ
"হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই অক্ষমতা, অলসতা, অক্ষমতা, বার্ধক্য ও কৃপণতা থেকে। আরও আশ্রয় চাই কবরের আযাব ও জীবন-মরণের ফিতনা থেকে।" [বুখারী ৬৩৬৭ ও মুসলিম ২৭০৬]

৫. যথাসময়ে সালাত আদায়ের জন্য দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেয়া এবং তা বাস্তবায়নে আল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়া।
কেউ যদি ভালো কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার করে এবং আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে অবশ্যই সাহায্য করেন।

৬. আল্লাহর নিকট খাঁটি অন্তরে তওবা করা এবং পাপকর্ম পরিত্যাগ করা। কারণ পাপের সাথে জড়িত থাকার ফলে অন্তরে প্রলেপ পড়ে যায়। তখন সে ধীরে ধীরে আল্লাহর রাস্তা থেকে দূরে সরে যায়। সে আর আগের মত ইবাদতে সাধ অনুভব করে না। যার কারণে অন্তরে ইবাদতে আড়ষ্টতা, অবহেলা ভাব ও অলসতা অনুভব করে।

৭. সালাতে বিলম্ব হলে নিজেকে ধিক্কার দিন এবং ভবিষ্যতে যেন আর এমনটি না হয় সে জন্য মনকে প্রস্তুত করুন।

৮. সবসময় ওযু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করুন। ওযু ভেঙ্গে গেলে পূনরায় ওযু করে নিন। তাহলে এটি সময় হওয়ার সাথে সাথে সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।

৯. আপনার দৈনন্দিন কিছু কাজ নামাযের উপর ভিত্তি করে সাজিয়ে নিন। যেমন: এ কাজটি নামাযের আগে করবেন আর এ কাজটি নামাযের পরে করবেন...এভাবে।

১০. মনকে সময় মত নামায পড়তে বাধ্য করুন। কারণ আমরা যদি মন মত চলি তাহলে আমরা সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ হবো। তাই মনকে কখনো কখনো কাজে বাধ্য করতে হয়। অর্থাৎ ইচ্ছা না থাকলেও করতে হয়।

সুতরাং আপনি যদি কিছুদিন মনের মধ্যে অলসতাকে প্রশ্রয় না দিয়ে মনকে সঠিক সময়ে সালাত আদায় করতে বাধ্য করেন তাহলে অল্প দিন পরই এর ফলাফল পাওয়া শুরু করবেন। তখন মনের মধ্যে অলসতা আশ্রয় পাবে না ইনশাআল্লাহ।

১১. আরেকটি বিষয় বলব, অনেক মানুষ অজ্ঞতা বশত: পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের আগে-পরে মিলিয়ে এত বেশি পরিমাণ রাকআত সংখ্যায় পড়ে যা হয়ত অনেকের জন্য নামায পড়ার ব্যাপারে মনে বিতৃষ্ণা সৃষ্টি করে। এ কারণে মনের অজান্তে অলসতা ও অবহেলা চলে আসে। যেমন: অনেকে ইশার সালাত পড়ে সতেরো রাকআত! অথচ হাদিসে এত রাকআত পড়ার কথা আসে নি।

সুতরাং কোন ওয়াক্তে কত রাকআত পড়তে হয় সেটা ভালো করে জেনে নিন।

আর এটাও মনে রাখা প্রয়োজন যে, যদি কখনো কোন কারণে নামাযের প্রতি মনে আগ্রহ না থাকে বা অলসতা অনুভব হয় তাহলে কমপক্ষে কেবল ফরযটুকু পড়ে নিন। সুন্নতগুলো বাদ দিন। যদি মাঝে মধ্যে সুন্নত নামাযগুলো ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে গুনাহ হবে না। তবে সুন্নত নামায ছাড়াকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা উচিৎ নয়।

১২. যে বিষয়গুলো অলসতা তৈরি করে সেগুলো থেকে দূরে থাকুন। বর্তমানে অলস সময়গুলোর সঙ্গী হয়ে থাকে সোশ্যাল মিডিয়া, স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ বা টেলিভিশন। এসব থেকে কিছু সময়ের জন্য হলেও দূরে থাকতে হবে। তাহলে কাজে মন বসবে, ইবাদতে আগ্রহ সৃষ্টি হবে এবং অলসতাও হার মানবে।

১৩. অতিরিক্ত ঘুম ও খাওয়া মনকে অলস এবং শরীরকে স্থূল করে দেয়। সুতরাং এ দুটি বিষয় যেন অতিরিক্ত না হয় সে দিকে সতর্ক হতে হবে। বরং পরিমিত খাওয়া ও পরিমিত ঘুম, হালকা ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস মানুষকে সচল রাখে এবং অলসতা ও স্থবিরতা দুর করে।

♦পরিশেষে কবির ভাষায় বলব,

"অলস অবোধ যারা
কিছুই পারে না তারা
তোমায় তো দেখি নাকো
তাদের আকার।"
অলসতা যেমন আমাদের পার্থিব জীবনে সাফল্য ও উন্নতির পথে বাধা তেমনি আখিরাতের মুক্তির জন্য বিরাট প্রতিবন্ধক।
সুতরাং অন্তরে প্রাণ চাঞ্চল্য বজায় রাখুন। অলসতাকে না বলুন এবং সময়ের কাজ সময়ে করুন। তাহলে ইনশাআল্লাহ এক দিকে যেমন দুনিয়ায় সুখী জীবন অর্জন করা সম্ভব হবে অন্যদিকে আল্লাহ চাইলে আখিরাতেও অর্জন করা সম্ভব হবে অনন্ত সুখ-সমৃদ্ধ চিরসুখের নীড় জান্নাত। আল্লাহ কবুল করুন। আমীন

12/06/2025

এরা কখনো সমাজে মাথা উঁচু করে দাড়াতে ও কথা বলতে পারবে না: মুফতি আব্দুস সালাম চাটগামী (রহ.)
❝চল্লিশ বছরে আমি কখনোই হিন্দুস্থান ও পাকিস্তানে চামড়া কালেকশন এর অপমানজনক পদ্ধতি দেখিনি❞
❝.. কুরবানির মৌসুমেও পশুর চামড়া গ্রহণের যে পদ্ধতি এখানে চালু রয়েছে, সেটিও অত্যন্ত অপমানজনক বলে মনে করি। পাকিস্তান ও হিন্দুস্থানে এই চামড়া গ্রহণ কীভাবে হয়ে থাকে তা আমি পূর্বে কোনো এক সময় বলেছিলাম। আমি জানি না দেওবন্দি ধারার প্রতিষ্ঠান হয়েও আমাদের দেশের নীতিনির্ধারকরা কীভাবে এরকম অপমানজনক পদ্ধতি প্রবর্তন করলেন।.. বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেখবেন, ছাত্ররা নানাধরনের নিম্নরুচির খেদমত আনজাম দেওয়ার কারণে হীনম্মন্যতার শিকার হয়ে থাকেন। শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই কথা। মাদরাসার প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফাসিক, এবং স্পষ্ট কবিরা গুনাহে লিপ্ত মানুষদের থেকে তোষামোদের মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের কারণে তলাবায়ে কেরাম সমাজে হীনম্মন্য হয়ে চলাফেরা করেন।
আপনি যদি আদর্শ প্রতিষ্ঠানের প্রধান এই দুই স্তম্ভকে (ছাত্র - শিক্ষক) নিজেদের কাছে হীনম্মন্য করে দেন, তাহলে তারা কখনোই সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে ও কথা বলতে পারবে না। ঠিক এই চিত্রটিই আমি গত ২০ বছর ধরে আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে দেখে আসছি, যা গত চল্লিশ বছরে আমি কখনোই হিন্দুস্থান ও পাকিস্তানে লক্ষ করিনি।❞
আত্মজীবনী, মুফতি আব্দুস সালাম চাটগামী (রহ.), সাবেক প্রধান মুফতী, হাটহাজারী মাদরাসা

আনোয়ার আব্দুল্লাহ সাহেবের টাইমলাইন থেকে কপি করা।

27/05/2025

মা তার মৃত‌ সন্তান‌দের একটু মুখও দেখতে পারেননি। কারণ সবগু‌লো সন্তান আ/গু‌নে পু‌/ড়ে কঙ্কাল হ‌য়ে গি‌য়ে‌ছিল। তার সাম‌নে ছিল এক সা‌রি লা‌/শে/র প‌্যা‌কেট। অথচ সকা‌লেই তি‌নি ও‌দের‌কে সুস্থ রে‌খে ঘ‌র থে‌কে বে‌রি‌য়ে‌ছি‌লেন। গে‌ছেন অন‌্য কা‌জে নয়, নিজ সন্তা‌নের মত আহত ও অসুস্থ শিশু‌দের সেবা করতে। ‌

ঘ‌রে ব‌াবুগু‌লো ডাক্তার বাবা-মা‌য়ের ফেরার অ‌পেক্ষায় ছিল। পড়া‌লেখা খেলাধুলায় তারা মে‌তে ছিল। বি‌কে‌লে বাবা ওবা‌ড়ি ফির‌বেন। তা‌দের আদর সোহা‌গে ভ‌রে দি‌বেন, যেভা‌বে প্রতি‌দিন ক‌রে থাকন। কিন্তু আজ তা‌দের প্রতি‌তি‌নের মত ছিল না। ডাক্তার বাবা হামদী নাজ্জার বা‌ড়ি‌তে পৌঁছ‌তেই বর্বর পৈচা‌শিক হামলা। ঘর ছাদসহ ভে‌ঙে প‌ড়ে মাথার ওপর। দাউ দাউ ক‌রে আ/গু/ন ঘি‌রে নেয় তা‌দের। সাতজনই ঘরসুদ্ধ পু‌/ড়ে ছাই। দুজন দেয়া‌লের নিচে চাপা প‌ড়ে আছে। মা তখ‌নো হাসপাতা‌লে শিশু‌দের চি‌কিৎসায় ব‌্যস্ত। এরই মা‌ঝে আনা হয় তার সন্তান‌দের লা‌/শে/র প‌্যা‌কেট। যা তি‌নি ভাব‌তেই পা‌রেন‌নি!

আশ্চর্য ব‌্যাপার কি জা‌নেন, পু‌/ড়ে কঙ্কাল হয়ে যাওয়ার কার‌ণে কেউ লা/শ চি‌ন্হিত কর‌তে পার‌ছিল না। কিন্তু মা ঘ্রান শুঁকে শু‌ঁ‌কে প্রত্যেকের নাম ব‌লে দিলেন। কী মরমী মমতাসয়ী অন্তপ্রাণ মা! কী সন্তান সোহা‌গিনী মা!
আহ, এ মা‌য়ের কত কষ্ট বু‌কে! মাত্র বার বছ‌রে নয় সন্তান প্রসব ক‌রেছেন তি‌নি। একেক সন্তান‌কে গ‌র্ভে ধারণ ও প্রসব করণ কত যে ক‌ষ্টের- মা ও তার ম‌নিব ছাড়া আর কেউ বু‌ঝে না। তথা‌পি তি‌নি ঘন ঘন এ সন্তান ধারণ ক‌রে‌ছেন। ‌পে‌টে সন্তান, পী‌ঠে দা‌য়িত্ব, ঘ‌রে কাজ, বাইরে সেবা- সব নি‌য়েও এতগু‌লি সন্তান ধার‌ণ ক‌রে‌ছেন নবী‌জির গর্বের মুকুট উঁচু করার জ‌ন্যে। কারণ, নবী‌জি অ‌ধিক সন্তান নিতে আদেশ ক‌রে‌ছেন, যেন তাঁর উম্মাত সংখ‌্যা বে‌শি হয়।
তাঁর এক‌টিই আশা- এরা হা‌ফেজ হ‌বে, আলেম হ‌বে, জ্ঞানী ও শি‌ক্ষিত হ‌বে। দী‌নের অনুসারী ও নবী‌জির সাচ্চা উম্মতী হ‌বে। আর হ‌বে আকসার সেই মুজা‌হিদ, যারা দখলদার‌দের তা‌ড়ি‌য়ে ফির‌বে জা‌যিরাতুল আর‌বের বাইরে! ইতিম‌ধ্যে এক‌টি শিশু হেফজ সম্পন্ন ক‌রে পাগ‌ড়ি নি‌য়ে‌ছে। অ‌ন‌্যগুলিও কুরআন দী‌নিয়াত পড়া আরম্ভ ক‌রে‌ দি‌য়েছে। কিন্তু নিষ্ঠুর এক দানবীয় হাত সবগু‌লো ফুলক‌লি দ‌লিত ম‌থিত ক‌রে দিয়ে‌ছে।

‌তি‌নি কোনো সাধারণ মা নন। তি‌নি এক অসাধারণ মা। অ‌তিপ্রাকৃ‌তিক মা। ‌যি‌নি মাত্র ১৩ বছ‌রে দশ দশটি সন্তান জন্ম দিয়ে‌ছেন। আবার নয়‌টি সন্তান এক‌ত্রে হা‌রিয়ে‌ছেন। এসব হা‌রি‌য়েও তিনি ধৈ‌র্যের হিমালয়। আল্লাহর অসন্তু‌ষ্টিমূলক এক‌টি শব্দও নেই তার মু‌খে। ‌‌নেই হতাশা কো‌নো ছাপ।

তি‌নি এক ম‌হিয়সী মা! যু‌গের উম্মে তালহা আনসারীয়া, যি‌নি আল্লাহর সন্তু‌ষ্টি ও স্বামীর তুষ্টির জ‌ন্যে ক‌লিজার টুকরার মৃত‌্যুসংবাদ গি‌লে‌ ফে‌লেছি‌লেন। কিংবা তি‌নি ‌সেই হযরত খানসা, যি‌নি চার সন্তান শহীদ হওয়ার সংবাদ শু‌নে আন‌ন্দে নে‌চে ছি‌লেন। ইতিহা‌সে শত্রুর আক্রম‌ণে ৯সন্তান হা‌রিয়ে অ‌বিচল থাকা প্রথম মা তি‌নি!

আলা নাজ্জার। স‌ত্যি একজন অসাধারণ মা। একজন পর্দাবতী মা। ঠিক আমা‌দের দে‌শের রক্ষণশীল আলিম‌দের স্ত্রী-কন‌্যাদের মত। হা‌তে মোজা মুখ নেকা‌বে ঢাকা। এত সন্তান হারা‌নোর প‌রে তি‌নি পর্দা অনাবৃত হন‌নি। এ যেন আরেক উম্মে খাল্লাদ, যি‌নি ব‌লে‌ছি‌লেন - “আমি সন্তান হা‌রি‌য়ে‌ছি, তাই ব‌লে কি লজ্জা হারাব না‌কি?”
হাঁ, আমা‌দের বোন আলা নাজ্জার যেন সে কথাই বল‌ছেন। আরও বল‌ছেন, “সন্তান হা‌রিয়ে‌ছি ব‌লে আমি আমার রব‌কে হারাব না‌কি?” : “বা‌ড়ি হা‌রিয়ে‌ছি, তাই ব‌লে জান্নাত হারাব না‌কি?” “দু‌নিয়ায় সন্তান ও সম্পদ হা‌রিয়ে‌ছি, তাই ব‌লে আখেরা‌তের নে‌কি হারাব না‌কি?”
বস্তুত, মুুমিন তো দু‌নিয়ার সব হারা‌লেও ‌কো‌নোভা‌বেই আখিরাত হাতছাড়া ক‌রে না! বোন‌টি আমা‌দের কত কথাই যেন বল‌লেন। কিন্তু মু‌খে তি‌নি কোনো কথাই বল‌লেন না।

এ বো‌নের স্বামী হামদী নাজ্জার এখ‌নো আইসিও‌তে। একমাত্র বেঁ‌চে যাওয়া সন্তান আদ‌ম নাজ্জা‌রের শরীরও থেত‌লে গে‌ছে।

দুআ ক‌রি, এবং পরম আকু‌তি নি‌য়ে দুআ ক‌রি- হে পরওয়ার‌দেগার, বাবু আদম‌কে তু‌মি বাঁ‌চি‌য়ে রাখ। তা‌কে পূর্ণ সুস্থ ক‌রে তোল! তার ঔরষ থে‌কে এত এত সুসন্তান দাও, যারা এ জনপদ‌কে আবাদ ক‌রে তুল‌বে, যেভা‌বে বাবা আদম‌কে দি‌য়ে তু‌মি দু‌নিয়া আবাদ ক‌রেছ। আদম ও তার সন্তা‌নেরা যেন শত্রু‌দের‌কে আটলা‌ন্টি‌কের কেনারা পর্যন্ত তাড়া কর‌তে পা‌রে, কিংবা জাহান্না‌মের গর্ত পর্যন্ত!
আমীন! ইয়া রব্বাল আলামীন!

~লেখা-সাইফুদ্দীন গাজী

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address


41 Lake Circus, Kalabagan, Dhanmondi
Dhaka