AOA Varieties Media
হাসবুনাল্লাহ ওয়া নেমাল ওয়াকিল।
17/05/2025
৫০ বছর আগে জন্মাইলে বড় বাচাঁ বেচেঁ যাইতাম। গ্রামে থাকতাম, পুকুরে নেমে ডুব দিয়ে গোফের উপর কাদার লেয়ার ফেলতাম।
স্কুলে যাওয়ার বদলে নারকেল চুরি করতাম, কলাগাছের কলা চুরি করতাম। কাদার ভেতর লুটোপুটি করতাম।
পরের দিন স্কুলে গিয়ে স্কুলে না আসার কারনে স্যারের ঠেংগানী খাইতাম।
এরপর স্কুলে যাওয়াই বন্ধ করে দিতাম।
বাপের সাথে মাঠে যাইতাম, ধান লাগাইতাম। পাট লাগাইতাম, মাছ ধরতাম জাল দিয়ে। নদীতে নেমে আচ্ছা মত ডুবাইতাম।
২০-২২ বছর বয়সে বিয়ে করতাম।
ঘর হইত মাটির। বৃস্টি হইলে চুয়ে চুয়ে পানি পড়তো খড়ের চাল দিয়ে, চালে উঠে সেটা ঠিক করতাম।
সকাল হইলে পান্তা ভাত দেখে বউরে খানিক্ষন ঝাড়তাম।
এরপর না খেয়েই মাঠে জাইতাম,
কাদায় নেমে কাজ করতাম।
পাশের বাড়ির ভাবি এসে বউকে বুদ্ধি দিত,
তোমার জামাইডা ভালো না, খালি চিল্লায়।
বউ উত্তর দিতো, ব্যাটা মানুষ এক্টু এমুন হয়ই।
এমনে মানুষটা বালা আছে।
নারকেলের মত, বাইরে শক্ত, ভেতরে টলটলা পানি।
এরপর দুপুরে বাসায় এসে ঠিক ই দেখতাম খাওন রেডি।
প্লেট ভর্তি ভাত আর খেতের সব্জি সাথে নিজের ধরে আনা মাছ। আর মুর্গির ডিম।
সপ্তাহে এক দিন মুর্গির মাংস।
সাপ্তাহিক হাটে গিয়ে হাট করতাম।
দুই আনা দাম কমানোর জন্য হেব্বি মুলামুলি করতাম।
বউ এর জন্য লাল ফিতা আর প্লাস্তিকের লাল চুরি আইনা দিতাম।
সেই রাতে বউ খুশিতে বাক বাকুম করতো।
টেনশান নাই,রোগ বালাই হইলে কবিরাজের অসুধ খাইতাম।
মাঠে কাজ করে পায়ে ইনফেকশান হয়ে গেলে তুতে লাগাইতাম শিশি থেকে।
লাইফ ক্যারিয়ার সাক্সেস, পিজ্জা বার্গার, আইফোন,
ম্যাকবুক, ফেসবুক, ড্রোন,
মাসের বাসা ভাড়া, গাড়ি ,বাইক,
পশ লাইফ, কিসু নিয়ে কোন চিন্তা নাই।
গার্ল ফ্রেন্ড এর বাপ স্টাব্লিশড না হইলে বিয়ে দিবেনা সেই চিন্তা নেই।
গাড়ি বাড়ির চিন্তা নেই।
কোথাও বুশ গিয়া কই বু*ম ফুডাইসে কে কারে এটাক দিসে , দুনিয়া নিয়া চিন্তা নাই, কে ভাইরাল হইলো নাকি কারেন্ট ইস্যু কি , এসব ভাবার টাইম নাই। সন্ধার পরেই ঘুম।
বাসা ভাড়া দেয়ার পেরা নাই।
বাবা মা ছেড়ে দুরে একলা থাকা নেই।
চিন্তা নেই, কাজ করো খাও ঘুমাও, আর বছর বছর বাচ্চা পয়দা করো, হার্ট এটাক, হার্টে ব্লক, অফিসের প্যারা, বসের ঝাড়ি,
এসব নেই।
16/05/2025
পরিচিত যারাই মাসনা করেছেন, বেশিরভাগেরই অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। দেখা গেছে, একটুখানি বাড়তি সুখের আশায় দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন, কিন্তু এখন আগের সেই সুখটুকুও আর নেই! মানে লাভ ও মূলধন দুটোই খোয়া গেছে। দুইদিকের প্রেশারে জীবনের ত্রাহিত্রাহি অবস্থা!
এক মাওলানার কথা বলছি। কওমি মাদরাসার মুহাদ্দিস তিনি। আলাপচারিতার ফাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আওলাদ কতজন? বললেন, কোনো আওলাদ নেই। আর আওলাদের বাবা হবার সম্ভাবনাও খুব একটা নেই। বললাম, কেন? বললেন, স্ত্রীর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আছে, যা তাকে মা হতে দিচ্ছে না। বললাম, তাহলে তো আপনার আরেক বিয়ে করা দরকার। বললেন, থাক; এখন যতটুকু মানসিক শান্তিতে আছি, তখন সেই শান্তিটুকুও আর থাকবে না!
ঘনিষ্ঠ আরেক মাওলানার ব্যাপারে জানি। ঢাকার এক অভিজাত এলাকার একজন ডিভোর্সি নারী থেকে মাসনার প্রস্তাব পেলেন। ওই নারী শিক্ষিত, স্বাবলম্বী, প্রতিষ্ঠিত; ঢাকায় নিজস্ব বাড়ি আছে; লাভ মেরেজ করেছিলেন। কিন্তু বেশিদিন বিয়েটা টেকেনি; ডিভোর্স হয়ে গেছে। বাচ্চাকাচ্চাও নেই। দীর্ঘ কয়েকটা বছর ওভাবেই কাটিয়ে দিয়েছেন। বয়েস তিরিশ পার হয়ে গেছে অনেক আগেই। চিন্তা করলেন, এভাবে স্বামী ও সন্তানহীনা কতদিন থাকবেন! এভাবে তো জীবনটা শেষ করে দেওয়া যায় না। চরিত্র হেফাজতের জন্যে, ভরসা করার জন্যে, ভবিষ্যতের দেখভালের জন্যেও তো একজন স্বামী দরকার, বাচ্চা দরকার। তাই সিদ্ধান্ত নিলেন একজন আলেমের স্ত্রী হয়ে সন্তান ধারণ করবেন। কিন্তু স্বামীর কোনো দায়িত্ব নিতে হবে না। ভরণপোষণ ও বাসস্থান কিছুই লাগবে না। যেহেতু তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠিত। মসজিদের ইমামের মাধ্যমে প্রস্তাবটা পেলেন ওই আলেম। বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে পুরো ব্যাপারটা বোঝালেন। কিন্তু হিতে বিপরীত ঘটল। স্ত্রী উনার সাথে কথাই বন্ধ করে দিলো! সুযোগ হাতের মুঠোয় পেয়েও উনার আর মাসনা করা হলো না। এখন ওই আলেম আফসোস করে বলেন, হুদাই তার স্ত্রী সাথে এতদিনের চলে আসা ভালোবাসা ও সম্পর্কটা নষ্ট করে ফেলেছেন!
সতীনকে ঘরে তোলা লাগবে না। একই ছাদের নিচে তাকে স্বামীর ভাগ দেওয়া লাগবে না, স্বামীকে ভরণপোষণ দেওয়া লাগবে না, স্বামী আগে যেমন নিজের ছিল, এখনও সেভাবেই থাকবে, স্বামীর আয়-রোজগার সবই আগের মতোই নিজের পরিবারেই খরচ হবে; দ্বিতীয় বউয়ের পেছনে খরচ হবে না, শুধুমাত্র হালালভাবে স্বামী কিছুটা সময় আরেকজনকে দেবে, এই এতটকুও মেনে নিতে পারেনি ওই আলেমের স্ত্রী! কী ডেঞ্জারাস এই জাতি, একটু উপলব্ধি করুন!
শিক্ষিত, স্বাবলম্বী ও প্রতিষ্ঠিত ডিভোর্সি কিংবা বিধবা- এমন নারীর সংখ্যা এদেশে মোটেও কম নয়। শুধু ঢাকাতেই হিসেব করলে অন্ততপক্ষে একলাখ হবে। এই নারীদের মধ্যে প্র্যাকটিসিং অনেকেই এমন আছেন, যাদের দুনিয়াতে সবকিছুই আছে; শুধু হালালভাবে জীবনযাপন করার জন্য একজন দ্বীনদার সচ্চরিত্রবান স্বামী নেই। এই নারীরা চাইলেও তাদের প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পুরুষকে পায় না। শুধুমাত্র পুরুষের প্রথমা স্ত্রীর সংকীর্ণ মন-মানসিকতার কারণে!
বঙ্গদেশে মাসনা করা একপ্রকার অভিশাপ। আপনি হয়তো মাসনা করবেন চরিত্র হেফাজত করার জন্যে, কিন্তু স্ত্রী, সন্তান থেকে নিয়ে সম্পর্কিত সব লোকে ভাববে আপনি লুচ্চা! লুচ্চা না হলে কি আর ঘরে বউ থুইয়া আরেক বিয়া করতেন! কিন্তু ঘরে বউ রেখেও যে অনেক পুরুষ চরিত্র ঠিক রাখতে পারে না- এই ফিলোসোফি এদের অজানা!
মাসনা করার আগে নিজে সেই যোগ্যতা অর্জন করুন; স্ত্রীর, পরিবারের, সমাজের, দেশের মাইন্ড সেটাপ করুন। তারপর মাসনা করুন। তবেই একটুখানি শান্তি পেতে পারেন। নইলে পরকালের জাহান্নামের আগে দুনিয়াতেই জাহান্নামের সাক্ষাৎ অনিবার্য। (সংগ্রহীত)
বিমান হামলায় সুবিধা করতে পারে নাই, ৫টা প্লেন হারাইছে ভারত।
প্রথম হামলায় বেছে বেছে ওরা মসজিদ টার্গেট করেছিলো।
এবার ওরা ড্রোন হামলা করে পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম নষ্ট করে দিতে চেয়েছিলো,
বাধ সেধেছে তুরস্কের দেওয়া কোরাল জ্যামার সিস্টেম।
পাকিস্তান ভূপাতিত করেছে ভারতকে ইসরায়েলের দেওয়া ২৫টা ড্রোন।
কাল রাতে পাকিস্তানও ভারতের একাধিক জায়গায় মর্টার হামলা করেছে এমন খবর এসেছে।
যুদ্ধ যেহেতু লেগেই গেছে, এই যুদ্ধে আমি কোনোপ্রকার যদি-কিন্তু ছাড়া পাকিস্তানের পক্ষে।
ভারত হচ্ছে সেই রাষ্ট্র যে মসজিদ টার্গেট করে হামলা করেছে,
যে ওয়াকফ আইন করে মুসলমানদের ওয়াকফ সম্পত্তিগুলি হাতিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করেছে,
যে গুজরাট থেকে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের এনে রাঙামাটির মাটিরাঙা দিয়ে জোর করে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দিয়েছে,
যে সীমান্তের কাঁটাতারে আমার বোন ফেলানীকে ঝুলিয়ে রেখেছে,
যে আমার ভাইদেরকে পাখির মতো নির্বিচারে গু%লি করে হ%ত্যা করেছে,
যে আমার দেশের প্রাপ্য তিস্তার পানিটুকু পর্যন্ত দেয় নি, উত্তরবঙ্গকে শুকিয়ে মরুভূমি বানিয়ে দিয়েছে,
যে বাংলাদেশকে কোনোদিন নিজের ভূখন্ড দিয়ে নেপাল বা ভুটানের সাথে ব্যবসা করতে দেয় নি, কিন্তু নিজে ট্রানজিট সুবিধা নিয়েছে,
যে এই দীর্ঘকাল ফ্যাসিস্ট সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে,
যে আমার দেশে উগ্র হি%ন্দু/ত্ববাদ এবং ইসকনকে পেলে-পুষে বড় করেছে,
যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাশকে তৈরি করে সাইফুল আলিফকে খু/ন করিয়েছে,
যে এনআরসি করে আসামের মুসলমানদেরকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করেছে,
যে বাবরি মসজিদ ভেঙে রামমন্দির বানিয়েছে,
আমি কি সে ভারতের পক্ষ নিবো?
কখনোই না।
যুদ্ধ আমি কোনোদিন চাই না।
যুদ্ধ মানে ক্ষতি।
যুদ্ধ মানে অহেতুক প্রাণহানি।
যুদ্ধ মানে দিনশেষে সাধারণেরই ভোগান্তি।
কিন্তু যুদ্ধ যেহেতু লেগেই গেছে, এই যুদ্ধে আমি কোনোপ্রকার যদি-কিন্তু ছাড়া পাকিস্তানের পক্ষে।
পাকিস্তান প্রসঙ্গ আসলে অনেকে আবার '৭১ টেনে আনে।
ইনিয়ে-বিনিয়ে জাস্টিফাই করে।
কিন্তু আমি মনে করি ৭১ একটা মীমাংসিত বিষয়,
৭১ কে অস্বীকার করে যে রাজনীতি করতে চাইবে, আমি তার সঙ্গে নাই।
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে তার জায়গা হবে না।
ভারতের গোলামির পিঞ্জির ছিন্ন করার পাশাপাশি এদেরকেও ছুঁড়ে ফেলতে হবে।
— মুহিউদ্দিন রাহাত,
যুগ্ম-আহ্বায়ক, স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি
08/05/2025
৭১ এ জিতছেন, কারণ সেসময় ড্রোন ছিলো না, রাফাল কিংবা অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ছিলো না। ক্ষেপণাস্ত্র ছিলোনা, পারমাণবিক ছিলো না।
ট্যাংক ছিলো কিন্তু বন্যা বা বৃষ্টি, কাদা মাটিতে পাকিস্তানিরা এদেশে ট্যাংক ব্যবহারে সুবিধা করতে পারেনি। তাছাড়া পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের দূরুত্ব ১৪০০ কিমি। ইন্ডিয়ার সহায়তার কথা তো নাই বললাম।
ধরেন, পাকিস্তানে কালকে যে আক্রমণ করলো যদি সেইমটা বাংলাদেশে করতো তাহলে কত হাজার মানুষ মরতো ভেবে দেখেছেন?
আজকাল যুদ্ধ লাগলে কী দিয়ে জিতবেন?
- পার্টি দিয়ে? মুক্তি যুদ্ধের চেতনা দিয়ে?
- মার্চ টু দিল্লি দিয়ে?
- ফেসবুক যোদ্ধা দিয়ে? স্কুল ,কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পদধারী সভাপতি ও সহসভাপতি দিয়ে? চাটাচাটি দিয়ে?
- দশটা হুনডা, দশটা গুন্ডা দিয়ে?
- নির্বাচন দিয়ে?
স্বাধীনতার ৫৪ বছরে দেশকে শক্তিশালী করার বহুত সময় পেয়েছিলেন, না পারলেন স্বাধীনতা রক্ষা করতে! না পারলেন দেশকে শক্তিশালী করতে! না পারলেন দুর্নীতি বন্ধ করতে!
গতরাতে ঘুমাতে পারিনি শুধু চিন্তা করেছি এমন হামলা যদি আমার দেশে হয় তাহলে আমরা করবোটা কি!!!
আমরা যুদ্ধ চাইনা তবে শক্তিশালী হতে চাই, যেন কেউ হুমকি ধামকি দেয়ার আগে কয়েকবার ভাবে এবং চিন্তা করে।
দয়া করে সবচেয়ে বড় বাজেটটা সশস্ত্রবাহিনীকে দেন।
উন্নত প্রযুক্তিতে ঢুকেন। ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কাজে লাগান। আল্লাহর ওয়াস্তে দুর্নীতি আর নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি বন্ধ করে দেশের নিরাপত্তা আর ভবিষ্যত নিয়ে ভাবেন।
07/05/2025
না আছে আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, না আছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, না আছে পরমাণু অস্ত্র! নেই বলতে কিছুই নেই।
☞ তবে আমাদের আছে, ৫০টির বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, যাদের কাজ রাজনৈতিক দলের গোলামী করা! আর ক্যাম্পাসে নাচানাচি করা!
☞ আমাদের আছে, ৭১-এর হে* ভরা চেতনা, আর স্বজন হারানোর বেদনা!
☞ আমাদের আছে জনমদুঃখিনী মা, আর পিতৃহারা আপা।
☞ আমাদের আছে 'নির্বাচন-নির্বাচন', 'উন্নয়ন-উন্নয়ন'!
☞ আমাদের আছে চারুকলা, যাদের কাজ হচ্ছে হুতুমপেঁচা তৈরী করা।
☞ হে* ভরা আবেগ তো আছেই!
17/04/2025
জ্বী, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালীর পরিবার দাবি করেও উনার পরিবারের কেউ নাকি বাঙালিই বিয়ে করেন নি?
বাঙালি জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার একমাত্র ধারক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ইত্যাদি বলে বলে চেতনা ব্যবসা করার পর। এখন বলতেছে - "আমি বাংলাদেশী না।"
27/05/2024
পাত্রটির নাম চিলম্চি। নামটি এবং বস্তুটি তুর্কিরা প্রথম এদেশ প্রচলন করেন। সবাই জানেন,শুধু এই প্রজন্ম ছাড়া,এটি হাত-মুখ ধোয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়।
একটি সময় দেখেছি, বাড়িতে কোনো মেহমান আসলে খাওয়াদাওয়ার পর্বে এটি অতি প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছিল, এর অভাবে মানসম্মান নিয়ে টানাপোড়েন ঘটতো! চিলম্চি সবার বাড়িতেই যে থাকতো তা-ও নয়, নিজেদের না থাকলে যাদের ছিল তাদের বাড়ি থেকে গোপনে আনিয়ে রাখা হতো, হাজার হোক মানসম্মান টানাটানি বলে কথা!
ছোটোবেলায় পিতল নির্মিত চিলম্চি দেখেছি, তারপর এ্যালুমিনিয়ামের তৈরি চিলম্চি বাজার দখল করে। গ্রামের মানুষ এ্যালুমিনিয়াম বলতো না, তাঁরা বলতেন 'সিলভার'। দেখতে রুপার মতো, তাই সিলভার বলতেই পারে। আসলে নামটি ছড়ানোর কাজে ডেক-ডেকচি ফেরি করনেওয়ালারাই দায়ী, তারা গ্রাম-মহল্লার পথে পথে হাঁক মেরে জানান দিত, "রাকবেন্নি সিলভারের ডেক-ডেকচি, কলস লোটা বদনা.....!"
সে প্রসঙ্গের ইতিহাস আজ না হয় থাক্, এখন যা দেখছি মানসম্মান বাঁচানেওয়ালা সেই বস্তুটির দেখা কোথাও পাই না, এটি হয়তো কোনো কোনো বাড়িতে এখনো থাকতে পারে, তবে ব্যবহার হয় না। তবে আমাদের বাড়িতে খুঁজেই পেলাম না ছবি তোলার জন্য, এজন্য ছবিটি সংগ্রহে যেতে হলো। প্রয়োজনীয় জিনিস যখন অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে, তখন কাহাতক ঘরে রেখে যায়গা আটকানোর মানে হয়েনা, তাই হয়তো বাড়ির মেয়েরা ভাঙ্গারিওয়ালার কাছে বেচে দিয়েছে।
(ছবি: সংগৃহীত)
15/10/2023
“ইকড়ি মিকড়ি চাম-চিকড়ি,
চামের কাঁটা মজুমদার,
ধেয়ে এল দামোদর।
দামোদরের হাঁড়ি-কুঁড়ি,
দাওয়ায় বসে চাল কাঁড়ি।
চাল কাঁড়তে হল বেলা,
ভাত খাওগে দুপুরবেলা।
ভাতে পড়ল মাছি,
কোদাল দিয়ে চাঁছি।
কোদাল হল ভোঁতা,
খা কামারের মাথা।”
ছোটবেলায় আমরা অনেকেই এই ছড়াটি পড়েছি। কিন্তু কখনো কি ভেবেছি নান্দনিক ছন্দের এই ছড়াটির অর্থ কি? এই ছড়া কোন ইতিহাস বয়ে বেড়ায় কিনা?
এই প্রশ্ন করলে হয়তো এই উত্তরই আসবে যে শিশুদের নির্ভেজাল আনন্দের জন্য এই ছড়ার রচনা হয়েছে। কিন্তু সত্যটা বেশ করুণ। আদতে আনন্দের ছিঁটেফোঁটাও নেই এই ছড়ায়, শিশুদের জন্য তো না বটেই।
মূলত এই ছড়ায় ছড়াকার অসাধারণ দক্ষতার সাথে চিরন্তন বাংলার সাধারণ মানুষের দুঃসহ আর্থ-সামাজিক অবস্থা তুলে ধরেছেন। চলুন এবার ছড়াটির প্রতিটি শব্দ ও পংক্তি ধরে বিশ্লেষণ করে দেখি।
'ইকড়ি' অর্থ সংসার পরিপালনের জন্য সারাদিন খেটেখুটে কঠোর পরিশ্রম করা। কিন্তু তাতেও যখন সংসার চলে না, তখন প্রয়োজন হয় 'মিকড়ি', অর্থাৎ আরও কিছু অতিরিক্ত উপার্জনের চেষ্টা করা। 'চাম' অর্থ রুজি-রোজগারের এলাকা। আর 'চিকড়ি' অর্থ সেই রোজগারের এলাকায় ঘুরে ঘুরে কিছু (অর্থ বা ফসল) উপার্জন করে তা ঘরে নিয়ে আসা।
কিন্তু সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় এই "চামের কাঁটা মজুমদার"। 'মজুমদার' মূলত এক প্রকার রাজকর্মচারীর পদবী যার কাজ ছিল খাজনা বা রাজস্ব আদায় ও হিসেব রাখা। আর তাই অনেক সময় খাজনা আদায়ের নামে দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে যেত বলে তাকে পথের কাঁটা বলা হয়েছে।
আর অতঃপর "ধেয়ে এল দামোদর"। এই 'দামোদর' হলো মূলত ফড়ে-পাইকারের দল, যারা সাধারণ কৃষকের উৎপাদিত ফসল অথবা কুমারের বানানো তৈজসপত্র স্বল্প দামে কিনে নিয়ে বাজারে চড়া দামে বিক্রি করতো।
কিন্তু এই দামোদর শুধু এসেই ক্ষান্ত হয় না। এখানে বলা হয়েছে "দামোদরের হাঁড়ি-কুঁড়ি"। এর অর্থ হলো, তারা যখন আসে তখন সাথে করে হাঁড়ি কুঁড়ি নিয়ে আসে। অর্থাৎ খেটে খাওয়া মানুষের উৎপাদিত সব দ্রব্য সাথে করে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আসে।
এরপর বলা হয়েছে "দাওয়ায় বসে চাল কাঁড়ি", অর্থাৎ মজুমদার আর ফড়ে পাইকারের থেকে লুকিয়ে যেটুকু চাল বাঁচানো গিয়েছে, এবার সেটা দিয়েই ঘরের দরজায় বসে ভাত রাঁধার প্রস্তুতি শুরু।
কিন্তু "চাল কাঁড়তে হল বেলা", অর্থাৎ এতসব ঝামেলা ঝক্কি সামলাতে সামলাতে ভাত রাঁধায় দেরী হয়ে যায়। তাই "ভাত খাওগে দুপুরবেলা", অর্থাৎ প্রথম প্রহরে বা সকালে খাওয়া আর সম্ভব হয় না। একেবারে দ্বিপ্রহরে বা দুপুরে খেতে হয়।
কিন্তু খাবে কী করে! কারণ "ভাতে পড়ল মাছি"। এখানে 'মাছি' বলতে আসলে চোরকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ গরীবের যে যৎসামান্য খাদ্য, তারও শেষ রক্ষা হয় না। ছিঁচকে চোর সেটাও চুরি করে নিয়ে যায়। তাই "কোদাল দিয়ে চাঁছি"। এই 'কোদাল'ও আক্ষরিক অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। বরং কোদাল বলতে এখানে কোতোয়াল বা পুলিশের কথা বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ পুলিশের কাছে গিয়ে চোরের ব্যাপারে নালিশ করা হয়েছে।
তবে তাতেও যে গরীব মানুষের হয়রানি কম হয়, তা কিন্তু নয়। কারণ "কোদাল হল ভোঁতা"। অর্থাৎ পুলিশ বা কোতোয়াল কোন কাজই করে না। আর তাই "খা কামারের মাথা"। অর্থাৎ এই কোদাল যে কামার বানিয়েছে, মানে পুলিশ কোতোয়াল সৃষ্টিকারী গ্রামের উচ্চপর্যায়ের লোকেরা, শেষমেশ তাদের কাছে গিয়েই এই হতদরিদ্র মানুষ গুলোর মাথা কুটে কাঁদতে হয়।
সুতরাং এক কথা বললে, এই ছড়ায় ছড়াকার গ্রাম বাংলার সেই খেটে খাওয়া মানুষের জীবনবৃত্তান্ত তুলে ধরেছেন যে কিনা কঠোর পরিশ্রম করেও জমিদার, খাজনা আদায়কারী, অসাধু ব্যবসায়ী, চোর, পুলিশ এদের উপদ্রবে নিজের পরিবারের জন্য দু' বেলার খাবারও জোটাতে পারে না।
তথ্যসূত্রঃ
১। কলিম খান ও রবি চক্রবর্তী, "বঙ্গীয় শব্দার্থকোষ", ভাষাবিন্যাস
২। ড. মোহাম্মদ আমিন, "ইকড়ি মিকড়ি : অসাধারণ অর্থপূর্ণ একটি ছড়া", ব্লগ পোস্ট।
Copy post.
30/09/2023
বউ নিয়ে মসজিদে বিয়ে করে,পরের দিন বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে বউ নিয়ে নাচলাম। এর ইংলিশ অনুবাদ কী হবে❓
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Website
Address
Dhaka
1000
