WoW Beauty

WoW Beauty

Share

Beauty is Power

22/09/2025

সৌন্দর্য বাড়াতে বোটক্স করা কতটা ভালো

সৌন্দর্য ও তারুণ্য ধরে রাখতে এ দেশেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বোটক্স। মুখে বয়সের ছাপ কমিয়ে, মসৃণ ও প্রাণবন্ত চেহারা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই চিকিত্সাপদ্ধতি। বোটক্স শব্দটি এসেছে বটুলিনাম টক্সিন থেকে। এটি একধরনের প্রোটিন, যা ক্লস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম নামক ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি হয়।

বোটক্স প্রয়োগ করা হয় ইনজেকশনের মাধ্যমে। এটি বলিরেখা ছাড়াও অন্যান্য সূক্ষ্ম রেখা কমাতে সাহায্য করে। যে কারণে ত্বক দেখায় আরও তরুণ। এটি একটি নন-সার্জিক্যাল কসমেটিক পদ্ধতি, যা মুখের বিভিন্ন অংশে প্রয়োগ করা হয়। এর মধ্যে আছে কপাল, চোখের চারপাশ ও ঠোঁটের আশপাশ। যদিও এটি একটি বিষাক্ত পদার্থ, কিন্তু নিয়ন্ত্রিত ও সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করা হলে এটি নিরাপদ ও উপকারী।

বোটক্স যেভাবে কাজ করে
আমাদের মুখের বিভিন্ন অভিব্যক্তি, যেমন হাসি, রাগ বা চিন্তার ফলে মাসল সংকোচন হয়। বারবার এ সংকোচনের ফলে ত্বকে ভাঁজ বা বলিরেখা পড়ে। বোটক্স ইনজেকশন মাংসপেশির ওই সংকোচনপ্রক্রিয়াকে সাময়িকভাবে শিথিল করে দেয়। এটি স্নায়ু ও মাসলের সংযোগস্থলে অ্যাসিটাইলকোলিন নামে একধরনের রিসিপ্টরকে ব্লক করে, ফলে স্নায়ু থেকে মাসলে সংকোচনের সংকেত পৌঁছায় না। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মাসল শিথিল থাকে আর ওই জায়গার বলিরেখা কমে যায় বা সম্পূর্ণ মিলিয়ে যায়। ত্বক দেখায় মসৃণ।

সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বোটক্স
১. কপালে বলিরেখা দূর করে।
২. চোখের পাশের কুঁচকে যাওয়া বা ক্রস ফিট কমায়।
৩. ভ্রুর মাঝের ভাঁজ কমায়।
৪. ঠোঁটের পাশের রেখা ও চোয়ালের অংশকে সুগঠিত করে।
৫. কিছু ক্ষেত্রে ঘাম কমাতেও সাহায্য করে।

চিকিত্সায় ব্যবহার
- বোটক্স দীর্ঘস্থায়ী মাইগ্রেন কমাতে সাহায্য করে।
- চোখের পাতা ঝুলে যাওয়া বা চোখের পাতার খিঁচুনি কমাতে বোটক্স ব্যবহার করা হয়।
- এ ছাড়া প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা, অতিরিক্ত লালা ঝরার মতো অসুখেও বোটক্স ব্যবহার করা হয়।

প্রভাব ও স্থায়িত্ব
বোটক্স প্রয়োগের প্রভাব সাধারণত তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে দেখা যায়। এটি তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এরপর আবার প্রয়োগ করার প্রয়োজন হতে পারে।

সতর্কতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- যদিও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বোটক্স নিরাপদ, তবু এটি প্রয়োগের পর কিছু সাময়িক
- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। যেমন হালকা ব্যথা, ফোলা ভাব, মাথাব্যথা বা ইনজেকশনের স্থানে - অস্বস্তি। তাই অবশ্যই এটি প্রশিক্ষিত চিকিত্সকের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে করা উচিত।

বয়সের ছাপ লুকিয়ে তারুণ্য ধরে রাখতে বা সৌন্দর্য বাড়াতে বিশ্বজুড়ে বোটক্স এখন একটি জনপ্রিয় ও কার্যকর উপায়। তবে মনে রাখা উচিত, সৌন্দর্য শুধু বাহ্যিক নয়, আত্মবিশ্বাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা সৌন্দর্যের অন্যতম উপাদান।

লেখক: ডা. আফলাতুন আকতার জাহানজুনিয়র কনসালট্যান্ট, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা

21/09/2025

অ্যালোপেসিয়া বা চুল পড়ায় ঘরোয়া সমাধানগুলো জেনে রাখুন

আয়নার সামনে চিরুনি দিয়ে হয়তো আরামসে চুল আঁচড়াচ্ছেন। হঠাৎ খেয়াল করলেন, অতিরিক্ত চুল পড়ছে। কিংবা হয়তো দেখলেন মাথার এক বা একাধিক জায়গার চুল কমে গেছে। ভাবছেন, এমনটা কেন হচ্ছে! বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়া সঠিক কারণটি বলা সম্ভব নয়, তবে এ ধরনের লক্ষণ দেখা দেয় অ্যালোপেসিয়া হলে। চুল পড়ার এই সমস্যার চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। কিনতে হতে পারে দামি কোনো পণ্য। কিন্তু কিছু সহজ আর ঘরোয়াভাবে প্রাকৃতিক প্রতিকারের চেষ্টা আপনি করে দেখতেই পারেন। তবে তার আগে জেনে রাখুন অ্যালোপেসিয়া সম্পর্কে।

অ্যালোপেসিয়া কী
জিনগত, অটোইমিউন ডিজঅর্ডার, হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ বা কিছু ওষুধের প্রভাবে অ্যালোপেসিয়া হতে পারে
জিনগত, অটোইমিউন ডিজঅর্ডার, হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ বা কিছু ওষুধের প্রভাবে অ্যালোপেসিয়া হতে পারেছবি: প্রথম আলো
অ্যালোপেসিয়া এমন এক শারীরিক অবস্থা, যার কারণে মাথার ত্বক বা শরীরের অন্যান্য অংশ থেকে চুল পড়ে যায়। চুল পাতলা হয়ে যাওয়া থেকে পুরোপুরি টাক হয়ে যাওয়ার কারণও হয়ে উঠতে পারে। বেশ কিছু কারণে অ্যালোপেসিয়া হতে পারে। এর মধ্যে জিনগত, অটোইমিউন ডিজঅর্ডার, হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ বা কিছু ওষুধের প্রভাব আছে।

সবচেয়ে পরিচিত কারণ হলো অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া (প্যাটার্ন টাক)। নারী ও পুরুষ—উভয়ের ক্ষেত্রেই এই ধরন দেখা দিতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি পুরুষ প্যাটার্ন টাক আর নারীদের ক্ষেত্রে এটি নারী প্যাটার্ন টাক নামে পরিচিত।

অন্যদিকে অ্যালোপেসিয়া আরিয়াটা বা স্পট বল্ডনেস হলো আরও একটি কারণ, যার ফলে ইমিউন সিস্টেম চুলের ফলিকলকে আক্রমণ করে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় চুলের বৃদ্ধি।
অ্যালোপেসিয়া আমাদের জীবনে হুমকি হয়ে দেখা না দিলেও আত্মবিশ্বাস ও মানসিক সুস্থতার ওপর খুব প্রভাব ফেলতে পারে। অ্যালোপেসিয়ার ধরন আর কারণের ওপর নির্ভর করে এর চিকিৎসা কেমন হবে।

কখন যাবেন চিকিৎসকের কাছে
যদি হঠাৎ করে গোছা গোছা চুল পড়ে, কয়েক সপ্তাহ ধরে অতিরিক্ত চুল পড়ে বা চুল পড়ার সঙ্গে চুলকানি, লালচে ভাব বা ব্যথা থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসক দেখান। পরিবারে এ সমস্যার ইতিহাস, ক্লান্তি, ওজন পরিবর্তনের মতো উপসর্গ বা আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেললে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

অ্যালোপেসিয়ার পর আবার চুল গজায় কি
স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্ন জাগে, অ্যালোপেসিয়ার চিকিৎসা নেওয়ার পর কি চুল আবার গজাবে? এটি নির্ভর করে আদতে কারণ ও ধরনের ওপর। মানসিক চাপ, অসুস্থতা বা কিছু ওষুধের কারণে সাময়িক চুল পড়া ঠিক হয়ে যেতে পারে। তবে অ্যালোপেসিয়া আরিয়াটার মতো অটোইমিউন ডিজিজের ক্ষেত্রে চুল আবার গজাতে পারে, কিন্তু তা অনিশ্চিত এবং চিকিৎসা প্রয়োজন।

অন্যদিকে ক্ষতস্থানযুক্ত অ্যালোপেসিয়ার ক্ষেত্রে চুলের ফলিকল স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, চুল সাধারণত আর গজায় না। তবে প্রাথমিকভাবে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হলে আর উন্নত চিকিৎসা নিতে পারলে চুল ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

চুল পড়া রোধ করার ক্ষেত্রে ঘরোয়া কিছু উপায় অবলম্বন করতে পারেন। ঘরোয়া প্রতিকার চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখার একটি প্রাকৃতিক উপায় এবং কিছু ক্ষেত্রে চুল পড়া ধীর করতে সাহায্য করে। নারকেল তেল, পেঁয়াজের রস, রোজমেরি তেল ইত্যাদি মাথার ত্বক পুষ্ট করে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এসব অ্যালোপেসিয়া নিরাময় করবে, এমনটা না-ও হতে পারে, তবে মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করতে পারে এবং চিকিৎসার সম্পূরক হিসেবে কাজ করে। চলুন কিছু ঘরোয়া প্রতিকারের কথা জানা যাক।

নারকেল তেল ও পেঁয়াজের রসের মিশ্রণ
নারকেল তেল মাথার ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে এবং চুলের গোড়া শক্ত করে। আর পেঁয়াজের রসে আছে সালফার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা হেয়ার ফলিকল জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

ব্যবহারের উপায়
২ টেবিল চামচ নারকেল তেল হালকা গরম করুন, ১-২ টেবিল চামচ তাজা পেঁয়াজের রস মিশিয়ে মাথার ত্বকে হালকা করে মালিশ করুন। ৩০-৬০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন (পেঁয়াজের গন্ধ কমাতে হয়তো দুবার ধুতে হবে)। সপ্তাহে একবার নিয়মিত প্রয়োগ করুন।

রোজমেরি তেল
রোজমেরি তেল চুলের জন্য বেশ উপকারী। এর আরামদায়ক ও উদ্দীপক গুণ মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের পুনরুজ্জীবনে সহায়তা করে।

ব্যবহারের উপায়
৫-৬ ফোঁটা রোজমেরি এসেনশিয়াল অয়েল ২ টেবিল চামচ জোজোবা (সঠিক উচ্চারণ হোহোবা) বা বাদামের তেলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথার ত্বকে কয়েক মিনিট মালিশ করুন। ৩০-৪৫ মিনিট কিংবা আপনার কাছে আরামদায়ক মনে হলে সারা রাত রেখে দিন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে এক-দুবার ব্যবহার করলে পার্থক্য বুঝতে পারবেন।

ডিমের হেয়ার মাস্ক
ডিমে প্রচুর প্রোটিন, বায়োটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট আছে, যা শক্ত ও উজ্জ্বল চুলের জন্য অপরিহার্য। ডিমের মাস্ক আরেকটি জনপ্রিয় প্রতিকার।

ব্যবহারের উপায়
একটি ডিমের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল ও ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত লাগান। শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে ঢেকে ২০-৩০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং হালকা শ্যাম্পু করুন। প্রতি ১০ দিনে একবার ব্যবহার করলে ভঙ্গুর চুল শক্ত হয়।

জবা ফুল ও পাতার পেস্ট
জবা ফুল ও পাতা ভিটামিন সি ও অ্যামিনো অ্যাসিডে সমৃদ্ধ, যা চুল শক্ত করে, ভাঙন কমায় এবং প্রাকৃতিক রং বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ব্যবহারের উপায়
কয়েকটি জবা ফুল ও পাতা বেটে পেস্ট করুন, সামান্য পানি বা নারকেল তেল মিশিয়ে মাথার ত্বক ও চুলে লাগান। ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার ব্যবহার করুন।

গ্রিন টি
অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ গ্রিন টি মাথার ত্বক ঠান্ডা রাখতে ও চুল পড়া কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ব্যবহারের উপায়
২ কাপ গরম পানিতে ২টি গ্রিন টি ব্যাগ ডুবিয়ে রাখুন, ঠান্ডা হলে শ্যাম্পুর পর মাথার ত্বকে ঢালুন। ১০-১৫ মিনিট রেখে সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দু-তিনবার চেষ্টা করুন।

অভ্যাস ও খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব
১. বায়োটিনসমৃদ্ধ খাবার, যেমন ডিম, বাদাম, শাকসবজি খান
২. আয়রন ও জিংকের জন্য ডাল, কুমড়ার বীজ, গোটা শস্য যুক্ত করুন
৩. পর্যাপ্ত পানি খান, ভালো ঘুমান
৪. মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন। এ ক্ষেত্রে হাঁটা, ডায়েরি বা জার্নালে কিছু লেখা, শ্বাসের ব্যায়াম আপনাকে সাহায্য করতে পারে

সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, প্রথম আলো

20/09/2025

পেঁয়াজের তেলে কি আসলেই চুল গজায়

পেঁয়াজের উপকারিতা শুধু খাবারেই সীমাবদ্ধ নয়, চুলের জন্যও এটি ভালো প্রাকৃতিক সমাধান। চুলের গোড়া মজবুত করতে, নতুন চুল গজাতে এবং চুলের সামগ্রিক সৌন্দর্য বাড়াতে পেঁয়াজের তেল বেশ ভালো কাজ করে। পেঁয়াজের তেলে রয়েছে প্রচুর সালফার, যেটা চুলের গঠনকে দৃঢ় করে এবং ভাঙা, ডগা ফাটা ও পাতলা হয়ে যাওয়া রোধ করে।

পেঁয়াজের তেলে থাকা নির্দিষ্ট কিছু এনজাইম অকালে চুল পাকাকে ধীর করে। পেঁয়াজের তেলে একধরনের ঝাঁজ থাকে। এটি মাথার ত্বককে জীবাণুমুক্ত করে। সোরিয়াসিস আর খুশকি থাকলে সেটাও দূর করে। ভিটামিন সি, ফলেট (ভিটামিন বি৯), ভিটামিন বি৬, পটাশিয়ামসহ নানা পুষ্টি আছে পেঁয়াজে। পেঁয়াজের তেলে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মাথার ত্বক সুস্থ রাখে, খুশকি কমাতে সাহায্য করে এবং নতুন চুলও গজায়।

কীভাবে বানালে ও ব্যবহারে উপকারিতা পাওয়া যাবে, জানালেন রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি।

প্রাকৃতিক তেল নেবেন কতটা
পেঁয়াজের রস সব সময় তেলের সঙ্গে ব্যবহার করাই ভালো। পেঁয়াজের রস ও তেল সব সময় ১: ২ অনুপাতে ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ পেঁয়াজের রস যদি ১ কাপ নেওয়া হয়, তাহলে তেল নিতে হবে দুই কাপ। এখানে তেলের বিষয়েও একটি কথা আছে। অনেক পেঁয়াজের তেলে তিলের তেল, নারকেল তেল, বাদাম তেল ও ক্যাস্টর অয়েলের মতো উপকারী উপাদান থাকে, যেগুলো চুলের স্বাস্থ্যে আলাদা অবদান রাখে।

অনেকে আবার নানা ধরনের তেলের মিশ্রণে একটি তেল বানাতে চান। সে ক্ষেত্রে সব ধরনের তেল নিয়ে বানানো তেলটির মিশ্রণও হবে ওই একই অনুপাতে। তবে নানা ধরনের তেল যখন বানাবেন, সেখানেও পরিমাপের নিয়মটি মানতে হবে। নারকেল তেলকে মূল তেল হিসেবে রাখার পরামর্শ দিলেন শারমিন কচি।

কারণ, এটি হালকা। নিতে পারেন এক কাপ। এরপর জলপাই তেল বা বাদাম তেলের ভেতরে যেকোনো একটি বেছে নিন। কারণ, এই দুটি তেলই ঘন। মাপ হবে আধা কাপ। কালিজিরা তেল বা তিসির তেল অথবা তিলের তেল থেকে বেছে নিতে পারেন একটি। কারণ, এই তিনটিই ভারী। মাপ হবে সিকি কাপ। এই মাপটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। না হলে পরে সমস্যা হতে পারে। কারণ, এই তিনটি তেলই সহায়ক তেল হিসেবে ভালো ভূমিকা পালন করে। মূল তেল হিসেবে নয়।

মাথার ত্বক থেকে জীবাণু চলে গেলে পোরস পরিষ্কার হয়ে যায়। তখন চুল গজাতে শুরু করে। আরেকটু কার্যকর করতে ভিটামিন ই আর কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট বা ক্যাপসুল মেশাতে পারেন পেঁয়াজের তেলে।

খেয়াল রাখবেন, গরম তেলে বা ফ্রিজ থেকে বের করা ঠান্ডা তেলে কখনোই এই ক্যাপসুল মেশানো যাবে না। তেল যখন ঘরের তাপমাত্রায় থাকবে, তখনই মেশাতে পারবেন। চুলের গোড়া থেকে তেল লাগানো শুরু করুন। এরপর একদম আগা পর্যন্ত লাগান। এতে করে চুল ভেঙে যাওয়ার সমস্যাও কমে যাবে। চুল মাঝখান থেকে ভেঙে যাওয়ার সমস্যা বেশি থাকলে ২টি কোলাজেন ক্যাপসুল ব্যবহার করুন।

ভালো ফল পেতে প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিনই ব্যবহার করুন। দ্বিতীয় সপ্তাহে ৩-৪ বার। তৃতীয় সপ্তাহে ২-৩ বার। এভাবে পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে ২ দিন করে ব্যবহার করুন। ১ ঘণ্টা তেল লাগিয়ে এরপর ধুয়ে ফেলুন। এই এক ঘণ্টার মধ্যে সম্ভব হলে দুবার মালিশ করুন।

পাশাপাশি হট টাওয়েল নিন। চুলের রুক্ষতা চলে যাবে, চুলের পোরসও খুলে যাবে। এতে করে তেলের পুষ্টি ত্বকের ভেতরে যাবে। সারা রাত না লাগিয়ে রাখলেই ভালো। পেঁয়াজের ঝাঁজ বেশিক্ষণ মাথার ত্বকে থাকলে এপিডার্মিস স্তরের ক্ষতি হতে পারে।

ফলাফল
চুল পড়া কমা বা নতুন চুল গজানোর লক্ষণ দেখা দিতে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ, কখনো কখনো ৮ থেকে ১২ সপ্তাহও লাগতে পারে।

পেঁয়াজের খোসা ছাড়িয়ে ছোট টুকরা করে নিন। শুধু পেঁয়াজের রসটা নিন, ব্লেন্ড করে। এক কাপ পেঁয়াজের রসের সঙ্গে ২ কাপ নারকেল তেল বা মেশানো তেল মিলিয়ে নিন। সঙ্গে দিতে পারেন মেথি। মেথি ভিজিয়ে রেখে দিন কিছুক্ষণ।

এরপর তেলের সঙ্গে জ্বাল দিন। অল্প আঁচে ১০-১৫ মিনিট রান্না করুন, যতক্ষণ না তেলের রং হয় ঘন। ঠান্ডা হলে পাতলা ছাঁকনিতে ছেঁকে নিয়ে একটি পরিষ্কার বোতলে ভরে রাখুন। ফ্রিজে রেখে এক মাস সংরক্ষণ করতে পারবেন।

সতর্কতা
সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে আগে অল্প একটু লাগিয়ে দেখুন। কারও কারও ত্বকে অ্যালার্জি বা জ্বালাপোড়া হতে পারে, সে ক্ষেত্রে ব্যবহার বন্ধ করে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন।

সূত্র: প্রথম আলো

19/09/2025

ঘরেই বানান ভাইরাল রাইস পেপার মাস্ক, ত্বক হবে ঝকঝকে–সতেজ

রাইস পেপার, যেটি মূলত ভিয়েতনামের রান্নাঘরের খাবার মোড়ানোর শিট—এবার হয়ে উঠেছে ত্বকচর্চার ট্রেন্ড। কোরিয়ান বিউটি ব্লগ থেকে শুরু করে টিকটক—সবখানেই ভাইরাল এই ‘রাইস পেপার ফেস মাস্ক’। এর রহস্যটা কী?

রাইস পেপার কী
রান্নাঘর থেকে সরাসরি ত্বকচর্চায়—শুনতে অদ্ভুত লাগছে? হ্যাঁ, রাইস পেপার মূলত চালের গুঁড়া, পানি আর ট্যাপিয়োকা স্টার্চে তৈরি পাতলা শিট। এসব শিট রোদে শুকিয়ে কড়কড়ে করা হয়। ভিয়েতনামি রান্নায় রাইস পেপার পানিতে ভিজিয়ে নরম করে স্প্রিং রোলের মতো খাবার মোড়ানো হয়। তবে খাবারের জন্য তৈরি হলেও ত্বকের যত্নে এটি সিরাম বা টোনারের ‘বাহক’ হিসেবে দারুণ কাজ করে।

মনে রাখবেন: ‘রাইস পেপার’ শব্দটি কখনো কখনো কারুশিল্পে ব্যবহৃত একধরনের পিথ পেপার (গাছের আঁশ থেকে তৈরি কাগজ) বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়। এসব রাইস পেপার খাওয়াও উপযোগী নয় এবং বা ত্বকের যত্নেও ব্যবহার করা হয় না।

রাইস পেপার আর রাইস ওয়াটার এক নয়
দুটি কিন্তু আলাদা জিনিস। রাইস পেপার হলো খাবার উপযোগী, শুকনো, পাতলা শিট। আর রাইস ওয়াটার তো আমরা সবাই চিনি। সোজা কথায় চাল সেদ্ধ করে যে স্টার্চ বা মাড়সমৃদ্ধ পানি পাওয়া যায়, সেটাই রাইস ওয়াটার। এটি প্রাথমিক গবেষণায় ত্বকের আর্দ্রতা–বর্ধক ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট হিসেবে সম্ভাবনা দেখিয়েছে, তবে প্রমাণ এখনো সীমিত।

কেন শিট মাস্ক ত্বকের জন্য ভালো
রাইস পেপার মাস্ক বা যেকোনো শিট মাস্ক মুখের ত্বকের ওপরের স্তরে একটি ভেজা আবরণ হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ এর ফলে ত্বক থেকে পানি দ্রুত উবে যায় না। এ কারণে ত্বকের আর্দ্রতা বাড়ে এবং মাস্কের সঙ্গে যুক্ত করা হিউমেকট্যান্ট বা জলগ্রাহী উপাদানগুলো ত্বকের উপকার করে। রাইস পেপার মাস্কের মতো বায়োসেলুলোজ–জাত (ব্যাকটেরিয়া দ্বারা উৎপাদিত) মাস্ক নিয়ে মানবদেহে পরীক্ষা–নিরীক্ষায় ত্বকের সজীবতা বাড়ার প্রমাণ মিলেছে।

মনে রাখতে হবে, রাইস পেপার মাস্ক ত্বককে শুধু আর্দ্রতাই দেবে। এর সঙ্গে আপনি যা যুক্ত করবেন (যেমন টোনার বা সিরাম), সেটাই করবে মূল কাজ। রাইস পেপারের কিন্তু নিজস্ব হায়ালুরনিক অ্যাসিড বা কোলাজেন নেই; সেসব আলাদা সিরাম হিসেবে যোগ করলে তবেই মিলবে উপকার।

টিকটক ট্রেন্ড
কেউ কেউ ত্বকের হাইড্রেশন ও গ্লো বাড়াতে রাইস পেপারে গ্রিন–টি, অ্যালোভেরা বা ভিটামিন সি সিরাম ভিজিয়ে ব্যবহার করছেন।

পাঁচ ধাপেই বানিয়ে ফেলুন
১. ফ্লেবারবিহীন খাবার উপযোগী রাইস পেপার কিনুন।
২. কুসুম গরম পানিতে চাইলে কয়েক ফোঁটা গোলাপজল বা অ্যালো জেল মেশাতে পারেন।
৩. ওই পানিতে রাইস পেপার শিট ১৫–৩০ সেকেন্ড ভিজিয়ে নরম করুন। একেবারে বেশি নরম যেন না হয়।
৪. মুখের আকারে কেটে ১০–১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন।
৫. শুকিয়ে কড়কড়ে হওয়ার আগেই খুলে ফেলুন, তারপর হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগান।

মনে রাখবেন: এই মাস্ক সপ্তাহে ১–২ বার ব্যবহারই যথেষ্ট।

এক একজনের ত্বকের ধরন আলাদা, তাই ত্বকের যত্নে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো
কী কী উপকার পেতে পারেন
আর্দ্রতা বাড়ায়: শুষ্ক বা পানিশূন্য ত্বকে হাইড্রেশন দেয়।
ত্বক ঠান্ডা রাখে: রোদে থাকার পর ঠান্ডা অনুভূতি দেয়।
উজ্জ্বলতা আনে: ভিটামিন সি বা নায়াসিনামাইড–যুক্ত সিরামের সঙ্গে ব্যবহার করলে ত্বকের দাগ ও মলিনতা কমে।
কোমলতা দেয়: সংবেদনশীল ত্বকের জন্যও এই মাস্ক বেশ আরামদায়ক।

যা মাথায় রাখবেন
রাইস পেপার নিজে কোলাজেন বা হায়ালুরনিক অ্যাসিডের জোগান দেয় না। এসব উপাদানের সুবিধা পেতে রাইস পেপার মাস্কে সিরাম যোগ করতে হবে।

রাইস পেপার মাস্ক কিন্তু সানস্ক্রিনের বিকল্প নয়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা পেতে ভালো মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

ব্রণ বা কোনো সংক্রমণে ভুগলে এই মাস্ক ব্যবহার করবেন না।

রাইস পেপার মাস্ক ব্যবহারে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক উপাদান বাছাই করতে ভুলবেন না।

রান্নাঘরের এই সস্তা উপকরণ কি আপনার স্কিনকেয়ার রুটিনে নতুন জায়গা করে নেবে? চেষ্টা করেই দেখুন!

সূত্র: আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি, ভিয়েত ওয়ার্ল্ড কিচেন, সিরিয়াস ইটস, মেডিকেল নিউজ টুডে, অ্যালিউর ও পিএমসি, প্রথম আলো

Photos from WoW Beauty's post 18/09/2025

ডার্মা রোলার ট্রিটমেন্ট কী, এতে কি সত‍্যিই চুল গজায়?

চুল পড়া শুরু করলেই আগে দাদি-নানিরা বলতেন, ‘ন্যাড়া করে ফেল, তাতে নতুন চুল গজাবে।’ এর পেছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও আছে। ন্যাড়া করার পর মাথার ত্বকের পোরস্‌ বা সূক্ষ্ম ছিদ্রগুলো খুলে যায়, ফলে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। বর্তমানে অনেকটা সেই কাজই করে ডার্মা রোলার।

শুরুতে ডার্মা রোলারের ব্যবহার সীমিত ছিল চর্মরোগবিশেষজ্ঞ (ডার্মাটোলজিস্ট) ও রূপবিশেষজ্ঞদের কাছে। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে অনেকে এই পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারছেন।

অনেকটা আকুপাংচারের মতো এই পদ্ধতিতে মাথার ত্বকে সূক্ষ্ম সুচের মাধ্যমে রক্ত চলাচল বাড়ানো হয়। ফলে মৃত কোষ সক্রিয় হয়, সেবাম (ত্বকের সেবেসিয়াস গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন তৈলাক্ত পদার্থ, যা ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে এবং সুরক্ষা দেয়) ও কেরাটিন (এই প্রোটিন চুল, ত্বক ও নখের মূল উপাদান) উৎপন্ন হয় এবং হেয়ার ফলিকল উজ্জীবিত হয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। ডার্মা রোলার ব্যবহারের পুরো বিষয়টি জানা গেল রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচির কাছ থেকে।

যেভাবে প্রয়োগ করা হয়
ডার্মা রোলারে সাধারণত দুটি ধরনের সুচ থাকে—মাইক্রোনিডল ও ন্যানোনিডল। টাইটানিয়াম সুচ হলে ফল আরও ভালো হয়। প্রথমে সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করা যেতে পারে, পরে ধীরে ধীরে সপ্তাহে এক দিন করলেই যথেষ্ট। সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, হালকা চাপ দিয়ে ব্যবহার করা। বেশি চাপ দিলে ক্ষতি হতে পারে। সাধারণত ১৮ বছরের পর থেকে এটি ব্যবহার করা যায়। সুচের মাপও ভিন্ন হয়—০.৫ মিলিমিটার থেকে ২ মিলিমিটার পর্যন্ত।

ডার্মা রোলারের ছোট ছোট সুচেরও কিন্তু মাপ আছে। যাঁরা প্রথমবার এই জিনিস ব্যবহার করবেন, বেছে নিন ০.৫ মাপের সুচটি। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে নম্বর বাড়াতে পারেন।
যেহেতু এটি ত্বকের গভীরে কাজ করে, তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া শুরু করা ঠিক নয়। শুরুতে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে করাই সবচেয়ে নিরাপদ। পরে সঠিক নিয়ম মেনে, ধীরে ধীরে ঘরে বসেও করা যেতে পারে।

ডার্মা রোলারের ব্যবহার
১. যেখানে চুল পাতলা হয়ে গেছে বা ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছে, শুধু সেই জায়গায় রোলার ব্যবহার করবেন (এটাকে ০ ডিগ্রি ধরে নেবেন)। না হলে চুলের ফাইবারের ক্ষতি হতে পারে। যদি কারও মাথায় অ্যালার্জি, ঘা বা সোরাইসিসের সমস্যা থাকে, তাহলে আগে সেটার সমাধান করতে হবে।

২. জ্যামিতিক চাঁদা অনুসারে প্রথমে ওপর থেকে নিচে (৯০ ডিগ্রি) তিনবার ঘুরিয়ে রোলারটি ব্যবহার করবেন। এরপর নিচ থেকে ওপরে একবার রোল করবেন। ০ থেকে ০ ডিগ্রি (ডান থেকে বাঁয়ে, বাঁ থেকে ডানে) পর্যন্ত ঘুরিয়ে রোলার ব্যবহার করবেন। এ সময় চাইলে সিরাম লাগাতে পারেন। এরপর ৪৫ ডিগ্রি কোণে রোল করতে হবে—২ থেকে ৩ বার ডান দিকে, ২ থেকে ৩ বার বাঁ দিকে। কপালের সামনের অংশে সব সময় নিচ থেকে ওপরের দিকে রোল করবেন।

৩. রোলার ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে সিরাম ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাবেন। কারণ, তখন চামড়ার ভেতরে সিরাম দ্রুত ঢুকে কাজ শুরু করে। সিরাম ব্যবহারের পর ১২ ঘণ্টা রেখে দিন।

৪. রোলার ও সিরাম ব্যবহারের পর পুরো মাথায় ৫-১০ মিনিট এলইডি লাইট থেরাপি দিলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়। এলইডি থেরাপি ঘরে ব্যবহারযোগ্য মেশিন দিয়েও করা সম্ভব। এটি সিরামের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয় এবং ফলাফল দ্রুত দেখা যায়।

৫. রোলার ব্যবহারের আগে অবশ্যই গরম পানি দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। তারপর স্যানিটাইজার বা জীবাণুনাশক তরলে ডুবিয়ে পরিষ্কার করুন। শুকিয়ে গেলে তবেই ব্যবহার করবেন।

খুব কি কঠিন
অনেকে ডার্মা রোলার ট্রিটমেন্ট করতে গিয়ে ভয় পান, যদি ব্যথা পাই বা রক্ত বের হয়। এসব স্বাভাবিক ব্যাপার। ট্রিটমেন্টের সময় হালকা চিমটি কাটার মতো লাগতে পারে। কারও কাছে একটু বেশি, কারও কাছে একেবারেই সহনীয় মনে হবে বিষয়টি। একেবারে সহ্য না হলে নাম্বিং স্প্রে বা অয়েনমেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। ত্বক কিছুটা লাল হয়ে যেতে পারে, তবে এটা সাময়িক। সাধারণত নিজে থেকেই সেরে যায়, এলইডি থেরাপি (একধরনের আলোক থেরাপি, যা ব্রণ, বলিরেখা ও সোরিয়াসিসের মতো ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়) নিলে আরও দ্রুত কমে। কখনো কখনো সামান্য রক্ত বের হতে পারে, যেমন হালকা আঁচড় লাগলে হয়। এ সময় অ্যান্টিবায়োটিক অয়েনমেন্ট ব্যবহার করলেই ঠিক হয়ে যায়।

হেয়ার সিরাম বেছে নেওয়ার সময় সতর্কতা
চর্মরোগবিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া সিরাম ব্যবহার করা যাবে না। কোন সিরাম কত শতাংশ হবে, সেটাই আসল বিষয়। মিনোক্সিডিল সিরাম এখন সবচেয়ে কার্যকর এবং পরিচিত। সব সময় শুধু মিনোক্সিডিল নামেই পাওয়া যায় না, অনেক সময় চুল গজানোর সিরাম বা রিগ্রোথ সিরাম নামেও বিক্রি হয়।

এ ধরনের সিরাম ৫ শতাংশ ঘনত্বের হলেই যথেষ্ট। মিনোক্সিডিল না পাওয়া গেলে মিউসিন হেয়ার অ্যান্ড হেয়ার ফল ডিফেন্স সিরাম বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। চুল পড়া কমাতে ও নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে।

অর্ডিনারি মাল্টিপেপটাইড সিরামটি বহুমুখী কাজের সিরাম। এটিও ৫ শতাংশ ঘনত্বের হলেই যথেষ্ট। তবে অবশ্যই আসল পণ্য কিনতে হবে। বাজারে যে নকল ‘অর্ডিনারি’ সিরাম পাওয়া যায়, তা ব্যবহার করলে উল্টো ক্ষতি হতে পারে। এ ছাড়া আছে নিউট্রাফল সিরাম। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় জনপ্রিয়।

সূত্র: প্রথম আলো

17/09/2025

মাথার ত্বকের যত্নের এসব ভুলেই কি চুল নিষ্প্রাণ

চুলের যত্নে কত কী-ই না করি আমরা। সেই তুলনায় মাথার ত্বকের যত্নে অনেকেই খুব একটা মনোযোগী নন। অথচ এই ভুলে নিষ্প্রাণ হয়ে পড়তে পারে চুল। রোজকার ধুলাময়লা তো বটেই, চুলের যত্নে ব্যবহৃত প্রসাধনও হয়ে উঠতে পারে মাথার ত্বকের ক্ষতির কারণ।

স্বাভাবিক নিয়মেই আমাদের মাথার ত্বক থেকে একধরনের তৈলাক্ত পদার্থ নিঃসরিত হয়। এর নাম সেবাম। রাজধানীর ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সিনথিয়া আলম বলছিলেন, নিয়মিত পরিষ্কার করা না হলে মাথার ত্বকে জমা হতে থাকে এই পদার্থ। ফলে মাথার ত্বক হয়ে পড়ে চিটচিটে। তেলতেলে ভাব থাকায় অস্বস্তি তো হয়ই, কিছুদিন পর দেখা দেয় খুশকি। মাথার ত্বকে ছোট দানা বা ফুসকুড়িও দেখা দিতে পারে। জীবাণুর সংক্রমণ হয়ে ব্যথাও হতে পারে। চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিও ব্যাহত হয়।

বুঝতেই পারছেন, মাথার ত্বকের প্রতি যত্নশীল হওয়া কতটা জরুরি। কীভাবে মাথার ত্বকের যত্ন নেওয়া উচিত, জেনে নিন এই বিশেষজ্ঞের কাছ থেকেই।

যেভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখবেন
সপ্তাহে দু-তিন দিন শ্যাম্পু করার বিকল্প নেই। আর যাঁরা প্রতিদিন বাইরে যান কিংবা ধুলাময় পরিবেশে কাজ করেন, তাঁদের শ্যাম্পু করতে হবে রোজ। যাঁরা মাথা ঢেকে রাখেন, তাঁদের অবশ্যই সুতি কাপড় বেছে নেওয়া উচিত, যার ভেতর দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে। মাথার ত্বক ঘেমে থাকলেই মুশকিল। ভেজা ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে সহজে। সারা দিন মাথা ঢেকে রাখলেও অন্তত দু-তিনবার চুল খুলে বাতাস প্রবেশ করতে দিতে হবে। যাঁরা মাথা ঢেকে রাখেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও রোজ শ্যাম্পু করা প্রয়োজন। রোজ শ্যাম্পু করতে হলে যে কারও জন্যই মৃদু শ্যাম্পু বেছে নেওয়া ভালো। শিশুদের উপযোগী শ্যাম্পু মৃদু ধরনের হয়ে থাকে। শ্যাম্পু করার পর মাথার ত্বক ও চুল ভালোভাবে ধুয়ে ফেলাও জরুরি।

তেল মালিশের বৃত্তান্ত
চুলের সুস্থতা নিশ্চিত করতে মাথার ত্বকে তেল মালিশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে মাথার ত্বকে তেল মালিশ করে বেশিক্ষণ রেখে দেওয়া যাবে না। ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করাও উচিত না।

প্রসাধনে সতর্কতা
চুলের স্টাইলের জন্য অনেকে বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করে থাকেন। এগুলো কম ব্যবহার করাই ভালো। আর ব্যবহার করলেও সময়মতো পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। নইলে এসব রাসায়নিকও জমা হতে পারে মাথার ত্বকে।

মাথার ত্বকে রক্তপ্রবাহ
মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে মাথার ত্বক আঁচড়ান। রক্তপ্রবাহ ঠিক থাকবে। চুল থাকবে পরিপুষ্ট। যাঁদের চুল পড়ে, তাঁরা মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে রোজ চার-পাঁচবার মাথার ত্বক আঁচড়াতে পারেন। পুষ্টির দিকটা ঠিক থাকলে এবং নির্দিষ্ট কোনো রোগের কারণে চুল না পড়লে এই অভ্যাসেই চুল পড়া কমবে অনেকটা।

সূত্র: প্রথম আলো

16/09/2025

প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে ব্রণের দাগ দূর করবেন যেভাবে

বয়ঃসন্ধিতে থাকা কিশোর-কিশোরীদের জীবনের অন্যতম সমস্যা ব্রণ। পরে শুকিয়ে গেলেও থেকে যেতে পারে দাগ। কিছু প্রাকৃতিক উপাদান নিয়মিত ব্যবহার করে দাগ হালকা করা সম্ভব। দাগের ধরনভেদে সমাধানও ভিন্ন। বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচির সঙ্গে কথা বলে এই সমস্যার সমাধান নিয়ে লিখেছেন সুরাইয়া সরওয়ার

হালকা বাদামি দাগ
সমপরিমাণ মুলতানি মাটি ও টক দইয়ের সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে নিন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। মুলতানি মাটি ত্বকের প্রদাহ কমিয়ে দাগ হালকা করতে সাহায্য করে।

শসার রস, চালের গুঁড়া ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি তুলায় মিশিয়ে দাগের ওপর লাগিয়ে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

ব্রণের কালচে দাগ
অনেক সময় ব্রণের কালচে দাগ সহজে দূর হতে চায় না। এ ধরনের দাগ থেকে মুক্তি পেতে অল্প পরিমাণ শঙ্খগুঁড়া ও গ্লিসারিন একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি তুলায় মিশিয়ে দাগের ওপর ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে আস্তে আস্তে ঘষে প্রলেপটি উঠিয়ে ফেলুন।

এক দিন পরপর কাঁচা হলুদ, চন্দনের গুঁড়া ও দুধের সর একসঙ্গে পেস্ট করে মুখে লাগান। প্যাকটি শুকানোর পর ভেজা কাপড় দিয়ে আস্তে আস্তে মুছে ফেলুন।

ব্রণের গভীর ও পুরোনো দাগ
সমপরিমাণ চন্দনের গুঁড়া ও লেবুর রসে সামান্য গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি ব্রণের দাগের ওপর লাগিয়ে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে কাপড় বা তুলা ভিজিয়ে উঠিয়ে ফেলুন। লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড ত্বকের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে। প্যাকটি ব্যবহারে ব্রণের গভীর দাগ হালকা হতে শুরু করবে।

ডিমের সাদা অংশ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপকারী। দুই চা-চামচ ডিমের সাদা অংশ, আধা চা-চামচ মধু ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে তুলার সাহায্যে মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

এক সাদার কত রূপ
অ্যাপল সিডার ভিনেগার, মধু ও চিনি সমপরিমাণ মিশিয়ে স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল ও দাগ হালকা হয়। অল্প পরিমাণ মধুর সঙ্গে দারুচিনিগুঁড়া মিশিয়ে ব্রণের দাগের ওপর লাগিয়ে শুকাতে হবে। এটি ব্রণের দাগ কমাতে সহায়তা করবে।

এক দিন পরপর কাঁচা হলুদ, চন্দনের গুঁড়া ও দুধের সর একসঙ্গে পেস্ট করে মুখে লাগান
এক দিন পরপর কাঁচা হলুদ, চন্দনের গুঁড়া ও দুধের সর একসঙ্গে পেস্ট করে মুখে লাগানছবি: প্রথম আলো
প্রাকৃতিক উপাদান নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের দাগ ধীরে ধীরে কমে আসবে। তবে প্রত্যেকের ত্বক ভিন্ন। তাই সব উপাদান সবার ত্বকের সঙ্গে মানানসই না-ও হতে পারে। এই সমস্যা এড়াতে যেকোনো উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বকের অল্প জায়গায় ব্যবহার করে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। ব্রণের দাগ খুব গভীর হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

সূত্র: প্রথম আলো

13/11/2024

আপনার কসমেটিকসে এসব ক্ষতিকর উপাদান নেই তো?

ত্বক ও চুলের যত্নে ব্যবহৃত বিভিন্ন কসমেটিকস বা প্রসাধনসামগ্রীতে যোগ করা হয় নানা ধরনের রাসায়নিক উপাদান। তবে এসবের সবই কিন্তু মানবদেহের জন্য নিরাপদ নয়। তাই প্রসাধনসামগ্রী কেনার সময়ই উপাদানগুলো দেখে নেওয়া প্রয়োজন। কিছু ক্ষতিকর উপাদান সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক, সুস্থ থাকতে যেসব এড়িয়ে চলা জরুরি।

প্রসাধনসামগ্রী দীর্ঘদিন ভালো রাখার জন্য তাতে প্যারাবেন যোগ করা হয়। কিন্তু প্যারাবেনের কারণে ত্বকে অস্বস্তিকর অনুভূতি হতে পারে। এ ছাড়া শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে প্রজননক্ষমতার ওপরেও। তাই প্রসাধনসামগ্রী কেনার আগে সেটি প্যারাবেনমুক্ত কি না, তা যাচাই করুন।

কৃত্রিম সুগন্ধি

প্রসাধনসামগ্রীতে কৃত্রিম সুগন্ধি যোগ করা হলে তা আপনার ত্বকের অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই এ ধরনের সুগন্ধিযুক্ত সামগ্রী এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করুন। বিশেষত ত্বকের সংবেদনশীল অংশগুলোতে এ ধরনের প্রসাধনসামগ্রী ব্যবহার না করাই ভালো।

থ্যালেট

থ্যালেট এমন এক উপাদান, যা প্লাস্টিকজাতীয় উপকরণকে ভেঙে যাওয়া থেকে বাঁচায়। ত্বকের প্রসাধনসামগ্রীর সুগন্ধি উপকরণের তালিকাতেও থ্যালেট থাকতে পারে। কিন্তু এই উপকরণও হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, প্রজননক্ষমতাও কমে যেতে পারে এর কারণে। এ ছাড়া এর কারণে গর্ভপাত ও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই যেকোনো ধরনের থ্যালেট এড়িয়ে চলুন।

ফরমালডিহাইড এবং যেসব উপকরণ থেকে ফরমালডিহাইড তৈরি হয়

ফরমালডিহাইড, ফরমালিন, মিথাইলিন গ্লাইকল—এই নামগুলোর কোনোটি যদি প্রসাধনসামগ্রীর উপকরণের তালিকায় থাকে, তাহলে সেটি ব্যবহার থেকে অবশ্যই বিরত থাকুন। প্রসাধনসামগ্রীতে আরও কিছু উপকরণ থাকতে পারে, যা থেকে ফরমালডিহাইড তৈরি হয়। ডিএমডিএম হাইডান্টোইন, পলি–অক্সিমিথাইলিন ইউরিয়া, গ্লাই–অক্সাল, ব্রোমোপল—এই নামগুলোও খেয়াল রাখুন। এ ধরনের সব উপকরণই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। চোখ ও ত্বকে অস্বস্তিকর অনুভূতি, ত্বকের ফুসকুড়ি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, বমিভাব হতে পারে এ ধরনের উপদানের প্রভাবে। প্রভাব পড়তে পারে শ্বাসতন্ত্রের ওপরেও। এ ধরনের উপাদান দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে কিংবা উচ্চমাত্রায় ব্যবহার করলে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে।

প্রসাধনসামগ্রীতে নানা কাজে লাগে পলিইথিলিন গ্লাইকল। কিন্তু এটির কারণেও নানা ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

শেষ কথা

যুগে যুগে মানুষ জীবনকে সহজ ও চাকচিক্যময় করে তুলতে প্রকৃতির থেকে দূরে সরে এসেছে। কিন্তু কৃত্রিম বহু উপাদান মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে বলে প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাই নিরাপদ থাকতে যতটা সম্ভব গ্রহণ করুন প্রাকৃতিক উপাদানসমৃদ্ধ পণ্য।

সূত্র: ওয়েবএমডি ও হেলথলাইন; রাফিয়া আলম, প্রথম আলো

12/11/2024

শীতে কি সানস্ক্রিন ব্যবহারের প্রয়োজন আছে?

লেখা: তাবাসসুম আরজু
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৪
সূত্র: প্রথম আলো

অনেকেই ভাবেন, গরমের সময়ে সানস্ক্রিন ব্যবহার জরুরি হলেও শীতে না দিলেও চলবে। আবার অনেকে মনে করেন, শীতে একবার সানস্ক্রিন ব্যবহার করাটাই যথেষ্ট। আসুন ধারণাগুলোর সত্য–মিথ্যা যাচাই করা যাক।

শীতে সানস্ক্রিনের প্রয়োজন নেই

বাস্তবতা হলো, শীত কিংবা গ্রীষ্ম যেকোনো আবহাওয়ায় সব ধরনের ত্বকের জন্য দরকার সানস্ক্রিন। আসলে পুরো বছরই কিন্তু সূর্যের বিকিরণ আমাদের কাছে আসে। তাই সানস্ক্রিনের কথা ভুলে গেলে চলবে না।

শীতের সময় ঠান্ডার প্রবণতা বেশি থাকায় সানস্ক্রিন কাজ করবে না, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সঙ্গে তাপমাত্রার কোনো সম্পর্ক নেই। এই অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব সারা বছরই থাকে, যা ত্বকের ক্যানসার সৃষ্টির অন্যতম কারণ।

বছরজুড়ে নিয়মিত সানস্ক্রিনের ব্যবহার রোদে পোড়া চামড়ার হাত থেকেও বাঁচাবে। তা ছাড়া দিনের বেলা বেশি সময় বাইরে থাকলে ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়। ফলে বয়সের ছাপ, বলিরেখা, কালো ছোপ পড়তে শুরু করে।

- তাই শীতের দিনগুলোতে সানস্ক্রিনকে অবহেলা না করে নিয়মিত ব্যবহার আপনার দিনকে সজীব করবে।

- দিনে একবার ব্যবহার করলেই যথেষ্ট

- ঘর থেকে বের হলেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। এমনকি যদি আপনার ঘরে পর্যাপ্ত আলো চলাচল করে তাহলেও ব্যবহার করবেন। তবে অনেকেই ভাবেন, দিনে একবার সানস্ক্রিন ব্যবহার করলেই হবে। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বিশেষ করে গরমে অতিরিক্ত ঘেমে গেলে, সাঁতার কাটলে এবং বায়ুদূষণে সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা হ্রাস পায়।

সকালে ঘর থেকে বের হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং সঙ্গে রাখুন। সানস্ক্রিনের পুরোপুরি উপকারিতা পাওয়ার জন্য আপনাকে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর সূর্যের রশ্মি ত্বকের যেসব জায়গায় লাগবে সেখানে ব্যবহার করতে হবে।

দিনের বেলায় ঘর থেকে বের হওয়ার ১৫ মিনিট আগে মুখের পাশাপাশি কানের পাশে, হাত, কনুই এসব জায়গায় সানস্ক্রিন মাখুন।

শীতের নিষ্প্রভ দিনগুলোতে সানস্ক্রিন প্রয়োগে আরও যেসব সুবিধা পাবেন:

- ত্বকের বলিরেখা কমিয়ে দেওয়া

- চামড়ার স্বাভাবিক রং বজায় রাখা

- সূর্যের তীব্রতা থেকে ত্বককে মোলায়েম করা

- আলোর সংবেদনশীলতা থেকে ত্বককে রক্ষা করা

তথ্য সূত্র: দ্য কনভারসেশন, গ্রিন পিপল, প্রথম আলো

03/06/2024

এসি ছাড়া শরীর ঠাণ্ডা রাখার উপায়

বিদ্যুৎ না থাকা, বেশি গরমে থাকা বা পয়সা বাঁচানোর চিন্তা- বিষয় যেটাই হোক, কৃত্রিম পন্থার আশ্রয় না নিয়েও গরমে আরামে থাকার চেষ্টা করা যায়।

‘ইউএস ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেল্থ’য়ের বরাত দিয়ে সিএনএন ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়- দেহ বেশিক্ষণ গরমের মধ্যে থাকলে মস্তিষ্কসহ বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ক্ষতি হয়।

শরীর ঠাণ্ডা রাখার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হল ঘাম হওয়া। তবে এই পদ্ধতি যখন যথেষ্ট কাজ করে না তখন গরম সংক্রান্ত নানান সমস্যা দেখা দেয়; যাকে বলে ‘হাইপারথার্মিয়া’। এর লক্ষণের মধ্যে রয়েছে- খেঁচুনি হওয়া বা পেশিতে টান পড়া, হিট এডিমা বা গরমে হাত পা ফুলে যাওয়া এবং হিট স্ট্রোক।

গরমের সাথে বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা থাকলে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। কারণ আর্দ্র বাতাস ত্বকে ঘাম হওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেহের স্বাভাবিক শীতল হওয়ার প্রক্রিয়াতে বাধা তৈরি করে।

এই ক্ষেত্রে কিছু পন্থা জানা থাকলে দেহ যেমন শীতল রাখা যায় তেমনি ঘরের গরম পরিবেশও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।

আর্দ্র থাকা

“গরম লাগলে আর ঘাম হলে প্রথম পদক্ষেপ হলো নিজেকে আর্দ্র রাখা, মানে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে” একই প্রতিবেদনে পরামর্শ দেন ‘ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরিডা’র কৃষি ও জৈবিক প্রকৌশলের অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ওয়েনডেল পোর্টার।

তিনি আরও বলেন, “পানির তাপমাত্রা এক্ষেত্রে কোনো বিষয় না। কারণ দেহ পানি পাওয়ার পর সেটা জৈবিক নিয়মে গরম করে। যদি গরমে কষ্ট হয় তবে দেহ ঠাণ্ডা রাখতে পানির প্রয়োজন হবে। কারণ ঘামের মাধ্যমে দেহ নিজেকে ঠাণ্ডা রাখে।”

শীতল বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে গোসল

পোর্টার বলেন, “শীতল পানিতে গোসল করার মাধ্যমে দেহের সার্বিক তাপমাত্রা কমানো যায়।”

এই প্রক্রিয়াকে আরও আরাম দিতে পারে মিন্টধর্মী কোনো সাবান ব্যবহার করে। পেপারমিন্ট তেলে থাকা মেন্থল মস্তিষ্টেক শীতল অনুভূতি পাঠায়। ফলে দেহ মনে করে ঠাণ্ডা কোনো কিছু খাওয়া হচ্ছে।

হাতে ঘাড়ে ঠাণ্ডা ভাপ দেওয়া

কব্জি বা ঘাড়ের আশপাশ ‘আইস ব্যাগ’ দিয়ে ঠাণ্ডা ভাপ দেওয়া বা ভেজা তোয়ালে দিয়ে মুছলে শরীরে ঠাণ্ডা অনুভূতি হয়। কারণ এসব ‘পাল্স’ বা নাড়ীর জায়গায় থাকা রক্তের শিরা ত্বকের খুব কাছাকাছি থাকে, যে কারণে দ্রুত দেহ ঠাণ্ডা হতে পারে।

টেবিল বা স্ট্যান্ড ফ্যান ব্যবহার

জানলার দিকে ফেরানো অবস্থায় ফ্যান বা এই ধরনের পাখা ব্যবহারের মাধ্যমে ঘরের ভেতরের গরম বাতাস বের করে দেওয়া যায়। ফলে সেখানে জায়গা দখল করে অপেক্ষাকৃত শীতল বাতাস।

যদি সকাল ও সন্ধ্যার তাপমাত্রা কমে তবে ঘরের দুপাশের জানালা খুলে দিতে হবে। এতে বাইরের ঠাণ্ডা বাতাস একদিক দিয়ে ঢুকে অন্য দিক দিয়ে বের হয়ে যাবে। ফলে ঘরের ভেতরটা হবে ঠাণ্ডা। এই সময় পাখা ছেড়ে রাখলে ঠাণ্ডা হওয়ার কাজটা দ্রুত ঘটবে।

আর সকালে এই পন্থা অবলম্বন করলে সূর্যের তাপ বাড়ার আগেই জানালার পর্দা টেনে দিন। আর ফ্যানের যত কাছাকাছি থাকা যায় ততই শরীর ঠাণ্ডা হবে। যে কারণে সিলিং ফ্যানের চাইতে টেবিল বা স্ট্যান্ড ফ্যান গরমে বেশি আরাম দেয়।

পর্দা টেনে রাখা

যেদিকে বেশি রোগ পড়ে সেদিনের জানলার পর্দা টেনে রাখতে হবে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

পোর্টার বলেন, “সূর্যের আলো সরাসরি যাতে ঘরে না ঢুকে সে ব্যবস্থা করতে হবে।”

এক্ষেত্রে ঘরে এয়ারকন্ডিশনার থাকলে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রা না কমানোর পরামর্শ দেন অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক গৃহসজ্জার গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান ‘স্পেসেস অ্যালাইভ’য়ের সামান্থা হল।

তিনি বলেন, “তাপমাত্রা কমিয়ে এসি ছাড়লে ঘরের ভেতরটা ঠাণ্ডা করতে বেশি সময় নেবে। ফলে বিদ্যুৎ খরচ বাড়বে। তাই যতটা সম্ভব উচ্চ তাপমাত্রায় এসি ছেড়ে রাখতে হবে। এতে আরাম মিলবে।”

আরামদায়ক কাপড়ে ঘুমানো

যেসব কাপড়ে বাতাস চলাচল করতে পারে সেগুলোতে ঘুমাতে হবে। এক্ষেত্রে সুতির বিছানার চাদর বেশ কার্যকর। কারণ এসবে বাতাস চলাচল করতে পারে ভালোভাবে। আর রাতে দেহ ঠাণ্ডা রাখতে পারে।

অব্যহৃত ঘরের দরজা বন্ধ রাখা

বাসার কোনো ঘর যদি ব্যবহার না হয় তবে সেই ঘরের জানলা দরজা বন্ধ করে রাখার পরামর্শ দেন পোর্টার। এতে গরম বাতাস জমার পরিমাণ যেমন কমবে তেমনি ঘরে ঠাণ্ডা বাতাস ঢুকে বাড়তে জায়গা দখল করবে না।

এক্সজস্ট ফ্যান ব্যবহার

রান্নাঘর বা বাথরুমের গরম বাতাস বের করে দেওয়ার জন্য এক্সজস্ট ফ্যান ব্যবহার করা উপকরী।

জ্বলানি সাশ্রয়ী বাল্ব লাগানো

অন্যান্য বৈদ্যুতিক আলোর তুলনায় এলইডি বাল্বে তাপ উৎপন্ন হয় কম। যে কারণে এসব জ্বালানি সাশ্রয়ী আলো ব্যবহার করলে ঘরের ভেতর গরম কম লাগে।

রান্না করুন সকালে অল্প আঁচে

দিনের শুরুতে গরম কম থাকে। তাই সকালের মধ্যে সারাদিনের রান্ন শেষ করে ফেলে, ঘরে রান্নাঘরের উত্তাপ কম ছড়ায়। আর ওভেনের তাপ সারা ঘরে বেশি ছড়ায়। যে কারণে চুলায় অল্প আঁচে খাবার গরম করার চেষ্টা করতে হবে।

ঠাণ্ডা কিছু খাওয়া

আইসক্রিম বা এই ধরনের ঠাণ্ডা খাবার তাৎক্ষণিকভাবে দেহ ঠাণ্ডা করতে পারে।

তবে পোর্টার বলেন, “অতিরিক্ত গরমে বেশি মিষ্টি দেওয়া ঠাণ্ডা খাবার এড়াতে হবে। কারণ চিনি দেহের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।”

তাই আইস ক্রিম খাওয়া হয়ত আনন্দদায়ক তবে চিনি নয়।

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address


Dhaka
1000