Monirul Islam bhola
22/06/2024
এইগুলো কি ধরনের পোস্ট,বাহার্তামী ছাড়া আর কিছু মনে হয় না,
16/06/2024
প্রশ্নঃ হস্তলেখা প্রমাণের বিভিন্ন পদ্ধতি বর্ণনা কর।
উত্তরঃ ১৯৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের বিধান মোতাবেক নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুযায়ী কোন ব্যক্তির হাতের লেখা প্রমাণ করা যায়-
(১) হস্তলেখা বিশেষজ্ঞের অভিমত দ্বারা’ : সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারা অনুসারে যখন কোন বিদেশী আইন, বিজ্ঞান বা চারুকলা বিষয়ে, অথবা হস্তাক্ষর বা টিপসহির সাদৃশ্যের প্রশ্নে আদালতকে কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হয় তখন সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিদেশী আইন, অথবা বিজ্ঞান বা চারুকলা বিষয়ে অথবা হস্তাক্ষর বা টিপসহির সাদৃশ্যের প্রশ্নে যে সকল লোকের বিশেষ জ্ঞান বা পারদর্শিতা আছে তাদের অভিমত প্রাসঙ্গিক ঘটনা। এ সকল লোককে সাক্ষ্য আইনে হস্তরেখা বিশেষজ্ঞ বলা হয়।
(২) হস্তাক্ষরের সঙ্গে পরিচিত কোন ব্যক্তির অভিমত দ্বারা : সাক্ষ্য আইনের ৪৭ ধারার বিধান অনুসারে কোন একটি দলিল যে ব্যক্তি দ্বারা লিখিত বা স্বাক্ষরিত হয়েছে সে সম্পর্কে আদালতকে যখন কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হয়, তখন যে ব্যক্তি দ্বারা এটি লিখিত বা স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে মনে করা হয় সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি দ্বারা এটি লিখিত বা স্বাক্ষরিত হয়েছে বা ‘হয়নি এ মর্মে উক্ত ব্যক্তির হস্তাক্ষরের সাথে সুপরিচিত কোন ব্যক্তির অভিমত প্রাসঙ্গিক ঘটনা। কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির হস্তাক্ষরের সাথে পরিচিত বলতে বুঝায় সে উক্ত ব্যক্তিকে কোন সময় লিখতে দেখেছে অথবা ব্যবসায়ের ধারা অনুযায়ী দ্বিতীয় ব্যক্তির প্রস্তাবিত লিখিত দলিল উক্ত ব্যক্তির নিকট পেশ করা হয়েছে।
(৩) লেখকের নিজের সাক্ষ্য দ্বারা : সাক্ষ্য আইনের ৬৭ ধারার বিধান মোতাবেক কোন দলিল যখন কোন ব্যক্তি কর্তৃক স্বাক্ষরিত অথবা সম্পূর্ণ বা আংশিক লিখিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়, তখন উক্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর অথবা দলিলের যে অংশ সে ব্যক্তির হস্তলিখিত বলে দাবি করা হয় সে অংশ যে প্রকৃত তারই লেখা এটা আদালতে এসে তাকেই প্রমাণ করতে হবে।
(৪) আদালতের সন্তুষ্টি বা অনুমোদনক্রমে স্বাক্ষর হস্তাক্ষর বা সীলমোহর দ্বারা : সাক্ষ্য আইনের ৭৩ ধারা অনুসারে যখন কোন স্বাক্ষর, হস্তাক্ষর বা সীলমোহর যে ব্যক্তির বলে বুঝানো হয়, সেটি তার কি-না, তা নির্ণয় করার জন্য যে স্বাক্ষর, হস্তাক্ষর বা সীলমোহর তার বলে যা আদালতের সন্তুষ্টিতে প্রমাণিত হয়েছে তা উপরি উক্ত যে স্বাক্ষর, হস্তাক্ষর বা সীলমোহর প্রমাণ করতে হবে, তার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে, যদি সে সাক্ষীর হস্তাক্ষর বা সীলমোহর অন্য কোন উদ্দেশ্যে উপস্থাপিত না হয়ে থাকে।
অনুরূপভাবে কোন কথা বা অঙ্ক কোন বিশেষ ব্যক্তি কর্তৃক লিখিত বলে দাবি করা হয়ে থাকলে আদালত যাতে সে কথা বা অঙ্কের সাথে সেটি তুলনা করতে পারেন সেজন্য আদালতে উপস্থিত ব্যক্তিকে সে কথা বা অঙ্ক লেখার জন্য আদালত নির্দেশ দিতে পারেন।
এ বিধান প্রয়োজনীয়রূপে সংশোধিত আকারে টিপসহির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
১৩৮ ধারা মামলার কিছু অসঙ্গতি প্রসঙ্গে।
১। নোটিশ সংক্রান্তে অস্পষ্টতা:
চেক দাতাকে নোটিশ দেয়ার নির্দিষ্ট কোন ফরমেট নেই। এজন্যে একেক জনের নোটিশ একেক রকম হয়ে থাকে। কিন্তু মামলা যখন বিচারাদালতে যায়, অনেক সময় দেখা যায়, নোটিশে চেক নাম্বার উল্লেখ করা হয়নি, যা মামলা খারিজ হওয়ার কারন হয়ে দাড়ায়।
২। নোটিশ জারি সংক্রান্তে:
আইনের নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট এ্যাক্টের ১৩৮ এর (১ক) উপধারা (১) এর (খ) অনুচ্ছেদের বর্ণিত নোটিশ নি¤œভাবে জারি করতে হবে-
(ক) যে ব্যক্তিকে নোটিশ দিতে হবে তার প্রতি নোটিশ বিলি করে,
অথবা
(খ) উক্ত ব্যক্তির নিয়মিত বাসস্থান বা সর্বশেষ বাংলাদেশের যে স্থানে তিনি বাস করেছেন, বা ব্যবসা করেছেন বলে জানা যায় সে ঠিকানায় প্রাপ্তিস্বীকারপত্র সহ ডাকযোগে নোটিশ প্রেরণ করে,
অথবা
(গ) বহুল প্রচারিত একটা জাতীয় দৈনিক বাংলা পত্রিকায় নোটিশ প্রকাশ করে।
খেয়াল করুন, আইনে প্রতিটা ক্ষেত্রেই ‘অথবা’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ যে কোন একটা পদ্ধতি অনুসরন করতে বলা হয়েছে। কিন্তু ডাকযোগে নোটিশ পাঠানোর পর প্রাপককে যদি পাওয়া না যায়, সেক্ষেত্রে অনেকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। আর এ দুবার নোটিশ জারি হওয়ার কারনে প্রথমবার নোটিশ প্রদানের তারিখটা তামাদি হয়ে যায়, যার কারনে মামলা খারিজ হয়ে যায়। আইনে এর যথাযথ ইন্টারপ্রিটিশান প্রয়োজন।
গ) ধারায় বলা হয়েছে, জাতীয় দৈনিকের কথা। সেক্ষেত্রে কোন কোন পত্রিকা জাতীয় দৈনিক তার ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন। ‘বহুল প্রচারিত’ বলতে কি বোঝানো হয়েছে তারও ইন্টারপ্রিটিশান থাকা প্রয়োজন। কত হাজার বা লাখ পত্রিকা ছাপা হলে ‘বহুল প্রচারিত’ হবে তার সুস্পষ্ট কোন ব্যাখ্যা আইনে নেই।
৩। সেলফ চেক হলে/জিম্মা চেক হলে:
চেকে যদি ’নিজ’ বা সেলফ লেখা থাকে, তাহলে ঐ চেক দিয়ে মামলা করা যাবে কিনা, তারও কোন ব্যাখ্যা আইনে পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে কোন কোন আদালত মামলা গ্রহন করেন, কোন কোন আদালত করেন না। আবার মামলা হলেও, ট্রায়ালে আসামী ডিসচার্জ হয়ে যায়।
৪। কজ অব একশান একাধিক হলে:
ধরা যাক, চেক দাতাকে চেক গ্রহীতা আইনানুগ নোটিশ দেয়ার পর চেক দাতা মৌখিকভাবে দুমাসের সময় প্রার্থনা করলো। গ্রহীতা তা মেনে নিলেন। কিন্তু দু মাস পর টাকা পরিশোধ না করায় বা চেকটি আবার ডিজঅনার হওয়ায় চেক গ্রহীতা পুনরায় চেক দাতাকে ১৩৮ ধারায় নোটিশ প্রেরন করলেন। এক্ষেত্রে কজ-অব একশান যেহেতু প্রথম নোটিশ থেকে শুরু হয়েছে, সে কারনে মামলাটা খারিজ হয়ে যায়।
৫। প্রি-ম্যাচ্যুর মামলা:
চেক ডিজঅনার হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নোটিশ দিতে বলা হয়েছে। টাকা পরিশোধের নিমিত্তে ৩০ দিনের সময় দিতে বলা হয়েছে। না দিলে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে মামলা করতে বলা হয়েছে। আর এ সময়ে আগে মামলা করলে সেটাকে প্রি-ম্যাচুউর মামলা বলা হয়। উচ্চাদালতের সিদ্ধান্ত ছিল, প্রি-ম্যাচুউর মামলা চলবে। সম্প্রতি ডিসিশন এসেছে, প্রি-ম্যাচুউর মামলা চলবে না। (১৫ এম,এলআর)।
৬। পার্ট পেমেন্ট হলে:
ধরা যাক, আসামী বাদীকে ১,০০,০০০/-টাকার দিয়েছে। আসামী ৫০,০০০/- বা ৭৫,০০০/-টাকাই রশিদ মুলে পরিশোধ করে দিয়েছে। পুরো টাকা পরিশোধ না করায় বাদী চেকটা ফেরৎ দেয়নি। সেক্ষেত্রে সাজার কোন তারতম্য হবে কিনা বা মামলা আদৌ চলবে কিনা তার কোন দিক নির্দেশনা এ আইনে পাওয়া যায় না।
৭। প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে তারিখ না থাকলে:
দেখা গেলো, প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ফেরত এসেছে, কিন্তু প্রাপক নোটিশ কখন গ্রহন করেছে তার কোন তারিখ দেয়নি। কেবল প্রাপকের স্বাক্ষর আছে। এক্ষেত্রেও মামলার সময় নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং ক্ষেত্র বিশেষে মামলা খারিজ হয়ে যাচ্ছে।
উপরোক্ত সমস্যা গুলোর কারনে মামলা খারিজ হয়ে গেলে স্বভাবতই বাদীপক্ষ কেবল এককভাবে নয়, তিন ভাবে লুজার হন। প্রথমতঃ, তার আর ঐ টাকা পাওয়া হয় না। দ্বিতীয়তঃ মামলা মোকদ্দমা করতে তার অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। তৃতীয়তঃ, সামাজিকভাবে তিনি হেয় প্রতিপন্ন হন। আর এ কারনে উপরোক্ত বিষয়গুলোর সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যা তথা ইনটারপ্রিটিশন দরকার। চেকের অনেক মামলাই হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায় না। আর এ্যাপিলেট ডিভিশনে কদাচিত যায়। সে কারনে সবগুলো সমস্যার ইন্টারপ্রিটিশন পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে।
চেক ডিজঅনার মামলার অপূর্ণতা
অনেক কাটখড় পুড়িয়ে বাদী মামলায় রায় পেলেও, টাকা পাওয়া আর হয় না। ১৩৮ ধারার মামলার প্রায় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আদালত আসামীকে কয়েকদিন থেকে ১ বৎসর পর্যন্ত সাজা দেন এবং চেকের টাকা একগুন বা দ্বিগুন বা তিনগুন পর্যন্ত পরিশোধে করার আদেশ দেন। আসামীরা সাজা খেটেই বেরিয়ে যান। টাকা আর পরিশোধ করেন না। কিন্তু আদালতের আদেশানুযায়ী টাকা পরিশোধ না করলে কিভাবে টাকা উদ্ধার হবে তার কোন উপায় এ ধারায় নির্দেশ করা নেই। আমরা অনেক সময় ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ৩৮৬ ধারায় আবেদন করে থাকি। অনেক কোর্টই তা গ্রহন করতে রাজি থাকেন না এ কারনে যে, নোগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট এ্যাক্ট-এর ধারায় দেয়া রায়ে ফৌজদারী কার্যবিধির এ ধারা প্রযোজ্য হবে না।
কাজেই আইনটা ধুঁয়াশাচ্ছন্ন। টাকা পরিশোধ করার আদেশ দেয়া হলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাদী টাকা ফেরৎ পাচ্ছেন না। আদালতের এই আদেশ কিভাবে কার্যকর করা হবে, তারও কোন সুষ্পষ্ট দিক নির্দেশনা নেই। কাজেই এ আইনকে একটা অপূর্ণ আইন বলা ছাড়া কোন গত্যন্তর তো দেখছি না। অচিরেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংশোধনের মাধ্যমে এই অপূর্ণতা ও অসঙ্গতি দুর না করলে ভোগান্তি আরো বাড়বে কমবে না।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Website
Address
Dhaka
