Shahenur Shanu
Once you know me, do not judge me, but only to tell you that you do not like me.
দস্তরখানের আমল! সুবহানাল্লাহ কি সুন্দর শব্দগুচ্ছ!
ছোট্ট শব্দগুচ্ছটা-ই বলে দেয়, মু'মিনের জন্য খাবার খাওয়া কিন্তু স্রেফ উদর পুর্তি নয়। এটাও একটি ইবাদাত! এটাও একটি আমাল!
চলুন আখওয়াতি, আজ বাদ মাগরিব থেকে আমরাও শরীক হই দস্তরখানের আমলে। এক্কেবারে সুন্নাহ মেনে শরীক হই৷ কি বলেন?
'দস্তরখানের আমল' এর সুন্নাহসমূহ:
১। জুতা খুলে নেওয়া
২। উভয় হাত কবজি পর্যন্ত ধোয়া।
৩। জমিনের(যেকোনো সমতল) ওপর দস্তরখান বিছিয়ে বসা এবং বসা বরাবর খাবারের প্লেট রাখা।
উল্লেখ্য যে, বর্তমান যুগে চেয়ার টেবিলে খাওয়ার ব্যাপক প্রচলন ঘটায় এতে شبه بالكفار বা বিধর্মীদের বৈশিষ্ট্যের অনুকরণের। এই দৃষ্টিকোণ থেকে চেয়ার টেবিলে খাওয়া নিষিদ্ধ না-হলেও যেহেতু চেয়ার টেবিলে খাওয়াতে অনেকগুলো সুন্নাত ও আদব বর্জিত হয়, তাই তা পরিত্যাজ্য।
৪। খাওয়ার সময় এক পা উঁচু রাখবে এবং অপর পা (হাঁটু) বিছিয়ে তার ওপর বসবে; অথবা উভয় পা (হাঁটু) জমিনের ওপর বিছিয়ে (আত্তাহিয়্যাতু পড়ার মতো) সামনের দিকে সামান্য ঝুঁকে বসবে।
৫। হেলান দিয়ে বসে না খাওয়া।
৬। একসাথে অনেকে খেতে বসলে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে যেই ব্যক্তি সবচেয়ে বড়, তাঁর দ্বারা খাওয়া শুরু করা।
৭। খাবারের শুরুতে উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহ পড়া।
অথবা, যদি খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়া ভুলে যায়, তা হলে যখন মনে হবে তখন সাথে সাথে নিম্নোক্ত দুআ পড়ে নেবে-
بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَه
৮। ডান হাত দিয়ে খাওয়া।
৯। তিন আঙুলের (বৃদ্ধা, তর্জনী ও মধ্যমা) দ্বারা খাওয়া সুন্নাত। প্রয়োজনে তিনের অধিকও ব্যবহার করা যেতে পারে।
১০। খুব গরম খাবার না খাওয়া।
১১। গরম খাবার বা পানীয়তে ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা না করে খাওয়া।
১২। নিজের সামনে থেকে খাওয়া শুরু করা। মাঝখান থেকে না।
১৩। যে পরিমাণ বা যেরকম খাবারই হোক, আল্লাহ তাআলার নেয়ামত মনে করে খাওয়া।
১৪। খাদ্যের সমালোচনা না করা।
১৫। খাদ্যের কোন অংশ পড়ে গেলে
উঠিয়ে প্রয়োজনে পরিস্কার করে খাওয়া।
১৬। কয়েকজন মিলে খাবার খেতে বসলে নিজের খাওয়া শেষ হলেও অপরের খাবার শেষ না হওয়া পর্যন্ত বসে থাকা।
১৮। খাওয়ার শেষে পাত্র সমূহ আঙ্গুল দ্বারা ভালোভাবে পরিষ্কার করে খাওয়া।
১৯। আঙুল চাটার সুন্নাত তারতিব হলো। প্রথমে মধ্যমা, তর্জনী, বৃদ্ধা, অনামিকা, তারপর কনিষ্ঠা।
২১। খাবার খেয়ে উভয় হাত ধোয়া।
২২। কুলি করে মুখ পরিষ্কার করা।
২৩। খাওয়া শেষ হলে নিম্নোক্ত দুআ পড়া-
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ
অর্থ : সকল প্রশংসা ওই আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে (খানা) খাওয়ালেন এবং পান করালেন এবং যিনি আমাদেরকে মুসলমান বানিয়েছেন।
২৪। প্রথমে দস্তরখান উঠানো এরপর নিজে ওঠা সুন্নাত।
২৫। দস্তরখান উঠানোর দুআ পড়া-
الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُّبَارَكًا فِيْهِ غَيْرَ مَكْفِي وَلَا مُوَدَّعٍ وَلَا مُسْتَغْنَى عَنْهُ رَبَّنَا .
অর্থ : সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। এমন প্রশংসা, যা (পরিমাণে অনেক) বেশি, অত্যন্ত পবিত্র ও বরকতময়। হে আমাদের রব, আমরা ওই খানাকে যথেষ্ট মনে করে বা সম্পূর্ণ বিদায় জানিয়ে বা অপ্রয়োজনীয় মনে করে উঠে যাচ্ছি না।
মোট ২৫ টি সুন্নাহ! ৩ দফা খেতে বসলে একদিনেই মোট ৭৫ টি সুন্নাহ মানা সম্ভব।
দিনে অন্তত ৭৫ বার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির প্রতি মুহাব্বাতের প্রকাশ! সুবহানাল্লাহ।
কে আছেন এমন বোকা যে এই সুযোগ থেকে মাহরুম হতে চান?
প্রয়োজনে খেতে বসার আগে খাতা কলম সামনে নিয়ে বসবো। দু'আ মুখস্থ না থাকলে দেখে দেখে পড়বো৷ মাত্র ৩/৪ দিন এভাবে মেহনত করে দেখুন৷ আপনাআপনি সবগুলো সুন্নাহ আয়ত্ত্বে চলে আসবে ইন শা আল্লহ। সর্বোপরি, সব অসম্ভব ই সম্ভব ইন শা আল্লহ, যদি ক্বলব সত্যি-ই আশিক হয় তাঁর ﷺ জন্য।
সংগৃহীত
01/09/2023
• আপনি হয়তো ভাবছেন শুক্রবারের এই দিনটায় কি করবেন, হয়তো ফোন চালিয়েই কাটিয়ে দিতে চাচ্ছেন পুরো বিকেল। কিন্তু সবচেয়ে উত্তম একটি সিদ্ধান্ত হবে যদি আপনি আপনার স্ত্রীকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে বের হন।
• সারা সপ্তাহের ক্লান্তি যেন আমাদের ছাড়তেই চায়না। তাই অনেকেই অলসতায়, শুয়ে, বসে শুক্রবারের এই দিনটি কাটায়। এতে করে সুন্দর একটি সময় থেকে স্বামী স্ত্রী বঞ্চিত হয়। অথচ বাইরে থেকে ঘুরে আসলে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কটা আরো গভীর হতো।
• ভাইদের প্রতি পরামর্শ থাকবে এ দিনটি যেন মিস না হয়। যেকোন সুন্দর একটি জায়গা থেকে ঘুরে আসুন। দেখবেন ভালো লাগবে।
• বোনদের প্রতি পরামর্শ থাকবে আপনার স্বামীকে উৎসাহিত করুন,তাকে বোঝান এতে করে যে ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। সময়টাকে দামী করে তুলুন।
• দিনশেষে একটা কথা মাথায় রাখবেন, সন্তানের বিয়ে হয়ে যাবে, পরিবারের প্রতিটি সদস্য আলাদা জায়গাতে চলে যাবে। থেকে যাবেন আপনারা দুইজন স্বামী স্ত্রী।
- তোর মা কাল মারা যাবে। যা বাড়ি ফিরে যা। আর কেউ কখনো তোকে বকাবকি করবে না কোন দিন।
কথাটা শুনে পাশ ফিরলাম। কালো ময়লা আলখেল্লা পড়া এক ফকির। ল্যাম্পপোস্টে পাশে চট বিছিয়ে বসে আছে। চোখ বন্ধ তার। আমি তাচ্ছিল্যের হাসি
হেসে আবার পাশ ফিরলাম।
আজ ও মায়ের সাথে ঝগড়া করে বের হয়েছি। জীবনটা তেজপাতা করে দিলো৷ ভালো লাগে না৷ প্যারা আর প্যারা৷ এইটা করবি না, ওটা করবি না। এইটা কেন করিস? এইটা পারিস না কেন? সারাদিন বাইরে কি? বন্ধুদের সাথে এত কি? সারাদিন মোবাইলে কি? উফ! প্রাইভেসি বলে কিছু নেই লাইফে৷ সবকিছু ঘাটাঘাটি। আরো বলে গুছিয়ে রাখি৷ অপছন্দের তরকারি রোজ রাধবে। না চাইলেও শাক সবজি করবে। ভালো লাগে না তাও রোজ দুধ গেলাবে। অসহ্য।
হাইয়ার স্টাডির জন্য দূরে কোথাও চলে যেতে পারলে ভালো হতো। একটু ফ্রিডম পেতাম৷ না, তাও দিবে না। এইখানেই পড়।
লোকটা চোখ বন্ধ অবস্থায় আবার বলল,
- কি? বিশ্বাস হচ্ছে না? তাইলে বলি, তোরা দুই বোন এক ভাই, বোনেদের বিয়ে হয় গেছে। বাপ চাকরি করে এখনো। তুই পড়ালেখা করস। আর তোর পকেটে মাত্র ১০০ টাকা আছে। মোবাইলেও চার্জ নাই৷ একটু পর ফিরে যাবি।
তাও বলছি ফিরে যা। শেষ বেলায় মায়ের কাছে থাকতে পারা ভাগ্যের ব্যাপার। আর কেউ তোরে বকাবকি করবে না কাল থেকে৷
আমি বিরক্ত হয়ে ওনাকে পাঁচ টাকা দিয়ে উঠে গেলাম। উনি উচ্চস্বরে হেসে উঠল। কিছুদূর গিয়ে আবার পিছন ফিরে দেখতে দেখি উনি নেই। বুক টা ধুক করে উঠল। ভয় জমলো। বাড়ির দিকে ছুটলাম।
বাড়ির কাছাকাছি যেতে দেখি মা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠার আগে দেখি মা দরজা খুলে দিয়েছে। মা এইটা রোজ করে। বেল দেওয়ার আগেই দরজা খুলে দেয়। কিভাবে বুঝে জানি না। কখনো জিজ্ঞেস করি নি। আজ করতে ইচ্ছে হলো কিন্তু করলাম না। রাগ গলে পানি হয়ে গেছে লোকটার কথা তাও একটু ভান ধরলাম। মা শোকেসের সামনে শাড়ি কোমরে জড়ানো অবস্তা থেকে নিয়ে আঁচল দিয়ে প্লেট মুছতে মুছতে বলছে,
- কি রে কোন বন্ধু দিলো না জয়গায়? ঠিক তো বাপের হোটেলে ফিরে এলি। যা স্নান করে আয়, খাবি।
মা ভাবলো অন্য দিনের মতো আমি বলব -
-খাব না, তুমি খাও। সারাক্ষন বন্ধুদের নিয়ে কথা বলবে না।
আমি তা না বলে। স্যান্ডেল খুলে রাখতে রাখতে বললাম-
- আচ্ছা মা, ঠিক আছে। তুমি স্নান করছো? করে নাও না এক সাথে খাবো।
মা তাকিয়ে আছে।
মন টা এখন হাল্কা লাগছে। শুধু শুধু ভয় পেয়েছি। গায়ে পানি ঢালতে ঢালতে চিন্তা করছিলাম, লোকটা হঠাৎ এমন কিছু কেন বলল? ধুর, কি সব চিন্তা করছি। ফালতু চিন্তা। কিন্তু লোকটা উধাও হলো কিভাবে?
লাল রং এর বড় বালতি থেকে আধ জ্বলে যাওয়া নীল রং এর মগ দিয়ে গায়ে পানি ঢালতে ঢালতে ভাবছিলাম।
আবার চিন্তা করলাম। ধুর, এইসব কিছু না। আসলে আমি এইটা চিন্তাও করতে পারছিলাম না।
তখন রান্না ঘরে কি যেন পড়ার আওয়াজ হলো। হুমড়ি খেয়ে গায়ে কোন মতে গামছা টা জড়িয়ে বের হয়ে এলাম। তাড়াতাড়ি রান্না ঘরে গেলাম। মা বাটিতে তরকারি বাড়ছে। আমাকে দেখে চিৎকার করে উঠল,
-এত বড় ছেলে গা না মুছে বের হয়েছিস বাথরুম থেকে? পুরো ঘর ভিজিয়ে ফেলল। তোকে না বলেছি গামছা পড়ে ঘুরবি না। বস্তির ছেলের মতো লাগে তোকে। এমনেই তো বস্তির ছেলে। তিন দিনে স্নান করিস। গায়ে সাবান কখন মেখেছিস মনে আছে?
- কি হয়েছিলো? আওয়াজ হলো যে,
মা ভ্রু কুৃঁচকে তাকাল।
- কি হবে?
-আওয়াজ শুনলাম যে
- হাড়ির ঢাকনা পড়েছিল। এমনে তো ডাকলে কানে ঢুকে না। আওয়াজ শুনে বের হয়ে গেলি। যা তাড়াতাড়ি কাপড় পড়ে আয়। ছোট বেলার মতো গামছা খুলে যাবে নইলে৷
আর দাঁড়িয়ে লাভ নেই। কাপড় পড়ে খেতে বসলাম। আজ আমার পছন্দের শুটকি দিয়ে ডিমের ভুনা। আহ এই যেন অমৃত। আচ্ছা ওনার কথা যদি সত্যি হয়, কাল যদি?
কে রাঁধবে তাইলে কাল থেকে? এই ডিমের তরকারি, লাউ পাতার বড়া? চিংড়ি দিয়ে করলা?
না , না। এই আমি কি ভাবছি? কি হবে মায়ের? না না।
মাথাটা ঝাকালাম। ঝেড়ে ফেলি চিন্তাটা।
- কি রে ঝাল বেশি হয়ছে? মাথা ঝাকাচ্ছিস কেন গরুর মতো? চিনি দিবো?
আমি মায়ের দিকে তাকিয়ে কান্না করে দিলাম। চোখের পানি দেখে মা উঠে এলো। আমি কথা বলতে পারছি না। মনে হচ্ছে মুখ খুললে এখন ভেটকিয়ে কান্না করে দিবো বাচ্চাদের মতো।
মা উঠে এসে পিঠ চাপড়ে দিচ্ছে তাড়াতাড়ি চিনি এনে দিলো রান্না ঘর থেকে।
- কি রে বাবা,বেশি ঝাল লাগছে? মরিচ তো দিই নি এতো?
মা পিঠ চাপড়ে দিচ্ছে। আমি মাকে জড়িয়ে ধরতে চাইলাম। কিন্তু কোন মতে পানি খেয়ে কান্না থামালাম।
- আরে কিছু না। জিভে কামড় পড়ছিলো।
- আচ্ছা। সাবধানে খা।
মা শাকের সাথে কাঁচামরিচটা ভেঙ্গে মেখে খাচ্ছে। মায়ের আটপৌরে নেতিয়ে যাওয়া শাড়িটা একটু ফ্যানের বাতাসে উড়ছে। চুল গুলো হালকা এলোমেলো। মায়ের খাওয়ার দিকে আমি তাকিয়ে আছি। মনে হলো যেন মনে গেঁথে নিচ্ছি।
আবার চিন্তা সরিয়ে মাথা নাড়লাম। ভাত টা শেষ করলাম।
অন্যদিন মোবাইল টিপে টিপে ভাত খাই। মা বকা দিলেও রাখি না। আজ মায়ের সাথে কথা বললাম। সে অনেক কথা। বোনদের কথা। ভাগ্নি গুলোর কথা। পিসতুতো ভাইয়ের নাকি বিয়ে ঠিক হচ্ছে। মেয়ের বাড়ি নিয়ে মায়ের অনেক কথা। মা যেন কথায় কথা বলেই যাচ্ছে। খাওয়া শেষে মায়ের সাথে থালাবাটি গুলো রেখে এলাম। মাকে পানের বাটাটা এনে দিলাম৷ সাথে ওষুধের বাক্স টাও। মা যে আরাম পেলো। বহু দিন মাকে কেউ কিছু এগিয়ে দেয় না। আমি রুমে চলে গেলাম। বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই আবার উঠে বসলাম। আমি তো ঘুমালে সন্ধ্যার আগে উঠবো না। বাবা আসবে তো সাত টাই। এর মধ্যে যদি কোন এক্সিডেট? ফ্যান টা কয়েক দিন ধরে ক্যাচ ক্যাচ করছে মিস্ত্রী ডাকতে বলেছিলো, ভুলে যাই রোজ। যদি-
না, আমি মায়ের রুমে গেলাম। মা পেপারের সাথে দেওয়া নকশা টা উল্টাচ্ছে। মায়ের পাশে শুয়ে বললাম-
-কিছু তো বানাও না। শুধু দেখো।
মা আবার উল্টাতে উল্টাতে বলল-
- বানিয়ে খাওয়াবো কাকে? তুই বাসায় থাকিস? বন্ধু আড্ডা এইসবে তোর জীবন এখন। তোকে খাওয়ায় লাভ নেই। আমার মেয়েরা আসুক তখন খাওয়াবো৷ আজ এইখানে কি? টাকা পয়সা লাগবে নাকি? কাল বিকেলে একশ টাকা দিয়েছিলাম না?আজ আর পাবি না।
আমি মায়ের পায়ের দিকে শুয়ে পড়লাম।
- আরে না। এমনেই শুয়েছি। কেন পারবো না?
মা আর কিছু বলল না। আমার গায়ের উপর পা একটা তুলে দিলো। আমি পায়ের আঙ্গুল গুলো টেনে দিলাম।মা অন্য পা টাও দিলো। ছোট বেলায় এমন টা করতাম খুব। মায়ের পানের একটা মিষ্টি সুভাষ আছে। কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম। মোবাইলের ভাইব্রেশনে ঘুম ভাঙ্গল। ধড়ফড়িরে উঠে মাকে দেখলাম। মা নেই।
- মা, মা। কোথায়?
রান্না ঘর থেকে বলল মা,
- কি হয়ছে, এমন চেঁচাচ্ছিস কেন? আছি তো, যাই নি কোথাও।
ফোন রিসিভ করলাম৷ অন্তু ফোন দিয়েছে বাইরে যওয়ার জন্য। যাব না বললাম। শরীর ভালো লাগছে না। মায়ের খাটে বসে রইলাম। চিন্তাটা আবার এলো। আচ্ছা আমি যে, মা মা তুমি কোথায় বলাতে মা উত্তর দিলো। যখন উত্তর টা আর পাবো না সারাদিন মা মা ডেকেও? কি হবে তখন? না, না, আবার চোখে জল জমে যাচ্ছে। আমি ভাবতে পারছি না। কেউ উত্তর দিবে না? তাও আবার কাল থেকে? না। কিছুতেই না। হাত মুখ ধুয়ে গিয়ে দেখি মা রান্নাঘরে পিঠা বানাচ্ছে।
- কি করছো?
- কিছু খাওয়াই না বলে নাস্তা তোকে। তাই ছিটা পিঠা বানায়ছি। গরম গরম খা। আমি টেবিলে বসার সাথে সাথে মা ফ্রাইফেন সহ নিয়ে এসে প্লেটে দিলো। সাথে চিনি দিলো। আহ, খেলাম।
আবার বললাম- পেয়াজ মরিচে ময়দা দিয়ে ঝাল পিঠা কর যে, ওটা করতে।
-আচ্ছা কাল খাওয়াবো।
বুক টা আবার মোঁচর দিয়ে উঠল। কাল? যদি না থাকে মা? আর কিছু বলতে পারলাম না৷
মায়ের সাথেই ছিলাম। এখন পড়তে বসা হয় না সব বন্ধ তাই। মায়ের সাথে বসে সন্ধ্যায় সিরিয়েল দেখতে লাগলাম। কি যে সব কাহিনী। সব সিরিয়েলের এক কাহিনী বিরাট বাড়ির সিড়ির সামনে যত কাহিনী সব হবে। অনেক আগেও দেখেছি বছর খানিক পরে দেখাতেও কাহিনী বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না। মায়ের কি বিশাল বিশাল যুক্তি। আমি মাথা নেড়ে নেড়ে হাসছি। সায় ও দিচ্ছি। আচ্ছা মা সারাদিন করবে টাও কি? বাবা এখনো আসে নি৷ আমি যে রোজ বিকেলে বের হই, আসি ১০ টায়। একা সময় কাটে কিভাবে মায়ের। তাই তো বাসায় থাকলে আমি মোবাইল নিয়ে বসে থাকলে মা চিল্লাচিল্লি করে৷ কিছুক্ষন পর বাবা এলো। আমি উঠে রুমে গেলাম।
বাবা স্নানে গেলো। মা রান্না ঘরে চা বানাচ্ছে৷ টুংটাং আওয়াজ হচ্ছে। চা পাতার গন্ধ আসছে৷ বাবার সাথে কি নিয়ে যেন কথা শুরু হয়ে গেলো। বুকটা আবার ভারী হয়ে যাচ্ছে। চোখ ও ঝাপসা হচ্ছে। যত সময় যাচ্ছে তত যেন ভয় টা জেগে বসছে কিছুতেই ফেলতে পারছি না মাথা থেকে। কিন্তু সামন্য সামন্য বিষয়ে কত রাগারাগি করেছি অযথা মায়ের সাথে। কখনো সরিও বলা হয় নি। কিছুতেই আজ মন থাকছে না রুমে৷ আবার বের হয়ে মায়ের কাছে বসলাম।
-মা চলো লুডু খেলি।
-লুডু কোথায় পাবি?
-এখন সব মোবাইলেই আছে। আসো। বাবাও আসো।
- তোরা খেল আমি খবর দেখি৷
আমি আর মা শুরু করার একটু পর বাবাও এলো। দারুন জমে উঠেছে খেলা। মায়ের ভীষণ বুদ্ধি। আমাকে আর বাবাকে গো হারানি হারাচ্ছে। মা বাচ্চাদের মতো হাসছে। মায়ের মুখটা পুরো লাল হয়ে গেলো। বাবার সাথে বাজি ধরছে মা। বাবা প্রতি বারেই হেরে যাচ্ছে। আবার বলছে তোমাকে জিতিয়ে দিচ্ছি আর কি। মা ভেংচি দিয়ে বলছে -
-কত একে বারে? আমার কি বুদ্ধি কম? আমি আছি বলে এখনো এই সংসার ঠিকে আছে। বাবার সাথে মায়ের ঝগড়া লেগে গেলো।
তা মামার বাড়ি অবধি ঘুরে আসে৷ আমার মনে হচ্ছে আসলেই তো৷ মা না থাকলে কি হবে? সংসারেই তো আর থাকবে না? বাবা অফিস থেকে এসে কাকে ডাকবে? বোনেরা কার কাছে আরাম করতে আসবে? আসবে তো তখন?
আমি উঠে বাথরুমে গিয়ে মুখে পানি দিলাম। আপ্রাণ চেষ্টা করছি এই চিন্তাটা ঝেড়ে ফেলতে। রাতে খাওয়ার সময় তিনজনে মিলে অনেক কথা হলো। আবার মা বাবার মিষ্টি ঝগড়া লেগে গেলো। কেউ কাউকে ছাড় দেয় না। অন্য দিন ব্যাপারটা বিরক্তিকর লাগলেও আজ মনে হচ্ছে থাক না। এই ঝগড়া যেন শেষ না হয়।
অনেক রাত অবধি ঘুম হলো না। সকালের দিকে ঘুমালাম। সকালে মায়ের এক ডাকে উঠে গেলাম৷ মা বলল-
- কি হয়ছে আজ? এত তারাতাড়ি? চোখ লাল কেন ঘুম হয় নি?
আমি মায়ের কোলে আবার শুয়ে পড়লাম। মা মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। চুল গুলোতে এলোমেলো সিঁথি কাটছে। মেয়েদের মতো উকুন ও দেখছে। আমি মায়ের হাতটা বুকে নিয়ে জড়িয়ে ধরলাম। মা বললাম-
- কি হয়ছে?
-তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে না তো?
- যেতে তো সবাইকে হবে একদিন। শুধু সময় জানি না আমরা তাই অন্য কাজে লিপ্ত থাকি। আপন মানুষ গুলোকে সময় দেওয়া হয় না।
আমি আরো জোর জড়িয়ে ধরলাম মা কে৷ কিছু বলতে পারছি না। আমি তিন দিন ঘর থেকে বের হলাম না। মায়ের সাথেই ছিলাম। সারাক্ষন। মা কিছু করার আগে চেক করে নিচ্ছিলাম। গ্যাসের লাইন, বাথরুম, ছাদ। মায়ের সাথে সারাদিন গল্প, খুনসুটি। কোন রাগারাগি নেই। মায়ের বকা গুলো যেন আরো ভালো লাগছিল। প্রতিবার মনে হচ্ছিল এইটা যেন ভালোবাসা। শেষ না হোক এই ভালোবাসা। এখন নিজেকে মায়ের একদম ছোট বাচ্চার মতো লাগছিলো। যেন এখন যদি কেউ বলে এই তোর মা চলে যাচ্ছে। আমি সব খেলা ছেড়ে ছুড়ে মাটিতে গড়িয়ে কাঁদবো।
শুক্র বার বাবা বাসায় ছিলো। তাই আমি বের হলাম। হাটতে হাটতে সে জায়গায় গেলাম। লোকটাকে আবার দেখলাম। ওনাকে গালি দিবো নাকি ধন্যবাদ বুঝতে পারছিলাম না। আমাকে ভয় লাগানোর জন্য। কিন্তু আমি কাছে যেতে উনি হেসে উঠলেন।
-আপনি আমায় মিথ্যা বলেছিলেন কেন?
- মিথ্যা তো নয়, কে কখন মরবে কে জানে? যখন মরবে জানিস তখন যত প্রেম ভালোবাসা। এর আগেই নিজেরাই মারার পায়তারা করিস। একবার ও ভাবিস না এরা না থাকলে তোদের অস্তিত্ব কোথায় ছিলো৷
আমি বুঝতে পারলাম ওনার কথা। কিন্তু আবার বাচ্চাদের মতো জিজ্ঞেস করলাম-
- আমার মায়ের কিছু হবে না তো?
লোকটা আবার উচ্চস্বরে হেসে উঠল।
- কি জানি? কার ভাগ্যে কখন মৃত্যু লেখা আছে?
তখন বাবার মোবাইল থেকে ফোন এলো। রিসিভ করতেই বাবা বলে উঠল-
- কোথায় তুই? তারাতাড়ি আয়।
- কি হয়েছে?
আর কিছু বলার আগেই বাবা ফোন কেটে দিলো। লোকটা আবার উচ্চস্বরে হেসে উঠল। আমি ছুটছি, প্রানপণে ছুটছি। চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। সেন্ডেল খুলে যাচ্ছে।
আমি বাড়ির দিকে ছুটছি। মায়ের দিকে ছুটছে। কেউ ছোঁয়ার আগে আমি ছুঁয়ে ফেলবো মা কে।
-প্লিজ মা, প্লিজ। তুমি ছাড়া ভীষণ অসহায় তোমার ছেলে। যেও না কোথাও। প্লিজ মা। প্লিজ।
আমি ছুটছি। পথ যেন শেষ হচ্ছে না।
- প্লিজ মা, আমার লক্ষী মা। আমি কখনো কষ্ট দিবো না তোমায়। প্লিজ যেও না। প্লিজ। দাঁড়িয়ে থাকো বারান্দায়, আমি আসার আগেই খুলে দাও দরজা। প্লিজ মা..
সমাপ্ত~
#আস্ফালন
#দোলনা_বড়ুয়া_তৃষা।
#অনুগল্প
👉নিত্যনতুন গল্প পড়তে পেইজটি Follow করুন অবসর সময়ে হ্যাপি রিডিং।
শাইখ আসিম আল হাকিমকে এক মহিলা তার সমস্যা পাঠিয়েছেন, বিয়ের সময় তাকে শশুরবাড়ি থেকে যে গহনা দেয়া হয়,আত্মীয়রা যে গহনা গিফট করে সেসব তার কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
এখন তার প্রশ্ন হল যে গহনার তাকে গিফট করা হয়েছিল কিন্তু পরবর্তীতে আবার ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়েছে অর্থাৎ তার মালাকানাধীন নাই তার যাকাত তাকে দিতে হবে কিনা!
শাইখ আসিম এই প্রশ্নের উত্তর দেবার আগে এই ধরনের ইন লস দের এক চোট গালাগাল করলেন! শুনে আমি হাসতে হাসতে মরি!
"তোমরা হলে ক্রুক্স, তোমরা থিভস! গিফট করা মানে সে জিনিস তার হয়ে যায়। কি করে তোমরা আরেক জনের জিনিস নিয়ে নিতে পার! চুরি করতে পার! আল্লাহর রাসূল সা: বলেছেন গিফট করার পর সেগুলো যারা আবার ফেরত নিয়ে যায় তারা হল ওই এক্সাম্পল এর মত কোন কুকুর বমি করবার পর তা চেটে খেল!
আরও বললেন তিনি খুবই শকড যে এই ধরনের প্রশ্ন তিনি সবসময় উপমহাদেশ অর্থাৎ ইন্ডিয়া পাকিস্থান বাংলাদেশ থেকেই বেশী পান।
সেখানে বিয়ের সময় আত্মীয় থেকে পাওয়া সব গিফট পর্যন্ত বউকে দেয়া হয় না। নিজেদের ইচ্ছা মত আংটি বা ব্রেসলেইট দিয়ে বাকী গুলো নিজেরাই রেখে দেয়! তিনি এও বলেন "ও হারিয়ে ফেলবে,বেঁচে দিবে" এসব অজুহাত দেবে না! তার জিনিস সে যা খুশি তাই করবে!যাকে ইচ্ছা তাকে দিবে! নান অফ ইওর বিজনেস।
যা হোক প্রশ্নের উত্তর মন দিয়ে শুনুন,
সে গহনার যাকাত তাকে দিতে হবে না যে গহনা তার মালিকানাধীন নয়। অর্থাৎ যে গহনা তার কাছে নেই, সে চাইলেই নিজের ইচ্ছামত সেগুলো কাওকে দিয়ে দিতে, বিক্রি করে দিতে বা যা খুশি তাই করতে পারবে না সে গহনার যাকাতও তাকে দিতে হবে না।"
অর্থাৎ গহনা যার মালিকানায় থাকবে গহনা তার। যাকাত দেবার দায়িত্ব তার। না দেবার গুনাহও তার। নিজের কাছে রেখে মুখে যতই বলেন না কেন এটা অমুকের, ততক্ষন পর্যন্ত সেটা অমুকের নয় যতক্ষন তার মালিকানায় তা না আসে। আল্লাহকে ধোঁকা দেয়া যায় না..
আমি সত্যিই অবাক হয়েছি অন্য দেশী এক মহিলার মুখে এই প্রশ্ন শুনে। কারণ এই কালচার যে এতটা কমন আমার জানা ছিল না। আমি ভাবতাম খুব কম মানুষই বুঝি এমন করে!
আমার বুঝে আসে না বিয়ের দিন গা ভর্তি গহনা দিয়ে সেগুলো আবার ফেরত নিয়ে যাবার মানে কি! এটা কি এক ধরনের ইনভেস্টমেন্ট?
নাকি জাস্ট লোক দেখানো! লোকে জানবে যে বউকে অনেক গহনা দেয়া হয়েছে! কি লাভ এতে? সম্মান বাড়ানো?
লোকের কাছে সম্মান বাড়িয়ে কি লাভ যে ঘরে থাকবে তার কাছেই যদি ছোট হতে হয়?সম্পর্কের শুরুতেই এভাবে সম্মান নষ্ট করে ফেললে পরবর্তীতে হাজার চাইলেও সম্মান পাওয়া যায় না।
তার চাইতে ততটুকুই দিন না যতটা দিলে ফেরত নিতে লোভ জাগবে না! হোক পাতলা চেন হালকা দুটো চুড়ি...তাই দিন না যা স্বত্ত্ব ত্যাগ করে দিতে পারবেন! সামর্থ্য না থাকলে দিয়েন না!
আমার পরিবারে আমি এমনটা কখনো দেখিনি! আমার ভাই এর বউকে বিয়েতে যে গহনা দেয়া হয়েছিল,আমাদের দিকের আত্মীয়দের কাছ থেকে যে গহনা উপহার পেয়েছিল তা বিয়ের দিন থেকেই তার মালিকানাধীন ছিল।কিউরিওসিটির বশেও আমরা কেউ কোনদিন দেখতেও চাইনি!
আমি বেশ গর্বের সাথে বলতে পারি, ছোটবেলা থেকেই দেখেছি আমার মার নৈতিকতার জ্ঞান খুবই টনটনে! কেবল তার ছেলের বউ নয় অন্য কারো ব্যাপারেই তার কোন আগ্রহ নাই। তিনি কোনদিন জানতেও চাননি সে গহনা সে কি করেছে। বিক্রি করেছে,নতুন বানিয়েছে নাকি কাওকে দিয়ে দিয়েছে!
কারন ওটা "নান অফ আওয়ার বিজনেস"!
Tanzina Rahman
১০ই সফর,১৪৪৫।
দুনিয়াতে কতো মানুষ আল্লাহর একত্ববাদ থেকে দূরে। কতো লোক মিথ্যে ইলাহকে বানিয়ে রেখেছে তাদের রব। বিকৃতি আর বিচ্যুতির এই দুনিয়ায় আপনি কেবলমাত্র একজন সত্য ইলাহ, সত্য রবেরই ইবাদাত করেন।
শুধুমাত্র এই নিয়ামতের শুকরিয়া জ্ঞাপন করে একজীবনে শেষ করা যায়, বলুন? সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি!
Arif Azad said
❄️কী খাবো ভেবে পাচ্ছি না।
I can not think what to eat.
❄️কী বলবো ভেবে পাচ্ছি না।
I can not think what to say.
❄️কী করবো ভেবে পাচ্ছি না।
I can not think what to do.
❄️কী নিবো ভেবে পাচ্ছি না।
I can not think what to take.
❄️কী শেখাবো ভেবে পাচ্ছি না।
I can not think what to teach.
❄️কী শিখবো ভেবে পাচ্ছি না।
I can not think what to learn.
❄️কী লিখবো ভেবে পাচ্ছি না।
I can not think what to write.
❄️কী পরিধান করবো ভেবে পাচ্ছি না।
I can not think what to wear.
পড়া শেষে Done লিখতে ভূলবেন না কিন্ত।
Munjerin shahid
তোমাদের এমন ঘটনা থাকলে শেয়ার করো একটু হাসি🤭
শ্বশুরবাড়িতে ঘটে যাওয়া কিছু লজ্জা জনক ঘটনা😐
১. একবার বরের বাইকের শব্দ শুনে রুমের দরজার পেছনে লুকিয়ে ছিলাম তারে ভয় দেখাতে!! "ভাউউউ" করে এক চিৎকার করার পর দেখি বরের জায়গায় শ্বশুর দাড়িয়ে🐸 বরের সাথে বাসায় ফেরায়,,বরের আগেই তিনি আমার রুমে এসেছিলেন, আমার পছন্দের সিঙারা দিতে||😑
২. অলয়েজ আমি ওয়াশরুমে ঢুকলেই বর লাইট অফ করে ভীষণ বিরক্ত করে। সেদিন সে বাথরুমে ঢুকেছে,, কাজেই চেঁচামেচিও করতে পারবে না! এই ভেবে বাথরুমের লাইট অফ করে ফিসফিস করে বলছিলাম,"
"আজাদের পোলা এবার কেমন লাগে?"😏
ভেতর থেকে মামা শ্বশুর উত্তর দিলো,,,
"মা, আমি কালামের পোলা_____
এবার লাইট টা দে___||😐🤧
©
কি চমৎকার ❤️
ঈদের দিন গ্রামের বাড়ি ভর্তি আত্মীয় স্বজন! সকালে ঈদের শাড়িটা তখনো ব্যাগ থেকে বের করিনি।
ভীড়ের মধ্য থেকে আমার ছোট ফুপির বড় মেয়ে অনেক জড়তা নিয়ে আমাকে অন্য রুমে ডেকে নিয়ে গেল।
ছবির এই সাদা জামা-ওড়নার সেট টা আমার হাতে তুলে দিয়ে বলল- আপু আমি তোমার জন্যে এই জামা টা কিনেছি।আমার নিজের টিউশনির টাকা জমিয়ে কেনা।একটু কম দামি হয়ে গেছে।তুমি কি পড়বা আপু???"
আমি হতচকিত হয়ে বললাম- এই মেয়ে বলে কি!!!?
এই মেয়ে এতো বড় হল কবে???
আর ও বলে কি এইসব! কম দামি??? আমার কাছে তো এই জামার দাম লাখ টাকা!!!
আমি ঈদের সারাদিন এই জামা পড়ে কাটালাম। আজকে ও সারাদিন এই জামা পরে কাটিয়েছি! মেহমানদারি করেছি।ঘুরেছি।ঝোল আর রান্না করার সময় মশলার দাগ লাগিয়ে জামার একাকার অবস্থা বানিয়ে ছেড়েছি।তাও বদলাইনি।
আমার পিচ্চি ফুপাতো বোনটা আমার কাছে কত ইম্পর্ট্যান্ট এটা আমি ইন্টেনশনালি ওকে বোঝাতে চেয়েছি।
সত্যি বলতে, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষায় বাচ্চা মেয়েটার চেষ্টা দেখে মনটা এত্তো বড় হয়ে গেল!
উপরের এই ঘটনার সূত্র ধরে ই এই পোস্ট টার বাকি অংশ। যেটাই আসলে লেখাটার মূল উদ্দেশ্য।
পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজের একটা কি জানেন?
এই আত্মীয়তার সম্পর্ক জিনিসটা টিকিয়ে রাখা।এর যত্ন নেয়া।
আল্লাহ সেটা জানেন।খুব ভাল করে জানেন।
হয়তো তাই বারে বারে রাসূল সা: এর অজস্র হাদিসে সিলাহ-রেহমি টিকিয়ে রাখাকে এতো গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
আত্মীয়স্বজন নিয়ে শতভাগ ইতিবাচক অভিজ্ঞতা
এই পৃথিবীতে কারো আছে বলে আমি বিশ্বাস করিনা।
তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার সবচেয়ে অপছন্দের কন্টেন্ট হল আত্মীয় স্বজন কে কুটনা,লোভী,প্যাড়া দেয়া টাইপ হিসেবে উপস্থাপন করে করা কমেডি জনরার কন্টেন্ট।
কেন জানি আমি এগুলো সহ্যই করতে পারিনা!
আমি স্বীকার করি যে আমাদের পরিবারগুলোতে এরকম প্রচুর টক্সিক মানুষ আছেন।
কিন্তু আমরা যেন হাসি ঠাট্টা টাইপ কন্টেন্ট নরমালাইজ এবং জেনারালাইজ করার মাধ্যমে আত্মীয় স্বজনকে ঘৃণা করতে নিজেরা না শিখি না শিখাই।
বিশেষ করে বাচ্চাদের।
ঐ যে বলছিলাম, এটা আমাদের রাসূল সা: এর সুন্নাহ না!
সুন্নাহ টা পুরাই অপজিট!
আমাদেরকে পারমিশনই দেয়া হয়নি এমন কিছুর যা এই বন্ধন টাকে হাল্কা করে,ছিন্ন করে!
মিলিয়ে দেখবেন, আত্মীয়দের মধ্যে যে মানুষটা আমাদের কষ্ট দেয় আপনি আমি মনে মনে আশা করি সে নিজে এসে আমাদের কে heal করবে!
এরচেয়ে unrealistic expectation আর কিছু নেই! আমাদের এই প্রত্যাশাটার জন্যে ই এই সম্পর্ক টা এতো জটিল।
সবাইকে নিয়ে ভাল থাকাটা আল্লাহকে খুশি করার জন্যে একটা লড়াই এর মত।আল্লাহ সেটা দেখেন।আপনার লড়াইটা তিনি জানেন।
কল্পনা করেই দেখুন,বুকের ভেতরে কারো জন্যে ঘৃণার নিয়ে ঘুরছেন অথবা সেই একই মানুষের জন্যে ক্ষমা নিয়ে ঘুরছেন?
মিলিয়ে দেখুন কোনটা হাল্কা?
কিছু জিনিস জীবনে ছেড়ে দিতে হয়,ভুলে যেতে হয়!নতুবা সত্যি বলতে জুলুমটা নিজের উপর হয়।আমরা কেন যেন এটা মানতে চাইনা।
আত্মীয়দের সবার ফাইনানশিয়াল এবং সোশ্যাল স্ট্যাটাস এক হয়না।সেটার ব্যাপারে যতভাবে সেন্সিবল থাকা যায় সেটা জরুরী।
বুকে মায়া আর সম্মান টা আছে কীনা সেটাই বড় কথা।
আমাদের সব কাজ সব আত্মীয়স্বজনকে খুশি করবেনা।দিনশেষে নিজেকে বলা জরুরী যে, আমরা আমাদের নিজেদের দায়িত্বটুকু ঠিকমত করেছি কীনা। ইনসাফ করেছি কীনা। জুলুম হয়ে যায়নি তো?
দিনশেষে আয়নাতে নিজের চোখের দিকে নিজের তাকাতে পারলেই হল।
আল্লাহর পুরষ্কারের কোন প্রতিশ্রুতি মিথ্যা না।
বাকি হিসাব তো ওপারেই হবে।সেদিন হয়তো আত্মীয়দের জন্যে আপনার করা ছোট ছোট অনেক কাজ মিজানের পাল্লায় ভারি হবে!
জান্নাতের উছিলা হিসেবে কারো কারো জন্যে সেটাই হয়তো যথেষ্ট হয়ে যাবে!
Dr. Shusama Reza
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka
