Mohammad Hosen

Mohammad Hosen

Share

07/09/2024

মিলাদুন্নাবী {ﷺ} এর দলিল।

১।"ঈদে মিলাদুন্নবী {ﷺ}কি?

ঈদ (عید)শব্দটি আরবী। আল মু'জামুল ওয়াফী অভিধানগ্রন্থনাসারে এর অর্থ হলো ১-কোনো উৎসব,,
২-মৌসুম,,
৩-যে আনন্দ বারবার ফিরে আসে। (
আর মিলাদুন্নবী (میلاد النبی) অর্থ হলো 'নবিজীর আগমন,
সুতরাং "ঈদে মিলাদুন্নবী {ﷺ} বলা হয় পৃথিবীতে নবিজীর শুভ আগমনে বা আগমনকে কেন্দ্র করে শরীয়তসম্মতভাবে আনন্দ উদযাপন করা।

২। ঈদে মিলাদুন্নবী {ﷺ} পালন করা কি পবিত্র কোরআন সুন্নাহ সম্মত? নাকি বিদআত??

এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনুল কারীমে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
قُلۡ بِفَضۡلِ اللّٰہِ وَ بِرَحۡمَتِہٖ فَبِذٰلِکَ فَلۡیَفۡرَحُوۡا ؕ ہُوَ خَیۡرٌ مِّمَّا یَجۡمَعُوۡنَ ﴿۵۸﴾

অর্থঃ- হে রাসূল {ﷺ} আপনি উম্মতগনকে বলে দেন,,আল্লাহর অনুগ্রহ ও রাহমাতের পেয়েছে,, তারা যেনো আনন্দ উদযাপন করে ; তা ওটা (পার্থিব সম্পদ) হতে বহু গুণে উত্তম যা তারা সঞ্চয় করছে। ( #সূরা_ইউনুস_আয়াত_৫৮)

আয়াতে কারীমায় "রহমত" দ্বারা কি বোঝানো হয়েছে এ ব্যাপারে রইছুল মুফাচ্ছেরীন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ বলেছেন
عن ابن عباس رضی الله تعالی عنهما ان الفضل العلم والرحمة محمد ﷺ
অর্থাৎ, এখানে الفضل দ্বারা ইলম তথা জ্ঞান কে আর رحمة দ্বারা রাসূল {ﷺ}কে বোঝানো হয়েছে,,
এছাড়াও #সূরা_আম্বিয়ার_১০৭_নং_আয়াতে বলা হয়েছে

وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا رَحۡمَۃً لِّلۡعٰلَمِیۡنَ ﴿۱۰۷﴾
আমিতো তোমাকে বিশ্ব জগতের প্রতি শুধু রাহমাত রূপেই প্রেরণ করেছি।

এছাড়াও আল্লাহ তায়ালা আরো বলেনঃ
#সূরা_আলে_ইমরান_আয়াত_১৬৪ঃ

لَقَدۡ مَنَّ اللّٰہُ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ اِذۡ بَعَثَ فِیۡہِمۡ رَسُوۡلًا مِّنۡ اَنۡفُسِہِمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ وَ یُزَکِّیۡہِمۡ وَ یُعَلِّمُہُمُ الۡکِتٰبَ وَ الۡحِکۡمَۃَ ۚ وَ اِنۡ کَانُوۡا مِنۡ قَبۡلُ لَفِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ ﴿۱۶۴﴾
নিশ্চয়ই আল্লাহ মু’মিনদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, তিনি তাদের নিজেদেরই মধ্য হতে রাসূল প্রেরণ করেছেন, যে তাদের নিকট তাঁর নিদর্শনাবলী পাঠ করে ও তাদেরকে পবিত্র করে এবং তাদেরকে গ্রন্থ ও বিজ্ঞান শিক্ষা দান করে এবং নিশ্চয়ই তারা এর পূর্বে প্রকাশ্য ভ্রান্তির মধ্যে ছিল।

অর্থাৎ রাসূল {ﷺ} কে পাঠিয়ে মুমিনগণের উপর আল্লাহ তায়ালা চরম এহসান করেছেন।

আল্লাহ তায়ালা একদিকে বলেছেন আমরা যেনো রহমত পেয়ে আনন্দ উদযাপন করি,,, অন্যদিকে পরপর তিন তিনটি আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নবিজীকে উম্মতের জন্য, জগতের জন্য রহমত বলেছেন।

আর নবিজীর নবিজীর চেয়ে বড় রহমত আর কি হতে পারে??

যেই নবিজীর জন্য আল্লাহ তায়ালা সমস্ত সৃষ্টিজগৎ সাজিয়েছেন,,যেই নবীজির উম্মত হওয়ার জন্য সমস্ত নবিগন আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করুয়েছেন, যার সুপারিশ ব্যতীত হাশরের ময়দানে কেউ জান্নাতে যেতে পারবেনা, এমন নবিই তো একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় রহমত,,,আর এ রহমত বিনা চাওয়াতে আল্লাহ আমাদেরকে নসিব করেছেন,,তাতে ঈমানদারগন অবশ্যই খুশি হওয়ার কথা।

আর নবিজীর আগমনের দিনটি এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো যে হযরত আদম আঃ থেকে শুরু করে হযরত ইসা আঃ পর্যন্ত সকল নবীগনকে আল্লাহ তায়ালা স্বীয় স্বীয় কিতাবে নবীজির আগমনের শুভ সংবাদ দিয়েছেন,,, দুনিয়াকে এতো সুন্দর করে সাজিয়েছেন নবীজির আগমনকে কেন্দ্র করে,,, সুতরাং নবিজীর দুনিয়াতে আগমন অবশ্যই মহান দিবস হিসেবে খ্যাত।
Collected

19/08/2024
10/07/2024

বিষয়ঃশাহাদাতে কারবালা
পর্বঃ০৪
কুফার চিঠি

মক্কা শরীফে আগমনের সাথে সাথে কুফা থেকে লাগাতার চিঠিপত্র এবং সংবাদ-বাহক আসতে শুরু করলাে। অল্প সময়ের মধ্যে হুসাইন (রাঃ) এর কাছে দেড়শ' চিঠি এসে পৌছল। অপর এক বর্ণনায় বারশ' চিঠি এসেছিল। কোন কোন উলামায়ে কিরাম তাঁদের কিতাবে বারশ' চিঠির কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু অধিকাংশ কিতাবে দেড়শ' চিঠির কথা উল্লেখিত আছে। দেড়শ’ চিঠির বিশেষ নির্ভরযােগ্য। কারণ সেই যুগে ডাক আদান-প্রদান অত সহজ ছিল না। লােকেরা চিঠি-পত্র, পত্র বাহকের মাধ্যমে প্রেরণ করত এবং পত্র-বাহক পায়ে হেঁটে বা ঘােড়ায় চড়ে গন্তব্যস্থানে চিঠি পৌছিয়ে দিত। এমতবস্থায় দেড়শ' চিঠি পৌছাটা অত সহজ ব্যাপার নয়। যা হােক, ধরা যাক ইমাম হুসাইন (রাঃ) এর কাছে দেড়শ চিঠি পৌছেছিল। প্রত্যেক চিঠির বিষয়বস্তু ছিল খুবই আকর্ষণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক চিঠির সার সংক্ষেপ হচ্ছে হে ইমাম হুসাইন (রাঃ)! আমরা আপনার পিতা হযরত আলী (রাঃ)এরই অনুসারী এবং আহলে বায়তের ভক্ত। আমরাতাে হযরত মুয়াবিয়া (রাঃ) কে সমর্থন করিনি, আর তাঁর অনুপযুক্ত ছেলে ইয়াজিদকে মানার প্রশ্নই উঠতে পারে না। আমরা আপনার পিতা আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (রাঃ) ও আপনার ভাই হযরত হাসান (রাঃ) এর সমর্থনকারী। আমরা ইয়াজিদের অনুসারী নই। ইয়াজিদ এখন তখতারােহন করেছে, কিন্তু আমরা ইয়াজিদকে খলিফা বা ইমাম মানতে পারিনা। আপনাকেই বরহক ইমাম, বরহক খলিফা মনে করি। আপনি মেহেরবানী করে কুফায় তশরিফ নিয়ে আসুন। আমরা আপনার হাতে বায়াত করবাে এবং আপনাকে খলিফা হিসেবে গ্রহণ করবাে। আপনার জন্য আমাদের জানমাল কুরবান করতে প্রস্তুত এবং আপনার হাতে বায়াত করে আপনার অনুসরণে জিন্দেগী অতিবাহিত করতে ইচ্ছুক। তাই আপনি আমাদের কাছে তশরিফ আনুন, আমাদের প্রতি মেহেরবানী করুন এবং আমাদেরকে আপনার সুহবতে রেখে আপনার ফয়েজ-বরকত দ্বারা আমাদেরকে উপকৃত করুন।” সমস্ত কাবিলা- খানদানের থেকে তাঁর (রাঃ) কাছে এই ধরণের চিঠি এসেছে। অনেকেই এই ধরণের চিঠি লিখেছিল, 'হে মহান ইমাম! আপনি যদি আমাদের কাছে না আসেন, আমাদেরকে বাধ্য হয়ে ইয়াজিদের হাতে বায়াত করতে হবে। কারণ সরকারের মোকাবেলা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কাল কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ তা'আলা যখন জিজ্ঞেস করবেন- কেন আমরা নালায়েক ইয়াজিদের হাতে বায়াত গ্রহণ করলাম, তখন আমরা পরিস্কার বলব, হে মওলা! আমরা আপনার নবী করিম (সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর দৌহিত্রের কাছে চিঠি লিখেছিলাম, সংবাদ পাঠিয়েছিলাম, জান-মাল কুরবানী করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি (রাঃ) যেহেতু তাশরীফ আনেনি এবং আমরা সরকারের বিরােধিতা করতে পারিনি, সেহেতু আমরা বাধ্য হয়ে ইয়াজিদের হাতে বায়াত করেছি। তাই হে ইমাম! আপনি স্মরণ রাখবেন, আমাদের এ বায়াতের জন্য আপনিই দায়ী হবেন।
(চলবে)

সংগৃহীতঃইসলামী বিশ্বকোষ অ্যাপ
মূলঃকারবালার প্রান্তর
লিখকঃ খতীবে পাকিস্তান আল্লামা শফী উকাড়বী (রহঃ)

10/07/2024

বিষয়ঃশাহাদাতে কারবালা
পর্বঃ০৩
ইমাম হুসাইন (রাঃ) এর মক্কার উদ্দেশ্যে মদীনা ত্যাগ

ইমাম হুসাইন (রাঃ) এভাবে অস্বীকার করে ওয়ালিদের দরবার থেকে আপন জনদের কাছে ফিরে আসলেন এবং সবাইকে একত্রিত করে বললেন, আমার প্রিয়জনেরা! যদি আমি মদীনা শহরে অবস্থান করি, আমাকে ইয়াজিদের হাতে বায়াত করার জন্য বাধ্য করবে, কিন্তু আমি কখনও বায়াত করতে পারবাে না। বাধ্য করলে নিশ্চয় যুদ্ধ হবে, ফ্যাসাদ হবে, কিন্তু আমি চাইনা আমার কারণে মদীনা শরীফে লড়াই বা ফ্যাসাদ হােক। আমার মতে এটাই সমীচীন হবে যে, এখান থেকে হিজরত করে মক্কা শরীফে চলে যাওয়া। নিজের আপনজনেরা বললেন, আপনি আমাদের সর্দার, আমাদেরকে যা হুকুম করবেন তা মেনে নেব। অতঃপর তিনি (রাঃ) মদীনা শরীফ থেকে হিজরত করার সিদ্ধান্ত নিলেন। আহ! অবস্থা কেমন কঠিন হয়ে গিয়েছিল যে, ইমাম হুসাইন (রাঃ) কে সেই মদীনা শরীফ ত্যাগ করতে হচ্ছিল, যে মদীনা শরীফে তাঁর (রাঃ) নানাজান (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহে ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এর রওজা মুবারক অবস্থিত। তাঁর (রাঃ) নানাজান (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহে ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এর রওজা মুবারক যিয়ারত করার উদ্দেশ্যে হাজার হাজার টাকা-পয়সা ব্যয় করে, আপন জনদের বিরহ-বেদনা সহ্য করে, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দূর-দূরান্ত থেকে লােকেরা আসে এই মদীনায়। কিন্তু আফসােস্, আজ সেই মদীনা তিনি (রাঃ) ত্যাগ করছেন, যেই মদীনা তাঁরই (রাঃ) ছিল। নবীজী (সাল্লাল্লাহ তাআলা আলাইহে ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এর নয়নের তারা ছিলেন তিনি (রাঃ)। ক্রন্দনরত অবস্থায় তিনি (রাঃ) নানাজান (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহে ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এর রওজা পাকে উপস্থিত হয়ে বিদায়ী সালাম পেশ করলেন এবং অশ্রুসজল নয়নে নানাজান (সাল্লাল্লাহ তাআলা আলাইহে ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এর অনুমতি নিয়ে আত্মীয় পরিজনসহ মদীনা শরীফ থেকে হিজরত করে মক্কায় চলে গেলেন। মক্কা শরীফ তিনি (রাঃ) কেন গিয়েছিলেন? আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ ফরমান-

وَمَنْ دَخَلَهُ كَانَ اَمِنًا -

(যে হেরেম শরীফে প্রবেশ করলাে, সে নিরাপদ আশ্রয়ে এসে গেল।) কেননা হেরেম শরীফের অভ্যন্তরে ঝগড়া-বিবাদ, খুন-খারাবী না জায়েয, হারাম। এমনকি হেরেম শরীফের সীমানায় উকুন মারা পর্যন্ত নিষেধ। আজকাল সাপ বিচ্ছু ইত্যাদি মারা যায়। কিন্তু যে সব পশু-পাখি মানুষের কোন ক্ষতি করে না ঐগুলাে মারা জায়েয নাই। মুমিনদের ইজ্জত-শান আলাদা, তাদের মান-সম্মান অনেক উচ্চ হয়ে থাকে। তাই ইমাম হুসাইন (রাঃ) চিন্তা করলেন যে, হেরেম শরীফের সীমানায় অবস্থান করে আল্লাহ তাআলার ইবাদত বন্দেগীতে বাকী জীবনটা কাটিয়ে দেবে- এ মনােভাব নিয়ে তিনি (রাঃ) মদীনা শরীফ থেকে মক্কা শরীফ চলে আসলেন।
(চলবে)

সংগৃহীতঃইসলামী বিশ্বকোষ অ্যাপ
মূলঃকারবালার প্রান্তর
লিখকঃ খতীবে পাকিস্তান আল্লামা শফী উকাড়বী (রহঃ)

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address


Dhaka