National Hijama and Ruqyah Center
A center for prophetic treatment
আবু মাসউদ উকবা ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ فَاعِلِهِ
যে ব্যক্তি কোন ভালো কাজের পথ দেখায়, তার জন্য রয়েছে সে ভালো কাজটি সম্পাদনকারীর মত সমান সওয়াব।
রেফারেন্সঃ
সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৮৯৩
সূত্র : রিয়াযুস সালেহীন, ৩য় খণ্ড, মাকতাবাতুল আশরাফ কর্তৃক প্রকাশিত, হাদীস নং ১৭৩
পাদটীকাঃ
ভাল কাজটি সম্পাদনকারী যেই সওয়াব পাবেন, সেই কাজের দিকে আহ্বানকারীও সমান সওয়াব পাবেন। তাই আমরা যদি কাউকে কোনো ভাল কাজে উদ্বুদ্ধ করি, যতদিন সে ব্যক্তি ভাল কাজটি করতে থাকবে, আমরা তার সওয়াবের অংশীদার হব। এমন কি আমাদের মৃত্যুর পরেও এই সওয়াব আমাদের আমলনামায় জমা হতে থাকবে।
This content is copied from Muslims Day Android App
Download Link: https://play.google.com/store/apps/details?id=theoaktroop.appoframadan
22/08/2023
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন,
এক সাহাবী হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, গত রাতে আমাকে এমন একটি বিচ্ছু ধংশন করেছে, যা আমি কখনো দেখি নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দোয়াটির কথা বলে বললেন : সন্ধ্যাবেলায় তুমি যদি এটি পড়তে তবে তা তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারত না-
اَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّآمَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
(অর্থ : আমি আল্লাহর পূর্ণ কালিমাসমূহের সাহায্যে তাঁর সকল সৃষ্টির যাবতীয় অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।)
দোয়াটি সকালেও পড়া যেতে পারে।
রেফারেন্সঃ
সহীহ মুসলিম ৬৬৩৩
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
উসামা ইবনু শারীক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন,
বেদুইন আরবরা একবার বলল, হে আল্লাহর রাসূল ! আমরা কি চিকিৎসা করব না? তিনি বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা চিকিৎসা কর। আল্লাহ তা‘আলা এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেননি যার কোনো প্রতিষেধক তিনি রাখেননি। কিন্তু একটি রোগের কোন প্রতিষেধক নেই। সাহাবীগণ বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল ! সে রোগটি কি? তিনি বললেনঃ বার্ধক্য।
রেফারেন্সঃ
জামে আত-তিরমিজি ২০৪৫
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
15/08/2023
বদ নজর
12/08/2023
যে সকল সমস্যায় হিজামা উপকারীঃ
১. মাথা ব্যথা, ঘাড় ব্যথা, পিঠের ব্যথা, কোমর ব্যথা পায়ের ব্যথা, জয়েন্ট পেইন (আর্থ্রাইটিস) সহ সকল ধরনের ব্যথায়।
২. এ্যাজমা, ব্রংকাইটিস, COPD, সাইনুসাইটিস, টনসিলাইটিস, ফ্যারিঞ্জাইটিস, নিউমোনিয়া, লাং ইনফেকশান।
৩. হাই কোলেস্টেরল, হাই ট্রাইগ্লিসারাইড, হার্ট ব্লক, হাইপ্রেশার, অতিরিক্ত ওজন।
৪. গ্যাস্ট্রাইটিস (গ্যাসের সমস্যা), বুক জ্বালা পোড়া, পেটের ব্যাথা, গ্যাস্ট্রিক পেইন, গ্যাস্ট্রিক আলসার, ফিসার, পাইলস, ফ্যাটি লিভার, IBS, ।
৫. এটি হেপাটাইটিস বি এর ভাইরাল লোড কমায়।
৬. ঘুমের সমস্যা, স্ট্রেস, পারকিনসন্স ডিজিজ, মানসিক সমস্যা।
৭. স্পোর্টস ইনজুরি
৮. ই।রেক্টা।ইল ডিসফাংশান, ই।জ্যাকু।লেটরি ডিসফাংশান, অন্যান্য যৌ/ন সমস্যা।
৯. থাইরয়েডের সমস্যা।
১০. Gout/ ইউরিক এসিড
১১. রক্তশুন্যতা, থ্যালাসেমিয়াতে আয়রন ওভারলোড কমাতে
১২. PCOS, মাসিকের সমস্যা সহ মেয়েদের অন্যান্য সমস্যা
১৩. অস্টিওপোরোসিস, রিউমাটয়েট আর্থ্রাইটিস সহ আরও অনেক রোগে উপকারী।
১৪. চুল পড়া, এলোপেশিয়া
১৫. মাদকাসক্তি/ ধুমপান নিরসনে
❝বদ নজরের মূল বিষয় হলো, কোন উত্তম বস্তুর প্রতি যখন কোন নিকৃষ্ট চরিত্রের মানুষ হিংসার চোখে দেখে, উহার ফলে তখন সেই মানুষ বা প্রাণী অথবা অন্য বস্তুর ক্ষতি সাধিত হয়।❞
-হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (রাহিমাহুল্লাহ্)
(কিতাব-ফতহুলবারী,দশম খন্ড এর ২০০ নং পৃষ্ঠা)
09/08/2023
রুকইয়াহ কি?
১) শাব্দিক অর্থে রুকইয়াহ মানে হল, ঝাড়ফুঁক, মন্ত্র, তাবিজ কবচ ইত্যাদি।
২) তবে ব্যবহারিক অর্থে রুকইয়াহ বলতে সাধারণত ঝাড়ফুঁকই বুঝায়।
৩ ) রুকইয়ার পারিভাষিক অর্থ হচ্ছে, কোরআনের আয়াত, আল্লাহর নামের যিকর, হাদিসে রাসূল ﷺ অথবা সালাফে সালেহীন থেকে বর্ণিত দোয়া পাঠ করার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কোন বিপদ থেকে মুক্তি চাওয়া কিংবা রোগ থেকে আরোগ্য কামনা করা।
আর এটাই রুকইয়াহ শারইয়াহ’র উত্তম সংজ্ঞা।
আচ্ছা! এবার যদি জিজ্ঞেস করা হয়- এই রুকইয়াহ জিনিসটা আসলে কি?
রুকইয়াহ হল একটি চিকিৎসা পদ্ধতি, আধুনিক ভাষায় পরিচয় করিয়ে দিতে চাইলে এটাকে spiritual healing বলা যায়। অর্থাৎ আধ্যাত্মিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা।
রুকইয়াহ শারইয়াহ কী নয়?
এটা মনের আশা পূরণ কিংবা অসাধ্য সাধনের কোন তদবির না, স্বামীকে বশ করার কোন মন্ত্র না, এটা নামাজ-রোজা কিংবা হজ্ব-যাকাতের মতন বিশেষ কোন ইবাদাত না। এটা একটা চিকিৎসা পদ্ধতি।
এ ব্যাপারে ইসলাম কি বলে?
এই চিকিৎসা পদ্ধতির ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্ধারিত গণ্ডি অতিক্রম না করলেই এটা জায়েজ। এব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “রুকইয়াতে যদি শিরক না থাকে, তাহলে কোনো সমস্যা নেই।” (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৫৫৪৪)
এক্ষেত্রে আলেমদের মত হচ্ছে, এটা তো অবশ্যই শিরক এবং কুফর থেকে মুক্ত হতে হবে, এমনকি এসবের সন্দেহও থাকা যাবে না। এজন্য ওলামায়ে কিরাম কয়েকটি শর্তের ব্যাপারে একমত হয়েছেন, সেসব হচ্ছে:
১. কোন শিরক-কুফর অথবা হারাম বাক্য থাকা যাবে না।
২. যা দ্বারা রুকইয়াহ করা হবে সেটা স্পষ্ট বাক্যে হতে হবে, যার অর্থ ভালোভাবে বোঝা যায়।
৩. দুর্বোধ্য কোন সংকেত বা ভাষায় হওয়া যাবে না, যার অর্থ স্বাভাবিকভাবে মানুষ বুঝে না।
(উদাহরণস্বরূপ আপনি বাংলাদেশে ল্যাটিন ভাষার রুকইয়াহ করতে পারবেন না, কারণ এখানকার মানুষ সেটা বুঝবে না। এজন্যই সালাফের মাঝে কেউ কেউ ঝাড়ফুঁক আরবিতে হওয়াকেও শর্ত বলেছেন। তবে মূলতঃ স্বাভাবিকভাবে বোধগম্য ভাষায় হলে, আরবি হওয়া আবশ্যক না।)
আর হ্যাঁ! রুকইয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই আক্বিদা রাখতে হবে, রাক্বির কোন সাধ্য নেই কাউকে সুস্থ করার কিংবা বিপদ দূর করার। সুস্থতা এবং বিপদমুক্তি আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে, এখানে রুকইয়াহ কেবল দোয়ার অনুরূপ ভূমিকা পালন করছে। অর্থাৎ রুকইয়াহ আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার একটি পদ্ধতি মাত্র।
নোটঃ যিনি রুকইয়াহ করেন, তাকে রাক্বী বলা হয়।
এবারের প্রশ্ন হচ্ছে, কে রুকইয়াহ করতে পারে?
উত্তর হল- নিজের জন্য বা পরিবারের জন্য যে কেউ রুকইয়াহ করতে পারে! এজন্য বিরাট বুজুর্গ হওয়া শর্ত না। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে এমন যে কোন ব্যক্তি, যদি দেখে-দেখে কিংবা মুখস্থ দোয়া অথবা কোরআনের আয়াত পড়তে পারে, তাহলে সেই সেলফ রুকইয়াহ করতে পারবে।
তবে হ্যাঁ, আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদে অথবা জনগণের জন্য ব্যাপকভাবে রুকইয়াহ করতে চান, তাহলে অবশ্যই এ বিষয়ে আপনাকে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখতে হবে। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কেউ যদি চিকিৎসার জ্ঞান না রেখেই চিকিৎসা করে, তবে (কিছু ঘটলে) সেই দায়ী হবে।” (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস নং ৪৫৮৬)
নোটঃ নিজে নিজে রুকইয়াহ করাকে সেলফ রুকইয়াহ বলা হয়।
শেষ প্রশ্ন, আমি কিভাবে রুকইয়াহ বিষয়ে জানতে পারি? অথবা আমি কিভাবে রুকইয়াহ করা শিখতে পারি?
এ বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমদের প্রবন্ধ অথবা বই থেকে জানতে পারেন। অথবা তাদের দরস, বায়ান কিংবা লেকচার থেকে জানতে পারেন।
জাযাকুমুল্লাহু খাইর!
রুকইয়াহ শারইয়াহ আপনাদের জন্য বরকতময় হোক!
Collected from Ruqyah Support BD
05/08/2023
📌হিজামা কী?
হিজামা অন্যতম একটি সুন্নাহ চিকিৎসা যা বিজ্ঞান সম্মত। যাতে মানুষের সকল প্রকার শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতা বিদ্যামান রয়েছে।
ইউনানী ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসারও অন্তর্ভুক্ত। যাকে বাংলায় শিঙ্গা এবং ইংরেজিতে Cupping Therapy ও বলা হয়। ইউনানীতে হাজামাৎ আর আয়ুর্বেদিকে রক্তমোক্ষণ নামে বেশ পরিচিত।
📌হিজামার পদ্ধতি:
এই চিকিৎসা ব্যবস্থা বহু প্রাচীণ। আগে বাঁশ কিংবা প্রাণীর শিং ব্যবহার করে এই চিকিৎসা করা হত। কিন্তু বর্তমানে শরীরের নির্দিষ্ট কিছু অংশ থেকে সাধারণত গ্লাস কিংবা প্লাস্টিক কাপের সাহায্যে রক্ত বের করে ফেলে দেয়া হয়। এর দ্বারা ভেতরের দূষিত রক্ত দূর হয়ে যায়। যার ফলে মানুষ প্রশান্তি অনুভব করে।
📌কেন হিজামা করাবেন?
সুস্থ লোকেরাও হিজামা করাতে পারেন। এতে সুস্থতার সাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। আপনার রোগ হলে যেমন ডাক্তারের কাছে যান। তারপর প্রয়োজন পড়লে অস্ত্রপোচারও করান। তেমনি আপনার শারিরীক রোগ যাদু/সিহরের সমস্যার জন্য হিজামা করাবেন। তাহলে ফায়দা স্বরূপ রোগ থেকে মুক্তি পাবেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি সুন্নাতের উপরও আমল করা হবে ইনশাআল্লাহ।
📌আচ্ছা প্রচলিত চিকিৎসা বিজ্ঞান কি হিজামাকে সমর্থন করে? প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থা কিংবা প্রচলিত চিকিৎসা বিজ্ঞান এটাকে বাতিল, অকার্যকর বা ক্ষতিকর বলে না, বরং সমর্থন করে। প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার সহযোগী হিসেবে এই চিকিৎসা গ্রহণ করা যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে এই যে, হিজামার ব্যপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজামাকে বলেছেন সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসা ব্যবস্থা।
📝2 #
📌 হিজামা সংক্রান্ত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হাদীস দেখেন নিতে পারেন। এছাড়াও আরও হাদিস রয়েছে।
ক) হযরত জাবির রাঃ থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় হিজামায় শেফা রয়েছে।” সহীহ মুসলিম, হাদীছ নম্বর: ২২০৫
খ) হযরত আবদুল্লাহ্ বিন আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “হিজামাকারী কতইনা উত্তম লোক। সে দূষিত রক্ত বের করে মেরুদন্ড শক্ত করে ও দৃষ্টিশক্তি প্রখর করে।” সুনানে তিরমিযী, হাদীছ নম্বর: ২০৫৩
গ) হযরত আবু হুরাইরা রাঃ থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জিবরীল আমাকে জানিয়েছেন যে, মানুষ চিকিৎসার জন্য যতসব উপায় অবলম্বন করে, তম্মধ্যে হিজামাই হল সর্বোত্তম।” আল-হাকিম, হাদীছ নম্বর: ৭৪৭০
ঘ) হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর রাঃ থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম বলেছেন, খালি পেটে হিজামাই সর্বোত্তম। এতে শেফা ও বরকত রয়েছে এবং এর মাধ্যমে বোধ ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়।” সুনানে ইবনে মাজা, হাদীছ নম্বর: ৩৪৮৭
ঙ) হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম বলেছেন, কেউ হিজামা করতে চাইলে সে যেন আরবী মাসের ১৭, ১৯ কিংবা ২১ তম দিনকে নির্বাচিত করে। রক্তচাপের কারণে যেন তোমাদের কারো মৃত্যু না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখবে।” সুনানে ইবনে মাজা, হাদীছ নম্বর: ৩৪৮৬
চ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর সূত্রে নবী (সাঃ) থেকে বর্নিত, “তিনি বলেন রোগমুক্তি তিন জিনিসের মধ্যে রয়েছে। হিজামা লাগানো, মধু পাণ করা এবং আগুন দিয়ে দাগ দেয়ার মধ্যে। তবে আমি আমার উম্মতকে আগুন দিয়ে দাগ দিতে নিষেধ করি”
ছ) কালো যাদু বা কুফুরী বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যেঃ
ইবনুল কাইয়্যূম (রহঃ) মন্তব্য করেন, রাসুলুল্লাহ রাসুলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন যাদু দ্বারা পীড়িত হন তখন তিনি মাথায় সিঙ্গা লাগান এবং এটাই সবচেয়ে উত্তম ঔষধ যদি সঠিকভাবে করা হয়। (যাদ আল মাআদঃ ৪/১২৫-১২৬)
📝3 #
📌হিজামা কিভাবে কাজ করে?
বদ-রক্ত, রোগের জন্য দায়ী জীবাণু প্লাজমা বা ফ্লুইডের সাথে বের করে নিয়ে আসা হয়। যা শরীর থেকে রোগের জন্য দায়ী জীবাণু সরিয়ে ফেলে। এর মাধ্যমে বর্তমানে সংক্রামক সকল রোগের চিকিৎসা করা হচ্ছে। এছাড়া অসংক্রামক অনেক রোগও ভালো হয় নিয়মিত হিজামা করালে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে ও রক্ত পরিষ্কার রাখে, শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত জৈব-রাসায়নিক বর্জ্য নিষ্কাশন করে।
হিজামা একটি চিকিৎসা যাতে অন্যান্য মেডিক্যাল ড্রাগসের মত কোন সাইড ইফেক্ট নেই। কেবল নিরাময় আছে (সুবহানাল্লাহ)। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নিজের জন্য এ চিকিৎসাটি করিয়েছিলেন।
📝4 #
📌হিজামাতে যে সকল সমস্যায় উপকার হয়:
(১) রক্তদূষণ, উচ্চরক্তচাপ, (২) ঘুমের ব্যাঘাত, স্মৃতিভ্রষ্টতা, মানসিক সমস্যা, (৩) মাইগ্রেন জনিত দীর্ঘমেয়াদী মাথা ব্যাথা, অস্থি সন্ধির ব্যাথা, পিঠে ব্যাথা, হাঁটু ব্যাথা, দীর্ঘমেয়াদী সাধারণ মাথা ব্যাথা, ঘাড়ে ব্যাথা, কোমর ব্যাথা, পায়ে ব্যাথা, মাংসপেশীর ব্যাথা, দীর্ঘমেয়াদী পেট ব্যথা, হাড়ের স্থানচ্যুতি জনিত ব্যাথা।
(৪) সাইনুসাইটিস (৫) ব্রণ (৬) কোলেস্টেরল (৭) হাঁপানি (৮) গ্যাস্ট্রিক পেইন, গ্যাস্ট্রিক আলসার (৯) বিষক্রিয়া (১০) দীর্ঘমেয়াদী চর্মরোগ (১১) ত্বকের নিম্নস্থিত বর্জ্য নিষ্কাশন (১২) ফোঁড়া-পাঁচড়া (১৩) চুল পড়া (১৪) স্পোর্টস ইঞ্জুরি (১৫) হরমোনাল সমস্যা (১৬) ইরেক্টিল ডিসফাংশন [ই.ডি], (১৭) মাদকাসক্ত এবং আরও অনেক সমস্যার জন্য হিজামা কার্যকরী ইনশাআল্লাহ।
📝 #5
📌 শিঙা নিয়ে সতর্কতাঃ
আমাদের দেশে পূর্ব থেকে এই শিঙা লাগানোর একটা প্রথা প্রচলিত আছে, যা কিনা বেদে সম্প্রদায়ের মানুষজন করে থাকে, বিশেষ করে বেদে মহিলারা। এরা শিঙা লাগানোর কথা বলে বাড়ি বাড়ি মহল্লায় ডাকাডাকি করে বেরায়। শিঙা লাগানোর পাশাপাশি কৌশলে পরিবারের সার্বিক অবস্থা জেনে নানারকম কথার চাতুরতায় আপনাকে ধোকাবাজি করে:- নগদ অর্থ, স্বর্ণ অলংকার এবং ঘরের চাল, ডাল,তেল, ফ্রিজে থাকা সংরক্ষিত মাছ গোস্তও এমনি কাপড় চোপড়ও হাতিয়ে নিতে বেশ পটু। এরা শিঙা লাগানোর সময়ে ও আগে-পরে কিছু বাক্য উচ্চারণ/মন্ত্র পড়ে থাকে। অর্থাৎ যাদুর মন্ত্র পড়ে শয়তানের সাহায্য নিয়ে সে রোগিকে সাময়িকভাবে উপকার করে। সুতরাং এদের কাছে না যাওয়া, তাদের কাছ থেকে শিঙা না লাগানো জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা তথা ঈমান হেফাজত করা।
📝 #6
📌 হিজামার খরচ সম্পর্কিত ধারণাঃ
এবার আসি হিজামা করাতে কোথায় কেমন খরচ হয় এবং এই খরচগুলি হওয়ার কারণ কি?
হিজামার খরচ টা নির্ভর করে মূলত স্থান-কাল, পরিবেশ-পরিস্থিতি এবং হিজামা কারানে ওয়ালার যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার উপর নির্ভর করে।
যেমনঃ ঢাকার বানিজ্যিক এলাকার হিজামা সেন্টারের খরচ আর আবাসিক এলাকার খচর যেমন এক রকম নয়। তেমনি শহরে ও মফস্বলে খরচ এক নয়। তাছাড়াও হিজামা থিয়েটারের সার্বিক সেটাআপের উপর নির্ভর করে আরও অন্যান্য খরচ। হিজামাতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের কাপ, গ্লাবস, মাস্ক, এপ্রোন, ব্লেড/নিডেল, বেড টিস্যু, রক্ত পরিস্কারে ব্যবহৃত টিস্যু, জীবাণু প্রতিরোধে ব্যবহৃত আনুষাঙ্গিক অন্যান্য সকল উপকরণ গুলো একবার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। প্রথমত প্রতি পয়েন্ট হিসেবে খরচ নির্ধারণ করা হয় যেমন, যার খরচা কম সেও প্রতি পয়েন্টে সর্বনিম্ন ১০০/- নিয়ে থাকে এবং যার যত খরচ বেশি সে অনুযায়ী প্রতি পয়েন্টে ১৫০/২০০/- নিয়ে থাকে।
এখন ধরুন আপনার মাথা ব্যাথার সমস্যায় হিজামা করালে যদি কমপক্ষে দশটা পয়েন্ট হিজামা করানো লাগে সেক্ষেত্রে ১০০০/১৫০০/২০০০ টাকা পর্যন্ত স্থান-কাল, পরিবেশ-পরিস্থিতির নির্ভর করে বিল হতে পারে। আবার ধরুন আপনার কোমর ও পিঠ ব্যাথার জন্য হিজামা করাবেন সেখানে যদি ২০ টা পয়েন্টে হিজামা করাতে হয় সে অনুযায়ী বিল হবে।
এই ছাড়া একজন দক্ষ হিজামার ডাক্তার/ থেরাপিস্ট/স্পেশালিস্ট এর হিজামা কনস্লাটেশন ফিও নিতে পারে ৩০০/৫০০ টাকা বা নাও নিতে সেটা তার উপর নির্ভরশীল।
📝7 #
হিজামা খরচ সম্পর্কে হাদিস এবং হিজামার বিনিময় নেয়াটা জায়েজ কিনা?
📌 আনাস বিন মালিক (রাঃ) এর নিকট হিজামা বৃত্তির উপার্জন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নিজ শরীরে হিজামা লাগিয়েছেন, আবু তায়বা তাকে হিজামা করিয়েছেন। তাকে ২সা পরিমাণ (প্রায় ৫কেজি) খাদ্যবস্তু দেয়ার নির্দেশ দেন এবং তার মালিকের সাথে আলোচনা করেন, এতে তার উপর ধার্যকৃত কর কমিয়ে দেয়। এবং তিনি আরো বলেন তোমরা যেসব পদ্ধতিতে চিকিৎসা করাও হিজামা হচ্ছে সেই সব এর চেয়ে উত্তম ব্যবস্থা।
[সহী মুসলিম, হা/৩৯৩০ (হাদীস একাডেমী) সহীহুল বুখারী, হা/২১০২ (তাওহীদ পাবলিকেশন্স)]
📌 আমর বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, “নবী করিম (সাঃ) হিজামা লাগাতেন এবং কোন লোকের পারিশ্রমিক কম দিতেন না”।
[সহীহুল বুখারী, হা/২২৮০ (তাওহীদ পাবলিকেশন্স) সহী মুসলিম, হা/১৫৭৭, মাসনাদে আহমাদ, হা/১২২০৭]
📌 ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন নবীজী সা. হিজামা করালেন এবং যে তাকে হিজামা করেছে তাকে তিনি মজুরী দিয়েছিলেন। যদি তিনি তা অপছন্দ করতেন তবে তাকে পারিশ্রমিক দিতেন না।
[সহীহুল বুখারী, হা/২১০৩, ২২৭৯ (তাওহীদ পাবলিকেশন্স)]
অতএব, হিজামা করিয়ে পারিশ্রমিক নেয়ার অবৈধতা সংক্রান্ত বিধান পরবর্তিতে রাসূলুল্লাহ সা.-এর আমল ও নির্দেশ দ্বারা বাতিল/মানসুখ হয়ে গেছে।
🔖আশা করি, এই লেখাটি হিজামা নিয়ে প্রশ্নকারীদের উত্তর হিসেবে যথেষ্ট হবে।
পরামর্শগুলো ফলো করতে পারেন আর হিজামা করানোর জন্য নিজ দায়িত্বে জেনে বুঝে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ডাক্তার/হাজ্বম (যিনি হিজামা করায়)/থেরাপিস্ট/স্পেশালিস্ট/এক্সপার্ট এর নিকট হিজামা গ্রহণ করতে পারেন, এতে দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যানকর হবে ইনশাআল্লাহ। আর এটাও স্বরণ রাখা জরুরী যে, হারিয়ে যাওয়া গুরত্বপূর্ণ একটি সুন্নাহ কে পুনর্জাগরণ আপনিও একজন অংশীদার।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের বুঝার তাওফিক দিন। সবাইকে সুস্থ ও নিরাপত্তার জীবন দান করুন। আমিন।
লিখেছেনঃ তাশফিকুর রহমান ভাই
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Banasree
Dhaka
1219
