Sundor golpo
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Sundor golpo, Beauty, cosmetic & personal care, Dhaka.
25/02/2024
তারিনের ঘুম ভাঙলো রিচির ফোনে, রিচির আবদার পার্কে ঘুরতে যাবে।এদিকে ফোনের স্ক্রিনে সকাল ৯ টা বাজতে দেখে হুড়মুড়িয়ে ওঠে তারিন। এ সময়ের মধ্যে মোটামুটি তারিনের বাসার কাজগুলো শেষ হয়ে যায়।বান্ধবীর কোথায় খামখেয়ালির সুরে জবাব দেয়, 'না রে,এভাবে হঠাৎ কারণ ছাড়া মা আমাকে বের হতে দেবে না।
বের হতে দেবে না মানে? তুই কি এখনো বাচ্চা নাকি? আজব তো! আচ্ছা শোন, একটা বুদ্ধি আছে।তুই আন্টিকে বল আমাদের গ্রুপ স্টাডি করতে হবে।এটা বললেই দেখবি আন্টি রাজি হয়ে যাবে।
কিছুটা চিন্তা করে তারিন। প্ল্যানটা খারাপ মনে হচ্ছে না। রাজি হওয়ার মতই, কিন্তু এখনো যে কতগুলো কাজ বাকি! তার ওপর এত বড় একটা মিথ্যা বলে যাবে,এটা চিন্তা করেও তারিনের কেমন যেন ভেতরে খচখচ করতে শুরু করে। যতই হোক,মা কখনো মিথ্যা বলা শেখায়নি। তার ওপর কোনভাবে সত্যিটা জানতে পারলে তারিনের আল রেহাই নেই।
১০ সেকেন্ডের ভাবনায় ভয়ের ঢেকুর তোলে তারিন,' আসলে, বাসায় আমার অনেক কাজ বাকি,ওগুলো শেষ করা লাগবে। নাহলে মা খুবই রাগ করবে।
জবাবে অসন্তুষ্ট বান্ধবী খোঁচা দিয়ে বলে, তুই সারা জীবন এইরকম বাসার কাজই করে যাবি!আন্টি তোকে দিয়ে কাজের মেয়ের টাকা বাঁচাচ্ছে.... হাহাহা!
কথাটা তারিনের গায়ে লাগে খুব। সারাদিনে মাথা থেকে কোনভাবেই বের করতে পারেনি। কেউ বুঝি হাতুড়ি দিয়ে পেরেকের মতো ঠুকে যাচ্ছে অবিরাম। তারিন ক্ষণে ক্ষণে হারিয়ে যাচ্ছে চিন্তার সমুদ্র। এদিকে হাতে বাসনের কোনায় জমছে ফেনার ঝাঁক, আর মস্তিষ্কে বাড়ছে প্রশ্ন।
আচ্ছা, মা কি সত্যিই টাকা বাঁচানোর জন্য আমাকে দিয়ে বাসাযর কাজ করাচ্ছে?
24/02/2024
টিফিন পিরিয়ড। বান্ধবীদের সাথে আড্ডায় বুঁদ তারিন। হাসতে হাসতে ব্যাগ থেকে টিফিন বক্সটা বের করতেই চেহারার শোখানুভূতিটা যেন পাল্টে গেল! নজরে পড়ে ডিম দিয়ে ভাত ভাজায় ঠাসা বক্স। পাশে থাকা বান্ধবীদের হাতে তখন ছিল ক্যান্টিনের বার্গার আর কলা। লজ্জায় তড়িৎ গতিতে বক্সটা বন্ধ করে কোনোমতে ব্যেগে লুকানো চেষ্টা চালায় তারিন। কিন্তু প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়।
কি ব্যাপার! টিফিন লুকাচ্ছিস কেন?আমাদের থেকে তো ঠিকই বার্গার খেলি এবার তোর টিফিনটাও কি একা খাওয়ার প্ল্যান করছিস নাকি? দেখি তো কি এনেছিস!
তারিন লজ্জার ঢোক গিলে। মনে মনে ভাবতে থাকে এই বুঝি নিজের প্রেস্টিজটুকু গেল,এখন যে সবাই তাকে ব্যাপক পচানি দেবে!মা কি ভালো কোন খাবার দিতে পারলো না?
তবে একটু পর পুরো চিত্রটাই পাল্টে গেল। বাকিরা তারিনের টিফিন নিয়ে রীতিমতো কাড়াকাড়ি শুরু করে দিয়েছে।এই থাম, থাম! কি শুরু করলি তোরা?এইরকম করে তোরা আমাকে পঁচাতে চাচ্ছিস তাই না?
তোর মাথায় কি কোন সমস্যা আছে?এই টিফিন তুই লুকাচ্ছিলি যাতে একা খেতে পারিস?সেটা তো আমরা বুঝে গেছি, ভাই!ইয়াম্মি! বেশ মজা হয়েছে।
আশ্চর্য দৃশ্যে তারিনের ভ্রু কুঁচকে যায়, এক ঠোঁট বাঁকিয়ে সন্দেহের হাসি হাসে, গভীর পর্যবেক্ষণের পর বের করতে পেরেছে বান্ধবীদের এমন আচরণের কারণ।ওদের মায়েরা কেউই সাত সকালে টিফিন বানানোর ঝামেলায় যায় না। ফাস্টফুড খেতে খেতে বিরক্ত বান্ধবীদের মুখে ডিম দিয়ে ভাত ভাজিই অমৃত হয়ে ধরা দিয়েছে।
24/02/2024
মায়ের নবম ফোনকল। রিংটোন বাজছে তো বাজছেই। বিরক্তি আর লজ্জায় চোখমুখ অজান্তেই কুঁচকে গেল তারিনের। তার উর্বর মস্তিষ্কে ধরে না,মায়ের আসলে সমস্যাটা কোথায়। ঘড়িতে এখন মাত্র রাত আটটা। এতেই সে এত হয়রান, এত পেরেশান।অথচ কলেজের অন্য কোন বান্ধবীর মোবাইলে মায়েদের এমন কারফিউ জারি করা ফোনকল দেখা যাচ্ছে না। সবকিছুতে মায়ের হস্তক্ষেপ আর ভালো লাগে না তারিনের।
বিচ্ছিন্ন সব অনুভূতি দানা বেঁধেছে মস্তিষ্কে।পাশে থাকা বন্ধুমহলের বিদ্রুপ এতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অবশেষে দাঁত কামড়িয়ে নবম কলটা রিসিভ করল তারিন, আচ্ছা সমস্যা কি তোমার? এতবার কল দিচ্ছ কেন? আমি কি পালিয়ে যাচ্ছি কোথাও? বলেই তো এসেছি ফ্রেন্ডদের সাথে গেট টুগেদার, এক দমে শেষ করল তারিন।
অপর পাশে মায়ের উদ্বিগ্ন কন্ঠ, কি ব্যাপার তারিন, কতগুলো ফোন দিয়েছি তোমাকে, দেখেছ? রাত তো অনেক হয়েছে, এবার বাসায় চলে এসো। সেই দুপুরে গিয়েছ, এখনো কি অনুষ্ঠান শেষ হয়নি? আর দেরি না করে জলদি বাসায় ফিরে এসো,মা।
তারিন বিরক্তির সুরে'ধ্যাত' বলে ফোনটা কেটে দেয়।আটটা থেকেই আসল পার্টি শুরু আর এখনই কিনা বন্ধু মহল থেকে বিদায় নিতে হবে। এখনো যে মন খুলে নাচ-গান বাকি, ডিজে চালানো বাকি,ইস! সব ছেড়ে বাসায় ফিরতে হচ্ছে। আপন সত্তা থেকে বিচ্ছেদের পীড়া অনুভব করছে তারিন।
24/02/2024
বাসায় এলাম।দীর্ঘ ৯০ দিনের অপেক্ষা, আমার আলী বাসায় আসবে। আজ এল।আমাদের বেডরুমে নিয়ে গেলাম,বিছানায় শুয়ে দিলাম। আয়েশার বাবাকে দেখালাম। ও অনেক কাঁদলো।
ফজরের জামাতের বাকি তখন ১০ মিনিট। আমরা মেয়েরা সালাত পড়লাম। আয়েশার বাবা বলল মসজিদের সামনে যেতে। আলীকে আবার কোলে নিলাম। মসজিদে গেলাম, ওকে একটা জায়গায় রাখতে বলল, রাখলাম। ওর জানাযা হলো। ওর কবরের জায়গা ঠিক করা, কবর খোদা এইসব কাজের জন্য কিছু সময় লাগবে তাই আবাল বাসায় এলাম।
আয়েশা, আব্দুল্লাহ তখনও জানে না, আলী বাসায় এসেছে! ওরা তো ঘুমাচ্ছিল পাশের ঘরে। আমি ওদের গিয়ে বললাম, আলী বাসায় এসেছে কে দেখবে?
দুইজনই ঘুম থেকে উঠে গিয়ে বলল,আমি দেখব!
জানালাম,ও কিন্তু জান্নাতে চলে গেছে। ও বেশিক্ষণ বাসায় থাকবে না। চলো দেখব মানুষ যখন আল্লাহর কাছে যায় কেমনভাবে যায়।
আমার আট বছরের মেয়ে বুঝে গেছে। কেঁদে ফেলল ও। থামানোই যাচ্ছে না ওকে। আব্দুল্লাহ আলীর কাফনে মোড়ানো ছোট্ট শরীরটা দেখে আমার বুকে মাথা গুঁজে কাঁদছে।
আমি বললাম,' বাবা,তোমার ভাইয়া ইব্রাহিম (আ.) এর কাছে আছে ইনশাআল্লাহ,ও জান্নাতে আছে ইনশাআল্লাহ, আমাদের সবাইকে এভাবেই আল্লাহর কাছে যেতে হবে।
আমার আব্দুল্লাহ কান্না থামিয়ে হাসলো।সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ বাচ্চাদের ফিতরাতে ওপরে রাখুন।ও অনেক খুশি ওর ভাই জান্নাতি আলহামদুলিল্লাহ, ইনশাআল্লাহ।
কিন্তু আয়েশা বারবার আলীর চেহারা দেখতে চাচ্ছিল।আমি দেখাইনি।আলী অনেক শুকিয়ে গেছে, ওর দেখলে অনেক খারাপ লাগতো। আমি চেয়েছি ১৮ তারিখে তোলা আলীর ছবিগুলোই যেন ওদের স্মৃতিতে থাকে। আয়েশার বাবা ১৫ মিনিটের মধ্যেই কল করলো। যেখানে ভেবেছি দুই থেকে তিন ঘন্টা সময় লাগবে,সেখানে ১৫ মিনিটেই সবকিছুর ব্যবস্থা হয়ে গেল।আমাকে কল করে ও বলল, তুমি কি তোমার আলীকে গোরস্থান পর্যন্ত কোলে নিয়ে যেতে চাও?
আমি বুঝলাম ও কাঁদছে। বললাম,'হাঁ,সাথে আয়েশা, আব্দুল্লাহও যাবে।
আয়েশার বাবা গাড়ি নিয়ে এলেন। লিফ্টে করে নিচে নামলাম আমার তিন সন্তানকে নিয়ে; আয়েশা,আব্দুল্লাহ, আর আমার কোলের আলী। এই দৃশ্য দেখে আয়েশার বাবা কান্না ধরে রাখতে পারিনি আর। আমি কেন যেন কাঁদছিলাম না। আব্দুল্লাহ তো হাসছে,ও আর আমি মেনে নিয়েছি আলী জান্নাতে। আলহামদুলিল্লাহ, ইনশাল্লাহ।
কবরস্থানের সামনে পৌছালাম। আমি আলীকে আমার কোল থেকে ওর বাবার কোলে দিলাম। ও কাঁদছে। আয়েশা কাঁদছে, ও ওর ভাইয়ের কবর দেওয়া দেখবে।আমি যেতে দিলাম না। আব্দুল্লাহ গেল ওর বাবার সাথে। আমাদের দ্বীনি ভাইয়েরা, আমার দুলাভাই, ছোটবোনের হাজব্যান্ড সবাই ছিলেন।আয়েশা কেদেই যাচ্ছে। কবর দেওয়া শেষে আমার দুলাভাই এসে নিয়ে গেলেন ওকে আলির কবর দেখাতে।
আমার আলী চলেই গেল। আমাদের জন্য ইনশাআল্লাহ অনেক বড় পুরস্কার হিসেবে আল্লাহর কাছে জমা থাকলো। আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে গেল।জানতাম,তবে এবার নতুন করে উপলব্ধি করলাম, আমরা প্রত্যেকেই নির্ধারিত সময়ে আল্লাহর কাছে চলে যাব। আমার আলীর জন্য সেটা ছিল ২৮শে আগস্ট দিবাগত রাত দেড়টা,অর্থাৎ ২৯ শে আগস্ট।
আল্লাহ যেন আমাকে,আমার বাবা-মা, স্বামী, সন্তান,বোন, আত্মীয়-স্বজন,মুসলিম ভাইবোন সবাইকে ক্ষমা করেন, ঈমানের সাথে মৃত্যু দেন আর সবাইকে জান্নাতে একত্র করেন ইনশাআল্লাহ।আমিন।
সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়াবিহামদিকা আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আনতা আস্তাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইক।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka
