ঘর থেকে আমাদের শেখার শুরু। যা চলে আজীবন।
এরপরে ইশকুল। ইশকুল আর ঘর এই নিয়ে
শিশু কিশোরদের পৃথিবী।
এই দুই পরিবেশের মধ্যে আমরা বেড়ে উঠি। বড় হই...
বাইরের পৃথিবীতে পা ফেলি।
পরিবেশ ও প্রকৃতিকে চিনতে শিখি...
বিশ্বজুড়ে পাঠশালা মোর
সবার আমি ছাত্র...
তারপর আবার ঘরে ফিরে আসি
শিখি ঘরটাকে এমন গড়তে চায়
যেন ঘর- যেখানে আমরা থাকি
যেন সেখানে বসেই
পৃথিবীর মানুষ আর প্রকৃতিকে
জানা, দেখা আর বোঝার খেলাটা শুরু হয়ে যায়।
সোফায় পড়ে থাকা ঘরের কুশন
একটা প্রকৃতি, ইতিহাস আর ভূগোলের ছবির জগতে নিয়ে যাবে
আর বলে উঠবে গল্প। যে গল্প আপনাকে নিয়ে যাবে দূরে আরও জানার জগতে। মানুষের এবং প্রকৃতির...
জানালার পর্দায় উঠে আসবে আকাশের তারাদের পরিচয়।
অথবা দূর জঙ্গলের হাতছানি।
সমুদ্রের অতল জলরাশির গল্প।
কাঁধের ব্যাগে নদীর গল্প। পাহাড়ের হাতছানি।
টেবিল কাভারে ইতিহাসের ঘটণাপঞ্জি।
দেয়ালচিত্রে বিজ্ঞানের রহস্য।
টেবিলে শোপিস, আমাদের নিয়ে যাবে
জানার কল্পনার মধ্যে।
শিখি বাড়ির এই ছোট্ট ছোট্ট অংশগুলোকে এমনভাবে সাজাতে চায় যেন তা
আমাদেরকে জানালার মতো হাতছানি দিয়ে নিয়ে যাবে
জীবন ও জগতের বৈচিত্র্যকে দেখার ও জানার আনন্দে।
যা আমাদের সময়গুলোকে আরও সৃষ্টিশীল করে তুলবে।
বাড়ির পরিবেশটা এমন হলে পরিবারের সবার মধ্যে শক্তির জন্ম হবে
সমাজ বিজ্ঞানে যে শক্তিকে বলে
সাংস্কৃতিক সম্পদ...CULTURAL CAPITAL
এই সাংস্কৃতিক সম্পদ কম হলে
বাচ্চারা ইশকুলে পড়া কম বুঝবে। পড়া মুখস্ত করবে।
নোট বই কোচিং এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
কর্মক্ষেত্রে ভাল করবে না।
নিজেকে সাবলীলভাবে প্রকাশ করতে পারবে না।
পরিবারের দৈনন্দিন পরিবেশের মধ্যে আনন্দ আর প্রাণস্পন্দন কম থাকবে।
পরিবারে নিজেদের মধ্যে কথা বলার যে বিষয় বৈচিত্র্য কমে যাবে।
আমাদের প্রাণশক্তি কমে যাবে।
ইশকুল এবং ক্লাশের পরিবেশটাও যেন
জানার বিষয়গুলোকে নিজের চারপাশের মধ্যে দেখাতে সাহয্য করে
শিখি ইশকুলের ক্লাশঘর এবং ইশকুল প্রাঙ্গনকে গড়ে তোলার জন্য
প্রয়োজনীয় উপকরণ শিখির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শিখির কাজ নিজেদের দৈনন্দিনতার ভেতরে
বাসাবাড়ি, ইশকুল, প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রাঙ্গনের জন্য
এমন সব শিক্ষা উপকরণ (Educational Tools) তৈরি করা যা
যেখানে আমরা বাবা-মা, সন্তান, ভাই-বোন হিসেবে এবং ব্যক্তি হিসেবে
সবাইকে নিজের নিজের মতো করে আরও সৃজনশীল, আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে সাহায্য করবে।