Dr. Asim Datta - Anirban

Dr. Asim Datta - Anirban

Share

Dr. Asim Datta - Anirban
Sr. Lecturer (H. Medicine), GHMC.

Ministy of Health & Family Welfare, Bangladesh.
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকা, বাংলাদেশ।

I am a Doctor & Medical’s Teacher.

25/12/2025

“যেখানে মৃত্যু অপেক্ষায় থাকে, সেখানে একজন ডাক্তার জীবনের আলো জ্বালিয়ে দেন।”

Photos from Dr. Asim Datta - Anirban's post 11/12/2025

বই রিভিউ 📕 খুশবন্ত সিং 📚 "বাংলাদেশ পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধ ও শান্তি (বাংলাদেশ : ৭১ থেকে ৭৫)" 📖 বাংলা অনুবাদ-

খুশবন্ত সিং-এর "বাংলাদেশ পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধ ও শান্তি (বাংলাদেশ : ৭১ থেকে ৭৫)" বইটি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী জটিল রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি এবং ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ঘটনাবলির বিশ্লেষণ, যা মূলত পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ ও বাংলাদেশের পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা করে, যেখানে তিনি তার "ট্রেন টু পাকিস্তান" উপন্যাসের মতো দেশভাগের গভীর চিত্র না দিলেও, মুক্তিযুদ্ধের সময়ের প্রেক্ষাপট ও তার পরের পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন, যা পড়েছি শ্রদ্ধেয় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু কর্তৃক বাংলায় অনুবাদিত।

বইটির মূল বিষয়বস্তু-
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও তার ফলাফল: ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা লাভ এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম।

যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি-
বিজয়ের পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জগুলো, যেমন পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, ভারতের সঙ্গে বোঝাপড়া ও চুক্তি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ-
১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলির ধারাবাহিক বিশ্লেষণ এবং নতুন রাষ্ট্রের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া।

খুশবন্ত সিং-এর দৃষ্টিকোণ-
তিনি মূলত 'দ্য ইলাস্ট্রেটেড উইকলি অফ ইন্ডিয়া'র সম্পাদক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেন এবং তার আত্মজীবনীতে কিছু অংশ থাকলেও, বইটিতে যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ না দিয়ে পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।

খুশবন্ত সিং-এর প্রাসঙ্গিকতা-
তিনি একজন বিখ্যাত ভারতীয় লেখক, সাংবাদিক ও সমাজ বিশ্লেষক, যিনি ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং এর প্রভাব নিয়ে তার বিখ্যাত উপন্যাস "ট্রেন টু পাকিস্তান" লিখেছিলেন।

"বাংলাদেশ পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধ ও শান্তি (বাংলাদেশ : ৭১ থেকে ৭৫)" বইটিতে তিনি বাংলাদেশের জন্ম ও তার পরের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে বিশ্লেষণ করেছেন, যা তাঁর বৃহত্তর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক বিষয়ক লেখার একটি অংশ। ...............................................................
-ডা. অসীম দত্ত - অনির্বাণ, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫।

24/11/2025

নেতৃত্ব-💪

নেতৃত্ব মানে তোমার উপস্থিতিতে অন্যরা উন্নতি করবে, এবং তোমার অনুপস্থিতিতেও সেই উন্নতি বজায় থাকবে।

01/10/2025

জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে “অসাম্প্রদায়িক” চেতনার সবাইকে শারদীয় দুর্গা পূজার প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকুক চিরকাল।

🌺🐚🙏Dr. Asim Datta - Anirban🙏🐚🌺🌸

01/08/2025

এক পরিবারের ৭জন হত্যা | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ১৯৮৭-

১৯৮৭ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নিদারাবাদ গ্রামে শশাঙ্ক দেবনাথ নামের এক দরিদ্র সনাতন ধর্মাবলম্বী হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যান। তিনি কোথায় গেছেন, কেন গেছেন, কবে গেছেন কেউই জানেন না। পরিবার কিংবা গ্রামবাসী কেউই জানে না শশাঙ্ক কোথায় গেলেন।
তার প্রায় দু বছর পরের ঘটনা। ১৯৮৯ সাল তখন। শশাঙ্কের মতো এবার উধাও হয়ে গেলেন শশাঙ্কের গোটা পরিবারও।
একরাতের মধ্যেই হাওয়া সবাই। শশাঙ্কের পরিবারে ছিলেন তাঁর স্ত্রী এবং পাঁচ সন্তান। গ্রামের মধ্যে রটে গেল মূলত শশাঙ্ক আগেই ভারতে চলে গেছে। দু বছর পর সুযোগ বুঝে স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদেরকেও এখন নিয়ে গেছে। এখানেই সমাপ্ত হলো প্রথম অধ্যায়ে।
তার মধ্যে স্থানীয় কেউ কেউ দাবী করে বসলো শশাঙ্ক তাদের কাছে তাঁর বাড়িঘর ও জমিজমা বিক্রি করে চলে গেছে। এদের মধ্যে একজন ছিলেন পাশের গ্রামের কসাই তাজুল ইসলাম। তাজুল ইসলাম বললো যেহেতু শশাঙ্ক তার জমির মালিকানা বুঝিয়ে দেয়নি সুতরাং এই জমি তার। একপর্যায়ে ঝগড়াঝাটি হলেও সময়ের ব্যবধানে তা একসময় মিটেও গেল।
গ্রামের লোকজন শশাঙ্ককে গালাগালি করে বলতে লাগলো, 'মালোউনের বাচ্চা, এক জমি তিনজনের কাছে বিক্রি করে আ-কাডাগো দেশে পালাইছে। বেঈমান, মালাউন।' কাহিনীটা তবে এখানে শেষ হলেও পারতো।
কিন্তু না। এখানেই ঘটনার শুরু। কিছুদিন পর গ্রামের স্কুল শিক্ষক আবুল মোবারক একদিন বিকেলে নৌকা যোগে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ধুপাজুড়ি বিলের পানিতে দুর্গন্ধযুক্ত তেল ভাসতে দেখেন। তিনি মাঝিকে নৌকাটা খানিক ঘুরিয়ে নিতে বলেন। হঠাৎ নৌকার নিচে কী একটা আটকে যাওয়ায় দুলে উঠে নৌকা। মাঝির বৈঠায় খটখট শব্দ হয়। কিছুটা সন্দেহ আবুল মোবারকের। মাঝি তখন বৈঠা দিয়ে পানির নিচে খোঁচাখুঁচি করতেই উঠে আসে একটি ড্রাম।

ড্রামটির মুখ আটকানো। চারদিকে ভয়ঙ্কর দুর্গন্ধ। বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় আবদুল মোবারক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বার সহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের খবর দিলেন। একপর্যায়ে ড্রাম খুলতেই সবাই স্তব্ধ হয়ে গেল। ড্রামে তিনটি লাশ।

কারো কারো মনে সংশয় আরও বাড়লো। সন্ধান চললো আরও অনেকক্ষণ। একপর্যায়ে বিলেই পাওয়া গেল আরেকটি ড্রাম। সে ড্রামে টুকরো টুকরো করে রাখা আছে আরও তিনজনের লাশ। মোট ছয়টি লাশ!
এরা আর কেউ নয়, ঐ গ্রামেরই নিরীহ শশাঙ্ক দেবনাথের স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানের লাশ ছিল এগুলো। শশাঙ্কের এক মেয়ে সুনীতিবালা শ্বশুরবাড়ি থাকায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
তখন তদন্তে নামে পুলিশ। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শশাঙ্কের জ‌মি দখল কর‌তে প্রথমে শশাঙ্ককে খুন করে লাশ গুম, এবং পরে এক রা‌তে পু‌রো প‌রিবার‌কেই নৌকায় তু‌লে নি‌য়ে মে‌রে ড্রা‌মে ভ‌রে বি‌লে পু‌তে ফে‌লা হয়। দি‌নে তারা প্রচার ক‌রছিল বিরজাবালার প‌রিবার ভার‌তে চ‌লে গে‌ছে।
তদন্তে দেখা যায় মূলত শশাঙ্কের সম্পত্তির উপর লোভ ছিল পাশের গ্রামের কসাই তাজুল ইসলামের। এ কারণেই প্রথমে অপহরণ করে শশাঙ্ককে হত্যা করেছিল সে। দুই বছর পর তার স্ত্রী-সন্তানসহ ছয়জনকে হত্যা করে ড্রামে চুন মিশিয়ে লাশ ভরে বিলে ফেলে দেয়া হয়। মনে রাখা ভালো, তাদের সর্বকনিষ্ঠ নিহত সন্তানের বয়স ছিল দুই বছর।
তখন তাজুলের বিচারের দাবীতে সারাদেশ ফুঁসে উঠেছিলো।
আদালতে দেয়া জবানবন্দীতে তাজুল এই হত্যাযজ্ঞের যে বিবরণ দিয়েছিলেন তা পড়তে গেলে যে কারোই গা শিউরে উঠবে। মানুষ যে কতোটা পাশবিক, নিষ্ঠুর ও ভয়ঙ্কর হতে পারে তা এই হত্যাযজ্ঞের জবানবন্দী প্রমান করে।
জবানবন্দীতে তাজুল বলেছিলো, ‘আমি শশাঙ্ক দেবনাথের সম্পত্তি দখল করার জন্য বিরজাবালা ও তার সন্তানদের হত্যা করার পরিকল্পনা করি। হত্যার ৫/৬ দিন পূর্বে পাঁচগাওয়ের বাজারের একটি কাঠের দোকানের পিছনে আমি আবদুল হোসেন ও বাগদিউয়ার হাবিবকে প্রথমে জানাই যে শশাঙ্কের সম্পত্তি দখলের জন্য বিরজাবালা ও তার সন্তানদের হত্যা করতে হবে।
আব্দুল হোসেন আমার কথায় রাজি হয় এবং সে ৩০ হাজার টাকা দাবী করে। আমি ২০ হাজার টাকা দিতে রাজি হই। এর পরের দিন বাজারের চায়ের দোকানে আবদুল হোসেন আমাকে টাকা যোগাড় করার করে বাগদা গ্রামের মোমিনের কাছে জমা রাখতে বলে। দুইদিন পর আমি মোমিনের নিকট প্রথম দিনে ১৫ হাজার টাকা জমা রাখি। একইসঙ্গে ঘটনার কাজে সহায়তা করার জন্য অন্যান্য আসামীকে নিয়োজিত করি।
৩রা সেপ্টেম্বর আবদুল হোসেন আমাকে জানায়, ঘটনার জন্য লোকজন প্রস্তুত এবং ৫ই সেপ্টেম্বর রাতে ঘটনা ঘটাতে হবে। আমি এখতারপুরের সহিদ মাঝির ইঞ্জিনের নৌকা ২০০ টাকায় ভাড়া করি। ৫ই সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টায় মোমিন, হাবিব, ইদ্রিস আলী, আলী আজম, আলী আহমেদ, শামসু, বাদশা, সুতা মিয়া, বেলু, ফিরোজ, আবদুল হোসেন, সৈয়দ মিয়া, জজ মিয়া, আবু সায়েদ, কাসেম, তাজন, হরিপুরের ফিরোজ, সহিদ, মানু মেম্বার এবং পরিচিত ৮/১০জন নৌকা যোগে, পায়ে হেঁটে আমার বাড়িতে আসে। তখন আমি একটি ছোট ঘরে শুয়ে ছিলাম। আবদুল হোসেন সেই ঘরে গিয়ে আমাকে সংবাদ দেয়।
তখন সব লোকজন এসে পৌঁছেছে। এরপর একটি ইঞ্জিন নৌকায় আমি, আবদুল হোসেন, ইদ্রিস আলী, বাগদিয়ার হাবিব বাদশা, ফিরোজ, কাসেম, ধনু, আলী আজম , আলী আহমেদ এবং বাকি চারজন উঠি। আমার হাতে একটা রামদা এবং অন্যদের হাতে লাঠি, বল্লম, টর্চ লাইট ছিল। মোমিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে দুটি ড্রাম, লবণ ও দুই মন চুন আগেই কিনে রেখেছিলো। ড্রাম, চুন ও লবণ ইঞ্জিনের নৌকায় রাখি।
রাত আনুমানিক ১২টায় দুটি নৌকাযোগে আমরা শশাঙ্কের বাড়ির দিকে রওয়ানা দিই। নৌকা দুটি শশাঙ্কের বাড়ির পাশে ভিড়ে। নৌকায় দুজনকে পাহারায় রাখা হয়। বাকিরা সকলে শশাঙ্কের বাড়িতে উঠে আসি। ফিরোজ প্রথমে একটি লোহার শাবল দিয়ে বিরজাবালার ঘরের পিছনের জানালার রড বাঁকা করে ভিতরে প্রবেশ করে এবং ঘরের সামনের দরজা খুলে দেয়। আমরা কয়েকজন ভিতরে প্রবেশ করি। অন্যরা তখন বাইরে পাহারায়।
দরজা খোলার পর বিরজাবালা ও তার ছেলে মেয়েদের পশ্চিমের কক্ষে চৌকিতে ও মাটিতে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। আমি ও আবদুল হোসেন বিরজাবালার মুখ চেপে ধরি। বিরজাবালার বড় মেয়ে সামান্য চিৎকার দিয়েছিল। বাকিরা বিরজাবালার ৫ ছেলেমেয়েকে মুখ চাপিয়ে কোলে করে নৌকায় উঠায়।
নৌকায় উঠানোর পর আবুল হোসেন বিরজাবালা ও তার ছেলেমেয়েদেরকে ধমক দিয়ে বলে শব্দ করলে কেটে ফেলবে। তারপর ইঞ্জিন নৌকাটি ধোপাজুরি বিলে যায়। ইঞ্জিন বিহীন নৌকাটি ইঞ্জিনের নৌকার পিছনে ছিলো। ধোপাজুরি বিলে নৌকা থামিয়ে আবদুল হোসেন ও ফিরোজ বিরজাবালাকে চেপে ধরে। আমি রামদা দিয়ে বিরজাবালার নাভী বরাবর দুই তিন কোপ দিয়ে দ্বিখণ্ডিত করি।
আলী আজম ও ফিরোজ বিরজার বড় মেয়ে নিয়তিকে চেপে ধরে, আবদুল হোসেন রামদা দিয়ে দুই কোপে মেয়েটিকে দ্বিখণ্ডিত করে। ধনু মিয়া বিরজার ছোট ছেলেকে গলা চেপে মেরে ফেলে। ফিরোজ আলী বিরজার ছোট মেয়েকে চেপে ধরলে আলী আজম দা দিয়ে দ্বিখণ্ডিত করে। বাদশা এবং হাবিব বিরজা ও শশাঙ্কের ছোট দুটি ছেলেকে কুপিয়ে দ্বিখণ্ডিত করে।
বিরজাকে কাটার সময় শরীরে কাপড় ছিলোনা। তারপর খণ্ডিত দেহগুলিকে দুটি খালি ড্রামে ভর্তি করে লবণ ও চুন দিয়ে ঢাকনা বন্ধ করে পানিতে ডুবিয়ে রশি দিয়ে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখি। পরে রক্তরঞ্জিত নৌকাটি ধুয়ে ফেলি। আমি ও আবদুল হোসেন সবাইকে সতর্ক করে দিই, ঘটনা ফাঁস করলে বিরজাবালার মত পরিনতি হবে।
ঘটনার পরদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসে আমার চাচাতো ভাই মতিউর রহমানকে ৯ শতক নিজের জমি রেজিস্ট্রি করে দিই।
জবানবন্দীতে তাজুল বিরজার স্বামী অর্থাৎ শশাঙ্ককে হত্যার বিবরণও দিয়েছিল। শশাঙ্ককে তাজুল হত্যা করেছিল আরও দু বছর আগে। জবানবন্দীতে তাজুল সেই হত্যা সম্পর্কে বলেছিলো

'দুই বছর পূর্বে এক শুক্রবার সকাল সাড়ে পাঁচটায় আমি ও আমার জামাতা ইনু মিয়া শশাঙ্কের বাড়িতে যাই। শশাঙ্ককে জানাই তার মেয়ের জামাই মনা দেবনাথ ভারত সীমান্তে তার জন্য অপেক্ষা করছে। শশাঙ্ক তার কথা অনুযায়ী জামা পরে আমাদের সাথে বের হয়।
আমি এবং ইনু শশাঙ্ককে নিয়ে মাধবপুরের নিজনগর গ্রামে আজিদের বাড়িতে গিয়ে উঠি। আজিদের বাড়ির একটি ঘরে শশাঙ্ককে বসিয়ে রাখি। আজিদ শশাঙ্ককে জানায় সীমান্তে স্পেশাল পার্টি কাজ করছে তাই এখন সীমান্ত পার হওয়া সম্ভব না। মধ্য রাতে পেরোতে হবে।
আনুমানিক রাত ১২টায় ঐ ঘরে আমি, ইনু, আজিদ এবং অপর দুইজন লোক শশাঙ্কের গলায় গামছার ফাঁস দিয়ে হত্যা করি। আজিদ এবং অপরিচিত দুই ব্যক্তি শশাঙ্কের মৃতদেহ কাঁধে করে ভারতের চেহরিয়া গ্রামে নিয়ে যায় এবং একটি পরিত্যক্ত রিফিউজি ক্যাম্পের পাত কুয়ায় নিক্ষেপ করে চলে আসে।
এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের দায়ে বিচারের রায়ে ফাঁসি হয়েছিলো তাজুল ও তাঁর সহযোগীদের। খুনি কসাই তাজুলের প্রতি মানুষের ঘৃণা-ক্ষোভ এতটাই ছিল যে, তার ফাঁসি কার্যকরের পর ঘরে ঘরে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছিলো।
তাজুলের লাশ কারাগার থেকে বের করার সময় ক্ষুব্ধ মানুষ থুথু ছিটিয়েছিলো, ছুঁড়ে মেরেছিল জুতা। প্রায় ৩৮ বছর আগেকার এ ঘটনাটি এখনো মানুষের মনে গভীর দাগ কেটে আছে। ছয় খুনের ঘটনা মনে করলেই এখনো আঁতকে উঠেন সেখানকার মানুষ।
ঘটনাটি তখন এতোটাই আলোচিত হয়েছিল যে, এ নিয়ে পরবর্তীতে একটি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করা হয়।

চলচ্চিত্রের নাম ছিল ‘কাঁদে নিদারাবাদ’।

31/05/2025

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক | একজন চা বিক্রেতা-

ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর মোড়। প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত এক বৃদ্ধা মহিলা এখানেই চা বিক্রি করেন। নাম – সুলতানা আফরোজ। বয়স আনুমানিক ৬৫। কিন্তু গায়ের শাড়ি, মুখের রেখা আর কাঁপা কাঁপা হাতে ধরা কাপ বলেই দেয়, তার জীবনের গল্পটা শুধু বয়স দিয়ে মাপা যাবে না।

প্রথম দিন তাকে দেখেই আমি চমকে উঠেছিলাম। পরিপাটি সাদা চুল, চোখে পুরু ফ্রেমের চশমা, গলার নিচে একটা পুরনো লকেট। মনে হচ্ছিল যেন কোনো স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক চায়ের দোকানে বসে আছেন।

আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম,

"চাচী, আপনি এখানে বসেন প্রতিদিন?"

তিনি হেসে বলেছিলেন,

"হ্যাঁ মা, এখন আমার পাঠশালা এই রাস্তার ধারে। শুধু পাঠ নেই, শুধু শালা আছে।"

সেই হাসির আড়ালে ছিল এক গাঢ় বিষাদ। কিছুদিন পরেই তার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয়ে যায়। প্রতিদিন বিকেলে আমি গিয়ে বসতাম তার পাশে। এক কাপ চা আর অজস্র কথা। ধীরে ধীরে খুলে গেল অতীতের বই।

“আমি এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষিকা ছিলাম। আমার ছাত্ররা এখন অনেকেই দেশের বড় বড় জায়গায়।”

এই কথা যখন বলেছিলেন, তার চোখে গর্বের দীপ্তি ছিল। কিন্তু পরের কথায় সে দীপ্তি ম্লান হয়ে গিয়েছিল।

“একটা প্রেম ছিল, যেটা আমার সমস্ত কিছু কেড়ে নিয়েছিল। ও বলেছিল, বিয়ে করলে আমায় কাজ করতে হবে না। আমিও ভাবলাম, ভালোবাসা মানেই তো নিরাপত্তা। ভুল ভেবেছিলাম।”

বিয়ের পর তার স্বামী একে একে বন্ধ করে দেয় তার সকল প্রকাশনা, লেখালেখি, পত্রিকা পড়া। ধীরে ধীরে সে হয়ে পড়ে গৃহবন্দী। সন্তান হয় না। আর সেটা নিয়েই চলতে থাকে মানসিক নির্যাতন। একদিন, এক কাপ চা খেতে খেতে সে সিদ্ধান্ত নেয়, আর নয়।

“তখন আমার বয়স ৪২। ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলাম। কিছুই ছিল না। শুধু একটা ব্যাগ আর বুকভরা যন্ত্রণা।”

শুরুর দিকে নানারকম কাজ করেছেন – ছাত্র পড়ানো, টাইপ করা, বইয়ের প্রুফ দেখা। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে কাজ কমে গেছে। এখন রাস্তায় বসে চা বিক্রি করেন। নিজেকে ছোট মনে করেন না।

“এই এক কাপ চা আমার সম্মান। কারো কাছে হাত পাতিনি।”

একদিন আমি বললাম, “চাচী, আপনার তো বই লেখার মতো জীবন। কেন লেখেন না?”

তিনি মুচকি হেসে বললেন,

“আমার লেখার সময় গেছে মা। এখন তোমরা লেখো। আমি শুধু চাই আমার গল্প হারিয়ে না যাক।”

আজ তিন মাস হয়ে গেছে চাচীকে দেখছি না। দোকানটা ফাঁকা পড়ে থাকে। অনেকে বলে, তিনি হয়তো গ্রামে চলে গেছেন, কেউ বা বলে তিনি মারা গেছেন।

কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, চাচী আছেন। কোথাও বসে, কাঁপা হাতে চা বানাচ্ছেন – হয়তো স্বর্গে কোনো কবি বা গল্পকারের জন্য।

আর তার গল্প? আমি লিখে ফেললাম।

এক কাপ চা আর একজোড়া কাঁপা হাত যে জীবনের যত গল্প ধারণ করে, তা অনেক উপন্যাসকেও হার মানায়।

(-সংগৃহিত।)

18/04/2025

কাজে ফাঁকি দেয়া মানে নিজের ক্ষতি করা-

একবার এক রাজা তার তিন মন্ত্রীকে ডেকে বললেন,এই নাও তোমাদের একটা করে খালি বস্তা দিলাম। তোমাদের কাজ হবে বনে গিয়ে বিভিন্ন ফল কুড়িয়ে এই বস্তা ভরে নিয়ে আসবে, দেখি কে কত তাড়াতাড়ি বস্তা পূর্ণ করে নিয়ে আসতে পার। তিন জন চলে গেল জঙ্গলে।
🔶১ম মন্ত্রী চিন্তা করলো, রাজা বলেছেন তাই ভালো ভালো ফল কুড়িয়ে বস্তা পূর্ণ করি এবং সেই মত জঙ্গলের ভালো ফল কুড়িয়ে বস্তা ভরে ফিরে আসল।

🔶২য় মন্ত্রী চিন্তা করলো, রাজা তো সব ফল দেখবেন না তাই হাবিজাবি পচা ফল দিয়ে সে নীচের দিকে পূর্ণ করে, উপরের দিকে শুধু কিছু ভালো ফল দিয়ে বস্তা পূর্ণ করলো এবং ফিরে আসল।

🔶৩য় মন্ত্রী চিন্তা করলো, রাজার এত সময় কোথায় বস্তা খুলে খুলে দেখবে, সে শুধু দেখবে বস্তা পূর্ণ হয়েছে কিনা। জঙ্গলে মরা পাতা, ঘাস,কাঠ দিয়ে বস্তা পূর্ণ করে নিয়ে এলো।

তিন মন্ত্রী রাজার দরবারে হাজির, রাজা সবার বস্তা পূর্ণ দেখে খুশী হলেন।তিনি বস্তাগুলো খুলেও দেখলেন না।৩য় মন্ত্রী নিজের বুদ্ধির কথা চিন্তা করে নিজেকে বেশ বুদ্ধিমান মনে করতে লাগলো। রাজা একটু সময় নিয়ে তার মসনদে বসলেন এবং ঘোষণা করলেন, এই তিন মন্ত্রীদের তাদের বস্তা সহ ৭ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানো হোক এবং প্রত্যেককে তিনটা আলাদা আলাদা কক্ষে রাখা হোক। এই ৭ দিন তাদের কোন প্রকার খাবার দেওয়া হবে না।

যেই কথা সেই কাজ, তিনজনকেই কারাগারে পাঠানো হলো। ১ম মন্ত্রী এই ৭ দিন তার বস্তার ফলগুলো খেয়ে কাটিয়ে দিলেন।

দ্বিতীয় মন্ত্রী তার যত ভালো ফল ছিল ২ দিন খেতে পারলো, বাকী দিন পচা ফল খেয়ে কাটানোর চেষ্টা করলো কিন্তু তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন।

৩য় মন্ত্রীর বস্তায় কোন ফল ছিলোনা তাই তিনি না খেতে পেরে কারাগারেই মারা গেলেন।

🌸এই গল্পের শিক্ষণীয় বিষয় হলো:-
যদি আমরা ফাঁকি না দিয়ে সঠিকভাবে শিখে, পড়ালেখা বা কাজ করে বড় হই তবে এর ফল আমরা যখন কর্মক্ষেত্রে যাবো তখন ভোগ করতে পারবো।

শেয়ার করার অনুরোধ রাখছি।

31/03/2025

কোথায় কীভাবে পাবেন জমির এই উল্লেখযোগ্য ডকুমেন্ট।
★ পর্চা বা খতিয়ান।
★দলিল।
★ ম্যাপ বা নকশা।

এই ডকুমেন্টগুলো ছাড়া আপনি জমি ক্রায়-বিক্রয় ও হস্তান্তর অথবা ব্যাংক লোন নিতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়।
সেজন্য, জমির খতিয়ান, দলিলসহ সকল কাগজ পত্র সরকারি বিভিন্ন দপ্তর রয়েছে।

আপনার জমির খতিয়ান বা পর্চা কোথায় পাবেন?

জমির পর্চা বা খতিয়ান মূলত তিন/ চারটি অফিসে পাবেন।
১/ ইউনিয়ন ভূমি অফিস।
২/ উপজেলা ভূমি অফিস।
৩/ জেলা ডিসি অফিস।
৪/ সেটেলমেন্ট অফিস।

★ইউনিয়ন ভূমি অফিস বা তহশিল অফিস-
ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যদিও খতিয়ান বা পর্চার বালাম বহি থাকে কিন্তু আপনি এই অফিসে হতে খতিয়ানের কপি নিতে পারবেন না। ইউনিয়ন ভূমি অফিস হতে শুধু খসরা খতিয়ান নিতে পারবেন যেটা আইনত কোন মূল্য নেই তারপরেও এই অফিসটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আপনার জমির খতিয়ান নাম্বার জানা না থাকলে এই অফিস থেকে জেনে নিতে পারবেন এছাড়া জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর এই অফিসে দিতে হয়।

★উপজেলা ভূমি অফিস-
যদিও উপজেলা ভূমি অফিসের মূল কাজ নামজারী বা খারিজ বা মিউটেশন করা তবে খসরা খতিয়ান তুলতে পারবেন। এই অফিস হতে খতিয়ানের সার্টিফাইড পর্চা বা কোর্ট পর্চা তুলতে পারবেন না।

★জেলা ডিসি অফিস-
এই অফিস হতে পর্চা বা খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি সংরক্ষণ করতে পারবেন। এই অফিসের খতিয়ান এর গুরুত্ব সর্বাধিক। সব জায়গায় এই অফিসের খতিয়ান এর গুরুত্ব রয়েছে।

★সেটেলমেন্ট অফিস-
শুধুমাত্র নতুন রেকর্ড বা জরিপের পর্চা / খতিয়ান এই অফিস হতে সংগ্রহ করা যাবে। পাশাপাশি নতুন রেকর্ড এর ম্যাপ ও সংগ্রহ করা যায়।

খতিয়ান তুলতে কত টাকা লাগবে.?
সি এস, এস এ, আর এস, এর জন্য কত টাকা দিতে হবে তা নির্ভর করে ঐ স্থানের সিন্ডিকেটের উপর।

আপনার জমির দলিল বা বায়া দলিল কোথায় পাবেন?
দলিল বা দলিল এর সার্টিফাইড কপি বা নকল মূলত দুটি অফিস হতে সংগ্রহ করা যায়, তা হলো-
১/ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস।
২/ জেলা রেজিস্ট্রি বা সদর রেকর্ড রুম অফিস।

★উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস-
যেখানে নতুন দলিল রেজিস্ট্রেশন করা হয় এই অফিস হতে নতুন দলিলের নকল ও মূল দলিল পাওয়া যায়। কিন্তু পুরাতন দলিল বা বায়া দলিল এই অফিসে পাওয়া যায় না।

★জেলা রেজিস্ট্রি অফিস বা সদর রেকর্ড রুম-
এই অফিসে নতুন বা পুরাতন দলিলের সার্টিফাইড কপি বা নকল পাওয়া যায়।

মূল অথবা সার্টিফাইড দলিল তুলতে কত টাকা লাগতে পারে?
মূলতঃ সরকারি খরচ যদিও সামান্য কিন্তু নকলের খরচ নির্ভর করে ঐ স্থানের সিন্ডিকেটের উপর।

★আপনার জমির মৌজা ম্যাপ বা নকশা যেখানে পাওয়া যাবে।
সাধারণত ম্যাপ বা নকশা দুইটি অফিসে পাবেন, তা হলো
১/ জেলা ডিসি অফিস
২/ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ( DLR) অফিস, ঢাকা।

★জেলা ডিসি অফিস-
এই অফিস হতে সিএস, এসএ, আরএস, বিএস যেকোনো মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ করা যাবে।

★ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর (তেজগাঁও সাতরাস্তার মোড়), ঢাকা।

সারা বাংলাদেশের যে কোনো মৌজা ম্যাপ সিএস, এসএ, আরএস, বিএস, জেলা ম্যাপ, বাংলাদেশ ম্যাপ উক্ত অফিস হতে তুলতে পারবেন।
এই অফিসের ম্যাপের গ্রহণযোগ্যতা ও অনেক বেশি। সারা বাংলাদেশের যে কোন ম্যাপ এই অফিসে পাওয়া যায়।

ধন্যবাদ সবাইকে।

শেয়ার করার অনুরোধ রাখছি।

13/03/2025

আগে দেশ, তারপর ধর্ম-

"জীবনে যা কিছু করো, সবসময় মনে রাখবে, আগে দেশ, তারপর ধর্ম। মুসলমান হিসেবে আমি গর্ববোধ করি। কিন্তু অন্য সব ধর্মের প্রতিও আমি খুবই শ্রদ্ধাশীল। কারণ আমাদের সবার রক্ত এক।
ধর্ম যার যার নিজের, মানুষ হিসেবে কোন ভেদাভেদ নেই।”

সিঙ্গাপুরে হাসপাতালের শয্যায় সন্তানদের প্রতি জীবনের শেষ মুহুর্তে কথাগুলো বলেছিলেন সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী।

তথ্য সূত্র: প্রথম আলো, পৃষ্ঠা ১২, ১৩ মার্চ ২০২৫।

🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸
সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, (১৯৪২-২০২৫)
বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা, আপেক্স সহ আরও ১২ টি প্রতিষ্ঠান।

বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। উপারে ভালো থাকবেন এই প্রার্থনা।

05/03/2025

পুত্র শীর্ষ; নতুন হেয়ার স্টাইলে। সবায় আশির্বাদ কাম্য।

05/01/2025

আজীবন আইন মেনেছি, মৃত্যুতে আইন ভাঙব কেন!!

মহাজ্ঞানী সক্রেটিসের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হবে সন্ধ্যায়। তখনকার নিয়ম অনুযায়ী পরিবারের সকলেই আর একান্ত শিষ্যরা তার চারপাশ ঘিরে আছেন, কারাগারের অন্ধকার ঘরে! প্রধান কারারক্ষী এসে শেষ বিদায় নিয়ে গেলেন. তার চোখেও অশ্রু টলমল করছে। হায় কি অদ্ভুত শাস্তি! “যে মরবে সে ধীরস্থির ও শান্ত। আর যে মারবে তার চোখে জল।”
‌‌
কারাগার প্রধান বললেন- "এথেন্সের হে মহান সন্তান- আপনি আমায় অভিশাপ দিবেন না, আমি দায়িত্ব পালন করছি মাত্র"।এতবছর কারাগারে কাজ করতে গিয়ে আপনার মতো সাহসী, সৎ ওজ্ঞানী কাউকে আমি কখনো দেখিনি।
‌‌
মৃত্যুর ঠিক আগে সক্রেটিস তার পরিবারের নারী ও শিশুদের চলে যেতে বললেন। সুন্দর পোষাক পরলেন তিনি। শিষ্যরা সবাই কাঁদছে কিন্তু সক্রেটিস যেন বেপরোয়া। মৃত্যুতে কি কিছুই যায় আসে না তার? মৃত্যুদন্ডটা চাইলেই তিনি এড়িয়ে যেতে পারতেন !
‌‌
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো- দেবতাদের প্রতি ভিন্নমত প্রকাশ। রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও তরুণদের বিপথগামী হতে উৎসাহ প্রদান।
‌‌
নিয়ম অনুযায়ী খোলা মাঠে তার বিচার বসেছিলো। বিচারক ছিলেন তৎকালীন সমাজের ৫০০ জন জ্ঞানী মানুষ। এদের অনেকেই ছিলেন গ্রীসের রাজার একান্ত অনুগত। সক্রেটিসের মেধা ও বিশেষত তরুণদের কাছে তার জনপ্রিয়তায় জ্বলন ছিলো তাদের।
‌‌
সক্রেটিসকে খতম করার এমন সুযোগ তারা ছাড়বে কেন?
‌‌
তবুও হয়তো প্রাণে বেঁচে যেতেন সক্রেটিস, কিন্তু কাঠ গড়ায় দাঁড়িয়েও বিচারকদের নিয়ে উপহাস করতে ভুললেন না। ফলাফল হেমলক লতার বিষপানে মৃত্যু।
সক্রেটিস নিজেই তার আত্মপক্ষ সমর্থন করেছিলেন। কঠোর যুক্তি দিয়ে বিচারকদের প্রশ্নবাণে জর্জারিত করেছিলেন বিচারকেরা তার একটি প্রশ্নেরও সঠিক কোন উত্তর দিতে পারেনি।
‌‌‌‌
মৃত্যুর আগে একমাস কারাগারে বন্দী ছিলেন তিনি। নিয়ম ছিলো এমন। এই একমাসে কারারক্ষীরাও তার জ্ঞানে মুগ্ধ হয়ে গেলো। তারা তাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করতে চাইলো।‌‌সক্রেটিস বিনয়ের সাথে না করে দিলেন। বললেন আজ পালিয়ে গেলে ইতিহাস আমায় কাপুরুষ ভাববে। তিনি মনে করতেন বীরের মতো মৃত্যু অপমানের জীবনের চাইতে শ্রেষ্ঠ বলে!
‌‌
ঐদিন সন্ধ্যায় প্রধান কারারক্ষী চলে যাওয়ার পরে জল্লাদ এলো পেয়ালা হাতে, পেয়ালা ভর্তি হেমলকের বিষ। সক্রেটিস জল্লাদকে বললেন কি করতে হবে আমায় বলে দাও!
জল্লাদ বললো পেয়ালার পুরোটা বিষ পান করতে হবে। একফোঁটাও নষ্ট করা যাবেনা। সক্রেটিস বললেন তবে তাই হোক। তিক্ত বিষের পুরো পেয়ালা তিনি জলের মতো করে পান করে ফেললেন। চারপাশে বসে থাকা শিষ্যরা চিৎকার করে কাঁদছেন, এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউ!

তখন জল্লাদ আরও কঠোর নির্দেশটি দিলো। বললো নিয়ম অনুযায়ী আপনাকে এখন কিছুক্ষণ পায়চারী করতে হবে। যাতে বিষের প্রভাব পুরোটা শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হায় হায় করে উঠলেন সবাই।
‌‌
শুধু ম্লান হাসলেন সক্রেটিস। বললেন আজীবন আইন মেনেছি। মৃত্যুতে আইন ভাঙবো কেন?
দূর্বল পায়ে উঠে দাঁড়িয়ে হাঁটলেন কিছুক্ষণ।
যতক্ষণ তার শক্তিতে কুলোয়।
এরপর বিছানায় এলিয়ে পড়লেন।
শিষ্যদের বললেন তোমরা উচ্চস্বরে কেঁদোনা।
আমায় শান্তিতে মরতে দাও।
‌‌
জল্লাদের পাষাণ মনেও তখন শ্রদ্ধার ভাব বিনয়ে আর লজ্জায় মাথা নামিয়ে নিলো সে। চাদর দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে নিলেন সক্রেটিস।একবার চাদরটা সরালেন। একজন শিষ্যকে ডেকে বললেন প্রতিবেশীর কাছ থেকে একটা মুরগী ধার করেছিলাম আমি। ওটা ফেরত দিয়ে দিও।
‌‌
ঐদিন সক্রেটিসের মূত্যুর খবর এথেন্সে ছড়িয়ে পড়লে, সাধারণ মানুষেরা বিক্ষোভ মিছিল সহকারে এথেন্সের রাস্তায় নেমে আসে ও সক্রেটিসের বিরুদ্ধে মিথ্যা রায় দেওয়া বিচারকদের পিটিয়ে হত্যা করে। কিছু বিচারক ও জল্লাদ অনুশোচনায় আত্মহত্যা করেছিলো*
‌‌
এই ছিলো তার শেষ কথা। খানিক পরেই অনিশ্চিত যাত্রায় চলে গেলেন মহাজ্ঞানী সক্রেটিস। তার শিষ্যদের মাঝে সেরা ছিলেন প্লেটো। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের এই ঘটনাগুলো প্লেটো সক্রেটিসকে নিয়ে তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ "রিপাবলিক" লিখে গুরুকে অমর করে গেছেন।
‌‌‌
প্লেটোর শিষ্য ছিলেন মহাজ্ঞানী এ্যারিষ্টটল। তার রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ “দ্যা পলিটিক্স”। এ্যারিষ্টটল ছিলেন সর্বকালের জ্ঞানী মানুষদের সামনের সারির একজন। আর মহাবীর আলেকজ্যান্ডার দ্যা গ্রেটের নাম আমরা সবাই জানি, এই বিশ্বজয়ী আলেকজ্যান্ডারের শিক্ষক ছিলেন এ্যারিষ্টটল।
‌‌
প্রহসনের বিচারে সক্রেটিসের মৃত্যু হয়েছে ঠিকই। কিন্তু মৃত্যু তাকে মারতে পারেনি। শিষ্যদের মাঝে জ্ঞানের আলো দিয়ে বেঁচে রইবেন তিনি অনন্তকাল।

ইতিহাস সবসময় সত্য ও ন্যায়ের দিকে ধাবিত হয়।

বিশেষ কৃতজ্ঞতা: পেইজ কিছুমিছু
০৫ জানুয়ারি ২০২৫

21/12/2024

মেট্রোরেল | Metro | 🚈🚇 | Mirpur 12 to Mirpur 11

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address


Dhaka

Opening Hours

Monday 15:00 - 23:00
Tuesday 15:00 - 23:00
Wednesday 15:00 - 23:00
Thursday 15:00 - 23:00
Friday 09:00 - 23:00
Saturday 15:00 - 23:00
Sunday 15:00 - 23:00