Derma Care Ltd.
Derma Care Ltd is a Largest Classifieds online market place in Bangladesh. Everyone known as a wide
নতুন বছর উজ্জ্বল হয়ে উঠুক নতুন আলোয়,নতুন আশায়,নতুন সম্ভাবনায়। আপনাকে ও আপনার পরিবারকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা।
লায়ন এস. আলম, সিডি
31/10/2020
মোবাইলে ভর্তি নিবন্ধন চলছে!! আপনার সন্তান/আপনার ছোট ভাই বোন /আপনার আত্মীয় স্বজন অথবা আপনার পরিচিত কেউ স্বল্প খরচে লেখা পড়া করতে চাইলে আমাদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ছাত্র -ছাত্রীর নাম নিবন্ধন করুন। আমাদের আসন সীমিত। শিক্ষা কোনো ব্যাবসা নয় শিক্ষা মৌলিক অধিকার। আমরা শিক্ষাদানকে পবিত্র ইবাদত মনে করি। আমরা শিক্ষাদান করাকে সামাজিক দায়িত্ব মনে করি। গভীর ভাবে চিন্তা করুন - আপনার ছোট্ট সোনামণির বর্তমান লেখাপড়ার খরচ কি আসলেই যৌক্তিক???
22/09/2020
22/09/2020
গরমে সুস্থ থাকার খাবার তালিকাঃ
হঠাৎ করেই গরম পড়ছে। যতই দিন যাচ্ছে গরমের পরিমাণও বাড়ছে। আর এই গরম ঠান্ডা সময়টাতে মানুষের শরীর খারাপ বেশি হয়ে থাকে। গরমে শক্তি সঞ্চয় করার জন্য, নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য ও হাইড্রেড থাকার জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকার দিকে নজর দিতে হবে। বেশ কিছু খাবার নিয়মিত খেতে হবে। যেগুলো গরমের সময় শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। সেসব খাবার সম্পর্কে জেনে নিন-
প্রক্রিয়াজাতকরণ খাবার খাওয়া যাবেনাঃ
প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাওয়া যাবেনা। কারণ এসব খাবারে থাকে ফুট্রোজ বা সিরা। এছাড়াও স্বাদ বৃদ্ধির জন্য নানা রকম ক্ষতিকারক উপকরণ থাকে। সেইসঙ্গে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম থাকে। তাই গরমের সময় প্রক্রিয়াজাত খাবার না খাওয়াই ভালো। আর খেলেও কম পরিমাণে খেতে হবে।
রাস্তায় বানানো জুস খাওয়া যাবেনাঃ
বিশেষ করে, রাস্তা ঘাটে জুস বা নানা রকম পানীয় খেয়ে থাকি। এসব খাবার খাওয়া বন্ধ করতে হবে। এছাড়া তাজা শাক সবজি বা ফল বেশি পরিমাণে খেতে হবে। আর প্রতিদিনের খাবার তালিকায় বাদাম জাতীয় খাবার রাখা আবশ্যক।
সাদা রঙের খাবার থেকে বিরত থাকতে হবেঃ
সাদা ভাত, সাদা রুটি ও সাদা চিনি এ ধরণের খাবার খাওয়া যাবেনা। কারণ এসব খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হয়ে থাকে। সাধারণত সাদা আটা থেকে সাদা রুটি তৈরি করা হয়ে থাকে। আর প্রক্রিয়াজাত হওয়ার সময় আটা পুষ্টিমান হারিয়ে ফেলে। তাই এসব সাদা আটার রুটিও শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। সব থেকে ভালো উপায় হলো, গম ভাঙিয়ে রুটি খাওয়া বা অর্গানিক চাল দিয়ে রুটি বানিয়ে খাওয়া।
পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি জাতীয় খাবার খেতে হবে: গরমের সময় সারাদিন ঘোড়াঘুড়ির জন্য ডিহাইড্রেশন হয় ও শরীরে পানির ঘাটতি হয়। তাই এমন সব খাবার খেতে যেগুলো শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করতে পারে। তরমুজ, ফল ও স্যুপ জাতীয় খাবার শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করে। সেইসঙ্গে মাংসে ব্যবহৃত লবণাক্ত মসলা তৃষ্ণা বাড়াতে সাহায্য করে। নাস্তা হিসেবে খেঁজুর, ফলের রস বা জুস খেতে পারেন। এসব খাবার খেলে শরীরের পানির ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে আর সেই সঙ্গে ডিহাইড্রেশনের পরিমাণও কমে যাবে। আর চা বা কফি খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে। যদি দিনে দু’বার চা বা কফি খাওয়া হত তবে সেখানে দিনে একবার চা বা কফি খেতে হবে। আর চা বা কফি না খেলে শরীরের জন্য আরো ভালো। কারণ চা বা কফি ডিহাড্রেশনের অন্যতম কারণ।
ভাজা খাবার এড়িয়ে চলতে হবেঃ
গরমের সময় ভাজা ভাজি খেলে হজমের সমস্যা দেখা দেয়। সেকারণে যতটা সম্ভব না ভেজে বেক করে যেসব খাবার খাওয়া যায় তা খেতে হবে। অনেকেই রাতে খাবার পরে মিষ্টি জাতীয় খাবার খেয়ে থাকেন। মিষ্টি জাতীয় খাবার বা চিনি না খেয়ে মধু খেতে পারেন। তবে গরমে আর কোনো সমস্যা হবেনা। আর গরমে অবশ্যই কার্বো হাউড্রেড জাতীয় খাবার কমিয়ে খেতে হবে। কারণ কার্বো হাইড্রেড শরীরে গিয়ে শর্করায় রুপান্তরিত হয়ে থাকে। আর কার্বো হাইড্রেড একান্ত খেতেই হলে এর সঙ্গে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারও রাখতে হবে। যেমন: মটরশুটি, ডিম ইত্যদি।
31/07/2020
ঈদের শুভেচ্ছা - তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম
ডিপ্রেশন কী?
উত্তরঃ আপনি এবং আপনার স্রষ্টার মধ্যকার দুরত্বের নামই হল ডিপ্রেশন।
খাদিজা(রা:) খুব ধনী ঘরের মেয়ে ছিলেন। বিলাসিতার মধ্যেই বড় হওয়াটাই স্বাভাবিক। নবিজী(স:) ত্রর ইসলাম প্রচারের কারণে অন্যান্য গোত্র যখন কুরাইশদের অবরোধ দিল তখন নবিজী আর খাদিজা (রা:)এর গোত্রের শিশুদের আড়াইবছর তীব্র কষ্টে থাকতে হয়েছিলো।
এমনকী ক্ষুধার তাড়নায় গাছের পাতা পর্যন্ত খেয়েছিলেন।
হযরত বিলাল (রা) ছিলেন হাবশী ক্রীতদাস। ইসলাম কবুলের অপরাধে তাকে মরুভূমির রোদে ফেলে রাখা হতো, তার গায়ের চর্বি গলে যেতো।তারপরও তার মুখে লেগে থাকতো প্রশান্তি, রোদের তেজ তাঁর কালিমার তেজের কাছে পরাজিত হতো।
ইমাম ইবনু তাইমিয়্যা তাঁর জীবনে আট বছর জেল খেটেছেন। জেলেই মরেছেন। অথচ তিনি কী বলেছিলেন, জানেন?
বলেছিলেন, দুনিয়াতেও একটা জান্নাত আছে, আমি আমার হৃদয়ে সে জান্নাতের খোঁজ পেয়েছি।
গান শোনা, মুভি দেখা, মোটিভেশনাল বই পড়া বা মানুষের সাথে আড্ডা দিয়েই যদি ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি মিলত তবে গায়ক লিনকিন পার্ক আত্মহত্যা করলেন কেন? কিংবা অভিনেতা সুশান্ত শিং সুইসাইড করলেন কেন?মোটিভেশন গুরু ডেল কার্নেগি আত্মহত্যা করেছিলেন কেন?
আল্লাহ্ তাআলা, ইসলাম, ইমান আর ডিপ্রেশন এক অন্তরে একসঙ্গে থাকতে পারে না। যদি আপনার মনে বিন্দুমাত্র ডিপ্রেশন থাকে, তার মানে আপনার হৃদয়ে আল্লাহ্ নাই, বরং ওখানে শয়তান বাসা বেঁধেছে।
যারা ডিপ্রেশনে পড়ে বা আত্মহত্যা করে, মোটা দাগে দেখবেন, এরা অজ্ঞেয়বাদী নাহয় অবিশ্বাসী। কোনো মুসলিম যদি ডিপ্রেশনের স্বীকার হন, তাহলে আপনার ঈমান নিয়ে ভেবে দেখার সময় এসেছে।
এবার অনেকেই তেড়ে এসে বলবেন, আমার পরিস্থিতি আপনি বুঝবেন না, আমার ফ্যামিলি প্রবলেম, মানি প্রবলেম, স্বামী প্রবলেম.....আরে ভাই থামেন তো!!
কোন পরিস্থিতির গল্প শোনান আপনি? বউ ভালো না? হযরত লূত (আ) এর স্ত্রীও ভালো ছিলো না। হযরত আছিয়া (আ) এর স্বামী ছিলেন কে জানেন? ফেরাউন।
ফেরাউনকে ঈশ্বর না মানার অপরাধে তাঁকে টুকরো করে কেটে গরম তেলের মধ্যে ডোবানো হয়েছিল৷
আরও শুনবেন? চেষ্টা করেও কিছু হচ্ছে না তাই ডিপ্রেশন?
হযরত নুহ (আ) প্রায় হাজার বছর দাওয়াত দিয়ে আশি জনকে দাওয়াত কবুল করাতে পেরেছিলেন।
আপনজন কষ্ট দিয়েছে? অপবাদ দিয়েছে?
ইউসুফ (আ) এর ভাইয়েরা তাকে কুয়ার মধ্যে ফেলে দিয়ে চলে গেলো। ব্যবসায়ীর বৌ জুলেখার সাথে ব্যভিচার না করায় উল্টো অপবাদ দিয়ে সাত বছরের জেল দেওয়া হলো!!
এরপরও আপনি আমাকে কোন পরিস্থিতির গল্প শোনাবেন?
চলুন দেখি কুরআন কী বলছে-
হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যখন বার্ধক্যে উপনীত, আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একদল ফেরেশতা এসে তখন তাঁকে এক জ্ঞানী পুত্রের সুসংবাদ শোনাল। বিস্ময়ভরা কণ্ঠে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম জিজ্ঞেস করলেন- আমাকে তো বার্ধক্য পেয়ে বসেছে, এরপরও তোমরা আমাকে এ সুসংবাদ দিচ্ছ?! কীসের ভিত্তিতে তোমরা এ সুসংবাদ দিচ্ছ? ফেরেশতারা বলল, আমরা তো সত্য কথাই বলছি। আপনাকে সত্য সুসংবাদই দিচ্ছি। বার্ধক্য আপনাকে স্পর্শ করেছে করুক, এ বৃদ্ধ বয়সেই আপনার সন্তান হবে। আপনি নিরাশদের দলে যাবেন না। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাদের কথার জবাবে বললেন, পথভ্রষ্টরা ছাড়া আর কে আপন প্রতিপালকের রহমত থেকে নিরাশ হতে পারে? (সূরা হিজর, ৫৩-৫৬ নং আয়াত দ্রষ্টব্য)
যারা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় তাদেরকে বলা হলো পথভ্রষ্ট!! এরপরও আপনি আমাকে ডিপ্রেশনের গল্প শোনাবেন?
আরেকটা গল্প শুনে যান-
হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের সর্বাধিক প্রিয় সন্তান ছিলেন হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম। কিন্তু তাঁর ভাইয়েরা বাবার এই আদরকে সহজে মেনে নিতে পারেনি তাই কৌশলে তাঁকে একদিন বাবার কাছ থেকে নিয়ে গিয়ে কূপে ফেলে দিল।
আল্লাহর অসীম কুদরতে কূপ থেকে উঠে এসে একদিন তিনি মিশরের ধনভাণ্ডারের দায়িত্বশীল হলেন। আর যে ভাইয়েরা তাঁকে নিয়ে চক্রান্ত করেছিল, দুর্ভিক্ষের শিকার হয়ে তারা খাবার আনতে হাজির হলো তাঁর কাছে। এরপর এক কৌশলে তিনি তাঁর সহোদর বিনইয়ামীনকে নিজের সঙ্গে রেখে দিলেন।
দুই ছেলে হারিয়ে বাবা হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম অন্য ছেলেদের বললেন, (তরজমা) ‘হে আমার ছেলেরা! তোমরা যাও, ইউসুফ ও তার ভাইয়ের সন্ধান করো। তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চিত জেনো, আল্লাহর রহমত থেকে তো কাফের ছাড়া অন্য কেউ নিরাশ হতে পারে না।’ {সূরা ইউসুফ (১২) : ৮৭}
শেষ লাইনটা আবার পড়েন তো!!
শুধু তাই না আল্লাহর রহমত থেকে ডিপ্রেসড হয়ে যাওয়া কবিরা গুনাহ।
এই নিন হাদিস-
বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন, ‘হাবরু হাযিহিল উম্মাহ’-এই উম্মতের বিদ্বান ব্যক্তি। তিনি বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় কবিরা গোনাহ হচ্ছে আল্লাহ তাআলার সঙ্গে র্শিক করা, আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিশ্চিন্ত হয়ে যাওয়া আর আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে পড়া'৷
(মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ১৯৭০১)
গান বাজনা বা মুভি, বই আপনাকে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি দিতে পারবে না। ডিপ্রেশনের একমাত্র চিকিৎসা হলো আল্লাহর দিকে ফেরত আসা। আপনার শয়তান যখন আপনাকে বলছে তোর অনেক কষ্ট, তোর চেয়ে কষ্টে কেউ নাই, তখন আল্লাহ্ তাআলা বলছেন-
"কষ্টের সঙ্গেই তো স্বস্তি আছে। অবশ্যই কষ্টের সঙ্গেই স্বস্তি আছে৷"
[সূরা আলাম নাশরাহ (৯৪) : ৫-৬]
শেষকথা:
প্রিয় অভিনেতা সুশান্ত শিং রাজপুত সুইসাইড করেছেন অথচ উনার ছিচোড়ে মুভিটা ছিলো মোটিভেশনাল, সুইসাইড বিরোধী একটা মুভি। মুভি তাঁকে ডিপ্রেশন থেকে ফেরাতে পারলো না।লাস্ট ছয়মাস উনি চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন, লাভ হলো না। শরীরের রোগের চিকিৎসা আছে, মনের রোগের ভ্যাকসিন চিকিৎসা বিজ্ঞানে নাই।
এখন পর্যন্ত যার মোটিভেশনাল বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে বলে দাবি করা হয়, সেই ডেল কার্নেগি শেষ জীবনে আত্মহত্যা করেছেন। মোটিভেশনের ফেরিওয়ালা নিজের বেঁচে থাকার এতটুকু মোটিভেশন জোগাড় করতে পারলেন না!!
লিনকিন পার্ক। যে ব্যান্ড এর গান শুনে আমাদের রাত্রি ভোর হয়, প্রবল উৎসাহ পাই, অনেকে যার গানে বেঁচে থাকার উপাদান খুঁজেন, সেই ব্যান্ড এর নামকরা শিল্পী নিজের গানে নিজের বাঁচার উপাদান খুঁজে পেলেন না। শেষপর্যন্ত আত্মহত্যা করলেন।
চার্লি চ্যাপলিন ।
সর্বকালের সেরা কমেডিয়ান। পৃথিবীর নানান প্রান্তের মানুষকে হাসানো মানুষটির বোকা হাসির আড়ালে কী ব্যথা লুকিয়ে ছিলো, কেউ জানলো না। নিজেকে শেষ করে দিলেন।
তাহলে সমাধান কী?
জেনে রেখ, আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমেই অন্তরের সত্যিকারের প্রশান্তি লাভ করা যায়।
[১৩:২৮]
আল্লাহ্ তাআলার দিকে ফিরে আসুন।
কুরআনের দিকে ফিরে আসুন।
যে অন্তরে রাহমানুর রাহীমের ভালোবাসা থাকে, যে হৃদয়ে আল্লাহ্ থাকেন, সে হৃদয়ে ডিপ্রেশন থাকতে পারে না। কোনভাবেই না।
(কপি এবং পেষ্ট)
24/07/2020
www.dermacarebd.com
হাতের কব্জির ব্যথায় কী করবেন?
কব্জির ব্যথা খুব সাধারণ একটি সমস্যা। হঠাৎ ইনজুরির কারণে কব্জিতে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা হয়ে থাকে। মচকে গেলে কিংবা হাড় ভাঙলে কব্জিতে বেশ ব্যথা হয়। তবে অনেক দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার জন্য কব্জিতে ব্যথা হতে পারে, যেমন—বারবার কব্জিতে চাপ, বাত ও কারপাল টানেল সিনড্রোম।
যেহেতু অনেক কারণে কব্জিতে ব্যথা হতে পারে, তাই কখনো কখনো দীর্ঘমেয়াদি কব্জির ব্যথার সঠিক কারণ নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। সঠিক রোগ নির্ণয় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তার ওপর নির্ভর করে আপনার কব্জির ব্যথার সঠিক চিকিৎসা।
কব্জির ব্যথার উপসর্গ কেমন হয়?
কব্জির ব্যথার উপসর্গ বিভিন্ন ধরনের হয়। এটি নির্ভর করে ঠিক কী কারণে ব্যথা হচ্ছে, তার ওপর। যেমন—
অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ব্যথা ঠিক ভোঁতা ধরনের দাঁতব্যথার মতো,
টেনডনের প্রদাহ বা টেনডিনাইটিসের ব্যথা সাধারণত তীক্ষ্ণ ও ধারালো ধরনের।
আপনার কব্জির ব্যথার স্থানটি নির্ভুলভাবে দেখাতে পারলে ব্যথার কারণ খুঁজে বের করা সহজ হবে।
কব্জির ব্যথার কারণগুলো কী?
আপনার কব্জি বা রিস্টজয়েন্ট হলো একটি জটিল সন্ধি, যা তৈরি হয়েছে কয়েকটি হাড়ের সমন্বয়ে, যেমন—রেডিয়াস ও আলনা হাড়ের নিম্নাংশ এবং আটটি ছোট ছোট কারপাল হাড়। এই কারপাল হাড়গুলো দুই সারিতে সাজানো। লিগামেন্টের শক্ত ব্যান্ড আপনার কব্জির হাড়গুলোকে একে অন্যের সঙ্গে, আপনার রেডিয়াম ও আলনা হাড়ের নিম্নাংশ এবং আপনার হাতের হাড়গুলোকে সংযুক্ত করে। টেনডনগুলো হাড়ের সঙ্গে মাংসপেশিকে সংযুক্ত করে। আপনার কব্জির যেকোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যথা হতে পারে এবং আপনার হাত ও কব্জির ব্যবহারের সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
কব্জির ব্যথার সাধারণ কারণগুলো নিচে বর্ণিত হলো :
১. ইনজুরি (হঠাৎ সংঘর্ষ):
হাতের ওপর ভর দিয়ে সামনের দিকে পড়ে গেলে আপনার কব্জিতে খুব বেশি ইনজুরির ঘটনা ঘটে। এ ক্ষেত্রে কব্জি মচকে যায়, কব্জিতে টান পড়ে এবং কব্জির হাড় ভেঙেও যায়। কব্জির বুড়ো আঙুলের দিকে হাড়টির নাম স্কাফয়েড। এটি অনেক সময় ভেঙে যায়। এ ধরনের হাড় ভাঙলে সঙ্গে সঙ্গে সেটা এক্স-রেতে নাও দেখা যেতে পারে। ব্যথা অনেক দিন থাকে, কব্জি নাড়াচাড়া করলে ব্যথা বাড়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে হাত দিয়ে কাজ করা যায় না। প্লাস্টার করেও ব্যথার উপশম হয় না। অপারেশন করতে হয়। অনেক সময় স্কাফয়েড হাড় ভাঙলে হাড়ের মধ্যে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয় এবং হাড়ের জোড়া লাগতে সমস্যা হয়। যার ফলে ব্যথা হয় এবং কব্জি নাড়তে অসুবিধা হয়। তখন অপারেশনের প্রয়োজন হয়।
হাতের ওপর ভর দিয়ে পড়ে গেলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কলিস ফ্রাকচার হয়। এ ক্ষেত্রে রেডিয়াসের নিচের অংশ ভেঙে যায়। কব্জি ফুলে যায়।বারবার চাপ
কব্জি বারবার নাড়াতে হয় এমন যেকোনো কাজে টেনিস বল খেলা থেকে শুরু করে কিংবা বেহালা বহন করতে করতে কব্জির সন্ধির চারপাশের টিস্যুতে প্রদাহ হতে পারে কিংবা হাড় ভেঙে যেতে পারে। বিশেষ করে কোনো বিরতি ছাড়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা কব্জির কাজ করলে। বারবার চাপের ফলে হাতের কব্জির ব্যথার আরেকটি কারণ হলো ডি কোয়ার ভেইন’স ডিজিজ। এ ক্ষেত্রে কব্জির বাইরের দিকে, অর্থাৎ রেডিয়াসের ওপর দিয়ে যে দুটো টেনডন বিন্যস্ত রয়েছে, তাদের আবরণীতে প্রদাহ হয়। ব্যথা বুড়ো আঙুলের মূলে অনুভূত হয়।
ডি কোয়ার ভেইন’স ডিজিজে কব্জি নাড়াতে খুব ব্যথা হয়, কাজ করতে অসুবিধা হয় এবং অনেক সময় কাজের পর ব্যথা বেশ বেড়ে যায়। বুড়ো আঙুলে চাপ দিলে প্রচণ্ড ব্যথা হয়।
২. আর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথা
অস্টিওআর্থ্রাইটিস:
সাধারণত কব্জিতে অস্টিওআর্থ্রাইটিস খুব কম হয়। কোনো লোকের কব্জিতে আগে ইনজুরি হয়ে থাকলে পরে অস্টিওআর্থ্রাইটিস হয়। এ ক্ষেত্রে কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি ছিঁড়ে যায় বা ক্ষয় হয়। বুড়ো আঙুলের মূলে ব্যথা হয়।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস:
এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তার নিজস্ব টিস্যুগুলোকে আক্রমণ করে। কব্জিতে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস খুব বেশি পরিলক্ষিত হয়। যদি একটি কব্জি আক্রান্ত হয়, তাহলে সাধারণত অন্য কব্জিতেও এটি ঘটে।
৩. অন্যান্য রোগ ও অবস্থা
কারপাল টানেল সিনড্রোম:
আপনার কব্জির তালুর দিকের অংশে একটি পথ রয়েছে, যার নাম কারপাল টানেল; এর মধ্য দিয়ে মিডিয়ান নার্ভ অতিক্রম করে। মিডিয়ান নার্ভে চাপ পড়লে কব্জি ও হাতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এ অবস্থার নাম কারপাল টানেল সিনড্রোম।
গ্যাংলিয়ন সিস্ট:
কব্জির ব্যথার অন্যতম কারণ হলো এক ধরনের টিউমার জাতীয় ফোলা বস্তু থাকে, যাকে গ্যাংলিয়ন বলে। এটি ওঠে টেনডনের আবরণী থেকে কব্জির পেছনে অথবা সামনের দিকে। স্থানটি ফুলে ওঠে। কব্জি নাড়ালে ব্যথা হয়। বড় গ্যাংলিয়ন সিস্টের চেয়ে ছোটগুলো বেশি ব্যথা সৃষ্টি করে।
কিয়েনবক’স ডিজিজ:
এটি সাধারণত তরুণদের হয়। এ ক্ষেত্রে কব্জির লুনেট নামের ছোট হাড়টিতে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে হাড়টি কোলাপস করে। লুনেট হাড়ের ওপরে চাপ দিলে ব্যথা লাগে এবং রোগী হাত মুঠো করে ধরতে পারে না।
কব্জি ব্যথার ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো কী?
যে কারো হাতের কব্জিতে ব্যথা হতে পারে, তা আপনি অল্প কাজ করুন কিংবা বেশি কাজ করুন না কেন। কিন্তু কিছু ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ের কারণে এ ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। যেমন—
খেলাধুলা করা:
বিভিন্ন খেলাধুলায় কব্জিতে ইনজুরি হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বোলিং, গলফ, জিমন্যাস্টিক, টেনিস প্রভৃতি।
বারবার কাজ করা:
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হাত ও কব্জির যেকোনো কাজ বারবার করলে কব্জির ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। যেসব মহিলা হাঁড়ি-পাতিল ধোয়াধুয়ি করেন বা বুননের কাজ করেন (যেমন সোয়েটার বোনা), তাঁদের কব্জির ব্যথা বেশি হয়। যাঁরা চুল কাটার কাজ করেন, তাঁদেরও কব্জির ব্যথা বেশি হয়।
যাঁরা কম্পিউটার কিবোর্ডে টাইপ করেন, কম্পিউটার মাউস ব্যবহার করেন, হ্যান্ডবল খেলেন, সেলাই করেন, আঁকাআঁকি করেন, লেখালেখি করেন বা ভাইব্রেটিং যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেন, তাঁদের কব্জির ব্যথা বেড়ে যায়।
রোগ:
যদি আপনার ডায়াবেটিস, লিউকেমিয়া, স্কে-রোডার্মা, লুপাস থাকে কিংবা থাইরয়েড গ্রন্থি ঠিকমতো কাজ না করে, তা হলে আপনার কব্জির ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।
কোন ধরনের ডাক্তার দেখাবেন:
প্রাথমিকভাবে আপনার ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানের সঙ্গে আলাপ করুন। তিনি আপনাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, যেমন—রিউমাটোলজিস্ট, স্পোর্টস মেডিসিন বিশেষজ্ঞ কিংবা অর্থোপেডিক সার্জনের কাছে রেফার করতে পারেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে আপনি আপনার উপসর্গের বিস্তারিত বর্ণনা দেবেন, আপনার কোনো রোগ আছে কি না জানাবেন, আপনার বাবা-মা কিংবা ভাই-বোনের অন্য রোগ আছে কি না জানাবেন, আপনি কোনো ধরনের ওষুধ খেতে থাকলে তা বলবেন, কী ধরনের খাবার গ্রহণ করেন তা জানাবেন এবং চিকিৎসক যা যা জানতে চাইবেন তার সঠিক উত্তর দেবেন।
কী কী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাবেন:
আপনার কব্জিতে ব্যথা হলেই প্রথমত আপনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। তিনি আপনাকে প্রথমে শারীরিক পরীক্ষা করবেন। আপনি কব্জির কোথায় চাপ দিলে ব্যথা অনুভব করেন, তা পরীক্ষা করে দেখবেন। কোনো ফোলা আছে কি না, তা দেখবেন। চিকিৎসক আপনার কব্জির নাড়াচাড়ার মাত্রাটা দেখবেন। আপনি শক্ত হাতে ধরতে পারেন কি না দেখবেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি আপনাকে কব্জির এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, বোন স্ক্যান ও এমআরআই করতে দিতে পারেন। যদি এসব পরীক্ষায় কোনো সিদ্ধান্ত না আসে, তাহলে আপনার চিকিৎসক আপনাকে আর্থ্রাস্কোপি ও নার্ভ টেস্ট করে দেখতে পারেন।
চিকিৎসা:
হাতের কব্জির ব্যথার চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ভর করে ইনজুরির ধরন, স্থান ও তীব্রতা সর্বোপরি আপনার বয়স ও সার্বিক স্বাস্থ্যের ওপর। প্রথমত, আক্রান্ত হাতের কব্জিকে বিশ্রামে রাখতে হবে এবং যদি কোনো নির্দিষ্ট রোগের কারণে কব্জিতে ব্যথা হয়ে থাকে, তাহলে তার উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে হবে। ব্যথানাশক ওষুধ, যেমন—আইবুপ্রফেন ও অ্যাসিটামিনোফেন কব্জির ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। প্রয়োজনে শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়া যেতে পারে। হাড় ভাঙলে হাড়ের টুকরোগুলো সঠিক বিন্যাসে রাখতে হবে, যাতে ঠিকমতো জোড়া লাগে; এ ক্ষেত্রে কাস্ট বা স্পিন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।
কব্জিতে টান লাগলে বা মচকে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত টেনডন বা লিগামেন্ট যাতে সুরক্ষা পায়, সে জন্য স্পিন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। আক্রান্ত হাতের কব্জিকে নড়াচড়া থেকে রক্ষা করার জন্য রিস্টব্যান্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপারেশনের প্রয়োজন হয়। যেমন—মারাত্মকভাবে হাড় ভাঙলে, কারপাল টানেল সিনড্রোমের উপসর্গ তীব্র হলে এবং টেনডন বা লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে।
একটি কথা মনে রাখা প্রয়োজন, সব ধরনের কব্জির ব্যথায় কিন্তু মেডিকেল চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। কব্জিতে সামান্য আঘাত পেলে আপনি আঘাতের স্থানে বরফ লাগালে উপকার পাবেন এবং আক্রান্ত কব্জিতে ইলাস্টিক ব্যান্ডেজ পরে থাকবেন।
হাতের কব্জির ব্যথা কীভাবে প্রতিরোধ করবেন:
হাতের কব্জিতে ব্যথা ঘটায় এমন কোনো কোনো বিষয় প্রতিহত করা বেশ মুশকিল, তবে সুরক্ষার জন্য কিছু টিপস মেনে চললে উপকার পাবেন।
হাড় শক্ত করে গড়ে তুলুন:
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম খান। ৫০ বছরের ওপরের মহিলারা প্রতিদিন কমপক্ষে এক হাজার ২০০ মিলিগ্রাম অথবা বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিদিন ১০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম খান। এতে করে হাড়ভাঙা প্রতিহত হতে পারে।
পড়ে যাওয়া ঠেকান:
বেশির ভাগ কব্জির ব্যথার প্রধান কারণ হলো হাতের ওপর ভর দিয়ে সামনে পড়ে যাওয়া। পড়ে যাওয়া ঠেকাতে উপযুক্ত জুতা পরুন। ঘরের জঞ্জাল দূর করুন। ঘরদোর আলোকিত রাখুন। প্রয়োজনে বাথরুমে ধরার জন্য গ্রাব বার এবং সিঁড়িতে হ্যান্ডরেইল লাগান।
খেলাধুলা করার জন্য সুরক্ষাকর ব্যবস্থা নিন
যাঁরা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত, যেমন—ফুটবল, স্কেটিং ইত্যাদি, তাঁরা রিস্টগার্ড পরে নেবেন।
পেশাগত ব্যাপারে সতর্ক হোন:
যাঁরা দীর্ঘ সময় কিবোর্ডে কাজ করেন, তাঁরা নিয়মিত বিশ্রাম নেবেন। টাইপ করার সময় আপনার কব্জিকে রিল্যাক্স রাখবেন, নিউট্রাল পজিশনে রাখবেন। আর্গোনমিক কিবোর্ড এবং ফোম বা জেল রিস্ট সাপোর্ট ব্যবহার করুন। বারবার কাপড় মোচড়ানো, হাতপাখা দিয়ে বাতাস করা কিংবা হাতের কব্জিকে বারবার ঘোরাতে হয় এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকুন।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমাটোলজি বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
24/07/2020
হঠাৎ গোড়ালিতে ব্যথাঃ
dermacarebd.com
সকালে ঘুম থেকে উঠে মেঝেতে পা ফেলতে পারছেন না ব্যথায়। পা ফেললেন যেন কাঁটা বিঁধল। পায়ের নিচে বিশেষ করে গোড়ালিতে ব্যথা হয় বেশি। কয়েক কদম কষ্ট করে হাঁটার পর ধীরে ধীরে ব্যথাটা কমতে শুরু করে। এই সমস্যার নাম প্লান্টার ফ্যাসাইটিস।
আর শীতে শরীরের বিভিন্ন রকম ব্যথা-বেদনা বেড়ে যায়। বিভিন্ন বাত রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়, যেমন-রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, গাউট বা গেঁটে বাত ইত্যাদি।
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) সহযোগী অধ্যাপক কাজী শামিমুজ্জামান বলেন, সাধারণত জুতার সমস্যা, হাঁটাচলার সময় অসতর্কতার ফলে গোড়ালি মচকে যাওয়া এবং অতিরিক্ত ওজনের কারণে গোড়ালিতে ব্যথা হয়ে থাকে। এ ছাড়া গোড়ালিতে প্রদাহ এবং পায়ের গঠনগত কিছু সমস্যার কারণেও গোড়ালিতে ব্যথা হতে পারে। আর শীতকালে তা এমনিতেই বৃদ্ধি পায় তাই নিয়ম মেনে চলুন।
কেন হয় গোড়ালিতে ব্যথা?
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ ধরনের ব্যথার নির্দিষ্ট কোনো কারণ থাকে না। তবে ক্যালকেনিয়ান স্পার ও প্লান্টার ফাসাইটিস নামক অসুখে গোড়ালিতে ব্যথা হতে পারে। পুরু ব্যান্ডের মতো একটি অংশের সাহায্যে পায়ের গোড়ালির হাড় পায়ের পাতার অন্যান্য অংশের সঙ্গে লাগানো থাকে, সেই ব্যান্ডটি কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্যান্টার ফাসাইটিস নামক রোগ হয়। হাঁটতে গিয়ে বা দৌড়াতে গিয়ে বা কোনো কারণে হঠাৎ ব্যথা লেগে এমনটা হতে পারে। বয়সজনিত কারণেও কারও কারও এমন হয়। আর ক্যালকেনিয়ান স্পার নামক রোগটিতে পায়ের ক্যালকেনিয়াম নামক হাড়ে খানিকটা বাড়তি হাড় তৈরি হয়, যার ফলে গোড়ালিতে ব্যথা করতে পারে।
কাদের হয় গোড়ালির ব্যথা?
উচ্চতার তুলনায় ওজন বেশি এবং যাঁরা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, সাধারণত তাঁদেরই এ ধরনের ব্যথা বেশি হয়ে থাকে। মেয়েদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যা বেশি হয়ে থাকে, তবে যে কেউই ভুগতে পারেন গোড়ালির ব্যথায়।
গোড়ালিতে ব্যথা হলে কী করবেন?
নরম স্যান্ডেল ব্যবহার করুন। এমন জুতো পরুন, যা আপনার গোড়ালিকে পায়ের আঙুলের থেকে কিছুটা উঁচুতে রাখবে। জুতোর মধ্যে হিল কুশন সিলিকন প্যাড ব্যবহার করুন।ব্যথা কমানোর জন্য ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। আক্রান্ত স্থানে গরম সেঁক দিতে পারেন। সমস্যা বেশি মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে আপনাকে ফিজিওথেরাপি নিতে হতে পারে।
ফাটা গোড়ালি থেকে হতে পারে ব্যথা
শীতকালে অনেকেরই গোড়ালি ফাটে। কারও কারও আবার সারা বছরই গোড়ালি ফাটার সমস্যা থাকে। ফাটা গোড়ালির কারণেও হতে পারে ব্যথা। ফাটা গোড়ালি সহজেই জীবাণুর দ্বারা সংক্রমণ হতে পারে। এটি প্রতিরোধ করতে পা পরিষ্কার রাখতে হবে। পায়ের গোড়ালিতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
কিছু নিয়ম মেনে চলুন
* গোড়ালির ওপর চাপ কমাতে কিছু নিয়মকানুন মেনে চলা উচিত।
* ওজন কমান। পায়ের যেকোনো ব্যথা কমাতে এটি কার্যকর।
* উঁচু হিলের ও শক্ত সোলের জুতা পরিহার করুন। নিচু বা মাঝারি হিলের জুতা বেছে নিন,
* পায়ের কিছু স্ট্রেচিং ব্যায়াম শিখে নিন।
* যদি ব্যথা হয় তবে ওই সময় হাঁটাহাঁটির পরিবর্তে সাঁতার বা সাইক্লিং ধরনের ব্যায়াম বেছে নিন, যাতে গোড়ালির ওপর ভর দিতে না হয়। পায়ের পাতার নিচে ও গোড়ালির নিচে দিনে তিন–চারবার আইস প্যাক ব্যবহার করলে আরাম পাবেন। একটা বরফের দলা বা ডিপ ফ্রিজে রাখা একটি বোতল পায়ের নিচে বারবার রোল করতে পারেন।
সাধারণ এসব চিকিৎসা ও ব্যথানাশকে ফল না হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Dhaka
1219
