SAYRA
Beauty is about enhancing what you have. Let your beauty bloom!
02/01/2025
24/06/2019
দাড়ি পুরুষদের জন্য আল্লাহর অনেক বড় একটি নেয়ামত এবং এটি মুসলমানের বড় একটি বাহ্যিক নিদর্শন। আমাদের অনেকের মধ্যে দাড়ি রাখা সম্পর্কে একটি ভ্রান্ত ধারণা আছে। সেটা হল- ‘দাড়ি রাখা সুন্নত; অতএব দাড়ি রাখলে ভাল আর না রাখলে তেমন কোন সমস্যা নেই, একটা সুন্নত পালন করা হলো না এই আর কি!’ এটা সম্পূর্ণ একটা ভুল ধারণা। দাড়ি না রাখলে শুধু রাসূলের সাঃ সুন্নাত পালন করা হয় না, বিষয়টা এরকম নয়। দাড়ি না রাখলে আল্লাহ ও রাসূলের সাঃ অবাধ্যতা করা হয়, যা নিঃসন্দেহে অনেক বড় পাপের কাজ। রাসূল সাঃ নিজে দাড়ি রেখেছেন এবং দাড়ি রাখার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাঃ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, দশটি বিষয় ‘ফিতরাতে’র অন্তর্ভুক্ত : মোচ কাটা, দাড়ি লম্বা রাখা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দেওয়া, নখ কাটা, চামড়ার ভাঁজের জায়গাগুলো ধৌত করা, বগলের নীচের চুল তুলে ফেলা, নাভীর নীচের চুল মুন্ডানো, পেশাব পায়খানার পর পানি দ্বারা পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা। বর্ণনাকারী বলেন, দশম বিষয়টি আমি ভুলে গেছি, যদি না তা হয় ‘কুলি করা’ -সহীহ মুসলিম। এ হাদীসটি অন্যান্য হাদীস গ্রন্থেও এসেছে।
আরবীতে ‘ফিতরাত’ শব্দের অর্থ স্বভাব। আল্লাহ রাববুল আলামীন যে উত্তম মানবীয় স্বভাব সৃষ্টি করেছেন তার সর্বোত্তম নিদর্শন নবী ও রাসূলগণ। এ কারণে ‘ফিতরাত’ শব্দটির অর্থ করা হয়েছে আদর্শ ও অনুকরণীয় স্বভাব, তথা নবী ও রাসূলগণের স্বভাব। হাদীস থেকে বোঝা যাচ্ছে, মোচ কাটা ও দাড়ি রাখাই হচ্ছে পুরুষের স্বাভাবিক অবস্থা এবং সকল নবী-রাসূলের সুন্নাহ ও আদর্শ। আল্লাহর প্রেরিত সব রাসুলদের বর্ণনায় দাড়ির কথা পাওয়া যায়। কুরআনে হযরত হারুন আঃ এর দাড়ির বর্ণনা এসেছে। জাবির বিন সামুরাহ রাঃ বলেন,রাসূলের সাঃ দাড়ি ছিল বেশ বড় । সুতরাং দাড়ি কাটা নিঃসন্দেহে নবি-রাসূলগণের স্বভাব ও তাদের রেখে যাওয়া আদর্শের পরিপন্থী কাজ।
ইবনে ওমর রাঃ বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃ আমাদের আদেশ করেছেন, ‘গোঁফ ছেটে রাখো, আর দাড়িকে লম্বা করো’- (বুখারি ও মুসলিম)। সুতরাং দাড়ি কাটলে রাসূলের সাঃ আদেশ অমান্য করা হবে । যার পরিণাম সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে- “আর যে আল্লাহ ও তার রাসুলকে অমান্য করে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন” - (সুরা জ্বিন : ২৩)।
ইবনে ওমর রাঃ হতে বর্ণিত অন্য এক হাদীসে এসেছে- রাসূল সাঃ বলেছেনঃ ‘তোমরা মুশরিকদের বিপরীত করো। অর্থাৎ- দাড়ি বাড়াও এবং গোঁফ খাটো করো।’ অপর এক বর্ণনায় আছে, গোঁফ ছেঁটে নাও এবং দাড়ি লম্বা করো। ইবনে ওমর রাঃ হতে বর্ণিত এ হাদীসটি অসংখ্য কিতাবে (বুখারী :৫৮৯২, মুসলিম : (২৫৯)-০৫৪, নাসায়ী : ৫০৪৬, তিরমিযী : ২৭৬৩, শু‘আবুল ঈমান : ৬৪৩০, আল মু‘জামুল আওসাত্ব : ৭৩৮০, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী : ৭০৮, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা : ৫৭৩৮, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ : ২৫৪৯২, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব : ২৭২৩, সহীহুল জামি : ২০৭) এসেছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে দাড়ি কাটা মুশরিকদের বৈশিষ্ট্য। আর রাসূল সাঃ বলেন, ‘যারা কোন জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত হবে’- (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ )।
দাড়ির বিধান একটি মৌলিক বিধান এবং এটি দ্বীনের অংশ। আল্লাহ বলেন, “রাসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা” - (সূরা হাশর : ৭)। বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবা রঃ বলেন, জনৈক অগ্নিপূজক রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নিকট এসেছিল। তার দাড়ি মুন্ডানো ছিল ও গোফ লম্বা ছিল। রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন, ‘এটা কী?’ সে বলল, ‘এটা আমাদের ধর্মের নিয়ম।’ রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন, ‘কিন্তু আমাদের দ্বীনের বিধান, আমরা গোফ কাটব ও দাড়ি লম্বা রাখব’ -(মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১৩/১১৬-১১৭, হাদীস : ২৬০১৩)।
আবু হোরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত, পারস্যের সম্রাট কিসরা ইয়েমেনের শাসকের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কাছে দু’জন দূত পাঠান। যাদের দাড়ি ছিল না আর গোঁফ ছিল বড়। রাসূল সাঃ তাদের এই অবয়ব দেখে মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে নেন। জিজ্ঞেস করেন, কে তোমাদের এমন করতে বলেছে? তারা উত্তর দিল, আমাদের প্রভু কিসরা। তিনি তখন ইরশাদ করেন, আমার রব, যিনি পবিত্র ও সম্মানিত, তিনি আদেশ করেছেন যেন আমি দাড়ি লম্বা রাখি এবং গোঁফ ছোট রাখি। (তাবারি, ফিক্বহুস সিরাহ পৃষ্ঠা-৩৫৯ ) সুতরাং দাড়ি রাখা শুধুমাত্র রাসূলের সাঃ সুন্নাহই না, মহান আল্লাহরও হুকুম। তাই দাড়ি কাটা মানে আল্লাহর নির্দেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন । কাজেই দাড়ি রাখাটাকে শুধুমাত্র নবীজীর সুন্নাত বলে তার গুরুত্ব কমিয়ে দেয়ার কোন সুযোগ নেই।
সুতরাং এটা সুস্পষ্ট দাড়ি মুন্ডন করা কোন অবস্থায়ই বৈধ নয়। বরং দাড়িকে তার আপন গতিতে বাড়তে দিতে হবে। রাসূল সাঃ নিজে দাড়ি রেখেছেন এবং তা রাখার জন্যে নির্দেশও দিয়েছেন। তাছাড়া রাসূলের সাঃ দাড়ি রাখার নির্দেশের বিপরীতে এমন কোন হাদীস খুঁজে পাওয়া যাবে না যা দারা দাড়ি মুন্ডন করার পক্ষে মতামত দেয়া যায়। এক হাদীসে এসেছে, ইবনে ওমর রাঃ যখন হাজ্জ বা ‘উমরাহ করতেন, তখন তিনি তাঁর দাড়ি মুষ্টি করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু বেশি থাকত, তা কেটে ফেলতেন- [৫৮৯৩; মুসলিম ২/১৬, হাঃ ২৫৯, আহমাদ ৪৬৫৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৪৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৬০)। এ হাদীসের আলোকে অনেক আলেম মনে করেন, দাড়ি অধিক লম্বা হলে এক মুষ্টির অতিরিক্ত টুকু কাটা জায়েয। এক মুষ্ঠির চেয়ে ছোট দাড়ি রাখার পক্ষে কোন সহীহ হাদীস পাওয়া যায় না।
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রঃ বলেন, দাড়ি মুন্ডন করা হারাম। ইমাম কুরতুবী রঃ বলেন, দাড়ি মুন্ডান, উঠানো বা কর্তন করা কোনটাই জায়েয নয়। শায়খ বিন বায রঃ বলেন, দাড়িকে সংরক্ষণ করা, পরিপূর্ণ রাখা ও তা ছেড়ে দেয়া ফরয। এই ফরযের প্রতি অবহেলা করা জায়েয নয়। শাইখ ইবনে উসাইমীন রঃ বলেন, দাড়ি রাখা ওয়াজিব, উহা মুন্ডন করা হারাম বা কবীরা গুনাহ। প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের ইমাম ও ফিকাহবিদগণও দাড়ি লম্বা করাকে ওয়াজিব ও কেটে ফেলাকে হারাম বলে মত প্রকাশ করেছেন।
অতএব রাসূলুল্লাহ সাঃ এর হাদীস আর বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের মতামতের ভিত্তিতে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, দাড়ি মুন্ডন করা বড় পাপ। এটা প্রকাশ্য পাপের শামিল। কেননা একজন দাড়ি না রাখলে তাকে দেখে আরেকজন উৎসাহিত হয়। যেমন আমাদের দেশে দেখা যায়, কাউকে দাড়ি রাখার কথা বললে, সে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের রেফারেন্স দেয়, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমরান খানের রেফারেন্স দেয়, মিশরের পেসিডেন্ট সিসির রেফারেন্স দেয়, কখনো বা অন্য কোন গণ্যমান্য ব্যক্তির রেফারেন্স দেয়- যারা দাড়ি রাখে না। দাড়ি না রাখার জন্য তারা নিজেরাতো গোনাহগার হচ্ছে, সেই সাথে তাদের দেখে অনেকেই দাড়ি রাখার বিষয়ে নিরুৎসাহিত হয়ে এ পাপে শামিল হয়ে যাচ্ছে। তাই দাড়ি মুন্ডন করা একটি প্রকাশ্য পাপ। কিছু মানুষ দাড়িকে অপছন্দ করে বা তা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে, কেউবা দাড়ি রাখার কারনে মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। এটাও প্রকাশ্য পাপের শামিল। আর এ প্রকাশ্য পাপ থেকে তওবা করা আবশ্যক। কেননা প্রকাশ্য পাপে লিপ্ত হয়ে তওবা না করলে এমনও হতে পারে শুধুমাত্র দাড়ি মুন্ডন করার জন্যে, দাড়িকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার কারণে হয়তো আল্লাহ সকল আমলকে মূল্যহীন করে দিবেন এবং আল্লাহর ক্ষমা থেকে বঞ্চিত করবেন। আল্লাহ্ বলেন, “তারা সেই বিষয়ের অনুসরণ করে, যা আল্লাহর অসন্তোষ সৃষ্টি করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করে। ফলে তিনি তাদের কর্মসমূহ ব্যর্থ করে দেন” - (সূরা মুহাম্মাদ : ২৮)। রাসূল সাঃ বলেন, ‘আমার উম্মতের সবাইকে ক্ষমা করা হবে। কিন্তু যারা প্রকাশ্যে পাপের কাজে লিপ্ত হয় তাদেরকে ক্ষমা করা হবে না’ (বুখারী ও মুসলিম)।
দাড়ি রাখা সুন্নাত না ওয়াজিব- এটা নিয়ে বিতর্ক করে কোন লাভ নেই! কেননা রাসূল সাঃ কখনো দাড়ি কাটেননি, কাটার অনুমতিও দেননি। কোনো সহীহ হাদীসেই দাড়ি না রাখার বা এক মুষ্ঠির ভিতরে দাড়ি কাটার কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। তাই দাড়ি রাখা সুন্নাত হোক আর ওয়াজিব হোক- মুসলমানকে দাড়ি রাখতে হবে, এটাই আল্লাহ ও রাসূলের সাঃ হুকুম। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় মুসলমানদের একটা বড় অংশই দাড়ি রাখার বিষয়ে উদাসীন! আমাদের দেশের মুসলমানরা আজকাল খুব ছোট বিষয় নিয়ে বিবাদ করে। নামাজে হাত বুকে বাঁধবে না নাভির নীচে বাঁধবে, আমিন জোঁড়ে বলবে না আস্তে বলবে, রাফেউল ইয়াদাইন করবে না করবে, ঈদের নামাজ ৬ তাকবীরে পড়বে না ১২ তাকবীরে পড়বে, ফিতরা কি খাদ্য দিয়ে দিবে না টাকা দিয়ে দিবে, তারাবীহ নামায ৮ রাকাত পড়বে না ২০ রাকাত পড়বে- এরকম অসংখ্য বিষয়ে মানুষ বিবাদে লিপ্ত হয়। অথচ এসব বিষয়ে একাধিক বিধান আছে এবং যে যেভাবেই পালন করুন না কেন আল্লাহর হুকুম পালন হয়ে যাবে। কিন্তু দাড়ি রাখা একটি মৌলিক বিষয়, এর কোন বিকল্প নেই। অথচ এ বিষয়ে অনেকেরই আগ্রহ নেই। দাড়ি না রাখতে রাখতে সমাজের অবস্থা এমন হয়েছে যে যদি কোনো মুসলিম দাড়ি রাখে তাহলে তাকে ভিন্নমতাদর্শী বলে কটাক্ষ করা হয়। এছাড়াও অনেকেই আজকাল ভাবতে শুরু করেছে যে, দাড়ি রাখার আসলে তেমন প্রয়োজনই নেই। এছাড়াও কেই নিজেকে স্মার্ট প্রমাণ করতে দাড়ি মুন্ডন করে, কেউ তার গার্লফ্রেন্ড বা স্ত্রী বা বাবা-মা পছন্দ করে না তাই দাড়ি মুন্ডন করে, কেউ চাকরী পাবে না এই ভয়ে দাড়ি মুন্ডন করে, কেউ সমাজের লোকজন কি বলবে সে ভয়ে দাড়ি মুন্ডন করে, কেউ আবার দাড়ি রাখলে তাকে জংগী বলবে এই ভয়ে দাড়ি মুন্ডন করে। কেউ কেউ দাড়ি মুন্ডন না করলেও দাড়ি নিয়ে বিভিন্ন স্টাইল করে, কেউ শুধুমাত্র থুতনীর উপর ছোট ছোট করে রাখে আবার কেউ খুবই হালকা করে কাল একটি রেখার মত করে রাখে, কেউ আবার দাড়িকে গোঁফের সাথে মিলিয়ে দিয়ে গোলাকৃতী করে রাখে- যা কোনভাবেই রাসূলের নির্দেশ ও সাহাবায়ে কেরামের আমলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কে কি বললো, কে কি ভাবলো, আমার কি ভালো লাগে- এটা বড় বিষয় নয়, আল্লাহ ও রাসূলের সাঃ নির্দেশের কারণে প্রতিটি মুসলমানকে দাড়ি রাখতে হবে এবং দাড়ি রাখতে হবে রাসূলের সাঃ নির্দেশনা মেনে।
এখন আপনি নিজেই ভেবে দেখুন, আপনি কি করবেন! আল্লাহ ও রাসূলের সাঃ এর নির্দেশ মানবেন; নাকি আল্লাহ ও রাসূলের সাঃ নির্দেশ উপেক্ষা করে দাড়ি মুন্ডন করবেন? সিদ্ধান্ত আপনার! আল্লাহ আমাদের সবাইকে দাড়ি রাখার তাওফীক দান করুন। আমীন।।
12/06/2019
পোষাক সভ্যতা, ভদ্রতা ও শালীনতার পরিচায়ক। পোষাকের মধ্য দিয়েই মানুষ তার সংস্কৃতি, জাতীয়তা, ধর্ম, ব্যক্তিত্ব ও রুচির পরিচয় দিয়ে থাকে। লজ্জাস্থান ঢেকে রাখা যদিও পোষাক পরিধানের প্রধান উদ্দেশ্য, তথাপি কাঠফাটা রোদ আর হাড়কাঁপানো শীত থেকে বাঁচার জন্যও মানুষ এ পোষাকেরই আশ্রয় নিয়ে থাকে। সৌন্দর্য, আভিজাত্য ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশেও পোষাকের জুড়ি নেই। তাই নিঃসন্দেহে পোষাক আল্লাহ তাআলার অনেক বড় নেয়ামত। আল্লাহ বলেন - “হে বনী-আদম, তোমাদের জন্যে পোশাক অবর্তীণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবর্তীণ করেছি সাজ সজ্জার বস্ত্র। আর তাক্বওয়ার পোষাক হচ্ছে সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর কুদরতের অন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে”- [সূরা আ’রাফ : ২৬] অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “তোমাদের জন্য ব্যবস্থা করেছেন পরিধেয় বস্ত্রের; যা তোমাদেরকে তাপ হতে রক্ষা করে এবং তিনি ব্যবস্থা করেছেন তোমাদের জন্য বর্মের, ওটা তোমাদের যুদ্ধে রক্ষা করে” - [সূরা নাহল : ৮১]
জন্মগতভাবে মানুষ বস্ত্র পরিহিত হয়ে দুনিয়ায় আসে না; কিন্তু মানুষের স্বভাব, ফিতরাত ও প্রকৃতি নগ্নতা ও বস্ত্রহীনতাকে মোটেও প্রশ্রয় দেয় না। তাই ধীরে ধীরে সেই বস্ত্রহীন শিশু বস্ত্রের আবরণে ঢাকা পড়ে যায়। আবরণ ও আচ্ছাদন দিয়ে মানুষ নিজেকে ঢেকে রাখার তাগিদ অনুভব করেছিল সে আদিম আমলেই। পৃথিবীতে এসেই সর্বপ্রথম মানুষ তার লজ্জা নিবারণের ভূষণ সন্ধান করেছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, “অতঃপর যখন তারা সেই বৃক্ষফলের স্বাদ আস্বাদন করল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা জান্নাতের পাতা দ্বারা নিজেদের আবৃত করতে লাগল”- [সুরা আ’রাফ : ২২]
লজ্জাশীলতা ও নগ্নতাকে ঢেকে ফেলার এই প্রবণতা মানুষের মজ্জাগত বলেই আদিম থেকে আধুনিক- সব যুগেই পোষাক পরিধানকে সভ্যতার অংশবিশেষ ভাবা হয়। সময়ের সাথে সাথে পোষাকের রকম-ধরনে নানা পরিবর্তন এসেছে। ঐশী প্রত্যাদেশের মাধ্যমে নবি-রাসূলগণ মানুষকে তার বেশ-ভূষার নিয়ম-কানুন বাতলে দিয়েছেন। কুরআন-হাদীসে অন্যান্য বিষয়াদির মতো লেবাস-পোষাক বিষয়েও হুকুম-আহকাম দেওয়া হয়েছে। তাই পোষাকের বিষয়টি এ রকম সাধারণ কোনো বিষয় নয় যে, একটি কাপড় কিনলাম এবং তা পরে নিলাম। বরং এক্ষেত্রে শরীয়তের দিক-নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। কেননা পোষাক-পরিচ্ছদের ভালো মন্দ মানুষের কাজ-কর্ম, আচার-আচরণ, চরিত্র ও নৈতিকতা তথা মানবিক জীবনের উপর বিরাট প্রভাব বিস্তার করে এবং অন্তর ও মন-মানসিকতায় গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
পোষাক পরিচ্ছদের বিষয়ে শরীয়তের কী কী মূলনীতি ও বিধান রয়েছে সে সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই জানাশোনা নেই। উপরন্তু অনেকের এই ধারণাই নেই যে, পোষাক-পরিচ্ছদ সম্পর্কেও শরীয়তের বিধিবিধান থাকতে পারে। একে তারা পুরোপুরিই ইচ্ছা-স্বাধীনতার বিষয় মনে করে। এই ধারণা ঠিক নয়। শরীয়ত এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। কুরআন কারীম এবং হাদীস শরীফে এ সম্পর্কিত উসূল ও আহকাম তথা নীতি ও বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে মানুষের রুচি ও স্বভাবের প্রতিও একটা পর্যায় পর্যন্ত শরীয়ত অনুমোদন দিয়েছে। সুতরাং এ বিষয়ে একেবারে উদাসীন থাকা, মনমতো চলা ভুল। এই জ্ঞানের অভাবে অনেকে সঠিক পোষাক অবলম্বন করতে পারেন না। পোষাক পরিচ্ছদের বিষয়ে কিছু নীতি ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা নারী-পুরুষ সকলের জন্য প্রযোজ্য। আবার কিছু স্বতন্ত্র বিষয়ও রয়েছে। প্রথমে সাধারণ কিছু নীতি উল্লেখ করছি।
🚻 ১ 🚻 সতর আবৃত করাঃ
নারী বা পুরুষের শরীরের যে অংশটুকু সর্বাবস্থায় ঢেকে রাখা আবশ্যক, তা’ই সতর। রাসূলুল্লাহ সাঃ সতর ঢেকে রাখার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। 📚 রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, ‘যে সতর দেখবে এবং যে দেখাবে, তাদের উপর আল্লাহ লা‘নত করেন’- [বাইহাকী]।
📚 রাসূলুল্লাহ সাঃ আরো বলেছেন, ‘নিজের স্ত্রী ও ক্রীতদাসী ছাড়া বাকী সবার কাছ থেকে সতরের হেফাজত করো।’ এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেন, আর যখন আমরা একাকী থাকি? রাসূল সাঃ জবাব দেন, ‘এ অবস্থায় আল্লাহকে লজ্জা করা উচিত, তিনিই এর বেশী হকদার’ - [তিরমিযী: ২৭০৬, ২৭৯৪, আবু দাউদ : ৪০১৭, ইবনু মাজাহ : ১৯২০, আহমাদ : ২০০৩৪]
📚 অন্য এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেনঃ ‘কোনো পুরুষ যেন অপর পুরুষের এবং কোনো নারী যেন অপর নারীর সতর না দেখে’ - [মুসলিম : ৩৩৮, তিরমিযী : ২৭৯৩, আহমাদ : ১১৬০১, সহীহ আল জামি‘ : ৭৮০০] পোষাকের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে সতর ঢেকে রাখা। তাই পোষাক এমন হতে হবে যা পুরোপুরি সতর আবৃত করে।
পুরুষের জন্য সতরের সীমারেখা নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত। 📚 রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন- ‘পুরুষের নাভির নিচ থেকে তার উভয় হাটু পর্যন্ত হল সতর’ - [মুসনাদে আহমাদ : ৬৭৫৬]
📚 আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আবি তালিব রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসুল সাঃ বলেছেন, ‘নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অঙ্গগুলো হলো সতর’ - [মুস্তাদরাকে হাকিম]
📚 হযরত আলী রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূল সা: বলেছেন, ‘নিজের উরু কাউকে দেখাবে না এবং কোন জীবিত অথবা মৃত ব্যক্তির উরুর প্রতি দৃষ্টিপাত করোনা’- [আবু দাউদ: ৩১৪০]
📚 জারহাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ বলেছেনঃ ‘তুমি কি জান না উরু (রান) সতরের অন্তর্ভুক্ত?’ - [আবূ দাঊদ : ৪০১৪, তিরমিযী : ২৭৯৫, আহমাদ : ১৫৯৩১, দারিমী : ২৬৯২]
📚 আবু আইউব রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ-কে বলতে শুনেছিঃ ‘হাঁটুদ্বয়ের উপর থেকে নাভির নিচ পর্যন্ত লজ্জাস্থানের (সতর) অংশ’ -[সুনান আদ-দারাকুতনী] সুতরাং পুরুষদের এরকম পোষাক পরিধান করতে হবে যা নাভীর নিচ থেকে হাটু পযন্ত ঢাকতে সক্ষম। পুরুষ লুঙ্গি, প্যান্ট, ট্রাউজার পড়বে, তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে নিচের অংশ টাখনুর নীচে না নামে। কেননা এ বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
🛑 আজকাল অনেকেই হাফপ্যান্ট পরিধান করে। বিশেষ করে সমুদ্র সৈকতে গেলে দেখা যায় অনেকেই হাফপ্যান্ট পড়ে আছে। হাফপ্যান্ট কোন অবস্থাতেই সতর ঢাকার শর্ত পূরণ করে না। তাই নিঃসন্দেহে এটা পরিধান করা হারাম। শুধু তাই না, হাফপ্যান্ট পড়ে আছে, এমন কারও দিকে দৃষ্টি দেয়াও হারাম। তাই হাফপ্যান্ট অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে। তবে থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট পরিধান করা যাবে।
মহিলাদের জন্য মাহরামের সামনে সতর হল- মাথা, চুল, মুখমন্ডল, গলা, হাত, পা, টাখনু, গলা সংশ্লিষ্ট বুকের উপরের অংশ ছাড়া বাকি পূর্ণ শরীর। আল্লাহ বলেন, “ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের আভরণ প্রদর্শন না করে এবং তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের আভরণ প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন আভরণ প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে” - (সূরা নূর : ৩১)। 📚 আয়েশা রাঃ হতে বর্ণিত; একদিন আসমা বিনতু আবূ বকর রাঃ পাতলা কাপড় পরিহিত অবস্থায় রসূলুল্লাহ সাঃ-এর নিকট গেলেন। তিনি অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেনঃ হে আসমা! মহিলা যখন বালেগা হয়, তখন তার শরীরের কোন অঙ্গ দৃষ্ট হওয়া উচিত নয়, তবে কেবলমাত্র এটা এবং এটা এ বলে তিনি তাঁর মুখ এবং তাঁর দু’ হাতের তালুর দিকে ইঙ্গিত করলেন। [আবূ দাঊদ ৪১০৪, মা‘রিফাতুস্ সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাক্বী ১০৫১, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২০৪৫, আল জামি‘উস্ সগীর ১৩৮০৫, সহীহুল জামি‘ ৭৮৪৭, ইরওয়া ১৭৯৪, শু‘আবুল ঈমান ৭৭৯৬, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৩৮৭৮, আস্ সুনানুস্ সুগরা ২৪৬২] ফুকাহায়ে কেরাম মুখমণ্ডল ও হাতের কব্জির ওপর কিয়াস করে পায়ের পাতাকেও সতরের বর্হিভূত বলেছেন [তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন : ৭/৯১]
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ নারীর জন্য মাহরামদের সামনে নিজের আভরণ প্রকাশ করার অনুমতি দিয়েছেন। যে সব অঙ্গে মহিলারা সৌন্দর্য হিসেবে আংটি, চুরি, দুল, মালা, চুড়ি, নূপুর ইত্যাদি পরে সে অংশটুকু একজন মহিলা মাহরাম পুরুষদের সামনে খুলে রাখতে পারে। নারীর মুখমন্ডল এবং হাত ও মুখে ব্যবহৃত সৌন্দর্য বা অলংকার যেমন কাজল, মেহেদী, চুড়ি, আংটি, নুপুর ইত্যাদি মাহরাম পুরুষের সামনে প্রকাশিত হলে দোষ নেই। এগুলো ছাড়া শরীরের অন্যান্য অংগ ঢেকে রাখা আবশ্যক। আরেকটি বিষয়, নারী যে পোষাকই পরুক না কেন, অবশ্যই তার সাথে ওড়না দিয়ে বুক ঢেকে রাখবে। কোন অবস্থাতেই ওড়না ছাড়া স্বামী ব্যতিত অন্য কোন মাহরাম (যেমন- বাবা, ভাই, মামা, চাচা ইত্যাদি) ব্যক্তির সামনে আসতে পারবে না। মহিলাদের নামাযের সময় হাতের কব্জি, পায়ের পাতা, মুখ ছাড়া পূর্ণ শরীরই সতর। গায়রে মাহরামের (পর পুরুষ) সামনে মহিলাদের জন্য পূর্ণ শরীরই সতর। পর পুরুষের সামনে মহিলারা শুধু সতরই ঢাকবে না, পর্দাও করবে। আমরা এখানে শুধুমাত্র সতরের সীমারেখা নিয়ে আলোচনা করেছি। উল্লেখ্য যে সতর আর পর্দা এক বিষয় নয়। পর্দার পরিধি আরও ব্যাপক। পরবর্তীতে আমরা পর্দা নিয়ে আলোচনা করবো।
মুসলিম নারীকে এরকম পোষাক পরিধান করতে হবে, যা সতর ঢাকতে সক্ষম। যে পোষাক এই উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ তা গ্রহণযোগ্য নয়। তা নিঃসন্দেহে হারাম।
🛑 আমাদের দেশের নারীদের পছন্দের পোষাক শাড়ি। যুগ যুগ ধরে আমাদের দেশের মা-বোনেরা শাড়ি পড়ে আসছে। অথচ শাড়ি সতর ঢেকে রাখার শর্ত পূরণ করতে সক্ষম নয়। শাড়ি পরিধান করলে শরীরের বিভিন্ন জায়গা খোলা থাকে বিশেষ করে পেট ও পিঠ- যা সর্বাবস্থায় ঢেকে রাখা আবশ্যক। আমাদের মা-বোনেরা শুধু অজ্ঞতার কারণে গোণাহগার হয়ে যাচ্ছেন। হ্যাঁ, কেউ যদি ব্লাউজ এমনভাবে বানায় যদ্দারা পেট ও পিঠ পুরোপুরি ঢেকে যায় এবং শাড়ির উপর থেকে বুকের আকৃতি ফুটে না উঠে তাহলে শাড়ি পরিধান করা দোষণীয় নয়। কিন্তু কয়জন এভাবে শাড়ি পড়ে?
🚻 ২ 🚻 অহংকার-বড়ত্ব-রিয়া সৃষ্টিকারী পোষাক না হওয়া
এমন পোষাক পরিধান করা নিষিদ্ধ, যেগুলোকে শরীয়ত অহংকারীদের নিদর্শন সাব্যস্ত করেছে এবং তা পরিধান করতে নিষেধ করেছে। 📚আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, মনে যা চায় তা খাও এবং যা ইচ্ছা হয় পরিধান করো, যে পর্যন্ত না তুমি দু’টির মধ্যে পতিত হও- অপব্যয় ও অহংকার। [মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৪৮৭৭, ২৪৮৭৮, মুসতাদরাক লিল হাকিম ৭১৮৮, নাসায়ী ২৫৫৯, শু‘আবুল ঈমান ৪৫৭১, মুসনাদে আহমাদ ৬৬৯৫, ইবনু মাজাহ ৩৬০৫, মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৪৩৮০]
📚 আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, নাবী সাঃ বলেছেনঃ এক ব্যক্তি আকর্ষণীয় জোড়া কাপড় পরিধান করতঃ চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে পথ অতিক্রম করছিল; হঠাৎ আল্লাহ তাকে মাটির নীচে ধ্বসিয়ে দেন। ক্বিয়ামাত অবধি সে এভাবে ধ্বসে যেতে থাকবে। [বুখারী ৫২৬০ (ই.ফা.), আহমাদ ১০০৪০] এই হাদীসটি সহীহ মুসলিমে অন্যভাবে এসেছে- তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতগণের কোন এক লোক হুল্লা পরিধান করে অহংকারের সাথে পথ চলছিল। তার মাথার চুল ও দু'টি চাদর তাকে পুলকিত করে তুলছিল। এমন সময় তাকে জমিনে দাবিয়ে দেয়া হলো। সে কিয়ামাত অবধি মাটির নিচে দাবতে থাকবে। [সহীহ মুসলিম : ৫২৯০, ৫২৯৪ (ই.ফা.)]
📚 আবদুল্লাহ ইবনু ওমর রাঃ হতে বর্ণিত; রাসূল সাঃ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অহংকারবশতঃ পরিধেয় কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলাবে, আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তার দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না। [বুখারী ৩৬৬৫, ৫৭৮৩, ৫৭৮৪; সহীহ মুসলিম (২০৮৫)-৪২, তিরমিযী ১৭৩১, ইবনু মাজাহ ৩৫৬৯, আবূ দাঊদ ৪০৮৫, নাসায়ী ৫৩৩৫, সহীহুল জামি‘ ৬১৮৮]
🛑 পুরুষরা টাখনুর নীচে লুঙ্গি, পাজামা, প্যান্ট পরিধান করবে নাঃ রাসূল সাঃ টাখনুর নীচে লুঙ্গি, পাজামা বা প্যান্ট পরিধান করার বিষয়ে নিষেধ করেছেন। এ বিষয়ে অসংখ্য হাদীস এসেছে। 📚 আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেনঃ আল্লাহ ক্বিয়ামাত দিবসে সে ব্যক্তির দিকে (দয়ার) দৃষ্টি দিবেন না, যে ব্যক্তি অহঙ্কারবশতঃ ইযার বা পরিধেয় বস্ত্র ঝুলিয়ে পরিধান করে। [বুখারী ৫২৫৯ (ইফা), মুসলিম ২০৮৭, আহমাদ ৯০১৪]
📚 আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত অন্য এক হাদীসে এসেছে; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, টাখনুর নিচে ইযারের যে অংশ থাকবে তা জাহান্নামে যাবে (অর্থাৎ- কিয়দংশের জন্য সারা শরীরই আগুনে প্রজ্জ্বলিত হবে।) [বুখারী ৫৭৮৭, মুসনাদে আহমাদ ৯৩১৯, নাসায়ী ৫৩৩১]
📚 আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাঃ-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, মু’মিনের ইযার (লুঙ্গি, পেন্ট ও পায়জামা) পায়ের অর্ধনলা পর্যন্ত থাকা চাই, তবে তার নিচে টাখনু বা গিরার উপর পর্যন্ত হওয়ার মধ্যে কোন দোষ নেই। কিন্তু টাখনুর নিচে যা যাবে তা জাহান্নামে যাবে। এ কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন। তিনি আরো বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অহংকারবশতঃ ইযার হেঁচড়িয়ে চলে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতি দৃষ্টি করবেন না। [আবূ দাঊদ ৪০৯৩, ইবনু মাজাহ ৩৫৭৩, সহীহ আল জামি‘উস্ সগীর ৯২১, মুওয়াত্ত্বা মালিক ৩৩৯০, মুসনাদে আহমাদ ১১৩৯৭]
🚻 ৩ 🚻 প্রসিদ্ধির পোষাক না হওয়া
মানুষের নিকট আলোচিত ও প্রসিদ্ধ হওয়ার নিয়তে পোষাক গ্রহণ করা জায়েয নয়। হাদীস শরীফে এ ব্যাপারে কঠিন ধমক এসেছে। 📚 ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি খ্যাতি লাভের মানসে পোষাক পরে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে অপমানের পোষাক পরাবেন’- [আবূ দাউদ ৪০২৯, ইবনে মাজাহ: ৩৬০৬, আহমাদ ৫৬৩১, ৬২০৯, মিশকাত ৪৩৪৬]
🚻 ৪ 🚻 পোষাক আঁটশাট ও অধিক পাতলা না হওয়াঃ
পোষাকের মূল উদ্দেশ্য সতর আবৃতকরণ এবং সৌন্দর্য অবলম্বন। পোষাক এমন আঁটসাঁট ও ছোট মাপের হতে পারবে না, যা পরলে শরীরের সাথে লেপ্টে থাকে এবং দৈহিক গঠন ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ফুটে ওঠে। আবার পোষাক এমন পাতলা ও মিহি হতে পারবে না যাতে সতর প্রকাশ পেয়ে যায়। যে পোষাক পরিধানের পরও সতর দেখা যায় কিংবা সতরের আকৃতি পোষাকের উপরে ফুটে উঠে তা সতর আবৃত না করার কারণে হারাম। এ মর্মে হাদীসে এসেছে, 📚 যামরাহ ইবনু ছা‘লাবাহ (রাঃ) বলেন, তিনি এক জোড়া ইয়ামানী কাপড় পরিধান করে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট আগমন করেন। রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন, হে যামরাহ! তুমি কি মনে কর যে তোমার এই কাপড় দু’টি তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে? যামরাহ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি আমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তবে আমি বসার আগেই (এখনি) কাপড় দু’টি খুলে ফেলব। তখন নবী করীম (সাঃ) বললেন, হে আল্লাহ! আপনি যামরাকে ক্ষমা করে দিন। তখন যামরাহ দ্রুত গিয়ে তার কাপড় দু’টি খুলে ফেলেন। [মুসনাদ আহমাদ ১৯৪৯৪]
📚 আবূ হুরাইরাহ রাঃ হতে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, ‘দুই শ্রেণীর মানুষ দোযখবাসী; যাদেরকে আমি (এখনো) দেখিনি। ---(এদের মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণীর মানুষ সেই) মহিলাদল, যারা কাপড় পরেও উলঙ্গ থাকবে, অপর পুরুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেও তার দিকে আকৃষ্ট হবে, যাদের মাথা (চুলের খোঁপা) হিলে থাকা উটের কুঁজের মত হবে। তারা বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না। আর তার সুগন্ধও পাবে না; অথচ তার সুগন্ধ এত এত দূরবর্তী স্থান থেকেও পাওয়া যাবে’ - [সহীহ মুসলিম: ৫৩৯৭ (ই.ফা.), সহীহ জামে ৩৭৯৯]
📚 হাদীসে বর্ণিত আছে; একদিন হাফসাহ্ বিনতু ‘আবদুর রহমান রাঃ একটি খুব পাতলা ওড়না পরিহিত অবস্থায় আয়েশা রাঃ-এর নিকট গেলেন। তখন আয়েশা রাঃ উক্ত পাতলা ওড়নাখানা ছিঁড়ে ফেললেন এবং তাকে একটি মোটা ওড়না পরিয়ে দিলেন। [মুওয়াত্ত্বা মালিক ৩৩৮৩, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৩৩৯১, মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৪৩৭৫]
📚 অন্য এক হাদীসে এসেছে, আবু ইয়াযীদ মুযানী রাহ. বলেন, হযরত ওমর রা. মহিলাদেরকে কাবাতী (মিসরে প্রস্তুতকৃত এক ধরনের সাদা কাপড়) পরতে নিষেধ করতেন। লোকেরা বলল, এই কাপড়ে তো ত্বক দেখা যায় না। তিনি বললেন, ত্বক দেখা না গেলেও দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফুটে ওঠে। [মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ২৫২৮৮]
🛑 মহিলাদের আটশাট ও পাতলা সালোয়ার কামিজ পরিধান করাঃ মহিলাদের সতর ঢাকার জন্য সবচেয়ে উত্তম পোষাক হচ্ছে সালোয়ার কামিজ। তবে আমাদের দেশের মেয়েরা আজকাল কামিজ এত আটশাট করে বানায় যে তাদের শরীরের গঠণ স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। সালোয়ারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কেউ সালোয়ারকে এত টাইট করে বানায়, সম্পূর্ণ পায়ের আকৃতি এমনকি উরুর গঠণও বোঝা যায়, কেউ আবার সালোয়ারকে এত ছোট বানায় যে শুধু টাখনু নয়, টাখনুর উপরেও খালি পায়ের অনেক অংশ দেখা যায়। এভাবে পোষাক পড়া যাবে না।
🛑 মেয়েদের শার্ট-প্যান্ট-টিশার্ট পরিধান করাঃ আজকাল অনেক মেয়েই ফ্যাশনের নামে শার্ট-প্যান্ট-টিশার্ট পড়ে থাকে। শার্ট-প্যান্ট-টিশার্ট মেয়েদের সতর ঢাকতে সক্ষম নয়, বরং শার্ট-প্যান্ট-টিশার্ট পরিধান করলে মেয়েদের শরীরের গঠণ সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠে। এটা নিঃসন্দেহে হারাম।
🛑 ছেলেদের টাইট জিন্স প্যান্ট বা টিশার্ট পরিধান করাঃ আজকাল অনেক ছেলেই অনেক টাইট বা ফিটিং জিন্স প্যান্ট বা টিশার্ট পড়ে থাকে। এগুলোতে শরীরের গঠণ সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠে। তাই এ ধরনের ফিটিং পোষাক নিঃসন্দেহে হারাম।
🚻 ৫ 🚻 পুরুষের জন্য মহিলাদের পোষাক ও মহিলাদের জন্য পুরুষদের পোষাকঃ
মহিলাদের জন্য নির্ধারিত বা তাদের পোষাকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ পোষাক পুরুষদের পরিধান করা নিষিদ্ধ। তেমনি পুরুষদের জন্য নির্ধারিত বা তাদের পোষাকের সাদৃশ্যপূর্ণ পোষাক ও মহিলাদের জন্য পরিধান করা হারাম। 📚 আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ এমন পুরুষের ওপর লা‘নাত করেছেন যে নারীর পোষাক পরিধান করে এবং এমন নারীর ওপর যে পুরুষের পোষাক পরিধান করে। [আবূ দাঊদ ৪০৯৮, ইবনু মাজাহ ১৯০৩, আহমাদ ৮৩০৯, ইবনু হিব্বান ৫৭৫১, মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) : ৪৪৬৯]
📚 ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, নবী সাঃ নারীর সাদৃশ্য গ্রহণকারী পুরুষ এবং পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণকারিণী নারীদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন এবং বলেছেনঃ তাদেরকে তোমাদের ঘর হতে বের করে দাও। [বুখারী ৫৮৮৫, ৫৮৮৬, দারিমী ২৬৪৯, আবূ দাঊদ ৪৯২৯, ইবনু মাজাহ ১৯০২, ইরওয়া ১৭৯৭, মুসনাদে আহমাদ ১৯৮২]
📚 আবূ মুলায়কাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, একদিন আয়েশা (রাঃ)-কে বলা হলো, জনৈকা মহিলা (পুরুষদের ন্যায়) জুতা পরিধান করেছিল। আয়শা (রাঃ) তাকে বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ এমন সব মহিলাদের ওপর লা‘নাত করেছেন : যারা পুরুষদের বেশ ধারণ করে। [আবূ দাঊদ ৪০৯৯, শু‘আবুল ঈমান ৭৮০৪, মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) : ৪৪৭০]
🛑 মেয়েদের শার্ট-প্যান্ট-টিশার্ট পরিধান করাঃ অনেক মেয়েই আজকাল শার্ট-প্যান্ট-টিশার্ট পরিধান করে। শার্ট-প্যান্ট-টিশার্ট পুরুষের পোষাক। যদিও মেয়েদের শার্ট-প্যান্ট-টিশার্ট ডিজাইনের দিক দিয়ে কিছুটা ব্যতিক্রম, তারপরও এটা পুরুষের পোষাকেরই সাদৃশ্যপূর্ণ। আর পুরুষদের জন্য নির্ধারিত বা তাদের পোষাকের সাদৃশ্যপূর্ণ পোষাকও মহিলাদের জন্য পরিধান করা হারাম।
🛑 ছেলেদের পাঞ্জাবীর সাথে ওড়না পরিধান করাঃ অনেক ছেলেই পাঞ্জাবীর সাথে ওড়না পরিধান করে। এটাকে তারা ফ্যাশন মনে করে। অথচ ওড়না মেয়েদের পোষাকের অন্তর্ভুক্ত। আর মহিলাদের পোষাকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ পোষাক ছেলেদের জন্য হারাম।
🚻 ৬ 🚻 বিধর্মীদের পোষাক না হওয়াঃ ভিন্ন ধর্মীয় পোষাক পরিধান করা যাবে না। অর্থাৎ যে পোষাক অন্য কোন ধর্মের নিদর্শন প্রকাশ করে বা পরিচয় দান করে এরকম পোষাক পরিধান করা যাবে না। যেমন—হিন্দুদের মতো ধুতি ও গলায় পৈতা পরা, কপালে সিঁদুর বা চন্দন লাগানো, বৌদ্ধদের মতো গেরুয়া পোষাক পরিধান করা, খ্রিস্টানদের মতো ক্রুশ বা ক্রুশের বিকল্প কিছু পরিধান করা ইত্যাদি। 📚 আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাঃ হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তরভুক্ত (হয়ে যাবে)। [আবূ দাউদ : ৪০৩১, আল জামি‘উস্ সগীর : ১১০৯৪, সহীহুল জামি‘ : ৬১৪৯, ইরওয়া : ২৬৯১]
📚 আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাঃ আমার পরনে কমলা বা কুসম্ব রংয়ের দু’খানা কাপড় দেখতে পেলেন, তখন তিনি বললেন এটা কাফিরদের পোষাক। কাজেই তা পরো না। অপর এক রিওয়ায়াতে আছে, আমি বললামঃ আমি কি তাকে ধৌত করে ফেলব? তিনি বললেন, বরং এ দু’টিকে পুড়িয়ে ফেলো। [মুসলিম (২০৭৭)-২৭, বায়হাক্বী ৬১৮৪, নাসায়ী ৫৩১৬, আহমাদ ৬৯৩১]
📚 অন্য এক হাদীসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি তাদের পোষাক পরবে সে আমার দলভুক্ত নয়। [তবারানী আওসাত ৩৯২১; ফাতহুল বারী ১০/২৮৪]
🛑 পুরুষদের শার্ট-প্যান্ট পরিধান করাঃ শার্ট প্যান্ট আমাদের ঐতিহ্যগত কোন পোষাক নয়। ইংরেজদের হাত ধরে শার্ট প্যান্ট আমাদের সংস্কৃতিতে প্রবেশ করেছে। এটা বর্তমানে আমাদের সংস্কৃতির একটা অংশে পরিণত হয়েছে। তবে একটি বিষয় লক্ষণীয় শার্ট প্যান্ট কোন ধর্মীয় পোষাক নয়। শার্ট প্যান্ট হিন্দু, ইহুদী বা খ্রিস্টানদের ধর্মের কোন নিদর্শন বহন করে না। তাই শার্ট প্যান্ট পরা যাবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে প্যান্ট যাতে টাখনুর নীচে না নামে আর এত আটশাট না হয় যাতে শরীরের আকৃতি কাপড়ের উপর দিয়ে ফুটে উঠে।
🛑 পুরুষদের স্যুট-টাই পরিধান করাঃ স্যুট আভিজাত্যের প্রতীক। সামর্থ্য অনুযায়ী ভাল পোষাক পরিধান করতে ইসলাম নিষেধ করে না। বর্তমানে টাই নিয়ে একটা বিতর্ক চালু রয়েছে। অনেক উলামায়ে কেরাম টাইকে হারাম বলেছেন, অনেকে টাইকে হারাম না বললেও মাকরূহ বলেছেন, অনেকেই আবার টাই পরাকে বৈধ বলেছেন। অনেকেই বলে থাকে টাই ইহুদী খ্রিস্টানদের পোষাক। এ মতের পক্ষে বিপক্ষে অনেক মতামত পাওয়া যায়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আরও গবেষণা হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। তবে যেহেতু এটার ব্যবহারের বিষয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে, তাই সন্দেহাতীতভাবে এ বিষয়ে প্রমাণ পাওয়ার আগে এটা পরিধান না করাই শ্রেয়। কেননা রাসূল সাঃ বলেছেন,‘বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত মুত্তাকী হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে, সে সব সন্দেহযুক্ত বিষয় ত্যাগ না করে, যার মাধ্যমে হারামে পতিত হবার সম্ভাবনা থেকে যায়’- [ইবনে মাযাহ, তিরমিযী]
🚹 ৭ 🚹 পুরুষদের জন্য রেশমী কাপড় পরিধান করা হারামঃ
আমাদের দেশে অনেকেই রেশম বা সিল্কের পাঞ্জাবী পরিধান করে। রাসুলুল্লাহ সাঃ এ বিষয়ে ভবিষ্যৎবাণী করে বলেছিলেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে (পরবর্তীকালে) এমন লোক সৃষ্টি হবে, যারা রেশম মিশ্রিত বা শুধু রেশমের তৈরী কাপড় (ব্যবহার করাকে) হালাল মনে করবে। এরপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য কিছু বর্ণনা করার পর বলেনঃ এদের কিছু লোক কিয়ামত পর্যন্ত বানর ও শুকরে রূপান্তরিত হবে’- [আবু দাউদ ৩৯৯৭ (ইফা)] রাসূল সাঃ এর কথার সত্যতা আমরা পাচ্ছি। বর্তমান সময়ে ছোট থেকে বড়, বড় থেকে বুড়ো সব বয়সের পুরুষদের দেখা যায় সিল্কের পাঞ্জাবী পরতে। অথচ এটা এটা কোন অবস্থাতেই বৈধ নয়। এ ধরনের কাপড়কে পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অসংখ্য হাদীস এসেছে। 📚 ওমর রাঃ হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহকে সাঃ আমি বলতে শুনেছি, ‘সে-ই রেশম পরিধান করে, যার কোনই অংশ নেই’। বুখারীর এক বর্ণনায় আছে, ‘‘যার আখেরাতে কোন অংশ নেই’। [বুখারী ৫৮২৮, ৫৮৩০, ৫৮৩৪, ৫৮৩৫, মুসলিম ২০৬৯, নাসায়ী ৫৩১২, ৫৩১৩, আবূ দাউদ ৪০৪২, ইবনু মাজাহ ২৮১৯, ২৮২০, ৩৫৯৩, আহমাদ ৯৩, ২৪৪, ৩০৩ , ৩২৩, ৩৫৮, ৩৬৭]
📚 আনাস রাঃ হতে বর্ণিত; রাসূল সাঃ বলেছেন, ‘’দুনিয়াতে যে রেশমী কাপড় পরবে, আখেরাতে সে তা পরতে পাবে না’। [ বুখারী ৫৮৩২, মুসলিম ২০৭৩, ইবনু মাজাহ ৩৫৮৮, আহমাদ ১১৫৭৪, ১৩৫৮০]
📚 আলী রাঃ হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে সাঃ দেখেছি, তিনি ডান হাতে রেশম ধরলেন এবং বাম হাতে সোনা, অতঃপর বললেন, ‘আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য এ দু’টি বস্তু হারাম।’ [আবূ দাউদ ৪০৫৭, নাসায়ী ৫১৪৪, ইবনু মাজাহ ৩৫৯৫]
📚 আবূ মূসা ‘আশআরী রাঃ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, ‘রেশমের পোষাক ও স্বর্ণ আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য অবৈধ করা হয়েছে, আর মহিলাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে।’ [তিরমিযী ১৭২০, নাসায়ী ৫১৪৮]
🚹 ৮ 🚹 পুরুষরা যে রঙ্গের কাপড় পরিধান করতে পারবে নাঃ
পুরুষের জন্য সব রঙের পোষাক পরার অনুমতি নেই। কিন্তু নারীর জন্য সব রঙের পোষাক পরা জায়েজ। পুরুষের জন্য হলুদ ও জাফরান রং নিষিদ্ধ।
📚 আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, নাবী সাঃ পুরুষদের জাফরানী রং-এর কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন। [(বুখারী ৫৩১৬ (ইফা), মুসলিম ৫৩২৯ (ইফা), আহমাদ ১২৯৪১]
📚 আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ আমাকে সোনার আংটি পরিধান করতে, কাসসী বস্ত্র পরিধান করতে, রুকূ’ ও সিজদায় কুরআন পাঠ করতে এবং হলুদ রংয়ের বস্ত্র পরতে বারণ করেছেন। [সহীহ মুসলিম ৫২৬৫ (ইফা)]
🌟 কিছু হাদীসে লাল রঙের কাপড়কেও নিষেধ করা হয়েছে। আবার সহীহ হাদীস থেকে রাসূল সাঃ এর লাল রঙের পোষাক পরিধানের প্রমাণ পাওয়া যায়। অনেক উলামায়ে কেরাম লাল কাপড় পরিধান করাকে মাকরূহ বলেছেন। অনেক উলামায়ে কেরাম এক কালারের লাল না হয়ে যদি লালের মাঝে অন্য রঙের স্ট্রাইপ/চেক থাকে তাহলে সেটা পরাকে জায়েজ বলেছেন। তাই তাকওয়ার খাতিরে লাল রঙ এড়িয়ে চলাই উত্তম।
🚻 ৯ 🚻 প্রাণীর ছবি অংকিত কাপড় পরিধান করা যাবে না
প্রাণীর ছবিযুক্ত কোন পোষাক পরিধান করা যাবে না। কেননা প্রাণীর ছবি অংকণ করার বিষয়ে রাসূল সাঃ কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। 📚 আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত; নবী সাঃ স্বীয় গৃহে (প্রাণীর) ছবিযুক্ত কোন জিনিসই রাখতেন না; বরং তা ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলতেন। [বুখারী ৫৯৫২, আহমাদ ২৫৯৯৬, আবূ দাঊদ ৪১৫১, শু‘আবুল ঈমান ৬৩১৫]
📚 ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেনঃ যে লোক কোন ছবি আঁকা, সে যে পর্যন্ত তাতে প্রাণ সঞ্চার করতে না পারবে সে পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা তাকে আযাব দিতে থাকবেন। অথচ সে কোন দিনও তাতে প্রাণ সঞ্চার করতে পারবে না’ - [সূনান আত তিরমিজী : ১৭৫১]
📚আবূ তালহা (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, নবী সাঃ বলেছেনঃ ফেরেশতাগণ সে ঘরে প্রবেশ করেন না যাতে কুকুর রয়েছে এবং সে ঘরেও না যাতে আছে (প্রাণীর) ছবি। [বুখারী ৫৯৪৯, মুসলিম (৫৬৩৬)-২৬, আবূ দাঊদ ৪১৫৩, তিরমিযী ২৮৪, নাসায়ী ৪২৮২, ইবনু মাজাহ ৩৬৪৯, মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ৪৪৮৯]
🚻 ১০ 🚻 সামর্থ্য অনুযায়ী সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও ভাল কাপড় পরিধান করতে হবেঃ
মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে যেসব নেয়ামত দান করেছেন, পোষাক তার মধ্যে অন্যতম। আল্লাহ বলেন, “হে আদম সন্তান! আমরা তোমাদেরকে পোষাক-পরিচ্ছদ দিয়েছি তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করার জন্য এবং শোভা বর্ধনের জন্য। আর তাক্বওয়ার পোষাক হচ্ছে সর্বোত্তম। ওটা আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে একটি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে” - [সূরা আ’রাফ : ২৬] অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আদম সন্তান! প্রত্যেক ছালাতের সময় তোমরা সাজসজ্জা গ্রহণ কর। আর খাও, পান কর কিন্তু অপচয় করো না। অবশ্যই তিনি অপচয়কারীদেরকে পছন্দ করেন না”- [সূরা আ’রাফ : ৩১] তাই পোষাক সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন হওয়া বাঞ্ছনীয়। বিভিন্ন ইবাদতের সময়, জুমআ, দু’ঈদ ও জনসমাবেশে সুন্দর পোষাক পরার গুরুত্ব অত্যধিক।
📚 জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন- একবার রাসূলুল্লাহ সাঃ আমাদের কাছে এসে এক ব্যক্তির মাথার চুল আলু থালু দেখে বলেন- এ ব্যক্তির কি চুল আঁচড়ানোর মত কিছু নেই? অপর এক ব্যক্তির পরিধানে ময়লা কাপড় দেখে বলেনঃ সে কি তার কাপড় ধোয়ার জন্য পানি পায় না? [সূনান আবু দাউদ ৪০১৮ (ইফা)]
📚 রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন, ‘তোমাদের কারো সামর্থ্য থাকলে সে যেন তার পেশাগত কাজে ব্যবহৃত পোষাক ব্যতীত জুম’আর দিনের জন্য এক জোড়া পোষাক তৈরী করে’- [আবূদাঊদ ১০৭৪, ইবনু মাজাহ হা/১০৯৬]
📚 আমর ইবনু শু‘আয়ব (রহঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা এটা পছন্দ করেন যে, তিনি যে নি‘আমাত বান্দাকে দান করেছেন, তার নিদর্শন যেন তার উপর প্রকাশ পায়। [তিরমিযী ২৮১৯, মুসনাদে আহমাদ ১৯৯৪৮, শু‘আবুল ঈমান ১৬২৬, ত্ববারানী ৬২৬]
📚 আবুল আহওয়াস (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদিন আমি রসূলুল্লাহ সাঃ-এর নিকট এলাম। সে সময় আমার পরনে ছিল সাদাসিধে কাপড়। তখন তিনি বললেনঃ তোমার সম্পদ আছে কি? আমি বললামঃ হ্যাঁ, আছে। এবার জিজ্ঞেস করলেন : কী সম্পদ আছে? আমি বললামঃ সব রকম মাল আছে- আল্লাহ তা‘আলা আমাকে উট, গরু, ছাগল, ঘোড়া, গোলাম প্রভৃতি দান করেছেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা‘আলা যখন তোমাকে সম্পদ দান করেছেন, তখন আল্লাহ প্রদত্ত নি‘আমাত ও তাঁর অনুগ্রহের নিদর্শন তোমার মধ্যে দৃশ্যমান হওয়া উচিত। (আহমাদ, নাসায়ী; আর এটা শারহুস্ সুন্নায় মাসাবীহের শব্দে বর্ণিত হয়েছে। [মুসনাদে আহমাদ ১৫৯২৮, নাসায়ী ৫২২৪, শারহুস্ সুন্নাহ্ ৩১২০, আবূ দাঊদ ৪০৬৩, শু‘আবুল ঈমান ৬১৯৭]
🚺 ১১ 🚺 নারীরা সুগন্ধি/আতর/বডি স্প্রে ব্যবহার করতে পারবে নাঃ
স্বামী ছাড়া অন্য কোন পুরুষের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা কোন মহিলার জন্য বৈধ নয়। মহিলারা যে কাপড় পড়ে বাইরে যাবে তাতে সুগন্ধি ব্যবহার করা হারাম। পর্দার সাথে হলেও মহিলা পারফিউম বা আতর জাতীয় কোন সুগন্ধি ব্যবহার করে বাইরে যেতে পারবে না। আজকাল মেয়েরা এ বিষয়টিকে খুব হালকাভাবে গ্রহণ করে। অথচ বিষয়টিকে হালকাভাবে নেয়ার কোন সুযোগ নেই। 📚 রাসূল সাঃ বলেছেন, ‘প্রত্যেক চক্ষুই ব্যাভিচারী। আর মহিলা যদি (কোন প্রকার) সুগন্ধি ব্যবহার করে কোন (পুরুষের)মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তবে সে ব্যভিচারিণী ’ [আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, ইবনে খুযাইমাহ, হাকেম]
📚 রাসূল সাঃ বলেন, ‘সেই মহিলার কোন নামাজ কবুল হয় না যে তার স্বামী ছাড়া অন্য কারোর জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করে। এবং যতক্ষণ না সে নাপাক ব্যক্তির মতো গোসল হয়ে পবিত্র না হয়, ততক্ষণ তার নামাজ কবুল হবে না’ [আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ]
🚺 ১২ 🚺 নারীরা পর্দার মধ্যে থাকবে অর্থাৎ পর পুরুষের সামনে মুখ ঢেকে রাখবেঃ
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, “ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের আভরণ প্রদর্শন না করে এবং তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে” - [সূরা নূর : ৩১] এ আয়াতে স্পষ্টভাষায় সৌন্দর্যকে লুকাতে আদেশ দেয়া হয়েছে। যেটা হল পর্দা করার মূল হাকীকত। কিন্তু যা “সাধারণতঃ প্রকাশমান” এর ব্যাখ্যায় বিভিন্ন উলামায়ে কেরাম বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। কারও মতে এর দ্বারা চেহারা ও হাতকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে যা জরুরী প্রয়োজনের সময় খোলা জায়েজ আছে। কারও মতে যে সব অঙ্গে মহিলারা সৌন্দর্য হিসেবে আংটি, চুরি, দুল, মালা, চুড়ি, নূপুর ইত্যাদি পরে সে অংশটুকু একজন মহিলা মাহরাম পুরুষদের সামনে খুলে রাখতে পারে। নারীর মুখমন্ডল এবং হাত ও মুখে ব্যবহৃত সৌন্দর্য বা অলংকার যেমন কাজল, মেহেদী, চুড়ি, আংটি, নুপুর ইত্যাদি মাহরাম পুরুষের সামনে প্রকাশিত হলে দোষ নেই। তবে এ বিষয়ে অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম একমত যে এগুলো হচ্ছে সতরের সীমারেখা। এ আয়াতের সূত্র ধরে অনেকে বলে থাকেন নারীরা মুখমন্ডল খোলা রেখে চলাফেরা করতে পারবে, কোন সমস্যা নেই। এটা অনেক বড় একটু ভুল ধারণা। উল্লেখ্য যে সতর আর পর্দা এক বিষয় নয়। পর্দার পরিধি আরও ব্যাপক। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, “হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, আপনার কন্যাদের এবং মুমিনদের নারীদেরকে বলে দিন, তারা যেন নিজেদের মুখের উপর তাদের চাদর নামিয়ে দেয়” - [সূরা আহযাব : ৫৯] এ আয়াতের তাফসীরে আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রাঃ বলেন, আল্লাহ তাআলা
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Dhaka
1215
