Blue Eye Beauty Parlour
Beauty Parlour (Only for female)
এই শীতের মৌসুমে এসব খাদ্য আপনার ত্বককে সুন্দর, স্বাস্থ্যসম্মত এবং উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করবে । আসুন জেনে নেই সেসব খাদ্যগুলো যা এই শীতের মৌসুমে আপনার ত্বককে স্বাস্থ্য উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করবে।
িভ_অয়েল
অলিভ ওয়েল আপনার ত্বকের জন্য ভাল বিশেষত শীতে যখন আপনার ত্বক শুষ্ক হয়ে আসে। এতে ভিটামিন “এ” এবং ভিটামিন “ই” এর পাশাপাশি অন্যান্য খনিজ পদার্থ আছে যা আপনার ত্বকের নমনীয়তা এবং স্নিগ্ধতা বজায় রাখে।
গোসলের পূর্বে অলিভ ওয়েলকে হালকা গরম করে মুখে, বাহুতে, কবজিতে এবং হাঁটুতে হালকা ভাবে মাসাজ করতে হবে। এরপর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করে নিতে হবে। ভালোভাবে ত্বককে শুকিয়ে নিতে হবে। দেখবেন ত্বক নরম ও মসৃণ দেখাবে।
াম্বুরা
জাম্বুরাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন “সি” থাকে যা আপনার ত্বককে সতেজ রাখে। প্রতিদিন এক গ্লাস করে জাম্বুরার জুস পান করতে হবে পুরো শীতকাল। এছাড়া জাম্বুরা দিয়ে ফেইস প্যাক তৈরি করা সম্ভব।
ফেইস প্যাক তৈরি উপকরণ।
একটি জাম্বুরার অর্ধেক রস
এক টেবিল চামচ মধু এবং
ওটমিল পাউডার।
সবগুলো উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে একটি ফেইস প্যাক বানাতে হবে। প্যাকটি মুখে লাগিয়ে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। শুকিয়ে আসলে তা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই ফেইস প্যাকটি ব্যাবহারে আপনার ত্বকের সজীবতা বজায় থাকবে।
াকাডো
আভাকাডোতে ভিটামিন “এ” ও “সি” এবং “ই” তিনটি খনিজই একসাথে উপস্থিত থাকে। একটি পাকা আভাকাডোকে চামচ দিয়ে কুরিয়ে বের করে নিন। তাতে এক চামচ মধু এবং অলিভ ওয়েল দিয়ে তা ফেইস প্যাক হিসেবে লাগালে ত্বকের মসৃণতা বজায় থাকবে।
াজর
গাজরে ভিটামিন “এ” থাকে। প্রতিদিন এক গ্লাস করে গাজরের জুস খেলে ত্বক ভিতর থেকে হেলদি থাকবে। এছাড়া গাঁজরের ফেইস প্যাক বানানো সম্ভব। ২ টেবিল চামচ গাজর বাটা, ১ টেবিল চামচ মধু, দুধের ননী ও অলিভ ওয়েল মিশিয়ে একটি ফেইস প্যাক করে মুখে লাগাতে হবে। প্যাকটি শুকিয়ে আসলে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। সাপ্তাহে ১ থেকে ২ বার এই প্যাকটি ব্যবহারে আপনার ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
াজুবাদাম
গোসলের পূর্বে কাজুবাদামের তেল লাগিয়ে গোসল করলে ত্বকের উজ্জলতা বাড়বে। এ ছারাও কাজুবাদামের ফেইস প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন। আগের দিন রাতে এক মুঠো কাজুবাদাম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে বাদামের খোসা ছাড়িয়ে তা চূর্ণ করে নিন। তার পর কিছু গরুর দুধ বা দই যোগ করে একটি পেস্ট তৈরি করুণ। এই প্যাকটি সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করুণ।
ালংশাক
ত্বকের জন্য পালংশাক অনেক উপকারি। ত্বকের যত্নে পালংশাকের গুন আপনি কিছুতেই এড়িয়ে যেত পারবেন না! পালং শাক অত্যন্ত পুষ্টিকর। এতে আছে প্রচুর এন্টিঅক্সিডেন্ট। তাজা এবং অল্পসেদ্ধ করে খেলে বেশি এন্টিঅক্সিডেন্ট লাভ করা যায়। এই গাঢ় সবুজ রঙের সব্জিটি আপনার ত্বকের সুস্থ কোষ তৈরিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে উচ্চমানের ভিটামিন “এ” এবং “সি” রয়েছে যা স্বাস্থ্য কর ত্বকের জন্য অধিক প্রয়োজনীয়। এ ছাড়াও পালং শাক সূর্যের ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করে করতে সাহায্য করে।
সামান্য পরিমানে লেবুর রস সাথে কিছু পালংশাক এক সাথে ব্লেন্ডকরে সেবন করুণ। এটি আপনার ত্বককে শুষ্কতা দূর করবে এবং তকে মসৃণতা নিয়ে আসবে।
এছারাও আপনি সূপ, সালাদ এবং প্রতিদিনের খাবরে পালংশাঁক অন্তর্ভুক্ত রাখতে পারেন যা আপনার ত্বকের সাস্থের জন্য খুবই উপকার দেবে।
24/06/2015
বর্ষায় পায়ের যত্ন
বর্ষাকালে ঝুম বৃষ্টিতে ভেজার মজাই আলাদা। কিন্তু মজাটা মাটি হয় তখনই, যখন বৃষ্টিতে রাস্তায় জমে থাকা নোংরা পানি পায়ে লেগে যায়। কারণ এই পানি পায়ের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এতে পা ভিজলে ফুসকুড়ি, চুলকানির মতো নানা ধরনের চর্মরোগ হতে পারে। তাই এ সময় পায়ের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
বর্ষায় শহরের রাস্তায় জমে থাকা পানির সঙ্গে নানা রকম রাসায়নিক পদার্থ মিশে যায়। এ সময় নানা ধরনের রোগ হওয়ার সম্ভবনাও তাই অনেক বেশি। বাইরে থেকে ফিরেই পা দুটোকে যতটা সম্ভব ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
বৃষ্টির নোংরা পানিতে ভেজার পরও সুস্থ ও সুন্দর পায়ের যত্নে করণীয়:
এক. বাইরে থেকে এসেই পা পরিষ্কার করুন। গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করলে ভালো ভল পাওয়া যায়।
দুই. বাইরে থেকে এসে জীবাণুনাশক দিয়ে পা ধুয়ে ফেলুন।
তিন. তোয়ালে দিয়ে পা মুছে ফেলুন।
চার. এরপর ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম বা লোশন দিয়ে ম্যাসেজ করুন।
পাঁচ. সপ্তাহে অন্তত একবার গরম পানিতে শ্যাম্পু দিয়ে পা ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।
ছয়. পায়ে জমে থাকা ময়লা পরিস্কার করে মুলতানি মাটি ও মধুর প্যাক লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন।
সাত. ফ্যাশন –সচেতন অনেকেই আজকাল নখ রাখেন। তবে বর্ষায় নখ ছোট রাখাই ভালো। আর বড় নখ রাখলে তা ব্রাশ দিয়ে পরিস্কার করতে হবে।
আট. পরনের জুতো অবশ্যই পরিষ্কার রাখবেন। তবে পরবর্তীতে পায়ে পরার আগে জুতো জোড়া পর্যাপ্ত বাতাসে শুকিয়ে নিবেন।
নয়. যারা অফিস করেন তারা একজোড়া এক্সট্রা জুতো ও মোজা রাখার চেষ্টা করবেন। যাতে একজোড়া ভিজে গেলেও কোনো সমস্যা না হয়।
দশ. যাদের খুব তাড়াতাড়ি পায়ে ইনফেকশন দেখা দেয় তারা মোজা বা জুতো পরার আগে ফাঙ্গাস রোধক পাউডার দিয়ে নিতে পারেন।
পায়ের যত্নে যা করবেন না:
বর্ষায় কাদা-পানিতে কম হাঁটাচলা করাই ভালো। আর কাদা লেগে গেলেও তা দ্রুত ধুয়ে ফেলুন। যদি কোনো রকম জীবাণু-সংক্রমণ হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বর্ষার জুতা
বর্ষায় জুতা নির্বাচন একটা বড় ঝামেলা। সেক্ষেত্রে খোলামেলা স্যান্ডেল পরাই ভালো। কারণ এগুলো ময়লা হলেও সহজে ধুয়ে ফেলা যায়।
একটুখানি সতর্ক হয়ে চললে বর্ষায়ও পা দুখানি থাকবে ফিটফাট। তাই কষ্ট করে হলেও পায়ের জন্য কিছুটা সময় ব্যয় ব্যয় করুন। দেখবেন, কয়েকদিন পর আপনার কষ্টটা সার্থক হবে। বর্ষায় নিয়মিত পায়ের যত্ন নিন, রোগের হাত থেকে বাঁচুন।
24/06/2015
দীর্ঘক্ষণ লিপস্টিক ধরে রাখার পদ্ধতি…
আজ আপনাদের জন্য থাকছে লিপস্টিক দীর্ঘক্ষণ ঠোঁটে ধরে রাখার উপায়। যারা লিপস্টিক ব্যবহার করেন তারা প্রায় সকলেই একই সমস্যায় পরেন ।কারণ ঠোঁটে লিপস্টিক থাকে না, লাগানোর একটু পরই লিপস্টিক উঠে যায়। কথা বলা, চা কফি পান করা, এমনকি পানি পান করলেও লিপস্টিক উঠে যায়। কিন্তু একটু পরপর লিপস্টিক বের করে ঠোঁটে লাগানোর অবস্থা থাকে না। স্মাজ ফ্রি লিপস্টিক বাদে অন্যান্য সকল লিপস্টিক ঠোঁটে রাখতে চাইলে কিছুক্ষণ পর পর লিপস্টিক দিতে হয়। আবার স্মাজ ফ্রি লিপস্টিকগুলোর ঝামেলা হলো ঠোঁট অনেক শুকিয়ে যায়। তাই আপনাদের সুবিধার্থে আজকের এই পোস্ট ।
– প্রথমেই ঠোঁটের মরা চামড়া ঠোঁট থেকে তুলে নেয়া উচিত। কারণ মরা চামড়ার ওপর লিপস্টিক লাগালে দেখতে বিশ্রী লাগে ও আরও দ্রুত লিপস্টিক উঠে যায়। পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে পুরনো ব্রাশ দিয়ে আলতো ঘষে মরা চামড়া তুলে নিন।
– এরপর যদি মেকআপ করেন তবে ঠোঁটের ওপর কনসিলার লাগিয়ে নিন। এতে করে ঠোঁট ময়েসচার হারাবে না। যদি কনসিলার না দিতে চান তবে সাধারণ পাউডারেও কাজ চলবে।
– এরপর লাইনার দিয়ে ঠোঁট একে লিপস্টিক লাগিয়ে নিন। লিপস্টিক লাগানোর পর একটি টিস্যু পেপারে ঠোঁট চেপে বাড়তি লিপস্টিক মুছে নিন।
– তারপর ঠোঁটের ওপর পাউডার লাগিয়ে নিন মেকআপ ব্রাশ দিয়ে। অথবা একটি টিস্যুপেপার ঠোঁটের ওপর ধরে তার ওপর পাউডার ব্রাশ করে নিতে পারেন।
– এভাবে পাউডার দিয়ে লিপস্টিক সেট করে নিয়ে আবার আরেক কোট লিপস্টিক লাগিয়ে ফেলুন ভালো করে।
আশা করি এবার আর বারবার লিপস্টিক ব্যবহারের ঝামেলা পোহাতে হবে না ।
03/06/2015
গরমে চুলের যত্ন ( Nurse your Hair during Summer)
ভ্যাপসা গরম। ঘেমে নেয়ে একাকার হতে হয়। ফলে ত্বকের সঙ্গে সঙ্গে চুলেও তেলচিটচিটে ভাব চলে আসে।
গরমে চুল কীভাবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও ঝরঝরে রাখা যায়- ‘বাড়ির বাইরে বের হলে চুলে ধুলো পড়ে। রোদ-গরমের
প্রকোপ তো আছেই। ঘামের কারণে চুলের গোড়া ভিজে যায়। এ কারণে ঝরঝরে দেখায় না চুল। বিশেষ করে,
যাদের তৈলাক্ত চুল, তাদের এ ধরনের পরিস্থিতিতে বেশি পড়তে হয়। তাই বলে বাইরে বের হওয়া তো আর বন্ধ থাকবে না। একটু নিয়ম মেনে চুলের নিয়মিত যত্ন নিলেই মুশকিল আসান। ‘চুল মসৃণ ও ঝরঝরে দেখাতে প্রতিদিন শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। তবে তৈলাক্ত চুল হলে দুই সপ্তাহ অন্তর কন্ডিশনার ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেকে প্রতিদিন শ্যাম্পু করেন, কিন্তু চুল ভালোমতো না শুকানোর কারণে তেলতেলে হয়ে যায়। এ কারণে চুল পরিষ্কার করার পর
তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে। কেউ কেউ গামছা দিয়ে চুল ঝাড়েন, এটিও ঠিক নয়। এতে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়। পরে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। বাড়িতে টেবিল-ফ্যান থাকলে তাতেও চুল শুকিয়ে নিতে পারেন। চুল শুকানোর জন্য নিয়মিত বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করা উচিত নয়। মাঝেমধ্যে করলেও তেল দিয়ে চুলে মালিশ করতে হবে। চুল
শুকিয়ে বের হবেন। এবার কোনো ক্লিপ বা ব্যান্ড দিয়ে চুলটাকে আটকে দিন। তা না হলে গরমে চুলের
গোড়া বেশি ঘামবে। অফিসে বা গন্তব্যে পৌঁছে আবার চুল খুলে দিন। ব্যাগে অবশ্যই চিরুনি রাখবেন। দিনে
দুই থেকে তিনবার চুল আঁচড়াবেন। এ ছাড়া অবসর পেলেই চুলের মধ্যে হাত দিয়ে বিলি কাটবেন। এতে বাতাস ঢুকবে; ঘাম শুকিয়ে যাবে।’
চুলের কয়েকটি প্যাক:
গরমে চুল ভালো রাখতে বাড়িতে বসে এই প্যাকগুলো ব্যবহার করতে পারেন। এতে ঝলমলে ও মসৃণ হবে
আপনার চুল। রুক্ষ চুলের যত্নে: টক দই, মধু ও পাকা
কলা পেস্ট করে সপ্তাহে এক দিন ব্যবহার করতে পারেন।
তৈলাক্ত চুলের যত্নে: কলা ছাড়া যেকোনো মৌসুমি ফলের সঙ্গে টকদই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। আবার শুধু ফলের প্যাকও ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া নিয়মিত হেনাপ্যাক ব্যবহার করলে চুল ঝলমলে হয়।
আসল কথা হলো, চুল পরিষ্কার রাখতে হবে। প্রয়োজনে যেকোনো বিউটি স্যালুনে গিয়ে হেয়ার স্পা, হেয়ার
প্রোটিন ট্রিটমেন্ট করাতে পারেন।
03/06/2015
গরমে ত্বকের যত্নে স্টিম ফেসিয়াল:
গরমের দিনে আপনার ত্বক বড়ই বেয়াড়া হয়ে গেছে। এতো যত্ন শেষেও দেখা দিচ্ছে র্যাশ আর ব্রণের উৎপাত। লোমকূপে জমে থাকা ময়লা আর ঘামের কবলেই মূলত ত্বকের এই অবস্থা। নিয়মিত ফেসওয়াস ব্যবহার করেও ত্বকের ময়লা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হচ্ছে না। ঠিক এই সময়ে নিতে পারেন স্টিম ফেসিয়ালের যত্ন। এই ফেসিয়াল লোমকূপের গোড়ার আলগা করে ত্বকের ময়লা দূর করতে সহায়তা করবে। এতে ত্বক হবে উজ্জ্বল, মসৃণ, দাগহীন প্রাণবন্ত। তাই ঘরে বসেই নিয়ে নিন স্টিম ফেসিয়াল।
যেভাবে করবেন
প্রথমে মাথার চুল পেছন দিকে টেনে বেঁধে নিন। এবার একটা বড় গামলায় অর্ধেকটা ফুটন্ত গরম পানি নিতে হবে। একটা বড় তোয়ালে পিঠের দিক থেকে তাবুর মতো করে মাথার উপরে টেনে গামলা ঢেকে দিন যাতে বাষ্প বেরিয়ে যেতে না পারে। চোখ দুটো বন্ধ করুন। মাঝে মাঝে তোয়ালে সরিয়ে শ্বাস নিয়ে নিন। চামচ দিয়ে পানি নেড়ে দিলে বেশি করে বাষ্প উঠতে থাকবে। এভাবে ১০ মিনিট ভাপ নিন। ইচ্ছে হলে পানির সঙ্গে ১ চামচ যোয়ান, ২টি লেবুর রস বা লেবুর খোসা, ২ চামুচ থেঁতো মৌরি মেশাতে পারেন। এসব উপাদানের নির্যাস আপনার ত্বককে যোগাবে প্রয়োজনীয় পুষ্টি। ভাপ নেওয়া শেষ হলে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিয়ে মুখ তোয়ালে দিয়ে মুছে নিন। সব শেষে ময়েসচারাইজার ক্রিম মেখে নিন। সপ্তাহে একবার স্টিম ফেসিয়াল আপনার ত্বককে করবে মনের মতো সুন্দর।
গরমে ত্বকের যত্ন
এখন ভীষণ গরম। আর পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে লোডশেডিং, রোদের তীব্রতা। রোদ ও ধুলাবালিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের ত্বক। যাঁরা চাকরিজীবী বা প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় রোদে থাকেন, ত্বকের প্রতি অতিরিক্ত উদাসীন, তাঁরাই ক্ষতির শিকার হন বেশি। রোদে রয়েছে ভিটামিন-ডি, যা ত্বকের পুষ্টি জোগায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে রোদে পোড়াটাও ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। রোদের ক্ষতিকর আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি ত্বকের ঔজ্জ্বল্য নষ্ট করে। তাই এ ঋতুতে ঘাম, ধুলাবালি, আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করা অপরিহার্য।গরমে যত্নের অভাবে ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। অনেক সময় ত্বকের দাগ স্থায়ী হয়ে ওঠে, যা দেখতে দৃষ্টিকটু। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজন আপনার অভ্যাসের পরিবর্তন। নিজেকে বদলে ফেলুন। ত্বকের প্রতি দৃষ্টি দিন। সামান্য কিছু সতর্কতা আপনার ত্বককে করবে আরও বেশি আকর্ষণীয়।
হিট সিনকোপ
আমাদের ত্বকে রয়েছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র আর ঘাম ও তেলগ্রন্থি। এই গ্রন্থিগুলো ঘাম, তেল, অপ্রয়োজনীয় পদার্থ ঘাম আকারে দেহ থেকে বের করে দেয়। রোদ ও গরম বেশি হলে এই গ্রন্থি ও ছিদ্র দিয়ে দূষিত পদার্থের সঙ্গে প্রয়োজনীয় লবণ, পানি দেহের বাইরে চলে যায়। পরিণামে প্রতিটি অঙ্গে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। ফলে ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার হয় ত্বক ও চুল। ত্বকের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ত্বকে ভাঁজ পড়ে যায়। ত্বকের গোড়ায় অসংখ্য লোমকূপ থাকে। আর্দ্রতার অভাবে লোমকূপগুলোয় ধুলাবালি জমে। সঠিকভাবে ঘাম, তেল নিঃসরণ হতে পারে না। ফলে লোমকূপের গোড়ায় রোগজীবাণু বাসা বাঁধে। লোমকূপের ছিদ্র বন্ধ হয়ে অক্সিজেন ঢুকতে পারে না। এতে ত্বকে ঘামাচির মতো কালচে, পোড়া, তামাটে বর্ণের বৃত্তে ভরে ওঠে। ত্বকের বিভিন্ন স্থানে ঝলসে যাওয়ার মতো হয়। এ পরিস্থিতিকে বলে হিট সিনকোপ।
যাঁদের ত্বক বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বেশি ফরসা এবং রোদে পোড়েন বেশি, তাঁদের হিট সিনকোপ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। হিট সিনকোপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য করণীয়-
১� প্রচুর পরিমাণে পানি, টাটকা শাকসবজি, মৌসুমি ফল খান।
২� ত্বকের যেকোনো সমস্যায় নখ দিয়ে চুলকাবেন না। পাতলা কাপড় বা তুলা দিয়ে চুলকাতে পারেন।
৩� ত্বক ও প্রায় প্রতিটি অঙ্গের জন্য তিতা খাবার (করলা, চিরতার রস) খুব উপকারী।
৪� রোদে বের হওয়ার আগে অবশ্যই ছাতা ও সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করবেন।
৫� নিয়মিত গোসল ও ঘুম জরুরি।
৬� দিনের বেলা বের না হয়ে সম্ভব হলে প্রয়োজনীয় কাজগুলো রাতে বা সন্ধ্যায় সেরে ফেলুন।
৭� বাইরে থেকে এসেই স্বাভাবিক পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। তারপর ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে বারবার স্বাভাবিক পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের ধুলাবালি, তেল, রোগজীবাণু পরিষ্কার হয়ে যাবে।
৮� মেকআপ, ঘাম মিশে যেন তৈলাক্ত অবস্থার সৃষ্টি না করে সেদিকে দৃষ্টি দিন।
৯� আরামদায়ক, ঢিলেঢালা, সাদা বা অন্য হালকা রঙের পোশাক পরুন। কালো পোশাকে রোদে গরম লাগবে বেশি। এতে দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে চেহারা বাজে দেখাবে। ফলে অল্প তাপেই হিট সিনকোপ হবে বেশি।
হিট ক্র্যাম্প
হিট ক্র্যাম্পে রোদের তাপ ও গরমে মুখের ত্বকের মাংসপেশির মাত্রাতিরিক্ত সংকোচন হয়। ত্বক দেখতে মনে হয় কুঁচকানো। পরিণামে ত্বকে কালো দাগ দেখা যায়। এই দাগ যত্নের অভাবে স্থায়ী দাগে পরিণত হয়। যাঁরা দীর্ঘ সময় রোদে পোড়েন বা রান্না করেন, তাপে তাঁদের হিট ক্র্যাম্প হয় বেশি। ত্বকের মাংসপেশি অতিরিক্ত পানিশূন্য হয়ে হিট ক্র্যাম্প তৈরি করে।
হিট ক্র্যাম্পে ত্বক খসখসে হয়ে মসৃণতা হারায়। ফলে অকালেই বার্ধক্য চলে আসে। কপাল, চোখের নিচে, নাকের দুই পাশের ত্বক কুঁচকে যায়। এ অবস্থা এড়াতে-
১� যাঁরা অতিরিক্ত ঘামেন, তাঁরা সপ্তাহে অন্তত দুই দিন খাওয়ার স্যালাইন খান। খাওয়ার স্যালাইন দেহ থেকে বের হয়ে যাওয়া লবণ ও পানির ক্ষয় পূরণ করে। যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ এবং হাত-পায়ের আঙুল ফুলে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত বাড়তি লবণ খাবেন না।
২� রান্নাঘরের ধোঁয়া ও তাপ বের হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। রান্নার সময় প্রয়োজনে ছোট হাতপাখা রাখতে পারেন। কাজের ফাঁকে পাখার বাতাসে মুখের ঘাম শুকাবে, আর শরীরের তাপমাত্রাও বাড়বে না। সম্ভব হলে পাতলা পোশাকে রান্নাঘরে যান। রান্নার কোনো এক ফাঁকে কলের পানিতে মুখ ধুয়ে নিন। এতে মুখের ত্বকের ময়লা পরিষ্কার হবে। গরমও তুলনামূলকভাবে কম লাগবে।
৩� প্রতিটি ঘরে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো-বাতাসের ব্যবস্থা থাকা উচিত।
৪� সম্ভব হলে সকালে গোসল করুন। ভোরের মুক্ত বাতাসে হাঁটার কোনো বিকল্প নেই। প্রায় সব বয়সের মানুষের জন্য হাঁটা প্রয়োজন। এতে দেহের প্রতিটি অঙ্গসহ ত্বকও শক্তিশালী হবে। হাঁটার সময় ত্বকের দূষিত পদার্থগুলো ঘাম হয়ে বের হয়ে যায়। ফলে ত্বকের লোমকূপের গোড়া পরিষ্কার হয়। ত্বকের লোমকূপ দিয়ে অক্সিজেন প্রবেশ করে বেশি। এতে ত্বক হিট ক্র্যাম্প থেকে নিজেকে রক্ষা করতে শেখে।
৫� নিয়মিত ফলের রস খান। তবে যাঁদের ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলস্টেরল রয়েছে তাঁদের মিষ্টি ফল বাদ দেওয়াই ভালো। টক ফল বেশি করে খান।
৬� নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখুন। ত্বকের আর্দ্রতা বৃদ্ধির জন্য গ্রীকালীন ফল তরমুজের রস খুব উপকারী। তরমুজের রস দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে ত্বকের আর্দ্র ও ঔজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
৭� ত্বকের যেকোনো সমস্যার জন্য প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির উপটান বা চন্দনের গুঁড়া ব্যবহার করুন।
সামার বয়েল
ব্রণ হালকা লালচে হয়ে ফুলে যায়। আর সামার বয়েলে গোল দানার মধ্যে পুঁজ জমে যায়। দানাটির গোড়া ত্বকের রঙের মতোই থাকে। উপরিভাগে পুঁজ জমে যাওয়ার জন্য সাদা বর্ণ ধারণ করে। লোমকূপের গোড়ায় সংক্রমণ হলে বা নখের আঘাতে �সামার বয়েল� তৈরি হয়। সামার বয়েলে চুলকানি ও হালকা ব্যথা থাকে।
১� সামার বয়েল নখ দিয়ে খুঁটবেন না বা পুঁজ কোনো কিছু দিয়ে বের করবেন না।
২� সামার বয়েলে সাবান বা ফেসওয়াশ ব্যবহারে অনেকেরই মুখ জ্বলে। অথচ এমন অবস্থায় নিয়মিত মুখ পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। ময়দা, বেসন বা মসুর ডাল বাটা, উপটান দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। মুখের ত্বকে ঘষাঘষি করবেন না।
৩� লোমকূপের গোড়ায় অণুজীবের (ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক) আক্রমণে সামার বয়েল হয়। সামার বয়েল হলে সপ্তাহে অন্তত এক দিন গোসলের বালতিতে কয়েক ফোঁটা ডেটল বা স্যাভলন মিশিয়ে গোসল করুন। এতে ত্বকের রোগজীবাণু মারা যাবে।
৪� যত দূর সম্ভব ভারী মেকআপ এড়িয়ে চলুন। পুরুষেরা এ সময় খেয়াল রাখবেন, শেভ করার সময় যেন সামার বয়েল ফেটে না যায়।
৫� নিমপাতা বেটে মুখে লাগাতে পারেন। যাঁদের নিমপাতা দিলে ত্বকে চুলকায়, তাঁরা লাগাবেন না।
৬� কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে অনেকেরই বয়েল বা ব্রণ হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য আঁশজাতীয় খাবার (পুঁইশাকের ডাঁটা, ঢ্যাঁড়স, কচুর লতি) খান। প্রতিদিন সকালে ইসবগুলের ভুসি হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে খালি পেটে দাঁত ব্রাশের পরে খান।
৭� অতিরিক্ত কড়া লিকারের চা বা কফি খাবেন না। ত্বক ও দেহের প্রতিটি অঙ্গের জন্য মাদক, ধূমপান, মাত্রাতিরিক্ত স্মেহজাতীয় খাবার (মাখন, মেয়নিজ, পনির, ডিমের কুসুম, চিনি) পরিহার করা জরুরি।
পিমপল বা ব্রণ
ব্রণ প্রায় সব রকম ত্বকের এবং সব ঋতুরই সমস্যা। কৈশোরের শেষের দিকে প্রায় সবারই ব্রণ হয়। ব্রণ হওয়ার জন্য অনেক কারণ দায়ী যেমন-
১� অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, রাত জাগা, ত্বকের যত্ন না করা, দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অভুক্ত থাকা।
২� হঠাৎ করে অতিরিক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণ।
৩� অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার গ্রহণ।
৪� রোদ, ধুলাবালিতে অধিক সময় অবস্থান।
ব্রণ থেকে মুক্তির জন্য
১� ত্বক নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
২� দুধ চায়ের পরিবর্তে আদা চা বা সবুজ চা স্বাস্থ্য ও ত্বকের জন্য উপকারী।
৩� প্রচুর পরিমাণে কাঁচা সবজির সালাদ খান।
৪� মেকআপ ভালোভাবে ফেসওয়াশ দিয়ে তুলে ফেলুন।
৫� তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ হয় বেশি। তাই তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীরা নিয়মিত যত্ন নিন।
৬� তেলে ভাজা খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
৭� ফেসিয়াল করাতে চাইলে যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে করান।
৮� ভালোভাবে না জেনে অপরিচিত কোম্পানির পণ্য ব্যবহার করবেন না।
৯� সঠিক সময়ে ঘুম এবং খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
12/05/2015
প্রাকৃতিক উপায়ে ব্রণের গর্ত নির্মূল করুন…
০১. ভিটামিন ই তেলঃ
ব্রনের গর্তের দাগ সারানোর জন্য সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর সমাধান হচ্ছে ভিটামিন ই তেল। এটি ব্রণের গর্তে যাদুর মত কাজ করে। প্রতিদিন অল্প পরিমাণে ভিটামিন ই তেলের ব্যবহারে আপনার মুখমন্ডল হয়ে
উঠবে দাগহীন,উজ্জ্বল। এটি ব্রণের কালো দাগ সারাতেও সাহায্য করে। ভিটামিন ই তেল বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। আর না পেলে ভিটামিন ই ক্যাপসুল ব্যবহার করুন। প্রথমে সমস্ত মুখ মন্ডল তেল মুক্ত ফেস ওয়াস দিয়ে পরিষ্কার করে নিন । এরপর একটা
পরিষ্কার পিন বা সূঁচ এর সাহায্যে ক্যাপসুলটি ফুটো করে তেল নিঃসরন করুন। তারপর পরিষ্কার হাত দিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। খুব বেশি তৈলাক্ত ত্বক হলে লাগানোর আধ ঘণ্টা পর টিস্যু পেপার দিয়ে অতিরিক্ত তেল চেপে চেপে তুলে নিন। নয়ত সারা রাত লাগিয়ে রাখতে পারেন।
সমস্যা খুব বেশি না হলে সপ্তাহে ২-৩ বার
এভাবে করুন।
০২. লেবুঃ
লেবু সাইট্রিক এসিদের খুব ভাল উৎস। সাইট্রাস এসিড স্কার সারাতে অনবদ্য। কয়েক গ্লাস লেবুর শরবত পান করলে তার সাইট্রিক উপাদান আপনার দেহের ভেতর
থেকে মরা কোষ সারিয়ে ত্বকের রঙ হালকা করতে সাহায্য করে। একটি মাঝারি আকারের লেবুর রস সমপরিমাণ পানির সাথে মিশিয়ে মুখে ঘষুন, এতে গর্তের দাগ হালকা হবে। সময়ের সাথে সাথে আপনি পাবেন দাগ মুক্ত ত্বক।
০৩. অ্যালোভেরা জেলঃ
অ্যালোভেরা জেল প্রকৃতির আশীর্বাদ স্বরূপ। এই একটা উপাদান ত্বকের নানা রকম সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। টাটকা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করুন । এখন বিভিন্ন সুপার শপ গুলোতে অ্যালোভেরা পাওয়া যায়। সেখান থেকে কাঁচা অ্যালোভেরা কিনে জেল বের করে নিতে
হবে। বাইরে থেকে কিনতে না চাইলে নিজের টবেও লাগাতে পারেন অ্যালোভেরা। প্রথমেই একটি আস্ত
অ্যালোভেরা নিয়ে সেটিকে ছুঁরির সাহায্যে যে কোন এক দিক থেকে কাটুন। কাটলেই দেখবেন ভেতরে স্বচছ্ব জ়েলীর মত উপাদান, এটি ব্যবহার করুন। দিনে
যতবার ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনাকে দেবে বিরক্তিকর ব্রণের গর্তের দাগ থেকে মুক্তি।
০৪. টমেটোঃ
টমেটোতে আছে ভিটামিন এ; যা সেবামের অতিরিক্ত ক্রীয়া বন্ধ করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে এবং ব্রণ ও ব্রণের দাগ দুটোই সারিয়ে তোলে। তাছাড়া এতে আছে প্রচুর
পরিমাণে এন্টি-অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের ক্ষয়-ক্ষতি সারিয়ে তুলতেও সাহায্য করে। মাঝারি আকারের টাটকা টমেটো নিন। একে সমান ২ ভাগে ভাগ করুন। এবার দুই
গালে প্রথমে ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং তারপর ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ম্যাসাজ করুন। এতে যেমন গর্তের দাগ হালকা হবে, তদুপুরি রোদে পোড়া ভাব-ও
কমবে। তাছাড়া এটি অনেক ভালো মেক-আপ রিমুভারের কাজ-ও করে থাকে ।
০৫. অলিভ ওয়েলঃ
অলিভ ওয়েল একটি জাদুকরী উপাদান। এটি শুধু খাদ্যদ্রব্যই সুস্বাদু করে না, এটি ত্বক পরিচর্যায় ও কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এক্সট্রা ভারজিন অলিভ ওয়েল দ্রুত ব্রনের গর্ত সারাতে সাহায্য করে। অলিভ ওয়েলের
ময়েশ্চারাইজিং গুণাগুণের কারণে এটি দ্রুত ত্বকের সাথে মিশে যায় এবং গর্ত সারাতে সাহায্য করে।
অল্প পরিমাণে অলিভ ওয়েল নিয়ে মুখ মন্ডলে মালিশ করুন এবং ভালো ফল পেতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে
ব্যবহার করুন ।
০৬. মধুঃ
মধু একটি পরিচিত প্রাকৃতিক প্রসাধনী। প্রাচীন কাল থেকেই রূপচর্চার জন্য মধুর ব্যবহার প্রচলিত। মধুর মিষ্টতা খাবার হিসাবেও খুব ভালো। ফ্যাট কম থাকায় এটি আপনাকে ফিট থাকতে যেমন সাহায্য করে তেমনি নিয়মিত ব্যবহারে সারিয়ে তোলে ব্রণের গর্তের দাগ।
০৭. বরফ কুচিঃ
বরফ কুচির ব্যবহারে ব্রণের গর্ত হালকা হওয়াটা অনেকটা পরীক্ষীত। অনেকেই আছে ঘরে বসে স্কার সারানোর জন্য বরফ কুচি ব্যবহার করে থাকেন। পাতলা কাপড় বা তুলোতে একটা বরফের টুকরো নিয়ে
গর্তের জায়গায় ১৫-২০ মিনিট ঘষে লাগান। এতে ত্বকে আরামদায়ক অনুভুতির পাশাপাশি সারিয়ে দেবে গর্তের দাগ।
০৮. ফেস প্যাকঃ
ব্রণের গর্ত সারাতে আপনার ফেস প্যাকে মেশান বেসন, টকদই ও শশার রস। এটি আপনার ত্বককে রাখবে দাগহীন, উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত। ব্রণ ও ব্রণের গর্ত সারাতে সবার আগে খেয়াল রাখতে হবে খাওয়া দাওয়া এবং
জীবন যাত্রা যেন সুস্থ ও পরিকল্পিত হয়। সঠিক ঘুম, খাওয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই পারে ব্রণ মুক্ত রাখতে। এতে ত্বকের
অন্য্যন্য সমস্যা থেকেও পরিত্রাণ মেলে।
25/03/2015
#রাতেররূপচর্চা ***
নিজের যত্ন কোন মেয়ের না নেয়ার ইচ্ছা থাকে! অভাব শুধু সময়ের। এই যখন অবস্থা, তখন এর আদর্শ সমাধান হতে পারে ঠিক ঘুমাতে যাওয়ার আগের সময়টুকুতে রূপচর্চার কাজটুকু সেরে ফেলা।
এ প্রসঙ্গে গ্রেট লুক বিউটি পার্লার ও হারবাল কেয়ার-এর রূপ বিশেষজ্ঞ হাসিনা মমতাজ বলেন, ‘মৌলিক কিছু পরিচর্যা আছে, যা প্রতিদিনই মেয়েদের করা উচিত। এই নিয়মিত যত্নটুকু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোজ রাতে একটু নিজের পরিচর্যা করে ঘুমালে জীবনভর সুস্থ-সুন্দর থাকা খুবই সম্ভব।’
ত্বক
সুন্দর ত্বকের মূলমন্ত্রই হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। ‘ত্বকের ময়লা ঠিকমত পরিষ্কার করা না হলে পিম্পল, ব্রণ (অ্যাকনে), র্যাশ হতে পারে। ত্বক হয়ে পড়ে খসখসে, রুক্ষ, অমসৃণ। তাই রাতে ঘুমানোর আগে মুখটাকে পরিষ্কার করে ঘুমালে সারা রাতের লম্বা সময় ত্বক একেবারে তরতাজা থাকবে।’ তবে সবকিছুর আগে বুঝে নিতে হবে নিজের ত্বকের ধরন, যা নিজেই পরীক্ষা করে নিতে পারেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি দেখেন—
নাকের দুই পাশ, গাল অতিরিক্ত তেলতেলে হয়ে আছে, তাহলে ত্বক অবশ্যই তৈলাক্ত।
মুখটা বেশ টান ও শুকনো থাকলে, পিম্পলের তেমন প্রবণতা না হলে ত্বক একেবারে শুষ্ক থাকে।
নাকের ওপর ও দুই পাশে তৈলাক্ত, কিন্তু বাকিটা চেহারায় টান টান ভাব থাকলে ত্বকের ধরন মিশ্র।
তারপরও অবশ্যই কোনো বিশেষজ্ঞের পারামর্শ নিয়ে আপনার ত্বকের ধরন আগে যাচাই করে নিতে পারেন। ধরন বুঝে করতে হবে যত্ন। ত্বকের যত্নে ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং করতে হবে ঘুমানোর আগে।
ধাপ-১
প্রথমে মুখ ধুয়ে নিন আপনার ত্বকের সঙ্গে খাপ খায় এমন কোনো ফেসওয়াশ দিয়ে। স্পর্শকাতর ত্বক হলে ব্যবহার করতে পারেন ভেষজ ফেসওয়াশ।
ধাপ-২
এরপর ব্যবহার করুন ফেসপ্যাক। ঘরেই তা বানাতে পারেন। শুষ্ক ত্বকের জন্য ১ টেবিল চামচ উপটান+১ চা চামচ টকদই+১ চা চামচ দুধের সর বা দুধ।
তৈলাক্ত ও মিশ্র ত্বকের জন্য : ১ টেবিল চামচ উপটান+১ চা চামচ টকদই+১ চা চামচ লেবুর রস।
এগুলো একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। পুরোটা শুকাবেন না, অর্ধেক শুকিয়ে এলে মুখ হালকা ঘষে ধুয়ে ফেলুন। প্যাকে মেশাতে পারেন গোলাপজল, যা সব ধরনের ত্বকের জন্য ভালো।
ধাপ-৩
ময়েশ্চারাইজার হিসেবে শুষ্ক ত্বকের অধিকারীরা ভেজা মুখে স্রেফ ২-৩ ফোঁটা যে কোনো বেবি অয়েল মেখে নিন। তৈলাক্ত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করাই উচিত।
ব্রণের জন্য
যাদের ত্বক তৈলাক্ত ও ব্রণ আছে, তারা প্যাক ধুয়ে ফেলে ময়েশ্চারাইজারের বদলে ব্যবহার করুন অ্যাসট্রিনজেন্ট। ঘরোয়া অ্যাসট্রিনজেন্ট হলো গোলাপজল ও শসার রস। এগুলো ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে নিলে আরও ভালো। শসার রস করে বরফ জমানোর পাত্রে রেখে আইস-কিউব করে নিতে পারেন। প্রতি রাতে রস বানানোর ঝামেলায় না গিয়ে একটি কিউব মুখে ঘষে নিন।
সমপরিমাণে পুদিনা পাতা ও নিমপাতা বেটে শুধু ব্রণ ও দাগের ওপর লাগিয়ে ঘুমান। সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন। পুদিনা পাতা ব্যবহার করতে পারেন ফেসপ্যাকেও। ব্রণের জন্য ভীষণ উপকারী।
চোখ
চোখের ডার্ক সার্কেল কমাতে ঘুমানোর আগে কুরানো শসা বা আলু ঠাণ্ডা হলে ভালো বা ঠাণ্ডা টি-ব্যাগ চোখের ওপর দিয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিট।
হাত ও পা
প্রতি রাতে পা ধুয়ে লোশন লাগিয়ে ঘুমাতে যান। এছাড়া নিয়মিত যত্ন হিসেবে সপ্তাহে দু-একবার যেটা করতে পারেন তা হলো—রাতে পা প্রথমে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে, ২ টেবিল চামচ কুসুম গরম অলিভ অয়েল+১ চা চামচ লবণের মিশ্রণ তৈরি করে সেটা পায়ে ভালো করে ম্যাসাজ করুন। এতে মৃতকোষ ঝরে যাবে, গোড়ালি নরম হবে, ম্যাসাজে রক্ত চলাচল ভালো হবে। এর বদলে মুখের জন্য যে স্ক্রাব ব্যবহার করেন, তা দিয়েও ম্যাসাজ করতে পারেন। ধুয়ে লোশন লাগিয়ে শুয়ে পড়ুন। সারাদিন পর পা দুটোকে যথোপযুক্ত আরাম দিন। হাতের যত্নও নিতে পারেন একইভাবে।
মুখ, হাত, পা যে কোনো ম্যাসাজই করতে হবে হালকা হাতে, আলতোভাবে। তা না হলে হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে।
চুল
যাদের বড় চুল, তারা বেণী করে নিন ঘুমানোর আগে। তাতে চুল সারা রাত ঘষা খাবে না। ছোট চুল হলে খোলা রেখে শুলেও অসুবিধা নেই। তেল ম্যাসাজ করে শুলে ঘুম ভালো হবে।
নখ
নখ ফেটে বা ভেঙে যাওয়ার সমস্যা কমাতে ঘুমানোর আগে হাত-পায়ের নখে জলপাই তেল (অলিভ অয়েল) ম্যাসাজ করে নিন। সারা রাত নখ আর্দ্রতা পাবে।
ঠোঁট
সবই যখন হলো, বাদ যায় কেন ঠোঁটজোড়া। নরম গোলাপি ঠোঁট পেতে প্রতি রাতে ভ্যাসলিনের সঙ্গে অল্প লবণ মিশিয়ে ঠোঁটে ম্যাসাজ করে ধুয়ে নিন। এতে ঠোঁটের মৃত কোষ ঝরে উজ্জ্বলতা আসবে।
খাদ্যাভ্যাস
‘আমাদের দেশের প্রথা অনুযায়ী সবাই একত্র হওয়ায় রাতের খাবারই হয় সারাদিনের মূল ও বেশ ভারি আহার। তাই ঘুমানোর আগে হালকা খাবার খাওয়াটা বাঞ্ছনীয় হলেও চাইলেও আলাদা করে নিজের জন্য মেয়েরা এক বাটি স্যুপ বা ফল নিয়ে বসতে পারেন না।’ রাতের খাওয়ার মেনু বদলের ঝঞ্ঝাটে না গিয়ে পরিবারের সবাই মিলে ঘুমানোর অন্তত ঘণ্টা তিনেক আগে খাওয়ার অভ্যাস করুন, যাতে খেয়েই শুয়ে না পড়তে হয়, যা খুব ক্ষতিকর। খেয়ে নিয়ে আধ ঘণ্টা হাঁটুন। জানা থাকলে অন্যান্য ছোটখাটো ব্যায়াম, ইয়োগা বা মেডিটেশন করতে পারেন। তার আধ ঘণ্টা পর শুতে যান। এতে শরীর বেশ ঝরঝরে লাগবে। খাওয়ার পর খেতে পারেন এক কাপ চায়নিজ জেসমিন টি, এতে শরীরে মেদ জমবে না। ঘুমানোর আগে একগ্লাস পানি খেয়ে নিন। নিয়মমাফিক পরিচর্যা, সুষম খাবার, সুন্দর জীবনযাপন আপনাকে ভালো ও সুস্থ রাখবে। আর সুস্থতা প্রতিফলিত হবে আপনার বাহ্যিক সৌন্দর্যে। তাই আপনার বিরামহীন কর্মব্যস্ততার মধ্যেও ঘুমের আগে এটুকু ঘরোয়া পরিচর্যায়ই আপনি থাকবেন একদম সুস্থ, প্রাণবন্ত, সুন্দর।
22/01/2015
শীতে শ্যাম্পু
এই শীতে অনেকেই ঝামেলায় পড়েন চুল ধোয়া নিয়ে। ঠান্ডায় রোজ চুল ধোয়াটা বেশ বিরক্তিকর। এই আবহাওয়ায় চুল নিষ্প্রাণও হয়ে পড়ে অনেকের। অাবার এমনটাও দেখা যায় যে তৈলাক্ত চুলে হয়তো কারও মানিয়ে যাচ্ছে বিশেষ কোনো ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু, আরেকজনের তৈলাক্ত চুলে সেই শ্যাম্পুটি ব্যবহারে কাজ হচ্ছে উল্টো। শুষ্ক চুলের বেলায়ও এমনটা দেখা যায়। আসলে চুলের ধরনের ওপর নয়, শ্যাম্পু কোনটা ব্যবহার করবেন, তা নির্ভর করে মাথার তালুর ত্বকের ওপর।
মাথার ত্বক যাদের তৈলাক্ত, তাঁদের তেলবিহীন এবং কন্ডিশনারের মাত্রা কম—এমন শ্যাম্পু বেছে নিতে হবে। এখন বাজারে বিভিন্ন ধরনের ভেষজ শ্যাম্পু পাওয়া যায়। এই ধরনের শ্যাম্পুতে যদি লেবু আর আমলকীর মতো উপাদান থাকে, তাহলে তা তৈলাক্ত চুলের উপযোগী। এদিকে শুষ্ক চুল যাঁদের, তাঁরা শ্যাম্পু কেনার সময় তাতে কন্ডিশনার ও শ্যাম্পুর পরিমাণটা সমান আছে কি না, তা দেখে নিন। এত কিছু দেখে শ্যাম্পু কেনার পরও যদি তা চুলের সঙ্গে না মানায়, তাহলে শ্যাম্পুর ব্র্যান্ড পরিবর্তন করেন অনেকেই। তবে, শ্যাম্পুর ব্র্যান্ডটা যা-ই হোক না কেন, নিয়মিত ব্যবহারের পর চুলের সঙ্গে তা মানিয়ে নিতে ১৫ দিন থেকে এক মাস সময় লাগে।
শ্যাম্পু করার আগে চুলগুলো হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে নিন। এরপর হাতের তালুতে একটু শ্যাম্পু নিয়ে তার চেয়ে একটু বেশি পরিমাণে পানি মিশিয়ে নিন। এবার শ্যাম্পুর মিশ্রণটা আলতো করে মাথার তালুতে লাগান। অনেকেই মাথার ত্বক আঙুল দিয়ে জোরে জোরে ঘষে পরিষ্কার করে থাকেন। এতে চুল পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
মাথার তালুর পর পুরো চুলে শ্যাম্পুর ফেনা তৈরি করে ভালো করে হাত দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করে নিন। তেল দিয়ে শ্যাম্পু করার সময় অনেকের চুল থেকেই তৈলাক্ত ভাবটা দূর হতে চায় না। এ সময় চুলে শ্যাম্পু লাগিয়ে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর হালকা গরম পানিতে ধুয়ে নিলেই দূর হবে চুলের তৈলাক্ত ভাব।
চুল ধোয়ার পর আলতো করে তোয়ালেতে মুছে নিন চুলটাকে আরও ঝলমলে দেখানোর জন্য অনেকেই দুই থেকে তিনবার শ্যাম্পু ব্যবহার করে থাকেন। তবে বারবার মাথার তালুতে শ্যাম্পু ব্যবহার না করাই ভালো। এ ছাড়া প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহারে যাঁদের চুল কিছুটা রুক্ষ হয়ে যায়, তাঁরা শ্যাম্পু করার পর চায়ের লিকার কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
জেঁকে বসেছে শীত। এই সময়টায় হয়তো প্রতিদিন চুল ভেজানো বা গোসল করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আর এতে বেশ নেতিয়ে পড়ে চুলটা। এই সমস্যার সমাধানে যেদিন গোসল করবেন, সেদিন চুলে হট অয়েল ম্যাসাজ করুন। এরপর শ্যাম্পু করে শেষে কন্ডিশনার হিসেবে ভিনেগার ব্যবহার করতে পারেন। শীতের সময় চুলের খুশকি দূর করার পাশাপাশি চুলকে ঝলমলে করতেও সাহায্য করে ভিনেগার।
22/01/2015
শীতে ঠোঁটের যত্ন
ঠোঁট ফাটা তো শীতের সাধারণ সমস্যা। আরও আছে ঠোঁট কালো হওয়া, প্রাণহীন দেখানো। সেসবেরই সমাধান দেখে নিন।
ঠোঁট কালো হওয়ার কিছু কারণ জানিয়েছেন স্কয়ার হাসপাতালের পরামর্শক চিকিৎসক সৈয়দা ইশরাত জাহান।
কড়া রোদে দীর্ঘ সময় থাকা, পানিশূন্যতা, গর্ভাবস্থা, বছরের পর বছর গভীর রাত জেগে থাকা, সঠিক সময়ে পুষ্টিকর খাবারের অভাব।
মাত্রাতিরিক্ত হারে প্রসাধনী ব্যবহার করা, অ্যাকজিমার জন্যও ঠোঁট কালো হতে পারে।
অনেকেই দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ান, ঠোঁটের চামড়া টেনে ওঠান। এতে ঠোঁটের চামড়া ও ঠোঁটের নরম মাংসপেশিতে আঘাত লাগে। পরিণামে ঠোঁটে সঠিকভাবে প্রসাধনী বসতে চায় না, ঠোঁটে নানা রকম দাগ হয়ে যায়। অসাবধানতাবশত চামড়া বেশি উঠে গিয়ে ঘা পর্যন্ত হতে পারে। ঘা হয়ে গেলে আরও বেশি দাগ হয়ে যায়।
শরীরে লবণ, পানি ও ভিটামিন ‘বি’র অভাবে ঠোঁট ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
ঠোঁট দীর্ঘ সময় শুষ্ক থাকলে অনেকেই বারবার জিব দিয়ে ঠোট ভেজান। এমন অভ্যাস যাঁদের রয়েছে, তাঁদের ঠোঁট তুলনামূলকভাবে কালচে হয় বেশি।
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ঠোঁট কালো হয়।
শরীরে আয়রনের (যা রক্ত তৈরি করে) পরিমাণ খুব বেশি হলেও ঠোঁট কালচে হয়। আর রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে (খুব বেশি পরিমাণে) ঠোঁট ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
ধূমপান আর খুব বেশি চা-কফি খেলেও ঠোঁট কালো হতে পারে।
তবে সমস্যা থাকলে এর সমাধানও আছে। চিকিৎসক ইশরাত জাহান জানিয়েছেন ঠোঁট সুন্দর রাখার কিছু পরামর্শ।
শীতে ঠোঁটের নিন বাড়তি যত্ন। মডেল: বিদ্যা সিনহা সাহা মিম, ছবি: নকশানিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে পানি (কমপক্ষে প্রতিদিন দুই লিটার) পান করতে হবে। শরীরে পানিশূন্যতা না থাকলে মুখ, চোখের নিচে ও ঠোঁট উজ্জ্বল দেখাবে।
ঠোঁট শুষ্ক হয় বেশি যাঁদের, তাঁরা লিপ বাম (এসপিএফ ১৫ বা ২০ যুক্ত) নিয়মিত ব্যবহার করুন।
ঠোঁটের ওপর মরা চামড়া জমেও দাগ হতে পারে। গোলাপের পাপড়ি বেটে এর সঙ্গে মধু বা চিনি মিশিয়ে পাতলা কাপড় দিয়ে হালকা করে ঘষুন। এতে ঠোঁটে জমে থাকা মরা চামড়াগুলো উঠে যাবে। ঠোঁট দেখাবে উজ্জ্বল।
ধূমপান, ধুলাবালু, রোদের তাপ পরিহার করে চলুন।
বংশগত কারণ বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মেনে নিতেই হবে। এই পরিস্থিতি সাধারণত পরিবর্তন করা যায় না।
ডায়রিয়া, অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া, অতিরিক্ত দৈহিক পরিশ্রমের পর দুর্বল লাগলে ওরস্যালাইন খান বা লবণপানি সমৃদ্ধ শরবত খান। এতে পানিশূন্যতা দূর হবে। ত্বকের ওপর পড়বে না নেতিবাচক প্রভাব।
ঠিকমতো মেকআপ তুলে তারপর ঘুমাতে যাবেন।
ঠোঁটের দুই কোনা কালো হয়ে গেলে চালের আটা পানিতে একটু ভিজিয়ে সেই অংশে ঘষুন। এটি স্ক্রাবের কাজ করবে।
গোলাপের পাপড়ি, দুধের সর বা মাখন ঠোঁটে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলেও কালচে ভাব চলে যাবে।
প্রতিদিন ২০ মিনিট মধু বা দুধের সর লাগিয়ে রাখলেও কালচে ভাব কমবে।
লাইক দিলে আমরা অনুপ্রানিত হই। আপনি নিজেও যদি লাইক না দেন তাহলে কয়েকদিন পর পরবর্তী পোস্টগুলো আর দেখতে পাবেন না।তাই লাইক আর শেয়ার দিন। একটিভ থাকুন। নিজে যেটা জানলেন বন্ধুদের কেও জানতে দিন।
22/01/2015
চুল পড়া রোধে দুনিয়ায় প্রমানিত ৫ টি সহজ উপায়-
ছেলে ও মেয়েদের জন্য এখনকার দূষীত পরিবেশে চুল পড়ে যাওয়া খুব সাধারণ একটি সমস্য। দিনে ৫০-১০০ টি চুল পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু অনবরত চুল পড়ে মাথায় টাক পড়ে যাওয়ার কারনে এটি মানসিক কষ্টের কারণও হয়ে দাঁড়াতে পারে। চুল পড়া রোধ করার কিছু উপায় আছে যা আসলেই কাজ করে। তবে এই উপায়গুলো থেকে যদি ফল পেতে চান আপনার দরকার হবে অনেক ধৈর্য্যের। নিচে বর্ণিত উপায়গুলো অনুসরণ করলে আপনার চুল পড়া ই শুধু কমবে না বরং আপনি পাবেন খুব সুন্দর, সিল্কি ও স্বাস্থ্যবান চুল। চুল পড়া রোধে যে প্রক্রিয়া গুলো আছে তার বেশিরভাগ ই আপনি বাসায় বসে করতে পারবেন, তবে এগুলো ছাড়াও এমন কিছু উপায় আছে যার জন্য আপনাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হতে পারে।
চলুন এখন কি কি উপায়ে চুল পড়া রোধ করা যায় তা জেনে নেইঃ
পেঁয়াজ ও রসুনঃ- সালফার (sulphur) এমন একটি উপাদান যা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। রসুন ও পেঁয়াজের মধ্যে প্রচুড় পরিমাণে সালফার থাকে যা চুলের জন্য খুবই উপকারী। তাই যেভাবে আপনি রসুন ও পেঁয়াজ ব্যবহার করে চুল পড়া রোধ করতে পারেন তা হলঃ
# সমপরিমাণ পেঁয়াজের রস ও ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ১ ঘন্টা। এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এটি সপ্তাহে ২ বার করে নিয়মিত ব্যবহার করুন।
# রঁসুনের ৫/৬ টি কোয়া নিয়ে বেঁটে নিন। এবার এই বাঁটা অংশটি নারিকেল তেলে কিছুক্ষন চুলায় ফুটিয়ে নিন। মিশ্রনটি ঠান্ডা হলে মাথার ত্বকে লাগান। সপ্তাহে ২/৩ বার করে নিয়মিত ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
আলুঃ- আলু চুলের যত্নেও ব্যবহার করা যায়। যেভাবে আলু ব্যবহার করবেনঃ
# একটি জ্যুসার বা ব্লেন্ডারে ৩ টি আলু নিয়ে এর রস সংগ্রহ করুন। এবার আলুর রসে একটি ডিমের কুসুম, কিছু পরিমাণ পানি ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন ভালো করে। ভেজা চুলে এই মিশ্রণটি লাগিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট। এরপর হাল্কা কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এই প্রক্রিয়াটি সপ্তাহে একবার করে কয়েক মাসের জন্য টানা ব্যবহার করে দেখুন। দেখবেন চুল পড়া কমে গেছে।
মেহেদি পাতাঃ- ন্যাচারাল ভাবে চুল রঙ ও চুলকে কন্ডিশন করার পাশাপাশি মেহেদি পাতা ব্যবহার করে চুল পড়া কমানো ও সম্ভব। যেভাবে ব্যবহার করবেনঃ
# ২৫০ মিলি সরিষার তেল নিন একটি টিনের কৌঁটায়। এবার এতে ৬০ গ্রাম মেহেদি পাতা (ধোয়া ও শুকনো) দিয়ে চুলার জ্বাল দিন যতক্ষন না পাতাগুলো পুড়ে যায়। এবার মিশ্রণটি একটি মসলিনের কাপড়ে ছেকে নিয়ে শুধু তেলটি রাখুন। এই তেল নিয়মিত মাথার ত্বকে ও চুলে লাগাবেন।
# এক কাপ শুকনো মেহেদি পাতার গুড়ার সাথে আঁঁধা কাপ দই মিশিয়ে নিন ভালো করে। মিশ্রণটি চুলে লাগান এবং যতক্ষণে চুল না শুকিয়ে যায় অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
নারকেলের দুধঃ- নারকেলের দুধ চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য খুব কার্যকর, তাই এটি যেভাবে ব্যবহার করবেনঃ
# নারকেলের দুধ প্রোটিন, আয়রন, পটাসিয়াম ও অপরিহার্য চর্বিতে পরিপূর্ণ। চুল ছাটাই ও ভাঙ্গন রোধে এটি সাহায্য করে। তাই আপনি যদি সুন্দর চুল পেতে চান তাহলে নারকেলের দুধ রাতে মাথার ত্বকে লাগিয়ে প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন। সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন। এটি খুবই কার্যকর একটি উপায়।
# ডিম আরেকটি উপাদান যা সালফারে পরিপূর্ণ। তাই ডিম যেভাবে ব্যবহার করতে পারেনঃ
# ১ টি ডিমের সাদা অংশের সাথে ১ চা চামচ অলিভ অয়েল বিট করে নিন। এটি মাথার ত্বকে ও চুলে লাগান। ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে চুলে শ্যাম্পু করে নিন।
গ্রীন টিঃ- গ্রীন টি শুধু খাওয়ার জন্যই নয় চুলের জন্যও খুব উপকারী কেননা এতে প্রচূড় পরিমাণে আন্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। কুসুম গরম গ্রীন টি মাথার ত্বকে ১ ঘন্টা লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন। চুলের বৃদ্ধির জন্য এটি ব্যবহার করতে পারেন।
এন্টি ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু বন্ধ করুনঃ
যদি আপনার চুল পড়ে তবে আজই ব্যবহার করা বন্ধ করুন আমাদের দেশে খুব জনপ্রিয় কিছু এন্টি ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু, যেমন head n shoulder, Pantene, Clear। মনে রাখবেন, সব এন্টি ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পুই যাদের চুল পড়ে তাদের জন্য ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর।
এসব প্রক্রিয়ার পাশাপাশি চুলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেই জিনিসটি সেটি হল পানি। তাই বেশি বেশি পানি পান করবেন।
লাইক দিলে আমরা অনুপ্রানিত হই। আপনি নিজেও যদি লাইক না দেন তাহলে কয়েকদিন পর পরবর্তী পোস্টগুলো আর দেখতে পাবেন না।তাই লাইক আর শেয়ার দিন। একটিভ থাকুন। নিজে যেটা জানলেন বন্ধুদের কেও জানতে দিন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Website
Address
House#24. Road#12. Sector#14. Uttara
Dhaka
1230
