Irin Parvin Lata Video Creator
দ্বীনের পথে চলতে গেলে দুনিয়ার কিছু স্বপ্নকে দাফন করে দিতে হয়, যাতে শেষটা জান্নাত হয়!
14/08/2025
প্রেম কখনো কখনো কেবল মোহ হিসেবে রয়ে যায়৷ কখনো হয় ছলনার। কখনো প্রতারণার প্রতিও জন্মে যায় অগাধ বিশ্বাস। সত্যকে মিথ্যে মনে হয়।
মিথ্যেকে মনে হয় সত্য। এ এক আজব গোলকধাঁধার মতন। একবার প্রবেশ করে ফেললে, বের হওয়ার পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন।
অনেকেই জানে বিয়ের আগে আমার একটি ছয় বছর মেয়াদী সম্পর্ক ছিল। এটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও মোটামুটি প্রকাশিত'ই ছিল।
অনেকেই ব্যাপারটাকে দারুনভাবে নিয়েছে। দারুনভাবে নেওয়ারও কিছু কারন তো অবশ্যই আছে। তবে সত্য এটাই যে লাইফ সোস্যাল প্ল্যাটফর্মের রিলসের মতন হয়না। এতে দেওয়া যায়না কোন ইফেক্ট। করা যায়না ক্রপ। কালোকে সাদা বানানো, সাদাকে কালো বানানো কঠিন। আমরা সোস্যাল মিডিয়াতে ততোটুকুই দেখি যতটুকু অন্যরা আমাদের দেখার এক্সেস দেয়। যতটুকু রংয়ের প্রলেপ লাগানো। যতটুকুতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দিলে তা আরো গভীরতা নিয়ে হৃদয়কে স্পর্শ করে ফেলে।
আমি ছয় বছর সম্পর্কটার ভেতর ছিলাম ঠিকই, তবে তারও বহু আগে আমি ভেতর থেকে এই সম্পর্কটা থেকে বের হয়ে এসেছি। এখন প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে পুরোপুরি বাহ্যিক ভাবে কেন আমি বের হইনি? এর মূল কারন ছিল সোস্যাল এক্সেপটেন্সের ইস্যু। ফেস ভ্যালু নষ্ট হওয়ার ভয়। জবাবদিহিতার সম্মুখীন হওয়াকে এড়িয়ে যাওয়া কিংবা মনের বিরুদ্ধেও কারো সাথে রয়ে যাওয়ার ভেতর দিয়ে নিজের জীবনকে ত্যাগ করার প্রবল ইচ্ছা।
লোভ ব্যাপারটা দারুনভাবে সংক্রামক। একটা পরিবার যখন লোভী হয় তা সেই পরিবারের প্রতিটি সদস্যের ভেতরই সংক্রামিত হয়ে যায়। যখন আমার সম্পর্কটার বয়স তিন বছর। তখন আমার প্রাক্তন আমাকে একটি ছেলের ভয়েস রেকর্ড পাঠায়। ছেলেটি ডিফেন্সে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হিসেবে তখন কেবল জয়েন করেছে। নিঃসন্দেহে দেখতে সুদর্শন। পারিবারিক স্ট্যান্ডার্ড ভাল। ফিউচার আলোকিত। ছেলেটা তখন সম্ভবত দেশের বাইরে ছিল। রাস্তায় হাঁটতেছে আর ক্লান্তি নিয়ে তার রূপের প্রশংসা করতেছে। তো আমার প্রাক্তন তার ভয়েসটা আমাকে পাঠিয়ে বললো, এটা শোনার পর থেকে কেমন যেন লাগছে। আই মিন ভেতরে পানির ফোয়ারার মতন বুদবুদ অনুভূত হয়। যত'টা আমি বুঝি আরকি। তো আমি স্বভাবতই বললাম, এর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দাও। কেননা আমি আমার অনেক লেখাতেই বলেছি, একটা সম্পর্কে থাকার পরও অন্য কাউকে ভাল লাগতে পারে। এখানে মন ও মস্তিষ্কের যুদ্ধ করা লাগে। মোহ কাজ করলে নিজের নৈতিকতাকেই প্রাধান্য দিতে হবে।
যাইহোক, তারা বেশ কিছুদিন কথা চালাচালি করলো। আমাকে এটা সেটা বুঝায়। একবার বললো আমাদের রিলেটিভ হয়। বিয়ের জন্য কথা বলতে চায়। ভাইয়া আর আম্মুও চাচ্ছে আমি কথা বলি। কথা বললেই তো সব হয়ে যায়না। তুমি টেনশন করো না, আমি সব কাটায়ে ফেলবো।
আমার বয়স মোটামুটি হয়েছে। ইমোশন, প্রেম ভালোবাসা, মায়া মোহ নিয়ে লোকে আমার কাছ থেকে পরামর্শ নেয়। আমি বুঝি অনেক কিছুই, তবু না বুঝে থাকি। ওই সময়টাতে আমাদের যোগাযোগ ক্রমেই কমে আসতে শুরু করে। তারা দেখা করলো বসুন্ধরা সিটিতে। পূর্বাচল লং ড্রাইভে গেলো। ক্যান্টনমেন্টে একটা প্রোগ্রামে এটেন্ড করলো। তার ভাই তাকে বসুন্ধরা সিটিতে যেয়ে ছেলের সাথে রেখে চলে আসলো। আমাদের তখন টুকটাক কথাবার্তা হয়। রাত জেগে তার সাথে কথা বলার পর আমাকে কল দেয় দু চার মিনিট। আমি এসবে পাত্তা দিইনা। জীবন নিয়ে আমি কখনোই হতাশ হইনি। হতাশা আমাকে সহজে স্পর্শ করেনা। তো দেখা করে এসে সে আমাকে বললো- বসুন্ধরাতে এত মানুষ অথচ ছেলেটা যখন ঢুকলো আমার মনে হলো হি ইজ দ্যা অনলি ম্যান ইন দিস সিটি।
আমার চোখে তখন ধুম ২ এর ঋত্বিক রোশানের এন্ট্রি সিনটা ভাসতেছে। আর ব্যাকগ্রাউন্ডে ধুমমাচালে গানের মিউজিক। তারপর তারা আবার দেখা করলো, এসে আমারে বললো- ছেলেটা এসে হাত ধরে আমাকে রাস্তা পাড় করালো। তার গাড়িটার সামনে যেয়ে আমার চোখ তো ছানাবড়া অবস্থা। এত দামি গাড়ি। ভাইয়াও দেখে খুব অবাক। তারপর ছেলে ঢাকার বাইরে চলে যায়। যাওয়ার পর একটা মেসেজ দেয় " I Think next time you will learn how to kiss well' সে এইটাও আমারে বললো। আমারে বলে, আমি শুনি।
দীর্ঘসময় তারা কথা বললো। মেয়ে বিয়ের ব্যাপারে বলাতে ছেলেটা জানালো সে এখন বিয়ের জন্য প্রস্তুত নয়। এই কথা শুনে আমার প্রাক্তন ৩ মাসের জন্য ট্রমাটাইজড হয়ে গেলো। তার নাকি রিজেক্ট হওয়াতে লো ফিল হইছে। আমি বললাম এতে ট্রমার কি আছে? তুমি তো এমনিতেই চাইছো সে না থাকুক। সে আমারে বুঝায়, আমি বুঝিনা। এক পর্যায়ে আমি কটুকথা বলাতে সে আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললো- ওরে নিয়ে খারাপ কথা বলবা না। তুমি যেমন আমার জীবনে একটা সত্য, সে'ও আমার জীবনের একটা সত্য। আমি বুঝলাম না, একটা সম্পর্কে থাকা অবস্থায় আরেকজন ব্যক্তি কিভাবে জীবনে সত্য হয়ে উঠে? আমার মনের ব্যাকগ্রাউন্ডে তখন একটাই গান বাজে " বিধি তুমি বলে দাও, ও কার? একটি মানুষ দুটি মনের দাবিদার।" আর অন্যদিকে তার মনের ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজে "মনটাকে বলি তুমি কেঁদোনা, প্রেমের নাম বেদনা।"
এত কথা বলবার একটাই কারন, তা হলে- আমি মূলত সেদিন থেকেই এই সম্পর্কটা থেকে আভ্যন্তরীণভাবে বের হয়ে গেছি। সোস্যাল ব্যারিয়ারের কারনে বাকি তিনটা বছর আটকায় ছিলাম। বাকি তিন বছরেও সে এমন প্রায়ই বিভিন্ন মানুষের মোহে পরেছে। প্রেমে পড়েছে। কথা বলেছে। বাসায় বিয়ের জন্য নাকি কথা বলতে বলে, তাই সে কথা বলে। ওদিকে তার মা, বাপ, ভাই সবাই জানে যে সে আমার সাথে সম্পর্কে আছে। তাদের আবার দরকার আলালের ঘরের দুলাল জামাই। বাড়ি, গাড়ি, টাকা, কড়ি এসব বেশি জরুরী তাদের কাছে। তা থাকতেই পারে। মা বাপ সন্তানের সিকিউরড লাইফ প্রত্যাশা করবে এটা দোষের না। দোষের হলো অন্যের অর্থসম্পদ থাকা না থাকা দিয়ে কাউকে বিচার করার মানসিকতা।
এইভাবে চলতে চলতে তার আরেক ছেলের সাথে পারিবারিক চাপে কথা বলা লাগে। আমারে বললো বাড়ি যেতে হবে। ছেলেপক্ষ দেখতে আসবে। আমি ওই ছেলের নাম্বার চাইলাম। বললাম- কথা বলি আমি? আমাকে নাম্বার দিলো না। তারপর সে বাড়ি গেলো। ছেলেপক্ষ দেখতে এসে বিয়ে করে ফেললো। বিয়ের আগের দিন আমি বললাম, তুমি বললে আমি এসে নিয়ে যাই। সে বললো- সে চলে আসলে তার বাবা মারা যাবে। মা সমাজে মুখ দেখাতে পারবেনা। বিয়ের দিন তার গায়ে লাল শাড়ি আর হুট করে বিয়ে হওয়াতে ম্যাচিং ব্লাউজ। তার স্বামীর কাছ থেকে শুনেছি, সে তারে ১৫ দিন সময়ও দিয়েছিলো। বিয়ের জন্য শপিংয়ের টাকাও দিয়েছে। লোকে জানে, তারে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছিলে। অথচ, আমি জানি একদিনে ব্লাউজ বানানো অনেক কঠিন। নিজের বউয়ের ব্লাউজ একবার গাউছিয়া থেকে বানানোর জন্য ৩ ঘন্টা দাঁড়ায় থাকতে হয়েছিলো। মজুরী নিছিলো ১০৫০ টাকা। নিজের অনিচ্ছায় কে ৩ ঘন্টা দাঁড়ায়ে থেকে ব্লাউজ বানিয়ে বিয়ে করে, আমি জানিনা আসলে।
তাদের বিয়ে হইলো। আমি সমস্ত যোগাযোগ গুটায়ে নিলাম। সোস্যাল মিডিয়াতে কেউই যাতে হ্যারেজমেন্টের শিকার না হই, এজন্য একটা লম্বা পোস্টও দিই। সবাইকে বিষয়টা জানানো জরুরী হয়ে গিয়েছিলো। তাই জানিয়েছি। সামাজিকভাবে কেউ কাউকে হেয় করুক, সেটা চাইনি আমি।
এদিকে ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে একটা ভিডিয়ো সামনে আসলো। আমার ফ্রেন্ডলিস্টে আছে, অথচ কখনো চোখে পড়েনি। মেয়েটা কি স্নিগ্ধ। তার স্টোরিতে রিপ্লাই করলাম। তার ৬ মাস আগের ছবিতেও লাভ রিয়েক্ট দিতে থাকলাম। চাইলাম, সে নোটিস করুক। পরে অবশ্য নোটিস করেছিলো। কথা বললাম। মেয়ে বললো- বিয়ে করলে কথা বলেন। নাহয় অযথা সময় নষ্ট করে কি লাভ। ভাবলাম মেয়ের ডেসটিনেশন ভাল। বললাম বিয়ে করবো। কথা বললাম। দেখা করলাম। ৮ মাসের মাথায় বিয়েও করলাম। সে এখন আমার স্ত্রী। তার নাম শায়লা। একসাথে থাকছি। পাশাপাশি বালিশেও ঘুমাচ্ছি। ডাইনিংয়ের পাশাপাশি চেয়ারে বসে খাবার খাচ্ছি। পাড়ার মোড়ের ভ্যানের উপর থেকে সবজি কিনছি। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করছি। আর ভাবছি- জীবন এত সুন্দর হয়? নিজের জীবনের প্রতি নিজেরই না নজর লেগে যায়।
বিয়ের পর প্রাক্তন প্রেমিকা কল দিছে। ট্রু কলারে নাম দেখে চিনলাম। বউ ফোন ধরছে। আমার তো নাই কোন দোষ। বউ তার সাথে কথা বলে আর আমি নিজেরে কই লুকাবো এটা ভাবতে ভাবতে কিচেনে যেয়ে দেখি চিংড়ি মাছ রাখা। কর্ন ফ্লাওয়ার দিয়ে সব চিংড়ি ভেজে ফেললাম। খেতে খুবই জঘন্য হয়েছিলো যদিও। সেটা ভিন্ন আলাপ। কারো স্বামীরে তার প্রাক্তন কল দিছে, এটা কোন বউই মানবেনা। মানা উচিতও না। বউ দেখলাম কই থেকে তার স্বামীর নাম্বার, মায়ের নাম্বার, ভাইয়ের নাম্বার নিয়ে কল দেওয়া শুরু করলো। চিল্লাচিল্লি করলো। ওদিকে আমি কিচেনে বসে চিংড়ি মাছ খাই।
শুনলাম আমার প্রাক্তন প্রেমিকার ডিভোর্স হয়েছে। জানিনা, তার বাবা এখন কেমন আছে? Actually Karma always comes back around. পৃথিবীতে তুমি যা করবে, খোদা তোমাকে তা দ্বিগুন করে ফিরিয়ে দিবেন। ভালোবাসলে, ভালোবাসা। অবিচার করলে অবিচার। যাইহোক এত কিছু বলার একটাই কারন- কারো ঘর ভাংলে সে চায় অন্য সবার ঘর ভাঙুক। এমন কিছু চেষ্টা কেউ কেউ করছে। আল্লাহ তায়ালা তাদের হেদায়েত দিক। হেফাজত করুক। অন্যের বদ নজর থেকে খোদা যেন আমি ও আমার পরিবারকে রক্ষা করেন।
Brother or Apu is writing so good that I could not really copy it I thought it would share it with you.
14/08/2025
গতকাল রাত বারোটার দিকে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, আমার ছোটবেলার ফ্রেন্ড,আমার বান্ধবী ও একজন ফুটফুটে ছেলে সন্তানের মা হয়েছে,
আল্লাহর রহমতে ও এখন সুস্থ আছে,
সবাই ওর জন্য আর ওর বাচ্চার জন্য দোয়া করবেন,
গায়রতসম্পন্ন বা আত্মসম্মানসম্পন্ন পুরুষ তো তারাই যারা তাদের লিস্টে পর-নারীদের রাখে না। আর গায়রতসম্পন্ন নারী তো তারাই যারা তাদের লিস্টে পর-পুরুষদের রাখে না।
যদি তুমি দেখতে পাও সালাতে তোমার মন বসছে না, বুঝে নিবে এর কারণ ঈমানের দুর্বলতা। তাই তখন ঈমান শক্তিশালী করার জন্য চেষ্টা চালাবে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka
