Standard Health Care Company
হজ্জ ডকুমেন্টারী, হজ্জ ও ওমরাহ নির্দে?
" খুবই জরুরি মাসায়েল "
নামাজের মধ্যে মোবাইল ফোন (রিংটোন) বন্ধ করা, রিংটোন হিসেবে আযান বা কুরআনের আয়াত সেভ করা।
আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের এক নব আবিস্কার হলো মোবাইল ফোন। বাদশাহ ফকির, নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী, শিশু-কিশোর সকলের হাতেই এখন মোবাইল। কেমন যেন, মোবাইল ফোনটি আজকাল জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর মানুষের জীবনকে করেছে গতিময়।
নামাজের মধ্যে মোবাইল ফোন বন্ধ করা নামাজ শুরু করার পূর্বেই মোবাইলের রিংটোনটি বন্ধ করে নেয়া আবশ্যক। এদিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে অভ্যাসে পরিণত করা চাই। তবে যদি ভুলবশত বন্ধ না করে নামাজ শুরু করে আর নামাজে তা বেজে উঠে, তখন মোবাইলটি পকেটে রেখেই এক হাত দিয়ে বন্ধ করবে। এর দ্বারা নামাজে কোন রকমের সমস্যা হবে না। আর মোবাইল বন্ধ করার জন্য নামাজ ছেড়ে দেয়ার প্রয়োজন নাই। [বাহরুর রায়েক : ২/১১] (মাওলানা মানসুরপুরী-মোবাইলের ব্যবহার নীতি)
নামাজে বারবার মোবাইল বাজা যদি একবার বন্ধ করার পর (অর্থাৎ একবার পকেটে হাত দিয়ে কল কেটে দেয়ার পর) যদি আবার বেজে উঠে, তাহলে আমলে কালিলের মাধ্যমে তিনবার পর্যন্ত কল বন্ধ করা যেতে পারে। তবে শর্ত হলো- এ বন্ধ করাটা যাতে আমলে কাছিরের সীমা পর্যন্ত গিয়ে না পৌঁছে। যদি আমলে কাছির হয়ে যায়, তাহলে নামাজ ভেঙ্গে যাবে। [মাজমাউল আনহার : ১/১২]
আমলে কাছির বলা হয়- নামাজে এমন কোন কাজ করা যার দ্বারা নামাজ বিশুদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হয়। অযথা এমন কোন কাজ করা, যা দেখে সামাজের বাহিরের লোকদের প্রবল ধারণা হয় যে, লোকটি নামাজে নেই। তবে যদি মুসল্লির কাজটি এ পর্যায়ের না হয়। তাহলে তাকে আমলে কালিল বলা হয়।
[শামী : ১/৪৩]
মোবাইল বন্ধ করার জন্য নামাজ ভেঙ্গে ফেলা যদি আমলে কালিলের মাধ্যমে মোবাইল বন্ধ করা সম্ভব না হয়, আর তা বাজতে থাকার কারণে নিজের ও অন্যান্য মুসল্লিদের নামাজে সমস্যা হয়, তাহলে শুধু একারণে নামাজ ছেড়ে দিয়ে মোবাইল বন্ধ করা জায়েয নেই। কারণ নামাজ ছেড়ে দেয়ার অনুমতি শুধু বিশেষ কিছু ওযরের কারনে হয়ে থাকে। আর নামাজে একাগ্রতায় সমস্যা হওয়া এমন কোন শরয়ী ওযর নয়, যার কারনে নামাজ ছেড়ে দেয়ার অবকাশ রয়েছে। [শামী : ১/৪৪]
মোবাইলে রিংটোনঃ
রিংটোন হিসেবে আযান বা কুরআনের আয়াত সেভ করা রিংটোন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এ কথার প্রতি ইঙ্গিত করা যে, কোন ব্যক্তি আপনার সাথে আলাপ করার আশা করছে। বিষয়টি কেমন যেন দরজায় আওয়াজ করার মত। সুতরাং এজন্য কুরআনের আয়াত অথবা আযানের আওয়াজকে ব্যবহার করার কোন যৌক্তিকতা নেই, বরং এক হিসেবে এর দ্বারা কালামে পাক ও আযানের মান ক্ষুন্ন হয়। তাই এর ভিত্তিতে ফোকাহায়ে কেরাম এ ধরণের উদ্দেশ্য হাসিলের ক্ষেত্রে যিকিরের শব্দগুলো ব্যবহার করাও না জায়েয বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সুতরাং ফোকাহায়ে কেরামের ঘোষণা অনুযায়ী মোবাইলে রিংটোন হিসেবে আযান, কুরআনে কারিমের আয়াত ও হামদ-নাম ইত্যাদি সেভ করা ঠিক হবে না। অনেক সময় এমনও হয়ে থাকে যে, কেউ মোবাইল নিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করলো, আর সেখানে আয়াতে কারিমার আওয়াজ ভেসে উঠলো এতে কুরআনের অবমাননা হয়। তাই এর থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।
[হিন্দিয়া : ৫/৩১৬, আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ের : ৫৩, ইমদাদুল ফাতওয়া : ৩৪৯]
রিংটোন হিসেবে গান সেভ করা মোবাইলের রিংটোনে গান বাজানো এবং মিউজিক লাগানো কখনই জায়েয নয় বরং মহাপাপ। [আত তারগিব ওয়াত তারহিব : ৪/১৮৪, শামী জাকারিয়া : ৯/৫৬৬]
গান শোনা কোন অস্থাতেই গান শোনা জায়েয নেই চাই মোবাইলের মাধ্যমে হোক কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে হোক। [কুরতুবি : ৭/৫০, শামী জাকারিয়া : ৯/৫৬৬]
মোবাইলের সঠিক ব্যবহার ও জরুরি মাসায়েল ! নামাজের মধ্যে মোবাইল ফোন (রিংটোন) বন্ধ করা
আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের এক নব আবিস্কার হলো মোবাইল ফোন। বাদশাহ ফকির, নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী, শিশু-কিশোর সকলের হাতেই এখন মোবাইল। কেমন যেন, মোবাইল ফোনটি আজকাল জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর মানুষের জীবনকে করেছে গতিময়। আগের যামানায় যে কাজে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হত, বর্তমানে তা মুহূর্তের মধ্যে হয়ে যায়। এদিকে লক্ষ করলে বুঝে আসে মোবাইল অত্যন্ত জরুরি একটি জিনিস। কিন্তু একথা সত্য যে, মোবাইল ফোনের ব্যবহার কারো কারো জন্য অভিশাপের কারণ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এর শিকার। অনেকের মোবাইল তো অশ্লীলতা ও বেহায়াপনায় ভরপুর। শুধু মোবাইলই নয়, রেডিও, টেপরেকর্ড, অডিও, ভিডিও, ক্যামেরা, টেলিভিশন এবং ইন্টারনেটের সকল সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে মহামূল্যবান সময় নষ্ট করছে কত মানুষ। ভিডিও ফিল্ম দেখে, চলতে ফিরতে গান শুনে ইন্টারনেটে অশ্লীল ছবি দেখে নিজের চারিত্রকে ধ্বংস করছে। মোবাইল ফোন একজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষার উজ্জ্বল আলো থেকে বঞ্চিত করে মূর্খতার ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত করছে। ধ্বংস করে দিচ্ছে তার মহামূল্যবান জীবন সম্পদ কে।
তাছাড়া যারা প্রয়োজনে মোবাইল ব্যবহার করে তাদের কেউ কেউ কিছু জিনিসের ক্ষেত্রে শরয়ী সীমা-রেখাকে স্থির রাখেনা এবং তাদের দ্বারা কী ভুল ভ্রান্তি হয় তাও বুঝে না। মোবাইল ফোনের এসব ভয়াবহ ক্ষতি খারাবের প্রতি ইঙ্গিত, জনসাধারণের নিকট মোবাইল সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান ও মাসআলা-মাসায়েল উপস্থাপন করাই হলো এ লিখনির মূল উদ্দশ্য। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন। প্রিয় পাঠক! আল্লাহ তাআলার মনোনীত ধর্ম একমাত্র ইসলাম। আর কেয়ামত পর্যন্ত যাবতীয় সমস্যার শরয়ী সমাধান একমাত্র ইসলাম ধর্মেই পাওয়া যায়। আধুনিক সকল মাসআলা-মাসায়েলের সমাধান দিতে ইসলাম সম্পূর্ণ সক্ষম। আর বিজ্ঞানের একটি নব আবিস্কার হলো মোবাইল ফোন, যার সাথে শরিয়তের অনেক মাসআলা মাসায়েলের সম্পৃক্ততা রয়েছে। সে মাসআলাগুলো মোবাইল ব্যবহারকারী প্রতিটি মুসলিম ভাইদের জানা অত্যন্ত জরুরি। যাতে এ সমস্ত মাসআলা মাসায়েল জেনে মোবাইলের ভয়াবহ ক্ষতি ও অপব্যবহার থেকে বাঁচতে পারে এবং শরিয়াতের অন্যতম উসুল ‘‘যতটুকু দ্বারা প্রয়োজন পূরণ হয় ততটুকু করা” এর উপর আমল করে মোবাইলের সঠিক ব্যবহার জানতে পারে। মাওলানা মানসুরপুরী সাহেব মোবাইলের ব্যবহার নীতির উপর মূল্যবান ছোট্ট একটি রেসালা উর্দু ভাষায় রচনা করেছেন, যার অনুবাদ করেছেন ইবরাহিম খলীল সাহেব, এতে মোটামুটি মোবাইলের জরুরি মাসআলাগুলো লেখা হয়েছে। সেখান থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা পাঠকদের জ্ঞাতার্থে এখানে তুলে ধরা হলো-
নামাজের মধ্যে মোবাইল ফোন বন্ধ করা নামাজ শুরু করার পূর্বেই মোবাইলের রিংটোনটি বন্ধ করে নেয়া আবশ্যক। এদিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে অভ্যাসে পরিণত করা চাই। তবে যদি ভুলবশত বন্ধ না করে নামাজ শুরু করে আর নামাজে তা বেজে উঠে, তখন মোবাইলটি পকেটে রেখেই এক হাত দিয়ে বন্ধ করবে। এর দ্বারা নামাজে কোন রকমের সমস্যা হবে না। আর মোবাইল বন্ধ করার জন্য নামাজ ছেড়ে দেয়ার প্রয়োজন নাই। [বাহরুর রায়েক : ২/১১]
নামাজে বারবার মোবাইল বাজা যদি একবার বন্ধ করার পর (অর্থাৎ একবার পকেটে হাত দিয়ে কল কেটে দেয়ার পর) যদি আবার বেজে উঠে, তাহলে আমলে কালিলের মাধ্যমে তিনবার পর্যন্ত কল বন্ধ করা যেতে পারে। তবে শর্ত হলো- এ বন্ধ করাটা যাতে আমলে কাছিরের সীমা পর্যন্ত গিয়ে না পৌঁছে। যদি আমলে কাছির হয়ে যায়, তাহলে নামাজ ভেঙ্গে যাবে। [মাজমাউল আনহার : ১/১২]
আমলে কালিল ও আমলে কাছির নামাজে আমলে কালিল ও আমলে কাছির নির্ধারণের ব্যাপারে ফোকাহায়ে কেরামের বিভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যায়। তন্মধ্যে গ্রহণযোগ্য মত হলো আমলে কাছির বলা হয়- নামাজে এমন কোন কাজ করা যার দ্বারা নামাজ বিশুদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হয়। অযথা এমন কোন কাজ করা, যা দেখে সামাজের বাহিরের লোকদের প্রবল ধারণা হয় যে, লোকটি নামাজে নেই। তবে যদি মুসল্লির কাজটি এ পর্যায়ের না হয়। তাহলে তাকে আমলে কালিল বলা হয়। [শামী : ১/৪৩]
মোবাইল বন্ধ করার জন্য নামাজ ভেঙ্গে ফেলা যদি আমলে কালিলের মাধ্যমে মোবাইল বন্ধ করা সম্ভব না হয়, আর তা বাজতে থাকার কারণে নিজের ও অন্যান্য মুসল্লিদের নামাজে সমস্যা হয়, তাহলে শুধু একারণে নামাজ ছেড়ে দিয়ে মোবাইল বন্ধ করা জায়েয নেই। কারণ নামাজ ছেড়ে দেয়ার অনুমতি শুধু বিশেষ কিছু ওযরের কারনে হয়ে থাকে। আর নামাজে একাগ্রতায় সমস্যা হওয়া এমন কোন শরয়ী ওযর নয়, যার কারনে নামাজ ছেড়ে দেয়ার অবকাশ রয়েছে। [শামী : ১/৪৪]
রিংটোন হিসেবে আযান বা কুরআনের আয়াত সেভ করা রিংটোন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এ কথার প্রতি ইঙ্গিত করা যে, কোন ব্যক্তি আপনার সাথে আলাপ করার আশা করছে। বিষয়টি কেমন যেন দরজায় আওয়াজ করার মত। সুতরাং এজন্য কুরআনের আয়াত অথবা আযানের আওয়াজকে ব্যবহার করার কোন যৌক্তিকতা নেই, বরং এক হিসেবে এর দ্বারা কালামে পাক ও আযানের মান ক্ষুন্ন হয়। তাই এর ভিত্তিতে ফোকাহায়ে কেরাম এ ধরণের উদ্দেশ্য হাসিলের ক্ষেত্রে যিকিরের শব্দগুলো ব্যবহার করাও না জায়েয বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সুতরাং ফোকাহায়ে কেরামের ঘোষণা অনুযায়ী মোবাইলে রিংটোন হিসেবে আযান, কুরআনে কারিমের আয়াত ও হামদ-নাম ইত্যাদি সেভ করা ঠিক হবে না। অনেক সময় এমনও হয়ে থাকে যে, কেউ মোবাইল নিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করলো, আর সেখানে আয়াতে কারিমার আওয়াজ ভেসে উঠলো এতে কুরআনের অবমাননা হয়। তাই এর থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। [হিন্দিয়া : ৫/৩১৬, আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ের : ৫৩, ইমদাদুল ফাতওয়া : ৩৪৯]
রিংটোন হিসেবে গান সেভ করা মোবাইলের রিংটোনে গান বাজানো এবং মিউজিক লাগানো কখনই জায়েয নয় বরং মহাপাপ। [আত তারগিব ওয়াত তারহিব : ৪/১৮৪, শামী জাকারিয়া : ৯/৫৬৬] গান শোনা কোন অস্থাতেই গান শোনা জায়েয নেই চাই মোবাইলের মাধ্যমে হোক কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে হোক। [কুরতুবি : ৭/৫০, শামী জাকারিয়া : ৯/৫৬৬]
মোবাইলে ফিল্ম দেখা ফিল্ম দেখা সর্বাবস্থায় নাজায়েয হারাম। চাই মোবাইলে দেখুক কিংবা অন্য কোথাও দেখুক। মোবাইলে ক্রিকেট ম্যাচ দেখা মোবাইল ইত্যাদির মাধ্যমে ক্রিকেট ম্যাচ দেখা অনর্থক সময় অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। অনেক সময় তাতে গুনাহ অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। কারণ খেলার মাঝে মাঝে এমন কিছু অশ্লীল ছবি ও এডভেটাইজ দেখানো হয়, যা দেখার দ্বারা দৃষ্টির হেফাজত সম্ভব হয় না। [ইমদাদুল ফাতাওয়া : ৪/২৫৭, ফাতাওয়া রাহমানিয়া : ১০/৩২৬]
মোবাইলে গেমস খেলা মোবাইলে গেমস খেলা মানে নিজের অমূল্য সম্পদ সময়কে অপচয় করা। তাই তা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। [শুয়াবুল ঈমান : হা. ৪৯৮৭] মোবাইলের মাধ্যমে দ্বীনী বয়ান শোনা মোবাইলের মাধ্যমে দ্বীনী বয়ান হামদ-নাত ইত্যাদি শোনা জায়েয। তবে শর্ত হলো তাতে কোন ছবি না থাকা। [ইমদাদুল ফাতাওয়া : ৫/২৪৯, কিফায়াতুল মুফতি : ৯/২০৭]
মোবাইলে মিস্ডকল দেয়া মিস্ডকল করার ক্ষেত্রে একটু ব্যাখ্য রয়েছে, যদি এমন ব্যক্তিকে মিস্ডকল করা হয় যার সাথে তার অন্তরঙ্গতা রয়েছে কিংবা মিস্ডকল দিলে খারাপ মনে করবে না; বরং তার সাথে কল মিলাবে, তাহলে এমন ব্যক্তিকে মিস্ডকল দিতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু যদি কোন অপরিচিত লোক হয়, অথবা এমন কোন লোক হয় যাকে মিস্ডকল দিলে খারাপ মনে করবে, তাহলে এমন লোককে মিস্ডকল দেয়া ঠিক হবে না। [রুহুল মায়ানি : ১০/৩২৩] বিরক্ত করা মোবাইলে রিং দিয়ে কাউকে বিরক্ত করা বা কষ্ট দেয়া মস্পূর্ণ না জায়েয। [বুখারি] : মুফতি নাজমুল হাসান
হজ্জ কি ও কখন
হজ্জের গুরুত্ব ও তাৎপর্য পবিত্র হজ্জ ইসলামের মহান একটি রূকন বা স্তম্ভ। আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে পরিস্কার ভাষায় সামর্থবান মুসলিম নর-নারীর উপরে জীবনে একবার এ মহান ইবাদতটি ফরয করে দিয়েছেন। তিনি বলেন- অর্থঃ মানুষের মধ্যে যে ব্যক্তি (ঈমানদার) কা’বাঘর পৌঁছতে সক্ষম হয় তার উপর আল্লাহর প্রাপ্য হচ্ছে সে যেন হজ্জ করে। (আল-ইমরান-৯৬) মূলতঃ এই হজ্জের মাধ্যমেই মহান আললাহর সামনে বান্দাহর গোলামীর চিত্রপূর্ণতা পায়। একজন হাজীর যাবতীয় কর্মকাণ্ডে বিশেষতঃ তাঁর ইহরাম অবস্থায় চূড়ান্ত বিনয় ফুটে উঠে। বাড়ী-ঘর, আত্মীয়-স্বজন, ধন-সম্পদ, আভিজাত্য-কৌলিন্য সবকিছু পেছনে ফেলে মাত্র দুইপ্রস্থ সাদা কাফন সদৃশ ইহরামের পোষাক গায়ে জড়ায়ে খালি মাথায় খোল পায়ে দূর-দূরান্ত থেকে, বলতে বলতে যখন পেরেশান হয়ে কা’বা মুখে ছুটতে থাকে তখন মনে হয় মাহবুবের ডাকে সাড়া দিয়ে গাপল প্রেমিক দুনিয়ার সব কিছু তুচ্ছ করে ঊর্ধ্বশ্বাসে চলছে এক মহামিলনের প্রচন্ড আকর্ষণে। কা’বা ঘরে পৌঁছে যখন সে এর চতুষ্পার্শ্বে তাওয়াফ করতে থাকে তখন মনে হয় পাগল পারা প্রেমিক তাঁর মাহবুবকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। কখনো হজরে আসওয়াদে চুমু খায়, কখনো মুলতাযামে বুক-মাথা ঠেকিয়ে অসহায়-এতীমের মত অঝোর ধারায় ফুফিয়ে-ফুফিয়ে কাঁদতে থাকে, কখনো ভিখারীর ন্যায় মীযাবে রহমতের নীচে দাঁড়িয়ে থাকে, আবার মাক্বামে ইবরাহীমের পেছনে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে, ছাফা মারওয়ার মাঝে ছুটোছুটি করে, মা’বুদের সন্তুষ্টির জন্য সব ছেড়ে চলে যায় মিনায়, আবার সে ছুটে চলে আরাফায়, সেখান থেকে খোলা আকাশের নীচে পাথুরে জমির উপর রাতের অন্ধকারে মুযদালিফায় বসে মনের আবেগে ডাকতে থাকে মহান মাবুদকে। তাঁকে রাজী করার জন্য চিরদুশন শয়তানকে মিনায় পাথর মেরে অপদস্ত করে, সর্বোপরি সকল অহংকার-অহমিকা, ব্যক্তিত্ব জলাঞ্জলী দিয়ে মাথা মুন্ডিয়ে চরম বিনয় সহকারে হাজির হয় মা’বুদের দরবারে। গোলামী প্রকাশের আর কি বাকী থাকে? এ জন্যই হজ্জ সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত, সকল ইবাদতের অনুপম সমন্বয়। পৃথিবীর সকল দেশের সকল ভাষার সকল বর্ণের মুসলিম নর-নারী, আবালবৃদ্ধবর্ণিতা যখন আরাফাতে, মুযদালিফায়, মীনায়, কা’বায় একই পোষাকে একই ভাষায় লাব্বাইকা ধ্বনিতে মুখরিত করে তোলে তখন বিশ্ব জগত এক অনন্য দৃশ্য অবলোকন করে। এ দৃশ্য নয়ন জুড়িয়ে দেয়, শ্রদ্ধা ভালবাসা আর আবেগের জোয়ারে সকল হিংসা-বিদ্বেষ ভেদাভেদ ধুয়ে মুছে যায়। সকলের প্রতি সকলের ভালবাসা, মমতা, সহমর্মিতা, সহযোগিতার কি এক অদৃশ্য বন্ধন! সবার গন্তব্য এক, চাওয়া-পাওয়া এক আল্লাহর সন্তুষ্টি। মহান মাবুদের দরবারে এসে বিশ্ব মুসলিম একাকার হয়ে যায়। এ হজ্জ বিশ্ব মুসলিমকে একাত্মা করে দেয় বিশ্ব মুসলিম ভ্রাতৃত্ব ও বিশ্ব শান্তির স্বাদ জাগিয়ে দেয়।
হজ প্যাকেজ-২০১৫ অনুমোদন, এমআরপি, রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক
বিশেষ প্রতিনিধি | ৯ ডিসেম্বর ২০১৪, মঙ্গলবার
সর্বনিম্ন ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০৬ টাকা এবং সর্বোচ্চ তিন লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৫ টাকা খরচ নির্ধারণ করে আগামী মওসুমের জন্য ‘হজ প্যাকেজ, ২০১৫’-এর অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া এ বছর থেকেই হজযাত্রীদের জন্য অনলাইন নিবন্ধন এবং যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট (এমআরপি) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম প্যাকেজের আওতায় হজে যেতে খরচ হবে তিন লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৫ টাকা। আর দ্বিতীয় প্যাকেজে খরচ পড়বে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০৬ টাকা। এর বাইরে কোরবানির খরচ আলাদা যুক্ত হবে। উল্লেখ্য, গত বছর প্রথম প্যাকেজের জন্য হজযাত্রীদের দিতে হয় ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৬ টাকা। আর দ্বিতীয় প্যাকেজে খরচ ছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার ৭৭৬ টাকা। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের জানান, সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে এবার মোট ১ লাখ ১৭৫৮ জন বাংলাদেশী হজে যেতে পারবেন। এর মধ্যে ১০ হাজার জন যাবেন দুই প্যাকেজের আওতায় সরকারি ব্যবস্থাপনায়। বাকিরা সবাই যাবেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ এজেন্সির মাধ্যমে। তিনি জানান, প্রত্যেক হজযাত্রী কোরবানির খরচ হিসেবে প্রত্যেকে বাড়তি ৫০০ সৌদি রিয়াল এবং ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ ১০০০ ডলার সঙ্গে নিতে পারবেন। হজে যেতে অনলাইনে নিবন্ধন করা যাবে ২১শে জানুয়ারি থেকে ৫ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আগামী ১৫ই ডিসেম্বর থেকেই নিবন্ধনের জন্য টাকা জমা নেয়া হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নিবন্ধনের সময় অন্তত ১ লাখ ৫১৬৯০ টাকা জমা দিতে হবে। বাকি টাকা পরিশোধের জন্য সময় পাওয়া যাবে ১০ই জুন পর্যন্ত। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কোন হজযাত্রীর কাছ থেকে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০৬ টাকার কম নিতে পারবেন না। এবার হজযাত্রীর বিমান ভাড়া ১৫২৫ ডলার হবে। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি হজযাত্রীদের সৌদি সরকার অনুমোদিত ক্যাটারিং কোম্পানি থেকে তিন বেলা খাবার সরবরাহ করা হবে। এছাড়া মন্ত্রিসভা বৈঠকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন সংশোধন আইন-২০১৪ এবং জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি (এনএপিডি) আইন-২০১৪ এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়েছে।
http://mzamin.com/details.php?mzamin=NTM4NDQ=&s=MTA=
08/12/2014
কে কে পবিত্র জমজমের পানি পান করতে চান লাইক দিয়ে জানান।
২০১৫ সালের হজ প্যাকেজ অনুমোদন !!
৯ ডিসেম্বর ২০১৪,
২০১৫ সালের হজ প্যাকেজের খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আজ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, এবার এক লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন হজ পালন করার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যেতে পারবেন ১০ হাজার জন। বাকি ৯১ হাজার ৭৫৮ জন যেতে পারবেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়।
হজের ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় খরচ হবে দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০৬ টাকা।
অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় খরচ পড়বে কমপক্ষে তিন লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৫ টাকা।
এবার অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনে খরচ পড়বে এক লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা।
২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। বাকি টাকা ১০ জুনের মধ্যে জমা দিতে হবে।
http://www.dailynayadiganta.com/details.php?nayadiganta=OTIyMDk=&sec=MTc=&t=%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A7%E0%A7%AB-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A6%9C-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%9C-%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%A6%E0%A6%A8 .r5XcPUnJ.dpuf
07/12/2014
হজ্জ কার উপর হজ্জ ফরজ ? হজ্জ ফরজ হওয়ার শর্ত:
পবিত্র হজ্জ ইসলামের মহান একটি রূকন বা স্তম্ভ। আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে পরিস্কার ভাষায় সামর্থবান মুসলিম নর-নারীর উপরে জীবনে একবার এ মহান ইবাদতটি ফরয করে দিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন: “এবং সামর্থ্যবান মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ্জ করা ফরয। আর যে ব্যক্তি কুফরী করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী।”
[সূরা আলে ইমরান-৯৭]
আর্থিক সামর্থ। অর্থাৎ পরিবার-পরিজন, চাকর-বাকরদের ভরণপোষণ নিশ্চিত করে কোন ব্যক্তির নিকট হজ্জে যাওয়া-আসা ও পাথেয় খরচ থাকলে তার উপর হজ্জ ফরয। বাসস্থান, প্রয়োজনীয় গৃহসামগ্রী, পোষাক-পরিচ্ছদ, ব্যবহৃত বাহন, পরিবার-পরিজন, চাকর-বাকরের যাবতীয় ব্যয় চালনার জন্য ন্যূনতম কৃষিজমি অথবা ন্যূনতম ব্যবসা অথবা চাকুরীর পর অতিরিক্ত যে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি থাকে তা থেকে হজ্জের ব্যয় নির্বাহ সম্ভব হলেই হজ্জ ফরয হবে।
হজ্জের মাধ্যমে মু’মিনদের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক সৌভাগ্যের দুয়ার খুলে যায়। ইহরাম গায়ে হাজীর লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক (আমি আপনার দরবারে হাজির হে আল্লাহ আমি হাজির) ধ্বনি মূলতঃ আল্লাহর নির্দেশিত ইবরাহীম (আঃ)-এর আহবানের সাড়া দিয়ে এগিয়ে যাওয়া।
আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন- এবং (হে ইবরাহীম) মানুষের মধ্যে হজ্জের ঘোষণা দাও। তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সকল প্রকার কৃশকায় উটের পিঠে চড়ে দূর-দূরান্ত থেকে (সূরা হজ্জ, আয়াত-২৭)
এরপরই আল্লাহ ঘোষণা দেন – তাদের এ আগমন হবে যেন তারা তাদের কল্যাণের স্থানে পৌঁছে। (সুরা হজ্জ, আয়াত-২৮)
এ আয়াতে হজ্জের ব্যাপক উপকারিতার প্রতি ঈঙ্গিত করা হয়েছে।
বায়তুল্লাহ শরীফের হজ্জ আদায় করা ইসলামের অন্যতম একটি রুকন ও মূল ভিত্তি। দলীল হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী:
“ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। এই সাক্ষ্য দেয়া যে, নেই কোন সত্য উপাস্য শুধু আল্লাহ ছাড়া এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল (বার্তাবাহক)। নামায কায়েম করা। যাকাত প্রদান করা। রমজান মাসে রোযা রাখা। বায়তুল্লাতে হজ্জ আদায় করা।”
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর হজ্জ ফরজ করেছেন। সুতরাং তোমরা হজ্জ আদায় করো।”
হজ্জ ফরজ হওয়ার শর্ত পাঁচটি:
এক: ইসলাম। ইসলামের বিপরীত হচ্ছে- কুফর। সুতরাং কাফেরের উপর হজ্জ ফরজ নয়। কাফের যদি হজ্জ আদায়ও করে তাহলে সে আমল কবুল হবে না।
দুই: সাবালগ হওয়া। সুতরাং যে সাবালগ হয়নি তার উপর হজ্জ ফরজ নয়। যদি নাবালগ কেউ হজ্জ আদায় করে তবে তা নফল হজ্জ হিসেবে আদায় হবে এবং সে এর সওয়াব পাবে। সে যখন সাবালগ হবে তখন ফরজ হজ্জ আদায় করতে হবে। কারণ সে সাবালগ হওয়ার আগে যে হজ্জ করেছে- এর দ্বারা ফরজ হজ্জ আদায় হবে না।
তিন: বিবেকবুদ্ধি। এর বিপরীত হচ্ছে- বিকারগ্রস্ততা। সুতরাং পাগলের উপর হজ্জ ফরজ নয় এবং পাগলকে হজ্জ আদায় করতে হবে না।
চার: স্বাধীন হওয়া। সুতরাং ক্রীতদাসের উপর হজ্জ ফরজ নয়। যদি সে হজ্জ আদায় করে তবে তার হজ্জ নফল হিসেবে আদায় হবে। যদি সে স্বাধীন হয়ে যায় তাহলে তাকে ফরজ হজ্জ আদায় করতে হবে। কারণ দাস থাকাকালীন সে যে হজ্জ আদায় করেছে সেটা দ্বারা ফরজ হজ্জ আদায় হবে না। তবে কিছু কিছু আলেম বলেছেন: যদি ক্রীতদাস তার মালিকের অনুমতি নিয়ে হজ্জ আদায় করে তাহলে সে হজ্জ দ্বারা তার ফরজ হজ্জ আদায় হয়ে যাবে। এটাই অগ্রগণ্য মত।
পাঁচ: শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকা। মহিলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত একটি সামর্থ্য হলো- হজ্জের সঙ্গি হিসেবে কোন মোহরেম পাওয়া। যদি নারীর এমন কোন মোহরেম না থাকে তাহলে তার উপর হজ্জ ফরজ নয়।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Dhaka
1000
