The Daily Mohadan Banglar Bani
সম্পাদক : নূর এ আজম কাজী রফিকুল হাসান চৌধুরী
অফিস : মালগুদাম রোড মুকুন্দবাড়ী জামালপুর
27/05/2026
The Mohadan Washington post 24 bd. com
পবিত্র ঈদুল আজহা
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
28 May 2026
ত্যাগের মহিমা, ঐশী অনুপ্রেরণা ও আনন্দের বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে ফিরে এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। আরবী ঈদ শব্দের অর্থ আনন্দ, খুশি, উৎফুল্লতা ইত্যাদি। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদ নিছকই আনন্দ, খুশি বা উৎফুল্লতা নয়। এর সঙ্গে আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক দিকও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। ঈদুল আজহা মহান আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ ও আত্মত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল। পশু কোরবানির মাধ্যমে পরম করুণাময় আল্লাহর নির্দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ ও তার সন্তুষ্টি অর্জনই ঈদুল আজহার লক্ষ্য। কোরবানি ঈদুল আজহার প্রধান আমল বা কর্তব্য। এর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য হলো, নিজের মধ্যে থাকা পশুবৃত্তি ও স্বভাবকে কোরবানির মাধ্যমে বিনাশ করা। মহানবী (সা.) এই ঈদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়ে বলেছেন, এটি তোমাদের পিতা হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর সুন্নাত। বলাবাহুল্য, হযরত ইব্রাহীম (আ.) আল্লাহপাকের প্রতি গভীর আনুগত্য ও তাঁর রাহে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের যে নজির স্থাপন করেন, ঈদুল আজহা তারই স্মারক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নির্দেশে এবং সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হযরত ইব্রাহীম (আ.) তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন, তার নজির মানব ইতিহাসে বিরল। আল্লাহপাকের নির্দেশে হযরত ইসমাইল (আ.)-এর স্থলে দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। সেই থেকে আল্লাহতায়ালার নির্দেশে পশু কোরবানির বিধান চালু হয়। সেই সঙ্গে সারাবিশ্ব থেকে পবিত্র নগরী মক্কা-মদিনায় হজের উদ্দেশ্যে সমবেত লাখ লাখ মুসলমানের লাব্বায়েক ধ্বনিতে মুখরিত হয় আকাশ বাতাস। এ বছরের হজের আনুষ্ঠানিকতা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, কোরবানির পশুর গোশত বা রক্ত কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না। বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। ঈদুল আজহার মর্মবাণী হলো, এই তাকওয়া। তাকওয়ার অর্থ হলো, মুমিনের সেই সংকল্প যাতে প্রয়োজন বোধে সে তার সব কিছু এমনকি প্রাণও আল্লাহপাকের নামে কোরবানি করতে প্রস্তুত। আসলে যে কোরবানিতে তাকওয়া নেই, আল্লাহপাকের দৃষ্টিতে তার কোনো মূল্য নেই। গোশত খাওয়া, সামাজিকতা রক্ষা করা কিংবা অর্থবিত্তের গরিমা প্রকাশ করা কোরবানি নয়। কোরবানির নিয়ত ও লক্ষ্য যদি ঠিক না হয়, তবে সে কোরবানির কোনো ফায়দা নেই। দুঃখজনক হলেও বলতে হচ্ছে, আমাদের দেশে কোরবানির এই দিকটি অনেকেই খেয়াল রাখেন না। অনেকেই কোরবানির মর্মবাণী অনুধাবন না করে নানা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে কোরবানি করেন। তাদের কোরবানি তাদের কোনো কাজে আসে না। কোরবানির ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্যের পাশাপাশি পারিবারিক, সামাজিক, মানবিক নানা কল্যাণকর দিকও রয়েছে। ধনী-দরিদ্র সবাই যেন ঈদের আনন্দ সমভাবে উপভোগ করতে পারে, সে জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কোরবানির গোশতের অংশ আত্মীয়-স্বজন ও দরিদ্রের মধ্যে বিতরণ আবশ্যক, যাতে তারাও ঈদের আনন্দ সমভাবে ভোগ করতে পারে। উল্লেখ করা প্রয়োজন, দেশে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস ওঠা কোটি কোটি মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। অসংখ্য মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের জীবনে ঈদের আনন্দ বলে কিছু নেই। সামর্থ্য অনুসারে, তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া কর্তব্য। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে ঈদের আনন্দ-সওগাত পৌঁছে দেয়া প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের নৈতিক-সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।
ভিন্ন প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতায় এবার ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। অনেক বছর বাদে দেশের ক্ষমতায় রয়েছে একটি নির্বাচিত সরকার। গত ঈদুল ফিতরও এই সরকারের সময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। সত্যের খাতিরে স্বীকার করতে হবে, ঈদুল ফিতরে সড়ক, নৌ ও রেল পরিবহনের ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা আকাক্সক্ষা অনুযায়ী নিশ্চিত করা যায়নি। দীর্ঘ ছুটি সত্ত্বেও ঈদযাত্রীদের যাতায়াতে অশেষ বিড়ম্বনা ও দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগের ঈদের অভিজ্ঞতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্মরণে রেখেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। রাস্তাঘাটের অবস্থা ভালো না হওয়া, বৃষ্টিবাদল হওয়া, যানজটের আশঙ্কা ইত্যাদি সত্ত্বেও যাতায়াত গতপরশু পর্যন্ত বিড়ম্বনা ও ভোগান্তিমুক্তভাবেই হয়েছে। এ প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনুষ্ঠিত ঈদ ও ঈদযাত্রার কথা স্মরণ করা যেতে পারে। ওই সরকারের সময় ঈদে রাস্তাঘাট যানজটমুক্ত, নিরাপদ ছিল, আইনশৃংখলা ছিল সন্তোষজনক। ওই সরকারের সময় দেশের পরিস্থিতি যেকোনো বিবেচনায় নাজুক ছিল। তখন যদি ঈদযাত্রা নিরাপদ, মসৃণ ও ঝামেলামুক্ত করা সম্ভব হয়, তবে এখন সম্ভব হবে না কেন? দেখা গেছে, যখন সড়ক, নৌ ও রেল পথে অধিক সংখ্যক গণপরিবহন চলাচল করে তখন দুর্ঘটনার সংখ্যাও বেশি হয়। এবারের ঈদুল আজহায়ও সে আলামত দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে অধিক যাত্রী বহন, ট্রাফিক আইন না মানা, বেপরোয়া যানবাহন চালনা ইত্যাদি প্রতিরোধ করতে হবে। এতে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা কমবে। দ্বিতীয়ত, ছুটি যেহেতু দীর্ঘ, আইন-শৃংখলার অবনতির আশঙ্কাও তাই বেশি থাকবে। শহরের ঘরবাড়ি, দোকানপাট, অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি অনেক ক্ষেত্রেই প্রহরাহীন, অনিরাপদ থাকবে। সেক্ষেত্রে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও প্রহরা বাড়াতে হবে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, ঈদের সময় অপরাধীচক্রগুলো বিশেষ করে অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি, ছিনতাইকারী, রাহাজান, জাল টাকার কারবারী রাজধানী থেকে শুরু করে সারাদেশে বেপরোয়া হয়ে উঠে। ইতোমধ্যে এদের অপকর্ম ও অপরাধের শিকার হয়েছে অনেকে। এই অপরাধীচক্রগুলোকে প্রতিহত করতে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশজুড়ে বিভিন্ন চাঁদাবাজচক্রও অত্যন্ত সক্রিয় ও তৎপর হয়ে উঠেছে। ঈদে পশুবাহী যানবাহনে চাঁদাবাজি হচ্ছে অবাধে। সাধারণত পেশাদার সন্ত্রাসী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, পুলিশ, স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মী নামধারী ব্যক্তিবর্গ চাঁদা আদায় করে থাকে। চাঁদাবাজরা এখন রীতিমত পাগল হয়ে গেছে। সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ কোন দলের হতে পারে না। তাদের পরিচয় কেবল সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে। অথচ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা ক্ষমতাসীন দলের ছত্রচ্ছায়া গ্রহণ করে এবং তাদের অপকর্ম ও অপরাধ চালাতে অধিক নিরাপদ বোধ করে অথবা নিরাপত্তা লাভ করে। ক্ষমতাসীন বিএনপির অনেক নেতা তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএনপিকে চাঁদাবাজের দল হিসেবে ট্যাগ দেয়ার রাজনৈতিক অপকর্ম সক্রিয় আছে। এমতাবস্থায়, চাঁদাবাজদের ব্যাপারে দল ও সরকারকে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে। মনে রাখতে হবে, ইতোপূর্বে দলীয় চাঁদাবাজদের ব্যাপারে বহিষ্কারসহ কঠোর পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও তেমন ফল পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে যথোচিত কঠোরতা দেখাতে হবে। রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, পাড়া-মহল্লা, ব্যবসাকেন্দ্র, হাসপাতাল, চিকিৎসালয়Ñ সর্বত্র ‘অভয়ারণ্য’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের সর্বমুখী নিরাপত্তা বিধানে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে, এটাই একান্ত প্রত্যাশা। পরিশেষে দেশের সর্বশ্রেণীর মানুষের ঈদুল আজহা উদযাপন সফল ও সার্থক হোক, এই কামনা করি। সবাইকে ঈদ মোবারক।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor
12/05/2026
The Mohadan Washington Times 24 bd. com
ইরানকে নিজেদের বিমানঘাঁটি দেওয়ার খবর নাকচ করল পাকিস্তান
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬
update Time. 12.37 Pm
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে ইরানি সামরিক বিমান অবস্থান করার বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের দাবি করা প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্ত
মঙ্গলবার (১২ মে) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে বর্ণনা করেছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিবিএস নিউজের এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ ‘শ্রেণিবদ্ধ এবং অনুমাননির্ভর’, যার মূল উদ্দেশ্য হলো আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করা। পাকিস্তান সরকার এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যের কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থানরত ইরানি বিমানগুলো মূলত যুদ্ধবিরতি চলাকালীন দেশটিতে এসে পৌঁছেছে। এই বিমানগুলোর উপস্থিতি কোনো সংঘাতময় পরিস্থিতির অংশ ছিল না বরং তা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে।
পাকিস্তান বরাবরই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর দিয়ে আসছে এবং এই অবস্থান থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। যেকোনো ধরনের আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান সব সময় ‘আন্তরিক প্রচেষ্টাকে’ সমর্থন করে যাবে বলেও জানানো হয়েছে।
এর আগে সিবিএস নিউজ অজ্ঞাতনামা মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে ছিল, তখন ইরান তার মূল্যবান সামরিক বিমানগুলো রক্ষার জন্য পাকিস্তানের সামরিক বিমানঘাঁটিকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করেছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রাওয়ালপিন্ডির গুরুত্বপূর্ণ নূর খান বিমানঘাঁটিতে ইরানের একাধিক গোয়েন্দা ও রিকনেসান্স বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে পাকিস্তান শুরু থেকেই এই তথ্যের সত্যতা অস্বীকার করে আসছিল এবং সর্বশেষ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তাদের চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার করল।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির সময়ে এমন খবর ছড়ানো পাকিস্তানের জন্য বেশ বিব্রতকর। তবে ইসলামাবাদ তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে, তারা কোনো বিশেষ পক্ষ না নিয়ে বরং অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বদ্ধপরিকর।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনটি তেহরান ও ইসলামাবাদের মধ্যে কোনো প্রকার গোপন সামরিক আঁতাতের ইঙ্গিত দিলেও পাকিস্তান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বিষয়টিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্টের অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor
The Daily Mohadan Times
04/05/2026
The Mohadan Washington Times 24 bd. com
সংঘাত ভুলে শান্তির পথে ইরান-আমেরিকা?
The Daily Mohadan Times
০৪ মে ২০২৬,
News publisher Editorial and Song writer
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে একটি সম্ভাব্য ১৪-দফা শান্তি প্রস্তাব সামনে এসেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই প্রস্তাবে ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের একটি কাঠামো রাখা হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে বলে সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবের প্রথম ধাপে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক পক্ষগুলোর মধ্যে একটি অনাক্রমণ চুক্তি স্বাক্ষরের কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যারা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবে।
দ্বিতীয় ধাপে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সীমিত সমঝোতার কথা বলা হয়েছে। এতে ইরান সাময়িকভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখতে পারে, তবে পারমাণবিক স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংসের দাবি প্রত্যাখ্যান করা হবে বলে জানা গেছে। একই সময়সীমায় ইরান নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি পেতে পারে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার নিচে থাকবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইরানের আটকে থাকা সম্পদ ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু করবে।
তৃতীয় ধাপে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে একটি বৃহত্তর সংলাপের প্রস্তাব রয়েছে। এতে ইরান প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করবে। লেবানন ও ইয়েমেনের সংঘাত প্রশমনের বিষয়ও এই কাঠামোর অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে এই প্রস্তাব ঘিরে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে এই ধরনের প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা যায়। অন্যদিকে ইসরায়েলের অবস্থান এবং পারমাণবিক ইস্যুতে দুই পক্ষের মতপার্থক্য এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।
বর্তমানে ইসলামাবাদে পরোক্ষভাবে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলার তথ্যও উঠে এসেছে। মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকলেও কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৩০ দিন এই অঞ্চলের ভূরাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় হতে পারে, কারণ এই সময়েই বোঝা যাবে প্রস্তাবটি বাস্তব শান্তি চুক্তিতে রূপ নিতে পারবে কি না।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor
The Mohadan London Times 24 bd. com
26/04/2026
The Mohadan AFP News 24 bd.com
প্রেসিডেন্সি একটি ‘বিপজ্জনক পেশা’, আমি উদ্বিগ্ন কিন্তু খুব বেশি শঙ্কিত না: ট্রাম্প
The Daily Mohadan Times
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬,
News publisher and Editorial
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে একটি হোটেলে ডিনারের সময় গুলির ঘটনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে নিজের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুটা উদ্বিগ্ন হলেও একে খুব বেশি প্রশ্রয় দিতে চান না। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা একটি ‘বিপজ্জনক পেশা’।
হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে রসিকতা করে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রেসিডেন্সি যে এতটা বিপজ্জনক পদ হতে পারে তা যদি আগে জানতাম, তবে হয়তো আমি নির্বাচনেই দাঁড়াতাম না।
পরবর্তীতে সিরিয়াস ভঙ্গিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘দেখুন, আমি এখানে একটি দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। এটি (বিপদ) এই কাজেরই অংশ। আমার মনে হয় না এর চেয়ে বিপজ্জনক আর কোনো পেশা হতে পারে। তবে আমি দেশকে ভালোবাসি এবং আমরা যে কাজগুলো করছি তা নিয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত।’
এর আগে, ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের নৈশভোজের অনুষ্ঠান চলাকালে গুলির শব্দ আসে। এই নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।
গুলির শব্দ শোনার পর জরুরি ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে নিরাপদে সরিয়ে নেন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা। পরে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
এসময় ওয়াশিংটনের যে হোটেলে এই ডিনারের আয়োজন করা হয়েছিল, সেটি ‘বিশেষভাবে নিরাপদ’ নয় বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আজ রাতে ঘটে যাওয়া সব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছি, এবং আমি বলব, এটি খুব বেশি নিরাপদ একটি ভবন নয়।’
উল্লেখ্য, ১৯৬৫ সালে চালু হয় হোটেলটি। চালু হওয়ার পর থেকে এখানে বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হয়েছে।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor
20/04/2026
The Mohadan AP Bangla News 24 bd.com
ইরান-পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ফোনালাপ, পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা
The Daily Washington post
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬,
News publisher and Editorial
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের মধ্যে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। এতে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য সংলাপ এবং সামগ্রিক কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, এমন এক সময়ে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হলো, যখন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইরানের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের পথে রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত ইরান পাকিস্তানে তাদের কোনো প্রতিনিধিদল পাঠানোর বিষয়ে সম্মতি দেয়নি বলে জানা গেছে।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor
16/04/2026
The Daily Washington Times
পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ‘অসাধারণ’, পরবর্তী আলোচনাও পাকিস্তানেই: হোয়াইট হাউস
The Daily New York Times
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬,
News publisher and Editorial
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে পাকিস্তান। হোয়াইট হাউস দক্ষিণ এশিয়ার এই পরমাণু শক্তিধর দেশটির বেশ প্রশংসা করে জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান ‘অসাধারণ’ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি, পরবর্তী দফার আলোচনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ জানিয়েছে, পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে কথাবার্তা চলছে এবং ওয়াশিংটন এ বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ব্যাপারে আশাবাদী। তবে যদিও তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দর অবরোধ তুলে না নিলে তারা লোহিত সাগরের বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারে।
এর আগে বুধবার একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছায়। তারা ওয়াশিংটনের নতুন বার্তা নিয়ে সেখানে গেছেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে গত সপ্তাহান্তের ব্যর্থ আলোচনার পর ইসলামাবাদে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে।
মূলত ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে হোয়াইট হাউস এমন সময়ে আশার কথা জানাল যখন পাকিস্তানের প্রধান আলোচক ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরান সফর করছেন। একই দিনে ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানায়, বৃহস্পতিবার তেহরানে ইরান ও পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আদান-প্রদান হওয়া বার্তাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে।
এমন অবস্থায় বুধবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, পরবর্তী আলোচনা ‘খুব সম্ভবত’ পাকিস্তানের রাজধানীতেই হবে। তিনি বলেন, ‘আলোচনা চলছে এবং আমরা একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি বিষয় উল্লেখ করা জরুরি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং এই পুরো প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানিরা অসাধারণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। আমরা তাদের বন্ধুত্ব ও এই চুক্তি সম্পন্ন করতে তাদের প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞ।’
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানকে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধ শেষ করতে এবং দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ সমাধানে একটি ‘বড় চুক্তি’ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনায় তিনিই মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য ‘একই’। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ইরান থেকে সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে নেয়া হোক, তাদের সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা বন্ধ করা হোক এবং অবশ্যই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া হোক’।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
12/04/2026
The Mohadan Muslim Times 24 bd.com
হরমুজ প্রণালিতে মাইন আতঙ্ক, সমুদ্রে যেভাবে পাতা হয় মাইন
The Daily Mohadan Times
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬,
News publisher and Editorial
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র মাইন ব্যবহারের আশঙ্কা নতুন করে বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই লো-কস্ট, হাই-ইমপ্যাক্ট অস্ত্র সামান্য ব্যবহৃত হলেও বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মাইন পাতা হতে পারে, এমন আশঙ্কাই ইতোমধ্যে জাহাজ চলাচল ও বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি এই সরু নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে যেকোনো বিঘ্ন সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।
সমুদ্রে কীভাবে বসানো হয় মাইন?
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সমুদ্র মাইন স্থাপন বা ‘মাইনলেইং’ একটি কৌশলগত ও বহুস্তরীয় প্রক্রিয়া। যেমন,
যুদ্ধজাহাজ থেকে স্থাপন হলো সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি। এখানে নির্দিষ্ট রুট বা চোকপয়েন্টে সরাসরি মাইন ফেলে দেওয়া হয়। এরপর ছোট নৌকা বা বেসামরিক জাহাজ ব্যাবহার করে গোপনে মাইন বসানো হয়। ব্যস্ত নৌপথে যা সহজে শনাক্ত করা কঠিন।
আবার অনেক সময় সাবমেরিন ব্যবহার করে টর্পেডো টিউবের মাধ্যমে গভীর পানিতে মাইন স্থাপন করা হয়, যা বড় এলাকাজুড়ে মাইনফিল্ড তৈরি করতে পারে। এমনকি বিমান বা হেলিকপ্টার থেকে দ্রুত ও বৃহৎ এলাকায় মাইন ছড়িয়ে দেওয়া হয়, বিশেষ করে সংকীর্ণ জলপথ অবরুদ্ধ করতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালির মতো সংকীর্ণ ও ব্যস্ত নৌপথে এসব পদ্ধতির সমন্বিত ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
কীভাবে কাজ করে মাইন?
সমুদ্র মাইন সাধারণত কয়েকভাবে সক্রিয় হয়। যেমন,
কন্ট্যাক্ট মাইন, যা জাহাজের সঙ্গে সরাসরি ধাক্কা লাগলে বিস্ফোরিত হয়
অথবা ইনফ্লুয়েন্স মাইন, যা জাহাজের শব্দ, পানির চাপ বা চৌম্বকীয় পরিবর্তন শনাক্ত করে বিস্ফোরিত হয়
এবং স্মার্ট মাইন, যা নির্দিষ্ট জাহাজ শনাক্ত, নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা বা নির্দিষ্ট সংখ্যক জাহাজ পার হওয়ার পর সক্রিয় হতে পারে
এ ধরনের প্রযুক্তি মাইনকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে, কারণ এগুলো বাণিজ্যিক জাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, খুব অল্প সংখ্যক মাইন দিয়েই পুরো হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল করে দেওয়া সম্ভব। শুধুমাত্র মাইন থাকার গুজবই জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে পারে, বীমা খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্থির করে তুলতে পারে।
উল্লেখ্য মাইন অপসারণ বা ‘মাইন ক্লিয়ারেন্স’ অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। সাধারনত, মাইন অপসারণে মাইনসুইপিং বা বিশেষ জাহাজ দিয়ে মাইন নিষ্ক্রিয় করার পদ্ধতি অথবা মাইনহান্টিং বা উন্নত সোনার প্রযুক্তি দিয়ে একে একে মাইন শনাক্ত কিংবা রোবোটিক প্রযুক্তি বা ডুবুরি বা রিমোট ডিভাইস দিয়ে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ পদ্ধতি ব্যাবহার করা হয়।
রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা ইতোমধ্যে ড্রোন ও রোবোটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই প্রস্তুতি জোরদার করেছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
সমুদ্র মাইন আধুনিক যুদ্ধের এক নীরব কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর অস্ত্র। হরমুজ প্রণালিতে এর সম্ভাব্য ব্যবহার শুধু সামরিক উত্তেজনাই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor
The Daily Washington Times
10/04/2026
The Mohadan Capital Times 24 bd.com
ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবই হবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রধান ভিত্তি
The Daily Washington post
১০ এপ্রিল ২০২৬,
News publisher and Editorial
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আসন্ন আলোচনায় ইরান তাদের প্রস্তাবিত ‘১০ দফা পরিকল্পনা’কে আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছে। শুক্রবার তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সাথে এক বৈঠকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত রাভানচি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তাখত রাভানচি বলেন, ইরান সবসময়ই কূটনীতি ও সংলাপকে স্বাগত জানায়, তবে তা অবশ্যই স্বচ্ছ এবং ন্যায়সঙ্গত হতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান এমন কোনো যুদ্ধবিরতি চায় না যা আক্রমণকারী শত্রুকে পুনরায় অস্ত্রসজ্জিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা (guarantees) ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
বৈঠকে গত ৪০ দিনের সংঘাতের চিত্র তুলে ধরে ইরানি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জেনেভায় যখন কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল, তখনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কাপুরুষোচিতভাবে সামরিক হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি ও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে শহীদ করেছে। তিনি এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই অসম যুদ্ধে ইরান দুটি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র ও বিশাল বিশ্ববাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিশালী প্রতিরোধ এবং জনগণের ইস্পাতকঠিন ঐক্য আক্রমণকারীদের কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে।
১০ দফা পরিকল্পনার মূল দিকসমূহ: ইরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই ১০ দফা পরিকল্পনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু দাবি হলো:
১. অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনীকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার।
২. ইরানের ওপর আরোপিত সকল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।
৩. হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।
৪. ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আগ্রাসন না চালানোর আইনি গ্যারান্টি।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। এই সময়ের মধ্যেই ইসলামাবাদে উভয় পক্ষ টেবিলে বসতে যাচ্ছে। তবে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই আলোচনা যুদ্ধের সমাপ্তি নয়, বরং এটি তাদের কূটনৈতিক লড়াইয়ের একটি অংশ মাত্র।
তাখত রাভানচি প্রতিবেশী দেশগুলোর আশ্বস্ত করে বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা কার্যক্রম কেবল তাদের ভূখণ্ডে থাকা শত্রুঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে, যা কোনোভাবেই প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য হুমকি নয়। তিনি ইরানবিরোধী আগ্রাসনের নিন্দা জানানো দেশগুলোর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং একইসাথে কিছু ইউরোপীয় দেশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গত ৮ এপ্রিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল যে, এই সংঘাত ইরানের জন্য এক ঐতিহাসিক বিজয় বয়ে এনেছে, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার শর্ত মানতে বাধ্য করেছে।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor
The Daily Mohadan Express
08/04/2026
The Daily Washington post
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি: চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ
The Mohadan Jamaat Times 24 bd.com
০৮ এপ্রিল ২০২৬,
News publisher and Editorial
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা যেমন দ্রুত শুরু হয়েছিল, তেমনি দ্রুতই প্রশমিত হয়েছে। তবে, এই ঘটনাটি বৈশ্বিক ক্ষমতার গতিপ্রকৃতিতে এক গভীরতর রূপান্তরকে প্রতিফলিত করেছে, যেখানে ক্রমশ মার্কিন হস্তক্ষেপবাদের সীমাবদ্ধতা এবং বিকল্প স্থিতিশীল শক্তির উত্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ইরানে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার ফলে সৃষ্ট এই সংঘাত দ্রুত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে ব্যাহত করেছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে, যা বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই পরিস্থিতি আবারও দেখিয়েছে যে, জবরদস্তিমূলক সামরিক পদক্ষেপের ওপর ওয়াশিংটনের নির্ভরতা কিভাবে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরান আক্রমণের মাধ্যমে বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধির পথে অগ্রসর হয়েছে, চীন তখন ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছে। ২ এপ্রিল বেইজিং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে এবং সামুদ্রিক পথগুলো সুরক্ষিত রাখার ওপর জোর দিয়েছে। এর মাধ্যমে চীন নিজেকে সংঘাতের পরিবর্তে স্থিতিশীলতার প্রবক্তা হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
সরাসরি শক্তি প্রদর্শনের বিপরীতে, চীনের কৌশল কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা, অন্তরালে সমন্বয় এবং সকল পক্ষের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখার উপর কেন্দ্রীভূত হয়েছে, যা বর্তমান যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়েছে। তবে, চীনের এই ভূমিকা আকস্মিক নয়। আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে সৌহার্দ্য স্থাপনসহ এর পূর্ববর্তী মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা এবং এর বৃহত্তর ‘বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগ’ উত্তেজনা প্রশমন ও অর্থনৈতিক ধারাবাহিকতাকে কেন্দ্র করে একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলকে প্রতিফলিত করে।
সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে অর্থনৈতিক সংযোগ ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার—এটাই চীনের পদ্ধতি। এই ভিন্নতা একটি বৃহত্তর পদ্ধতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র একটি কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে থাকলেও, বারবার মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ, যা প্রায়শই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে অস্থিরতা সৃষ্টি করে, মার্কিন আধিপত্যের অধীনে থাকার মূল্যকে তুলে ধরে।
এর বিপরীতে, স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোগত সংযোগের উপর চীনের গুরুত্বারোপ এমন দেশগুলোর কাছে ক্রমবর্ধমানভাবে সাড়া জাগাচ্ছে, যারা একটি অনিশ্চিত পরিবেশে নির্ভরযোগ্য মিত্র খুঁজছে। বাংলাদেশের জন্যও এর প্রভাব তাৎক্ষণিক এবং তীব্র।বাংলাদেশের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৬৩ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য তথা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরাকের মতো মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে আমদানি করা হয়, ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন দেশের অবস্থাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকট ইতোমধ্যেই ঢাকাকে কঠোর জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে, কর্মঘণ্টা কমাতে এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ব্যয় সামাল দিতে শত কোটি ডলারের বৈদেশিক অর্থায়ন চাইতে বাধ্য করেছে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা দ্বারা ক্রমবর্ধমানভাবে প্রভাবিত একটি বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থা দেশের এই দুর্বলতা আরও গভীর করে তুলেছে। ধনী দেশগুলো যখন বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করছে, তখন বাংলাদেশের ছোট অর্থনীতিগুলোকে আরও কঠিন বাজার এবং উচ্চ মূল্যের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই বাস্তবতায়, বাংলাদেশের জন্য একক উৎসের ওপর নির্ভরতা চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
চীনের সঙ্গে অবকাঠামোগত, জ্বালানি ও বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগভিত্তিক সহযোগিতা ঢাকার জন্য বিকল্প পথ তৈরি করতে পারে। সরবরাহ শৃঙ্খলে বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করে বিভিন্ন শক্তিকেন্দ্রের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশ তার ঝুঁকি কমাতে পারে।সুতরাং, এই যুদ্ধবিরতি কেবল একটি সংঘাতের বিরতি নয়।
এটি বৈশ্বিক শক্তির পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত, যা মার্কিন সামরিক আধিপত্য দ্বারা সংজ্ঞায়িত মডেলের বিপরীতে, চীনের কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরশীলতা দ্বারা ক্রমবর্ধমানভাবে প্রভাবিত একটি মডেলকে তুলে ধরে।
বাংলাদেশের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো দুর্বলতাগুলো দীর্ঘমেয়াদী প্রতিবন্ধকতায় পরিণত হওয়ার আগেই এই পরিবর্তনকে সঠিকভাবে অনুধাবন করা এবং সময়মতো কৌশলগতভাবে অভিযোজিত হওয়া।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor
The Daily New York Times
Advancing the World of Health | BD At BD, we seek to usher in a new era of healthcare by bringing medical products, capabilities and solutions to every corner of the world.
The Daily London Times
যেভাবে ইরানি মিসাইলের আঘাতে ধুলোয় মিশল মার্কিন F-16! মধ্যপ্রাচ্যে কি শুরু হলো ওয়াশিংটনের পতন?
The Islami world news 24
০৬ এপ্রিল ২০২৬,
News publisher and Editorial
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন একক আধিপত্যের অবসান! খোদ মার্কিন দম্ভের প্রতীক F-16 ফাইটার জেটকে আকাশেই তছনছ করে দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)। গত ২ এপ্রিল পারস্য উপসাগরের কিশ দ্বীপের কাছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি বিমান ভূপাতিত হওয়া নয়, বরং অত্যাধুনিক পশ্চিমা সমরাস্ত্রের বিরুদ্ধে ইরানের "অপ্রতিরোধ্য" আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এক বিরাট কৌশলগত বিজয়।
কৌশলগত বিপর্যয়: কেন ধরাশায়ী হলো মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী? মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান তার আকাশসীমায় এমন এক ‘ডেড জোন’ তৈরি করেছে যেখানে প্রবেশ করা মানেই নিশ্চিত মৃত্যু। বর্তমানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী তাদের 'বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ' (BVR) মিসাইলের মজুত হারিয়ে সংকটে পড়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে 'গ্রাভিটি বোম্ব' ব্যবহারের জন্য ইরানি সীমান্তের খুব কাছাকাছি চলে আসছে। আর এখানেই পাতা ছিল ইরানের ফাঁদ। ইরানের তৈরি ইনফ্রারেড গাইডেড শর্ট এবং মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (SAM) সিস্টেমগুলো এখন এতটাই নিখুঁত যে, স্টেলথ প্রযুক্তিবীহীন যে কোনো বিমানকে মুহূর্তেই শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম।
প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব বনাম ব্যর্থতা: ইরানের জয়যাত্রা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রিপোর্টে দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত অত্যাধুনিক F-16V এবং ইসরায়েলি বাহিনীর অপেক্ষাকৃত পুরোনো মেকানিক্যাল স্ক্যানড অ্যারে রাডারযুক্ত বিমানগুলো ইরানের ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের সামনে পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছে। শুধু F-16 নয়, গত কয়েক সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী হারিয়েছে: একাধিক F-15, F-18 এবং একটি পঞ্চম প্রজন্মের F-35 স্টেলথ ফাইটার (যা ১৯ মার্চ ক্ষতিগ্রস্ত হয়)। এছাড়া কমপক্ষে ১৭টি MQ-9 রিপার ড্রোন, যা মার্কিন নজরদারির মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে।
দলে দলে বিধ্বস্ত মার্কিন যান: ট্রাম্পের দাবি কি কেবলই মুখরক্ষা? ইরানের দক্ষিণ ইসফাহান প্রদেশে একটি বিধ্বস্ত মার্কিন পাইলটকে উদ্ধারের দাবি করে ওয়াশিংটন। কিন্তু IRGC-এর দাবি, এই তথাকথিত উদ্ধার অভিযান আসলে একটি 'ব্যর্থ পলায়ন' (Deception and Escape Operation)। ইরান দাবি করেছে, এই অভিযানের সময় তারা আরও দুটি মার্কিন C-130 ট্রান্সপোর্ট বিমান এবং দুটি ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার আকাশেই ধ্বংস করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন একে কারিগরি ত্রুটি বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, ইরানি বাহিনীর হাতে থাকা ধ্বংসাবশেষের ছবি ভিন্ন কথা বলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই কঠোর অবস্থান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাফল্য প্রমাণ করে যে, তেহরান এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের নতুন নিয়ম (Rules of Engagement) নির্ধারণ করছে। ওয়াশিংটন এবং তেল আবিব এখন ইরানের শক্তিশালী রাডার এবং মিসাইল সিস্টেমের ভয়ে তাদের আকাশ অভিযান কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
Nur A Azom Kazi Rafiqul Hasan Chowdhury
Editor
The Daily Mohadan Ittefaq news
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Willie Meyer Singel
Dhaka
