Bangladesh Online Doctors Chember
Online doctor chember for the peoples of Bangladesh
16/06/2025
ওরাল স্যালাইন বানান সঠিক নিয়মে ,
ভুল নিয়মে বানালে হতে পারে মৃত্যু..
শুধু একটু ভুল, দুটি প্রাণ ঝরে গেল... 🥺
শিক্ষিত দুইটি পরিবার। আদরের ফুটফুটে দুটি শিশু হঠাৎ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলো। সময়মতো ORS (খাবার স্যালাইন) আনা হলো। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে — স্যালাইনের একটি পূর্ণ প্যাকেট গুলানো হলো না ৫০০ মিলি পানিতে। বরং ছোট কাপের অল্প পানিতে একটু একটু করে গুলিয়ে খাওয়ানো হলো স্যালাইন!
সব চেষ্টা ব্যর্থ হলো। শেষ পর্যন্ত—দু'টি শিশুকে বাঁচানো গেল না… 😥
ভাবতেই কষ্ট হয় — এখনো অনেকেই জানেন না ঠিকভাবে ORS বানাতে হয় কীভাবে। অনুরোধ রইলো, একটি পূর্ণ স্যালাইন প্যাকেট গুলাবেন ৫০০ মিলি পানিতে। এবং তা ১২ ঘণ্টার মধ্যে শেষ করে ফেলবেন। এরপরের অংশটি আর ব্যবহার করবেন না✅
কারণ, খাবার স্যালাইনে থাকে সোডিয়াম ও ক্লোরাইড—যা শরীরে নির্দিষ্ট মাত্রায় দরকার। কিন্তু আপনি যদি কম পানিতে স্যালাইন গুলিয়ে দেন, তখন সলিউশনের সোডিয়াম লেভেল খুব বেশি হয়ে যায়।
👉 পানির পরিমাণ কম মানে সলভেন্ট কম, কিন্তু লবণ (solute) আগের মতোই—ফলে তা শরীরের জন্য হয়ে যায় মারাত্মক বিষ।
সাধারণত আমাদের শরীরে সোডিয়ামের লেভেল থাকে ১৩৫–১৪৫ mmol/L এর মধ্যে। এই মাত্রা যদি বেড়ে ১৬০ ছাড়িয়ে যায়, তাহলে তা লেথাল পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
⚠️ উপসর্গ দেখা দেয়—
প্রচণ্ড পিপাসা
পেশিতে টান
মস্তিষ্কের ক্ষতি
শেষমেশ মৃত্যু… 🥲
মাত্র কয়েক ফোঁটা পানির ভুল পরিমাপ, একটি শিশুর প্রাণ কেড়ে নিতে পারে।
স্যালাইন খাওয়ানোর বিষয়টিকে অনেকেই হালকাভাবে নেন — অথচ এর পেছনে লুকিয়ে থাকে জীবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
🙏 দয়া করে নিজে জানুন, অন্যকেও জানান। স্যালাইন গুলানোর নিয়ম ভুলে গেলে আবার শিখুন, কারণ জীবন তার ভুলের সুযোগ দেয় না।
(লিখাটি সংগৃহীত)
Hello everyone how are you
30/05/2024
শিশু হাতের মুঠোয় ✊🏻 ধরে যে খাবারটা খেতে পারে তাই "ফিংগার ফুড"। ৬ মাস থেকেই শিশুরা হাতের কাছে যা পায় তা নিয়ে মুখে দেওয়ার চেষ্টা করে।
তাই এসময় শিশুর খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়তে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ফিংগার ফুড..
✅ কি দেখে বুঝবেন শিশুকে ফিংগার ফুড দেওয়া যাবেঃ
🔹শিশু ঘাড়, মাথা শক্ত করে ভালোভাবে বসতে পারে
🔹হাতের মুঠোয় কোনও খাবার শক্ত করে ধরতে পারে
🔹মুখের কাছে কিছু ধরলে হা করে
🔹কেউ কিছু খেতে নিলে বাচ্চা হা করে / ঐ খাবারটা খেতে আগ্রহী হয়
🟢 ফিংগার ফুডের উপকারিতাঃ
🔹শিশু খাবার খেতে আগ্রহী হয়
🔹নিজে নিজে খাবারের অভ্যাস তৈরি হয়
🔹সব ধরনের খাবারে রুচি তৈরি হয়
🟢 যেসব খাবার দিবেনঃ
💠 ৬-৭ মাস বয়সেঃ
খাবার এমনভাবে দিবেন যা শিশু সহজে মুঠো করে নিতে পারে। যেমন-
- আলু/ মিষ্টি আলু সেদ্ধ
- গাজর সেদ্ধ ( চিকন করে কেটে)
- পাকা আম /কলা
- পাকা পেঁপে
- ব্রকলি / ফুলকপি সেদ্ধ
💠 ৮-৯ মাস বয়সেঃ
- ডিম সেদ্ধ (লম্বা পিস করে কেটে দিবেন)
- মুরগীর মাংস নরম করে ( হাড় যেন না থাকে)
- নরম ভাত মুঠো করে গোল করে
শিশুর ৬ মাসের পর থেকেই এভাবে চেষ্টা করুন। দেখবেন শিশু নিজে হাতে খাওয়া শিখেছে এবং সব ধরনের খাবার স্বাচ্ছন্দ্যে খাবে ইনশাআল্লাহ..
আরও জানতে পেজের সাথে থাকুন ✅(c)
সকলের জন্য একটা জরুরী
পরামর্শঃ-
যারা রাত্রে বা ভোরে বাথরুমে যাবার জন্য ঘুম থেকে ওঠেন তাদের জন্য ডাক্তারদের একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ:
আমরা প্রায়ই শুনতে পাই একেবারে সুস্থ একজন মানুষ রাতের বেলা হঠাৎ মারা গেছেন। এটার একটা কারন হচ্ছে রাতে বাথরুমে যাবার জন্য ঘুম ভেঙ্গে গেলে আমরা তাড়াহুড়ো করে হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে পড়ি, যা ব্রেইনে রক্তের প্রবাহ হঠাত কমিয়ে দেয়। এটা আপনার ইসিজি প্যাটার্নও বদলে দেয়।
হুট্ করে ঘুম থেকে উঠেই দাঁড়িয়ে পড়ার দরুন আপনার ব্রেইনে সঠিক ভাবে অক্সিজেন পৌছাতে পারেনা, যার ফলে হতে পারে হার্ট এ্যাটাকের মত ঘটনাও।
ডাক্তাররা ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে যাবার আগে সবাইকে 'দেড় মিনিট' সময় নেয়ার একটি ফর্মুলা দিয়েছেন।
এই দেড় মিনিট সময় নেয়াটা জরুরি কারন এটা কমিয়ে আনবে আপনার আকস্মিক মৃত্যুর সম্ভাবনা।
হঠাৎ এই উঠে পড়ার সময়ে এই দেড় মিনিটের ফর্মুলা বাঁচিয়ে দিতে পারে আমাদের জীবন।
১। যখন ঘুম থেকে উঠবেন, হুট করে না উঠে মিনিমাম তিরিশ সেকেন্ড বিছানায় শুয়ে থাকুন।
২। এরপর উঠে বিছানায় বসে থাকুন তিরিশ সেকেন্ড।
৩। শেষ তিরিশ সেকেন্ড বিছানা থেকে পা নামিয়ে বসুন।
এই দেড় মিনিটের কাজ শেষ হবার পর আপনার ব্রেইনে পর্যাপ্ত পরিমানে অক্সিজেন পৌছাবে যা আপনার হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি একদম কমিয়ে আনবে।
খুবই গুরুত্তপুর্ন এই স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্যটি ছড়িয়ে দিন আপনার পরিবার, বন্ধু এবং পরিচিত লোকজনের মাঝে। নিজে এই ফর্মুলাটি মেনে চলুন এবং অন্যদেরকেও মানতে বলুন।
মনে রাখবেন যেকোন বয়সের মানুষের ক্ষেত্রেই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। সুতরাং সবাই নিয়মটি মানতে চেষ্টা করবেন প্লিজ।
রোজা বা সিয়াম পালন করলে ক্যান্সার সহ অনেক রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব।
মুসলিমরা রোজা রাখলে তাকে বলা হয় "সিয়াম"। মেডিক্যাল সাইন্সে রোজা বা উপবাস করলে তাকে বলা হয় অটোফেজি। খুব বেশি দিন হয়নি, মেডিক্যাল সাইন্স অটোফেজির সাথে পরিচিত হয়েছে। ২০১৬ সালে নোবেল কমিটি জাপানের ডাক্তার
"ওশিনরি ওসুমি"-কে
অটোফেজি আবিষ্কারের জন্যে পুরষ্কার দেন। এরপর থেকে আধুনিক মানুষেরা ব্যাপকভাবে উপবাস করতে শুরু করেন।
যাই হোক- Autophagy কি?
Autophagy শব্দটি একটি গ্রিক শব্দ। Auto অর্থ নিজে নিজে, এবং Phagy অর্থ খাওয়া। সুতরাং অটোফেজি মানে নিজে নিজেকে খাওয়া। না মেডিক্যাল সাইন্স নিজের মাংস নিজে খেতে বলে না। শরীরের কোষগুলো বাইরে থেকে কোনো খাবার না পেয়ে নিজেই যখন নিজের অসুস্থ কোষগুলো খেতে শুরু করে, তখন মেডিক্যাল সাইন্সের ভাষায় তাকেই অটোফেজি বলা হয়। আরেকটু সহজভাবে বলি! আমাদের ঘরে যেমন ডাস্টবিন থাকে অথবা আমাদের কম্পিউটারে যেমন রিসাইকেল বিন থাকে, তেমনি আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষের মাঝেও একটি করে ডাস্টবিন আছে ।
সারা বছর শরীরের কোষগুলো খুব ব্যস্ত থাকার কারণে, ডাস্টবিন পরিষ্কার করার সময় পায় না। ফলে কোষগুলোতে অনেক আবর্জনা ও ময়লা জমে যায়।
শরীরের কোষগুলো যদি নিয়মিত তাদের ডাস্টবিন পরিষ্কার করতে না পারে, তাহলে কোষগুলো একসময় নিষ্ক্রিয় হয়ে শরীরে বিভিন্ন প্রকারের রোগের উৎপন্ন করে। ক্যান্সার বা ডায়াবেটিসের মতন অনেক বড় বড় রোগের শুরু হয় এখান থেকেই। মানুষ যখন খালি পেটে থাকে, তখন শরীরের কোষগুলো অনেকটা বেকার হয়ে পড়ে। কিন্তু তারা তো আর আমাদের মত অলস হয়ে বসে থাকে না, তাই প্রতিটি কোষ তার ভিতরের আবর্জনা ও ময়লাগুলো পরিষ্কার করতে শুরু করে দেয়। কোষগুলোর আমাদের মতন আবর্জনা ফেলার জায়গা নেই বলে তারা নিজের আবর্জনা নিজেই খেয়ে ফেলে। মেডিক্যাল সাইন্সে এই পদ্ধতিকে বলা হয় অটোফেজি। শুধুমাত্র এই জিনিসটা আবিষ্কার করেই জাপানের ওশিনরি ওসুমি (Yoshinori Ohsumi) ২০১৬ সালে নোবেল পুরস্কারটা নিয়ে গেলেন। তিনি আবিষ্কার করেন যে ১২-২৪ ঘন্টা রোজা রাখলে মানুষের দেহে অটোফেযি চালু হয়। তিনি প্রমান করেন যে, রোজা রাখার মাধ্যমে মানুষের নিম্ন লিখিত উপকার গুলো হয়-
১| দেহের সেল পরিস্কার হয়।
২| ক্যান্সার সেল ধ্বংস হয়।
৩| পাকস্থলীর প্রদাহ সেরে যায়।
৪| ব্রেইনের কার্যকরীতা বাড়ে।
৫| শরীর নিজে নিজেই সেরে যায় (Autophazy)
৬| ডায়াবেটিস ভালো হয়।
৭| বার্ধক্য রোধ করা যায়।
৮| স্থূলতা দূর হয়।
৯| দীর্ঘ জীবন লাভ করা যায়।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে রমজান মাসে সবগুলো রোজা রাখার তৌফিক দান করুন।
রমজানে ইফতার এর বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
ইফতারের পর হাসপাতালে হার্ট অ্যাটাক নিয়ে ভর্তি হওয়ার হার অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
যেকোনো ভারী খাবার দাবারের পর হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রচুর খাবার একসাথে গেলে সেগুলোকে সামাল দেয়ার জন্য পাকস্থলীকে তার কাজ অনেক বেশি বাড়িয়ে দিতে হয়। বেশি কাজ মানেই বেশি শক্তি। এই অতিরিক্ত শক্তির জন্য তার রক্তও দরকার হয় বেশি। কিন্তু এই রক্ত সে পাবে কই?
পাকস্থলীর মোটামোটি কাছের প্রতিবেশী যেহেতু হার্ট, তখন হার্টকে স্যাক্রিফায়েস করতে হয় বেশ খানিকটা রক্ত। আর ঠিক তখনই ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা।
রোজায় সারাদিন না খেয়ে আমরা স্বাভাবিকভাবেই বেশ ক্ষুধার্ত থাকি। ব্রেইন বারবার সিগনাল পাঠাতে থাকে - খাবার দাও, খাবার দাও।
টেবিলে সাজানো সুস্বাদু সব খাবার আর ব্রেইনের সিগনালের ফাঁদে আমরা খুব সহজেই ধরা পড়ে যাই। গোগ্রাসে প্রচুর খাবার গিলতে থাকি।
তারপর আমাদের অজান্তেই শরীরের মধ্যে চলতে থাকে আন্তঃপ্রতিবেশী রক্ত আদান-প্রদান। এর ফলে ভারী খাবার দাবারের ২ ঘন্টার মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায় প্রায় চারগুণ।
তাই, ইফতারে খাবার কম খান। দরকার হলে অল্প অল্প করে ২/৩ বারে খান।
নিজের স্বজনদের খাবারের দিকেও খেয়াল রাখুন।
-Collected-
লেখকঃ আলিম আল রাজি
যারা রাত্রে বা ভোরে বাথরুমে যাবার জন্য ঘুম থেকে ওঠেন তাদের জন্য ডাক্তারদের একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ:
আমরা প্রায়ই শুনতে পাই একেবারে সুস্থ একজন মানুষ রাতের বেলা হঠাৎ মারা গেছেন। এটার একটা কারন হচ্ছে রাতে বাথরুমে যাবার জন্য ঘুম ভেঙ্গে গেলে আমরা তাড়াহুড়ো করে হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে পড়ি, যা ব্রেইনে রক্তের প্রবাহ হঠাত কমিয়ে দেয়। এটা আপনার ইসিজি প্যাটার্নও বদলে দেয়।
হুট্ করে ঘুম থেকে উঠেই দাঁড়িয়ে পড়ার দরুন আপনার ব্রেইনে সঠিক ভাবে অক্সিজেন পৌছাতে পারেনা, যার ফলে হতে পারে হার্ট এ্যাটাকের মত ঘটনাও।
ডাক্তাররা ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে যাবার আগে সবাইকে 'দেড় মিনিট' সময় নেয়ার একটি ফর্মুলা দিয়েছেন।
এই দেড় মিনিট সময় নেয়াটা জরুরি কারন এটা কমিয়ে আনবে আপনার আকস্মিক মৃত্যুর সম্ভাবনা।
হঠাৎ এই উঠে পড়ার সময়ে এই দেড় মিনিটের ফর্মুলা বাঁচিয়ে দিতে পারে আমাদের জীবন।
১। যখন ঘুম থেকে উঠবেন, হুট করে না উঠে মিনিমাম তিরিশ সেকেন্ড বিছানায় শুয়ে থাকুন।
২। এরপর উঠে বিছানায় বসে থাকুন তিরিশ সেকেন্ড।
৩। শেষ তিরিশ সেকেন্ড বিছানা থেকে পা নামিয়ে বসুন।
এই দেড় মিনিটের কাজ শেষ হবার পর আপনার ব্রেইনে পর্যাপ্ত পরিমানে অক্সিজেন পৌছাবে যা আপনার হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি একদম কমিয়ে আনবে।
খুবই গুরুত্তপুর্ন এই স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্যটি ছড়িয়ে দিন আপনার পরিবার, বন্ধু এবং পরিচিত লোকজনের মাঝে। নিজে এই ফর্মুলাটি মেনে চলুন এবং অন্যদেরকেও মানতে বলুন।
মনে রাখবেন যেকোন বয়সের মানুষের ক্ষেত্রেই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। সুতরাং সবাই নিয়মটি মানতে চেষ্টা করবেন প্লিজ।
❤️💚বয়স বাড়ার সাথে সাথে দুটো জিনিস নিয়মিত চেক করুন।
১) ব্লাড প্রেসার।
২) ব্লাড সুগার।
* চারটি জিনিস একেবারেই ভুলে যান৷
১) বয়স বাড়ছে এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করা,
২) অতীত নিয়ে সর্বদা অনুশোচনা করা,
৩) সবসময় দুঃখে কাতর হয়ে থাকা,
৪) মানসিক উৎকণ্ঠা বা উদ্বেগ।
* পাঁচটি জিনিস খাবার থেকে যত পারুন এড়িয়ে চলুন।
১) লবন,
২) চিনি,
৩) অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার ।
৪) অতিরিক্ত ভাজা ভূজি খাবার
৫) বাইরের কেনা খাবার বা প্রসেসেড ফুড।
* পাঁচটি জিনিস খাবারে যত পারুন বাড়িয়ে নিন।
১) সব রকমের সবুজ শাক
২) সব রকম সবুজ সব্জি, সীম বা মটরশুটি ইত্যাদি
৩) ফলমূল,
৪) বাদাম,
৫) প্রোটিন জাতীয় খাবার।
* মানসিক শান্তি বা সুখী হতে সাতটি জিনিস সবসময় সাথে রাখার চেষ্টা করুন।
১) একজন প্রকৃত ভালো বন্ধু,
২) নিজের সমগ্ৰ পরিবার,
৩) সবসময় সুচিন্তা,
৪) একটি নিরাপদ ঘর কিংবা আশ্রয়,
৫) অল্পেতে খুশি হওয়ার চেষ্টা,
৬) অতিরিক্ত অর্থ চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখা,
৭) কিছু সময় আধ্যাত্মিক চর্চায় বা সৎসঙ্গ দেওয়া।
* ছয়টি জিনিসের চর্চা রাখুন।
১) অহংকার না করা,
২) সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলা,
৩) মানুষের সাথে ভালো আচরণ করা,
৪) নিয়মিত শরীর চর্চা করা ।কিছুক্ষণ হাঁটা নিয়মিত ।
৫) ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।
৬) সরল ও সৎ জীবন যাপন
* সাতটি জিনিস এড়িয়ে চলুন।
১) কর্য,
২) লোভ,
৩) আলস্য,
৪) ঘৃণা,
৫) সময়ের অপচয়,
৬) পরচর্চা,পরনিন্দা
৭) কোনো রূপ নেশা বা আসক্তি
* পাঁচটি জিনিস কখনোই করবেন না।
১) অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ে খেতে যাওয়া,
২) অতিরিক্ত পিপাসায় কাতর হয়ে পানি পান করা,
৩) অতিরিক্ত দূর্বল হয়ে ঘুমোতে যাওয়া,
৪) অতিরিক্ত দূর্বল হয়ে বিশ্রাম নেয়া,
৫) একেবারে অসুস্থ হয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়া,
*সব সময় নিজেকে সুস্থ রাখতে সচেতন হোন*
“সুস্থ্য থাকুন - ভাল থাকুন - ভাল রাখুন”
#চির তরুন থাকার টিপস্ঃ
ডাঃ- দেবী শেঠী
১. খুব ধীরে ধীরে চেষ্টা করতে করতে কয়েক মাসের
মধ্যে সকালে ঘুম থেকে উঠে চার গ্লাস পানি
খাওয়ার অভ্যাস করুন। এর পর বাথরুমে যান।
২. বাথরুম থেকে ফিরে এসে আরও এক গ্লাস পানি
খান এবং তার পর খান দুধ ছাড়া খুব হালকা এক
কাপ চা। আপনার ওজন বেশি হলে চিনি খাওয়া ছেড়ে
দিন। চা কখনোই অতিরিক্ত গরম খাবেন না।
৩. সারা দিনে ৮ থেকে ১২ গ্লাস বাড়তি পানি
খাবেন।
৪. পানি খাওয়ার নাম হচ্ছে হাইড্রোথেরাপি রা
জলচিকিৎসা। মূলত এটি হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার
বছরের প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসা। আধুনিক
বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে- ঘুম থেকে
উঠে ধীরে ধীরে চার গ্লাস পানি খাওয়ার অভ্যাস
করলে প্রায় ৩৬ ধরণের রোগ হয় না এবং হলেও
সেরে যায়।
৫. অপর পক্ষে, দুধহীন এবং দুধ-চিনি-হীন হালকা
গরম চা হচ্ছে আড়াই হাজার বছর আগের একটি
চায়নিজ হারবাল মেডিসিন । সেকালে এই চা দিয়ে
হার্ট, ব্লাড প্রেসার (উচ্চ রক্তচাপ) ও পেটের
নানা রকম রোগের চিকিৎসা করা হতো। আবার
আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে- চায়ে
রয়েছে অ্যান্টিঅিডেন্ট, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে
নিশ্চিত অবদান রাখে। এ ছাড়াও অন্য বহুগুণ
রয়েছে চায়ে। তবে যে চা-টা প্রক্রিয়াজাত হয়নি, সে
চায়ের গুণাগুণই অপেক্ষাকৃত ভালো।
৬. ভিটামিন সি একটি বৈপ্লবিক খাদ্যপ্রাণ এর
গুণাগুণ অসংখ্য। জানা গেছে, দিনে ১ হাজার
মিলিগ্রাম ভিটামিন সি খেলে মানুষ চির তরুণ থাকে।
তবে ট্যাবলেট খেলে কিছুই উপকার পাওয়া যায় না।
প্রতিদিনই কমবেশী খেতে হবে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ
তাজা ফলমূল। ভিটামিন সিও ক্যান্সার ঠেকাতে
সাহায্য করে। আমলকি, সব ধরনের লেবু, টমেটো,
কমলা, পেয়ারা, নানা রকর টক স্বাদের ফলে
বিভিন্ন মাত্রায় ভিটামিন সি রয়েছে।
৭. ধূমপানসহ সকল ধরণের নেশা জাতীয় অভ্যাস
ত্যাগ করুণ। কারণ নেশা মানুষকে সকল দিক দিয়ে
ধ্বংস করে দেয়।
৮. রেডমিট অর্থাৎ গরু, মহিষ, খাসি, ভেড়া
ইত্যাদির মাংস খাওয়া ছেড়ে দিতে হবে। ফার্মের
মুরগিও চলবে না। শুধু চর্বিহীন বাচ্চা মুরগির মাংস
খাওয়া চলতে পারে।
৯. প্রচুর পরিমাণে আধা-সেদ্ধ শাক-সবজি,
তরিতরকারি এবং খুব অল্প পরিমাণে ভাত-রুটি
খাওয়া উচিত।
ভাজাভুজি খাবেন না। অতিরিক্ত তেল, চর্বি, ঘি,
মাখন খাবেন না। মসলার বিভিন্ন ভেষজ গুণ আছে,
তবুও রান্নায় খুব বেশি মসলা ব্যবহার করবেন না।
১০. সালাদ হিসাবে প্রতিদিন বেশি করে খাবেন
কাঁচা লেটুস পাতা, পুদিনা পাতা, টমেটো ইত্যাদি।
১১. বিধিনিষেধ না থাকলে সকালে খালি পেটে এক
চামচ মধু খাবেন।
১২. ছোট-বড় সব ধরনের মাছ খাবেন। সমুদ্রের
মাছ খাওয়া অভ্যাস করতে পারলে তো খুবই ভালো।
কেননা, এটা মহৌষধ। গাদা-গাদা মাছের কাটা খাওয়া
ঠিক নয়। ওতে পাকস্থলিতে পাথর হতে পারে।
১৩. সূর্যমূখী ফুলের বীজ হচ্ছে হার্টের ভেষজ
ওষুধ। রান্নায় সূর্যমূখী তেল ব্যবহার করলে
হার্টের সুরক্ষা যেমন হয়, তেমনি হার্টের অসুখ
থাকলে তা সারাতে সাহায্য করে।
১৪. প্রতিদিন অল্প একটু টক দই খাওয়ার অভ্যাস
করুন। টক দই উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে আনতে
সাহায্য করে ।
ডা. দেবী শেঠী
:
আমাদের বাচ্চাদের ব্রেইনের ৯৫% গঠন হয় প্রথম ৫ বছরে। বাকি ৫% গঠন হয় পরের ৩ বছরে। তাই প্রথম ৮ বছর আপনার সন্তানের জন্য - সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এর ভিতর ৫ বছর বেশী গুরুত্বপূর্ণ!
ফলে এই সময়ে সবচেয়ে careful থাকা উচিৎ! এই গঠন বলতে বুঝায় - ব্রেইনের connection তৈরী হওয়া।
যার যত connection তৈরী হবে, সে তত ব্রিলিয়ান্ট হবে!
এই connection তৈরীতে রঙিন খেলনা, পুষ্টিকর খাবার, বাচ্চার সাথে খেলা করা, গল্প বলা - এমনই অনেক কিছু নির্ভরশীল!
কিন্তু আমাদের দেশে - বাচ্চা কথা বলা শেখার আগেই - সবাই লাঠি নিয়ে বসে - ঠিকমত পড়ালেখা শিখছে তো?
#খাবারঃ
একসময় এদেশে মায়েদের বাচ্চার খাবারই ছিল - বার্লি আর সাগু!
তখন বার্লি Face বলে, একটা অপুষ্টির লক্ষ্মণ দেখা যেত। বাচ্চা হতো মোটাতাজা, মা মনে করতো - বেশ ভাল স্বাস্থ্য হয়েছে!
আজ সেই জায়গাটা নিয়েছে, সুজি! সুজি হয় চালের গুড়া, নাহলে গমের।
আবার এর সাথে কোন না কোন দুধ মিশ্রিত করে, সাথে থাকে চিনি। অথচ এর সবগুলোই অপুষ্টির জন্য যথেষ্ট।
কারণ গরীব হলে, গরুর দুধ মিশ্রিত করে - আর টাকা থাকলে infant formula. অথচ দুটোই বাচ্চার জন্য ক্ষতিকারক!
Infant formula'তে কোন কিছু মিশানো নিষেধ। আবার কোন চিকিৎসক লিখে দিলে - শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আমরা জানি সবসময়ই সুষম খাবার প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে খিচুড়ি হলো, বাচ্চার সুষম খাবার।
অথচ মা'দের বুঝানো কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাথে যোগ হয়েছে - দাদা/দাদি, নানা/নানি।
মুরুব্বিদের ধারণা - তারাও তো বাচ্চা মানুষ করেছে, কখনো তো সমস্যা হয় নাই!
এর উত্তরে অনেক সময় বলি, দেশ যে ব্রিলিয়ান্ট জনসংখ্যার সংকটে ভুগছে, তা আপনাদের দান!
জাপানে প্রাইমারি স্কুলে কোন পরীক্ষা নেয় না! ওরা এই early childhood development এর উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
আর তাই সেরা ব্রিলিয়ান্ট ঐদেশে তৈরী হয়। আমাদের মত লাঠি হাতে নিয়ে শিক্ষা দেয় না।
#কেন_খিচুড়ি_সেরা?
আমরা সবাই বা অনেকেই জানি essential amino acid বলে, একটা শব্দ আছে। যা শরীর তৈরী করতে পারে না। ফলে বাহিরের খাবার খেয়ে সেই অভাব পূরণ করতে হয়।
একমাত্র খিচুড়িতেই সবগুলো পাওয়া সম্ভব (চালে আটটি আর বাকিগুলো ডালে থাকে)। ফলে চাল-ডাল একসাথে থাকলেই শুধু সবগুলো essential amino acid পাওয়া সম্ভব!
এছাড়াও ডিমে এইসবগুলো essential amino acid থাকে।
#ফলে_বাচ্চার_খাবার_হওয়া_উচিৎঃ
১) মায়ের বুকের দুধ ২ বছর পর্যন্ত, এর বাহিরে আর কোন দুধ নয়।
২) খিচুড়ি (চাল+ডাল+সয়াবিন/অলিভ ওয়েল+সবজি)
৩) ডিম
৪) মা যখন যা খাবেন - সেখান থেকে মাছ/মাংস/সবজি বাচ্চাকে দিবেন। (ফ্রেশ হতে হবে)
৫) সারাদিনে একবার ফল খাবে। #আঙ্গুর বাদে। বাচ্চা সকাল/দুপুর/রাত, প্রচুর ফল খায় - এটাও ভাল লক্ষ্মণ নয়। কারণ পেট ভরা থাকায়, অন্য প্রয়োজনীয় খাবার খাবে না।
সবশেষে মা'দের বলি - আপনার সন্তান যদি পড়ালেখা নাও করে - Early Childhood Development ঠিক থাকলে, রিক্সা চালক হলে - সেরা রিক্সা চালক হবে। বা চোর হলেও সেরা চোর হবে!
তাই সবাই Early Childhood Development এর উপর সময় দিন। সঠিক খাবার নিশ্চিত করুন! সুজি/গরু/ছাগলের (২ বছর বয়স পর্যন্ত) দূধ খাওয়ানো বন্ধ করুন।
বি.দ্র. ছাগলের দূধে অতিরিক্ত অসুবিধা, এক ধরনের রক্তশূন্যতা রোগ হয়।
ডা.নিয়ামত হোসেন রিপন
সহকারী অধ্যাপক (নিওনেটোলজী)
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ, ফরিদপুর।
বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর “স্পেশালাইজড টেলি হেলথ সেন্টার” উদ্বোধন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সেবা পেতে শনি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ নম্বরে ফোন করে বিনা পয়সায় সেবা পাওয়া যাবে। পরবর্তীতে তিনটি ধাপে ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেবা নেয়া যাবে। এই সেবার মাধ্যমে তিনটি ধাপে, তিন স্তরে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, কনসালটেন্ট, সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপক’দের কাছে থেকে যেকোনো রোগের ব্যাপারে সরাসরি সেবা নেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, A2i, Synesis IT ও টেলিমেডিসিন পার্টনারদের কারিগরি সহযোগিতায় এই সেবাটি চালু হচ্ছে।
করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে বার বার হাত ধুতে বলার কারণ কি ?
Dr. Opurbo Chowdhury
London, England
নতুন করোনা ভাইরাস যখন দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ছিলো, সবার মুখে এককথা - বাঁচার উপায় কি । রাজনীতিবিদ হতে চিকিৎসক, বিজ্ঞানী থেকে বিশেষজ্ঞ, সবার একই পরামর্শ : নিয়মিত হাত পরিষ্কার করুন ।
প্রশ্ন হলো - এই হাত পরিষ্কার কি আসলেই করোনা ভাইরাস থেকে আপনাকে মুক্ত রাখে ?
বিশদ বলতে গিয়ে একটু পেছনে যাবো ।
করোনা ভাইরাস ছড়ায় কিভাবে ?
এই ভাইরাস একজন থেকে আরেকজনে ছড়ায় । স্পর্শ, হাঁচি, কাশি, এমনকি স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস এদের অন্যতম । করোনা আক্রান্ত কেউ হাঁচি কিংবা কাশি দিলে ফুসফুস, গলা এবং নাক থেকে বাতাসের সাথে জলের বিন্দু দিয়ে কিছু ভাইরাস বেরিয়ে আসে । সম্প্রতি এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে - শুধুমাত্র কথা বললেও তার মধ্য দিয়ে যে বাতাস বের হয়, তাতে ভাইরাস থাকতে পারে । উচ্চস্বরে কথা বললে আরো দ্রুত বাতাস বের হয় বলে তাতে আরো বেশি থাকে । সেই জলবিন্দুগুলো এক থেকে দুই মিটার বা তিন থেকে ছয় ফুট পর্যন্ত ছড়াতে পারে । এই দূরত্বের মধ্যে কোনো সুস্থ ব্যক্তি থাকলে তিনি সেই বাতাসটি নিঃশ্বাসের সাথে নিতে পারেন । আর তাতে ভাইরাস তা দেহে ঢুকতে পারে ।
অথবা কেউ নেই আসে পাশে । রোগী হাঁচি-কাশি দিলেন, মুখে হাত দিলেন না, এমন কি টেলিফোনে কারো সাথে উচ্চস্বরে কথা বললেন । ফলে কাশির সাথে, কথার সাথে বেরিয়ে আসা ভাইরাস কিছুক্ষণ বাতাসে থেকে জলের ভারের কারণে নিকটের কোনো বস্তুর উপর গিয়ে পড়বে । সেই বস্তুর উপর তিন ঘন্টা থেকে তিনদিন ভাইরাসগুলো জীবিত থাকতে পারে । পরবর্তীতে কেউ সেই বস্তু ধরলে হাতের মধ্যে ভাইরাস লেগে যায় । সেই হাত কোনো না কোনো ভাবে মুখে, নাকে কিংবা চোখে লাগলে হাত থেকে শরীরে প্রবেশ করে । এক পরীক্ষায় দেখা গেছে যে - স্বাভাবিক অবস্থায় জানা-অজানায় আমরা ঘন্টায় ২৩ বার হাত দিয়ে মুখের যে কোনো অংশ স্পর্শ করি । আরেক গবেষণায় দেখা গেছে - প্রতি ঘন্টায় ১১ বার হাত দিয়ে নাক কিংবা ঠোঁট স্পর্শ করি ।
কাশি দিলে গলা কিংবা ফুসফুস থেকেই কেন ভাইরাস দৌড়ে আসে ?
কারণ হলো - করোনা ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর তাদের উত্তম বাসস্থান খুঁজতে থাকে বসার জন্যে । ফুসফুস, পেট, কিডনি এবং মস্তিষ্ক এই জায়গাগুলোর অন্যতম ।
শরীরের এতো জায়গা থাকতে কেন সেখানে গিয়ে বসে ?
বিজ্ঞানীরা দেখতে পেলো, মানুষের শরীরে যে সমস্ত কোষের আবরণে ACE2 নামের একটি প্রোটিন থাকে, সেই প্রোটিনগুলোর প্রতি করোনা ভাইরাসের একটা প্রেম আসক্তি আছে । মজার হলো, কেন এই প্রেমাসক্ত, সেটা এখনো জানে না ।
এই ACE2 টা কি ?
ACE2 মানে Angiotensin-converting enzyme 2 । একধরনের এনজাইম । এনজাইম হলো কিছু প্রোটিন, যাদের কাজ কোনো একটি রাসায়নিক বিক্রিয়াতে ঘি ঢেলে দিয়ে বিক্রিয়াকে একটু বাড়িয়ে দেয়ার মতো ।
ACE2 এর এমন অদ্ভুত ২ কেন পাশে ?
আসলে এটি ACE বা শুধু Angiotensin converting enzyme -কে কমিয়ে দিয়ে শরীরে ব্লাড প্রেশারকে কন্ট্রোল করে । ACE2 হলো অনেকটা ACE-এর কাউন্টার এনজাইম । ACE-কে আগে বলা হতো Angiotensin 1 converting enzyme, সেটার কাউন্টার এনজাইমকে তাই 2 দিয়ে আলাদা করে বলা হয় Angiotensin converting enzyme 2 । না হলে যে গোলমাল লেগে যাবে শুধু ACE কে তাসের কার্ড ACE ধরে বসবে !
এই ACE2 বেশি থাকে হাই ব্লাড প্রেশার রোগীদের, কিংবা যাদের ডায়াবেটিস আছে । এই কারণে দেখা যায় - ডায়াবেটিস কিংবা ব্লাড প্রেশারের রোগীরা সহজে করোনা ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়, এমন কি মারাও যায় । এটি থেকে কিভাবে মারা যায়,সেটি অন্য কোনো সময় অন্য কোনো আর্টিকেলে বলবো ।
মানুষের শরীরে ACE প্রথম আবিষ্কার করেন Leonard T. Skeggs Jr., ১৯৫৬ সালে ।
করোনা ভাইরাস শরীরে ঢুকে নাক, গলা এবং ফুসফুসের যে অংশের কোষগুলোর আবরণে এই ACE2 থাকে, সেখানে গিয়ে বসে । তারপর এই ACE2 ভাইরাসগুলোকে কোষের ভিতর ঢুকতে সাহায্য করে ।
তার মানে হাতের মধ্যে দিয়ে ভাইরাসগুলো শরীরে ঢুকে বলেই কি হাত ধুতে বার বার বলা হয়েছে ।
না, আসলে তা নয় ।
শুধু হাতের দ্বারাই তো ভাইরাস ঢুকছে না, বরং বাতাসের ড্রপলেটস শ্বাস-প্রশ্বাস দিয়ে শরীরে বেশি ঢুকছে এবং আক্রান্ত করছে ।
তাহলে প্রতি ঘন্টায় দুই থেকে তিনবার হাত ধুতে বার বার বলা হচ্ছিলো কেন ?
একবাক্যে সবার মাথায় আসবে - হাত দিয়ে ভাইরাস শরীরে ঢুকে বলে তাকে থামাতে !
আসলে হাত ধুতে বার বার বলার কারণ, নিজে আক্রান্ত হতে নয়, বরং এই হাতে করে আপনি প্রতিনিয়ত অন্য অনেক কিছু ধরছেন, এই হাতে করে আপনি ভাইরাসটি সবচেয়ে বেশি ছড়াচ্ছেন, ঠিক এই ছড়ানো টিকে থামাতেই বার বার হাত ধুতে বলা হচ্ছিলো ! নিশ্চয়ই এটা এভাবে চিন্তা করেন নি । আর এটাই বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষের দেখার পার্থক্য । আমরা যারা এসব বিষয়ে গবেষণা এবং পড়াশোনার মধ্য দিয়ে দেখার এবং বোঝার দৃষ্টিভঙ্গিকে গভীর এবং ভিন্ন করেছি, তাদের পরামর্শ এবং মতামতকে এই কারণে শুনবেন, মানবেন এবং জানবেন ।
সাবান দিয়ে হাত ধুলে এমন ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া জীবাণু মারা যায় অথবা ধুয়ে যায় - এই তত্ত্বটি প্রথম আবিষ্কার করেন Dr Ignaz Semmelweis নামের এক হাঙ্গেরিয়ান চিকিৎসক ১৮৪০ সালে । তখন তিনি এ নিয়ে লেখালেখি করেন এবং ডাক্তারদের উপদেশ দেন যে প্রসবকালীন ডাক্তারদের হাত অপরিষ্কার থাকলে তার কারণে বাচ্চা পরবর্তীতে মারা যায় । কিন্তু ইনফেকশনের কারণ জীবাণু তত্ত্ব এসব তখন বিজ্ঞানীদের জানা ছিল না, আবিষ্কৃত হয়নি তখনও পর্যন্ত । ডাক্তাররা তাকে নিয়ে এই তত্ত্বের কারণে এতো হাসাহাসি করতো যে লোকজন পরবর্তীতে তাকে তৎকালীন পাগলা গারদে বন্দি করে রেখেছিলো । পরবর্তীতে সুস্থ সেই ডাক্তার Semmelweis কে অসুস্থ পাগলরা পিটিয়ে মেরে ফেলেছিলো ।
ইংল্যান্ডে নার্স বা সেবিকারা কাজ করতে গিয়ে রোগীর দেহে হাত দেবার আগে হাত পরিষ্কার করার ফলাফল পায় এবং ধীরে ধীরে কাজটিকে জনপ্রিয় এবং প্রয়োজনীয় করে তোলে ।
ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস আবিষ্কারের অনেক পরে ১৯৮০ সালে আমেরিকান CDC সর্ব প্রথম hand hygiene কে রোগ প্রতিরোধে জাতীয় গাইডলাইন হিসাবে নিয়ম জারি করে ।
এবার ভাইরাসের দিকে আবার ফিরে যাই ।
নোবেল বা নতুন করোনা ভাইরাস একটি RNA ভাইরাস । মানে হলো ভাইরাসটির ভেতর শুধুমাত্র RNA নামক রাসায়নিক উপাদান থাকে । আর কিছুই থাকে না । এই RNA কে ঘিরে থাকে একটি পর্দা । এই পর্দার দুটি লেয়ার । দুটো লেয়ারই লিপিড নামক পদার্থ দিয়ে তৈরী । তাই একে সহজ করতে অনেকে বলে Lipid bilayer । bi মানে দুই ।
এই লিপিড লেয়ারের বাহিরে সাইকেলের স্পাইকের মতো কিছু স্পাইক থাকে, সেগুলো একধরনের প্রোটিন । এই স্পাইকগুলোই আসল কালপ্রিট ।
তো যাইহোক, এই লিপিড বাই-লেয়ারের একেবারে বাহিরের পর্দাটি এমন কিছু দিয়ে তৈরী যাকে বলে hydrophilic বা Water loving । মানে জল ভালোবাসেন । আর একেবারে ভেতরের পর্দাটি hydrophobic বা water hating । মানে পানি ভয় পায় । hydro মানে পানি ।
বাহিরের hydrophilic পর্দাটি ভিতরের hydrophobic পর্দাকে জলভীতি থেকে রক্ষা করতে খুব ঘনভাবে একে অপরের গা ঘেঁষে থাকে । এতে বাহিরের পর্দাটির মধ্যে একটি আঠালো গুণ তৈরী হয় । এ কারণে ভাইরাসটি কারো শরীর থেকে বের হবার পর কারো হাতে কিংবা বস্তুর উপর আঠার মতো লেগে থাকে ।
তাহলে সাবান দিয়ে বার বার হাত ধুতে কি জন্যে বললো !
সাবান ব্যবহারের ইতিহাস অনেক পুরোনো । খ্রিষ্ট পূর্ব ৩ হাজার বছর আগে ব্যাবিলোনিয়ানদের মাঝে সর্বপ্রথম সাবান ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায় । তখন তারা সে সাবান বানাতো এনিম্যাল ফ্যাট, ছাই আর পানি দিয়ে । তারও আগে মানুষ দেখতো কোনো প্রাণীকে দেবতার জন্যে উৎসর্গ করবার পর তার কিছু অংশ পুড়িয়ে দিলে তারপর যদি বৃষ্টি হতো, বৃষ্টির জল, কাঠের ছাই আর প্রাণীর দেহের চর্বিগুলো মিশে কেমন যেন হয়ে উঠ্ত এবং জায়গাটি পরিষ্কার হয়ে যেত । সে থেকে সাবানের ধারনাটি এলো । মিশরীয়রা দেহ পরিষ্কার করতো এই সাবান দিয়ে নীল নদের জলে । রোমানরা বিশ্ব জয়ের পথে এই সাবানকে ছড়িয়ে দিলো । ব্যবসায়িক আকারে সাবান প্রস্তুত শুরু করে ইংল্যান্ড প্রথম ১২০০ সালের পর ।ফ্রান্স, ইতালির হাত ধরে জনপ্রিয়তা ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে । আঠারোশো শতাব্দীতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভুলেশনের সময় ইউরোপ সাবানের কারখানা গড়ে ওঠে । তখন সাবান শিল্পকে বলা হতো Women Manufacturing ! কারণ, মহিলারা সাবান বানাতো ।
১৮৮৫ সালে William Lever এবং James Lever নামের ব্রিটিশ দুই ভাই মিলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো সাবান কোম্পানি Lever Brothers তৈরী করে লন্ডনে । পরবর্তীতে ডাচ আরেকটি কোম্পানির সাথে যুক্ত হয়ে ২০০৪ সালে নাম পরিবর্তন করে Unilever হয় । Unilever এখনো পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো সাবান কোম্পানি । ১৯০ টি দেশে তার শাখা । বাংলাদেশে ১৯৬৪ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে তারা প্রথম সাবানের ফ্যাক্টরি খুলে । এখন মনে হয় ফৌজদারহাট তাদের কারখানা । Sunlight সাবান দিয়ে ৫৬ বছর আগে যে ব্যবসা শুরু করেছিল বাংলাদেশে, এখন Wheel, Lux, Lifebuoy, Fair & Lovely, Pond's, Close Up, Sunsilk, Taaza, Pepsodent, Clear, Vim, Surf Excel, Rexona, Dove, Vaseline. সবগুলাই এই Unilever এর প্রোডাক্ট !
সাবান কি ভাইরাসগুলোকে মেরে ফেলে ? না, তেমন মারে না । অল্প কিছু ভাইরাসের এই পর্দা ছিঁড়ে ফেলে সাবান । অল্প কিছু ভাইরাস তাতে মরে যায় । কিন্তু বেশিরভাগ ভাইরাস তাহলে কি করে হাত থেকে চলে যায় ? বলছি নিচে । সাবান আর পানি মিলে বাহিরের hydrophilic অংশটির জল প্রীতির কারণে তার সাথে গাঁট বাঁধে । আর এতে hydrophilic অংশের একে ওপরের আঠার মতো লেগে থাকা ঢিলা হয়ে যায় । আর তাতে জল ঢুকে যায় ভাইরাসের ভেতর । hydrophilic এর আঠালো ভাবটাও কমে যায়, সাথে জল ঢুকে কিছু ভাইরাস মেরে ফেলে বা মরে যায় ।
তাহলে বেশিরভাগ ভাইরাস হাত থেকে কিভাবে যায় ?
সাবান এক ধরনের লবণ । সোডিয়াম বা পটাশিয়াম-কে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় ফ্যাটি এসিডে রূপান্তর করলে যা হয়, সেটি সাবান । সাবানের দুটি গুন । একটি surfactant, আরেকটি emulsifier । সাবান তার Surfactant বৈশিষ্ট্য দিয়ে জলের সারফেস টেনশন বা বিস্তৃত হবার জোরটাকে কমিয়ে দেয় । আর emulsifier হাতের তেলের সাথে জলের মেশার বাধা কমিয়ে দেয় । আমরা সবাই জানি তেল আর জল মিশে না !
মানুষের হাতের চেয়ে সবচে বেশি জীবাণু থাকে এখন মোবাইল ফোনে । তারপরে থাকে টিভি রিমোট কন্ট্রোল । ঘরের চাবি, দরজার হ্যান্ডেল, টাকা, ক্রেডিট কার্ড, এমনকি পয়শায় সবচে বেশি জীবাণু থাকে । বলা হয় একবার কিস করলে দুজন মানুষ আশি মিলিয়ন জীবাণুর স্পর্শে আসে । একটি মোবাইল ফোনে দুশো মিলিয়নের মতো ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস ভাইয়েরা বসে থাকে ।
জীবাণুগুলো বসে থাকে হাতের চামড়া থেকে নিঃসৃত sebum নামের একধরনের তেলের মাঝে । তেলটির মধ্যেই জীবাণুগুলো মূলত আটকে থাকে । সাবান লাগালে সাবানের surfactant বৈশিষ্ট্য চামড়ায় তেলের জাপটে বসে থাকার শক্তি ঢিলা করে দেয়, সাথে তেল আর জল কখনো মিশে না বলে চামড়ায় থাকা তেলের রাসায়নিক গুনকে সাবানের emulsifier টি পরিবর্তন করে জলের সাথে মিশে যাওয়ার পথ তৈরি করে । ফলে সাবান দিয়ে হাত কচলিয়ে তার উপর পানি ঢাললে তখন হাতের তেলটি ধুয়ে যায় পানির স্রোতে । এভাবে সাবান সব ভাইরাসকে না মারতে পারলেও হাতকে জীবাণু মুক্ত করে তেল টুকু ধুয়ে দিয়ে ।
হাত ধুতে বলার কারণ যাতে করে সেই হাত যেমন একদিকে মুখে নাকে চোখে লাগিয়ে ভাইরাসটিকে না ঢোকান শরীরে, তেমনি এই হাতে করে ভাইরাসটি বিভিন্ন বস্তুতে ছড়িয়ে দিলে আরো বেশি সংখ্যক মানুষ সেই বস্তুগুলো ধরে আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচাতে ।
সূত্র :
1. CDC
2. Discover
3. National Geographic
4. Nature
5. Scientific American
6. Unilever
7. NHS UK
© অপূর্ব চৌধুরী । চিকিৎসক এবং লেখক । জন্ম বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড থেকে ।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka
1000
