Doc Pedi

Doc Pedi

Share

নবজাতক ও শিশু রোগ, শিশু পুষ্টি, শিশুদের জটিল রোগ ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য যোগাযোগ করুন।

20/04/2026

নবজাতক শিশু কি পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে? কীভাবে বুঝবেন?

একজন নতুন মা তো বটেই, পুরো পরিবারেরই সবচেয়ে বড়ো দুশ্চিন্তার জায়গা হলো, "বাচ্চা কি পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে?" ক্ষণে ক্ষণে মনে হয়, বাচ্চা খাচ্ছে না কিছুই।

তবে বাস্তবতা হলো, পর্যাপ্ত দুধ না পাওয়ার ভয় যতোটা, বাস্তবে সেই সমস্যা ততোটা প্রকট না। কয়েকটি বিষয় অবজার্ভ করে নিজে নিজেই বোঝা যাবে আসলেই পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে কি-না।

#প্রস্রাবের হিসেবই গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড

শিশুর শরীরে পানিশূন্যতা আছে কিনা তা বোঝার সবচেয়ে নির্ভুল উপায় প্রস্রাবের দিকে খেয়াল করা। UNICEF-এর গাইডলাইন অনুযায়ী, প্রস্রাবের সংখ্যা দিয়েই বোঝা যাবে পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে কি-না।

১ম দিন ১ বার
২য় দিন ২ বার
৩য় দিন ৩ বার
৪র্থ দিন ৪-৬ বার
৫ম দিন ও তার পরবর্তী দিনগুলোতে ৬-৮ বার

যদি এই অনুযায়ী শিশুর প্রস্রাব হয়, তাহলে বুঝে নেয়া যায় শিশু পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছে।

জন্মের ৩য় থেকে ৪র্থ দিনের মধ্যে মায়ের দুধের সরবরাহ প্রায় ৫০০-৭০০ মিলিপর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, যা একজন সুস্থ নবজাতকের চাহিদার জন্য যথেষ্ট।

#দ্বিতীয় বিষয়টি আসবে মলের রং ও ফ্রিকোয়েন্সি

WHO-এর মতে, মলের রং এবং টেক্সচার দেখে বাচ্চার পুষ্টি গ্রহণের হার বোঝা যায়। ৪র্থ দিনের পর থেকে মল যদি কালচে (Meconium) থেকে বদলে সরিষার মতো উজ্জ্বল হলুদ (Mustard Yellow) হয় এবং নরম বা দানাদার থাকে, তবে ধরে নিতে হবে বাচ্চা পর্যাপ্ত ক্যালোরি পাচ্ছে।

দৈনিক ৩-৪ বার পায়খানা করা একটি সুস্থ বাচ্চার স্বাভাবিক লক্ষণ।

#তৃতীয় বিষয়টি আসবে ওজন পরিবর্তনে সংক্রান্ত

জন্মের প্রথম ৩-৫ দিনে প্রতিটি শিশুর ওজন স্বাভাবিকভাবেই ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত কমতে পারে। এটি কোনোভাবেই 'দুধ কম পাবার' লক্ষণ নয়, বরং শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যাওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

১০ থেকে ১৪ দিনের মাথায় শিশু সাধারণত তার জন্মের ওজনে ফিরে আসবে।

জন্মের পর থেকে ২য় মাস পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১৫০-২০০ গ্রাম ওজন বৃদ্ধি পাওয়া একটি সুস্থ বাচ্চার পরিচায়ক। যদি এমন হারে ওজন বাড়তে থাকে তবে বুঝে নেয়া যায় বাচ্চা পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছে।

হ্যালো! কান্না মানেই ক্ষুধা নয়!

গবেষণায় দেখা গেছে, একটি শিশু গড়ে দিনে ২-৩ ঘণ্টা কাঁদতে পারে। অনেক সময় মা মনে করেন দুধ কম পাচ্ছে বলে শিশু কাঁদছে। কিন্তু কারণ সবসময় তা নাও হতে পারে!

ডায়াপার ভেজা থাকা বা অতিরিক্ত গরম/ঠান্ডা তার কান্নার কারণ।

আশপাশের প্রচণ্ড শব্দ বা আলোর ঝলকানি তার কান্নার কারণ।

নবজাতক তার মায়ের হৃৎস্পন্দন এবং ঘ্রাণ অনুভব করতে চায়। স্কিন টু স্কিন কনটাক্ট চায়। এটাও তার কান্নার কারণ।

#দুধ খাওয়াবার সময় বোঝা যায় পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে কি-না?

হ্যাঁ।

ক. চোয়ালের নড়াচড়া ও চোষার ধরন দেখে

শিশু যখন দুধ টেনে নেয়, তখন তার চিবুক বা চোয়ালের নড়াচড়া খেয়াল করতে হবে।

শিশু যখন মুখ ভরে দুধ পায়, তখন সে বড় করে মুখ খোলে, একটু থামে (Pause) এবং তারপর মুখ বন্ধ করে। এই যে মাঝখানের বিরতি বা পজ, এটাই প্রমাণ করে যে তার মুখে দুধ এসেছে এবং সে তা গিলেছে।

যদি শিশু শুধু দ্রুত ছোট ছোট করে চোষে (Quick, shallow sucks) এবং কোনো বিরতি না নেয়, তবে বুঝতে হবে সে কেবল নিপল চুষছে, কিন্তু পর্যাপ্ত দুধ তার মুখে আসছে না।

খ. দুধ গেলার শব্দ খেয়াল করে

ঘর যখন শান্ত থাকে, তখন শিশুর দুধ গেলার একটি মৃদু শব্দ শোনা যায় (অনেকটা 'ক্লিক' বা 'গাট' শব্দের মতো)।

একে বলা হয় Nutritive Sucking। শিশু প্রতি ২-৩ বার চোষার পর একবার বড় করে ঢোক গিলবে। এটিই সবচেয়ে বড় প্রমাণ যে দুধ শিশুর পেটে যাচ্ছে।

গ. শিশুর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে

দুধ খাওয়া শুরু করার সময় এবং শেষ করার সময় শিশুর বডি ল্যাঙ্গুয়েজের দিকে খেয়াল করা যেতে পারে।

শুরুর দিকে: বাচ্চা ক্ষুধার্ত থাকলে তার হাতের মুঠি শক্ত থাকে, শরীর টানটান থাকে এবং সে খুব অস্থির হয়ে চোষে।

পর্যাপ্ত দুধ পাওয়ার পর: বাচ্চা যখন তৃপ্ত হয়, তার হাতের মুঠি ধীরে ধীরে আলগা হয়ে যায়, শরীর রিল্যাক্সড হয়ে আসে এবং সে নিজে থেকেই দুধ ছেড়ে দেয়। অনেক সময় শিশু তৃপ্তির ঘুমে তলিয়ে যায়। টানা ১.৫-২ ঘন্টা শান্ত হয়ে ঘুমাতে পারছে।

যখন জেগে থাকছে হাত-পা নাড়াচ্ছে ও চোখ মেলে তাকাচ্ছে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা। যদি শিশু দুধ খাওয়ার সময় গালের ভেতরে গর্ত তৈরি হয় (Dimpling) বা চপ-চপ শব্দ হয়, তবে বুঝতে হবে বাচ্চার 'ল্যাচিং' বা মুখ লাগানোর পজিশন ঠিক নেই। সেক্ষেত্রে সে অনেকক্ষণ ধরে চুষলেও পেট ভরবে না এবং মা ব্যথা পেতে পারেন।

মনে রাখতে হবে, নবজাতকের পাকস্থলীর আকার প্রথম দিনে একটি মার্বেলের মতো (৫-৭ মিলি), ৩য় দিনে পিং পং বলের মতো (২২-২৭ মিলি) এবং ১০ম দিনে একটি বড় ডিমের মতো (৬০-৮০ মিলি)। তাই প্রথম দিকে বাচ্চা অল্প অল্প করে ঘন ঘন দুধ খাবে এটিই স্বাভাবিক।

(Reference : WHO, UNICEF, CDC, APA Guidelines)

'নতুন শিশুর মা-বাবা যা জানতে চায়' সিরিজের দ্বিতীয় লেখা এটি।

ডা. মারুফ রায়হান খান
৩৯ তম বিসিএসের চিকিৎসক
মুগদা মেডিকেল কলেজ হসপিটাল

01/04/2026

হাম একটি ভাইরাস জনিত রোগ। এর নির্দিষ্ট কোন প্রতিষেধক নাই, সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা নিয়মিত টীকা গ্রহণের মাধ্যমে দেওয়ার হাম প্রতিরোধ। যেহেতু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে শিশুরা হামে আক্রান্ত বেশি হচ্ছে, তাই হামের টীকা সংক্রান্ত কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসা ও উত্তর।

প্রশ্ন: হামের কয় ধরণের টীকা বাজারে পাওয়া যায় (বাংলাদেশে)?
উত্তর: দুই ধরণের টীকা পাওয়া যায় (MR সরকারীভাবে ও MMR বেসরকারীভাবে)
প্রশ্ন: বাংলাদেশে হামের টীকা সাধারণত কত বয়সে দেওয়া হয়?
উত্তর: সরকারী ভাবে ই.পি.আই সিডিউল অনুযায়ী দুই ডোজ টীকা দেওয়া হয়
প্রথম ডোজ নয় মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ পনের মাস বয়সে
প্রশ্ন: হাম প্রতিরোধে এই টীকার কার্যকারিতা কত?
উত্তর: নিয়মিত ২ ডোজ টীকা নিলে, হাম রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে টীকা ৯৭-৯৯% কার্যকরী
প্রশ্ন: ৯ মাস বয়সের আগে শিশুকে হামের টীকা দেওয়া হয় না কেন?
উত্তর: মায়ের শরীর থেকে প্রাপ্ত (প্যাসিভ/পরোক্ষ) অ্যান্টিবডির মাধ্যমে নবজাতকের শরীরে তৈরি হওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শিশুকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে।
প্রশ্ন: ৯ মাস বয়সের আগে শিশুকে হামের টীকা দেওয়া যাবে কি?
উত্তর: ক্ষেত্র বিশেষে ৬ মাসের পর হতে হামের টীকা দেওয়া যেতে পারে (যেমন: হামের প্রার্দুভাবের সময়, যখন শিশুদের ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইনের সময়)। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই পরবর্তীতে ৯ মাস এবং ১৫ মাসে বয়সে যথারীতি ২ ডোজ টীকা দিতে হবে।
প্রশ্ন: যদি কেউ ই.পি.আই সিডিউল অনুযায়ী টীকা না দিয়ে থাকেন, তবে করণীয় কি?
উত্তর: সর্ম্পূণ ২ ডোজ টীকা দিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে প্রথম ডোজের ন্যূনতম ১ মাস পরে দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে।
প্রশ্ন: আমার শিশুর বয়স ৩ বছর কিন্তু তাকে হামের টীকা দেওয়া হয়নি, সেক্ষেত্রে করণীয় কি?
উত্তর: সর্ম্পূণ ২ ডোজ টীকা দিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে প্রথম ডোজের ন্যূনতম ১ মাস পরে দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে।
প্রশ্ন: আমার শিশুর বয়স ২ বছর কিন্তু তাকে হামের ১ম ডোজ টীকা দেওয়ার পর দ্বিতীয় ২য় ডোজ টীকা দেওয়া হয়নি, সেক্ষেত্রে করণীয় কি?
উত্তর: যত দ্রুত সম্ভব ২য় ডোজ টীকা দিতে হবে।
প্রশ্ন: হামের ২ ডোজ টীকা দেওয়ার পর, বুস্টার ডোজ টীকা দেওয়ার প্রয়োজ আছে কি?
উত্তর: সর্ম্পূণ ২ ডোজ হামের টীকা দেওয়া থাকলে, বুস্টার ডোজ দেওয়ার কোন দরকার নেই।
প্রশ্ন: কিশোর-কিশোরি অথবা বড়রা কি হামের টীকা নিতে পারবেন?
উত্তর: নিতে পারবেন, যদি ইতিপূর্বে হামের কোন টীকা গ্রহণ না করে থাকেন এবং Measles Serology test Negative হয়।
প্রশ্ন: কোন কোন ক্ষেত্রে হামের টীকা দেওয়া যাবে না ?
উত্তর: Severe Immunocompromised patient, pregnant woman
প্রশ্ন: হামের টীকা দেওয়ার পরেও কি হাম হতে পারে?
উত্তর: ২ ডোজ হামের টীকা নেওয়ার পরে হাম হওয়ার সম্ভাবনা খুবই খুবই কম বা অতি দূলর্ভ, তবে যদি হয়েও থাকে তবে সেটি খুব স্বল্প মাত্রায় হয়।
প্রশ্ন: ভিটামিন-এ ক্যাপসুল কি হামের চিকিৎসা?
উত্তর: হাম হলে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল দিতে হবে। WHO এর নিয়ম অনুযায়ী হামের রোগিকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল দিলে রাতকানা রোগ ও শিশু সংক্রামক ব্যাধির কারনে মৃত্যু হার অনেক কমে আসে।
প্রশ্ন: হামের রোগির সংস্পশে আসলে post-exposure prophylaxis ভূমিকা আছে কি?
উত্তর: কিছু কিছু ক্ষেত্রে হামের রোগির সংস্পশে (প্রথম বার) আসলে post-exposure prophylaxis (৬ দিনের মধ্যে) দিতে হয় এবং MMR Vaccine ও Immunoglobin ব্যবহার করা হয়।
প্রশ্ন: কোন কোন ক্ষেত্রে post-exposure prophylaxis দিতে হয়?
উত্তর:
# Severe Immunocompromised ক্ষেত্রে Immunoglobin দিতে হবে
# বয়স: জন্ম থেকে ৫ মাস পযর্ন্ত Immunoglobin দিতে হবে, যদি মায়ের ২ ডোজ টীকা না দেওয়া না থাকে এবং মায়ের ইতোঃপূর্বে কখনো হাম না হয়ে থাকে, মায়ের measles IgG Negative হয়।
# বয়স: ৬ থেকে ১৮ মাস (ইতোঃপূর্বে হামের কোন টীকা দেওয়া হয়নি)- MMR Vaccine (৭২ ঘণ্টার মধ্যে) অথবা Immunoglobin (৭২ ঘণ্টা থেকে ৬ দিনের মধ্যে)
# গর্ভবতী মহিলা (ইতোঃপূর্বে হামের কোন টীকা দেওয়া হয়নি/ হাম হয়নি )- Immunoglobin (৬ দিনের মধ্যে)
আপনার শিশুকে নিয়মিত টীকা দিন ও যত্ন নিন এবং হামের কোন লক্ষণ দেখা দিলে অতি সত্তর নিকটস্থ হাসপাতাল অথবা শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিবেন।

Ref:
1.EPI_Guide book DGHS
2.World Health Organization (2020). The immunological basis for immunization series: module 7: measles: update 2020
3.Guidance UK Complete routine immunization Schedule 2026
4.Australian immunisation Handbook, 2022

Dr Md Abu Talha
MBBS, FCPS (Pead)
Fellow Ped Intensive & Cardiac Care (AIMS, INDIA)
MRCPCH (Clinical-UK)
Assist Professor
Ped Cardiac ICU
NHFH & RI

17/03/2026

গতকাল রাতে ইনফেকশাস ডিজিজ হসপিটালে একজন শিশু মারা গেছেন মিজেলস বা হামে আক্রান্ত হয়ে। এ নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

মধ্যরাতে হসপিটালে ছুটে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "কিছুদিন থেকে হামের রোগী বাড়ছে। হাসপাতালটিতে তিনটি ওয়ার্ডেই অতিরিক্ত হামের রোগী আছে। তাদের ভালো ট্রিটমেন্ট চলছে। কিন্তু এই রোগীটির অবস্থা খারাপ ছিল। তার আইসিইউর সাপোর্ট দরকার ছিল, কিন্তু এই হাসপাতালের আইসিইউটি বন্ধ। আর অন্য কোথাও এই ধরণের পেশেন্ট নেয় না। এখানে হাসপাতালের চিকিৎসকদের কোনো গাফিলতি ছিল না।"

তিনি ২৪ ঘন্টার মধ্যেই উক্ত হসপিটালে আইসিইউ চালুর আশ্বাস দেন। ডিএনসিসি হসপিটাল মিজেলস ডেডিকেটেড হসপিটাল হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
...

হঠাৎ করেই বাংলাদেশে হাম বা মিজেলস (Measles) আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। এটি একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ, যা বিশেষ করে শিশুদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।

হাম একটি ভাইরাসজনিত তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ। একটি সাধারণ ভুল ধারণা আছে যে এটি কেবল একটু জ্বর বা গায়ের র‍্যাশ। কিন্তু বাস্তবে, হামের সংক্রমণ থেকে ভয়াবহ জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞানের ভাষায় এর সংক্রমণ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি সরাসরি ১২ থেকে ১৮ জন সুস্থ মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে।

কীভাবে ছড়ায়?

হাম একটি বায়ুবাহিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা কথা বলার মাধ্যমে বাতাসে ভাইরাসের কণা ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাস বাতাসে বা কোনো বস্তুর ওপর প্রায় ২ ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

হামের লক্ষণ কী?

হামের র‍্যাশ বা লালচে দানা ওঠার অন্তত ৪ দিন আগে থেকেই আক্রান্ত ব্যক্তি ভাইরাসটি ছড়াতে শুরু করেন। চিকিৎসকদের মতে, র‍্যাশ ওঠার আগের এই লক্ষণগুলো চিনতে পারা খুব জরুরি:

আমরা 3C দিয়ে মনে রাখি

1. Cough (তীব্র কাশি)
2. Coryza (সর্দি বা নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়া)
3. Conjunctivitis (চোখ লাল হওয়া বা চোখ ওঠা

এছাড়াও:

* তীব্র জ্বর।
* মুখে বা গলায় অস্বস্তি।
* মুখের ভেতর ফোলা অংশের মতো 'কপ্লিক স্পট' (Koplik spots) দেখা দেওয়া।
* ৩-৪ দিন পর মুখমণ্ডল থেকে র‍্যাশ শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

কী কী জটিলতা হতে পারে?

হাম আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৩০% ক্ষেত্রে গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে:

* নিউমোনিয়া: হামে মৃত্যুর প্রধান কারণ।

* অপুষ্টি ও ডায়রিয়া: শিশুদের শরীর মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দেয়।

* অন্ধত্ব: চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

* এনসেফালাইটিস: মস্তিষ্কে সংক্রমণ, যা তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্ব ডেকে আনতে পারে।

* SSPE (Subacute Sclerosing Panencephalitis): এটি হামের অনেক বছর পর হওয়া একটি বিরল কিন্তু অবধারিতভাবে মৃত্যু ঘটানো মস্তিষ্কের জটিল রোগ।

এবার আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথায়। আমাদের করণীয় ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।

১. টিকা, টিকা এবং টিকা: হাম প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকরী উপায় হলো সঠিক সময়ে টিকা নেয়া।

বাংলাদেশ সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (EPI) ৯ মাস এবং ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ হাম-রুবেলা (MR) টিকা দেওয়া হয়। আমাদের পরিচিত কোনো শিশু যেন এই টিকা থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

(মনে রাখবেন, এই টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এর সাথে অটিজমের কোনো সম্পর্ক নেই।)

২. ভিটামিন-এ (Vitamin A): হাম আক্রান্ত শিশুদের জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উচ্চমাত্রার ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো জরুরি। এটি শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি UNICEF ও WHO-এর প্রটোকল।

৩. আইসোলেশন ও পরিচ্ছন্নতা:

* আক্রান্ত শিশুকে অন্ততপক্ষে র‍্যাশ ওঠার পর ৫ দিন পর্যন্ত আলাদা ঘরে রাখুন।
* রোগীর সংস্পর্শে এলে মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
* ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত করুন।

৪. ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সুরক্ষা: গর্ভবতী নারী, ক্যানসার আক্রান্ত রোগী, বা যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম (ইমিউনোকম্প্রোমাইজড), তাদের হাম আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা আবশ্যক।

হামের কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। মূলত লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাই প্রধান ভরসা। সর্দি, জ্বর ও কাশির জন্য চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ নিতে হবে। প্রচুর তরল খাবার, ফলের রস, স্যুপ, সুষম খাবার খাওয়াতে হবে।

বাংলাদেশ টিকাদান কর্মসূচিতে অনেক সাফল্য অর্জন করলেও একটি বড় অংশের মানুষ এখনো ঝুঁকির মুখে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে স্থবিরতা আসায় এই সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে।

আসুন, আমরা সবাই মিলে সতর্ক হই এবং শিশুদের হামের টিকা নিশ্চিত করি। কোনো প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন।

সংক্রামক রোগগুলো আসলে শুধু নিজে নিজে সতর্ক হয়ে প্রতিরোধ করা কঠিন। পুরো কমিউনিটিরই সচেতনতা প্রয়োজন। তাই নিজেদের স্বার্থেই অন্যদের সচেতন করতে হবে।

ডা. মারুফ রায়হান খান
৩৯ তম বিসিএসের চিকিৎসক

23/02/2026

জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যে মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে শুরু করুন।

প্রতি ২ ঘণ্টা অন্তর দুধ খাওয়াবেন, প্রতিবার ১৫–২০ মিনিট ধরে বসিয়ে মাথা উঁচু করে খাওয়াতে হবে।

খাওয়ানোর পর অন্তত ১০ মিনিট কাঁধে নিয়ে হাঁটবেন ও ঢেঁকুর তুলাবেন।

জন্মের প্রথম ৬ মাস শুধু মায়ের বুকের দুধ দিন। পানি বা অন্য কোনো খাবার দেবেন না।

৬ মাস পর থেকে বুকের দুধের পাশাপাশি পারিবারিক খাবার শুরু করবেন।

দুধ কম পাচ্ছে মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনোই ফর্মুলা দুধ শুরু করবেন না।

অনেক সময় শিশুর কান্নাকাটি মায়ের দুধ কম হওয়ার কারণে নয়।

23/02/2026

সরিষার তেলে থাকা Allyl Isothiocyanate নামের রাসায়নিক উপাদানটি নবজাতকের কোমল ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এটি ত্বকে জ্বালা, র‍্যাশ এমনকি ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা স্তর নষ্ট করার ঝুঁকি তৈরি করে। তাই যতটা সম্ভব নবজাতকের শরীরে সরিষার তেল ব্যবহার না করাই ভালো।
শিশুর শরীরে ম্যাসাজের জন্য নিরাপদ ও তুলনামূলকভাবে উপযোগী তেলগুলো হলো—
১. নারিকেল তেল
২. অলিভ অয়েল
৩. সানফ্লাওয়ার অয়েল

26/01/2026

বাংলাদেশে শিশুদের জন্মগত ত্রুটি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারে বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার, আর্সেনিক দূষিত পানি, মায়েদের শরীরে ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি এবং পরিবেশ দূষণ এ বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু সার্জারি বিভাগে জটিল জন্মগত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের ভিড় বাড়ছে। এসব রোগীর বড় একটি অংশকে বিনা খরচে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
সরকার ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এখনই কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে অনেক শিশুকে আজীবন স্বাস্থ্যগত জটিলতা নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে।

07/12/2025

বাবারা যদি প্রতিদিন অল্প সময়ও সন্তানকে দেন, তাতে তাদের মানসিক বিকাশ অনেকটাই এগিয়ে যায়। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, স্বল্প সময়ের মনোযোগী খেলাধুলা ভাষা শেখা এবং মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত এই যোগাযোগ শিশুর মস্তিষ্কে প্রাথমিক সংযোগগুলো আরও শক্ত করে।

দিনে মাত্র পনেরো মিনিট একসঙ্গে খেললে শিশুর সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও আবেগ বোঝার ক্ষমতা বাড়ে। বই পড়া, ব্লক সাজানো বা সহজভাবে কথা বলা—এ ধরনের ছোট ছোট মুহূর্তই তার চিন্তা ও শেখার ভিত্তি গড়ে তোলে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত এই সময় দেওয়ার ফলে শিশুর প্রাথমিক বিকাশে প্রায় বিশ শতাংশ পর্যন্ত উন্নতি দেখা যায়।

03/12/2025

#শিশু_স্বাস্থ্য #শিশু_বিশেষজ্ঞ #ডাক্তার #শিশু_চিকিৎসা #পেডিয়াট্রিক #শিশু_সেবা #শিশুর_স্বাস্থ্য_পরামর্শ #মায়েদের_জন্য_টিপস

12/11/2025

বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস ২০২৫: প্রতিটি শ্বাস রক্ষা করুন, প্রতিটি জীবন বাঁচান

প্রতি বছর ১২ নভেম্বর বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস পালিত হয় জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে। এ বছর প্রতিপাদ্য— “সুস্থ সূচনা, আশার ভবিষ্যৎ (Healthy Beginnings, Hopeful Futures)”।

নিউমোনিয়া একটি ফুসফুসজনিত সংক্রমণ, যা শিশু ও বয়স্কদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। সঠিক চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে এটি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য।

নিউমোনিয়ার লক্ষণ:
জ্বর, কাশি ও কফ, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা এবং দীর্ঘস্থায়ী কাশি। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কারণ:
ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও মাঝে মাঝে ছত্রাকের সংক্রমণে নিউমোনিয়া হয়। বিশেষ করে Streptococcus pneumoniae এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস সবচেয়ে সাধারণ কারণ। দুর্বল ইমিউনিটি, ধূমপান বা দূষিত পরিবেশে থাকা ঝুঁকি বাড়ায়।

প্রতিরোধ:

টিকাদান (নিউমোকক্কাল, হিব, ইনফ্লুয়েঞ্জা)

একচেটিয়া বুকের দুধ খাওয়ানো ও পুষ্টিকর খাদ্য

ধূমপান ও দূষিত বাতাস এড়ানো

নিয়মিত হাত ধোয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা

গুরুত্ব:
বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস মনে করিয়ে দেয়—প্রতিরোধযোগ্য এই রোগে কোনো প্রাণহানি মেনে নেওয়া যায় না। টিকা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অসংখ্য জীবন বাঁচানো সম্ভব।

চলুন সবাই মিলে গড়ি নিউমোনিয়ামুক্ত বিশ্ব, যেখানে প্রতিটি শ্বাস নিরাপদ এবং প্রতিটি জীবন মূল্যবান।

Photos from Doc Pedi's post 08/11/2025

টাইফয়েড ভ্যাকসিন নিয়ে বিস্তারিত...

07/11/2025

রোটা ভাইরাস ভ্যাকসিন দুটি ধরণের দেওয়া হয়:

1) RotaTeq (RV5):
এটি মোট ৩ ডোজে দেওয়া হয়।
বয়স অনুযায়ী ডোজগুলোর সময় হচ্ছে:

১ম ডোজ: ২ মাস

২য় ডোজ: ৪ মাস

৩য় ডোজ: ৬ মাস

প্রতিটি ডোজের মধ্যে কমপক্ষে ৪ সপ্তাহ বিরতি রাখতে হবে।

2) Rotarix (RV1):
এটি মোট ২ ডোজে দেওয়া হয়।

১ম ডোজ: ২ মাস

২য় ডোজ: ৪ মাস

এক্ষেত্রেও দুই ডোজের মধ্যে কমপক্ষে ৪ সপ্তাহের ব্যবধান রাখতে হবে।

রোটা ভাইরাস ভ্যাকসিনের সব ডোজ ৮ মাস বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই সম্পূর্ণ করতে হবে।
৮ মাসের পর এই ভ্যাকসিন আর দেওয়া যায় না।
#শিশু_স্বাস্থ্য #শিশু_বিশেষজ্ঞ #ডাক্তার #শিশু_চিকিৎসা #পেডিয়াট্রিক #শিশু_সেবা #শিশুর_স্বাস্থ্য_পরামর্শ #মায়েদের_জন্য_টিপস

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Faridpur?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Website

Address


Diabetic Association Medical College
Faridpur