Mahabub Owen's Story

Mahabub Owen's Story

Share

হেল্লো গাইস। কেমন আছেন৷ আশা করি ভালো?

05/09/2021

গল্পঃ #ধোঁয়াশার_খোলাশা
পর্বঃ #০১
লেখকঃ #মাহবুব_রহমান (নতুন লেখক)

হাতে জীববিজ্ঞান বই এবং কাঁদে ব্যাগ ঝুলিয়ে রওনক ভার্সিটির গেট দিয়ে ভার্সিটি তে প্রবেশ করলো । সে শরীরে ফর্মাল ড্রেসপড়ে রয়েছে। সাদা ফুল হাতা শার্ট একটা কালো প্যান্ট কালো বেল্ট ও কালো ঘড়ি। দেখে মনে হচ্ছে ভার্সিটির একজন ছাত্র। কিন্তু সেটা সত্যি নয় সে হচ্ছে গোয়েন্দা বিভাগের হেড জনাব রওনক চৌধুরী। সবাই তাকে নীলাদ্রি গোয়েন্দা বলে চিনে । কিন্তু মুখ দেখেনি আজ পর্যন্ত কেউই।

রওনকের পর আরো দুইজন ছেলে ভার্সিটির ভিতরে ঢুকলো , একজনের নাম জাফর আর অন্যজনের নাম শামীম। তারা দুইজন ও গোয়েন্দা বিভাগ এর দুজন সদস্য। তো দয়া করে আপনারা কিন্তু ওদের পরিচয় কাউকে দিবেন না। কারন ওরা ছদ্দবেশ নিয়ে এই ভার্সিটিতে এসেছে। কেন এসেছে তা আপনারা পরে জানতে পারবেন।

প্রতিটি ভার্সিটির মত এই ভার্সিটিতেও একই অবস্থা। কোন নতুন ছেলে দেখলে কিছু বখাটে রা রেগিং করা শুরু করে দেয়। এখানে ও একইভাবে রওনককে দেখার সাথে সাথে কিছু বখাটে ছেলেপেলে রওনককে ডাক দিলো,
" এইযে ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট এদিকে আসো।"

ছেলে গুলোর ডাক শুনে রওনক কিছুটা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকালো ।

রওনকের তাকানো দেখে ছেলেগুলো বুঝতে পারলো রওনক কিছুটা বিভ্রান্ত হয়েছে। রওনককে কি তারা ডাকছে কিনা । ছেলেগুলো আবার বলল,

"হ্যাঁ তোমাকে ডাকছি বাছা ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট এসো এদিকে এসো ।"

রওনক ছেলেগুলোর কথা শুনে ওদের কাছে এগিয়ে এগিয়ে গেলো । জাফর ও শামীম রওনকের পিছে পিছে ছেলেগুলোর কাছে আসতে নিচ্ছিলো তখনই রওনক তার ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিল যে তারা যেন রওনকের কাছে না আসে।

রওনক ছেলেগুলোর কাছে যেতেই, ছেলেগুলোর মধ্য থেকে একটা ছেলে রওনকের ঘাড়ে হাত দিয়ে বললো,

" এই তুই বড় ভাইদের দেখে গুড মর্নিং বললি না কেনো?" এটা কি তোদের দেশের কলচার নাকি?"

কাথাটি মালোশিয়ান ভাষা "মালয়" এ বললো। আপনাদের সুবিধর্থে বাংলায় করে দিলাম।

ছেলেটির কথা শুনে রওনক কিছুটা ঘাবড়ে যাওয়ার ভাব নিয়ে বললো,

" না না। সরি আমার ভুল হয়ে গেছে। প্লিজ আমাকে মাফ করে দিন৷"

তখন আবারো ছেলেগুলোর মাঋ থেকে অন্যজন বললো,

" মাফ করতে পরি এক শর্তে"

" কি শর্তে আমাকে মাপ করবেন ভাইয়া?"

"আমাদের কে ৫০০ রিংগিত দিতে হবে৷ "

(রিংগিত হলো মালোশিয়ার মুদ্রার নাম। ১ রিংগিতে বাংলাদেশের প্রায় ২০.৩৮ টাকা)

" আমি কেনো আপনাদের ৫০০ রিংগিত দিবো?"

" তুই আমাদের সাথে বিয়াদবি করেচছ তাই। আর যদি এই ভার্সিটিতে পড়তে চাস তাহলে আমাদেরকে এই রিংগিত দিয়েই তোকে ভার্সিটির ভিতরে প্রবেশ করতে হবে৷ "

" আমি দিবো না?"

রওনকের এই কথা শুনে ছেলেগুলোর লিডার বলে উঠলো।

" তাহলে আমি ও দেখি কি করে তুই৷ এই ইউনিভার্সিটি তে পড়িস। "

ও আপনাদের তো বলা হয়নি রওনক মালোশিয়ার অন্যতম ইউনিভার্সিটি " ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ মালয়েশিয়া" এ ভর্তি হয়েছে শুধু মাত্র কিছু গোপন তথ্য সংগ্রহ করার জন্য এবং.. না থাক পড়েই জনবেন। এখন জানলে গল্পে মজা পাবেন না।

[মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ মালয়েশিয়া হলো একটি পাবলিক রিসার্চ বিশ্ববিদ্যালয় যা মালয়েশিয়ার সেলানগরের বন্দর বারু বাঙ্গিতে অবস্থিত।

বিশ্ববিদ্যালয়টির টিচিং হাসপাতাল ইউকেএমএমসি চেরাসে অবস্থিত এবং কুয়ালালামপুরে এর একটি শাখা ক্যাম্পাসও রয়েছে। এটি মালয়েশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে একটি।

বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বের সেরা ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয় এবং মালয়েশিয়ার সেরা ১০ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত।

এক নজরে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ মালয়েশিয়া
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্ক(২০২১): ৬০১-৮০০
মালয়েশিয়া র‍্যাঙ্ক(২০২১): ৩
ধরনঃ পাবলিক রিসার্চ ইউনিভার্সিটি
শিক্ষার্থীঃ ২৬,৯৬১ (২০১৬)
স্নাতকঃ ১২,৮৯৭ (২০১৬)
স্নাতকোত্তরঃ ১৪,০৬৪ (২০১৬)
প্রতিষ্ঠিতঃ ১৯৭০
স্থানঃ বন্দর বারু বাঙ্গি, সেলেঙ্গার, মালয়েশিয়া]

ছেলেদের জোড়া জুড়িতে রওনক তার মানিব্যাগ বের করলো ছেলোগুলোকে ৫০০ রেংগিত দেওয়ার জন্য ৫০০ রেংগিত ৷ তখনি পাশে দাড়িয়ে থাকা একটি ছেলে এসে ওদের কে বললো,

" এই তোমাদের সমস্যাটা কি হুম? তোমারা ওর কাছে রেংগিত চাইতেছো কেনো?"

" আমরা নিবো তাই চাইছি৷ তোকে এখানে তোর নাক না গলালেও চলবে। "

"ওহ তাই নাকি।"

কথাটি বলেই ছেলেটি ওদের লিডারের নাক বরাবর জোড়ে একটা ঘুসি দিয়ে নাক ফাঁটিয়ে দিলো। আর তখনি ক্লাস শুরু হওয়ার বেল পরে গেলো। ওখানকার নিয়ম হলো। যদি ক্লাসের ঘন্টা পরে যায় তহলে কেম্পাসে কোন স্টুডেন্ট থাকতে পারে না।

ছেলেগুলোর লিডার সেখান থেকে চলে গেলো। আর ইশারায় বুঝিয়ে গেলো যে আমাদের দেখে নিবে৷

ছেলে গুলো যাওয়ার পর শামিম ও জাফর রওনকের কাছে আসলো। এবং শামিম বলতে লাগলো,।

" আমাদের আসতে মানা করছিলি কেনো? ওদের কে বুঝিয়ে দিতম কত ধানে কত চাল। শালারা নিজেদের কি যে মনে করে আল্লাহ ই ভালো যানে। "

শামিমের কথাশুনে রওনক বললো,

"প্রথমত আমরা বাংলাদেশী৷ আর আমরা এখানে একটা কাজে এসেছি৷ এখন যদি এখানে ঝামেলা করি তাহলে তো হবে না তাই না? "

রওনক কথাটা বাংলায় বললো। যেনে পাশে থাকা ছেলেটা রওনকের কথা না বুঝে। কিন্তু কোনে লাভ হলো না। মালোশিয়ান ছেলেটা রওনকে কথা শুনে বলে উঠলো,

" তোমরা কি বাংলাদেশী?" (কথাটা বাংলাতেই বললো)

" হ্যাঁ আর তুমি ও তো দেখি বাংলা বলতে পাড়ো। কিন্তু তোমাকে দেখেতো পুড়াই মালোশিয়ান মনে হয়। "

রওনক ছেলেটিকে জবাব দিয়ে পুনরায় প্রশ্ন ছুড়ে দিলো৷

রওনকের জবাবে ছেলেটি বললো,

" না আমি বাংলাদেশী না, কিন্তু আমার মা বাংলাদেশী৷ ওনার থেকেই আমি বাংলা ভাষা শিখেছি। "

রওনক ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলো।

" আচ্ছা তোমার নাম কি?"

" আমার নাম আগষ্ট। আর আপনাদের নাম কি? "

" আমার নাম মোঃ রওনক হাসান, ওর নাম শামীম হোসাইন। এবং তার পাশের জন জাফর ইকবাল।

( রওনক তার হাতের আঙ্গুল দিয়ে জাফর এবং শামীমকে দেখিয়ে দিয়ে কথাটি বলল। )

অগাস্ট বলল,

"আচ্ছা এখন আমরা এখানে দাঁড়িয়ে না থেকে ক্লাসে যাই। "

" অগাস্ট তুমি কোন ইয়ারে পড়ো? " রওনক অগাস্ট কে প্রশ্নটি করল।

রওনকের প্রশ্ন শুনে অগাস্ট উত্তরে বলল,

" আমি থার্ড ইয়ারে পড়ি। আমার সাবজেট জীববিজ্ঞান। আর তোমরা? সরি প্রথম দেখাতেই তুমি বলে ফেললাম।" (মুচকি একটা হাসি দিয়ে)

অগাস্ট এর কথা শুনে শামিম বললো,

" আমরাও থার্ড ইয়ারে পড়ি। তাহলে তো ভালোই হলো, তুমি আমাদের পথে চিনিয়ে নিয়ে যাবে আমরা কোন ক্লাসে যাবো তা দেখিয়ে দিবে ।"

" আচ্ছা চলো তাহলে। তোমাদের আমি ক্লাসে নিয়ে যাই। "

এরপর তারা চারজন ক্লাসের দিকে যেতে লাগলো। প্রায় পাঁচ মিনিট হাঁটার পর তারা সকলেই ক্লাসের মধ্যে প্রবেশ করলো । ক্লাসে এখনো প্রফেসর এসে উপস্থিত হয়নি। শামীম এবং জাফর ক্লাস রুমের একদম পিছন দিকটাই বসলো । আর রওনক এবং অগাস্ট সামনের দিকটায় বসলো।

অগাস্ট কে দেখে পাশের সিটে বসে থাকা একজন মালয়েশিয়ান মেয়ে হাতে একটা ফুল নিয়ে এসে অগাস্টের সামনে ধরে বলল,

" I love you August.. I relly love you. Do you love me...

রওনক মালোশিয়ান ভাষায় উত্তর দিলো,

"সায়া সায়াং আওয়াক সেবাগাই কাকাক"
অর্থ, আমি ও তোমাকে ভালোবাসি বোন হিসাবে।

অগাস্টের এই কথা শুনে ক্লাসের সকলে হো হো করে হেঁসে দিলো। কেনো হাঁসলো তা আমার অজানা৷ মেয়েটি অগাষ্টকে আর কিছু না বলে পুনরায় তার টেবিলে বসলো।

প্রায় ১০ মিনিট হয়ে গেলো ক্লাসে এখনো প্রফেসর আসেনি ক্লাস নেওয়ার জন্য৷ সকলে চিন্তিত হয়ে পরলো৷ কারন এর আগে কোন দিন প্রফেসর এতো লেট করেনি৷

বেশ কিছুক্ষণ পর অন্য একজন শিক্ষক ক্লাসে আসলে সকলেই বেশ অবাক হয়।

রওনক অগাস্ট এর দিকে তাকিয়ে ওর কানে কানে বললাম,

" অগাস্ট কাহিনিটা কি? সকলেই এই ভাবে স্যার এর দিকে তাকিয়ে আছে কেনো?"

" কারন ইনি অনেক আর্সের ক্লাস নেন। কিন্তু এটা সাইন্স এর ক্লাস। তাই সবাই এমন অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। "

" তো সাইন্সের প্রফেসর কই"

" এটা তো আমারো অজানা।"

" আচ্ছা স্যার কে জিজ্ঞেস করলেই তো হয়।"

" হুম আচ্ছা কর। "

" স্যার আমার একটা প্রশ্ন ছিলো?"

" কি প্রশ্ন তোমার বলো।"

"স্যার আমাদের প্রফেসর কোথায় সে কি আজ অসুস্থ নাকি? "

" আচ্ছা এই বিষয়ে তোমাকে পড়ে বলবো নি। এখন আপাদত সকলে বই বের করো। "

স্যারের এড়িয়ে যাওয়াতে আমার বুঝতে বাকি রইলোনা যে স্যার কিছু লুকাতে চাচ্ছে। স্যার আর জোর করলাম না। আমি আমার সিটে আবারো বসে পরলাম।

স্যার পড়াচ্ছেন কিন্তু আমি অন্য চিন্তা করছি। কারন আমার প্রথম টার্গেট ছিলো প্রফেসর জনাব ইকরামত উল্লাহ এর উপর৷ যিনি এখন ক্লাসে আসার কথা ছিলো। কিন্তু সে আসেনি।

" কি হলো রওনক এক ধ্যাঁনে কই তাকিয়ে আছো?" অগাস্ট তার হাত দিয়ে জোড়ে রওনককে ধাক্কা দিয়ে বললো।

" কই না তো। ক্লাসের দিকেই মন দিয়ে আছি। "

" ওহ তাহলে কোন ক্লাসে মন দিয়ে আছে?"

রওনক স্যারকে দেখাতে যাবে তখনি খেয়ার করলো যে স্যার ক্লাসে নেই৷ তখন অগাস্টকে জিজ্ঞেস করলো,

" এই স্যার কোথায়?"

" স্যার তো সেই কখনই চলে গেছে। আর তোমার না মনোযোগ ক্লাসে ছিলো, তাহলে কেনো খেয়াল করোনি যে স্যার চলে গেছে সেই কখন?"

" আসলে একটা কথা ভাবতেছিলাম। "

" কি কথা, আমাকে বলো?"

" না থাক কিছুনা৷ "

কথাটা বলে রওনক বসা থেকে উঠে গেলো।

অগাস্ট মনে মনে বললো, গোয়েন্দা নীলাদ্রি ভালোই তো অভিনয় করতে পারো। দেখি তোমার অভিনয় কতক্ষন থাকে। হা হা হা হা৷ এই কেসে তুমি আমাকে খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হয়ে যাবে। কিন্তু তোমার নাকের ঘোরায় আমি তাকার পরেও আমাকে খুঁজে পাবেনা। এইটাই আমার চেলেন্জ।

চলবে.........

ভুল ত্রুটিতো মানুষেই করে তাই প্লিজ গালাগাল না দিয়ে তা ঠিক করার উপদেশ দিবেন। দেখা হবে পরবর্তী পর্বে৷ আল্লাহ্ হাফেজ।

17/08/2021

#নিস্তব্ধতা_শুধু_তোমাকে_ঘিরে।
লেখকঃ মাহবুব রহমান শুভ।

পর্বঃ১

না বাবা না আমাকে আর মারিয়েন না আমি। আমি আর আপনার মার সহ্য করতে পরছিনা। প্লিজ বাবা আমাকে আর মারিয়েন না।

জনাব তৌসিফ শাহরিয়ার তার ছেলে রায়হানকে ডাইনিং রুমে তার নিজের পরনের বেল্ট দিয়ে অঝোরে বাড়ি দিচ্ছে আর বলছে।

" তোর মতন এমন বেয়াদব ছেলে যেনো আল্লাহ আর কারো কোলে না দেয়। "

জনাব শাহরিয়ার বারংবার কথাটা বলছে আর রায়হান কে মারছে। রায়হানের পিট দিয়ে যে রক্ত বের হচ্ছে তা সম্পুর্ন বুঝা যাচ্ছে তার সাদা গেন্জির উপর থেকে৷

রায়হানের মা মনোয়রা বেগম দেওয়ালের পাশে থাকা ড্রেসিং টেবিলের পাশে দাড়িয়ে তার আচঁলটা মুখের উপর রেখে কান্না করছে। মনোয়ারা বেগম কান্না ছাড়া আর কিই বা করবে সে তো এখন নিরুপায় কারন তার স্বামির উপরে যে সে একটাও কথা বলতে পারবে না।

মনোয়ারা বেগম আর সহ্য করতে না পেরে চলে গেলো তার নিজের রুমে। সেখানে গিয়ে বালিশ টা তার মুখের উপর চেপে ধরে কান্না করতে লাগলো। কান্না করতে করতে চোখের কাজলে বালিশ টা লেপ্টে গিয়েছে৷

" মা মা বাবা না ভাইয়াকে ছাঁদে নিয়ে গিয়েছে। ভাইয়া না কোনো নারা চরা করতেছেনা। "

৪ বছরের বাচ্চা মিরা দৌড়ে এসে মনোয়ারা বেগম কে কথাটা বললো। মিরা হলো জনাব শাহরিয়ার এবং মনোয়ারা বেগমের সন্তান। আর রয়হান হলো শুধু মনোয়ারা বেগমের সন্তান। রায়হানের বাবা ৭ বছর আগে একটা রোড এক্সিডেন্টে এ মারা যায়।

ছোট্ট মিরার কথাটি শুনে এক দৌড়ে মনোয়ারা বেগম ঘরের বাহির হলো। এবং বাহিরে গিয়ে দেখলো রায়হান আর জনাব শাহরিয়ার ডাইনিং রুমে নেই। মনোয়ারা বেগম এই দৃশ্য দেখে আবারো ছাদের দিকে দৌড় দিলো। ছাদে গিয়ে মনোয়ারা বেগম দেখলো জনাব তৌসিফ শাহরিয়ার রায়হান কে ছাদ থেকে ফেলে দিচ্ছে। একটা মায়ের জন্য যা দেখা মরনের সমান৷ মনোয়ারা বেগম আর দাড়িয়ে না থেকে সোজা শাহরিয়ার এর পায়ে ধরে বলতে লাগলো,

"আল্লাহর দোহাই লাগে তুমি আমার ছেলেটাকে মেরে ফেলোনা৷ আমি কথা দিচ্ছি তোমাকে যে কাল সূর্য উঠার আগেই আমি রায়হান কে বাড়ি থেকে বের করে দিবো। আর এটাও বলে দিবো যে ও যেনো তার মুখ তোমাকে আর না দেখায়। তবুও প্লিজ তুমি ওকে মেরো না। "

মনোয়ারা বেগমের আকুতি ভরা কন্ঠ শুনে জনাব তৌসিফ শাহরিয়ার রায়হানকে ছাঁদের মেঝেতে রেখেদিলো। আর যাওয়ার সময় বলে গেলো,,

" সূর্য উঠার আগে যেনো চলে যায়। "

মনোয়ারা বেগম চোখে অশ্রুনিয়ে ১৪ বছরের রায়হান কে কোলে তুলে নিয়ে রায়হানের চিলেকোঠার রুমে নিয়ে গেলো৷ এরপর রায়হানকে তার বিছানায় শুয়ে দিলো। এবং মনোয়ারা বেগম নিচে চলে গেলো গরম পানির আর মলম আনতে। রায়হানের শরিরে যে মলাম লাগাতে হবে সেই জন্য৷

১০ মিনিট পর মনোয়ারা বেগম গরম পানি, খাবারের পানি, মলম, ও ভাত নিয়ে আসলো রায়হানের জন্য। এরপর ধিরে ধিরে রায়হানের পুরো শরির টা গরম পানি দিয়ে ধুইয়ে দিলো মনোয়ারা বেগম। রায়হানের পুরো শরিরে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছিলো। তা ধিরে ধিরে পরিষ্কার করলো। এরপর মলম লাগাতে গেলে রায়হান ওমা মাগো মা৷ ওমা ব্যাথা। আর লাগিও না মা। এইসব বলে চিৎকার করে কান্না কাটি করতে লাগলো৷ ছেলের কান্না দেখে মনোয়ারা বেগমের যেনো বুকটা চিরে যাচ্ছে এমন অবস্থা। আর চোখ দিয়েতো অঝোরে পানি পরছে।

মনোয়ার বেগম তো এটা চায়নি সে তো শুধু রায়হানকে একটা ভালো বাবা উপহার দিয়ে চেয়েছিলো কিন্তু এই উপহার টাই যে আজ রায়হানের জন্য কাল হবে তা কেইবা জানতো। আজ মনোয়ারা বেগম তার বাবাকে মন থেকে খুব বকতেছে।

" আজ বাবার জন্যই এমনটা হয়েছে। বাবা যদি সেই দিন তৌসিফ এর থেকে টাকাটা না নিতো তাহলে তো আর এমন টা হতো না। আমি তো বাবাকে বলেছিলম যে আমি আর বিয়ে করবো না। আমি তো এইটাও বলেছিলাম আমি রায়হানকে নিয়ে অন্য কোথাও থাকবো। কিন্তু সেইদিন বাবা আমার একটা কথাও শুলো না। রায়হান বাবা আমাকে তুই মাপ করে দিস৷ আমি চাইলেও তোকে নিয়ে পালাতে পারবো না। আমি যদি এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাই তাহলে তো ঐ সয়তানটা আমার মা এবং বাবা কে হত্যা করবে৷ আল্লাহ তুমি আমায় পথ দেখাও আমি কি করবো। "

তখন রায়হান বলে উঠলো," মা তোত তোমায় আ আম আমকে নি নি নিয়ে চিন্তা কক করতে হবে না। আ আম আমি চচ চল চলে যা যায যাবো। "

" মনোয়ারা আরে এই মনোয়ারা কোথায় গেলি তুই। এই দিকে আয়। আমার হাত টা যন্ত্রণা করছে তুই আগে আমার হাতটা টিপে দে। "

হুংকার দিয়ে এই কথাটা জনাব তৌসিফ শাহরিয়ার বলে উঠলো৷

জনাব তৌসিফ শাহরিয়ার এর হুংকার শুনে আবারো আতকে উঠলো মনোয়ারা বেগম। কারন এখন যে তার পালা। মনোয়ারা বেগম রায়হানকে রেখেই তৌসিফ শাহরিয়ার এর কাছে চলে গেলো৷ আর বলতে লাগলো৷ " জ্বি বলেন "

মনোয়ারা বেগমের কন্ঠ শুনে তৌসিফ শাহরিয়ার চোখটা খুলে মনোয়ারা বেগমের দিকে তাকালো৷ এবং বলতে লাগলো, " কিরে কই গিয়ে ছিলি তুই। ঐ কুত্তার বাচ্চাটার কাছে বুঝি। আচ্ছা আগে আমার হাত টা একটু টিপে দে হাতটা খুব ব্যাথা করতেছে। "

মনোয়ারা বেগম আর কোন কথা না বলে তৌসিফ শাহরিয়ার এর হাতে মলম লাগাতে লাগলো।

মলম লাগাতে লাগাতে তৌসিফ শাহরিয়ারকে মনোয়ারা বেগম জিজ্ঞেস করল, " আচ্ছা একটা কথা জিজ্ঞেস করতে পারি?"
" কি কথা?"
" আজ রায়হানকে এই ভাবে মারার কারন টা কি? "
" আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই আমি মেরেছি। এখন কি তোকে কইফিয়ত দিতে হবে নাকি? এখন বেশি পেঁচাল না করে আমার হাতটা টিপে দে। "

প্রায় ৩০ মিনিট মনোয়ারা বেগম তৌসিফের হাত টিপে দিলো। এবং মনোয়ারা বেগম দেখলো যে তৌসিফ শাহরিয়ার এর ঘুম চলে এসেছে। তাই আর দেরি না করে রায়হানের রুমে চলে গেলো মনোয়ারা বেগম।

রুমে গিয়ে দেখলো রায়হান ঘরে নেই। ভাতের প্লিটে ভাত রয়েছে। তার পাশেই একটা চিঠি পরে রয়েছে। সেখানে কাঁপা কাঁপা হাতে কিছু লেখা আছে।

" মা যানে আমি না আর এই যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছি। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে এইখানে থাকতে৷ কিন্তু এতো দিন তোমার দিকে তাকিয়ে আমি বাড়ি ছেড়ে যেতে পাড়িনাই। কারন তোমার মুখ খানি দেখলে আমার সব কষ্ঠ যাদুর মতন দুর হয়ে যায়। আর যেহেতু আজ তুমি আমাকে চলে যেতে বলেছো তো আমি আর এখানে থেকে কি করবো। চলে যাচ্ছি আমি। প্লিজ আমার জন্য মন খারাপ করে থেকো না। দেখবে একদিন ঠিকি আমি ফিরে আসবো। সেই দিন তোমার স্বামী আমাকে নিজে এই বাড়িতে আনতে চাইবে আমি আসবো না৷ কিন্তু তোমাকে আমি নিয়ে যাবো আমার সাথে। ভালো থেকে মা। ভালো থেকো।
আর হ্যাঁ আমার জন্য চিন্তা করতে হবে না তোমার আমি যেখানেই থাকবো ভালো থাকবো।

ইতি,
তোমার ছেলে।

চিঠিটা বুকে জরিয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো মনোয়ারা বেগম। হয়তো পৃথিবীতে এর থেকে কষ্টের আর কিছু নেই।

মনোয়ারা বেগম কান্না করতে করতে তৌসিফ শাহরিয়ার এর কাছে গিয়ে বললো।

"এই যে শুনছেন চলে গেছে। রায়হান চলে গেছে। এইবার আপনি খুশি তো। জনাব তৌসিফ শাহরিয়ার "

জনাব তৌসিফ শাহরিয়ার মৃদু একটা হাসি দিয়ে এক হাত মনোয়ারা বেগমের হাতে ধরলো এবং হোঁচকা টান দিয়ে মনোয়ারা বেগম কে তার বুকে টেনে নিয়ে বলতে লাগলো "সরি গো কলিজা আজ থেকে শুরু হবে আমাদের নতুন সংসার without রায়হান। হা হা হা।

চলবে.........

গল্পটা কি চালানোর মতন নাকি বলবেন। ভালো লাগলে পরের পার্ট দিবো আর সারা না পেলে অন্য গল্প দিবো। আাশা করি ভালো লাগবে। পরবর্তী পর্ব আমার পেজে পেয়ে যাবেন সবার আগে। পেজের লিংক কমান্টে থাকবে।

10/08/2021

Hii

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Gazipur?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address


Dhaka
Gazipur
1060