Safia nur bd shop
ভালো কিছু করতে ও ভালোর সাথে থাকতে?
04/11/2025
আসলে মেয়েরা ভাইয়ের বাসায় আসবে, খাবে, বেড়াবে। বাবার সম্পত্তি মেয়েদের নেয়া মানায় না। লোকজন বদনাম করে।
আকবর সাহেব একনাগাড়ে বলে যাচ্ছেন।
তুলি তার চাচার দিকে তাকিয়ে আছে। সে ভাবছে তার বাবা যদি বেঁচে থাকতো তাহলে কি একই কথা বলতো। তাকে তার বাবা অনেক আদর করতো। প্রায় সকাল বেলা তাকে ফোন করে বলতো
তুলি মা তুই কেমন আছিস? ভালো আছিসতো। গতরাতে একটা বাজে স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিলো। আরতো ঘুম আসে না। মনে হলো তোর সঙ্গে অনেকদিন কথা হয় না। তখনই ফোন করতে ইচ্ছে করছিলো। তোর মা বললো এখন বাজে ভোর চারটা। মেয়েটা ঘুমাচ্ছে। তুমি ফোন করে মেয়েটার ঘুম নষ্ট করো না।
তুলি আবার তার আকবর চাচার দিকে তাকায়। কি অবলীলায় এই লোকটি বলে যাচ্ছে তার বাবার সম্পত্তিতে তার কোন অধিকার নেই। সে নাকি খুব ভালো আছে। তার স্বামী নয়নের বেশ ভালো অবস্থা। সে যদি বাবার সম্পত্তি দাবী করে তাহলে লোকজন বলবে তার জামাই লোভী।
আসলে কি নয়নের সঙ্গে সে ভালো আছে? ফ্ল্যাট, গাড়ি থাকা, নানান অনুষ্ঠানে একসঙ্গে হাসিমুখে যাওয়াকেই কি ভাল থাকা বলে?
এই যে নয়ন তাকে প্রতিনিয়ত নানান ধরনের অপমানসূচক কথা বলে তখন যে তার ভীষণ কান্না পায়।
এইতো সেদিন তুলি বাসায় বলছিলো আমার স্কুল জীবনের বান্ধবী নীলা এসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। আমাকে ম্যাসেঞ্জারে বললো ওর এই দেশে তেমন কেউ নেই। আমি কি ওকে এয়ারপোর্ট থেকে পিক করতে পারবো কিনা? আর ও কয়েকদিন আমার বাসায় এসে থাকতে চায়। ছোটবেলায় আমাদের সবাই মানিকজোড় বলতো। এতো বছর পরে ও আসছে।
নয়ন ব্যাঙ্গ করে বললো
গাড়িটাতো তোমার বাবা আমাকে উপহার দিয়েছে যে তুমি তোমার ইচ্ছেমতো ব্যবহার করবে। আমার বাসায় অন্য কোন লোক থাকা আমার পছন্দ না। আমার গাড়ি তোমার বান্ধবীর জন্য না।
তুলির কাছে সেদিন মনে হয়েছিলো এই বাসাটা কোনদিন আমার বাসা থেকে আমাদের বাসা হলো না। এই বাসাটা নয়নের কাছে শুধু তার বাসা হয়ে রয়ে গেলো। বিয়ের পনেরো বছর পরেও বাসাটা নয়ন এবং তুলির হলো না।
বাচ্চারাও বাসায় মায়ের নাজুক অবস্থার কথা বুঝতে পারে। তারা জানে তাদের বাবা;
মা-কে শ্রদ্ধা করে না।
ছেলেটা ছোট বেলায় রিএক্ট করতো। মাকে জড়িয়ে ধরে বলতো
মা চিন্তা করো না। আমি বড় হয়ে নেই। আমি তোমাকে নিয়ে অন্য কোথাও চলে যাবো।
ছেলেটা এখন চুপ হয়ে গিয়েছে। পড়াশুনায় ভালো করতে পারছে না। তাকে কিছু বলতে গেলেই বলবে
ঘরে শান্তি না থাকলে কিভাবে পড়াশুনা করবো?
আর এদিকে ছেলে পড়াশুনায় ভালো না করলে নয়ন পুরো দোষটাই তার উপর চাপিয়ে দেয়। বাসায় রীতিমত চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে
তুমি বাসায় করোটা কি? চাকরী করো? ব্যবসা করো? কি করো? বাচ্চাদের দেখতে পারো না। পড়াশুনা দেখিয়ে দিতে পারো না? তোমার বাবাতো বিয়ের সময় খুব বলেছিলো আমার মেয়ে খুব মেধাবী ছাত্রী। সবসময় খুব ভালো রেজাল্ট করেছে।
আমি বুঝি না একজন বয়স্ক লোক মেয়ে বিয়ে দেয়ার জন্য এমন মিথ্যা কিভাবে বলে?
তুলি বারান্দায় বসে বসে কাঁদতো। সে কি কম চেষ্টা করেছে তার ছেলে, মেয়ের জন্য। মেয়েটা তাও ভালো করছে। কিন্তু ছেলেটা ক্লাসে ভালো করলেও কেন জানি পরীক্ষা হলে গিয়ে ভালো করতে পারে না। সে কয়েকবার নয়নকে বলেছে
আমার মনে হয় ছেলেটাকে একটু কাউন্সেলিং করা দরকার। এই বিষয়ে অভিজ্ঞ কারো কাছে নিয়ে যাওয়া উচিৎ। পরীক্ষা হলে গিয়ে ও ভয়ে লিখতে পারে না।
সেটা শুনে বরং নয়ন খেপে গিয়ে বলেছে
তুমি যেমন পাগল। তোমার চিন্তা ভাবনাও পাগল। নিজে ছেলের টেক কেয়ার করতে পারো না। এখন আবার বলছো ডাক্তারে কাছ নিয়ে যেতে। তাও আবার পাগলের ডাক্তার। আসলে আমার তোমাকে পাগলা গারদে রাখা উচিৎ। তোমার উপযুক্ত স্থান সেখানেই।
তার বাবা, মা-মাঝেমধ্যে মেয়ের বাসায় আসতো। মা বুঝতে পারতো কিনা সেটা তুলি জানে না কিন্তু বাবা হয়তো কিছুটা বুঝতে পারতো। প্রায় তাকে জিজ্ঞেস করতো
মা তুই সুখী হয়েছিসতো?
তুলির যে কি হতো? তার সবসময় মনে হতো বাবাকে টেনশন দেয়া যাবে না। বাবা হাইপারটেনশনের রোগী।
সে হাসি মুখে বলতো
এইতো বাবা আমি ভালোই আছি।
এই যে সে ভালোর সঙ্গে একটা “ই” অক্ষর যুক্ত করতো কেউ তাকে কোনদিন জিজ্ঞেস করেনি
মা-রে ভালোই কেন? শুধু ভালো না কেন?
যেদিন তার বাবা, মা এই বাসায় আসতো সেদিন নয়ন ফিরতো অনেক রাত করে। ইচ্ছে করেই দেরী করতো। যদিও সামনা সামনি সে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতো না। কিন্তু আবার খুব বেশী কথাও বলতো না। বাবা, মা বেরিয়ে গেলে তখন তার আসল রূপ বের হতো।
চিৎকার করে বলতো
তোমার বাবা, মা-কে খাইয়ে খাইয়েতো আমার টাকা শেষ করে দিচ্ছো। আমি কি তোমার বাবা, মা-কে খাওয়ানোর জন্য চাকরী করি?
তুলি বুঝতে পারেনা নয়ন কত জায়গায়, কত পার্টিতে দুই হাতে টাকা উড়ায় কিন্তু তুলির ব্যাপার আসলেই তার যেন টাকা নেই। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গেলে তার টাকার অভাব নেই। সোশ্যাল স্ট্যাটাস রক্ষা করতে তার টাকার অভাব নেই। কোন বন্ধুকে খাওয়াবে, কোন বান্ধবীকে জন্মদিনের উপহার দিবে, কোন কলিগের সঙ্গে পিকনিক করতে ব্যাংকক যাবে। সেই ক্ষেত্রে টাকার অভাব নেই।
কিন্তু তুলির বেলায় তার টাকা থাকে না।
এমনকি কখনো তার অসুখ হলে, সে অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকলেও তাকে ডাক্তারের কাছে নিবে না। মুখের উপর বলে দিবে
তোমার অসুখের পিছনে টাকা খরচ করার মতো বাজে টাকা আমার নেই।
তুলি বহুবার চিন্তা করেছে এইভাবে কি সংসার করা যায়? সে কি নিজে কিছু করার চেষ্টা করবে? কিন্তু সে কোন কুল কিনারা পায়নি। তার চাইতে বরং মনে হয়েছে
এভাবেই হয়তো কেটে যাবে দিন। কারো কাছে তার অভিযোগ করতেও ইচ্ছে করে না। কি হবে অভিযোগ করে। সবাই বলবে আরে জামাইরা এমন একটু হয়। তুমি একটু মানিয়ে নাও। একসময় সব ঠিক হয়ে যাবে।
কিন্তু সেই একসময় আর আসে না।
তুলির বাবা মারা গিয়েছে এক বছর। সম্পত্তি নিয়ে কথা উঠার পর থেকে তার ছোট ভাইয়ের বউ নানান জনকে নানান কথা বলা শুরু করেছে।
সে বলতে শুরু করেছে
আমরাতো ভাইয়ের সম্পত্তি নেই নাই। এটাইতো সামাজিক সংস্কৃতি। তুলি কেন নিবে? সম্পত্তি সব আনিসের নামে লিখে দেওয়া উচিৎ।
তুলি অবাক হয়ে দেখেছে তার মা-ও ছেলের বউয়ের পক্ষে কথা বলা শুরু করেছে। তাকে একদিন ফোন করে বলেছে
তুলি আনিসের বউ, তারপর তোর চাচা, ফুপুরাও বলছে তুলি কেন সম্পত্তি নিবে? সেতো ভালো আছে। সুখে আছে। আর এই বংশে বোনেরা ভাইয়ের সম্পত্তি নেয় না। এলাকার লোকজন ছি ছি করে।
তুলি কিছুই বলতে পারে না। তার ভীষণ মন খারাপ হয়। কিভাবে সম্পর্কগুলো বদলে যায় এক নিমিষেই এটাই সে বুঝে না। কিভাবে মানুষ ভীষণ স্বার্থপর হয়ে উঠে। সে শুধু তার মা-কে বলেছে
আম্মা তোমরা যেটা ভাল মনে করো সেটাই করো। আমার কিছু বলতে ইচ্ছে করছে না।
তার মা তার এই অভিমানের কথা বুঝতে পারে কিনা সে জানে না। তার চাচা মিটিং এর ডাক দেয়। আর এখন সে সেই মিটিং এ বসে তার চাচার দিকে সে বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
আজকে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় নয়ন বলেছিলো
বাপের বাড়িতে যাচ্ছ এমনভাবে মনে হচ্ছে তোমাকে রাজরানী করে রাখবে। ওরা তোমাকে বিন্দুমাত্র বেইল দেয় না।
তুলির চোখের কোনে সেই যে জল জমেছে এখন আকবর চাচার কথা শুনতে শুনতে চোখের কোন বারবার ভিজে যাচ্ছে।
ঠিক তখনই তুলির একমাত্র ভাই আনিস ঘরে ঢুকে। সে তার চাচাকে বলে
চাচা এটা কি বললেন? আমার বোন সম্পত্তির মালিক হবে না মানে? আমার বোন অবশ্যই সম্পত্তির মালিক হবে। আমার বাবা বেশ সম্পত্তি রেখে গিয়েছেন। আমার সঙ্গে উনার এই ব্যাপারে কথা হয়েছিলো। আমাদের উত্তরখানের চার তালা বাড়িটা আমার বোন তুলি পাবে।
সবাই মৃদু চিৎকার করে উঠে।
কি বলছো আনিস? আকবর চাচা ভিরমি খান।
তাহলেতো ও তোমার অর্ধেকের চাইতে বেশী পেয়ে যাবে।
সেটাতো আমি বুঝবো চাচা। এটা আমাদের ফ্যামিলির ব্যাপার। আমি জানি আপনি এবং আম্মা; দুজনেই আমার বউয়ের প্ররোচনায় এমন কাজ করতে বসেছেন। আসলে ও নিজে বঞ্চিত হয়েছে তাই ও এমনভাবে ভাবছে। কিন্তু আমার বোনকে বঞ্চিত করার কোন প্রশ্নই আসেনা। আমি আমার বউ-কে বুঝিয়ে বলবো।
মিটিং সেখানেই শেষ হয়ে যায়। সবাই জানে আনিস বেশ একরোখা ছেলে।
তুলি সংকোচে ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে পারে না। আনিসই তাকে ধরে বারান্দায় নিয়ে বসায়।
আপু তুই আমাকে ক্ষমা করে দিস। আমিও জানতাম ওরা এমন কিছু করতে যাচ্ছে। সবাই আমাকে বুঝিয়েও ফেলছিলো।
তুই সুখে আছিস। তোর আসলে লাগবে না।
আমিও তাই ভেবে নিয়েছিলাম।
কিছুদিন আগে একটা ক্লাবে আমি দুলাভাইকে দেখেছিলাম। তোর কথা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ঠাট্টা, তামাশা করছে। সেদিন আমি বুঝে ফেলেছি যে তুই আমাদের শুধু তোর কৃত্রিম হাসিটাই দেখিয়েছিস। তোর বুকের কষ্ট আমাদের দেখাসনি।
তুলির খুব কান্না পাচ্ছে।
আনিস বলে যাচ্ছে
তোর মনে আছে আপু একদিন ঝড় বৃষ্টির দিনে। আমরা রাস্তা দিয়ে বাসায় ফিরছি। প্রচণ্ড বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। আমি ভীষণ ভয় পাচ্ছিলাম। তুই আমাকে জড়িয়ে ধরে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করছিলি
বজ্রপাত হলে যেন তোর উপর হয় আমার উপর যেন কিছু না আসে।
তোর মনে আছে আপু?
খেতে বসলে তুই মা-কে বলতি
আগে ওর পছন্দের জিনিস ও নেক তারপর আমি নিবো।
আপু আমাকে ক্ষমা করিস। আমি তোর যথাযথ খবর রাখতে পারিনি। আজ আমি তোকে বলছি বাবার যে জিনিসই তোর পছন্দ তুই আগে নিবি। তারপর আমি নিবো।
তাদের মা-ও এসে তাদের জড়িয়ে ধরে বলছে
আমি খুব খুশী আমার ছেলে মেয়ে এক আছে।
এরমধ্যে তুলির ফোনে নয়নের ফোন
নয়ন ফোনে চিৎকার করছে
সেই কখন গিয়েছো। এখনো ফিরো নাই। তোমার জন্য বাসার গেট বন্ধ। তোমার আর আসার দরকার নেই।
তুলি আজকে দাঁত চিবিয়ে বললো
নয়ন আমি আজ ফিরবো না। আর কখনো ফিরবো কিনা তা আমি ভেবে দেখবো। আমি আমার বৃষ্টির দিনের ছাতাটা অনেক বছর আগে হারিয়ে ফেলেছিলাম। আজ সেই ছাতা আমার জীবনে অনেকগুলো হয়ে ফিরে এসেছে।
তুলি ফোন কেটে দেয়।
আজ তার ভীষণ কাঁদতে ইচ্ছে করছে। ভীষণ কাঁদতে ইচ্ছে করছে।
ভাইবোন
আমিনুলের_গল্প_সমগ্র
লেখক : Aminul Islam
লেখাটি ভালো হয়ে থাকলে ছোট করে একটি গঠনমূলক কমেন্ট করবেন প্লিজ।
27/05/2022
একা
04/04/2022
সপ্ন
09/12/2021
অপেক্ষা নয়, এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়
05/12/2021
সতেজতার সাথে সঠিক পথে।
ভাল পন্য/আমাদের জন্য
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Website
Address
Noyapara, Bangla Bazar, Mirzapur
Gazipur
