Ayatul Arba Srija
Active 1 year`s ago
,,,★KÛMKÛM ÂRÃ,,★
,,❤️★Alhamdulillah For Everything,, 🥰★ Im a students
20/02/2024
#ফ্লোরেনসিয়া_সিজন_২
#কালেক্টেড_মুহু
সকল পর্বের লিংক একসাথে।🌸
পর্ব ১
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=279603968315627&id=100087980767873&mibextid=9R9pXO
পর্ব ২
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=280836518192372&id=100087980767873&mibextid=9R9pXO
পর্ব ৩
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=282043264738364&id=100087980767873&mibextid=9R9pXO
পর্ব ৪
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=283738754568815&id=100087980767873&mibextid=9R9pXO
পর্ব ৫
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=284963297779694&id=100087980767873&mibextid=9R9pXO
পর্ব ৬
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=286248810984476&id=100087980767873&mibextid=9R9pXO
পর্ব ৭
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=287485774194113&id=100087980767873&mibextid=9R9pXO
পর্ব ৮
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=290209783921712&id=100087980767873&mibextid=9R9pXO
পর্ব ৯
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=291522013790489&id=100087980767873&mibextid=9R9pXO
পর্ব ১০
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=292866903656000&id=100087980767873&mibextid=9R9pXO
পর্ব ১১
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=294054713537219&id=100087980767873&mibextid=9R9pXO
পর্ব ১২
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=295983000011057&id=100087980767873&mibextid=9R9pXO
পর্ব ১৩
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=297323836543640&id=100087980767873&mibextid=9R9pXO
পর্ব ১৪
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=298544569754900&id=100087980767873&mibextid=9R9pXO
পর্ব ১৫
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=300338446242179&id=100087980767873&mibextid=9R9pXO
পর্ব ১৬
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=301510369458320&id=100087980767873&mibextid=9R9pXO
পর্ব ১৭
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=302691516006872&id=100087980767873&mibextid=9R9pXO
পর্ব ১৮
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=304342452508445&id=100087980767873&mibextid=9R9pXO
পর্ব ১৯
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=30540797
#ফ্লোরেনসিয়া_সিজন_২
#লেখিকাঃLamia_Tanha
#পর্বঃ১
[অনুমতি ব্যতীত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, চাইলে শেয়ার দিয়ে পাশে থাকতে পারেন]
বর্তমান__________
সাল, ১৮৭১।
ইউক্রেন। ইউরোপ মহাদেশের একটি প্রত্যন্ত প্রদেশ। অতীতে এমন একটা সময় ছিলো, যখন ইউক্রেনে বসবাসকারী মানুষগুলোর উপর ভয়াবহ অভিশাপ নেমে আসে। দিকে দিকে অসংখ্য অগনিত মানুষের মৃ'ত্যু হতে শুরু করে। সেই দিনগুলোর প্রতিটা মূহূর্ত ছিলো ভয়াবহ নরক যন্ত্রণার মতো। যুগে যুগে পৃথিবীতে যেমন অশুভ শক্তির আগমন ঘটে, তেমনি আবির্ভাব হয় কিছু শুভ শক্তির। শুরু হয় শুভ-অশুভের যুদ্ধ। যেখানে বরাবর অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে জয়ী হয় শুভ শক্তি।
আজ থেকে দেড়শো বছর আগে, ইউক্রেনের বুকে আগমন ঘটে কিছু র'ক্তচোষা পি'শাচদের। ওরা সাধারণ মানুষগুলোর উপর ভয়াল নৃশংসতা চালায়। ধীরে ধীরে মানুষগুলো সব মৃ'ত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে অদম্য হৃদয় বিদারক আহাজারি। রাত-বিরেতে জায়গায় জায়গায় খুঁজে পাওয়া যায় মানুষের রক্তশূন্য মৃ'ত লাশ। শ'য়তানের অনুসারী র'ক্তচোষা পি'শাচগুলো এই পর্যন্তই থেমে থাকেনি। নিরীহ মানুষগুলোর শরীরের সমস্ত রক্ত শুষে খেয়ে মে'রে ফেলার পাশাপাশি অধিকাংশ মানুষগুলোকে নিজেদের মতই রক্তপিপাসুতে পরিনত করেছিলো ওরা। উদ্দেশ্য ছিলো ঈশ্বরের অনুসারীদের ধ্বংস করে শয়তানের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা।
ইউক্রেনের প্রতিটা শহর, প্রতিটা গ্রাম মৃ'ত্যুপুরীতে রুপান্তরিত হচ্ছিলো। মানুষগুলো বাঁচার জন্য আকুলি বিকুলি করে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে বলেছিলো, এমন কাউকে পাঠাতে যে কিনা র'ক্তপিপাসু নামক শ'য়তানগুলোর শিকার হওয়া থেকে তাদের রক্ষা করতে পারে। ঠিক সেই সময় মহান সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন কিছু শুভ শক্তির মানব-মানবীকে। যাদের মধ্যে দু'জন মানব-মানবীর জন্ম হয়েছিলো ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি ক্যাসল, ক্যাসল স্যাভেরিনে।
★★
খারকিভ, ওয়াভেল কোট।
ইউক্রেনের একটি শহর খারকিভ থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ওয়াভেল কোট। যার অধিপতি ছিলো র'ক্তপিপাসুদের ওভারলর্ড ক্লিভল্যান্ড এদুয়ার্দো স্যাভেরিন। এই মূহুর্তে দুর্গের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ারে দাঁড়িয়ে ছিলো সে। বেশ কিছুক্ষণ সময় গড়িয়ে গেছে।
নিস্তব্ধ রাত। অন্ধকারের অতল গহ্বরে তলিয়ে গেছে প্রকৃতি। চারপাশে অস্বাভাবিক নীরবতা বিরাজ করছে। এদুয়ার্দোর মুখখানা ভয়াবহ থমথমে। শিরশিরে বাতাস বইছে। শতাব্দী প্রাচীন অদ্ভুতুরে এই দুর্গের পাথুরে দেয়ালগুলোতে বীভৎস কালো কুচকুচে দেখতে অগনিত রাক্ষুসে বাদুড় ঝুলে আছে। কতগুলো আবার ডানা ঝাপ্টে উড়ে বেড়াচ্ছে। যেন ওরা হন্যে হয়ে নিজেদের শিকার খুঁজছে। ওদের তীক্ষ্ণ ধারালো দাঁতগুলো রক্তের আস্বাদন গ্রহণ করতে চাইছে। বাগানের সদ্য ফোঁটা লাল গোলাপগুলো এতটাই লাল টুকটুকে দেখাচ্ছে যেন ওগুলোও মানুষের রক্ত শুষে খেয়ে আরও লাল টকটকে হয়ে গেছে।
হঠাৎই আঁধার অন্তরীক্ষের বুক চিরে মস্ত গোলাকার থালার মতো রুপোলী চাঁদ হেঁসে উঠে। অন্ধকার কেটে গিয়ে সমগ্র দুর্গে নরম কোমল আলো ছড়িয়ে পড়ে। রুপোলী চাঁদের একাংশ আরক্তিম হতে শুরু করে। এদুয়ার্দো নিষ্পলক চোখে দেখে। বাদুড়গুলো অদ্ভুত শব্দ করে ডাকে। এদুয়ার্দো দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। কিছুক্ষণ পর তার বিশ্বস্ত সেবক অ্যাভোগ্রেডো চলে আসে ছাদে। বুকের কাছে ডান হাত মুষ্টিবদ্ধ রেখে মাথা নত করে শ্রদ্ধাভরে ডাকে,,,,
- অনারেবল ওভারলর্ড।
এদুয়ার্দো স্থির দাঁড়িয়ে থাকে। যেন তার বক্ষজুড়ে দুর্দম্য ঝড় বয়ে যায়। বেসামাল গতিতে অবিরত হৃদপিণ্ড লাফায়। অথচ মুখখানার চোয়ালদ্বয় শক্ত। এমারেল্ড সবুজ মনির চোখজোড়ায় তীব্র ভয়ংকর ক্রোধ প্রকাশ পায়। কয়েকপল সময় গড়ায়। এদুয়ার্দোর দিক থেকে কোনো সাড়া শব্দ আসে না। অ্যাভোগ্রেডো সবিনয়ে বলে,,,
- মহামান্য মহারাজ। জনাব জোসেফাইন সমস্ত সত্যি স্বীকার করতে রাজি হয়েছেন।
অ্যাভোগ্রেডোর কথাটা শুনে এদুয়ার্দো পেছন ঘুরে দাড়ায়। তার শক্ত কাঠিন্য হিংস্র মুখখানার দিকে তাকিয়ে অ্যাভোগ্রেডো মেঝের দিকে দৃষ্টি নামিয়ে নেয়। আত্মা চমকে যায়। অজানা আশংকায় ভীত হয় সে। আজকের আগে এতটা হিংস্রতা কখনো দেখতে পায়নি এদুয়ার্দোর চোখে মুখে।
এদুয়ার্দো ধোঁয়ার কুন্ডলী হয়ে ছাদের সিঁড়ি বেয়ে নিচ তলায় নেমে যায়। তারপর বেসমেন্টের দিকে। করিডোরের দু'দিকে পাথরের দেয়ালে মশাল জ্বালিয়ে রাখা ছিলো। একটি কামরার সামনে গিয়ে এদুয়ার্দো দাড়িয়ে পড়লো। পেছনে অ্যাভোগ্রেডো। বেসমেন্টের দ্বারবদ্ধ কামরাটা থেকে কারো বীভৎস কন্ঠের চিৎকার শোনা যায়। একজন নয়, দু'জন পুরুষের লোমহর্ষক চিৎকার।
ওক কাঠের শক্ত ভারী প্রশস্ত দরজাটা খুলে দিতেই থমথমে পায়ে এদুয়ার্দো কামরায় প্রবেশ করে। প্রথমেই জোসেফাইনের দিকে তাকায়। বয়োজ্যেষ্ঠের অবস্থা শোচনীয়। এদুয়ার্দো শান্ত। ভীষণ শান্ত। একবার দু'চোখের পল্লব নাড়িয়ে মেঝের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। একটি লোহার কফিন রাখা ছিলো। যার ভিতরে স্যান্ড্রি কাতর কন্ঠে করুন আর্তনাদ করছিলো। এদুয়ার্দো ইশারা করতেই একজন পেট মোটা বলশালী লোক তালা খুলে উপরের পাটা তুলে দেয়। স্যান্ড্রি স্বস্তির নিঃশ্বাস নেয়। হাঁসফাঁস করে সে।
পেট মোটা লোকটা নিজের শক্ত দু'হাতে স্যান্ড্রিকে বাইরে বের করে আনে। সারা শরীর ক্ষত বিক্ষত, চামড়া পুড়ে গেছে। শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে স্থির দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। কষ্ট হয়। লোকটা ধরে থাকে তাকে।
অ্যাভোগ্রেডো কারুকার্য শোভিত ভারী ওজনের একটা চেয়ার টেনে দেয়। এদুয়ার্দো বসে। স্যান্ড্রিকে দেখিয়ে হিংস্রাত্মক শীতল কন্ঠে বলে,,,
- ওকে লোহার শেঁকল দিয়ে বাঁধো।
স্যান্ড্রি শিউরে উঠে। মারণাস্ত্র লোহার কফিন থেকে মুক্তি পেয়ে আবারও লোহার সংস্পর্শে যেতে হবে? হৃদয় কাঁপতে শুরু করে। নড়ে চড়ে দাড়ায়। আকুতিভরা সকরুণ কন্ঠে বলে,,,
- মহামান্য মহারাজ। দয়া করুন। ক্ষমা করুন আমাকে। আমি সবকিছু স্বীকার করবো। যা কিছু আমি জানি।
এদুয়ার্দো জোফাইনের দিকে তাকায়। ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় সে আধবোজা চোখে কিঞ্চিত মাথা ঝাঁকায়। দু'জন মানুষ মিলে তাকে বেধড়ক পিটিয়েছে লোহার রড দিয়ে। মুখে রসুন গুঁজে দিয়েছে। সাথে মন্ত্রপূত পবিত্র পানি। অ্যাভোগ্রেডোর ইশারা পেয়ে জোসেফাইন ক্ষীণস্বরে থেমে থেমে বলতে শুরু করে,,,,
- মহামান্য মহারাজ, অনারেবল এমপ্রেসের নির্দেশে আমি সর্বক্ষণ কাস্ত্রোরুজ থর্পে পাহারায় ছিলাম। আমার সাথে আরও কিছু ভ্যাম্পায়ার সেনা নিযুক্ত ছিলো। যারা সবাই সম্রাজ্ঞীর বিশ্বস্ত সেবক। কুরী পরিবারের বাকি তিনজন এবং নিজের দুই মেয়েকে নিয়ে ক্রিসক্রিংগল কাস্ত্রোরুজ ছাড়ার পর আমি আর সম্রাজ্ঞীর সেনারা মিলে তাদের বাড়ি, সমাধিক্ষেত্র এমনকি সম্পূর্ণ গ্রাম নজরে রেখেছিলাম। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেদিন রাতে স্বর্গীয় ঘোড়ায় চেপে কাস্ত্রোরুজ থর্পে গিয়েছিলেন ক্রিসক্রিংগলের ছোট মেয়ে।
এতটুকু বলে জোসেফাইন নিজের কথা শেষ করে। অ্যাভোগ্রেডো সরু দৃষ্টিতে তাকায়। অকপটে জিজ্ঞেস করে,,,
- তারপর?
জোসেফাইনের গলা শুকিয়ে আসে। এর থেকে বেশি কিছু বলতে পারবে না সে। সব সত্যি স্বীকার করে এখান থেকে বেঁচে ফিরলেও পিদর্কা তাকে মে'রে ফেলবে। জোসেফাইন আমতা আমতা করে বলে,,,,
- অনারেবল এমপ্রেসের নির্দেশ ছিলো ওদের কাউকে দেখতে পেলে তাকে বন্দি করে স্যাভেরিন ক্যাসলে নিয়ে যেতে হবে। কারন বন্দিকে টোপ হিসাবে ব্যবহার করে সম্রাজী নিজের উদ্দেশ্য সফল করতে চেয়েছিলেন। আমাকে এতটুকুই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো। সেদিন মাঝরাতে কাস্ত্রোরুজের সমাধিক্ষেত্রে মিস সিয়াকে দেখার পর আমি ভীষণ আনন্দিত হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, তাকে ক্যাসলে নিয়ে যাবো। হাজির করবো সম্রাজ্ঞীর সামনে। কিন্তু আমাকে আশাহত করে বুদ্ধি খাটিয়ে নিজেকে রক্ষা করেছিলেন মিস সিয়া। নিজের স্বর্গীয় ঘোড়ায় চেপে আলোর গতিতে ইম্যুভিলে পৌঁছে যান তিনি। আমাদের কোনো ভ্যাম্পায়ার সেনা তার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি।
জোসেফাইন শুকনো ঢোক গিলে নেয়। এই ভয়ংকর পরিস্থিতিতেও সিয়াকে সম্মান জানাতে ভুলে যায়নি সে। অ্যাভোগ্রেডো বিস্মিত কন্ঠে তাকে জিজ্ঞেস করে,,,
- এতটুকুই? অনারেবল এমপ্রেসের ব্যাপারে আর কিছু জানেন না আপনি? তার উদ্দেশ্য কি ছিলো?
জোসেফাইন ভীষণ চালাক। সিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী ঘটনার মিল রেখে শুধু এতটুকুই স্বীকার করে। পিদর্কার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জেনেও না জানার ভান করে সে। অথচ এদুয়ার্দো তার মায়ের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানে। ক্রিসক্রিংগলের কাছে থাকা পাথর, তলোয়ার আর একটা বইয়ের জন্যে উইজার্ড অথবা কুরী পরিবারের যে কোন একজন সদস্যকে বন্দি করে নিয়ে যেতে বলেছিলেন তিনি।
এদুয়ার্দো কোনো প্রশ্ন করে না। ভীষণ শান্ত হয়ে বসে থাকে সে। অ্যাভোগ্রেডো এক নজর এদুয়ার্দোর দিকে তাকায়। নিজের অজ্ঞাতেই ভীষণ ভয় পায়। এদুয়ার্দোর নীরব মুখখানার আড়ালে অসামান্য হিমেল হিংস্রতা উপলব্ধি করে। অ্যাভোগ্রেডোকে কিছু বলার প্রয়োজন হয় না। সে স্যান্ড্রির উদ্দেশ্যে জিজ্ঞেস করে,,,
- এবার তুমি বলো। যা যা জানো সব সত্যি বলবে।
আঘাতে আঘাতে জর্জরিত স্যান্ড্রি ঘনঘন নিঃশ্বাস নিতে শুরু করে। ক্ষণকাল সময় নিয়ে শীর্ণ কন্ঠে বলে,,,,
- অনারেবল এমপ্রেসের সব কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলাম আমি। এমনকি কাস্ত্রোরুজ থর্পের সেই হত্যাযজ্ঞ থেকে শুরু করে ফ্রাঙ্কলিনের বাড়িতে হওয়া ভ্যাম্পায়ার সেনাদের আক্রমণে অংশগ্রহন করেছিলাম। এস্টীম রুলারকে নজরে রেখে তাকে অনুসরণ করে ইম্যুভিলে পৌঁছে গিয়েছিলাম। সহজেই জানতে পেরেছিলাম উইজার্ড এবং কুরী পরিবারের বাকি সদস্যদের নিয়ে জনাব ক্রিসক্রিংগল ফ্রাঙ্কলিনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এই সংবাদ আমি নিজেই সম্রাজ্ঞীকে জানিয়েছিলাম।
- এস্টীম রুলার স্বয়ং তোমাদের সাথে জড়িত। তাহলে তাকে অনুসরণ করা বা নজরে রাখার কি প্রয়োজন ছিলো?___ অ্যাভোগ্রেডো কৌতুহলী কন্ঠে জিজ্ঞেস করে।
এই একটা প্রশ্ন যেন স্যান্ড্রিকে নিমেষেই ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলে। একটা নির্মম নিষ্ঠুর অকল্পনীয় সত্য। একজন মায়ের এক সন্তানকে নিরাপদে রাখতে অন্য সন্তানকে সমস্ত অপরাধে ফাঁসিয়ে দেওয়ার গল্প। এই দুর্বোধ্য সত্যিটা কি বলে দেওয়া ঠিক হবে? যা শোনা মাত্রই ভয়ংকর প্রলয় ঘনিয়ে আসবে। কে বলতে পারে, যদি অত্যাধিক ক্রোধের বশবর্তী হয়ে মহারাজ তার শিরশ্ছেদ করে? স্যান্ড্রি মনে মনে ভাবে।
- কি হলো? চুপ করে আছো কেনো?____অ্যাভোগ্রেডো ধমকে উঠে জিজ্ঞেস করে।
শুকিয়ে যাওয়া ঠোঁটজোড়া জিহ্বা দিয়ে ভিজিয়ে নেয় স্যান্ড্রি। তার কন্ঠস্বর অবরোধ হয়ে আসে। যেন কেউ একজন দু'হাতে শক্ত করে তার গলা চেপে ধরে আছে। প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সাহস হয়না। এদুয়ার্দোর মুখখানা আরও হিংস্রাত্মক হয়ে উঠে। মনে হয় সিংহের মতো যেকোনো সময় স্যান্ড্রি নামক শিকারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। তার তীক্ষ্ণ চোখজোড়ার দিকে তাকিয়ে স্যান্ড্রির কলিজা শুঁকিয়ে যায়। ভীত-সন্ত্রস্ত কন্ঠে বলে,,,,
- এস্টীম রুলার সম্রাজ্ঞীর কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন না। যিনি ছিলেন তিনি অন্যজন। হুবহু রুলারের মত দেখতে। মহামান্য মহারাজের আরেক ভাই, গুস্তাভ ফ্লভেয়ার। সেদিন কাস্ত্রোরুজ থর্পে তার দ্বারায় ক্রিসক্রিংগলের সহধর্মিণীর মৃ'ত্যু হয়েছিলো।
অ্যাভোগ্রেডো স্তম্ভিত হয়। বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে নিজের মহারাজের দিকে তাকায়। স্যান্ড্রির স্বীকারোক্তিতে এরকম অপ্রিয় অবিশ্বাস্য সত্যি বেরিয়ে আসবে কখনো ভাবেনি এদুয়ার্দো। যেন নিমেষেই তার দু'চোখে ভয়ংকর দাবানল জ্বলে উঠে। সমস্ত ক্রোধ মাথায় চেপে বসে। সে ত্বরিত দাঁড়িয়ে পড়ে। একহাতে শক্ত করে স্যান্ড্রির গলা চেপে ধরে। মেঝে থেকে স্যান্ড্রির দেহখানা একহাত উপরে তুলে ক্রুদ্ধ কন্ঠে বলে,,,
- তোমার এতবড় দুঃসাহস! আমার সামনে দাঁড়িয়ে মিথ্যা বলছো? আমার একটাই ভাই। আর কোনো ভাই নেই। আব্রাহামের ছদ্মবেশ ধারণকারী বহুরুপী কে?
স্যান্ড্রির শ্বাসরোধ হয়ে আসে। খুব কষ্ট করে থেমে থেমে বলে,,,,
- আমি সত্যি বলছি। তিনি আপনার সহোদর ভাই, গুস্তাভ ফ্লভেয়ার।
ক্রোধের আধিক্যে এদুয়ার্দো তাকে দেয়ালে ছুঁড়ে মা'রে। বজ্রধ্বনি তুলে দৃঢ় কন্ঠে বলে,,,
- আমি বিশ্বাস করিনা। যদি ও-ই ইলামা অ্যালিয়েভেয়ের হত্যাকারী হয়, তাহলে মা কেনো উরসুলার কাছে আব্রাহামের নাম বলেছিলেন?
নিজের জীবন বাঁচাতে হলে সব সত্যি বলতে হবে। স্যান্ড্রি বুঝতে পারে। সে আত্মবিশ্বাসী কন্ঠে বলে,,,
- কারন সম্রাজ্ঞী চেয়েছিলেন, যদি আপনি কখনো কাস্ত্রোরুজ থর্পের হত্যাকান্ডের ঘটনা জানেন তাহলে ফ্লভেয়ারের করা অপরাধের অপরাধী যেন এস্টীম রুলার হয়।
এদুয়ার্দো ক্ষিপ্র পায়ে তেড়ে যায়। দু'হাতে স্যান্ড্রির দু'কাধ চেপে ধরে পুনরায় দেয়ালে ছুঁড়ে মা'রে। একজন সেবকের কথায় নিজের মায়ের সম্পর্কে এতো বড় মিথ্যে সে কিভাবে মেনে নিতে পারে? আজকাল ভৃত্যদের স্পর্ধা বেড়ে গেছে। মৃ'ত্যু ভয় নেই, যা মুখে আসে তাই বলে ফেলে। এদের বাঁচিয়ে রেখে কি হবে?
জোসেফাইন ভয়ার্ত দৃষ্টিতে দেখে। স্যান্ড্রি সব সত্যি কথাই বলছে। কিন্তু এই মা ভক্ত ছেলেকে সেকথা কে বোঝাবে? পিদর্কা কিছু একটা করে ঠিক নিজেকে বাঁচিয়ে নিবে। তাছাড়া সে অমর। তার মৃ'ত্যু নেই। কিন্তু সত্যিই যেদিন এদুয়ার্দোর সামনে তার মুখোশ উন্মোচন হবে পিদর্কার বিশস্ত সেবকগুলো সব বেঘোরে প্রাণ হারাবে।
দুর্দমনীয় ক্রোধের বশবর্তী হয়ে এদুয়ার্দো স্যান্ড্রিকে প্রচন্ড মা'রতে শুরু করে। এবার শুধু প্রাণ নেওয়া বাকি। অবস্থা বেগতিক দেখে অ্যাভোগ্রেডো বলে,,,,
- অনারেবল ওভারলর্ড। দয়া করে থামুন। একেবারে মে'রে ফেলবেন না। ওকে বাঁচিয়ে রাখুন।
এদুয়ার্দো সম্বিত ফিরে পায়। স্যান্ড্রিকে মে'রে ফেলা উচিত নয়। ওর মাধ্যমেই সমস্ত সত্যির দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে তাকে। এদুয়ার্দো শুরু থেকেই ভীষণ রেগে ছিলো। প্রাসকোভিয়া জঙ্গলে সেই বহুরুপীটাকে ধরতে পারেনি সে। মুহূর্তেই যেন কোথাও উবে গিয়েছিলো। ব্যর্থ হয়ে আব্রাহামের কাছে ফিরে আসে। ইনায়ার অসাড় দেহখানা নিয়ে চলে যাওয়ার সময় আব্রাহাম অশ্রুসিক্ত চোখে ব্যথাতুর কন্ঠে বলে,,,
- ভাই, অতীতে চোখ বুলান। রহস্য খুঁজুন। সত্যিটা আপনার চোখের সামনে। যুদ্ধের অনুশীলন ব্যতীত আপনাকে কখনো, কোনোদিনও আক্রমণ করিনি। প্রাণঘাতী আঘাত করার কথা কল্পনাও করিনি। ইনায়াকে আমি আমার দুর্গে নিয়ে যাচ্ছি। আমাকে অন্তত একবার বিশ্বাস করে দেখুন। যদি বিশ্বাস ভঙ্গ করি আপনি নিজহাতে আমার শিরশ্ছেদ করবেন।
আব্রাহামকে আঁটকায়নি এদুয়ার্দো। হৃদয় কোণে নিদারুণ ভ্রাতৃত্ববোধ জেগে উঠেছিলো। নিজের অজান্তেই বিশ্বাস করেছিলো। আব্রাহামের দু'চোখে ইনায়ার জন্য অসম্ভব কষ্ট দেখেছিলো। কেনো জানি মন বলেছিলো, নিজের ভাইকে শেষবারের মতো বিশ্বাস করে দেখো। একবার সুযোগ দাও তাকে।
আব্রাহামের কথাগুলো এদুয়ার্দোর কানে কানে বাজে। চোয়ালদ্বয় শক্ত হয়ে উঠে। ভীতি জাগানো লোমহর্ষক কঠিন কন্ঠে বলে,,,,
- আমি ফিরে না আসা পর্যন্ত দু'জনের শাস্তিই অব্যহত রাখো। কেউই সম্পূর্ন সত্যি বলেনি। এখনো অনেক কিছু জানা বাকি।
আবারও শাস্তির কথা শুনে স্যান্ড্রি আর জোসেফাইনের চোখজোড়া আগ্নেয়গিরির লাভার ন্যায় জ্বলে উঠে যেন। আত্মা শুকিয়ে যায়। অ্যাভোগ্রেডো নত মস্তকে সম্মতি জানায়। এদুয়ার্দো ঝড়ের বেগে কামরার বাইরে বেরিয়ে যায়। ধোঁয়ার কুন্ডলী পাকিয়ে ওয়াভেল কোট ছেড়ে কিয়েভের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় সে।
_______
কিয়েভ, স্যাভেরিন ক্যাসল।
কামরাজুড়ে চিন্তিত ভঙ্গিতে পায়চারি করেন পিদর্কা স্যাভোরিন। অস্বাভাবিকভাবে শরীর কাঁপছিলো তার। কাঁপা-কাঁপি ছাড়াতে আর মনের মধ্যে সাহস সঞ্চার করার উদ্দেশ্যে হাঁটছিলেন তিনি। আর কতদিন এভাবে ভয়ে ভয়ে থাকবেন? এদুয়ার্দো একদিন না একদিন সমস্ত সত্যি জানতে পারবে, সেদিন কোথায় লুকাবেন?
সোফার উপর সটান হয়ে শুয়ে ছিলো ফ্লভেয়ার। তার মুখাবয়বে নেই কোনো দুশ্চিন্তার ছাপ। অন্যদিকে ক্যারলোয়েন, ভিক্টোরিয়া, ব্রাংকো, অ্যালিস আর উড্রো উইলসন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে সোফায় বসে ছিলো। সহসা চিৎকার দিয়ে উঠেন পিদর্কা স্যাভেরিন। ক্রুদ্ধ কন্ঠে জিজ্ঞেস করেন,,,,
- তোমার কি একটুও ভয় করছে না ফ্লভেয়ার?
- উমহু। বরং আমি বুঝতে পারছি না, তোমরা সবাই অহেতুক ভয় পাচ্ছো কেনো?___ফ্লভেয়ার সহাস্যে বলে।
- একটা মাত্র কাজ দিয়েছিলাম। সঠিকভাবে করতে পারোনি। এদুয়ার্দো, আব্রাহাম দু'জনের কাছেই ধরা পড়ে গেছো। আমার এতেদিন ধরে করা সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছ। এদুয়ার্দো যদি একবার তোমাকে হাতের কাছে পায়, তোমার কি হাল হবে বুঝতে পারছো?
- কি হবে মা? মে'রে ফেলবে? ও পারবে আমাকে হ'ত্যা করতে? তুমি, আমি এবং এখানে উপস্থিত আমরা সবাই জানি। স্যাভেরিন পরিবারের র'ক্ত পিপাসুদের বি'নাশ করতে ঐ বিশেষ তলোয়ারের প্রয়োজন। সেটা কি এদুয়ার্দোর কাছে আছে?
পিদর্কা সরু দৃষ্টিতে তাকান। ছেলের এমন গাঁ ছাড়া ভাব দেখে তিনি ভীষণ হ'তাশ হন। পরমুহূর্তেই কঠিন কন্ঠে বলেন,,,
- এখনই দুর্গ ছেড়ে যাও। যেকোনো সময় এদুয়ার্দো চলে আসতে পারে। আমাকে ওর মুখোমুখি হতে হবে। জানিনা ওর কাছে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে আদৌও সফল হবো কিনা। আমি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, তুমি আর আমার দুশ্চিন্তা বাড়িয়ো না। সুরঙ্গ ধরে দুর্গের বাইরে বেরিয়ে যাও।
- কোথাও যাবো না। এখানেই থাকবো। আমিও তোমার ছেলে। কেনো চোরের মতো পালিয়ে বেড়াবো? এই ক্যাসলে ওর যতটা অধিকার আছে, ঠিক ততটাই অধিকার আমারও আছে। তবুও ছোটবেলা থেকেই আমাকে কেনো এদুয়ার্দোর নজরের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে হচ্ছে?____ফ্লভেয়ার অভিযোগ করে বলে।
পিদর্কা স্যাভেরিন অধৈর্য হয়ে উঠেন। কঠিন গলায় ফ্লভেয়ারকে কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারেন না। রাগ সামলাতে কামরার বাইরে বেরিয়ে যান। সোজা হাঁটতে শুরু করেন। হাঁটতে হাঁটতেই ধোঁয়ার কুন্ডলী হয়ে বেসমেন্টের সিঁড়ির কাছে পৌঁছান। ভিতরে প্রবেশ করেন। কতগুলো কামরা পেরিয়ে অনেকটা গভীরে চলে যান। একটা বদ্ধ কামরার সামনে গিয়ে দাড়ান। এদিকে আসা বাকিদের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি কোনো দ্বাররক্ষী পাহারায় রাখেননি তিনি। চারদিকে সতর্ক দৃষ্টিতে নজর বুলিয়ে নিঃশব্দে দরজা ঠেলে কামরায় প্রবেশ করেন। কামরাটা সম্পূর্ণ অগোছলো ছিলো। দেয়ালের উপর, সিলিং এমনকি কোণায় কোণায় মাকড়াসা জাল বুনেছিলো। ধুলোবালি এসে নাকে লাগতেই সশব্দে কেশে উঠেন পিদর্কা স্যাভেরিন। হাতের উল্টো পাশ দিয়ে নাক ঘষে সামনের দিকে তাকান। তার সামনে দেয়াল ঘেঁষে দেড়শো বছরের পুরনো একটা বিশালাকৃতির মূর্তি রাখা ছিলো। মূর্তিটা দেখতে ঠিক এরকম, যেন কুৎসিত কদাকার মাছির মতো কেউ একজন সিংহাসনে বসে আছে। মূর্তিটার থ্যাতলানো চেহারা আর বুক, বিশাল নাক, মাথায় শিং, বাদুড়ের পাখনা, হাঁসের মতো পা, সিংহের ন্যায় একটা লেজ আর সারা শরীর কালো পশমে আবৃত ছিলো।
পিদর্কা স্যাভেরিন দু'চোখের পাতা বুজে নেন। দু'হাত একত্র করে মুষ্টিবদ্ধ রেখে মনে মনে কাউকে স্মরণ করেন। গভীর মনোযোগ দিয়ে শ্রদ্ধাভরে ডাকেন। বারকয়েক ডাকেন। ক্ষণকাল সময় গড়ায়। হঠাৎই কামরাটা মৃদু মৃদু কাঁপতে শুরু করে। ধীরে ধীরে কম্পন বাড়ে। যেন ভয়াবহ ভূকম্পন শুরু হয়। অকস্মাৎ একটা বীভৎস কন্ঠস্বর শোনা যায়। কেউ একজন ক্রোধিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করে তাকে,,,
- আমাকে ডেকেছো কেনো?
- লর্ড অব ফ্লাইস। আপনাকে জাগানোর জন্য আমাকে ক্ষমা করুন। আমার আপনার সাহায্যের প্রয়োজন।___,পিদর্কা বিনয়ের সাথে বলে।
- আমার থেকে কি সাহায্য চাইছো?
- এদুয়ার্দো। ও খুব শীঘ্রই সমস্ত সত্যি জেনে যাবে। দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন।
- তুমি যা চাইছো তা অসম্ভব। এখনো সময় হয়নি।
- আমি সবটাই জানি। কিন্তু আমি আতংকিত, দ্বিধান্বিত। সত্যিই কি ওর মাঝে প্রভু লুসিফারের সত্তা জাগ্রত হবে?
- তোমার এখনো সন্দেহ আছে? নিঃসন্দেহে মাস্টার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। অপেক্ষা করো সঠিক সময়ের।
- কিন্তু তার আগেই যদি আমার সমস্ত অপরাধ জেনে যায় এদুয়ার্দো?
পিদর্কার প্রশ্নের কোনো প্রত্যুত্তর আসে না। চলে গেছে সে। পিদর্কা আশাহত হয়। মনের কোণে সৃষ্টি হয় বিন্দু বিন্দু ভয়। তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলে এদুয়ার্দো যে কোনো সময় স্যাভেরিন ক্যাসলে চলে আসতে পারে।
_________
ইম্যুভিল।
রাত গভীর হয়। ফ্রাঙ্কলিনের বাড়িতে থাকা অধীর অগ্রহে প্রতীক্ষিত সদস্যগুলোর ঘুম নেই দু'চোখের পাতায়। সেই ভোর বেলায় পাঁচজন মানুষ বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলো, এখনো ফিরে আসেনি কেউ। ইনায়াকে খুঁজে পেয়েছে কিনা কে জানে। হঠাৎ দরজায় করাঘাতের শব্দ শোনা যায়। ক্রিস্তিয়ান মৃদুস্বরে ডাকে,,,
- দরজা খোলো।
মাদাম ল্যারি ব্যতিব্যস্ত হাতে দরজা খুলে দেন। দরজার বাইরে ক্রিস্তিয়ান আর ক্রিসক্রিংগল দাঁড়িয়ে। কামরায় উপস্থিত থাকা মানুষগুলো চকিত দৃষ্টিতে তাকায়। ক্রিসক্রিংগল গুরুতর আহত। মুখাখানা নিষ্প্রাণ পাথরের মতো। বাইরে থেকে বেশ শক্ত দেখায়। অথচ ভেতরটা সীমাহিন যন্ত্রণায় দুমড়ে মুচড়ে যায়। তার চোখ দু'টো ভেঁজা ভেঁজা মনে হয়। গালে লেপ্টে থাকা অশ্রুকনাগুলো শুকিয়ে গেছে। মাথা ফেঁটে টপটপ করে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।
ক্রিসক্রিংগল অত্যন্ত দুর্বল। তার নিষ্প্রভ চোখজোড়ার পল্লব বুজে আসে। বক্ষস্থলে বয়ে যায় প্রলয়কারী ঝড়। কিছুতেই থামতে চায় না। একজন সন্তান হারানো বাবার হৃদয় প্রতিটা মুহূর্তে আকুলিবিকুলি করে উঠে। গলা শুকিয়ে আসে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। আহত ক্রিসক্রিংগলকে ক্রিস্তিয়ানের সাথে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন মার্টিন লরেন্স আর মার্কস।
- ক্রিসক্রিংগলের এই অবস্থা কিভাবে হলো? বাকিরা কোথায়? ইনায়াকে খুঁজে পেয়েছো?___উদ্বিগ্ন কন্ঠে প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করেন মাদাম ল্যারি।
ক্রিস্তিয়ান কোনো উত্তর দেয়না। ক্রিসক্রিংগলকে শক্ত করে ধরে সাবধানে হাঁটে সে। বিছানায় নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দেয়। স্ট্রিকল্যান্ড অধৈর্য হয়ে উঠেন। কপট রাগ মিশ্রিত কন্ঠে উচ্চস্বরে জিজ্ঞেস করেন,,,
- ক্রিস্তিয়ান উত্তর দিচ্ছো না কেনো?
............
#চলবে
[ বি: দ্র--- এই গল্পটা কোনো সিরিজ, ড্রামা, মুভি বা ইংরেজি গল্পের অনুবাদ নয়। গল্পটা সম্পূর্ণ আমার কল্পনা থেকে সৃষ্টি। ইউরোপ নিয়ে লিখা বিধায় দেশ, শহর, খাবার, পোশাক, আবহাওয়া আর চরিত্রের নামগুলো সেখানকার। এছাড়া বাকি সবকিছু অর্থাৎ, এই গল্পের প্রতিটা লাইন, প্লট, স্থান, দুর্গ, চরিত্র, গল্পের আদি অন্ত আমার কল্পনা থেকে সৃষ্ট। এই গল্পের রচয়িতা আমি। লামিয়া তানহা। ভবিষ্যতে গল্পটার বই প্রকাশ করবো, তাই গল্পটা কেউ কপি করবেন না। যদি আমার অনুমতি ছাড়া গল্পটা কপি করেন, আমি যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো ]
রাগি স্যারের রোমান্টিক অত্যাচার
part:19+20
তামিম মারিহার হাতে ইনজেকশন পোশ করে দেয় মারিহার কথায় কোনো পাত্তা না দিয়ে।
।
মারিহা:আআআআ
।
তামিম:তোমার কি ব্যথা লেগেছে,জান?চিন্তা করো না।ইনজেকশন পোশ করার পর একটু ব্যথা লাগেই।তারপর ধীরে ধীরে শরীর একদম কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
।
মারিহা:একবার আমার হাতটা খুল।এরপর দেখবি তোর কি অবস্থা করি।
।
তামিম:তাই বুঝি জান।আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম।হাত-পা খুলে দিচ্ছি।এরপর দেখবো তুমি কি করতে পারো।
।
তামিম মারিহার হাত-পা খুলে দিলো।সাথে সাথেই মারিহা উঠে দাঁড়ালো আর তামিমের গালে চড় মারলো।
।
তামিম:তোমার হাতগুলি খুবই নরম।
।
মারিহা:আমার মাথা ভার লাগছে কেন?দাঁড়িয়ে থাকার শক্তিও আমি হারিয়ে ফেলছি।
।
তামিম:ওষুধ নিজের কাজ শুরু করে দিয়েছে।
।
তামিম মারিহার আঁচল ধরে টান মারে।মারিহা আটকানোর চেষ্টা করছি,কিন্তু পারছে না।মারিহার দুটো হাত যেন অবশ হয়ে এসেছে।তামিম একটানে ওর শাড়ি খুলে ফ্লোরে ফেলে দেয়।মারিহা টাল সামলাতে না পেরে ফ্লোরে পরে যায়।
।
তামিম:আমি চাইলেই তোমাকে ঘুম পারিয়ে দিতে পারতাম।কিন্তু আমি চাই তুমি নিজের সর্বনাশ নিজে দেখো।আহারে কতটা অসহায় তুমি।আমার তো কান্না পাচ্ছে।(ন্যাকা কান্না করে বললো)
।
মারিহা:কেউ বা..বা...বাচাও।
।
তামিম:এখানে তোমায় কেউ বাঁচাতে আসবে না,জান।
।
তামিম শয়তানি হাসি দিয়ে নিজের শার্টটা খুলে ফ্লোরে ফেলে দিলো।তামিম এক পা,এক পা করে মারিহার দিকে এগুতে লাগলো।মারিহা কান্না করে যাচ্ছে।তামিম কারো পায়ের আওয়াজ শুনে থেমে গেলো।মূহুর্তের মধ্যেই কেউ দরজাটা ভেঙে ফেলে।তামিম একটা লাঠি নিয়ে এগিয়ে যেতেই দেখে আরাফ দাঁড়িয়ে আছে।আরাফের দুই চোখ লাল হয়ে আছে।আরাফের নজর করে ফ্লোরে পরে থাকা মারিহার উপর।
।
আরাফ:কুত্তার বাচ্চা,আমি তোকে ছাড়বো না।
।
তামিম:আগে নিজেকে তো বাঁচা।
।
আরাফ:তুই নিজের মৃত্যুকে দাওয়াত দিয়েছিস।
।
তামিম:তোকে তো মেরে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে দিব।তারপর শুরু করবো নাটক।স্যার,আপনি এমনটা কি করে করলেন।নেশা করে শেষ পর্যন্ত নিজের ছাত্রীর সাথে ।ছি,ছি।আর মারিহাকে ভয় দেখিয়ে বলেছেন মারিহা যেন সবকিছুর জন্য আমাকে দায়ী করে।অসহায় মারিহা।হাহাহা।
।
আরাফ:তুই আর নাটক করার জন্য বাচবিই না।আর মেয়েরা দুর্বল না।এই মেয়ে হলো মায়ের জাতি।এই মেয়ে জাতি যদি সাহসী না হতো তাহলে আজ তুই,আমি পৃথিবীর আলো দেখতে পারতাম না।এই মেয়ে জাতির উপর কুনজর দিয়েছিস তুই।তোর চোখ আমি তুলে দ
রাগি স্যারের রোমান্টিক অত্যাচার
part:17+18
মারিহা এই বিষয় নিয়ে কথা না বাড়িয়ে 5 দিন পর কলেজে যেই অনুষ্ঠান হবে সেই আলোচনায় বসে গেল।
।
মারিহা:কি ঠিক করলি।অনুষ্ঠানে কে কি করবি? ।
আশা:অনুষ্ঠানে আমি আর নীলা ঠিক করেছি শাড়ি পরবো নীল আর আকাশ পাঞ্জাবি।তোকে ও কিন্তু শাড়ি পরতে হবে।
।
মারিহা:ওকে।
।
আকাশ:নীলা তো নাচ করবে।
।
মারিহা:কি!!!তোকে পুরো পা কাটা পেত্নির মতো লাগবে।
।
নীলা:এই আমাকে নিয়ে আজে বাজে কথা বললে স্যারের কাছে নালিশ করবো।
।
মারিহা:আমি ওই ধলা ইন্দুরকে একটুও ভয় পায় না।
।
আশা:হয়েছে এখন চুপ কর।
।
মারিহা:চুপ করবো কেন।দেখিস না,তোর ভাই আমাকে দেখলে ধরধর করে কাঁপে।
।
আকাশ:মুখে লাগাম দে।
।
মারিহা:ওই ধলা ইন্দুরের থেকে কোনো অংশ আমি কম না।কোনো মেয়েই ওই ধলা ইন্দুরকে পছন্দ করে না।আরে ওই ধলা ইন্দুরের সমান বয়স হলে আমার এখন 2-3 টা বাচ্চা থাকতো।উচ্চতা তো আমার সমানই হবে।
।
আরাফ:আপনার উচ্চতা কতো ম্যাডাম.?
।
মারিহা:অনেক বেশি 5 ফুট 3।
।
মারিহা:কণ্ঠটা তো চেনা চেনা লাগছে।
।
মারিহা পিছনে ফিরতেই দেখে আরাফ দাঁড়িয়ে আছে।মারিহা ঢোক গিললো।
।
মারিহা:স্যা....স্যা...স্যার আপ...নি কখন এ....লেন?
।
আরাফ:আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম আপনাকে দেখে।আমার সমান বয়স হলে আপনার 2-3 টা বাচ্চা ও হয়ে যেতো।আর কি যেন বলছিলেন আমি আপনার সমানই।আমি 6 ফুট 3।ধরতে গেলে আপনার সমানই।শুধু আমার মুখ পর্যন্ত দেখতে গেলে আপনাকে কষ্ট করে উপরে দেখতে হয়।আশা আমি গাড়িতে বসছি।তুই জলদি আয়।
।
আরাফ রেগে বেরিয়ে গেল।
।
মারিহা:আমাকে কেউ বললি না কেন স্যার আসছে।
।
নীল:তোকে কতবার থামতে বললাম।
।
আশা:ভাইয়া রেগে গেছে।আমি এখন চলি।
।
সবাই বিদায় নিয়ে বেরিয়ে গেল।
।
রাত 11.00 টা।
।
মারিহা:কে কে গিফ্ট করলো দেখতে হবে তো।নীল একটা হাতের ঘড়ি গিফট করেছে,নীলা একটা সুন্দর টেবিল লেম্প।আরে এইটা তো ওই বডি স্প্রেটা,যেটা আমি বেশি টাকা না থাকার কারণে কিনতে পারিনি।কিন্তু পরেরদিন গিয়ে এইটা আর পাইনি।এইটা গিফট করেছে আসা।আমি সবাইকে গিয়ে অনেক অনেক ধন্যবাদ দিবো।
।
হঠাৎ মারিহার নজর পড়ে একটা লাল রঙের বাক্সের উপর।যাতে লিখা আরাফ চৌধুরি।
।
মারিহা:স্যার আবার কি গিফট করলেন।ওয়াও এখানে তো একটা নীল রঙের সিল্ক শাড়ি আছে।শাড়িটা সত্যি খুব সুন্দর।এটা আমি আলমারিতে রেখে দিবো।
।
আরাফের বাসায়
।
আরাফ:ওই মেয়ের এতো বড় সাহস বলে কি না আমাকে কোনো মেয়ে পছন্দ করে না।
মিস মারিহা আমি আপ
রাগি স্যারের রোমান্টিক অত্যাচার
:14+15+16
আরাফ আর আশা বাড়ির উদ্দেশ্যে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল।
।
মালিহা বেগম:আরাফকে যে তুই রাগি স্যার বলিস ছেলেটা তো মোটেও এতো রাগি না।ছেলেটা খুবই ভালো।
।
মাশরাফ খান:ঠিক বলেছো মালিহা।এখনের যুগে কে কার জন্য এতোটা করে বলেতো।মারিহার বন্ধুরা আর আরাফ আজ না থাকলে কি যে হতো।
।
মারিহা:ওই ধলা ইন্দুরের অত্যাচার তো তোমাদের সহ্য করতে হয়না।তাই ওই ধলা ইংরেজ তোমাদের কাছে এতো ভালো।(মনে মনে)
।
কিছুক্ষণ পর আকাশ আর নীল এলো মারিহার সাথে দেখা করতে।
।
আকাশ:কেমন আছেন আঙ্কেল,আন্টি ।
।
মাশরাফ খান:ভালো বাবা।
।
মালিহা বেগম:আলহামদুলিল্লাহ বাবা।তোমরা কেমন আছো?
।
নীল:ভালো আন্টি।
।
মাশরাফ খান:তোমরা কথা বলো।আমি তোমাদের আন্টিকে বাসায় দিয়ে আসছি।আসলে দুপুরের খাবারের আয়োজন করতে হবে তো।
।
আকাশ:কোনো সমস্যা নেই আঙ্কেল।আপনি নিশ্চিন্তে যান।
।
মালিহা:তাহলে আসি বাবা।
।
নীল:ঠিক আছে আন্টি।
।
মাশরাফ খান এবং মালিহা বেগম বেরিয়ে গেলেন।
।
আকাশ:এখন কেমন আছিস মারিহা?
।
মারিহা:কেমন আর থাকবো।যেই ভাবে হাত-পা প্যাকেট করে রাখছে।মনে হচ্ছে আমাকে কারো বাসায় গিফট হিসেবে পাঠাইবো।আকাশ তুই এই শরীর নিয়ে আসলি কেন?
।
আকাশ:আমার চিন্তা না করলেও চলবে এখন।আঙ্কেলকে তামিমের ব্যাপারে জানানো তোর উচিত ছিলো না?
।
নীল:তুই সুস্থ হয়ে নে।তারপর ওই ব্যাটার খবর নিবো।
।
মারিহা:ছাড় তো।ওই কালা কুমির স্যারের ক্ষতি করতে চেয়েছিল।কিন্তু পারিনি ।তো কিসের শাস্তি দিবি?
।
আকাশ:তুই কি আমাদের কিছু হোস না?তোর কষ্টে কি আমরা ব্যথিত হই না?
।
মারিহা:আমি কি তা বলছি।
।
নীল:আমরা তোর মতো এতো মহান নারে।ওই কুত্তার বাচ্চাকে আমরা শেষ করে ফেলবো।
।
মারিহা:তো কোন কারণে মারবি?
।
আকাশ:তোর এই অবস্থার জন্য তো ওই হারামজাদা দায়ী।
।
মারিহা:তোর কাছে কোনো প্রমাণ আছে?
।
নীল:প্রমাণ হিসেবে আমরা কি যথেষ্ট নই?
।
মারিহা:প্রমাণ নেই বলে এই কথার কোনো ভিত্তি নেই।তামিম তো বলতেও পারে ওর সাথে আমাদের শত্রুতা ছিলো।তাই আমরা ওকে ফাঁসিয়েছি।পরে তোরাই ফেঁসে যাবি।তাই বলছি ছেড়ে দে এবারের মতো।পরে প্রমাণ সহকারে ধরবো।তখন যা করার করে নিবি।
।
আকাশ:তোর কথাই ছেড়ে দিলাম।
।
নীল:একটা কথা তো ভুলেই গেছিলাম।আমাদের প্রধানশিক্ষক কাল চলে যাবেন।প্রধানশিক্ষকের বিদায় আর নতুন শিক্ষকে স্বাগতম করার জন্য বড় করে একটা অনুষ্ঠান করা হবে।
।
মারিহা:কয়দিন পরে।
।
আকাশ:পনেরো-বিশ দিনের
রাগি স্যারের #রোমান্টিক অত্যাচার
লেখিকা:Smily Queen
:13
নার্স:স্যার,উনি চোখ খোলার চেষ্টা করেছেন।
।
আরাফ খেয়াল করলো সত্যি মারিহা আস্তে আস্তে চোখ খুলছে।
।
নার্স কিছুক্ষণের মধ্যে ডক্টরকে নিয়ে মারিহার কেবিনে প্রবেশ করলো।
।
ডক্টর মারিহার ভালোভাবে চেক আপ করলেন।
।
ডক্টর:Now,She is out of danger.
।
আরাফ:Thanks a lot,Doctor.
।
ডক্টর:ধন্যবাদ দেওয়ার মতো কিছুই আমরা করিনি।যা করেছি তা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।আল্লাহর রহমত উনার উপর ছিলো বলেই তিনি প্রানে বেঁচে গেছেন।মাথায় অনেক চোট পেয়েছেন,তাই উনাকে সবসময়ই দুশ্চিন্তামুক্ত রাখবেন।সামান্য দুশ্চিন্তাও কিন্তু উনার ক্ষেত্রে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে পারে।যতটা পারেন খেয়াল রাখবেন।
।
আরাফ:মিস মারিহাকে আর কয়দিন এই হাসপাতালে থাকতে হবে।
।
ডক্টর:উনি এখনো পুরোপুরি ভাবে সুস্থ নন।এক সপ্তাহ তো থাকতেই হবে।এটা উনার উপর নির্ভর করে।যদি বেশি শরীর খারাপ হয়ে যায় এক মাস ও লাগতে পারে।এখন তাহলে আসি।আবার পরে এসে দেখে যাবো।আরেকটা কথা, উনার কিন্তু এখন থেকে সম্পূর্ণভাবে খেয়াল রাখতে হবে।
।
আরাফ:Of course,Doctor.
।
ডক্টর কেবিন থেকে বেরিয়ে গেলেন।
।
মারিহা:স....স্যা.....স্যার।
।
আরাফ:মিস মারিহা,আপনার কি খারাপ লাগছে।
।
মারিহা:একটু খারাপ লাগছে।আমাকে নিয়ে চিন্তা করবেন না।আপনি ঠিক আছেন তো?
।
আরাফ:আমি তো ঠিক আছি।কিন্তু আপনি ঠিক নেই।কেন এমন করলেন?আমার উপর দয়া দেখাতে?(রাগি মুডে বললো)
।
মারিহা:ওইদিন আপনি তামিম নামের কালা কুমিরের থেকে আমাকে বাঁচিয়ে ছিলেন।আমার সম্মান রক্ষা করেছিলেন।আমার কাছে নিজের জীবনের চেয়ে বেশি মূল্যবান হলো নিজের সম্মান।তাই আপনার জীবন বাঁচিয়ে আমি আমার ঋণ শোধ করলাম।
।
আরাফ:তোমার এই ঋণ শোধের পাগলামির কারণে তোমার মা-বাবার কি অবস্থা করেছো তুমি জানো?
।
মারিহা:আম্মু-আব্বু কোথায়?
।
আরাফ:তোমার আম্মু পাগলের মতো অবস্থা হয়ে গেছিল।কিছুতেই শান্ত করা যাচ্ছিল না।তাই তোমার আব্বু উনাকে বাসায় নিয়ে গেছেন?
।
মারিহা:আমি আম্মু-আব্বুর কাছে যাবো।
।
আরাফ:আশা,আঙ্কেলকে একটা ফোন দিয়ে জানিয়ে দেও মারিহার জ্ঞান ফিরেছে।
।
আশা:এক্ষুনি ফোন করছি ভাইয়া।
।
আশা:হ্যালো,আঙ্কেল।
।
মাশরাফ খান:তুমি কে মা?
।
আশা:আমি আশা বলছি।মারিহার একটু আগে জ্ঞান ফিরেছে।
।
মাশরাফ খান:আমার মেয়ের জ্ঞান ফিরেছে!!!!আমি এখনি আসছি।মালিহা অনেক পাগলামি করছিল তাই রাতে একা ফেলে আসতে পারিনি।তোমাদের য
রাগি স্যারের #রোমান্টিক অত্যাচার
লেখিকা:Smily Queen
:12
মালিহা বেগম এসব সহ্য করতে না পেরে জ্ঞান হারান।আরাফ ধপ করে চেয়ারে বসে পড়ে।
।
আরাফ:আমার কারণে একটা হাসিখুশি থাকা মেয়েটা আজ মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে।মেয়েটার কিছু হয়ে গেলে আমি নিজেকে কখনোই মাফ করতে পার শো না।
।
নীল:স্যার,এতে তো আপনার কোনো হাত নেই।আমাদের এখন আল্লাহকে ডাকা ছাড়া কিছু করার নেই।
।
আকাশ:এসব হলো কি করে.?
।
নীল:এসব কিছু তামিম বদলা নিতে করেছিল।স্যারকে ট্রাকের নিচে ফেলে মারতে চেয়েছিল।আর মারিহা স্যারকে বাঁচাতে দিয়ে ওর বিছানো ফাঁদে পড়ে যায়।
।
আকাশ:ওই কুত্তার বাচ্চাকে তো এখন আর ছাড়া যায় না।ওই হারামজাদার কারণে মারিহা আজ মৃত্যুশয্যায়।
।
নীল:মারিহা একবার সুস্থ হোক।তারপর ওর খবর নিবো।
।
কিছুক্ষণের মধ্যে নীলা আর আশাও হাসপাতালে এসে পড়ে।
।
নীলা:নীল,মারিহার কি অবস্থা এখন?
।
নীল:48 ঘন্টার আগে ডক্টর কিছুই বলতে পারছেন না।
।
আশা:এসব কি আবোলতাবোল বকছিস।এখনই দেখবি মারিহা এসে আমাদের পেত্নি,শাতচুন্নি এসব ডাকবে।
।
মালিহা বেগমের জ্ঞান ফিরে আশেপাশে মারিহাকে খুঁজতে থাকে ।
।
মালিহা বেগম:আমার মারিহা কই?ওকে ডাক দেও।রাত হয়ে গেল তো।ভাত খাবে না?
।
মাশরাফ:তুমি আগে কিছু খেয়ে নেও।তুমি যখন ঘুমিয়ে ছিলে।তখন মারিহা খেয়ে নিয়েছে।এখন ঘুমিয়ে পড়েছে।ওকে আর বিরক্ত করো না।
।
মালিহা বেগম:আমাকে ফেলেই খেয়ে নিল।আমিও তাহলে খেয়ে ফেলি।দেও খাবারটা।
।
মাশরাফ:তোমাকে কষ্ট করতে হবে না।হা করো।আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
।
আরাফ দূর থেকে তাকিয়ে দেখছে।
।
আরাফ:এতো বছর হয়ে গেল ওদের বিয়ের কিন্তু ভালোবাসা এক চুলও কমেনি।হয়তো সত্যিকারের ভালবাসা এমনি হয়।(মনে মনে ভাবছে)
।
নীল:আকাশ তোর শরীর তো বেশি ভালো না।রাত ও হয়ে গেছে।সাথে নীলাকে ও নিয়ে যা।
।
আরাফ:হ্যাঁ,তোমাদের উচিত বাসায় চলে যাওয়া।অনেক রাত হয়ে যাচ্ছে।
আশা তুই যাবি।
।
আশা:ভাইয়া,আমি তোমার সাথেই যাবো।
।
আরাফ:ঠিক আছে।
।
মাশরাফ খান:বাবা,তুমি কিছুক্ষণের জন্য এখানে থাকতে পারবে মারিহার আম্মুকে বাসায় রেখে আসতাম।এখানে থাকলে পাগলামি করবে।
।
আরাফ: No,problem uncle.
।
মাশরাফ খান:আমার মেয়েটার একটু খেয়াল রেখো বাবা।
।
আরাফ:টেনশন করবেন না।আমি আর আশা এখানে আছি।
।
মাশরাফ খান:আমার যদি চিনতে ভুল না হয় তোমার নাম আরাফ না?
।
আরাফ:আপনি জানলেন কিভাবে?
।
মাশরাফ খান:মারিহা বলে তোমার কথা।বলে তুমি নাকি অনেক রাগি।নীল তোমাকে স্যার বলে
🤣🤣এটা পড়ুন হাসতে হাসতে আবার
পড়ে যাইয়েন না যেন😁🤣🤣
__ বিদেশি এবং জেলের মধ্যে কথোপকথন
বিদেশি : How are you?
জেলে : হাওয়া,,,, হুম আজকের হাওয়া খুব ঠান্ডা।
বিদেশি : what do you do?
জেলে : আরে রাখেন আপনার হাডু ডু দেখেন না মাছ ধরতেছি!
বিদেশি : How much ?
জেলে : ইলিশ মাছ।
বিদেশি : How f***y !
জেলে : নাইমা দেখেন,,,, অনেক পানি!
বিদেশি : ok
জেলে : আরে ওরে চিনেন না ও আমার ভাতিজা!🙂
🤣🤣
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Address
Active Apps
Kishoreganj
Opening Hours
| Monday | 09:00 - 17:00 |
| Tuesday | 09:00 - 17:00 |
| Wednesday | 09:00 - 17:00 |
| Thursday | 09:00 - 17:00 |
| Friday | 09:00 - 17:00 |
| Saturday | 09:00 - 17:00 |
| Sunday | 09:00 - 17:00 |
