Tomor jonno

Tomor jonno

Share

Forever Living product sale in Bangladesh

Photos from Tomor jonno's post 21/10/2023

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমরা আপনাদের জন্য ন্যাচারাল কেমিক্যাল মুক্ত, সৌন্দর্য ও সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রডাক্ট, আমাদের Forever Living product ব্যবহার করে নিজের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে তুলুন, আর সুস্থ থাকুন, । Forever Living product ' মানুষের সৌন্দর্য ও সুস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে, অনেক সময় দেখা যায় মুখে মধ্যে অনেক কালো দাগ হয়ে যায় কিংবা বেশি রাত জাগলে চোখের নিচে দাগ পড়ে যায়, আপনার চেহারা খসখস লাগে, বা আপনার কিডনিতে সমস্যা, মাথায় সমস্যা কোমরে সমস্যা, শরীর দুর্বল, অনেক মোটা হয়ে গেছেন এখন চিকন হতে চান অথবা অনেক চিকন আছেন একটুও মোটা হতে চান এগুলোর মধ্যে কোন একটির মাঝে যদি আপনি থেকে থাকেন তবে আমাদের এই প্রোডাক্ট আপনার জন্য, Forever Living product ১০০% গ্যারান্টি সহকারে বিক্রি করে থাকে, কেউ এই প্রোডাক্ট ব্যবহারে পড়ে যদি বলে তার কোন উপকারে আসে নাই তবে তাকে আমাদের এই কোম্পানি ৯৫% টাকা ফেরত দিয়ে থাকে
ব্যবহার না করে আফসোস করার চেয়ে একবার ব্যবহার করে দেখুন, ।

আপনি কোন প্রোডাক্টটি নিতে চান.? তা লিখে ইনবক্স করুন

29/08/2022

শিক্ষনীয় গল্পঃ

একদিন গাধা বাঘকে বলল — "ঘাসের রং নীল। "

বাঘ উত্তর দিল — "না, ঘাসের রং সবুজ। "

কিছুক্ষনের মধ্যেই দু'জনের আলোচনা তুমুল তর্কে পরিণত হলে, তারা জঙ্গলের রাজা সিংহের কাছে বিচারের জন্য উপস্থিত হল।

রাজদরবারে সিংহের কাছে পৌঁছানোর আগেই গাধা ডাক ছাড়তে শুরু করে দিল — " মহারাজ, আপনিই বলুন ঘাসের রং নীল কি না?"

সিংহ উত্তর দিল -- " হ্যাঁ, ঘাসের রং নীল।"

গাধা তাড়াতাড়ি সিংহের কাছে পৌঁছালো এবং বলতে থাকল —" বাঘ আমার কথা মানছে না, তর্ক করছে এবং আমাকে বিরক্ত করছে। ওকে শাস্তি দিন।"

সিংহ তখন ঘোষণা করল --" বাঘকে ৫ বছরের জন্য মৌন থাকার শাস্তি দেওয়া হল।"

গাধা খুশিতে লাফাতে লাগল এবং বলতে বলতে চলে গেল — " ঘাসের রং নীল, ঘাসের রং নীল।"

বাঘ শাস্তি মেনে নিল, কিন্তু সিংহকে জিজ্ঞাসা করল —" মহারাজ, আপনি আমায় শাস্তি দিলেন কেন যখন ঘাসের রং সত্যিই সবুজ।"

সিংহ বলল —" ঠিক, ঘাসের রং সবুজ।"

বাঘ জিজ্ঞাসা করল —" তাহলে আপনি আমায় শাস্তি দিলেন কেন?"

সিংহ উত্তর দিল —" তোমাকে শাস্তি দেওয়ার সাথে ঘাসের রং সবুজ না নীল, সেই প্রশ্নের কোনো সম্পর্ক নেই। তোমাকে শাস্তি দিয়েছি কারণ তোমার মত সাহসী, বুদ্ধিমান প্রাণী একটা গাধার সাথে তর্ক করে সময় নষ্ট করেছ এবং এইরকম একটা বাজে কারণে আমার কাছে এসে আমার সময় নষ্ট করেছ।"

শিক্ষাঃ মুর্খের সাথে কখনো তর্কে যেওনা।

29/08/2022

#চিলেকোঠায়_অনুরক্তির_ছোঁয়া
#ফারহানা_আক্তার_ছবি_ও_রাফি
#পর্ব_০৫

🌸
রাতে মেঘ নিজের রুমে ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছে।তখনই মেঘের রুমে নক করে বেলা বলে উঠলো,"দাভাই ভেতরে আসবো?"মেঘ ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে দরজায় তাকিয়ে বেলাকে দেখে ল্যাপটপ বন্ধ করে বেলাকে ভেতরে আসতে আসতে বললো,"দাভাই বিজি আছিস নাকি?তোকে বিরক্ত করিনি তো?"

"না বনু একদমই বিরক্ত করিসনি।আয় বস বল কি হয়েছে?"

"দাভাই সকালে তোকে যে কাজটার কথা বলছিলাম সেটা কি করেছিস?ওর ইনফরমেশন পেয়েছিস?"

"হ্যা পেয়েছি।"বেলা উত্তেজিত হয়ে মেঘকে জিজ্ঞেস করলো,"কি জানতে পেরেছিস তাড়াতাড়ি বল না দাভাই।"মেঘ একটা জোরে শ্বাস নিয়ে বলতে শুরু করলো," ওর নাম রাফিদ রহমান।ওর পৃথিবীতে মা-বাবা কেউ নেই।শুধু একটা বড় বোন আছে ওর নাম ফারহা রহমান।রাফিদ একটা কলেজে পড়াশোনা করে আর পার্টটাইম জব হিসেবে ৩-৪ টা টিউশনি করে। "

রাফিদের মা-বাবা নেই সেটা শুনে বেলার মনে মনে একটু রাফিদের জন্য খারাপ লাগলো।কতই না কস্ট করে জীবনযাপন করছে।একটা ছোট্ট বাড়িতে কোনোরকম থাকে।বেলা বেশি আকৃষ্ট হয় রাফিদের নিষ্পাপ চেহারাটা দেখে।বেলা দেখেই বুঝতে পেরেছিলো রাফিদ খুবই শান্ত প্রকৃতির একজন ছেলে।বেলা ঠিক করলো সে রাফিদের সাথে দেখা করবে।তাই মেঘকে বলে উঠলো,"দাভাই একটা হেল্প করে দিবি?"

"কি বল?"

"আমি ওই কলেজে এডমিশন নিতে চাই?"।

"কিন্তু কেন?তুই তো অলরেডি এবরোডে "ল" নিয়ে পড়েছিস?"

"হ্যা করেছি বাট আমি ওর কলেজে একজন সাধারণ স্টুডেন্ট হিসেবে ওর ডিপার্মেন্টে ভর্তি হতে চাই।"বেলার কথার মানে মেঘ বুঝতে পারলো তাই বেলার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো,"ঠিক আছে আমি আগামীকালই তোকে ওই কলেজে এডমিট করিয়ে দিবো।"

"থ্যাংকিউ আমার হ্যান্ডসাম দাভাই।"

"ওয়েলকাম বনু।বনু তোকে একটা কথা বলার ছিলো।"

"বল দাভাই।"

"আমি একটা মেয়েকে ভালোবেসে ফেলেছি।"বেলা মেঘের কথায় অবাক হয়ে যায়।যে ছেলে মেয়েদের আশেপাশেও যায় না সেই ছেলে কিনা একটা মেয়েকে ভালোবেসে। কথাটা বেলার হজম হলো না।"

"ফান করছিস দাভাই।তুই যে কিনা কোনো মেয়ের দিকে চোখ তুলে তাকায় না আর যে রাস্তা দিয়ে গেলে সব মেয়ে চোখ দিয়ে গিলে খায় সে কিনা একটা মেয়েকে ভালোবাসে অসম্ভব।"মেঘ ট্যারা চোখ করে বললো,"সত্যি আমি একটা মেয়েকে ভালোবাসি।"

"তাই! কে সে?"

"আমার ফারু পাখি,আমার ভালোবাসা,আমার প্রিয়তমা ফারহা রহমান।"এইবার বেলা অবাকের শীর্ষে পৌছে যায়।তার মানে কি রাফিদের বড় বোনকেই দাভাই ভালোবাসে।

"ওয়াও দাভাই।তারমানে ফারহা আপুই আমার হবু ভাবি হতে যাচ্ছে।"

"হ্যাঁ,তবে শোন এখনই এই ব্যাপারটা মম ড্যাডকে জানানোর দরকার নেই।আগে ফারুপাখিকে আমার ভালোবাসার কথাটা জানাই তখন সবাইকে জানাবো।"

"তো তাড়াতাড়ি জানিয়ে দে দেরি করছিস কেন?"

"হ্যাঁ জানাবো খুব শীঘ্রই জানাবো।তুই এখন যা ঘুমিয়ে পড়।সকালে রেডি হয়ে গাড়ি নিয়ে চলে যাস কলেজে।আমি প্রিন্সিপালকে ফোন করে জানিয়ে দিবো তোর এডমিশনের কথা।"

"ঠিক আছে দাভাই।" তারপর বেলা মেঘের রুম থেকে চলে যায় আর মেঘ আবার ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করতে বসে।

____________

পরদিন সকালে রাফিদ কলেজে চলে যায় আর ফারহা ভার্সিটির উদ্দেশ্যে।ফারহা একা একা রাস্তা দিয়ে হেটে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে যাচ্ছে।হঠাৎ একটা গাড়ি অনেক স্পিডে এসে ফারহার সামনে কষে ব্রেক করে।ফারহা সেখানেই দাড়িয়ে যায়।১০ সেকেন্ড পর গাড়ি থেকে একজন বের হয়।সামনে তাকিয়ে দেখে মেঘ গাড়ি থেকে বের হচ্ছে।মেঘকে এই সময়ে এখানে এক্সেপক্ট করেনি ফারহা।মেঘ ফারহার সামনে এসে দাড়িয়েছে।ফারহা মেঘকে বলে উঠলো,

"কি হলো মিস্টার চৌধুরী এভাবে আমার পথ আটকে দাড়িয়েছেন কেন? সরে যান।"

"ওয়েট ফারুপাখি।তুমি আগে গাড়ি উঠে বসো তোমার সাথে কথা আছে।

"ওয়াট!কে ফারুপাখি?আমার নাম ফারহা রহমান।"

"নো ইউ আর মাই ফারুপাখি।নাউ যেটা বলছি সেটা করো গাড়িতে উঠে বসো।"

"আমি আপনার সাথে কেন যাবো।আমার আপনার সাথে কোনো কাজ নেই।"

"বাট আমার আছে।ইউ নো আমি একজন পুলিশ অফিসার।আমি যেভাবে বলবো সেভাবে তোমাকে করতে হবে।যদি তুমি অপরাধী না হও আর ভুল না করো তাহলে আমার সাথে যেতে প্রবলেম হওয়ার কথা না।"মেঘ ফারহার কানের কাছে মুখ নিয়ে ধীরকন্ঠে বলে উঠলো,"আর ইউ,,,"মেঘ আর বলতে পারলো না তার আগেই ফারহা নিজে গিয়ে মেঘের গাড়িতে বসে।মেঘ একটা মুচকি হাসি দেয় আর চোখে সানগ্লাস টা পড়ে গাড়িতে উঠে বসে গাড়ি চালাতে লাগলো।মেঘ কয়েকবার আর চোখে ফারহার দিকে তাকায়।ফারহা নিজের মতো করে বাইরে তাকিয়ে আছে।এই পর্যন্ত একবারও মেঘের দিকে তাকায়নি।বিষয়টা মেঘের খুব একটা ভালো লাগেনি কিন্তু ওটা নিয়ে মাথা ঘামায়নি।মেঘ ফারহাকে নিয়ে নদীর পারে আসে।বিস্তৃত পরিবেশে সবুজের সমারোহ পাশে বণফুলে সমারোহ। কচুরির ফুল গুলো নদীর ঢেউ সমান্তরাল ভাবে ভেসে চলছে।মাথায় উপর সূর্যটা চিকচিক করছে আর হালকা বাতাস চলছে।বাতাসে ফারহার চুলগুলো উড়ছে আর ফারহা বারবার সেই চুলগুলোকে কানের পিছনে গুঁজে দিচ্ছে।মেঘের ইচ্ছে করছে চুলগুলোকে ছুঁয়ে দিতে কিন্তু ফারহা হয়তো এটাতে ওভার রিয়েক্ট করতে পারে তাই করছে না।মেঘ ফারহা কেউই কথা বলছেনা।অনেকক্ষণ ওর ফারহা বিরক্তি নিয়ে বললো,"মিস্টার চৌধুরী অনেকক্ষণ হলো আমরা এসেছি।আপনি কি জিজ্ঞেস করার তাড়াতাড়ি করুন আমার ভার্সিটি যেতে হবে।লেট হয়ে যাবে নয়তো।"

"তোমার আজ ভার্সিটি যেতে হবে না ফারুপাখি।আজ দুপুর পর্যন্ত আমরা এখানেই থাকবো।"

"মিস্টার চৌধুরী আমার মনে হয় না আপনার জিজ্ঞাসাবাদ এতক্ষণ চলবে সো যা বলার তাড়াতাড়ি বলুন।"

"ফারুপাখি এই জায়গাটা দেখেছো কত সুন্দর।আমি প্রায়সময়ই এই জায়গায়টায় আসি।যখনই মন ভালো থাকুক অথবা খারাপ থাকুক আমি এইখানে এসে বসে থাকি।আজ প্রথমবার কাউকে আমি আমার সাথে করে এখানে নিয়ে এলাম।ফারুপাখি আমি তোমাকে একটা কথা বলতে চাই।"মেঘ ফারহার হাতজোড়া নিজের হাতের নিয়ে বলে উঠলো,"আই লাভ ইউ ফারুপাখি।আমি তোমাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি।"মেঘের কথায় ফারহার অনেক রাগ হয়।ফারহা কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিলো মেঘ হয়তো এরকম কিছু একটাই বলবে।ফারহা হাত ঝাড়া দিয়ে বললো,"হাউ ডেয়ার ইউ মিস্টার চৌধুরী!আপনি এসব বলার জন্য আমাকে নিয়ে এসেছেন।মিথ্যা বলতে আপনার লজ্জা করলো না।"

"সরি ফারুপাখি বাট ওটা না বললে তুমি আসতে না।তাই বাধ্য হয়ে বলেছিলাম।ট্রাস্ট মি ফারুপাখি

29/08/2022

#ধূসর_শ্রাবণ💚
#লেখিকা: #তানজিল_মীম💚
#পর্ব-০৩

হতভম্ব হয়ে আছে পুরো বিয়ে বাড়ি কারন বিয়ের আসরে কনে আসলেও বরের কোনো খবর নেই। চারদিকে মানুষের সমালোচনা কানা ফুঁসা শুরু হয়ে গেছে অলরেডি। শুভ্রের বাবা বর্ষার বাবা দুজনেই প্রায় অপ্রস্তুত বিষয়টায়। তাঁরা ভাবে নি এইভাবে হুট করেই বিয়ের আসর ছেড়ে কোথাও চলে যেতে পারে শুভ্র। অনেকবার কলও করা হয়েছে শুভ্রকে কিন্তু প্রত্যেকবারই সেটা বন্ধ বলছে বারংবার। সবাই বেশ চিন্তিত বিষয়টায় হুট করে কোথায় চলে গেল শুভ্র। আর গেলই যখন বলে কেন গেল না।'

অন্যদিকে বিয়ের আসরে চুপচাপ বসে আছে বর্ষা। সবার এমন কানা ফুঁসা, সমালোচনা শুনে ভীষণভাবে কান্না পাচ্ছে তাঁর। এতদিন শুভ্রের প্রতি জমা তাঁর সব ভালোবাসাগুলো যেন ঘৃনায় পরিনত হয়েছে। নিজেকে যেন বেহায়া বলে মনে হচ্ছে কেন সে দাদুর কথা রাখতে গিয়ে ফেমেলিটাকে সাথে নিজেকেও এমন সমালোচনার সস্তা পাত্র বানিয়ে ফেললো। ঠাটিয়ে নিজের গালে কয়েকটা থাপ্পড় মারতে পারলে হয়তো খুব ভালো লাগতো। হুট করেই বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো বর্ষা। অভিমানের ভাড়ি পাহাড় নিয়ে একটু একটু এগিয়ে যেত লাগলো সে দাদুর কাছে। তাঁর থেকে কয়েককদম দূরেই একটা চেয়ারে বসে আছেন উনি। চোখে মুখে বিস্ময়ের ছাপ তাঁর। বর্ষা দাদুর দিকে এগিয়ে গিয়ে চুপটি করে বসলো দাদুর পাশ দিয়ে তারপর বললো,

' দাদুভাই?'

হুট করেই বর্ষার ভয়েসটা কানে আসতেই আস্তে আস্তে চোখ তুলে তাকালেন বর্ষার দিকে শুভ্রের দাদু। তারপর বললেন,

' হুম বলো দাদুভাই।'

' জানো তো দাদু জীবনটা হলো এলেমেলো বার্তা আসার কলিংবেল। কখন যে হুট করে কি বা কে আসবে বোঝাই যায় না। এই যে দেখছো বিভিন্নপদের মানুষ বিভিন্ন কথা বলছে। আসলে কি বলো তো মানুষের রুচিটাই হলো এমন। কেউ কেউ সহজ বিষয়টাকেও জটিল করে নেয় আবার কেউ কেউ কঠিন বিষয়টাকেও সহজভাবে নেয়। যেমন ধরো এইখানের মানুষজন কেউ কেউ বলছে আমি বেহায়া, অপয়া। আবার কেউ কেউ শুভ্রকে নিয়েও সমালোচনা করছে, শুভ্র অন্য মেয়ের সাথে পালিয়ে গেছে, নিজের সার্থের জন্য ফেমেলিকে ছেড়ে গেছে। আবার কেউ কেউ পুরো ফেমেলিটাকেই খারাপ ভাবছে। আবার দেখো না এই এত এত সমালোচনার মাঝে কেউ আবার আমায় নিয়ে চিন্তা করছে আমার ভবিষ্যত কেমন হবে, আবার শুভ্রকে বলছে হয়তো এমন কিছু হয়েছে যার জন্য শুভ্রকে বাধ্য হয়ে বিয়ের আসর ছেড়ে যেতে হয়েছে। সবই মানুষের আনুমানিক ধারনা। কেউ সঠিক জিনিসটা জানে না তারপরও আপন মনে একেকটা জিনিস ভেবে এক একজন একএক কথা বলছে।'

বর্ষার কথার আগামাথা গোড়া কিছু বুঝতে না পেরে বলে উঠল দাদুভাই,

' তুমি এইসব কি বলছো দাদুভাই আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।'

উওরে নিশ্চুপ স্বরে বলে উঠল বর্ষা,

' হুম বলছি তবে তুমি আমায় কথা দেও কথাটা শোনার পর তুমি সবটা সহজভাবেই মেনে নিবে জটিলতা বানাবে না।'

' আগে কথাটা কি সেটা তো বলবে তুমি কি জানো শুভ্র কোথায় গেছে?'

উওরে নিজের মাথাকে উপর নিচ করে নাড়িয়ে সমর্থন জানালো বর্ষা। বর্ষার কথা শুনে দাদুভাইসহ বাকি সবাইও অবাক হলো বর্ষার মা তো এগিয়ে এসে বললো,

' তুই জানি শুভ্র কোথায় গেছে?'

মায়ের কথা শুনে বর্ষাও মায়ের দিকে একপলক তাকিয়ে দাদুর হাত ধরে বললো,

' হুম জানি।'

বর্ষার কথা শুনে দাদুভাইও বেশ খানিকটা অবাক হয়ে বললেন,

' তাহলে বলো কোথায় গেছে শুভ্র?'

উওরে মাথা নিচু করে বললো,

' হুম বলছি।'

বর্ষার কথা শুনে সবাই বেশ আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে রইলো বর্ষার দিকে। তাঁরা তো অবাক হচ্ছে এটা ভেবে শুভ্র বর্ষাকে বলে গেছে কোথায় গেছে। কিন্তু বর্ষা তাদের এখনো কিছু বললো না কেন। বর্ষাকে চুপ থাকতে দেখে দাদুভাই আবারো বলে উঠল,

' কি হলো দাদুভাই তুমি বলছো না কেন শুভ্র কোথায় গেছে?'

দাদুর কথা শুনে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে নিশ্চুপেই বলে উঠল বর্ষা,

' আসলে হয়েছে কি দাদু, শু?'

আর কিছু বলার আগেই সেখানে উপস্থিত হলো শুভ্র। সবাইকে উদ্দেশ্য করেই বললো সে,

' কিছু হয়নি দাদুভাই এই তো আমি চলে এসেছি।'

সঙ্গে সঙ্গে বর্ষা অবাক চোখে তাকালো শুভ্রের দিকে। বর্ষার সাথে সাথে বাকি সবাইও তাকালো শুভ্রের মুখের দিকে। শুভ্রের বাবা তো চটজলদি এগিয়ে গেল শুভ্রের দিকে তারপর বললো,

' কোথায় গিয়েছিলে তুমি কাউকে কিছু না বলে?'

উওরে মাথা নিচু করে বললো শুভ্র,

' আমি খুব দুঃখিত বাবা আসলে আমার এক বন্ধু আসার পথে এক্সিডেন্ট করে ওকে দেখতেই গিয়েছিলাম ভেবেছিলাম তাড়াতাড়ি চলে আসতে পারবো। কিন্তু একটু লেট হয়ে যাবে বুঝতে পারি নি। আই এম সরি বাবা।'

শুভ্রের কথা শুনে বিস্মিত হয়ে বললো শুভ্রের বাবা,

' একটা ফোন তো করতে পারতে।'

বাবার কথা শুনে পকেট থেকে নিজের ভাঙাচোরা ফোনটা দেখিয়ে বললো,

' রাস্তায় পড়ে ভেঙে গেছে বাবা তাই আর কি?

শুভ্রের কথা আর মোবাইলটার অবস্থা দেখে শুভ্রের বাবাও আর কিছু বলতে পারলো না। কিছুক্ষন নিশ্চুপ থেকে বললো,

' ঠিক আছে চলো এখন! সেই কখন থেকে বর্ষা তোমার জন্য অপেক্ষা করে বসে আছে।'

উওরে মৃদু হাসলো শুভ্র। তারপর সেও এগিয়ে গেল বর্ষার কাছে। বর্ষা শুধু নির্বিকার হয়ে তাকিয়ে রইলো শুভ্রের মুখের দিকে। সে বুঝলো না শুভ্র ফিরে কেন আসলো। তাহলে কি সে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু কি এমন হলো যে শুভ্র ফিরে আসলো।'

বর্ষার ইচ্ছে করছে সে নিজেই এই বিয়েটা ভেঙে দিক। কিন্তু আশেপাশের লোকজন এতক্ষণ যা যা বললো সেটার প্রতি উওর হিসেবে শুভ্রের এখানে আসাটাই হয়তো মুখ্য জবাব। কিন্তু এখন যদি সে বিয়েটা ভেঙে দেয় তাহলে লোকজন আবার তাদের দিকে আঙুল তুলবে। মাঝে মাঝে পরিস্থিতি আমাদের এমন এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে রাখে যে, আমরা চাইলেও কিছু করতে পারি না। সমালোচনা জিনিসটা এতটাই বাজে যে মাঝে মধ্যে তাদের চুপ করানোর জন্য নিজেকে বেহায়া হতে হয়। নিজের কাছে নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে করতে হয়। শুভ্রকে সে ভালোবাসে, তাই বেহায়ার মতো শুভ্র রিজেক্ট করার পর ও বিয়েটায় সে রাজি হয়েছিল, বিয়ের আসরে এসে বসতে চেয়েছিল তাঁর মন। তাই বিয়ের বেসে সেজেছিল আজ। কিন্তু শুভ্র যা করলো এতে তাঁর মন ভেঙে গেছে পুরোপুরি। এতক্ষণ সে ভালোবাসার জন্য বেহায়া সেজেছিল। আর এখন মানুষের সমালোচনাকে ঠেকাতে বেহায়া হবে আর একবার। বর্ষার মন ভিতর থেকে ভেঙেচুরে গেছে পুরোপুরি।'

হঠাৎই হাতে কারো স্পর্শ পেতেই চমকে উঠলো বর্ষা সাথে নিজের ভাবনা থেকে বেরিয়ে সামনে তাকালো সে। তাঁর সামনেই সাদা পর্দার আঁড়ালে অপরপাশে বসে আছে শুভ্র। কিছুক্ষনের আগেই মায়ের হাত ধরে দাদুর কাছ থেকে সরে এখানে বসেছে সে। শুভ্রের পাশেই বসে আছে কাজী সাহেব বিয়ে পড়াতে শুধু করেছেন উনি।'

অতঃপর কবুল বলার মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হলো শুভ্র আর বর্ষার। সাথে তাঁরা আবদ্ধ হলো বিয়ে নামক পবিত্র বন্ধনে। বর্ষার মনে অনেক প্রশ্ন?

' শুভ্র তো চলে গিয়েছিল তাহলে ফিরে কেন এলো? কি এমন হলো যে তাঁরা সুস্থ সবল ফোনটা এভাবে ভেঙে চুরে গেল। কি এমন হয়েছে যার জন্য শুভ্র লন্ডন না গিয়ে ফিরে এসে তাঁকে বিয়ে করলো? সত্যি কি শুভ্রের বন্ধুর এক্সিডেন্ট হয়েছে নাকি অন্যকিছু।'

প্রশ্নগুলো মাথায় এসে আঁটকে যাচ্ছে বারংবার। কোথায় পাবে এই প্রশ্নের উত্তর। শুভ্র কি দিবে তাঁকে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর। বিষন্ন মাখা মুখ নিয়ে তাকালো বর্ষা শুভ্রের মুখের। শুভ্রও তাকালো তাঁর পানে, তক্ষৎনাত চোখ সরিয়ে ফেললো বর্ষা শুভ্রের ওপর থেকে। কেন যেন এই মুহূর্তে শুভ্রকে দেখতে ইচ্ছে করছে না তাঁর।'

________

পুরো ভার্সিটি ঘুরে তন্নতন্ন করে হিয়াকে খুঁজছে শিফা। কিন্তু পুরো ভার্সিটির কোথাও তাঁকে খুঁজে পাচ্ছে না সে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে আসলো তাও মেয়েটার কোনো খোঁজ নেই। হিয়া নামক এই মেয়েটা যে হুটহাট কোথায় চলে যায় বুঝতে পারে না শিফা। কয়েক ঘন্টা আগে একবার হাওয়া হয়ে গিয়েছিল এখন আবার হাওয়া হয়ে গেছে। এসব ভাবতে ভাবতে এগিয়ে যাচ্ছিল শিফা। এমন সময় ভার্সিটির লাইব্রেরির সামনে দিয়ে যেতে গিয়ে হঠাৎই বিকট শব্দ আসলো লাইব্রেরির ভিতর থেকে। তক্ষৎনাত কৌতুহলী এগিয়ে গেল শিফা লাইব্রেরির ভিতরে। তারপর যা দেখলো তাতে তাঁর চোখ বড় বড় হয়ে গেল। কারন তাঁর থেকে কয়েক কদম দূরে কতগুলো এলেমেলো ভাবে নিচে পড়ে থাকা বইয়ের মাঝে মাথায় কার্টন দিয়ে ঢেকে দাঁড়িয়ে আছে একটা মেয়ে। শিফা বুঝতে পেরেছে সে যে মেয়েটাকে তন্নতন্ন করে খুঁজে চলেছে সেই এই। কোমড়ে হাত দিয়ে চটজলদি দৌড়ে এগিয়ে গেল শিফা হিয়ার কাছে তারপর বললো,

' এভাবে বই নিয়ে হাডুডু না খেলে বাসায় বসে একটু পড়তেও তো পারিস।'

শিফার কথা শোনার সাথে সাথে মুখ থেকে কার্টনের বড় প্যাকেটটা মাথা থেকে সরালো হিয়া। এলেমেলো চুল সাথে চোখে ব্যাঁকাভাবে পড়া মোটা ফ্রেমে চশমা গায়ে পেস্ট কালার জর্জেট থ্রি-পিচ পড়ে পুরো পাগল পাগল লাগছে তাঁকে। হিয়ার এমন অবস্থা দেখে চোখ বড় বড় করে বললো শিফা,

' এসব কি অবস্থা করেছিস নিজের।'

উওরে নিজের মাথার চুল সাথে চশমাটা ঠিক করতে করতে বলে উঠল,

' আর বলিস না একটা উপন্যাস খুঁজতে এসে এমন অবস্থা হয়েছে নিজের।'

' কি?'

' তাহলে বলছি কি ভেবেছিলাম একজন বড়সড় রাইটারের গল্প পড়লে হয়তো মস্তিষ্কটা একটু পরিষ্কার হবে। কিন্তু হলো কি ওই শালার কার্টনটার জন্য আমার সব গেল।'

' কেন ওটা কি করেছে?'

' কি করেনি সেটা বল কার্টনটাকে বই ভেবে দিয়েছিলাম টান সাথে সাথে সব বইগুলো এসে পড়লো নিচে আর কার্টনটা এসে পড়লো আমার মাথায়।'

বর্ষার কথা শুনে চোখ বড় বড় করে বললো শিফা,

' যখন টান দিবি তখন দেখে টান দিবি না।'

শিফার কথা শুনে মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলে উঠল হিয়া,

' দেখেই তো দিয়েছিলাম কিন্তু হলো টা কি দেখতেই তো পাচ্ছিস। প্লিজ দোস্ত আমায় একটু হেল্প কর না।'

' আমি পারবো না তুই নির্মল ভাইয়াকে ডাক দে?'

' একদম ঠাটিয়ে একটা দিবো ওই ভিলেনটাকে কেন ডাকতে যাবো আমি?'

' এইভাবে বলতে পারলি উনি তোকে কত ভালোবাসে বল!'

' ভালোবাসে না ছাই কালকেও একটা ছেলেকে মেরেছিল জানিস।'

' সেটা তো তোর জন্যই ওই ছেলে তোর গায়ে টার্চ করেছিল বলেই না।'

' ওই ছেলের কোনো দোষ ছিল না আমি ঠিকভাবে হাঁটতে না পেরে পড়ে যেতে নিয়েছিলাম তাই ধরেছিল ছেলেটা।'

' কিন্তু সেটা নির্মল ভাইয়াকে কে বোঝাবে। তবে ভাইয়া তো আবার সুস্থ করে দিয়েছিল তাই না।'

উওরে বিষন্ন মাখা মুখ নিয়ে বললো হিয়া,

' একজন ডাক্তারের কাজ কি? অসুস্থ রোগীকে সুস্থ করা আর নির্মল ডাক্তার হয়ে কি করে সুস্থ মানুষকে অসুস্থ বানিয়ে আবার সুস্থ করে এটা কোনো কথা।'

' কিন্তু এগুলোর সবগুলোই তো তোর জন্য।'

' আমার জন্য মানে আমি বলেছি এমনটা করতে।'

' বলিস নি ঠিকই কিন্তু ভালোবাসি বলতে তো পারিস।'

' তোর কি মাথা খারাপ হয়েছে ওই ভিলেনটাকে আমি ভালোবাসি বলতে যাবো।'

' তুই না বললেও ভাইয়া বিয়েটা কিন্তু তোকেই করবে।'

' করতে আসুক না আমিও বিয়ের আসর ছেড়ে পালিয়ে যাবো।'

এতটুকু বলে বেশ বিস্মিত কন্ঠ নিয়ে বললো,

' জানিস আজ কি হয়েছিল?

উওরে খুব সিরিয়াস ভাবেই বললো শিফা,

' কি?'

' বলবো আগে আমায় এই বইগুলো উঠাতে সাহায্য কর না হলে বলবো না।'

' 😒😒😒

' ওভাবে তাকালে কিন্তু বলবো না।'

হিয়ার কথা শুনে কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো শিফা,

' তুই আবার আমায় কৌতূহলের কথা রেখে কাজ করাচ্ছিস।'

উওরে দাঁত কেলানি হাসি দিয়ে বললো হিয়া,

' এমন কর কেন তুই আমার বেস্টু না তাড়াতাড়ি চল না গুছিয়ে ফেলি বইগুলো না হলে দারোয়ান দাদু ভার্সিটির গেট লাগিয়ে চলে যাবে।'

হিয়ার কথা শুনে নিরুপায় হয়ে বললো শিফা,

' ঠিক আছে চল তাড়াতাড়ি।'

শিফার কথা শুনে হিয়াও খুশি হয়ে ওর গাল টেনে দিয়ে বললো,

' আমার মিষ্টি বেস্টু।'

' হুম হয়েছে হয়েছে কাজ শেষ হলে কিন্তু কথাটা বলতে হবে বলে দিলাম।'

' হুম বলবো বলবো তোকে বলবো না তো কাকে বলবো বল।'

' হুম ঠিক আছে ঠিক আছে।'

এতটুকু বলে লাইব্রেরি জুড়ে নিচে পড়ে থাকা বইগুলো গুছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো হিয়া আর শিফা।'

প্রায় আধ ঘন্টা পর পুরো কাজ শেষ করে বললো শিফা,

' এবার তাহলে বল কি হয়েছিল আজ?'

' হুম বলবো চল যেতে যেতে বলছি।'

এতটুকু বলে লাইব্রেরি থেকে বের হলো হিয়া আর শিফা। তারপর হাঁটতে হাঁটতে বলে উঠল হিয়া,

' আজ এয়ারপোর্টে গিয়েছিলাম আমার কাজিন সৈকতকে আনতে আর তখন....

#চলবে....

[ভুল-ত্রুটি ক্ষমার সাপেক্ষ। আর গল্প কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবে।]

28/08/2022

গল্প_গোধূলি_বেলায়_তুমি
Writer_Ritu_Bonna
অন্তিম_পর্ব(শেষ অংশ)
আভিয়ানকে ভিতরে ঢুকতে দেখেই আদ্রিজার বাবা ক্রোধের দৃষ্টিতে তার দিকে তাকায়। তিনি এখনো কিছুই জানেন না। তিনি গম্ভীর স্বরে বলেন,"তোমার সাহস কি করে হলো এই বাড়িতে ঢুকার।তোমাকে এখনি আমি পুলিশে দিবো। আমার মেয়েকে কিডন্যাপ করে তার পরে তাকে জোর করে বিয়ে করার জন্য সারাজীবন তোমাকে জেলের ভাত খাওয়াবো।"

আভিয়ান মাথা নিচু করে শান্ত স্বরে বলে," আমি যা করেছি তার জন্য আপনি আমাকে যা শাস্তি দিবেন আমি তা মাথা পেতে নিবো। আপনার জায়গায় অন্য কেউ হলে ওনীও তাই বলতো আপনি যা বলছেন। কিন্তু আমার কথাটা আগে একটু শুনেন। এরপরে আপনি যা চাইবেন তাই হবে। "

আদ্রিজার বাবা রাগে রুক্ষ কন্ঠে বলে,"আমার কিছু শুনার নেই। তুমি কেমন তা আমার জানা আছে। তোমার মতো নিকৃষ্ট লোক আমি পৃথিবীতে দুইটা দেখি নি। তোমার মতো চরিত্রহীন কারো সাথে আমি আমার মেয়েকে কিছুতেই থাকতে দিবো না। তার জীবনটা আমি কিছুতেই নষ্ট হতে দিবো না।বেরিয়ে যাও বলছি,,",

আদ্রিজা তার বাবার সামনে গিয়ে বলে,"বাবা তুমি শান্ত হও। তুমি ভুল বুঝছো আরিয়ানকে। শুধু তুমি নও আমরা সবাই আভিয়ানকে ভুল বুঝেছিলাম। "

আদ্রিহার বাবা গম্ভীর স্বরে বলে," নিজের চোখের দেখা কি করে ভুল হতে পারে? যা হয়েছে সব নিজের চোখে দেখার পরে এখানে কোন ভুল থাকতে পারে না। "

"চোখের দেখায়ও মাঝে মাঝে ভুল থাকে। সব জানাই ঠিক হয় না। পরিস্থিতি মানুষকে অনেক সময় অনেক কিছু করতে বাধ্য করে।আভিয়ানও স্বীকার হয়েছে পরিস্থিতির। সে বাধ্য হয়েছে এমনটা করতে। আভিয়ান অনেক কিছু সহ্য করেছে জীবনে আমি তাকে আর কোন কষ্ট পেতে দিবো না। তুমি তাকে এভাবে অপমান করলে আমি আর কখনোই এখানে আসবো না। আর এখনি এখান থেকে চলে যাবো।"

আদ্রিজার বাবা গম্ভীর স্বরে বলে,"কি হয়েছে আমি সব জানতে চাই?"

আদ্রিজা ওনাদের সবকিছু খোলে বলে। সব কিছু শুনার পরে আদ্রিজার মা - বাবা আর ভাইয়ের চোখেও পানি চলে আসে। আভিয়ান একপাশে দাঁড়িয়ে চোখের পানি ফেলছে।

আদ্রিজার বাবা গিয়ে আভিয়ানকে বলে," যা হয়ে গেছে তা তো আমি চেঞ্জ করতে পারবো না। জন্ম - মৃত্যু আল্লাহর হাতে। তাতে মানুষের কোন হাত থাকে না। আমি তো তোমার বাবাকে ফিরিয়ে দিতে পারবো না কিন্তু আজকের থেকে আদ্রিজা আর আয়ানের মতো তুমিও আমার সন্তান। আমাকে নিজের বাবার মতো মনে করতে পারবে না।"

আভিয়ান আদ্রিজার বাবাকে জড়িয়ে ধরে। তার মনটা প্রশান্তিতে ভরে উঠে। সে কান্না করতে করতে বলে,,, "আমি কখনো ভাবতেই পারি নি বাবাকে আবার ফিরে পাবো।আজ আমি অনেক খুশি। "

আদ্রিজার মা অভিমানী স্বরে বলে,"আমি বুঝি কিছু না। আমাকে বুঝি মা ভাবা যায় না৷"

আভিয়ান আদ্রিজার মার সামনে এসে বলে,"এখন তো আপনারাই আমার সব। আজ আমি পরিপূর্ণ। বন্যার মতো একজনকে জীবনসঙ্গী পেয়েছি। বাবা- মাকে আবারও ফিরে পেয়েছি। আয়ানের মতো একজন ভাই পেয়েছি।"

আজ একটি পরিবার পূর্ণ হয়েছে। সব বাঁধা পেরিয়ে সবাই এক হয়েছে।
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

সময় বহমান।এই পৃথিবীতে কারো জন্যই কিছু থেমে থাকে না। একজন মানুষ না থাকলে অপর মানুষ ঠিক সেই মানুষের দায়িত্ব গুলো পালন করে নেয়। সময়ই সবচেয়ে বড় প্রতিশেধক। মানুষ সময়ের সাথে সাথে ঠিকই নিজেকে সব কিছুর সাথে মানিয়ে নিতে পারে। এক সময় যাকে ছাড়া সে নিজেকে কল্পনা করতে পারে না বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে সময়ের ব্যবধানে মানুষ তাকে ছাড়া বেঁচে থাকতে শিখে নেয়। ভালো থাকার কারণ খুঁজে নেয়।

আজ আদ্রিজা আর আভিয়ানের বিয়ের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। জীবনে সুখের সময় হয়তো খুব তাড়াতাড়ি চলে যায়। তাইতো আদ্রিজার কাছে এই একটা বছরকে একদিনের মতো মনে হচ্ছে।

সাফিন তার কাজের শাস্তি পেয়েছে৷ সে এখন তার কাজের জন্য অনুতপ্ত। সেদিন রাতে আভিয়ানের কথা মতো সাফিনকে হাইওয়ের পাশে রেখে আসা হয়। মানুষ তাকে রাস্তায় ওই অবস্থায় পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রায় তিন দিন পরে তার জ্ঞান ফিরে। ভয়ে সে তার মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। প্রায় সাত মাস চিকিৎসার পরে সে সুস্থ হয়৷ সুস্থ হয়ে সে সবার কাছে ক্ষমা চায়। আভিয়ানের কথায় সবাই তাকে ক্ষমা করে দেয়। নিজের সকল অন্যায়ের কথা সে পুলিশ বলে। সে এখন জেলে আছে,,,,
,,,,,,,,,,,,,,,

বধূ সেজে বাসর ঘরে বসে আছে ইরা। আজকের এই রাত তার জীবনের অনেক প্রতিক্ষিত একটি রাত। সে ভাবতে পারছে না সে তার ভালোবাসার মানুষকে নিজের করে পেয়েছে। সাফিনের করা অন্যায় গুলো জানার পরে তার আর আয়ানের মাঝে অনেক ব্যবধান সৃষ্টি হয়। আয়ান তার সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে। আদ্রিজা আর আভিয়ানের জন্যই আজ সে আয়ানকে নিজের করে পেয়েছে। মেয়েটার কাছে সে বড্ড ঋণী। তার ভাই এত কিছু করার পরেও তারা তার জীবনটা গুছিয়ে দিয়েছে। হঠাৎ করে দরজা খোলার আওয়াজে তার ভাবনায় ছেদ পরে। আয়ান ভিতরে ঢুকে দরজা বন্দ করে ইরার দিকে এগিয়ে আসে। আয়ানকে এভাবে আসতে দেখে ইরার হার্ট বিট দ্বিগুণ হয়ে গেছে। লজ্জা আর ভয়ে সে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। আয়ান খাটের উপরে বসে ইরার ঘোমতা খোলে আস্তে করে ইরার কাঁপা কাঁপা হাত ধরে বলে,"আজ থেকে আমাদের নতুন জীবন শুরু হলো। আমাদের মাঝে আর কখনো পুরোনো কোন কথা আসবে না। দুইজন দুইজনের কাছে সব কিছু শেয়ার করবো। জীবনে পথ চলার পথে যত ঝড়ই আসুক না কেন আমি কখনোই তোমার হাত ছাড়বো না। তুমি আমার পাশে এভাবে সারাজীবন থাকবে তো?"

আয়ানের কথা শুনে ইরার চোখে অশ্রু এসে পরে। এতটা ভালোবাসা তার ভাগ্যে ছিল ভাবতেই মনটা প্রশান্তিতে ভরে গেলো। সে আয়ানের হাত শক্ত করে ধরে বলে,"আমি কখনো আপনার হাত ছাড়বো না। সারাজীবন আপনার পাশে থাকবো। অনেক ভালোবাসি আপনাকে। আপনাকে ছাড়া আমার জীবন অপূর্ণ। আপনি পূর্ণ করেছেন আমাকে। আমরা যে একে-অপরের পরিণয়ের পরিপুরক।"
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

আদ্রিজা আজ অনেক খুশি। আজ তার ভাইয়ের জীবন পূর্ণতা পেয়েছে। পেয়েছে দুইজন মানুষের নিস্বার্থ ভালোবাসা তাদের ঠিকানা। ডেসিং টেবিলের সামনে এসে সে চিরুনি দিয়ে নিজের চুল আঁচড়াছে। হঠাৎ করে আভিয়ান তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে তার চুলে নিজের মুখ ঢুবিয়ে দেয়। আভিয়ানের এমন স্পর্শে আদ্রিজার সারাশরীের শিহরিত করে উঠে। তার হাত - পা যেন অবশ হয়ে আসে। আভিয়ান তাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে তার হাতে একটি প্যাকেট ধরিয়ে দেয়। আদ্রিজার কানের কাছে চুল গুজে দিয়ে আস্তে করে বলে,"শুভ বিবাহ বার্ষিকী প্রেয়সী।তাড়াতাড়ি এগুলো পড়ে বেরিয়ে আসো আজকে তোমার জন্য সারপ্রাইজ আছে।"আদ্রিজাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আভিয়ান বেরিয়ে যায়। আদ্রিজা সেদিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওয়াশরুমে গিয়ে ওগুলো পরে আসে। হালকা সেজে বাহিরে বেরিয়ে আসে।

গ্রেটের কাছে আসতেই দেখে আভিয়ান গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ড্রেসআপ দেখে বুঝা যাচ্ছে তার সাথে মিলিয়ে পরেছে। গাড় নীল রঙের শার্ট। সাথে ব্লাক বেজার, ম্যাচিংকরা প্যান্ট,হাতে ব্যান্ডেড ওয়াচ। সব মিলিয়ে আজকে আদ্রিজা আভিয়ানের থেকে চোখ ফিরাতে পারছে না। অনেক স্মার্ট লাগছে তাকে।

আভিয়ান গ্রেটের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করছে তার বন্যার জন্য। আদ্রিজাকে আসতে দেখে তার চোখের পলক পরছে না। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। আদ্রিজা ধীরে ধীরে আভিয়ানের দিকে এগিয়ে আসছে। আদ্রিজা কাছে আসছে আর আভিয়ানের হার্ট জোরে জোরে বিট করছে।এই একটা মেয়েকে সে অনেক ভালোবাসে। তার কাছে ভালোবাসা মানেই আদ্রিজা।প্রতিদিন নতুন করে প্রেমে পরে সে তার শ্যামবতীর।

বার বার প্রেমে পরে তার মায়াবতীর চোখের। গাড় নীল রঙের সিল্কের শাড়ী, সাথে পাড়ের সাথে মিলিয়ে গোল্ডেন চুড়ি, চোখে গাড় করে কাজল দেওয়া, মুখে হালকা মেকাপ, খোলা চুলে বেলি ফুলের মালা ঝুলানো, অপূর্ব লাগছে তাকে। চাঁদের আলোতে তাকে আরও অনেক বেশি মায়াবী লাগছে।

আদ্রিজা আভিয়ানের সামনে এসে বলে," কোথায় যাবেন?"

আভিয়ান এখনো যেন ঘোরের মাঝেই আছে। সে কিছু না বলে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আদ্রিজার দিকে। আভিয়ানের এভাবে তাকানোতে আদ্রিজার অস্বস্তি হচ্ছে। সে একটু জোরেই বলে,"কি হলো, আমরা কোথায় যাচ্ছি?"

আভিয়ানের এতক্ষনে হুশ আসে। সে গাড়িতে উঠতে উঠতে বলে,"সারপ্রাইজ এখন বলা যাবে না। গেলেই দেখতে পারবে।"

আদ্রিজা কিছু বলে না। বাধ্য মেয়ের মতো আভিয়ানের পিছু পিছু গিয়ে তার পাশের সিটে বসে।

আভিয়ান গাড়ি থেকে নেমে আদ্রিজাকে গাড়ি থেকে নামায়। আদ্রিজা গাড়ি থেকে নেমে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে," আমরা কোথায় এসেছি? "

চারিদিকে বড় বড় গাছের সারি, অনেকটা জঙ্গল বলা চলে, মাঝে মাঝে কুকুর আর শিয়াল ডাকছে। দূর- দূরান্তে কোন বাড়ি নেই। ঝি ঝি পোকা ডাকছে, কেমন যেন লোম হর্ষক পরিবেশ। চাঁদের আলোয় চারিদিকটা আবছা দেখা যাচ্ছে।

আভিয়ান মুচকি হেসে বলে,"আমি তো আছি। এত ভয় পাচ্ছো কেন? বিশ্বাস করো না আমাকে। "

"নিজের থেকেও বেশি বিশ্বাস আপনাকে করি। "

"তবে আসো আমার সাথে।ভয় না পেয়ে এই মূহুর্তটা উপভোগ করি।"

আদ্রিজা আভিয়ানের হাত ধরে তার সাথে যেতে থাকে। প্রায় আধা ঘন্টা হাঁটার পরে তারা একটি নদীর সামনে এসে দাঁড়ায়। চাঁদের আলোতে পানি চিকচিক করছে। নদীর পাড়েই নৌকা থামানো। বেলি ফুল আর হারিকেন দিয়ে সুন্দর করে নৌকাটা সাজানো। আদ্রিজার খুশিতে চোখে পানি এসে গেছে।এইটা তার জন্য সবচেয়ে বেস্ট সারপ্রাইজ।

আভিয়ান মুচকি হেসে বলে,"কেমন লাগলো সারপ্রাইজ? তোমার পছন্দ হয়েছে?"

আদ্রিজা খুশিতে আভিয়ানকে জড়িয়ে ধরে বলে,,, "হুমম।আমার অনেক পছন্দ হয়েছে। আমি সব সময় এমন একটা রাতের কল্পনা করতাম। নিজের ভালোবাসার মানুষের সাথে এমন একটা রাত কাটাতে চাইতাম। কখনো ভাবতে পারি নি আমার এই চাওয়াটা সত্যি হবে। আমার জীবনে সবচেয়ে বড় পাওয়া হলো আপনি,,,,অনেক অনেক ভালোবাসি আপনাকে। "

আভিয়ান তাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে, "আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি।আমার বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ তুমি। তুমি ছাড়া এই আমি জীবিত লাশ ছাড়া আর কিছুই না।" পরে আদ্রিজাকে ছেড়ে সে গিয়ে নৌকায় উঠে। নিজে নৌকায় উঠে আদ্রিজার দিকে তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে উঠে এসো। আদ্রিজা আভিয়ানের হাত ধরে নৌকায় উঠে আসে।

আদ্রিজা নৌকার এক কোনায় এসে বসে পানি পা ঝুলিয়ে রাখে। মাঝে মাঝে বেলি ফুল গুলো ছুঁয়ে দেখে, ফুলের ঘ্রান সে মুহিত হচ্ছে। সে আভিয়ানকে বলে, "আমার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।"

আভিয়ান নেশাক্ত কন্ঠে বলে,"তোমার সব স্বপ্ন পূরণের দ্বায়িত্ব আমার।" পরে আদ্রিজার কপালে ভালোবাসা পরশ এঁকে দেয়। আদ্রিজা পরম আবেশে নিজের চোখ বন্ধ করে নেয়। লজ্জায় তার মুখ লাল হয়ে যায়। সে আবার সেদিকে মন দেয়,,,,

"একটা গান গাইবে।তোমার গান শুনতে অনেক মন চাইছে।"

আভিয়ানের কথা শুনে আদ্রিজা তার চোখের দিকে তাকায়। আভিয়ানের চোখের তার নিজের জন্য অজস্র ভালোবাসা দেখতে পেয়ে তার ভেতরটা প্রশান্তিতে ভরে যাচ্ছে। এর থেকে বেশি তার আর কিছুই চাই না। আদ্রিজা আর বেশিক্ষন আভিয়ানের চোখের দিকে তাকাতে পারলো না। সে জানে এই চোখেই তার সর্বনাশ। সে অন্য দিকে ফিরে গান গাওয়া শুরু করলো,,,,,,,,

বলতে চেয়ে মনে হয়
বলতে তবু দেয় না হ্নদয়
কতটা তোমায় ভালবাসি...
চলতে গিয়ে মনে হয়
দুরত্ব কিছু নয়
তোমারি কাছেই ফিরে আসি
তুমি তুমি তুমি শুধু এই মনের
আনাচে কানাচে....
সত্যি বলোনা কেউ কি প্রেম হিনা
কখনো বাঁচে.....
তুমি তুমি তুমি শুধু এই মনের
আনাচে কানাচে....
সত্যি বলোনা কেউ কি প্রেম হিনা
কখনো বাঁচে.....
বলতে চেয়ে মনে হয়
বলতে তবু দেয় না হ্নদয়
কতটা তোমায় ভালবাসি

--"মেঘের খামে আজ তোমার নামে
উড়ো চিঠি পাঠিয়ে দিলাম
পড়ে নিয়ো,তুমি মিলিয়ে নিয়ো
খুব যতনে তা লিখে ছিলাম..
মেঘের খামে আজ তোমার নামে
উড়ো চিঠি পাঠিয়ে দিলাম
পড়ে নিয়ো,তুমি মিলিয়ে নিয়ো
খুব যতনে তা লিখে ছিলাম..
ও-চায় পেতে আরো মন
পেয়েও এতো কাছে...
বলতে চেয়ে মনে হয়
বলতে তবু দেয় না হ্নদয়
কতটা তোমায় ভালবাসি..

শেষের কলিটা তার দুই জনে একসাথে গাইলো,,,,,

--"মন অল্পতে-প্রিয় গল্পতে
কল্পনায় স্বপ্ন আঁকে...
ভুল ত্রুটি আবেগী খুনসুটি
সারাক্ষন তোমায় ছুঁয়ে রাখে
মন অল্পতে-প্রিয় গল্পতে
কল্পনায় স্বপ্ন আঁকে...
ভুল ত্রুটি আবেগী খুনসুটি
সারাক্ষন তোমায় ছুঁয়ে রাখে
ও-চায় পেতে আরো মন
পেয়েও এতো কাছে...
বলতে চেয়ে মনে হয়
বলতে তবু দেয় না হ্নদয়
কতটা তোমায় ভালবাসি"

চাঁদের আলোতে দুইজন ভালোবাসার মানুষ একে অপরকে আঁকড়ে ধরে আছে৷প্রকৃতি সাক্ষী হয়ে আছে দুইজন মানুষের এই ভালোবাসায়। পূর্ণতা পেয়েছে একটি পবিত্র সম্পর্ক৷ প্রনয়ের এই সম্পর্ক অনেক বাঁধা পেরিয়ে আবদ্ধ হতে পেরেছে পরিণয়ের পবিত্র বন্ধনে। আজ এই পূর্নিমার চাঁদ, নিস্তব্ধ পরিবেশ, পানির আওয়াজ সব কিছু এই ভালোবাসার শাক্ষী।

,,,,,,,,,,,,,,,,,,সমাপ্ত,,,,,,,,,,,,,,

28/08/2022

গল্প_গোধূলি_বেলায়_তুমি
Writer_Ritu_Bonna
অন্তিম_পর্ব(১ম অংশ)
আদ্রিজাও চুপ থেকে সব কিছু অনুভব করছে। এতক্ষন যেই যন্ত্রণা তার বুকের মাঝে হচ্ছিল আভিয়ানকে এভাবে জড়িয়ে ধরে তা প্রশান্তিতে পরিনত হয়েছে। সিগ্ধ এক আবেশে তাদের দুই জনের শরীর ও মন সব কিছু জুড়িয়ে গেছে৷ কয়েক সেকেন্ডের জন্য তারা সব কিছু ভুলে গেছে। হারিয়ে গেছে দুইজন দুইজনেতে। বিভোর হয়ে আছে তারা একে অপরের মাঝে। আজকের এই মুহূর্তটা দুইজনের জন্যই অনেক প্রতিক্ষার। পূর্ণতা পেতে চলেছে একটা প্রবিত্র সম্পর্ক।যেখানে দুইজনের মাঝে নেই কোন মান- অভিমান,নেই কোন ভুল বুঝাবুঝি শুধু আছে ভালোবাসা।

কেটে গেছে দুই দিন। আভিয়ান সকাল সকাল রেডি হয়ে বাহিরে যাচ্ছে। রেডি হওয়া শেষে সে আদ্রিজাকে ডাক দেয়।কয়েকবার ডাক দেওয়ার পরে আদ্রিজা বিরক্ত হয়ে রুমে ঢুকে রাগী দৃষ্টিতে আভিয়ানের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে? সব কিছু তো গুছিয়ে রেখে গেছি।

"হুমম।কিন্তু শুধু একটা জিনিসের কম ছিল। সেটা রাখতে ভুলে গেছো। "

আদ্রিজা মনে করার চেষ্টা করে বলে, "কি ভুলে গেছি? "

আভিয়ান মুচকি হেসে বলে," এদিকে আসো দেখিয়ে দিচ্ছি।"

আদ্রিজা আভিয়ানের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। আভিয়ান তার হাতে টান দিয়ে তাকে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়। একহাতে তার কুমোর জড়িয়ে ধরে। তার কপালে গভীর ভাবে স্পর্শ করে।লজ্জায় আদ্রিজার মুখ পুরো লাল হয়ে যায়। সে এখনো চোখ বন্ধ করে আছে। আভিয়ান তাকে দেখে আবারও মুচকি হাসে। তার কানে ফিসফিস করে বলে,"এভাবে লজ্জা পেলে তোমার মুখ একদম লাল টমেটোর মতো হয়ে যায় মন চায় খেয়ে ফেলি। তখন কিন্তু আমার কোন দোষ থাকবে না।"বলে তার কুমোরে ধরে তাকে আরো নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়। আদ্রিজা যেন দাঁড়িয়ে থাকার শক্তিই হারিয়ে ফেলেছে।আভিয়ান নেশাক্ত কন্ঠে বলে,"বিয়ের এত দিন হয়ে গেছে এখনো তোমার লজ্জা ভাঙে নি। আজ চলো সবার আগে তোমার লজ্জা দূর করি,, কি বল্।"

আদ্রিজা আস্তে করে বলে," অসভ্য একটা।"

আভিয়ান দুষ্ট হেসে বলে," তোমার সাথে অসভ্যতামি করবো না তো কি অন্য মেয়ের সাথে করবো? "

আদ্রিজা কপট রাগ দেখিয়ে বলে," যান তাই করেন গিয়ে। হাত- পা ভেঙে রেখে দিবো একদম। সাহস কত অন্য মেয়ের কথা বলে। "

আভিয়ান তাকে ছেড়ে বলে,"মজা করছিলাম। আমার পুরো পৃথিবীই এখন তুমি। তুমি ছাড়া এই আমার কোন অস্তিত্বই নেই। বিকেলে রেডি থাকবে। আজকে আমরা ঘুরতে যাবো।আসি বন্যা।"

,,,,,,,,,,,,,,,

আভিয়ান আবারও সাফিনের কাছে চলে যায়। টানা তিন দিন কিছু না খাওয়ার ফলে ক্ষিদেয় ছটছট করছে সে। হাতের যন্ত্রণায় চোখ থেকে পানি পরছে। খুব পানি তৃষ্ণা পাচ্ছে তার। সে পানি পানি করে কান্ত স্বরে বলতে লাগলো। আভিয়ান তার লোককে ইশারায় পানি আনতে বললো। লোকটি স্টিলের একটি গ্রাসে পানি দিয়ে চলে গেলো৷ গ্রাসে পানি নিয়ে সাফিনের দিকে এগিয়ে দিল সে।সাফিন ব্যস্ত হয়ে গ্রাস নিতে গেলে আভিয়ান গ্রাস ছেড়ে দেয়। ফ্লোরে পানি পরে যায়। সে ফ্লোর থেকে পানি খাওয়ার বৃথা চেষ্টা করে কিন্তু তার আগেই পানি গড়িয়ে যায়।সাফিনের অবস্থা দেখে আভিয়ান বিদ্রুপত্নক হেসে বলে," তোর মতো জানোয়ারকে পানি খাওয়াবো আমি তা তুই ভাবলি কি করে? তোকে তো পারলে এখনি আমি গুলি করে মারতে পারি কিন্তু তা তোর জন্য অনেক সহজ মৃত্যু হবে। কিন্তু তুই এত সহজে মরতে পারবি না। তোকে আমি বাঁচিয়ে রাখবো। তোর এমন অবস্থা করবো যে তুই মরতে চাইবি কিন্তু পারবি না।" আভিয়ানের দৃষ্টি ক্রোধ। আভিয়ানের দিকে তাকিয়ে সাফিন সেদিনের ঘটনা মনে করে ঢোক গিললো। সে ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিলো। সে বুঝতে পারলো আভিয়ান নিশ্চয়ই ঐ দিনের মতো হিংস্রাত্নক কিছু করবে। কিন্তু কি করবে তা বুঝতে পারছে না।

আভিয়ান আর কিছু না বলে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।কিছুক্ষন পরে পাঁচটি হিংস্র কুকুরকে রুমে ছেড়ে দিল। সাফিনের শরীরে এক টুকরো মাংস ছুঁড়ে দিয়ে লোকটা রুমের দরজা আটকিয়ে বেরিয়ে গেলো। ভয়ে সাফিনের আত্না কেঁপে উঠলো। কুকুর গুলো হিংস্রাত্নক ভাবে সাফিনের সারা শরীরে কামড় দিতে থাকে। ব্যাথায় সাফিন জোরে জোরে চিৎকার করতে থাকে। সাফিনের চিৎকারের শব্দ শুনে তার মনের ভিতরে প্রশান্তিতে ভরে গেছে। দশ মিনিট পরে আভিয়ান তার লোককে বললো কুকুর গুলোকে আবারও আগের জায়গায় বেঁধে রাখতে। আভিয়ানের কথা মতো লোকগুলো তাই করে। আভিয়ান আবারও ভিতরে ঢুকে সাফিনের অবস্থা দেখে জোরে জোরে হাসে। সাফিনের সারা শরীরে কামড়ের দাগ। শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত পরছে।

সাফিন ব্যাথায় শরীরে লড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। সে অনেক কষ্টে কুঁকড়িয়ে কুকড়িয়ে আভিয়ানের পায়ে ধরে বলে,"আমাকে মেরে ফেল প্লিজ ।আমি আর পারছি না। নাহলে আমাকে ছেড়ে দে্।আমি কথা দিচ্ছি আমি আর কোন অন্যায় করবো না। "

আভিয়ান মুচকি হেসে বলে," তুই কিছু করার মতো অবস্থায় থাকলে তো করবি।"আর কিছু না বলে আভিয়ান রুম থেকে বেরিয়ে যায়। সাফিন ব্যাথায় অজ্ঞান হয়ে যায়।

আভিয়ান রুম থেকে বেরিয়ে তার লোককে বলে মাঝ রাতে একে গাড়িতে বসিয়ে হাইওয়েতে একা ছেড়ে দিতে।

,,,,,,,,,,,,,

বিকেলে আদ্রিজা রেডি হয়ে আভিয়ানের জন্য অপেক্ষা করছে। কলিং বেলের আওয়াজ শুনে আদ্রিজা দ্রুত দরজা খোলে দেয়। আভিয়ানকে দেখেই বুঝা যায় সে অনেক কান্ত তাই আদ্রিজা তাকে রুমে গিয়ে ফ্রেস হতে বলে। আভিয়ান কিছু না বলে সুফা উপরে চলে যায়। আদ্রিজা দরজা লাগিয়ে তার পিছু পিছু যায়। আভিয়ান রুমে গিয়ে কোর্টটা খাটের উপরে রেখে ওয়াশরুমে চলে যায় ফ্রেস হতে। ফ্রেস হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হতেই আদ্রিজা আভিয়ানকে দেখে তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। আভিয়ানকে অনেকটা সিগ্ধ লাগছে। চুল থেকে পানি গড়িয়ে পরছে। আভিয়ান আদ্রিজার দিকে তাকিয়ে বলে,"এভাবে দূর থেকে নজর না দিয়ে কাছে এসে দেখলেই তো পারো। আমি তো অন্য কেউ নই আমি তো তোমারই।" আদ্রিজা লজ্জায় নিজের চোখ সরিয়ে নেয়। আভিয়ান রেডি হয়ে বলে চলো যাওয়া যাক,,,,

আভিয়ান আর আদ্রিজা কার গিয়ে বেরিয়ে যায়। রাস্তায় অনেকবার আদ্রিজা জিজ্ঞেস করে আমরা কোথায় যাচ্ছি,,,,

আভিয়ান মুচকি হেসে বলে, "এখন বলা যাবে না,,, ইট'স সারপ্রাইজ। এখন বলা যাবে না। সময় হলে জানতে পারবে।"আদ্রিজা রাগ করে আর আভিয়ানের দিকে তাকায় নি। বাহিরে তাকিয়ে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে থাকে। অনেকটা পথ আসার পরে বুঝতে পারে তারা কোথায় যাচ্ছে। খুশিতে তার চোখে পানি ছলছল করে উঠে।কতদিন পরে সে তার নিজের বাড়িতে আসছে। বাড়িতে আসতেই আভিয়ান গাড়ি থামায়। আদ্রিজা তার অপেক্ষা না করে দৌঁড়ে ভিতরে চলে যায়। আভিয়ান গাড়ি পার্ক করে মিষ্টি আর ফল নিয়ে ভিতরের দিকে যায়।

কলিং বেল বাজতেই আদ্রিজার মা দরজা খোলে দেয়। আদ্রিজাকে দেখা মাত্রই তার মা তাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দেয়। আদ্রিজাও ওনাকে জড়িয়ে ধরে। কিছুক্ষন পরে আদ্রিজা ওনাকে ছেড়ে বলে,"তুমি কাঁদছো কেন?এখন তো সব ঠিকই আছে। তুমি কাঁদবে না। বাবা আর ভাই কোথায়?"

আদ্রিজার মা চোখের পানি মুছে বলে," আমি কাঁদছি কেন তা তুই এখন বুঝবি না। যখন নিজে মা হবি তখন বুঝবি।"

মার কথা শুনে আদ্রিজা লজ্জা মিশ্রিত হাসি দিয়ে বলে,"থাক আর বলতে হবে না। বাবা আর ভাইকে ডাক দেও।"আদ্রিজার মা সবাইকে ডাক দেয়। সবাই ওনার কথা শুনে বাহিরে বেরিয়ে আসে।

আভিয়ানকে ভিতরে ঢুকতে দেখেই আদ্রিজার বাবা ক্রোধের দৃষ্টিতে তার দিকে তাকায়। তিনি এখনো কিছুই জানেন না। তিনি গম্ভীর স্বরে বলেন,"তোমার সাহস কি করে হলো এই বাড়িতে ঢুকার।তোমাকে এখনি আমি পুলিশে দিবো। আমার মেয়েকে কিডন্যাপ করে তার পরে তাকে জোর করে বিয়ে করার জন্য সারাজীবন তোমাকে জেলের ভাত খাওয়াবো।".....
চলবে,,,,,,,

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Rajshahi?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address


Rajshahi