Dr. Ataul Bari

Dr. Ataul Bari

Share

Dr. Md. Ataul Bari (Tariq)

Skin & Sexual Health

06/06/2026

বিস্তারিত আসছে........................

28/05/2026
19/05/2026

#রোগীদের_জানা_ভালো
আজকের পোস্টটি স্ক্যাবিস নিয়ে –

স্ক্যাবিসের রোগীরা খুব বেশি যে হিস্ট্রিগুলো দেন সেগুলো হলো-
১। স্যার, গত ২ দিন আগে হুট করে খুব চুলকানি শুরু হইছে, আজকে আমার ওয়াইফেরও চুলকানি। গত ২ দিন আগে চিংড়ি মাছ খাইছিলাম, ভাবছিলাম চিংড়ি মাছ খাওয়ার জন্য হয়তো এরকম সমস্যা কিন্তু এখন তো স্বাভাবিক খাবার খাচ্ছি চুলকানি তো কমতেছেনা।

২। আঙ্গুলের ফাঁকে ছোট ছোট ফুসকুড়ি উঠে প্রচুর চুলকানি, রাতে চুলকানি এত বাড়ে যে সহ্য করা যায় না। পরিবারের সবার একই অবস্থা।

৩। অনেক ঔষধ খেলাম কোন কাজ হচ্ছে না। ঔষধ খাই কমে বন্ধ করলে আবার আগের মতো চুলকানি।
এগুলো হলো স্ক্যাবিস রোগীদের কমন হিস্ট্রি। এবার আসেন স্ক্যাবিস সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নেই।

Q. স্ক্যাবিস কি?
A. স্ক্যাবিস হলো স্কিনের অত্যন্ত সংক্রামক একটি চর্মরোগ। এটি হয়ে থাকে মূলত একটি পরজীবি দিয়ে। এই পরজীবীর নাম (Sarcoptes scabiei var. hominis) । ইংরেজিতে একে মাইট বলে। বাংলায় এর আলাদা কোন ডাকনাম নাই। যেহেতু এটা একটা পরজীবি তাই অনেকে একে উকুন অথবা ক্রিমির সাথে তুলনা করে থাকেন। কিন্তু বাস্তবে এটা না উকুনের মতো দেখতে না ক্রিমি। তবে, এটা একটা এলিট পরজীবী যেটা শুধুমাত্র মানুষের দেহেই বাস করে থাকে অথবা বলতে পারেন সেই আদিম যুগ থেকে মানুষের শরীরে বাস করে আসছে।
বাংলা একাডেমি যেহেতু এখনো এর ডাকনাম সেভাবে দিতে পারেনাই তাই আসুন আমরা আপাতত একে মাইট নামেই জানি। যেমনটা আমরা জানি আপেলের বাংলা আপেল আর বলের বাংলা বল।

Q. মানবদেহে এর কাজ কি?
A. যেহেতু এটা একটা পরজীবী সুতরাং এর কাজ মানবদেহে তার স্বাভাবিক লাইফ লিড করা। এখানে সে ডিম পারে, সেই ডিম থেকে ছোট ছোট মাইট হয় আবার ছোট মাইটগুলো স্কিন থেকে পুস্টি নিয়ে বড় হয়, এভাবেই চলতে থাকে তাদের জীবন।
ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো দাদ এর জীবানু যেরকম শক্তিশালি এই মাইট ব্যাটা অত শক্তিশালি না। সেজন্য মানবদেহে টিকে থাকার জন্য সে কিছু ট্রিকস কাজে লাগায়। যেমন, সে যে ডিম পাড়ে এই ডিম তো হাতের ঘর্ষন লেগে উঠে যেতে পারে বা সে নিজেও তো আলাদা হয়ে যেতে পারে বডি থেকে যেহেতু মাইটের ইনফেকশন স্কিনের একেবারে উপরের স্তরে হয় যেটার নাম স্ট্রাটাম কর্নিয়াম।
এসব যেন না হয় সেজন্য বডিতে ঢুকেই তার সেইফটির জন্য সে সুরঙ্গ(Burrow) করে নেয়।এই সুরঙ্গ ডাক্তাররা দেখলেই চিনে ফেলে যে আপনি স্ক্যাবিসে আক্রান্ত।এই সুরঙ্গের মধ্যেই চলতে থাকে তার
জিন্দেগী-বন্দেগী।

Q. কিভাবে এর সংক্রমন ছড়ায়?
A. ডাইরেক্ট কন্টাক্ট এর মাধ্যমে এই মাইট আপনার বডিতে ঢুকতে পারে। মানে, কোন আক্রান্ত ব্যাক্তির থেকে আপনার কাছে আসবে।
আবার এমন হতে পারে, আপনি অনেক হাইজিন মেইনটেইন করেন সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকেন কিন্তু কোন আক্রান্ত বেক্তি আপনার বাড়িতে বেড়াতে আসলো সে আপনার তোয়ালা ব্যবহার করে ফেললো এবং পরে সেই তোয়ালা আপনি ব্যবহার করলেন, হয়ে গেলেন আপনিও আক্রান্ত।
সাধারনত মানবদেহের বাহিরে ২/৩ দিন এরা বেচে থাকতে পারে। মানে, আপনার তোয়ালা, জামায় এরা ২/৩ দিন বেচে থাকে। সুতরাং আক্রান্ত ব্যাক্তির সাথে হ্যান্ডসেক না করেও আপনি আক্রান্ত হয়ে যেতে পারেন। এজন্য আমি আমার স্কিনের অলমোস্ট সব রোগীকেই কমন একটা পরামর্শ দেই যে, আপনারা আপনাদের পার্সোনাল আইটেম (তোয়ালা, জামা, লুঙ্গি, কাথা, কম্বল) অন্য কারো সাথে শেয়ার করবেন না।

Q. শরীরের কোন কোন জায়গায় এর সংক্রমন সবথেকে বেশি?
A. স্ক্যাবিসের এই মাইটের আদ্র জায়গা খুবই পছন্দের।শরীরের যে সমস্ত জায়গায় ঘাম জমে থাকে এবং স্কিন তুলনামূলক পাতলা যেমন,
১। আঙ্গুলের ফাঁকে
২। কব্জির ভাজে
৩। অন্ডকোষের থলিতে
৪। কুঁচকিতে
৫। বগলের সামনের ভাজে
৬। প্যান্টের বেল্ট অথবা পায়জামার ফিতা পেটের যে লাইনে থাকে।
৭। শিশুদের মাথা এবং হাত-পা।
এই সমস্ত জায়গায় এদের সংক্রমন বেশি।

Q. কিভাবে বুঝবেন আপনি স্ক্যাবিসে আক্রান্ত?
A. রোগীদের বুঝার সুবিধার্থে নিচে ৩ টি পয়েন্ট বলে দিলাম-
১। লক্ষ করবেন উপরে যে স্থানগুলোর কথা মেনশন করলাম আপনার চুলকানি সেখানে কিনা এবং ছোট ছোট ফুসকুড়ি টাইপ র‍্যাশ উঠতেছে কিনা।
২। রাতে চুলকানি অসহনীয় মাত্রায় বেড়ে যাচ্ছে কিনা?
৩। আপনার পরিবারের অন্য কেউ আপনার মতো চুলকানিতে আক্রান্ত কিনা।
উপরের ৩ টি পয়েন্ট মিলে গেলে স্ক্যাবিস ধরে নিতে হবে।

Q. স্ক্যাবিসে আক্রান্ত হলে করনীয় কি?
A.
১। আক্রান্ত বেক্তি নিজেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে সেপারেট করে নিবেন।
২। আপনার ব্যবহার করা জিনিসপত্র আপনি ছাড়া আর কেউ ব্যবহার করতে পারবে না।
২। বাসার ব্যবহৃত জিনিসপত্র যেগুলো কমন, মানে আপনিও আগে ব্যবহার করেছেন সেগুলোকে ধুয়ে ৩/৪ দিন ব্যাগে রেখে দিতে হবে। তারপর পরিবারের অন্য সদস্যরা সেগুলো ব্যবহার করতে পারবে।
৪। দ্রুত ডাক্তারের কাছে চলে আসবেন। এরপরে যা করার ডাক্তার বাবু করবেন।

Q. স্ক্যাবিসের আক্রমণ থেকে বাচতে করনীয় কি?
A. করণীয় ২ টি-
১। গাদাগাদি পরিবেশ এভোয়েড করবেন।
২। পার্সোনাল আইটেম শেয়ার করবেন না। আমি আমার স্কিনের যে কোন রোগিকে কমন একটা পরামর্শ দেই যে, আপনারা আপনাদের পার্সোনাল আইটেম (তোয়ালা, জামা, লুঙ্গি, কাথা, কম্বল) অন্য কারো সাথে শেয়ার করবেন না।

#স্ক্যাবিসের_রোগীরা_যে_ভূলটি_করেন-
১। শুধুমাত্র নিজেদের ট্রিটমেন্ট নেন।
২। পরিবারের অন্য সদস্যদের ট্রিটমেন্ট নেন না।
স্ক্যাবিসের ক্ষেত্রে অনেকেই মনে করেন, চুলকানি তো শুধু আমার অন্যদের তো নাই। তাহলে ওদের আবার ট্রিটমেনটা কিসের? আপাত দৃষ্টিতে হয়তো আপনার চুলকানি ভিসিবল হয়েছে কিন্তু আপনার ব্যবহার করা জিনিস অথবা আপনার সাথে ডিরেক্ট কন্টাক্টের মাধ্যমে পরিবারের বাকিরাও আক্রান্ত হয়েছে তবে তাদের সিম্পটম হয়তো ২ পর থেকে আসা শুরু হবে। সুতরাং ট্রিটমেন্ট পরিবারের সব সদস্যকে একসাথে নিতে হবে। আর তা না হলে পিং-পং রিইনফেকশন ডেভেলপড করবে। মানে যেই আপনি একটু সুস্থ হতে ধরেছেন ঠিক সেই সময়ে আপনার ওয়াইফ এবং বাচ্চার সিম্পটম প্রোকোট হয়ে গেলো আর ওদের কাছ থেকে আপনি আবারও কিছু তর-তাজা মাইট উপহার পেলেন। আবার আপনার চুলকানি তুঙ্গে!

Q. ট্রিটমেন্ট করার পরও চুলকানি যায় না কেন?
A. স্ক্যাবিস রোগীদের বড় একটা অংশ এই কমপ্লেইনটা করেন। তারা ভাবেন ট্রিটমেন্ট বুঝি ফেইল করলো। ঔষধের ডোজ শেষ হবার পরও ১৫-২০ দিন কোন কোন ক্ষেত্রে ১ মাস চুলকানি থাকতে পারে কারন ইমিউন রিয়্যাকশান। এটাকে মেডিকেলের ভাষায় “পোস্ট স্ক্যাবেটিক ইচ” বলে। নরমালি ১৫-২০ দিন পর চুলকানি অটোমেটিক থেমে যায়।
ট্রিটমেন্টের পরও চুলকানি হলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।

DR. MD. ATAUL BARI
BUMS (Chittagong Medical University)
Former Lecturer(Anatomy), Hamdard Unani Medical College & Hospital, Bogura.
Medical Officer, Kaya Doctor Wellness Center, Dhaka.

চেম্বার :০১
রাওনাফ ওয়েলনেস সেন্টার, মিরপুর ১৩, ঢাকা।
সপ্তাহে প্রতি বুধবার
বিকাল ৪ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত।
সিরিয়ালের জন্যঃ ০১৩১৯১৭১০৯৮

চেম্বার : 0২
প্রধান ঔষধালয়
ডোমার, নীলফামারী।
সপ্তাহে প্রতি সোমবার
সকাল ১১- দুপুর ১টা।
বিকাল ৪ টা থেকে রাত ৮ টা।
সিরিয়ালের জন্যঃ ০১৯৭৪২৬৫৭০৩

#স্ক্যাবিসসাড়েনাকেন #পরিবারেরসবারচুলকানি #আঙ্গুলেরফাকেচুলকায়

08/05/2026

বিস্তারিত আসছে.....................

আপনার প্রশ্ন কমেন্টে লিখুন।

#স্ক্যাবিস #রাতেখুবচুলকায় #শরীরেলাললালফুসকুড়ি #পারমিথ্রিনক্রিম #পরিবারেরসবারচুলকানি #স্ক্যাবিসসাড়েনাকেন #আঙ্গুলেরফাকেচুলকায়

08/05/2026

আপনার প্রশ্ন কমেন্টে লিখুন।

08/05/2026

বিস্তারিত আসছে.......................

আপনার প্রশ্ন কমেন্টে লিখুন।

#স্ক্যাবিস #রাতেচুলকানিহয় #হাতেফুসকুড়ি #আঙ্গুলেরফাকেচুলকায় #পারমিথ্রিনক্রিম #স্ক্যাবিসসাড়েনাকেন #পরিবারেরসবারচুলকানি #শরীরেলাললালফুসকুড়ি

05/05/2026

#রোগীদের_জানা_ভালো
পোস্টটিতে খুব সহজ ভাষায় দাদ সম্পর্কিত কিছু তথ্য দেয়ার চেষ্টা করছি।

Q. দাদ কি?

দাদ বা দাউদকে মেডিকেলের ভাষায় টিনিয়া বলে থাকি আমরা। ইংরেজীতে একে Ringworm বলে। যেহেতু এর সংক্রমণে স্কিনে রিং এর মতো র‍্যাশ ওঠে সেজন্য ইংলিশ ম্যানরা এর নাম দিয়েছে Ringworm।
এই Ringworm এর শেষের শব্দটি worm থাকায় অনেকে মনে করেন এটি ক্রিমি, কিন্তু এটি কোন ক্রিমি না। দাদ হলো স্কিনের একটি ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণ। মানে এটি ফাঙ্গাস দিয়ে হয়ে থাকে। ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া শয়তান যেমন বডিতে রোগ সৃষ্টি করে, ফাঙ্গাস ও সেই রোগ সৃষ্টিকারী গ্রুপের অন্যতম সদস্য। স্কিনে দাদ সৃষ্টিকারী এই শয়তান ফাঙ্গাসটির নাম ডার্মাটোফাইট।

Q. ফাঙ্গাসটি দেখতে কেমন?

খালি চোখে এই ফাঙ্গাসটিকে দেখা যায় না। এদের যেরকম সংক্রমণ স্টাইল তাতে খালি চোখে দেখতে পাওয়া গেলে যার হতো তার কাছে কেউ যেত না। যাইহোক, এটিকে মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখা যায়। মাইক্রস্কোপের নিচে এটি দেখতে প্যাচানো সুতার মতো। দেখতে সুতার মতো হালকা হলেও একে হালকাভাবে নেয়ার কোন সুযোগ নেই। এর একটি ‘পাওয়ার টুল’ আছে যার নাম কেরাটিনেজ এনজাইম। আরেকটু পড়লেই এই পাওয়ার টুলটির ব্যাপারে জানতে পারবেন।

Q ফাঙ্গাসটির বাড়ি কোথায়?

ফাঙ্গাসটির বাড়ি বেশি দূরে না, আপনার বাড়িতেই। সে থাকে আপনার ব্যবহৃত তোয়ালায়, আপনার ঘামে ভেজা শার্টে, আপনার ইনার ওয়্যারে, আপনার পা-মোজায়, আপনার জুতা বা স্যান্ডেলে।

Q ফাঙ্গাসটি শুধু স্কিনেই কেন সঙ্গক্রম ঘটায়?

আমাদের স্কিন অনেক কয়টি স্তরের সমন্বয়ে গঠিত। এর মধ্যে সব থেকে বাহিরের স্তরটি যেটি আমরা খালি চোখে দেখি, যেটিতে লোম থাকে, সেটির নাম স্ট্রাটাম কর্নিয়াম। এই লেয়ারটি কেরাটিন নামক এক ধরনের প্রোটিন দিয়ে তৈরি। এই কেরাটিন ফাঙ্গাসটির খুবই পছন্দের খাবার। সে তার কাছে থাকা কেরাটিন এনজাইম দিয়ে এই লেয়ারটিকে ভাংতে থাকে এবং খেতে থাকে। যখনই সে এই স্তরটিকে ভাঙ্গতে শুরু করে তখনি আমরা চুলকানি অনুভব করতে থাকী। শরীরের ভেতরে কেরাটিন নাই যেটি ওর খাবার এবং শরীরের ভেতরে ইমিউন সিস্টেম অনেক শক্তিশালি।

Q. কিভাবে এটি স্কিনে প্রবেশ করে?

অনুজীবরা প্রানীদেহের ভেতরে যেভাবে থাকে, প্রানীদেহের বাহিরে সেভাবে টিকতে পারে না। প্রানীদেহের বাহিরে এরা খুবই আটোসাটোভাবে থাকে। প্রানীদেহের বাহিরে টিকে থাকতে এরা কিছু স্ট্রাটেজি ফলো করে। মহান আল্লাহ এদের এমন একটা শক্তি দিয়েছেন যে শক্তির মাধ্যমে এরা নিজেদের বডি পার্টসগুলো খুলে ফেলতে পারে। আরও সহজ করে বললে, রোবোটিক স্টাইলে তারা তাদের হাত, পা, মাথা খুলে ফেলে এবং সেগুলোকে আলাদা আলাদা প্যাকেট করে রাখতে পারে। প্যাকেটকৃত একটা হাত বা মাথা যখন আবার কোন প্রানীদেহে প্রবেশ করে তখন আবারও একটি পূর্ণাঙ্গ ফাঙ্গাস হতে পারে। এইযে প্রানীদেহের বাহিরে নিজেদেরকে প্যাকেট করে রাখা এই প্যাকেটটিকে স্পোর বলে। ফাঙ্গাস মূলত স্পোর অবস্থায় স্কিনে প্রবেশ করে এবং স্কিনে ঢুকে সে আবার নিজেকে এসেম্বল করে।
এই স্পোর আর অন্যকোথাও না, এটি থাকে আপনারই ব্যবহৃত তোয়ালায়, আপনার ঘামে ভেজা শার্টে, আপনার ইনার ওয়্যারে, আপনার মোজায়, আপনার জুতা বা স্যান্ডেলে।

Q. আমার স্কিনে চুলকানি। কিভাবে বুঝবো এটি দাদ?

শুরুতেই যে এটি রিং এর মতো করে দেখা দিবে বিষয়টি এমন না ।
১। প্রথম দিকে এটি দেখতে খুবই ছোট একটি স্পট আকৃতির। মনে হবে মশার কামড়, হালকা চুলকাবে।
২। কিন্তু দিন যত গড়াবে এই ছোট্ট স্পটটি আস্তে আস্তে রিং এর আকৃতি ধারণ করবে, চুলকানি বেড়ে যাবে।
৩। এবং আশেপাশের স্কিনের তুলনায় ওই আক্রান্ত স্থানের স্কিনটুকু খসখসে ও শুষ্ক দেখাবে এবং সেখান থেকে চামড়া উঠে আসবে।

Q. পুরুষ এবং মহিলাদের স্কিনের কোথায় এর সংক্রমণ বেশি হয়?

সহজ করে বললে, পুরুষের কুচকিতে এর সংক্রমণ সবথেকে বেশি।
আর এর কারন, আগেই বলেছি ফাঙ্গাসটির গরম ও আদ্র পরিবেশ খুবই পছন্দের । আর এনাটমিক্যালি পুরুষদের কুচকিতে তাপ বেশি থাকে, ঘাম বেশি হয় এবং স্কিন ফোল্ড (চিপাচাপা) বেশি।
মহিলাদের ক্ষেত্রে স্তনের নিচের অংশে সংক্রমণ বেশি। কারন পুরুষদের মতোই।

Q. আক্রমনের পর থেকে চুলকানি শুরু হতে কতদিন লাগে?

এটা এক কথায় বলা যায় না। এটা ডিপেন্ড করে কতগুলো ফাঙ্গাস আপনার স্কিনে আক্রমণ করেছে, আপনার ইমিউনিটি কত শক্তিশালি আর আপনি কি রকম আদ্র পরিবেশে আছেন।
তবে, আক্রমণের ৪-১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে।

Q. বছরের কোন সময়টাতে এর প্রোকোপ বেড়ে যায়?
গরম ও আদ্র পরিবেশ এই শয়তান ফাঙ্গাসটির খুবই পছন্দের। বাঙ্গলাদেশের এসপেক্টে পুরো গৃস্মকাল ও বর্ষাকাল জুড়ে এদের প্রোকোপ থাকে সবচেয়ে বেশি।

Q. ফাঙ্গাস্টির গরম ও আদ্র পরিবেশই কেন এত পছন্দের?

গরমকালে শরীরের ঘাম + আদ্রতা মিলে আমাদের স্কিনে বেশকিছু পরিবর্তন হয়। এসময়ে ঘামে স্কিন ম্যাক্সিমাম টাইম ভেজা থাকে। স্কিন বেশিক্ষন ভেজা থাকলে কেরাটিন লেয়ার নরম হয়ে যায় এবং ফাঙ্গাসের স্পোর খুব সহজেই আটকে যায় স্কিনে। আর ভেজা স্কিনে, স্কিনের ব্যারিয়ার দূর্বল হয়ে যায়। শয়তান ফাঙ্গাসটি ঠিক এই দূর্বলতার সূযোগটিই নেয়।

Q. রাতে বেশি চুলকায় কেন?

রাতে বেশি চুলকানো এটা শুধুমাত্র দাদের ক্ষেত্রে না, অনেক স্কিন কন্ডিশনেই রাতে বেশি চুলকানি হয়। রাতে চুলকানি বেড়ে যাওয়ার অনেক কারনের মধ্যে প্রধান কারন হলো রাতে বডিতে কর্টিসল হরমোনের লেভেল কমে যাওয়া। বলে রাখি, কর্টিসল হরমোন মহান আল্লাহর দেয়া এক মিরাকল হরমোন। এই হরমোন আন্টি-ইনফ্লামেটরি রোল প্লে করে আমাদের বডিতে। আরও সহজ করে বললে, এটি আপনার ব্যাথা, চুলকানি দমন করে। সারাদিন আপনি কত পরিশ্রম করছেন! যত পরিশ্রম ততবেশি সেল-ইনজুরি! আর সেল ইনজুরি মানেই ব্যাথা! জানলে অবাক হবেন আপনি যখন বিছানায় শুয়ে থাকেন তখন মাইনিউট সেল ইনজুরি হয়।
দিনে যেহেতু আপনি বেশি কাজ করবেন সেজন্য দিনে এই হরমনটা বেশি দরকার । ফজরের পর থেকে এই হরমোনের সিক্রেশন বাড়তে থাকে আবার বিকেলের পর থেকে কমতে থাকে। মানে দিনে বেশি থাকে রাতে কম থাকে। আর রাতে এর পরিমান কম থাকার জন্য আমরা রাতে বেশি ব্যথা আর চুলকানি অনুভব করি।

ছোট-খাটো এই ড্যামেজগুলোর প্রতিক্রিয়া থেকে এই কর্টিসল হরমোন আমাদের সেইভ করে যাচ্ছে। মহান আল্লাহ সূরা ফুরকানের ৪৭ নম্বর আয়াতে বলেছেন, “আর তিনিই তোমাদের জন্যে রাত্রিকে করেছেন আবরণ, নিদ্রাকে বিশ্রাম এবং দিনকে করেছেন বাইরে গমনের (জীবিকা অন্বেষণের) সময়।" সুতরাং, দিনে যেহেতু মহান আল্লাহ কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন সেজন্য বডির এলগরিদম তিনি সেভাবেই সেট করে দিয়েছেন।
এছারাও রাতে চুলকানি বেড়ে যাওয়ার অনেক কারন আছে। যেমন, রাতে ডেস্ট্রাকশন কম। আপনার ফোকাস থাকে বেশি।

Q. দাদ থেকে বাচতে কি করা উচিত?
দাদের মূল সমস্যা যেহেতু গরম+আদ্রতা, সেজন্য আপনি চেষ্টা করবেন অন্তত আদ্র পরিবেশ এড়িয়ে চলতে। আপনি যা করবেন-
১। শরীরের ঘাম মুছে ফেলুন।
২। ঘামা কাপড় বদলান।
৩। টাইট-ফিটিং কাপড় পরবেন না।
৪। যারা ইউনিভার্সিটির হলে অথবা কলজের হোস্টেলে থাকেন তারা চেষ্টা করবেন অল্প কিছুদিন পর পর ওয়াশরুমের স্যান্ডেল বদলানোর।
৫। একজন আরেকজনের তোয়ালা অথবা লুঙ্গি ব্যবহার করবেন না।
৬।তোশক কিছুদিন পর পর রোদে দিবেন। বালিশের কভার এবং বেডশিট পরিস্কার রাখবেন।

Q. দাদে আক্রান্ত হলে কি করবেন?

১। সবার আগে স্কিনের ডাক্তার দেখাবেন।
২। আক্রান্ত স্থান বেশি চুলকাবেন না। বেশি চুলকালে সেখানে ক্ষত সৃষ্টি হবে। আর ক্ষত হলে সেখানে সেকেন্ডারি ইনফেকশন ডেভেলপ করবে। মানে আগে ছিলো শুধু ফাঙ্গাস এখন সেখানে ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধবে।

Q. দাদ কি পুরোপুরি নির্মূল হয়?
জ্বী, সঠিক চিকিৎসা এবং প্রোপার হাইজিন মেনে চললে দাদ নির্মূল হয়।

Q. দাদ রোগীরা কি কি ভুল করেন যার কারনে দাদ সাড়ে না?
দাদ রোগীদের ৩ টি গুরুত্বপূর্ণ ভূল করে থাকেন, যা করা উচিৎ না।

১। দাদ না সাড়ার সবচেয়ে বড় কারন, রোগীরা একটু চুলকানি শুরু হলেই চুলকানি বন্ধের জন্য ফার্মেসি থেকে স্টেরয়েড মিক্সড ক্রিম কিনে ব্যবহার শুরু করেন। এই দমন সাময়িক। স্টেরয়েড যন্ত্রণা কমায় ঠিকই কিন্তু সে আসল কালপ্রিটকে মারতে পারে না। ফাঙ্গাসের বংশবিস্তার চলতে থাকে ফুল স্পিডে।
২। অনেকেই ডাক্তারের কাছে যান, ডাক্তার এন্টিফাঙ্গাল দেন, চুলকানি অনেকটা কমে যায় আর মনে করেন ভালো হয়ে গেছি। কিন্তু কিছুদিন পর আবার চুলকানি শুরু হয়। এর কারন রোগীরা খুব তাড়াতাড়ি ট্রিটমেন্ট বন্ধ করে দেন।
৩। হাইজিন প্রোপারলি মেইনটেইন না করা। দেখা গেলো দাদের মেইন কারনটাই ছিলো স্যাতস্যাতে আদ্র পরিবেশ, সেই পরিবেশেই বসবাস।

Q. কাদের দাদ এ আক্রান্ত হওয়ার চান্স বেশি ?
১। খেলোয়ার, কৃষক ও দিনমজুর বেশি আক্রান্ত হয়। কারন তাদের শরীরে ঘাম হয় বেশি।
২। ডা্যাবেটিসের রোগী
৩। যাদের ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দূর্বল।
৪। যাদের ওজন বেশি। মোটা-সোটা মানুষদের দাদ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
৫। গাদাগাদি পরিবেশের বাসিন্দা হলে।

আপাতত দাদ সম্পর্কিত কিছু প্রাথমিক তথ্য তুলে ধরলাম।
দাদ সম্পর্কিত আপনার প্রশ্ন কমেন্টে লিখুন। ধন্যবাদ।

#দাদ #দাউদ #টিনিয়া #কুচকিতে_চুলকানি #স্তনের_নিচের_অংশে_চুলকানি #বগলের_নিচে_চুলকানি

02/05/2026

বিস্তারিত আসছে............

#দাদ #দাউদ

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Rangpur?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Website

Address


Thana Road, Shohag Market, Domar, Nilphamari
Rangpur