Homoeo Medicine Centre
❤️হোমিওপ্যাথিতে রোগের নয়-রোগীর চিকিৎসা করে।
❤️
❤️ রোগীকে চিকিৎসা কর পূর্ণাঙ্গভাবে আংশিক ভাবে নয়।
18/05/2025
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সম্পর্কে আপনার ধারণা কী? অনেকে বলেন ওটা নাকি চিকিৎসা বিজ্ঞানের মধ্যে ধরা যায় না। পক্ষে বা বিপক্ষে একটু বিশদে বলবেন কি?
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান এ্যালোপ্যাথি চিকিৎসাশাস্ত্রে লেখাপড়া করে ডাক্তার হন এবং এ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি অনুযায়ী রোগীদের সেবা প্রদান করতেন। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি তিনি গবেষণা ও চিকিত্সার বইয়ের অনুবাদ করেছেন। গবেষণার এক পর্যায়ে তিনি এ্যালোপ্যাথিতে ক্ষতিকর সাইড এ্যাফেক্টের বিষয় দেখতে পান। এতে তিনি এলোপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি পরিত্যাগ করেন। সাইড এ্যাফেক্টের কারণ নির্ণয়ের গবেষণার মাধ্যমে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার সূত্র আবিষ্কার হয়। পেরুভিয়ান কফি বা সিঙ্কোনা গাছের বাকল নিয়ে গবেষণা করতে করতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা উদ্ভব হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে ১৭৯০ সালে মানবদেহে পরীক্ষামূলক পদ্ধতির প্রয়োগ শুরু হয়।
সুস্থ মানুষের ওপর ওষুধ প্রয়োগের ফলাফল হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার মূলনীতি। এতে বলা হয় যে, কোন লোকের ওপর একটি ওষুধ বেশি মাত্রায় প্রয়োগ করলে যেসব প্রতিক্রিয়া ঘটায়, কম মাত্রার ওই ওষুধ প্রয়োগে সেগুলি দূরীভূত হয়। অর্থাৎ শক্তিকৃত ঔষধটি এই হোমিও ফর্মুলায় প্রয়োগ করলে রোগ সেরে যাচ্ছে কিন্তু কিভাবে মানব শরীরে কাজ করছে সেটা গবেষনার জন্য আজও কোন ফাণ্ড নেই তাই গবেষণাও নেই। যেহেতু ফর্মুলা আছে এবং রোগও সেরে যাচ্ছে তাই ঔষধ কিভাবে কাজ করছে - এই বিষয়টি নিয়ে হোমিওপ্যাথির লোকজনও মাথা ঘামান না। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় অত্যন্ত অল্পমাত্রার ওষুধ ব্যবহূত হয় এবং বহু বছর অসংখ্য রোগী গার ওপর এগুলির প্রয়োগ বন্তুত ব্যবহার ও নিরাময়ের মধ্যে এক ধরনের কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছে, আর এটিই পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে হোমিওপ্যাথির প্রসার ঘটিয়েছে। আর রোগ না সারলে বিগত প্রায় ২০০ বছর যাবৎ এই চিকিৎসা পদ্ধতি এমনি টিকে আছে - এমনটি কোন মূর্খও মনে করবে না।
১৮২৫ সালে আমেরিকায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শুরু হয় এবং নিরুৎসাহ করা এবং এলোপ্যাথিক ঔষধ কোম্পানির নিয়োগ করা লোকজনের অপপ্রচার সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত তা চালু আছে এবং দিন দিন আরো বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশে এটি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অন্যতম প্রধান বিকল্প চিকিৎসা। ভারত উপমহাদেশে হোমিওপ্যাথি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং বিশ শতকে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশেও বহুকাল থেকেই এই চিকিৎসা চলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উদ্ভিজ্জ বা সাধারণ রাসায়নিক পদার্থ থেকে কনসেনট্রেট (concentrate) হিসেবে এই ওষুধ তৈরি করা হয় এবং চিকিৎসকরা গাইড বুকের নির্দেশ অনুযায়ী সেগুলি প্রয়োজন মতো লঘুকৃত করেন। আনুষ্ঠানিক শিক্ষাদানের জন্য হোমিওপ্যাথি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং হোমিওপ্যাথির উচ্চতর বিষয় ইউনিভার্সিটিতে পড়ানো হয়। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সম্পর্কে বিবিসির রিপোর্ট দেখুন...
জেনে রাখা ভালো, একটা নির্দিষ্ট ট্রিটমেন্ট সিস্টেম সকল রোগের চিকিৎসা দিতে পারে না। আর তাই আবিষ্কৃত হয়েছে আরো বহু চিকিৎসা পদ্ধতি। তাই সবগুলি থেকেই আপনি সময়ে সময়ে উপকার পেতে পারেন। জেনে রাখা ভালো, আমাদের সমাজে যে এলোপ্যাথিক সিস্টেম প্রচলিত রয়েছে সেই এলোপ্যাথিক সিস্টেমে ৫০% ক্রনিক রোগেরই কোন স্থায়ী চিকিৎসা নেই। এই সিস্টেম আপনার মৃত্যুর দিন পর্যন্ত আপনাকে ঔষধ খাওয়াবে এবং ব্যবসা করে যাবে। তাছাড়া বহু রোগ রয়েছে যেগুলির কোন এলোপ্যাথিক ঔষধই নাই, কাটা ছেড়া করে ঠিক করা হয়ে থাকে। অথচ এই রোগগুলি অন্য একটি ট্রিটমেন্ট সিস্টেম ঠিকই সারিয়ে তুলছে।নানা প্রকার রোগ জটিলতা, ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, দুরারোগ্য রোগ আরোগ্যে ব্যর্থতা ইত্যাদি নানা কারণে হোমিওপ্যাথিসহ আরো অনেক চিকিৎসা পদ্ধতির আবিষ্কার হয়েছে। চিকিৎসা পদ্ধতিগুলির মধ্যে শুধু মাত্র হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতিই সার্জারী বহির্ভুত প্রায় ৯০% রোগের চিকিৎসা দিতে পারে যা একক ভাবে অন্য কোন চিকিৎসা পদ্ধতি দিতে পারে না। তবে বহু রোগের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিতে এলোপ্যাথিক সিস্টেম কার্যকর। কিন্তু ক্রনিক রোগের চিকিৎসা দিতে হোমিওপ্যাথি কার্যকর।
"The highest ideal of cure is the rapid, gentle, and permanent restoration of health."
– (ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান)
"চিকিৎসার সর্বোচ্চ আদর্শ হলো দ্রুত, কোমল ও স্থায়ীভাবে সুস্থতা ফিরিয়ে আনা।"
❤️হোমিওপ্যাথিতে রোগের নয়-রোগীর চিকিৎসা করে।
❤️
❤️ রোগীকে চিকিৎসা কর পূর্ণাঙ্গভাবে আংশিক ভাবে নয়।
03/12/2024
মোহাম্মদ (সাঃ) আয়েশা (রাঃ) কে ৬ বছর বয়সে বিবাহ করে এবং
৯ বছর বয়সে মা আয়েশা (রাঃ) সাথে সংসার জীবন শুরু করে..
সে সময়ে নারীদের এমন বয়সেই বিবাহ হতো,, সে কালে নারীরা এরকম বয়সেই প্রাপ্তবয়স্কা হতো,,
চলেন আমরা,, হিন্দু ধর্মের কিছু ইতিহাস জেনে আসি... হিন্দু ভাই / বোনেরা যাদের কে উপাসনা করে/ দেবতা মানে,, তাদের ইতিহাস...
রামচন্দ্র যখন সীতাকে বিয়ে করে,,তখন সীতার বয়স ছিল ৬ বছর,, রেফারেন্স ( স্কন্দ পুরাণ, ৩.২.৩০.৮-৯) ও বাল্মিকীর রামায়ণ, অরন্য খন্ড ( ৩.৪৭.৩ -১০),, তারা জয় শ্রী রাম বলে যাদের উপাসনা করে,, তাদের ঈশ্বর ৬ বছরের সীতা কে বিয়ে করে শিশু কামী হলো না..!!! আর মোহাম্মদ সাঃ ৬ বছরে বিয়ে করে ৯ বছর বয়সে সংসার করাই,, মোহাম্মদ সাঃ শিশুকামী হয়ে গেলো..!!!
তার পর আসেন,,
শ্রী কৃষ্ণ যখন রুক্মিণী কে বিয়ে করে,, তখন তার বয়স ছিল ৮ বছর,, রেফারেন্স ( স্কন্দ পুরাণ ৫.৩.১৪২.৮-৭৯)
শ্রী কৃষ্ণ যখন রুক্মিণীর সাথে যৌনক্রিয়া শুরু করে,তখন
সে পরিপূর্ণ ভাবে বেড়ে উঠিনি এবং যৌনতা সম্পর্কে তার কোনো জ্ঞান ছিল না, ফলে শ্রী কৃষ্ণ যৌনক্রিয়া করাই রুক্মিণী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে,, রেফারেন্স ( ব্রাহ্ম, বৈবর্ত পুরাণ কৃষ্ণ জন্ম খন্ড ১১২,১-১০) ,, তাদের ঈশ্বর ৮ বছরের রুক্মিণী কে বিয়ে করে শিশুকামী হলো না,, মোহাম্মদ সাঃ শিশুকামী হয়েগেলো.!!
শিব যখন পার্বতী কে বিয়ে করে, তখন তার বয়স ছিল ৮ বছর
রেফারেন্স ( শিব পুরাণ, রন্দ্র সংহিতা পার্বতী খন্ড ৩.১১,১-২)
তাদের ঈশ্বর শিশুকামী হলো না,, মোহাম্মদ সাঃ শিশুকামী হয়েগেলো..!!!
এইতো কয়েক বছর আগের ঘটনা,,
রবিন্দ্রনাথ ১০ বছর বয়সের ম্রিনালি দেবী কে বিয়ে করে এবং
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ৫ বছরের এক মেয়েকে বিবাহ করে,,
যাকে সাহিত্য সম্রাট বলে থাকি,,তারা শিশু কামী হলো না,,মোহাম্মদ সাঃ শিশুকামী হয়ে গেল..!!
চলেন ১০০ থেকে ২০০ বছর আগে মানুষের বিবাহের গল্প শুনে আসি,, মাত্র ১৩০ বছর আগে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ছিল
ডেনমার্ক - ১২ বছর,,রাশিয়া - ১০ বছর,, ফ্রান্স - ১০ বছর,
কানাডা - ১২ বছর, ক্যালোফোর্নিয়া - ১০ বছর,, তার মানে ১৮৮০ - ১৯২০- ২০০৭ সালে মেয়েদের বিবাহের গড় ছিল (১০,১১,১২) বছর, , এটা ২০০/১০০ বছর আগে বিয়ে ঘটনা,, আর মোহাম্মদ সাঃ তো ১৪০০ বছর আগে বিয়ে করেছিলেন,, তাহলে সে সময়ে বিয়ের গড় কেমন হবে চিন্তা করেন..!!
তার চেয়ে মজার বিষয় হলো,, আগের কালের কাফের মুশরিকরা নবীজি কে,, পাগল/ জাদুঘর / গনক বলে মিথ্যাচার করতো, কিন্তু নারীলোভী / শিশুকামী বলে গালি দিত না..কেন জানেন,, কারণ তারা ভালো ভাবেই জানতো যে মোহাম্মদ সাঃ এর ধারেকাছেও ছিলো না,, নবীজি কে কাফেরা অফার করেছিলো,, আরবে সব সুন্দরী নারী তার হাতে তুলে দিবে,,যাতে মানুষকে তিনি আল্লাহর পথে আহ্বান না করেন,,কিন্তু তাদের এরকম অফার ব্যর্থ হলো,, ভালোভাবে লক্ষ্য করে দেখেন,,তারা মোহাম্মদ সাঃ কে নানা ভাবে মিথ্যাচার করতো,,কিন্ত ৬ বছরের আয়েশা রাঃ বিয়ে করে ৯ বছর বয়সে সংসার জীবন যদি আপরাধ হতো,,!! তাহলে আগের কালের কাফের মুশরিকরা কিন্তু ছেড়ে দেওয়ার পাত্র ছিলেন না,,কিন্তু তারা এরকম বলেন নি কেন,,কারণ আগের কালে আরব দেশের ৬-৮ বছর বয়সেই বিবাহ হতো,,এবং এই বয়সই ছিল,, তাদের প্রাপ্ত বয়স,,
এইতো কয়েক বছর আগের ঘটনা,, যে সময় হিন্দু সমাজে ১১ বছর বয়সী মেয়েদের বিয়ে না দিতে পারলে,, তাদেরকে অভিশাপ মনে করতো,এবং অভিবাকের নরকে যাওয়ার হুমকির প্রথাও চালু ছিলো,, আর মোহাম্মদ সাঃ তো ১৪০০ বছর আগে বিবাহ করে ছিলেন,, তাহলে ভেবে দেখুন,, ১৩০ বছর আগের মেয়েদের যদি ৮-১০ বছর বয়সে বিবাহ হয়,,তাহলে ১৪০০ বছর আগে মেয়েদের প্রাপ্ত বয়স কত ছিলো..!!!
তুমি মহারাজ, সাধু হলে আজ,,আমি চুর বটেই..!!!
06/07/2023
ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারি কোর্সের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হল।
আগ্রহী ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সমূহে ভর্তির জন্য অনুরোধ করা হলো।অনুমোদিত কলেজের ঠিকানা বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের ওয়েবসাইট এ দেওয়া আছে।
www.homoeopathicboardbd.org
❤️সিয়াম পালন করলে আমরা মোত্তাকি হবো, কিভাবে হব? প্রত্যেকে যে যা বুঝেছেন ব্যাখ্যা করুন।❤️
( ঔষধ পরিচয়)
♥কার্সিনোসিনের মানসিক লক্ষণাবলী:
♥
============
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোগীর মনোলক্ষণ।
কার্সিনোসিনের মানসিক লক্ষণগুলির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল-ভয়, খিটখিটে-বদরাগী, খুঁতখুঁতে স্বভাব।
♥ভয়-ভীতি :♥
সবকিছুতে ভয়। অকারনে ভয়, শৈশব থেকে ভীতিগ্রস্থ, রোগের ভয়, মৃত্যুভয়, পরীক্ষার ভয়। প্রকাশিত বা সুপ্ত যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন-কার্সিনোসিনের প্রধান নির্দেশাত্মক লক্ষণ হলো ভয়। ভয়জনিত অসুস্থতা বা ভয় পাওয়ার পর অসুস্থতার ইতিহাস থাকলে কার্সিনোসিনকে সবার আগে ভাবতে হবে। ক্যান্সার বা ঐ রকম নানা অসুস্থতার ভয়। অসুস্থ হলেই ভাবে সে কোনও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে। ভয় থেকে নানা রকম অসুস্থতার সৃষ্টি। ভয় থেকে কখনও কখনও মনে এমন বদ্ধমূল ধারণার সৃষ্টি হয় যে তাকে কেউ খাদ্যে বিষ মিশিয়ে মেরে ফেলবে, কেউ তাকে হত্যা করার চক্রান্ত করছে ইত্যাদি। আত্মহত্যার প্রবণতা, হতাশা, চিন্তা বা কাজকর্ম করার ক্ষমতা লোপ পাওয়া ইত্যাদি স্নায়ুবিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। রোগীর মনের অবস্থা ক্রমশ এমন স্তরে পৌছায় যে তারা বর্হিজগৎ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে নেয়। পরিশেষে সম্পূর্ণ উন্মাদ পর্যন্ত হয়ে যায়।
♥আশঙ্কা : ♥
সবকিছুতে বিপদের আশঙ্কা (জেলসেমিয়াম)। আপাতত কোনও কারণ ছাড়াই আশঙ্কা। ভবিষ্যৎ বিপদের আশঙ্কা। স্বামী, ছেলে, মেয়ে, পরিবারের লোকজন যথাসময়ে বাড়ি ফিরছে না। কোন ও বিপদ ঘটেনি তো? ছেলে-মেয়ে পরীক্ষা দিয়েছে পাশ করবে তো? এরকম নানা অমূলক আশঙ্কা (আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম, আর্সেনিক, কার্বো-ভেজ, জেলসেমিয়াম, লাইকোপোডিয়াম, মেডোরিনাম, ফসফরিক-অ্যাসিড, প্লাম¡াম-মেটালিকাম, সাইলিশিয়া, থুজা)।
♥ মেজাজ♥♥
বদরাগী,
খিটখিটে স্বভাব কার্সিনোসিনের অন্যতম নির্দেশাত্মক লক্ষণ। উত্তেজনা প্রবণ। আমাদের ভেষজ ভান্ডারে যত রকম খিটখিটে স্বভাবের ওষুধ আছে সবার উপরে কার্সিনোসিন।
শিশুদের ক্ষেত্রে এ লক্ষণ অন্যভাবে প্রকাশ পেতে পারে-অভদ্র, রূঢ়, মা বাবার অবাধ্য। মূল্যবান জিনিসপত্র ছুড়ে দেয়, ভেঙে ফেলে, তুচ্ছ বিষয়ে কান্না জুড়ে দেয়, চিৎকার-চেচামেচি করতে থাকে, প্রচন্ড রকমের জেদ।
প্রাপ্ত বয়ষ্কদের ক্ষেত্রে এরা ভদ্র, মাজির্ত স্বভাবের হলেও কোনও কিছু মনমতো না হলে বিপরীত মূর্তি ধারণ করে। অযৌক্তিক ভাবে হঠাৎ রেগে ওঠে। শান্ত স্বভাবের রোগীদের ক্ষেত্রে কার্সিনোসিন দেওয়া যায় না, তবে বদরাগী, উত্তেজিত রোগীদের ক্ষেত্রে অনেক ভাল কাজ করে।
♥ স্বভাব : ♥
খুঁতখুঁতে,
সব কাজে খুঁতখুঁতে, পিটপিটে স্বভাব (আর্সেনিক,অ্যানাকার্ডিয়াম,গ্রাফাইটিস, নাক্সভম)।
বাড়ির কাজ, অফিসের কাজ সব কাজ নিখুঁত হওয়া চাই। সব কিছু পুঙ্খানুপুঙ্খ জেনে নেয়, বুঝে নেয় যাতে নির্ভূল হয়। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, ফিটফাট, রুচিশীল। ঘরদোর, পোশাক আশাক সবকিছু ফিটফাট। আবার সোরিক রোগীদের মতো অগোছালো, স্নান করতে চায় না এমন বিপরীত লক্ষণও আছে। বৈপরীত্য যেহেতু কার্সিনোসিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য- মানসিক লক্ষণেও বিপরীত লক্ষণ পাওয়া যায়।
♥বাতিক :♥
সবধরনের বাতিক-সন্দেহবাতিক, বদ্ধমূল ধারণা, অশ্লীল জাতীয় স্নায়ুবিকতা, আতঙ্কগ্রস্ত ইত্যাদি কার্সিনোসিনে পাওয়া যায়।
♥হতাশা :♥
মানসিক হতাশাগ্রস্ত। জীবনে হতাশা, আরোগ্য সমমন্দে হতাশা, সব বিষয়ে একটা হতাশা। একসময় এ লক্ষণ এমন স্তরে পৌছায় যে রোগীরা জীবন শেষ করে দিতে চায়। আত্মহত্যা করতে চায় (অরাম-মেটালিকাম)। ডাঃ ক্লার্ক নির্দেশ দিয়েছেন- মানসিক রোগীদের আত্মহত্যার ঝোঁক থাকলে এবং ক্যান্সারের পূর্বাবস্থা পেলে কার্সিনোসিন প্রয়োগ করতে হবে।
♥ শিশু♥
অন্যান্য বিশেষ মনোলক্ষণ
শিশুরা মেধাবী, তীক্ষ্ন বুদ্ধিমান। খুব মানসিক পরিশ্রম করতে পারে। নিরেট নির্বোধ শিশুও কার্সিনোসিনে পাওয়া যায়। এদের পড়াশোনা শেখানো, কোনও কিছু বোঝানো খুব সমস্যা। কোনও কিছু চিন্তা করা তাদের পক্ষে কষ্টকর। মানসিক বিকাশ পুরোপুরি ঘটে না। এখানেও সেই বৈপরীত্যের পরিচয় পাওয়া যায়। মেধাবী বা জড় বুদ্ধি সম্পন্ন যাই হোক না কেন কার্সিনোসিনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো ভয়, আশঙ্কা।
১. একগুয়ে, জেদি, অনমনীয় স্বভাব (টিউবারকুলিনাম)।
২. আত্মহত্যার প্রবণতা (অরাম মেট)।
৩. অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল (কস্টিকাম, ইগ্নেশিয়া, নেট্রাম -মিউর, নাক্র- ভমিকা, ফসফরাস)
৪. সান্ত্বনায় বিমুখ।
৫. তিরষ্কার বা ভৎর্সনায় অনুভূতিশীল (কলোফাইলাম, ইগ্নেশিয়া, ওপিয়াম, স্ট্যাফিসেগ্রিয়া)।
৬. ঝড়বৃষ্টি-বজ্রপাতে আনন্দ পায় (সিপিয়া)। আবার বিপরীত লক্ষণও আছে, ঝড়ের হাওয়ায়, ঠান্ডায় শিশুরা ভয় পায়।
৭. ভ্রমণ প্রিয়তা।
৮. সঙ্গীতপ্রিয়।
সঙ্গীত, নৃত্যে অনুভূতিশীল। ছন্দ, তাল, লয় সম¡ন্ধে সচেতন (ইগ্নেশিয়া, সিপিয়া, সাইলিশিয়া)। সঙ্গীতে কখনও কখনও কান্না পেয়ে যায় (ডিজিটেলিস, গ্রাফাইটিস, ক্রিয়োজোট, ক্যালি-নাইট্রিক, ন্যাট্রাম-কার্ব, নেট্রাম-সালফ, নাক্স-ভমিকা, থুজা)। ডাঃ হুই বনহুয়া বলেছেন, খুঁতখুঁতে স্বভাব ও সঙ্গীতে অনুভূতি প্রবণতা- দু’টি ওষুধে আছে। একটি কার্সিনোসিন ও অন্যটি নাক্র ভমিকা।
৯. শিশুরা নখের চারধারের চামড়াগুলি দাঁত দিয়ে কেটে বা চিমটি কেটে ছিড়ে ফেলে।
♥কার্সিনোসিনের
সার্বদৈহিক লক্ষণ
♥
(Physical Symptoms)
♥মস্তক :♥
মস্তিকের আড়ষ্টভাব (Sense of Symptoms) মস্তিষ্কের নিষ্ক্রিয়তা, জড়তা, গতিশক্তিহীনতা। মনে হয় মাথা কোনও কাজ করছে না। চিন্তা করা কষ্টদায়ক, দপদপানি ব্যথা, মাইগ্রেন-ডানদিকে। বেদনা অতি গভীরে বলে মনে হয় (টিউবারকুলিনাম)। মাথা ক্রমশ বড় হয়ে যাচ্ছে বলে অনুুভূতি, বিশেষত ডানদিকে। সেজন্য মাথা বেঁধে রাখতে চায়। ঝড় বাদলের আগে মাথা ধরা।
♥চর্ম :♥
চর্ম ধূসর, মেটে বর্ণ। দুধের সাথে কফি মেশালে যেরকম হয় অনেকটা সেরকম। প্রচুর সংখ্যক জরুল, আচিঁল, শ্লেষ্মাগুটি, জন্মকলঙ্ক। চর্মে বিশেষত বুকের মাঝখানে, দুই স্কন্ধস্থি (Scapula)-র মাঝখানে কাউর ঘা (Eczema) যা অনেকদিন ধরে সারছে না।
♥চোখ : ♥
চোখ নীলবর্ণ। বিড়াল চক্ষু, চোখের সাদা অংশ নীলাভ, অনবরত চক্ষু পল্লবের মিটমিটানি, পিটপিটানি।
♥নাক : ♥
নাকের ভিতর মারাত্মক প্রকৃতির ক্ষত, সর্দি প্রবণতা।
♥মুখমন্ডল :♥
বর্ণ ধূসর, মেটে বর্ণ, দুধে-কফির বর্র্ণ, মুখমন্ডলের শিরাগুলি প্রকট, নীলাভা, মুখের পেশীগুলিতে অদ্ভুদ ধরনের খিঁচুনি, মুখে ব্রণ।
♥পর্যায়শীলতা :♥
শরীরের একদিক থেকে অন্যদিকে রোগ লক্ষণের পর্যায়শীলতা (ল্যাক-ক্যানিনাম, সিপিয়া)।
♥মুখ : ♥
মুখে মারাত্মাক ধরণের ক্ষত, মাঢ়িতে অত্যানুভূতি, তালুতে যন্ত্রণা, গরম পানীতে উপশম দাঁতের যন্ত্রনা।
♥গলা : ♥
গিলতে কষ্ট, গলায় সঙ্কোচন বোধ (Sense of constriction) স্বরভঙ্গ দীর্ঘদিন ধরে, ফ্যাসফ্যাসে গলা।
♥বুক :♥
বুকে চাপ বোধ (Sense of constriction) এর থেকে উপশম পেতে ঘন ঘন শ্বাস নেয়, দীর্ঘশ্বাস নেয় (ইগ্নেশিয়া)।
হৃদকম্প-ধড়ফড়ানি, এত প্রচন্ড হৃদকম্প যে তা রোগী শুনতে পায়, অনুভব করে (স্পাইজেলিয়া)।
বুকে বা স্তনে দলা, গুটলি। তাতে টাটানি ব্যথা।
দীর্ঘস্থায়ী কষ্টকর কাশি। পাকস্থলী থেকে উদগত কাশি (ব্রায়োনিয়া)-স্টার্নাম অস্থির নিচের দিকে সুরসুর অনুভূতি। গরমে, গরম ঘরে বা ঠান্ডা বাতাসে বৃদ্ধি (রিউমেক্স), হাসলে বা কথা বললে বাড়ে (ফসফরাস, রিউমেক্স) পোশাক পরিবর্তনে বৃদ্ধি (রিউমেক্স) হাই তুললে বাড়ে (নেট্রাম সালফ)।
♥অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ :♥
হাত পায়ের অসাড়তা। পেশীগুলিতে অনৈচ্ছিক খিঁচুনি। পায়ের পেশীগুলিতে দুর্বলতা। সায়েটিকা, ব্যথা-গরম প্রয়োগে, স্বাভাবিক চলাফেরায় (পালস্) অল্পক্ষণ ঘুমালেই উপশম (বিশেষ লক্ষণ)। জোরে হাটলে বাড়ে। বৃদ্ধাঙ্গুলের মাথা ফাটা ফাটা, সাথে যন্ত্রণা, চুলকানি।
♥অন্ত্র ও আন্ত্রিক প্রদেশ : ♥
পূরাতন যকৃত প্রদাহ। পেটে সবসময় এক অস্বস্তিভাব, ব্যথা অনুভব হয়। কোষ্ঠবদ্ধতা সাথে উদরে ব্যথা। মলত্যাগের কোনও ইচ্ছা ও বেগ থাকে না। (অ্যালুমিনা, ব্রায়োনিয়া, গ্রাফাইটিস, হাইড্রাসটিস, ওপিয়াম) বদহজম-অবিরত বদহজম, বিশেষত শিশুদের। কিছু খেয়ে হজম করতে পারে না। মলদ্বারে সঙ্কীর্ণ অনুভূতি (Sense of constriction)| উদরশূন্য বিকেল ৪টা থেকে ৬টায় বৃদ্ধি। চাপ প্রয়োগে, সামনের দিকে ঝুকে থাকলে, গরম কিছু পান করলে উপশম পাওয়া যায় (ম্যাগ ফস)। বমি বমি ভাব সহ পেটে এক ধরনের অস্বস্তিকর অনুভূতি (Fear in pit of stomach with desire of vomit). উল্লেখ্য এ লক্ষণটি ভয়ের বা আতঙ্কের কারনেই সৃষ্টি।
♥কার্সিনোসিনের শরীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপ(PhysicalFunction)♥
♥ক্ষুধা :♥
ক্ষুধা মন্দা। খেতে অনীহা, দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যে অরুচি, বিতৃষ্ণা। আবার বিপরীত লক্ষনেও ভরপুর।
♥পিপাসা : ♥
অত্যধিক পিপাসা ও পিপাসাহীনতা দু’টি লক্ষণই কার্সিনোসিনে দেখা যায়।
♥পায়খানা : ♥
কোষ্ঠবদ্ধতা এবং উদরাময় দুটি লক্ষণের রোগী পাওয়া যায়। মলত্যাগের বেগহীন কোষ্ঠবদ্ধতা (ওপিয়াম)। মল শক্ত এবং শুকনো।
♥স্রাব : ♥
মাসিক স্রাবের গন্ডগোল। যে কোন স্রাব ঘন ও ক্ষতকর (Thick and Acrid)
♥জননেন্দ্রীয়♥
যৌনক্ষেত্রে মহিলাদের জরায়ুর ক্ষত। ভীষণ যন্ত্রণাপূর্ণ ক্ষত। ক্ষত থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পূজ, ঝাঁঝালো প্রকৃতির রক্তস্রাব হয়। হস্তমৈথুনের ফলে স্বাস্থ্যহানি। পুরুষদের যৌন উত্তেজনা কম। পুরুষত্বহীনতা।
♥নিদ্রা : ♥
কার্সিনোসিনের অন্যতম নির্দেশক লক্ষণ-অনিদ্রা। ভয়, আশঙ্কা ইত্যাদির কারনে দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা। অস্থির নিদ্রা। বিঘ্নিত নিদ্রা, শরীরে এক ধরনের ঝাঁকি দিয়ে উঠে ঘুম আসতে চায় না। ভোর ৪টায় ঘুম ভেঙে যায়। অনিদ্রার কারণে মানসিক দুর্বলতা। এ অবস্থায় অল্প ঘুমালেই শান্তি ফিরে আসে।
♥স্বপ্ন ♥:
স্বপ্নবহুল নিদ্রা, উত্তেজনাপূর্ণ স্বপ্ন, ব্যস্ত তৎপর বিষয়গুলি নিয়ে স্বপ্ন (কফিয়া)।
♥ নিদ্রা ও শয়ন♥
কার্সিনোসিনের নিদ্রাকালীন অবস্থা
(Position of sleep)
কার্সিনোসিনের নিদ্রাকালীন অবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য ঔষধের সাথে তুলনা করে, সদৃশ্য অন্যান্য লক্ষণ পাওয়া গেলে কার্সিনোসিন অসাধারণ ফল প্রদান করে। হাঁটু দু’টো গুটিয়ে শোয়া। (ক্যাল্কেরিয়া-ফস, লাইকোপোডিয়াম, মেডোরিনাম, ফসফরাস, সিপিয়া, টিউবার-কুলিনাম)। হাঁটু ও কনুই একত্রে বুকের কাছে জড়ো করে উপুর হয়ে ঘুমায় (Genu pactoral position during sleep).
♥♥ইচ্ছা-অনিচ্ছা (Desire and Aversion)- এ লক্ষণটি নয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। বয়স্করা মাথার উপর হাত দিয়ে চিত হয়ে ঘুমোয় (পালস)। শিশুদের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ওপরের উল্লেখিত নিদ্রা যাওয়ার লক্ষণটি পরিবর্তন হলেও শৈশবে ঐরকম নিদ্রা যাওয়ার অভ্যাস, জীবনের কোনও এক সময়ে দীর্ঘকাল ধরে অনিদ্রায় ভোগার ইতিহাস থাকলে, অন্য ঔষধে আশান্বিত ফল না পেলে বা সদৃশ্যতা না পাওয়া গেলে কার্সিনোসিনাম প্রযোজ্য।
♥ ইচ্ছা/অনিচ্ছা ♥♥
নোনতা খাদ্য, দুধ, মিষ্টি, মাখন, চর্বিযুক্ত মাংস-এসব খাদ্যে আগ্রহ। ডিম, ফল, চর্বি জাতীয় খাদ্য, দুধ, চিনি-এসব খাদ্যে অনিচ্ছা। বিভিন্ন খাদ্যে আসক্তি যেমন আছে অভক্তি ও দেখা যায় কোনও কোনও ক্ষেত্রে। আবার এমনও দেখা যায় সেসব খাবার হয়তো সহ্য করতে পারছেনা। খেলেই বদহজম হচ্ছে। এখানেও সেই বৈপরীত্য। সুতরাং কোন বিশেষ খাদ্য-দ্রব্যের প্রতি আগ্রহ, অপছন্দ তা সঠিকভাবে বলা খুবই কঠিন।
♥♥কার্সিনোসিন বৃদ্ধি-উপশম♥ (Modalities)
পোশাক পরিবর্তনের পর কাশি, চুলকানি বৃদ্ধি, বেলা ১টা থেকে ৬টা কিংবা রাতে বৃদ্ধি, রোগের চিন্তায় একা থাকলে বৃদ্ধি, অমাবস্যা-পূর্ণিমায় বৃদ্ধি (থুজা, সাইলেশিয়া), হাসলে বা কথা বললে বৃদ্ধি (ফসফরাস)। বিশ্রামে, ঘুমালে, কাজের মধ্যে ব্যস্ত থাকলে উপশম। হাঁপানি তথা শ্বাসকষ্ট, সমুদ্র এলাকায় বেড়াতে গেলে ভাল থাকে। কখনও ঠান্ডায় উপশম, কখনও গরমে উপশম। সমুদ্রের বায়ুতে কখনও ভাল থাকে, কখনও শরীর খারাপ করে (নেট্রাম-মিউর, মেডোরিনাম)। সমুদ্রের এই পাড়ে হয়তো ভাল, অন্য পাড়ে অসুস্থতা। বৈপরীত্য যেহেতু কার্সিনোসিনের অন্যতম প্রধান পরিচয়-এখানেও সে লক্ষণের অভাব হয় না।
♥তুলনীয় ঔষধ (Other Related Remedis) :
♥
অ্যালুমিনা,আর্সেনিক-অ্যাল্ব, ক্যাল্কেরিয়া-ফস, ডিসেন্টেরি কম্পাউন্ড,ডায়াস্কোরিয়া, গার্টনা,লাইকোপোডিয়াম,মেডোরিনাম,নেট্রামমিউর,নেট্রামসালফ,ওপিয়াম,ফসফরাস, পাল্সেটিলা, সোরিনাম, সিপিয়া, স্ট্যাফিসেগ্রিয়া, সালফার, সিফিলিনাম, থুজা, টিউবারকুলিনাম সহ অন্যান্য নসোড ঔষধগুলি।
♥কার্সিনোসিনের ক্রিয়াস্থল (Sphare of Action) :
♥♥
হৃদযন্ত্র, পরিপাক যন্ত্র, স্নায়ুকেন্দ্র, শ্বসন যন্ত্র, চর্ম-কার্সিনোসিনের মূল ক্রিয়াস্থল।
♥কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য♥ (Positive Diagnosis) :
আমরা জানি, হোমিওপ্যাথি রোগের চিকিৎসা করে না, করে রোগীর চিকিৎসা। সদৃশ লক্ষণ পাওয়া গেলে সমস্ত অসুস্থতায় কার্সিনোসিন কার্যকর হতে দেখা যায়। তবে বংশে ক্যান্সার সহ নানা রকমের অপকর্ষ রোগের ইতিহাস থাকলে, শিশু বয়স থেকে প্রদাহিক অসুস্থতায় ভোগার ইতিহাস থাকলে, অনিদ্রার ইতিহাস, ভীতু প্রকৃতির মানসিকতা ইত্যাদির চিত্র পাওয়া গেলে নিম্নলিখিত রোগলক্ষণে কার্সিনোসিন প্রযোজ্য। ক্যান্সারের পূর্বাবস্থায়, অপুষ্টি, দূরারোগ্য যেকোন ও অসুস্থাবস্থা, থ্যালসেমিয়া, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস, স্পন্ডলাইসিস, অ্যালবুমিনযুক্ত রক্তপ্রস্রাব, কোষ্ঠবদ্ধতা, উদরাময়, অনিদ্রা, মারাত্মক প্রকৃতির রক্তহীনতা, একপার্শ্বিক রোগ, বংশগতভাবে অর্জিত যে কোন রোগ, টিউবারকুলোসিস। দুশ্চিন্তা-দুর্ভাবনা,মানসিক আঘাত ইত্যাদি থেকে সৃষ্ট শরীর-মনের বিভিন্ন অসুস্থতায় কার্সিনোসিন চিন্তেয়।
♥বিশেষ প্রয়োগ ক্ষেত্র♥
(Special Diagnosis) :
বিভিন্ন অসুস্থতায়, সদৃশ, ঔষধ প্রয়োগ করার পর যদি আশান্বিত ফল প্রদান না করে-সেখানে কার্সিনোসিনের কথা সবার আগে ভাবতে হবে।
♥ঔষধের শক্তি ও মাত্রা
♥
কি ভাবে প্রয়োগ করবেন?
(Potency and Dose) :
‘৫০ সহস্রতমিক পদ্ধতির ঔষুধের প্রয়োগ বিজ্ঞান’ বইয়ে ডাঃ হরিমোহন চৌধুরী উল্লেখ করেছেন ঐ পদ্ধতির ঔষুধ যেন নসোড ঔষধগুলি ক্ষেত্রে ০/৬ বা এম/৬ বা এল এম/৬ এর নিচে প্রয়োগ করা হয়না, না হলে রোগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। অন্যান্য চিকিৎসকেরাও উচ্চক্রমের ঔষুধ প্রয়োগের কথা বলেছেন। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে নিন্মক্রমের ঔষধ (০/১ বা ০/২ বা ০/৩) ব্যবহার করা অনেক যুক্তিসঙ্গত।
♥মাত্রা ♥ ডাঃ হ্যানিম্যান অর্গানন ৬ষ্ঠ সংস্করনের ২৪৮সূত্রে বলেছেন প্রথম শ্রেনীর অর্থাৎ সাংঘাতিক রোগগুলোর ক্ষেত্রে প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় বা আরও ঘন ঘন ঔষধ প্রয়োগ করতে।
দ্বিতীয় শ্রেনীর অর্থাৎ নতুন, তরুন বা অচির রোগের ক্ষেত্রে-দুই থেকে ছয় ঘন্টান্তর প্রয়োগ করতে।
তৃতীয় শ্রেণীর অর্থাৎ দীর্ঘস্থায়ী, ♥পুরাতন বা চিররোগে>>
প্রতিদিন বা একদিন পর পর ঔষধ প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন।
অচির রোগীর ক্ষেত্রে রোগের গভীরতা, রোগীর রোগ প্রবণতা, সন্তাপ প্রবণতা ও ভীষনতা অনুসারে প্রতি ১০ মিনিট বা ১৫ মিনিট বা ২০ মিনিট বা ৩০ মিনিট বা ১ঘন্টা বা ২ ঘন্টা বা ৪ ঘন্টা বা ৬ ঘন্টা বা ৮ ঘন্টা বা ১২ ঘন্টান্তর প্রয়োগ করতে হবে।
চিররোগীকে প্রতিদিন ১ দাগ, ১ দিন পর পর ১ দাগ।
♥সহ্য না হলে >>
২/৩/৪/৭/১০/ বা ১৫ দিন পর পর মাত্রাকে যথা প্রয়োজন ক্ষুদ্র করে বা ঘ্রানে প্রয়োগ করতে হবে। চিররোগের চিকিৎসার শেষ দিকে, যখন রোগী প্রায় আরোগ্য লাভ করতে চলেছেন, তখন তথাকথিত হোমিওপ্যাথিক বৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। তখন ঔষধের মাত্রাকে আরও ক্ষুদ্র করে দীর্ঘদিন পর পর প্রয়োগ করতে অর্গানন ৬ষ্ঠ সংস্করণের ২৪৮ সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
একটি ৪ আউন্স বোতলে ৩ আউন্স পরিশ্রুত জল নিতে হবে। তার মধ্যে একটি মাত্র ১০ নং ঔষধ সিক্ত অনুবটিকা এবং ১৫/২০ ফোঁটা সুরাসার দিতে হবে। এবার যে মিশ্রনটি হলো তাকে ৮ দাগ করতে হবে।
রোগীর স্পর্শসহিঞ্চুতা অনুসারে ৮/১০/১২ বার সজোরে ঝাঁকি দিয়ে ১দাগ সেবন করতে হবে। এই মাত্রা সেবনের পর যদি সহ্য না হয়। কোন রকম বৃদ্ধি হয় তবে পরবর্তী সেবনের আগে নির্দিষ্ট ঝাঁকির পর ১ দাগ ঔষধ একটি গ্লাসে নিয়ে তাতে ৪ আউন্স পরিমান বিশুদ্ধ জল মেশান। এবার ভাল করে নেড়ে ১ বা ২ চা-চামচ সেবন করতে হবে এবং বাকিটা ফেলে দিতে হবে। তাতে ও বৃদ্ধি দেখা দিলে ২য় গ্লাস বা ৩য় গ্লাস, ৪র্থ গ্লাস পরিবর্তন করে সেবন করতে হবে। এভাবেও যদি না হয় তবে অনেকদিন পর ঘ্রানে প্রয়োগ করতে দিন।
♥ঘ্রাণে প্রয়োগ পদ্ধতিঃ♥
ঘ্রানে প্রয়োগ করার জন্য মিশ্রণ বানাতে হবে- ১টি ১ আউন্স শিশিতে ১ ফোটা পরিশ্রুত জল নিয়ে তাতে ১টি ঔষধসিক্ত অণুবাটিকা দিতে হবে। ১ মিনিটে তা গলে গেলে তাতে পৌনে এক আউন্স সুরাসুর দিন। প্রতিবার ঘ্রান নেওয়ার আগে রোগীর স্পর্শ সহিঞ্চুতানুসারে ৮/১০/১২ বার ঝাঁকি দিয়ে এক নাক বন্ধ করে অন্য নাক দিয়ে এক সেকেন্ড জোরে ঘ্রান নিতে হবে।
মনে রাখতে হবে,>>>>
যথার্থ ক্ষুদ্র মাত্রায় প্রয়োগ করা হলে, চিকিৎসাকালে কোনও ওষুধজ বৃদ্ধি আসে না। চিকিৎসা সমাপ্ত হওয়ার আগে যখন আর ঔষধের প্রয়োজন নেই তখন বৃদ্ধি দেখা যায়। প্রথম দিকে বৃদ্ধি হলে বুঝতে হবে ঔষধের মাত্রা বড় হয়েছে। আরোগ্যোন্মুখ অবস্থায় আর ঔষধের প্রয়োজন আছে কিনা তা দেখার জন্য কয়েকদিন ঔষধ বন্ধ রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, উপরোক্ত বক্তব্যটি ৫০ সহস্রতমিক পদ্ধতির নিরিখে আলোচনা করা হলো। হ্যানিম্যানের শেষ অবদান, অর্গানন ৬ষ্ঠ সংস্করণ বর্ণিত ৫০ সহস্রতমিক ঔষধেই একমাত্র নির্ভরযোগ্য ভাবে, নির্বিঘনে চিকিৎসা করা সম্ভব এটা বর্তমানকালের সমস্ত প্রতিষ্ঠিত হ্যানিম্যানীয় চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা।
♥সর্তকতা (Precaution) :
♥
ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে কার্সিনোসিন প্রয়োগ করা উচিত নয়। তাতে রোগ অন্যত্র ছড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয় অথবা রোগ আরও বৃদ্ধি হয়ে রোগীর জীবন সংশয় হতে পারে বলে ডাঃ ফবিস্টার জানিয়েছেন। ক্যান্সার তৃতীয় অবস্থায় যখন বিধ্বংসী কাজ শুরু হয়ে যায় তখন রোগীকে কার্সিনোসিন প্রয়োগ করা হলে প্রায় ক্ষেত্রে দেখা যায় যন্ত্রনাহীন মৃত্যু সম্পন্ন হয়।
♥♥
পরিমার্জিত করা হল।
ডাঃ এস এম নজরুল ইসলাম।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Website
Address
Kaliganj
Satkhira
Opening Hours
| Monday | 09:00 - 19:00 |
| Tuesday | 09:00 - 19:00 |
| Wednesday | 09:00 - 19:00 |
| Thursday | 09:00 - 19:00 |
| Saturday | 09:00 - 19:00 |
| Sunday | 09:00 - 19:00 |
